Showing posts with label ফরিদ উদ্দিন আহমেদ. Show all posts
Showing posts with label ফরিদ উদ্দিন আহমেদ. Show all posts

Wednesday, May 14, 2025

স্থবির স্বাস্থ্য বিভাগ ক্ষুব্ধ উপদেষ্টা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এখনো চলছে অস্থিরতা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই খাত অনিয়ম ও লুটপাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগে। হাসপাতাল পর্যায়েও চলছে নানা অরাজকতা। স্বাস্থ্য বিভাগ গত নয় মাস স্বাভাবিকভাবে তার কাজ করতে পারছে না, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোও বন্ধ, ছন্দপতন হয়েছে তার মূলকাজে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজেও। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে উপদেষ্টার তৎপরতাও দৃশ্যমান নয়।

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর  অধিদপ্তর জুড়ে নানান দাবি আদায় আর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কারণে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মুখে পড়ে প্রশাসনিক কাজও।

স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরাও। তারা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখনো নেই। এমন উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সম্প্রতি সিভিল সার্জনদের সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক, জনস্বাস্থ্যবিদ, অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, স্বাস্থ্য খাত স্থবির পরিস্থিতি দেখছি। মুখ থুবড়ে পড়েছে এ খাতে। স্বাস্থ্যে যেটা হচ্ছে সেটা কাঙ্ক্ষিত নয়। নতুন কোনো উদ্যোগ দেখছি না। জসস্বাস্থ্য সম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলো চলছে না। জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা ও কালা জ্বরের মতো কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি। এখানে হোঁচট খেয়েছে। তিন শনির দশায় পেয়ে বসেছে স্বাস্থ্য খাতকে। বিশ্ব সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি দেখছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০-১৫ বছরেও এর থেকে উদ্বার করা যাবে না। স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সরকারের নিকট প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। উল্টো স্বাস্থ্য খাত কঠিন হয়ে পড়ছে। সংক্রমণ-অসংক্রমণ ব্যাধি ঝুঁকিতে রয়েছে। আমার মনে হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না। এই খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। স্থবিরতা দূর করতে হবে দ্রুত।

এদিকে, চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) এক অনুষ্ঠানে তিনি গতকাল এই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা এখনো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য নয়। চিকিৎসকরা সময়মতো হাসপাতালে যান না। তারা যদি নিয়মিত নিজেদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে না পারেন তাহলে স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানান। সংস্কার নিজের ভেতরে হতে হবে, তারপর যেখানে দরকার সেখানে। না হলে শুধু রাজা বদল হবে, কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করছি। কিন্তু বেতন না বাড়া পর্যন্ত কি চিকিৎসা বন্ধ থাকবে? স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আন্দোলন আন্দোলন খেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে: সরকারিভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত পরিচালনা ও তদারকির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। হাসপাতাল নিবন্ধন, চিকিৎসক পদায়ন ও বদলির মতো প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয় এই অধিদপ্তর থেকেই। আওয়ামী লীগের আমলে এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় ছিলেন সরকার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা। সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তা কর্মস্থলেই আসেনি। এদিকে শুরু থেকেই শীর্ষস্থানীয় এসব কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত ও ভিন্নমতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দাবি ও আন্দোলনের চাপে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে। মাসখানেক ধরে বন্ধ ছিল যাবতীয় কার্যক্রমও। কিন্তু এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরোপুরি গতি নিয়ে কাজ করছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানান, স্বাস্থ্য খাতে আগামী ৫ বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা (অপারেশনাল প্ল্যান) প্রণয়ন করা হলেও চলমান পরিস্থিতিতে সেটি অনুমোদন করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। গত জুলাই মাসেই এটি অনুমোদনের কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দাবি আদায়ে নানা কর্মসূচি এবং নিজেদের বঞ্চিত দাবি করা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এসব কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা কার্যক্রমেও।

স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শীর্ষ পদগুলোতে দলীয় লোকজন বসানোর চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যারা দলীয় রাজনীতি করে তাদেরই সরকার পদে বসায়, উপযুক্ত বা অনুপযুক্ত যাই হোক। এ কারণে নতুন সরকার আসলে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়। যারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করে তারা চায় সেখানে তাদের বসানো হোক। বিষয়টির সমাধান না করলে ধারাবাহিকভাবে চলতেই থাকবে। মাঝখানে রোগীদের ভোগান্তি হয়।

হাসপাতালে সেবা নিশ্চিত করার চেয়ে চিকিৎসকরা ব্যস্ত পদায়ন, পদোন্নতি ও দাবিদাওয়া নিয়ে। বিভিন্ন ব্যানারে একের পর এক দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বেশ চাপেই রেখেছেন তারা। কখনো কর্মবিরতির ডাক দিচ্ছে ‘বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম’ কখনো আন্দোলনে নামছে ‘ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’। আবার কখনো সামনে আসছেন মেডিকেলের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা।

এসব আন্দোলনের পেছনে নানান মহল নানাভাবে মদত দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এসব বিষয়ে মুখোমুখি অবস্থানে না গিয়ে সবার সমস্যা সমাধানে নজর দিচ্ছেন তারা। যাতে চিকিৎসা খাতে সেবাটা স্বাভাবিক থাকে। সমপ্রতি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আন্দোলন ঠেকাতে তাদের সঙ্গে বসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। এতে উভয়পক্ষ সম্মত হয় যে, ১. ঈদের আগে/পরে প্রায় চার হাজার চিকিৎসকের প্রথম ধাপে প্রমোশন হবে। ২. পছন্দক্রম থাকুক বা না থাকুক মাদার পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারীদের সাব-স্পেশালিটিতে (যে বিষয়গুলোতে ডিগ্রি নেই) প্রমোশন দেয়া হবে। আগে পছন্দের বাইরে কোনো প্রমোশন না দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল এবং প্রার্থী পদ পরিবর্তনেরও সুযোগ ছিল না। ৩. ওয়ান স্টেপ প্রমোশন হবে। অর্থাৎ সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক হবেন আপাতত একবার। ৪. প্রমোশনের পর কেস টু কেস ধরে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেয়া হবে। ৫. ১৫ বছর ধরে অন্যায় সুবিধাভোগী চিকিৎসকদের যদি আবারো প্রমোশন হয় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সোসাইটির আপত্তির ভিত্তিতে প্রমোশন স্থগিত থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমের সামনে ৮ই মার্চ ঘোষণা দেন যে, আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য সহকারী, সহযোগী ও অধ্যাপক পদে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে। পিএসসির মাধ্যমে নতুন দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোনে কথা বলতে রাজি হননি। 

mzamin

Saturday, April 26, 2025

৩ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পাহাড় জমছে। প্রতিদিনই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছেন নাগরিকরা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে ৩০০০-এর বেশি অভিযোগের আবেদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জামুকাতেও অভিযোগ দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই এখন মন্ত্রণালয়ে তাদের সনদ ফেরত দিচ্ছেন। কেউ কেউ লজ্জিতবোধও করছেন ভুয়া সনদের জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই করছে খবর পেয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে শুরু করে। এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী আগামী একমাসের মধ্যে কেবিনেটে উঠবে বলে সূত্র বলছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা এক কর্মকর্তাকে বলছেন, আমরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখতে চাই না। যারা দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তার সঠিক সংখ্যা দেখতে চাই। মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চাই। দ্রুত আইন সংশোধন করে যাচাই-বাছাই করে তালিকা চান ওই মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের স্তূপ বাড়ছে। প্রতিদিনই মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন নাগরিকরা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে ৩০০০-এর বেশি অভিযোগ পড়েছে। এ ছাড়াও কেউ কেউ জামুকাতেও অভিযোগ করছেন। আবেদন পাওয়ার পর এগুলো যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বসে তা ঠিক করবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া ৯০ হাজারের উপরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা জমা পড়েছে। আছে নানা জাল-জালিয়াতির অভিযোগও। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সনদ ফেরত দিতে আবেদন করা ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আবেদন করেছেন, নাম প্রকাশ করলে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবেন।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম গত ১১ই ডিসেম্বর নিজ দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যারা সনদ নিয়েছেন, তাদের তা ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, গেজেটভুক্ত হয়েছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন। এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটি ছোটখাটো অপরাধ নয়, অনেক বড় অপরাধ। উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা একটি ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেবো, যারা অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এসেছেন, তারা যাতে স্বেচ্ছায় এখান থেকে চলে যান। যদি যান, তারা তখন সাধারণ ক্ষমা পেতে পারেন। আর যদি সেটি না হয়, আমরা যেটি বলেছি, প্রতারণার দায়ে আমরা তাদের অভিযুক্ত করবো। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম গণমাধ্যমকে বলেন, যদি কেউ স্বেচ্ছায় সনদ ফেরত দিতে চান, সে জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ সনদ ফিরিয়ে দিলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। তিনি বলেন, যেহেতু তাদের পেছনে অর্থ খরচ হয়েছে, তাই আমার একার পক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে এ প্রস্তাব পাস করাতে হবে। তারপর সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, একজন তার আবেদনে নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও প্রলোভনে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছি। এ অনৈতিক কাজের জন্য আমি লজ্জিত। আমি স্বেচ্ছায় এ সনদ ফেরত দেয়ার আবেদন করেছি।

অন্যদিকে, এর আগে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সনদ বাতিল করা হয়। তারা হলেন- সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, এ কে এম আমির হোসেন ও যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার। এই সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৫ই সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ঘোষণা দেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যারা সরকারি চাকরি পেয়েছেন, তাদের তালিকা করা হবে। যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন তাদের বিস্তারিত তথ্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। সে হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৬ শতাংশ।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণতা পায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা। বিগত সব সরকারের আমলেই একের পর এক লম্বা হয়েছে এই তালিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো অবদান না রেখেই অনেকে নানা কৌশলে হয়েছেন তালিকাভুক্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিপ্রাপ্তদের সত্যতা যাচাইসহ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই করার উদ্যোগ নেয়া হয়। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আনার কাজ করছে সরকার। এই সংজ্ঞা পরিবর্তন হলে, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন এবং যারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন শুধু তারাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার’ স্বীকৃতি পাবেন। এর বাইরে যারা দেশে-বিদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন, বিশ্বজনমত তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।
সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ১০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও ১০ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করে। এই কমিটি পুনর্গঠনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে কাজ শুরু করা হয়। এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, মূলত যারা রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, কেবল তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন। বাকি যারা নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন তারা হবেন মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী।

