Saturday, May 20, 2017

সাতকানিয়ার খান বাড়ি-ঘোলাঘাট সড়ক: সংস্কার নেই ১৬ বছর, ভাঙা সড়কে গাড়ি চলে কম

প্রথম আলোঃ সড়কের স্থানে স্থানে ইট নেই। কিছু দূর অন্তর ছোট-বড় গর্ত। কিছু গর্ত কাদাপানিতে একাকার হয়ে আছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কমে গেছে গাড়ি চলাচল। এই চিত্র সাতকানিয়া উপজেলার খান বাড়ি-ঘোলাঘাট সড়কের। এওচিয়া ও কাঞ্চনা ইউনিয়নের লোকজনের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) সাতকানিয়া উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল ১৬ বছর (২০০১ সালে) আগে। ওই সময় এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোগে কাঁচা সড়কটিতে ইট বিছানো হয়। এরপর আর সংস্কারকাজ হয়নি।
স্থানীয় লোকজন জানান, আগে সড়কে মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করত। এখন বিশেষ প্রয়োজনে শুধু রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
গত ২৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের মধ্যম এওচিয়া এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে হাঁটার অবস্থাও নেই। বৃষ্টির পানি থেকে সৃষ্ট কাদায় মোটরসাইকেল ও রিকশা আটকে যাচ্ছে। কাদা মাড়িয়ে চলাচল করছে স্থানীয় লোকজন। একই অবস্থা খানবাড়ি ও বকশির খীল এলাকায়ও।
এক ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে অবস্থান করে দেখা গেছে, এই সময়ে মাত্র একটি রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল সড়ক পাড়ি দিয়েছে।
খানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দীন (৪৬) বলেন, সড়কের শুরু ও শেষের দিকে কিছুটা ভালো। মাঝামাঝি দুই কিলোমিটার এলাকায় হেঁটে চলাচল করাও দায়। সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে এওচিয়া ও কাঞ্চনা ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে।
পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা এলাকার কৃষক বাদশা মিয়া (৫৫) বলেন, সড়কের আশপাশের অধিকাংশ বাসিন্দাই কৃষক। বেহাল অবস্থার কারণে উৎপাদিত পণ্য দূরের বিকল্প সড়ক দিয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এর ফলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
রিকশাচালক মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা (৪০) বলেন, সড়কটি দিয়ে এখন গাড়ি চালাতেই ইচ্ছে করে না। গর্তে পড়ে প্রায় সময় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে তিনি সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটি ওই এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী অর্থবছরে পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হবে।

সাক্ষ্য দেবেন কোমি, ফেঁসে যেতে পারেন ট্রাম্প

সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমি মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন। এদিকে ট্রাম্প নির্বাচনকালে রাশিয়ার সাথে তার শিবিরের সম্ভাব্য আঁতাতের ওপর ব্যুরোর তদন্তকে কেন্দ্র করেই মূলত কোমিকে বরখাস্ত করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে কোমিকে বরখাস্তের পর তিনি এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এবার তিনি মুখ খুলতে রাজি হয়েছেন। আগামী ২৯ মে মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির পর সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির উন্মুক্ত অধিবেশনে কোমি রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য আঁতাতের বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন। তবে সাক্ষ্যদানের দিনক্ষণ এখনও ঠিক করা হয়নি। এক বিবৃতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান রিচার্ড বার বলেন, আশা করি কোমি আমেরিকান জনগণের কাছে সাম্প্রতিক বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা দেবেন, যেসব বিষয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য : আবুল মকসুদ

সারা দেশের সড়ক পরিবহন সেক্টরে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণেই আজ এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনে ‘যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন সংকট ও ভাড়া-সন্ত্রাস রোধে উদ্বিগ্ন নাগরিকদের মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আবুল মকসুদ এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনে যে নৈরাজ্য চলছে, তা ঠেকাতে প্রশাসন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এক শ্রেণির মালিক ও শ্রমিক সড়ক পরিবহন খাতকে জিম্মি করে রেখেছে, তারা রাজধানীতে সিটিং, গেটলক, সময় নিয়ন্ত্রণ- ইত্যাদি নামে নগরবাসীর কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় করছে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই ভাড়া-সন্ত্রাস ঠেকাতে পারছে না। বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার পরিষদ ও সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্ট যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্টের সভাপতি মেজর (অব.) মো. মফিজুল হক সরকারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য প্রতিরোধে ২১ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন যাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তাসনীম রানা, সিটিজেন্স রাইট্স মুভমেন্টের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. এনায়েতুর রহিম, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জিব বিশ্বাস, নদী রক্ষা শপথের আহ্বায়ক জসি সিকদার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যাত্রী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা সেকেন্দার হায়াৎ। মফিজুল হক সরকার বলেন, বর্তমান সরকার নানামুখী উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। এসবের মধ্যে পরিবহন সেক্টরও রয়েছে। কিন্তু গুটিকয়েক রাজনীতিক, এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা এবং কিছুসংখ্যক মালিক ও শ্রমিক নেতার কারণে গণপরিবহন সেক্টরে প্রতাশিত সাফল্য আসেনি, বরং জনভোগান্তি বেড়েছে। এর বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে। তাসনীম রানা বলেন, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী-এমপিদের অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে বর্তমান অবস্থাকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। তিনি জনভোগান্তি লাঘবে যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান। তুষার রেহমান তাঁর লিখিত প্রবন্ধে বিআরটিএ পুনর্গঠনসহ ২১ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজধানীতে গণপরিবহনস্বল্পতা দূরীকরণে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে (বিআরটিসি) শক্তিশালী করা, বাস টার্মিনালগুলোতে চাঁদাবাজি বন্ধ, ঢাকার যানজাট নিরসনে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় বন্ধে রাজধানীতে চলাচলরত

রাজধানীতে ভাল পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ৫৬ শতাংশ নারী ঘরের বাইরে যেতে চান না

গণপরিবহন, রাস্তাঘাট, ফুটপাত, পাবলিক টয়লেট, পার্কের মতো গণপরিসরে নারীদের ব্যবহার উপযোগিতা সীমিত। নগরের কাঠামোগুলো নারী বান্ধব না হওয়ায় এই অবস্থা। ফলে শংকা, নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার ভয়ে গণপরিসর এড়িয়ে চলতে হয় নারীদের। একশনএইড বাংলাদেশের “নারী সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা” বিষয়ে এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল বলছে, ঢাকা শহরের ৫৬ শতাংশ নারী ভাল পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের বাইরে যেতে চান না। ২৬ শতাংশ নারী বলেছেন, নিরাপত্তার অভাবে তাদের পরিবার ঘরের বাইরে যেতে দেয় না। ৬১.৫ শতাংশ নারী মনে করেন, ফুটপাতগুলো যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। তাই চলাচলে সমস্যা হয়। ৯৩.৫ শতাংশ উত্তরদাতা পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন না নিরাপত্তা ও সুবিধার অভাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ নারী বলেছেন ঢাকা শহরে নেই পর্যাপ্ত পার্ক ও উদ্যোন। যাও আছে সেগুলো নিরাপদ নয় বলে মনে করেন ৪২ শতাংশ নারী।
শনিবার একশনএইড বাংলাদেশ তাদের গুলশান কার্যালয়ে ‘বিশ্ব নিরাপদ নগরী দিবস’ উপলক্ষে গবেষণাটি গণমাধ্যমের সমানে তুলে ধরে। “নারী সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা” বিষয়ে গবেষণা তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আক্তার মাহমুদ। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরে বসবাসকারী ৫৬ শতাংশ নারী ভালো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার কারণে বাইরে যেতে চান না। আবার অতিরিক্ত ভীড়ের কারণে ৫৮ শতাংশ নারী গণপরিবহনে উঠতে পারেন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীকে বাদ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা। রাজধানীর গণপরিবহন সম্পর্কে ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা যানজট নিয়ে হতাশা। ৭৮.৫ শতাংশ নারী বলেছেন বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। ২২.৫ শতাংশ নারী বাস সহকারি/চালক/সহযাত্রীর কাছ থেকে যৌন হয়রানির শিকার হন।

রাঙ্গামাটিতে শুরু হচ্ছে পুলিশের ব্লক রেইড

রাঙ্গামাটি শহরে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে শনিবার খেকে পুলিশের ব্লক রেইড শুরু হচ্ছে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাস ও ঈদকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি শহরে ব্লক রেইড শুরু করতে পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান এ নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পবিত্র রমজান মাসে আইন শৃংখলা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় পুলিশ সুপার রাঙ্গামাটি শহরে ব্লক রেইড শুরু করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)কে নির্দেশ দেন। রাঙ্গামাটির আইন শৃংখলা বজায় রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিভিন্ন পরামর্শ দেযা হয়। পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন রাঙ্গামাটি - চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিরাপদ রাখতে রাঙ্গামাটি ও কাউখালীর কয়েকটি পয়েন্টে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো হবে। এছাড়া ঈদের সময় পর্যটকের আগমন বাড়ায় তাদের চলাচল ও অবস্থান নির্বিঘœ করতে পর্যটন স্পট গুলোতে প্রয়োজনীয় ব্রবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ও ঈদের কেনাকাটায় সময় রাঙ্গামাটির সকল মার্কেট ও শপিং মলের সামনে বখাটে ও আড্ডাবাজদের তালিকা তৈরী করে এদের উপদ্রব ও ইভটিজিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায রোজার মাসে সেহেরী ,ইফতার, ও তারাবী নামাজের সময় যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘœ না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে পুলিশ সুপারকে প্রচেষ্টা নেয়ার অনুরোধ জানান সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা জানান, ঈদের কেনাকাটায় সময় শহরের মার্কেট ও শপিং মলের সামনে বখাটের অহেতুক আড্ডার কারণে মহিলারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনা কাটা করতে পারেন না। আর কোন ক্লাবে রোজার সময় কেউ যাতে মাদক বিক্রি করতে না পারে এবং বাইরে থেকে শহরে মাদক আসতে না পারে পুলিশকে সে বিষয়ে আরো তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানান তারা। এছাড়া ইদানিং রাঙ্গামাটি শহরের যত্রতত্র উচ্চস্বরে সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করার কারনে এবং শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পটকা ও আতশ বাজীর পোড়ানোর প্রবনতা বেড়েই চলেছে । এ কারণে জনগনের ভোগান্তি বেড়েছে বলে উল্লেখ করে তা বন্ধে পুলিশকে ব্যবস্তা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। পবিত্র রমজান মাসে শহরের কিছু চিহ্নিত আবাসিক হোটেল যাতে অসামাজিক চালাতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয় সভায়। পুলিশ সুপার রাঙ্গামাটি জনসাধারনের ও পর্যটকদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য যা যা করনীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সব কিছু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

