Tuesday, January 25, 2011

দুর্নীতি প্রতিরোধে আশার আলো by ড. ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ৯ ডিসেম্বর ২০১০ প্রকাশিত গ্লোবাল করাপশন রিপোর্ট বা বৈশ্বিক দুর্নীতির পরিমাপক প্রতিবেদন বরাবরের মতো ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে। প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য ও বিশ্লেষণে দেশের সাধারণ জনগণের অভিজ্ঞতা ও অভিমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটেছে, যদিও অন্যদিকে কোনো কোনো মহলে জরিপের ফলাফলে প্রাপ্ত কঠিন সত্যকে মেনে নেওয়ার সৎসাহসের অভাব কিছুটা বিস্ময়েরও সৃষ্টি করেছে।

জাগো যুববন্ধুরা, মুক্তির সংগ্রামে by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মরা ২০১০ ইংরেজী বছরটা ভালোই কাটালাম। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এবং শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কলেরা ও যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা ডায়রিয়া প্রতিরোধে শিশুদের জন্য টিকা আবিষ্কার করেছেন। কৃষিবিজ্ঞানীরা পাটের জিনোম এবং খরাবান্ধব ধানবীজ আবিষ্কার

ঢাকা নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন প্রয়োজন by তোফায়েল আহমেদ

ম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় শহরের ওপর প্রকাশিত এক সমীক্ষায় ঢাকাকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ না হলেও বসবাসের যোগ্যতার মাপকাঠিতে অতি নিম্নস্তরে স্থান দেওয়া হয়েছে। দেশ ও ঢাকা শহরের সমস্যা নিয়ে সরকার ও জনগণের উদ্বেগ লক্ষণীয়। সমস্যার প্রকার ও প্রকৃতি প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে, বাড়ছে তীব্রতা। কিন্তু সমাধানের পদক্ষেপ নিয়ে নেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। নেই ন্যূনতম মতৈক্য। এমনকি মতৈক্য সৃষ্টির উদ্যোগ বা লক্ষণও নেই।

মারিও বার্গাস য়োসার নোবেল ভাষণ- পঠন ও কাহিনীর নান্দীপাঠ

মি পড়তে শিখি পাঁচ বছর বয়সে, বলিভিয়ার কোচাবাম্বায় ডে লা সালে একাডেমিতে ব্রাদার জাস্টিনিয়াগের ক্লাসে। আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সত্তর বছর পর আমি স্পষ্ট মনে করতে পারছি বইয়ের শব্দগুলো চিত্রকল্পে রূপান্তরিত হওয়ার যে জাদু তা কেমন করে আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে, সময় ও পরিসরের বাঁধ ভেঙে ক্যাপ্টেন নেমোর সঙ্গে সাগরতলায় কুড়ি হাজার জাতির মধ্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।

পাটের বহুমুখী ব্যবহার বিষয়ে পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ

পাটের বহুমুখী ব্যবহার বিষয়ে পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে ১০ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) সহযোগিতায় দারিদ্র্য কল্যাণ সংস্থা এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। শহরের ইসলামবাগে দারিদ্র্য কল্যাণ সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এর নির্বাহী পরিচালক মো. শাহজালাল।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, জেডিপিসির রংপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. মাজিদুর রহমান ভূঁইয়া ও সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
প্রশিক্ষণে ২০ জন নারী উদ্যোক্তা অংশ নেন। তাঁদের পাট থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারোপযোগী বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জেডিপিসির প্রশিক্ষক মো. শামীম আহমেদ কর্মসূচিটি পরিচালনা করছেন।

