Showing posts with label শিল্প বাণিজ্য. Show all posts
Showing posts with label শিল্প বাণিজ্য. Show all posts

Tuesday, January 28, 2025

কম দামে হাতে বানানো চামড়ার জুতা পাওয়া যাবে যেখানে by এম এ হান্নান

অনেকক্ষণ ধরে খুঁজছি, পাচ্ছি না। ভাবলাম, নেমে যাই। এরপর দেখি আশপাশে জিজ্ঞেস করে। জিগাতলায় জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের গলির মুখে এসে ভাড়া চুকিয়ে রিকশা থেকে যেই নামতে যাব, আমাদের কথা বুঝতে পেরে রিকশাওয়ালা মামা বললেন, ‘চলেন, আপনাগো এক্কেবারে জুতার কারখানার সামনেই দিয়া আহি।’ সামনের আরও দুটি গলি পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম হাতে বানানো জুতার রাজ্যে। ঠিকানা মূলত ধানমন্ডি ৮/এ, কিন্তু লোকে এখনো ধানমন্ডি পুরোনো ১৫ নম্বর রোড বলেই অভ্যস্ত। পরপর বেশ কটি দোকান—দ্য নিউ সঞ্জীব শুজ, জোনাকি শুজ, নিউ বাবুল শু অ্যান্ড লেদার ক্র্যাফট, গোলাপ শুজ, অপর্ণা শুজ, নিউ রোড স্টার শুজ, আবদুল্লাহ ফুট ওয়্যারসহ আরও কত কি নামের জুতার দোকান। রাস্তার পাশেই দোকান। দোকানে স্তরে স্তরে সাজানো জুতা। কোনো দোকানে ক্রেতার অর্ডার নেওয়া হচ্ছে, কোনো দোকানে অর্ডারের জুতা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনোটায় আবার নকশা অনুযায়ী জুতা বানানো নিয়ে ক্রেতা–বিক্রেতায় চলছে আলাপ।

নিউ বাবুল শু অ্যান্ড লেদার ক্র্যাফটে আসল চামড়ায় পছন্দসই জুতা বানাতে উত্তরা থেকে ছুটে এসেছেন তাহসিন আহমেদ খান। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ঘোড়া চালাতে পারদর্শী। ঘোড়ায় চড়ার সময় গায়ে থাকে বিশেষ পোশাক আর পায়ে বিশেষ জুতা, নাম ‘কাউবয় বুট’। উঁচু হিলের এই কাউবয় বুট উঠে যায় একেবারে হাঁটু পর্যন্ত। এক হাতে সঙ্গে আনা কাউবয় বুট, অন্য হাতে মুঠোফোনে থাকা পছন্দের নকশা দেখিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেমন ধরনের কাউবয় বুট চান।

বাবুল শুজের বর্তমান ব্যবস্থাপক গণেশ রবিদাস জানালেন, এমন এক জোড়া কাউবয় বুট তৈরি করতে তাহসিনকে গুনতে হবে ১৫ হাজার টাকা। তবে আজকে দোকানের প্রথম ক্রেতা বলে দুই হাজার টাকা ছাড় পেলেন তাহসিন। ফলে ১৩ হাজার টাকায় পেয়ে যাচ্ছেন পছন্দসই টেকসই নতুন এক জোড়া কাউবয় বুট।

তাহসিনের মতো শুধু উত্তরা থেকেই নয়, টঙ্গী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেটসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পশ্চিম ধানমন্ডির এই পুরোনো ১৫ নম্বর রোডে ফরমাশ নিয়ে আসে লোকজন।

জুতার কারিগরদের আস্তানা

রাস্তার সারি সারি জুতার দোকানের ঠিক পেছনেই কারখানা, বন্ধ ঘরে নিপুণ হাতে সকাল-সন্ধ্যা কাজ করে চলেছেন কারিগরেরা। নিউ সঞ্জীব শুজের কারখানার ছোট্ট ঘরের তিন প্রান্তে তিনজন কাজ করছেন। পাকা ঘরটার মেঝে থেকে ছয় ফুট কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠলে মেলে আরেকটি মেঝে, সেখানেও কাজ চলছে।

বাবু রবিদাসের সঙ্গে কথা হলো। ১৯৫৪ সাল থেকে জুতা বানানোর কাজ করছেন ৯০ বছর বয়সী এই কারিগর। রবি দাস জানান, কয়েকটি ধাপে জুতা বানানোর কাজ চলে।

প্রথম ধাপে, ওপরের মেঝেতে নির্দিষ্ট মাপের চামড়া কেটে তৈরি করা হয় একেক জোড়া জুতার মাপ। চামড়ার এই অংশকে বলে ‘আপার অংশ’। শংকর, প্রদীপ আর হীরা নামের তিন কারিগর এই কাজ করেন।

দ্বিতীয় ধাপে বাবু রবিদাস ও স্বপন রবিদাস বাবলা কাঠের ছাঁচে (ডাইস) আপার অংশ বসিয়ে হাতুড়ি, পেরেক সহযোগে জুতার মূল কাঠামো গড়ে দেন। একেক নকশার জুতার জন্য একেক রকমের ছাঁচ। স্বপন রবিদাস জানান, কিছুদিন আগেই বংশাল থেকে ২৬ জোড়া নতুন ছাঁচ বানিয়ে এনেছেন। প্রতি জোড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা করে। এখনো অনেক ছাঁচ ঘরের দেয়ালজোড়া তাকে তুলে রাখা আছে। নির্দিষ্ট নকশা ও গড়নের জুতার চাহিদা ফুরিয়ে গেলে সেসব ছাঁচও অচল হয়ে পড়ে। এ মাসের শুরুতেই অকেজো হয়ে পড়া দুই ট্রাক ছাঁচ ফেলে দিতে হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে জুতার গায়ে রং ও ফিনিশিংয়ের কাজ করেন দিলীপ রবিদাস।

ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়ার আগে কমপক্ষে তিন দিন ধরে শুকানো হয় জুতার রং।

যে ধরনের জুতা বানানো যাবে

বানানো যাবে ফরমাল শু, হাফ শু, ক্যাজুয়াল শু, লোফার, চেলসি বুট, কাউবয় বুট, নাগরা, স্নিকার, কেডসসহ রং ও নকশা অনুযায়ী যেকোনো রকমের চামড়ার জুতা। স্যান্ডেল সাধারণত বানানো হয় না। ১২ জোড়া বা তার বেশি ফরমাশ এলে স্যান্ডেল জুতা বানানোর অর্ডার নেয় এখানকার সব কটি দোকান। এসব দোকানে নারী ও ১০ বছরের নিচের বয়সী শিশুদের জুতা বানানোর চল নেই।

বাজারে নামকরা সব ব্র্যান্ড থাকতেও কেন কারিগরের হাতে বানানো দোকানে ফরমাশ আসে? এমন প্রশ্নের উত্তরে গণেশ রবিদাস জানান, প্রথমত, আসল চামড়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। বাজারে নির্দিষ্ট কিছু আকারের বাইরের জুতা পাওয়া মুশকিল। এখানে আছে পায়ের মাপ অনুযায়ী জুতা বানানোর সুযোগ। আবার দেখা গেল আকার মিললেও জুতার রং নকশা পছন্দ হচ্ছে না। এখানে পাচ্ছেন পছন্দের রং ও নকশায় জুতা বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

জন্মগতভাবে কারও কারও পায়ের সমস্যা থাকতে পারে, এক পা ছোট তো অন্য পা বড়, কোনো পায়ে পাঁচ তো কোনো পায়ে ছয় আঙুল। আবার কারও পায়ের পাতা থাকতে পারে বাঁকা। কেউ বা আবার অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পায়ের সমস্যায় ভোগেন। এসব ক্ষেত্রে বাজারে ঘুরে জুতা না মিললেও এখানে মিলবে সেসব জুতা বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ। আসল চামড়ায় বানানো জুতার সঙ্গে আছে ওয়ারেন্টি সুবিধা। সব রকম জুতাতেই ছয় মাস থেকে এক বছরের ওয়ারেন্টি–সুবিধা পাবেন। এই সময়ের মধ্যে জুতার সোল ক্ষয়ে যাওয়া ছাড়া সব রকমের সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

