Friday, November 29, 2024

গাজার উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের গভীরে ঢুকেছে ইসরায়েলি ট্যাংক, নিহত ৪২

গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলে চিকিৎসা কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আল–জাজিরা আরবিকে এ তথ্য জানিয়েছে। মধ্যাঞ্চলীয় এলাকাগুলোয় ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের বোমা হামলা জোরদার করার পর এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের ট্যাংকগুলোও গাজা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া শহরে কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে একটি বাড়িতে দুটি বিমান হামলায় ছয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে ইসরায়েলি হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

পরে পূর্বাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় একটি আশ্রয়শিবিরের কাছে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো ওই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল।

নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে। শিবিরের আল আওদা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এতে একটি বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন মসজিদের বাইরের সড়কগুলোয় হামলা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আশ্রয়শিবিরের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো অগ্রসর হওয়ায় বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের বাড়িতে আটকা পড়েছে। ট্যাংক থেকে অনবরত গোলা ছোড়ার কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।

এদিকে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকায় আটকে পড়া মানুষেরা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আছেন।

জাতিসংঘ বলেছে, ‘খাবার-দাবার দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এবং দুর্ভিক্ষ আসন্ন। গাজার পানি সরবরাহের বেশির ভাগটাই পানের জন্য অনিরাপদ। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় পরিবারগুলো পরিত্যক্ত বাড়িতে বা খোলা জায়গায় বসবাস করছে।

গাজার মধ্যাঞ্চল থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আজুম বলেন, পরিবারগুলো শুধু পানি পান করে এবং খেজুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকেরাও বলেছেন, ইসরায়েলি বিমান ও গোলা হামলায় বিধ্বস্ত হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের নিচে তাদের পরিবারের সদস্যরা চাপা পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না।’

গত মঙ্গলবার লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি এখন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন করে তৎপর হবেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোরটিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য চুক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি মনে করি, অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে সেদিন থেকেই গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তখন থেকে গাজায় কমপক্ষে ৪৪ হাজার ৩৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজা নগরীতে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি এলাকা
গাজা নগরীতে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি এলাকা। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

সম্ভল মসজিদ সমীক্ষায় নিম্ন আদালত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সমীক্ষার নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হলো ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্ভল মসজিদ কমিটিকে। আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ জারি করে জানান, তাঁর আগে নিম্ন আদালত সমীক্ষার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মসজিদে কোনো সমীক্ষার কাজও করা যাবে না।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ মসজিদ কমিটির আবেদন শুনে বলেন, হাইকোর্টের অভিমত না শুনে সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না। তা সিল করা খামে রাখতে হবে। তাঁরা জানান, তিন কর্মদিবসের মধ্যে (আগামী বুধবার) মসজিদ কমিটিকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতির এজলাস সম্ভলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। শান্তিশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে শান্তি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অযোধ্যার পর কাশীতে (বারানসি) জ্ঞানবাপি মসজিদে সমীক্ষা করা হয়। একই দাবি জানানো হয়েছে মথুরায় শাহি ঈদগাহ মসজিদের ক্ষেত্রেও। এবার উত্তর প্রদেশের সম্ভলে জামা মসজিদের ক্ষেত্রেও নিম্ন আদালত সমীক্ষা করার নির্দেশ দেন। সেই মতো সমীক্ষক দল হাজির হলে ২৪ নভেম্বর সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষ বাধে। গুলিতে চারজন নিহত হন। আহত হন অনেকে।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি, হরিহর (কৃষ্ণ ও শিব) মন্দির ভেঙে সম্ভলের মসজিদ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে ওই মসজিদের সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ নিয়েই গোলমাল।

একই ধরনের দাবি জানানো হয়েছে রাজস্থান রাজ্যের আজমির শরিফ দরগাহর ক্ষেত্রেও। নিম্ন আদালতে রুজু করা মামলায় বলা হয়েছে, খাজা মইনুদ্দিন চিশতি দরগাহটি এক শিবমন্দিরের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) দিয়ে সমীক্ষা করা হলেই সত্য জানা যাবে।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সম্ভলে ধর্মীয় সহিংসতার পর মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ২৫ নভেম্বর
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সম্ভলে ধর্মীয় সহিংসতার পর মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ২৫ নভেম্বর। ছবি: এএফপি

‘বাঁইচে থাকা যে কত কষ্টের, তা আমার মতোন আর কেউ বুঝবে না’ by ইমতিয়াজ উদ্দীন

চার বছর ধরে রাস্তার পাশে খাস জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে শিশুসন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামের স্বপ্না বেগম। নিচু দোচালা ঘরটির গা ঘেঁষে বয়ে গেছে একটি খাল। ভাঙাচোরা ঘরটির আসবাব বলতে তেমন কিছু নেই। কয়েকটি কাঁথা ও বালিশই সম্বল। ঘরটির মধ্যেই চলে রান্না ও ঘুম। মাটিতে কাঁথা-কাপড় বিছিয়ে কোনোরকমে রাত কাটান তাঁরা। স্বপ্নার স্বামী আবদুর রউফ গাজী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এখানে আর তাঁদের খোঁজ নিতেও আসেন না।

গত বুধবার দুপুরে প্রচণ্ড রোদে খালের পাড় থেকে কাদামাটি তুলে ঘরের ভিত ঠিক করছিলেন স্বপ্না বেগম (৪২)। এ কাজে তাঁর সহযোগী ৯ বছরের মেয়ে মরিয়ম। নিচু ঘরটির মেঝেতে তখন থালায় ভাত নিয়ে বসে ছিলেন ছোট দুই ছেলে সাত বছরের আরিফুল ও পাঁচ বছরের রকিবুল। ঘরের সামনে অচেনা মানুষ দেখে এগিয়ে আসেন স্বপ্না বেগম। এ প্রতিনিধিকে জানান, তাঁর বড় ছেলে মেহেদী হাসানের (১৪) সামান্য রোজগারে সন্তানদের নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। কোনো দিন অর্ধাহারে, কোনো দিন থাকতে হয় অনাহারে।

জীবনের গল্প শোনাতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্বপ্না বেগম বলেন, ‘নিজির গতর খাটায়ে চার ছাওয়াল-মাইয়ের খাবার জোগাড় করতি হয়েছে। কখনো রাস্তার কাজে, কখনো মানুষির বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, আবার কখনো গাঙে জাল টানতি হয়। শরিলি আর কুলাই ওঠে না। অসুখবিসুখ লাইগেই আছে। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতি পারি না। বড় ছেলেটারে নদীতে পাঠাইছি। কয়দিন ধরে তার সামান্য রোজগারেই নুন-ভাত জোটে। বাঁইচে থাকা যে কত কষ্টের, তা আমার মতোন আর কেউ বুঝবে না।’

