Sunday, June 16, 2019
ভারতে চাপের মুখে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা by অরিত্রী দাস

উত্তর প্রদেশ পুলিশ ৮ জানুয়ারি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়া; নয়ডাভিত্তি নিউজ চ্যানেল ন্যাশন লাইভের প্রধান ইশিকা সিং; ও চ্যানেলটির অন্যতম সম্পাদক অনুজ শুক্লাকে গ্রেফতার করে। ১০ জানুয়ারি পুলিশ নিউজ চ্যানেলটির আরেক সম্পাদক অনুশুল কৌশিককে গ্রেফতার করে। চারজনের বিরুদ্ধেই তারা একটি ‘আপত্তিকর বিষয়’ তথা এক বিতর্কিত নারীর ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অজয় সিং বিস্তের কাছে (যোগী অদিত্যনাথ নামে পরিচিত) বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় আদালত সিং ও শুক্লার জামিন দিতে অস্বীকার করলেও মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট উত্তর প্রদেশের পুলিশকে কানোজিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দিয়ে জানায় পুলিশ উদার মত প্রকাশ করতে বাধা দিয়েছে, ‘বাড়াবাড়ি’ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুই সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জি বলেন, আমরা তার পোস্টের প্রকৃতি অনুমোদন করতে নাও পরি, কিন্তু তার গ্রেফতার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই জাতির একটি সংবিধান আছে। এভাবে স্বাধীনতাকে দমন করা যায় না।
বিস্ত মামলায় মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতারের নিন্দা করেছে ভারতের এডিটর্স গিল্ড। তাদের মতে, এই গ্রেফতারের উদ্দেশ্য হলো মিডিয়াকে ভয় দেখানো ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার শ্বাসরোধ করা। ওই নারীর দাবি সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন, তার মতামত সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে প্রচার করার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা আইনের অপব্যবহার।
মুখ্যমন্ত্রী বিস্তের মানহানি করার জন্য আরো কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যে দমন অভিযান চলছে, এটি তার একটি উদারহণ মাত্র।
একটি সাম্প্রতিক উদারহণ হলো: মঙ্গলবার রেলওয়ে পুলিশ উত্তর প্রদেশের শামলি জেলায় এক সাংবাদিককে প্রহার করে। ওই সাংবাদিক গিয়েছিলেন একটি রেল দুর্ঘটনা কভার করতে। পুলিশ কর্মকর্তারা তার মুখে প্রস্রাব করে দেয় বলে খবরে প্রকাশ।
চলতি বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দিক থেকে ভারতের ১৪০-তম স্থানে থাকাটা তাই অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, কৌতুক শেয়ার করার জন্য গ্রেফতারের এসব ঘটনা নাগরিকদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। গত বছরের আগস্টে উত্তর প্রদেশ পুলিশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী ১৬ বছরের এক বালককে গ্রেফতার করে। ওই দিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি পরলোকগমন করেছিলেন। ওই কিশোর বাজপেয়ির প্রতি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ফেসবুকে। বালকটির অভিযোগ ছিল, বাজপেয়ি অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সাথে জড়িত ছিলেন।
তার পোস্টটি ভাইরাল হয়েছিল, বিশেষ করে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে। ফলে ছেলেটিকে ৩৯ দিন হেফাজতে থাকতে হয়। ছেলেটি জানায়, পরে তার সব অমুসলিম বন্ধু তাকে পরিহার করে। আগে সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার ছেলেটি এখন চুপ হয়ে গেছে। সে ও তার পরিবার অনলাইনে কোনো ধরনের মন্তব্য করছে না।
অপর রাজ্য কেরালাতেও কথা বলার স্বাধীনতার ওপর দমনপীড়নের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজায়নের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করার কারণে গত তিন বছরে ১১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারই এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
রাজ্য সরকার বুধবার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কেরালা ললিত কলা একাডেমিকে অনুরোধ করেছে জনৈক কার্টুনিস্টকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করার। তিনি ধর্ষণে অভিযুক্ত বিশপ ফ্রাঙ্গো মুলাকলের ওপর একটি ক্যারিক্যাচার অঙ্কন করেছিলেন। সরকারি এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান পুরোহিতদের একটি অংশ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড়া ও তার পরিবার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের পর ১১ জুন দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মে মাসে বিজেপির যুব শাখার কর্মী প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে জামিন দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিকৃত ছবি প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনের অপব্যবহার
আরো কয়েকটি দেশের মতো ভারতকেও অনেকে বিবেচনা করে মতপ্রকাশের ওপর যৌক্তিক বিধিনিষেধের দেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গ্রেফতারে কেবল কথা বলার স্বাধীনতাই খর্ব হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে না সেইসাথে রাজনৈতিক এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রূপ করা বা চ্যালেঞ্জ করলেই তা বরদাস্ত করা হচ্ছে না।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৫০০ ও ধারা ৫০১-এর অধীনে মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি আইনের বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, আরো নানা ধারায় মামলায় ফেলে মতপ্রকাশের পথ বন্ধ করা হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরও ১০০ ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত
![]() |
| ইসরায়েলের ‘বালাকোট বোমা’ |
চুক্তি অনুসারে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বোমা ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেবে ইসরায়েল। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলার সময় এ বোমা ব্যবহার করেছিল ভারত।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে জানানো হয়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোট ১০০টি স্পাইস ২০০০ বোমার চুক্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম বোমা তৈরির কাজটি পেয়েছে। দ্বিতীয়বার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রথম চুক্তি।
ভারতের বিমানবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, জরুরি অবস্থায় বোমাগুলো কেনা হচ্ছে। যেকোনোভাবেই এই বছরের মধ্যে এই কেনাবেচা সেরে ফেলতে চায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
স্পাইস বোমা সাধারণত ৬০ কিলোমিটার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। হিসাব করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে এ বোমার জুড়ি নেই। এর পাশাপাশি ইলেকট্রো অপটিক্যাল ইমেজ ধরা পড়ে ক্যামেরায়।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এ নাশকতা চালায় পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহম্মদ। এর জবাব দিতেই ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারত হামলা চালায় পাকিস্তানে। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) ভারতের বিমানবাহিনীর হামলায় ৩০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। ওই দিন ভোরে পাকিস্তানের জইশ-ই-মুহম্মদ, হিজবুল্লাহ মুজাহেদীন ও লস্কর-ই-তৈয়বার স্থাপনায় এ বিমান হামলা চালায়। সেই দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বিজয় কেশব গোখলে সরকারি বিবৃতিতে জানান, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বিমানবাহিনী। নিহত হয়েছেন জইশ-ই-মুহম্মদের সিনিয়র কমান্ডাররা।
ভারতীয় বিমানবাহিনী বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাত সাড়ে তিনটা নাগাদ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে বিমানসেনার মিরাজ ২০০০ ফাইটার বিমান। তাদের ১২টি মিরেজ ২০০০ জেট বিমান এ হামলায় অংশ নেয় এবং ১ হাজার কেজি বোমা (স্পাইস ২০০০ বোমা) বর্ষণ করে অনেক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বালাকোটে বেছে বেছে হামলা চালানো হয় জইশ-ই-মুহম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে। পুলওয়ামার হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর জঙ্গি ঘাঁটিগুলো পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বেশ খানিকটা ভেতরে ঢুকে হামলা চালানো হয়।
বালাকোট খাইবার-পাখতুনওয়ার একটি শহর, যা নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে। সেখানেই জইশ-ই-মুহম্মদের প্রধান জঙ্গিশিবির রয়েছে। ফলে সেখানে গিয়েই এই হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোররাতে মুজফ্ফরাবাদ ও চকৌটিতে জঙ্গিশিবিরে হামলা চালানো হয়েছে। ২১ মিনিট চলেছে এ হামলা।
এই হামলার পরই স্পাইস ২০০০ বোমাকে বালাকোট বোমা বলা হচ্ছে।
ভারতের দাবি, ভারতের বিমান হামলার বিষয়টি টের পাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। তাদের তরফে পাঠানো হয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। কিন্তু ভারতের শক্তি দেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সেনারা। কোনো রকম প্রতিরোধের সাহসই তারা দেখাতে পারেনি।
পাকিস্তান বলছে, হামলা চালানো হয়েছে পাকিস্তানের বালাকোটে। পাকিস্তানি বিমানবাহিনী প্রতিরোধ করেছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তাদের দাবি।
প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে এই বিমান হামলার কথা স্বীকার করে পাকিস্তান। তবে দেশটির ইমরান খানের সরকার জানায়, ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের বনভূমিতে গোলাবর্ষণ করেছে। বালাকোটের এই বিমান হামলায় ব্যবহার হয়েছিল স্পাইস ২০০০ বোমা। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গি দমনে সফল হওয়ার পরই এই বোমা আরও মজুত করার কথা ভাবছে ভারত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নজরদারির আওতায় আসছে বেসরকারি হেলিকপ্টার by চৌধুরী আকবর হোসেন

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে দেশের ৮ প্রতিষ্ঠানের ২৮-৩০টি হেলিকপ্টার রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টার সেবা দিতে বেবিচকে আবেদন করেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারগুলো অসুস্থ রোগী পরিবহন ছাড়াও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কোন ব্যক্তি কখন হেলিকপ্টারে চড়ে কোথায় যাচ্ছে, এর কোনও সুষ্ঠু নজরদারি নেই। এমনকি নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে অন্য কোথাও হেলিকপ্টার অবতরণ করছে কিনা, তাও রয়েছে নজরদারির বাইরে।
সূত্র জানায়, হেলিকপ্টারের নজরদারি না থাকা উদ্বেগজনক বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর নজরদারিসংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হেলিকপ্টারের যাত্রী ও তাদের ব্যাগ যথাযথভাবে স্ক্যানিং না হওয়ায় মাদকসহ অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারগুলো ওড়ার পর অন্য কোথাও অবতরণ করে যাত্রীর গন্তব্য পরিবর্তন কিংবা অবৈধ পণ্য পরিবহন করছে কিনা, সেটিও নজরদারির বাইরে রয়েছে।
সূত্র জানায়, কয়েক দফা বৈঠক করে বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) মো. মোকাব্বির হোসেনকে প্রধান করে একটি কমিটিও করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বেবিচকের কাছ থেকে অনুমতি নেয়। এছাড়া ফ্লাইটের গন্তব্য ও যাত্রীদের তথ্য দেওয়া হলেও এক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, তা নজরদারি হয় না।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) মো. মোকাব্বির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বেশকিছু সুপারিশ পেয়েছি। হেলিকপ্টারগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী আনতে গেলে স্থানীয় পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকায় আসলে একটি পয়েন্ট দিয়ে যাত্রীরা বের হবেন। ফ্লাইটে যাওয়ার আগে ও পরে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘হেলিকপ্টারগুলোর মনিটরিংয়ে বেবিচক একটি ডিভাইস বসাবে, তাহলে কে কোথায় যাচ্ছে, তা মনিটরিং করা সম্ভব হবে। বেসরকারি হেলিকপ্টার পরিচালনার একটি নীতিমালা রয়েছে, এটিও সংশোধন করে আপডেট করা হবে।’
বেবিচকের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনস) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হেলিকপ্টার সেবা অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে শুধু ফ্লাইট নয়, হেলিকপ্টার, পাইলট, যাত্রী সার্বিক বিষয়ের তথ্য নজরদারির আওতায় চলে আসবে। ফ্লাইটের অনুমতি নিতে আর ম্যানুয়াল আবেদনের প্রয়োজন পড়বে না। যেকোনও মুহূর্তে ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য সহজেই আমরা পেয়ে যাবো।’
চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বলেন, ‘হেলিকপ্টারগুলো কোথায় যাচ্ছে, কোথায় নামছে—এটি মনিটরিং করতে প্রতিটি হেলিকপ্টারে ট্র্যাকিং যন্ত্র বসানো হবে। এটিও অটোমেশনের আওতায় সংযুক্ত হবে। তবে কী ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে, এটি পর্যালোচনা চলছে।’ শিগগিরি এটি কার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
ছবি: মাশরুর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লিজের বিমানে বছরে গচ্চা ১২০ কোটি টাকা by দীন ইসলাম

দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। গত ডিসেম্বরে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
তবে কোন সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। সে কারণে লিজ নেয়া প্রতিষ্ঠান ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই অর্থ দিতে হচ্ছে বিমানকে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ মানবজমিনকে বলেন, ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেয়া বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি বর্তমানে গ্রাউডেন্ড রয়েছে। এর বেশি কোন তথ্য আমার কাছে নেই। জেনে বলতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতিমাসে ১০ কোটি করে বছরে ১২০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে বিমানকে। ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র উড়োজাহাজ সংস্থাটির আয়ের বড় অংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে। লিজ চুক্তিতে বলা হয়েছে, যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক প্রতি মাসে উড়োজাহাজ প্রতি ৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে বিমানকে। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করা যাবে না, আবার লিজের মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় ফেরত দিতে হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজের কারণে বাংলাদেশ বিমানের ৩০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হওয়ার কারন হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ নেয়া এবং মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়ম করা হয়েছে। উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুসঙ্গিক কাজে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেয়ার ব্যাপারে বিমানকে নির্দেশ দিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও বিমান সচিব মহিবুল হক। লিখিত নির্দেশনায় তারা বলেছেন, লীজ নেয়ার সঙ্গে বিমানের কোনও কর্মকর্তা জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিমানের ভাবমূর্তি উদ্ধারে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ করা হবে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, এ দুটি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয়। বর্তমানে মেরামতের জন্য উড়োজাহাজ দুটি ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে রয়েছে। লিজ নেয়া উড়োজাহাজের বিষয়ে এক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মানবজমিনকে বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও আগেই বিষয়টির সমাধান করতে পারতো।
নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা না করে চুক্তি করায় উড়োজাহাজ দুটি বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই বিমানগুলো ফেরত দিতে হবে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৩টি উড়োজোহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে বহরে থাকা একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড রয়েছে এবং মিয়ানমারে সংঘঠিত দুর্ঘটনায় ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি বিকল হয়ে পড়েছে। এটি আর ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইয়াঙ্গুনে এ বিমান বিকল হওয়ায় অভ্যন্তরীন রুটে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে বিমানের তরফে জানানো হয়েছে দুই এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানকে ধরতে মক্কায় ওআইসিসহ বহুজাতিক তিন জোটের জরুরি বৈঠক

এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ইরান বিরোধী তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে আরব লীগ এবং পরে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি আরবের তেল সরবরাহ লাইনে সম্প্রতি ইয়েমেনি যোদ্ধাদের ড্রোন হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে কয়েকটি দেশের তেলবাহী জাহাজে বোমা বিস্ফোরণ, এ অঞ্চলের ব্যাপারে তেহরানের নীতি পর্যালোচনা ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার উপায় খুঁজে বের করা ছিল এই তিনটি জরুরি বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনাকে অজুহাত করে "আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি" শীর্ষক এসব বৈঠকের আয়োজন করেন সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ। তবে ইরানের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ এরই মধ্যে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বেশ কিছু আরব দেশের নেতারা মক্কা বৈঠকে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামদ আলে সানি, মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ, ওমানের বাদশাহ সুলতান কাবুস মক্কা বৈঠকে যোগ দেননি।
মক্কায় জরুরি বৈঠকের আয়োজন ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পুরানো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে সৌদি আরব যখনই পরাজিত হয় তখনই আরব দেশগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন কোরে নিজের কূটনৈতিক শক্তিকে জাহির করার চেষ্টা চালায়। সৌদি তেল স্থাপনায় ইয়েমেনি যোদ্ধাদের হামলা, সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আমিরাতের বন্দরে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর রিয়াদ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে সামরিক যুদ্ধে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় সৌদি আরব আরো হতাশ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ইরানকে ঠেকানোর উপায় খুঁজে বের করা জন্য রিয়াদ আরব দেশগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। প্রকৃতপক্ষে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমে আসায় সৌদি আরব তাড়াহুড়া করে মক্কা বৈঠকের আয়োজন কোরে ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য বিরাট হুমকি ও দেশটিকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছে।
এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর জন্য আমেরিকাকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময়ও সৌদি কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য তাকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও বোল্টন নিজেও ইরানে হামলা চালাতে ব্যাপক আগ্রহী। এ ব্যাপারে ইরানের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক সাবাহ জাঙ্গানেহ বলেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জরুরি বৈঠক আয়োজন করে সৌদি আরব পুরানো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। তারা যখনই কোথাও পরাজিত হয় তখনই আরব কিংবা অন্যান্য মুসলিম নেতাদেরকে এ ধরণের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় এবং আলোচনা শেষে কেবল বিবৃতি প্রকাশ করে।" তিনি আরো বলেছেন, "এ ধরণের বৈঠক লোক দেখানো এবং এ অঞ্চলের ঘটনাবলীতে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না, কোনো সমস্যারও সমাধান করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব দেশের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই এ ধরণের কিছু জরুরি বৈঠক ডেকে সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মক্কায় মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে যে তিনটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে তার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল এ অঞ্চলে ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি একবার ইয়েমেনের আনসারুল্লা যোদ্ধাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে দাবি করেছিলেন এসব ইরানের তৈরি অস্ত্র। সৌদি সরকারের কর্মকর্তাদের পরিচালিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরব ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে, "মক্কায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রবেশ কক্ষে এমনভাবে ইয়েমেনিদের ছোঁড়া অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশের সময় সবার নজর কাড়তে পারে।" নিকি হ্যালি ২০১৭ সালে জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরার জন্য ইয়েমেনিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন। নিকি হ্যালি ক্ষেপণাস্ত্রের খোলস দেখিয়ে দাবি করেছিলেন এগুলো ইরান ইয়েমেনিদেরকে সরবরাহ করেছে। সৌদি সরকারও ঠিক একইভাবে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে যাতে ইরান সম্পর্কে সবার মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু সৌদি আরবের এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এমনকি মক্কা সম্মেলন সবার হাসির খোরাকে পরিণত হয়।
মক্কা বৈঠকেও সৌদি নেতারা ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সৌদি রাজা সালমান আরব লীগের শীর্ষ বৈঠকে দেয়া ভাষণে আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে ইরানকে অভিযুক্ত করেন। কিন্তু সৌদি রাজার এসব বক্তব্যও কোনো কাজে আসেনি।
কারণ সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় কোনো আরব নেতাই তাদের বক্তব্যে ইরানের নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি সেখানে উপস্থিত ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ প্রকাশ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। সৌদি আরব বৈঠক শেষে ইরান বিরোধী বিবৃতি প্রকাশেরও চেষ্টা করেছে। কিন্তু আরব লীগের শীর্ষ বৈঠক এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র বৈঠকেও তীব্র মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো বিবৃতিতেই ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি'র বৈঠকে অবশ্য ইরান বিরোধী বিবৃতি নতুন কিছু নয়। সৌদি আরব এবারও এ বৈঠককে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। মক্কায় অনুষ্ঠিত আরব লীগ ও ওআইসি'র সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে সৌদি আরবের ইরান বিরোধী ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরব মক্কায় অনুষ্ঠিত তিনটি বৈঠককে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গেছে। কারণ এসব বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ডিল অব সেঞ্চুরি' পরিকল্পনাকে প্রধান হুমকি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইসরাইল ও আমেরিকার প্রণীত এ পরিকল্পনা আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর জন্য ক্ষতিকর। স্বাধীন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের একই সময়ে মক্কায় বৈঠক আয়োজন করা থেকে বোঝা যায় বোল্টন ট্রাম্পের বিতর্কিত ওই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল আরাবি আল জাদিদ লিখেছে, "আগামী ২৫ ও ২৬ জুন বাহরাইনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'ডিল অব সেঞ্চুরি' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। ওই বৈঠককে সফল করতেই মক্কা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।"
ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক গবেষক হাসান হানি যাদেহ বলেছেন, মক্কা বৈঠকের মাধ্যমে ইরানভীতি ছড়ানো এবং মুসলমানদের প্রধান সমস্যা অর্থাৎ ফিলিস্তিন বিষয়টিকে আড়াল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
গত সাড়ে চার বছরে সৌদি রাজা সালমান নিজের শক্তিমত্বা প্রমাণের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। মক্কা বৈঠকের মাধ্যমেও সৌদি আরবকেই তিনি সমস্যা সমাধানের একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিটিআরসি ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

