Tuesday, February 23, 2016

বহুরূপী মুনতাহা by ওয়েছ খছরু

কত পুরুষে গা ভাসিয়েছেন সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী ফুলি? কতজনকে করেছেন বিয়ে? প্রেম, অভিসার, বিয়ে যেন তার কাছে নস্যি। যখন যাকে পটাতে পারলেন তার সঙ্গেই করলেন প্রেম। এরপর বিয়ের নাটক। আর এভাবেই সিলেটে একের পর এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। দু’দফা গিয়েছেন কারাগারেও। এরপরও ঘটনার শেষ নেই সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরীর ফুলির। টাকার লোভে পুরুষ পটানোকেই এখন রীতিমতো পেশা হিসেবে নিয়েছেন। এ কারণে তার বেপরোয়া জীবন এখন সিলেটের যুবকদের কাছে আতঙ্কের। এই ফুলি কখনো প্রেমিককে নিয়ে করেছেন অভিসার, কারও সঙ্গে বিয়ে বিয়ে নাটক করেছেন, আবার কারও বুকে মাথা রেখে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, কারও সঙ্গে করেছেন প্রেমের নাটক। আর এসব কর্মকাণ্ডের সচিত্র ছবি এখন ভাসছে সামাজিক মাধ্যমে। বেপরোয়া জীবনের অধিকারী এই ফুলির কাছে এসবের কোনো তোয়াক্কা নেই। বরং টাকা ধান্দার নতুন নতুন পথই খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। আর পিছু ছাড়ছেন না আগের স্বামী কানাডায় অবস্থারনত মাহবুব ইসলাম চৌধুরীরও। বিয়ানীবাজার উপজেলার কাদিমল্লিক গ্রামের সিদরাতুন মুনতাহা ফুলির সঙ্গে  গোলাপগঞ্জের রফিপুর গ্রামের কানাডা প্রবাসী মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। দেশে থাকা মুনতাহা চৌধুরী ফুলির প্রেমে পাগল হয়েই মাহবুব তাকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর ফুলির বহুগামিতার চরিত্র প্রকাশ পায় স্বামী মাহবুবের কাছে। সেই থেকে দ্বন্দ্ব। দ্বন্দ্বের ঘটনার পর প্রেমিককে দিয়ে ভাসুরপুত্রকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করাতে চেয়েছিল। বার বার ভাসুরপুত্রকে অপহরণের হুমকি দিয়ে ফোন করায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বড় জা মাহবুবা নোমান চৌধুরী হয়েছিলেন পুলিশের দ্বারস্থ। করেছিলেন থানায় ডায়েরি। আর এ ঘটনার তদন্তে গিয়ে পুলিশ নেপথ্যের নায়িকা হিসেবে সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী ফুলিকে প্রেমিক নাজমুলসহ গ্রেপ্তার করেছিল। আর এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কানাডিয়ান বধূ ফুলির বেপরোয়া জীবন কাহিনী প্রকাশ পেয়েছিল। আর এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিলেন মুনতাহা চৌধুরী ফুলি। কিন্তু ২০১৫ সালে ফুলিকে নিয়ে ঘটেছে আরও ঘটনা। এসব ঘটনা ইতিমধ্যে মানবজমিন-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে কানাডা প্রবাসী মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে ফুলির। ভাসুর বেলাল আহমদ চৌধুরী স্ত্রীর মাহবুবা নোমান চৌধুরী তার সন্তান কানাডা সিটিজেন ওয়াসিফ চৌধুরীকে অপহরণের হুমকির ঘটনায় ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মোবাইল নম্বর দিয়ে জিডি করেন। ওই জিডি’র সূত্র ধরে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খোঁজ পেয়েছিল ফুলির প্রেমিক জগন্নাথপুর এলাকার হাড়গ্রামের রেহান উল্লাহর ছেলে দিলদার হোসেন নাজমুলকে। পরবর্তীতে নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশই প্রথমে কানাডা প্রবাসী মাহবুব ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী ফুলির খবর পায়। পরবর্তীতে সে গ্রেপ্তারও হয়। আর ওই সময় গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানিয়েছিল ফুলির প্ররোচনায় সে দেশে থাকা মাহবুবা চৌধুরী ও প্রবাসে থাকা মাহবুব চৌধুরীর কাছে ১০ লাখ টাকা চায়। এবং না দিলেও মাহবুবার সন্তান কানাডা সিটিজেন ওয়াসিফ চৌধুরীকে অপহরণের হুমকি দেয়। এদিকে, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে সিলেটের কোতোয়ালি থানার পুলিশের তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর এসআই হারুনুর রশীদ চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটে তিনি ঘটনার সঙ্গে সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী ফুলি ও তার প্রেমিক দিলদার হোসেন নাজমুলকে দোষী করা হয়। গত বছরের ১৬ই নভেম্বর আদালতে দায়ের করা চার্জশিটে এসআই হারুনুর রশীদ কানাডিয়ান বধূ ফুলির বেপরোয়া জীবনের সত্যতা খুঁজে পান। তার উচ্ছৃঙ্খল ও মদ্যপ জীবনের খোঁজ পায় পুলিশ। এদিকে, এই চার্জশিটের পরও সিলেটের সিআইডি আলোচিত এ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করে। সিলেট সিআইডি জোনের বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল এ ব্যাপারে গত বছরের ৫ই মে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩ জনের জবানবন্দি, ৮ টি আলোকচিত্র ও পত্রিকার ফটোকপি সংযুক্তি প্রেরণ করেন। ওই প্রতিবেদনে সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ফুলির সঙ্গে দিলদার হোসেন নাজমুলের গভীর সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১৯শে জুন সিলেট নগরীর একটি হোটেলে ফুলির সঙ্গে নাজমুলের বিয়ে হয়। আর সেই বিয়ের ছবি তদন্তকালে সিআইডি কর্মকর্তারা পেয়েছে। কথিত বিয়ের পর নাজমুল ফুলিকে নিয়ে নগরীর ১৭-২ সাগরদিঘীরপাড়ার বাসায় বসবাস করে। আর এই বাড়িতে বাস করার সময় রিপন নামে আরও এক যুবক সব সময় ফুলির বাসায় যাতায়াত করতো। একই সময় ফুলি আরিফ নামে এক যুবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সব সময় কথা বলতো। একই সঙ্গে প্রতিদিনই নেশা করতো ফুলি। নেশা করে গভীর রাতে বাসায় ফিরতো। এসব কারণে নাজমুলের সঙ্গে ফুলির দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সিআইডি রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ফুলির প্রায় সব নাজমুলকে দিয়ে তার কানাডার স্বামী মাহবুব ও দেশে থাকা জা’কে ফোন করাতো এবং মুক্তিপণ দাবি করতো। ফুলির নেশাগস্ত জীবনের অনুসন্ধানের তথ্যে জানিয়ে সিআইডি’র ওই কর্মকর্তারা আদালতকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন ফুলি সিলেটের রোজভিউ হোটেলে বারে নাজমুল, রিপন ছাড়াও একেক দিন একেক জন যুবককে নিয়ে সময় কাটাতো। অতিরিক্ত মদ সেবন করার কারণে বারে বারের মধ্যে উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণসহ একেক দিন একেক যুবককে নিয়ে বার-রুমে সময় কাটানোর কারণে বার কর্তৃপক্ষ তাকে আসা নিষিদ্ধ করে দেয়। রোজভিউ বারে না গেলেও সে শহরের বিভিন্ন স্থানে নেশা করে বেড়ায় বলে সিআইডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে সিআইডি’র ওই কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফুলির কথিত প্রেমিক আরিফ ঢাকায় আসে। এরপর সিলেটে এসে দরগার গেইটের সামনে হোটেলে এক সঙ্গে অবস্থান করে এবং নেশা কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়। আর এ খবর পেয়ে নাজমুল হোটেল থেকে আরিফ ও ফুলিকে তার সাগরদিঘীরপাড় বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে আসার পর নাজমুল অপর যুবক আরিফকে জানায় ফুলি তার স্ত্রী। একই সময় আরিফও জানায় ফুলি তার বিবাহিত স্ত্রী। কানাডা থাকা অবস্থায় তারা বিয়ে করেছে। ফলে ফুলিকে নাজমুল ও আরিফের নিয়ে টানাটানি হয়। একপর্যায়ে ফুলির কাছে আরিফ ও নাজমুল মতামত জানতে চায়- কাকে নিয়ে সে থাকবে। এ সময় ফুলি আরিফকেই বেছে নেয়। এ সিদ্বান্তের পর নাজমুল ফুলির সঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়। এদিকে, সিআইডি’র প্রতিবেদনের পরও দমেনি সিদরাতুল মুনতাহা ফুলি। সে এরপরও জা মাহবুবা নোমান চৌধুরীকে একের পর এক হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২২শে মার্চ, একই বছর ১০ই জুন ও ১১ই নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় তিনটি জিডি দায়ের করেন। ওই জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, পরপর দু’দফা কারাবরণের পর সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী ফুলি তার সঙ্গী কয়েকজন যুবককে নিয়ে তার বাসার আশপাশে মহড়া দেয়। এ কারণে তিনি ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যেতে পারছেন না বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি। মাহবুবা নোমান চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে কানাডা প্রবাসী মাহবুব ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ফুলির ডিভোর্স হয়েছে। একমাত্র মেয়ে মানহা এখন ফুলির কাছে রয়েছে। কয়েক মাস আগে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফুলি মাহবুব চৌধুরীর কাছ থেকে কয়েক লাখ এনেছে। তিনি জানান, কানাডা থাকাকালে ফুলি এক চাইনিজ মহিলার কাছ থেকে ভুয়া চেক দিয়ে ১২ হাজার ডলার নিয়ে আসে। একই সময় তার স্বামীর ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে ১ লাখ ডলার নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনায় কানাডায় মামলা চলছে বলে জানান তিনি।

সানা ছেড়ে পালিয়েছেন মনসুর হাদী

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বুহ মানসুর হাদি রাজধানী সানা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কয়েক সপ্তাহ হুথি শিয়া মিলিশিয়াদের হাতে গৃহবন্দি থাকার পর শনিবার তিনি রাজধানী ছেড়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে তিনি দক্ষিণের শহর এডেনে চলে গেছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট হাদি তার রাষ্ট্রীয় বাসভবন ছেড়ে শনিবার তার নিজের শহর এডেনে চলেন গেছেন। তবে গৃহবন্দি থাক প্রেসিডেন্টকে হুথি বিদ্রোহীরা ছেড়ে দিয়েছে নাকি তিনি পালিয়ে গেছেন এ বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সানার সরকারি বাসভবন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর হুথি বিদ্রোহীরা সেখানে লুটপাট চালায়। এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, হুথি ও ইয়েমেনের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগ হাদির মুক্তির বিষয়ে সহায়তা করেছে। স্থানীয় একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মানসুর ইতিমধ্যে এডেনের খোরমাকসার জেলায় এসে পৌঁছেছেন। হুথি বিদ্রোহীরা ২০ জানুয়ারি রাজধানী সানায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন দখল করে নেয়। এর পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্টসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। এর ফলে দেশটিতে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার একটি অন্তরবর্তী পরিষদ গঠনে দেশটির বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলো রাজি হয়েছে।

দুই সম্পাদককেও বিচারের আওতায় আনা হবে -প্রধানমন্ত্রী

এক-এগারোর সরকারের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, সংবিধান ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল যুদ্ধাপরাধীদের মতো ঠিক তাদেরও একদিন বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী দু’টি  দৈনিক পত্রিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, ২০ বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যদি বুকের পাটা থাকে, সাহস থাকে জাতির কাছে স্বীকার করেন, ভয়ে লিখেছেন। তাহলে আর নির্ভীক সাংবাদিকতা থাকে না। আর যদি তাদের কাছে বিক্রি হয়ে থাকেন বা তাদের সঙ্গে সখ্য থাকে সেখানে আমার কিছু বলার নেই। আর যদি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন, তাহলে ষড়যন্ত্রকারীদের যারা এ দেশের গণতন্ত্র হত্যা করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করেছিল, এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল, এ দেশের মানুষকে এভাবে