Monday, August 15, 2011

পশ্চিমবঙ্গে নয় জেলায় বন্যা সাতজনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১৯টি জেলার মধ্যে নয়টি জেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলাগুলো হলো: বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। এরই মধ্যে এসব জেলায় বন্যায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যায় ওই নয় জেলায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে বহু কাঁচা বাড়ি ও বাঁধ। রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে। অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দামোদর ভেলি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৯৬ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে হাওড়া ও হুগলিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সুন্দরবনের বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, নয়টি জেলার ১১০টি ব্লক, এক হাজার ৬২৫টি গ্রাম এবং ৪০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বর্ধমান ও হাওড়ায় ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। বর্ধমানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার বাড়ি। উত্তর চব্বিশ পরগনায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বহু বাঁধও ভেঙে গেছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহে প্রচণ্ড নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ধমানের আসানশোলে বন্যার কারণে খনিধস হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে দামোদরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য দলমত-নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আত্মসমর্পণ করলে জীবনের নিরাপত্তা দেবে সরকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, আত্মসমর্পণ করে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এলে মাওবাদীদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান ও নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বলেন, আত্মসমর্পণ করলে প্রত্যেক মাওবাদীকে তিন বছর ধরে প্রতি মাসে দেওয়া হবে দুই হাজার রুপি করে অনুদান। এ ছাড়া মাওবাদীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁদের ব্যাংকঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের প্রত্যেককে দেড় লাখ রুপির একটি স্থায়ী আমানত দেওয়া হবে। এই আমানত তিন বছর পর তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

যুক্তরাজ্যে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে

যুক্তরাজ্যে দাঙ্গার ঘটনায় আহত আরও একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ। তবে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ও ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে কোনো দাঙ্গা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে বার্মিংহামের পুলিশ। গাড়িতে বিশাল পর্দা লাগিয়ে তাতে দেখানো হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা লুটেরাদের ভিডিও চিত্র। আর সেই গাড়ি ঘুরছে শহরময়।
লন্ডনের উপকণ্ঠের ইয়েলিং এলাকায় গত সোমবার লুটেরাদের হামলায় আহত হয়েছিলেন রিচার্ড ম্যানিংটন বোয়েস। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ গতকাল শুক্রবার ২২ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
লন্ডন নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান পরিদর্শক জন ম্যাকফারলেন বলেন, ম্যানিংটন বোয়েসের মতো একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার এ ঘটনা চরম নৃশংসতা।
চার রাতের এ দাঙ্গার ঘটনায় ম্যানিংটন বোয়েসসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো। অপর তিনজন নিহত হয়েছেন বার্মিংহামে এবং একজন দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডনে।
বার্মিংহামের ঘটনা এখনো সরকারিভাবে তদন্ত হয়নি। তবে ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষার জন্য একটি পেট্রল স্টেশন পাহারা দিচ্ছিলেন দক্ষিণ এশীয় তিন যুবক। এ সময় লুটেরাদের দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাঁদের চাপা দেয়।

অ্যাম্বাসেডরও গাড়ি ভাঙলেন!

দেশকে যিনি বিশ্বের কাছে সম্মানজনক করে তুলে ধরবেন, তিনিই কিনা যুক্তরাজ্যের দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙলেন! হ্যাঁ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে চেলসি ইভস (১৮) নামের লন্ডন অলিম্পিকের অ্যাম্বাসেডরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দ্য সান পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
চেলসি একজন মেধাবী ক্রীড়াবিদ ও গায়িকা। ২০১২ সালের অলিম্পিকের জন্য অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন এই তরুণী। বর্তমানে তিনি ‘এ’ লেভেলে পড়াশোনা করছেন।
জানা গেছে, চেলসি যখন পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করছিলেন, তখন তাঁর বাবা-মা টেলিভিশনের পর্দায় এই দৃশ্য দেখার পর পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চেলসিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
চেলসির মা অ্যাড্রিয়েন বলেছেন, ‘চেলসিকে আমি খুবই ভালোবাসি। আমাদের মেয়েকে আমরা সব সময় কোন কাজটা ভালো আর কোনটা মন্দ, তা শিখিয়েছি। সব জেনেও কেন সে ভুল কাজটা করল? এ কারণে চেলসিকে গ্রেপ্তার করায় আমার কোনো অনুতাপ নেই।’
চেলসির বাবা রজার জানিয়েছেন, ‘আমরা চেলসিকে সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। সে ওই ঘটনা ঘটানোর পর যখন আমাদের সামনে আসে, তখন সে খুব কান্নাকাটি করেছিল। আমরা যখন তাঁকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে ফোন করছিলাম, তখন সে কোনো রকম বাধা দেয়নি।’
জানা গেছে, চেলসি ইভস বর্তমানে ওয়েস্টমিনস্টারে রিমান্ডের জন্য হাজতে আছেন।

ক্যামেরনের ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ল

লন্ডনসহ কয়েকটি শহরে সহিংসতার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জন্য সরকারি ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা বিশেষ করে, পুলিশ বাহিনীর ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ল।
কনজারভেটিভ দলের নেতা ক্যামেরন গত বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে জানিয়েছেন, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে দাঙ্গা মোকাবিলায় প্রথম দিকে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তিনি।
গত সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে এক ট্যাক্সিযাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র শুরু হয় বিক্ষোভ। একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ে লন্ডন ও আশপাশের কয়েকটি শহরে। চার রাত ধরে এ বিক্ষোভের সময় ব্যাপক লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এই লুটপাট ও দাঙ্গার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ নয়, এটা স্রেফ লুটপাটের ঘটনা। কিন্তু এ ঘটনা সামলাতে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে সবাই এখন প্রশ্ন তুলছেন। এ অবস্থায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ও ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা কার্যকর করা ক্যামেরনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আবার এ ধরনের দাঙ্গার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কীভাবে তা সামাল দেবে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও আরও অনেক ক্ষেত্রের দুরবস্থা তরুণ প্রজন্ম মেনে নিতে পারছে না। তাঁদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এভাবে। এর ওপর সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যয় হ্রাসে দরিদ্রশ্রেণী আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়ছে।
বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড এ ঘটনার জন্য সরাসরি সরকারের ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন না। তবে তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ব্যয় হ্রাস সমাজের জন্য শুভ হবে না।

চীনে ৫৪টি বুলেট ট্রেন প্রত্যাহার করা হচ্ছে

দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার কারণে চীনে দ্রুতগতির ৫৪টি বুলেট ট্রেন প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্রেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না সিএনআর গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে।
চায়না সিএনআর এক বিবৃতিতে জানায়, নির্দিষ্ট একটি মডেলের এই বুলেট ট্রেনগুলো বেইজিং-সাংহাই লাইনে চলাচল করছে।
দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪০ জন নিহত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর ট্রেন প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দেওয়া হলো। এ ঘটনার পর রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গণমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
একদিন আগে সরকার উচ্চগতির নতুন ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
স্টেট কাউন্সিল গত বৃহস্পতিবার বলেছে, বিদ্যমান রেললাইনগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে, ট্রেনের গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রেললাইন তৈরির নতুন প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। তবে উচ্চগতির রেললাইনের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে চীন।’