বলতে বলতে গলা ধরে আসে স্বপ্নার। মায়ের পাশে এসে দাঁড়ায় ছোট ছেলেমেয়েরা। শিশুরা অপলক তাকিয়ে আছে। আঁচলে চোখের পানি মুছে স্বপ্না বলেন, ‘একখান ঘরের জন্যি অনেকের কাছে গেছি। সবাই খালি আশ্বাস দেয়, ঘর দেয় না। চার বছর ধইরে রাস্তার পাশে পইড়ে আছি। আয়রোজগার নাই। ছোট ছাওয়াল দুটো বুঝতি চায় না। খালি এইটা-সেইটা খাইতে চায়। ভালো খাবার ছাওয়াল-মাইয়েগের কপালে নাই। মাঝেমধ্যি মনে হয়, গাঙে ডুইবে যাই। কিন্তু চার ছাওয়াল-মাইয়ের মুখির দিকি তাকায়ে তা করতি পারিনে।’

পাশের শাকবাড়িয়া নদী পার হলেই সুন্দরবন। সেখানে অন্যের ডিঙি নৌকায় করে মাছ ধরতে যান স্বপ্না বেগমের বড় ছেলে মেহেদী। যে বয়সে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সে বয়সে মায়ের অসুস্থতার কারণে সব দায়িত্ব পড়েছে তার কাঁধে। নদীর পাড়েই দেখা হয় কিশোর মেহেদীর সঙ্গে। মেহেদী বলে, ‘খুব ভোরে গাঙে আসি। মানুষের সাথে ডিঙি নৌকায় বাদার খালে মাছ-কাঁকড়া ধইরে কোনো দিন দুই শ, কোনো দিন তিন শ টাকা পাই। যেদিন কেউ নৌকায় না নেয়, সেদিন নদীতে জাল টেনে বাগদা চিংড়ির রেণু ধরি। কামাই (রোজগার) একটু কম হয়। সেদিনটা অনেক কষ্টে যায় আমাগের।’

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ছোটবেলায় মা মারা যান স্বপ্নার। তারপর বাবা আরেকটি বিয়ে করলে স্বপ্নার ঠাঁই হয় নানাবাড়িতে। সেখানেই বেড়ে ওঠেন স্বপ্না। ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় আবদুর রউফের সঙ্গে। সন্তানদের জন্মের পর নানাবাড়ি থেকে চলে এসে রাস্তার পাশে ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। স্বপ্নার স্বামী রউফ গাজী আরেকটি বিয়ে করে চলে যান। সেই থেকে সন্তানদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন যাপন করছেন স্বপ্না।

স্বপ্নার প্রতিবেশী আমেনা খাতুন বলেন, ‘ছোট বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে স্বপ্নার কষ্ট দেখতি না পাইরে মাঝেমধ্যি চাল-ডাল যা পারি, দেই। দুর্মূল্যের বাজারে গ্রামের সব মানষির টানাটানির মধ্যি দিন কাটাতি হয়। এর মধ্যি মন চালিও সব সময় সহযোগিতা করতি পারিনে।’

স্বপ্নার ঝুপড়ি ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই বলে জানান জোড়শিং গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন। তিনি আরও বলেন, স্বপ্নার বাচ্চারা বাড়িতে না খেয়ে থাকলেও খবর নেওয়ার কেউ নেই। সরকারি কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিলে ভালো হতো। ছেলে–মেয়েরা পড়াশোনার নিশ্চয়তা পেত।

স্থানীয় দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, পরিবারটির খাওয়ার কষ্টের সঙ্গে বড় সমস্যা ঘরের। তাঁদের থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অন্যান্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এবার ভিজিডির একটি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তিন সন্তানের সঙ্গে মা স্বপ্না বেগম। বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামে
তিন সন্তানের সঙ্গে মা স্বপ্না বেগম। বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

প্রবল ঠাণ্ডা ইউক্রেনে, বেছে বেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নীতিনির্ধারণকারী কেন্দ্রে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক দিয়ে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডে রাতারাতি হামলা শুরু করার কয়েক ঘণ্টা পরে পুতিন এই হুঁশিয়ারি দেন।

ইউক্রেনের প্রবল শীতই এখন হাতিয়ার রাশিয়ার। বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে এমন জায়গাতেই বেছে বেছে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ ফৌজ। এই আক্রমণকে রাশিয়ার মাটিতে ইউক্রেন কর্তৃক মার্কিন সরবরাহকৃত আটকমস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘অবিরাম আক্রমণ’-এর প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছেন পুতিন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেকোনো রাশিয়ান হামলার কঠোর জবাব দেয়া হবে। এই হামলার প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের দক্ষিণ শহর খেরসনে। সেখানকার একাধিক অঞ্চলও এই মুহূর্তে অন্ধকারের গ্রাসে। বিদ্যুৎ না থাকায় সরবরাহ হচ্ছে না পানি।  মিসাইল ও সাইরেনের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙেছে কাতেরিনা মালোফিয়েভা নামে এক সাংবাদিকের। নিজের অভিজ্ঞতার কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। যদিও ইউক্রেনীয় সেনার দাবি আছড়ে পড়ার আগে বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়া হয়। রাশিয়ার হামলার জেরে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে এটি ইউক্রেনের এক মিলিয়নেরও বেশি লোককে বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।  

কনকনে ঠাণ্ডায় সমস্যায় পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। রাশিয়ার এই আক্রমণের কড়া নিন্দা জানিয়েছে কিয়েভ। পাশাপাশি বেশ কিছু পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেন।

