Wednesday, October 9, 2013

কালের পুরাণ- হটানোর গণতন্ত্র, ফাটানোর রাজনীতি by সোহরাব হাসান

বাংলাদেশে ৪২ বছর ধরে এক অভিনব গণতন্ত্র চলছে, যার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, পদ্ধতি ও আচার-আচরণের কোনো মিল নেই। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন বা বাছাইয়ের অবাধ স্বাধীনতা।

রাজনীতি- নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংকট by মইনুল ইসলাম

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনেই (১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে) বাংলাদেশের জনগণ ক্ষমতাসীন দল বা জোটকে প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

দাহকালের কথা- চে: হৃদয় যাঁর পৃথিবীসমান by মাহমুদুজ্জামান বাবু

২০০৩ সালে অক্টোবর বিপ্লবের ৮৫তম বার্ষিকীতে আমন্ত্রিত হয়ে মস্কো গিয়েছিলেন চে গুয়েভারার মেয়ে আলেইদা গুয়েভারা। ইজভেস্তিয়া পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, স্বদেশে তিনি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন।

ডেডলাইন ২৫শে অক্টোবর, অনড় দু’পক্ষই by আশরাফ খান

সরকারের বিদায়ের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যেকার বিরোধ ততই তীর্যক ও গভীরতর হচ্ছে। এর মধ্যেও সমঝোতার নানা চেষ্টাও ভিতরে ভিতরে হচ্ছে।

ঈদের পরে কি হচ্ছে? by আমীর খসরু

নিশ্চিত মনে, শঙ্কাহীনভাবে ঈদ পালনের মতো অবস্থাও এখন আর নেই। কি হবে ঈদের পরে, কি হবে ২৫ অক্টোবরের পরে, একদলীয় নির্বাচন কি অনুষ্ঠিত হবেই - এমন সব প্রশ্ন সবার মাঝেই।

স্মরণ- তুলনাহীন রাজনীতিজ্ঞ by মোজাম্মেল হোসেন

ছাব্বিশ বছর আগের এক সকাল। শরতের ঝকঝকে রোদ। রুদ্ধশ্বাসে ছুটে আসা ভগ্নদূতের মুখে খবরটি পেয়ে আমার অনুভূতি হয়েছিল, এ যেন মধ্যগগনে সূর্যাস্ত। তাঁর বয়সের মধ্যাহ্ন। পঞ্চাশও পূরণ করেননি।

চীনা দূতের প্রস্তাবে খালেদার সায় by কাফি কামাল

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান সঙ্কট নিরসনে মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে কূটনীতিক মহল। সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে এমন উদ্যোগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন।

অসম্ভবকে সম্ভবের পথে নি:স্বার্থ ভালোবাসা by কামরুজ্জামান মিলু

অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ। এটা শুধু বিজ্ঞাপনের সংলাপই নয় এবার অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে অনন্তর ছবি `নি:স্বার্থ ভালোবাসা`।

মুফতি হারুন ও দেহরক্ষীর রিমান্ড শুনানি চলছে

চট্টগ্রাম মহানগরীর আলোচিত লালখান ‍বাজার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলামের ছেলে মুফতি হারুন ইজহার ও তার দেহরক্ষী জুনায়েদকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর-বিক্ষোভ by সাজিদ হোসেন ও এম সাদেক