নির্বাচন ও গণতন্ত্র

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার বড় একটি সময় ব্যয় হয়েছে, নির্বাচনই গণতন্ত্র- এ ধরনের অনুমান বা ধারণার আধিপত্যের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতে গিয়ে। বাংলাদেশে এ ধারণা এখনও প্রবল। যদিও আজকাল দুই-একজন এ ধারণার আধিপত্যের বিপদ কিছুটা উপলব্ধির চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের তর্ক মূলত গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গে যুক্ত হলেও সার্বজনীন ভোটাধিকার আদায়ের আলাদা ইতিহাস আছে। সেটি সামন্ত ইউরোপে মানবিক মর্যাদার স্বীকৃতি আদায়ের সঙ্গে জড়িত। সেটি রাজনৈতিক লড়াই। মানুষ স্বাধীন ও সার্বভৌম এবং নিজের ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা তার আছে, এ অনুমানও সার্বজনীন ভোটাধিকার আদায়ের ইতিহাসে ‘মানুষ’ সম্পর্কে সমাজের ধারণার ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু মেয়েদের ‘মানুষ’ হিসেবে পরিগণিত হতে পাশ্চাত্যে অনেক সময় লাগে। মেয়েদের ভোটাধিকার সহজে অর্জিত হয়নি। অতএব সার্বজনীন ভোটাধিকার এবং তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলাদাভাবে বিচার করা জরুরি। সেটি আমরা সাধারণত করি না। ফলে এর সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্বন্ধ ঠিক কোথায় সেটি আমরা জানি না। জানতেও চাই না।
সম্বন্ধের বিচার কত গুরুত্বপূর্ণ সেটি বুঝব যদি নিজেদের প্রশ্ন করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ভোটে জিতে আসার পর পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে ক্ষমতাসীনরা যদি আমাদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করে, তাহলে কি আমরা সেই শাসককে মানতে বাধ্য? যদি মানবিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়? যদি নাগরিকদের চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়? মানুষ গুম হয়ে যেতে থাকে? যদি গুম হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর লাশও খুঁজে পাওয়া না যায় কিংবা হতভাগ্যদের লাশ নদীতে ভেসে ওঠে? তাহলে কি সেই সরকার ও রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক? ধরা যাক তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন এবং তারা সর্বৈব ‘বৈধ’। তাহলে নির্বাচন ও বৈধতা দিয়ে ‘গণতন্ত্র’ আছে কী নাই তার মূল্যায়ন আদৌ সম্ভব কি? অবশ্যই না। অসম্ভব। তাহলে এ সম্বন্ধ বিচারই আসল প্রশ্ন। নির্বাচন সেই তুলনায় গৌণ দিক। কারণ নির্বাচনী গণতন্ত্র অনায়াসেই ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে পারে। ইতিহাসই তার প্রমাণ। সেটি হিটলার-মুসোলিনির ক্ষেত্রে যেমন সত্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। হতে পারে না। যে কারণে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে যখন সরকার গঠিত হয়েছিল, তখনই আমাকে বলতে হয়েছে, জনগণ ভোট দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করল। সেই ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র বোঝানোর জন্য ‘ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ’ নামে একটি পুস্তিকাও আমি প্রকাশ করেছি। ভোটের অধিকার আমাদের দরকার,
আমরা অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইব; কিন্তু গণতন্ত্র যদি না বুঝি, বিশেষত এর সঙ্গে নাগরিক ও মানবিক অধিকারের সম্বন্ধ বুঝতে অপারগ হই, তাহলে সেই অধিকার চর্চা করতে গিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাই কায়েম করব। এটাই অনিবার্য, সে কথাই আমি গত কয়েক দশক ধরে বলে আসছি। এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ভোট দিয়ে হটিয়ে অন্যদের ক্ষমতায় বসালে ‘যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন’ হবে। তারপরও নির্বাচন দরকার, কিন্তু নির্বাচন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট মোচন করতে পারবে না। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ব্যক্তি কিংবা কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধতা বা পক্ষপাতে আমার আগ্রহ নাই। আমার কাজ হচ্ছে সমাজের চিন্তা ও তৎপরতার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে সেই দিকটি যথাসাধ্য পরিচ্ছন্ন করা। আমি গণক্ষমতা তৈরি ও চর্চায় আগ্রহী, সে কারণে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আমি পূজা করি না। কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পর্যালোচনা ছাড়া এর সীমাবদ্ধতা আমরা ধরতে পারব না। সে কারণে যদি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই আমাদের কাম্য হয়, তাহলে নিদেনপক্ষে নির্বাচনের সঙ্গে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সম্বন্ধ বিচার করা দরকার। কিন্তু সেটি করতেও আমরা কখনই আগ্রহী ছিলাম না। এখনও নই। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পাহাড় জমে ওঠার পরও নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের কোনো আগ্রহ নাই। আগ্রহী না বলেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র্রব্যবস্থা অনায়াসেই কায়েম হতে পেরেছে। এর জের সহজে কাটবে বলে আমি মনে করি না। যদি আমরা কাটাতে চাই তাহলে নির্বাচনী বৈধতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সম্বন্ধ বিচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র, যা নিয়ে আমাদের সমাজে খুব কমই আলাপ-আলোচনা হয়। যদি ছিটেফোঁটা কিছু হয়ও তো নির্বাচনের জোয়ারে সেটি ভেসে যায়। এই বিপদ রুখে দেয়ার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার দিক থেকে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠার ইতিহাসের আলোকে সার্বজনীন ভোটাধিকার অর্জন ও চর্চার ইতিহাস এবং তার তাৎপর্যকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি ও তাৎপর্যের আলোচনা থেকে ভিন্নভাবে তোলা ও বোঝা দরকার। রাষ্ট্রের বিশেষ ধরন হিসেবে গণতন্ত্রের সঙ্গে নির্বাচনের সম্বন্ধ বিচার করার ক্ষমতা অর্জন খুবই জরুরি। এর মধ্য দিয়ে আমরা আসলে কী চাই তা বিমূর্ত বিষয় না হয়ে জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বিষয় হয়ে উঠবে। এখানে মনে রাখা দরকার, নির্বাচন ছাড়া আদতে বাংলাদেশে শব্দ হিসেবে গণতন্ত্র আর কোনো অর্থই বহন করে না। অথচ ‘গণতন্ত্র’ নামক ডাকনামে কে কী বোঝে এবং কী বোঝাতে চায়, তার দ্বারা আদৌ কোনো রাজনীতি গণতান্ত্রিক নাকি গণতন্ত্রের বিরোধী সেটা আমরা বুঝব। প্রহসন যে, ‘গণতন্ত্র’ এমনই এক শব্দ যা গণতন্ত্রবিরোধীরাই হরদম ব্যবহার করে। অন্যদিকে শব্দটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নিজেকে গণতন্ত্রী দাবি না করে জনগণের কাছে পৌঁছানো এখনও কঠিন।
দুই আমরা ইংরেজদের কলোনি ছিলাম, এ দেশে তাদের রাজত্বের অবসান ঘটলেও আইন, রাজনীতি, রাষ্ট্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইংরেজ সাহেবদের ধ্যানধারণাই আমরা বহন করি। যে কারণে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদীয় ব্যবস্থা কায়েম এবং পার্লামেন্টই ‘সার্বভৌম’ এটাই আমরা শিখেছি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এটাই সত্য বলে জারি রয়েছে। কিন্তু ইংরেজদের কোনো লিখিত সংবিধান নাই, আমাদের আছে। পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলার ঐতিহাসিক কারণ হচ্ছে, রাজা কিংবা গির্জার সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করেই ইংরেজদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিংবা মসজিদ বা মন্দিরের বিরুদ্ধে লড়ে গণতন্ত্র কায়েম করিনি। গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের আগ্রহ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আমাদের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে তেমনি রেখেছে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রেও। পাকিস্তানি শাসক শ্রেণী আমাদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় হিসেবে আমরা বাংলাদেশ কায়েম করেছি। আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণার তিনটি মৌলিক বিষয় ছিল, যার ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ইতিহাসের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই তিনটি বিষয় হচ্ছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বা ইনসাফ। তাহলে বাংলাদেশে পার্লামেন্টকে ‘সার্বভৌম’ বলার আরেকটি অর্থ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা ও আদর্শবিরোধী নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টকে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হতে পারে না। কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জাতীয় সংসদ গঠন করতে পারলেই সেই সংসদ দিয়ে যা খুশি আইন প্রণয়ন করার অধিকার গণতন্ত্র নয়। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতায় স্বাধীনতার ঘোষণার বিপরীতে দাঁড়ানোও জাতীয় সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতা হতে পারে না। সেটা হবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। বাংলাদেশের ইতিহাস যদি আমরা বিবেচনায় রাখি তাহলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিরোধী কোনো আইন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কায়েম করতে পারে না, কারণ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে গাঠনিক শক্তি (Constitutive power)- অর্থাৎ নিজেদের একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিগঠিত করার যে সার্বভৌম ক্ষমতার ঐতিহাসিক উদয় ঘটেছে, জাতীয় সংসদ তা অস্বীকার বা বাতিল করতে পারে না। বাতিল করার অর্থ খোদ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করা। এই তিনটি আদর্শ একইভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি। তাহলে এর বিরোধিতা করার অর্থ বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক ঐক্য নস্যাৎ করা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশকে ঠেলে দেয়া। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে জাতীয় সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের অধিকারী (legislative power), কোনোভাবেই সার্বভৌম ক্ষমতার নয়। এটাও আমাদের পরিষ্কার বুঝতে হবে, যে তিন নীতির ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তার বিপরীতে কোনো গাঠনিক ক্ষমতা (Constitutive power) জাতীয় সংসদের থাকতে পারে না। অর্থাৎ জাতীয় সংসদ এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না যা সাম্য, মানবিক মর্যাদা কিংবা ইনসাফের বিরোধী। যদি রাষ্ট্র গঠনের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তি কেউ পর্যালোচনা করতে চায় তাহলে রেফারেন্ডাম ছাড়া, অর্থাৎ জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা তলব করা ছাড়া সেটা করতে পারে না। যে তিন নীতির ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন কিংবা নাকচ করতে হলে নতুন গঠনতান্ত্রিক সভা (Constituent Assembly) ডাকতে হবে। গায়ের জোরে অনেক কিছুই করা যায়, কিন্তু ইতিহাস প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করে না। নতুন সংবিধান সভার জন্য নির্বাচন না করে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংবিধানের অধীনে নির্বাচিত প্রাদেশিক সভা ও আইনসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে যে সংবিধান প্রণয়ন করে, তাকে বাংলাদেশের সংবিধান দাবি করার পক্ষে কোনো যুক্তি নাই। কিন্তু এই সমস্যাগুলো আমরা বুঝব না যদি নির্বাচনের সঙ্গে গাঠনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার সম্বন্ধ আমরা না বুঝি। একটি সংবিধানের অধীনে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা কি ‘গাঠনিক’ ক্ষমতা, অর্থাৎ যে সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হয়েছে তাকে বদলে দেয়া বা অস্বীকার করা? নাকি শুধু সেই সংবিধানের অধীনে বিদ্যমান সংবিধান যতটুকু সীমা নির্ধারণ করে দেয়, সেই সীমার মধ্যে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা। গাঠনিক ক্ষমতা ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল। আমরা তা সততই গোলমাল করে ফেলি।
রাষ্ট্রের চরিত্র ও ভিত্তি বদলে দেয়ার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের থাকা উচিত নয়, বাংলাদেশের বাস্তবতায় থাকতে পারে না। একমাত্র জনগণই সেই গাঠনিক ক্ষমতার সরাসরি অধিকারী। মুক্তিযুদ্ধ কিংবা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একমাত্র সরাসরি গণভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি সম্পর্কে জনগণের মতামত দেয়াই বিচক্ষণ প্রক্রিয়া। ফলে একটি গৃহীত সংবিধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়নী ক্ষমতা থাকবে; কিন্তু কখনই তা গাঠনিক, অর্থাৎ আইন প্রণয়নী ক্ষমতা নতুন রাষ্ট্র বা নতুনভাবে রাষ্ট্র বানানোর ক্ষমতা হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো হুঁশ নাই, এমনকি সমাজে ন্যূনতম তর্ক-বিতর্কও নাই। যে কারণে কথিত সার্বভৌম জাতীয় সংসদ নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণকারী আইন অনায়াসেই প্রণয়ন করে, এমনকি নিজেদের ‘সার্বভৌম’ বলার মধ্য দিয়ে তা করার অধিকারী বলেও কার্যত দাবি করে। যেমন খুশি আইন প্রণয়নও করে। সেটা হোক তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিংবা পঞ্চদশ সংশোধনী। সংবিধানকে যেমন খুশি বদলিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম কোনো ব্যাপারই না। শুধু দরকার নির্বাচন এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন। নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্বন্ধ বিচার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, আশা করি উপরের আলোচনায় কিছুটা বোঝাতে পেরেছি। বিলাতেও সার্বভৌম পার্লামেন্ট একটি বিতর্কিত ধারণা। এ ক্ষেত্রে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ আলবার্ট ভেন ডাইসির মত হচ্ছে, বিলাতে পার্লামেন্ট যা খুশি আইন করতেই পারে; কিন্তু এমন কোনো আইন করতে পারে না যা পার্লামেন্ট বদলাতে পারে না। বোঝা যাচ্ছে ডাইসি পার্লামেন্টকে ব্রিটেনের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্বল করতে চান না, কিন্তু তার ক্ষমতার সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়ার পক্ষপাতী। এমন কোনো আইন পার্লামেন্ট করতে পারে না, যা পরের পার্লামেন্ট বাতিল করতে না পারে। বাংলাদেশের পঞ্চদশ সংশোধনী এই মানদণ্ডে কোথায় দাঁড়ায় পাঠক তা বিচার করে দেখতে পারেন।
তিন কিন্তু গণতন্ত্র শুধু আইন প্রণয়নী ব্যাপার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থাৎ শাসনব্যবস্থারও একটি ধরন। রাষ্ট্রের দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে বুঝলে সুবিধা। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা, যে ক্ষমতাকে ‘সার্বভৌম’ গণ্য করা হয়। অন্যদিক হচ্ছে এর প্রশাসনিক বা শাসনের দিক। পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের এই কালে, অর্থাৎ যেখানে সারা দুনিয়ায় মূলত পুঁজিরই আধিপত্য বর্তমান এবং রাষ্ট্র পুঁজির পুঞ্জিভবন ও আত্মস্ফীতির উপায়মাত্র, সেখানে ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’সম্পন্ন রাষ্ট্রের ধারণা একটি চরম তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সবচেয়ে সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত দেবতাতুল্য মানুষ নিয়ে গঠিত হলেও সেই রাষ্ট্র বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কিংবা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হুকুমে চলবে। কিংবা পরিচালিত হবে বহুপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতার ভিত্তিতেই। হচ্ছেও বটে। সেখানে জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের মূল্য ততটুকুই, যতটুকু তাকে নিয়ন্ত্রণ বা শৃংখলার মধ্যে আনার জন্য ‘সুশাসন’ নামক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপযোগী ছকটা ক্ষমতাসীনরা বুঝে নিতে পারে। বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে পাল্টা গণক্ষমতা, অর্থাৎ নিজেদের ভাগ্য ও অবস্থা নিজেরা নিজে নির্ধারণ করার হিম্মত অর্জন ছাড়া জনগণের সামনে সহজ কোনো পথ নাই। অর্থাৎ বিশ্ব বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে রাষ্ট্র নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতেই হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে নতুন ধরনের রাজনীতি ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গির দরকার। একদিনে সেটা গড়ে উঠবে না। এতে হতাশ হওয়ারও কিছু নাই। কিন্তু গোড়ার প্রশ্ন তুলতে ব্যর্থ হলে, কিংবা সেই প্রশ্নের প্রতি মনোযোগী না হলে আমরা বড়জোর দেশে দেশে সস্তা শ্রমিক সরবরাহ করে ‘মধ্য আয়ের দেশ’ হওয়ার নিষ্ঠুর তামাশা করতেই পারি। কিন্তু সব কিছুরই যেমন শেষ আছে, এই তামাশারও যবনিকা হবে। নতুন চিন্তা হাওয়া থেকে জন্ম নেবে না। সমাজে বাস্তব লড়াই-সংগ্রাম থেকেই তার উদয় ঘটবে। ক্ষমতা, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রকাঠামো, সমাজ, ব্যক্তি ইত্যাদি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা করা ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের ভূমিকার বিচার অসম্ভবও বটে। কিন্তু সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা দূরে থাকুক, নির্বাচনই গণতন্ত্র এই ধারণার আধিপত্য এখনও আমাদের সমাজে রাজনীতি ও রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনাকে পক্ষাক্রান্ত করে রেখেছে।
আমার ধারণা, নির্বাচন-রাজনীতি-রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশে এখন অতীতের চেয়ে কঠিন। কারণ এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে নির্বাচনী অর্থনীতি। বাংলাদেশের লুটেরা শ্রেণী আইনি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিজেদের কুক্ষিগত রাখতে চায়। গত কয়েক দশকে লুটেরা শ্রেণীর বড় একটি অংশ টাকা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী টিকিট কেনে এবং তাদের লুটের টাকার একটা অংশ নির্বাচনে ব্যয় করে। এটা তাদের দিক থেকে বিনিয়োগ। জিততে পারলে যে ক্ষমতা তারা হাতে পায় তা তাদের আরও ধনী করে। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে লুটতরাজের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ এতে কুক্ষিগত করার একটা প্রক্রিয়া তারা গড়ে তুলেছে। কালো টাকার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যত আইনই করুক, গ্রামে গ্রামে নির্বাচন কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের সঞ্চালন ঘটে। যার কারণে কালো টাকার অর্থনীতি এবং কালো টাকার মালিকদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া জারি রাখা এখন খুবই সহজ। এই চক্র থেকে বাংলাদেশের জনগণকে বেরিয়ে আসতে হলে যে বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকা জরুরি, আমরা তা গড়ে তুলতে পারিনি। কিন্তু চিত্রপট থেকে সংকটটিকে শনাক্ত করতে পারাটাই প্রথম কাজ।
১৯ মে ২০১৭। ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। শ্যামলী।