জেলেনস্কি বলেন, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে শীত। এখন কিয়েভে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে। ফলে ঘর গরম রাখতে ও পানির পাইপগুলোকে সচল রাখতে বিদ্যুতের প্রয়োজন। সেই দুর্বল জায়গাতেই আঘাত করছে রাশিয়া।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা ধরে হামলা চলে। পশ্চিমের তিনটি অঞ্চলসহ ইউক্রেনের অন্তত ১২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো বলেছেন, জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের জীবন ব্যাহত করছে। সূত্র: বিবিসি

mzamin

অস্ট্রেলিয়ায় ৭০ শিশুকে যৌন হয়রানির অপরাধে একজনের যাবজ্জীবন

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এক চাইল্ড কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে ৭০ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে ভয়াবহ একজন শিশু ধর্ষক (পেডোফিলিক ডিসঅর্ডার) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে সাজা পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম অ্যাশলে পল গ্রিফিথ। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের একটি চাইল্ড কেয়ারে কাজ করেছেন ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ওই চাইল্ড কেয়ারে সংঘটিত ৩০৭টি অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তার হাতে নির্যাতিত বেশিরভাগ শিশুর বয়স এক থেকে সাত বছর। চাঞ্চল্যকর এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, শিশুদের সঙ্গে হওয়া এই অপরাধের মাত্র ও প্রকৃতিকে ‘ভয়ংকর অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন বিচারক পল স্মিথ। বলেন, এই কাজ সুস্পষ্ট ‘বিশ্বাসের উল্লেখযোগ্য লঙ্ঘন’। এই মামলা ছাড়াও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইতালিতে দুই ডজনের বেশি শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিসবেনের জেলা আদালতের বিচারক স্মিথ শুক্রবার বলেছেন, একজন পেডোফিলিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত অপরাধী হিসেবে গ্রিফিথের কথা শুনেছে আদালত। তার মধ্যে পুনরায় এই অপরাধ সংঘটিত করার উচ্চ প্রবণতা ছিল। এতে গ্রিফিথকে কমপক্ষে ২৭ বছরের অজামিনযোগ্য কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্টে গ্রিফিথকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ। তখন তার বিরুদ্ধে ১৬০০টির বেশি শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার অপরাধের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী পুলিশ। এই ছবি বা ভিডিও নিজেই ধারণ করে ডার্ক ওয়েবে প্রচার করতেন গ্রিফিথ। ভিডিওগুলো থেকে মুখের অবয়ব কেটে তা আপলোড করতেন তিনি। কিন্তু ভিডিওতে দেখানো বিছানার চাদর এবং আশপাশের কিছু চিত্র দেখে গ্রিফিথকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের তদন্তকারী টিম। তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, এসব ভিডিও কুইন্সল্যান্ডের চাইল্ড কেয়ারে ধারণ করা হয়েছে।

২৮টি ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন গ্রিফিথ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাদের নির্যাতনের বেশ কয়েকটি অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ওই চাইল্ড কেয়ারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা অবস্থান করে। তার মধ্যে পিসা, ইটালির চার শিশুর সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করেছেন গ্রিফিথ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আরও ৬৫ শিশুকে যৌন হয়রানি করেন তিনি।

mzamin

যুদ্ধবিরতির পরদিনই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

যু্দ্ধবিরতির পরদিনই লেবাননে হামলা করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দক্ষিণ লেবাননের ছয়টি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

বিষয়টি ইসরায়েলও স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী এ হামলা করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, ‍যুদ্ধবিরতির মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিরা জড়ো হচ্ছিলেন। তাদের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে আগেই হামলা করে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল নয় বরং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ।

এর আগে বুধবার থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় শান্তির আশাবাদ জানিয়েছিলেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিতে ৬০ দিন সময় পাবে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালাতে পারবে না। বৃহস্পতিবার লেবাননে অবস্থান করা বাহিনীই হামলা করে।

এদিকে যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন দেশটির বাসিন্দারা, পাশাপাশি নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন তারা। নতুন হামলায় তাদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। তবে তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ লেবাননে পাড়ি দিয়েছে।

লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরি বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, আমি আপনাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তকে নাবিহ বলেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর বসবাস করতে হলেও আপনারা নিজেদের ভূমিতে ফিরে আসুন। 

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত লেবাননের একটি এলাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত লেবাননের একটি এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

আয়নাঘর: অভিজ্ঞতা এত ভয়াবহ যে সরকার কথা বলতে বললেও তাঁরা বলেন না: নাহিদ ইসলাম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছরে ‘আয়নাঘরের’ ভয়াবহ অভিজ্ঞতাসহ অসংখ্য নিপীড়নের ভয়াবহ গল্প আছে। সেগুলো এতটাই ভয়াবহ যে যাঁরা এর শিকার হয়েছেন, তাঁরা এখন সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চান না। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের বারবার অনুরোধ করেছে। তারপরও তাঁরা বলতে চান না; এতটাই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে কথাগুলো বলেন নাহিদ ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ‘বিদ্রূপ ও উপহাসের রাজনীতি: জুলাই বিদ্রোহের সময় কার্টুন ও গ্রাফিতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গত ১৫–১৬ বছরের যে এত এত নিপীড়ন এবং মানুষের যে এত এত গল্প, এগুলো মানুষ আর্টওয়ার্কের (শিল্পকর্ম) মধ্য দিয়ে জানছে। মেইনস্ট্রিম (মূলধারার) পত্রিকাগুলোতেও কিন্তু তখন কার্টুন আঁকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’

এ সময় নিজের আয়নাঘরে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আয়নাঘর, যেখানে মানুষকে গুম করা হতো, আমারও আয়নাঘরের অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেখানে ২৪ ঘণ্টা থাকার। আমি থেকেছি সেই রুমেয় এবং দেখেছি দেয়ালে তাঁদের লেখা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বন্দী ছিলেন।’

শিল্পীরা যদি তাঁদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিপীড়নের বিষয়গুলো নিয়ে আসেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে, মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে, তাহলে বিগত রেজিমটা (আওয়ামী লীগের শাসনামল) আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনটাও আসলে দেয়াললিখন এবং আর্টওয়ার্কের (শিল্পকর্মের) মাধ্যমে এগিয়েছে। আমরা এখন চিন্তা করছি এগুলো সংরক্ষণ করার। মানুষ আসলে কী বলতে চেয়েছিল এবং মানুষ আসলে কী বলতে চায়, এগুলোর উপাদান আমরা সেখানে পাব।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আয়নাঘর–গুম এসব বিষয় নিয়ে আগে কেউ কথা বলতে পারতেন না। তিনি বলেন, গুম কমিশনে প্রায় এক হাজার ছয় শতাধিক আবেদন করা হয়েছে। এই সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজার হতে পারে। গত ১৫–১৬ বছরে পাঁচ হাজার মানুষের গুমের অভিজ্ঞতা হয়েছে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি ছাত্র–জনতার আন্দোলনে দেয়াললিখন, ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কীভাবে আন্দোলনকে বিস্ফোরিত করেছে, তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘আন্দোলনের সময় কয়েক দিন আগেও যারা আমাদের ছেলেদের মেরেছে লাঠি দিয়ে, আওয়ামী লীগের এমন লোকের প্রমোশনের জন্যও এখন তদবির করে বিএনপির লোক, তদবির করে জামায়াতের লোক।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাভিন মুরশিদ প্রমুখ।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লির কি কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করার সময় এসেছে? by জন ড্যানিলোভিজ

