Monday, August 24, 2026
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ট্রাম্প জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও তার সমালোচকেরা। ট্রাম্প নিজেও এ সম্ভাবনা নাকচ করেননি। বরং তাকে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে বলেছেন, ‘অদ্ভুত ঘটনা এর চেয়েও ঘটেছে।’
ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এমন ঘোষণা আসছে। ২৯ জুলাই নিজের ‘ওয়ার রুম’ ভিডিও পডকাস্টে তিনি বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহের জন্য প্রস্তুত থাকতে।
তার বক্তব্যে ধারণা তৈরি হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।
তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও তা নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট এর আগে জরুরি অবস্থা জারি করে ভোট গ্রহণের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি।
নির্বাচনসংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা আইনজীবী আরিয়া ব্রাঞ্চের ভাষ্য, প্রশাসন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার আইনি ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
তার মতে, প্রেসিডেন্ট এমন করার যেকোনো সুযোগ খুঁজছেন।
‘সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে’
ভোটার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ভোটার্স অব টুমরো’-এর প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো মেয়ারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।
মেয়ারের মতে, ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। তাই তার সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার সংগঠনের লক্ষ্য হলো পর্যাপ্তসংখ্যক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া, যাতে ট্রাম্প যা-ই করার চেষ্টা করুন, তা সফল না হয়।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সদস্য মোতায়েনের মতো পরিস্থিতিও রয়েছে।
গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করা প্রগতিশীল সংগঠনগুলোও নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও নাগরিক সংগঠনও নভেম্বরের ভোটে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তুলসি গ্যাবার্ড, পুলটে ও নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ
সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের শুরুতে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে এফবিআইয়ের একটি অভিযানে তার উপস্থিতি আলোচনার জন্ম দেয়। পরে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে গ্যাবার্ড বলেন, তিনি মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
গ্যাবার্ডের দল পুয়ের্তো রিকোয় ভোটিং সরঞ্জাম জব্দ ও পরীক্ষা করার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা কয়েক মাস ধরে ভোটিং মেশিনের সম্ভাব্য দুর্বলতা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে।
৩০ জুন গ্যাবার্ড পদত্যাগ করলে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-সমর্থক বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন ট্রাম্প। দুই দলের সদস্যরাই এ নিয়োগের সমালোচনা করেন। কারণ, পুলটের গোয়েন্দা বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পরে জে ক্লেটন স্থায়ীভাবে ওই পদে দায়িত্ব নেন। তবে পুলটে আড়ালে থেকে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনতে কাজ করেছিলেন বলে ব্যানন দাবি করেন।
ট্রাম্পের জুলাইয়ের ভাষণের রাতেই ব্যানন সিএনএনকে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। তার মতে, এটি এমন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।
ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কাবও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পিবিএসকে তিনি বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সময় বা তার কাছাকাছি জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা।
কাবের মতে, ভোটকেন্দ্রে আইসিই সদস্যদের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদেরও সেখানে মোতায়েন করা হতে পারে। তার আশঙ্কা, সংখ্যালঘু ও অভিবাসী ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটিং মেশিন জব্দের চেষ্টা হতে পারে।
২০২০ সালের নির্বাচনেও ভোটিং মেশিন জব্দ করতে ট্রাম্প চেয়েছিলেন বলে কাব উল্লেখ করেন। তবে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার তাঁকে জানিয়েছিলেন, এমন পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
অ-নাগরিকদের ভোট নিয়ে নতুন প্রচারণা
ট্রাম্পের জুলাইয়ের ভাষণের পর হোয়াইট হাউসের ‘গভর্নমেন্ট ট্রান্সপারেন্সি টাস্কফোর্স’ নির্বাচন নিয়ে গোপনীয়তা তুলে নেওয়া বিভিন্ন নথি প্রকাশ শুরু করে। এতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, সিআইএ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।
প্রথম দফার নথিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের দুর্বলতা, অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার নিবন্ধন তথ্যের ওপর বিদেশি প্রবেশাধিকার এবং বিদেশি ডিজিটাল হস্তক্ষেপের কৌশল নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।
তবে এসব তথ্যের বড় অংশ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। নথিগুলোতে এমন মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নও ছিল যে চীন ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর এক সপ্তাহ পর নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল জানান, সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে ৬ হাজার ৬০০ অ-নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪০০ জনেরও কম ভোট দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দ্রুত এই তথ্যকে সামনে আনেন। তারা দাবি করেন, ভোটার তালিকায় বিপুলসংখ্যক অ-নাগরিক রয়েছেন। এরপর ৩১ জুলাই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ একটি নোটিশ প্রকাশ করে। এতে নিউ জার্সির প্রশাসনিক ভুলকে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটার তালিকা তদারকির প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
টাস্কফোর্স মিশিগানের একটি মামলার নথিও প্রকাশ করে। সেখানে একটি ভোটার সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগে এফবিআই তদন্ত করেছিল। তবে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টির ভোটার তথ্য সংগ্রহের একটি তদন্তসংক্রান্ত নথিও প্রকাশ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এসব নথি প্রকাশের গতি আরো বেড়েছে। সোমবার টাস্কফোর্স চীনা গোয়েন্দা সংক্রান্ত একটি তদন্তের নথি প্রকাশ করে। এতে সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের সঙ্গে চীনা নাগরিক ক্রিস্টিন ফ্যাংয়ের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। ফ্যাংয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর পরদিন মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো জানায়, ২০২০ সালের নির্বাচনে ২৪ হাজার অ-নাগরিক ভোট দিয়েছেন—এমন তথ্য তারা পেয়েছে। ১২ কোটি ৮০ লাখ রেকর্ড প্রাথমিকভাবে মিলিয়ে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
তবে কী পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি ব্যুরো। গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ বিশ্লেষণের তীব্র সমালোচনা করেছে।
সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেকার বলেন, প্রশাসনের এই বিশ্লেষণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। কীভাবে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে, তার যথেষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আরিয়া ব্রাঞ্চের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনে নির্বাহী আদেশ জারির আইনি ভিত্তি খুঁজছে।
তবে তার ধারণা, এমন কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিরাপদ।
ব্রাঞ্চ বলেন, নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া কোনো ব্যাপক সমস্যা নয়। এ নিয়ে ভয় ও প্রচারণা মূলত আতঙ্ক তৈরি এবং ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়ার ভিত্তি তৈরির জন্য করা হচ্ছে।
জুলাইয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আরো একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার অ-নাগরিক ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত রয়েছেন। তবে অ-নাগরিকদের শনাক্ত করার পদ্ধতি প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা নিজেদের হিসাবের ব্যাপারে কতটা নিশ্চিত, সেটিও জানানো হয়নি।
এ ক্ষেত্রে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ভোটার তালিকায় অ-নাগরিক শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল করতে পারে বলে পরিচিত।
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে চাপ
নির্বাচন নিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসকে প্রশ্ন করা হলে তারা তা নাকচ করেনি। তবে কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আমেরিকানদের নির্বাচন নিয়ে পূর্ণ আস্থা থেকে বঞ্চিত করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানকে তিনি সমর্থন করেন।
এই আইনের মাধ্যমে ভোটের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভোটার তালিকা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিদর্শনের জন্য জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে অযোগ্য মনে করা যেকোনো ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
আইনটিতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগও ব্যাপকভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প নিয়মিতভাবে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করেছেন। তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রাইমারিতে চলতি সপ্তাহেও তিনি নিজে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন বলে খবর রয়েছে।
এ ছাড়া ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথি দেখানো এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নির্বাচনী ক্ষমতা আরো কেন্দ্রীভূত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরিয়া ব্রাঞ্চ বলেন, প্রশাসনের বক্তব্যগুলো তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, এসব বক্তব্যও একধরনের ভয় দেখানোর কৌশল।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্পষ্ট। দেশটির প্রতিষ্ঠাতারাও নির্বাহী বিভাগের হাতে নির্বাচনসংক্রান্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
তাই ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে তা ঠেকাতে আদালতে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচন সামনে রেখে অঙ্গরাজ্য, ভোটার অধিকার সংগঠন ও ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে নভেম্বরের নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থার ওপর নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি |
Sunday, August 23, 2026
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে আমাকে অভিশংসিত করা হবে: ট্রাম্প
মার্টল বিচে এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, আমি অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। তারা আমাকে অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগে দুবার অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তিনি বেঁচে যান। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন। তবে এসব উদ্যোগ তেমন অগ্রগতি পায়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। দলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি জরিপে সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তবে শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, রিপাবলিকান ভোটাররা নির্বাচনে ভোট না দিলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাতিল করে দেবে।
তিনি বলেন, আমরা হেরে গেলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, কর কমানোর সুবিধা হারাবেন, আমরা যা করেছি সব হারাবেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিকের ওপর কর না থাকার মতো পদক্ষেপও ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে বাতিল হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, আপনাদের কর বেড়ে যাবে। আপনাদের বেতন কমে যাবে। চাকরি হারাবেন। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের প্রচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল ডারলাইন গ্রাহামের পক্ষে সমর্থন আদায় করা। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম সিনেটর হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন।
তবে নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জয় পাননি। ফলে মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে হবে।
গ্রাহামের নির্বাচনী সাফল্য ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নিজ দলের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার সমর্থিত প্রার্থীদের জয় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মঙ্গলবার রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের তিন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে হবে যেন ব্যালটে তার নাম রয়েছে।
তিনি বলেন, তারা বলে, ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকে, তখন ভালো করে। কিন্তু যখন ব্যালটে থাকে না, তখন তার লোকজন ভোট দিতে আসে না। তাই আমি চাই আপনারা দয়া করে এমনটা ভাবুন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি |
Wednesday, August 19, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দৌড়ে আবদুল এল সাইদ
আগস্টের শুরুতে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর বিজয় ভাষণে সমর্থকদের সামনে এভাবেই নিজের পরিবারের অতীতের গল্প তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হঠাৎই আলোচনার জন্ম দেওয়া আবদুল এল সাইদ।
তাকে নিয়ে আলোচনা যে শুধু তার মিশরীয় অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান বা মুসলিম রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণে, তা নয়।
সাবেক এই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার, ইসরাইলবিরোধী অবস্থান এবং বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীতে আমেরিকান অর্থায়ন বন্ধের দাবি তাকে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন প্রত্যাশী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘মানি আউট অব পলিটিক্স, মানি ইন ইওর পকেট, হেলথকেয়ার ফর অল’- অর্থাৎ রাজনীতি থেকে অর্থকে সরিয়ে তা মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা- এই ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বক্তব্য।
একইসাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে তিনি এমন ভোটারদের আকৃষ্ট করেছেন, যারা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ ।
পাশাপাশি ইসরাইলসহ যে কোনো দেশের সেনাবাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের বিরোধিতাও তাকে তার সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় করেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনীকে অর্থ সহায়তা দেওয়াকে ‘আমাদের ট্যাক্স ডলারের নিকৃষ্টতম ব্যবহার’ বলে সমালোচনা করেছেন তিনি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মিশিগান রাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তিনি নিজের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থনই পাননি। যে কারণে তাকে বলা হচ্ছে ‘আউটসাইডার’, বা বহিরাগত।
এল সাইদকে নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বার্নি স্যান্ডার্স, আলেক্সান্দ্রা ওসারিও-কর্টেজের মতো নেতারা।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদের জন্য রিপাবলিকান পার্টির মাইক রজার্সের, যিনি ট্রাম্পের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত, সাথে লড়াই করবেন আবদুল এল সাইদ।
আর ওই নির্বাচনে জিতলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।
যেভাবে রাজনীতিতে উঠে আসা
একচল্লিশ বছর বয়সী এল সাইদকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বহিরাগত বলা হলেও মূলধারার রাজনীতিতে তার প্রথম সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায় ২০১৮ সালে, মিশিগান রাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের সময়।
সেসময় তিনি গভর্নর নির্বাচনে হেরে গেলেও মোট ভোটের ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনেও তার মূল এজেন্ডা ছিল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতি থেকে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন বাদ দেওয়া।
তবে ধারণা করা হয় এল সাইদের রাজনীতিতে আসার প্রাথমিক অনুপ্রেরণাটা তৈরি হয়েছিল ২০০৭ সালে, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়।
সে বছর এপ্রিলে মিশিগান ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন আবদুল এল সাইদ। তার ওই বক্তব্যের পর বিল ক্লিনটন নিজের ভাষণের সময় অতিথিদের সামনেই তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন।
পরে ক্লিনটন তার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেও তার প্রশংসা করেছিলেন।
সেই ঘটনার দশ বছর পর, ২০১৭ সালে, আবদুল এল সাইদ ঘোষণা দেন যে তিনি মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে লড়বেন। ওই নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের পাবলিক হেলথ বিভাগের পরিচালকের চাকরি ছাড়েন।
৩০ বছর বয়সে, ২০১৫ সালে, এল সাইদ যখন ডেট্রয়েটের পাবলিক হেলথ বিভাগের পরিচালক হন তখন তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় শহরে এমন পদে থাকা সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। দায়িত্বে থাকার সময় তিনি শিশু মৃত্যুহার কমানো, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চশমা প্রদান ও শতাধিক স্কুলে সীসার মাত্রা পরীক্ষা করার মতো জনপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিরও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন এল সাইদ।
এ বছরের এপ্রিলে মিশিগানের প্রাথমিক নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণার পর তিনি আবার আলোচনায় আসেন।
এবারের নির্বাচনের প্রচারণায় নিজেকে এল সাইদ তুলে ধরেছেন কর্পোরেশনগুলোর মুখোমুখি হতে চাওয়া একজন শ্রমজীবী নেতা হিসেবে, যিনি ইসরাইলপন্থী অর্থায়নকারী আর দলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার।
আর তার এমন অবস্থানের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমালোচনা করেছেন ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ হিসেবে।
‘এই ব্যক্তি (এল সাইদ) ইহুদিদের ভালোবাসে না, সে ইসরাইলকে ভালোবাসে না, সে তাদের ঘৃণা করে’, আবদুল এল সাইদ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন জেতার পর এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
![]() |
| আবদুল এল সাইদ |
Tuesday, August 18, 2026
নিজের নির্বাচনী প্রচারের বিলবোর্ডে মামদানির ছবি ব্যবহার করে কী বোঝাতে চাইছেন নেতানিয়াহু
তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত ওই বিলবোর্ডে মামদানির পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছবিও আছে। তাঁদের পাশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেমের ছবি রয়েছে।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির প্রতীকযুক্ত ওই বিলবোর্ডে লেখা আছে, ‘তাঁরা চান নেতানিয়াহু হেরে যান...তাঁদের জিততে দেবেন না।’
গত জুলাইয়ে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দেওয়ার পর নেতানিয়াহু তাঁর উগ্র ডানপন্থী জোটকে আবার জেতাতে জোর নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলে এটাই প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শুরু থেকেই প্রকাশ্যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন মামদানি। গত মাসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বাগ্যুদ্ধ আরও তীব্র হয়। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘তাঁর (নেতানিয়াহুর) হেগে থাকা উচিত।’
এমনকি এর আগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন জোহরান মামদানি।
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু যোগ দিতে এলে তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন মামদানি।
জবাবে নেতানিয়াহু জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’ এবং তাঁর শহরে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর অভিযোগ তুলেছেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, মামদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি একসময় যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন ছিল, তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর তুলনায় মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা বেশি।
ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপগুলোতেও নেতানিয়াহুর দলের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের পিছিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ওই বিলবোর্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি একটি ভিডিও–ও পোস্ট করেন। ভিডিওতে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত এই উগ্র ইহুদিবাদী আসামি উল্টো মামদানিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যা দেন।
মামদানি ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই কথার লড়াই এমন এক সময়ে চলছে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
গতকাল সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন, বৈঠক থেকে কোনো অগ্রগতি আসেনি।
কারণ, ইসরায়েল বলেছে, হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে নিজের ছবি ও বক্তব্যের ব্যবহারের বিষয়ে মামদানি এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
![]() |
| নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তেল আবিবে এই বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স |
Sunday, August 16, 2026
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ফিলিস্তিনপন্থি ওকাসিও-কর্টেজ!
সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন দখল করা নয়; বরং ‘দেশকে পরিবর্তন করা’। তার এ বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতাদের ব্যাপক করতালির জন্ম দেয়। এরপর থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ওকাসিও-কর্টেজের জন্য অনুকূল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের একটি অংশ পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে হতাশ। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনি সাফল্যও ওকাসিও-কর্টেজের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের মধ্যে ওকাসিও-কর্টেজ এগিয়ে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর মতো প্রগতিশীল সংগঠন থেকে শুরু করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাও।
ডিএসএর কো-চেয়ার আশিক সিদ্দিকি বলেন, ওকাসিও-কর্টেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়লে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তার মতে, ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে শ্রমজীবী মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠ থাকা প্রয়োজন।
জাতীয় পরিচিতি তৈরিতে দীর্ঘ প্রস্তুতি
ওকাসিও-কর্টেজ ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন। তখন তিনি ছিলেন সাবেক বারটেন্ডার ও ওয়েট্রেস, নির্বাচনি প্রচারের জন্যও তার হাতে ছিল খুব সামান্য অর্থ।
তবে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর সহায়তায় তিনি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন। তার প্রথম নির্বাচনি চক্রেই প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকেও সাক্ষাতের অনুরোধ আসতে শুরু করে।
ওকাসিও-কর্টেজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক ও জাস্টিস ডেমোক্র্যাটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা করবিন ট্রেন্টের ভাষ্য, ২০১৮ সালে ক্রাউলিকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহল তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করে। কিন্তু তিনি নিজে কখনো প্রেসিডেন্ট, গভর্নর বা সিনেটর হওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করেননি।
ট্রেন্টের মতে, ওকাসিও-কর্টেজের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বাভাবিকতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে তিনি নিজের ভাষায় তুলে ধরতে পারেন বলেই তার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্রিস স্কটও মনে করেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করার অতীত—অনেক ভোটারের সঙ্গে তাকে সহজে সংযুক্ত করে। ক্রমেই মেরুকৃত মার্কিন রাজনীতিতে ভোটাররা এমন প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছেন, যাদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান।
প্রগতিশীলদের সমর্থন, আবার সমালোচনাও
গাজা ইস্যুতেও তার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে কমলা হ্যারিসের গাজা নীতির প্রশংসা করায় বামপন্থী কর্মীদের একাংশ তার সমালোচনা করে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ২০২০ সালের মহামারি-পরবর্তী সময়ের সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব ও ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ’ করার মতো কিছু বামপন্থী দাবির প্রসঙ্গে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, সেই সময়ের ‘ওয়োক’ রাজনীতি ছিল অতিরিক্ত উগ্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা মধ্যপন্থী করার কৌশলও হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি যে কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে, তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই। ওকাসিও-কর্টেজ প্রার্থী হলে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় থাকতে পারেন কমলা হ্যারিস, পিট বুটিগিগ, গ্যাভিন নিউজম, জন অসফ এবং প্রগতিশীল কংগ্রেসম্যান রো খান্নার মতো নেতারা।
২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে ওকাসিও-কর্টেজ মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন—এমনকি থিওডোর রুজভেল্ট ও জন এফ কেনেডির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
তবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন অংশের সমর্থন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বার্নি স্যান্ডার্সের ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারের জাতীয় কো-চেয়ার নিনা টার্নার বলেন, ডিএসএ ও প্রগতিশীলরা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে যথেষ্ট কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, ২০২৮ সালে ওকাসিও-কর্টেজকে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও সংগ্রামকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ অ্যান্টুয়ান সিওরাইটের মতে, ওকাসিও-কর্টেজকে এমন ইস্যুতে মনোযোগ দিতে হবে যা সাধারণ আমেরিকান পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে পারলে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রিপাবলিকানদের আক্রমণও হবে বড় বাধা
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকান ও ডানপন্থী গণমাধ্যমের তীব্র আক্রমণের মুখেও পড়তে পারেন ওকাসিও-কর্টেজ। বহু বছর ধরে তাকে উগ্র বামপন্থী বা ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিত্রিত করে আসছে ডানপন্থী মহল।
সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল যোগাযোগ পরিচালক তারা সেটমেয়ার মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওকাসিও-কর্টেজের কিছু মন্তব্য তার অবস্থানকে মধ্যপন্থী দেখানোর কৌশল হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের যুগে তার পুরোনো বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান সহজে হারিয়ে যাবে না।
সেটমেয়ারের পরামর্শ, সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না গিয়ে ওকাসিও-কর্টেজের বরং নিউইয়র্কের সিনেট আসনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার মতে, সিনেটর হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
তবে ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণও রয়েছে, যেখানে নেতারা ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় থেকে সুযোগ হারিয়েছেন। আবার বারাক ওবামার মতো নেতারা সঠিক মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
![]() |
| নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ |
Tuesday, August 11, 2026
যুক্তরাষ্ট্রে মামদানি-সাইয়েদ কি মধ্যপন্থীদের মনে ভয় ধরালেন by নাসরিন মালিক
এই জয় শুধু সাইয়েদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদদের সেই আত্মতুষ্ট ভাবনাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে তাঁরা মনে করতেন প্রগতিশীলদের সাফল্য সীমিত এবং সাময়িক। আগে তাঁরা জোহরান মামদানির মতো নেতাদের উদাহরণ দিয়ে বলতেন, এগুলো বড় শহরের ঘটনা, জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কম। কিন্তু এখন এল-সাইয়েদের জয় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে হয়েছে, যা কিনা প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রক্রিয়ারও অংশ।
