Sunday, September 15, 2013
জিএম সিরাজীকে দুদকের পুরস্কার! by মাইনুল এইচ সিরাজী
সোনালী ব্যাংকের জিএম আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজীকে নিয়ে গর্ব করেছি। তার পরিবারের সদস্য বলে শুধু নয়, দেশের একজন নাগরিক হিসেবেও গর্ব হয়েছে। ভেবেছি, তার মতো কিছু সৎ মানুষ আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মাঝেও দেশটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙেচুরে যায়নি।
হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় সোনালী ব্যাংক এবং হলমার্ক গ্র“প যখন সারাদেশে নিন্দিত হচ্ছে, তখন জিএম সিরাজীসহ সোনালী ব্যাংকেরই দুয়েকজন কর্মকর্তা হয়েছেন নন্দিত। কারণ তারা নিজের জীবন এবং ক্যারিয়ার বাজি রেখে এই লুটপাট ঠেকাতে চেয়েছেন এবং তাদের কারণে উদঘাটিত হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেংকারির ঘটনা। গণমাধ্যম, ব্লগ, ফেসবুকে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন তারা। জিএম সিরাজীকে জাতীয় বীর হিসেবে পুরস্কৃত করার দাবিও উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে। হ্যাঁ, অবশেষে তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন ৩৭টি মামলায় তাকে আসামি করেছে। সবকটি মামলাই জামিন-অযোগ্য। ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ভেবেছি দুদক তাকে সংবর্ধনা দেবে। এখন দেখছি উল্টো মামলা দিল। এমন হলে তো মানুষ সৎ কাজের সাহস হারিয়ে ফেলবে। কী এমন কীর্তি গড়েছেন সিরাজী, যে তাকে নিয়ে এত আলোচনা হবে? চলুন তাহলে একটু পেছনে যাই। তার আগে পরিবার থেকে তিনি যে সততাটুকু পেয়েছেন, সে কাহিনী একটু বলে নিই।
আমার আব্বা আনোয়ার উল্লাহ সিরাজী এলাকায় বিখ্যাত মানুষ ছিলেন। না, তার কোনো বিত্তবৈভব ছিল না। বরং অভাব ছিল তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু দারিদ্র্য তাকে মহান করেছে। দারিদ্র্য কাউকে মহান করতে পারে- আব্বাকে না দেখলে কবির এই কথায় আমি কখনও বিশ্বাস করতাম না। অবশ্য দারিদ্র্যকে তিনি বরণ করে নিয়েছেন সন্তানদের মানুষ করার জন্য। এই ব্যতিক্রমী ভূমিকার জন্যই তিনি খ্যাতি পেয়েছেন।
নোয়াখালীর চরে তার কয়েক একর জমি ছিল। জমি নিয়ে ঝামেলাও ছিল। এসব ঝামেলা মেটানোর জন্য প্রায়ই মাইজদী দৌড়াতে হতো তাকে, ছেলেমেয়েদের দিকে নজর দিতে পারতেন না। শেষে জমিটমি রেখে খালি হাতে চলে এলেন বাড়ি। সংসার চালানো আর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি পড়ে গেলেন মহাসমুদ্রে। হাতে টাকা-পয়সা নেই। ভিটেমাটিটুকু ছাড়া আর কোনো জায়গা-সম্পত্তিও নেই। কী করুণভাবেই না কেটেছে আমাদের দিনকাল! পরে একটা চাকরি পেয়েছেন সরকারি প্রাইমারি স্কুলে। কিন্তু তাতে কী আর চলে? আমাদের নিয়ে চালিয়ে গেছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে এক অসম যুদ্ধ। নিজে খাবি খেয়েছেন। কিন্তু আগলে তুলে রাখার চেষ্টা করেছেন সন্তানদের। আনোয়ার উল্লাহ সিরাজীর সন্তানরা আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠা পেশাগত, আর্থিক নয়। কারণ এদেশে সততার সঙ্গে চাকরি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন। আমাদের তাই এখওে সেরকমভাবে না হলেও মাঝে মাঝে দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়।
আনোয়ার উল্লাহ সিরাজীর চতুর্থ সন্তান আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজী সোনালী ব্যাংকের জিএম। ১ জানুয়ারি ২০১২ সালে প্রধান কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বিভাগের (আইটিএফডি) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে যোগ দিয়েই ডিসেম্বরের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন থেকে তিনটি শাখার অনিয়মের কিছু তথ্য পান তিনি। এর মধ্যে স্থানীয় শাখার (লোকাল অফিস) অনিয়মের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা, রূপসী বাংলা শাখায় ৩৫০ কোটি টাকা এবং গুলশান শাখায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এই তিন শাখা পরিদর্শনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয় এমডির কাছে। এমডি হুমায়ুন কবীরের কাছে আইটিএফডির জিএম সিরাজী নিজেই নোটটি নিয়ে যান। হুমায়ুন কবীর আইটিএফডিকে নিরীক্ষা চালানোর অনুমোদন দিলেও এর সঙ্গে একটি মৌখিক নির্দেশ দেন। নির্দেশটি হল, আগে স্থানীয় শাখা ও গুলশান শাখায় নিরীক্ষা করতে হবে। এই দুই শাখার নিরীক্ষা শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়ে তবেই যেতে হবে রূপসী বাংলা শাখায়। সেভাবেই কাজ চলে। কিন্তু রূপসী বাংলা শাখা নিরীক্ষার সময় এলে বাধা হয়ে দাঁড়ান ডিএমডি মাইনুল হক। হলমার্ক গ্র“পকে রূপসী বাংলা শাখা থেকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়ার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল নেন তিনি। পরিদর্শন দলের সদস্যদের বিভিন্ন সময় ডেকে এনে অন্য কাজ দেন। এই ফাঁকে বাড়তে থাকে রূপসী বাংলা শাখার অনিয়ম।
ডিএমডি মাইনুল হকের ছুটিতে যাওয়ার সুযোগে আইটিএফডি আর নিরীক্ষা সেল থেকে রূপসী বাংলা শাখা পরিদর্শনের জন্য আবার অনুমোদন চাওয়া হয় এমডির। এমডি অনুমোদন দেন। ঠিক হয় ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে পরিদর্শনের কাজ। ১ এপ্রিল এই সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ছুটি শেষে ২ এপ্রিল ডিএমডি কাজে যোগ দিলে শুরু হয় নতুন এক সংকট। ওই দিনই আইটিএফডির জিএম মাসরুরুল হুদা সিরাজীকে বদলি করা হয় একই সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেটে। পরদিনই ছাড়পত্র দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনাগুলো যখন ঘটছিল, জিএম সিরাজী আমাদের অনেক আশংকার কথা বলেছেন। বলেছেন, তার জীবন আজ হুমকির মুখে। এসব শুনে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। বিশেষ করে হুমকি বিষয়টা আমাদের কাছে নতুন। আমাদের পরিবারের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব নেই। তাই আমাদের জন্য চাপটা ছিল বেশি। আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি এবং বলি, কেন আপনি স্রোতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গেলেন? তখন উল্টো তিনি আমাদের বুঝিয়েছেন। বলেছেন, তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। এর বেশি কিছু করেননি। তিনি আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছেন- সততার জয় একদিন হবেই এবং আমাদের আব্বার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।