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-ভাঙচুর-বিক্ষোভ

হটানোর গণতন্ত্র, ফাটানোর রাজনীতি

বাংলাদেশে ৪২ বছর ধরে এক অভিনব গণতন্ত্র চলছে, যার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, পদ্ধতি ও আচার-আচরণের কোনো মিল নেই। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন বা বাছাইয়ের অবাধ স্বাধীনতা। গণতন্ত্র হলো জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন। আর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হলো জনগণের দ্বারা ‘আমাদের’ জন্য ‘আমাদের’ শাসন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের মহাবিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের প্রতিনিধি বাছাইয়ের পথটা দিনে দিনে কঠিন করে তুলেছেন। এখন নির্বাচনের কথা শুনলেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘সর্বোৎকৃষ্ট’ সংবিধান রচনা করলেন, তারপর সেই সংবিধান ঝেঁটিয়ে বিদায় করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হলো, তারপর দুই দিগিবজয়ী সেনাপতি দেশবাসীকে সাচ্চা গণতন্ত্র উপহার দেওয়ার মহান ব্রত নিয়ে ক্ষমতায় এসে যা প্রতিষ্ঠা করলেন, তার নাম একনায়কতন্ত্র। নব্বইয়ে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বৈরশাসককে বিতাড়িত করে ফের সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এলেও নিজেরা ‘গণতান্ত্রিক’ হতে পারেননি। সরকারি বা বিরোধী দল কেউই গণতন্ত্রের মৌল নীতি মানেনি, এখনো মানতে চাইছে না। তারা জয়ী হওয়ার জন্য প্রতিবার খেলার নিয়ম পাল্টে ফেলছে।
যে যার সুবিধামতো নিয়ম করছে, ভাঙছে। আমাদের নেতা-নেত্রীরা কথায় কথায় নাগরিক সমাজের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন, তাদের ‘পরামর্শ’কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, গণমাধ্যমকে তুলাধোনা করেন, কিন্তু তাঁরা যে তাঁদের সুনির্মিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনটি কীভাবে করবেন, সেই বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেননি, সে কথা একবারও স্বীকার করেন না। দুই দশক ধরে তাঁরা একই স্থানে মার্কটাইম করে চলেছেন। ভোট চুরি বন্ধ করতে তাঁরা একবার তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা চালু করেন, আরেকবার সেই ব্যবস্থাকেই ভোট চুরির মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁরা একবার আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা গড়েন, আরেকবার সুযোগ পেয়ে সেই ব্যবস্থাকে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেন। এই ভাঙা-গড়ার খেলায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটিকেই তাঁরা প্রায় অকার্যকর ও অপাঙেক্তয় করে ফেলেছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেকে দেশের ও জনগণের অতন্দ্রপ্রহরী ভাবে। তাদের দাবি ‘আমরা জয়ী হলেই গণতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং অন্যরা জয়ী হলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।’ আদতে গণতন্ত্রের নামে তাঁরা দেশ ধ্বংসের মহড়াই দিয়ে চলেছেন।
গণতন্ত্রের সার কথা হলো সমঝোতা, আলোচনা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু বাংলাদেশের মহা-মহামহিম রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনোই এসব আমলে নেন না। তাঁরা যুক্তির চেয়ে পেশিশক্তিকে অধিক গুরুত্ব দেন। তাঁরা বরাবরই গায়ের জোরে একে অপরের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। তাঁরা অপরের ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নিজের বিজয় দেখতে ভালোবাসেন। গণতন্ত্রে যেখানে সবাই মিলে দেশ শাসন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার কথা, সেখানে স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের রাজনীতিকেরা ‘শত্রুতত্ত্ব’ ও ‘দেশবিক্রি তত্ত্ব’ প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। গণতন্ত্রে সবার জন্য আইন সমান হবে। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সিপাহশালারেরা বরাবরই উল্টো নিয়মে চলছেন। তাঁরা বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে আইন করেন না। আইন করেন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে। গণতন্ত্রে ক্ষমতায় থাকতে একরকম আইন আর বিরোধী দলে থাকতে আরেক রকম আইন, সেটি হতে পারে না।
একবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের, আরেকবার সেই মামলা প্রত্যাহারের নামে চোর, ডাকাত ও খুনিদের জেলখানা থেকে বের করে আনা চলতে পারে না। অথচ দুই দলই পালা করে সেই কাজটি করে আসছে। বিরোধী দলের নেতারা বলতে শুরু করেছেন, ২৫ অক্টোবরের পর আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়েও পার পাবেন না। আগে সরকার হটাও, তার পর নির্বাচন। ২৫ অক্টোবরের পর দেশ চলবে খালেদা জিয়ার কথায়। বিএনপির এক নেতা তো ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘নভেম্বরের পর দেশে আওয়ামী লীগ সরকার বলে কিছু থাকবে না।’ এমনকি অলৌকিক জাদু তাঁদের হাতে আছে যে নির্বাচন ছাড়াই ২৫ অক্টোবরের পর তাঁরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে যাবেন। আবার ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো নেতা এই বলে হুংকার ছাড়ছেন যে, নির্বাচনে কে এলো না এলো, তাতে কিছু যায় আসে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই নির্বাচন হবে। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির নেতারাও এ রকম হুংকার ছেড়েছিলেন। ২০০৭ সালে তাঁরা নির্বাচন করতে পারেননি। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পারবে কি?