লেনিন একবার বলেছিলেন-  ‘কখনো কয়েক দশক ধরে কিছুই ঘটে না। আবার  কখনো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কয়েক দশকের ঘটনা ঘটে যায়।’ দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে, ঢাকার ঘটনাগুলো বিবেচনা করার সময় আমি রাশিয়ান বিপ্লবীর সঙ্গে একমত হতে পারছি না। বাংলাদেশের মাটিতে সমস্ত উন্নয়নের খোঁজ রাখা কঠিন, বিশেষ করে যখন কেউ হাজার হাজার মাইল দূরে বসে থাকে। একই সঙ্গে এই দূরত্ব কিছু দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে। আমি যখন এই কলাম   লিখতে বসেছি, আমার মনের মধ্যে তখন ঘুরপাক খাচ্ছে  চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সহিংসতা।  যার জেরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ব্যাপক অনলাইন বিভ্রান্তি এবং পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নয়াদিল্লি এবং ঢাকা উভয়ের সরকারই রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছে,   প্রাথমিকভাবে নিজের দেশকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিবৃতি জারি করেছে। যদিও  এখনো পর্যন্ত সীমান্তের উভয়দিকের  জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে  বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খুব কমই  উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

অনলাইন হিন্দুত্ববাদী ট্রোলারদের আর বেশি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আগে আমি ভারত সরকার এবং জনসাধারণকে কিছু পরামর্শ দিতে চাইবো। সহজ কথায়, বাংলাদেশের  প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সাফল্য এবং তিনি যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার দ্বারা ভারতের সর্বোত্তম স্বার্থ পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনূসের  নেতৃত্ব এমন একটি জনপ্রিয় সরকারের নির্বাচনের মাধ্যমে  ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করবে   যা অতীতের শাসনব্যবস্থার  অপকর্মকে বাধা দেবে। একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ যা তার নাগরিকদের অধিকারকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি  ভারত এবং তার ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের জন্য কার্যকরী প্রতিপন্ন হবে।

আমি যখন ভারত সরকার, অন্যান্য ভারতীয় নেতা এবং প্রক্সিদের দ্বারা গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেখি, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য প্রচারের পরিবর্তে ভারতীয় নীতিগুলো দুর্বল ও অস্থিতিশীল বলে প্রতীয়মান হয়।কর্তৃত্ববাদী হাসিনার  প্রতি সমর্থন তুলে নিয়ে জেনারেল জেডের সাথে সেতু নির্মাণের পরিবর্তে, ভারতের কৌশলগুলো  আরও বেশি ভারত-বিরোধী মনোভাবের জন্ম দিচ্ছে। একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করার পরিবর্তে ভারতীয় নীতি হলো-  হিন্দু সংখ্যালঘুদের দাবার ঘুঁটির মতো ব্যবহার করে  আন্তঃসামপ্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো। হতে পারে যে, এই কৌশল মোদি  সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করে, তবে এটি বাংলাদেশে ভারতের অবস্থানকে উন্নত করার পরিবর্তে আরও কঠিন করে তোলে।
ভারতীয় নীতি ‘সফল হলে’ তার ফলাফল কী হতে পারে এবার সেটা বিবেচনা করা যাক। অন্তর্বর্তী সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে কিছু কার্যকরী বিকল্প আছে। যেমন  ভারতের পছন্দের প্রার্থী (শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের সদস্য) জুলাই এবং আগস্টে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার পরও  বাংলাদেশ শাসন করতে ফিরে আসতে পারেন। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে এটি ভারতের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে  দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশ  শাসনে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তারা জানে যে, ক্ষমতা কাঁধে নিলে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিপন্ন হতে পারে। কিংবা সেনাবাহিনী বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে জনসমর্থন পাবে না। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হবে কোনো সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন। বর্তমান পরিবেশে, এটি সম্ভবত একটি কট্টর ভারত-বিরোধী সরকারের জন্ম দেবে। তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা অন্য কোনো জোট দ্বারা গঠিত হোক না কেন।

সুতরাং, আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যেই ভারতের স্বার্থ নিহিত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক  নেতাদের একটি বিস্তৃত জোট রয়েছে যারা প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এবং তার দলকে সফল করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভারত বাংলাদেশের সমস্যার সমাধানের অংশ হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু করার জন্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি  এবং প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে  সরাসরি কথা বলতে হবে-  ব্যক্তিগতভাবে।
অতীতে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যখন ফোন করতেন তখন মোদি তার সময় নিয়ে বদান্যতা দেখিয়েছেন।  ইউনূসের সঙ্গেও কথা বলার সময় সেই দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত। এই আলোচনার শীর্ষে যে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে তা হলো-  সীমান্তে  ভারতীয় দিক থেকে আসা বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টাকে দমন করার প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী কণ্ঠের নেতৃত্বে যে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চলছে  তা বন্ধ করা দরকার, হিন্দু সংখ্যালঘুদের স্বার্থেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এর অংশ হিসেবে, নতুন দিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।  প্রশংসনীয়ভাবে,  প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এবং তার দল তাদের কর্মের মূল্যায়নের জন্য আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে, তারা নিখুঁত নয় এবং তাদের ভুল সংশোধন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সংখ্যালঘুদের মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সহজ প্রতিক্রিয়া হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী, সাংবাদিক এবং সরকারগুলোর জন্য দরজা খুলে দেয়া। আমরা জানি সূর্যের আলো সবচেয়ে ভালো জীবাণুনাশক। তাই যে যে সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধান করা দরকার।