ব্যাংকের মুনাফার হিসাব প্রকাশ ও তা বাজারে আনার সুপারিশ

পুঁজিবাজার থেকে গত কয়েক বছরে ব্যাংক, বিমা ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ মুনাফা করেছে, তার হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ওই মুনাফার টাকা পুনরায় শেয়ারবাজারে ফিরিয়ে আনারও সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত সরকারের সঙ্গে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়। বৈঠকে শেয়ারবাজারের ধসের জন্য কারা দায়ী, তা নিয়েও অনেক কথাবার্তা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা উপায়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে অর্থ তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলেও জানা গেছে।
শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হওয়া এ বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সংস্থাপনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ, এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সহসভাপতি আল মারুফ খান, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএলসিএ) সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস কে সুর চৌধুরী, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সভাপতি কে মাহমুদ সাত্তার, এবি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী কাইজার এ চৌধুরী, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি শেখ মর্তুজা আহমেদসহ শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের নেতারা বলেন, গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে। বাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব টাকা বাজারে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ব্যাংক কত টাকা মুনাফা করেছে তাও জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, ব্যাংকের আমানতের কোনো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। কেউ তা চায়ও না।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান সভায় বলেন, যেসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পর নির্দেশক দামের নিচে নেমে এসেছে, ওই সব কোম্পানির বেলায় আইন করে নিজ কোম্পানির শেয়ার পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে তুলে নেওয়া টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, যদি কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে নির্দেশক দামের নিচে নেমে আসে তাহলে কোম্পানিটির শেয়ারের যে পরিমাণ দাম কমবে সমপরিমাণ অর্থ কোম্পানিটিকে বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে বা ওই সমপরিমাণ টাকায় তাকে নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনতে হবে।
রকিবুর রহমানের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সালমান এফ রহমান। তিনিও শেয়ার পুনঃক্রয় (বাই-ব্যাক) ব্যবস্থা চালুর কথা বলেন।
সালমান এফ রহমান বৈঠকের একটি আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত একজন তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি উড়োজাহাজ কোম্পানির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই বক্তা বলেন, কোম্পানিটি বছরের পর বছর লোকসান দেখিয়ে এসেছে। কিন্তু হঠাৎ করে আইপিওতে আসার প্রস্তুতি নেওয়ার আগের বছর কোম্পানিটি মুনাফা দেখিয়েছে। যখন কোম্পানিটি লোকসান করেছে, তখন খরচ বেশি দেখানো হয়েছে। কিন্তু যে বছর মুনাফা করেছে, সে বছর খরচ দেখানো হলো কম। এটা কীভাবে সম্ভব, তা বোধগম্য নয়। কোম্পানিটি যে টেলিফোন খরচ দেখিয়েছে, তা তাঁর ব্রোকারেজ হাউসের টেলিফোন খরচের চেয়েও কম।
এ বক্তব্যের পরপরই সালমান এফ রহমান বলেন, তিনি বহু ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও তাঁকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়নি। এসব আলোচনা এ ফোরামের বিষয় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর উড়োজাহাজ বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রুট চালু করা হয়েছে। এসব কারণে মুনাফা হয়েছে। টেলিফোন খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ‘সিটা’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ কারণে টেলিফোন খরচ কম হয়েছে। এসব বিষয়ে না জেনে ঢালাও মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।
সিএসইর সহসভাপতি আল মারুফ খান প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে একসঙ্গে পুরো টাকা বাজার থেকে তোলার সুযোগ না দিয়ে ধাপে ধাপে টাকা তোলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি আইপিও-প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে যুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, এতে পুরো প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমবে। দীর্ঘদিন টাকা আটকে থাকবে না। পাশাপাশি কোম্পানির দামভেদে আরোপিত সার্কিট ব্রেকার (দাম বাড়া-কমার নির্ধারিত সীমা) সীমা কমিয়ে আনার কথা বলেন, যাতে খুব বেশি লাভ-লোকসানের সুযোগ না থাকে। পাশাপাশি প্রাইভেট প্লেসমেন্টকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সিএসইর প্রতিনিধিরা।
দুই এক্সচেঞ্জের নেতারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা কোম্পানিগুলোর হিসাব বিবরণী নিরীক্ষার দাবি জানান।
সভায় উপস্থিত ব্যাংকাররা বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে যে মুনাফা করেছে তার একটি অংশ ওই ব্যাংকেরই সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংকে রিজার্ভ হিসেবে রাখতে হবে। তার পরই ওই ব্যাংক মুনাফার ভিত্তিতে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে।
জানা গেছে, সভায় তিনটি কোম্পানি বাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, ওই সব কোম্পানি তালিকাভুক্তির শুরুতে বিনিয়োগকারীদের কাছে যে দামে শেয়ার বিক্রি করেছে, ধীরে ধীরে তার দাম কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কীভাবে কোম্পানিগুলোকে উচ্চ দামে শেয়ার বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলো, এ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি একপর্যায়ে বক্তব্য দিতে চাইলে অর্থমন্ত্রী তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আলাদা বৈঠকে তোমাদের কথা শোনা হবে। এখানে আমি অন্যদের কথা শুনতে চাই।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম শেয়ারবাজারের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, মাঝেমধ্যে পার্টি অফিসে গেলে সেখানে দলের লোকজন বাজার সম্পর্কে জানতে চান। শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে দলের অনেক কর্মীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে তাঁদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বাজারের সঙ্গে এখন সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোক জড়িত। এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আশানুরূপ ফল অর্জন না করার পেছনে শেয়ারবাজারের অস্থিরতার একটা প্রভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় সব শেয়ারের অভিন্ন অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হলেও এটিকে কেন্দ্র করে বাজারে কারসাজি হয়েছে। এটিও বাজারে অস্থিরতা তৈরিতে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এভাবে আর দামে কারসাজি করতে না পারে, সে জন্য সব কোম্পানির অভিন্ন অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা উচিত।
পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতার স্বার্থে এসইসির জনবল বাড়ানো এবং একে আরও বেশি শক্তিশালী করার পরামর্শ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বাজার নিয়ে যেকোনো মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন উপস্থিত অনেকে। তাঁরা বলেন, সরকারের লোকজনই বাজার নিয়ে যেসব মন্তব্য করছেন, সেগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও বাড়াচ্ছে।
সভায় উপস্থিত অনেকে সরাসরি নাম উল্লেখ না করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ মুহূর্তে কারোরই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।
শেয়ারবাজার সম্পর্কে না জেনে, না বুঝে কেউ যাতে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে না পারেন, সে জন্য আর্থিক বিশ্লেষক লাইসেন্স পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাজারের গভীরতা বাড়াতে তহবিল ও পত্রকোষ (পোর্টফোলিও) ছাড়পত্র চালুরও কথা বলেন কেউ কেউ।
সকালের এই সভাতেই মূল্যসূচকের ওপর আরোপিত সার্কিট ব্রেকার তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকালের সভায় শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য অনেকাংশে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হয়। বাজারের এই অস্থিরতার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন অনেকে।