জামুকা সূত্র বলছে, যেসব মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে অভিযোগ আসছে তাদের তথ্য যাচাই করতে প্রাথমিকভাবে সরজমিন শুনানি হবে। যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তালিকা যাচাই করতে গিয়ে অনেকের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। তালিকা যাচাই চূড়ান্ত হলে এসব ভুয়া সনদে বা সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেয়াদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকার আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ মাধ্যমে এই সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে এই অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

mzamin

Thursday, March 20, 2025

ওয়ার্ডে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্থানীয় সরকার by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থা চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রশাসক থাকলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় সেবা কার্যক্রমে  ঢিলেঢালাভাব বিরাজ করছে। মূলত কাউন্সিলররাই ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়রদের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের অপসারণ করায় অনেকটা স্থবির হয়ে পরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করতে অনেক দলের আপত্তি থাকায় আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আশা নেই। এই অবস্থায় ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগের আলোচনাও আছে। কিন্তু গত দু’দিন থেকে ঢাকায় ওয়ার্ড প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে- এমন আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রশাসক নিয়োগে গোপনে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে এমন তথ্যও দিয়েছেন কেউ কেউ। যদিও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এমন কিছু জানেন না বলে এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান থাকলেও যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পালিয়েছেন সেখানে কোনো রকম সামাল দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা। ফলে সেখানেও স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।  প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তারা সাময়িক সামাল দিচ্ছেন পরিস্থিতি। কিন্তু যথাযথ সেবা নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়রদের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের অপসারণ করায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরকেন্দ্রিক সেবা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। মেয়র কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির কারণে প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা কার্যক্রমে এখনো বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। স্থানীয় কাউন্সিলর না থাকায় কার্যক্রমে ধীরগতি হচ্ছে বলে  জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, নামমাত্র একজন ওয়ার্ড সচিবকে কাউন্সিলর অফিসে বসানো হয়েছে। অফিসে বসলেও কাউন্সিলরের কোনো কাজই তিনি করতে পারেন না। একটি ফাইল তার কাছে জমা দিলে সেটা আঞ্চলিক কার্যালয় ঘুরে এসে তারপর এখানে আসে। সবাই তো জানে না যে, সরাসরি আঞ্চলিক অফিসে গেলেই এখন জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদসহ অনেক কাজ সহজে করা যায়। মৃত্যু সনদ দেয়ার সময় ওয়ার্ড সচিবরা অনেক সময় ভেরিফিকেশনের নামে কিছু টাকা চান বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। গতকাল সরজমিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬২ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড ঘুুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাগরিক সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে হলে ওয়ার্ড পর্যায়ে আরও জনবল নিয়োগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন। নাগরিকদের কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানো প্রয়োজন। একজন উপ-সচিব অনেকগুলো ওয়ার্ডের দায়িত্বপালন করছেন। যার ফলে দেখা দিচ্ছে জটিলতা। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিব হোসেন এসেছেন জন্মসনদে তার বাবার নাম সংশোধন করতে। বলেন, আমার জন্মসনদে আমার পিতার নামে সেপস না থাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে আমাকে আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এখানে এসে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কাজগুলো সরাসরি কাউন্সিলর কার্যালয়ে করা গেলে আমাদের ভোগান্তি অনেক কমে যেতো। ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, আগে কাউন্সিলরের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা বলা যেতো। বললে দ্রুত সমাধান হতো। এখন কাউন্সিলর নেই, একজন ওয়ার্ড সচিব আর পিয়ন শুধু বসে থাকেন।

কার্যক্রমে ধীরগতি: ঢাকা দক্ষিণ সিটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো কাউন্সিলর। নাগরিক কার্যক্রমের বেশির ভাগই হচ্ছে না তদারকি। স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক মেরামত, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আনিছুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগে কোনো সমস্যা হলে কাউন্সিলরের অফিসে গিয়ে জানানো যেত। এখন তো কেউ নেই, বলারও জায়গা নেই। কাকে বলবো গিয়ে এখন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও ধীরগতিতে চলছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার মানবজমিনকে বলেন, কাউন্সিলর না থাকায় আমি ১৫টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছি। নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জন্মসনদ ও মৃত্যু সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে জমা দেন। ওয়ার্ড সচিব ও পিয়ন রয়েছে তারা নাগরিকদের কাছ থেকে কাগজপত্রগুলো গ্রহণ করেন। ওয়ার্ড সচিব স্বাক্ষর করার পর পিয়ন ফাইলগুলো আমাদের আঞ্চলিক অফিসে নিয়ে আসে। আমি সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষর করে দেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আঞ্চলিক কার্যালয়-৯ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকার মানবজমিনকে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সচিব সেবা নিতে আসা নাগরিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়ে আসে। আমি স্বাক্ষর করার পর সেগুলো পুনরায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। নাগরিকরা সেখান থেকেই তাদের সনদপত্রসমূহ গ্রহণ করেন এতে নাগরিকরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পৌর কাউন্সিলর পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন। ছাত্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি ও পৌরসভায় মেয়রদের পাশাপাশি অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদেরও। এরপর থেকে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, মৃত্যু সনদ পেতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। এক ভুক্তভোগী বলেন, পৌরসভায় কাউন্সিলর নাই, লোকজন নাই। এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছি না। কাউন্সিলররা স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচিত হলেও, ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত অনেক চেয়ারম্যান এখনো স্বপদেই বহাল আছেন। পদ ফিরে পেতে তাই হাইকোর্টে রিট করেছেন পৌর কাউন্সিলররা। সারা দেশে কাউন্সিলর সংখ্যা ৪ হাজার। ২৬শে সেপ্টেম্বর একযোগে সব সিটি ও ৩২৩টি পৌরসভার কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করা হয়।

পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ (ক) (২) মোতাবেক সরকার কর্তৃক গত ২৬শে সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে পৃথক কমিটি গঠনের আদেশ জারি করা হয়। এতে প্রশাসককে প্রধান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের দুই কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে ২৫ জন করে। কমিটিতে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। এসব প্রতিনিধিই কাউন্সিলর হিসেবে সেবা প্রদান করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় সংখ্যাভেদে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।  বিভাগীয় শহর এলাকার সিটি করপোরেশন (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও  ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশ) এর জন্য  ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বিভাগীয় শহরের বাইরের সিটি করপোরেশন (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশ)- এর জন্য  ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। আর পৌরসভায় জেলা সদরে ৯ সদস্যবিশিষ্ট এবং উপজেলা সদর পৌরসভায় ৭ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে নিয়োজিত এএইচএম কামরুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, এখন মানুষ সেবা পাচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক অভিযোগ কমেছে। আমরা সাময়িক সময়ের জন্য পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সরাসরি যোগযোগ এবং জানাশোনা থাকে, তারা যে সেবাটা দিতে পারেন কর্মকর্তাদের পক্ষে সেটা দ্রুত দেয়া একটু কঠিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। 

mzamin

Wednesday, January 8, 2025

এইচএমপিভি কতোটা আতঙ্কের by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

করোনার পর এর মধ্যেই আবারো বিশ্বে হুমকি হয়ে  উঠছে নতুন মহামারির। পুরনো হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) নতুন করে ছড়াচ্ছে দেশে দেশে। দেশের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ভাইরাস নতুন কিছু নয়। তবে মহামারি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি আছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগকে সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস কতোটুকুও আতঙ্কের- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার  সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা.  বে-নজির আহমেদ মানবজমিনকে বলেন,  এই ভাইরাস নতুন কিছু নয়। তবে মহামারি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সতর্ক দৃষ্টি আছে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি আছে। তথ্য প্রকাশ করতে দ্বিধা করি। লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। বরং লুকিয়ে রাখলে মানুষ  ভ্রান্তিতে ভোগে। অজানা আতঙ্কে থাকেন। তিনি বলেন, এখন দেশে বহু মানুষ শ্বাসনালির সমস্যায় আছেন।  তাদের শনাক্ত করা কঠিন কিছুই না। করোনার সময় তো আমরা করেছি। এটা  স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ নিতে হবে। সার্ভিলেন্স চালু করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বোঝা যাবে এই রোগী কোন ভাইরাসে ভুগছেন। ভাইরাসটি নিয়ে একটু উদ্বেগের মধ্যে আছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

দেশের খ্যাতিমান ভাইরোলজিস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল  বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, দেশে নানা ভাইরাস আছে। হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) করোনার মতোই ছড়ায়। এগুলো নাক, মুখ, হাত দিয়ে ছড়ায়। তাই আমাদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। এসব ভাইরাস চীনে যেভাবে ছড়ায় অন্যদেশে সেভাবে ছড়ায় না। কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম এই সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম পরামর্শ দিয়ে বলেন, করোনার মতোই আমাদেরকে মাস্ক পরতে হবে।

করোনায় মৃত্যু-আক্রান্ত-আতঙ্ক ছড়িয়েছিল প্রায় সব দেশেই। সেই মহামারি কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে বিশ্ব। এর মধ্যেই আবারো হুমকি হয়ে উঠছে নতুন মহামারি। সামনের দিনগুলোতে আবারো এমন মহামারি বা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ভাইরোলজিস্টরা। এ অবস্থায় চীন-জাপানে নতুন আতঙ্ক দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চীন-জাপান ছাড়িয়ে মালয়েশিয়া ও ভারতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা নতুন কোনো রোগ নয়। এর ভয়াবহতার ঝুঁকিও কম। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি পুরনো রোগ, নতুন কিছু না বলেও জানিয়েছেন তারা।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, এইচএমপিভি ভাইরাস এর আগেও বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয়। মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এবছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
দেশের ভাইরোলজিস্টরা বলেন, এ ভাইরাস নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের কিছু নেই। এতে বড় ধরনের হুমকি নেই। এর আগেও দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনা ভাইরাসের মতোই সিম্পটম (উপসর্গ) দেখা দিতে পারে। তবে এতে বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এই রোগের আলাদা ভ্যাকসিন নেই। তবে প্রচলিত চিকিৎসায় এই রোগ ভালো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকেই আমাদের দেশে এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চীনের কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসের সময়ের মতোই ভিড়। এ ছাড়া জাপানেও একই অবস্থা দেখা যায়। দেশগুলোতে এই রোগ নিয়ে সতর্ক অবস্থানেও যেতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিংবা দেশগুলোর সরকার সতর্কতা জারি করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, চীনে এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। বিশেষ করে আগে যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল, তারা নতুন এই ভাইরাসের আক্রমণে নাজুক অবস্থায় আছেন। এইচএমপিভি ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য বলেছে চীন। তারা জানায়, এটি মৌসুমি অর্থাৎ শীতকালীন সংক্রমণ মাত্র। চীন, জাপান ও মালয়েশিয়ার পর ভারতেও শনাক্ত হলো হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)।  ৬ই জানুয়ারি দেশটির কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে দুটি শিশুর শরীরে এইচএমপিভি শনাক্ত হয়।

প্রায় দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এইচএমপিভি’র উপস্থিতি জানান দিলেও এখন পর্যন্ত এর টিকা আবিষ্কার হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় যেসব সতর্কতা নেয়া হয়েছিল, একই পদক্ষেপে এই ভাইরাসও প্রতিরোধ করা সম্ভব। টানা ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার মধ্যদিয়ে এইচএমপিভি থেকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

mzamin


Monday, November 4, 2024

দুই সিটির ব্যর্থতায় মৃত্যু বেশি ডেঙ্গুতে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

মৌসুম শেষে এসেও ডেঙ্গু চোখ রাঙাচ্ছে। প্রায় ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বরে কাতরাচ্ছে মানুষ। ২রা নভেম্বর সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবছর।  আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৪ হাজার। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩১৪ জন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। এরমধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে সর্বাধিক ১৪৭ জন মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন। দেশে মোট আক্রান্তের ৪১ শতাংশই এই দুই সিটিতে রয়েছেন। চলতি ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করেছিল। রাজধানীর দুই সিটির ১৮টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার ঝুঁকিতে ছিল। কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন- নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে দেশে।

এদিকে, মশার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দারা। নতুন দুই সিটিতে প্রশাসক আসার পর নানা উদ্যোগ, অভিযানসহ নিত্যনতুন কার্যপরিচালনা করেও হার মানতে হচ্ছে মশার কাছে। মশার অত্যাচার থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারছে না সংস্থা দু’টি। দিন নেই, রাত নেই, ঘরে কিংবা বাইরে, বাসা কিংবা অফিস সব জায়গাতেই মশার উপদ্রব। শুধু রাত নয়, দিনেও কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। ওষুধ বা স্প্রে- কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না এর উপদ্রব।