অনুমান করা হচ্ছে যে, হানিমুন পিরিয়ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে সংকট উপস্থিত। যারা একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চান তাদের এখনই একত্রিত হওয়া দরকার যাতে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়। বাংলাদেশকে সফল করতে ভারতেরও  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখনই সময়, নয়াদিল্লির কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করার।
লেখক: জন ড্যানিলোভিজ একজন স্বাধীন বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ফরেন সার্ভিস অফিসার।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

mzamin


নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে আইসিসি-তে আর্জি ইসরাইলের

"যুদ্ধাপরাধের" জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আদেশের বিরুদ্ধে  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির কাছে আবেদন করলো ইসরাইল। তেল আবিবের অনুরোধ, আপিলের ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাতে স্থগিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত  ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এবং সে দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও একই ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব আদালতে আপিলের পর জারি করা এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, "ইসরাইল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)  জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে। যদি এই পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান  না করা হয় তাহলে তাঁরা বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ দেখাতেও পিছু হটবে না! সেইসঙ্গে  হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আমেরিকা সহ বিশ্বের বাকি বন্ধু দেশকে তাঁরা জানাবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কতটা পক্ষপাত করে এবং তাঁরা কী পরিমাণ ইসরাইল বিরোধী! নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ইসরাইলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা, ফ্রান্স। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে। অপরদিকে বৃটেন এবং কানাডার মতো দেশ চায় নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হোক। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি 'যুদ্ধাপরাধ' করছেন। নৈতিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে খুন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, মানুষের ওপর নারকীয় অত্যাচার, মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখার মতো অপরাধ করেছেন  তিনি।  গত ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ২০ মে ২০২৪ পর্যন্ত যে রিপোর্ট আদালত হাতে পেয়েছে তার ভিত্তিতেই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের। রায়ের পর, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হেগের বিশ্ব আদালতকে "ইহুদি বিরোধী" বলে অভিযুক্ত করেন এবং ইসরাইল যে পিছু হবে না তা স্পষ্ট করে দেন।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। এমনকি এসবের জন্য পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন, না হলে টেনে-হিঁচড়ে নামানোরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর প্রিজনভ্যানে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে এ কথা বলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা। আইনজীবী আলিফ হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ‘ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে, জেলা আইনজীবী সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিপীড়নবিরোধী আইনজীবী সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দেন।

এডভোকেট নাজিম উদ্দিন বলেন, আমাদের চট্টগ্রামের আদালত অঙ্গন ও আশপাশে এ ধরনের ঘটনা আগে হয়নি। গত পরশু ইসকনের এক সন্ত্রাসী নেতাকে গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতে তোলার পর বিজ্ঞ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন এবং প্রিজনভ্যানে তোলা হলো। আমরা পরবর্তীতে দেখলাম তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। ভ্যানে তোলার পর ইসকন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ভ্যান ঘেরাও করে আদালত অঙ্গনে উল্লাস করেছে। আমরা পুলিশকে দেখেছিলাম নিষ্ক্রিয়। তারা নিরাপদ স্থানে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। এটার পেছনে পুলিশের ইন্ধন আছে বলে আমরা মনে করি।’

পুলিশ প্রিজনভ্যান ফেলে সেখান থেকে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশ প্রিজনভ্যান ফেলে সেখান থেকে চলে গেছে। আমি পত্রিকায় দেখেছি এই চিন্ময় দাস প্রিজনভ্যান থেকে হ্যান্ডমাইক দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি অনুরোধ করবো যতগুলো মামলা হবে এই চিন্ময় দাশকে যেন ১নম্বর আসামি করা হয়। যদি তাকে আসামি না করা হয় আমরা মানবো না। বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আন্দোলনের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘চিন্ময় দাশের হাতে হ্যান্ডমাইক কীভাবে গেল? এর জবাব দিতে হবে। নাহলে পুলিশ কমিশনার চট্টগ্রামে থাকতে পারবেন না। জুলাই ৩৬-এ অনেক রক্ত গিয়েছে। অনেকে শহীদ হয়েছে। তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা যাবে না। পুলিশ প্রশাসন এখনো বসে আছে। আপনাদের হুঁশিয়ার করছি, আপনারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করুন। অন্যথায় টেনে-হিঁচড়ে নামানো হবে।

কোন ধারায় চিন্ময়কে ডিভিশন দেয়া হয়েছে জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি চিন্ময় দাশকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে। জেল কোডের নিয়ম এবং আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আপনি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামিকে ডিভিশন দিয়েছেন? জেল সুপার এবং সিনিয়র জেল সুপারকে অনুরোধ করবো আপনি ডিভিশন প্রত্যাহার করবেন। তাকে সাধারণ কয়েদির সঙ্গে রাখবেন। সে এমন কোনো ইম্পর্টেন্ট ব্যক্তি নয়। বিগত সরকারে আমাদের অনেক রাজনৈতিক নেতাকে ডিভিশন না দিয়ে অসম্মান করা হয়েছে।’
এদিকে, আলিফ হত্যার প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবারও বন্ধ রয়েছে আদালতের কার্যক্রম। ঘোষণা অনুযায়ী, সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এর আগে, বুধবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আলিফ হত্যার প্রতিবাদে ৬টি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

mzamin

আদানি ইস্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে হট্টগোল

ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি এবং তার গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তোলা ব্যাপক ঘুষকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবারও হট্টগোল হয়েছে দেশটির পার্লামেন্টে। এর জেরে দেশটির পার্লামেন্ট লোকসভা অধিবেশন মুলতবি করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, গত সপ্তাহে গৌতম আদানি ও তার সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘুষকাণ্ডের অভিযোগ গঠন করেছে নিউ ইয়র্কের একটি আদালত। অভিযোগে বলা হয়, ভারতের একটি মেগা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতিয়ে নিতে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তাকে মোট ২৬৫ মিলিয়ন ডলার (২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) ঘুষ প্রদান করেছিলেন গৌতম আদানি। প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজ নিজের প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জিকে পাইয়ে দেয়ার জন্যই এ ঘুষ প্রদান করেছিলেন তিনি। এর জেরে আদানি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিউ ইয়র্কের ওই আদালত।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই ভারতের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ নিয়ে ব্যাখ্যার দাবি করে আসছে বিরোধী দল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ। বৃহস্পতিবার মুলতবির পর কংগ্রেসের দলীয় এমপি মণিকম ঠাকুর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, আমরা পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। তিন দিন ধরে আদানি ইস্যুতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা শুনতে চাইছি। তবে এ বিষয়ে এখনো তিনি চুপচাপ আছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আদানির ঘনিষ্ঠ সমর্থক। যদিও কোনো পক্ষই এ বিষয়টি স্বীকার করে না।
আদানি ইস্যুতে পার্লামেন্টে সবচেয়ে সরব বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার দাবি আদানিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত। আদানির বিরুদ্ধে ওঠা বিশাল এই অভিযোগ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি ভারত সরকার। তারা এই ইস্যুতে চুপ থাকার কৌশল বেছে নিয়েছে। বিজেপি’র এক নেতা বলেছে, ভারতের বর্তমান সরকার কখনই শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে নয়, কেননা- এসব শিল্পপতিদের প্রচেষ্টা জাতীয় স্বার্থের অংশ। বিজেপি’র মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগারওয়াল গত মঙ্গলবার বলেছেন, তাদের (আদানি ও তার প্রতিষ্ঠান) নিজেদেরকে আত্মরক্ষা করতে দিতে হবে, কেননা- আইন তার নিজস্ব ধারায় চলমান।