আমরা তখন কত কঠিনভাবে বুঝেছি, মাসরুরুল হুদা সিরাজী যদি এই ভূমিকাটা পালন না করতেন, সততার সঙ্গে নিজের কাজটা যদি না করতেন তাহলে কত ক্ষতি হয়ে যেত আমাদের। আমাদের পরিবারটা আক্ষরিক অর্থেই ডুবে যেত একেবারে। কিন্তু শেষ রক্ষা তো হয়নি। সততার জয় এভাবে হবে- আমাদের বোকা পরিবারটা তা ভাবেনি। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকারান্তরে নীতিকে দমন করে আমাদের পরিবারটাকে ডুবিয়েই দিল। আমরা আজ হতাশ ও শোকাকুল। এর আগে কখনও এতটা ভেঙে পড়িনি আমরা। পরিবারের কারও মৃত্যুতেও নয়, এমনকি আরও কোনো বড় বিপর্যয়েও নয়। আমাদের পারিবারিক সম্মানের কবর রচনা করেছে দুদক। এখন প্রতি মুহূর্তে আমাদের মূল্যবোধের মৃত্যু ঘটছে। আমরা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে আবিষ্কার করছি- আমাদের আÍবিশ্বাসও মরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সততার প্রতি সম্মানবোধ ফিকে হয়ে আসছে। সবকিছু ঝাপসা লাগছে আজ। আমাদের করা গর্বগুলো উল্টো ছোবল মারছে আমাদের। কিন্তু এই ভেঙে পড়া তো শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির। এটা একটা আদর্শের ভেঙে পড়া, একটা বিশ্বাসের ভেঙে পড়া।
এ দেশে নীতি দেখাতে গেলে কী পরিণতি হয়- চোখ মেলে অসহায়ের মতো দেখছি আমরা। না, আর নীতি-নৈতিকতাকে উৎসাহিত করব না। দুর্নীতির গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়াই বরং নিরাপদ। জিএম সিরাজীকে নিয়ে এতদিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছি বলে ক্ষমা চাচ্ছি। ও হ্যাঁ, এই দেশ আমার দেশ নয়। আমাকে ক্ষমা করবেন।
মাইনুল এইচ সিরাজী : জিএম সিরাজীর ছোট ভাই
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ : সমস্যা ও সম্ভাবনা

(গতকালের পর)
সুজার সামরিক প্রধান ফতেহ খান সপরিবারে সুজা হত্যার দুঃসংবাদ নিয়ে আলীকদম থেকে দিল্লি যান। এ খবর শুনে আওরঙ্গজেব ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সুবেদার শায়েস্তা খানকে আরাকান রাজ্য আক্রমণের জন্য পাঠান। শায়েস্তা খানের পুত্র উমেদ খানও আরাকান জয়ে তার সঙ্গী হন। মোগল গভর্নর শায়েস্তা খান বাংলায় আগমনের পর উপজাতি বিদ্রোহীদের পরাস্ত করার জন্য আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আরাকান বাহিনীর হুমকি পর্যালোচনা করে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার ওপর মনোনিবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি জাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
অপরদিকে তিনি সৈন্য ও রসদ দিয়ে আরাকান বাহিনীকে সাহায্য প্রদানকারী ডাচ ও পর্তুগিজ বাহিনীর সমর্থন লাভের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। আরাকান ও পর্তুগিজদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরলে শায়েস্তা খান বেশ লাভবান হন। ওই বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট হয়ে শায়েস্তা খানের নেতৃত্বাধীন মোগলবাহিনী আরাকানের দখল থেকে প্রথমে সন্দ্বীপ মুক্ত করে। ১৬৬৫ সালের ডিসেম্বরে শায়েস্তা খান আরাকান বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামে সামরিক অভিযান শুরু করে। এ সময় তিনি সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য রাঙ্গামাটি শহরসহ পুরানঘর (রাঙ্গামাটির প্রাণকেন্দ্র) এবং কাঠগর (দোহাজারীর সন্নিকটে) এলাকায় সেনা ছাউনি স্থাপন করেন। এ সেনা ছাউনির আশপাশে প্রচুর বাঙালি বসতি স্থাপন করে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে, যাদের স্থানীয় উপজাতিরা আদিবাসী বাঙালি বলে জানে। তখন এ অঞ্চল ছিল হিংস্র জীবজন্তুর অভয়ারণ্য, যেখানে সুদূর চীনের পার্বত্য এলাকা থেকে কুকিরা আসত। কুকিরা ছিল বন্যপ্রাণীদের মতোই ভবঘুরে প্রকৃতির এবং তারা ফলমূল সংগ্রহ ও পশু শিকার করে জীবনধারণ করত। পরে আরাকান, মগ ও পর্তুগিজ দস্যুরা চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে আস্তানা গেড়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় লুটতরাজ শুরু করে। শায়েস্তা খানের ঐকান্তিক চেষ্টায় এ দস্যুদের নির্মূল করা হয়।
চট্টগ্রাম বিজয়ের পর উমেদ খান চট্টগ্রামের নবাব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। সেই সময়ে আলী কদমে অবস্থিত মোগল সৈন্যরা উমেদ খানের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে নিয়মিত তুলা কর প্রদান করত। যদিও ১৬৬৬ থেকে ১৭২৪ সাল পর্যন্ত মোগল সেনাপতিরা জমিদারি পরিচালনা করেছে, কিন্তু এদের মধ্যে জালাল খান চট্টগ্রামের নবাবের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে কর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাই চট্টগ্রামের নওয়াব দ্রুত জালাল খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। ফলে জালাল খান আরাকানে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং মগদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। যুদ্ধের ১৩ বছর পর ১৭৩৭ সালে জালাল খানের সহযোদ্ধা শের মস্ত খান চট্টগ্রামের নবাবের সঙ্গে দেখা করে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেন এবং