গুরুত্ব পাবে কর্মসংস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এবারের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে কর্মসংস্থানের বিষয়টিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে বার্ষিক এ ভাষণ দেবেন ওবামা।
তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলনের জন্য নিজের গঠিত সংগঠন অর্গানাইজিং ফর আমেরিকার সদস্যদের কাছে ই-মেইলে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ওবামা। এতে তিনি বলেছেন, ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে আমি সবচেয়ে গুরুত্ব দেব কর্মসংস্থানের বিষয়টি। আমরা শুধু বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছি না, ভবিষ্যতের জন্যও কাজ করছি।
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে মঙ্গলবারের ওই ভাষণ থেকে বোঝা যাবে ওবামা তাঁর ক্ষমতার দুই বছরে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা মোকাবিলায় কী ধরনের পরিকল্পনা করছেন। পরবর্তী নির্বাচনে তাঁর কৌশল কী হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ওবামা বলেছেন, ঘাটতি ও ঋণের বিষয়টি অবশ্যই একটি যৌক্তিক উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে। তবে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বাধাগ্রস্ত না করেও ব্যয় হ্রাস করা প্রয়োজন বলে তিনি স্বীকার করেন। ওবামা বলেন, ‘রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও ইনডিপেনডেন্ট—আমরা সবাই মিলে যতক্ষণ পর্যন্ত সম্মিলিত নাগরিক হয়ে উঠতে না পারব, যতক্ষণ আমরা বিষয়টি গুরুত্ব না দেব যা আমাদের একত্র করে রেখেছে, ততক্ষণ আমাদের এ কাজ করতে হবে।’

পাকিস্তানে তরুণীকে বিদ্যুতায়িত করে হত্যা

পাকিস্তানে এক তরুণীকে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও গোত্রের লোকেরা বিদ্যুতায়িত করে হত্যা করেছে। তাদের পছন্দ নয়—এমন এক ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় তাঁকে ওই শাস্তি দেওয়া হয়। দেশটির পুলিশ গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত ওই তরুণীর নাম সামিয়া বিবি। বয়স ১৭ বছর। অপছন্দের ছেলের সঙ্গে প্রেম করে পরিবারকে লজ্জায় ফেলে দেওয়ায় গ্রামের পঞ্চায়েতের বিচারে সামিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাহওয়ালপুরের একটি এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই তরুণীর গায়ে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন ছিল। তাঁর গলা, হাত এবং শরীরের পেছনের কিছু অংশে পোড়া দাগ ছিল। সম্ভবত তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ওই তরুণীকে নির্মমভাবে বিদ্যুতায়িত করে হত্যার বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। বিষয়টি তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি এ ব্যাপারে অনতিবিলম্বে বিস্তারিত তথ্য জানানোর জন্য পুলিশকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।
সামিয়া বিবিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ‘অনার কিলিং’ নামে পরিচিত। গোত্রপতি বা পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রিত পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হরহামেশাই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে।