কিন্তু বেশিরভাগ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি বিটিআরসি। মূলত তারা অপারেটরদের পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। গ্রাহকদের স্বার্থ তারা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এবিএম হুমায়ুন কবির।
শুনানিতে ডি-অ্যাক্টিভেটেড নম্বর দিয়ে ইমো, ভাইবারের মতো অ্যাপস ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান জাহিদুল ইসলাম এবং ইমরান আহমেদ নামের গ্রাহক। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে আইটিইউ, আমরাও কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের সেবার মান নিয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায় টেলিটক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সৌদি টেলিকম আসছে, টেলিটক যাতে আরো উন্নতর হয়। যত্রতত্র টাওয়ার বসানো নিয়ে টাওয়ার শেয়ারিং বিষয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নে বিটিআরসির মহাপরিচালক মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফলাফল পেয়েছি তা আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে অনেক নিচে। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
টাওয়ারের চেয়ে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের ঝুঁকিটা বেশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং নিয়ে অপারেটর ও টাওয়ারকো কাজ করছে। মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুজ্জামান বলেন, টাওয়ারের জন্য ক্ষতি হচ্ছে-এটা অমূলক ধারণা। যদি ক্ষতি হতো তাহলে উন্নত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। সারা দেশে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও জনবহুল এলাকায় রেডিয়েশন পরীক্ষা করে হাইকোর্টকে জানাবো। গণশুনানিতে প্রশ্নকারী রাজকুমার সাহা জানতে চান, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও ন্যুনতম মেয়াদ ৮ দিন করা যায় কি না? জাকির হোসেন নামে একজন গ্রাহক ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর দাবি জানান। এ বিষয়ে বিটিআরসির এবিএম হুমায়ুন কবির বলেন, অপারেটররা আশা করি বিবেচনায় নেবেন। ইন্টারনেটের মূল্য কমানো নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছে। পর্যবেক্ষণ শেষে মূল্য ও সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আব্দুস সালাম নামের একজন গ্রাহক অযাচিত নম্বর থেকে কল আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ডিএনডি (ডু নট ডিস্ট্রার্ব) অপশন কাজ করছে। এছাড়া অপারেটররাও ব্যবস্থা নেবে।
আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি সেকেন্ড পালসের প্যাকেজ কিনে কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, সুস্পস্ট অভিযোগ দিন। যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। অপারেটররাও সতর্ক থাকবেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না আসে। তিনি বলেন, আমরা সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি। এ বছরেই চালু করবো। এ সিস্টেম চালু হলে অভিযোগ করলে পরীক্ষা করে দেখবো কোনো ধরনের ফাঁকি দেয়া হয়েছে কি না এবং করে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবো। হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে প্রায় ২২টি প্রশ্ন এসেছে। অভিযোগের সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই কমিশন সমাধান করবে। কল সেন্টার সপ্তাহে ৫ দিন ছিল, এখন সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ফেসবুকসহ ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, অপারেটরের যারা আছেন, কি কি অভিযোগ এসেছে তা শুনেছেন, কি কি সমস্যা? আমরা এটুকু শুনেছি আমরা অপারেটরদের বেশি বেশি সমর্থন করি! সত্যিকার অর্থে বিটিআরসি কখনও কাউকে সমর্থন করে না। আইন যেভাবে আছে আমরা সেভাবে আচরণ করি। মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা খুবই তৎপর। আমরা টেস্ট করেছি, রেডিয়েশন নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফাইভ-জি’র জরিপ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান একজন কর্মকর্তা।
সন্তুষ্ট নয় মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন: এদিকে গণশুনানীতে অংশ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানির অভিযোগ আজ কেন প্রকাশ করা হচ্ছে? বিইআরসি’র গণশুনানীর ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও বিটিআরসির কেন এ ধরণের বাধ্যবাধকতা নেই? সেই সঙ্গে আজ গ্রাহকরা অপারেটরদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তার পক্ষে অপারেটররা মতামত না দিয়ে কমিশন কেন তাদের পক্ষপাতিত্ব করছে? ভয়েস কলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনের কাছে জানতে চাইলে কমিশনের উত্তর বিশ্বের দুই-একটি দেশ ছাড়া বাংলাদেশের কলরেট সব চাইতে কম। এমএনপি’র ডিপিং চার্জ কেন? এর উত্তরে কমিশনের বক্তব্য বিষয়টি ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখা হবে।
ফোর-জি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কিন্তু স্পেকট্রামের উচ্চমূল্যের কারণে অপারেটররা নিলামে প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনছে না। এ বিষয়ে কমিশনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। ফোর’জি’র গতি নিয়ে কমিশনের বক্তব্য ফোর’জি সেবা পেতে আরো সময় লাগবে। ফাইভ’জি নিয়ে গ্রাহকদের মতামত নেয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে কমিশন বলেন,বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে ৬ মাসের মধ্যে ফাইভ’জি চালু করা হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার দাবী জানালে কমিশনের উত্তর সামাজিক উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দিয়ে হাওর ও দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবসায় নৈরাজ্য ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে গণশুনানীতে জানান। সাড়ে সাত লাখ রিটেইলারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতি জেলায় বিটিআরসি’র কার্যালয় ও লোকবল নিয়োগ করে তদারকির তাগিদ দেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উত্তাল গণবিক্ষোভে পিছু হটলেন হংকং-এর চীনপন্থী শাসক

মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে হংকংজুড়ে এই গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।
শনিবারের সংবাদ সম্মেলনের আগেই কর্তৃপক্ষের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, বিলটি ‘কিছু সময়ের জন্য’ স্থগিত রাখার পরিকল্পনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিলটি জনগণকে অনুধাবন করাতে সরকারের কাজ ‘যথেষ্ট’ ছিল না বলে আফসোস করেন হংকং-এর শাসক ক্যারি ল্যাম। হংকংয়ের বৃহত্তর স্বার্থ নিশ্চিত করাকেই নিজের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।
কথিত এই অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন রাতে অঞ্চলটির রাজপথে নামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ঢল টানা কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অঞ্চলটির সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রাখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ব্যাপক গণআন্দোলনের তীব্রতায় শনিবার বিলটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেন অঞ্চলটির চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম।
প্রস্তাবিত বিলে সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন ও তাইওয়ানে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে। কিন্তু চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি সেখানে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০১৮ সালের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনও চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তাইওয়ানও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে।
হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও, ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অঞ্চলটির নেতা বা প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের দাবি, হংকং যে বিশেষ স্বাধীনতা উপভোগ করে, নতুন আইনের ফলে তার কোনও ক্ষতি হবে না। তবে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আইনটির মাধ্যমে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে বেইজিং। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথের বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতোপূর্বে ক্যারি ল্যাম দাবি করেন, এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে মানবাধিকারের রক্ষাকবচগুলো যুক্ত করা হয়েছে। তার দাবি, প্রস্তাবিত আইনটি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তোলা হয়নি। বিবেকের তাড়নায় এবং হংকংয়ের প্রতি অঙ্গীকার থেকেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গণবিক্ষোভের মুখে নিজের এমন অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি।
হংকংয়ে পুরো পরিবার সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া হেরা পুন বলেন, ‘আমি মনে করি এটা এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত সবচেয়ে বাজে আইন। আমরা সবাই বুঝতে পারছি, হংকংয়ের বিচার ব্যবস্থায় নাড়া দিচ্ছে চীন।’
পুন মনে করেন, চীন সরকার কারও ওপর অসন্তুষ্ট হলেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ নয়। রবিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও অনেকে তার মতো একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
ক্রিস্টোফার নামের এক প্রতিবাদকারী বলেন, ‘আমি তিন সন্তানের পিতা এবং আমিও প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে আমার মতামত জানাতে চাই। আমি মনে করি নতুন এই আইন হংকংয়ের মৌলিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।’ সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আমাদের দুধ-চা এবং বাবুল-বিস্কুট খাওয়ালেন: মাহবুব উল্লাহ by তারিক চয়ন

ছোটভাইকে ছাড়া ঈদ কেমন কাটলো?
আমরা একসঙ্গে পাড়ার গ্রিন রোড ডরমিটরি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতাম। এবার তো সে চলে গেল।
অনেক কিছু মনে পড়ছে।
আপনারা কয় ভাইবোন?
আমরা দুই ভাই, দুই বোন। আমার বাবা বিয়ে করেন ১৯৩৯ সালে। আমার জন্ম হয় ১৯৪৫ সালে। আমার আগে আমার এক বোনের জন্ম হয়েছিল, কিন্তু সে ছিল মৃত। যাই হোক, আমার পরে এক বোন। তারপর মাহফুজ উল্লাহ। তারপর এক বোন।
ছোটভাইকে নিয়ে ছোটবেলার কোনো মজার স্মৃতি মনে পড়ে?
ছোটবেলায় বাবা আমাকে কঠোর শাসন করতেন। কেন যেন মনে হতো, বাবা ওকে বেশি প্রশ্রয় দিচ্ছেন। মৃদু হেসে তিনি বলেন, হয়তো বিষয়টি তেমন ছিল না। কিন্তু আমার তখন কেন যেন এমনটাই মনে হতো।
মাহফুজ উল্লাহর জানাজা এবং শোকসভায় অনেকদিন পর বহু মত, পথের মানুষকে এক মঞ্চে দেখা গেছে। নানা কারণে নানান মানুষ তাকে পছন্দ করতো। আপনার দৃষ্টিতে তার সবচেয়ে বড় গুণ কি ছিল?
ঠিক এটাই। মাহফুজ উল্লাহ সব ধরনের, সব মতবাদের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারতো। কারো প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করতো না।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে যে বই লেখার কথা ছিল, সেটি কতদূর এগিয়েছিলেন?
সেটা ও শুরু করে যেতে পারেনি। যদিও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ফেলেছিল।
ভারতে থাকাকালীন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মাহফুজ উল্লাহ...
হ্যাঁ, তখন সে ‘বিচিত্রা’তে ছিল। ওই সময়ে ওর নিজ হাতে তোলা একটি ছবিই পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পোস্টারে ব্যবহৃত হয়।
হাসপাতালে ভর্তির আগে তিনি আপনাকে শেখ হাসিনার একটি ছবি দেখিয়েছিলেন। এর কারণ কি বলে মনে করেন?
হ্যাঁ, সেটা হাসপাতালে ভর্তির বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। জানিনা কি মনে করে দেখিয়েছিল। তবে ছবিটা শেখ হাসিনার অপেক্ষাকৃত কম বয়সের। তার চোখের চাহনি ছিল অন্যরকম। তবে এ নিয়ে তেমন কথা হয়নি।
কিছুদিন আগে মাহফুজ উল্লাহ স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমি প্রথম যাকে খুঁজেছি তিনি হলেন মাহবুব উল্লাহ। শুনেছি ১৬ই ডিসেম্বরের পর পর বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের সঙ্গে দেখা হলে তিনিও একই কথা বলেছিলেন...
হ্যাঁ। আমি, মাহফুজ উল্লাহ এবং আমার স্ত্রী বিজয়ের দু-তিন দিন পর সেসময় ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি আমাকে দেখে বললেন, আমিতো ভেবেছিলাম তোমাকে ওরা মেরেই ফেলেছে। তিনি আমাদের ‘কনডেন্সড মিল্ক’-এ তৈরি দুধ-চা খাওয়ালেন। সঙ্গে ছিল বিস্কুট, নাম বাবুল, স্পষ্ট মনে আছে। সেখানে শেখ হাসিনাও ছিলেন, তার কোলে ছিল শিশুসন্তান জয়।
উপমহাদেশে বাম রাজনীতির পুরোধা কমরেড মুজাফ্ফর আহ্মেদের দৌহিত্র আপনারা। উনার সঙ্গে আপনাদের দেখা হয়েছিল?
হ্যাঁ। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশে আসলে প্রথম আমাদের সামনাসামনি দেখা হয়। এর আগে অবশ্য পত্র মারফত যোগাযোগ ছিল। উনি আমাদের নানা হন। নানারা তিন ভাই ছিলেন। আমার নানা মাওলানা মকবুল আহমেদ ছিলেন সবার বড়। তারপর খুরশিদ আহমদ এবং সবার ছোট ছিলেন মুজাফ্ফর আহ্মেদ।
আপনার ভাই মেধাবী ছিলেন এবং মেট্রিকে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিলেন বলে পত্রিকায় লিখেছেন। আপনার নিজেরও তো সেরকম অর্জন রয়েছে বলে শুনেছি...
মেট্রিকে আমি সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পাইনি। তবে ‘ইন্টারমিডিয়েট’-এ দ্বিতীয় হয়েছিলাম, ঢাকা কলেজে ‘আর্টস’ থেকে পরীক্ষা দিয়ে।
বাংলাদেশের অনেক গুণী এবং বিখ্যাত লোক আপনার অনুসারী ছিলেন। তেমন কিছু নাম যদি বলতেন...
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক মন্ত্রী ও জাপা নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, অপরাজেয় বাংলা স্থাপনার ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, জাবির দুই উপাচার্য খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান ও ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমেদ কামাল, ৭১-এর শহীদ সৈয়দ রুহুল আমীন, সিরাজ শিকদার...আপাতত এসব নামই মনে পড়ছে।
আপনার ছোটভাইকে নিয়ে লেখা শোকগাথার দুটি লাইন ছিল এমন- ‘আমরা ছিলাম দুটি ভাই, মানিকজোড় যেন। এমন স্নেহ, এমন ভালোবাসা... যাপিতজীবনে কথা বলিনি, বিষয় ছিল না হেন।’ বাস্তবেও কি তাই ছিল?
হ্যাঁ। ঠিক তাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাশবাহী গাড়ি আটকে পুলিশের চাঁদা দাবি: শ্রীমঙ্গলে সড়ক অবরোধ