পদুয়া কোদালা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তিনি সেখানে একটি খামারবাড়ি স্থাপন করলে অনেক মগ ও চাকমা জনগোষ্ঠী এসে বসবাস শুরু করে। সেই সময়ে বিশ্বস্ততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মোগলরা উপজাতীয়দের ‘দেওয়ান’, ‘তালুকদার’ ইত্যাদি খেতাবে ভূষিত করেন, যা তাদের বংশধররা এখনও ব্যবহার করে থাকে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনেক দিনের দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা ছিল। সেই লক্ষ্যে কোম্পানি চট্টগ্রামে দু-দু’বার যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ১৭১০ সালে বাংলার নবাব অন্যান্য এলাকার মতো চট্টগ্রাম জেলাকেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়। যদিও কোম্পানি দিল্লির বাদশা শাহ আলমের কাছ থেকে ১৭৬৫ সালের পর রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে। অতঃপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের জন্য দু’জন রাজা নিয়োগ দেয়। তারা হলেন- চাকমা রাজা শের দৌলত খান এবং আরাকান বংশোদ্ভূত বোমাং রাজা পোয়াং। মগ ও খুমি উপজাতিরা বোমাং রাজার অধীনে থাকে। এ রাজারা রাজস্ব আদায়ের জন্য নিজস্ব পদ্ধতি চালু করেন। যতই দিন যাচ্ছিল, জনগণের ওপর কোম্পানির করের বোঝা ততই বেড়ে যাচ্ছিল যা পরে জনগণের অসন্তোষের কারণ হয়। মোগল বাহিনীর চট্টগ্রাম জয়ের পর সীমান্তের ওপারে অস্থিতিশীলতা ও পুনঃ পুনঃ সিংহাসন পরিবর্তনের কারণে আরাকানের শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এরই সুযোগ নিয়ে ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোধপায়া আরাকান জয় করেন। ঠিক এ সময় অনেক মারমা জনগণ নাফ নদী পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার এলাকায় এসে বসবাস শুরু করে। এদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য ক্যাপ্টেন কক্সকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, যার নামানুসারে কক্সবাজারের নামকরণ করা হয়। বোধপায়া কর্তৃক ঐতিহাসিক আরাকান রাজ্য দখলের পর পৃথিবীর মানচিত্র থেকে এ রাজ্যটি একেবারে হারিয়ে যায়। অতঃপর বার্মার সৈন্যরা ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে যা ১৭৮৫ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল। পরিণামে অনেক চাকমা জনগণ আরাকান ত্যাগ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে আশ্রয় নেয়।
১৮৫৯ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত কুকি উপজাতীয় সম্প্রদায় বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে বিপুল লোকজন হতাহত হয়। ১৮৬০ সালে প্রশাসনিক সুবিধাসহ সফলভাবে উপজাতীয় আন্দোলন দমনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে পৃথক করা হয়। ১৮৮১ সালের শেষের দিকে রাঙ্গামাটি শহরের ১৬৫৮ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানের ১৪৪৪ বর্গমাইল নিয়ে বোমাং সার্কেল এবং ৬৫৩ বর্গমাইল নিয়ে রামগড়ে মং সার্কেল গঠিত হয়। চাকমা সম্প্রদায়ের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মং সার্কেল গঠন করেন বলে জানা যায়। উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য ১৯০০ সালের মে মাসে CHT Regulation 1 of 1900 কার্যকর করার মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার সার্কেলপ্রধানদের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু এই রেগুলেশনের ৩৪নং ধারা অনুযায়ী যে কোনো ধরনের জমি বন্ধক, বিক্রি, পরিবর্তন ও অধিগ্রহণ জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত। যার অর্থ, জেলা প্রশাসকই হচ্ছে জমির প্রকৃত মালিক। ম্যানুয়াল অনুযায়ী সার্কেলপ্রধানের অধীনস্থ হেডম্যান ও কারবারিরা মৌজা ও পাড়ায় রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত, যা সংগ্রহের পর সার্কেলপ্রধান কর্তৃক জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রকৃতপক্ষে তিন সার্কেল প্রধান এবং তাদের অধীনস্থ হেডম্যান ও কারবারিরা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকারের নির্দিষ্ট প্রতিনিধি। ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক সার্কেলপ্রধানদের ওপর কর্তৃত্ব করে থাকেন। আরও পরে ১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে, তখন চাকমারা নিজেদের পাকিস্তানি মুসলমানদের চেয়ে ভারতীয় হিন্দুদের নৈকট্য প্রত্যাশা করে এবং উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ভূমির স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সীমানা নির্ধারণী কমিশন চাকমাদের এ সুপ্ত বাসনার মূল্যায়ন করেনি। যাই হোক, ১৯৫৬ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের জন্য তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার কর্ণফুলী লেকের জমি অধিগ্রহণ করে, যার ফলে প্রায় ৫৪ হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও সংরক্ষিত বনাঞ্চল বিস্তারের জন্য পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল থেগামুখ, সুবলং ও রাইংখিয়াং এলাকা থেকে ক্ষতিপূরণ ব্যতিরেকে উল্লিখিত এলাকার অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে, যা এ এলাকার জনগোষ্ঠীকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এসব এলাকার জনগণ এখনও বিশ্বাস করে, তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক জটিলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ওই বছরের মার্চে এক রক্তাক্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়সহ কিছু চাকমা জনগণ এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণ করেন। পরে রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করে আমৃত্যু পাকিস্তানে বসবাস করেন। তাই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অনেক উপজাতি জনগণ ভারতে পলায়ন করে। আর সে সুযোগে দেশে রয়ে যাওয়া উপজাতীয়রা এ অঞ্চলের জমা-জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তরুণ প্রতিবাদী পাহাড়ি নেতা এমএন লারমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন, যা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে গৃহীত হয়নি। অতঃপর ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হলে সাংবিধানিক উপায়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবি আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে। তাই ১৯৭৬ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সশস্ত্র বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়। ওই সময়ে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। তখন সরকার কিছু ভূমিহীন বাঙালি পরিবারকে পার্বত্য এলাকায় বসবাসের সুযোগ করে দেয়। পুনর্বাসিত প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে ৫ একর করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়, যা উপজাতীয়রা আজও নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। যাই হোক, সশস্ত্র আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বাঙালি পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এনে বসবাস করতে দেয়া হয়। এ সুযোগে উপজাতি জনগণ বাঙালিদের ছেড়ে যাওয়া জায়গা-জমি দখল করে বসবাস শুরু করে। এভাবেই পার্বত্য এলাকার ভূমি সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।
‘Hill District Council Act 1989’ কার্যকর হওয়ার পর পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো ক্রয়-বিক্রয় পরিবর্তন বা অধিগ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হয়। একই সঙ্গে ‘হিলট্রাক্টস ম্যানুয়েল ১৯০০’ কার্যকর থাকায় ভূমি সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এ এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয় এবং ভূমি সমস্যাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সবাই নিজ জমা-জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে অগ্রণী হলে বিভিন্ন জায়গায় জাতিগত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ইতিমধ্যে সরকার শান্তিচুক্তির আওতায় বেশিরভাগ দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে লক্ষণীয় যে, শান্তি চুক্তির পর পৃথিবীর অনেক দেশেই যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ হয়নি, যেমন সুদান (১৯৭২), সোমালিয়া (১৯৯০), এঙ্গোলা ১ ও ২ (১৯৯১ ও ১৯৯৪) এবং রুয়ান্ডা (১৯৯৩)। এমনকি পার্বত্য চুক্তির বহু বছর আগে স্বাক্ষরিত অ্যাংলো-আইরিশ চুক্তি বাস্তবায়নের দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি অনুযায়ী সব ধরনের মামলা প্রত্যাহারসহ সব বিদ্রোহীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। সর্বমোট ১ হাজার ৯৮৯ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদানসহ ৭০৫ জনকে পুলিশ বিভাগে চাকরি দেয়া হয়েছে। ১২ হাজার ২২২টি উপজাতি পরিবারকে ত্রিপুরা থেকে দেশে এনে পুনর্বাসিত করা হয়। ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে জনাব দীপঙ্কর তালুকদার এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তু লারমার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হলেও মহামান্য হাইকোর্টে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা চলমান থাকায় পরিষদ কার্যত স্থবির। মহামান্য হাইকোর্টে পার্বত্য শান্তিচুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে মামলা হয়েছে এবং এ জন্য হাইকোর্ট সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চেয়েছেন। অবশ্য মহামান্য হাইকোর্ট আঞ্চলিক পরিষদ ও সার্কেলপ্রধানদের কতিপয় ক্ষমতা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সরকার হাইকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করলেও মহামান্য হাইকোর্টে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়টিসহ আঞ্চলিক নির্বাচনের জন্য আলাদা ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টির স্থায়ী সুরাহা হলেই চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্বাচনসহ সবার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৩২টি বিষয়ের মধ্যে ২২টি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় উপজাতি পুলিশদের বদলির বিষয়টি যখন প্রক্রিয়াধীন ছিল, ঠিক তখনই ঢাকায় কতিপয় উপজাতীয় পুলিশ সদস্যের গোলাবারুদ চুরির ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে, যার ফলে বিষয়টি আর এগোয়নি।
ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৯ সালে ভূমি কমিশন গঠন করা হয় এবং ‘CHT Land Dispute Settlement Commission Act 2001’ প্রণয়ন করা হয়। ইতিমধ্যে পার্বত্য এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৩৮টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় জেলা বিচারিক আদালত স্থাপিত হয়েছে। সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। সরকার ১৯৯৭-এর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে উপজাতি সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণসহ সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। (চলবে)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সরোয়ার হোসেন, এইচডিএমসি, পিএসসি : পার্বত্য এলাকায় ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে কর্মরত
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাখন ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র by মোকাম্মেল হোসেন

: কী হইছে!
-ইস্রাফিলের আব্বারে পুলিশ ধইরা লইয়া গেছে...
ইস্রাফিলের আব্বা- তার মানে স্বয়ং ইদ্রিস মিয়া। মন্তাজ আলী খানিকটা অবাকই হলেন। ইদ্রিস আলী সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষ। পুলিশ বাহিনীর সালাম পাওয়ার মতো কোনো যোগ্যতা তার আছে বলে জানা নেই মন্তাজ আলীর। ইদ্রিসের বউ হঠাৎ বিলাপ জুড়ে দেয়-
: আল্লাহর দোহাই লাগে, আপনে ইস্রাফিলের আব্বারে ছাড়াইয়া আইন্যা দেন...
কাঁদতে কাঁদতেই ইদ্রিসের বউ শাড়ির আঁচল থেকে কিছু টাকা বের করে মন্তাজ আলীর হাতে গুঁজে দিল। মন্তাজ আলী অভিভূত হয়ে গেলেন। বিদ্যাবুদ্ধিহীন এ নারীর জ্ঞানের জগৎ সীমাবদ্ধ হওয়ারই কথা। দেশ-বিদেশের বিস্ময়কর পরিবর্তন ও অগ্রগতি সম্পর্কে সে হয়তো কোনো খোঁজখবরই রাখে না। অথচ গায়ের ওপর পুলিশের ছায়া পড়লে যে টাকা খরচ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই- এ জ্ঞান সে ঠিকই আয়ত্ত করে ফেলেছে। মন্তাজ আলী মনে মনে বললেন, সাবাশ। তারপর টাকাগুলো পকেটে রেখে জানতে চাইলেন,
: পুলিশ তারে কী জন্য ধরল?
-এইটা তো আমারও জিজ্ঞাসা!
: ঘটনার বর্ণনা দাও।
-সকালবেলা ঘুম থেইক্যা ওঠার পর ইস্রাফিলের বাপ কইল, শইলডার মধ্যে জুৎ পাইতেছি না- আইজ আর কামে যামু না। আমি কইলাম, আইচ্ছা। হেরপর নায়নাস্তা খাইয়া কইল- উত্তরপাড়ার নেকবইরা টেকা কর্জ নিছিল, আইজ দেওনের তারিখ; যাইয়া দেহি দেয় কিনা? আমি কইলাম, আইচ্ছা। এর দুই-আড়াই ঘণ্টা বাদে আচমকা খবর পাইলাম, পুলিশ তারে ধইরা থানায় লইয়া গেছে।
ইদ্রিসের বউ যাকে থানা বলে অভিহিত করল, সেটি আসলে থানা নয়, পুলিশ ফাঁড়ি। এলাকার লোকজনের অনেক দিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার অষ্টধার বাজারে একটি পুলিশ ফাঁড়ির বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। কাজ শেষ করে মন্তাজ আলী ফাঁড়িতে গেলেন। তারপর ইদ্রিস মিয়ার কাছে প্রকৃত ঘটনা জেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বললেন-
: স্যার, এই লোক তো নির্দোষ!
-নির্দোষ মানে! নির্দোষ হওয়ার সার্টিফিকেট তারে কে দিছে? আমেরিকা না ইংল্যান্ড? আপনে জানেন, আমার ফোর্স জুয়ার আসর থেইক্যা তারে অ্যারেস্ট করছে?
: জুয়া না স্যার। কাজ-কাম নাই, তাই কয়েকটা পোলাপান মিইল্যা তাস খেলতেছিল...
-কাজ-কাম নাই মানে? দেশে কি কাজ-কামের অভাব পড়ছে? ভিশন টু থাউজেন্ড টুয়েন্টি ওয়ানের ঘোষণা দিয়া এই সরকার আপাটে-ঘোপাটে কর্মসৃজন করছে। হাজার হাজার-লক্ষ কোটি কাজ-কাম হ্যাংগিং অবস্থায় আছে। সেদিকে মনোযোগ না দিয়া তাসের আসর বসানো- এইটা তো ভয়ংকরতম অপরাধ।
: কিন্তু ছা- ইদ্রিস আলী হইল নীরব দর্শক। ওই পথে গমন করার সময় তামাশা দেখার জন্য সাইডে বইসা ছিল।
-ক্রাইম যে করে আর ক্রাইম যে দেখে- দু’জনই সমান অপরাধী! রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয় আছে?
: জ্বি না ছার।
-গ্রেট রাইটার ছিলেন। তিনি বলে গেছেন এ কথা।
: এখন করণীয় কী ছার!
-করণীয় একটাই। আগামীকাল ভোরের ট্রেনে আসামিকে কোর্টে চালান করে দিব।
চালান শব্দটা মন্তাজ আলীর খুবই মনে ধরল। তাই আর কালক্ষেপণ না করে ইদ্রিসের বউয়ের দেয়া টাকাগুলো তিনি পুলিশ বাহাদুরের পকেটে চালান করে দিলেন...