প্রতি বছরই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ভোগায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর চাপে ঠাঁই নেই অবস্থা। বিগত কয়েক বছরে ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা রুখতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এর ওপর ?এ বছর ঢাকার দুই সিটিতে নেই কোনো মেয়র ও কাউন্সিলর। সিটি করপোরেশন পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ দিলেও মাঝে অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়ে কার্যক্রম। মশক নিধনসহ ডেঙ্গু মোকাবিলার কাজে কিছুটা ভাটা পড়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে নাজুক।? বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিলে প্রাণহানি ঘটবে বহু মানুষের। অথচ ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গতানুগতিক প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে তাদের কার্যক্রম।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলররা অফিস করছেন না। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর দুই সিটি করপোরেশনের সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করা হয়। ফলে ভেঙে পড়ে মশক নিধন কার্যক্রম। এরপর থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলার সাধারণ কার্যক্রমগুলোও সেভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। আর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়রের স্থলে প্রশাসক বসিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নগরবাসী অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর শতকোটি টাকা খরচ করেও রাজধানীবাসীকে মশার কবল থেকে মুক্তি দিতে পারছে না দুই সিটি করপোরেশন। সবকিছু ব্যর্থ করে দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিস্তার হচ্ছে এডিস মশা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকার দুই সিটির ১৮টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। সেখানে বলা হয়- দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর হার বেশি। এর অর্থ হচ্ছে এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এলাকাগুলো ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৪ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪ জনে। ডেঙ্গুতে একদিনে ১৩০৬ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৪৭১ জনে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে আক্রান্ত সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৮৭ আর দক্ষিণে ১২ হাজার ৪২৯ জন। যা মোট আক্রান্তের ৪১ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মৃত ৩১৪ জনের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মারা যান রেকর্ড এক হাজার ৭০৫ জন।

ঢাকার দক্ষিণ সিটির ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, আগে মেয়রসহ কাউন্সিলররা মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতেন। আবার মশা বাড়লে আমরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারতাম। কিন্তু বর্তমান সময়ে কোনো কাউন্সিলর নেই। এদিকে ডেঙ্গু বাড়ছে, মশার অত্যাচারও বেড়েছে অনেক। কিন্তু আমরা অভিযোগ জানানোর জায়গা পাচ্ছি না। এ ছাড়া মশক নিধন কর্মীদেরও মাঠে দেখতে পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এতে করে আমরা সবাই আতঙ্কিত।

ঢাকা উত্তর সিটি  করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, উত্তর সিটিতে ডেঙ্গু রোগীর যে পরিসংখ্যান প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দিচ্ছে তাতে সংখ্যার গরমিল রয়েছে। এতে সংখ্যাগত ভুল পাওয়া যাচ্ছে। যে সংখ্যা দেখানো হয় প্রকৃত রোগীর সংখ্যা কম। তিনি দাবি করে বলেন, বিষয়টি হবে উত্তর সিটিতে ভর্তিকৃত রোগী। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, মশক নিধনে উত্তর সিটিতে সবচেয়ে ভালো ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। মশা নিধনে আমাদের কোনো কার্যক্রমই থেমে নেই। মশক নিধনে ১লা জানুয়ারি থেকে যাবতীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও আমরা পরিচালনা করছি। ফলে গত বছরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিক বিষয় নিয়ে কীটতত্ত্ববিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মানবজমিনকে বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে দেশে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাব, মাঠে এডিস মশার ঘনত্ব, রোগীও আছে এর সঙ্গে। সব ফ্যাক্টর একত্রে হওয়ার কারণে প্রকোপ কমছে না। তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি কার্যকর হতে হবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এখনো তেমন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু রোগীর বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রতিটি বাড়ির চতুর্দিকে ফগিং করে উড়ন্ত মশাকে মেরে ফেলতে হবে। যাতে কোনোভাবেই ডেঙ্গু বহনকারী মশাটি অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে না পারে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেয়া হাসপাতালগুলোর চতুর্দিকে নিয়মিত ফগিং করতে হবে। যাতে সেখানে কোনো এডিস মশা বেঁচে না থাকে। হাসপাতাল এবং বাড়িতে থাকা যেকোনো ডেঙ্গু রোগীকে সবসময় মশারির ভেতরে রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব এলাকায় এখনো ডেঙ্গু ব্যাপক আকার ধারণ করেনি, সেসব এলাকায় লার্ভা ধ্বংসের কীটনাশক ব্যবহারে জোর দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন ডেঙ্গু প্রসঙ্গে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এ বছর বেশি না হলেও মৃত্যুহার বেশি। সুতরাং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমে আসছে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। এ বছর এখন পর্যন্ত একদিকে প্রচণ্ড তাপ, অন্যদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। এ রকম উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এডিস মশার ডিম ও প্রজনন খুব দ্রুত হয়। বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গরম পড়ছে। কাজেই একদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আমাদের জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মশক নিধনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ ও প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া। কাজেই জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান যদি পরিচালনা করা না যায়, তাহলে ইতিমধ্যে যতটুকু অর্জন ছিল, তাও ভেস্তে যাবে।

ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি প্রসঙ্গে সংস্থাটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফজলে শামসুল কবির সম্প্রতি আলাপকালে মানবজমিনকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন জাতির সামনে ডেঙ্গু নিয়ে হিসাবে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তিনি জানান, এই এলাকায় দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলো থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার রোগীরা এখানে ভর্তি হন। যা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় পড়ে। ডেঙ্গুর এসব তথ্য ঢালাওভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে অধিদপ্তর। এতে আমাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানোর পরও সংশোধন না করে তারা প্রতিদিন ভুল তথ্য দিচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরের শুরু থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এলাকায় মাইকিং, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন থানায় ও বড় বড় হাসপাতালে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। নির্মাণাধীন ভবন প্রসঙ্গে রিহ্যাবকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, তাদের এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

mzamin

Monday, October 28, 2024

নবায়ন হচ্ছে না কুইক রেন্টাল: অর্থ পাচার অনিয়মের তদন্ত হচ্ছে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

নতুন করে কুইক রেন্টাল চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে না। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ কাজটি করেছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের একটি বড় সিন্ডিকেট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত বিদ্যুৎ  ও  জ্বালানি বিভাগের চুক্তিসমূহ পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় রিভিউ কমিটি এই নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দুই দফা বৈঠকও করেছে।

এ প্রসঙ্গে কুইক রেন্টালের চুক্তি প্রসঙ্গে-কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মানবজমিনকে বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তি বাতিল করতে হবে। কোনো নবায়ন করা চলবে না। কারণ এধরনের অবৈধ চুক্তি যারা করেছেন, তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। যারা সুবিধা নিয়েছেন সেসব ব্যবসায়ী এবং যারা সুবিধা তৈরি করে দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছে ভোক্তা অধিকার রক্ষার এই সংগঠনটি।

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই দ্রুত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ছোট ও মাঝারি বেশকিছু রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের লাইসেন্স দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তিন বছরের জন্য এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়া হলেও তা চলেছে আট থেকে ১০ বছর। কোনোটি চলেছে আবার ১২ থেকে ১৫ বছর। এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জও নির্ধারণ করা হয় অতি উচ্চ হারে। এতে বিনিয়োগের প্রায় সাড়ে চারগুণ বা ৪৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জ তুলে নিয়েছে কোনো কোনো কোম্পানি। ঘোড়াশালে এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনালের নির্মিত ১৪৫ মেগাওয়াট দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (গ্যাস ও ডিজেল) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এ কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করে ২০১০ সালের ২৩শে আগস্ট। প্রথমে ডিজেলে ১৮ মাস চললেও পরে তা গ্যাসে উৎপাদন শুরু করে। উৎপাদন শুরুর সময় কুইক রেন্টাল এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য প্রতি মাসে ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হয়েছিল ২১ ডলার। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি মাসে ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হতো। এগ্রিকো’র ঘোড়াশাল ১৪৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের জন্য এ হারে বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ পড়তো তিন কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। তিন বছরের জন্য কুইক রেন্টাল এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। আর এগ্রিকো বিনিয়োগ করেছিল ১০ কোটি ডলার বা ৫৬০ কোটি টাকা। এতে তিন বছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতো ১০ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ডলার।

পিডিবি’র কর্মকর্তারা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১১ সালে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি। আর ঘাটতির এ সুযোগকে দুর্নীতির জন্য কাজে লাগানো হয়েছে বেশি হারে। এজন্য ওই সময়ে কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল বিনা দরপত্রে। তারা আরও জানান, পরবর্তী সময়ে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। ওই কেন্দ্রগুলোয় কিলোওয়াটপ্রতি মাসিক ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় ১০ থেকে ১২ ডলার। অর্থাৎ ঘাটতির সুযোগের আড়াই থেকে তিনগুণ হারে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছিল বিনা দরপত্রের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয়। এতে প্রচুর অর্থ গচ্চা গেছে। যদিও এসব ক্যাপাসিটি চার্জও ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলেই জানা গেছে।

সূত্র মতে,  কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার করেছে। আর এ কাজটি করেছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আহমদ কায়কাউসসহ বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট বিশেষ আইনে, বিনা দরপত্রে প্রতিযোগিতা ছাড়াই তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ও আওয়ামী সমর্থক ব্যবসায়ীদের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুবিধা দেয়। বছরের পর বছর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চালানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এগুলোর মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে ভরেন। ক্যাপাসিটি চার্জের টাকায় ফুলেফেঁপে ওঠা এই বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে দেন। যারা এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেন সেই সিন্ডিকেটের প্রভাবশালীরাও বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন এরই মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড। কিন্তু এতদিন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের প্রিয় লোকদের আবদার পূরণে বিদ্যুৎ না নিয়েও ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে। এর বিনিময়ে তৎকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সুবিধাভোগী বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা অর্থ সুবিধা দিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ দেয়া ছাড়াই ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিল নেয়ার মতো মারাত্মক অনিয়ম আর কিছু নেই। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, এ টাকা দেশের নাগরিকদের। তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়া এসব রেন্টাল আর কুইক রেন্টালের লাইসেন্স তুলে দেয়া হয় দেশের প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর কাছে।  মূলত আওয়ামী লীগ সরকার বিনা টেন্ডারে দায়মুক্তি আইনের আওতায় একসময়ে উচ্চমূল্যের রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছিল। ২০১০ সালে বলা হয়েছিল, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র আপৎকালীন চাহিদা মেটানোর জন্য। কিন্তু গত দেড় দশকেও এগুলো আর বন্ধ করা যায়নি।

অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হরিলুটের অন্যতম উৎস ছিল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তখন বিনা টেন্ডারে প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়। এসব উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে চুক্তি অনুযায়ী বছরের পর বছর সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এর সিংহভাগই গেছে নসরুল হামিদ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পকেটে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক  প্রকৌশলী বিডি রহমত উল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে হবে। কুইক রেন্টালের নামে ডলারে বিদেশে ৬২ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসব টাকা উদ্ধার করতে হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ (রেন্টাল ভাড়া) হিসেবে দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ দরকার নেই কিন্তু টাকা চলে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য এই টাকা ভাগাভাগি করা। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা ছিল না। অথচ কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করেনি গত জনবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকার। বিদ্যুতের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও কেন এগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল- এমন প্রশ্ন রাখেন এই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, এগুলো প্রথমে ৩ বছরের জন্য চুক্তি ছিল। পরে তা নবায়ন করে ১৫ বছর চলেছে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

গত ১৯শে সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, নতুন করে কুইক রেন্টাল চুক্তি নবায়ন করা হবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা চুক্তিগুলো দু’টি কমিটি পর্যালোচনা করছে। কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা কাজ করবো। একটু ধৈর্য ধরুন। কমিটির প্রতিবেদন আসুক। তারপর দেখুন আমরা ব্যবস্থা নিই কিনা। এ বিষয়ে যথাযথ চিন্তা করেই পিডিবিকে সিদ্ধান্ত বলে দিয়েছি। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

mzamin

Saturday, October 12, 2024

ভ্যাপিং বা ই-সিগারেটের থাবা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার কয়েকটি স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা স্কুলের ব্যাগে করে ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট নিয়ে আসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। লালবাগের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগে সুগন্ধি মেশানো নানা ফ্লেভারের ই-সিগারেট দেখতে পান শিক্ষকরা। তাৎক্ষণিক বিষয়টি অভিভাবকদের ডেকে অবহিত করেন তারা। ভ্যাপিং বা ই-সিগারেটের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতিকর দিক এবং এটি নিষিদ্ধ একটি পণ্য তাও তাদের অভিভাবকদের জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের হুমকির কথা তুলে এখনই তাদের সন্তানদের সাবধান করার পরামর্শ দেন শিক্ষকরা। কয়েকজন ছাত্র শিক্ষকদের জানায়, যেসব ছাত্রদের স্কুল ব্যাগে ই-সিগারেট পাওয়া গেছে এসব শিশু শিক্ষার্থীরা বাবা মা’র চোখ ফাঁকি দিয়ে খেলাধুলার নামে মাঠেও নিয়ে যায় এসব পণ্য। সেখানে দল বেঁধে এগুলো সেবন করে। র্থীরা টিফিনের ও যাতায়াতের খরচের নাম করে বাবা-মা’র কাছ থেকে টাকা নিয়ে এগুলো কিনে বলে ওই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ই-সিগারেট গ্রাস করছে তরুণ সমাজকে। এতে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস (ভ্যাপিং, ই-সিগারেট)-এর আবির্ভাবের পর থেকে বিশ্বব্যাপী তামাক ব্যবহারের পদ্ধতি ও ব্যবহার, বিপণন কৌশল, তামাক আসক্তি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কৌশলী প্রচার-প্রচারণার কারণে এসব পণ্যের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিমধ্যে অনেক দেশ ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও দাবি উঠেছে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অবশ্যই ই-সিগারেট বন্ধে আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, তরুণদের আড্ডাস্থল, বিভিন্ন মার্কেট এবং রাস্তার মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্যাপিং ক্লাবে এসব পণ্যের ব্যবহার ব্যাপকহারে চোখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাজারে মোট দুই ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম্‌স এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম্‌স এক ধরনের ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যা ই-লিক্যুইড বা নিকোটিনযুক্ত তরল দ্রবণকে তাপের মাধ্যমে বাষ্পে রূপান্তরিত করে। একজন ব্যবহারকারী যখন ডিভাইসটিতে টান দেয়, তখন নিকোটিনের দ্রবণ গরমে বাষ্পীভূত হয় এবং ব্যবহারকারীকে নিকোটিন সরবরাহ করে।
নিকোটিন ছাড়াও নানারকম রাসায়নিক মিশ্রণ এবং সুগন্ধি মেশানো থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইলেক্ট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট, ভ্যাপ বা ভ্যাপ পেন্‌স?, ই-হুক্কা, ই-পাইপ এবং ই-সিগার প্রভৃতি এন্ডস?? পণ্যের বিভিন্ন ধরন। সাধারণ সিগারেট বা পাইপ আকৃতি ছাড়াও এগুলো দেখতে কলম, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন খেলনা কিংবা সিলিন্ডার আকৃতির হয়ে থাকে।
ধানমণ্ডির লেকের পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন স্নাতক পর্যায়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিন-চার জন ই-সিগারেট টানছিলেন। কিছুক্ষণ পরপর মুখ দিয়ে পাফ নিচ্ছেন আর মুখ থেকে অনেক ধোঁয়া ছাড়ছেন। জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে একজন জানান, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তার তেমন জানা নেই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় থাকলে তিনি ই-সিগারেট টানেন। তার মতে, এটা সিগারেটের চেয়ে কিছুটা ‘নিরাপদ’।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য সচিব এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফি মজুমদার এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, স্কুল গোয়িং শিক্ষার্থীরাও ভ্যাপিং বা ই-সিগেটে ঢুকে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং এবং পার্শ্ববর্তী দেশসহ ৩৪টি দেশে পণ্যটি নিষিদ্ধ। এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর থাকবে। প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য আইনকে শক্তিশালী করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অতি সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত  ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমস (ঊঘউঝ) অর্থাৎ ই-সিগারেটসহ সকল ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো আসক্তিসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য ক্ষতি তৈরি করে। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি প্রোডাক্ট তামাকপণ্য ব্যবহারের ‘মধঃবধিু’ হিসেবেও কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএস সার্জন জেনারেল রিপোর্ট ২০১৬ এ ই-সিগারেটসহ নিকোটিনযুক্ত সকল পণ্যকে ‘অনিরাপদ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং-সৃষ্ট শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মহামারির আকার ধারণ করলে এই ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসগুলোর সত্যিকারের চেহারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

শিশু-কিশোর এবং তরুণরাই মূল টার্গেট: মূলত তরুণ এবং শিশুদের টার্গেট করে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এসব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তামাক কোম্পানিগুলো। উদ্ভাবনী কৌশল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে কিশোর এবং তরুণদের মাঝে বিশেষত বিদ্যালয়গামী শিশুদের মধ্যে এসব তামাকপণ্যের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন তামাক কোম্পানির মূল টার্গেট:  বাংলাদেশেও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসের ব্যবহার তরুণ এবং যুব সমাজের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, তরুণদের আড্ডাস্থল, বিভিন্ন মার্কেট এবং রাস্তার মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্যাপিং ক্লাবে এসব পণ্যের ব্যবহার ব্যাপক হারে চোখে পড়ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিক্রয় কেন্দ্র। অনলাইন এবং ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট সামগ্রী নিয়ে আলোচনা, বিক্রয় ও হাতবদল হচ্ছে। তবে এসব পণ্য ব্যবহারের মাত্রা কতোটা বিস্তার লাভ করেছে সে বিষয়ে সর্বশেষ কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত নেই।
তামাক কোম্পানিগুলোও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যেকোনো উপায়ে তামাকপণ্য ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট-এ আসক্ত করে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে চায়। এ জন্য তারা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ইত্যাদিকে সিগারেটের ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে ভোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করে থাকে।

তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)-এর নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এ ব্যাপারে বলেন, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে ই-সিগারেটসহ সকল ভ্যাপিং এবং হিটেড তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩৪টির অধিক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলে তরুণ এবং কিশোর বয়সীদের ধূমপানে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মহাপরিচালক ভারপ্রাপ্ত, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল) মো. আখতারউজ-জামান মানবজমিনকে বলেন, আইনটির খসড়া মন্ত্রণালয়ে আছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

mzamin

Wednesday, October 9, 2024

কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছে উচ্চ রক্তচাপের বিনামূল্যে ওষুধ উপজেলায় যেতে অনীহা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ডায়াবেটিসের ওষুধ পেয়ে ভীষণ খুশি ৪৫ বছর বয়সী চানমুন খাতুন। সাত বছর ধরে তিনি এই রোগে ভুগছেন। দেহে আছে উচ্চ রক্তচাপও। রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সরজমিন কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাড়ির কাজ ফেলে ছয়-সাত কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) যাওয়া আমাদের জন্য একটু কঠিন। অনেক সময় ওষুধ শেষ হলেও হাসপাতালে যাওয়া হয় না। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সরাসরি এই ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা করলে আমার জন্য ভালো হয়।

৩রা অক্টোবর সকালে পবা উপজেলার কুমড়াপুকুর কমিউনিটি ক্লিনিক ও হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে অন্তত ২০ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দুই ক্লিনিকেই ডায়াবেটিসের ওষুধ দেয়া হলেও এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। সেন্টারে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছালেও উপজেলার ব্যবস্থাপত্র ছাড়া রোগীদের দিচ্ছে না ক্লিনিকগুলো।

দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সাধারণ মানুষ। এসব ক্লিনিকে বিভিন্ন রোগের মোট ২২ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ। কিন্তু ওষুধ পেতে হলে যেতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে লিখে দিলেই মেলে ওষুধ। এতেই চরম অনীহা মানুষের।
পবা উপজেলার নওহাটা ইউনিয়নের কুমড়া পুকুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এসেছেন আরিফা বেগম। বয়স ৩৭ বছর। ১৬ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত তিনি। প্রতি মাসে ওষুধের পেছনেই ব্যয় হতো ছয় হাজার টাকা। কৃষক পরিবারের স্বল্প আয়ে সে ব্যয় মেটানো কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। তবে সরকারি উদ্যোগে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে ওষুধ ও পরামর্শের পর তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হলেও তার খরচ কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। জুরিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মফিজুল ইসলাম বলেন, ক্লিনিকটিতে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ জন মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কৈশোরকালীন সেবা, নবজাতক ও গর্ভবতী নারীরা সেবা নিতে আসেন। এর বাইরে অসংক্রামক রোগাক্রান্ত (উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস) মানুষ ওষুধ ও পরামর্শের জন্য আসেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীদের লিখে দিলে আমরা তাদের দেই। াজশাহী জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নেয়া ৫৬ ভাগ রোগীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের একটি যৌথ উদ্যোগের ফলে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসার আওতায় এনে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন দিতে সহায়তা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও উচ্চ রক্তচাপের রোগী বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। ডব্লিউএইচওর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের ৩০-৭৯ বছর বয়সী ৫৫ শতাংশ মানুষ জানে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের হার খুবই কম, মাত্র ৩৮ শতাংশ। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে মাত্র ১৫ শতাংশ; অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে একজন।

এমন পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ২০১৮ সালে এই প্রকল্প নেয় সরকার। এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে রাজশাহীর ১১টি উপজেলার ২৩৬ কমিউনিটি ক্লিনিক এবং দেশের ১৮২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে। রাজশাহীতে এই প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০২৩ সালে। দেশব্যাপী এই কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচআই) সহায়তায় গবেষণা এবং অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) মাধ্যমে মিডিয়া অ্যাডভোকেসির কাজ চলছে। এর উদ্দেশ্য, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত করা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান এবং ফলোআপ করা। গত প্রায় দুই বছরে রাজশাহীতে ২২ হাজার ৫০৩ জন মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা পরামর্শ পাচ্ছেন। এর মধ্যে শুধু উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৮০০ জন এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস উভয় রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭০৩ জন। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জেলায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার ছিল শতকরা ৫৬ ভাগ। তবে উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে ৪৫ ভাগ রোগী নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন না। তাদের সচেতন করতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এহসানুল আমিন ইমন মানবজমিনকে বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ বিনামূল্যে দিচ্ছে সরকার। তবে দূরত্ব, সময় ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে ৫ হাজারের অধিক উচ্চ রক্তচাপের রোগী ফলোআপে প্রতি মাসে নিয়মিত আসেন না। বিশেষ করে পুরুষ রোগীদের মধ্যে অনীহা বেশি। কারণ তাদের মধ্যে অনেক রোগী আছেন যারা ফসলের ক্ষেত্রে মৌসুমি কাজ করেন। তিনি জানান, অনিয়মিত রোগী বাড়ানোর জন্য কাউন্সেলিং হচ্ছে। সেবাকে কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। কমিউনিটিতে নানা গ্রুপকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ দেশের ২৩ জেলার ১৮২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চারটি সদর হাসপাতালের এনসিডি কর্নারে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার উদ্দেশ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা, চিকিৎসা ও ফলোআপ কার্যক্রম শক্তিশালী করা। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল পর্যায়ে প্রকল্পটি আরও সফল করতে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট জেলার চারটি উপজেলার (গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার) ৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেয়া শুরু হয়। গত বছর ১৪ই মে ওই সভায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যামলোডিপিন ৫ মিলি গ্রাম ও ডায়াবেটিসের জন্য মেটফরমিন ৫০০ মিলি গ্রাম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশে অকাল মৃত্যুও কমে আসবে। কারণ মৃত্যুর প্রধান তিন কারণের অন্যতম উচ্চ রক্তচাপ। যদি অকাল মৃত্যু কমাতে হয় তাহলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের তো একটা টার্গেট আছে অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা। এজন্য ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ওষুধ কিনে খেতে না পারলে ওষুধ সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্ব। কিছু রোগী অনিয়মিত হয়ে যাচ্ছে তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে ডা. সোহেল রেজা বলেন, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে ওষুধ শেষ হলে এখন তাদেরকে মোবাইলে মেজেস দেয়া হচ্ছে। এতে বেশ সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।

mzamin


Saturday, October 5, 2024

ডেঙ্গুতে বেশি মারা যাচ্ছে তরুণরা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যু কমছে না। মৃতদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা বেশি। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১৭৭ জন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। এরমধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে সর্বাধিক ৯৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তে পুরুষরা বেশি হলেও মৃত্যুতে নারীরা বেশি। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে নারীরা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে হাসপাতালে দেরিতে যান। ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণ করে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন কীটতত্ত্ববিদরা।

এদিকে, রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী আসছে বেশি। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। ঢাকার হাসপাতালগুলোর কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা এখন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকার বাসিন্দা। তবে ২০-২৫ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে থেকেও আসছেন।

৩রা অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে। মোট মৃতের মধ্যে ৫১ দশশিক ৪ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ। এছাড়া এ বছর ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪৩৮ জন। আক্রান্তের মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী  রয়েছেন। ঢাকা সিটিতে ১২০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে মারা যাওয়ার সংখ্যা সর্বাধিক ৯৫ জন। উত্তর সিটিতে  ২৫ জন। ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন ব্যতীত) ৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন,  চট্টগ্রামে ২২ জন, খুলনা  বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন।

বয়সভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ মৃত্যু ২১ জন। এরপরে রয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২০ জন। এতে দেখা যায়, শূন্য  থেকে ৫ বছরের মধ্যে রয়েছে ৫ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৩১ থেকে ৩৫ বছরের ১৫ জন, ৩৬ থেকে ৪০ বছরের ৯ জন,  ৪১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৪৬ থেকে ৫০ বছরের রয়েছেন ১২ জন, ৫১ থেকে ৫৫ বছরের ১২ জন, ৫৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৬৫ বছরের রয়েছেন ৯ জন, ৬৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৭১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৭৬ থেকে ৮০ বছরের রয়েছেন ৭ জন এবং ৮০ বছরের উপরে মারা গেছেন ২ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মশার প্রজনন ধ্বংস কার্যক্রম ভাটা পড়ায় পরিস্থিতি আবারও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবও সে কথাই বলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ৩৩৯, মৃত্যু ৩ জন। মার্চে আক্রান্ত ৩১১, মৃত্যু ৫ জন। এপ্রিলে আক্রান্ত ৫০৪, মৃত্যু ২ জন। মে মাসে আক্রান্ত ৬৪৪ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন। জুনে আক্রান্ত ৭৯৮ এবাং মৃত্যু ৮ জন। জুলাইয়ে আক্রান্ত ২ হাজার ৬৬৯ জন, মৃত্যু ১২ জন। আগস্টে আক্রান্ত ৬ হাজার ৫২১ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন। চলতি সেপ্টেম্বরে চলতি বছরের রেকর্ড পরিমাণ আক্রান্ত ১৮ হাজার ৯৭ জন এবং মারা গেছেন ৮০ জন। অক্টোবরে ৪ দিনে আক্রান্ত  ৩ হাজার ৫০০ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয় মূলত বর্ষাকালে। আগস্ট থেকে বাড়তে থাকে এর ভয়াবহতা। কিন্তু চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে এডিস মশা তাদের প্রজননে উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে গেছে বর্ষার আগেই। এখনো এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন তারা। একইসঙ্গে আবহাওয়ার তারতম্যও সমানভাবে দায়ী উল্লেখ করে তারা বলছেন, এখনি এডিসের জীবাণুবাহী মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কেন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে জানতে চাইলে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মানবজমিনকে বলেন, এ বছরের শুরু থেকে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করা হয়েছিল। আমি আগেই বলেছি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এ সংখ্যাটি হঠাৎ করে বাড়েনি। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এখনো কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় অক্টোবরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হয় উড়ন্ত মশা নিধনে। আমরা এখনো এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। কবে নাগাদ ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে এলে এক মাসের মধ্যেই সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে এ মুহূর্তে ডেঙ্গুর হটস্পট নির্ধারণ করে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন ডেঙ্গু প্রসঙ্গে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এ বছর বেশি না হলেও মৃত্যুহার বেশি। এ বছর এখন পর্যন্ত একদিকে প্রচণ্ড তাপ, অন্যদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। এ রকম উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এডিস মশার ডিম ও প্রজনন খুব দ্রুত হয়। বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গরম পড়ছে। কাজেই একদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আমাদের জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মশক নিধনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জনগণ ও প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া। কাজেই জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান যদি পরিচালনা করা না যায়, তাহলে ইতিমধ্যে যতটুকু অর্জন ছিল, তাও ভেস্তে যাবে।

mzamin

Wednesday, September 25, 2024

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ হবে বিইআরসিতে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

আগামী অক্টোবর মাসে জ্বালানি তেলের দাম কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। চলতি মাসে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের  সঙ্গে মিল রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হয়েছিল। তবে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল (জেট ফুয়েল) ও ফার্নেস অয়েলের দাম এখন থেকে নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিইআরসি’র সূত্র বলছে, অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব এখনো পায়নি। তবে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। দাম নির্ধারণের প্রস্তাব আসা মাত্রই প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হবে কিনা জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নুরুল আলম মানবজমিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উপদেষ্টা বাইরে আছেন। আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

এতদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল নির্ধারণ করে আসছিল। অক্টোবর মাস থেকে এটি কার্যকর হবে। জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম এখন থেকে নির্ধারণ করবে বিইআরসি। তবে অন্য জ্বালানির বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়নি।

উল্লেখ্য, বিইআরসি আইনে সকল ধরনের জ্বালানির নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেয়া হয়েছে। তবে বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ার অজুহাতে এতদিন জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিপিসি। ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাসের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা-বিচারিক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের বিতরণ কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত বিইআরসি মূলত ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আর ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আইনে সকল ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত বেকার হয়ে পড়ে আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠানটি। বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে দাম চূড়ান্ত করায় ইউটিলিটিগুলোর নানা রকম অসঙ্গতি সামনে আসতো।
গত ২৭শে আগস্ট নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের আইন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরে পায় বিইআরসি। গেজেটে বিইআরসি আইনে ৩৪ (ক) ধারা সংযোজন করে নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া হয় নির্বাহী বিভাগকে। গেজেটে ৩৪ (ক) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম  করপোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আমিন-উল আহসান মানবজমিনকে বলেন, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)তে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণের নির্দেশনা আসেনি।

কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর  জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মানবজমিনকে বলেন, আইন অনুযায়ী এখন থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সব জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করবে। আগামী মাস থেকে বিইআরসি’র মতামতের ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ না হলে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ফলে জনগণ কোনো সুবিধা পায়নি। বাজারে কোনো প্রভাবও পড়েনি। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছে। আমরা অন্তত ৩ বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছি। বিগত সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিইআরসি’র আইনকে শুধু খর্ব করেছে বললে ভুল হবে, বিইআরসি’র ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। তাই বিইআরসিকে তার প্রকৃত শক্তি ফিরিয়ে দিতে হবে।

ক্যাব বলছে, বিইআরসি আইনের সংশোধনী ৩৪ ক বাতিল হয়েছে। ২০১২ সালে বিইআরসি প্রস্তাবিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের (পেট্রোল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ইত্যাদি) মূল্যহার নির্ধারণ সংক্রান্ত তিনটি প্রবিধানমালা কার্যকর দেখতে চাই ক্যাব। ক্যাব’র পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় ১১ দফা দাবি জানানো হয়। অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় রোধ করে ঘাটতি সমন্বয় ও পণ্য মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ৩ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানির মূল্যহার বৃদ্ধি না করার দাবি জানানো হয়। বিইআরসি’র আওতায় বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তর নীতি ২০২৪-এর আলোকে জ্বালানি খাত সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য একটি ‘জ্বালানি খাত সংস্কার কমিশন’-এর কথা বলা হয়েছে। কস্ট প্লাস নয় কস্ট বেসিসে লুণ্ঠনমুক্ত মুনাফাবিহীন সরকারি জ্বালানি সেবা দাবি ক্যাব’র।

mzamin

Tuesday, November 26, 2019

হৃদরোগী বাড়ছে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও তরুণরা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

গত পাঁচ মাসে আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মোহাম্মদ হোসেন। তার বয়স ৪২ বছর। হৃদরোগের চিকিৎসার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ আছেন। তিনি ধূমপান করতেন না। কিন্তু তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি তার খাদ্যাভাস ও জীবন-যাপনে কিছু পরিবর্তন এনেছেন। অপর মধ্য বয়সী সারোয়ারকে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। তার স্বজনরা জানিয়েছেন, তার উচ্চরক্ত চাপ ছিল। ধূমপাানেরও অভ্যাস ছিল। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

শুধু মোহাম্মদ হোসেন বা সরোওয়ার নন,বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি থেকে। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে আবার শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ। হৃদরোগকে খাদ্যবাহিতও রোগ বলা হয়। তারা বলেন, দুশ্চিন্ত ও অত্যাধিক মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিবার ও সমাজে সবার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগকে একনম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর ১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখে। অথচ হৃদরোগের ভয়াবহতার ব্যাপারে সেইভাবে প্রচারণা নেই। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ ছাড়া একজন ব্যক্তির পক্ষে হৃদরোগের ব্যাপারে ঝুঁকিমুক্ত থাকা কঠিন। তাই সকলে মিলেই সুস্থ হার্টবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। হৃৎপিণ্ড হচ্ছে মানুষের  শরীরের একমাত্র অঙ্গ, যেটা আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখে, কেননা মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও আমরা তাকে জীবিত বলতে পারি যতক্ষণ পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্য ক্ষমতা সচল থাকবে। বর্তমানে, মানুষে মৃত্যুর যত কারণ আছে, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে মৃত্যু হলো সবচেয়ে বেশি। এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় এই হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিজনিত রোগের কারণে। দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডে রক্তনালির ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস্‌ এবং ম্যালেরিয়া থেকেও বেশি। বর্তমানে ৩১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ধরা হয় এই হৃদরোগ ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর ৮০ শতাংশ  কারণও এ হৃদরোগকে দায়ী করা হয়।

হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো এনজাইনা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে, রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারো করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হা্‌র্ট অ্যাটাক হয়। আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে। এটি সাধারণত বয়স্কদের রোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে। আমাদের এদেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ হলো- স্বাস্থ্য সম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাক জাতীয়  দ্রব্য সেবন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা। দেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম  মোস্তফা জামান তার এক প্রবন্ধে বলেন, দেশে বয়স্কদের মধ্যে ১৭ শতাংশ লোক হৃদরোগে ভুগছেন। ছোটদের মধ্যে হাজারে ৮ থেকে ১০ জন এই রোগের দেখা মিলছে। বাংলাদেশে এখন বড়দের সঙ্গে ছোটদেরও হৃদরোগ হচ্ছে। যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে। তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে ৫০ থেকে ৬০ বছরের বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে। তবে ২০ থেকে ২২ বছরের তরুণ রোগীও আমরা পাচ্ছি। বহু শিশু জন্মগত হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবাই মনে করেন এটি ধনীদের রোগ। বিষয়টি সঠিক নয়। এটা গরীব মানুষেরও হয়ে থাকে।

খাদ্যাভাস বাজে হওয়ার কারণে গরীবদের মধ্যে এই রোগ দেখা যাচ্ছে।  চিকিৎসকদের গবেষণার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে আমাদের দেশেও র্হাট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। নৃ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মেনে এ দেশের মানুষের উচ্চতা কম। এ কারণে আমাদের করোনারি ধমনীর ভেতরকার পরিসর বেশ ছোট। করোনারি ধমনীর পরিসর ছোট হতে হতে একবারে বন্ধ হয়ে গেলেই সমস্যাটা হয়।এ দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যাটা বেশি। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যাটাও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। শিশুদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এর কারণ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব এবং জাঙ্ক ফ্রুড খাওয়ার অভ্যাস। শিশুদের এ অভ্যাস পাল্টাতে না পারলে দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ধূমপান করার কারণে ঝুঁকি বাড়ছে এবং যেসব পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, সেই পরিবারে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় হলো- ধূমপান ত্যাগ করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেলিং, সাঁতার কাটা, খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করা, বেশি বেশি সাক-সবজি খাওয়া, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। সে কারণেই বারবার শিশু ও নারীর ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। তাদের মতে, এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে গোটা জীবন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। হার্ট সুস্থ রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উগ্যোগে ২০১৭ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিসংখ্যান মতে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটন ও হাসপাতালে হৃদরোগীর সংখ্যা বছর বছর বাড়ছেই। ২০০৯ থেকে ২০১৬ এই আট বছরে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়া ও ভর্তির ক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা  বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০০৯ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৮ জন এবং ভর্তি হয়েছিল ৪১ হাজার ৫৫৪ জন, ২০১০ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার সংখ্যা ছিল  এক লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ জন এবং ভর্তি হন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল  এক লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩ জন ও ৪৩ হাজার ২৭৫ জন। ২০১২ সালে বহির্বিভাগ  থেকে চিকিৎসা নিয়েছিল এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৪ হাজার ৫৫৯ জন। ২০১৩ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩ হাজার ৩৪১ জন, ২০১৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ৫৩৩ এবং ৪৯ হাজার ২৮৩ জনে। ২০১৫ সালে বহির্বিভাগ দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল দুই লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৩ হাজার ৩৯০ জন হৃদরোগী। ২০১৬ সালে বহির্বিভাগ দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল দুই লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৪ হাজার ৯০৬ জন হৃদরোগী। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে ২৯শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালন করা হচ্ছে। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট সুস্থ  রাখতে অঙ্গীকার করি এক সাথে’।

Tuesday, November 19, 2019

৫৭ শতাংশ লোক জানেনা তার ডায়াবেটিস by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

আনিসুল হক ও তার স্ত্রী রেবা খাতুন দুইজনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের বয়স ৬০-এর কাছাকাছি। তাদের প্রায়ই রাজধানীর শাহবাগে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। প্রতিদিনই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুয়ায়ী ওষুধ খাওয়া ছাড়াও ৪০ মিনিট হাঁটছেন তারা। খাওয়া-দাওয়া আগের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রণে। শুধু আনিসুল হক দম্পতি নয়, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা এভাবেই দিন পার করছেন। বাংলাদেশে দিন দিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা অর্ধ কোটির উপরে।
বছরে বাড়ছে আরো ১ লাখ রোগী। তবে  বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের ৫৭ শতাংশ লোক জানেন না যে তার ডায়াবেটিস রোগ আছে। বছরে এই রোগে প্রায় এক লাখ লোক মারা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০১৭ সালের হিসাব মতে, বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪২ কোটি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সব বয়সের মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে নতুন নতুন রোগীর সংখ্যা। সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দশমে। নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও দেশের ডায়াবেটিক রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। প্রতি বছর ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস এমন এক রোগ, স্বাস্থ্যশিক্ষাই যার প্রধান চিকিৎসা। যথাযথ স্বাস্থ্যশিক্ষা পেলে একজন ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না হয়ে এ রোগ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। তবে, উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশে ডায়াবেটিক রোগীর বৃদ্ধির হার বেশি। ডায়াবেটিস সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করছে অসংখ্য মানুষ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে। ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে তাতে এখনই এ রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা ডায়াবেটিসকে সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। ঘন ঘন ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এক পর্যায়ে পৌঁছলে অনেক জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে ডায়াবেটিস। তিনি জানান, সারা দুনিয়ার অর্ধেক রোগী জানে না তার ডায়াবেটিস হয়েছে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)  সূত্র জানায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস  রোগী বেশি। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ। শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাডাস কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সমপ্রতি বাডাস কর্পোরেটভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বল্পমূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা দেয়া হবে।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের এক  প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৫০ কোটিতে। বাংলাদেশে আশির দশকে ডায়াবেটিস রোগী সংখ্যা ছিল যেখানে মাত্র ২ শতাংশ এটি এখন শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ। এছাড়াও প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস-এর আগের ধাপ)-এর হার আরও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।  এ প্রসঙ্গে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউ’র এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আশির দশকে যেখানে মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে এখন গ্রামাঞ্চলেও ডায়াবেটিসের সামগ্রিক প্রবণতা ৮ শতাংশের মতো। এভাবে ক্রমশ ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য হবে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাছাড়া, ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। এত বড় বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা। সময়মতো ইন্টারভেনশন (খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন), নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে গর্ভবতী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা শতকার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০ বছর আগে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ছিল। এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।  বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত কারণ ছাড়াও নগরায়ন ও পরিবর্তিত জীবনধারণের কারণেই এই রোগে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, গর্ভকালীন ডাযাবেটিসে আক্রান্ত নারীদের প্রায় অর্ধেক পরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এমনকি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণে শিশু অপুষ্টির শিকার হলে এবং সেই শিশু পূর্ণবয়স্ক হবার পর অতিরিক্ত ওজন হলে তার ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে।

ডায়াবেটিস এর চিকিৎসার জন্য একজন রোগীর মাসিক গড়ে ২ হাজার টাকা খরচ করতে হয় বলে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে যারা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা নেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ ট্যাবলেট খান এবং প্রায় ১৭ ভাগ ইনসুলিন নেন। বাকি ১১ শতাংশের দুটোই প্রয়োজন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চিকিৎসক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলছেন, সকল ডায়াবেটিক রোগীকে ট্যাবলেট খেতেই হয়। যেহেতু এর সঙ্গে অন্যান্য রোগ থাকে, এ ধরণের একটি রোগী কোন মতেই প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার নিচে চলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মাহবুব। অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সচেতনতার মাধ্যমে যদি ডায়াবেটিসের বিস্তার কমানো সম্ভব না হয়, তাহলে এ রোগের জন্য আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হবে। এ রোগের চিকিৎসা নিতে মানুষের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। যেটি দেশেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)। গত ১০ বছরেও ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। সম্প্রতি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংঠনটির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান। তিনি জানান, গত দশ বছর এই সংক্রান্ত ফাইল এই মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয় ঘুরছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নীতিমালা কোনো মন্ত্রণালয় উপস্থাপন করবে তা নিয়েও চলছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। বাডাস’র সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে। তবে এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও আনুমানিক ৫০ লাখ লোক এই রোগে আক্রান্ত। গ্রামের চেয়ে শহরে ডায়াবেটিসের রোগী বেশি। বহুবিধি কারণে এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে জীবন-যাত্রার পরিবর্তন, নগরায়ন, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া ইত্যাদি। তিনি জানান, দেশে ৫০ শতাংশ অপরিকল্পিত গর্ভবতি হচ্ছেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ৫৭ শতাংশ লোক জানেনা যে তার ডায়াবেটিস রোগ আছে। বছরে এই রোগে প্রায় এক লাখ লোক মারা যাচ্ছে।

২০০৮ সালে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে-ফাস্টফুড ও কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে যাতে প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিত। স্কুল-কলেজে খোলা মাঠ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এককভাবে না পারলেও কয়েকটি স্কুল বা কলেজ সম্মিলিতভাবে একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে সে ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। টিভি-রেডিও-সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বা স্লোগান প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার। এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং ক্লাব, সুইমিং ক্লাব ইত্যাদি গড়ে তোলা উচিত। গৃহায়ন কর্মসূচির অনুমতি দেয়ার সময় হাঁটাচলার জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা ও খেলাধুলার জন্য কিছুটা জায়গা রাখার বিধান রাখা যেতে পারে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে(যেমন মসজিদে খুতবার সময়) ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বক্তৃতা করার ব্যাপারে ধর্মীয় নেতাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে আজ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি’।

Sunday, November 3, 2019

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিট: কর্মশালার নামে লুট by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিট অনিয়মে ভর করেছে। এখানে নয়ছয় করে বিভিন্ন কর্মশালার নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে এসেছে। মন্ত্রী ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, স্কুল-মাদ্রাসা শিক্ষকদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে অবহিতকরণ বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করার কথা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের। এরই অংশ হিসেবে আইইসি অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের উপজেলা পর্যায়ে ৪৮৬টি  কর্মশালা পরিচালনা করার কথা। এ জন্য বরাদ্দও ছিল ৭ কোটি টাকা। যদিও আইইএম ইউনিটের পরিচালকের বিচক্ষণতায় এসব কর্মশালা হয়েছে। তবে তা বাস্তবে নয়; কাগজে কলমে।
অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের পরিচালক আশরাফুন্নেছা তার দুরদর্শীতার মাধ্যমে কর্মশালা না করেই এই টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের। এক্ষেত্রে তিনি কর্মশালার নামে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল এবং ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সব টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে।
অধিকাংশ বিল ভাউচারের প্রতিষ্ঠানেরই কোন অস্তিত্ব নেই। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটে সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা দেখেন, গত অর্থ বছরে উপজেলা পর্যায়ে ৪৮৬টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তথ্য দেখানো হয়েছে। কিন্তু এসব কর্মশালার বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা আরো দেখেন-আমদানি-রপ্তানিকারকের লাইসেন্সধারী ‘সুকর্ন ইন্টারন্যাশনাল কোং’ এবং ‘মেসার্স রুহী এন্টারপ্রাইজ’ নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজ দেয়া হয়েছে। দরপত্রের শর্ত লংঙ্ঘন করে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিল দেয়া হয়েছে বলে দুদক দলের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দল প্রাথমিক তদন্তে এসেছিল। তারা কিছু কাগজপত্র চেয়েছেন। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পুরো মাত্রায় সব ধরনের সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগ যেহেতু এসেছে তাই ডেফিনেটলি বিষয়টি দেখতে হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইইএম ইউনিট সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ৪৮৬টি কর্মশালার নামে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল এবং ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কর্মশালার ব্যয়বাবদ তিনি যে সব বিল ভাউচার ব্যবহার করেছেন তার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই কোন অস্তিত্ব নেই। কর্মশালায় ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় ভাবে কোন ধরনের টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই কিছু ব্যাগ, কলম, প্যাড ক্রয় করে আইইএম ইউনিট। তিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইইএম পরিচালকের মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে এসব পণ্য সরবরাহ করে। যেখানে ব্যাগের জন্য ৩৭০ টাকা এবং কলম ও প্যাড যথাক্রমে ১০ ও ২০ টাকা মূল্য নির্ধারন করা হয়। অথচ বিল ভাউচারে ব্যাগের দাম দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা, প্যাড ৭০ টাকা এবং কলম ৮০ টাকা। এছাড়া কর্মশালায় রিসোর্স পার্সনদের সম্মানী ভাতা আয়করসহ ১ হাজার ৬৮০ টাকা, স্থানীয় সমন্বয়কারীদের সম্মানী আয়করসহ ১ হাজার টাকা, অংশ্রগহণকারীদের ভাতা বাবদ ৭শ’ টাকা দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত কর্মশালার জন্য ‘মেসার্স আচল পেপার, স্টেশনারী এন্ড লাইব্রেরী’ থেকে ব্যাগ, প্যাড কলম কেনা হয়েছে। যার ঠিকানা স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার। ক্যাশ মেমোতে ক্রেতার নাম ঠিকানা লেখা হয়েছে, ‘পরিচালক আইইএম এবং প:প: অধি, ঢাকা’। এছাড়া ‘সাম্পান রেস্টুরেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং’ নামে একটি ক্যাশ মেমোতে ক্রেতার একই ঠিকানা ব্যবহার করে আপ্যায়ন উদ্বোধনী ও আপ্যায়ন সমাপনী নামে বিল করা হয়েছে। কিন্তু কোন পণ্যের নাম সেখানে নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মৌলভীবাজারে স্টেশন রোড নামে কোন সড়ক নেই। এমনকি ‘মেসার্স আচল পেপার, স্টেশনারী এন্ড লাইব্রেরী’ ‘সাম্পান রেস্টুরেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং’ নামে কোন প্রতিষ্ঠানও নেই।
একই ঘটনা ঘটেছে দেশের প্রায় বেশিরভাগ উপজেলায়। মাত্র ৩ দিনে ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার ৩৩টি উপজেলায় কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়েছে। বাস্তবে যা অসম্ভব। উপজেলা পর্যায়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী প্রদানের তালিকার নাম ও স্বাক্ষর ঢাকা অফিসে বসেই ইচ্ছেমতো বসিয়ে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় ভাবেও ব্যাগ কেনেন পরিচালক আশরাফুন্নেসা। তবে কোন ধরনের টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই তিনজন সরবরাহকারীকে তিনি ব্যাগ প্রদানের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। তার প্রেক্ষিতে উইমেক্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, জারিন এন্টারপ্রাইজ এবং এমআর এন্টারপ্রাইজ যথাক্রমে ৮ হাজার, ৩ হাজার ৪’শ এবং ২ হাজার ব্যাগ সরবরাহ করে। কিন্তু ৩৭০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকায় ব্যাগ সরবরাহ করলেও তিনি সরবরাহকারীদের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করলেও বাকী টাকা দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কোন কাজ না করেই ৪৮টি কোটেশনের মাধ্যমে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন আশরুফুন্নেসা। যার কোন নথিপত্র নেই। ভুয়া কার্যাদেশ তৈরি করে বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করে এসব বিল এজি অফিস থেকে পাশ করানো হয়েছে। যদিও সরকারি নিয়মানুযায়ী একজন পরিচালক বছরে ৬টির বেশি কোটেশন করার কোন নিয়ম নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিজের ভাগ্নের প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহের রুহি এন্টারপ্রাইজের ট্রেড লাইসেন্সে ‘আমদানিকারক’ উল্লেখ থাকলেও তিনি অধিদপ্তরের শর্ত ভঙ্গ করে এই প্রতিষ্ঠানকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে দরপত্রে উল্লিখিত ৩ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তও মানা হয়নি। তেমনিভাবে কাজ দিয়েছেন নিজের চাচাতো ভাইয়ের ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠান সুকর্ণ ইন্টারন্যাশনালকে। ভাগ্নে ও চাচাতো ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান নামে হলেও মূলতঃ ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার এই দুটি কাজ তিনি নিজেই করছেন। বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে দরপত্রে উলিখিত শর্তও ভঙ্গ করেছে এই দুটি প্রতিষ্ঠান। সূত্র জানায়, শিক্ষা ক্যাডার থেকে প্রশাসন ক্যাডারে আসা এই কর্মকর্তা ইতিপূর্বে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতির কারণে তাকে সেই সময় ওএসডি করা হয়। সার্বিক বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (আইইএম) আশরাফুন্নেছার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মার্কেটে। কথা বলতে পারবো না।

Wednesday, October 23, 2019

শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে অনিয়ম দুর্নীতি লুটপাট অভিযোগের পাহাড় by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে রাজধানীর শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খানকে গত শনিবার ঘেরাও করেন শিক্ষকরা। ওই দিন গভর্নিং বডির  বৈঠক চলাকালে শিক্ষকরা তাকে ঘেরাও করেন। বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।  পরে ওই বৈঠককে রোববার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। কিন্তু এ দিনও কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। কলেজের শিক্ষকরা জানান, সভাপতি যোগদানের পর থেকে নানা কায়দায় ও ফন্দি করে টাকা লুটপাট করছিলেন। কোটি কোটি টাকায় তিনি কেরানীগঞ্জের অজপাড়া গায়ে জমি কেনেন। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। জমি কেনার নামে অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে ৪৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন না করে ১৫ থেকে ২০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন আছে। তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৬৫ হাজার টাকা কলেজ থেকে নেন। মাসে ২০ থেকে ২২ দিন কলেজে ভূরিভোজ করেন। নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বেহিসাবে ব্যয়ের অভিযোগ আছে। এমন নানা অভিযোগে শিক্ষকরা ছিলেন ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে বানোয়াট অভিযোগে শনিবার স্থায়ী অধ্যক্ষকে ও একজন শিক্ষক কে বরখাস্ত করে নিজের লুটপাটের এক সাক্ষীকে অধ্যক্ষ পদে বসানোর উদ্যোগ নিলে শিক্ষকরা সভাপতিকে অন্য সদস্যদেরসহ ঘেরাও করে। কিন্তু এ সময় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা বৈঠকে ঢুকে পড়েন। শুরু হয় বাক-বিতান্ড। একপর্যায়ে অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপে সভাপতি মুক্ত হন। পরে রোববার সকাল পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হলে শিক্ষকদের প্রতিবাদে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই গতকাল বৈঠকটি স্থগিত হয়ে যায়। জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আমার করার কিছু ছিল না।
এদিকে কলেজের শিক্ষকরা তিন শিক্ষক প্রতিনিধির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে লিখিত দিয়েছেন। যাতে পুনরায় শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কোন মিটিংয়ে তারা অংশগ্রহণ না করতে। এছাড়া অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার  কারণে কলেজের সভাপতি অধ্যাপক হারুনর রশিদকে বাদ দিয়ে নতুন গভর্নির বডি গঠন করার জন্য শিক্ষকরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে চিঠি দিয়েছেন। শিক্ষকরা কলেজের  অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়ির প্রকৃত দোষীদের শাস্তিও দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জিবি সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কাগজ নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেন। গত দুই দিনে মিটিং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করে দ্রত ফোনটি কেটে দেন।
শিক্ষকরা জানান, কারসাজি করে জমি কেনা, নানান ধরনের উন্নয়ন, কেনাকাটা এবং মিটিং-সিটিংয়ের নামে লুট হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের অর্থ। আওয়ামী লীগের ৯ বছরের শাসনামলে তিলে তিলে জমানো প্রতিষ্ঠানটির ৮৬ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটিই গত দু’বছরে হাওয়া হয়ে গেছে। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির (জিবি) সভাপতি এবং তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি মূল ভূমিকা রাখছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ায় জিবির সভাপতি বেশি বেপরোয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, শুধু অর্থ লুটেই শেষ নেই অপতৎপরতা। সরকারি নিয়ম ভেঙে শিক্ষক নিয়োগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেয়া, প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৪ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল ক্রয়, মোবাইল ফোনের বিল বাবদ মাসে ৪ হাজারসহ নানাভাবে মাসে গড়ে  সাড়ে ৬৫ হাজার  টাকা নিচ্ছেন সভাপতি। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও আছে। এছাড়া বিভিন্ন সভার নামে সম্মানী গ্রহণ তার নেশায় পরিণত হয়েছে। এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভা পরিচালনা ও ব্যয় করা, নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক পদোন্নতি, বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কলেজের স্থায়ী আমানত ভেঙে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে আরেক ব্যাংকে রাখার মত কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করছেন। দুর্নীতিবাজ কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের আর্থিকসহ অন্যান্য অপরাধ ও অভিযোগ আমলে নেন না। বিপরীত দিকে তার অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদ কারীদের শায়েস্তা করতে বানোয়াট অভিযোগ তুলে ‘সাইজ’ করে থাকেন তিনি।
উল্লিখিত সব ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। বর্তমান সভাপতি আসার পর একাডেমিক উন্নয়নের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী গচ্ছিত অর্থ ভেঙে জমি কেনাসহ তথাকথিত উন্নয়ন শুরু হয়। কলেজের পাশের জমি না কিনে কেরানীগঞ্জে বিচ্ছিন্ন এলাকায় জমি কেনা হয়। অথচ কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরির কোনো নিয়মই নেই। তাছাড়া খণ্ড জমি কোনো কাজেও আসবেনা।  তিনি বলেন, কমিটি থাকার পরও একই কাজের জন্য সভাপতির ইচ্ছায় বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ নির্বিচারে জমি কেনা ও নিয়োগের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার এই কাজে সঙ্গী হয়েছেন বিগত বিএনপি আমলে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত কয়েকজন শিক্ষক।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, সভাপতি নিয়ম বর্হিভুতভাবে মোবাইল ফোন সেট কেনার নামে কলেজ থেকে ৮৩ হাজার ৯৬০ টাকা নগদ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিধি বহির্ভূতভাবে তিনি টেলিফোন ভাতার নামে মাসে ৪ হাজার করে টাকা নেন। কলেজ থেকে টাকা লুটে নিতে তিনি মিটিং বাণিজ্য করে থাকেন। গত বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর কলেজের স্টাফ   কাউন্সিল   মিটিংয়ে তিনি তথাকথিত শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আটটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। প্রত্যেক কমিটির উপদেষ্টা তিনি। ওইসব কমিটি মূলত করা হয় মিটিং বাণিজ্য করার জন্য। এরপর বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবহিত করা হলে তিনি সভাপতির কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। তখন ২টি কমানো হয়। কিন্তু প্রত্যেক কমিটির প্রধান থাকেন তিনি এবং ওইসব কমিটিকে মাসে দু’টি বৈঠক করতে বাধ্য করেন। প্রত্যেক মিটিং থেকে তিনি সম্মানি নেন।
এক হিসাবে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে তিনি মাসে গড়ে ৬৫ হাজার ৬৫৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে নিয়োগ কমিটি বাবদ-২ লাখ ৬৩ হাজারন ৩৫০ টাকা, জিবির মিটিং বাবদ ২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা,  ওয়ার্কিং গ্রুপ বাবদ ৮০ হাজার  টাকা, মোবাইল বিল-৪৮ হাজার টাকা, ক্লাস  বাবদ  ২ লাখ টাকা এবং পদোন্নতি কমিটির মিটিং করে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। 
অভিযোগ আছে,  প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি কলেজে ৪৫জন শিক্ষক নেন। ওই নিয়োগে একইদিনে একাধিক বিষয়ের পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রতি বিষয়ের জন্য পৃথক পৃথক সম্মানী নেন তিনি। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা উন্নয়নের নামে অর্থ লুটপাট করছেন। যে কক্ষে টাইলস লাগাতে ৬ বস্তা সিমেন্ট দরকার, সেখানে ৫৬ বস্তা সিমেন্টের ভাউচার দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে অভিযোগ তিনি আমলে নেননি।
জমি ক্রয়ে আড়াই কোটি টাকা লোপাট: কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করার কথা বলে কলেজ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে গ্রামের মধ্যে প্রায় ৪০০শতক জমি কেনা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন। জানা গেছে, মোট তিন দফায় জমি কেনা হয়। এরমধ্যে প্রথম দফায় ২৬২ শতাংশ জমি ক্রয়ে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়। এখানে  ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার একটি জাল দলিল হয়।  জমির মালিক চার জন। তারা হলেন মো. সলিমুল্লা,  মো. কালিমুল্লাহ, মো. হাবিবুল্লাহ ও মো. অলিউল্লাহ। তাদের পক্ষ থেকে মো. সাইদুল ইসলাম নামে একজনকে আম মোক্তার সাজিয়ে  দলিল করা হয়। কিন্তু চার ভাই জানান, এ নামে কাউকে তারা আম মোক্তার নিয়োগ করেননি। এ নামে কাউকে তারা চিনেন না। তারা নিজেরাও জমি বিক্রি করেননি। মিনহাজ উদ্দিন নামে একজনের কাছ থেকে ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকার জমি কেনা হলেও তিনি ৩৪ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানান।
এভাবে কলেজ থেকে ৫০০ শতক জমি কেনার নামে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়া এ জমির রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম দফায় কেনা দলিল হাতে পাওয়া ২৬২ শতক জমির দলিল কলেজে জমা পড়েছে। এ জমি কেনায় রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
দুর্নীতি ও লোপাটের রাস্তা সহজ করতে কলেজের জমি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির আহবায়ক আবু নাঈম মো. রাফীর নিকট আত্মীয়ের রিহ্যাবে অনিবন্ধিত ও ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান সারা রিয়েল এষ্টেট এন্ড ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই  জমির বায়নাসূত্রে মালিক প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী শাহ আলম। সে অনুযায়ী জমি ক্রয় করার কথা শাহ আলমের কাছ থেকে। কিন্তু জমি ক্রয় করা হয় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে। লক্ষ্যনীয় যে, শুধুমাত্র চুক্তিপত্র করার জন্য তাকে টাকা দেয়া হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৭হাজার ১৬০ টাকা। সবমিলে এই খাতে আড়াই কোটির বেশি টাকা আত্মসাত হয়েছে।
এ সংক্রান্ত দলিল ও নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জমির মূল্য চেকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা থাকলেও অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে তা নগদে প্রদান করা হয়। ওই জমি মালিক পক্ষের নিকট থেকে সরাসরি ক্রয় করা হলেও অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুল অংকের টাকা প্রদান করা হয়েছে। টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহীতার নাম ও জমি দাতার স্বাক্ষরের কোন মিল নাই। জমির মালিকের নিকট থেকে কম দামে জমি ক্রয় করা হলেও দলিলে বেশি দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাত করেছে। এর ফলে জমি রেজি: খরচ বাবদ সতের লাখ দুইশত সত্তর টাকা কলেজের ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় কলেজের জন্য ৮৫ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ লেনদেন নগদে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ জিবি পে অর্ডার ছাড়া ব্যয় করতে নিষেধ করেছে। নগদে ব্যয় করায় কৃষককে কত টাকা দিয়েছে তা জানা যায়নি। সুতরাং এখানে আরও বেশি দুর্নীতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃতীয় দফায় কেনা জমির কোনো তথ্যই জানা যায়নি।
এফডিআর সংক্রান্ত দুর্নীতি: বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রেখে সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আছে। সভাপতি কমিশন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখেন। সাব-স্টেশন সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কলেজের ব্যয় কার্য ও অডিট কার্য সম্পন্ন হয় সিন্ডিকেট দ্বারা। শিক্ষক প্রতিনিধি আবু নাইম মো. রাফি সব ধরনের আর্থিক কাজ করেন। সেটা অডিটের নামে জায়েজ করেন অপর শিক্ষক প্রতিনিধি বাদল চন্দ্র অপু। শিক্ষকদের আপত্তি সত্ত্বেও নিরপেক্ষ কোনো শিক্ষককে অডিটের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। সভাপতির নির্দেশে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তাদের পছন্দের অভিভাবক প্রতিনিধি দিয়ে কমিটি গঠন করা যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা সহজ হয়।
কলেজের সব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার জিবি সদস্য ঢাকা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম এবং এনসিটিবির সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। বিভিন্ন সভায় এ নিয়ে এই দুই সদস্যের সঙ্গে সভাপতির তর্ক হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যাপক তাসলিমা বেগম মানবজমিনকে বলেন, সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে জিবিতে আছি। সব সময় চেষ্টা করি সরকারের নিয়ম- কানুনের মধ্যে থাকতে। ফলে জিবির  বৈঠকে কিছু বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। অনেক সময় আমরা (দুইজন) কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টও দিতে চেয়েছি। পরে তা দিতে হয়নি। জমি কেনার সম্মতি থাকলেও লেনদেন ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে করতে বলা হয়েছে। কিন্তু নগদ টাকায় জমি কেনা হয়েছে শুনেছি। নগদ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ওখানে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষযে শুনেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

Tuesday, October 8, 2019

সিজারিয়ানে কাবু দেশ, ঝুঁকিতে মা-শিশু by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার দিন দিন বাড়ছেই। সিজারিয়ানে কাবু গোটা দেশ। এতে ঝুঁকিতে থাকে মা ও শিশু। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন সম্প্রতি এক গবেষণায় বলেছে, গত দুই বছরে বাংলাদেশে অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান অপারেশনে সন্তান জন্মদান বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৫১ ভাগ। এর ফলে রোগীরা বছরে খরচ করছেন ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম হয় মোট শিশুর শতকরা ৮০ ভাগ।  এর কারণ মেডিকেল খাতে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য বিবেকবর্জিত চর্চা। সিজারিয়ান অপারেশনের এই ধারাকে বিশাল বৃদ্ধি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংস্থাটি। ২০১৮ সালে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার নারীর।
এর মধ্যে শতকরা ৭৭ ভাগ অপারেশন করানো হয়েছে একেবারে খালি খালি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার। পক্ষান্তরে প্রায় ৩ লাখ নারীকে প্রতি বছর সিজারিয়ান অপারেশন করানো একেবারে বাধ্যতামূলক। তারা এই সুবিধা নিতে পারেন না।
২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সিজারিয়ান অপারেশস শতকরা ৪ ভাগ থেকে ৩১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে সেভ দ্য চিলড্রেন এই খাতকে উন্নততর নিয়ন্ত্রণ, ডাক্তারদের ওপর চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেছেন, এই অপারেশন খুব বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিক থেকে অধিক হারে ধনী মায়েরা অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভিড় করছেন। তাদের বিশ্বাস, এই অপারেশন তাদের জন্য অধিক স্বস্তির হবে। অথবা হতে পারে, তাদেরকে ভুল বুঝিয়েছেন কোনো চিকিৎসক। পক্ষান্তরে দরিদ্র অনেক নারী, যাদের একান্তই এই অপারেশন দরকার তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন না। বিষয়টি বিস্ময়কর। ড. মান্নান বলেন, স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের চেয়ে সংশ্লিষ্টরা অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়াকে বেছে নেন আর্থিক সুবিধার জন্য। যদি এক্ষেত্রে কোনো ভুল অথবা ত্রুটিপূর্ণ পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে তার জন্য তাদেরকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় না। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন মা ও শিশু উভয়কেই প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। এতে সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানী, রক্ত জমাট বাঁধা সহ নানা রকম ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া মায়ের অপারেশন পরবর্তী সুস্থ হতেও সময় লাগে বেশি। স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেয়ার সুবিধাটি এর মাধ্যমে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশে স্বীকৃত ধাত্রীর সংকট। সারাদেশে মাত্র ২৫০০ এমন ধাত্রী আছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যখাত থেকে এখাতে ২২ হাজার ধাত্রী প্রয়োজন বলে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে। কিন্তু যা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র এক দশমাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, সিজারিয়ান সেকশন এখন দেশের বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা রোধ তো করা যাচ্ছেই না, বরং দিন দিন প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো প্রসূতি পেলেই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর এক শ্রেণীর চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাই বিভিন্ন অজুহাতে রোগীকে নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে কৌশলে মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। এমনকি সিজার না হলে মা কিংবা নবজাতকের ক্ষতি হওয়ার ভয়ও দেখানো হয় অনেক ক্ষেত্রে। নিরুপায় হয়ে প্রসূতি ও তার স্বজনরা নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ সন্তানের স্বার্থে হাসপাতালের প্রত্যাশায় সায় দেয়। আর সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসব পদ্ধতিতে রাজি হলেই শুরু হয় টাকা হাতানোর হিসাব কষাকষি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক প্রসবের খরচ সর্বোচ্চ তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা এবং অস্ত্রোপচারে খরচ সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এর বাইরে কেবিন ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ তো আছেই। সরকারি জেলা হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের সময় রোগীর পক্ষকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার ওষুধ কিনলেই চলে, আর অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে কিনতে হয় কমপক্ষে তিন হাজার টাকার ওষুধ। দেশে অনেক নারীর নিজ ও পরিবারের সদস্যেদের ইচ্ছায়, কেউবা চিকিৎসকের কথায় বিশ্বাস করে বা প্ররোচণায় পড়ে সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশু প্রসব করছেন। সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু জন্ম বাড়ছে। এতে শীর্ষে রয়েছেন শিক্ষিত ধনী শ্রেণীর যুবতীরা। ২০১৭ সালের ১০ই আগস্ট সিজারিয়ান (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে শিশু খাদিজার জন্ম হয় মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। আত্মীয়-স্বজনের ইচ্ছা ছিল স্বাভাবিক প্রসবের। কিন্তু চিকিৎসক ও ক্লিনিকের দালালদের প্ররোচনায় মা সালমা শেষ পর্যন্ত সিরাজর করতে বাধ্য হলেন। এটি তার প্রথম সন্তান। তার স্বামী থাকেন সৌদিতে। শিশুটির মামা আলাপকালে জানান, তাদের ইচ্ছা ছিল বোনের বাচ্চা যেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়। কিন্তু তা হলো না চিকিৎসক ও ক্লিনিকের কর্মচরাীদের কারণে। সিজার করতে গিয়ে সবমিলে এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাদের।
‘মাতৃমৃত্যু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১০’ চিত্রে দেখা যায়, ২০০৯ দেশে চার লাখের বেশি শিশু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল। ২০০১ সালের তুলনায় এই সংখ্যা পাঁচ থেকে ৬ গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রসবের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার দরকার হয়। মায়ের অপুষ্টি ও গর্ভকালীন সমস্যার কারণে প্রসবে জটিলতা দেখা দেয়। মা ও নবজাতকের প্রাণ ও স্বাস্থ্যরক্ষায় অস্ত্রোপচার করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সিজারিয়ানে শিশু জন্ম বাড়ছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস)-২০১৪-এর তথ্য মতে, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে মাধ্যমে  শিশু  জন্মের বাড়ার গতি ২০০৪ সালে ছিল ৪ শতাংশ, ২০০৭ সালে ছিল ৯ শতাংশ, ২০১১ সালে ছিল ১৫ শতাংশ আর ২০১৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২৩ শতাংশ। এতে ৮ শতাংশ অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষিত ও ধনিক শ্রেণীর মধ্যে অস্ত্রোপচারের হার বেশি। দরিদ্র পরিবারে ৭ শতাংশ সিজারিয়ান করান। সরকারি হাসপাতালে ৩৪ শতাংশ, ৮০ শতাংশ লাভজনক প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে, ২৪ শতাংশ এনজিও প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমের শিশু জন্ম দিচ্ছেন। ২০১৭ সালের ২রা মার্চ জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, দেশে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তুলনামূলকভাবে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার অনেক বেশি।
এ প্রসঙ্গে ঢামেক হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদোসৗ ইসলাম বলেন, সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশু জন্ম প্রসবের প্রবণতা বাড়ছে। এটা শিক্ষিত নারীদের মধ্যে বেশি। তার হাসপাতালে বছরে যত শিশু জন্ম হয়, তামধ্যে ৫০ শতাংশই হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। মায়েরা ব্যথা সহ্য করতে চান না। নতুনদের মধ্যে প্রবণতা বেশি। চিকিৎসকরাও অনেক সময়ে ঝুঁকি নিতে চান না।