এই সাফল্য অনেকের কাছে আশার বার্তা। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যারা শক্তিশালী বামপন্থী রাজনীতির উত্থান দেখতে চান, তাঁরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এল-সাইয়েদের জয় ঠেকাতে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ খরচ করা হয়েছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্স তাঁকে নয় গুণের বেশি খরচে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এটি ছিল ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রাইমারির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। শেভরন ও ফিলিপ মরিসের মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এল সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেয়। এর প্রায় অর্ধেক আসে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) সমর্থিত একটি সুপার প্যাক থেকে।
এই জয়ের প্রতীকী গুরুত্বও বড়। এটি দেখায় যে করপোরেট শক্তি ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব ভাঙা সম্ভব। এতে বোঝা যায় ভোটাররা এখন বুঝতে শুরু করেছে যে তাদের গণতন্ত্র অনেকাংশে দখল হয়ে গেছে। আগে যে বিষয়গুলো একজন প্রার্থীকে দুর্বল করত (যেমন অভিজ্ঞতার অভাব বা প্রতিষ্ঠানের সমর্থন না থাকা), এখন তা উল্টো ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এতে প্রার্থীকে ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসীদের প্রতি কঠোরতা এবং অর্থ অপচয়ের রাজনীতির বাইরে থাকা সৎ ও পরিষ্কার ভাবমূর্তির লোক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
এই নির্বাচনে ইসরায়েল একটি বড় ইস্যু ছিল। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য ছিল। এল-সাইয়েদের সমালোচকেরা বারবার ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন; অথচ এটি সাধারণ ভোটারের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এল-সাইয়েদ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশ্নটি ইসরায়েলের অস্তিত্ব নয়, বরং প্রশ্ন হলো, কেন সেখানে আমেরিকার করের অর্থ ব্যয় হবে। তাঁর এই অবস্থান ছিল স্পষ্ট এবং অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য।
তবে এই জয় এখনো প্রমাণ করে না যে প্রগতিশীলদের এই সাফল্য সব জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা যে একই ফল আনতে পারবেন, তা জোর দিয়ে বলা যায় না।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে দুর্বল ছিল। তবে নতুন প্রগতিশীল নেতারা সমাধান দিতে পারে বলে মনে হলেও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যেই তাদের আক্রমণ করা শুরু করেছে। ট্রাম্প তাদের মতো নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, এই উদারপন্থীরা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যপন্থীরাও তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। থার্ড ওয়ে নামে একটি মধ্যপন্থী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে কোটি কোটি ডলার খরচ করে প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের দাবি, যদি এই ধারা প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন পর্যন্ত যায়, তবে এমন প্রার্থী আসবেন যিনি রিপাবলিকানদের কাছে পরাজিত হবেন। যদিও অতীতে মধ্যপন্থী প্রার্থীরাও ট্রাম্পের কাছে হেরেছেন।
সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীলদের খুব সহজেই চরমপন্থী বলে দেখানো হয়। এমনকি অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প কমলা হ্যারিস বা হিলারি ক্লিনটনের চেয়েও মাঝামাঝি অবস্থানের রাজনীতিবিদ। এ কারণে জাতীয় পর্যায়ে বামপন্থীদের লড়াই কঠিন হয়ে যায়। পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি তাদের শক্তি, সেটাকেই উল্টো ভয় বা অনিশ্চয়তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তবু এল-সাইয়েদ ও মামদানির মতো নেতারা নতুন এক পথ দেখাচ্ছেন। তারা এমন রাজনীতির কথা বলছেন, যেখানে অভিবাসী পটভূমি আর নতুন চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতার সঙ্গে মিশে গেছে। তারা না পুরোপুরি মিশে যেতে চেয়েছেন, না নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। বরং নিজেদের অধিকার ও জায়গা তারা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন।
তবে তাদের পথ সহজ নয়। তাদের লড়তে হচ্ছে দুর্বল ডেমোক্র্যাটিক কাঠামো, ডানপন্থীদের তীব্র রাজনৈতিক লড়াই এবং শক্তিশালী করপোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে।
প্রগতিশীল ভোটার এমনিতেই তৈরি হয় না, সময় নিয়ে গড়ে তুলতে হয়। যদি ডেমোক্র্যাটিক দল এই নতুন নেতাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নেতারাই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ দেখাচ্ছেন। তাদের পুরোপুরি সমর্থন না করলে ট্রাম্পবাদ আবারও জিততে পারে।
* নাসরিন মালিক, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান–এর একজন কলামিস্ট
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত
![]() |
| আবদুল এল-সাইয়েদ। ছবি: এএফপি |
Thursday, August 6, 2026
মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের জয়ের পরও ইসরায়েলপন্থী আইপ্যাক আলোচনায়, কিন্তু কেন
ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনী প্রচারে ছয় কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেও সফল হতে পারেনি। তাদের সমর্থিত প্রার্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে মিশিগানের এ আসনে প্রথম মুসলিম হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ।
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পর গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র–ভিত্তিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও অন্যান্য প্রধান গণমাধ্যম আল-সাইয়েদের জয়ের খবর নিশ্চিত করে।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফল আইপ্যাকের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ে আল-সাইয়েদকে হারাতে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেয় সংগঠনটি। ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শুধু আইপ্যাকই স্টিভেন্সের প্রচারে তিন কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের মধ্যে মিশিগানের এ আসনটি অন্যতম। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা এ আসনের ফলই নির্ধারণ করে দিতে পারে।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ নভেম্বরে জয়ী হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য মিশিগানের এই ফল মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব যুদ্ধে অর্থ ব্যয় করলে মূলত ইসরায়েলই লাভবান হয়, সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত।
কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন না দেওয়া নিরপেক্ষ সংগঠন আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি প্রাথমিক বাছাইয়ে আল-সাইয়েদের জয়কে বড় ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।
মায়া বেরি বলেন, নির্বাচনী প্রচারে কোনো নীতিগত আলোচনা ছাড়া শুধু আবদুল নামের একজন আরব–আমেরিকান মুসলিমকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। ভোটাররা এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারে প্রভাবিত হননি।
আল-জাজিরাকে মায়া বেরি বলেন, ‘মিশিগানের মানুষ যে এ ধরনের নোংরা রাজনীতি মেনে নেবে না, সেটা দেশের সবাই জানতে পারবে—এতে আমি খুবই আনন্দিত।’
প্রচারের সময় স্টিভেন্স ও তাঁর সমর্থকেরা আল-সাইয়েদকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আরব–আমেরিকান অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে আরব পুরুষদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
স্টিভেন্স ইসরায়েলের একজন দৃঢ় সমর্থক। ২০২২ সালেও আইপ্যাকের সমর্থনে তিনি প্রগতিশীল ইহুদি আইনপ্রণেতা অ্যান্ডি লেভিনকে পরাজিত করেছিলেন।
মঙ্গলবারের এ ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ইসরায়েলপন্থী অংশের জন্য সাম্প্রতিক আরেকটি নির্বাচনী ধাক্কা। কারণ, দলটির তৃণমূল সমর্থক এবং সামগ্রিকভাবে মার্কিন জনমতের একটি বড় অংশ এখন ইসরায়েল সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সমালোচনামুখর।
জনমত জরিপে আল-সাইয়েদের জয়ের আভাস থাকলেও স্টিভেন্স প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেন। বিশেষ করে মিশিগানের সবচেয়ে বড় শহর ডেট্রয়েটে তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। রাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি আল-সাইয়েদের ব্যবধানও কমিয়ে আনেন। ফলে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা জয়-পরাজয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
গতকাল বুধবার সকালে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আল-সাইয়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মিশিগান...আমরা জিতেছি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত। এবার নভেম্বরে জয়ের পথে এগিয়ে চলুন।’
এপি আল–সাইয়েদের জয় নিশ্চিত করার পরপরই হ্যালি স্টিভেন্স তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
এক বিবৃতিতে স্টিভেন্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন জেতায় আবদুল আল-সাইয়েদকে অভিনন্দন। তিনি একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা, রোডস স্কলার এবং নিবেদিতপ্রাণ মিশিগানবাসী। মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে আমি তাঁকে সমর্থন করছি।’
প্রাইমারি থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে সরে দাঁড়ানো অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা ম্যালরি ম্যাকমরোও আল-সাইয়েদকে সমর্থন জানান।
এ ছাড়া প্রাইমারিতে স্টিভেন্সকে সমর্থন দেওয়া মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এবং সিনেটর গ্যারি পিটার্সও বুধবার সাধারণ নির্বাচনে আল-সাইয়েদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।
ঐক্যের আহ্বান
এখন আল-সাইয়েদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করা। জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই সমর্থকদের উদ্দেশে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘এখন থেকে আমাদের ভাঙা সম্পর্কগুলো জোড়া লাগাতে হবে।’
আল-সাইয়েদ আরও বলেন, ‘আমি সবার কাছে একটি অনুরোধ করব, জয়ের পর যেন উদারতা দেখাই। “আমি তো আগেই বলেছিলাম”—এমন মনোভাব নয়। আমাদের এমন একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যা আরও বড়, আরও শক্তিশালী এবং আরও প্রভাবশালী হবে। এমন একটি আন্দোলন, যা এই অঙ্গরাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং আমাদের মনে করিয়ে দেবে, আমরা আসলে কী হতে পারি।’
আল-সাইয়েদ বলেন, সাধারণ নির্বাচনে মাইক রজার্স ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ চালাবেন, তার তুলনায় প্রাইমারির এই লড়াই অনেক ছোট। তিনি বলেন, ‘মাইক, আমি জানি আপনি শুনছেন, আমরা আসছি।’
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আল-সাইয়েদের জয়কে রিপাবলিকানদের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
![]() |
| মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর পদে টেলিভিশন বিতর্কে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল আল-সাইয়েদ ও হ্যালি স্টিভেন্স। ছবি: রয়টার্স |
Wednesday, August 5, 2026
মিশিগানে কোটি কোটি ডলার উড়িয়েও হারানো গেল না আবদুল আল-সাইয়েদকে
ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও (৬০ মিলিয়ন) বেশি নির্বাচনী প্রচারণার খরচকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আল-সাইয়েদ এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবারের এ নির্বাচনী ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য একটি মস্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ গোষ্ঠীই মূলত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারের (৩০ মিলিয়ন) বেশি অর্থ ঢেলেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে। এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গতকালের এ ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
আল-সাইয়েদ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, যেসব যুদ্ধে অর্থ ঢাললে শুধু ইসরায়েলেরই লাভ হয়, সেই অর্থ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ করা উচিত।
কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ওকালতি না করা নিরপেক্ষ সংগঠন ‘আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের এ জয়কে একটি ‘বিরাট ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা এমন বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনো নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না; বরং শুধু ‘আবদুল নামের এক আরব–আমেরিকান মুসলিমকে’ লক্ষ্য করে নেতিবাচক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল।
মায়া বেরি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি সারা দেশের মানুষকে এটা জানাতে পেরে রোমাঞ্চিত যে মিশিগানের মানুষ এ নোংরা রাজনীতি মুখ বুজে সহ্য করবে না।’
![]() |
| মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে সমর্থকদের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৫ আগস্ট ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
Tuesday, August 4, 2026
ট্রাম্প থেকে আল-সাইয়েদ: মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের ভোটের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে গাজা যুদ্ধ
লোকমান বলেন, যুদ্ধপন্থী অবস্থান এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে ট্রাম্প মিশিগানের আরব-আমেরিকানদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তবে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা চলার সময় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে (২০২৪) ডেমোক্র্যাটদের আবারও ভোট দেওয়াটা তাঁদের কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয়নি।
আল-জাজিরাকে সামরা লোকমান বলেন, ‘গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হতো। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা নিয়ে আমাদের কোনো আফসোস নেই।’
লোকমান আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি বলেছিলাম, প্রয়োজনে ট্রাম্পকে আরও চার বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে আমি প্রস্তুত। আমরা জানতাম, আমাদের অনেক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান খারাপ হবে। তবু ডেমোক্রেটিক দলকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি ছিলাম।’
সামরা লোকমান একা নন।