জানা যায়, উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার রুবেল নামে এক ড্রাইভার গত শুক্রবার রাতে সিলেটের ওসমানী নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিহত ড্রাইভারের লাশ একটি পিকআপ ভ্যানযোগে (গাড়ি নং ঢাকা মেট্রো-ন-১৫৭৩৮১) শ্রীমঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে মতিগঞ্জের বটেরতল নামক স্থানে পৌঁছালে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার অপরাধে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নান্নু মণ্ডল যানটি আটক করে। পরে চালক ও লাশের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন পিকআপ চালক।
এ ঘটনায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুর ১১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় কয়েকশ’ যানবাহন আটকা পড়ে।
এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
লাশবাহী পিকআপ চালক শাকিবুল হাসান শাকিল বলেন, ‘উপজেলার মতিগঞ্জের বটেরতল এলাকায় লাশ নিয়ে পৌঁছলে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই নান্নু মণ্ডল প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এটা কিসের লাশ? চুরির লাশ না মার্ডারের লাশ? পরে গাড়ির কাগজপত্র চেক করার পর ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ার এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করেন’।
সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই নান্নু মণ্ডল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ এত অমানুষ নয়। লাশের গাড়ি আটকিয়ে টাকা চাইবে। লাশের গাড়ির সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। তিনি মুঠোফোনে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরসুর বিসিক শিল্পনগরীর সামনে একটি পিকআপ ভ্যান নং ৪৮৬৭ মাত্রাতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করে পিকআপের উপরে তিনজন যাত্রী বসিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে ভুনবীর বাজারে যাওয়ার পথে আটকাই। পরে পিকআপের উপরের তিন যাত্রীকে নামিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেই। কাগজ না থাকলে পিকআপ আটকালেন না কেন- এ প্রশ্নের উত্তরে নান্নু মণ্ডল বলেন, লোকাল গাড়ি দেখে ছেড়ে দেয়াটাই বড় ভুল হয়েছে। এখন অন্য বদনাম দিচ্ছে। তিনি বলেন- দুপুর থেকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতগাঁও শ্রীমঙ্গল অংশে শ্রমিকরা কয়েকশ’ যানবাহন আটকে দিয়েছে।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক ট্রাক ও ট্যাংকলরি পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। শ্রমিক অবরোধের বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে এস আই নান্নু মণ্ডলকে ফাঁড়ি থেকে বদলির আশ্বাস পেয়ে সাধারণ শ্রমিকরা গতকাল দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রিজিয়নের এসপি ও মৌলভীবাজারের এসপি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ফাঁড়ি ইনচার্জ নান্নু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এতে করে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। গতকাল লাশবাহী যান আটকিয়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করে না পেয়ে আমাদের এক চালককে মারধর করে। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা এই মুহূর্তে নান্নু মণ্ডলের স্ট্যান্ড রিলিজ চাচ্ছি। তবে, প্রশাসন থেকে আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে এবং আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। তিনি বলেন- দাবি পূরণ না হলে আবারো কর্মসূচি দেয়া হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেনি, আই লাভ ইউ গার্ল: ৫ বছর পর প্রেমিক-প্রেমিকার দেখা
তারই দু’চারটা নিজের কাছে রেখেছিলেন রবিনস। যুদ্ধের এক পর্যায়ে অকস্মাৎ তাকে স্টেশন ত্যাগ করতে হয়। সেই যে গেলেন, আর ফেরা হয় নি।

এরপর কেটে গেছে ৭৫ বছর। কারো সঙ্গে কারো দেখা হয় নি। এবার ফরাসি এক সাংবাদিককে রবিনস তার প্রেমিকার সেই ছবি দেখিয়ে বললেন তার নাম। ওই সাংবাদিক খোঁজাখুঁজি করেন। সত্যি পেয়ে যান পিয়ারসনকে। আয়োজন চলে তাদের দেখা-সাক্ষাত করিয়ে দেয়ার। সত্যি সত্যি ৭৫ বছর পর আবেগঘন এক রিইউনিয়নে তারা একত্রিত হন। চোখে চোখে বলা হয়ে যায়, ফেলে আসা ৭৫ বছরে মনের ভিতরে ক্ষরণের সব কথা। রবিনস তার প্রেমিকাকে দেখেই বলে উঠলেন, তুমি কখনও আমার হৃদয় থেকে হারিয়ে যাও নি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই সেনা সদস্য রবিনস ফ্রান্সে দায়িত্ব পালন করতে এসে ফরাসি সুন্দরী পিয়ারসনের (১৮) প্রেমে পড়ে যান। পিয়ারসনের ছোট্ট শহরে দায়িত্ব পড়েছিল তার। তিনি প্রথম চোখ মেলে দেখেছিলেন পিয়ারসনকে। ১৯৪৪ সালের কথা সে। উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের ব্রাইয়ি শহরের ঘটনা। সেখানে রচনা হয়েছিল তাদের প্রেমের সম্পর্ক। ওই সময় রবিনসের পোশাক ধুয়ে দেয়ার জন্য কারো প্রয়োজন ছিল। এ কাজে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন পিয়ারসন। তাতে তার মায়ের সম্মতি ছিল। কাপড় কাচতে গিয়ে রবিনসের প্রেম পড়ে যান তারা। এর মাত্র দু’মাস পড়ে রবিনসকে বলা হয়, তাকে দ্রুত ওই এলাকা ছাড়তে হবে। যোগ দিতে হবে ইস্টার্ন ফ্রন্টে। যুদ্ধ করতে হবে এক্সিস পাওয়ারসের বিরুদ্ধে।

ফ্রান্স ২ টেলিভিশন চ্যানেলকে রবিনস বলেন, আমি যাওয়ার আগে সম্ভবত পিয়ারসনকে বলেছিলাম- আমি আবার আসব। তোমাকে নিয়ে যাবো। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে নি। পিয়ারসন বলেন, যখন রবিনস চলে গেলেন, ট্রাকে উঠলেন, তখন চিৎকার করে কেঁদেছি আমি। আমার মনটা তখন ভেঙে যাচ্ছিল। আমি চেয়েছিলাম যুদ্ধের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে না যান যেন।
১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হলো। পিয়ারসন বেসিক ইংরেজি শিখতে লাগলেন। তার আশা ছিল, স্বপ্ন দেখানো যুবক রবিনস তার কাছে ফিরে আসবেন একদিন। কিন্তু ফিরে আসেন নি রবিনস। তিনি ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাত হয় লিলিয়ান নামের এক যুবতীর। তাকেই তিনি বিয়ে করেন। তার সঙ্গে ৭০ বছরের দাম্পত্য তার। মিসিসিপিতে একটি হার্ডওয়্যার স্টোরে ৫০ বছর ধরে পাশাপাশি কাজ করছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু ২০১৫ সালে ৯২ বছর বয়সে মারা যান তার স্ত্রী লিলিয়ান। অন্যদিকে পিয়ারসনও নতুন করে প্রেমে পড়ে যান অন্য একজনের। ১৯৪৯ সালে তিনি বিয়ে করেন তাকে। তারপর ৫ সন্তানের মা তিনি।
দু’জনে আলাদাভাবে যার যার দেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও রবিনস কখনো তার ফরাসি প্রেমিকাকে ভুলে যান নি। তিনি সব সময় কাছে কাছে রাখতেন পিয়ারসনের সঙ্গে তার সাদাকালো ছবি। সেই ছবি এখনও তার কাছে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওপর বর্ষীয়ান যোদ্ধাদের ওপর রিপোর্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান একদল ফরাসি সাংবাদিক। তাদেরকে সেই ছবি দেখালেন রবিনস। বললেন, তিনি পিয়ারসনের গ্রামে ফিরতে চান। সাক্ষাত করতে চান তার সঙ্গে। তার ধারণা ছিল পিয়ারসন মারা গেছেন। তার ভাষায়, নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, তাকে আর দেখতে পাবো না।
ফ্রান্সে প্রথম যেখানে তাদের প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ২৭ মাইল দূরে মন্টিগনি-লেস-মেটজ, মোসেলে’তে অবসরে যাওয়া মানুষদের থাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পিয়ারসনকে খুঁজে পান তারা। ফরাসি ওই সাংবাদিকরা এই দুই প্রেমিক প্রেমিকার সাক্ষাতের আয়োজন করলেন। রবিনস যখন পিয়ারসনকে জীবিত দেখার আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন তখন তাকে সাংবাদিকরা বললেন, পিয়ারসন বেঁচে আছেন। আপনাকে দেখার জন্য প্রতীক্ষায় আছেন তিনি।

