Saturday, May 14, 2016

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য অবাধ পরিবেশ দেখতে চায় জাতিসংঘ

সাংবাদিকরা যাতে অবাধে কাজ করতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করুক বাংলাদেশ, এমনটা দেখতে চায় জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সাংবাদিক, ব্লগারদেরকে টার্গেট করে যে সহিংসতা হচ্ছে তাতে উদ্বেগ জানান জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন। সাম্প্রতিক মৃত্যুদ- নিয়েও জাতিসংঘ উদ্বেগ জানিয়েছে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। ১৩ই মে ওই ব্রিফিংয়ের বেশ খানিকটা অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। তা প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: স্টিফেন আপনাকে ধন্যবাদ। গত রোববার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বাংলাদেশের ওপর ‘বাংলাদেশজ ডিসেন্ডস ইনটু ললেসনেস’ শীর্ষক একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। আপনি জানেন, এলজিবিটি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাজ মান্নানকে হত্যা করা হয়েছে। ব্লগাদের হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- চলছেই। সরকারের হয়রানিও চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ৮২ বছর বয়সী একজন সম্পাদক জেলে রয়েছেন। জেলে রয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি । এসব ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে। এই অরাজকতা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধারে কি করা যেতে পারে?
উত্তর: আমি মনে করি মহাসচিব, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশে রিপোর্টার ও ব্লগারদের টার্গেট করে যে সহিংসতা আমরা দেখেছি তাতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সাম্প্রতিক মৃত্যুদ-ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকরা যাতে অবাধে কাজ করতে পারেন সরকার সে রকম পরিবেশ সৃষ্টি করবে এমনটা আমরা দেখতে চাই।

এভাবে দেশ চলতে পারে না, পরিবর্তন হবেই -এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশ আজ কিভাবে চলছে আমরা সবাই জানি। এভাবে একটা গণতান্ত্রিক দেশ চলতে পারে না। এর পরিবর্তন হবেই। হতেই হবে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গনে জাতীয় পার্টির ৮ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলরদে হাঁ ভোটে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এরশাদ। সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতার কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এইউপি নির্বাচনে ৮৪ জনের প্রানহাণি হয়েছে। আগেই বলেছিলাম দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের কারণেই এ দুরবস্থা। এরশাদ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ছাড়া এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় নেই। মানুষ প্রার্থীকে নয়, ভোট দিবে দলকে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাষন ফিরিয়ে আনতে হবে। দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। এরশাদ তার সামরিক ক্ষমতা দখলের বিষয়ে বলেন, আমি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইনি।  গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। এ জন্য ৮৪ সালে নির্বাচন দিয়েছি। কিন্তু প্রধান প্রধান দলগুলো  সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে জাতীয় পার্টি সৃষ্ঠি করে ক্ষমতা গ্রহণ করি। কাউন্সিল অধিবেশনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এছাড়া বক্তব্য দুই কো-চেয়ারম্যান। রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে। এর জন্য যা যা করার দরকার, তা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বড় বড় নেতারা অনেক সুযোগ-সুবিধা পায়। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা বরাবরই বঞ্চিত হয়। রওশন বলেন, অতীতের ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। যখন আমাদের নেতাকর্মীরআ জেলে ছিলেন, তখনও আমরা ৩৫টি আসনে জিতেছিলাম। এখন কেনো পারিনা। আমাদের দুর্বলতা কি, সেটা খুজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্রদের ছাত্র রাজনীতি নিয়েই থাকতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ না করাই ভালো।  এসময় তিনি প্রতিটি বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের দাবি জানান।
জিএম কাদের তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রানৈতিক ধারার আমুল পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। তারা রাজনীতি বলতে নিম্নগামী কোনো পন্যকে বুঝে। বর্তমানে রাজনীতি নৈতিকতা বিমুখ হয়ে গেছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। সাধারণ মানুষ এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মুক্তি চায়। এসময় নিজ দলের রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করার তাগিদ দেন তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় এরশাদ জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কাউন্সিলররা।

একজন বিথির আর্তনাদ

বাংলাদেশের বিথি আকতারের দুর্দশার কাহিনী এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। তাকে নিয়ে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। এর মধ্যে রয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বিথি আকতারের বয়স মাত্র ১২ বছর। কিন্তু তার মুখ ও সারা শরীরে চুলে ছেয়ে যাচ্ছে। তাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন পিতামাতা। চিকিৎসকরা বলছেন, তাকে হরমোনের চিকিৎসা দিলে এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে বিথি। তার শরীরে যে রোগ রয়েছে তাকে বলা হচ্ছে বায়ারস-জুরকিউইচ সিনড্রোম। কেউ এটাকে ওয়ারউলফ সিনড্রোমও বলে থাকেন। বিথির মা বিউটি বেগম বলেছেন, জন্মের সময় থেকেই বিথির মুখমন্ডলে চুল ছিল। আমরা ভেবেছিলাম মেয়ে বড় হলে এ সমস্যা একদিন চলে যাবে। কিন্তু না, তা হলো না। সে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার দাঁতের গোঁড়া ফুলে যেতে থাকে। তার স্তনের আকৃতি অসম্ভব রকম স্ফীত হতে থাকে। এতটাই স্ফীত হয় যে তা তার পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি সে স্কুলে যেতে পারে না। বিথির মা বিউটি বেগম আরও বলেন, এক সময় আমরা ভেবেছিলাম এটা আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ হয়তো চেয়েছেন তাকে এভাবে সৃষ্টি করতে। কিন্তু এখন আমি সন্তানের কষ্ট আর সইতে পারছি না। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ডাক্তার ফখরুল আলম বলেন, বিথির যে সিনড্রোম রয়েছে তাতে মুখমন্ডলে স্বাভাবিকের চেয়ে এলোমেলো অবস্থা দেখা দেয়। এতে বয়ঃসন্ধিক্ষণে পৌঁছানোর পর একটি মেয়ের স্তনের আকৃতি বৃদ্ধি পায়, যা এই মেয়েটির ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এখন বিথির পরিবার তার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমেছে। কারণ, চিকিৎসকরা অভয় দিয়ে বলেছেন, অপারেশন করা হলে বিথির জীবনের প্রভূত উন্নতি ঘটানো সম্ভব। চিকিৎসকরা অপারেশন করে তার স্তনের আকৃতি ছোট করার পরিকল্পনা করছেন। দাঁতের ফোলা কমাবেন তারা। তার দেহে চুল গজানো কমানোর জন্য দেবেন হরমোন থেরাপি। ডাক্তার ফখরুল আলম বলেন, আমরা সত্যিকার অর্থে এই মেয়েটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বিথি আখতার এখন ওই হাসপাতালেই আছে। হাসপাতাল তার চিকিৎসার কিছু অংশ বহন করছে। কিন্তু তার পিতা একজন ট্যাক্সিচালক আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলছেন, বাকি খরচ চালানোর মতো সামর্থ নেই তার পরিবারের। এরই মধ্যে তিনি  মেয়ের ওষুধ কিনতে ৮০ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করেছেন। এর বেশির ভাগই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া। এখন তার চিকিৎসা করানোর অর্থই নেই তার কাছে। সম্প্রতি ২৬ বছর বয়সী ‘ট্রি ম্যান’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া আবুল বাজানদারের চিকিৎসায় মানুষের আর্থিক সহায়তার আগ্রহ দেখে বিথির পিতামাতা মেয়েকে হাসপাতালে আনতে উৎসাহিত হয়েছেন। তাদেরও মাঝে আশা, কেউ না কেউ তার মেয়ের চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। এখন বিথির বেশির ভাগ সময় কাটছে হাসপাতালে। সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে অন্য দশজন নারীর মতো বাঁচতে চায়। বিথির ভাষায় ‘আমি আবার স্কুলে ফিরতে চাই। বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই’।

বাহারের প্রতারণায় সব হারালো সুলতানা by ওয়েছ খছরু

চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয় সুলতানাকে। এরপর বন্দরবাজারের একটি হোটেলে নিয়ে রাতভর তার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করে প্রেমিক বাহার। সেই থেকে সতীত্ব হারিয়ে বাহারের কাছে সঁপে দিয়েছিল সবকিছু। তিন মাস একই ছাদের নিচে ঘর-সংসার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ভালোবাসার মানুষ বাহারই তার সঙ্গে করেছে প্রতারণা। এখন অনেকটা নিঃস্ব সুলতানা। ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কেউ সহানুভূতি জানাচ্ছেন। কেউ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সিলেটের এই সুলতানার কাহিনী বড়ই করুণ। সুলতানার পূর্বনাম রমারানী নাথ। বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কঠালপুর গ্রামে। পড়তো হাইস্কুলে। বয়স যখন ১৪ বছর তখন থেকে সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পিতার ঘরে বসবাস করার সময়ই পাশের বাড়ির এক মহিলার কাছে কোরআন শিক্ষায় দীক্ষা নেয়। বিষয়টি জানাজানি হয় তার পরিবারে। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর পরিবার থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়। সুলতানা চলে আসেন সিলেটে। আশ্রয় নেন নগরীর দাড়িয়াপাড়ার একটি বাসায়। সেখান থেকে তিনি জল্লারপাড় এলাকায় দর্জির কাজ শেখেন। নিজের মনোবলের কারণে অল্প দিনেই সুলতানা ‘দর্জি মাস্টার’ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি নিজেই মেশিন কিনে জল্লারপাড় এলাকায় বাসা নিয়ে ট্রেনিং দেয়া শুরু করেন। মাঝে মধ্যে পাড়ার মহিলাদের কাপড় সেলাই করেন। এভাবেই চলছিল সুলতানার জীবন। কিন্তু হঠাৎ তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। জল্লারপাড় এলাকার লিয়াকত ভবনের সাইফুরস-এ লিফলেট কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকার উপর শ্যামপুর দলইরপাড়া এলাকার সাঈদ উল্লাহ ছেলে বাহার উদ্দিন রিপন। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে সুলতানার ওপর নজর পড়ে তার। কাজের মেয়ে শিল্পীর মাধ্যমে সুলতানার মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে বাহার। এরপর সে সুলতানাকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সুলতানা তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। বারবার ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করে। এক সময় আত্মহত্যারও হুমকি দেয়। বিষয়টি সুলতানা অবগত করে জল্লারপাড়ের বাসার মালিক খসরু মিয়াকে। এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়। এদিকে বাহার উদ্দিন রিপনের যন্ত্রণায় মোবাইল ফোনের নাম্বার পরিবর্তন করেন সুলতানা। বাহার তাকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে বাসায় চলে যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী বাহারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। ওই সময় বাহারের মা রায়না বেগম সুলতানাকে পুত্রবধূ করতে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলেন। এলাকাবাসীর পরামর্শ নিয়ে বাহারের মায়ের প্রস্তাবে সুলতানা ২০১৫ সালের ১৭ই নভেম্বর হরিপুরে যায়। ওই দিন রাতেও বাহারের বাড়িতে অবস্থান করে সুলতানা। তাদের আতিথেয়তায় সুলতানা মুগ্ধ হন। এদিকে, ১৮ই নভেম্বর বিকালে বাহার সুলতানাকে নিয়ে চলে আসে সিলেট শহরে। সন্ধ্যায় তারা জিন্দাবাজারের রেস্টুরেন্ট জলসিঁড়িতে চা খেতে বসে। এমন সময় বাহার চায়ের সঙ্গে সুলতানাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করায়। এরপর থেকে আর কিছুই বলতে পারেন না সুলতানা। ১৯শে নভেম্বর সুলতানা নিজেকে আবিষ্কার করেন বন্দরবাজারের হোটেল মহানগরে। সকালের দিকে দেখেন রাতেই হোটেল কক্ষে বাহার তার ইজ্জত লুট করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হন সুলতানা। এ ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বাহার সুলতানাকে নিয়ে পরদিন যায় সিলেটের দরগাহ গেট এলাকার কাজী অফিসে। সেখানে গিয়ে সহকারী কাজী সুবহান বোগদাদীর কাছে বিয়ের কথা বলেন। কিন্তু দুজনের ভোটার আইডিসহ জরুরি কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় কাজী কাবিন করতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তিনি সাদা কাগজে দুজনের স্বাক্ষর রেখে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে পড়িয়ে দেন। কথা ছিল পরে কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার পর কাবিন রেজিস্ট্রি হবে। এদিকে বিয়ের পর বাহার নগরীর মাছুদিঘিরপাড়ের রানীর গলির ৩৯-২ নম্বর বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। এদিকে, স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাসের সময় সুলতানা কাবিনের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ক্ষেপে যায় বাহার। কাবিনের কথা উঠলেই সে অকথ্য নির্যাতন করে সুলতানাকে। আর বিষয়টি এলাকাবাসীরও নজরে আসে। ওই সময় এলাকাবাসীর রোষানল থেকে রক্ষা পেতে ৫০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে বাহার সুলতানাকে স্ত্রী হিসেবে বৈধতা দিয়ে দস্তগত দেয়। তিন মাস বসবাসের পর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে বাহার সুলতানার জমানো ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি চলে যায়। আর ফিরেনি। এ অবস্থায় সুলতানা শুরু করেন বাহারের খোঁজ। কাজী অফিসে গিয়ে ওই কাগজ চান। ওই কাগজে বাহার তার মূল বাড়ি জৈন্তাপুরের পরিবর্তে গোয়াইনঘাট লেখে। ওদিকে, সুলতানার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর বাহার ও তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের নাম্বার পরিবর্তন করে ফেলে। বাধ্য হয়ে সুলতানা স্থানীয় ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। রশীদ আহমদ বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে মার্চের প্রথমদিকে সুলতানাকে স্বামী বাহারের ঘরে তুলে দেন। কিন্তু ঘরে তোলার দিনই সুলতানাকে বাহার ও তার মা রায়না বেগম ব্যাপক মারধর করে। এ সময় তারা সিলেট শহর থেকে কয়েকজন পুরুষকে ডেকে নিয়ে সুলতানাকে গুম করার চেষ্টা চালায়। ওই সময় হরিপুর এলাকার মাদরাসা শিক্ষকসহ স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করায় বিষয়টি বেশিদূর গড়ায়নি। এরপর সুলতানা চলে আসেন সিলেটে। এখন তিনি নগরীর শেখঘাট এলাকায় বসবাস করছেন। সুলতানা জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি রায়না বেগম ও স্বামী বাহার প্রথমে ভালো মানুষের অভিনয় করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা রুক্ষ হয়ে ওঠে। তার শ্বশুর সাঈদ উল্লাহ তাবলিগ জামায়াতের সদস্য হওয়ায় স্ত্রীর অবাধ স্বাধীনতায় ওই পরিবারের সদস্যরা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, তিনি আর স্বামী চান না। তার সঙ্গে যে ধোঁকাবাজি হয়ে সেটির ন্যায় বিচার চান। আর তার কাছ থেকে লুট করা ৮০ হাজার টাকা ফেরত চান। সামাজিকভাবে বিচার না পেয়ে তিনি এখন আইনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি একটি আইনি সহায়তা প্রদান সংস্থার কাছে নালিশ করেছেন। তারা তার বক্তব্য শুনে তদন্তে নেমেছেন। এদিকে, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা সিলেটের প্যানেল অ্যাডভোকেট পারভিন আক্তার লিজা জানিয়েছেন, মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। যেহেতু ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ সামাজিক ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, সেহেতু মেয়েটি ন্যায় বিচার পাবে। জৈন্তাপুরের ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ জানিয়েছেন, তিনি সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে সুলতানাকে স্বামীর ঘরে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ওপর নির্যাতন চলার কারণে শেষ মুহূর্তে চলে যায়। সুলতানার স্বামী বাহার স্বাভাবিক মানুষ নয় বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, ১৫ বছর বয়সে বাহার গোলাপগঞ্জের জঙ্গলহাটার রুনা আক্তারকে বিয়ে করেছিল। ওই স্ত্রীর ঘরে হাবিবা নামে ৭ বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। বাহারের বহুগামিতার কারণেই তার ওই স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যায়।