আর একতরফা নির্বাচন হলেও তাতে গণতন্ত্র বাঁচবে না। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলকে বুঝতে হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেউ কারও শত্রু নয়। নিজ নিজ অবস্থানে থেকে তারা নিজ নিজ কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। পরিকল্পনার কথা জানাবেন। জনগণ যার কর্মসূচি পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে, নির্বাচিত করবে। কিন্তু আমাদের সদাশয় সরকারি দল ও অতি মান্যবর বিরোধী দল জনগণের ওপর মোটেই ভরসা রাখতে পারছে না। সরকারি দল চাইছে না, বিরোধী দল নির্বাচনে এসে তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিক। আবার বিরোধী দল পারলে এখনই একটি বিজয় মিছিল বের করে। কিন্তু সেই মিছিলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিরা থাকবেন কি না, সে কথা স্পষ্ট করে বলছেন না। জনগণের ভয় সেখানেই। গণণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই জাতীয় সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু বিরোধী দল ধনুর্ভঙ্গ পণ করেছে, তারা আওয়ামী লীগের সংসদে আর মুখ দেখাবে না। কথা বলবে না। সম্প্রতি সরকার বেশ কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইন পাস, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস।
এসবের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও বিরোধী দল সংসদে গিয়ে আলোচনার দাবি জানানোরও প্রয়োজনবোধ করছে না। তাঁরা মনে করেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। যেমন একদা আওয়ামী লীগও মনে করত, বিএনপি-জামায়াতকে বিদায় দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। আমাদের দেশদরদি দল ও জননন্দিত নেতা-নেত্রীরা কখনোই নিজেদের বিরোধী দলে ভাবতে পারেন না। তাই দেশের গণতন্ত্রের মূল সমস্যা তত্ত্বাবধায়ক থাকা না-থাকা নয়, মূল সমস্যা হলো একে অপরকে সহ্য করতে না পারা। তাঁরা নিজেদের দেশপ্রেমিক ভাবেন, আর অন্যদের ঘোরতর শত্রু। এই শত্রু শত্রু খেলায় আর যা-ই হোক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন, একমাত্র তাঁর সরকারই ১৯৯৬ সালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশে আর কখনোই ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ হয়নি। তাঁর এই কথা যেমন অসত্য নয়, তেমনি অসত্য নয় সেই হস্তান্তর-প্রক্রিয়া নিয়ে নানা টালবাহানাও। তিনি মদিনায় বসে তিন মাস আগে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও পরে সেই কথা ফিরিয়ে নিয়েছেন। যেমন সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হওয়ার কথা বলে এখন সংসদ রেখেই নির্বাচন করার কথা বলছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভূতপূর্ব নমুনা। রাজনৈতিক দলগুলো যখন তীব্র রেষারেষিতে লিপ্ত, একে অপরকে দেখে নেওয়ার নিরন্তর হুমকি দিয়ে আসছে, তখন কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবে, সেটাই স্বাভাবিক। নেতা-নেত্রীদের তীব্র বাক্যবাণ যখন জাতির হূৎপিণ্ডকে রক্তাক্ত করছে, তখন কুচক্রীরা সত্যিকার রণক্ষেত্রে নেমে পড়েছে। গত সোমবার চট্টগ্রামের লালখান বাজারের জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিংবা নিছক দুর্ঘটনা নয়। সেখানে বোমা তৈরির সরঞ্জামের পাশাপাশি কিছু তাজা বোমাও পাওয়া গেছে। দীনের বাণী শেখানোর জন্য যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের কেন বোমা বানানো শেখানো হচ্ছে? মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীই বা কেন গা ঢাকা দিলেন?
গতকাল প্রথম আলোতে ধ্বংসস্তূপের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ল্যাপটপের বিস্ফোরণের নয়। দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তাহলে কি বাংলাদেশেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো আত্মঘাতী তালিবানি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল? এ ঘটনা আমাদের ১৯৯৯-২০০৬ পর্বের বোমাবাজি, গ্রেনেডবাজির কথাই মনে করিয়ে দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সমাবেশে বলেছেন, ‘মনোনয়নের চিন্তা পরে করা যাবে। এখন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার হটাতে হবে। ওদিকে সরকারি দলের এক নেতা বলেছেন, বিএনপির প্রতিরোধের বিরুদ্ধে তারাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এই যে সারা দেশে হটানো-থামানো ও প্রতিহত করার গণতন্ত্রের মহড়া নেতারা দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমরা সাধারণ মানুষ ভীত, শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত না হয়ে পারি না। দেশে এখন যে গণতন্ত্রের মহড়া চলছে, তাকে বলা যায় হটানোর গণতন্ত্র। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হটাতে চায়। কেউ পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে। কেউ রাজপথে আন্দোলন করে। আর সেই সুযোগে বোমা ফাটানোর রাজনীতির অনুশীলনও চলছে লালখানে এবং হয়তো অচিরে তা সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