রবিনস চলে আসেন ফ্রান্সে। সেখানে তিনি প্রথম চোখ খুলতেই তার সামনে হাসিমুখে ৭৫ বছর আগের সেই পিয়ারসন। দু’জনের চোখে সে কি তৃপ্তি! সে কি অভিব্যক্তি। পিয়ারসনকে দেখেই রবিনস বললেন, সব সময়ই আমি তোমাকে ভালবাসি। আমার হৃদয় থেকে কখনো মুছে যাও নি। রবিনস এরপর বের করেন সেই ঐতিহাসিক ছবি। পিয়ারসনকে বলেন, এতটা দশক ধরে এটা আমার বুকের কাছে আগলে রেখেছি। এই ছবিটায় যে সুন্দরীকে দেখতে পাচ্ছ, এটা তুমি।
জবাবে পিয়ারসন বললেন- ওয়াও!
চুম্বন বিনিময় হলো তাদের মধ্যে। একজন আরেকজনের মুখ হাতড়ে দেখেন ৭৫ বছরের পুরনো ভালবাসাকে। বয়স হয়েছে। তাতে কি! সেই প্রেম এখনও তেমনই সতেজ আছে। সজীব আছে। তাই পিয়ারসন বললেন, আমি তো সব সময়ই তাকে ভেবেছি। ভেবেছি সে একদিন ফিরে আসবে। আমি সব সময় চেয়েছি সে ফিরে আসবে।
একসঙ্গে তারা কাটালেন বেশ কয়েকটি ঘন্টা। এরপরই নরম্যান্ডিতে বিশ্বযুদ্ধের বিজয় উৎসবে যোগ দিতে ছুটে যেতে হয় রবিনস’কে। এখন রবিনসের স্ত্রী নেই। পিয়ারসনও বিধবা। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবার দেখা করবেন। বিদায় নেয়ার সময় রবিনস তাকে বললেন, জেনি, আই লাভ ইউ গার্ল।
সঙ্গে সঙ্গে শতবর্ষী ছুঁই ছুঁই করা এই প্রেমিক প্রেমিকার দু’জোড়া চোখ ৭৫ বছর পরে সেই যৌবনের আবেগ নিয়ে ভিজে উঠল অশ্রুতে। দু’জনের ঠোঁটে ঠোঁট মিশে গেল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গায়েবি মামলায় ভজঘট by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দায়ের হওয়া এসব মামলার এজাহার নিয়ে অনুসন্ধান করে মানবজমিন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিমানবন্দর থানায় গত বছরের ১২ই সেপ্টেম্বর করা ২২(৯) ১৮ নম্বর মামলার এজহারে বলা হয়, থানা এলাকায় আশকোনার হজ্জ ক্যাম্পের সামনে হজ্জ ক্যাম্প পার্কিংয়ে নাশকতা চালানোর জন্য বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি চালাচ্ছিলো। এমন সময় বিমানবন্দর থানার টহল দল সেখানে উপস্থিত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের ছোঁড়া ইট-পাটকেলে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন আসামিদের নাম। এই মামলায় আসামি করা হয় ১১২ জনকে, সঙ্গে আছে আরো অজ্ঞতনামা ১০ থেকে ১২ জন।
প্রায় শতাধিক ব্যক্তি পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে অথচ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্কচটেপের একটি টুকরা, দুইটি জর্দার কোটা, এগারোটি ভাঙ্গা ছোট-বড় ইটের টুকরা, ১৩টি বাঁশের লাঠি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ মামলার একজন আসামি বলেন, যদি আমরা এক-দেড়শ জন পুলিশের উপর হামলা চালাই তাহলে এখান থেকে কিভাবে মাত্র এগারোটি ভাঙ্গা ইটের টুকরা উদ্ধার হয়, মানুষ হিসেব করলে তো অন্তত কয়েকশ ইটের টুকরা বা আলামত উদ্ধার করার কথা। মামলায় দেখানো জব্দ আলামত থেকে বোঝা যায় এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই।
শুধু নির্বাচনের আগে আমাদের হয়রানি করতে তারা সরকারকে সহযোগিতা করেছে। এদিকে একই তারিখে দক্ষিণখান থানার আরেকটি মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ওই দিন দক্ষিণখান থানাধীন দক্ষিণ আজমপুর জামতলা ২ নম্বর রেলগেইট সংলগ্ন ৩৩ নম্বর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাংচুর করছিল। এমন সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে নেতাকর্মীরা পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। তখন ঘটনাস্থল থেকে যানবাহনের ভাঙ্গা অংশ, তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া যায় বলে এজাহারে লেখা হয়। এই মামলায় যে তিনজনকে সাক্ষী দেখিয়ে স্বাক্ষর রেখে আলামত জব্দ করা হয়েছে এমন তিনজনের স্বাক্ষর দেখতে হুবহু একই রকম। আলামতের জব্দ তালিকার লেখকের হাতের লেখার সাথে মিলে যায়।
ডিএমপির এই দুই থানার মামলার মতো ছয়টি থানার মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে প্রায় একই রকম চিত্র পাওয়া যায়। শুধু ঘটনার স্থান, কাল ও সময়ের সামান্য হেরফের রয়েছে। ছয়টি থানার অন্তত বিশটি মামলায় দেখা গেছে, মামলার এজাহারে ঘুরে ফিরে একই ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এমন একটি মামলার আসামি পিয়াল হাসান । তার বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর থানায় এগারোটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় তিনি আগাম জামিনে আছেন। পিয়াল মানবজমিনকে বলেন, কখন কবে কি করলাম নিজেও জানি না। অথচ আমার বিরুদ্ধে এগারোটি মামলা। নির্বাচনের আগে শান্তিতে নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করেছে। আর এসব মামলা মিথ্যা বা সাজানো মামলা সেটা মামলা গুলোর এজাহার দেখলেই বোঝা যাবে। সবগুলোর এজাহার একই রকম। এখন পুলিশ হয়রানি করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা করার নির্বাচনের আগেই করেই ফেলেছে এখন তো আমি আগাম জামিনে আছি, তাই কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারছে না।
গায়েবি মামলার আরেক আসামি শওকত। তুরাগ ও দক্ষিণখান থানায় প্রায় ১৩টি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। শওকত বলেন, তুরাগ থানায় যেদিন আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেদিন আমি হজ করে দেশে ফিরেছি। আমার পাসপোর্টেও সেই তারিখ আছে। কিন্তু আমাকে পুলিশ নাশকতা মামলা দিয়ে দিলো। হজ করে ফেরার দিনই কেউ নাশকতা চালায়? আমি কোনো রাজনীতি করি না, তারপরও আমার বিরুদ্ধে এ মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এর বিচার আমরা কার কাছে চাইবো? এসব মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসে আরো তথ্য।
বিমানবন্দর থানার ২২ নম্বর মামলার স্বাক্ষীদের ফোন দেয়া হলে বেরিয়ে আসে হতাশাজনক উত্তর। কারণ স্বাক্ষীরদের প্রায় সকলে জানেন না যে তারা নাশকতামূলক কোন মামলার স্বাক্ষী তাদের মধ্যে একজন আশকোনা পুলিশ বক্স এলাকার চা দোকানদার। প্রতিবেদকের কাছে তিনি একটি মামলার স্বাক্ষী এমন কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি মানবজমনিকে বলেন, কয়েকমাস আগে পুলিশের কয়েকজন এসে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে যায়, কিসের স্বাক্ষর বা কেন দিচ্ছে কিছুই বলেনি পুলিশ। তার সঙ্গে আরেকজন ডাব বিক্রেতারও স্বাক্ষর নিয়েছিলো পুলিশ। বেশ কয়েকজন স্বাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে একই রকম চিত্র পাওয়া যায়। এমন আরো বিভিন্ন মামলার বেশ কয়েকজন স্বাক্ষীকে ফোন দিলে ফোন নম্বরের সাথে নামের মিল পাওয়া যায়নি বা এজাহারে উল্লেখ করা নম্বর ও ঠিকানা ছিল ভুল। জাতীয় নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া এসব মামলা নিয়ে বিপাকে আছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারাও। নানা জটিলতায় ঘেরা নাশকতা মামলাগুলোর চার্জশিট দিতে পারছে না তারা।
ঘটনার প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন মামলায় চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। এমনকি কবে নাগাদ দিতে পারবে তাও জানেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থানার একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক সবুজ রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, এর বেশি কিছুই বলতে পারবো না। তবে তার মামলার সাক্ষীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাক্ষীরা জেনে বুঝে সাক্ষী দিয়েছে। তারা তো বিষয়টা জানার কথা। এ বিষয়ে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি। দক্ষিণখান থানার আরেক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, সব থানার মামলার এজহারের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমি একটি মামলার কথা বলতে পারবো। একই দিনে বা এক দুই দিন পর একই ব্যক্তি বিভিন্ন থানায় ঘুরে ফিরে কিভাবে আসামি হয় এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দিতে রাজি হননি। এসব বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। উত্তরা পূর্ব থানার আরেক ততন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি কিছু বলতে পারবো না । আমি এখন আর নাশকতা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নেই। তবে যতটুকু বলতে পারি, এসব মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট দেয়া হবে।
দক্ষিন খান থানার আরেক তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, চার্জশিট দিতে দেরি হচ্ছে না, মামলাগুলো তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট দেয়া হবে। মামলার এজহার প্রায় এক এ বিষয়ে তিনি কথা না বললেও একই ব্যক্তি বিভিন্ন থানায় আসামি হয় কি করে প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা নাশকতার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদেরকেই আসামি করা হয়েছে। ভালো মানুষদের করা হয়নি।
উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা মুশফিকুর রহিম বলেন, সব থানার এজাহার কিভাবে একরকম হয় সেটা আমি বলতে পারবো না। আমার থানার টা আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং আমি নিজেই বাদি হয়ে মামলা করেছি। যারা নাশকতার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । সময় হলেই চার্জশিট দেবো।
এসব মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজিবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, এই ধরনের গায়েবি মামলাগুলোর চাচর্জশিট আগামী পাঁচ বছরেও দিতে পারবে না পুলিশ। কারণ ঘটনা যেখানে ঘটে নাই, সেটা ঘটেছে দেখাবার জন্য পুলিশ স্বাক্ষী প্রমাণ কোথায় খুঁজে পাবে? অন্যদিকে আমার কাছে মনে হয়, এসব মামলা নিঃসন্দেহে আইন এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ। বেশিরভাগ গায়েবি মামলা হওয়া সত্ত্বেও এগুলো খারিজ হচ্ছে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাপান by মনজুরুল হক
![]() |
| কোবের নোয়েভিয়া স্টেডিয়াম |
এর আগে অবশ্য লন্ডন ও ওয়াশিংটনে স্বল্প বিরতিতে একই ধরনের আরও দুটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৯ সালের পিটসবার্গ শীর্ষ বৈঠকে বছরে একবার নিয়মিত বৈঠকের ধারা বজায় রাখার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ সম্মত হয়েছিলেন। বলিষ্ঠ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহযোগিতার করে যাওয়ার যে অঙ্গীকার সেই বৈঠকে করা হয়, তা অর্জনের একটি উপায় হিসেবে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অপরিহার্য বলে ধরে নেওয়া নেতৃবৃন্দের সেদিনের সেই সম্মতির ফলাফল হচ্ছে জি ২০ জোট।
এরপর থেকে প্রতিবছর জোটের নেতারা শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়ে মূলত অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত বিনিময় করে গেলেও জলবায়ুর পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যাসহ বিশ্বের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করা জটিল সব বৈশ্বিক সমস্যাবলীও পরবর্তীতে আলোচ্য-সূচিতে জায়গা করে নেয়। ফলে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন এখন হচ্ছে বিশ্ব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ ঠিক করে নিতে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে মতামত বিনিময়ের একটি ফোরাম। তবে বিভক্ত পৃথিবীতে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত আছে।
জি ২০র অন্তর্ভুক্ত ১৯টি দেশ বছরে একবার পর্যায়ক্রমিকভাবে শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করে থাকে। জাপান এবার প্রথমবারের মতো জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হতে যাচ্ছে এবং ওসাকায় নির্ধারিত মূল সম্মেলন সফল করে তোলার নানারকম প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের আলোচনায় মিলিত হওয়ার বাইরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের আরও ৮টি বৈঠকও জাপানের অন্য আটটি শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতিসংক্রান্ত মন্ত্রীদের বৈঠক ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর বাইরে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নেতৃস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়া টি ২০ নামের অন্য একটি বৈঠকও কিছুদিন আগে টোকিওতে শেষ হয়। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকগুলোর মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকটি হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের, নভেম্বর মাসের শেষদিকে নাগোইয়া শহরে যেটা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে জোটের পর্যটন মন্ত্রীরা হোক্কাইদোর কুচান শহরে বৈঠকে মিলিত হবেন।
জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনকে অর্থবহ ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্যান্য কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনকেও সম্মেলনে অংশ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে কারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব স্বাগতিক রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলেও আঞ্চলিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের বিভিন্ন জোটের নেতৃত্বে থাকা রাষ্ট্রসমূহ এই ক্ষেত্রে সাধারণত অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে জোটভুক্ত ১৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে আরও ৮টি দেশ এবং ৯টি বহুজাতিক সংস্থাকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে জি ২০ ওসাকা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীর মোট সংখ্যা হচ্ছে ৩৭ টি।
যে ১৯টি দেশ জি ২০র মূল সদস্য সেগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রিত ৮টি দেশ হচ্ছে নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, স্পেন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিসর, চিলি ও সেনেগাল।
![]() |
| পাহাড় থেকে দেখা আমানো-হাশিদাতের অপরূপ সৌন্দর্য। |
জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের বাইরে এ বছর জাপানের আয়োজন করতে যাওয়া আরও একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট হচ্ছে বিশ্ব কাপ রাগবি। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে জাপানের যে ১২টি শহরে বিশ্ব কাপ রাগবির আয়োজন বসছে, সেই দলে কোবে শহর অন্তর্ভুক্ত আছে। কোবের নোয়েভিয়া স্টেডিয়াম মূলত ফুটবলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিশ্ব কাপ রাগবির চারটি খেলা সেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। রাগবি বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রেস টুরে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সেই স্টেডিয়াম দেখার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি কোবের বিশ্ব জুড়ে পরিচিত খাদ্য কোবে বিফ পরিবেশন করা এক মধ্যাহ্ন ভোজনের ব্যবস্থাও এদের জন্য রাখা হয়েছিল।
![]() |
| সাগর থেকে বৃষ্টি-ভেজা দিনে দেখা ইনের ফুনাইয়া |
কোবের পালা সাঙ্গ করে প্রেস টুরে অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা গিয়েছিলেন কিওতোর উত্তরের তিনটি শহর মিয়াজু, আমানো-হাশিদাতে এবং ইনেতে। তিন শহরের মধ্যে আমানো হাশিদাতে এর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য জাপানের সবচেয়ে সুন্দর তিনটি স্থানের একটি হিসেবে পরিচিত। এর মূল আকর্ষণ হচ্ছে সমুদ্র উপকূল থেকে ৬.৩ কিলোমিটার দূরে মিয়াজু উপসাগরের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চলে যাওয়া সরু এক ভূখণ্ড, যার পুরোটা জুড়ে আছে ৮ হাজারের বেশি পাইন গাছ।
জাপানের কিংবদন্তিতে উল্লেখ আছে যে সূর্য দেবী আমাতেরাসু ওমিকামি পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করে তোলার জন্য স্বর্গ থেকে যে মই বেয়ে নেমে এসেছিলেন, সেই মই একসময় পড়ে যায় এবং সেটাই তৈরি করে দেয় সরু সেই ভূখণ্ড। পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা সেই দৃশ্য আসলেই হচ্ছে খুবই মনোরম। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ আসা করছে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন এবং বিশ্ব কাপ রাগবি উপলক্ষে জাপানে আসা বিদেশিদের অনেকেই সেই সুযোগ গ্রহণ করে ঘুরে যাবেন কিওতোর কিছুটা আড়ালে থেকে যাওয়া তাঁদের সেই অঞ্চল।
![]() |
| ফুনাইয়ার আরেকটি দৃশ্য। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রুমার ‘কাঠগড়ায়’ উপশহরের সবাই by ওয়েছ খছরু