ট্রাম্পের কট্টর ইসরায়েলপন্থী নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সত্ত্বেও আরব-আমেরিকানদের অনেকে মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করার কোনো সুযোগই ছিল না। তাঁদের বিশ্বাস, ডেমোক্রেটিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি করার সিদ্ধান্তই ছিল আরব-আমেরিকানদের জন্য সঠিক পদক্ষেপ।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ওই এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘নিজের বিবেকের কাছে সৎ থেকে আমি কাউকেই কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিতে বলতে পারতাম না।’
দাবাজেহ আরও বলেন, দুই খারাপ বিকল্পের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপটিকে বেছে নেওয়ার যুক্তি এখন আর আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারছে না।
জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন বিগত ডেমোক্রেটিক সরকার গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চাপ দেওয়ার দাবি উপেক্ষা করেছিল। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে গিয়েছিল তারা। এ কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে যায়।
তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।
এসব নীতির কারণে বহু আরব-আমেরিকান ভোটার দলটি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে আরব-আমেরিকানরা ডেমোক্রেটিক দলের নির্ভরযোগ্য ভোটার ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার দল আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের নেতা ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের নীতি
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম ইমামকে মঞ্চে তুলে আনেন এবং আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রশংসা করেন।
নির্বাচনের আগে তিনি ডেট্রয়েটের উপকণ্ঠে ডিয়ারবর্ন এলাকাও সফর করেন। সেখানে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মিশিগানে জয়ী হন। এর অন্যতম কারণ ছিল ডিয়ারবর্ন এলাকার অনেক আরব ভোটার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের কেউ ট্রাম্পকে ভোট দেন, কেউ তৃতীয় কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন করেন, কেউ প্রেসিডেন্ট পদের ঘর ফাঁকা রেখে ব্যালট জমা দেন, আবার কেউ ভোটই দেননি।
ওই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে আল-জাজিরা। এতে দেখা যায়, পূর্ব ডিয়ারবর্নের আরব-অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পান ট্রাম্প, ২৯ শতাংশ ভোট যায় গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইনের বক্সে এবং ১৬ শতাংশ ভোট পান কমলা হ্যারিস।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা ও লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। দেশের ভেতরেও তিনি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেন। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আন্দোলনে নামা বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প।
এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচিও বাতিল করেন। এতে ইয়েমেনের নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই কমিউনিটির অনেক নেতাই তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
বর্তমানে আরব-আমেরিকানরা ট্রাম্পকে নিয়ে কী ধরনের মনোভাব পোষণ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হুসেইন দাবাজেহ বলেন, ‘তাঁরা তাঁকে ঘৃণা করেন। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার আর কোনো উপায় নেই। আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের যাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমি এমন একজনকেও চিনি না, যিনি ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে খুশি।’
‘গণহত্যার ঘটনা আমাদের পরিণত করেছে’
অনেক আরব-আমেরিকানই জোর দিয়ে বলছেন, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে এই নয়, ট্রাম্পের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা বা সমর্থন ছিল।
ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহর বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির ভয়াবহতা আমাদের চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না। ২০১৭ সালে তাঁর নীতির প্রথম শিকার ছিলাম আমরাই।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
জাহর আরও বলেন, ‘ট্রাম্প কতটা ক্ষতি করতে পারেন, সে সম্পর্কে আমাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। কিন্তু গাজায় গণহত্যার ঘটনা আমাদের এতটা পরিণত করে তুলেছে যে শেষ পর্যন্ত আমরা রাজনীতিকদের “না” বলতে পেরেছি।’
মিশিগানে আবারও নির্বাচনের মৌসুম শুরু হওয়ায় আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।
মিশিগানে আবারও একটি নির্বাচনের মৌসুম শুরু হয়েছে। সে নির্বাচনে আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।
মিশিগানে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের একটা বড় অংশ ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষে একজোট হচ্ছেন। যদিও তিনি এর আগে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। অনেক ভোটার এখনো নিজেদের রাজনৈতিক বিকল্প খোলা রাখছেন।
ইয়েমেনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী সামরা লোকমান বলেন, তিনি মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক বলে পরিচিত সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে ভোট দেবেন।
সামরা লোকমানের মতে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা যদি প্রগতিশীলপ্রার্থীদের সমর্থন করেন, তাহলে আরব ভোটারদের কাছে ডেমোক্রেটিক দল আবারও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।
মার্কিন রাজনীতিতে, বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে—এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন। তবে আরব-আমেরিকানদের কাছে এর উত্তর স্পষ্ট।
আরব-আমেরিকান কমিউনিটির নেতারা বলছেন, যখন তাঁদের স্বজনেরা নিহত হচ্ছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের জন্মভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ নীতির প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই গৌণ হয়ে পড়ে।
সামরা লোকমান বলেন, ‘গাজা, ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়গুলো এখন সবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আর আমার কমিউনিটির জন্য এটি এখন একটি অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।’
লোকমান আরও বলেন, ‘আপনি রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট যা-ই হোন না কেন, যদি আপনি আইপ্যাকের বিরোধিতা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করেন, তাহলে আপনি যে দলেই থাকুন না কেন, আমাদের ভোট পাবেন।’
সামরা লোকমান এখানে আইপ্যাক বলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সংক্ষেপে আইপ্যাকের কথা বলেছেন।
ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহরও একই ধরনের কথা বলেছেন।
জাহর বলেন, ‘অনেকে চান আমরা যেন একটি মাত্র ইস্যুকে ভিত্তি করে ভোট না দিই। অর্থাৎ তাঁরা চান, শুধু ট্রাম্প খারাপ হওয়ার কারণে আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি উপেক্ষা করি, এর জন্য ক্ষতির শিকার হই, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মরতে দেখি, আর সবকিছু মেনে নিই। কিন্তু আমরা বলেছি, “না”। গাজার শিশুদের রক্তের মূল্য আছে।’
জাহর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরব-আমেরিকানরা একা নন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এবার প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থী বহু জনপ্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন।
আল-জাজিরাকে জাহর বলেন, ‘এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে কেউ যদি বলে, “হাসপাতালে বোমা হামলা বন্ধ করুন”, সবাই বুঝে যায় সে ইসরায়েলের কথাই বলছে। এটা আমাদের কারণে হয়নি; এটা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে হয়েছে।’
জাহর আরও বলেন, ‘মানুষ এখন সত্যটা বুঝতে শুরু করেছে। যখন আপনি সত্য জানতে পারেন, তখন বুঝতে পারেন, এত দিন আপনাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আর তখন ক্ষোভ জন্মায়। এই ন্যায়সংগত ক্ষোভই অনেক মানুষকে এভাবে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।’
রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ বলেন, অন্য সব মার্কিনের মতোই আরব-আমেরিকান ভোটারদের কাছেও অর্থনীতি, জীবনযাত্রার খরচ এবং অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েল-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তারা উপেক্ষা করতে পারেন না।
ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা গাজা-সংক্রান্ত নীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে আরব ও মুসলিম ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিক আবারও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এই কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচার শুরু করেছেন।
নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প কংগ্রেস নির্বাচনের জন্য ফ্লোরিডার রাজনীতিক র্যান্ডি ফাইনকে সমর্থন দেন। মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ফাইনের। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘সব মুসলমানকে ধ্বংস করে দেওয়ার’ আহ্বান জানান।
এদিকে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নররা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
মিশিগানের গভর্নর পদপ্রার্থী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জন জেমস সিএআইআরকে কালো তালিকাভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন।
সামরা লোকমান বলেন, ওই ঘোষণা দেওয়ার আগে জন জেমস কমিউনিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং ডিয়ারবর্নের ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সামরা লোকমান আরও বলেন, রিপাবলিকান পার্টির সামনে তখন রাজনৈতিক সমীকরণকে স্থায়ীভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার বড় একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ হারিয়েছে। সত্যিই তারা একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেছে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নোভিতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর নির্বাচনী সমাবেশে মঞ্চে উঠে তাঁকে সমর্থন জানানো স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি |
Saturday, July 11, 2026
কে হবেন তত্ত্বাবধায়কের বিধায়ক by মোস্তফা কামাল
বিধায়ক শব্দের আভিধানিক অর্থ বিধানকারী। ফয়সালা, সুরাহা, নিষ্পত্তি বা বিধান দেওয়ার এখতিয়ার যার। প্রচলিত অর্থে তিনি কোনো রাজ্যের বা প্রদেশের আইনসভার প্রতিনিধি। ভারত বা অন্যান্য যেসব দেশে বিধানসভা থাকে সেখানে তিনি অনেক কিছুর ফয়সালা দেন। বাংলাদেশে এ ধারণা বা বিষয় নেই। তবে, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পাকাপোক্তভাবে চালুর প্রশ্নে রায় দৃষ্টে বিধানটা সংসদ থেকেই আসতে হবে। আদালত সেই বিধানের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। বলেছে, বাকি সুরাহার ভার সংসদের। কেবল তত্ত্বাবধায়ক নয়, এ রায়ের সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে গণভোটও। চলমান রাজনীতিতে এ গণভোটও বড় প্রাসঙ্গিক, বার্নিং ইস্যু। পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে ২০১৪, ১৮ ও ২৪-এর জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নির্বাচন বয়কট করে ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। চব্বিশের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এ রিটের নিষ্পত্তি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করাসহ কয়েকটি বিষয়কে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে চারটি পক্ষ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় হুবহু বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। সংবিধানের পরিবর্তন, পরিমার্জন সংসদের উপর ছেড়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
রিটকারী সংগঠন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর রিভিউ করা হবে। আর আইনজীবী জানান, আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণভোটের বিধান, সংবিধান পরিবর্তনসহ চারটি বিধান বাতিল করায় জুলাই চার্টার অনুযায়ী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানান জামায়াতের আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছিল। আবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্য দিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দেওয়া হলো। গণভোট যোগ হলো। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপ নির্ধারণ করবে জাতীয় সংসদ। গোটা বিষয়টি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন বাঁক এনে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ খুলেছে। সঙ্গে গণভোটের বিধানও। সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদও বাতিলই থাকছে। ফলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার কয়েকটি আর বহাল থাকল না। এটি অবশ্যই দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রায়। কিছু প্রশ্নও যোগ হয়েছে? পরবর্তী নির্বাচনকালীন সরকারের নাম কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারই হবে? নির্বাচনটাও সত্যিই নিরপেক্ষ হবে? সব রাজনৈতিক দলের হবে? দীর্ঘদিনের নির্বাচন-সংকট আর হবে না? ১৯৯৬ সালে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার জন্ম রাজনৈতিক সংকট থেকে। তীব্র আন্দোলনের মুখে তখন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটির অভিযাত্রা। উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সময় একটি নির্দলীয় সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে ভোট আয়োজনের সুযোগ দেবে। ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে ওই তিনটি নির্বাচন তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় বাধে বিপত্তি। প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