‘একটি বা দুটি বৈঠকেই ইরানের পরমাণু ইস্যুর সুরাহা হবে না’

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা একটি বা দুটি বৈঠকেই সুরাহা হওয়ার কথা নয়। তুরস্কে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির শীর্ষ পর্যায়ের নিষ্ফল বৈঠকের এক দিন পর চীনের এক জ্যেষ্ঠ দূত গতকাল রোববার এ কথা বলেন। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গতকাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, সে দেশের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ হাইলং বলেছেন, ইরানের পরমাণু ইস্যুটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। এটি একটি বা দুটি আলোচনার মাধ্যমে শেষ হওয়ার নয়।উ হাইলং আরও বলেন, আলোচনা ও সমঝোতার ব্যাপারে উভয় পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে। নমনীয় ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ পারস্পরিক বিশ্বাস সৃষ্টি করবে এবং বিষয়টি সমন্বিত ও যথাযথভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, যদি অন্য পক্ষগুলো আইন ও ন্যায় বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে তাহলে পরবর্তী আলোচনায় ইতিবাচক ফল বের হয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত শুক্রবার ও শনিবার ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের বৈঠক হয়। এই বৈঠক কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে, এমনকি ইরান পুনরায় কোনো আলোচনার ব্যাপারেও রাজি হয়নি। এ কারণে আলোচনার জন্য নতুন তারিখও নির্ধারিত হয়নি।

দলীয় প্রধানের পদ ছাড়লেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী কোয়েন

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কোয়েন দলীয় প্রধানের পদ থেকে গত রোববার পদত্যাগ করেছেন। তবে ক্ষমতাসীন ফিয়ানো ফল পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেও আগামী ১১ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।পদত্যাগের পর কোয়েন জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনে তিনি নিজের জন্য নয়, দলের জন্যই কাজ করবেন। কিছুদিন আগে কোয়েন মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল করেন। এর পর থেকেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে দলে অসন্তোষ শুরু হয়। কোয়েনকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে অপসারণের জন্য দলের অনেক নেতা জোর চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু দলীয় নেতাদের ভোটাভুটিতে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন করা হলে সে যাত্রায় তিনি টিকে যান।
দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে থাকায় বিরোধী দলের নেতারা তাঁর সমালোচনা করেছেন।এদিকে কোয়েনের পদত্যাগের পর দলের হাল কে ধরবেন, সে ব্যাপারে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল মার্টিন, অর্থমন্ত্রী ব্রায়ান লেনিহ্যান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইমন ও কুইভ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী মেরি হ্যানিফিন দলীয় প্রধানের পদটির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কলকাতা বইমেলা শুরু হচ্ছে কাল

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা কাল ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। সায়েন্স সিটিসংলগ্ন মিলনমেলা ময়দানে বিকেলে ৩৫তম বইমেলা উদ্বোধন করবেন পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন সাহিত্যিক রিচার্ড ফোর্ড। এবারের বইমেলার থিম কান্ট্রি যুক্তরাষ্ট্র।
বইমেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ৬৫০টি প্রকাশনা সংস্থা। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমী, ইসলামিক ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ বাংলাদেশের ২৫টি সংস্থা আছে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত হেড অব চেন্সারি (এইচওসি) তারিক মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলায় উদ্যাপিত হবে বাংলাদেশ দিবস। এ উপলক্ষে ওই দিন মেলা মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশ নেবেন নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক রশিদ হায়দার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করুণাসিন্ধু দাশ এবং বাংলাদেশের প্রকাশক ওসমান গনি।
এবার সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন তৈরি করা হয়েছে। বইমেলার আয়োজক সংস্থা বুক সেলার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, এবারের বইমেলায় কোনো প্রবেশমূল্য থাকছে না।
কবিগুরুর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে থাকছে নানা আয়োজন। মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