দাবি করেছেন, তাদের ইন্ধন এবং নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে। রুমা এর আগে সিলেটের শাহপরান থানায়ও অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ আসামির তালিকায় কয়েক ‘নেতার’ নাম দেখে সেটি ফিরিয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুমা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিজাত এলাকা বলা হয় সিলেটের উপশহরকে।
এই এলাকার পরিচিত মুখ রুমা বেগম। তিনি নারী উদ্যোক্তা। ওয়ান টু হান্ডেড নামে তার নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুরো নাম মার্জিয়া বেগম রুমা। শাহজালাল উপশহরের ২৯-৩ নং বাসার বাসিন্দা তিনি। উপশহরে ব্যবসার সুবাদে সবার কাছেই পরিচিত তিনি। সবাই তাকে এক নামেই চিনেন। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে রুমা বেগম সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় তিনি আসামি করেছেন যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল, স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সালেহ আহমদ সেলিম, ব্যবসায়ী সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু, যুবলীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম জাকির, গিয়াস উদ্দিন, হুমায়ূন রশীদ সুমন, ফজলুর রহমান, নাহিদুর রহমান সাব্বির, সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম, সামসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুর, জোসেফ, রাহাতুল আমীন, মিজানুর রহমান মাহাদী রাজা, সিরাজী, রণি ও অর্ঘ্যকে। এজাহারে রুমা বেগম উল্লেখ করেছেন- আসামিরা দাপুটে হওয়ার কারণে তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তারা এলাকায় নানা ধরনের বিতর্কিত ঘটনা ঘটায়। এতে করে তারা উপশহরের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে। এর আগে বিভিন্ন সময় আসামিরা তার কাছে চাঁদা দাবি করলে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে তার দোকানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনি শাহপরান থানায় আগেও দুটি মামলা করেছেন। এসব মামলার কারণে আসামিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এজাহারে রুমা উল্লেখ করেন, গত ২৩শে এপ্রিল তার বড় ছেলে দক্ষিণ সুরমা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ আহমদ চৌধুরীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় সাব্বির সহ অন্য আসামিরা।
তারা বাসার নিচ থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে এমসি কলেজের ফটকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা লোহার রড দিয়ে তাহমিদকে পেটায়। এতে তার নাকে গুরুতর জখম হয়। মারধরের ফলে তাহমিদ অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামিরা চলে যায়। যাওয়ার সময় তারা নগদ ১০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে তাদেরও হুমকি প্রদান করে আসামিরা। শেষে লোক মারফত খবর পেয়ে তিনি নিজেই তাহমিদকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত তাহমিদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৭ নং ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এবং ৪ঠা মে পর্যন্ত ডাক্তাররা তার ছেলের চিকিৎসা করেন বলে জানান রুমা বেগম। এ সময় ডাক্তাররা তার ছেলে তাহমিদের নাকে ও মুখে অস্ত্রোপচার করেন। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দাখিলের পর থেকে আসামিরা তাকেসহ তার ছেলেদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন রুমা বেগম। গতকাল মার্জিয়া বেগম রুমা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তার ছেলের ওপর হামলার ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি বিচার পাননি। কোনো আসামিই গ্রেপ্তার হয়নি। এ কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তটস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তবে সিলেটের শাহপরান থানার উপশহর ফাঁড়ির এসআই সোহেল রানা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। এখন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের পর বোঝা যাবে ঘটনাটি আসলে কী। প্রয়োজনে ঘটনার দিন ও তার আগের কললিস্ট সংগ্রহ করা হবে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকলে পুলিশ অবশ্যই কাউকে ছাড় দেবে না। এদিকে অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত সেটি না দেখে পূর্বের জেদ মেটাতে রুমা বেগম রাজনৈতিক নেতাদের অভিযুক্ত করছেন। এতে করে মামলার মূল ঘটনা ও প্রকৃত দোষীরা রেহাই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুবলীগ নেতা জাকিরুল আলম জাকির জানিয়েছেন, অভিযোগে ৬ জনকে সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন তার নিজের লোক। আর অপর যে ৪ জনকে সাক্ষীর তালিকায় রেখেছেন ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। সাক্ষীরা আমাদের অভিযুক্ত করছে না। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তালিকায় থাকা আরো কয়েকজন ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহালও নয়। পূর্বের বিরোধের জেদ মেটাতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এই মামলায় উপশহরে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানান তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কাউন্সিলর সেলিমও এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ ছাড়া ঘটনাও তার এলাকায় ঘটেনি। তবে, রুমা বেগম জানিয়েছেন, তিনি নির্দোষ কাউকে অভিযুক্তের তালিকায় রাখেন নি। তদন্তে সেটি প্রমাণিত হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তুরস্কের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর অস্ত্র কিনছে পাকিস্তান