অদ্ভুত আঁধার এক!

১৯৬২ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষক সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মো. ওসমান গণি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলেন, ‘সম্ভবত শিক্ষকতাই একমাত্র পেশা, যাকে দার্শনিক দিক থেকে যুগে যুগে গৌরবান্বিত করে তোলা হয়েছে এবং বৈষয়িক দিক থেকে করা হয়েছে চরম অবহেলা।’ আজ একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রয়াত ড. মো. ওসমান গণির এ মূল্যবান কথাগুলো আমার খুবই মনে পড়ছে। যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহ ও নির্দেশে সেসব উপজেলায় একটি করে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যানুপাত এবং বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল- এ সবকিছুর ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদনটি দেয়া হয়। সরকারিকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত বছর দফায় দফায় তালিকাভুক্ত অন্তত তিনশ’ কলেজের পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশক্রমে কলেজে কলেজে এখন চলছে ‘ডিড অব গিফট’ বা দানপত্র সম্পাদনের কাজ। বোধ করি তা-ও চলতি মে মাসেই সম্পন্ন হয়ে যাবে। এর পরই জারি হবে সরকারি আদেশ (জিও)। যে কোনো স্তরেরই হোক আমাদের দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে শত রকমের আর্থিক দৈন্যদশা, দান-অনুদান, অভাব-অভিযোগ, বৈষম্য, অনিশ্চয়তা এবং দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা। মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষা স্তরে একসঙ্গে এত অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ করা আমাদের দেশে এই প্রথম। এমন একটি মহতী উদ্যোগ ও কার্যক্রমে কেবল বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী নয়, বলা যায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সঞ্চার হয়েছে। আনন্দ-উল্লাস ও উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি সরকারীকরণের খবরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের মনেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও দুর্ভাবনাও কিন্তু দেখা দিয়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও দুর্ভাবনার প্রধান কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। এমনও নজির আছে কলেজ সরকারীকরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে ২০১৩ সালে, সরকার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পদ-সম্পত্তির দানপত্র সম্পাদন এবং সে আলোকে সরকারি আদেশও (জিও) জারি হয়েছে; অথচ আজ পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পদায়ন না হওয়ায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন হিসেবে এমপিও বাবদ প্রাপ্ত টাকাটা উত্তোলন করতে সক্ষম হলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কলেজপ্রদত্ত অংশের টাকা এক বছর ধরে উত্তোলন করতে পারছেন না। এরূপ দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তাদের মাঝে বিরাজ করছে নানা ধরনের দুর্ভাবনা।
এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৯। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি সুবিধাদিসহ ৬০ বছর এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি বেতনভাতা ছাড়া ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করতে পারেন। অনেকেরই বর্তমানে ৫৭, ৫৮ কিংবা ৫৯ বছর চলছে। সবার সঙ্গে প্রতীক্ষার প্রহর গুনলেও নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। অন্যদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর গত বছরই জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাসহ অর্থব্যয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। অনেক কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। একইভাবে উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য। আবার অনেক কলেজে একই সঙ্গে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দুটি পদই শূন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কোনোরকমে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব কারণে শিক্ষাদান ও দাফতরিক কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। আবার না সরকারি, না বেসরকারি অবস্থানে থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের মনোবলও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সরকারীকরণের তালিকাভুক্ত বহু কলেজে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাবদ বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বকেয়ার পরিমাণটি হাজার হাজার নয়, ব্যক্তিগতভাবে এক একজন শিক্ষকেরই কয়েক লাখ টাকা করে হয়ে যাবে। শত রকমের দৈন্যদশার মাঝ দিয়ে দিনাতিপাত করলেও তাদের মনে সুদৃঢ় আশা, একদিন না একদিন তারা যার যার বকেয়া টাকা পেয়ে যাবেন। শুধু কি তাই, বেতনভাতা হিসেবে বকেয়া পড়ে রয়েছে আট/দশ, এমনকি পনের/বিশ বছর আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদেরও লাখ লাখ টাকা। এ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে সরকারীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে। সরকারের পক্ষ থেকে নাকি বলা হচ্ছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনাদি পরিশোধ করা যাবে না। অথচ প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে রয়েছে পর্যাপ্ত টাকা। শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি জেনে কেবল ছাপোষা ভুক্তভোগী শিক্ষক নন, সচেতন সবাই হতবাক হয়ে পড়েছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ কী আজব ব্যবস্থা! নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও লাখ লাখ টাকার কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা যাবে না! এ যে দেখছি কুক্ষণে দুষ্টগ্রহের মতো আবির্ভূত হয়ে ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ গ্রাস করতে বসেছে হাজার বছর ধরে লালিত বাঙালির বিবেককে! প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সামর্থ্য যখন ছিল না, তখন শিক্ষকরা নিজেদের অসুবিধা ও কষ্ট হলেও বাকি বকেয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা স্থিতি থাকার পর এখন তাদের এ সবকিছু মেনে নিতে হবে কোন যুক্তিতে? বিশেষ করে আর্থিক সামর্থ্য যেখানে রয়েছে এবং সরকারীকরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে? পাকিস্তান আমলে, এমনকি স্বাধীনতা লাভের পরও সরকারি তহবিল থেকে বেসরকারি একজন কলেজ শিক্ষককে অনুদান হিসেবে দেয়া হতো মাসিক সামান্য ক’টি টাকা, যার পরিমাণ একশ’ টাকারও কম। বাকি-বকেয়াধারীদের তালিকায় তারাও রয়েছেন। অবসর জীবনে থাকা ওইসব শিক্ষকের সরকারীকরণের ফলে কোনোরকমের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ কোনো এলাকা নয়, সারা দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে বিরাজ করছে একই পরিস্থিতি। একজন শাসক যত সহৃদয়, সৎ, দক্ষ ও কৌশলীই হোন না কেন, তার একার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে দেশ শাসন করা সম্ভব নয়। কৌটিল্য যথার্থই বলেছেন- এক চাকায় যেমন রথ চলে না, সে-রূপ রাজ্য পরিচালনা রাজার একার দ্বারা সম্ভব হয় না। তার জন্য প্রয়োজন মন্ত্রী, সেনাপতি, সৈন্যসামন্ত ও পরিষদবর্গের। সবাই মিলে রাজাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে বলেই রাজার পক্ষে সম্ভব হয় সুষ্ঠুভাবে রাজ্য পরিচালনা করা। যে কোনো ভালো কাজে সরকারকে সবার সহযোগিতা করা দরকার। আমরা চাই প্রকৃত পরিস্থিতিটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসুক। সত্যিকার অর্থে এখন এ নিয়ে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এক একজন যার যার মতো করে এক এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে চলেছেন। আমরা চাই কেবল ভুক্তভোগী শিক্ষকদের স্বার্থে নয়, সরকারেরও স্বার্থে শিক্ষকদের বকেয়া বেতনভাতাদি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হোক। শিক্ষকরা না জাতির মেরুদণ্ড? তারা না জাতি গঠনের কারিগর? তাহলে সামান্য কিছু টাকার জন্য সরকার দুর্নাম কুড়াতে যাবে কেন?
বিমল সরকার : সহকারী অধ্যাপক

সরকার গণতন্ত্র হত্যা করছে: ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, 'এই সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত করছে।' শনিবার সকালে মির্জা ফখরুল তার ঠাকুরগাঁওয়ের পৈত্তিক বাসভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 'তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তল্লাশি করে সরকার এটাই বুঝিয়েছে- বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে সরকার দেশ চালাচ্ছে।' এ সময় অবিলম্বে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানান মির্জা ফখরুল। শুক্রবার মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষ্যে এক বর্ধিত সভায় যোগ দেন। বিকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

'সকালের প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ নেই'

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকালের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। এজন্য অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আবু তালেব যুগান্তরকে বলেন, 'প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এমনটি শুনে আমরা বিকালের পরীক্ষা বাতিল করেছি। তবে সকালের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। যদি এ ধরনের প্রমাণ পাই, তবে সকালের পরীক্ষাও বাতিল করা হবে।' এর আগে শুক্রবার ব্যাংকার্স সিলেকশান কমিটি বিভাগের উপ মহা-ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন খান যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন, 'সকালের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পেয়েছি। গভর্নর স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে।' তবে শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা যুগান্তরকে বলেন, 'নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো দায়িত্ব ঢাবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের। আমরা বিষয়টি আউটসোর্স করেছি। তাই এ বিষয়ে সার্বিক সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।
আমরা এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।' তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'গতকাল শুক্রবার ছিল, আর আজ শনিবার। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।' এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে গণহারে প্রশ্ন ফাঁসের পরেও সকালের পরীক্ষা বাতিল না করায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, একই ঘটনায় দুই ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে না। প্রশ্ন ফাঁসের পর বিকালের পরীক্ষা বাতিল করা হলে সকালের পরীক্ষাও বাতিল করতে হবে। নয়তো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। এর আগে গত শুক্রবার সকালের ধাপের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিকাল ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। বিকাল ৩টা থেকে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্রণী ব্যাংকের শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষার দুই ধাপে আড়াই লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা ছিল। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের একটি নিয়োগে পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আ'লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান শুরু

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সদস্যপদ নাবায়ন করা হয়েছে। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরোনো সদস্যে নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীকে আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা বেগম।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেছেন। এছাড়া এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরনো সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর জেলা নেতারা সারা দেশে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে, নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর দলের সদস্যপদ নবায়ন করতে হয়। আর নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানও সময়-সময় করা হয়। সর্বশেষ ২০১০ সালে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেবার তা বেশিদিন চলেনি।

বিএসএমএমইউ’র ১৩৮ চিকিৎসকের চাকরি বিষয়ে কাল আদেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ১৩৮ চিকিৎসকের চাকরি বিষয়ে আগামীকাল ২১ মে রোববার আদেশদেদবে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য গত ১৭ জুলাই এই দিন ধার্য করে আদেশ দেয়। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, এ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম সিন্ডিকেট সভায় ২০০৫ সালে ২০০ জন মেডিকেল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২০০৬ সালে ১৮ অক্টোবর কিছু সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে স্বাচিপের তৎকালীন মহাসচিব ইকবাল আর্সালান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে আদালত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিয়োগ সংশোধন সাপেক্ষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, নিয়োগকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা যেন দুইশ’-এর বেশি না হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১ মার্চ ১৯৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০০৮ সালে সিন্ডিকেটে ১৭৪ জনকে চাকরিতে স্থায়ী করা হয়। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের পর ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই চিকিৎসকদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে ১৭০ জন চিকিৎসক আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চায়। চেম্বার কোর্ট বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে “লিভ টু আপিল” করতে বলে। পরে ২০১১ সালে ‘লিভ টু আপিল’ করেন চিকিৎসকরা। সেই আপিল চলতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধে ১৩৮ চিকিৎসক আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন। এ রিভিউ’র ওপর কাল আদেশ দেবে আপিল বিভাগ। আদালতে আবেদনকারী চিকিৎসকদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, কামরুল হক সিদ্দিকী, এ এম আমিন উদ্দিন ও শরীফ ভূঁইয়া শুনানি করেন। অপরদিকে বিএসএমএমইউ’র পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম শুনানি করেন। সূত্র : বাসস