যেমন খরচ

সাধারণত ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পছন্দসই জুতা বানানো যায়। কিছু কিছু জুতার ক্ষেত্রে জুতার গঠন, নকশা ও হাতের কাজের বাড়তি সংযোজনের জন্য দাম ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজারেও গিয়ে ঠেকে।

যেখানে যেখানে মিলবে এমন দোকান

হাজারীবাগের পরে হাতে বানানো জুতার দোকান সবচেয়ে বেশি আছে পুরান ঢাকার দিকে। পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজার, আলু বাজার, বংশাল, মালিটোলা, মোগলটুলীসহ ধানমন্ডির পুরোনো ১৫ নম্বর রোড, মিরপুর ১০, ১১, ১২, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, পান্থপথ, মৌচাক মার্কেটের নিকটবর্তী সিদ্ধেশ্বরী রোড, টিকাটুলি কালীমন্দিরের পাশেসহ ঢাকার অনেক জায়গাতেই পেয়ে যাবেন কারিগরের হাতে বানানো চামড়ার জুতা।

সাধারণত ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পছন্দসই জুতা বানানো যায়
সাধারণত ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পছন্দসই জুতা বানানো যায় ছবি: কবির হোসেন

Sunday, March 31, 2019

শিল্পমেলায় ওয়ালটন পণ্যের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় শিল্পমেলায় ওয়ালটনের স্টল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি ওয়ালটনের তৈরি বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল এবং প্রযুক্তিপণ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দেশেই এসব পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানিতে ওয়ালটনের সাহসী উদ্যেগের তিনি প্রশংসা করেন।
রোববার (৩১ মার্চ) থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ৭ দিন ব্যাপী প্রথম জাতীয় শিল্পমেলা। সকালে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সচিব আবদুল হামিদ, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীনসহ অন্যরা।
ওয়ালটনের স্টলে এসে প্রধানমন্ত্রী দেশে তৈরি আন্তর্জাতিকমানের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন হোম অ্যাপ্লায়েন্স দেখে ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে তৈরি কম্প্রেসর রপ্তানি হচ্ছে জেনে তিনি খুবই আনন্দিত হন। অত্যন্ত স্বল্পদামে মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য বাজারে ছাড়ায় তিনি ওয়ালটনের প্রশংসা করেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধানমন্ত্রীকে জানান ওয়ালটন দেশেই আন্তর্জাতিকমানের এলিভেটর বা লিফট উৎপাদন করছে। এতে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। ওয়ালটনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শরীফ হারুনুর রশিদ ছনি প্রধানমন্ত্রী এবং তার সঙ্গীদের বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন।
ওয়ালটনের স্টল পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিসহায়তার কারণে দেশেই উচ্চ-প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের সাহস দেখিয়েছে ওয়ালটন। এসব পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের প্রতিটি প্রান্তে সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন উন্নতমানের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে ওয়ালটন। যাতে মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত ও আধুনিক হয়েছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটনের তৈরি পণ্য।
উল্লেখ্য, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতীয় শিল্পমেলা চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। মেলায় প্রায় ৩০০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যসহ সবচেয়ে বড় স্টল নিয়ে অংশ নিয়েছে ওয়ালটন। যেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, টিভি, কম্প্রেসর, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, লিফট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস, হোম অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন পণ্য। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

Monday, March 12, 2018

শেয়ারবাজারে ২০ মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন

শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। কমছে লেনদেন। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ২৩৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর এ লেনদেন ১ বছর ৮ মাসের সর্বনিু। এর আগে ২০১৬ সালের ১০ জুলাই ২০৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
লেনদেনের পাশাপাশি অব্যাহতভাবে কমছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম। ফলে দিনশেষে ডিএসইর মূল্যসূচক ৫৪ পয়েন্ট কমেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ১২৪ পয়েন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট চলছে। এ সংকট কাটাতে না পারলে বাজারের তেমন উন্নতি হবে না। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে এদিন ৩৩০টি কোম্পানির ৬ কোটি ৪৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

Monday, March 5, 2018

বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ভিয়েতনামের

চামড়া খাতের পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, হার্ডওয়্যার ও বিভিন্ন ডিভাইস এবং নানা এক্সেসরিজ উৎপাদনে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের। দেশটির প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব খাতে বিনিয়োগের অনেক কিছুই চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং তিন দিনের সফরে গতকাল রোববার ঢাকায় পৌঁছেছেন। তার ১০০ সফর সঙ্গীর মধ্যে ৪৫ জন উদ্যোক্তা। প্রতিনিধি দলে লোটাস টেলিফোন, ভিটেল গ্রুপ, হ্যাসিসন গ্রুপসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরের আগে উভয় দেশের প্রধান দুই চেম্বারের মধ্যে একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তারা। এর মধ্যে চামড়া খাতের পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পে ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিটিসিএল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে এমওইউ হতে পারে। এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সমকালকে জানান, ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা অবকাঠামো, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তেল ও গ্যাস এবং পর্যটনসহ আরও বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাদের দেশের পোশাক খাতে এখানকার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেবেন তারা। সফরকালে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে এফবিসিসিআই আগামীকাল মঙ্গলবার 'বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বিজনেস ফোরাম' আয়োজন করেছে। এতে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ভিয়েতনামের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ভাইস মিনিস্টার নুগুইয়েন ভান ট্রুনগ উপস্থিত থাকবেন। এফবিসিসিআই সভাপতি আরও জানান, সফরকালে সম্মেলনে আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির উদ্যোক্তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখবেন। আর এ সফরের আগে ভিয়েতনাম চেম্বারের সঙ্গে বৈঠককালে দেশটির উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। সফরকালে এ নিয়েও অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন তিনি। মহিউদ্দিন জানান, বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পিছিয়ে রয়েছে।
অংশীদার পেলে সফরকারীরা এ খাতেও বিনিয়োগে বেশ আগ্রহী। তারা একই সঙ্গে অবকাঠামো সুবিধা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, এ সফর শুধু কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সফর হবে না। এটি দেশটির বড় বিনিয়োগ আনার সফর হবে। এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম জানান, ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের এ সফরকে ঘিরে আগের আলোচনায় একটি ওষুধ কোম্পানি সামুদ্রিক মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, এফবিসিসিআই দেশটির প্রযুক্তি স্থানান্তরে জোর দেবে, যাতে সেখানকার কোম্পানিগুলো এ দেশে বিনিয়োগে আসে। হার্ডওয়্যারসহ নানা অ্যাক্সেসরিজ উৎপাদনে পাঁচটি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আইটি ভিলেজ ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য পরিস্থিতি : এক দশক আগে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল না। যদিও বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল খুবই কম। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পাল্টেছে অনেক। বাংলাদেশ রফতানিকারক থেকে আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার রফতানির বিপরীতে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করে ৪১ কোটি ২২ লাখ ডলার। অথচ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি ডলারের রফতানির বিপরীতে বাংলাদেশ আমদানি করে এক কোটি ডলারের সামান্য বেশি। রফতানির জন্য উল্লেখযোগ্য হলো- কৃষি, পাট ও চামড়াজাত পণ্য এবং ওষুধ। আর আমদানি হয় মূলত খনিজ দ্রব্য, বস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও পল্গাস্টিকের উপাদান।