চে: হৃদয় যাঁর পৃথিবীসমান

চে গুয়েভারা
২০০৩ সালে অক্টোবর বিপ্লবের ৮৫তম বার্ষিকীতে আমন্ত্রিত হয়ে মস্কো গিয়েছিলেন চে গুয়েভারার মেয়ে আলেইদা গুয়েভারা। ইজভেস্তিয়া পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, স্বদেশে তিনি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। তাঁকে ‘বিশ্বব্যাপী কিউবার রাষ্ট্রদূত’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ জন্য তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না। ইজভেস্তিয়ার পক্ষ থেকে আলেইদার প্রতি প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার বাবাকে এখন রাশিয়া ও অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। টি-শার্ট, পোস্টার, কাপে ব্যবহার করা হচ্ছে তাঁর ছবি। এটা আপনি কী চোখে দেখেন?’ উত্তরে আলেইদা বলেছিলেন, ‘কিউবায় চে গুয়েভারার স্মৃতি সংরক্ষণকেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সে প্রতিষ্ঠানই আমার বাবাকে নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। এসব বিষয় থেকে অর্থ সংগ্রহের কোনো আগ্রহ আমাদের নেই। আমরা শুধু চাই, চেকে শুধু বাণিজ্যের প্রতীক না করে এমন কিছু করা হোক, যেন তার সামাজিক অর্থ থাকে।’ আরেক প্রশ্নের উত্তরে আলেইদা বলেছিলেন, ‘খুব কম মানুষই চে গুয়েভারার কোমল দিকটি সম্পর্কে জানে। তিনি বাবা হিসেবে, স্বামী হিসেবে, সন্তান হিসেবে খুবই কোমল হূদয়ের একজন মানুষ ছিলেন। বেশির ভাগ মানুষই তাঁকে বিপ্লবী, সংগ্রামী বলে জানে, কিন্তু তিনি একজন কোমল হূদয়ের মানুষও ছিলেন।
যখন তিনি শেষবারের মতো বলিভিয়ায় যুদ্ধ করতে গেলেন, তখন তাঁর অনুভূতিতে মৃত্যু-আশঙ্কাও ছিল। তাই তিনি তাঁর স্ত্রীর জন্য, সন্তানদের জন্য এবং মা-বাবার জন্য চিঠি রেখে গিয়েছিলেন। খুবই স্পর্শকাতর ও কোমল সেই চিঠিগুলো।’ বাবার লেখা চিঠিগুলো সম্পর্কে সবিস্তারে জানাতে গিয়ে আলেইদা জানিয়েছিলেন যে বাবা তাঁকে লিখেছিলেন, ‘আমার ছোট্ট আলেইদা! তুমি অবশ্যই বড় হয়ে উঠবে এবং মাকে বাড়ির সব কাজে সাহায্য করবে। তুমি দাদিকে বাড়ির সব কাজে সাহায্য করবে। স্কুলে খারাপ কথা বলবে না...।’ বাবা সম্পর্কে আলেইদার আরও স্মৃতিচারণা: ‘মনে আছে, আমার খুবই ঈর্ষা হয়েছিল আমার ভাই এর্নেস্তোকে লেখা বাবার চিঠিটি দেখে। সেখানে বাবা লিখেছিলেন: “তুই বেড়ে ওঠ। বেড়ে ওঠার পরও যদি যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে আমি আর তুই একসঙ্গে যুদ্ধ করব। কিন্তু তখন যদি যুদ্ধ থেমে যায়, তাহলে আমি আর তুই মিলে ছুটি কাটাতে যাব চাঁদে।” বুঝতে পারছেন, বাবা আমাকে রান্নাঘরে বদ্ধ রাখতে চান আর ওকে নিয়ে বেড়াতে যেতে চান চাঁদে! কী অন্যায় আচরণ! সে সময় এটাই ছিল আমার উপলব্ধি। তাঁর মৃত্যুর পর আমি বাবার সরকারি ক্যাবিনেটটিতে যাই, তখন টেবিলের কাচের নিচে চারটি ছবি আবিষ্কার করি।
ছবি চারটির তিনটিতেই ছিলাম আমি। তখন আমি আবার বাবাকে ক্ষমা করে দিই। তিনি আমাকে চাঁদে নিয়ে যেতে চাননি, কিন্তু তিনি আমাকে রেখেছিলেন হূদয়ের গভীরে।’ ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নিয়েছিলেন এর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা, পরে যাঁর নাম হয়ে উঠল চে গুয়েভারা। জন্মেছিলেন অভিজাত ও বিত্তশালী পরিবারে। শৈশবেই আক্রান্ত হন শ্বাসকষ্ট রোগে, যা তিনি বহন করেছেন আমৃত্যু। ১৯৪৮ সালে চে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে ভর্তি হন বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারুণ্যের ঝলমলে দিনগুলোয় মগ্ন হয়ে পাঠ করেছেন পাবলো নেরুদা, সিগমন্ড ফ্রয়েড আর বার্ট্রান্ড রাসেলদের। তখন থেকেই তাঁর লেখালেখির সূচনা। ১৯৫১ সালের শুরুর দিকে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে চে বেরিয়ে পড়েন লাতিন আমেরিকা ঘুরতে। এই ভ্রমণ পাল্টে দেয় তাঁকে। লাতিন আমেরিকাজুড়ে তখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দুঃশাসন। ভেনেজুয়েলা, পেরু, চিলি ও বলিভিয়া তখন সাম্রাজ্যবাদী শোষণে ধুঁকছে। অমানবিকতার ছবিগুলো চে দেখলেন প্রসারিত চোখে। বিপ্লব অনিবার্য—এই বোধে পৌঁছাতে চে দীক্ষা নিয়েছিলেন মার্ক্সবাদে। গুয়াতেমালায় গিয়ে টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্টার পর চলে গিয়েছিলেন মেক্সিকোয়, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। সেখানেও একই দৃশ্য। লাতিন আমেরিকাজুড়ে চলমান সিআইএর হিংস্র তাণ্ডবলীলা।
সবখানেই শ্রেণীবৈষম্য আর শ্রেণীশোষণ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন। তীব্র সংবেদনশীল চে বিপ্লবের দাউ দাউ দাহ বুকে অস্থির হয়ে উঠলেন। ১৯৫৫ সালের জুলাইয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা হলো তাঁর। কাস্ত্রো তখন কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে লড়ছেন। তাঁর গেরিলা দলে যোগ দিলেন চে। ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর কিউবার উদ্দেশে যাত্রা করে কাস্ত্রোর গেরিলা দলের যুদ্ধজাহাজ গ্র্যানমা। ১৯৫৭ সালে কাস্ত্রোর গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার নির্বাচিত হলেন। ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সান্তা ক্লারার যুদ্ধে তাঁর সফল নেতৃত্ব যুদ্ধের নিয়তি নির্ধারণ করে দিল। কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তা সদলবলে পালালেন কিউবা ছেড়ে। বিপ্লব হলো কিউবায়। সফল বিপ্লবী চের বুকে এখন অন্য দেশগুলোতে বিপ্লবের স্বপ্ন। কিউবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লেন ১৯৬৫ সালে। কঙ্গোতে কয়েক মাস থেকে ফিরলেন কিউবায়, তারপর আবার যাত্রা, ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে পৌঁছে গেলেন বলিভিয়ায়। যে বলিভিয়ার সামরিক শাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা বিপ্লব করতে চাইলেন, সেই বলিভিয়ার কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাঁকে ভেবেছিল আগন্তুক মাত্র।
অসহযোগিতা ছিল বলিভিয়ান কমিউনিস্ট পার্টিরও। একটি বিচ্ছিন্ন গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন চে। আহত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রশিক্ষিত বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দী হলেন তিনি। বন্দী অবস্থায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর। ১৯৮৭ সালের ৮ অক্টোবর চের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বক্তৃতায় ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘...বছরে কেবল একবার চের প্রতি সম্মান জানানো হয়, এমন নয়। কিংবা ৫, ১০, ১৫ বা ২০ বছরে একবার তাঁকে সম্মান জানানো হয়—তেমনও নয়। তাঁর প্রতি সম্মান জানানো হয় প্রতিবছর, প্রতি মাসে, প্রতিদিন, প্রতিটি কারখানায়, বিদ্যালয়ে, সামরিক ব্যারাকে, বাড়িতে। সম্মান জানায় শিশুরা, অগ্রপথিকেরা। “কমিউনিজমের অগ্রপথিক, আমরা সবাই চে হব”—এই স্লোগান ২০ বছরে কত হাজার-লাখোবার যে দেওয়া হয়েছে, তার হিসাব নেই।’ চে গুয়েভারা যে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন, তা আজও দুঃশাসনের অন্ধকারে ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলছে। তিনি বলতেন, ‘আসতা লা ভিকতোরিয়া সিয়েম্প্রে’। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। তিনি আরও বলেছেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায়কে সব অবস্থায়, সব সময় গভীরভাবে অনুভব করার সামর্থ্য অর্জন করো। এটাই একজন বিপ্লবীর সবচেয়ে সুন্দর গুণ।’
মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।
che21c@yahoo.com

তুলনাহীন রাজনীতিজ্ঞ

মোহাম্মদ ফরহাদ
ছাব্বিশ বছর আগের এক সকাল। শরতের ঝকঝকে রোদ। রুদ্ধশ্বাসে ছুটে আসা ভগ্নদূতের মুখে খবরটি পেয়ে আমার অনুভূতি হয়েছিল, এ যেন মধ্যগগনে সূর্যাস্ত। তাঁর বয়সের মধ্যাহ্ন। পঞ্চাশও পূরণ করেননি। দেশের রাজনৈতিক আকাশও তখন তপ্ত, স্বৈরশাসন উৎখাতের গণ-আন্দোলনে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের আকাশের আলো ওই মুহূর্তে মিলিয়ে গিয়েছিল। আমরা ছুটেছিলাম কেউ পল্টনে পার্টি অফিসে, কেউ কাকরাইলে তাঁর বাসার দিকে। পূর্ববর্তী ৩৫ বছর যে মানুষটি দেশবাসীর স্বার্থের সকল গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন নিরন্তর,
মাত্র ১৬ বছর বয়সে যাঁর জেলে যাওয়া শুরু, মার্ক্সবাদী আদর্শে মেহনতি মানুষের বিপ্লবী সংগ্রামে রত থেকে যিনি বিকশিত হয়ে ওঠেন জাতীয় পর্যায়ের অপরিহার্য নেতা রূপে, তাঁর জীবনাবসান ঘটে অকালে। মোহাম্মদ ফরহাদ। তখন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদের সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে শুধু কমিউনিস্ট বা বাম-প্রগতিশীল নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব দলের নেতা-কর্মী এবং বুদ্ধিজীবীসহ সব রাজনীতিসচেতন মানুষের মধ্যে শোক দেখা দিয়েছিল, শূন্যতাবোধ সৃষ্টি হয়েছিল। একজন কমিউনিস্ট বিপ্লবীর তিরোধানে এমন সর্বজনীন প্রতিক্রিয়া বিরল। কিন্তু আমাদের জাতীয় সংগ্রামগুলোর পটভূমিতে মোহাম্মদ ফরহাদের ওই অবস্থানটি তৈরি হয়েছিল আগেই। আর সে-সময় ১৫ দল ও সাতদলীয় দুটি জোটের যে স্বৈরাচারবিরোধী ‘যুগপৎ’ আন্দোলন চলছিল, অর্থাৎ পৃথক প্ল্যাটফর্ম থেকে একই কর্মসূচি দেওয়া, সেই উদ্ভাবনী কৌশলটির উদ্্গাতা ছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ। পাঁচ দফা দাবিনামার খসড়া প্রণেতাও তিনি। আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্যের তিনি অনুঘটক ও ভারসাম্য বিধায়ক। অল্প দিনেই একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবেও তখন তিনি স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন পরে সরকারের সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, যিনি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না, আমাকে বলেছিলেন, ‘একজন পটেনশিয়াল ন্যাশনাল লিডারের অল্প বয়সে মৃত্যু হলো।’
তাঁর বলা ওই অল্প কয়েকটি শব্দে মোহাম্মদ ফরহাদ সম্পর্কে অনেক মানুষের মূল্যায়ন ধ্বনিত হয়েছিল। মোহাম্মদ ফরহাদ আমাদের দেশের এক ঐতিহাসিক কালপর্বের অন্যতম প্রধান সংগঠক-রাজনীতিবিদ। এটা শুধু রাজনৈতিক কর্মী তৈরি, তাদের আদর্শে দীক্ষিত ও সংগঠিত করা এবং লক্ষ্যাভিমুখী বহুবিধি সংগঠন-আন্দোলন গড়ে তোলার অর্থে নয়, বরং তাঁর অবস্থান ও অবদান চিহ্নিত থাকবে জাতীয় মুক্তি ও গণমানুষের শোষণমুক্তির ধারাবাহিক সংগ্রামে একটি পর্যায়ের গুণগত পর্বান্তর, রূপান্তর ও উন্মোচনের রূপকার হিসেবে। দুটি ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্টতর: প্রথমত, সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অভিঘাতে এখানে বিপর্যস্ত সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের সংগ্রামের ছিন্ন সূত্রকে পুনরায় গেঁথে তুলে তাকে জাতীয় আন্দোলনের মূল ধারায় সন্নিবেশিত করা; দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক প্রবণতার অংশরূপেই গত শতকের ষাটের দশকে স্ফুরিত চিন্তা-চেতনা-দর্শন-বুদ্ধিবৃত্তি-মনন-স্বপ্ন-সংস্কৃতির মহা যুবজাগরণকে দেশের হাজার হাজার তরুণের মনে স্থাপন করা ও তাদের সক্রিয় করা। এই দুটি কাজ পৃথকভাবে দৃষ্টিগোচর হলেও পৃথক ছিল না, ছিল অঙ্গাঙ্গি। নব্বইয়ের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবির ভেঙে পড়ার বৈশ্বিক পরিবর্তনের ধারায় আমাদের জাতীয় পরিস্থিতিও অনেক বদলে গেছে। কিন্তু মানুষের মহৎ স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে না, ইতিহাসের কোনো ইতিবাচক অবদান চিরতরে হারায় না।
আজ আমাদের দেশের তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জাতীয় অগ্রগতি সাধনের যে পথে পা বাড়িয়েছে, অভিনিবেশ নিয়ে খুঁজে দেখলে সে পথের পাথেয়, উপায়, হাতিয়ার, কাজের ধারা, কৌশল ও উপাদানের জন্য মোহাম্মদ ফরহাদকে অনেক প্রাসঙ্গিক রূপে দেখতে পাবে তারা। দিনাজপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে ১৯৩৮ সালে স্কুলশিক্ষক বাবার ঘরে মোহাম্মদ ফরহাদের জন্ম। কলেজ পর্যন্ত শিক্ষা দিনাজপুরে। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ। ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নিজ হাতে লিখিত জীবনবৃত্তান্তের একাংশে তাঁর বিনীত ভাষ্য: ‘বাল্য বয়স থেকে আমার গোটা জীবনই হলো রাজনৈতিক জীবন। নীতি-আদর্শ, দল কখনো পরিবর্তন করি নাই। ’৫২-র বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনে কোনো না কোনোভাবে শরিক থেকেছি এবং এখনো আছি।’ মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন আমাদের কালের এক অনন্যসাধারণ রাজনৈতিক রণকৌশলবিদ। তাঁকে ১৯৬০-৬২-এর আইয়ুববিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মস্তিষ্ক’ বলে অভিহিত করা হয়। হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপন করে ওই আন্দোলনের তিনিই ছিলেন কর্মসূচি ও কৌশলপ্রণেতা প্রধান সংগঠক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচিকে ধারণ করে ছাত্রসমাজের ১১ দফায় পরিণত করার প্রধান রূপকার তিনি। ১৯৬৯-এ ‘গণ-অভ্যুত্থান’ শব্দচয়ন তাঁরই।
১৯৭১-এ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ার পূর্বচিন্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনী তৈরির পরিকল্পনাও তাঁরই। প্রতিভাধর ট্যাকটিশিয়ান হিসেবে তিনি আলোড়ন তুলেছিলেন স্বৈরশাসক এরশাদকে নির্বাচনের মাধ্যমে হঠানোর জন্য দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে সংসদের ১৫০: ১৫০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়ে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু ভয় পেয়ে এরশাদ একজনের পাঁচটির বেশি আসনে না দাঁড়ানোর বিধানের অধ্যাদেশ জারি করে নৈতিক পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন। গত দুই দশক দেশে নির্বাচনী গণতন্ত্র বহাল থাকলেও বিদ্বেষ-সংঘাতপূর্ণ গোঁয়ার্তুমির রাজনীতির ধারায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশলের নিম্নমান আমাদের পীড়িত করছে। রাজনীতিতে জ্ঞান, বুদ্ধি ও পরিশীলিত সংস্কৃতি আমরা দেখতে চাই। শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজের লক্ষ্যে রাজনীতির বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশস্ত ভিত হিসেবে গড়ে তুলছিলেন ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, নারী প্রভৃতি গণসংগঠন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে পার্টির সম্পর্ক গড়তেও তাঁর মনোযোগ ছিল গভীর। তিনি ছিলেন এক পরিপূর্ণ রাজনীতিজ্ঞ। সব কাজ বিপ্লবে নিবেদিত। জীবন উৎসর্গিত স্বদেশ, মানুষ ও মানবতার মুক্তি ও কল্যাণে। তাঁর জীবনদীপ নির্বাপিত হয়েছিল ৪৯ বছর বয়সে, ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর।
মোজাম্মেল হোসেন: সাংবাদিক।