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকলেও গড়পড়তা বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ পুলিশ বিভাগ নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণা কর্মের মাধ্যমে এ বাস্তবতাকে উল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশ বিভাগ যদি আড়াই ঘণ্টার একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করে কিংবা সংবাদমাধ্যম ও বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দিয়ে এ চেষ্টা করত- কারও কিছু বলার ছিল না। কেউ যদি তার প্রযোজিত ছায়াছবিতে নিজেকে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করে তাহলে আপত্তি করার কিছু নেই। পকেটে পয়সাকড়ি থাকলে নিজেকে জাহির করার জন্য পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশন ও বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দিলে কে বাধা দিতে যাবে? পুলিশ বিভাগ এসব পথে না গিয়ে একটি গবেষণার ওপর ভর করেছে। জনমত জরিপের মাধ্যমে সম্পন্ন ওই গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, পুলিশ কোনো দুর্নীতি করে না এবং কোনো কাজের জন্য ঘুষও নেয় না।
জনমত জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র নয়। কাজেই এটাকে চ্যালেঞ্জ করার কিছু নেই। তবে জনমত জরিপের নামে রাতকে দিন আর ছাগলকে ঐরাবত বানানোর চেষ্টা করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিছু দিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সমীক্ষা রিপোর্টে দুর্নীতির ক্ষেত্রে এদেশের পুলিশ ও রাজনৈতিক দলকে সবার সেরা হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুলিশ বিভাগ টিআইবির সমীক্ষা বা গবেষণার জবাব একটি গবেষণার মাধ্যমে দিতে গিয়ে অর্থাৎ দাঁতের বদলে দাঁত তুলতে গিয়ে আলাজিভ পর্যন্ত উপড়ে ফেলেছে। পুলিশের এ ধরনের কাজকারবার দেখে মাখন ভাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের এলাকার একটি সমবায় সমিতির একাংশের নেতা হচ্ছেন মাখন ভাই। অর্থ লোপাট, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নারী কেলেংকারি, পানাহার ইত্যাদি নানা দোষে তার চরিত্র দূষিত। কিছু দিন আগে ওই সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। নির্বাচনে মাখন ভাই একজন প্রার্থী ছিলেন। একদিন শুনলাম, তার অনুসারীরা আকাশ-বাতাস ফাটিয়ে স্লোগান দিচ্ছে-
: মাখন ভাইয়ের চরিত্র- ফুলের মতো পবিত্র...
বলার অপেক্ষা রাখে না- মাখন ভাই সম্পর্কে যারা জানে, তাদের কাছে এ স্লোগান মূল্যহীন ও হাস্যকর। ঠিক একইভাবে এদেশের পুলিশ বাহিনীকে সাধু বানানোর জন্য যত বড় গবেষণার আয়োজনই করা হোক না কেন, মানুষ তা বিশ্বাস করবে না। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে অবশ্যই পুলিশের আচার-আচরণ ও চরিত্র সংশোধন করতে হবে।
পুলিশ সম্পর্কিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দু’জন শিক্ষক ও কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। জনমত জরিপের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে জনভাবনার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে হলে গবেষণা কর্মের প্রতিটি পর্যায়ে একজন গবেষককে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিগত সততা, গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি, মনোযোগ ও আন্তরিকতা নিয়ে অগ্রসর হতে হয়। গবেষণার কোনো একটি ধাপে এগুলোর ঘাটতি থাকলে যত বড় প্রতিষ্ঠান বা যত বড় বিদ্বানই তার সঙ্গে যুক্ত থাকুক না কেন, সে গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ফলে এ গবেষণার মান নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে। শিক্ষকরা হচ্ছেন বিদ্যা ও জ্ঞানদাতা। জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার মহৎ দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকরা যদি অনৈতিক কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তবে জাতির আর ভরসা করার মতো কোনো জায়গা থাকে না। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সুনাম ও মর্যাদা ছিল এবং তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন সেটা অতীতের সুখস্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরব ও ঐতিহ্যের কোনো কিছুই ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এর কারণ অতীতে যেসব মহৎপ্রাণ মানুষ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তারা পাঠদান ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট গবেষণার বাইরে অন্য কিছু করার কথা তো অনেক পরের ব্যাপার, চিন্তাতেও ঠাঁই দিতেন না। উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে ‘বিদ্যার দেবী’ সরস্বতীকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চলছে লক্ষ্মী বন্দনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক লক্ষ্মী বন্দনায় এতটাই ব্যস্ত ও পারঙ্গম যে, নীতি-আদর্শ-কর্তব্যবোধ জলাঞ্জলি দিতেও তারা কুণ্ঠিত হচ্ছেন না। কিছু দিন আগে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তিনি তার ভিজিটিং কার্ড এগিয়ে দিলেন। সেই কার্ডে তার অনেক গুণের কথা উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে এক জায়গায় দেখলাম লেখা রয়েছে ‘টকস্টার’। বিষয়টি নিয়ে মনের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হতেই সহকর্মী হেসে বললেন-
: উনি নিয়মিত টেলিভিশনের টকশো-এ অংশগ্রহণ করেন। সম্ভবত এ বিষয়টি বোঝানোর জন্যই নিজেকে ‘টকস্টার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আজকাল টকশো করছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘খ্যাপ’ মারছেন, এনজিও খুলে দোকানদারি ও কনসালটেন্সি করছেন এবং সর্বোপরি ভয়াবহরকমভাবে দলীয় রাজনীতি করছেন। এসব কাজ শেষ করার পর তারা ছাত্রছাত্রীদের কতটুকু শেখাচ্ছেন- এ প্রশ্ন যদি কেউ করতে চান তবে আমি তাকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নানের একটি উক্তি শোনাতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর একদিন শুনলাম, আমাদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে তৎকালীন উপাচার্য আবদুল মান্নান দেশের অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করতে গিয়ে বললেন-
: আমার ছেলেমেয়েরা নীলক্ষেত থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত যাওয়া-আসা করতে করতে যা শেখে- অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা পাঁচ বছর পড়ালেখা করেও তা শিখতে পারে না...
কথাটা ভয়ংকররকম সত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিছু শেখার জন্য যদি গৌরব করতে চায় তবে ক্যাম্পাস ও চারপাশের পরিবেশ আর এর লাইব্রেরির ওপর অবশ্যই তাদের ঋণ স্বীকার করতে হবে। পরীক্ষা পাসের জন্য ফটোকপির দোকান ও শিক্ষকদের কাছে তাদের ঋণ স্বীকারের কিছু নেই। সামরিক সরকারের অধীনে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষ হতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় লেগেছিল। এ সময়কালে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক বাদে বাকিদের মধ্যে যে নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও দায়িত্ববোধের নমুনা দেখেছি, তা বয়ান করতে গেলে বিশাল একটা কিতাব রচনার প্রয়োজন হবে। প্রায় দুই যুগের ব্যবধানে এ অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। অবনতির এ চিত্র কতটা মারাÍক রূপ ধারণ করেছে তা গত বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে টের পেলাম। মধ্যরাতে ফোন পেয়ে ইনতাজ সাহেবের বাসায় যেতেই তিনি হায় হায় করে বলে উঠলেন-
: রাইত পার হইলেই ভর্তি পরীক্ষা। অথচ এখন রাত ২টার সময় আমার সুপুত্র ও তার মা মিইল্যা আমার কাছে টাকা চাইতেছে- সেই পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কেনার জন্য। চিন্তা করতে পারেন, কী ভয়ংকর ঘটনা?
-অসুবিধা কী! টাকা দিয়া দেন- প্রশ্ন নিয়া আসুক।
আমার কথা শুনে ইনতাজ সাহেব বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। সরু চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর তোতলাতে তোতলাতে বললেন-
: আপনি এসব কী বলতেছেন? ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের জোরে আমার ছেলে ডাক্তার হবে? এই রকম ডাক্তারের মুখে আমি সাড়ে সাতবার থু দেই। থুঃ।
আমি আরিফের খোঁজ করলাম। তার কাছ থেকে আগে পুরো বিষয়টা জেনে নেয়া যাক। আরিফ পাশের রুমে দাঁড়িয়েছিল। ডাক দেয়ার পর সে ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হতেই বললাম-
: তুমি কি সিওর- প্রশ্ন ফাঁস হইছে।
- হ্যাঁ।
: কীভাবে সিওর হইলা?
-যে ফ্রেন্ডের সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করছিলাম, সে-ই আমাকে ফোন করে কনফার্ম করছে।
: এই প্রশ্নপত্রের জোগানদার কারা?
-আমি ঠিক জানি না। তবে আমার বন্ধু আমাকে বলেছে, আমরা প্রশ্ন আনতে যার কাছে যাব তিনি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।
আরিফের কথা শুনে ইনতাজ সাহেব গলায় হাহাকার ফুটিয়ে আমার উদ্দেশে বললেন-
: কারবারটা দেখছেন? মাস্টারি রাইখ্যা কী একটা কুকামের সঙ্গে যুক্ত হইছে! সবগুলা হইল বদের কলসি।
: ঢালাওভাবে সবাইরে খারাপ বলা ঠিক না। ভালোও আছেন অনেকে।
আমার কথা শুনে ইনতাজ সাহেব গর্জে উঠলেন। কপাল কুঁচকে বললেন-
: ভা-লো! আপনি আগে ভালোর সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন। তারপর সেই ভালোর খাতায় এ দেশের কয়জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নাম ওঠে- তা আমি দেখতে চাই।
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংসদ সদস্যদের পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন

৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদের দফা (৩)-এ বলা হয়েছে, এ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোনো ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হওয়ার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলে গণ্য হবেন না। এ বিষয়টির আক্ষরিক অর্থ হল- উপরোক্ত পদধারীরা প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও এ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তারা প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত আছেন বলে গণ্য হবেন না অর্থাৎ এসব পদধারীকে পদে বহাল থাকাবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন বা সংসদের কোনো সদস্য পদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য যোগ্য করা হয়েছে।
সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা হতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করা হলে ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উপদফা (চ) ও দফা নম্বর (৩) অবলুপ্ত করা হয়। অতঃপর ৫ম সংশোধনী প্রণয়নকালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বহাল রাখা হলেও ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উপদফা (চ) ও দফা নম্বর (৩) পুনঃ ৭২’র সংবিধানে যেরূপ ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে এনে উপদফা (চ) ও দফা নম্বর (৩)-এর পরিবর্তে উপদফা (ঘঘ) ও দফা (২ক) হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করে (২ক) দফায় প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ দুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বিপথগামী সেনাকর্মকর্তাদের দ্বারা নিহত হওয়ার পর তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার নির্বাচন অনুষ্ঠান সাপেক্ষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি রূপে কার্যভার গ্রহণ করেন। তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকাকালীন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হলে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা দায়েরপূর্বক তার উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সে সময় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সুবাদে সংবিধানে ৬ষ্ঠ সংশোধনীর মাধ্যমে দফা নম্বর (২ক)-তে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ অন্তর্ভুক্ত করে প্রশ্নটির সুরাহা করা হয়। উল্লেখ্য, একজন রাষ্ট্রপতিকে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হয়। পরবর্তীকালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃসংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করা হলে দফা নম্বর (২ক) হতে উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ দুটি বিলুপ্ত করা হয়। অতঃপর পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়নকালে পুনঃ (ঘঘ) উপদফা ও দফা নম্বর (২ক)-কে উপদফা নম্বর (চ) ও দফা নম্বর (৩)-এ স্থলাভিষিক্ত করে (৩) নম্বর দফায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ দুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ নম্বর ৬৬-এর দফা নম্বর (৩)-এ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদদ্বয় অন্তর্ভুক্ত করায় এ বিষয়টি বর্তমানে স্বীকৃত যে, উভয় পদ প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ। উভয় পদের প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ হিসেবে স্বীকৃতি নতুনভাবে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল থাকাকালীন যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছিলেন, তাদের সে অংশগ্রহণ বৈধ ছিল কি-না এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন তার বৈধতা কতটুকু? আর অবৈধ হয়ে থাকলে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত প্রদান আবশ্যক নয় কি?
আমাদের সংবিধানের কোথাও লাভজনক পদের ব্যাখ্যা দেয়া না হলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ২০০৮ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে অনুচ্ছেদ নম্বর ১২-তে লাভজনক পদ বিষয়ে বলা হয়, ‘লাভজনক’ পদ অর্থ প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সরকারি শতকরা ৫০ ভাগ বা তদূর্ধ্ব শেয়ার রয়েছে এরূপ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে সার্বক্ষণিক বেতনভুক্ত পদ বা অবস্থান।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯; স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এ লাভজনক পদের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুরূপ। কিন্তু স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর লাভজনক পদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এখানে বলা হয়েছে, ‘লাভজনক’ পদ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে বেতন, সম্মানী কিংবা আর্থিক বা অন্য কোনোভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত লাভজনক পদ বা অবস্থান। স্পষ্টত শেষোক্ত ব্যাখ্যায় বেতন ব্যতিরেকে সম্মানী বা আর্থিক অথবা অন্য কোনোভাবে সুবিধা প্রাপ্তিকে লাভজনক বলা হয়েছে। যদিও সাধারণ অর্থে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ বলতে এমন সব পদধারীকে বোঝায়, যারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে বেতন-ভাতা ও সম্মানী গ্রহণ করে থাকেন। এ অর্থে সব গণ-কর্মচারী (Public Servant) প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত মর্মে গণ্য। উল্লেখ্য, আমাদের সংসদ সদস্যরা ভ্রমণভাতা, আবাসন সুবিধা, করযুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ প্রভৃতি ছাড়াও প্রতি মাসে অন্যান্য যেসব বেতন-ভাতা ও সম্মানী পেয়ে থাকেন তার পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা।
আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্ম’ অর্থ অসামরিক বা সামরিক ক্ষমতায় বাংলাদেশ সরকার সংক্রান্ত যে কোনো কর্ম, চাকরি বা পদ এবং আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্ম বলে ঘোষিত হতে পারে, এরূপ অন্য কোনো কর্ম। অপরদিকে ‘সরকারি কর্মচারী’ অর্থ প্রজাতন্ত্রের কর্মে বেতনযুক্ত পদে অধিষ্ঠিত বা কর্মরত ব্যক্তি। সংবিধানে উল্লিখিত সরকারি কর্মচারীকে ইংরেজিতে বলা হয়েছে Public Officer. সংবিধানে উল্লিখিত Public Officer এবং দণ্ডবিধির ২১ নম্বর ধারায় উল্লিখিত Public Servant একটি অপরটির সমার্থক কি-না সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
দণ্ডবিধিতে উল্লিখিত Public Servant ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে উল্লিখিত উৎকোচ গ্রহণ, অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য একজন সরকারি কর্মচারীর মতো স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের অপরাধ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭, ফৌজদারি সংশোধন আইন-১৯৫৮ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪সহ দণ্ডবিধির অধীন শাস্তিযোগ্য হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের Public Servant অর্থাৎ গণ-কর্মচারীবহির্ভূত বিবেচনার অবকাশ আছে কি-না সে প্রশ্নটি এসে যায়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে মূল ৭২’র সংবিধানের অনুচ্ছেদ নম্বর ১২৩(৩) (ক) এবং (খ)-তে বর্ণিত বিধানাবলি পুনঃপ্রবর্তন করে বলা হয়, (৩) সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে (ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে, ভেঙে যাবার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে বিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল যে, মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান ৯ম সংসদে যাদের অবস্থান সংসদ সদস্য হিসেবে, তারা সংবিধানের ১২৩(৩) (ক)-এ বর্ণিত বিধানের আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে অযোগ্য প্রতীয়মান হয়। সেক্ষেত্রে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য করতে হলে ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (৩) উপদফায় অপরাপর পদধারীদের সঙ্গে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধনী আনা আবশ্যক।
অতীতে দু’বার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ যে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ সে প্রশ্নের মীমাংসা করা হয়েছে। সংবিধান ও অপরাপর আনুষঙ্গিক আইনগুলোর বিধানাবলি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, সংসদ সদস্যের পদ প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ। তাই সংসদ সদস্যরা সংবিধানের বর্তমান বিধানাবলির আলোকে স্বপদে বহাল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্ন ছাড়া অন্য যেসব প্রশ্ন দেখা দেবে তা হল- প্রথমত, বিদ্যমান সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলে দেখা যাবে একই সময়ে একই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ২ জন; দ্বিতীয়ত, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তারা নির্বিঘেœ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন কি-না সে বিষয়ে অনেকেরই আশংকা রয়েছে; তৃতীয়ত, নির্বাচনে পরাভূত ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে কিভাবে এর সমাধান করা হবে; চতুর্থত, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে থাকলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যে কোনো বিবদমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ কতটুকু সম্ভব; পঞ্চমত, ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে সে নিশ্চয়তা কোথায়; ষষ্ঠত, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন বাহিনী প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ তত্ত্বাবধায়ক ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা কিরূপে নিশ্চিত করা হবে; সপ্তমত, মন্ত্রিসভার যেসব সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কী কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে এবং কী পদ্ধতি অবলম্বনে বড় দুটি দলসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাপর দলের জন্য সমসুযোগ সংবলিত মাঠের ব্যবস্থা করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত উপরোক্ত জটিলতাগুলো নিরসন করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হলে তা একদিকে যেমন সার্বজনীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে না, অপরদিকে বিদ্যমান সংসদ সদস্যদের সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ার পথ রুদ্ধ হবে। আগামী সপ্তাহে ‘সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন’ প্রসঙ্গে লেখার ইচ্ছা রইল।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ ও কলামিস্ট
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ▼ 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...