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশী রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন : ন্যাপ

প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বিএনপি চেয়ারপারসন, ২০ দলীয় জোট নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ ও তল্লাশী রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিমত প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রধানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ ধরনের অনৈতিক তল্লাশী ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। আজ এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ ধরনের হয়রানীমূলক তল্লাশীর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, সরকার প্রকৃত অর্থে তাদের অনৈতিক ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার লক্ষে সমগ্র দেশকে একটা পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করছে। তারা বলেন,
দেশবাসী ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করতেই পুলিশ একটা সামান্য জিডিকে কেন্দ্র করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে ন্যাক্কারজনক তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করেছেন তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য খুব বেশি শুভ লক্ষণ নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্হিভূত কর্মকান্ড গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। নেতৃদ্বয় সরকারকে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু ও সদস্য সচিব মো: শহীদুননবী ডাবলু ২০ দলীয় জোট প্রধান, বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দেশের পরিস্থিতিতে তৃতীয় পন্থা বা মধ্য পন্থার সুযোগ নেই : ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, দেশে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে তাতে তৃতীয় পন্থা বা মধ্য পন্থার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যারা তৃতীয় পন্থা বা মধ্য পন্থার নামে বিএনপি-জামাতকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক সাহায্য করছেন। তিনি তাদের এই আত্মঘাতী পথ পরিহার করে ১৪ দল-মহাজোটে শামিল হবার আহ্বান জানান। আজ শনিবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার প্রকাশ্য উদ্বোধনী অধিবেশনে হাসানুল হক ইনু একথা বলেন। ইনু আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও এদের সহযোগীরা বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী বিপদ, দুষ্টক্ষত। তিনি বলেন, শুধু আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনেই ক্ষমতার বাইরে রাখা নয়, বিএনপি-জামায়াত, উগ্রবাদী আর উগ্রবাদীদের সঙ্গীকে চিরদিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বর্জন করতে হবে।
ইনু বলেন, ১৯৭৫ এর পর যে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ২০০৮ সালের পর থেকে সেই পাকিস্তানপন্থী ধারার জঞ্জাল পরিষ্কার করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধে ১৪ দল-মহাজোটের ঐক্য মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের পক্ষে রাজনীতির ঢাল। এ ঢালকে রক্ষা করতে হবে। ইনু আরও বলেন, ১৪ দল ও মহাজোটকে আরও শক্তিশালী করতে মহাজোটের ছাতার নিচ থেকে দুর্নীতিবাজ-দলবাজদের বিতাড়ন করার পাশাপাশি ১৪ দল-মহাজোটের শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক অবহেলা, উন্নাসিকতাপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে খসড়া রাজনৈতিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। বক্তব্য রাখেন কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. হাবিবুর রহমান শওকত। প্রকাশ্য উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক উত্থাপিত রাজনৈতিক রিপোর্টের উপর আলোচনা করছেন জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধিগণ। পার্টির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, প্রতিনিধি সভায় জাসদের সাংগঠনিক জেলা, উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্ধারিত ১৩০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৩৯ দিন ছুটি ঘোষণা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শনিবার থেকে দীর্ঘ ৩৯ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। পবিত্র রমযান ও ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে এই ছুটি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে। আজ শনিবার থেকে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত একাডেমিক সকল কার্যক্রম ছুটি থাকবে। তবে ২০ মে থেকে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ চাইলে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসান লজিস্টিক সাপোর্ট দিবেন। এদিকে আগামী ২৭ মে পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকা- বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৮ মে থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে। তবে পবিত্র রমযান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০ জুন থেকে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ছুটি শেষে আগামী ৪ জুলাই থেকে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনকি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। উল্লেখ্য, আগামী ২০জুন থেকে ২জুলাই পর্যন্ত আবাসিক হল বন্ধ থাকবে। ৩জুলাই শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হবে। সূত্র : বাসস

বাসচাপায় মৃত্যু

ফরিদপুর শহরে পিকআপের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ার পর বাসচাপায় এক অটোরিকশা-চালকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের গোয়ালচামট এলাকায় মহিম স্কুলের সামনে শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সদর থানার ওসি নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান। নিহত তপন কুমার মণ্ডলের (৩২) বাড়ি সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে।
ওসি নাজিম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলেন, গোয়ালচামট এলাকার মহিম স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি। বেপরোয়া গতিতে আসা একটি পিকআপ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে চালক রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদান

ভারতের প্রখ্যাত ইসলামপ্রচারক ড. জাকির নায়েককে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভারতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আরব সূত্রগুলো জানিয়েছে, খোদ বাদশাহ সালমান উদ্যোগী হয়ে জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা করেন যাতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাকে গ্রেফতার করতে না পারে। গত মাসে ভারতীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা। সন্ত্রাস-সম্পর্কিত একটি মামলা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ৫১ বছর বয়স্ক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান হামলার পর অভিযোগ ওঠে। তার পিস টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয। ওই সময় তিনি মালয়েশিয়া সফর করছিলেন। এরপর তিনি আর ভারতে ফেরেননি। মালয়েশিয়ায় তার স্থায়ী রেসিডেন্সি মর্যাদা রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার তাকে পাঁচ বছর আগে ওই মর্যাদা দেয়। সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর

ইরানে নির্বাচনে এগিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাসান রুহানি এগিয়ে রয়েছেন। শনিবার অর্ধেকেরও বেশি ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিটির প্রধান এ ঘোষণা দেন। খবর এএফপি’র। দুই কোটি ৫৯ লাখ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে রুহানি পেয়েছেন এক কোটি ৪৬ লাখ এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টরপন্থী নেতা ইব্রাহিম রাইসি পেয়েছেন এক কোটি এক লাখ ভোট, আলী আসগর আহমাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এ তথ্য জানান। শুক্রবার অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। নিবন্ধিত পাঁচ কোটি ষাট লাখ ভোটারের মধ্যে কমপক্ষে চার কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৬৮ বছর বয়সী মধ্যমপন্থী নেতা রুহানির নেতৃত্বে ২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এ লড়াই ছিল মূলত উদার ও চরমপন্থীর মধ্যকার লড়াই। আর এ নির্বাচনে উদারপন্থী রুহানির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৫৬ বছর বয়সী কট্টরপন্থী ইব্রাহিম রাইসি। সূত্র : বাসস

মার্কিন বিমানকে ধাওয়া : চীনের অস্বীকৃতি

পূর্ব চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ সীমানায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানকে বাধা দিয়েছে চীনের দুটি যুদ্ধবিমান। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার দুটি চীনা সুকহি সু-৩০ জেট মার্কিন বিমানের পথরোধ করে। সেনা কর্মকর্তারা জানান, চীনা জেট দুটি একটি বিমানের মাত্র ১৫০ ফুট দূরে উপরের আকাশে উল্টো হয়ে উড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের বিমানটি ওই এলাকায় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। কিন্তু চীন অত্যন্ত ‘অপেশাদারি’ মনোভাব দেখিয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। শুক্রবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বিমান আইন অনুযায়ী কাজ করেছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা যেভাবে বিবৃতি দিয়েছেন তা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বেইজিং আরো বলেছে, চীনা বিমানগুলো মার্কিন বিমানকে শনাক্ত করার কাজ করেছে নিতান্তই আইন অনুযায়ী। এ কাজকে চীন পেশাদারসুলভ বলেও উল্লেখ করেছে। তবে আমেরিকা দাবি করেছে, চীনা এসইউ-৩০ বিমান দুটি যখন ডাব্লিউসি-১৩৫ বিমানটিকে তাড়া করে তখন সেটা আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত মিশনে ছিল। ডাব্লিউসি-১৩৫ বিমান পরমাণু কর্মসূচি শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। চীন বলেছে, এ ধরনের কাজ থেকে আমেরিকাকে বিরত থাকতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় নৌযানে আগুন : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

ইন্দোনেশিয়ার একটি নৌযানে আগুন লাগার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়েছে। নৌযানটিতে প্রায় ২শ’ লোক ছিল। শনিবার উদ্ধারকর্মীরা একথা জানান। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা একথা জানিয়ে বলেছে, শুক্রবার বিকেলে প্রধান জাভা দ্বীপের অদূরে মুতিয়ারা সেন্টোশা নামের ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর নৌযানটির ক্যাপ্টেন যাত্রীদের নৌযানটি থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তল্লাশী ও উদ্ধারকারী সংস্থার স্থানীয় প্রধান মোহাম্মাদ আরিফিন বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, উদ্ধারকর্মীরা ৫টি লাশ এবং ১৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন : ৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৬৮

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইস্ট জাভা উপকূলের অদূরে একটি ফেরিতে আগুন গেলে তিনজনের প্রাণহানি হয়। নিখোঁজ হয়েছেন ১৬৮ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার উদ্ধারকর্মীরা একথা জানিয়েছে। জাতীয় তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থা’র মুখপাত্র মারসুদি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে ফোনে বলেন, সুমেনেকের সামালেম্বো দ্বীপের অদূরে মুতিয়ারা সেন্টোশা নামের ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়,
ফেরি থেকে প্রায় ১১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মারসুদি এই খবরগুলোকে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘খবরগুলো ঠিক নয়। মাত্র ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং অন্যরা নিরাপদ আছে।’ নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানো হবে। এতে দুটি হেলিকপ্টার, বেশ কয়েকটি জাহাজ ও প্রায় দুই শ’ লোক অংশ নেবে।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো ইয়েমেন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও হুথি আনসারুল্লাহর সদস্যরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফর শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইয়েমেনের আল-মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, আনসারুল্লাহর সমর্থনপুষ্ট সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতে রিয়াদকে লক্ষ্য করে দেশে তৈরি বোরকান-২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে আগ্রাসী শক্তিকে স্পষ্ট করে এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, আমরা আগ্রাসনের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় আঘাত হেনেছে বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।
ওদিকে সৌদি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রিয়াদ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে রাজধানীর দিকে ধাবমান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি বাহিনী। এর আগে গত ১৮ মার্চ ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছিল, তাদের নিক্ষিপ্ত একটি বোরকান-২ ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অদূরে কিং সালমান বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তারও আগে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের সেনাবাহিনী সৌদি আরবের তায়েফ শহরে আগ্রাসী বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। সূত্র : ওয়েবসাইট

ছেলেধরা সন্দেহে ৬ জনকে পিটিয়ে হত্যা

পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ডে ছেলেধরা গুজবের জেরে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব সিংহভূমে ও সরাইকেলায় পৃথকভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব সিংহভূমের জাদুগোরার ইউরেনিয়াম টাউনশিপ এলাকায়। ছেলেধরা সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের করে এনে পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক নারীও। ঝাড়খণ্ড পুলিশের ডিআইজি প্রভাত কুমার জানান, টাউনশিপ এলাকার একটি বাড়িতে একদল শিশু পাচারকারীর জমায়েত হয়েছে বলে গুজব রটে যায়। এর পরই বিকাশ কুমার বর্মা, গৌতম কুমার বর্মা এবং গঙ্গেশ গুপ্ত নামে তিনজনকে বাড়ি থেকে টেনে রাস্তায় ফেলে মারতে থাকে ক্ষুদ্ধ জনতা। খবর পেয়ে এই তিনজনকে উদ্ধারের জন্য যখন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তখন ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে ওই তিন আক্রান্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। একই অভিযোগে আরো তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে সরাইকেলা জেলার একটি গ্রামে। এ সময় পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় তিনজনের।

বিশ্বের সব সমস্যার মূলে আমেরিকা : উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, মার্কিন সরকার যতদিন পিয়ংইয়ং-এর প্রতি বিদ্বেষী নীতি ত্যাগ না করবে ততদিন ওয়াশিংটনের সাথে দেশটি কোনো আলোচনায় বসবে না। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত কিম ইন রিয়ং বলেছেন, “বিশ্বের সব সমস্যার মূলে রয়েছে আমেরিকা।” তিনি আরো বলেন, আমেরিকানরা সংলাপের কথা বলে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কথায় নয় তাদের এই সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। এর আগে উত্তর কেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা চোয়ে সন-হুই গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে’ ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি আছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন বিদ্বেষী নীতি পরিহার না করা পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চলতেই থাকবে। এর আগে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ং-এর বিরুদ্ধে ‘এককভাবে’ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সাথে তার দেশের ‘বড় ধরনের সঙ্ঘাত’ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