একটি জীবন বাঁচাতে সাহায্য চাই

ড. শাহনাজ পারভীন
উজ্জ্বল, গাঁদা ফুলের নয়নাভিরাম সারির সামনে বসা এক সুশ্রী তরুণীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আমার কাছে মাস দুয়েক আগে বন্ধুত্বের অনুরোধ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি যেদিন সেই অনুরোধ গ্রহণ করি, তখনো কল্পনাও করিনি ড. শাহনাজ পারভীন নামের এই নারী লড়ছেন ক্যানসারের মতো এক দুরন্ত ব্যাধির সঙ্গে। ফেসবুকে শাহনাজের সঙ্গে বন্ধু হওয়ার দু-এক দিনের মধ্যেই আমার হোম পেজে আসা তাঁর নিউজ ফিড বা স্ট্যাটাস থেকে জানতে পারি, শাহনাজ এ মুহূর্তে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্তন ক্যানসার রোগের চিকিৎসাধীন রোগী। এমন কঠিন এক লড়াইয়ের মধ্যে থেকেই দেখি, শাহনাজ প্রতিদিন ফেসবুকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জীবন প্রেরণাদায়ী নানা স্ট্যাটাস বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেন। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ড. তান ইয়েহ ইউয়েন ও ড. কেভিন তে-ওর তত্ত্বাবধানে এ বছরের ২৮ জুন তাঁর একটি র‌্যাডিক্যাল ম্যাসটেকটমি বা অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ হয়। ২৮ জুলাই থেকে তিনি কেমোথেরাপি নেওয়া শুরু করেছেন, যা ছয় মাস অবধি চলবে। কেমোথেরাপির পর তাঁকে দুই মাস রেডিওথেরাপি ও পাঁচ বছর হরমোনথেরাপি নিতে হবে। ইতিমধ্যে নিজের কর্মজীবনের সঞ্চিত ও তাঁর ভাইদের দেয় অর্থ মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার পুরোটাই ব্যয় হয়ে গেছে। অথচ চিকিৎসার জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা তাঁর প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরে ছোট ভাইয়ের বাসায় থেকে হাসপাতালে যাওয়া-আসার সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। শাহনাজের মা মারা গেছেন ও অশীতিপর বাবা বৃদ্ধ বয়সের শেষ দিনগুলো গুনছেন।
ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের পূর্ণ অধ্যাপক ড. শাহনাজ পারভীন মাত্র ৪৪ বছরের জীবনেই শিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে উজ্জ্বল মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০০৫ সালে ৩৬ বছর বয়সে জার্মানির গিয়েশেনের জাস্টাস-লিয়েবিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কৃষিবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘এ গ্রেড’ নিয়ে মাস্টার্স এবং ১৯৯৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে পঞ্চম স্থান নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ফেলো নির্বাচিত হওয়া, ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে রিসার্চ মেথোডোলজিতে ফেলোশিপ পাওয়া, জার্মানিতে ডক্টরেট ফেলোশিপ নিয়ে ২০০১ থেকে ২০০৪ অবধি কাজ করা বা ২০১২-এর শেষ দুই মাস জার্মানিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মুকুটে কিছু উজ্জ্বল পালক। দেশের কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকের কাছে তাই আবেদন—আসুন, এই তরুণ নারীবিজ্ঞানীর মরণজয়ী যুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্যের হাত আমরা সবাই বাড়িয়ে দিই। ড. শাহনাজ পারভীনকে সাহায্যের ঠিকানা: ড. শাহনাজ পারভীন, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সুইফট কোড: পিইউবিএ.বিডি.ডিএইচ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, এসবি অ্যাকাউন্ট: ০১৪১১০১০৯৭৮৮৯।
অদিতি ফাল্গুনী, ঢাকা।