সেই ঘটনার ছুঁতায় প্রশ্নাক্রান্ত হয় ব্যবস্থাটি। কড়ায়-গন্ডায় সুযোগ নেয় আওয়ামী লীগ। ২০১১ সালে ক্ষমতার জোসে আদালতের ওপর ভর করে ব্যবস্থাটি বাতিল করে দেয় তারা। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ওই বছর ১১ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলসহ ৫৪টি বিষয়ে সংশোধন এনে সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে আওয়ামী লীগ সরকার। যুক্তি দেখায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এ ব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নির্বাচিত মানে তাদের সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আর পায় কে? বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো আওয়ামী রীগ সরকারের কাছে পাত্তা পায়নি। কিন্তু, মানুষের আবেদন পেয়েছে। প্রায় এক যুগ দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো। রাজনীতির ধারাপাতে যোগ হয় রাতের ভোট, বিনাভোট, আমি-ডামি ভোট। ক্রমেই গণধিক্কারের শিকার হতে থাকে আওয়ামী লীগ। এরপর করুণ পতন। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এ ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোরও একই পরিণতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে আনতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন। আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে একদিকে সেই আপিলগুলো খারিজ, আরেক দিকে নতুন ইতিহাস।
রায়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্বে ভরপুর। আদালত সরাসরি নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে নতুন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল আইনি পরিবর্তনে হবে না, রাজনৈতিক ঐকমত্য, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রাসঙ্গিক। বহু বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করা দল ক্ষমতাসীন বিএনপির ওপর পড়লো বাড়তি ভার। রূপ বা বিধান ঠিক করার বড় ভার সংসদের ওপর। এ ব্যবস্থার কাঠামো, সরকারের প্রধান, সরকারের মেয়াদ, ক্ষমতার সীমা, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কসহ আরও অনেক কিছুর স্পষ্ট বিধান ও বিহিত করতে হবে এ সংসদকে। বিধান তথা ফয়সালা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কেও। ত্রয়োদশ সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত রায় পঞ্চদশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, একমাত্র গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা যায়। গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। গণতন্ত্র বিকশিত হয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মূল সংবিধানে না থাকলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের অভিপ্রায়ে ১৯৯৬ সালে তা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এ ব্যবস্থাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোরই অংশে পরিণত হয়েছে। কারণ, এই ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৫) জনগণের আস্থার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এ তিনটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের আস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সর্বশেষ সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হতে হয়েছে। সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গণভোটের বিধান বাতিল করা নিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া জনমত বা জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা নিয়েও রায়টিতে কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংবিধান হচ্ছে একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্য সব আইনই সংবিধানের নিরিখে হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। যে কোনো আইনোর বৈধতা-অবৈধতা নিরূপণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। সর্বসাকুল্যে একের মধ্যে অনেক কিছু বিধানের কথা চলে এসেছে সরকারের ওপরও, সংসদের ওপরও। গোটা রাজনীতির ওপর তো বটেই।
লেখক: কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

Friday, July 3, 2026
মিশিগান সিনেট নির্বাচনে আল সাইয়েদকে সমর্থন দিলেন ওকাসিও কর্তেজ
গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এই সমর্থন ঘোষণা করেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা অবশ্য আগে থেকেই চিন্তিত ছিলেন, এই দোদুল্যমান রাজ্যে জয়ের জন্য সাইয়েদ হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বামপন্থি।
এক বিবৃতিতে ওকাসিও কর্তেজ বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই নির্বাচনী প্রচার দেখার পর এটি স্পষ্ট যে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখার জন্য আবদুল আল সাইয়েদই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এজেন্ডা তৈরি করে একটি বিজয়ী জোট গড়ে তুলছেন।’
ওকাসিও কর্তেজকে নিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার গুঞ্জন রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থার নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় ওকাসিও কর্তেজ এবার প্রার্থী সমর্থনে বেশ বেছে বেছে পা ফেলছেন। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাউস নির্বাচনে হেরে যাওয়া তার সাবেক চিফ অব স্টাফ সাইকত চক্রবর্তীর পক্ষেও তিনি সমর্থন দেননি। এমনকি গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জোহরান মামদানি সমর্থিত দুই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট বিজয়ী হলেও ওকাসিও কর্তেজ তাদের পাশে দাঁড়াননি।
আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানের এই প্রাইমারি বা দলীয় বাছাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৮ সালে আল সাইয়েদ যখন গভর্নর পদে লড়েছিলেন, তখনও ওকাসিও কর্তেজ তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
ওকাসিও কর্তেজের এই সমর্থনে গভীর সম্মান প্রকাশ করেছেন আবদুল আল সাইয়েদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও কর্তেজ মার্কিন রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছেন। তিনি একটি প্রজন্মকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে সরকার সত্যিই শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।’
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানে জিতেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে এবং এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে মিশিগানের এই প্রাইমারি নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লড়াইয়ে আল সাইয়েদ ছাড়াও রয়েছেন মধ্যপন্থি হেইলি স্টিভেন্স।
স্টিভেন্সকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতারা সমর্থন করছেন। এছাড়া আছেন উদারপন্থি স্টেট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো, যার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন।
সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার মনে করেন, এই রাজ্যে জেতার সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে হেইলি স্টিভেন্সের। ওয়াশিংটনের কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার আশঙ্কা, আল সাইয়েদ প্রাইমারিতে জিতে গেলে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন। তবে দলের ভেতরে এল সাইয়েদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ইতোমধ্যেই তিনি মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সমর্থন পেয়েছেন।
এই নির্বাচনে ইসরাইল ইস্যুটি একটি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মিশিগানের ডেট্রয়েট ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব-আমেরিকান এবং ইহুদি ভোটার রয়েছেন।
এল সায়েদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একজন 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তিনি 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্য প্রার্থী ম্যাকমোরো গত শরতে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় গাজার ঘটনাকে প্রথম 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি ভোটারদের বলেছেন, সংজ্ঞার চেয়ে সংকটের 'সমাধান' বেশি জরুরি।
তিনি মনে করেন গাজায় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরাইলপন্থি লবি 'আইপ্যাক'-এর সমর্থন তিনি চাইবেন না।
অন্যদিকে হেইলি স্টিভেন্সের পেছনে আইপ্যাকের সমর্থন রয়েছে। তিনি গাজার সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যা' বলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রগতিশীল প্রার্থীদের উত্থান নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে। কারণ এই প্রগতিশীলরা বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল আসনে জয়ী হয়েছেন এবং দলের কিছু পুরোনো প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই জয়গুলোকে স্রেফ কিছু অতি-উদারপনন্থি এলাকার ঘটনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে প্রগতিশীলদের জয়ের পর হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস সিএনএন-কে বলেন, ‘দেশের অন্যতম ব্লু বা ডেমোক্র্যাট-প্রধান একটি শহরের সামান্য কয়েকটি প্রাইমারি নির্বাচনের ফল দিয়ে নভেম্বরের মূল নির্বাচনের হিসাব করা যাবে না। নভেম্বরে আমাদের প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা ডেমোক্র্যাটদের জেতাতে হবে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী চরমপন্থি রিপাবলিকানদের রুখে দেবে।’
সূত্র: সিএনএন
![]() |
| মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ। ছবি: এপি |
Wednesday, June 24, 2026
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে মেয়র মামদানি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়জয়কার
নিউইয়র্কের টেনথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে গোল্ডম্যানকে হারিয়েছেন প্রগতিশীল প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।
ইসরায়েল–গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তৈরি হওয়া গভীর বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছে এই নির্বাচন।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করে আসছিলেন ল্যান্ডার। অন্যদিকে দুবার নির্বাচিত বর্তমান কংগ্রেস সদস্য গোল্ডম্যান ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ল্যান্ডার ছাড়া মামদানি–সমর্থিত আরও দুই প্রার্থী নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামঘেঁষা নেতাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর মধ্যে সেভেনথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজ ব্রুকলিন বরোর প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও রেইনোসোকে পরাজিত করেছেন।
নিউইয়র্কের থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টে ডক্টরাল শিক্ষার্থী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ের প্রাথমিক বাছাইপর্বে জয়ী হয়েছেন। ফিলিস্তিন আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সুপরিচিত। শেভালিয়ের দীর্ঘদিন ধরে এই আসন ধরে রাখা আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করেছেন।
এসপাইলাত টানা পাঁচ মেয়াদ ধরে কংগ্রেসে থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তিনি কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ সংগঠনটি হিস্পানিক আমেরিকানদের জন্য আইন ও সম্পদ–সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে।
নির্বাচনে জয়ের পর শেভালিয়েরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মামদানি।
ব্র্যাড ল্যান্ডারও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর গোল্ডম্যান পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এ জয়ের পর ল্যান্ডার জানান, তাঁর এলাকার (লোয়ার ম্যানহাটান ও ব্রুকলিনের অংশ) ভোটাররা এমন নেতৃত্ব চান, যাঁরা ‘ভয় না পেয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত, যাঁরা স্বৈরাচারের সামনে নত হন না’।
ল্যান্ডারের ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন মামদানি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্সও ল্যান্ডারকে সমর্থন দিয়েছেন।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্যান গোল্ডম্যান বলেছেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ফোন করে তাঁর জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গোল্ডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ রাতে টেনথ ডিস্ট্রিক্টের ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়েছেন। এটি সেই ফল নয়, যার জন্য আমি এত কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আমি তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোল্ডম্যানকে ‘দুর্বল’ উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ওই কংগ্রেস সদস্য ‘বড় ব্যবধানে হেরে গেছেন।’
![]() |
| বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করা প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারের সঙ্গে জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স |
Thursday, May 28, 2026
নারীর ক্ষমতায়নের দায় কেবল কি নারীর by মানজুর–আল–মতিন
পুরুষের চোখে নারীকে পৃথিবী দেখানোর প্রয়াস বুঝি এর চেয়েও ঢের পুরোনো। নারীর জীবন নির্ধারিত হবে পুরুষের ইচ্ছা অনুসারে। ফরাসি বিপ্লবের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্টের খুব বেশি সময় লাগেনি এই আইন ফ্রান্সের নারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে। তিনি সেদিন খুব সহজেই ভুলে গিয়েছিলেন ১৭৮৯ সালের ৫ অক্টোবর, ভার্সাই প্রাসাদের ক্ষমতা টলিয়ে দেওয়ার লড়াইের সম্মুখসারিতে ছিলেন নারীরা।
আমাদের দেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পথপরিক্রমাও তার চেয়ে খুব ভিন্ন হয়নি। এই মরণপণ লড়াই একবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক সামিনা লুৎফাকে বিজয়ের দুই মাস না পেরোতেই বিভৎস আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে সাইবার দুনিয়ায়। তখন কর্তাব্যক্তিরা প্রাণপণে চোখ বুঁজে থেকেছেন। অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের অনেকেই সে সময় তাঁর পাশে দাঁড়াননি।
অধ্যাপক সামিনা অভ্যুত্থানের পর নানাভাবে নিগৃহের শিকার হওয়া নারীদের দীর্ঘ তালিকায় একটিমাত্র নাম। সে তালিকায় আন্দোলনের অন্যতম মুখ উমামা ফাতেমা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক প্রাপ্তি তাপসী যেমন আছেন, তেমনি আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির তাসনিম জারা আর তাজনূভা জাবীনরাও। এই আক্রমণ যে কেবল বাইরে থেকে এসেছে তা–ই নয়, কথিথ সহযোদ্ধারাও কখনো কখনো নিপীড়ক হয়েছেন আর অনেক সময়ই হয়েছেন নীরব দর্শক।
কিন্তু অধ্যাপক সামিনা, প্রাপ্তি, উমামা, জারা কিংবা তাজনূভারা দমে যাননি। দমে যাবেন না। জুলাই এ দেশের নারীদের শিখিয়েছে তাঁদের আপন শক্তিতে এগিয়ে যাওয়া। এখনো দেয়ালে দেয়ালে নজরুলের ‘জাগো নারী জাগো বহ্নি–শিখা’ গানটির উৎকলন খুঁজে পাওয়া যাবে:
‘ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।’
চির-বিজয়িনীরা হারিয়ে যান না। তাঁরা ফিরে ফিরে আসেন, নিশ্চিত বিজয়ের দিকে এগিয়ে চলেন। প্রশ্ন হলো, এ দেশের পুরুষেরা তাঁদের সঙ্গী হতে পারবেন কি না, নাকি কেবল পেছনে টেনে রাখতে চাইবেন?
দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের বেশির ভাগ এখনো পুরুষ। মুখে তাঁদের প্রায়ই শোনা যায়, নারী নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার কথা। কিন্তু যখন ঐকমত্য কমিশনে প্রশ্ন এল, নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের কিংবা অন্তত ৩৩ শতাংশ আসনে নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার, তখন বাদ সাধলেন অনেকেই। বাধা আসায় আপাতত ৫ শতাংশ আর এরপর ১০ শতাংশ মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাহাসের ইতি টানল কমিশন।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তবে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপরিশ কি একেবারেই মূল্যহীন? দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী, মোট ভোটারের অর্ধেকও তাঁরা। নারীরা কী চান, সেটা জানার বা বোঝার চেষ্টা কোথায়?
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ অবশ্য ভোট না দেওয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন! এর অর্থ কি দাঁড়ায় এরকম: পারলে নারীরা নারীদের দাবি আদায় করুক। তাহলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কি ঐকমত্য কমিশনের কাজের পরিধির বাইরে?
এই অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সমরে অংশ নেওয়া সবার ত্যাগের ফসল। তাই দেশের অর্ধেক মানুষকে, তাঁদের রজনৈতিক স্বীকৃতির অধিকারকে পেছনে ফেলে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে পড়া হবে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিদারুণ প্রতারণা।
এ দেশের নারীরা তাঁদের অধিকার আদায় করে ছাড়বেন। চাইলেই তাঁদের আর পুরুষতান্ত্রিকতার নিগড়ে আটকে রাখা যাবে না। তাঁদের বিজয় সময়ের ব্যাপারমাত্র। এখানে প্রশ্ন একটাই, এই অন্তর্বর্তী সরকার কি ইতিহাসে নারীর অধিকার আদায়ে অন্তরায় অথবা ‘অক্ষম’ হিসেবে নাম লেখাবে, নাকি সে অগ্রযাত্রায় সহায়ক শক্তি হিসেবে? একই একই প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও। পরিবারের পুরুষ কর্তার ইচ্ছায় নারীরা দল বেঁধে ভোট দিয়ে আসবেন বলে যদি কেউ ভেবে থাকেন, তবে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
যে নারীরা শেখ হাসিনার মতো নিষ্ঠুর স্বৈরশাসককে টেনে মসনদ থেকে নামাতে পারেন, তাঁরা নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে পারবেন না, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু আর কত অস্থিরতা আর কত সংঘাত আর কত রক্তপাত দেখতে হবে আমাদের এই সহজ দাবিগুলো আদায় করে নিতে?
জুলাই যতবার ফিরে আসবে, ততবার তা বহু মায়ের কোল খালি করে ফিরে যাবে, চোখের জ্যোতি কেড়ে নেবে অনেকের। তাই আলাপের দরজা এত তাড়াতাড়ি বন্ধ করবেন না। নারীকে পেছনে ফেলে রেখে বাংলাদেশ কিছুতেই এগোতে পারবে না। তাই নারীর ক্ষমতায়নের দায় কেবল নারীর নয়, এ দেশের প্রত্যকটি মানুষের।
‘সেদিন সুদূর নয়—
যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।’
* মানজুর-আল-মতিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

Monday, April 27, 2026
ভারতের নির্বাচনে ব্রাজিলের মডেল কীভাবে ‘২২ বার ভোট’ দিলেন
হরিয়ানায় গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্রে ২২ বার ভোটার কার্ডে নেরির ছবি ব্যবহার করে ভোট দেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, এ ধরনের নকল ভোটার কার্ডগুলো হরিয়ানায় গত বছরের নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘তিনি (ব্রাজিলীয় মডেল) হরিয়ানায় ২২ বার ভোট দিয়েছেন। তিনি হরিয়ানার ভিন্ন ভিন্ন ১০টি বুথে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁর নামের জায়গায় সীমা, সুইটি, সরস্বতী, রেশমি, বিমলাসহ বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড। কেউ এই নারীকে ভোটার তালিকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঢুকিয়েছে, বুথ পর্যায়ে নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নারী কে? তাঁর বয়স কত? তিনি কোন রাজ্য থেকে এসেছেন? আমাকে কিছু ধারণা দিন।’
রাহুল বলতে থাকেন, ‘তিনি (ওই নারী) ব্রাজিলের নাগরিক। একজন ব্রাজিলীয় মডেল। এটি একটি স্টক ফটোগ্রাফ।’
একজন ব্রাজিলীয় নারীর নাম কীভাবে হরিয়ানার নির্বাচনী তালিকায় যুক্ত হলো, সে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল।
যে নারীকে নিয়ে এত কিছু, সেই ব্রাজিলীয় মডেল বলছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাঁর ব্যবহৃত ছবিটিও পুরোনো।
অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ব্রাজিলীয় মডেল নেরি বলেন, ‘তারা আমার পুরোনো ছবি ব্যবহার করছে। এটা একটা পুরোনো ছবি। আমার বয়স তখন ১৮ বা ২০ বছর ছিল। আমি জানি না, এটা কোনো নির্বাচন বা ভোটসংক্রান্ত কিছু কি না…এবং সেটা ভারতে। উফ! তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য আমাকে ভারতীয় হিসেবে দেখাচ্ছে। এ কেমন পাগলামো! কী উদ্ভট ব্যাপার! আমরা কোন দুনিয়ায় আছি?’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, হরিয়ানার ২ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রতি আটজনের একজন ভুয়া।
কংগ্রেসের নেতা বলেন, এক পর্যালোচনায় বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—একই ছবির বারবার ব্যবহার, একই ঠিকানায় একসঙ্গে বহু ভোটারের নিবন্ধন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির নাম থাকা।
রাহুল গান্ধীর দল কংগ্রেস ২০২৪ সালে হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। জরিপও সেই কথা বলছিল। তবে তারা ওই নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে হেরে যায়। তখন কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুধু ১১ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধান ছিল।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি।’
রাহুল অন্য একজন নারীর ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ২২৩ জন ভোটারের জায়গায় ওই নারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং দুটি ভোটকেন্দ্রে এ ভোটগুলো দেওয়া হয়েছে। ভোটার পরিচিতি কার্ডে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা, নাম ও বয়স উল্লেখ করা হয়েছে।
রাহুল বলেন, ‘প্রথমবার যখন আমি এই তথ্য জানতে পেরেছিলাম তখন আমি একদমই বিশ্বাস করতে পারিনি। বিভিন্ন সূত্রের কাছ থেকে এ ব্যাপারে যাচাই করার জন্য আমি দলের সবাইকে বলেছিলাম। আজ আপনারা যা দেখছেন, তা সেই প্রক্রিয়ারই ফল।’
এ কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছভাবে কাজ করছে না। তারা বিজেপিকে সহায়তা করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি নির্বাচনের অনেক আগেই সব রাজনৈতিক দলকে ভোটার তালিকা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কেউ কোনো আপত্তি জানায়নি।
![]() |
| ব্রাজিলের মডেল লারিসা নেরি। ছবি: এনডিটিভির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া |
Monday, March 9, 2026
নেপালের নির্বাচনে বিশাল জয়ের পথে বালেন্দ্র শাহর দল
দেশটির ১৬৫টি একক নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৬৪টির ফলাফল ও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের নাম জানা গেছে। এর মধ্যে আরএসপি সরাসরি ১১২টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ১৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সমানুপাতিক পদ্ধতির আসনগুলো যুক্ত হলে সংসদের নিম্নকক্ষে আরএসপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমানুপাতিক পদ্ধতির ভোট গণনায়ও আরএসপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। দেশজুড়ে গণনা করা মোট ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭১টি ভোটের মধ্যে আরএসপি পেয়েছে ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬টি ভোট। এটি এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রায় অর্ধেক এবং অন্য সব দলের পাওয়া সম্মিলিত ভোটের চেয়েও বেশি।
এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৬ লাখ ৩৯৯ ভোট। এ ছাড়া সিপিএন-ইউএমএল ৫ লাখ ২ হাজার ৫৫২ ভোট, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৮ ভোট, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৪ ভোট এবং শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৭৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়েছে।
সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নেপালি কংগ্রেস ১৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ১টিতে এগিয়ে আছে। সিপিএন-ইউএমএল ৭টিতে জয়ী হয়েছে ও ৩টিতে এগিয়ে আছে। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৫টি আসনে জয় পেয়েছে ও ২টিতে এগিয়ে আছে। এ ছাড়া শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ২টিতে জয়ী ও ১টিতে এগিয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি করে আসনে জয় পেয়েছেন। একটি নির্বাচনী এলাকার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নেপালের ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৮৪টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের গণনা পদ্ধতি অনুযায়ী, সমানুপাতিক আসনগুলো বণ্টনের পর আরএসপি এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করবে অথবা এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। এমনটি হলে অন্য কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই এককভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পাবে দলটি। তবে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই সমানুপাতিক আসনের পূর্ণাঙ্গ বণ্টন চূড়ান্ত হবে।
![]() |
| র্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে আছে। ছবি: রয়টার্স |
Tuesday, February 24, 2026
জামায়াতের ‘ঢাকা দখল’ ও বড় উত্থান এবং কিছু ইঙ্গিতের ভোট by মনোজ দে
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার ভোট প্রদানের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগ–বিহীন নির্বাচনে এই ভোটের হার নিঃসন্দেহে আশাপ্রদ। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার। আর ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার।
গণ–অভ্যুত্থানে প্রশ্নহীন ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে এলেও গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলটা বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্বল শাসন হিসেবেই বিবেচিত হবে। মব সহিংসতার কাছে সরকারের অসহায় আত্মসমর্পণ এবং কোনো কোনো গোষ্ঠীর অতি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠায় মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সরকার ঠিকমতো একটা নির্বাচন করতে পারবে তো? কিন্তু শেষবেলায় সরকার একটা ভালো নির্বাচন দিতে পেরেছে।
১৭ বছর ভোট দিতে না পারা নাগরিকদের ভোট দেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, প্রচারণার ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এবং স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংযত আচরণ; নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ফলেই একটা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। মানুষ যে ভয়হীন পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রের দিকে গেছেন, সেই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও তৎপরতাকে আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হবে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল।
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর জনতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা জয়-পরাজয় নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরকারের একটি দৃশ্যমান দূরত্ব দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেকে এই দূরত্ব তৈরিকে এজেন্ডা হিসেবেই বেছে নেয়। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী একটি সরকার যেখানে পুলিশি ব্যবস্থা নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিল, সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিগুলো এবং সশস্ত্র বাহিনী—এই তিন পক্ষের ঐক্যটা ছিল ভীষণ রকম জরুরি।
কিন্তু সেটা না হওয়ায় একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শাসনের বদলে মবতন্ত্রের মতো ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নাগরিকদের। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এই সত্যকেই সামনে এনেছে, রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সক্ষমতা আছে।
দুই.
৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন হয়নি। বাকি দুটি আসনে আইনগত জটিলতায় ফলাফল আটকে আছে। ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে যাওয়া দলটির মিত্ররা আরও তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর এটি দলটির সবচেয়ে বড় বিজয়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে দলটি ২০৭টি আসনে জিতেছিল। নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরুর পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলটি ১৪০টি আসন পেয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বড় উত্থান হয়েছে। এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে দলটি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত হাইপ তুলতে সক্ষম হয় যে এবারের নির্বাচনে একানব্বইয়ের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ফলাফল ঘোষণার পরও সেই টান টান উত্তেজনা তারা জিইয়ে রাখতে পারে।
একানব্বইয়ের নির্বাচনে সব জরিপ ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল সেবার আওয়ামী লীগ জিততে চলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই জিতেছিল। এর আগে বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন করে জামায়াত ২০০১ সালে ১৫টি ও ২০০৮ সালে ২টি আসন পেয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেছিল জামায়াত, সেবারে দলটি আসন পেয়েছিল ৩টি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন পেয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এই আলাপ আছে যে সেই নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ভেতরে ভেতরে তাদের একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল।
তিন.
বাংলাদেশে যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির একটা উত্থান ঘটেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই তার পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে মাজার ভাঙা, বাউলদের ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে নারী, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাগামছাড়া ঘৃণাচর্চা হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের পর গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন না হওয়ায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রকৃত চিত্র জানা যাচ্ছিল না। যদিও নির্বাচন দিয়েই দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রকৃত চিত্র বোঝাটা কঠিন। কেননা, এর একটি অংশ প্রকাশ্যেই গণতন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী। বাস্তবে এই অতি দক্ষিণপন্থী অংশ সমাজে কতটা, সেই চিত্র অধরাই থেকে যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে থেকেই আসিফ মোহাম্মদ শাহানের মতো পর্যবেক্ষকেরা ধারণা দিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে ভালো করবে জামায়াত। ফলাফলেও দেখা গেল খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জামায়াত পরিষ্কারভাবে ভালো ফল করেছে। সবচেয়ে ভালো করেছে খুলনায়। ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টি জিতেছে তারা। রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি এবং রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি আসন জিতেছে। জামায়াতের জয় পাওয়া আসনগুলোর বেশির ভাগই ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই অঞ্চলগুলোতে সাতচল্লিশের দেশভাগের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে মাইগ্রেট করে আসা জনগোষ্ঠীর ভোট এ ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে ঐতিহ্যগত জাতীয় পার্টির ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। এর একটা বড় কারণ হলো, জাতীয় পার্টি যে ডানপন্থার মিশেলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে, তার সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতি অনেকটা মিলে যায়। প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম জাতীয় পার্টি একটি আসনও পায়নি। রংপুরের আসনগুলোতেও তারা বড় ব্যবধানে হেরেছে এবং অনেক আসনে তৃতীয় হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু এবং গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের বি–টিম হওয়ার রাজনীতি জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
দক্ষিণবঙ্গ ও রাজশাহীর যেসব আসনে বিএনপি পরাজিত হয়েছে, তার অনেকগুলোই দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এসব আসনে হারার পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে বিএনপি তার প্রথাগত সমর্থকদের একটি অংশকে হারিয়েছে। কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। কোথাও কোথাও দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় নেতাকে প্রার্থী করায় তারা হেরেছে। কিন্তু এটাই সবটা কারণ নয়। এখানকার অনেক আসনে প্রথাগত আওয়ামী লীগের যেসব ভোটার এবার ভোট দিয়েছেন, তাঁদের একটা অংশ জামায়াতকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন।
এর পেছনে বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের চাঁদাবাজি ও মামলাবাজিও একটা ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত দুটি আসনের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোথাও পাড়া, কোথাও গ্রাম ধরে আওয়ামী লীগের প্রথাগত ভোটাররা জামায়াতের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। গ্রামগুলোতে যে গোত্রভিত্তিক বিরোধ থাকে, সেখানে বিভাজনটা অনেকটাই আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি। মোটাদাগে এই সূত্রই এখানে কাজ করেছে
চার.
ঢাকা মহানগরের আসনগুলোতে জামায়াতের উত্থান সবচেয়ে বিস্ময়ের। অতীতে কখনোই জামায়াত ঢাকার কোনো আসন পায়নি। ঢাকার ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতাও খুব বেশি দেখা যায়নি। এবারের নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জামায়াত জোট জিতেছে। হেরে যাওয়া আসনগুলোর কয়েকটিতে ভোট ব্যবধান খুব সামান্য। এনসিপির সঙ্গে জোট করায় তরুণ ভোটারদের একটা বড় সমর্থন জামায়াত পেয়ে থাকতে পারে।
গত দেড় বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগও ভোটারদের একটা অংশকে জামায়াতের দিকে ঝুঁকিয়েছে। বলা হয়ে থাকে ঢাকা যার দখলে পুরো দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ সেই দলের হাতে। ঢাকা দখলের জন্য জামায়াত যে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটা ফলাফলই বলে দিচ্ছে। কিছু আসনে ভোটার স্থানান্তরের কৌশল কাজ করেছে। ভোটের অনেক আগে থেকেই, রিকশাচালক, সিএনজিচালক, ফুটপাতের দোকানিদের একটা অংশ জামায়াতের পক্ষে সরব প্রচারণা চালিয়েছেন।
পাঁচ.
জাতীয় পার্টির অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়াসহ এই নির্বাচন আরও কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। একানব্বইয়ের নির্বাচনের পর আর কোনো নির্বাচনেই বামপন্থীরা এককভাবে নির্বাচন করে জিততে পারেনি। বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ছাড়া বামপন্থীদের কোনো আলোচিত প্রার্থী ছিলেন না। নির্বাচনে তিনি ২২ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ছাড়া উল্লেখ করার মতো কেউই ভোট পাননি। এবারের সংসদে বামপন্থীদের কোনো প্রতিনিধি থাকছে না।
নারী ও সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধিও এবারের সংসদে অনেক কম। বিএনপি থেকে ছয়জন ও স্বতন্ত্র হিসেবে রুমিন ফারহানা এবার জিতেছেন। জাতিগত সংখ্যালঘু ২ জন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ২ জন প্রতিনিধি এবার এমপি হয়েছেন। এর পেছনেও সাম্প্রতিক বছরগুলো, বিশেষ করে গত ১৮ মাসের নারীবিদ্বেষী প্রচার ও ডানপন্থী জোয়ার কাজ করেছে। ফলে ৭ জন নারী আর ৪ জন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য নিয়ে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ হতে চলেছে, সেটা নিয়ে বড় প্রশ্নই থেকে যাবে।
নির্বাচনে বিএনপি তার ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফলাফলে জিতলেও জামায়াতের বড় উত্থান ঘটেছে। ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩২ শতাংশ সমর্থন দিয়েছে জামায়াতকে। বিএনপি প্রতি সমর্থন দিয়েছে ৪৯ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোটার। নারীদের, বিশেষ করে শহর অঞ্চলের ও কর্মজীবী নারী ভোটার এবং গত দেড় বছরে নানাভাবে আক্রান্ত জাতিগত, ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত সংখ্যালঘুদের ভোট বিএনপিকে অনেক আসনে জিততে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ প্রকল্প, ভারতের শাসক দল বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের দমনমূলক শাসনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক মেরুকরণের দিক থেকেও সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একটি পরিচ্ছন্ন ভোট বাংলাদেশের মুমূর্ষু গণতন্ত্রকে আপাতত বাঁচিয়ে দিয়েছে, কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জের শুরুটা এখন থেকেই।
* মনোজ দে, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
- মতামত লেখকের নিজস্ব
| এবারের নির্বাচনে ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে জামায়াতে ইসলামি। ছবি : প্রথম আলো |
Friday, February 20, 2026
বিএনপির শপথ না নেওয়া গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা by শরীফ ভূঁইয়া
দ্বিতীয়ত, যে কারণে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে বিএনপি জনরায়কে উপেক্ষা করছে, তা হলো নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্টভাবে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন ১২ তারিখে দয়া করে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন। বিএনপির অন্যান্য প্রতিশ্রুতি যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড ইত্যাদির মতো গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থানও দলটির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই এই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে বিএনপি যদি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিত, তাহলে নির্বাচনে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা করতে পারত কি না? ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিলে এমনও হতে পারত যে বিএনপি নির্বাচনে খারাপ ফল করত। কিন্তু এই শপথ না নেওয়ার ফলে কার্যত গণভোটের রায় ‘না’ হলে যে অবস্থা দাঁড়াত, জাতি এখন সেই অবস্থার মুখোমুখি। কাজেই বিএনপি দুভাবে অর্থাৎ গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করে এবং তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনরায়কে উপেক্ষা করেছে।
এর ফলে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রক্রিয়া চিন্তা করা হয়েছিল, তা একটা প্রাথমিক বাধার সম্মুখীন হলো। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি, দ্বিতীয় ধাপ ছিল গণভোট এবং তৃতীয় ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। প্রথম দুটি ধাপ অনুসরণ করা গেলেও তৃতীয় ধাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনপ্রক্রিয়া বাধার সম্মুখীন হলো। তবে এখনো আশা করি বিএনপির প্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। এতে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কাও নেই। যেহেতু সংস্কার পরিষদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।
আর যদি সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করার দুর্বলতা হলো, এই অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা সীমিত এবং এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিষয় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন অতীতে আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। যেমন, হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী। বলা বাহুল্য, আদালত কর্তৃক ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করার ফলেই দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। এ কারণে জুলাই সনদে বর্ণিত ব্যাপক ও মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত প্রক্রিয়া টেকসই না-ও হতে পারে। বিএনপির পক্ষে এখনো শপথ নেওয়া সম্ভব এবং সে ক্ষেত্রে পুরো বিষয়ের একটি সুন্দর সমাধান হতে পারে।
* ড. শরীফ ভূঁইয়া, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।
![]() |
| শরীফ ভূঁইয়া। ফাইল ছবি |
Thursday, February 19, 2026
ওরা কেন ভোট দিতে পারে না by সৈকত আমীন
এই শঙ্কার বার্তাবাহক ছিলেন একজন রিকশাচালক। তাঁর নাম হাসিব ইসলাম। হাসিবের রিকশায় চড়ে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। একা রিকশায় চড়লে পুরোনো অভ্যাসবশত রিকশাচালকদের সঙ্গে গল্প করতে করতে গন্তব্যে পৌঁছাই। এতে প্রথমত সময়টা ভালো কাটে। দ্বিতীয়ত, রিকশাচালকদের কথায় দেশ ও জাতি নিয়ে এমন অনেক গল্প উঠে আসে, যা সাংবাদিকতার ফ্রেমে সাধারণত আঁটে না। ক্যামেরার লেন্সে যা সাধারণত ধরা পড়ে না।
হাসিবও এ বিষয়ে হতাশ করেননি। তাঁর বয়স ২৮। বসতভিটা কুড়িগ্রামের উলিপুরে। ঢাকার মিরপুরে স্ত্রী ও তিনি থাকেন। স্ত্রী পোশাকশ্রমিক। তিনি বা তাঁর স্ত্রী ভোট দিতে যেতে পারেননি।
জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভোট দিতে কেন গেলেন না? হাসিব জানালেন, ঢাকা থেকে ভোট দিতে যাওয়া–আসা চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচের বিষয়। তাঁর পরিবারের এই খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। ভোট দিতে না যেতে পারা নিয়ে তাঁর ভেতরে আফসোস আছে। কারণ, হাসিবের মতে, এর আগের দুটি নির্বাচনে আরও লাখ লাখ মানুষের মতো তিনিও ভোট দিতে পারেননি।
গতকাল বুধবার দেশের নানান জায়গায় ভোটারদের মধ্যে নগদ অর্থ বিলি করার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলোর বহু কর্মী আটক হয়েছেন। জনরোষের কবলে পড়েছেন অনেক স্থানীয় নেতা। হাসিবকে জিজ্ঞাসা করছিলাম, কোনো প্রার্থী ভোট দিতে যেতে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না? আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টা বিবেচনা করতে চেয়েছেন কি না? এই ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত হাসিব খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। সম্ভবত আমি অজান্তেই তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে ফেলেছিলাম।
হাসিব দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘কেউ টাকা সাধলেই কি টাকা নিতাম? সামর্থ্য থাকলে নিজের পয়সা খরচ করেই ভোট দিতে যাইতাম। কারও কথায় ভোট দিতে কেন যাব, টাকা কেন নেব?