উত্তরাধিকারের সঙ্কটে জাপানি রাজপরিবার

জাপানের সম্রাট আকিহিতো যেন সিংহাসন ছাড়তে পারেন, সেজন্যে সেদেশের মন্ত্রিপরিষদ একটি বিল অনুমোদন করেছে। সম্রাট আকিহিতো গত বছরই জানিয়েছিলেন, বয়স এবং স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি তার রাজকীয় দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তিনি অবসরে যেতে চান। কিন্তু জাপানের বর্তমান আইনে সম্রাট মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সিংহাসন ছাড়তে পারেন না। সেজন্যেই সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৮১৭ সালের পর জাপানে কোন সম্রাটের এভাবে অবসরে যাওয়ার কোনো নজির নেই। ১৯৮৯ সালে সম্রাট হিরোহিতোর মৃত্যুর পর আকিহিতো সিংহাসনে বসেন। জাপানে সম্রাটের পদটি আলংকারিক, তার কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তিনি রাজনীতি নিয়ে কোন মন্তব্যও করতে পারেন না। সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ত্যাগ করলে তার জায়গায় নতুন সম্রাট হবেন যুবরাজ নারুহিতো। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ছাড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানে রাজপরিবারের কলেবর যেভাবে দিনে দিনে কমছে, তাতে কতদিন সেখানে এই পরিবারের বংশধারা টিকিয়ে রাখা যাবে সে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কেবলমাত্র রাজপরিবারের পুরুষ সদস্যরাই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রাজপরিবারের মেয়েরা যখন কোনো সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করেন, তখন তারাও সাধারণ নাগরিকে পরিণত হন, রাজপরিবারের অংশ থাকেন না।
সম্রাট আকিহিতোর দুই ছেলে, যুবরাজ নারুহিতো এবং যুবরাজ ফুমিহিতো। যুবরাজ নারুহিতো, যিনি পরবর্তী সম্রাট হতে যাচ্ছেন, তার দুই কন্যা সন্তান। কাজেই তাদের কারও রাজসিংহাসনে বসার সুযোগ নেই। নারুহিতোর পর রাজ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হবেন ফুমিহিতোর দশ বছর বয়সী ছেলে হিসাহিতো। তিনিই রাজপরিবারের বংশলতিকা টিকিয়ে রাখার জন্য একমাত্র ভরসা। মাত্র এ সপ্তাহেই সম্রাট আকিহিতোর নাতনি রাজকুমারী মাকো তার বাগদানের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বিয়ে করছেন একটি ল ফার্মে কর্মরত এক সাধারণ নাগরিককে। এর মানে হচ্ছে ২৫ বছর বয়সী রাজকুমারীকে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সাধারণ নাগরিকের জীবন বেছে নিতে হবে। তার ছেলে-মেয়েরাও আর রাজপরিবারের কেউ বলে বিবেচিত হবে না। রাজপরিবারের কলেবর যেহেতু কমছে, তাই রাজকুমারীদেরও রাজপরিবারের ভেতরে বিয়ের সম্ভাবনা কমছে। তারা অনেকেই সাধারণ নাগরিকদেরই বেছে নিচ্ছেন জীবনসঙ্গী হিসেবে।
 ফলে প্রশ্ন উঠেছে কতদিন আর জাপানের রাজপরিবার টিকিয়ে রাখা যাবে।

‘পাগল’ কোমিকে বরখাস্ত করে 'চাপমুক্ত' ট্রাম্প

এবার মার্কিন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, হোয়াইট হাউজে সিনিয়র রুশ কর্মকর্তাদের সাথে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সাবেক এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমিকে 'সত্যিকারের পাগল' বলে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সাথে কোমিকে চাকুরিচ্যুত করার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কতটা চাপমুক্ত হয়েছেন, সেই বর্ণনাও দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "রাশিয়ার কারণে আমি বিরাট চাপের মুখে ছিলাম। এখন সেই চাপ নেমে গেছে।" রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সাথে গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে বৈঠকটি হয়। রুশ যোগাযোগ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি রয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন এই মি. কিসলিয়াক।
ওই বৈঠকের লিখিত বিবরণীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যের যে ভাষার উল্লেখ আছে তা নিয়ে কোন প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি হোয়াইট হাউজ। এমন সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসে এই প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে যখন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন মি. ট্রাম্প। কোমিকে যখন এফবিআইর ডিরেক্টরের পদ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাম্প, তখন কোমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত করছিলেন। এদিকে, সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি বলছে যে মি. কোমি একটি উন্মুক্ত সভায় উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন। সেটা হবে মেমোরিয়াল ডের ছুটির পরেই।

চালসঙ্কট মারাত্মক

দেশে চলমান চালসঙ্কট ক্রমেই মারাত্মক রূপ ধারণ করছে। অনেক চেষ্টা-তদবিরের পরও সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে রাজি হচ্ছেন না মিলমালিকেরা। সারা দেশে জোরেশোরে ধান কাটা চললেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। উল্টো এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে সবধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধির ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা টের পেয়ে সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানির প্রক্রিয়া জোরদার করলেও সঙ্কটের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। হাওরে ভয়াবহ বন্যা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় মড়কের কারণে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশে এ বছর খ্যাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গবেষণা সংস্থাগুলো। নতুন করে বেড়েছে ৫ টাকা : রাজধানীর পাইকারি চালের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন চাল আসছে। এ সময় দাম কমার কথা অথচ বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মোটা চালের দর বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং সরু ও মাঝারি মানের চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২০০ টাকা। বাজারে বর্তমানে মিনিকেট চালের বস্তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, গুটি ও স্বর্ণা ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, পারিজা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, লতা ও বিআর-২৮ চাল ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে ৫০ টাকার নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। এ ছাড়া স্বর্ণা চাল ৪২ টাকা, পারিজা ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা উন্নত মানের মিনিকেট ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, বিআর আটাশ চাল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫৭ থেকে ৫৯ টাকা, হাস্কি নাজির ৪৪ টাকা, বাসমতি ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, কাটারিভোগ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সঙ্কটের মূলে হাওরে বন্যা : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযাযী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়েছে; যা আগের বছরের চেয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার টন বেশি। চলতি অর্থবছরে উৎপাদনের ল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। হাওরের পরিস্থিতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিøষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এবার বোরো মওসুমে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এ থেকে ১ কোটি ৯১ লাখ টন চাল উৎপাদনের ল্য ঠিক করেছিল সরকার। তবে হাওর তলিয়ে যাওয়ায় তা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা আছে। হাওরের ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৯ লাখ টন চাল উৎপাদনের আশা করেছিল অধিদফতর। তবে সেখানকার বড় অংশের ধানই নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের। যদিও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম দাবি করেছেন হাওর ডুবে গেলেও চালের কোনো ঘাটতি হবে না। তার দাবি, বাংলাদেশে বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে। হাওরে ছয় লাখ টন কম উৎপাদন হলেও কোনো ঘাটতি হবে না। ভালো নেই চালকল মালিকেরাও দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষই প্রথমত দায়ী করছেন চালকল মালিকদের।
খুচরা-পাইকারি ব্যবসায়ীদের আঙুলও তাদের দিকে। তারাই ধানের মওসুমে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না দিয়ে সস্তায় ধান কেনেন, আবার কৃষকের ঘর খালি করার পর সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান। বাস্তবতা হলো, তারাও ভালো নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ চালকল রয়েছে। নানামুখী সঙ্কটে এগুলোর অর্ধেকই বর্তমানে বন্ধ। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ চালকলের মালিক ধান কেনা শুরুই করতে পারেননি। তারা জানান, বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে ধান কিনে তা ভাঙিয়ে চাল করে বাজারে বিক্রি করে তাদের পোষাচ্ছে না। ফলে গত আমনের সময় মজুত থাকা ধান দিয়ে কোনোমতে ৫০০ চালকল চালু রয়েছে, বাকিগুলো বন্ধ। তাদের দাবি, বাজার থেকে ধান কিনে তা ভাঙিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিতে গেলে প্রতি কেজিতে তিন থেকে চার টাকা লোকসান হবে।  অবাস্তব পরিসংখ্যান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মওসুমে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ২২ টাকা। চালে খরচ পড়ছে ৩১ টাকা। চলতি মওসুমের জন্য ধান ও চালের সরকারি ক্রয়মূল্য ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ৭ লাখ টন ধান কিনবে সরকার। চাল কেনা হবে ৮ লাখ টন। ঘোষণা অনুযায়ী আজ ২০ মে’র মধ্যে চাল সরবরাহকারী মিলমালিকদের সাথে সরকারের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ চাল সরবরাহের চুক্তিও হয়নি বলে জানা গেছে। কারণ হিসেবে মিলমালিকেরা জানান, সরকারি দামে চাল সরবরাহ করতে চাইলে মিলমালিকদের প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা লোকসান গুনতে হবে।
সরকার এ বছর প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা। চালের দাম ৩৪ টাকা। গত বছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ২৩ টাকা দরে ধান এবং ৩২ টাকা দরে চাল ক্রয় করে সরকার। কিন্তু ক্রয়নীতিতে দুর্বলতা এবং দলীয় লোকদের মধ্যস্বত্ব ভোগের কারণে কৃষক এ দাম পায়নি। সরকার ৯২০ টাকা দর বেঁধে দিলেও মওসুমের শুরুতে কৃষক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। এ কারণে এ বছর অনেক কৃষক জমিতে ধানচাষ থেকে বিরত থেকেছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, সরকারের পরিসংখ্যানের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। মিল নেই মোট চাহিদা, উৎপাদন, জোগান এবং জনসংখ্যার হিসেবেও। অবস্থানে অনড় এনবিআর চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অন্যতম কারণ হিসেবে শুল্ক বৃদ্ধিজনিত কারণে আমদানি কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার পর আমদানি কমে যায়। আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তাতে এনবিআরের সাড়া মিলছে না। বাধ্য হয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় নিজেই বিদেশ থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর (এনবিআর) হিসেবে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে প্রায় দুই লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। সরকারি হিসেবে দেশে চালের উৎপাদন হয়েছে মোট দেশজ চাহিদার অতিরিক্ত। স্বাভাবিক কারণেই সরকারিভাবে চাল রফতানির ঘোষণার বাস্তবায়নও দেখেছে দেশবাসী। অবশ্য আমদানিকারকেরাও বসে নেই। এক বছরে আমদানি করা হয়েছে ৮ লাখ টনের মতো। নিজস্ব তথ্যউপাত্ত ঘেঁটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, দেশে চালের কোনো সঙ্কট নেই। অথচ এক মাস ধরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে অত্যাবশ্যকীয় এ পণ্যটির দাম বেড়েই চলেছে। সরকারিভাবে ১০ টাকায় চাল বিক্রির কার্যক্রম চললেও সাধারণ মানুষকে প্রতি কেজি চালের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৮ টাকা পর্যন্ত।

হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া ত্রাণ হাস্যকর ও অসম্মানজনক : সুলতানা কামাল

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি মাসে ত্রিশ কেজি চাল ও পাঁচশত টাকার বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি হাস্যকর ও অসম্মানজনক। তিনি বলেন, ত্রাণ দিতে হলে দিন এটা কোন চিরস্থায়ী ব্যবস্থাও নয়, তবে অসন্মান করার অধিকার কারো নাই। সিপিবি ও বাসদ’র উদ্যোগে আজ দিনব্যাপী মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট ভবনের (ষষ্ঠ তলায়) তাজুল মিলনায়তনে ‘হাওর কনভেনশন’ এ কথা বলেন তিনি। সুলতানা কামাল আরো বলেন, বাংলাদেশের একটি পরিবারে নুন্যতম পাঁচজন সদস্য থাকবেন বলে ধরে দেয়া হয়। ত্রিশ কেজি চাল যদি প্রতি মাসে দেয়া হয় তাহলে প্রতি একটি কেজি চাল প্রতিটি পরিবারের জন্য হবে দৈনিক বরাদ্ধ। এক কেজি চাল দিয়ে একটি পরিবারের তিনবেলা অন্নসংস্থান কি করে হয়,যারা এটা বরাদ্দ দিয়েছেন তাদের কাছেই এটা আমার প্রশ্ন।
আর পাঁচশত টাকা খরচ করতে এখন এক মিনিটও সময় লাগে না। তাই এই পাঁচশত টাকা হাতে নিয়ে মানুষগুলি কিভাবে জীবন যাপন করবে-সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন। তাছাড়া নারী পরিচালিত পরিবার গুলি ক্ষতিগ্রস্থ হিসাবে আলাদাভাবে করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকারের লোকজন কতটা তথ্য নিয়ে হাওরে যাচ্ছে তা এখন প্রশ্ন। হাওর অঞ্চলের সমস্যাসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের কার্যকর পন্থা নিরূপন ও তা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে দেশব্যাপী জনমত গঠন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে একনভেনশন করা হয়। কনভেনশনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডা. মতিন, মোস্তফা জব্বারসহ হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-ক্ষেতমজুর, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবী বিশেষজ্ঞগণ বক্তব্য রাখেন।

কাল দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ

আগামীকাল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে হঠাৎ পুলিশী তল্লাশির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। রিজভী বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনা থেকে দৃষ্টি ফেরাতেই এই তল্লাশি। তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনায় সরকার যে বিপর্যস্ত সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে এটি করানো হয়েছে। এটি খালেদা জিয়াকে অপমাণিত ও বিপর্যস্ত করার কঠিন ও পাতানো ষড়যন্ত্রের অংশ।