আবারও রক্তে লাল নীলনদের দেশ

মিসরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৫১ জন নিহত বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা কর্মীরা। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের। তবে প্রকৃত সংখ্যা কত তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে মুরসির দল ইসলামী ব্রাদারহুডের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সোমবার সিনাইয়ে টহলরত সেনাদের ওপর বিদ্রোহীরা হামলা করলে ৫ সেনাসহ দুইজন বেসামরিক লোক মারা যায়। এএফপি ও প্রেসটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২৬৮ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর কায়রো থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৪২৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিসরীয়দের ঐতিহাসিক অক্টোবর যুদ্ধের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানস্থলে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরাও একটি সমাবেশ আহ্বান করলে সেখানে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী পরে তাদের হটিয়ে দেয়।
সে সময় মুরসি সমর্থকরা স্লোগান দিয়ে ওই স্থানে ঢোকার চেষ্টা করে। এরপর সংঘর্ষ কায়রোর অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। কায়রোতে সংঘর্ষের পর মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা শহরের অন্যান্য অংশে এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করে। ওইসব স্থানেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বর আক্রমণাক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। তারেক নামে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন কর্মী, যিনি সেনাবাহিনীর একজন রিজার্ভ অফিসার ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে যা করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর নীতির মধ্যে পড়ে না। মিসরের সেনাবাহিনী অন্য দেশের শত্র“র বিরুদ্ধে লড়বে, কিন্তু নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কেন লড়বে তারা?’মিসরের ইতিহাসে প্রথম অবাধ নির্বাচনে জয়ী প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ৩ জুলাই উৎখাত করার পর থেকেই তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে ব্রাদারহুড ও মুরসি সমর্থকরা। এরপর তাদের ওপর মিসরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়। এতে শ’ শ’ মুরসি সমর্থক নিহত হন।

বড় হয়ে রাজনীতিবিদ হব : মালালা

পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই সোমবার বলেছে, বড় হয়ে আমি রাজনীতিবিদ হব। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতেই আমি রাজনীতিতে যোগ দিতে চাই। সমাজে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের ক্ষমতাই তাকে এ বিষয়ে আগ্রহী করেছে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মালালা বলেছে, আমি ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদ হতে চাই। আমি পাকিস্তানের ভাগ্য বদল করতে চাই। আমি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই। সাক্ষাৎকারে দেয়া মালালার বক্তব্য ছিল সন্ত্রাস এবং উগ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সর্বোত্তম পন্থা হল পরবর্তী প্রজš§কে শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। তিনি আরও যোগ করেন, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুটা আমার জন্য কোনো মাথাব্যথা নয়,
এটা সরকারেরই দায়িত্ব। মালালা তার জীবনের প্রতি তালেবানের অব্যাহত হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে উল্লেখ করেন ব্রিটেন থেকে তিনি সোয়াত উপত্যকায় ফিরে আসতে উদগ্রীব। পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্মৃতিকাতর মালালা আশা প্রকাশ করেন, একদিন আমি ঠিকই স্বদেশের বাড়িতে ফিরে যাব। উল্লেখ্য, পাকিস্তানী কিশোরী মালালা গত অক্টোবরে স্কুল থেকে ফেরার পথে তালেবান জঙ্গিরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে আহত করে। ফের মালালাকে হত্যার হুমকি দিল তালেবান : মালালা ইউসুফজাইকে ফের হত্যার হুমকি দিল পাকিস্তানি তালেবানরা। পাকিস্তানে তালেবানের মুখপাত্র শাহিদুল্লাহ শাহিদ জানিয়েছেন ‘মালালা তার এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটনোর চেষ্টা করেছিল বলে আমরা মোটেও তার ওপর গুলি চালাইনি। সে ইসলাম নিয়ে মস্করা করেছিল। আর তার ওপর গুলি চালানোর এটাই যথেষ্ট কারণ। মালালা যদি ফের এই ধরনের কিছু করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে তাকে হত্যা করতে আমরা পিছপা হব না। বরং তাকে হত্যা করে আমরা গর্বিত হব।’ মালালার আÍজীবনী ‘আই অ্যাম মালালা : দ্য গার্ল হু স্টুড আপ ফর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়াজ শট বাই দ্য তালিবান’ প্রকাশিত হবে মঙ্গলবার।