হাসিবের মতে, নির্বাচন কমিশন বা ভোট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর মতো দরিদ্র ও ভোটকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে থাকা ভোটার বিষয়টি কখনোই বিবেচনায় রাখেননি। তিনি জানেন, প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ সুযোগ যদি দেশের নানা স্থানে ছড়িয়ে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষও পেতেন, তাহলে ভোটের পরিবেশ ও ভোটের সংখ্যা—দুটিই আরও উৎসবমুখর হতে পারত। হাসিব আশাবাদী, নির্বাচিত সরকার পরবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁদের কথা অবশ্যই বিবেচনা করবে।
সামর্থ্যের কাছে সীমাবন্ধ এই দুর্দশার চিত্র কেবল হাসিবের নয়। বাসা থেকে অফিসে আসার পথে নিম্নবিত্তের ৯ জন মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই ভোটার। কিন্তু ভোট প্রয়োগ করার সক্ষমতা থেকে এখনো অনেক দূরে। হাসিবের রিকশা থেকে নেমে যখন মিরপুর ১০ নম্বর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে দাঁড়ালাম, সেখানে উৎসবের আমেজ চলছে। স্কুলটি ঢাকা–১৫ আসনের নারীদের অন্যতম বড় ভোটকেন্দ্র।
স্কুলের একটু দূরেই নিজের ফ্লাস্ক আর বিস্কুটের ঝুড়ি নিয়ে ব্যস্ততার ভেতর ছিলেন রবিউল ইসলাম। ৪০ বছর বয়সী রবিউল ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা। তাঁর বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে।
২০ বছর ধরে ঢাকায় থাকলেও ভোটার এলাকা বদল করা হয়নি। প্লাস্টিকের কাপে চা ঢালতে ঢালতে রবিউল আক্ষেপ করে বললেন, ‘ভাই, দোকানের সামনে দিয়ে মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে, এটা দেখে কলিজাটা হু হু করে। আমার এলাকা হলে তো আজ আমি কোনো লাইনের ধার ধরতাম না, বুক ফুলায়া গিয়া সিল মারতাম। কিন্তু আমার এলাকা তো ভাই অনেক দূরে। মা-বউ আছে গ্রামে। যাইতে–আসতে কমপক্ষে তিন হাজার টাকা। এক দিন চা বিক্রি না করলে পরের দিন ঘরে চাল ওঠে না। আমি কি তিন হাজার টাকা খরচ কইরা ভোট দিতে যাওয়ার শখ–আহ্লাদ করতে পারি?’
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা মিলল ষাটোর্ধ্ব মোজাম্মেল মিয়ার। একটি ভ্যানে শুয়ে তিনি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটালাম।
মোজাম্মেল মিয়ার ভোট নীলফামারীতে। শেষবার ২০০৮ সালে তিনি ভোট দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনভ্যাস আর সক্ষমতার অভাবে এবারও তিনি ঢাকায় থেকে গেছেন পেটের দায়ে।
মোজাম্মেল মিয়া খুব শান্ত, কিন্তু কঠোর ভাষায় বললেন, ‘ভোট দিতে কার না মন চায়, বাজান? ভোট দিতে পারা মানে নিজেরে দেশের মানুষ মনে হওয়া। আমরা তো কুলি-মজুর। আমরা কাজ করলে খাই, না করলে উপাস থাকি। আমগো মতো মাইনষের ভোট তো শুধু আঙুলের ছাপ না, এটা হইলো কয় দিনের কামাইয়ের লগে লড়াই।'
'আমার নীলফামারী যাইতে-আসতে যে ট্যাকা খরচ হয়, হেইডা দিয়া আমি ১৫ দিনের চাউল কিনতে পারি। তাইলে বোঝেন, পেটের ক্ষুধার সাথে ভোটের লড়াইটা কেমন! আমার একটা বাড়তি টাকার নোটও।’
যখন প্রশ্নটা উঠল, আসলে সমাধানের পথ কী হতে পারত? তিনি একটু নড়েচড়ে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘সরকার তো কত কামই করে। গরিব মাইনষের বেলা কোনো একটা ব্যবস্থা কি হইতে পারত না? মনে করেন, যারা এমন বহু দূরে থাকে আর কাম কইরা খায়, সরকার যদি বিশেষ দিনগুলোয় আমগো যাতায়াত বা আসা-যাওয়ার একটা সুযোগ কইরা দিত; তাইলে দেখতেন এই দিনমজুর, কুলি-মজুরে নীলফামারী, রংপুর সব ভরে গেছে। যদি আমগো আনা-নেওয়ার কোনো ইনতেজাম থাকত, তাইলে আজ আমি নীলফামারীর কেন্দ্রে গিয়া হাসিমুখে সিলটা দিতাম।’
সংকটের এই মেঘ কেবল দিনমজুরবর্গের ওপরেই নয়, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণের এই দিন নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বহু বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন, অনিশ্চয়তা আর আত্মত্যাগের পর নাগরিকেরা আবারও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু মাঠে ঘুরে, ভোটকেন্দ্রের বাইরের বাস্তবতা দেখে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেই কি ভোট প্রয়োগের সক্ষমতাও নিশ্চিত হয়?
হাসিব, রবিউল, মোজাম্মেলদের কণ্ঠে যে বঞ্চনার সুর শোনা গেল, তা কেবল আর্থিক অক্ষমতার বিবরণ নয়, এটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দলিল। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ হলেও কর্মসংস্থানের কারণে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের যে বিশাল স্রোত তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভৌগোলিক বিন্যাসের সমন্বয় হয়নি। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোয় লাখ লাখ মানুষ কাজের প্রয়োজনে বসবাস করছেন, কিন্তু তাঁদের ভোটার এলাকা রয়ে গেছে নিজ নিজ জেলায়। ফলে ভোট দেওয়া তাঁদের কাছে রাজনৈতিক অধিকার নয়, অর্থনৈতিক বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ডাকযোগে ভোটের সুযোগ দিয়েছে, যা প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু দেশের ভেতরে স্থানান্তরিত শ্রমশক্তির জন্য কোনো সমান্তরাল ব্যবস্থা নেই। অনলাইনে অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র নির্বাচন, কর্মস্থলভিত্তিক বিশেষ ভোট, আগাম ভোট বা পোস্টাল ব্যালটের মতো পদ্ধতি নিয়ে এখনো কার্যকর আলোচনা শুরু হয়নি।
তবে সংকট শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী, কারখানার তদারকি কর্মী, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স, সংবাদকর্মী, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ খাতের জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা আজ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের অনেকেই নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। কেউ রাতভর ডিউটিতে, কেউ মাঠে রিপোর্টিংয়ে, কেউ জরুরি অস্ত্রোপচারে। রাষ্ট্রযন্ত্র সচল রাখতে তাঁরা ভোটের দিনটিকে ব্যক্তিগত অধিকারের চেয়ে পেশাগত দায়বদ্ধতার কাছে সমর্পণ করেছেন। এই আত্মত্যাগের কোনো পরিসংখ্যান নেই, কোনো আলাদা তালিকাও নেই।
এখানে একটি নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। রাষ্ট্র কি শুধু ভোট গ্রহণের দিনকে সফল করতে চায়, নাকি প্রত্যেক নাগরিককে ভোট প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়? কতজন ভোট দিতে চেয়েও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় পারেননি, সে অদৃশ্য সংখ্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র শ্রমিকের জন্য তিন হাজার টাকা মানে পনেরো দিনের খাদ্যনিরাপত্তা। জরুরি পেশার কর্মীর জন্য ভোটের দিন মানে পেশাগত দায়িত্বে অবিচল থাকা। এ দুই বাস্তবতাই গণতন্ত্রের নীরব আত্মত্যাগের অংশ।
নিশ্চয়ই এ সমস্যার সমাধান অদূর ভবিষ্যতের জন্য অসম্ভব নয়। প্রযুক্তিনির্ভর রিমোট ভোটিং, আগাম ভোটের সুযোগ, কর্মস্থলভিত্তিক অস্থায়ী কেন্দ্র, আন্তজেলা ভোটার স্থানান্তরের সহজ প্রক্রিয়া কিংবা বিশেষ যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এসব উদ্যোগ শুধু ভোটের হার বাড়াবে না; রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে আরও আস্থাভিত্তিক করবে।
যে মানুষগুলো নিজেদের সামর্থ্য, সময় ও শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রকে সচল রাখছেন, অথচ ভোটের দিনে লাইনে দাঁড়াতে পারছেন না, তাঁদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন রাষ্ট্র কীভাবে করবে? নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হওয়া এই অদৃশ্য নাগরিকদের দৃশ্যমান করা। রাষ্ট্র যদি প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, তবেই এই বহু প্রতীক্ষিত ভোট সত্যিকার অর্থে জনতার হবে।
নয়তো ভোটের উৎসবে লাখো নাগরিকের মনের ভেতরে প্রতিধ্বনিত হতেই থাকবে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতার কয়েকটির লাইন—
‘আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ, নিরবে ফিরে যাওয়া অভিমান ভেজা চোখ,
আমাকে গ্রহন কর।’
* সৈকত আমীন, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
- ই-মেইল: shoikotamin@yahoo.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| নির্বাচনের দিন বেলা ১১ টায় কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনজন দিনমজুর। প্রথম আলো |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