প্রতিরক্ষা কোম্পানিটি সাবমেরিনের জন্য জারগানা অ্যান্টি-টর্পেডো কাউন্টারমেজার সিস্টেম নির্মাণ করেছে। দেশের আগস্তে ৯০বি সাবমেরিনের জন্য পাকিস্তান এই অস্ত্র কিনবে।
জারগানার কাছ থেকে এর আগে ইন্দোনেশিয়া এটি কিনেছিল। এটি এই বিভাগে বিশ্বের সেরা অস্ত্র প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে জ্যামার দিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা প্রতিহত করা হয়। হামলাকারীরা যাতে সাবমেরিনটিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয় এই ব্যবস্থায়।
সাবমেরিনকে লক্ষ্য করে হুমকি চিহ্নিত করার পর হামলা প্রতিরোধ করতে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থাটিই প্রয়োগ করে।
টর্পেডো হামলার বিরুদ্ধে জারগানার প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ। এতে ২৪টি বিভিন্ন ধরনের লঞ্চার থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাটি সহজেই প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্ক ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। প্রায় সব খাতে তারা সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধ যান তৈরি করতে সক্ষম।
টার্কিশ এক্সপোর্টাস এসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে এই খাতের রফতানি ১৭ ভাগ বেড়েছে। নভেম্বরে ১.৭ বিলিয়ন ডলারের নিজস্ব রেকর্ডও ভেঙেছে। তারা এখন ২.০৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ড করতে চায়। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের পারফরমেন্স ১.৫ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন ডলার।
তুর্কি প্রতিরক্ষা রফতানির শীর্ষ গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দেশে এই খাতের বিক্রি ৪১ ভাগ বেড়ে ৬৪.২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে ওমান। সেখানে রফতানির পরিমাণ ৪৯.৪ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয়স্থানে থাকা জার্মানিতে রফতানি ১৮.৪ মিলিয়ন ডলার।
গুয়েতামালা, ভারত, গায়েনা, তানজানিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মতো নতুন নতুন দেশেও প্রতিরক্ষা পণ্য রফতানি করছে তুরস্ক।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার ‘দোয়েল’ by হিটলার এ. হালিম

এবার সংকট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। জুন মাসের মধ্যে পুরোদমে উৎপাদনে গিয়ে মূল ধারায় ফিরতে চায় দোয়েল। তেমনটাই জানালেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘দোয়েলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) বাই জুন ফুললি অপারেশনাল হবে।’
প্রসঙ্গত, দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পের জন্য কখনও মূলধন বা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর কাছ থেকে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্প শুরু হয়। পরে বিটিসিএল ঋণের অর্থ ফিরিয়ে নেয়। দোয়েল ল্যাপটপের উদ্বোধন ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে হলেও সংকটের শুরু আরও আগে থেকে। এই প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে মালয়েশিয়ার টিএফটি (টিএফটি টেকনোলজি গ্রুপ) এবং বাংলাদেশের টুএম করপোরেশন মোট বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ করার কথা থাকলেও বিনিয়োগ করে মাত্র ২০ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দু’টি সম্পূর্ণ টাকা বিনিয়োগ না করায় এবং সরকার থেকেও বরাদ্দ না রাখায় শুরু থেকেই সংকটের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে ল্যাপটপ প্রকল্প।
নিজেদের সক্ষমতার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দোয়েলের কারখানায় খোঁজ নিয়েছি, আমরা মিনিটে একটা করে ল্যাপটপ বানাতে পারি। এর পুরোটাই (দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্প) মিসম্যানেজড ছিল। যদি দোয়েল ল্যাপটপ চলতো, তাহলে এই সমস্যা হতো না। ২০১১ সাল থেকেই দেখে আসছি একটা সমস্যা রয়েছে এতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দোয়েল নিয়ে আশাবাদের একটা জায়গা হলো— সরকারি কেনাকাটা। এটা আমাদের জন্য বড় একটা সুবিধা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যদি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এগুলো কিনে নিতে হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দোয়েল ল্যাপটপ ক্রয় করছে। এর অর্থ হলো, গভর্নমেন্ট মার্কেট আছে।’
মূলধন সংকটে ঋণ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগই ছিল না। এখন সবকিছু নতুন করে ঠিক করা হবে। আমাদের ব্র্যান্ডটিই (দোয়েল) চালু ছিল না। আমরা এখন ব্র্যান্ডটি চালু করছি। এখন আপগ্রেডেড প্রোডাক্ট তৈরি করছি। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো দোয়েলের দুর্বলতা কাটাতে হবে। দোয়েল যদি শক্তিশালীভাবে বাজারে থাকতে পারতো, তাহলে এই সমস্যা হতো না। আমাদের সক্ষমতা আছে। লোকবল আছে। অ্যাসেম্বিলি লাইনে ৮০ জন কর্মী রয়েছে। দোয়েল যদি শক্তিশালীভাবে ফিরে আসে, তাহলে নিশ্চিতভাবে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘জুনের মধ্যেই আমরা আবারও উৎপাদন শুরু করবো। আমাদের হাতে এমনই গাইডলাইন রয়েছে। আমাদের হাতে এখন কোয়াড কোর প্রসের আছে, এটা দিয়ে ল্যাপটপ তৈরি হবে। ঈদের পরে আসবে কোর আই-থ্রি, কোর আই-ফাইভ, কোর আই সেভেনের ল্যাপটপ। বাজার ধরতে হলে সময়ের সঙ্গে থাকতে হবে। তা নাহলে কেন সবাই দোয়েল ল্যাপটপ কিনবে?’ তিনি জানান, ঈদের পরে ৪-৫টা মডেলের দোয়েল ল্যাপটপ আসতে পারে। যদিও মানের কারণেই দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্প এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তারা বলেছেন, শুরু থেকেই দোয়েল ল্যাপটপের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘দোয়েলের ল্যাপটপ উৎপাদন বন্ধ থাকে না। যন্ত্রাংশের সংকট হলে তখন এসব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এজন্য তখন উৎপাদন হয় না। এটাকে উৎপাদন বন্ধ বলা যাবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে পাওয়া যায় একই মানের ল্যাপটপের চেয়ে দোয়েল ল্যাপটপের দাম কম থাকবে। তা নাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাদ দিয়ে ক্রেতারা আমাদের ল্যাপটপ নেবে কেন। আমরা মান দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন নো প্রফিট, নো লস— এই নীতিতে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
জানা গেলো, সারাদেশে দোয়েল ল্যাপটপের মাত্র ১৭টি আউটলেট (বিক্রয় কেন্দ্র) রয়েছে। ঢাকার বাইরেরগুলোতে সাধারণত দোয়েল ল্যাপটপ বিক্রির পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়। আর ঢাকারগুলো থেকে শুধু ল্যাপটপ বিক্রি হয়। শিগগিরই আউটলেটের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। টেশিস কর্তৃপক্ষ ডিলারও নিয়োগ করতে চলেছে। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে সে ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা আগ্রহী হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ বলে ডিলাররা বিক্রিতে কমিশন পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টেশিস কর্তৃপক্ষ ‘ডিলাররা অন্য ল্যাপটপে যেমন কমিশন পায়, আমরাও একই পরিমাণ দেবো’ বলে আশ্বস্ত করলেও ডিলারদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে দোয়েল ল্যাপটপ প্রাপ্তি সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উবার চালক হত্যার ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ by শাহনেওয়াজ বাবলু

সরজমিন উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ৫২ নম্বর বাড়ির সামনে একটি দেয়ালে গাড়ির ধাক্কা লাগার চিহ্ন রয়েছে। ১৬ নম্বর সড়কে কিছু কিছু জায়গায় রক্তের দাগও দেখা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৩ই জুন রাত ১১টা ২১ মিনিটে উবারে কল পেয়ে রামপুরার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যাত্রী নিয়ে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে আসেন চালক আরমান। ১২টার পর ওই যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
গাড়ির ভেতরে ড্রাইভিং সিটে নিহতের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের গাড়ি স্টার্ট অবস্থায় ছিল। তার সিট বেল্ট বাঁধা ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চলন্ত অবস্থায় গাড়িটি ১৬ নম্বর সড়ক দিয়ে এসে ৫২ নম্বর বাড়ির পাশের দেয়ালে ধাক্কা খায়। ওই গাড়ির ভেতর থেকে নিহতের দুটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেছে। গাড়ির পেছনের দুটি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সামনের দুটি দরজার লক খোলা ছিল। উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৫, ১৬, ২০ নম্বর সড়কে বিভিন্ন ভবনে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে এই গাড়ির সামনের অংশ দেখা গেলেও পেছনের অংশ দেখা যায়নি। এছাড়া ক্যামেরার ফুটেজে হামলার কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি।
আরমানের গাড়ির মালিকের ছোট ভাই গোলাম আলী অন্তর বলেন, আরমান আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ। দেড় বছর ধরে সে আমাদের গাড়ি চালায়। তার কোনও শত্রু আছে বলে আমার মনে হয় না।
উত্তরা ১৪ নম্বরের এক বাসিন্দা বলেন, ওই রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি শব্দ হয়। তখন বাসা থেকে নেমে দেখি একটি গাড়ি দেয়াল ঘেঁষে আছে। ভেতরে একজন লোক রক্তাক্ত। তার গলার অনেকটা অংশ কাটা ছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। উত্তরা ১৪ নম্বর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সেক্টর এলাকায় কোনও সড়কে বাতি জ্বলে না। সেখানে ৩৪ জন সিকিউরিটি নাইট গার্ড রয়েছেন। তাছাড়া ১৪ নম্বর সেক্টরে রাতে পুলিশ টহলও তেমন থাকে না। পুরো সেক্টরে যদি নিয়মিত পুলিশ টহল থাকতো, তাহলে এমন অপরাধের সুযোগ থাকতো না বলে দাবি করেছে এলাকাবাসী।
উত্তরা পশ্চিম থানা ওসি তপন চন্দ্র সাহা মানবজমিনকে বলেন, ঘটনার কারণ জানতে আমরা বিভিন্ন ক্লু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। হত্যাকারী কে বা কারা তা শনাক্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সীমান্ত হত্যা অনাকাঙ্ক্ষিত

বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১৯ সদসস্যের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়।
সীমান্তে হত্যার বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সীমান্ত এলাকায় এমন হত্যাকাণ্ড কারও কাম্য নয়। বিএসএফ প্রথমেই আগ্নেয়াস্ত্র যাতে ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু কখনও কখনও অবস্থা এমন হয়, চোরাচালানকারীরা লাঠি, পাথর, ধারালো অস্ত্র নিয়ে সীমান্তরক্ষীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। তখনও সীমান্তরক্ষীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরি। কিন্তু সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলা হলে অনাকাঙ্খিত এই ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ তদন্তও করে।
বিএসএফ প্রধান বলেন, গত বছর সীমান্তে মাত্র সাতটি হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশের, বাকি ছয়টি ভারতের। তবে এ বছর প্রথম পাঁচ মাসে এর থেকে বেশি ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন উগ্রবাদী কার্যক্রম মোকাবিলায় দুই দেশ কীভাবে কাজ করে, জানতে চাইলে বিএসএফ মহাপরিচালক রজনীকান্ত বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে আমাদের মধ্যে খুব বেশি তথ্যের বিনিময় হচ্ছে। আমরা কোনও তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বিজিবিকে জানাই।
বিজিবিও কোন তথ্য পেলে আমাদের জানায়। এসব তথ্য অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, উগ্রবাদ উভয় রাষ্ট্রের জন্যই সমস্যা। সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দুই দেশের বাহিনীর ভেতরে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনাও হয়। ভারত থেকেও বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে। এর উৎস কোথায় জানতে চাইলে বিএসএফ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত কোনও দেশ এর জন্য দায়ী না। ইয়াবার জন্য তৃৃতীয় একটি দেশ দায়ী। ভারতেও এর আসক্ত রয়েছে। ফেলানী হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ প্রধান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
আদালতে ট্রায়াল চলছে। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে লিখিত বক্তব্য দেন বিজিবি প্রধান। তিনি বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যাতে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে, সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিএসএফ’র দিল্লি থেকে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরু করে সেটি আমাদের ঢাকায় বিজিবি সদর দপ্তরে এসে শেষ হবে। বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটা বিএসএফ করবে বলে জানিয়েছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম এবং আস্তানা বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফ একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার বিষয়টিও সম্মেলনে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া, কুমিল্লায় ২য় ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্তে আসে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠক থেকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাসায় আটকে দেহব্যবসা, কান্না শুনে দুই নারীকে উদ্ধার

কৌশলে আদালতে হাজির করে খদ্দেরসহ তিনজনকেই মানবপাচার আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয়ার আদেশ দেন মহানগর হাকিম আল ইমরান খান। আর গ্রেপ্তার তিনজন হলো- দেহব্যবসা পরিচালনায় মূল অভিযুক্ত শেলী আক্তার (২৮) ও আবু কায়সার জাহাঙ্গীর বাবু (৩২) এবং খদ্দের মো. হৃদয় (১৮)।
আদালতে চকবাজার থানার জিআরও আনিসুর রহমান গতকাল বিকালে দৈনিক মানবজমিনকে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাসায় ফেরার পথে চকবাজারের কাপাসগোলা এলাকার তাহেরা ফেরদৌস ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু মেয়ের চিৎকার-কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান মুসল্লিরা।
এরপর তারা দ্বিতীয় তলার ওই বাসায় প্রবেশ করে দুই নারীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি এক নারীসহ তিনজনকে ধরে চকবাজার থানা পুলিশকে খবর দেন।
চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকেই নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে দুই ভুক্তভোগী নারী ও খদ্দের হৃদয়কে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অধর্তব্য অপরাধে প্রসিকিউশন দাখিল করে আদালতে পাঠানো হয়। থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে মূল অপরাধী শেলী আক্তার ও জাহাঙ্গীর বাবুকে।
এর ফলে ভুক্তভোগী দুই নারী আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার পাশাপাশি মূল অপরাধীরা রক্ষা পেতে যাচ্ছিলেন। তবে বিচারক আল ইমরান খানের বিচক্ষণতায় সেটি সম্ভব হয়নি। মামলাটি শুনানিতে নিয়ে তিনি ভুক্তভোগী দুই নারী ও খদ্দের হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনেন।
ভুক্তভোগী দুই নারী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবুসহ তাদের চক্রের অধীনে নগরীর চকবাজার, দুই নাম্বার গেইট ও খুলশী এলাকায় তিনটি বাসা আছে। এসব বাসায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের ফুসলিয়ে বা ফাঁদে ফেলে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদেরকে বন্দি রেখে, মারধর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
আদালতকে ভুক্তভোগী নারীরা জানান, এসব বাসায় আসা খদ্দেররা প্রথমে ইয়াবা খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়। এরপর তাদের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালায়। তারা ইয়াবা সেবনের পর নারীর সঙ্গে যৌন সমপর্ক করতে পারে বিধায় এসব চক্রের কাছে খদ্দের বেশি আসে।
পরে খদ্দের হৃদয়কে বিচারক আল ইমরান খান জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, ভুক্তভোগী দুই নারীর বক্তব্য সঠিক। শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবু আদালত প্রাঙ্গণেই আছে। জরিমানার বিনিময়ে দুই ভুক্তভোগী নারী ছাড়া পেলে তাদেরকে আবার দেহব্যবসার জন্য জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে।
তাদের বক্তব্য শোনা ও লেখার পর বিচারক আল ইমরান খান পুলিশকে নির্দেশ দেন শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবুকে পাওয়া গেলে আদালতে হাজির করার জন্য। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাদের ধরে আদালতে হাজির করে। এরপর বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ স্বীকার করলেও কৌশলে অনেক বিষয় এড়িয়ে যায়।
সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আদালত জানায়, জোর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করিয়ে শেলী আক্তার, আবু কায়সার জাহাঙ্গীর বাবু ও মো. হৃদয় মানবপাচার আইনের ১২ ধারাসহ অন্যান্য অপরাধ করেছেন। এরপর উক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়ার পাশাপাশি দুই ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিতে আদেশ দেন বিচারক আল ইমরান খান।
ঘটনার বিষয়ে মানবপাচার আইনে নতুন করে একটি মামলা রেকর্ড করার জন্য চকবাজার থানার ওসিকে নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সঙ্গে মানবপাচার আইনে মামলা না করে ৭৬ ধারায় চালান দেয়ার বিষয়টি আদালত সন্তোষজনকভাবে বিবেচনা করেননি আদালত। ফলে, চকবাজার থানায় নতুন করে রেকর্ড করা মামলাটি তদন্তের জন্য উপযুক্ত কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ফিলিস্তিনের 'আত্মসমর্পণ'
মি. মালকি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে 'শতবর্ষের সেরা পরিকল্পনা' বলে বলছেন - তা আসলে "ফিলিস্তিনীদের শত-বর্ষব্যাপী দুর্ভোগকেই বৈধতা দেবে।"
এই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। তবে ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী মাসে এটি প্রকাশ করা হবে।
ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কোন অবস্থান নেয়নি।
এ মাসের গোড়াতে মি. ট্রাম্পের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, যিনি একই সঙ্গে তার মেয়ের স্বামী, তিনি জানান যে প্রস্তাবিত "কাঠামোতে … দু'পক্ষই লাভবান হবে।" তিনি এই শান্তি পরিকল্পনাটির রূপকার।
তবে এই শান্তি কাঠামোতে তথাকথিত 'দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান' থাকবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
দুটি রাষ্ট্রই ভাগাভাগি করে জেরুসালেমকে রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করবে।
![]() |
| জেরুসালেমে মুখোমুখী ফিলিস্তিনী আর ইসরায়েলি দুই সমর্থক। (ফাইল ফটো) |
তবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েলি নেতাদের মনোভাব বেশ শীতল।
লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে এক ভাষণে ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন যে ইসরায়েলের ঔপনিবেশিক নীতিমালায় সমর্থন দিতে যাচ্ছে" তার সব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
"শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়ার প্রশ্নে বিশ্ব এক বেপরোয়া ড্রাইভারের হাতে পড়েছে," তিনি বলেন, "(কিছু একটা করার বদলে) আমরা বসে দেখছি সেই ড্রাইভার গাড়িটিকে খাদে ফেলে দেয় নাকি ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়।"
ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকাগুলিতে বসতি স্থাপন এবং অন্যান্য তৎপরতাকে ফিলিস্তিনীরা প্রায়ই এক ধরনের ঔপনিবেশিকতা বলে বর্ণনা করে। তবে ইসরায়েল একে বরাবরই নাকচ করে।
উনিশশো সাতষট্টি সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল এপর্যন্ত ওয়েস্ট ব্যাংক এবং পূর্ব জেরুসালেমে মোট ১৪০টি বসতি নির্মাণ করেছে এবং ছয় লক্ষ ইহুদি সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনীরা দাবি করে এই জায়গাগুলো তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও এই ধরনের বসতি নির্মাণ বেআইনি। কিন্তু ইসরায়েল তা মানে না।
মি. মালকি তার ভাষণে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় "নেই কোন স্বাধীনতা প্রস্তাব, নেই স্বাধিকারের প্রস্তাব, নেই মুক্তি কিংবা ন্যায়বিচার।"
"(যুক্তরাষ্ট্র) যদি মনে করে যে এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের ভবিষ্যতের ওপর এবং ঐ অঞ্চলের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না, তাহলে তারা ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে বাস করছে, আমরা নই।"
মি. ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত করে মি. মালকি বলেন, ফিলিস্তিনীরা কোনমতেই ঐ পরিকল্পনা মেনে নেবে না।
![]() |
| মি. মালকি বলেন, মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা "ফিলিস্তিনীদের শত-বর্ষব্যাপী দুর্ভোগকেই বৈধতা দেবে।" |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
June
(697)
-
▼
Jun 16
(19)
- ভারতে চাপের মুখে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা by অরিত্রী দাস
- আরও ১০০ ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত
- নজরদারির আওতায় আসছে বেসরকারি হেলিকপ্টার by চৌধুরী ...
- লিজের বিমানে বছরে গচ্চা ১২০ কোটি টাকা by দীন ইসলাম
- ইরানকে ধরতে মক্কায় ওআইসিসহ বহুজাতিক তিন জোটের জরুর...
- বিটিআরসি ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
- উত্তাল গণবিক্ষোভে পিছু হটলেন হংকং-এর চীনপন্থী শাসক
- ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আমাদের দুধ-চা এবং বাবুল-বিস্কু...
- লাশবাহী গাড়ি আটকে পুলিশের চাঁদা দাবি: শ্রীমঙ্গলে স...
- জেনি, আই লাভ ইউ গার্ল: ৫ বছর পর প্রেমিক-প্রেমিকার ...
- গায়েবি মামলায় ভজঘট by মোহাম্মদ ওমর ফারুক
- জি ২০ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাপান by...
- রুমার ‘কাঠগড়ায়’ উপশহরের সবাই by ওয়েছ খছরু
- তুরস্কের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর অস্ত্র কিনছে পাকিস্তান
- ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার ‘দোয়েল’ by হিটলা...
- উবার চালক হত্যার ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ by শাহনেওয়াজ...
- সীমান্ত হত্যা অনাকাঙ্ক্ষিত
- বাসায় আটকে দেহব্যবসা, কান্না শুনে দুই নারীকে উদ্ধার
- ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের...
-
▼
Jun 16
(19)
-
▼
June
(697)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