mzamin

লুণ্ঠনকারীদের সম্পদ ফেরাতে না পারলে কীসের বিপ্লব -দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের যে পাহাড় গড়ে উঠেছে, সেখান থেকে জনগণের সম্পদ ফিরিয়ে আনতে না পারলে কীসের বিপ্লব?’ তিনি বলেন, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো কেন বাজেয়াপ্ত হলো না? বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরইফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইআরএফ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিড-এর যৌথ আয়োজনে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেটের উন্মুক্ততা নিয়ে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আর্থিক খাতসহ নানা বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ আছে, তবে কেন যেন উদ্বেগটা কাটছে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান বলেন, ‘সরকার যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে তার ফল আসছে না, মানুষ অত ধৈর্য রাখতে পারছে না। কিংবা আস্থার সংকট হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালীন ইআরএফের এক অনুষ্ঠানে এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন ‘ডাল মে কুচ কালা হে’। এই উদ্ধৃতি আবারো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার বলতে পারবো, কোন কোন ডাল পচা, আর কোন কোন ডাল ভালো ছিল। দেশের দুটি ফুসফুস ব্যাংক ও জ্বালানি খাত।’ এই দুই খাতে বড় ধরনের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে বেশি লুটপাট হয়েছে। এসব তুলে ধরা হবে প্রতিবেদনে।’
দেবপ্রিয় বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যে ধারণা আছে- তার চেয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল। এমন একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো উত্তরাধিকার সরকারের করার কিছু থাকে না। ব্যাংকিং খাতে সমস্যা বেশি ছিল। তা তাৎক্ষণিক দূর করার চেষ্টা চলছে।’  

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যতটা উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে না পারে, তবে দেশের মানুষকে ততটাই হতাশ করা হবে। এজন্য বছর শেষে সরকারকে ৫ মাসের মূল্যায়ন উপস্থাপন করতে হবে- সরকারের দিক থেকে কী কী করা হয়েছে। এগুলো একত্রিত করে প্রকাশ করতে হবে। বাজেটের আগে চলমান পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয়, রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক খাতের ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। আগামী জানুয়ারিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন ফোরাম গঠন করতে পারলে আগামী বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে।’ দেবপ্রিয় বলেন, ‘আর্থিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সংস্কার করা কঠিন হবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার এমনভাবে রেখে গেছে-তার খেসারত আমরা গুনছি। বেপরোয়া অনেক নীতি নিয়েছিল। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট ও চুরি বন্ধ হয়েছে। এর সুফল পাওয়া যাবে। ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও রপ্তানি বেড়েছে। বর্তমানে  নেয়া নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সাড়া দেখতে পাচ্ছি। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হবে। কারণ আগামী ছয় মাস অত্যন্ত কঠিন সময় যাবে। এর মধ্যে রিজার্ভ বাড়াতে হবে। রিজার্ভ না বাড়লে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হবে না।’
জরিপের ফলাফল তুলে ধরে র‌্যাপিড-এর নির্বাহী পরিচালক আবু ইউসুফ বলেন, ‘সরকারের ব্যয় স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে কিনা জনগণ খুবই কম জানতে পারছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজেট ব্যয়ে স্বচ্ছতা ৩৭ শতাংশ। যা যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে। কেবল পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। বাজেটে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ১১ শতাংশ, আর বাজেট বাস্তবায়ন তদারকি হচ্ছে ৩৭ শতাংশ।’    
ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

mzamin

রাজনীতিতে সরব হচ্ছেন বেবী নাজনীন

ক’দিন আগেই দেশে ফিরেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন। ফিরেই মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপে জানিয়েছিলেন, রাজনীতিতেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। দ্রুতই গানের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূূচিতেও সরব হবেন তিনি। এমনকি সামনে নির্বাচন করারও ইঙ্গিত দেন এ সংগীত তারকা। এবার তারই ধারাবাহিকতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে সারা দেশে শহীদ ছাত্র-জনতার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে সৈয়দপুর যাচ্ছেন সংগীতশিল্পী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন। ৩০শে নভেম্বর সকাল ১০টার ফ্লাইটে নিজ জন্মস্থান সৈয়দপুর যাবেন তিনি। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আগে বেবী নাজনীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে সৈয়দপুরের কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। বিকালে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে শহীদ ছাত্র-জনতার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় অনুষ্ঠেয় দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। জানা গেছে, দিনব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরবেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে গত ১০ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি। বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী শাসনের ১৬ বছরে বেবী নাজনীন নানাভাবে প্রতিহিংসার শিকার হন। বন্ধ হয়ে যায় তার পেশাগত কাজকর্ম। অহেতুক আটকসহ নানা হেনস্তার মুখে প্রায় ৮ বছর আগে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। গত ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশে ফেরেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত তারকা বেবী নাজনীন।
mzamin