উন্মুক্ত হচ্ছে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস সংযোগ

অবশেষে উন্মুক্ত হচ্ছে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস সংযোগ। দীর্ঘ ৩ বছর বন্ধ থাকার পর সরকার আবারও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক নির্দেশনা পেয়ে জ্বালানি বিভাগ তা তৈরি করে। এটি অনুমোদনের জন্য শিগগির প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিলে আমদানিকৃত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। এরপরই ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার টার্গেট রয়েছে সরকারের। বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২শ’ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। এগুলোতে ৩০০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগছে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে বর্তমানে ৭ শতাধিক ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস সংযোগের আবেদন জমা আছে। এর মধ্যে নতুন সংযোগের আবেদন ৩শ’। বাকিগুলো পুরনো ক্যাপটিভ প্লান্ট এক্সটেনশনের আবেদন। কিন্তু এ খাতে গ্যাস অপচয়ের অজুহাত দেখিয়ে ২০১৫ সালের প্রথমদিকে ক্যাপটিভে নতুন সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একই সঙ্গে ক্যাপটিভ প্লান্টের গ্যাসের দাম এক লাফে দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে দেয়। এতে বিপাকে পড়েন সারা দেশের ছোট-বড় ২২শ’র বেশি শিল্পকারখানার মালিক। সরকারের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে যায় শত শত শিল্পকারখানা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে শিল্প স্থাপন সংক্রান্ত সব কাজ গুছিয়ে আনার পর সরকারের এ সিদ্ধান্তে বহু শিল্পোদ্যোক্তা চরম বিপাকে পড়েন। এতে নতুন শিল্পকারখানাগুলো শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। নুতন শিল্প স্থাপনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেক উদ্যোক্তা। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাস সংযোগ বন্ধ ঘোষণার পর ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে দ্রুত শিল্প ও বাণিজ্যিক কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার নির্দেশনা দেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় তিনি জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ফাইলবন্দি ছিল। পেট্রোবাংলার এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সময় বলেছিলেন, ২০১৫ সালে টানা অবরোধ ও হরতালে নাশকতার কারণে শিল্প খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। ঠিক ওই মুহূর্তে ক্যাপটিভ পাওয়ারে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে এ খাতটিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল সরকারের মধ্যে থাকা একটি চক্র। তিনি বলেন, সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তে আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা। তার মতে, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট থাকলে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব। পাশাপাশি কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
এতে পণ্য উৎপাদন সহজ ও খরচ কম পড়ে। কিন্তু ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে পড়ার পর থেকে এই সেক্টরে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করে। ২০০৯ সালের ২১ জুলাই থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার পর শিল্পোদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগে ক্যাপটিভ জেনারেটর বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেন। তবে এর আগে থেকেও বড় বড় শিল্পকারখানা ক্যাপটিভ পাওয়ারের মাধ্যমে চলছে। ওই সময় অনুমোদন পাওয়া ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের সংখ্যা ২২শ’। এরা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস পাচ্ছে। তিতাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরও সরকার মাঝারি থেকে বড় শিল্পকারখানাগুলোকে ক্যাপটিভ পাওয়ারে উৎসাহিত করে আসছিল। এ কারণে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য অনেকেই বিতরণ কোম্পানিগুলোতে আবেদন করেন। বর্তমানে সারা দেশে ১৫শ’র বেশি শিল্পে গ্যাস সংযোগের আবেদন জমা আছে। এর মধ্যে ক্যাপটিভের সংখ্যাই ৭শ’। তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ আছে। তবে সরকারের বিশেষ কমিটির অনুমোদন নিয়ে অনেকে শিল্পে গ্যাস সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শিল্পকারখানা চালাচ্ছেন। বর্তমানে তিতাসের আওতায় প্রায় হাজার খানেক ক্যাপটিভ পাওয়ার রয়েছে। ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগছে এসব ক্যাপটিভ পাওয়ারে। আরও ৩-৪শ’ ক্যাপটিভ পাওয়ারের আবেদন তিতাসের বিবেচনাধীন আছে। তিনি বলেন, নতুন করে সংযোগ চালু হলে কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। একমাত্র ক্যাপটিভ থেকেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ আছে। এ অবস্থায় ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করাকে তিনি স্বাগত জানান। ৬ বছর ধরে শিল্প ক্ষেত্রে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন শিল্পকারখানা চালু হয়নি। এতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আটকে গেছে অনেক উদ্যোক্তার বিনিয়োগ। ঋণ নিয়ে গড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে না পারায় তাদের এখন কাহিল দশা। সর্বোপরি জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। তবে শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ এবং লোড বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১১ সালের মার্চে ৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে বিদেশ থেকে ২৫০ মিলিয়ন এলএনজি আমদানি করা হবে। এই গ্যাস তরলীকরণের পর সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সব ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছে সরকার। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম আমদানিকৃত এলএনজি যাতে এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায় সে জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কোথায় কোন গ্রাহকের কাছে যাবে, তারও তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র বলছে, এলএনজি এলে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের ৩শ’র বেশি শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। এসব শিল্পকারখানায় ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পার্টিলাইজার, ঘোড়াশাল সার কারখানা, শিকলবাহা, রাউজানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বাকি গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

Wednesday, February 28, 2018

সাত দিনে বাজারমূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা কমেছে

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলছে। গত ৭ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজারমূলধন কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে মূল্যসূচক কমেছে ৩২৮ পয়েন্ট। শতকরা হিসাবে যা ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এদিকে আজ মঙ্গলবার থেকে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছে ডিএসই। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, ডিবিএ পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও ও সাজিদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনের আগে ডিএসইর শীর্ষ ব্রোকারের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসির) সঙ্গে বৈঠক করে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর বাজারমূলধন ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এরপর টানা দরপতন শুরু হয়। আর মঙ্গলবার ডিএসইর বাজারমূলধন ৪ লাখ ২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে বাজারমূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা কমেছে। এছাড়া আলোচ্য সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক ৬ হাজার ১০২ পয়েন্ট থেকে কমে ৫ হাজার ৭৭৪ পয়েন্ট নেমে এসেছে। এ হিসাবে সূচক ৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমেছে। এর মানে হল ডিএসইর সব কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
অর্থাৎ ৭ কার্যদিবস আগে যে শেয়ারের দাম ছিল ১০০ টাকা। সোমবার তা ৯৪ টাকা ৬২ পয়সায় নেমে এসেছে। বাজারের এ অবস্থাকে অস্বাভাবিক বলছে ডিএসইর নেতারা। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি ও ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীন না ভারত ডিএসইর শেয়ার পাবে, তা নিয়েও গুজব ছিল। এছাড়াও আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান অনুপাত (এডিআর) পুঁজিবাজারে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যার কোনো ভিত্তি নেই। এমতাবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর বিষয়ে চীনের পক্ষে মত দিয়েছিল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এক্ষেত্রে ডিএসইর দেয়া প্রস্তাবটিই কমিশন দেখছে বলে জানান তিনি। মাজেদুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত বিএসইসিতে জমা দেয়া হয়েছে। এর আইনগত বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার জন্য বিএসইসি একটি কমিটি করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের পর কমিশন একটি সিদ্ধান্ত নেবে। মাজেদুর রহমান আরও বলেন, পাশের দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এডিআর নিয়ে সরকার অনেক সচেতন। ফলে এডিআর যাতে বেড়ে না যায়, ওই বিষয়টি কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার দিয়েছিল। সব কিছু বিবেচনা করে এটির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়। এটি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে বাড়তি বিনিয়োগের বিষয়ে মাজেদুর রহমান বলেন, সবপক্ষের লোক নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে জমা দেবে। একই সঙ্গে এখানে আমরা ছাড়ের কথা বলব না, তবে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আশার জন্য বলব এবং এটি যেন হয় একটি স্থায়ী সমাধান।
একক দিন হিসেবে সোমবার ডিএসইতে ৩৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৮৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোটমূল্য ৩৫০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ২৪৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ১২ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : সোমবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইফাদ অটোস, স্কয়ার ফার্মা, ইউনিক হোটেল, ন্যাশনাল টিউবস, ইবনে সিনা, লংকা বাংলা ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, ব্র্যাক ব্যাংক এবং গ্রামীণফোন। ডিএসইতে সোমবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- এটলাস বাংলাদেশ, ফাইন ফুডস, এসিআই লিমিটেড, আইপিডিসি, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, আমরা নেটওয়ার্ক, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এফবিএফ আইএফ এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- জিএসপি ফাইন্যান্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ইসলামিক ফাইন্যান্স, নদার্ন ইন্স্যুরেন্স, মাইডাস ফাইন্যান্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন এবং সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল।

Thursday, December 28, 2017

সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ মধু সংগ্রহ হচ্ছে। এ কাজ ব্যস্ত সময় পার করেছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বেকার শিক্ষিত যুবকরা। সচেতনতা বৃদ্ধি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঋণের সুবিধা দিলে আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। মান্দা ও সাপাহার উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২০০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর জেলায় ২৩ হাজার কেজি মধু আহরণ করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কেজি মধু আহরণ করা হয়েছে। মান্দা উপজেলার ভারশো, বাঁকাপুর, কৈইকুড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলের মাঠে সরিষা ফুল থেকে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষীরা। তবে স্থানীয়ভাবে মধু সংগ্রহ না হলেও রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার দর্শনপাড়া থেকে এসে মধু সংগ্রহ করছেন দুই মৌচাষী। সরিষা ক্ষেত এলাকায় অভিনব পন্থায় ইউরোপিয়ান মেলিফেরা জাতের মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত দেখা যায় তাদের। ক্ষেতের পাশে ৬০টি মধুবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বক্সে ৮টি করে ফ্রেম সাজানো আছে। সপ্তাহ পর পর ফ্রেম থেকে সংগ্রহ করা হয় মধু। গত ২০ দিনে প্রায় ১০ মণ মধু সংগ্রহ হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি বসায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এমন ভ্রান্ত ধারণা আছে কৃষকদের মাঝে। ফলে অনেক স্থানে মৌচাষীদের বসতে দেয়া হয়নি। এছাড়া সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করা হয়। ফুলে মৌমাছি বসায় মৌমাছি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। উপজেলার দোডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করতে হতো। গত বছর থেকে আমাদের মাঠে মৌচাষীরা ফসলের ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ শুরু করে। ক্ষেতে মৌমাছির বিচরণ হওয়ায় পরাগায়ন হয়। কীটনাশক স্প্রে করতে হয়নি। রোগবালাই তেমন নেই। ফলে সরিষার আবাদও ভালো হয়েছিল। এ বছর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন। গত এক মাস আগে উপজেলার কৈইকুড়ি গ্রামের মাঠে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষী আরিফ হাসান। তিনি বলেন, রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ২০১৩ সালে মৌচাষের ওপর বিসিক থেকে এক মাসের প্রশিক্ষণ নেন।
এরপর ৭০০ টাকা করে ৩৫টি ফ্রেম কিনে আনুষঙ্গিক প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে মৌচাষ শুরু করেন। খামারের নাম দিয়েছেন ‘বরেন্দ্র মৌখামার’। ২০১৬ সালে কয়েকটি জেলায় প্রায় ৫২ মণ মধু সংগ্রহ করে প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছিলেন। আর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা। এছাড়া মৌমাছি বিক্রি করেছিলেন ৭০-৮০ হাজার টাকা। এ বছর প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো মধু বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি। মৌচাষী রুস্তম আলী বলেন, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, নাটোর ও নওগাঁ জেলায় প্রায় ৭ মাস মধু সংগ্রহ করেন। বাকি সময় মৌমাছিকে রয়েল জেলি খাওয়াইয়ে পুষতে হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ হয়। মূলত সরিষা, কালাই জিরা ও লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। সরিষা ও লিচুর মধু পাইকারি ২৫০ টাকা ও খুরচা ৩০০ টাকা কেজি এবং কালাই জিরা মধু পাইকারি ৪০০ টাকা ও খুরচা ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। বেঙ্গল কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি কোম্পানির কাছে পাইকারি করেন। আমাদের মতো ক্ষুদ্র যারা খামারি আছেন তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে আগামী বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, কৃষকদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে। সেটা হচ্ছে মৌমাছি ফুলে বসলে হয়তো ফসলের ক্ষতি হয়। মৌচাষীদের কৃষকরা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপনে নিষেধ করেন। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। মৌমাছি ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে। এতে ফুলের পরাগায়ন হয়। ফসলের জন্য এটি খুবই উপকারী এবং ফলন বৃদ্ধি করে। আগামীতে নওগাঁ জেলাকে মধু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত পাবে।

Wednesday, December 27, 2017

যানবাহন সংক্রান্ত সেবা দেবে ভ্রুম মেম্বারশিপ কার্ড

এখন থেকে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অথবা কল সেন্টারে ফোন করে যানবাহন সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যাবে। মোবাইল অ্যাপ (ভ্রুম অ্যাপ) এবং ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টারের মাধ্যমে যানবাহন সংক্রান্ত সবধরনের সেবা দেবে ভ্রুম সার্ভিস। এ লক্ষ্যে ভ্রুম সার্ভিস ভ্রুম মেম্বারশিপ কার্ড চালু করেছে। ভ্রুমের মেম্বার কার্ড সুপারসপ স্বপ্ন’র আউটলেট থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে সংগ্রহ করতে পারবে। যানবাহন মালিকদের জন্য এ ধরনের সেবা বাংলাদেশে প্রথম।
মঙ্গলবার এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভ্রুমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আহসান হাবিব, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার প্রমুখ। উন্নত সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ভ্রুম ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, রবি এজিয়াটা বাংলাদেশ, রহিম আফরোজ, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স, স্বপ্ন এবং কিকসা ডটকমের সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভ্রুম কার্ডধারী মেম্বাররা অ্যাপস ও কল সেন্টারের মাধ্যমে নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টার এবং তাদের সেবা তালিকা সম্পর্কে জানতে পারবে। জরুরি প্রয়োজনে যেমন, রাস্তার মাঝে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে ভ্রুম সেবা টিম পেশাদার মেকানিক নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হবে।

শেয়ারবাজারে বছর শেষে লেনদেনে মন্দা

বছরের শেষ সময়ে শেয়ারবাজারে লেনদেনে মন্দা চলছে। মঙ্গলবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মিলে ৩৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৭১ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ২৩ কোটি টাকা। অথচ এক মাস আগেও শুধু ঢাকার শেয়ারবাজারেই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো। তবে উভয় শেয়ারবাজারে এদিন মূল্যসূচক ও বাজারমূলধন কিছুটা বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে- ডিএসইতে এদিন ৩৩৫টি কোম্পানির ৯ কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
যার মোট মূল্য ৩৭১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৬৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৪৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৭২ দশমিক ২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৭৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : এদিন ডিএসইতে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, স্কয়ার ফার্মা, শাহজালাল ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ন্যাশনাল টিউবস। ডিএসইতে মঙ্গলবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, আলিফ ম্যানুফ্যাকারিং, বিডি ল্যাম্পস, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, রূপালী ব্যাংক, আইসিবি সোনালি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইটিসি, বেঙ্গল উইন্সডোর, ইসলামী ব্যাংক এবং বিডি থাই। অন্যদিকে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- এমারেল্ড অয়েল, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বিচ হ্যাচারি, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা পেট, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, শ্যামপুর সুগার, ন্যাশনাল টিউবস এবং ইস্টার্ন কেবলস।

রেলের ইঞ্জিন-বগি ক্রয়সহ ১৬ প্রকল্প অনুমোদন

যাত্রীদের আরামদায়ক ও নিরাপদ রেলভ্রমণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এজন্য ২০টি ইঞ্জিন এবং ১৫০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পসহ ১৬ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মফিজুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজ্জাম্মেল হকসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এখন থেকে নতুন রাস্তা তৈরির চেয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া রাস্তা তদারকি, মেরামত বা সংস্কারের সময় গুণগতমান বজায় রাখতে এলজিইডিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তার যেখান দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, সেখানে পাইপ বসাতে হবে, যাতে রাস্তা ভেঙে না যায়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ার সময় রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে আপাতত এলইডি লাইট স্থাপন এবং ৪টি চলন্তসিঁড়িযুক্ত (এসকেলেটর) ফুটওভারব্রিজ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে মোট প্রকল্প ব্যয় কম বা বেশি হতে পারে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৮৬টি মিটার গেজ ও ৯৬টি ব্রড গেজসহ ২৮২টি ইঞ্জিন রয়েছে। মেকানিক্যাল কোড ও ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এগুলোর অর্থনৈতিক মেয়াদ ২০ বছর।
যার মধ্যে ১৬৮টির বয়স ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। এছাড়া রেলওয়েতে ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটার গেজ কোচ রয়েছে। মেকানিক্যাল কোড ও ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী যাত্রীবাহী এসব কোচের অর্থনৈতিক মেয়াদ ৩৫ বছর। যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে, ১৩৫টির মেয়াদ ৩১ থেকে ৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচগুলো ব্যবহার করা হলেও তা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য আধুনিক ইঞ্জিন ও আরামদায়ক কোচ কেনার জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিপিএলে আইন অনুযায়ী কুমিল্লা দল ফাইনালে খেলার কথা। কিন্তু এটা ভুল করে এরকম করা হয়েছে। আমি তখনই পারতাম তামিম ইকবালের হাত ধরে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু সেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি হতো। তাছাড়া কেউ না কেউ ফোন করতেন আবার মাঠে ফিরে যেতে। সেজন্য ক্রিকেটের স্বার্থে আমি এমন কিছু করিনি। এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এরকম না হয়। একনেকে অনুমোন পাওয়া কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে- ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় হবে ৩ হাজার ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতীত) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় হবে ২ হাজার ৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ, ব্যয় হবে ৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৬১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট স্থাপন, ব্যয় হবে ৩৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় হবে ৪৯১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনমূলক যোগাযোগ কার্যক্রম, ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। চক্ষু স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অন্ধত্ব দূরীকরণ প্রকল্প, ব্যয় হবে ৭৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজগুলোর উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন, ব্যয় হবে ৬৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ, ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মিরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ব্যয় ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যয় ৩২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিরতা, ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনস্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

Tuesday, December 26, 2017

নতুন পদ্ধতির চাষাবাদে ঝুঁকছে মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে চাষাবাদের নতুন নতুন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে যশোর অঞ্চলের মানুষ। ঘেরের পাড়ে বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিকল্প উপায়ে মাছ চাষ করছেন জেলে পরিবারের নারীরা। এতে তারা সাফল্য পেয়েছেন, স্বাবলম্বীও হচ্ছেন। যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিকল্প পদ্ধতিতে চাষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা যেতে পারে বলে মনে করেন গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা। স্থানীয়রা জানান, আগে এ অঞ্চলে দুটো বা তিনটা ফসল হতো। কিন্তু এখন একটির বেশি ফসল হয় না। এতে অনেক কৃষক বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। তবে নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তারা এখন স্বাবলম্বী। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন। কেশবপুরের পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারদাঙ্গা গ্রামের কৃষক পুল্লাদ অধিকারীর জমিতে দেখা যায়, তিনি বস্তা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অনেক টাকার সবজিও বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, আমার এ জমিতে কয়েক বছর ধরে কোনো ফসল হতো না। পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু এ বছর বস্তা পদ্ধতিতে চাষ করে আমি সফল হয়েছি। নতুন করে এ পদ্ধতিতে মিষ্টিকুমড়া ও শসার চারা লাগিয়েছি। ওই এলাকার ছোট মাদারদাঙ্গার তানজিলা বেগমকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়। তিনি বলেন, আমার বাসার সামনের এ জায়গায় আগে কোনো ফসল চাষ করতে পারতাম না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক সময় পানি জমে থাকত। কিন্তু বস্তা পদ্ধতির কল্যাণে আমি সব ধরনের সবজি এ জামিতে চাষ করতে পারছি। এ ফসল বিক্রি করে আমি সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারছি। সংসারেও অবদান রাখছি। তিনি বলেন, আমার এ জমিতে আমি লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শসা, পুঁইশাকসহ অনেক ধরনের শাকসবজি চাষ করছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আগে পানি জমে থাকার ফলে এসব জমিতে সেভাবে কৃষিকাজ হতো না। কিন্তু বর্তমানে বস্তা পদ্ধতিতে চাষের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতে পারছেন কৃষক। ফলনও ভালো পাচ্ছেন। বস্তা পদ্ধতির কল্যাণে বর্ষাকালে সবজি চাষ সহজ হয়ে যাচ্ছে। যশোরের আরও কিছু অংশে প্রান্তিক চাষীরা জলাবদ্ধ ও নিচু এলাকায় বস্তার মধ্যে পটাশ, খৈল, চিটা গুড়, ভুসি আর সার দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে সবজির চাষ করেন। এতে পানি বাড়লেও পচেনা সবজির গোড়া।
কেশবপুরের পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বকুল বলেন, বস্তা পদ্ধতিতে চাষের ফলে পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ করে কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। আমার এ এলাকায় আগে দুটো বা তিনটা ফসল হতো। কিন্তু এখন একটির বেশি ফসল হয় না। এ সময়ে আমাদের সামনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে বস্তা চাষ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এদিকে মনিরামপুরের মনোহরপুর ইউনিয়নের কপালিয়া রাজবংশী পাড়ায় দেখা যায় বিকল্প উপায়ে মাছ চাষ করছেন জেলে পরিবারের নারীরা। কথা হয় সুবর্ণ, সাথী ও চন্দা দাসের সঙ্গে। তারা জানান, তারা সবাই জেলে পরিবারের। মাছ চাষ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমানে উন্মুক্ত জলাশয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলে কিংবা চাঁই দিয়েও আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় না। তাই তারা শুরু করেছেন বিকল্প উপায়ে মাছ আর সবজির চাষ। ভাসমান ড্রামের মাচার ওপর মাটি ফেলে ও সার দিয়ে লাউ, বেগুন, কুমড়া চাষ করছেন তারা। পল্লী কর্মী সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমাদের গবেষকরা নতুন নতুন ফসল উদ্ভাবন করছেন। যেসব ফসল লবণাক্ত পানিতে বা কম পানিতে হয়, সেগুলোকে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি চাষাবাদের জন্য আমরা এলাকাভিত্তিক চাষাবাদে কৃষকদের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে সাহায্য-সহযোগিতা করছি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি। পাশাপাশি হাতে-কলমেও কৃষকদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

Thursday, December 21, 2017

বরগুনায় আলু চাষীদের মাথায় হাত

চলতি মাসের প্রথম দিকে টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় দেড় হাজার একর জমির আলুর ফলন অংকুরেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় আলু চাষীদের। এ অবস্থায় এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সরকারি সহায়তা না পেলে এ লোকসান কাটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা। দক্ষিণাঞ্চলে আলু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কুপদোন, রুপদোন, জালিয়াঘাটা, কাটাখালী, কালমেঘা, সিংড়াবুনিয়া, বাইনচটকীসহ বিভিন্ন এলাকা। প্রতিবছর এই অঞ্চলে প্রায় ৪৫-৫০ কোটি টাকার আলুর ফলন হয়। বরগুনা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় সিংহভাগ আলুর জোগান দেয়া হয় এই এলাকা থেকে। চলতি মৌসুমেও এই অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার একর জমি আলু চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। একরপ্রতি চাষাবাদ, বীজ, সার ও কীটনাশকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। ইতিমধ্যে জমির ৮৫ ভাগে আলুবীজ রোপণ করা হয়েছে। হঠাৎ করেই গত ৭ ডিসেম্বর থেকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রোপণ করা বীজতলায় পানি জমে বেশিরভাগ আলুবীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে আবাদের বাকি ১৫ ভাগ জমি রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অংকুরোদগম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে ঘরে রাখা আলুবীজ।
ফলে গোটা আলুর আবাদেই এখন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আলু চাষীদের প্রায় সবাই স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে থাকেন। আলুর এমন বিপর্যয়ে লাভ তো দূরের কথা ঋণ পরিশোধে ভিটেমাটিছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এমনটাই দাবি কৃষকদের। রুপদোন এলাকার রমেশ জানান, প্রতিবছরের মতো এবার তিনি সাড়ে চার একর জমি আলু চাষের জন্য তৈরি করেছিলেন। প্রায় ৮৫ ভাগ জমিতে আলুবীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় কয়েকদিনের বর্ষণে সব আলুবীজ নষ্ট হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনি মণ্ডল বলেন, কয়েকদিনের ভারিবর্ষণে আলু ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। জানি না কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। ঋণের বোঝা ভারি হয়ে উঠছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার বিটকপি, লালশাক, পাতাকপি, ধোনিয়া, পেঁয়াজসহ শীতকালীন সবজি ব্যাপক হারে ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বছরে শুধু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোটি কোটি টাকার আলু উৎপাদন করে আসছেন কৃষকরা। সরকারি কোনো সহায়তা নেই, নেই আলাদা মৌসুমি ঋণ। এ অবস্থায় সরকার এ কৃষকদের ভর্তুকি অথবা সহায়তা না দিলে এ এলাকার আলু চাষীদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন আলু চাষী সমবায় সমিতির নেতারা। শুধু কৃষকই নন, আলু ব্যবসার জড়িতদেরও এখন মাথায় হাত। গুদামে সংরক্ষিত লাখ লাখ টাকার বীজ যেমন বিক্রি করতে পারছেন না, তেমনি বীজ, সার ও কীটনাশক বকেয়া বিক্রি করেও বিপাকে পড়েছেন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খান যুগান্তরকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় আলু চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জানি না কৃষকরা কতটুকু ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Wednesday, August 16, 2017

লাগামহীন পেঁয়াজের দাম

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলের বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে নিত্যপণ্যটির দাম। কোরবানির ঈদের আগে পেঁয়াজের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হওয়ায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট থেকে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের রফতানিমূল্য প্রায় দ্বিগুণ করেছে ভারত। সরেজমিন সোমবার দিনাজপুর শহরের প্রধান কাঁচাবাজার বাহাদুরবাজার এনএ মার্কেটে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে। আর দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা। বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হতো ১৬-২০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি পেঁয়াজ ২৮-৩০ টাকা। হঠাৎ দাম দ্বিগুণ বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতারা জানান, আড়তদাররা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করায় বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মামুনুর রশিদ লেবু যুগান্তরকে জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে টনপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার। যা স্থানীয় মুদ্রায় ১২ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে)। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ভারত এই দাম বৃদ্ধি করে টনপ্রতি পেঁয়াজের রফতানিমূল্য নির্ধারণ করে ২৫০ ডলার বা ২০ হাজার টাকা। এখানেই শেষ নয়। পেঁয়াজের রফতানিমূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। বুধবার ভারতীয় রফতানিকারকরা টনপ্রতি পেঁয়াজের মূল্য ৩০০ ডলার বা ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট তিনি প্রতি টন ২৫০ ডলার মূল্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলেন। কিন্তু সেই দামে এখন পেঁয়াজ দিতে পারছেন না ভারতীয় রফতানিকারকরা। বাধ্য হয়েই বুধবার সেই এলসি সংশোধন করে এলসিমূল্য ৩০০ ডলারে বৃদ্ধি করতে হয়েছে। ভারত রফতানিমূল্য আরও বৃদ্ধি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন হিলি বন্দরের এই আমদানিকারক। ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানিকারক অজয় কুণ্ডুকে উদ্ধৃত করে হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব শাহীনুর ইসলাম শাহীন জানান, ভারতে বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। সে কারণেই বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ দিতে পারছে না ভারত। তিনি জানান, আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৮০-১০০ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করত। এখন তা নেমে এসেছে ২০-৩০ ট্রাকে। হিলি ল্যান্ড কাস্টমসের উপকমিশনার মো. ফকরুল আমীন চৌধুরী ভারত পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বৃদ্ধি করার কথা স্বীকার করে জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কিছুটা কমেছে। বাহাদুরবাজার এনএ মার্কেটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মমজাজ আলী জানান, ভারত হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করেছে। তাই আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে তাদের পেঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে। কোরবানির আগে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে বাহাদুরবাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা মজিবর রহমান জানান, এক সপ্তাহ আগে তিনি পেঁয়াজ কিনেছেন ১৬-২০ টাকা কেজি দরে। সেই পেঁয়াজই এখন তাকে কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ দ্বিগুণ দামে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। যদিও এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পেঁয়াজ কিনছেন তিনি। কিন্তু কোরবানির সময় তো আর কম কিনলে চলবে না। তিনি জানান, কোরবানির প্রধান মসলা জাতীয় এ পণ্যের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ হওয়ায় এবার ঈদে তাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হবে।

Tuesday, June 20, 2017

তমালতলায় প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা

নাটোরের সবচেয়ে বড় আমের আড়ত বাগাতিপাড়ার তমালতলা বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিনশ’ শ্রমিকের দু’মাসের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এ বাজারে। সম্প্রতি আড়ত ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আমের জন্য বেশ বিখ্যাত। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৬০ ভাগ আম এ উপজেলায় উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আম ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা,
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। আড়তদাররা জানান, চলতি মৌসুমে কয়েক দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন একেবারে কম হয়নি। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়সীমা পার হওয়ায় কয়েকটি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গোপালভোগ, লক্ষণ ভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, নাক ফজলি, তোতাপুরি ও আঁটি জাতের আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। উষা ফল ভাণ্ডারের আড়তদার উজ্জ্বল জানান, তমালতলা বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। এ বাজারে মোট ৩০টি আড়ত রয়েছে। প্রতিটি আড়তে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি আম বেচাকেনা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে তমালতলা বাজারে প্রায় প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।

Thursday, June 15, 2017

দেশীয় ফলে ছেয়ে গেছে রাজধানী

মধু মাস জ্যৈষ্ঠ শেষ হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে আসছে মৌসুমি ফল। অলিগলি থেকে মহাসড়ক। সর্বত্রই আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, জামরুল, লিচু, বেল ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন দেশীয় রসাল ফলে ছেয়ে গেছে। আর ক্রেতারাও আকৃষ্ট হয়ে ভিড় করছেন ফলের দোকানগুলোতে। যদিও পাইকারি ও খুচরা বাজারে ফলের দামে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে অধিকাংশ ফলের দাম পাইকারি আড়তের প্রায় দ্বিগুণ। সরেজমিন রাজধানীর ফলের পাইকারি আড়ত বাদামতলী ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মের রসাল ফলে ভরপুর বাজার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হরেকরকম মৌসুমি ফল থরে থরে সাজিয়ে রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছে আড়তদাররা। রাজধানীর আশপাশ থেকে খুচরা ফল বিক্রেতারা সকাল থেকে ভিড় করছে ফলের আড়তে। হাঁকডাক দিয়ে বিভিন্ন দেশীয় ফল বিক্রি করছে বিক্রেতারা। ভরা মৌসুম হওয়ায় বাজারে আম ও লিচুর আধিক্যই বেশি দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি আম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এর মধ্যে আকারভেদে হিমসাগর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ল্যাংড়া আম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আম্রপালি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এই আম রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। রাজধানীর মালিবাগ বাজারের আম ব্যবসায়ী মো. সুলতান মিয়া যুগান্তরকে জানান, খুচরা বাজারে হিমসাগর কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১শ’ টাকা, ল্যাংড়া আম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং আম্রপালি মানভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেয়ারা কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জামরুল ১৪০ থেকে ২০০ টাকা। কালো জাম কেজিপ্রতি মানভেদে ১২০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি পিস বেল ২৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মালিবাগ বাজারে মৌসুমি ফল কিনতে আসা মো. নুরে আলম যুগান্তরকে বলেন, দেশে এখন মধু মাস যাচ্ছে। এ সময় বাজারে দেশীয় সব ধরনের ফল পাওয়া যায়।
তাই পরিবারের জন্য এসব ফল কিনতে এসেছি। তিনি জানান, বাজারে বেশ কয়েকটি জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে আরও কয়েকটি জাতের আম আসতে মনে হচ্ছে আরও এক সপ্তাহ লাগবে। তাই এই মৌসুম জুড়ে শুধু ফল আর ফল খাওয়া যাবে। এদিকে আনারসের বাজারেও সরবরাহের কমতি নেই। বাদামতলীর আড়তে রাঙ্গামাটির আনারসে ভরপুর। আকারভেদে ৮ থেকে ২০ টাকায় পাইকারি দরে আনারস বিক্রি হচ্ছে। আড়তদার জামাল শেখ জানান, তার আড়তে তিন আকারের আনারস আছে। এগুলোর প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, ১০ থেকে ১৫ টাকা ও ৬ থেকে ৮ টাকায়। তবে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে আকারভেদে এসব আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায়। শান্তিনগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আল-আমিন যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি বাজার থেকে এখানে ফল আনতে অনেক খরচ হয়। ঘাটে টাকা দিতে হয়, গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ দিয়ে আমাদের আর খুব বেশি লাভ হয় না। এছাড়া দেশি ফল বেশি দিন রাখা যায় না। তাই শুরুতে দাম একটু বেশি থাকলেও শেষের দিকে কম দামে বিক্রি হয়। অন্যদিকে বাদামতলী ও কাওরান বাজার আড়তে রাজশাহীর লিচু ১০০ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৭০ টাকায়। অথচ রাজধানীর খুচরা বাজারে মৌসুমি এ ফলটি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। জাতীয় ফল কাঁঠাল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১৫০-৩৫০ টাকায়। বড় আকারের কাঁঠাল পল্টনে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। মতিঝিলে ওই আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়। শান্তিনগরে ওই আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। খুচরা বিভিন্ন বাজারে একাধিক দাম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পল্টনের ফল বিক্রেতা আবুল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, একেক মার্কেটে ফলের একেক রকম চাহিদা থাকে। যার কারণে দামও অনেক সময় বিভিন্ন রকম হয়।

Tuesday, June 13, 2017

রায়পুরে এক জুতা কারখানায় ১৩শ’ নারীর কর্মসংস্থান

জুতা তৈরিতে প্রতিদিন ব্যস্ত সময় কাটান প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক। সূর্যোদয়ের পর হেঁটে অথবা অটোরিকশা বা রিকশায় চড়ে তারা লম্বা লাইনে কারখানার পথে ছুটে চলেন। এ অঞ্চলের সাধারণ নারীদের হাতে উৎপাদিত শতভাগ রফতানিমুখী চামড়াজাত জুতা তৈরির কারখানা এটি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ১৫শ’ শ্রমিক কাজ করেন, যার বেশির ভাগই স্থানীয় নারী শ্রমিক। কারখানায় কাজ করে বদলে যাচ্ছে পুরুষের পাশাপাশি স্থানীয় হাজারও নারীর ভাগ্য। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে প্রায় ১৫ দশমিক ৭৩ একর জায়গা জুড়ে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া গ্রামে জুতা কারখানাটির অবস্থান। অধিকাংশ নারী নিয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি পরিদর্শনে যান লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক হোমায়ারা বেগম। কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেই প্রথম চালান রফতানি করা হয় বিদেশে। প্রতি মাসে দেড় লাখ জোড়া জুতা তৈরির ক্ষমতা রয়েছে এ কারখানাতে। কারখানার শ্রমিক ঝুমু আক্তার, পপি ও আসমা আক্তারসহ কয়েকজন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকায় এ অঞ্চলের পুরুষের পাশাপাশি অনেক অসহায় নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। মাস শেষে নিয়মিত বেতন, দুপুরের খাবার ফ্রি, চিকিৎসা ফ্রি ও আবাসন ব্যবস্থা পাচ্ছেন তারা। নিজ বাড়িতে থেকেই কাজ করতে পারছেন অনেক নারী। এতে করে পরিবার থেকে যেমন দূরে থাকতে হচ্ছে না, তেমনি বসবাসের পেছনে বাড়তি কোনো অর্থও ব্যয় হয় না। ফলে মাসের পুরো বেতনটাকে পরিবারের কাজে ভালোভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি সংসারের ভালোমন্দ দেখভাল করতেও পারছেন। কারখানার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এক কাভার্ডভ্যান জুতা ইউরোপে রফতানির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশাল শিল্প কারখানাটি থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার জুতা (ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান) রফতানি হচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি বেশির ভাগ নারী শ্রমিক (প্রায় তেরোশ’) নিয়ে সুন্দরভাবে জুতা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক টিপু সুলতান জানান, পরিবারের ইচ্ছায় নিজ জন্মস্থানে এ কারখানাটি সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে আবার সচল করি। এ কারখানায় স্থানীয় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। কারখানার পণ্য নিয়মিতভাবে ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, কানাডা ও জাপানে রফতানি হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকা সরকারের সাড়ে ৯ শতাংশ জমি পেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বৃদ্ধিসহ আরও বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত, বেসরকারিকরণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে কারখানাটি দায়দেনাসহ প্রায় চার কোটি টাকায় ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ওই স্থানে ১৯৭৮ সালে সরকারি উদ্যোগে নোয়াখালী টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যেটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। নব্বইয়ের দশকে এসে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যায় পড়ে এটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ফলে মূল্যসূচক ও বাজারমূলধনে এর প্রভাব পড়েছে। আর দিন শেষে মূল্যসূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া উভয় শেয়ারবাজারেই এদিন লেনদেনও কমেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩২৭টি কোম্পানির ১০ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৭০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১০০ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৩টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৫৭টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ০৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ১২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৪ দশমিক ৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৬২ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল : প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইফাদ অটো, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মা, মবিল যমুনা বাংলাদেশ এবং সিটি ব্যাংক। ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল : রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, এশিয়ান প্যাসেফিক ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইউসিবিএল, ন্যাশনাল টিউবস, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, এমসিএল (প্রাণ) এবং ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল : সাভার রিফ্রেক্টরিজ, আইসিবি সোনালী ১, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, নদার্ন ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

Thursday, June 1, 2017

টিসিবির পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন

রমজান উপলক্ষে সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সাধারণ বাজার থেকে কম দামে পণ্য পেতে রাজধানীর ক্রেতারা বেশ ভিড় করছেন। পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেক সক্ষম ক্রেতাও। উদ্দেশ্য খাদ্যপণ্য কিনতে অধিক ব্যয় কমানো। তাই নিন্মবিত্ত, দরিদ্র, দিনমজুর কিংবা ভাসমান ক্রেতারা সবাই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন কম দামে সরবরাহ করা টিসিবির পণ্য কিনতে। সরেজমিন রাজধানীর প্রেস ক্লাব, সচিবালয় গেট, মতিঝিল বক চত্বর, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পলাশী বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বুধবার এসব স্থানে স্বল্পমূল্যের পণ্য নিতে এসেছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের নিন্মআয়ের মানুষ। তবে সহজেই এই ভর্তুকি মূল্যের পণ্য পাওয়া যায় না। এ জন্য অনেক ঘাম ঝরিয়ে দাঁড়াতে হয় দীর্ঘ লাইনে। একসময় নিজের সিরিয়াল এলেও দেখা গেছে, ডাল আছে, তেল নেই। আবার লম্বা লাইনের সারি শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে টিসিবির দৈনিক সরবরাহকৃত পণ্য। একই খবর পাওয়া গেছে শাহজাহানপুর, বাসাবো, রামপুরা, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া বাজার, মিরপুর-১-এর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও ঝিগাতলা কাঁচাবাজারসহ রাজধানীতে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করা ৩৩টি স্থানেও। জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে সারা দেশে ১৮৫টি ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং জেলা শহরে ২টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টিসিবির খোলা ট্রাক থেকে পণ্য নিতে আসা আশা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। এজন্য সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়েছে। সিরিয়ালে আমার পালা এলে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিনি কিনতে পেরেছি।
তবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মসুর ডাল কিনতে পারিনি। আমার পালা আসার আগেই তা শেষ হয়ে গেছে। মতিঝিল বক চত্বরে টিসিবির খোলা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে আসা কামাল মিয়া বলেন, এখানে কম মূল্যে পণ্য কিনতে এসেছি। তবে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে পারিনি। শুনেছি কালকেও তারা এখানেই বসবে। তাই কাল আগেভাগেই এসে লাইনে দাঁড়াব। কারণ এখান থেকে পণ্য নিলে বাজার থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। তবে মতিঝিল শাপলা চত্বরে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. সজিব যুগান্তরকে বলেন, টিসিবির পণ্যে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় মান ভালো হয়েছে। বিশেষ করে তেল ও ডাল খুবই মানসম্মত। আবার দামও কম। তাই সুযোগ পেয়ে স্বল্পমূল্যের পণ্য কিনলাম এখানে এসে। আর আমার মতো অনেকেই টিসিবির পণ্য কিনে নিচ্ছে। মতিঝিল বক চত্বর এলাকায় টিসিবি ডিলার নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন টিসিবি থেকে ৩০০ লিটার সয়াবিন তেল, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি মসুরের ডাল, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ছোলা, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি চিনি ও ৩০ থেকে ৪০ কেজি খেজুর সরবরাহ করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ পরিমাণ পণ্য ভোক্তার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দুই ঘণ্টা থাকলেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়। এদিকে টিসিবি চিনি (দেশি) প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল বোতল প্রতি লিটার ৮৫ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৭০ টাকা ও খেজুর প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টিসিবির ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে একজন ক্রেতা ৫ কেজি ছোলা, ৫ লিটার তেল, ৩ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি ও ১ কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।

ঈদ ব্যস্ততা কালুহাটির জুতা কারখানায়

ঈদ সামনে রেখে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কালুহাটির জুতা কারখানাগুলোতে চলছে চরম ব্যস্ততা। কথা বলার ফুরসত পাচ্ছে না এখানকার কারিগরসহ মালিকরা। ঈদকেন্দ্রিক উত্তরাঞ্চলের জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পণ্য তৈরি করছেন তারা। সম্প্রতি কালুহাটি গ্রামে গিয়ে বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা গেল এমনই চিত্র। স্থানীয়রা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি কারখানা এখন কর্মচঞ্চল। দিন-রাত সমান তালে চলছে তাদের কার্যক্রম। অন্য বছর কালুহাটির জুতা-স্যান্ডেলের ব্যবসা আশানুরূপ না হলেও এ বছর ব্যাপক চাহিদার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালুহাটি গ্রামে ৩৭টি জুতা-স্যান্ডেল কারখানা রয়েছে। এখানকার তৈরি পণ্য উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলাতে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন কারখানার মালিকরা। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী জুতা-স্যান্ডেল ডেলিভারি দিতে পারছেন না কারখানা মালিকরা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কারখানা মালিকরা। স্থানীয় জুতা-স্যান্ডেল কারখানা মালিকদের নিয়ে গঠিত কমিটির সভাপতি আবদুুল মান্নান যুগান্তরকে জানান, কালুহাটি গ্রামে গড়ে ওঠা ৩৭টি কারখানায় তৈরিকৃত জুতা-স্যান্ডেলের সুনাম রয়েছে দেশজুড়েই। তবে বেশির ভাগ জুতা-স্যান্ডেল যাচ্ছে, উত্তরাঞ্চলের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, নওগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় জেলাতেইতিনি জানান, এই গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হয়ে এলেও সরকারিভাবে ইতিপূর্বেও কেউ কখনও এগিয়ে আসেনি। তবে ২০১৪ সাল থেকে চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই গ্রামের শিল্পের ওপর দৃষ্টি দিয়েছেন।
এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে স্বল্প সুদে ঢাকা ব্যাংক থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কারখানা মালিকদের। ঋণের সেই টাকা হাতে পাওয়ায় কারখানা মালিকরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে কালুহাটি গ্রামে যে পরিমাণ জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে মন্ত্রীর সহযোগিতার কারণে। মান্নান বলেন, আগে কয়েকটি কোয়ালিটির পণ্য তৈরি হলেও বর্তমানে ছেলে ও মেয়েদের আধুনিক ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির স্যান্ডেলের তুলনায় কালুহাটি গ্রামে তৈরিকৃত জুতার মান কোনো অংশেই কম নয়। ভালো মান ও ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল তৈরির কারণে বিভিন্ন মোকাম থেকেও অর্ডার আসছে ব্যাপকভাবে। এখানকার উদ্যোক্তাদের আশা ঢাকার মার্কেটে কালুহাটির জুতা-স্যান্ডেল প্রবেশ করাতে পারলে এই এলাকার পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। মুঞ্জিল সুজ কারখানার মালিক মুঞ্জুর রহমান জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি সংশ্লিষ্ট উপকরণের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। তিনি জানান, প্রতি পিস সোলের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেস্টিং আঠা অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে গ্যালনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে।

Monday, May 29, 2017

যমুনার ভাঙন রোধ প্রকল্পে নানা শর্ত

যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনে নানা শর্ত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া প্রস্তাবিত বিভিন্ন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘যমুনা নদীর ভাঙন হতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার খুদবান্দি, সিংড়া ও শুভগাছা এলাকা সংরক্ষণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় কমানোসহ ১০ ধরনের শর্ত দিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের আওতায় অহেতুক অর্থ ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়ের প্রস্তাবও বাদ দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, দুটি জিপগাড়ি, ডাবল কেবিন পিকআপ, স্পিডবোট, অফিস ভবন মেরামত খরচ, সার্ভে যন্ত্রপাতি ক্রয়, এয়ারকুলার ক্রয় এবং বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ খাতে ব্যয় বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর পর তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ইদানীং বিভিন্ন প্রকল্পে দেখা যাচ্ছে মূল কাজের চেয়ে গাড়ি-ঘোড়া ক্রয়, অফিস সাজানো ইত্যাদি বিষয়ে বেশি মনোযোগ থাকে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে মনোযোগ বাড়ানো উচিত। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৮ কোটি ৯২ লাখ ১১ হাজার টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত ৪ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি,পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওই বিভাগের সদস্য এ.এন.শামসুদ্দিন আজাদ চৌধূরী।
গত ১৩ এপ্রিল পিইসি সভার কার্যবিবরণী জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় প্রসঙ্গে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি,পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য যুগান্তরকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের কাজই হচ্ছে ব্যয় যৌক্তিক করা। আমরা প্রস্তাব পাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। যাচাই-বাছাই করে যদি দেখি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থাকে সেগুলো বাদ দেয়ার সুপারিশ করি। শুধু এ প্রকল্পেই নয়, এ রকম অনেক প্রকল্পেই পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিইসি সভায় প্রকল্পের ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাবদ মোট ২৪১ কোটি ৭৫ লাখ, ৮০ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে এ খাতের ব্যয়ের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ব্যাখ্যায় জানান, সেখানে কাজের কোনো ক্ষতি না করে শুধু সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগের ব্যবহার এবং স্টক পাইলের কম-বেশি করেই এ খাতে ব্যয় নামিয়ে আনা হয় ২০৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বেঁচে যায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া নদী ড্রেজিং খাতে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়। এ খাতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২২৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় ব্যয় নামিয়ে আনা হয়। ফলে কমানো সম্ভব হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। স্পার পুনর্বাসন খাতে ২৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক আলোচনার পর প্রকল্পের স্পার নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় দুটি স্পারের সংস্কার বাবদ ব্যয় ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ধরা হয়।
এ খাতেও কমে যায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দুটি জিপ ক্রয়ের জন্য দেড় কোটি টাকা, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা বাবদ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি স্পিডবোট ক্রয় বাবদ ১০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এসব ব্যয় অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া অফিস ভবন মেরামত বাবদ ২০ লাখ টাকা, সার্ভে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকা, বেথিমেট্রিক ও ব্যাংকলাইন সার্ভে বাবদ ৩০ লাখ টাকা, অফিস ফার্নিচারের জন্য ১০ লাখ টাকা, এয়ারকুলারের জন্য ২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হলে এসব ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন। পরবর্তীতে এসব ব্যয় বাদ দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের শর্ত : প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- প্রকল্পটি যেহেতু মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) ভুক্ত না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে। নদী ড্রেজিংয়ের ড্রেজিং করা বালি ড্রেজিং পয়েন্ট থেকে কত দূরত্বে এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে তার বিস্তারিত বিবরণ পুনর্গঠিত ডিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে। পিইসি সভায় যেসব খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে সেসব ব্যয় কমিয়ে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে হবে। প্রকল্পে প্রস্তাবিত জনবল নিয়োগে অর্থ বিভাগের জনবল নিয়োগ কমিটির সুপারিশ পুনর্গঠিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।