নির্যাতনের শিকার করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার হচ্ছে ঠিক সেভাবেই একদিন এদের এই সংবিধান ধ্বংস করার বিচার হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পাদক সাহেব ডিজিএফআইয়ের লেখা ছাপিয়ে ভুল করেছেন বললেন, কিন্তু সেই ভুলের খেসারত বাংলাদেশের মানুষ দিলো, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দিলো, এ দেশের ব্যবসায়ী মহল দিলো, ছাত্রসমাজ দিলো, সকলেই দিলো। আর যেহেতু আমার বিরুদ্ধে লিখেছে সেজন্য আমি ও আমার পরিবার তো দিয়েছি। কই তিনি ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করার সাহস তো দেখাতে পারলেন না। এতটুকু আত্মমর্যাদা থাকলে তো নিশ্চয় তিনি এরপর পদত্যাগ করতেন।
তিনি বলেন, ডেইলি স্টারের মতো একটি পত্রিকা, ডিজিএফআইয়ের একজন অফিসার যা লিখে দেবে তা ছাপাবে এটা কোনো পাগল বিশ্বাস করে? কারণ, ডেইলি স্টার তার ভাষা সম্পর্কে খুবই সচেতন। মাহফুজ আনামকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিএফআই-এর সঙ্গে উনার কী সখ্য ছিল? উনাকে যা ধরিয়ে দিতেন তাই হুবহু ছাপিয়ে দিতেন।  
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় দু’টি পত্রিকা ডিজিএফআইয়ের লিখে দেয়া মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়ে সে সময় রাজনীতি থেকে আমাকে এবং খালেদাকে (খালেদা জিয়া) চিরদিনের জন্য সরিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়েছে। মাহফুজ আনাম আমাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর জন্য বহু চেষ্টা করেছিলেন। তিনি স্বীকারও করেছেন। সত্য কখনও চাপা থাকে না। মাহফুজ আনামকে একটা কথাই বলবো- অনেক চেষ্টা করেছেন। আপনাদের পিতৃতুল্য বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতিবাজ বানাতে পারেনি। পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছিল। আর আপনি তো মাহফুজ আনাম...।
এক এগারোর পরিস্থিতি উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় ডিজিএফআই শক্তিশালী হতে চেয়েছিল। ব্রিগেডিয়ার আমিন ও বারী তারাই দেশ চালাতো। ব্যবসায়ীদের ধরে টাকা নেয়া, হয়রানি করা এসব তারা করতো। তাদের হাত থেকে ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ কেউই রক্ষা পাননি। আমি তখন এ কথা বলেছিলাম, গায়ের বাছুর নাকি বাছুরের গাই।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুই পত্রিকা ২০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও আমাকে নিয়ে কুৎসা রটনা করেছে। তাদের মুখোশ এখন উন্মোচন হয়েছে। আমাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টায় ওই সম্পাদকরা উঠে-পড়ে লেগেছিলেন। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনানের পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভুল স্বীকার করলে হবে না, ন্যূনতম আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে পদত্যাগ করুন। এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্প্রতি বৃটিশ এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছিল বিবিসি। এ কারণে ভুল স্বীকারের পাশাপাশি বিবিসি’র মহাপরিচালকসহ ওই রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে পদত্যাগ করেছেন। মাহফুজ আনামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামান্য মামলাতেই ঘাবড়ে গেলেন? ১১ মাস কারাগারে থাকলে কী হবে? অথচ আপনি যদি ভুল করে থাকেন, তাহলে সেই ভুলের খেসারত সবাই দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিনা ওয়ারেন্টে আমাকে গ্রেপ্তার করে ১১ মাস রাখা হয়। কারাগারে কোন শাস্তিপ্রাপ্ত আসামিকেও মনে হয় এক সপ্তাহের বেশি সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখতে পারে না। আর ১১টা মাস আমি সেখানে। এমনকি ঈদের দিনে পর্যন্ত আমার আত্মীয়স্বজন কাউকে দেখা করতে দেবে না। ওই ড্যাম্পের কারণে বা কি কারণে জানি না আমার চোখে অ্যালার্জি।  আমার চোখে অসুখ হয়ে গেল। চোখের ওপর ইনফেকশন হয়ে গেল। আমাকে ডাক্তার দেখাতে দেয়নি। ঈদের দিন কাউকে আসতে দেবে না। আমার ফুফু আর আমার হাজব্যান্ডকে আসতে দিলো। আর ফুফুকে বলে দিলো প্রেসের কাছে একটা কথাও বলতে পারবেন না। আমার ফুফু সেইদিন বলেননি। কিন্তু তিনিও বঙ্গবন্ধুর বোন। তিনি বাড়িতে প্রেস ডেকে যখন আমার অসুস্থতার কথা জানালেন, তখনই তারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। কিন্তু হাসপাতালে যখন ডাক্তাররা বললেন আমার রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, রক্ত নিতে চাইলেন। তখনই আমাকে ধরে আবার জেলখানায় ঢুকিয়ে দিলো। আবার যখন আমি চোখ দেখাতে গেলাম, আমার প্রেসার লো হয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম, আমাকে হাসপাতালে রাখা হলো। ওই অবস্থায় আমাকে কাপড় বদলাবারও সময় দেয়নি। ওই অবস্থায় আমাকে কোর্টে নিয়ে এসে হাজির করলো মামলার জন্য। ১৬টা মামলা আমার বিরুদ্ধে তখন। বিএনপি’র দেয়া প্রায় ১ ডজন। আর বাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া। যারা মামলা দেয়ার জন্য এতো দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ১১ মাস যদি আপনাদেরকে সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখা হয়? আর যদি আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়? আর যদি মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়? আমার ছেলে, মেয়ে, আমার বোন তাদের ওপর পর্যন্ত যে অত্যাচার। মানসিক চাপ। তাদের পরিবারের প্রতি যদি এ রকম করা হয়। তাহলেও কি তারা বিবৃতি দেবেন? সহানুভূতি দেখাবেন? যারা আমাদেরকে ওই ধরনের বিপদে ঠেলে দিয়েছে। এ বিপদ শুধু আমার একার বিপদ ছিল না। এ বিপদ ছিল সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের বিপদ।
দু’টি পত্রিকা মিথ্যা রিপোর্ট করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য তারাও চেষ্টা চালিয়েছিল। একটি পতাকা চেয়েছিল। তাদের মিথ্যা খবরের কারণে দেশের ক্ষতি হয়েছে, দেশবাসীকে কষ্ট করতে হয়েছে, বিপাকে পড়তে হয়েছে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের, আর তার নিজের ও পরিবারের ক্ষতিতো হয়েছেই।
তিনি বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। বিশ্বখ্যাত এক ব্যক্তিও দল করতে গিয়েছিল, যাকে আমরা প্রথম বেসরকারিখাতে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছিলাম। মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কেউ কেউ কথা বলছেন, আর কেউ নীরব রয়েছেন, কিন্তু কেন?
ভাষা দিবসের আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ত্যাগই বৃথা যায় না, ত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হয়। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। কোনো দেশের মানুষ ভাষার জন্য জীবন দেয়নি। শুধু বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাই দিনটিকে সারা বিশ্ব যাতে স্মরণ করে এজন্য ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো জাতিসংঘের অনুমতিতে মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের ভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণা করার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি এবং সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষা সংরক্ষণ করা আছে, যেগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবদুুল গাফফার চৌধুরী রচিত আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। এ গানটি এখন ১৯ টি ভাষায় ১৯ দেশের মানুষ গাইছে। এছাড়াও জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৮টি দেশে যাতে এই গানটি তাদের নিজ নিজ ভাষায় গায় সেজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।