রমজানে সুপ্রিমকোর্টে অফিস সময়সূচি নির্ধারণ

পবিত্র রমজান মাসে সুপ্রিমকোর্টে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি পবিত্র রমজান মাসের জন্য সুপ্রিমকোর্টে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন। রমজান মাসে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ থেকে ৩টা পর্যন্ত অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলা সোয়া ১ থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি রাখা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগের কোর্টের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। সূত্র : বাসস

নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সরকার নার্ভাস হয়ে পড়েছে : শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে সরকার তত নার্ভার্স হয়ে পড়ছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকারের হৃদকম্পন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের অবস্থা খুবই খারাপ। এতই খারাপ হয়েছে যে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তাদের হৃদকম্পন শুরু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও মধুখালী পৌর সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজসহ সকল রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে সরকার তত নার্ভাস হয়ে পড়ছে। পুলিশকে ব্যবহার করে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শুধু তাই নয় কালকেও যদি বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তার পরের দিন যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তল্লাশি করা হয়েছে। এসময় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন,
যতই চেষ্টা করুন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আগামী দিনে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, দলীয় সরকার বলে কিছুই থাকবে না। তখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আপনারা কোনো প্রার্থীই খুঁজে পাবেন না। নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করছে। তাদেরকে কারাগারে রাখার অর্থই হল গণতন্ত্রকে কারাঘারে রাখা। এসময় তিনি সকল রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস সুলতান, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই খালেদার কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ৬২৫ জন শিক্ষক। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে ইউট্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। বিএনপি তাদের নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত। বিশেষ করে সংগঠন গোছানো ও দেশের উন্নয়নে কিছু পরিকল্পনামূলক কর্মকান্ডে ব্যস্ত। এরপরও হঠাৎ করে শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশির ঘটনা প্রমাণ করে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ। আসলে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেগম জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলেই জনগণ মনে করে। ইউট্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনে করি- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে এহেন হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্কট উত্তরণের উদাত্ত আহবান জানাই। সেইসাথে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গুলশানে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- ইউট্যাবের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক এম ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, ড. মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, ড. আ. ন.ম. মুনীর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী (চবি), অধ্যাপক ড. এম.এ. বারি মিয়া, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক কে এম শাহাদাত হোসেন (রাবি), অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম (জাবি), ড. সাব্বির মোস্তফা খান (বুয়েট), ডা: সাইফুল ইসলাম (বিএসএমএমইউ), ড. গোলাম আরিফ কেনেডি (বাকৃবি), আফম আরিফুর রহমান (নোবিপ্রবি), ড. হারুন অর রশীদ (খুবিপ্রবি), বেলাল হোসেন (কুবি), ড. মো. মিজানুর রহমান (কবি নজ. বি) প্রমুখ। প্রসঙ্গত, আজ শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপাসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ম্যাডামের কার্যালয়ে পুলিশ ঢুকে তল্লাশি করেছে। তবে কেনো এবং কি কারণে ঢুকেছে আমরা তা জানি না।

আবহাওয়া বেশি পরিবর্তন হবে না

খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, চাঁদপুর, মাইজদীকোর্ট, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদফতর আরো জানায়, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো জানানো হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানতঃ শুস্ক থাকতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজারহাটে ২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ১০-১৫ কি. মি., যা অস্থায়ীভাবে দমকা পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ২৫-৩৫ কি.মি. পর্যন্ত। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৩%। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সূত্র : বাসস

হাওরসহ নানা ঘটনা থেকে দৃষ্টি ফেরাতেই এই তল্লাশি : রিজভী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুলিশের তল্লাশির পর প্রতিক্রিয়ায় রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনা থেকে দৃষ্টি ফেরাতেই এই তল্লাশি। তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনায় সরকার যে বিপর্যস্ত, সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে এটি করানো হয়েছে। রিজভীর অভিযোগ,
এটি খালেদা জিয়াকে অপমানিত ও বিপর্যস্ত করার কঠিন ও পাতানো ষড়যন্ত্রের অংশ। রিজভীর দাবি, তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কিছুই পায়নি। এর আগে আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে দেড় ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি চলে। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তল্লাশি শেষে সকাল সাড়ে নয়টার কিছু পরে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি শেষ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি শেষে ফিরে গেছে পুলিশ। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার ও শায়রুল কবীর খান জানান, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় তল্লাশি করে সকাল পৌনে ১০টার দিকে কার্যালয় ছেড়ে চলে যায় গুলশান থানার পুলিশ। তল্লাশির খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে যান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

‘বন্দুকযুদ্ধে রাজু বাহিনীর প্রধান’ নিহত

খুলনার টুটপাড়ার খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে ডাকাতদল রাজু বাহিনীর প্রধান’ মুন্সী রাজু নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের দাবিও করেছে পুলিশ।গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কথিত এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’র সময় রাজু তাঁর সহযোগীদের গুলিতেই নিহত হয়েছে। তিনি জানান, মুন্সী রাজুর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ধর্ষণ, খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ওসি এস এম মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় রাজু বাহিনীর সদস্যরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজু বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি করে। প্রায় আধাঘণ্টা গোলাগুলির পর ডাকাতদল পিছু হটে। ওসি আরো জানান, গোলাগুলি শেষে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুন্সী রাজুকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, গুলি, রাম দাসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

লোডশেডিং : রামগঞ্জ পৌর শহরে পানি নেই চারদিন

জেলার রামগঞ্জ পৌর শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট আকার ধারন করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করতে না পারায় শহরে বসবাসরত বিভিন্ন বাসার লোকজন গত চারদিন থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকই পানির অভাবে বাজার থেকে বোতলজাত পানি ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। পানি না থাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসরত অনেকই হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। হোটেল রেস্তোরাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পুকুর ও ডোবানালা থেকে পানি নিয়ে সে পানি দিয়ে রান্নাবান্নার কাজসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের ৫তলা ভবনের ভাড়াটিয়া আয়েশা মিনা জানান, পানির অভাবে রান্নাবান্নার কাজে চরম ব্যঘাত পোহাতে হচ্ছে। খাবার পানির তীব্র সংকটের কারনে বাজার থেকে পানির বোতল কিনতে হচ্ছি। ধোয়া-মোছার কাজ একপ্রকার বন্ধ রয়েছে। পাশ্ববর্তি বাসার টিউবওয়েল থেকে পানি এনে গোসল করতে বাধ্য হচ্ছি। এভাবে কতদিন? টয়লেটেও পানি নেই। ধুতে না পেরে গোসলখানায় জামাকাপড়ের স্তুপ হয়ে আছে। শহরের আয়েশা রেষ্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, জগে রাখা পানির রং সবুজ শ্যাওলাযুক্ত। আর দোকান কর্মচারীরা কলস নিয়ে থানা পুকুর থেকে পানি আনছেন।
আর সেই পানি দিয়ে চলছে রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কার্যক্রম। ইসলামী ব্যাংক সংলগ্ন কয়েকটি বাসায়ও একই অবস্থা। টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে পাঁচতলায় তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। শহরের কোথাও আলাদাভাবে টিউবওয়েলের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন বাসা বাড়ীর নিছে স্থাপন করা টিউবওয়েল থেকে পানি নিচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। অনেক বাসার মালিক বাধ্য হয়ে টিউবওয়েলের মুখ খুলে রেখেছেন, মানুষের চিৎকার চেচামেছির কারনে। রামগঞ্জ পৌরসভা পানি ব্যবস্থাপনার জন্য স্থাপিত টামটা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান জানান, বিদ্যুতের সমস্যা কারনে পানি সরবরাহে বেগ পেতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং এতটাই নাজুক যে শহরে পানি সরবরাহ ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছেনা। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুল আনছার জানান, বিদ্যুত সমস্যার সমাধান হলে পৌরসভার বাসা বাড়ীতে পানি দেয়া সম্ভব হবে। আমরা কথা বলেছি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা জানিয়েছেন শীগ্রই এর সমাধান হবে। তাছাড়া আজ (শনিবার) সকাল থেকে বাসাবাড়ীতে পানি সরবরাহ আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন। রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারনে পানি সরবরাহ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। আশা করি দু’ একদিনে সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে বাসচাপায় ইজিবাইক চালকের মৃত্যু : প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

ফরিদপুর শহরে বাস চাপা পড়ে এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবাদে এলাকাবাসীর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। আধাঘন্টা পর পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার মহিমস্কুলের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইজিবাইক চালক তপন মন্ডল (৪৫) ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়নের সতিয়া গ্রামের রশিক মন্ডলের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চাল ব্যবসায়ী সনৎ কুমার দাস জানান, তপন ইজিবাইক নিয়ে মহিম স্কুলের সামনের মোড় দিয়ে ঘোরার চেষ্টা করলে অপর একটি ইজিবাইকের সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যায়।
ওই সময় নতুন বাসস্ট্যান্ডগামী একটি লোকাল বাস তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইজিবাইক চালক তপন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সড়কে গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। আধাঘন্টা পর কোতয়ালী থানার পুলিশ এসে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বাস ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সৈয়দপুরে ২৪০০ পিস ইয়াবাসহ তিন সরবরাহকারী আটক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আবারও শনিবার (২০ মে) বেলা ১১টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৪শ’ পিস ইয়াবাসহ তিন সরবরাহকারীকে আটক করেছে। আটককৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে। সৈয়দপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মনপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তিন ইয়াবা সরকরাহকারীকে আটক করা হয়। এরা হচ্ছে বোতলাগাড়ির বড়দহ এলাকার সুরেশ রায়ের ছেলে বিপ্লব রায় পর্বত (২৮),
বদরগঞ্জের সোনারপাড়ার আফজাল হোসেনের ছেলে রাশেদ (২০) ও একই এলাকার রাধানগর মুন্সিপাড়ার নাসির উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪শ’ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ২০ হাজার ৭শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত বর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে থানায় মামলা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে মাইক্রোবাস উল্টে তিনজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। নিহতরা হলেন- মনিকা রানী দাশ (৪৫), সোলায়মান (৬০) ও নাসির (৫০)। শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া রোলিং মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। আহত পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফে ডিবি পুলিশের উপর হামলা : আহত ৫

টেকনাফের ইয়াবার ঘাঁটি খ্যাত নাজিরপাড়ায় সাংবাদিকের পর এবার হামলার শিকার হয়েছেন কক্সবাজার ডিবি পুলিশ। এতে ডিবির ৫ পুলিশ আহত এবং তাঁদের ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফের নাজিরপাড়া এক ইউপি সদস্যকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়ে হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের ২ জন এএসআই, ২ জন পুলিশ সদস্য ও গাড়ী চালক আহত এবং তাদের ব্যবহৃত মাইক্রো ভাংচুর করা হয়। ১৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ১৯ মে এ ঘটনায় ১ জনকে আটক করে টেকনাফ থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এতে ১ জন মেম্বারসহ ৯ জনকে এজাহারভুক্ত এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার ১৮ মে রাতে কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সুমনের নেতৃত্বে একটি টিম ইয়াবা পাচারের সংবাদে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য এনামুল হকের বাড়ী ঘেড়াও করে। এসময় এনামুল হককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয় কয়েক শত নারী পুরুষ এগিয়ে এসে ঘেরাও করে ডিবির প্রাইভেট নোয়া মাইক্রো (চট্ট মেট্্েরা-চ-১১-১৬৮৬) গাড়ীতে হামলা চালায়। এতে ডিবি পুলিশের এএসআই আসাদুজ্জামান, ফিরোজ মিয়া, কনেস্টবল আল আমিন, সুমাইয়া সুলতানা ও গাড়ী চালক বাপ্পি আহত হন। পরে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মাইন উদ্দীন খানের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে ভাংচুরকৃত গাড়ীসহ ডিবি সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। এসময় নাজিরপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে শামসুল আলমকে আটক করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় কক্সবাজার ডিবি পুলিশের এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে শামসুল আলমকে প্রধান আসামী করে ৯ জনকে এজাহারভুক্ত এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে টেকনাফ মডেল থানায় সংশি¬ষ্ট ধারায় একটি মামলা (নং-৫১) দায়ের করেন।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন নাজিরপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে শামসুল আলম, মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে এনামুল হক প্রকাশ এনাম মেম্বার, সাহাব উদ্দিন প্রকাশ সাবু, চান মিয়া, এজাহার মিয়ার ছেলে নুরুল হক ভূট্টো, হোসেন আহমদের ছেলে মোঃ ইউনুচ, মোঃ ইউনুচের ছেলে নুরুল আমিন, মৃত নজু মিয়ার ছেলে গুরা মিয়া ও আব্দুল গফুর। গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সুমন মিয়া বলেন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউপি সদস্য এনামুল হকের বাড়ী ঘেরাও করলে তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচেছ এমন সংবাদে শত শত উশৃংখল নারী পুরুষ ইট পাটকেল ও লাঠি নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায় এবং গাড়ী ভাংচুর করে। এতে গাড়ী চালক ও ডিবি পুলিশসহ ৫ জন আহত হয়। এঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার ১৯ মে দুপুরে ডিবি পুলিশের ঘটনায় আটক টেকনাফ সদর নাজিরপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে শামসুল আলমকে আদালতে সোর্পদ করা হয় বলে জানান টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ মাঈন উদ্দিন খান। তিনি আরও জানান এঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামীদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান সাদা পোশাকদারি কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এনামুল হকের বাড়িতে অভিযান চালান। চলে আসার সময় ইউপি সদস্য এনামুল হকের হাতে হাতকড়া পরানো অবস্থায় দেখে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য এনামকে ছেড়ে দিতে ডিবি পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশের ওপর চড়াও হলে চাপের মুখে পড়ে এনামকে ছেড়ে দেন। ডিবি পুলিশের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি ভাংচুর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ডিবি পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ মে কক্সবাজারের ৬ সাংবাদিকের উপর নাজিরপাড়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