সাইফুল হত্যা: আরও আট জন গ্রেপ্তার

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। এসবের জন্য পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন, নইলে টেনে-হিঁচড়ে নামানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর প্রিজনভ্যানে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল সকালে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার বিচার চেয়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব প্রশ্ন রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ‘ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আয়োজনে এতে জেলা আইনজীবী সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিপীড়নবিরোধী আইনজীবী সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা যোগ দেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আজ অত্যন্ত শোকাহত এবং ভারাক্রান্ত আমরা। আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্যে আছি। আমাদের চট্টগ্রামের আদালত অঙ্গন ও আশপাশে এ ধরনের ঘটনা আগে হয়নি। গত পরশু ইসকনের এক সন্ত্রাসী নেতাকে গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতে তোলার পর বিজ্ঞ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন এবং প্রিজনভ্যানে তোলা হলো। আমরা পরবর্তীতে দেখলাম তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। ওই প্রিজনভ্যানে তোলার পর ইসকন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ভ্যান ঘেরাও করে আদালত অঙ্গনে উল্লাস করেছে। আমরা পুলিশকে দেখেছিলাম নিষ্ক্রিয়। তারা নিরাপদ স্থানে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। এটার পেছনে পুলিশের ইন্ধন আছে বলে আমরা মনে করি। পুলিশ প্রিজনভ্যান ফেলে সেখান থেকে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশ প্রিজনভ্যান ফেলে সেখান থেকে চলে গেছে। আমি পত্রিকায় দেখেছি এই চিন্ময় দাশ প্রিজন ভ্যান থেকে হ্যান্ডমাইক দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি অনুরোধ করবো যতগুলো মামলা হবে এই চিন্ময় দাশকে যেন এক নম্বর আসামি করা হয়। যদি তাকে আসামি না করা হয় আমরা মানবো না। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আন্দোলনের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মারা এখনো রয়েছে। আলিফকে যেদিন হত্যা করা হচ্ছে এই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ, আর্মি, বিজিবি ছিল। তাদের কেন ডাকা হয়নি?
পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘চিন্ময় দাশের হাতে হ্যান্ডমাইক কীভাবে গেল? এর জবাব দিতে হবে। নাহলে পুলিশ কমিশনার চট্টগ্রাম থাকতে পারবেন না। আমরা পুলিশ কমিশনারকে চাই না। জুলাই ৩৬-এ অনেক রক্ত গিয়েছে। অনেকে শহীদ হয়েছে। তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা যাবে না। আমরা সব জানি, চিনি। পুলিশ প্রশাসন এখনো বসে আছে। আপনাদের হুঁশিয়ার করছি, আপনারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করুন। আমরা গিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ফেলবো না হয়।’

কোন ধারায় চিন্ময়কে ডিভিশন দেয়া হয়েছে জানতে চেয়ে আইনজীবী নেতা নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি চিন্ময় দাশকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে। জেল কোডের নিয়ম এবং আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আপনি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামিকে ডিভিশন দিয়েছেন? জেল সুপার এবং সিনিয়র জেল সুপারকে অনুরোধ করবো আপনি ডিভিশন প্রত্যাহার করবেন। তাকে সাধারণ কয়েদির সঙ্গে রাখবেন। সে এমন কোনো ইম্পর্টেন্ট ব্যক্তি নয়। বিগত সরকার আমাদের অনেক রাজনৈতিক নেতাকে ডিভিশন না দিয়ে অসম্মান করেছে।’

এদিকে, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবারও বন্ধ রয়েছে আদালতের কার্যক্রম। ঘোষণা অনুযায়ী, সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

এর আগে, বুধবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে ৬টি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সিদ্ধান্তসমূহ হলো- সমিতির পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালোব্যাজ ধারণ, বৃহস্পতিবরি চট্টগ্রামের সকল আদালতের কার্যক্রমে কর্মবিরতি, আইনজীবী আলিফের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কোর্ট হিল জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং একইদিনের অবকাশকালীন প্রীতি সমাবেশ বাতিল। এ ছাড়া ১ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় আইনজীবী দোয়েল ভবনের সম্মুখ থেকে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং সমিতির বার্ষিক ইনডোর গেইমস স্থগিত থাকবে।
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার দায়ে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন, রাজিব ভট্টাচার্য্য, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, মনু, রাজীব প্রকাশ ডান্ডি সুমন, ববি চৌধুরী, কৌশিক চৌধুরী, আবির দে, রবিন দাশ, জুয়েল দাশ ও এডভোকেট আবদুল কাইয়ুম। একইসঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ৩টি মামলায় আটক করা হয়েছে ২৭ জনকে। তবে সাইফুলকে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি।

mzamin

‘বহিষ্কৃত চিন্ময়ের দায় নেবে না ইসকন’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে অনেক আগেই ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ইসকন বাংলাদেশের কেউ নন। তাই তার কোনো বক্তব্য বা কার্যক্রমের দায় ইসকন নেবে না। গতকাল রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন বাংলাদেশের আশ্রমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাশ ব্রহ্মচারী।

লিখিত বক্তব্যে চারু চন্দ্র দাশ বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইসকন বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছড়ানোর এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এ অপচেষ্টা চরমে পৌঁছেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা এবং চলমান আন্দোলনের সঙ্গে ইসকন বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এই মিথ্যাচার এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সড়ক দুর্ঘটনার মতো বিষয়গুলোকেও ইসকনের চক্রান্ত বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। চারু চন্দ্র দাশ  বলেন, গত ৩রা অক্টোবর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইসকন’র পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ইসকন বাংলাদেশের মুখপাত্র নন। তাই তার বক্তব্য সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। ইসকন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সুনাম ক্ষুণ্নের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখা ও দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যেকোনো প্রকার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান চারু চন্দ্র দাশ।

ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটি ও শিশু সুরক্ষা দলের সদস্য হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাশ বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের বিরুদ্ধে কয়েকটি শিশু অভিযোগ করেছিল যে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা জানার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চিন্ময়কে চিঠি দেয়া হয়। তখন তদন্তের স্বার্থে তিন মাসের জন্য তাকে সংগঠন ও পুণ্ডরীক ধামের পদ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তবে তিনি তা মানেননি। সংগঠনের নির্দেশনাও শোনেননি। এ কারণে তাকে ইসকন বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে গত জুলাইয়ে বহিষ্কার করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও রাজ্যের বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসকন একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, ভারত থেকে পরিচালিত নয়। কোনো ব্যক্তি কী বললেন, সেটা তাদের বিষয়।  আগামী রোববার ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের সঙ্গে ইসকন বাংলাদেশের একটি বৈঠক রয়েছে। তাতে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বলেন, ইসকন বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সংগঠন, যা সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌর দাশ ব্রহ্মচারী, কার্যনির্বাহী সদস্য বিমলা প্রসাদ দাশ ও চিন্ময় গদাধর দাশ ব্রহ্মচারী প্রমুখ। 

mzamin

সেনাবাহিনীর ব্রিফিং: সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে ইন্ধন রয়েছে

সামপ্রতিক শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন ও চট্টগ্রামে আইনজীবী নিহতের ঘটনায় ইন্ধন রয়েছে। এসব ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর বনানীর সেনা অফিসার্স মেসে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে  সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ ইন্তেখাব হায়দার খান এসব কথা বলেন।

ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, এসব প্রত্যেকটা ঘটনাকে অন্যান্য ঘটনা থেকে একটু আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন। কারণ এগুলো করছেন ৩ ধরনের ব্যক্তি বা গ্রুপ। একটা হলো যারা চিহ্নিত অপরাধী। তাদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধ করা বা এধরনের বিষয়ে কাজ করা। আরেকটা হচ্ছে ইন্ধনদাতা, এদের কিছু হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছেন। আরেকটা বড় গ্রুপ আছে, তারা দেশের সাধারণ জনগণ। যেমন-ছাত্রদের আন্দোলন, গার্মেন্টস সেক্টরের আন্দোলনকারী শ্রমিকরা এরা কিন্তু সাধারণ জনগণ। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছে, এরা কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ জনগণ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাটা থাকবে মূলত আমি প্রথম যেই দুটো গ্রুপ বললাম- যারা অপরাধী ও যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে বা ইন্ধনদাতা তাদের বিরুদ্ধে। আর সাধারণ মানুষের বিপক্ষে যখন আমাদের দাঁড়াতে হয় তখন আমাদের একটু চিন্তা করে কাজ করতে হয়। কারণ এই ছাত্ররাই কিন্তু আন্দোলন করে আমাদের দেশকে বর্তমান পরিস্থিতিতে এনেছে। আমরা সবাই আশা করছি দেশটা ভালোর দিকে যাবে। সেই ছাত্ররাই যখন কারোর ইন্ধনে পরিস্থিতি না বুঝে সাময়িকভাবে একটু লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের বিপক্ষে যদি আমরা শক্তি প্রয়োগের কথা ভাবি তখন আমাদের একটু চিন্তা করে কাজটা করতে হয়। আমরা আশা করি ছাত্ররা, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, সাধারণ মানুষ আছে তারা প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ জায়গায় থেকে আমরা দেশটাকে কোথায় দেখতে চাই এবং সেখানে আমার নিজের কী দায়িত্ব সেটা বুঝবেন। প্রথমত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোক আর যেই মাধ্যমেই হোক এই ধরনের ইন্ধন জাতীয় কোনো বিষয়  দেখবেন তখন আগে সেটার যাচাই-বাছাই করবেন, যে সেটা সঠিক কিনা। দ্বিতীয়ত, যদি ঘটনা সত্যিও হয় তাহলেও ওই ঘটনার প্রতিবাদ অনেক শান্তিপূর্ণভাবেও করা যায়। কারণ আমরা সকলেই শান্তি চাই দেশে। তাই আমরা সকলে যদি নিজে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি তাহলে এমন অনেক ঘটনা আমরা এভয়েড করতে পারি। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। আমাদের কাজটাও সহজ হয়। তিনি বলেন, আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারেও আরও সচেতন হতে হবে। কারণ এই ইন্ধনদাতারা সংখ্যায় কম হলেও তারা যা পোস্ট করেন তাদের ওই পোস্ট অনেক সাধারণ মানুষও কপি করে পোস্ট করে। এখানে সবাই কিন্তু ইন্ধনদাতা থাকেন না। তবে না বুঝে এমন পোস্টের কারণে ঝামেলাগুলো হয়। আমরা সেসব ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ করছি, যারা আসলেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই কাজগুলো করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। ইন্টেলিজেন্স, পুলিশ সকলের সঙ্গে সম্মিলিতভাবেই আমরা সেসব কাজ করছি।

গত চার মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন নিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, গত ১৭ই সেপ্টেম্বর দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদবির অফিসারদের সরকার কর্তৃক যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তা গত ১৫ই নভেম্বর পুনরায় ৬০ দিনের জন্য বর্ধিত করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সুষ্ঠু এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছে। গত ২০শে জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনীর মোট ১২৩ জন সদস্য হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন অফিসার শাহাদতবরণ করেছেন এবং ৯ জন অফিসারসহ মোট ১২২ জন সেনাসদস্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন।

দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিকভাবে যেসব দায়িত্ব পালন করছে সেগুলো হলো- অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা প্রতিরোধ করা; দেশে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখা; বিদেশি কূটনীতিক ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কলকারখানাগুলোকে সচল রাখা, রাষ্ট্রের কেপিআই এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করা, মূল সড়কগুলোকে বাধামুক্ত রাখা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক কারবারি ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা, বিভিন্ন চিহ্নিত অপরাধী ও নাশকতামূলক কাজের ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, কক্সবাজার জেলায় এফডিএমএন ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা বিধান করা এবং সার্বিকভাবে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার যাতে তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা।

১৩ই নভেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোট ২৪টি অবৈধ অস্ত্র এবং ৩৬৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৪০টি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ১৮টি সড়ক অবরোধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এবং কারখানাগুলোকে চালু রাখার জন্য মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও শিল্পাঞ্চল ছাড়াও ৬৩টি বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ১৬টি, সরকারি সংস্থা/অফিস সংক্রান্ত ১টি, রাজনৈতিক কোন্দল ৬টি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ৪০টি।

যৌথ অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌথ অভিযানে ২২৮ জন মাদক কারবারি অথবা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ১ হাজার ৩২৮ জন ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে সদ্য সমাপ্ত বৌদ্ধদের দেশব্যাপী কঠিন চীবরদান উৎসব যেন নিরাপদে পালিত হতে পারে, সেজন্য সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বৌদ্ধ সংগঠন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী মোট ৪৪৪টি বৌদ্ধ বিহারে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই কঠিন চীবরদান উৎসব পালিত হয়েছে।

নভেম্বরের ১৫-১৬ এবং ২০ তারিখে সনাতন ধর্মাবলম্বী মাতুয়া গোষ্ঠীর রাসমেলা ও নবান্ন উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলায় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং উভয় অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়েছে। এ ছাড়াও ১০-১২ নভেম্বর প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বরিশালের জগদ্ধাত্রী পূঁজাতেও নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে।

কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী ৩ হাজার ৪৩০ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে; যার মধ্যে ৩৫ জন এখনো সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিএমএইচে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৩টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ মাত্রার। এ ছাড়া ৪ জন গুরুতর আহত রোগীকে উন্নত সুচিকিৎসার জন্য  সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সেনাবাহিনী।

তিনি বলেন, কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অভিযানে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির হাত থেকে স্থানীয় নিরীহ জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান গত এপ্রিল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে।

কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা করে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭৯ জন কেএনএ সক্রিয় সদস্য/সহায়তাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযানে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ মোট ৬টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামাদি (দূরবিন, ম্যাপ, আইডি সরঞ্জাম, ওয়াকি টকি, ইউনিফর্ম, ল্যাপটপ ইত্যাদি) উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠনটির পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণ এবং অতর্কিত হামলায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ জন বীর সেনানী শহীদ হয়েছেন।

দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশের জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দিক-নির্দেশনাকে অনুসরণ করে দেশের ৬২টি জেলায় সেনাসদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এই সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করে কর্মধারা অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ।