Tuesday, November 9, 2010

স্মরণ- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ : কবি ও প্রাবন্ধিক' by রাজু আলাউদ্দিন

পরাবাস্তববাদের ইশতেহার ঘোষিত হয়েছিল প্যারিসে, ফরাসি ভাষায় ১৯২৫ সালে। কিন্তু ইশতেহার সেখানে ঘোষিত হলেও সত্যিকারের পরাবাস্তব রচনার সৃষ্টি হয়েছিল ফরাসি নয় বরং অন্যসব ভাষায়।
বলা যায়, অনেক বেশি সাফল্য ও গভীরতার সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষায় স্পেনের কবি বিসেন্তে আলেইহান্দের 'চধংরড়হ উব খধ ঞরবৎৎধ্থ কাব্য গ্রন্থে এবং লাতিন আমেরিকা থেকে চিলির বিসেস্তে উইদোব্রোর 'খঃধুড়ৎ্থ ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থে। আর ক্যারিবীয় অঞ্চলে এইমে সেজেয়ার ও রেনে দেপেস্ত্রের মধ্যে পরাবাস্তবের শৈল্পিক প্রভাব আমরা দেখতে পাই। এ ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার আরও বহু গৌণ কবি রয়েছেন, যাঁরা এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন; কিন্তু এর গহীনতাকে স্পর্শ করতে পারেননি তেমনভাবে।

স্মরণ- 'সিদ্ধার্থ শংকর রায়: মহৎ মানুষের মহাপ্রস্থানে' by ফারুক চৌধুরী

আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রয়াত সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের যথার্থ মূল্যায়ন দুরূহ। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, দিগ্বিজয়ী আইনজ্ঞ, সার্থক সংগঠক এবং সফল কূটনীতিবিদ;

যাঁর কাছ থেকে আমার শুধু পাওয়ারই ছিল, দেওয়ার কিছুই ছিল না। ভাগ্যগুণে তাঁর স্নেহধন্য ছিলাম এবং কখনো কখনো তাঁকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। অত্যন্ত বড় মাপের এ মানুষটির সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণাই তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ছিলেন ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

একজন অসাধারণ চিকিৎসকের কথা by সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

মহীরুহপ্রতীম পথিকৃৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানী আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী তিন বছর হলো এইদিনে পৃথিবী ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। আমি তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করছি।
বাংলাদেশের বরেণ্য চিকিৎসকদের শিক্ষক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী। ইংরেজ শাসনামলে বাঙালি মুসলিম সমাজে জন্মগ্রহণ করেও এক উদার উন্নত শিক্ষায় আলোকিত পরিবারের সংস্পর্শে এসে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তাঁর কর্মজীবনে অসংখ্য যোগ্য নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসাবিজ্ঞানী গড়ে গিয়েছেন। বিশ শতকের শুরুতে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, কুসংস্কারের ধোঁয়াশাক্রান্ত পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজে ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচনা করে নারী জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এ দেশের বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি তাঁর এ কল্যাণকর ব্রত গ্রহণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়েছেন নানাভাবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণে আজ দেশের চিকিৎসা অঙ্গনে অসংখ্য নারী বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী এ ক্ষেত্রে নিজ পরিশ্রম, অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে শীর্ষস্থানে অলংকৃত হয়েছেন, তা এক অভূতপূর্ব সাফল্যগাথা। বাংলাদেশের স্ত্রীরোগ ধাত্রীবিদ্যায় বর্তমানে যে অগ্রগতি, আজ থেকে ৮০ বছর আগে তা ছিল কল্পনাতীত। বিশেষত, এ ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলিম নারীদের পদচারণ ছিল নিতান্ত নগণ্য, অকিঞ্চিৎকর। তথাকথিত ধর্মীয় বিধিনিষেধের গোঁড়ামিপূর্ণ অসামঞ্জস্য এক সময় তাঁর চিকিৎসাক্ষেত্রে পদচারণ ছিল রেনেসাঁর সূচনা, যার পরিপ্রেক্ষিতে সে যুগেও মুসলিম মহিলারা সানন্দে এগিয়ে এসেছেন বৈপ্লবিক ভূমিকা গ্রহণ করে। তিনি সেবাদর্শের আলোকবর্তিকা হাতে দৃঢ়চিত্তে প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁদের। নিষ্ঠা, একাগ্রতা আর সেবার মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত এই নারী প্রতিভূ সর্বাবস্থায় আমাদের জন্য আদর্শ মানবাধিকারস্বরূপ।
সৌভাগ্য আমার যে, ষাটের দশকের শুরুতে এমবিবিএস পড়তে গিয়ে এই মহীয়সী নারীকে পেয়েছি শিক্ষক হিসেবে। অবশ্য তারও আগে থেকে ডা. জোহরা বেগম কাজী ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করে শিক্ষাদানে ব্রতী হয়েছিলেন। উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে তিনি এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিই শুধু নন, বরং বলা চলে, তিনি নিজেই এক ইতিহাস। তবে তার চেয়েও বড় কথা, তিনি চিকিৎসাব্যবস্থার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে একজন সার্থক অধ্যাপক।
আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র হিসেবে মাত্র কয়টি বছর তাঁকে চিনেছি ও শিক্ষা পেয়েছি, তাতে আমার কর্মজীবনে এত দূর পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। সময় ও নিয়মানুবর্তিতা বলতে যা বোঝায়, তার সংজ্ঞা ডা. জোহরা বেগমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পাওয়া যায়। তিনি সময়মতো ক্লাসে আসতেন। ক্লাস শুরু হওয়ার দু-এক মিনিট পরে গেলে ক্লাসে ঢোকার সুযোগ ছিল না। কোনো ছাত্রছাত্রী ক্লাসে আমাদের পাঠদানকালে বিষয়ভিত্তিক ছাড়া অন্য কোনো বিষয় গল্প করতেন না। আমাদের বোঝানো ছিল তাঁর সাধনা। তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক। তাঁর নীতি ও আদর্শ এতই কঠোর ছিল যে, আমরা তা মানতে বাধ্য হতাম। শিক্ষাজীবনে তাঁর আদর্শ আমাদের আলোর দিশারি হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণে তিনি ছিলেন নিরপেক্ষ পরীক্ষক। পক্ষপাতদুষ্টতা-বর্জিত এমন শিক্ষক সবার কাছেই ছিল প্রিয়। হাঁটাচলায় ভাবগম্ভীর, প্রশাসনিক দক্ষতায় ও তাঁর মেধাশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে তিনি আদর্শবান শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর ক্লাস করতে পারা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি তাদের হাতে-কলমে শেখানোয় বিশ্বাসী ছিলেন, শুধু বক্তৃতাতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না।
অধ্যাপকের নির্দিষ্ট রুমে তিনি সময় কাটাতেন না। তখন তাঁকে লেডি ডাক্তার হিসেবে সবাই চিনতেন ও জানতেন। বই পড়ে সময় কাটাতেন, ফলে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে গল্প করার সুযোগ পেতেন না। সময় পেলে জুনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে ক্লাসের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলাপ করতেন। ডাক্তারি পেশা মহান পেশা, এ মূল্যবান বাণী দিয়ে উৎসাহিত করতেন শিক্ষকদেরও। তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি নারীসমাজে এক নবজাগরণের সৃষ্টি করেছেন। চিকিৎসার অভাবে মাতৃগর্ভ ঝুঁকিপূর্ণ সন্তান প্রসবের সময় হতভাগ্য মায়েরা যখন চিকিৎসা থেকে হয়েছিল বঞ্চিত, ঠিক সেই যুগে জোহরা বেগম কাজী ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের প্রধানের হাল ধরে স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যার চিকিৎসার এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীও সম-অধিকারে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে, তার বাস্তব প্রমাণ অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী। তিনি এ দেশের নারীসমাজের অগ্রগতির অনুপ্রেরণা। সেবাদানের অন্যতম মাধ্যম সুচিকিৎসক হওয়ার আদর্শিক পথদ্রষ্টা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তিনি যেমন ছিলেন প্রশাসনিক ও অভিজ্ঞ ডাক্তার, তেমনি তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক তৎপর। রাতদিন যেকোনো সময় তিনি রোগীদের খোঁজখবর নিতেন। নার্স ও ডাক্তার তাঁদের যথার্থ কাজ করতেন কি না, তা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করতেন। কোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি হলে কাউকে তিনি ক্ষমা করতেন না। ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষাদান এবং রোগীদের সেবাদানের পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই মহীয়সী বিজ্ঞানীকে তাঁর সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রোকেয়া পদক, একুশে পদক, বিএমএ স্বর্ণপদক এবং পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পদকে সম্মানিত করা হয়।
অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের অনারারি কর্নেল, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসাদানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও দেশসেবার কাজে উৎসাহিত রাজনীতিবিদের খোঁজখবর রাখতেন। তিনি উপলব্ধি করতেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা কীভাবে বাঙালির ওপর অত্যাচার করত।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের আওয়ামী লীগের তীব্র আন্দোলনে পাকিস্তানের সামরিক জেনারেল ও তাঁর সরকার দিশেহারা হয়ে যখন বাঙালির বুকে গুলি চালায়, সেই গুলিতে সার্জেন্ট জহুরুল হক শহীদ হন। তাঁর মৃত্যুর সঠিক সংবাদ প্রথমে আমরা পেয়েছিলাম অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজীর কাছ থেকে। সার্জন ফজলুল হক গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় ক্যান্টনমেন্টে আটক ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়া-আসার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে যেতেন। এভাবে চাকরি অব্যাহত রেখে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালেও ডা. জোহরা বেগম কাজী মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। আমি এই মহীয়সী চিকিৎসাবিজ্ঞানীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

সড়ক দুর্ঘটনা এবং আমরা by মোহাম্মদ গোলাম মাওলা

সড়ক দুর্ঘটনা হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া বিগত ৬০ বছরে একই রকম রয়ে গেছে। পথচারী ও সাইকেলের মধ্যে দুর্ঘটনা হলে সর্বদাই সাইকেলের দোষ, সাইকেল ও রিকশার মধ্যে হলে রিকশার দোষ, রিকশা ও মোটরসাইকেলের মধ্যে হলে মোটরসাইকেলের দোষ, মোটরসাইকেল ও কারের মধ্যে হলে কারের দোষ, কারের সঙ্গে ট্রাক বা বাসের হলে বাস বা ট্রাকেরই দোষ। আর পথচারীরা সর্বদা দোষমুক্ত। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া বা ফুটওভারব্রিজের নিচ দিয়ে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লেও দোষ সব সময় চালকের হয়ে থাকে। এ জন্য চালককে মাশুল দিতে হয়—হয় তাঁর যানটি ভাঙা হবে বা উপরি পাওনা হিসেবে পিটুনিও খেতে হবে।
তাই যেকোনো সড়কে, বিশেষ করে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে ওই যান ও এর চালকের নিস্তার নেই। তার ওপর ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে, বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হবে। যানবাহনের মালিকেরা তখন জানতেও পারবেন না, কেন তাঁদের যান ভাঙচুর করা হচ্ছে। দু-চার ডজন আহত হবেন, খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। তখন জনতার দাবি হবে—তখনই সেখানে একটা স্পিডব্রেকার বসাতে হবে। ডিসি বা ইউএনও ওই প্রতিশ্রুতি দিলে হয়তো বা তখন সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু ওই ভাঙচুরে যে জাতীয় সম্পদের ক্ষতি হলো, তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। রাস্তা বন্ধ থাকায় যে সময়ের অপচয় হলো, তার কোনো হিসাব হয় না। উল্লেখ্য, স্পিডব্রেকার যেখানে তৈরি হলো, সেই একই স্থানে যে ভবিষ্যতে আবার কোনো দুর্ঘটনা হবে না, তারও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ আমাদের সবারই প্রায় জানা আছে। মহাসড়ক, জেলা সড়ক বা অন্যান্য সড়কে সব রকম যানবাহন চলাচল করে। গরু, ছাগল, বড়-ছোট মানুষ মহাসড়ক পার হয় যেকোনো স্থান দিয়ে, যখন খুশি। রিকশা, গরুর গাড়ি, ভ্যান, নসিমন প্রভৃতি আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই স্বাধীনভাবে মহাসড়কে চলাচল করছে। আর রাজধানীতে যানবাহন চলাচল একদম ফ্রি-স্টাইলে হয়ে থাকে। রিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টো পথে চললেও কেউ তাকে বাধা দেয় না। পথচারী হঠাৎ হাত তুলে বা আঙুল দেখিয়ে রাস্তা পারাপার শুরু করে, তখন দুর্ঘটনা এড়ানোর দায়িত্ব সব সময় যানের। মুরগির খাঁচার মতো করে ভ্যান বানিয়ে তাতে স্কুলের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করানো হচ্ছে, তা রীতিমতো অমানবিক ও বিপজ্জনক। এ ছাড়া ওই ভ্যানগুলো প্রায় সময়ই রাস্তার বিপরীত দিক দিয়ে উল্টো পথেই চলাচল করছে, আর এ ব্যাপারে পুলিশ নির্বিকার। মা তাঁর সন্তানকে, আমজনতা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও ট্রাফিক আইন না মেনে উল্টোপথে রিকশায় বা মোটরসাইকেলে ফ্রি-স্টাইলে চলাচল করছেন। সবার ধারণা, আইন আমি ছাড়া অন্য সবার জন্য প্রযোজ্য।
গত ১১ আগস্ট সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত আর ১০৬ জন আহত হয়। ওই দিন কুমিল্লায় এক ইংরেজির শিক্ষক দুর্ভাগ্যজনকভাবে ট্রাকচাপায় মারা যান। ফলে তিন ঘণ্টা সড়ক ও রেলপথ উভয়ই জনগণের অবরোধের শিকার হয়। জনতা ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ঘাতক ট্রাকসহ তিনটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং নিরীহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। এর পাশাপাশি কিছুদিন আগে সরকারের দুজন সচিব চালকসহ দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। সরকারের একটি নতুন গাড়ি, যা দেশের সম্পদ, তাও নষ্ট হয়। কিন্তু এর জন্য জনগণ কোনো সড়ক বা রেলপথ অবরোধ করেনি, কোনো গাড়ি ভাঙচুর করা হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলে কোনো স্পিডব্রেকার তৈরি করার কোনো দাবিও কেউ জানায়নি। জনতার আচরণে এই বৈপরীত্য কেন, তা ভেবে দেখার অবকাশ আছে বৈকি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় দুজন সম্ভাবনাময় ছাত্র দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁদের বাবা-মায়ের ওপর যে কষ্ট ও দুঃখ নেমে আসে, তা অবর্ণনীয়। কারণ বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ দুনিয়ার সবচেয়ে ভারী বোঝা। তবে ওই ছাত্র যদি জেব্রা ক্রসিং বা ওভারব্রিজ দিয়ে পার হতেন, তবে হয়তো বা এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। প্রচলিত আইনে জেব্রা ক্রসিং ছাড়া অন্য জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনা হলে পথচারী দায়ী হবেন। আর দৌড়ে বাসে ওঠার সময় দুর্ঘটনা হলে সর্বদা যানচালককে দায়ী করা কি উচিত হবে? এ ছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুবলীগের দুই পক্ষের লড়াইয়ে এক পক্ষের নেতা নিহত হন। ফলে অপর পক্ষের লোকেরা সাড়ে তিন ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। সিরাজগঞ্জে ট্রেনের নিচে কয়েকজনের মৃত্যুর জন্য গায়েবি জানাজা ঢাকার একটি প্রধান সড়ক বন্ধ না করে, জনগণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে, কোনো মাঠে করা কি সম্ভব ছিল না?
বছরে প্রায় ১২ হাজার লোকের প্রাণহানি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক-ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনয়ন, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকসহ সব ব্যক্তিকে ত্বরিত ও যথাযথ শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হলেই কেবল এর হার কমানো যেতে পারে। সবাইকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করুন। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি, তা কথায় ও কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং এর ওপর কোনো বিক্ষোভ, সমাবেশ বা যেকোনো কার্যক্রম বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। সবাইকে এ বিষয়গুলো ভেবে যথাযথ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
মোহাম্মদ গোলাম মাওলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল।

দয়া করে ওদের রেহাই দিন by মুনির হাসান

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন আমার ছোট ভাগনির জন্ম। আমার মনে আছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বারান্দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মামাদের নানা দিকে দৌড়াদৌড়ি। আমার সেই ভাগনি চলতি বছর এইচএইসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপযুক্ত হয়েছে। ওর বয়সী হাজারো ছেলেমেয়ের মতো ওরও ইচ্ছা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। এ বছর বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোনে ভর্তির জন্য আবেদন করা সম্ভব হয়েছে। কাজেই সম্ভাব্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।
৪ নভেম্বর তার পরীক্ষা ছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েটে)। পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই চুয়েটে পরীক্ষা দিয়ে মা-মেয়ে রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে। ৫ তারিখ সকালে ঢাকায় নেমে মেয়ে গিয়েছে আইডিয়াল কলেজে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে। বিকেলে যখন তার সঙ্গে দেখা হলো, বললাম মামার বাড়ি থেকে যেতে। বলল, সম্ভব নয়। কারণ ৬ তারিখে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য থাকতে হবে সিলেটে। সেদিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা! রাত ১২টার বাসে (এবার কোনো ট্রেনের টিকিট জোগাড় করা যায়নি) মা-মেয়েকে তুলে দিয়ে এসেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট আমরা অনেক দিন ধরে দেখছি। আগে এর সঙ্গে আরও দুই কষ্ট ছিল। ছিল উদ্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ আর সেটি জমা দেওয়ার সংগ্রাম। ফরম জোগাড় করার জন্য বরগুনার একটি মেয়েকে রাজশাহী বা চট্টগ্রামে যেতে হয়েছে। গত বছর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় মোবাইল ফোনে ভর্তির আবেদন গ্রহণের পদ্ধতি চালু করে সফলভাবে। আমরা ভেবেছিলাম, সব বিশ্ববিদ্যালয় এবার এ পদ্ধতি চালু করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করবে। দু-একটি প্রস্তরযুগের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিরা এই কাজটি করেছে। শিক্ষার্থীদের মামাদের পক্ষ থেকে আমি তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। এ কারণে ফরমের জন্য অন্তত শিক্ষার্থীদের দৌড়াতে হয়নি। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার হয়রানি থেকে আমরা তাদের মুক্তি দিতে পারলাম না এবারও।
দেশে বর্তমানে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। গড়ে চারটি করে অনুষদ ধরলেও ১২৪টি পরীক্ষা নিতে হবে। আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি ইউনিট। সেখানে পরীক্ষা দিতে হলে রাজশাহী শহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়!
সাধারণত এ পরীক্ষাগুলো হয় শুক্র অথবা শনিবারে। ১২৪টি পরীক্ষা যদি কেবল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নিতে হয়, তাহলে দুই বছর লাগবে। এটি এড়ানো হয় একই দিনে নানা জায়গায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। প্রতিবছর এই সময়টায় ভর্তি-প্রত্যাশী আর তাদের অভিভাবকদের বিপুল অঙ্কের টাকা, শ্রম ও সময় নষ্ট হয় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়াতে। অথচ একটু উদ্যোগ নিলেই এই কষ্ট থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব ছিল। কেমন করে?
কয়েক বছর ধরে আমরা যা বলছি, তা কোনো নতুন বিষয় নয়। দেশের সব মেডিকেল কলেজে একটিমাত্র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যেকোনো শিক্ষার্থী ঢাকা বা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারেন। এমনকি চুয়েট, রুয়েট ও কুয়েট যখন ইনস্টিটিউট ছিল, তখনো একজন শিক্ষার্থী চট্টগ্রামে পরীক্ষা দিয়ে রাজশাহী বিআইটিতে ভর্তি হতে পারতেন। কিন্তু যখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলো, তখন তাদের আত্মসম্মানবোধ এতই প্রবল হলো যে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য তারা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নিতে শুরু করল।
দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটামুটি বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কলা, বাণিজ্য, আইন এবং বিশেষায়িত দু-একটি অনুষদ রয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইচ্ছা করলে’ সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারে। পরীক্ষার্থীর ফলাফল আর তাঁর পছন্দ অনুসারে তাঁকে ভর্তি করানো যাবে নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেমনটি প্রায় ৩০ বছর ধরে করে আসছে আমাদের দেশের মেডিকেল কলেজগুলো। আমি ‘ইচ্ছা করলে’ শব্দ দুটি কোটেশন মার্কের ভেতর রেখেছি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলেই এ কাজ করতে পারে। সব কটি প্রকৌশল বিশ্ববিদালয়ে একটি, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির জন্য একটি এবং এভাবে মাত্র সাত-আটটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যন্ত্রণার অবসান ঘটানো যায়। আমার দুঃখ হলো, ঠিক এ রকম একটি উদ্যোগ নিয়েও সেটি এবার বাস্তবায়ন করা যায়নি।
শুধু তা-ই নয়, সামনের দিনগুলোয় যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা আরও বাড়বে, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাবলীল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমেরিকা, ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে এ সমস্যার সহজ সমাধান করে ফেলেছে। যদি বিশ্বখ্যাত এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেখানে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো, তাহলে আমাদের নাজিয়া চৌধুরীর মতো সারা বিশ্বের সেরা মেধাবীরা সেখানে জড়ো হতে পারতেন না। তথ্যপ্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের এই যুগে আমাদের শিক্ষার্থীদের শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে হাজির হতে হয় ভর্তি হওয়ার জন্য; এটি ভাবলেই আমার গা কেমন যেন শিউরে ওঠে।
আমাদেরও এমন কোনো পদ্ধতির কথা ভাবতে হবে, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া হবে সহজ ও সাবলীল এবং সেখানে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
আর কাজটা শুরু করতে হবে এখনই।
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

মেক্সিকোতে বন্দুকযুদ্ধে মাদক চক্রের নেতা নিহত

মেক্সিকোতে গত শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রভাবশালী একটি মাদক চক্রের একজন নেতা নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম ইজেকুয়েল কার্ডেনাস গুইলেন। তিনি টনি টরমেনটা নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে গত দশকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। গতকাল শনিবার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানায়।
সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছে ম্যাটামরোস শহরে ওই বন্দুকযুদ্ধ হয়। কয়েক ঘণ্টার গোলাগুলিতে কার্ডেনাস (৪৮) ছাড়াও চারজন বন্দুকধারী, তিনজন মেরিন সেনা ও একজন স্থানীয় সাংবাদিক নিহত হন। অভিযানের সময় লোকজন বিপণি বিতান ও স্কুলগুলোতে আটকে পড়ে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কার্ডেনাসকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

আফগানিস্তানে আকস্মিক সফরে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরো গতকাল শনিবার আফগানিস্তানে আকস্মিক সফর করেছেন। এ সময় তিনি পশ্চিমাঞ্চলীয় কালা-আই-নও এলাকায় স্প্যানিশ সেনাঘাঁটি পরিদর্শন করেন। ২০০৪ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তানে এটা তাঁর দ্বিতীয় সফর। সফরকালে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কারমে চ্যাকন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রিনিদাদ জিমেনেজ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপাতেরো বলেন, ‘স্প্যানিশ সেনারা এখানে থাকার জন্য আসেনি। এ ছাড়া আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আফগান নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীতে (আইএসএএফ) স্পেনের দেড় হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে।

তানজানিয়ায় প্রেসিডেন্ট জাকাইয়া কিকওয়েটে পুনর্নির্বাচিত

জাকাইয়া কিকওয়েটে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত সপ্তাহে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৬১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
তবে দেশটির প্রধান বিরোধী দলের নেতা উইলিবোর্ড স্ললা ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ এনে তা পুনর্গণনার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোট গণনায় এমন কোনো অনিয়ম হয়নি, যা নির্বাচনের মূল ফলাফলকে পরিবর্তন করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট জাকাইয়া কিকওয়েটে তানজানিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তবে বিরোধীরা বলছেন, তিনি দারিদ্র্য বিস্তার রোধে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিজয়ী জাকাইয়া কিকওয়েটে দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো তানজানিয়ায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে বিস্ফোরক পাঠিয়েছিল আল-কায়েদা

ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা (একিউএপি) বলেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যবাহী বিমানে তারাই বিস্ফোরক পাঠিয়েছে। একিউএপি নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ কথা জানিয়েছে। এদিকে সন্ত্রাসী হামলার এ পরিকল্পনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিমানে বিস্ফোরক আটকের তিন সপ্তাহ আগে অক্টোবরের গোড়ার দিকে এ ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
ইয়েমেন থেকে পণ্যবাহী বিমানে করে ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিস্ফোরকভর্তি দুটি প্যাকেট পাঠানো হচ্ছিল। হোয়াইট হাউস সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমানবন্দরে সতর্কাবস্থা জারির নির্দেশ দেয়। হামলার আশঙ্কায় ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দর ও দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
বিমান হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় এর জন্য সৌদি কর্মকর্তাদের দায়ী করে একিউএপি বলেছে, ইহুদিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটি আরও বলেছে, গত সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাহী বিমান দুর্ঘটনার পেছনেও তাদের হাত রয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় দুজন ক্রু মারা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর এভাবে হামলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে।
মধ্য সেপ্টেম্বরে শিকাগো থেকে ইয়েমেনগামী বিমান থেকে বই, নথিপত্র, সিডি ও অন্য জিনিসপত্রসহ একাধিক প্যাকেট আটকের কয়েক দিন পরই পণ্যবাহী বিমানে হামলার পরিকল্পনার ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সৌদি কর্মকর্তারা। মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, সন্ত্রাসী হামলার পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব জিনিস পাঠানো হয়েছে।
একিউএপির কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) মুখপাত্র জর্জ লিটল গত শুক্রবার বলেছেন, ‘কয়েক মাস ধরে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির বিষয়ে বিদেশি বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা নানা ধরনের তথ্য পেয়েছি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যবাহী বিমান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সৌদি নাগরিক ইব্রাহিম হাসান আল-আসিরিকে এখনো আটক করা যায়নি। ইয়েমেনে পলাতক ২৮ বছরের এই যুবককে আটকে সে দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। আল-আসিরি আল-কায়েদার বোমা বিশেষজ্ঞ বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের পর আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদ্গিরণ

ফিলিপাইনে গতকাল শনিবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ছয়। ভূমিকম্পের পর দেশটির বুলুসান আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদিগরণ শুরু হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী ম্যানিলার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বুরিয়াস দ্বীপের উপকূলবর্তী এলাকা। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রচণ্ড ভূকম্পনে লোকজন ঘুম থেকে জেগে ওঠে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি অথবা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পরই ওই অঞ্চলের বুলুসান আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই নির্গত হতে শুরু করে। প্রায় ৬০০ মিটার উঁচুতে ছাই ছড়িয়ে পড়ে। ছাইয়ে আশপাশের কয়েকটি শহরের আকাশ ঢেকে গেছে। অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় কর্মকর্তারা সতর্কসংকেত শূন্য থেকে বাড়িয়ে ১ ঘোষণা করেছেন। আরও বেশি ছাই উদ্গীরিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁরা আগ্নেয়গিরির চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে লোকজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। ভারী বর্ষণের কারণে আগ্নেয়গিরি এলাকায় ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনে সর্বশেষ ১৯৯০ সালে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ওই ভূখম্পনে প্রায় আড়াই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল।

দেশের মাটিতে সমাহিত হলেন এমকিউএম নেতা ইমরান ফারুক

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) নেতা ইমরান ফারুককে গতকাল নিজ দেশে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে লন্ডন থেকে উড়োজাহাজে করে তাঁর মরদেহ করাচিতে আনা হয়।
এ উপলক্ষে করাচিজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় গতকাল করাচি মূলত অচল ছিল। বিমানবন্দরে এক হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এমকিউএমের জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের আইনপ্রণেতা হায়দার রিজভি বলেন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে করে লন্ডন থেকে ইমরান ফারুকের মরদেহ করাচি নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শরিফাবাদের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে মরদেহ এমকিউএমের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়, যা ‘নাইন জিরো’ নামে পরিচিত। সেখান থেকে জানাজার জন্য মরদেহ জিন্নাহ গ্রাউন্ডে নেওয়া হয়।কয়েক লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেয়।
এমকিউএম নেতা ও প্রাদেশিক মন্ত্রী ফয়সাল সাবজাওয়ারি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিরাপত্তার হুমকি থাকার পরও লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে লন্ডনে নিজ বাড়ির বাইরে ছুরিকাঘাতে ইমরান ফারুক নিহত হন। ১৯৯২ সালে এমকিউএমের বিরুদ্ধে সরকারের দমন অভিযান শুরু হলে এই রাজনীতিবিদ লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই বাস করছিলেন।

শ্রীলঙ্কায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য পার্ক

শ্রীলঙ্কায় এমন একটি পার্ক তৈরি হবে, যেখানে প্রেমিক জুটিরা নির্ভাবনায় মন খুলে কথা বলতে পারবে। পুলিশি হয়রানির কোনো ভয় থাকবে না। গতকাল শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়। আগামী বছর পার্লামেন্ট ভবনের কাছে একটি নদীর তীরে এই পার্ক তৈরি করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানান।
এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার দুটি শহরে প্রকাশ্যে প্রেম করার অভিযোগে শত শত জুটিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসব গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকার কিছুটা বিব্রত হয়। শ্রীলঙ্কা একটি রক্ষণশীল দেশ। সেখানে প্রকাশ্যে প্রেম করার বিষয়টিকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখা হয়।
শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল ইয়ুথ সার্ভিসেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ললিত পিয়ুম পেরেরা বলেন, এ প্রকল্পের লক্ষ্য সরল। তা হচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকাকে পরস্পরের প্রতি অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে তরুণ-তরুণী বা প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য একটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কুরুনেগালা ও মাতারা শহরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় শত শত জুটি গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
পেরেরা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া জুটির মধ্যে বাগদান হওয়া, এমনকি বিবাহিত দম্পতিও ছিলেন। এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জন্য প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আলাদা একটি পার্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পার্কে শিশুদের প্রবেশাধিকার থাকবে না। তবে তরুণ-তরুণী ছাড়াও পার্কে সব বয়সী জুটি যেতে পারবেন।

২০ বছর পর মিয়ানমারে আজ সাধারণ নির্বাচন

সামরিক জান্তাশাসিত মিয়ানমারে আজ রোববার সাধারণ নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এটা মিয়ানমারের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
আজকের নির্বাচনে সামরিক জান্তা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি), বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি (মিয়ানমার), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্সসহ (এনডিএফ) ৩৭টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পার্লামেন্টের এক হাজার ১৩৬টি আসনের জন্য তারা লড়াই করছে। মিয়ানমারে ভোটার সংখ্যা দুই কোটি ৯০ লাখ।
গৃহবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি আজকের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন না। তাঁর আইনজীবী নিয়ান উইন জানিয়েছেন, সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তিনি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না করার অজুহাতে কয়েক মাস আগে সামরিক জান্তা এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
সামরিক জান্তা আজকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান থেইন সোয়ে বলেছেন, নির্বাচন করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তাঁদের আছে। তাই এ ব্যাপারে কোনো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রদূতেরা আছেন তাঁদের দেশে। তাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ কোনো সংস্থা বা গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
জান্তা-সমর্থিত ইউএসডিপি সব আসনে প্রার্থী দিলেও বিরোধী দলগুলো প্রার্থী দিয়েছে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে। আজকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সরকার-সমর্থিত ইউএসডিপি অনেক আগাম ভোট নিয়ে নিয়েছে এবং তাদের পক্ষে ভোট দিতে ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এনডিএফসহ কয়েকটি দল। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্য তৎপর মানবাধিকার সংস্থা চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের অনুষ্ঠান পরিচালক সালাই জাউক লিং জানান, সেনারা অনেক জায়গায় নির্বাচনী কেন্দ্রকে তল্লাশি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, সৈন্যরা এভাবে ভোটারদের ওপর নজরদারি করলে তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন কী করে?
রাখাইন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টির (আরএনডিপি) চেয়ারম্যান আয়ি মাউগুং বলেছেন, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং প্রভাব বিস্তার করে ইউএসডিপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিজয়ী হয়, তাহলে তাদের মতো গণতন্ত্রমনা দলগুলো সম্মিলিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করবে।
সাবেক মন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গত এপ্রিলে গঠিত হয় ইউএসডিপি। এ দলটি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে বলে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে।
এদিকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী থেইন সেইন বলেছেন, আজকের নির্বাচন মিয়ানমারকে নতুন আলোর দিকে নিয়ে যাবে। তিনি দেশবাসীকে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এএফপি, সিএনএন ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

কনফিডেন্স সিমেন্টের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের অনুমোদন করেছে এসইসি

কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এ-সংক্রান্ত তথ্যাদি এসইসির কাছে পাঠানো হয়। এসইসি আজ রোববার অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের অনুমোদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের রেকর্ড ডেট ১৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানুষকে ক্ষুদ্রঋণের চোরাবালি থেকে বের করে আনতে হবে

দেশের ছয় কোটি দরিদ্র মানুষের মধ্যে চার কোটিই ক্ষুদ্রঋণের আওতায়। তা সত্ত্বেও ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকদের জীবনমানের তেমন কোনো উন্নতি নেই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাহলে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কী কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষকে ক্ষুদ্রঋণের মধ্যে আর আটকে রাখা যাবে না। ঋণের চোরাবালি থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে তাদের। শুধুই ঋণ গ্রাহক বানিয়ে রাখা নয়, তাদের মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে।
গতকাল শনিবার পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চার দিনব্যাপী ‘২০ বছর পূর্তি ও উন্নয়ন মেলা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পিকেএসএফ সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মেজবাহউদ্দিন আহমেদ এতে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে নিয়োজিত। এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান এত বেশি থাকার কারণেই গ্রাহকেরা একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছে। ফলে ঋণের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে গ্রাহকেরা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের উপায় নয়। এটি একটি উপকরণ মাত্র। দারিদ্র্য বিমোচনে অন্য উপকরণগুলোরও দরকার। মানব সম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তির প্রয়োগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু এসব বিষয়ে ততটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশই পিকেএসএফের। ক্ষুদ্রঋণ দরিদ্রসীমা থেকে বের করে নিয়ে আসতে না পারলেও মানুষের ভোগের সক্ষমতা ৩০ শতাংশ বাড়িয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলেন মহাজনী ঋণ এখনো চলছে। মহাজনী ব্যবস্থায় ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ সুদ দিতে হতো। ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিতে হয় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। এ হিসেবে মহাজনী ব্যবস্থা থেকে তারা ভালো।
তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সব দরিদ্রের কাছেই পিকেএসএফের কর্মসূচিগুলো পৌঁছানোর দরকার। এ জন্য অবশ্য তদারক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতি তাগিদ দেন তিনি।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণে সরল সুদ (ফ্লাট রেট) নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলে সুদ নেওয়া হচ্ছে বেশি। গ্রাহকেরা তা বুঝতে পারছেন না। কেউ কেউ সুদ নিচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও পিকেএসএফের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম সাইদুজ্জামানকে ‘আজীবন সম্মাননা পদক’ প্রদান করে পিকেএসএফ। অনুষ্ঠান শেষে এম সাইদুজ্জামানের জীবনীর ওপর একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল থেকে শুরু হওয়া চার দিনের উন্নয়ন মেলা শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার। এতে ১৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
সাতটি সেমিনার: পিকেএসএফের উন্নয়ন মেলায় সাতটি সেমিনার রয়েছে। মেলার দ্বিতীয় দিন আজ রোববার সকালে ‘বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী : বাস্তবতা ও করণীয়’ এবং বিকেলে ‘বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। কাল সকালে ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জনউন্নয়ন’, বিকেলে ‘নারী ও শিশু উন্নয়ন’ এবং সন্ধ্যায় হবে ‘বাংলাদেশ: টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ’। শেষ দিন অনুষ্ঠিত হবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন’ শীর্ষক একটি সেমিনার।

রহিমা ফুড ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

রহিমা ফুড ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রহিমা ফুড জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির কারখানা প্রাঙ্গণ উত্তর রূপসী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১৪ নভেম্বর। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৮.২২ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদ (এনএভি) ৫৭.৭৫ টাকা এবং প্রতি শেয়ারে নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪.৪৮ টাকা ঘোষণা করেছে।
মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ গত ৩০ জুন শেষ হওয় অর্থবছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তার প্রথম বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সাধারণ সভা আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় মেঘনা কমিউনিটি সেন্টার, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স-২, বরার, বাগমারা, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএম ও এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৪ নভেম্বর। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুন পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫৯ পয়সা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদ (এনএভি) ৩৪.২১ টাকা এবং প্রতি শেয়ারে নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১.২৭ টাকা ঘোষণা করেছে।

তিনটি প্ল্যান্ট উদ্বোধন করবে এমজেএল

নতুন তিনটি প্লান্ট উদ্বোধন করতে যাচ্ছে এমজেএল (মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস) বাংলাদেশ লিমিটেড। ১১ নভেম্বর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক চট্টগ্রামে নতুন স্থাপিত প্ল্যান্ট তিনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সানাউল হক এ তথ্য জানান।
নতুন প্লান্টগুলো হলো—গ্রিজ প্লান্ট, ভিসকোসিটি ইনডেক্স ইমপ্রুভার প্লান্ট ও ট্রান্সফরমার অয়েল প্ল্যান্ট।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশে বিশ্ববিখ্যাত লুব্রিকেন্টস ব্র্রান্ড মবিলের পণ্য উত্পাদন ও বাজারজাত করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ লুব অয়েল ব্লেন্ডিং প্ল্যান্ট (এলওবিপি) স্থাপন করে। নতুন প্ল্যান্ট তিনটি বর্তমানে স্থাপিত লুব অয়েল ব্লেন্ডিং প্ল্যান্টের নতুন সংযোজন। এই প্লান্টগুলোয় উত্পাদিত পণ্যগুলো আমদানি-নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রচুর বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে সাহায্য করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সানাউল হক, প্রধান প্রকৌশলী মুকুল হোসেন ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা টিপু সুলতান।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল

বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল। রাজশাহীতে জেলা পর্যায়ের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পবার বড়গাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা। বিজয়ী দলের সোহেল রানা ২টি, সাগর, মুক্তার ও আলিফ ১টি করে এবং বিজিত দলের একমাত্র গোলটি করেন কাজল। ফেনীতে ফেনী সদর টাইব্রেকারে সোনাগাজী উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নাটোরে জেলা পর্যায়ে লালপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় গোরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়েছে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নড়াইলে জেলা পর্যায়ে সদর উপজেলার গোবরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ১-০ গোলে লোহাগড়া উপজেলার পঁচাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একমাত্র গোলটি করেছেন মিরাজ।
খবরগুলো পাঠিয়েছেন: রাজশাহী প্রতিনিধি; নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী; লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ও নড়াইল প্রতিনিধি।

জাতীয় লিগে ফিরছেন তারকারা

জাতীয় দলের তারকারা চলে আসায় বর্ণহীন হয়ে পড়েছিল জাতীয় লিগ। দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় লিগে আবার সেই বর্ণ-গন্ধ ফিরে আসছে। দ্বিতীয় পর্বের দুই রাউন্ড ও ফাইনালে খেলবেন তারকা ক্রিকেটাররা। অন্তত গতকাল পর্যন্ত তেমনই জানত বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি ও ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ।
আগামীকাল থেকে ঢাকারই দুটি ভেন্যুতে, শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠে শুরু হচ্ছে জাতীয় লিগ ওয়ানডের চূড়ান্ত পর্ব। প্রথম ম্যাচে মিরপুরে ঢাকার মুখোমুখি খুলনা ও ধানমন্ডিতে মুখোমুখি বরিশাল ও রাজশাহী।
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া এই পর্বে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলছেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু টুর্নামেন্ট কমিটি আশা করছে, পরের দুই রাউন্ড ও ফাইনালে তাঁদের পাওয়া যাবে। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে ম্যানেজমেন্টের এ রকমই কথা হয়েছিল। তার পরও যদি কোচিং স্টাফ জাতীয় স্বার্থে অন্যকিছু ভাবেন, সেটা আমাদের জানাবেন। গতকাল পর্যন্ত তাঁরা অন্য কিছু জানাননি। তাই আমরা ধরেই নিচ্ছি তারকা ক্রিকেটাররা খেলবে।’ ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি থেকেও একই কথা জানানো হলো।
চার দলের এই পর্বে প্রথম পর্ব থেকে নিয়ে আসা পয়েন্টগুলো প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকবে। অর্থাৎ ঢাকা ও বরিশাল ৮ পয়েন্ট করে খাতায় নিয়ে অনেক এগিয়ে এই পর্ব শুরু করছে। বাকি দুই দল রাজশাহী ও খুলনার পয়েন্ট যথাক্রমে ৬ ও ৪।
সব মিলে ১৪ নভেম্বর মিরপুরের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে ঢাকা-বরিশাল এগিয়ে আছে। এখন দেখার পালা, রাজশাহী বা খুলনা তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে কি না।

নর্মের দোরগোড়ায় মিনহাজ-শাকিল

বাংলাদেশের দাবার জন্য আজকের দিনটি আনতে পারে একটা সুসংবাদ। আন্তর্জাতিক মাস্টার নর্ম পেয়ে যেতে পারে তরুণ মিনহাজউদ্দিন ও আবু সুফিয়ান।
সিক্স সিজনস গ্র্যান্ড মাস্টার্স দাবার শেষ রাউন্ডে আজ মিনহাজের প্রয়োজন ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার সাহজ গ্রোভারের বিপক্ষে ড্র। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে জয় চান সুফিয়ানও। কাল অষ্টম রাউন্ডে মিনহাজ-সুফিয়ান দুজনই ড্র করেছেন—মিনহাজ উজবেকিস্তানের গ্র্যান্ডমাস্টার ভাকিদভ তাহিরের সঙ্গে ও সুফিয়ান ভারতের বিতান ব্যানার্জির বিপক্ষে।
টুর্নামেন্টের শীর্ষে আছেন জিয়া (৫.৫ পয়েন্ট)। কাল তিনি হারিয়েছেন ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসানকে। দ্বিতীয় স্থানে মিনহাজ (৫)। সাড়ে চার পয়েন্ট করে নিয়ে তৃতীয় স্থানে গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ ও আবু সুফিয়ান।

আরও লজ্জার সামনে অস্ট্রেলিয়া

‘কেবলই হতাশার’। শিরোনামটি সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর। দ্য অস্ট্রেলিয়ান পুরো অবস্থা বোঝাতে বেছে নিয়েছে যন্ত্রণাদগ্ধ শেন ওয়াটসনের মুখবিকৃতি। নিচে লেখা: ‘দুর্ভাগা’। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর চোখে অস্ট্রেলিয়া খেলছে ‘এলোমেলো ক্রিকেট’।
প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হেরে যাওয়ার পর এভাবেই আরেক দফা দেশের সংবাদমাধ্যমে ধোলাই হয়েছে রিকি পন্টিংয়ের দল। আর যাদের নিয়ে এই শোরগোল, তাদের পালিয়ে বাঁচার পথ সংকীর্ণ। অস্ট্রেলিয়াকে আজই নেমে পড়তে হচ্ছে লজ্জার একটি রেকর্ডের শঙ্কা নিয়ে। আজ হারলে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সময়টার সাক্ষী হয়ে থাকবে এই দল। টানা আটটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া তাদের ইতিহাসে কখনোই হারেনি।
গত ম্যাচ শেষেই পন্টিং দলকে আড়াল করার বৃথা চেষ্টা করে বলেছিলেন, একের পর এক পরাজয়েও নাকি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, ‘যে ম্যাচগুলোয় আমরা হেরেছি, এর অনেকগুলোতেই কিন্তু জিততেও পারতাম। ম্যাচে আমাদের অবস্থা ছিল সে রকমই।’ ফলাফল যা বলছে, অস্ট্রেলিয়া ততটা খারাপ অবস্থায় নেই বলেই পন্টিংয়ের মত।
পন্টিং নিজে অবশ্য আজ থাকছেন না। দুয়ারে দাঁড়িয়ে অ্যাশেজ। অর্থহীন হয়ে পড়া এই ওয়ানডে খেলার চেয়ে শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম শ্রেণীর ম্যাচটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে। দলের নির্বাচক গ্রেগ চ্যাপেলও বলছেন, এই সিরিজের কথা ভুলে যাওয়াই ভালো। এর চেয়ে দল বরং অ্যাশেজ নিয়েই ভাবুক।
চাইলেও কি আর ব্রিসবেনের ওয়ানডে থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখতে পারছে অস্ট্রেলিয়া! বরং ‘মৃত রাবার’টিও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনা জাগায়। নিজেদের মাঠে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ এর আগে কখনোই হয়নি। টেস্টেও যে একবার এই লজ্জায় পড়তে হয়েছিল, সেটিও সেই ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমের ঘটনা।
আবারও নেতৃত্ব ফিরে পাওয়া মাইকেল ক্লার্কের কাঁধে তাই বিশাল দায়িত্ব। এই ম্যাচটা জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়া মরিয়া চেষ্টাই করবে। কিন্তু এও আশঙ্কার কথা, ক্লার্ক অধিনায়ক থাকলে দলে না আবার উল্টো গোপন বিদ্রোহ হয়। ক্লার্কির নেতৃত্ব মেনে নিতে দলের অনেকেই রাজি নয় বলে গুঞ্জন। পন্টিং অবশ্য জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে আবার ছুটি নেওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘এ ধরনের সব খবরই বানোয়াট।’
এই ঘোরতর দুঃসময়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য কিছু সুসংবাদ দিতে পারে কেবল পরিসংখ্যান। গ্যাবার এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া কখনোই শ্রীলঙ্কার কাছে হারেনি, টেস্টেও না। অধিনায়ক হিসেবে যে ক্লার্কের নেতৃত্বগুণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেটিও পরিসংখ্যান নাকচ করে দেয়। ১৭ ওয়ানডের ১২টিই জিতিয়েছেন অধিনায়ক ক্লার্ক, দলের দায়িত্ব পেলে ব্যাটিংটাও ভালো হয়ে যায় তাঁর। ৫ সেঞ্চুরির দুটোই করেছেন অধিনায়ক থাকার সময়। ব্যাটিং-গড়ও এ সময় বেড়ে হয়ে যায় ৪৮-এর মতো।

ম্যারাডোনা শেষ পর্যন্ত ইরানে

চীন নয়, এশিয়ার কোনো দলের কোচ হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকলে ডিয়েগো ম্যারাডোনা আসতে পারেন ইরানে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে নাকি তাঁকে প্রস্তাবও দিয়েছে। তিনবার বিশ্বকাপ খেলা দলটির দায়িত্ব আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি নেবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পার্সি ক্রীড়া দৈনিক খবার ভার্জেশি জানিয়েছে, আলাপ-আলোচনার জন্য গতকালই বৈঠকে বসেছিলেন ম্যারাডোনার মুখপাত্র এবং ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আলী কাফফাশিয়ান।
ইরানের সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্ক এমনিতেই বেশ ভালো। মার্কিনবিরোধী অবস্থানের কারণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক তাঁর। তাঁর সই করা একটি জার্সি ইরানের জাতীয় জাদুঘরেও রাখা আছে। তিনবারের এশিয়ান কাপজয়ী দলটির দায়িত্ব ম্যারাডোনা নিতেও পারেন। কিন্তু খবার ভার্জেশির এই খবরের সত্যতা মেলেনি কাফফাশিয়ানের মন্তব্যে। তিনি বলছে, ম্যারাডোনা ইরানে আসছেন ঠিকই, কিন্তু এটি তাঁর ব্যক্তিগত সফর। এর সঙ্গে কোচ হওয়া না-হওয়া সংক্রান্ত কিছু নেই। ম্যারাডোনাও কদিন আগে বলেছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ছাড়া কোচ হলে তিনি বেছে নেবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ কোনো দলকেই।
চাকরিবাকরি হাতে না থাকলেও ম্যারাডোনা দিব্যি আছেন বোঝাই যায়। এরই মধ্যে তাঁর রেখে যাওয়া তপ্ত সিংহাসনে বসেছেন সার্জিও বাতিস্তা। স্বাভাবিকভাবেই নতুন কোচের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরই বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ যে তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন না, এটি বাতিস্তা কীভাবে দেখেন। জবাবে বাতিস্তা দিয়েছেন কূটনৈতিক উত্তর, ‘ওর কথা শুনে আমি ব্যথা পেয়েছি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ওর ওপর আমার রাগ আছে। আমি ব্যথা পেয়েছি, কারণ ডিয়েগোকে আমি খুব ভালোবাসি।’

বন্দুক আছে, গুলি নেই

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ শ্যুটিং দলের পক্ষে পদক জেতা কঠিন। আগে কখনো পদক আসেওনি। ১২-২৭ নভেম্বর গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে তাই শ্যুটিং দলের তেমন প্রত্যাশা নেই। তবে খেলাটা শ্যুটিং বলে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সে অপ্রত্যাশিত ফল আসা অস্বাভাবিক নয়। যদিও পদক জিততে হলে কোরিয়া, চীন, ভারতের বিশ্বমানের শ্যুটারদের সঙ্গে লড়তে হবে।
পদকের লড়াই তখনই করা সম্ভব, যখন একটা দল নির্ভার হয়ে খেলতে পারে। বাংলাদেশ শ্যুটিং দল কিন্তু নির্ভার হয়ে গুয়াংজু যেতে পারছে না। বরাবরের মতো গুলির সংকট নিয়েই যেতে হচ্ছে এই গেমসেও।
বাংলাদেশ খেলবে ১১টি ইভেন্টে (রাইফেল ও পিস্তল)। নিয়ম অনুযায়ী অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সব গুলিই নিজেদের। দরকার প্রায় ১১ হাজার গুলি কিন্তু শ্যুটিং ফেডারেশনের হাতে আছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার গুলি!
এতেও দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না। গুয়াংজু গিয়ে গুলি কেনা যাবে। গত মাসেই শেষ হওয়া কমনওয়েলথ গেমসেও বাংলাদেশ গুলি কিনেছিল দিল্লি গিয়ে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনই (বিওএ) তা কিনে দিয়েছিল। এবারও গুয়াংজুতে গুলি কিনে দেওয়ার কথা বিওএর।
তবে গুয়াংজু গিয়ে গুলি কেনার ব্যাপারে বিওএতে ফাইল চালাচালি করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে শ্যুটিং ফেডারেশন। আদৌ গুলি কেনা হবে কি না, নিশ্চিত নয় ফেডারেশন। আর গুলি কেনা না হলে গুয়াংজুতে বেড়ানো ছাড়া কোনো কাজ থাকবে না শ্যুটারদের!
শ্যুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বলছেন, ‘গত মাসের ৪ তারিখ বিওএকে চিঠি দিই আমরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি শেফ দ্য মিশন আমাদের আশ্বস্ত করলেও শেষ সময়ে জানতে পেরেছি, বিওএ গুলি কিনে দেবে না। এ অবস্থায় ফেডারেশনের টাকায় হয়তো কিনতে হবে। কিন্তু শেষ সময়ে কেন আমরা জানব বিওএ গুলি দিতে পারবে না? এভাবে চললে খেলাধুলার আর দরকার কী!’
বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলছেন ভিন্ন কথা, ‘শ্যুটিং ফেডারেশন ঠিকভাবে যোগাযোগ করে না। সমস্যাটা তাদেরই। তার পরও শেফ দ্য মিশন যেহেতু শ্যুটিং ফেডারেশনের সভাপতি, একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। গুলির জন্য প্রতিযোগিতা আটকে থাকবে না।’
শেষ পর্যন্ত হয়তো গুলি কেনা হবে। তবে এত বড় একটা গেমসে যাওয়ার আগে গুলি নিয়ে ফেডারেশন-বিওএ উতোর-চাপান অশনিসংকেতই দিচ্ছে। শ্যুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘সরকারের কাছে দিনের পর দিন ধরণা দিয়েও গুলি আমদানির অনুমতি মিলছে না। ফেডারেশন অসহায় হয়ে পড়েছে। এভাবে শ্যুটিং চলতে পারে না।’
চীনে গুলি কিনে যদি উদ্বৃত্ত থাকে কিছু, সেগুলো আনা যাবে কিনা নিশ্চিত নয়। তবে কমনওয়েলথে বেঁচে যাওয়া গুলি রেখে আসতে হয়েছে। পুনরায় রপ্তানি করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। এটাও বড় সমস্যা।
বর্তমানে যেভাবে শ্যুটিং চলছে, তা দেখে শ্যুটিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিজ্ঞ শ্যুটার সাবরিনা সুলতানা, ‘ভবিষ্যতে কীভাবে অনুশীলন করব, এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এখন একটা গেমসে যাওয়ার সময়ই যদি গুলির চিন্তা করতে হয়, তাহলে আর তো কিছু বলার থাকে না।’

এই লড়াই একটা প্রেরণাও

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঝমাঠে কাল ছক্কা মারার অনুশীলন চলছিল। তামিম ইকবাল প্রায় প্রেসবক্সে পাঠিয়ে দিলেন একটা বল। উইকেটের পাশ থেকে শাহরিয়ার নাফীসের চিৎকার, ‘শাবাশ, শাবাশ!’
এই চিৎকার শুনে কে বলবে, ওপেনিংয়ে শাহরিয়ার-তামিম পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী! না, অনুশীলনে দলের ২৫ খেলোয়াড়ের যে সম্পর্ক, তা দেখে কিছু অনুমান করার জো নেই। তবে ভেতরে ভেতরে যে লড়াইটা চলছে তা খুব ইতিবাচক। লড়াইটা পেসারদের মধ্যে আছে, স্পিনারদের মধ্যে আছে; কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি লড়াই চলছে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।
সর্বশেষ জাতীয় দলে যাঁরা খেলেছেন, তাঁরা রানে আছেন। জাতীয় লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা রান করেছেন, আবার বাইরে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও রান করছেন। এ কথা নিশ্চিন্তে বলা যায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য দল করাটা নির্বাচকদের জন্য কঠিন একটা কাজ হবে।
অন্তত জহুরুল ইসলামের কথায় মনে হলো নির্বাচকদের এই মধুর সমস্যা উপহার দিয়ে তিনি খুশি, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের যে কাজ করা দরকার, সেটা আমরা করতে পারছি। এখন দলে কে থাকবে, না থাকবে সেটা ঠিক করা নির্বাচকদের কাজ।’
গত যুক্তরাজ্য সফরের ওয়ানডেতে চল্লিশের ঘরে দুটি ইনিংস খেলেও জহুরুলের একাদশে ঠাঁই হচ্ছে না। এটি কঠিন হয়ে উঠেছে তাঁর ব্যাটিং পজিশনের কারণেই। এমনিতে জহুরুল ওপেনার, ইদানীং ৩ নম্বরে পাঠানো হচ্ছিল। সেখানেও এখন জায়গা মেলা ভার। কারণ প্রথম তিনটি পজিশনের জন্য এখন লড়ছেন ৫ জন ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান—তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফীস, ইমরুল কায়েস, জহুরুল ইসলাম ও জুনায়েদ সিদ্দিক।
এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত একাদশে জায়গা কাদের হবে, সেটা পরের কথা। তবে লড়াইটাকে দারুণ স্বাস্থ্যকর বলে মনে করছেন তামিম, ‘আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা দারুণ ব্যাপার। ভেতরে-বাইরে নিজেদের ওপর এ রকম যত চাপ থাকবে, দলের জন্য ততই ভালো।’
সবার মুখেই প্রায় একই সুর। বড় বড় দলের খেলোয়াড়েরাও কথা বলেন এই সুরে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ব্যাপারটা নতুন। জুনায়েদ সিদ্দিক বলছিলেন, নতুন এই ব্যাপারটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির স্মারক।
শাহরিয়ার অবশ্য এখানে একটা পাদটীকা যোগ করছেন, ‘আমার জন্য ব্যাপারটা নতুন নয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি জাভেদ ভাই, নাফিস ইকবালদের সঙ্গে লড়াই করেছি। পরে কিছুদিন স্থিতিশীল থাকলেও বছর দুই ধরে তো লড়াই করেই যাচ্ছি।’
ব্যাটিংয়ে এরপরের তিনটি পজিশনের মধ্যে ৫ ও ৬-এ সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের আপাতত কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। চারে চ্যালেঞ্জ আছে জাতীয় লিগে দারুণ খেলা রকিবুল হাসানের। এখানে ফেরার জন্য দারুণ লড়াই করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ওপরের দিকের লড়াকুরাও চোখ রাঙাচ্ছেন এটা ছিনিয়ে নিতে।
রকিবুল অবশ্য এসব ‘চ্যালেঞ্জ-ট্যালেঞ্জ’ নিয়ে আপাতত মাথা ঘামাচ্ছেন না, ‘আমার কাজ যত বেশি সম্ভব রান করা। আমি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাকিটা তো আমার হাতে নেই।’ প্রায় একই কথা বলছেন নাঈম ইসলামদেরও।
লেট-মিডল অর্ডারে স্পিনিং অলরাউন্ডারের দুটি পজিশনের জন্য লড়ছেন নাঈম ইসলাম, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ও মাহমুদউল্লাহ। তিনজনই বলার মতো পারফরম্যান্স করছেন। তার পরও কাউকে না কাউকে বাইরে থাকতে হবে!
তাতে নাকি এঁরা হতাশ নন। তেমনই বলছিলেন নাঈম, ‘হতাশ হলে তো খেলায় প্রভাব পড়বে। এ রকম প্রতিযোগিতা বরং আমাদের আরও ভালো করতে উৎসাহ দেয়।’
নাঈমের কথা শুনে মনে হয়, আসলেই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এই কি সেই নিউজিল্যান্ড

একজনের কাছে টেস্ট জগত পুরোটাই অচেনা, প্রায় অচেনা হয়ে পড়ছিল আরেকজনের কাছেও। কেন উইলিয়ামসনের এটি অভিষেক টেস্ট, জেসি রাইডার তাঁর ১১ টেস্টের শেষটি খেলেছিলেন ১৪ মাস আগে। কাল এই দুজন মিলেই অনেক দিন পর নিউজিল্যান্ডকে এনে দিলেন হাসির উপলক্ষ। দুজনের চোয়ালবদ্ধ ব্যাটিংয়ে আহমেদাবাদ টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। সারা দিনে উইকেট পড়েছে মাত্র তিনটি, লিড নেওয়াটাকেও এখন আর অসম্ভব মনে হচ্ছে না।
পঞ্চম উইকেটে রাইডার-উইলিয়ামসন গড়েছেন ১৯৪ রানের জুটি। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটে এর চেয়ে বড় জুটি আছে কেবল একটিই, ২০০০ সালে ওয়েলিংটনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২২ রানের জুটি গড়েছিলেন নাথান অ্যাস্টল ও ক্রেইগ ম্যাকমিলান। রাইডার-উইলিয়ামসনের জুটিটা লড়াইয়ে ফেরানোর চেয়েও আরেকটা বড় কাজ করেছে নিউজিল্যান্ডের জন্য, জুগিয়েছে আত্মবিশ্বাস। বাংলাদেশ-বিপর্যয়ের পর যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, কিউইরা এই বিশ্বাসটা পেয়েছে ভারতের কন্ডিশনে ভারতের স্পিনারদের খেলা অসম্ভব নয়।
দিনের শেষ ওভারে রাইডার আউট না হলে কিউইদের হাসিটা চওড়া থাকত আরও। তবে গোধূলিবেলায় আউট হওয়ার হতাশার চেয়ে তার আগে যা করেছেন, সেই তৃপ্তিতেই বেশি আচ্ছন্ন থাকবেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে নেমে সেঞ্চুরি পেয়েছেন বলেই শুধু নয়, রান পেলেন যে নিজের ও দলের বড় প্রয়োজনের সময়! কনুইয়ের চোট তাঁকে দীর্ঘদিন রেখেছিল দলের বাইরে, কিন্তু ‘খবর’ হয়েছেন অনেকবার। যথারীতি নেতিবাচক সব কারণে। বিরুদ্ধ স্রোতে চলার অভ্যাস তাঁর সব সময়ই। যে যুগে আর সবকিছুর আগে ফিটনেস, সেখানে আশ্চর্য ব্যতিক্রম হয়ে বয়ে চলেছেন ইনজামাম-উল হকের অলস সৌন্দর্যের ধারা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী বিতর্ক। ‘আমিই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট’—মাতাল অবস্থায় দেওয়া তাঁর এই ‘বাণী’ অমর হয়ে গেছে ক্রিকেট ইতিহাসেই। শৃঙ্খলা ভঙ্গের হাজারো ঘটনার পরও পার পেয়ে গেছেন বারবার। কেন, তাঁর একটা নমুনা দেখালেন কাল—প্রতিভা, সামর্থ্য আর পারফরম্যান্স।
সেঞ্চুরি করেছেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বল খেলেছেন ২০৫টি। নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক মানসিকতাকে খোলসবন্দী করে রেখেছিলেন পরিস্থিতির দাবি মেটাতে। তৃতীয় উইকেটে ১০৪ রানের জুটি গড়ার পর ম্যাককালাম-টেলর ফিরে যান ৬ রানের ব্যবধানে। পরিস্থিতি চাইছিল বড় একটা জুটি। পঞ্চম উইকেটে উইলিয়ামসনকে নিয়ে সেই দাবি মিটিয়েছেন রাইডার, জুটিতে দুজনে উইকেটে কাটিয়ে দিয়েছেন ৬৮.১ ওভার। শ্রীশান্তকে দারুণ এক কভার ড্রাইভে ৪ মেরে শতক ছোঁয়ার পরের বলেই এলবিডব্লু হয়ে যান রাইডার। এই নিয়ে তিন টেস্ট সেঞ্চুরির সবগুলোই করলেন ভারতের বিপক্ষে। কালকের ইনিংসটির জন্য অবশ্য কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন রাহুল দ্রাবিড়ের কাছে, ১১ রানে তাঁর সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন দ্রাবিড়।
কঠিন একটা পরীক্ষা ছিল উইলিয়ামসনেরও। টানা দুই ম্যাচে শূন্য করে ওয়ানডে অভিষেক। বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র সেঞ্চুরিটি করে সামর্থ্য কিছুটা প্রমাণ করেছেন। তবে টেস্ট অভিষেকের সময় ওয়ানডে অভিষেকের স্মৃতি তাঁর মনে না পড়ে পারেই না! কাল শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। একপর্যায়ে উইকেটকিপারসহ সাতজন ফিল্ডার ঘিরে ছিলেন তাঁকে। কিন্তু চিড় ধরেনি মনঃসংযোগে। নিউজিল্যান্ডের ‘মাইকেল ক্লার্ক’ এখন দাঁড়িয়ে ক্লার্কের মতোই এক কীর্তি গড়ার সামনে। অভিষেকেই ভারতের মাটিতে সেঞ্চুরি!

‘ছোটরা’ই ঘর গোছাল আগে

কয়েক বছর আগে হলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই বিকেলটা মুখর হয়ে উঠত ঢোল, বাঁশির শব্দে। কিন্তু গতকাল ড্রিল মেশিনের ঘড় ঘড়, আর হাতুড়ির ঠক ঠক শব্দ ছাপিয়ে আর কিছু শোনা গেল না। প্রায় নিভৃতে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ততোধিক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম দিনের দলবদল শেষ হলো।
প্রথম দিন অবশ্য বড় দুই দল আবাহনী-মোহামেডান নতুন মৌসুমের দল নিয়ে আসেনি। মোহামেডান আজ ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের তুলে ধরবে সবার সামনে। মাশরাফি বিন মুর্তজার আবাহনীও আজ শেষ দিনে সারবে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা।
আবদুর রাজ্জাক, আফতাব আহমেদ, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের দল বদলানোই ছিল কালকের বড় খবর। রাজ্জাক ও সোহরাওয়ার্দী গাজী ট্যাংক ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন সূর্যতরুণে। আফতাব আহমেদ মোহামেডান ছেড়ে ঠিকানা বানিয়েছেন ওল্ড ডিওএইচএসকে। মোহামেডান থেকে ক্রিকেট কোচিং স্কুলে (সিসিএসে) যোগ দিয়েছেন আশরাফুল।
মোহামেডানের মতো বড় ক্লাব ছেড়ে সিসিএসে এসে একটু মনঃক্ষুণ্ন আশরাফুল। তিনি মানছেন, জাতীয় দলে অধারাবাহিক থাকায় বড় ক্লাবগুলো তাঁকে নিয়ে খুব আগ্রহ দেখায়নি। তবে নতুন দল সিসিএসকে নিয়েই আশায় বুক বাঁধছেন, ‘এটা ঠিক আবাহনী-মোহামেডানের মতো ক্লাবে খেলার অনুভূতি আলাদা। তবে সিসিএসও এবার অনেক ভালো দল করেছে। আশা করি, এই দল নিয়েই আমরা লড়াই করব।’
দলের পুরোনো খেলোয়াড়দের রেখে দেওয়া ছাড়াও ভিক্টোরিয়া থেকে শুভাগত হোম চৌধুরী ও অমিত মজুমদার বা আবাহনী থেকে রবিউল ইসলামকে দলে ভিড়িয়ে আসলেই ভালো দল করেছে সিসিএস।
তবে কাল এ দলটি বেশি আলোচনায় এল ক্লাবের নতুন সভাপতির কারণেও! কে এই সভাপতি? বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক, সাবেক জাতীয় দল নির্বাচক নাঈমুর রহমান!
আরও একবার মাঝারি শক্তির দল গড়া নিশ্চিত করেছে সূর্যতরুণ ক্লাব। জাতীয় দলের দুই বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাক ও সোহরাওয়ার্দী তো আছেনই; মোহামেডান থেকে দলে এসেছেন পেসার সাজেদুল ইসলামও।
রাজ্জাকের ধারণা, সূর্যতরুণ বা সিসিএসের মতো এই দলগুলো এবারের প্রিমিয়ার লিগকে খুব ভারসাম্যপূর্ণ করবে, ‘ছোট দল বলে পরিচিত দলগুলোই কিন্তু ভালো করল। এবার কোনো দলকে আর খুব বেশি বড় দল বলা যাবে না, কোনো দল ছোটও না।’
এ ব্যাপারে একমত বাংলাদেশ বিমানের মুশফিকুর রহিমও। মুশফিকুর দল বদলাননি। মোটামুটি ঘর অক্ষত রেখেই দলবদল শেষ করেছে বিমান। তিন ক্রিকেটার দল ছেড়েছেন, কাল ডলার মাহমুদসহ দুজনকে দলে টেনে কাজ সেরে ফেলেছে বিমান।
বিমানকে এবার শিরোপা জেতাতে চান মুশফিকুর, ‘গতবার খুব ভালো লড়াই করেও রানার্সআপ হতে হয়েছে আমাদের। এবার আশা করি চ্যাম্পিয়নই হব।’ শফিউল ইসলাম, মুশফিকুর ও জহুরুল ইসলাম; তিন পুলের ক্রিকেটারসহ বিমানে আগে থেকেই আছেন সানোয়ার হোসেন, তুষার ইমরানরা।
কাল প্রথম দিনেই ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, বিকেএসপি, কলাবাগান, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং, ডিওএইচএস দল গুছিয়ে ফেলেছে। কলাবাগান জাতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শরীফকে এনেছে ভিক্টোরিয়া থেকে। আর ডিওএইচএসের আকর্ষণ নিঃসন্দেহে আফতাব।
আফতাবের কাছে এই প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্ব কতখানি সে আর বলে দিতে হয় না। গুরুত্বটা নিজেও বুঝছেন আফতাব, ‘বিশ্বকাপের আগে এই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সবার জন্যই মহা গুরুত্বপূর্ণ। আমার ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে রাখতে গেলে এখানে ভালো করতেই হবে।’

‘এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের ফুটবলের ভালো অভিজ্ঞতা’

‘দেশাত্মবোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খেললে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভালো ফলাফল সম্ভব’—বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলামের এ অভিমতই আজ গুয়াংজু এশিয়ান গেমস ফুটবলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার মূল অনুপ্রেরণা হতে পারে বাংলাদেশের। নয়তো ফিফা র‌্যাঙ্কিংযের ৯৬তম স্থানে থাকা উজবেকদের বিপক্ষে মাঠে নামাটা ১৫০তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটু বাড়াবাড়িই হয়ে যায়। আসলাম খেলোয়াড়দের ‘ভালো ফলাফলের’ জন্য দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হতে বলেছেন। তবে এই ভালো ফলাফলটা কী, সে ব্যাপারটি নিয়ে অবশ্য খোলাসা করেননি তিনি। বাংলাদেশের হয়ে কোনো একক খেলোয়াড় হিসেবে পরপর চারটি এশিয়াড খেলা এ কিংবদন্তিতুল্য স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলাটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ভালো। প্রচণ্ড শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যত বেশি খেলা যাবে, ততই দল ও খেলোয়াড়েরা মানসিক দিক দিয়ে শক্ত হতে থাকবে।’
বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটার সময় (স্থানীয় সময় চারটা) ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ শিবিরের অবস্থা কিন্তু তেমন আশাপ্রদ নয়। ক্রোয়াট কোচ রবার্ট রুবচিচ যতই বলুন, তিনি উজবেকদের ভয় পাচ্ছেন না। তার পরও সন্দেহটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। সন্দেহের মূল কারণ, খেলোয়াড়দের ইনজুরি ও অসুস্থতা। দলের অধিনায়ক আমিনুল হক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে গেমস ভিলেজে শয্যাশায়ী। ওয়ালি ফয়সালের মতো পরীক্ষিত ডিফেন্ডার ইনজুরিতে ভুগছেন। কিছুদিন আগেই ফেডারেশন কাপে খেলা আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে ইনজুরি-আক্রান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে গুয়াংজু যাওয়াটা একদমই মেনে নিতে পারছেন না সাবেক ফুটবলার আসলাম। তিনি বলেন, ‘ইনজুরি-আক্রান্ত খেলোয়াড়দের পরিবর্তে নতুন সম্ভাবনাময় কয়েকজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিলে দেশের ফুটবলেরই লাভ হতো। তরুণ কয়েকজন খেলোয়াড় এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা নিতে পারত।’
আগেই বলা হয়েছে, আসলাম আজকের ম্যাচে দেশাত্মবোধকেই খেলোয়াড়দের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন। এ ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামতাম, নিজের মধ্য থেকেই ভালো খেলার একটা তাড়না অনুভব করতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি খেলোয়াড় যদি এমন মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে, তাহলে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, পারফরম্যান্সে নিজেদের উতরে যাওয়া সম্ভব।’ তিনি আশা করেন, আজ এশিয়ান গেমস ফুটবলের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ঠিক এমন মনোভাব নিয়েই মাঠে নামবেন।
বাংলাদেশ এশিয়ান গেমস ফুটবলে ভালো করুক, তা চান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম ইকবালও। বর্তমানে কোচ হিসেবে ব্রাদার্সের দায়িত্বে থাকা সাবেক এ তারকা মনে করেন, ‘এশিয়াডে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের দলটি খুব একটা খারাপ নয়। তবে এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা ও দলগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকাটাই দলকে ভোগাতে পারে।’
ওয়াসিমের খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতির পাতায় এখনো ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়াড জ্বলজ্বল করছে। তাঁর মতে, ‘১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ফলাফল ভালো ছিল। আমরা সেবার দুর্দান্ত খেলেছিলাম। মালয়েশিয়াকে হারিয়েছিলাম ২-১ গোলে। চীনের মতো দল আমাদের বিরুদ্ধে জিততে ঘাম ঝরিয়েছিল। ওরা জিতেছিল ন্যূনতম ব্যবধানে।’ তবে সেবারই পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে ভারতের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ার স্মৃতি এখনো পোড়ায় ওয়াসিমকে।
ওয়াসিম মনে করেন, এবারের এশিয়াডে উজবেকিস্তান ও আমিরাতের বিপক্ষে ফলাফল যা-ই হোক না কেন, হংকংকে বাংলাদেশের হারানো উচিত। কারণ, এই হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাঙ্কিংযের ব্যবধান খুব বেশি নয়।
স্মৃতি হাতরে ওয়াসিম বললেন, ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়েছিল। তার পরও সেবার নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গোল করেছিলেন আসলাম। সেবার বাংলাদেশের গ্রুপে কুয়েত, ইরান ও জাপানের মতো দলগুলো ছিল। ওয়াসিম মনে করেন, এখনকার তুলনায় সে সময় কুয়েত, ইরান ও জাপানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা অনেক বেশি শক্ত ছিল। তবে বাংলাদেশের ফুটবলের মানও একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজকের ম্যাচে আমিনুলের খেলা না-খেলা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খুব একটা পার্থক্য তৈরি করবে না বলে মনে করেন ওয়াসিম।
দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেণ্ডার কায়সার হামিদও মনে করেন, ‘এশিয়ান গেমসে খেলাটা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য চমত্কার এক অভিজ্ঞতা।’ তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন, মৌসুমের শুরুতে অথবা মাঝখানে জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে গেলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল থাকেন। দেশের হয়ে খেলতে নামলে এ ধরনের মনোভাব খুবই অন্যায় বলে মনে করেন তিনি। তিনি আশা করেন, আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলোয়াড়েরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে নিজেদের উজার করে দেবেন। তিনি আরো বলেন, ‘এমনিতেই বাংলাদেশের ফুটবলাররা এশিয়ার সেরা দল গুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায় না। তাই এশিয়ান গেমস উজবেকিস্তান ও আমিরাতের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলা, দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক। কায়সার আশা প্রকাশ করেন, এবারের এশিয়াডে বাংলাদেশ ভালো খেলবে। তিনি মনে করেন, সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেললে উজবেকিস্তান ও আমিরাতের বিপক্ষে ড্র করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশ হংকংকে হারাবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
জাতীয় দলের আরেক সাবেক স্ট্রাইকার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিবও মনে করেন, হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের জেতা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘উজবেকিস্তান অনেক ভালো দল। তার ওপর ইনজুরি সমস্যা দলকে বেশ ভোগাবে।’ দেশসেরা গোলরক্ষক আমিনুল আজ খেলতে না পারলে খুব চিন্তার কারণ হবে বলে তিনি মনে করেন। ১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে নিজের খেলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেবার আমরা সৌদি আরব ও জাপানের বিপক্ষে খেলেছিলাম। সে সময় জাপান ফুটবলে এতটা এগিয়ে যায়নি। মাঠে নামার আগেও জাপানকে কিছুটা “আন্ডারএস্টিমেট” করেছিলাম আমরা।’ নকিব আরও বলেন, ‘মাঠে নেমেই বুঝতে পারি, ফুটবলে উঠে আসছে দেশটি। সেবারই কাজুইউশো মিউরার মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার।’ ফুটবলে উন্নতি করতে হলে এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার বিকল্প নেই বলে মনে করেন নকিব। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের ফল যা-ই হোক, উজবেকিস্তান ও আমিরাতের মতো দেশের বিপক্ষে খেলতে নামা বাংলাদেশের ফুটবলকেই সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।

পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটারকে জরিমানা

দেরি করে হোটেলে ফেরার অভিযোগে পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটারকে জরিমানা করেছে সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলতি একদিনের সিরিজে নির্দিষ্ট সময়ে হোটেলে ফিরতে ব্যর্থ হওয়ায় ওপেনার শাহজাইব হাসান, স্পিনার আবদুর রেহমান ও উইকেটরক্ষক জুলকারনাইন হায়দার প্রত্যেককে ৫০০ দিরহাম (১৩৬ মার্কিন ডলার) করে জরিমানা গুণতে হবে।
ক্রিকইনফো জানায়, পাকিস্তান দলের ম্যানেজার ও সাবেক কোচ ইন্তেখাব আলম দুবাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বরাবরই ক্রিকেটারদের বলে এসেছি, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তার পরও রাতে পাঁচ মিনিট দেরি করে হোটেলে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। এ অপরাধে জরিমানাসহ প্রত্যেকেই কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

গল্প- 'ফাইভ স্টার' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

হঠাৎ করে একদিন অভিকে লোকজন বখাটে বলে গাল দিতে শুরু করল। তাতে অভির খুব রাগ হলো। এমন কী আর করে সে, যে তাকে এই গালটা দিতে হবে? প্রায় সন্ধ্যায় প্রাণগোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বসে সে আড্ডা মারে মনির, কিসলু আর রতনের সঙ্গে।

আড্ডায় সে বিস্তর রাজা-উজির মারে। কিন্তু সে রকম আড্ডা আর রাজা-উজির তো সবাই মারে। সে জন্য কেন তাকে বখাটে বলতে হবে? ঠিক আছে, সে না হয় সিগারেট খায়। একটা সময় ছিল যখন মুরবি্ব দেখলে টেবিলের নিচে লুকিয়ে ফেলত সিগারেট ধরা হাত, এখন না হয় আর লুকায় না, এখন না হয় একটু শিসটিসও মারে সে, অথবা দু-একটি অভব্য কমেন্ট ছুড়ে দেয় কারো দিকে।

গল্প- 'নূরে হাফসা কোথায় যাচ্ছে?' by আন্দালিব রাশদী

আসমাউল হুসনার বয়স এখনো চার বছর হয়নি। মায়ের সঙ্গে ঘুমায় ডাবল খাটে। জাহাজের খাট। পান্থপথ ফরেন ফার্নিচার মার্ট থেকে তিন হাজার ৩০০ টাকায় কেনা।

জাজিমটাও পুরনো। কিন্তু পাতলা তোশকটা নতুন। নতুন মানে এই নয় যে এক-দেড় মাসের মধ্যে কেনা। কেনা হয়েছে, তাও প্রায় চার বছর। কেনার সময় তোশকটা নতুন ছিল, খাট আর জাজিম পুরনো। পাতলা বালিশ তিনটা। দেড় হাত মাপের কোলবালিশ একটা। পুরনো-নতুন মিলিয়ে চারটা চাদর। চাঁদরের বেলায় পুরনো মানে ব্যবহারে কিছুটা জীর্ণ। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই চাদরগুলোই বিছায়। বালিশের কভার সাদা রঙের। ব্যবহারে হলদেটে হয়ে গেছে। চাদর ও বালিশের কাপড়ের ম্যাচিং হয়নি। হবে, আগে এই দেড় রুমের বাসাটা পাল্টাক। ছোট রুম হলেও মেয়েকে তো একটা দিতে হবে।

গল্প- 'হার্মাদ ও চাঁদ' by কিন্নর রায়

মহানন্দার বুকে চাঁদ ডুবকি লাগালে চন্দ্র দেবের চেহারাও কেমন একটু যেন বদলে যেতে থাকে। জিনস প্যান্ট, জিনস জ্যাকেটের অবশ্য এত কিছু দেখার সময় নেই।

কাঁধে টাঙানো কাঁধঝোলা এই শীতের বাতাসে কেমন যেন একটু ঠকঠকিয়ে উঠতে আকাশে ঝোলা রোহিণীপতির মনে হলো, আরে বাপ রে বাপ, শীতের মহানন্দায় একটা রাতে যে সরাসর ডুব দিলাম, তাতে তো এতটুকুও ঠাণ্ডা বোধ হলো না। তাহলে কি শরীর থেকে চলে গেল সব বোধ ভাষ্যি। ছোঁয়াছুঁয়ি, উত্তেজনার যাবতীয় আগামাথা কি একটু একটু করে মুছে যেতে যেতে ক্রমশ বিলীয়মান হয়ে যায় মহাশূন্যে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে?

গল্প- 'মাটির গন্ধ' by স্বপ্নময় চক্রবর্তী

এখন কয়েকটা দিন কলেজ বন্ধ। ক্রিসমাসের ছুটি। শীতের সোনারদ্দুর আয় আয় করে একসময় খুব ডাকত আমাদের। এখন আর তেমন ডাকে না।

আসলে ইচ্ছেটাই চলে গেছে। ছেলেটা বাইরে পড়ছে। এমন একটা বিষয় নিয়ে পড়তে পাঠানো হলো, যার কোনো বাজার নেই, চাহিদা নেই। ফুড প্রসেসিং। ছেলেটা খুব বিমর্ষ গলায় ফোন করে বেঙ্গালুরু থেকে।