নড়াইলে যাত্রীবাহী বাসে মদসহ যুবক আটক

নড়াইল-যশোর সড়কের হাতিরবাগান মোড়ে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশিকালে তিন বোতল বিদেশী মদসহ গয়েস উদ্দীন আলী (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। গয়েস উদ্দীন সাতক্ষীরা সদরের ছয়ঘেরিয়া তুষখালী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানান, নড়াইলের হাতিবাগান মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশিকালে তিন বোতল ভারতীয় মদসহ গয়েস উদ্দীন আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গয়েস সাতক্ষীরা থেকে মুঞ্জিগঞ্জের মাওয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

নাইটদের স্বপ্নভঙ্গ, ফাইনালে মুম্বাই

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দশম আইপিএলের ফাইনালে ওঠল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রোববার খেতাবি লড়াইয়ে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের মুখোমুখি হবে রহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন মুম্বাই। ৩৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে নেন রহিত শর্মারা। কেকেআরকে ১০৭ রানে অল-আউট করার পরেই জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল মুম্বই। আসলে, টি-২০ ফরম্যাটে ১২০ বলে ১০৮ রান তুলে ম্যাচ জেতা কোনো কঠিন কাজ নয়। নাইটরা নিশ্চিত পরাজয় জেনেও কিছুটা লড়াই করেন। পীযূষ চাওলা ও উমেশ যাদবের প্রচেষ্টায় ৩৪ রানে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান্সের ৩ উইকেট পড়ে যায়। ওপেনার লেন্ডল সিমন্সকে ৩ রানে ফেরান পীযূষ। ১৪ রানে আউট হন পার্থিব প্যাটেল। অম্বাতি রায়াডুকে ৬ রানে বোল্ড করে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন চাওলা। চতুর্থ উইকেটে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বইয়ের অধিনায়ক রহিত শর্মা ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলে দলকে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। রহিত আউট হন ২৬ রানে। তাঁর ইনিংসে রয়েছে একটি চার ও একটি ছক্কা। ক্রুনাল পান্ডিয়া আটটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩০ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৯ রানে ক্রিজে ছিলেন কিয়েরন পোলার্ড। শুক্রবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিহীন ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলারদের বিরুদ্ধে কোনও লড়াই মেলে ধরতে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। যশপ্রীত বুমরাহর পেস ও করণ শর্মার স্পিনের ছোবলে শুরুতেই কাটা কলা গাছের মতো নুইয়ে পড়ে কেকেআর। ৩১ রানেই পড়ে যায় নাইট রাইডার্সের ৫টি উইকেট। প্রায় খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ইশাঙ্ক জাগ্গি ও সূর্যকুমার যাদব। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ৫৬ রান যোগ করেন।
জাগ্গি ২৮ রান করে আউট হন। সূর্যকুমার যাদবের সংগ্রহ ৩১ রান। মূলত এই দুই ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে কেকেআরের স্কোর শতরানের গণ্ডি টপকায়। যদিও নাইটরা পুরো কুড়ি ওভার খেলতে পারেনি। গম্ভীর বাহিনীর এমন নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ শুধু সমর্থকদের নয়, লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক শাহরুখ খানকেও। তার চোখ-মুখ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তিনি নাইটদের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রহিত শর্মা। দারুণ ফিল্ড প্লেসিং করে নাইট রাইডার্সের রান আটকে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি অনেকটাই সফল হন। দ্বিতীয় ওভারেই কেকেআরের তারকা ব্যাটসম্যান ক্রিস লিনকে তুলে নেন যশপ্রীত বুমরাহ। ভারতীয় পেসারটির বলে স্ট্রেট ড্রাইভে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে কিয়েরন পোলার্ডের হাতে ধরা পড়েন লিন (৪)। পাওয়ার প্লে’তে সব দলই বেশি রান তোলার চেষ্টা করে। আর ক্রিস লিন এব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। সেটা জেনেই লং অনে ফিল্ডার রেখেছিলেন ক্যাপ্টেন রহিত। সেই ফাঁদেই পা দেন লিন। তবে কেকেআরের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে উইকেট উপহার দিয়েছেন, তা একজন ক্রিকেট শিক্ষার্থীকেও লজ্জায় ফেলবে। সুনীল নারিন শুরুটা ভালোই করেছিলেন। বাউন্ডারি হাঁকানোর নেশায় নারিন (১০) স্টেপ আউট করতে গিয়ে স্টাম্পড হন। রবীন উথাপ্পা নিজের শহরে মাত্র ১ রানে বুমরাহর বলে এলবিডব্লু হয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন। কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা উচিত ছিল অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বৃষ্টি বিঘ্নিত এলিমিনেটর ম্যাচে তিনি দলকে জিতিয়েছিলেন। ফলে গোতিকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু তিনি চাপের মুখে মাথা উঁচু রেখে মাঠ ছাড়তে পারেননি। মাত্র ১২ রানে করণ শর্মার বলে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েন কেকেআর ক্যাপ্টেন।
সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে গম্ভীরকে ও ষষ্ঠ বলে কলিন ডে গ্র্যান্ডহোমকে (০) আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের লেগ স্পিনার করণ শর্মা। তবে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হলেও ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে করণ তুলে নেন ৪টি উইকেট। অনবদ্য বোলিং পারফরম্যান্স তাঁর। বুমরাহ ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে একটি মেডেন সহ ৭ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। তরুণ ব্যাটসম্যান ইশাঙ্ক জাগ্গি ও সূর্যকুমার যাদব খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। মণীশ পাণ্ডের চোট থাকায় গত ম্যাচেও খেলার সুযোগপেয়েছিলেন জাগ্গি। গত ম্যাচে তিনি কঠিন সময়ে অধিনায়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন তার সামনে লড়াইয়ের মঞ্চটা ছিল আরো কঠিন। প্রতিপক্ষ দলের বোলাররা গোড়ায় সাফল্য পেয়ে যাওয়ায় পরের দিকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাহসী ব্যাটিং করেন ইশাঙ্ক জাগ্গি। উইকেটে টিকে থেকে রান খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান নাইট রাইডার্সের সহ-অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দশম আইপিএল তাঁর ভালো যায়নি। খারাপ ফর্মের জন্য তিনি দল থেকে বাদও পড়঩ছিলেন। তবে অন্ধকার সরিয়ে কেকেআর শিবিরে আলো ছড়ানোর সুযোগ ছিল সূর্যর সামনে। শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন সূর্য। আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি দ্রুত গতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন। রান রেট বাড়ানোর নেশায় তিনিও চালিয়ে খেলতে গিয়ে ২৫ বলে ৩১ রানে আউট হন যশপ্রীত বুমরাহর বলে।আইপিএলের মঞ্চে মুম্বই সব সময়ই কেকেআরের সামনে বড় গাঁট। ২১বারের সাক্ষাৎকারে নাইটরা হেরেছে ১৬ বার। জিতেছে মাত্র ৫ বার। দশম আইপিএলে তিনবার নাইটদের হারাল মুম্বই। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নাইটরা স্নায়ুর চাপটা নিতে ব্যর্থ।

মেসিদের বাঁচাতে পারবেন একমাত্র সাম্পাওলিই!

নিজ দেশ আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়াটা ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন সেভিয়া ম্যানেজার জর্জ সাম্পাওলি। তবে সাথে সাথে একথাও স্বীকার করেছেন লা লিগা ক্লাবটি ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি তার হাতে নেই। সেভিয়ার হয়ে ইউরোপীয়ান ক্লাব ফুটবলে অভিষেকটা দারুণ হয়েছিল ৫৭ বছর বয়সী এই কোচের। তার ক্লাব সেভিয়া লা লিগা টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে। বর্তমানে কোচবিহীন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বাঁধা উতরাতে সাম্পাওলিই হতে পারেন সঠিক ও যোগ্য কোচ, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সম্পর্কে সাম্পাওলি বলেছেন, ‘আমাকে দলের কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার দৃষ্টিকোন এখন অনেকটাই স্পষ্ট। ছোটবেলা থেকেই এই পদটির প্রতি আমার দারুণ আকর্ষণ ছিল। এখন সবকিছুই সেভিয়া সভাপতি হোসে ক্যাস্ত্রোর ওপর নির্ভর করছে।
আমাকে চুক্তির বিষয়টিকে অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে। সেভিয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, এখন আমি বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের সাথে আলোচনা করতে পারি। কিন্তু কোনো কিছুই আমার হাতে নেই। আর্জেন্টাইন ফেডারেশন ও সেভিয়া বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। তবে এটা ঠিক যে অন্য কোন ক্লাবের জন্য আমি সেভিয়া ছাড়বো না, শুধুমাত্র জাতীয় দল হলেই আমি বিবেচনা করে দেখবো।’ এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যমে রিপোর্টের সূত্র ধরে জানা গেছে, কোচ হিসেবে দেড় মিলিয়ন ইউরোতে সাম্পাওলিকে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেভিয়ার সাথে সাম্পাওলির এখনো এক বছরের চুক্তি বাকি রয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকান গ্রুপে আর্জেন্টিনা বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, হাতে রয়েছে মাত্র চার ম্যাচ। আগামী বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে সরাসরি যেতে হলে অবশ্যই শীর্ষ চারের মধ্যে থাকতে হবে। নতুবা পঞ্চম স্থানে থাকলে ওসেনিয়া অঞ্চলের বিজয়ীর সাথে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হবে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছেন না নেইমার

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। কিন্তু এই দুটি ম্যাচে বিবেচনা করা হয়নি অধিনায়ক নেইমারকে। প্রথম দল হিসেবে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা ব্রাজিল আসন্ন এই দুটি ম্যাচে বেশ কয়েকজন তারকাকেই বিশ্রামে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লীগের দুই ফাইনালিস্ট রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলো ও কাসেমিরো এবং জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার ডানিয়েল আলভেসও প্রীতি ম্যাচগুলোতে খেলছেন না। তবে তিতের বিবেচনায় দলে ডাক পেয়েছেন চেলসি ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজ। সাবেক এই পিএসজি ডিফেন্ডার সর্বশেষ ২০১৬ সালের মার্চে দুঙ্গার অধীনে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের ওই ম্যাচটিতে দুটি ভুলের কারনে দারুণ সমালোচিত হয়েছিলেন লুইজ। আগামী ৯ ও ১৩ জুন আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্নে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল।
স্কোয়াড :
গোলরক্ষক : দিয়েগো আলভেস, ওয়েভারটন, এডারসন।
ডিফেন্ডার : ডেভিড লুইজ, গিল, জেমারসন, রদ্রিগো কাইয়ো, থিয়াগো সিলভা, এ্যালেক্স সান্দ্রো, ফাগনার, ফিলিপ লুইস, রাফিনহা।
মিডফিল্ডার : ফার্নান্দিনহো, গিউলিয়ানো, লুকাস লিমা, পলিনহো, ফিলিপ কোটিনহো, রেনাটো অগাস্তো, রদ্রিগুইনহো, উইলিয়ান।
স্ট্রাইকার : দিয়েগো সুজা, ডগলাস কস্তা, গ্যাব্রিয়েল জেসাস, থাইসন।

কপাল খুললো বিটনের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড। দলে ডাকা হয়েছে ২৪ বছর বয়সী পেসার রোন্সফোর্ড বিটনকে। চলতি বছর রিজিওনাল সুপার ৫০ টুর্নামেন্টে দারুণ পারফর্ম করেছেন এই পেসার। এ’তালিকাভূক্ত ক্রিকেটে বিটন ২৪.৫৩ গড়ে ২৬ ম্যাচে তিনি তুলে নিয়েছেন ৪১ উইকেট। এছাড়া গত বছর ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লীগে বিটন ১১ ম্যাচে ১১টি উইকেট দখল করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-৩ ব্যবধানে পরাজিত সিরিজ থেকে নির্বাচকরা বিবেচনা করেননি জোনাথন কার্টার, আন্দ্রে ফ্লেচার ও ভিরাসামি পারমলকে। এদিকে ওয়ানডে অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
তবে আইপিএল শেষ করে দলে ফিরছেন কিয়েরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন। বাজে ফর্মের কারণে সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাদ পড়লেও টি-২০ দলের অধিনায়কত্ব ধরে রেখেছেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েইট। আগামী ৩০ মে থেকে ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জে প্রথমবারের মত সফর শুরু করবে আফগানিস্তান। ২ জুন থেকে সেন্ট কিটসে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ। একই ভেন্যুতে ৩ ও ৫ জুন সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আফগানরা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে সেন্ট লুসিয়ায় যাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-২০ স্কোয়াড : কার্লোস ব্র্যাথওয়েইট (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বাদ্রি, রোন্সফোর্ড বিটন, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, সুনীল নারিন, কিয়েরন পোলার্ড, রোভমান পাওয়েল, মারলন স্যামুয়েলস, লেন্ডল সিমন্স, জেরম টেইলর, চাডউইক ওয়াল্টন, কেসরিক উইলিয়ামস।
সূচি:
২ জুন : ১ম টি২০, ওয়ার্নার পার্ক, সেন্ট কিটস
৩ জুন : ২য় টি২০, ওয়ার্নার পার্ক, সেন্ট কিটস
৫ জুন : ৩য় টি২০, ওয়ার্নার পার্ক, সেন্ট কিটস

মোস্তাফিজের প্রশংসায় মাশরাফি

ছন্দে ফিরলেন বাংলাদেশের হাসি মুখের ঘাতক মোস্তাফিজুর রহমান। দীর্ঘ নয় মাস ইনজুরিতে থাকার পর ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জ্বলে উঠলেন তিনি। আর তাকে স্বমহিমায় ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ম্যাচ শেষে ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, এই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেছে মোস্তাফিজ।
শুধু এই ম্যাচে নয় গত আড়াই বছর ধরেই ও আমাদের জন্য খুব ভালো করছে। আশা করি, ও এটা ধরে রেখে আরো বহুদূর যাবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছন্দে ফেরার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের সেই যাদু দেখিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট।

গুরুকে ছাড়িয়ে গেলেন শিষ্য

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৬ ওভার ৩ বল করে মাত্র ১৮ রানের বিনিময়ে দুই উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এ দুই উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে নড়াইল এক্সপ্রেসের উইকেট এখন ২২৮টি। তবে এ দুই উইকেট দিয়ে কিংবদন্তী পেসার ও বাংলাদেশের বর্তমান বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। ১৭৪ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ২২৮ উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি। শিষ্যর চেয়ে ওয়ালশ ৩১ ম্যাচ বেশি খেলেছেন। তিনি ২০৫ ম্যাচে শিকার করেছেন ২২৭ উইকেট। অন্যদিকে ওয়ালশের মতো আরেক কিংবদন্তী ও ভয়ঙ্কর পেসার স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস। ১৭২ ওয়ানডে খেলে ২২৫ উইকেট শিকার করেন এ ক্যারিবিয়ান।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মাশরাফির উইকেট সংখ্যা ছিল কার্টলি অ্যামব্রোসের সমান। ওই ম্যাচে এক উইকেট নিয়ে অ্যামব্রোসকে টপকে যান তিনি। এবার টপকে গেলেন ওয়ালশকে। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় মাশরাফির অবস্থান এখন ৩০ নম্বরে। তার উপরে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার ড্যারেন গফ। তার উইকেট ২৩৫টি। তবে পেসারদের মধ্যে বাইশ নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করা এ বোলার। ২২২ উইকেট নিয়ে তালিকায় ৩৩ নম্বরে রয়েছেন বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান।

সামাজিক যোগাযোগ সাইট কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম আর স্ন্যাপচ্যাট। এমনটাই অশনিসঙ্কেত পাঠিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর একটি নয়া রিপোর্ট। তারাই জানাচ্ছে, সবকটি সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ইউটিউবের প্রভাব সবথেকে ভালো। গবেষণাটি করেছে ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ সংক্ষেপে আরএসপিএইচ। যুবক-যুবতীদের মননে সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো ও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে তারা। গোটা ব্রিটেন জুড়ে ১৪-২৪ বছর বয়সী প্রায় ১,৫০০ ছেলেমেয়ের ওপর সমীক্ষাও চালিয়েছে একটি। তাতে দেখা যাচ্ছে, উদ্বেগ, একাকীত্ব ও হতাশা সংক্রান্ত বিষয় সামাল দিতে সবকটি সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সবথেকে কার্যকর ইউটিউব।
তারপর টুইটার আর ফেসবুক। স্ন্যাপচ্যাট আর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব সবথেকে ক্ষতিকর। আরএসপিএইচ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা সিগারেট, মদের থেকেও বেশি। যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে তার ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এমন কী আছে ইনস্টাগ্রাম আর স্ন্যাপচ্যাটে, যার ফলে তরুণ প্রজন্মের মানসিক ক্ষতি হচ্ছে? আরএসপিএইচ জানিয়েছে, দুটি মাধ্যমই সম্পূর্ণ ইমেজধর্মী। এর ফলে হয়তো ছেলেমেয়েদের মধ্যে নিজেদের অসম্পূর্ণতা নিয়ে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

শুধু চিকুনগুনিয়া নয়, ডেঙ্গুও ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে

শুধু চিকুনগুনিয়া নয়, ডেঙ্গুও ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে। এডিস মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু (ডেঙ্গি) এ দুটি জ্বরই মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসছেন। গত এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতর ২২ জন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দিতে পারলেও চলতি মে মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। বেসরকারি হাসপাতালের অথবা প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তারা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সাথে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও পাচ্ছেন। ভাইরাসজনিত এ জ্বরের ব্যবস্থাপনা এখন জানা আছে বলে চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ২০০০ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়েও যাচ্ছেন না রোগীরা। ২০০০ সালে ঢাকায় পাঁচ হাজার ৫৫১ ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ওই বছর ৯৩ জন মারা যান এ জ্বরে রোগটি বাংলাদেশে নতুন বলে। তখন চিকিৎসকেরা চিকিৎসা জানতেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্তদের আমরা হাসপাতালে ভর্তি করতে চাই না। কারণ এটা ঘরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এ সম্বন্ধে এখনকার মানুষ বেশ সচেতন।
জ্বরের রোগী ভর্তি করলে আমরা অন্য গুরুতর রোগীর চিকিৎসা করতে পারব না। সরকারি হাসপাতালে না রাখলেও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়ার প্রায় একই ধরনের চিকিৎসা। কেবল প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ব্যথানাশক অথবা স্টেরয়েড দেয়া যাবে না রোগীকে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া জ্বরই হোক তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশার বিস্তার কমাতে হবে। সিটি করপোরেশন হয়তো ঘরের বাইরের মশা মারতে পারবে কিন্তু ঘরের মানুষকেই ঘরের মশা মারার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই ভাইরাসজনিত ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এডিস মশার দুইটি প্রজাতি এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবুপিকপকটাসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছেন আবার মানুষ থেকে মশার মাধ্যমে আসছে। পরে মশা থেকে আবার মানুষকে সংক্রমিত করছে। একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে বার বার ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও একবার চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে আর কখনো আক্রান্ত ব্যক্তি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। অন্যান্য মশা ময়লা-নোংরা পানিতে বংশ বিস্তার করলেও এডিস মশা এর ব্যতিক্রম, পরিষ্কার পানিতে ডিম ছাড়ে। সহজে চোখে পড়ে না এমন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এ মশারা ডিম ছাড়ে। ফলে শহরে বিশেষ করে অভিজাত এলাকায় এডিস মশা বেশি দেখা যায়।
ভবিষ্যতে হয়তো এটা শহর কিংবা অভিজাত এলাকায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আইইডিসিআরের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের দেশে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী (প্রধানত এডিস) মশার বিস্তার ঘটছে। মশার বংশ বিস্তার রোধ করতে না পারলে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এটা দিন দিন হুমকি হয়ে দেখা দেবে। মশা যাতে বেড়ে উঠতে না পারে সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। এডিস উষ্ণতা ও আর্দ্রতার মধ্যে বংশ বিস্তার করে থাকে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আর্দ্রতা ও উষ্ণতা ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এ মশার বংশ বিস্তারে অনুকূল ছিল। কিন্তু মে-জুন মাসের উষ্ণতা ও আর্দ্রতায়ও এ মশা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। বৃষ্টি কমে গেলে এডিস মশার সংখ্যাও কমে যাবে। এডিস মশা কমাতে হলে একই সাথে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কথাও চিন্তা করতে হবে।’ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিনের (নিপসম) মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ জানিয়েছেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে রাখা সম্ভব। বাহক (মশা) না থাকলে ডেঙ্গুজ্বরও হবে না। ডেঙ্গু স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এর প্রচ্ছন্ন হুমকি আরো ব্য্পাক। এখনই সাবধান হতে হবে এবং সব ধরনের মশা বিশেষ করে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি জানান, একটা সময় ডেঙ্গু কেবল শহর এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এটা মফস্বল শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ছোট শহরেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এখান থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ ডেঙ্গুর চিকিৎসা সম্বন্ধে মেডিসিনের অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন,
ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে। পানি অথবা অন্যান্য তরল পান করতে না পারলে শরীরে স্যালাইন (আইভি ফুইড) দিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতে রেখেও হতে পারে। বেশি দুর্বল বা শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে, নাক ও দাঁত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে হাসপাতালে নেয়াই ভালো। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু দুর্বলতা আরো কিছু দিন থেকে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত জ্বর বলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। কেবল লক্ষ্মণ বুঝেই চিকিৎসা দিতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরে এক শতাংশের কম মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। জ্বর হলেই প্লাটিলেট কাউন্ট করার প্রয়োজন নেই। এটা লক্ষ্মণ দেখে চিকিৎসা করা যায়। বেশি জ্বর, মাথা ব্যথা ও ত্বকে র‌্যাশ উঠলে ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। ঢাকা ফিভার নামে ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর ১৯৭৭-৭৮ সালে অল্প কিছু ডেঙ্গু রোগী আসে হাসপাতালে। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৯৬-৯৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ২৫৫ জন জ্বরের রোগীর মধ্যে ১৩.৭ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়।

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সকালে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান। বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ সৌদি কর্মকর্তারা। সফরে সৌদি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আরব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সফরকে কেন্দ্র করে আরও ৫৬টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি বাদশা সালমান। তাদের সামনেও বক্তব্য দেবেন ট্রাম্প। তাই বলা যায়, এক সফরে পুরো মুসলিম বিশ্বের নেতাদের পাশে পাচ্ছেন ট্রাম্প। সুযোগ পাচ্ছেন তাদের মন জয়ের। সফরকালে সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প।
এ সময় অন্তত ১০টি মার্কিন তেল পরিষেবা কোম্পানির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর। সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির খবর আসতে পারে এ সফর থেকেই। ট্রাম্প গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশ বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে মিলিত হবেন। এ সময় সিরিয়া ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথা হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বেসামরিক মানুষের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আলোচনা করবেন তারা। মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিস্তার রোধের উপায় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন ট্রাম্প। এসব গোষ্ঠীর অবৈধ অর্থায়নের উৎস বন্ধে আলোচনা করবেন। এ আলোচনায় একসঙ্গে সব মুসলিম দেশের নেতাদের পাশে পাচ্ছেন ট্রাম্প। আর এটাই হবে মুসলিম বিশ্বের মন জয়ের কার্যকর সময়।

জাকির নায়েককে নাগরিকত্ব দিল সৌদি আরব

ভারতের আলোচিত ইসলাম প্রচারক ড. জাকির নায়েককে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দিয়েছে দেশটির সরকার। খবর দ্য মিডল ইস্ট মনিটরের। ইন্টারপোলের হাতে গ্রেফতার এড়াতে জাকির নায়েককে নাগরিকত্ব দেন সৌদি বাদশাহ সালমান। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেশটির পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জাকির নায়েকের পাসপোর্ট বাতিল করে তাকে গ্রেফতার করতে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে খবর বের হয়। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মুদ্রাপাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে গত ১৩ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ভারত সরকার। ওই সময় তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ভারতে তিনি আর ফিরবেন না। এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর জাকির নায়েক পরিচালিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার। গত বছর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলায় ঘটনায় আলোচনায় আসেন জাকির নায়েক। নিহত দুই হামলাকারী তার অনুসারি বলে দাবি করা হয়।

ফের ইরানের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রুহানি

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ড. হাসান রুহানি। শুক্রবার দেশটিতে ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। গণনার প্রাথমকি ফলাফলে হাসান রুহানি বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা দিয়েছে, মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৬ লাখ ভোট পেয়েছেন হাসান রুহানি, যা মোট ভোটের অর্ধেকেরও বেশি। খবর বিবিসির। নির্বাচনী কর্মকর্তা আলী আসগর আহমাদী জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার ২টার মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে। ২০১৩ সালে রুহানি প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দেশটি পারমাণবিক ইস্যুতে বেশ কোণঠাসা ছিল। কিন্তু তার সময়ে এ ব্যাপারে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়। এর অগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৫০০ ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি পঞ্চম সিটি কাউন্সিল ও স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছে ইরানি জনগণ।
কোথাও কোথাও সময় ৫ ঘণ্টা বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৪ কোটি ভোট কাস্ট হয়েছে। নির্বাচনী অফিস জানিয়েছে, প্রার্থী এবং অংশগ্রহণকারীদের অনুরোধেই ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়। ইরানের বাইরে বিশ্বের ১০২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ইরানি নাগরিকরাও তাদের প্রেসিডেন্টকে বেছে নিতে ভোট দিয়েছেন। ওইসব দেশে ভোটগ্রহণের জন্য স্থাপন করা হয় ৩১০টি কেন্দ্র। এবারের নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও ইরানের বিচার বিভাগের সাবেক উপপ্রধান ইব্রাহিম রাইসি, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আগা মিরসালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হাশেমি তাবা। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সংস্কারপন্থী প্রার্থী ড. হাসান রুহানি এবং ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারের তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম রাইসির মধ্যে। ইরানের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জন।