মাশরাফিকে সুসংবাদ দেননি ইয়াং

কোনো সুসংবাদ আসেনি শ্রীলঙ্কা থেকে। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে অস্ত্রোপচারের টেবিলে উঠতেই হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং তাঁকে জানিয়েছেন, চাইলে অস্ত্রোপচারটা বিশ্বকাপের পরও করা যায়। অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে মাশরাফিকে।
গলে একটা ক্রিকেট ইনস্টিটিউটের একটা কাজ নিয়ে ডেভিড ইয়াং এখন শ্রীলঙ্কায়। এই সুযোগে কাল কলম্বোর তাজ সমুদ্র হোটেলে টুকটাক চিকিৎসা করেছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন, কুমার সাঙ্গাকারা ও ফারভিজ মাহারুফসহ শ্রীলঙ্কার দু-একজন মন্ত্রী-এমপির। সুযোগটা নিয়েছেন বাংলাদেশের মাশরাফিও। কিন্তু তাঁর হাঁটুর অবস্থা দেখে ইয়াং আশা-জাগানিয়া কিছু বলতে পারেননি বলেই জানা গেছে একটি সূত্রে। মাশরাফির হাঁটুতে একটা শব্দের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন তিনি এবং সেটা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না। ক্যারিয়ার লম্বা করতে চাইলে মাশরাফির হাঁটুতে আরেকবার অস্ত্রোপচার জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসক ইয়াং। তবে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া এখন যেভাবে চলছে বিশ্বকাপ পর্যন্ত চাইলে সেভাবেও চালানো যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মাশরাফি অবশ্য অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী। কাল কলম্বো থেকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘আমার যে ধারণা ছিল, ইয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে সেটাই আরও স্পষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ ইনজুরিটা হাঁটুর আগের অবস্থায় খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি। আহত জায়গার পেশিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সামনাসামনি তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর আমি এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।’ এই আত্মবিশ্বাস থেকেই মাশরাফি বলেছেন, ‘কলম্বো আসার আগে আমি অর্ধেকের চেয়ে বেশি রানআপে বল করে এসেছি। সেটা শুনে ডাক্তার বলেছেন, “এখন তুমিই বুঝতে পারবে তোমার কী অবস্থা।” বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাব কি না জানি না, তবে আমি এখন এক শ ভাগ ঝুঁকি নিব। দেশে ফিরে ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে ফুল রানআপে বল করার চেষ্টা করব। এখন অপারেশন করলে যেটা করতে হবে, আবার ইনজুরিতে পড়লেও সেটাই তো করতে হবে!’ ইয়াং নাকি মাশরাফিকে এও বলেছেন, জাতীয় দলের ফিজিও মাইকেল হেনরির পুনর্বাসন-প্রক্রিয়াটাই ঠিক আছে তাঁর জন্য। সেটাই যেন তিনি মেনে চলেন।
ওদিকে সূত্র জানিয়েছে, মাশরাফিকে সামনে রেখেই কলম্বো থেকে টেলিফোনে হেনরির সঙ্গে কথা বলেছেন ইয়াং। মাশরাফির ২০০১ সালের ইনজুরির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বাংলাদেশ দলের ফিজিওকে বলেছেন, তখনো হাঁটুর অবস্থা ঠিক এ রকমই ছিল। কিন্তু ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ওই সময় এক বছর মাশরাফি খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও ঝুঁকি নিয়ে তাই করা যায়। কিন্তু তাতে মাশরাফি কত দিন টিকে থাকবেন, সেটা নিশ্চিত নয়। এসব ব্যাপারে বিসিবির ফিজিও হেনরি কালই কোনো মন্তব্য করেননি। তবে কাল রাতে ই-মেইলে ইয়াংয়ের রিপোর্ট পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাশরাফির সর্বশেষ অবস্থা জানানো কথা তাঁর।
কলম্বো থেকে কাল রাতে রওনা দিয়ে আজ দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর কথা মাশরাফির।

ফেদেরারের সেই ব্যাকহ্যান্ডই এখন

টেনিসের অনুসারীদের কথাটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। রজার ফেদেরারের ব্যাকহ্যান্ড শটকে টেনিস ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা মনে করা হয়। অথচ একসময় নাকি ব্যাকহ্যান্ড একদমই করতে পারতেন না ফেদেরার! গ্র্যান্ড স্লামে টানা সবচেয়ে বেশিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রেকর্ড ছোঁয়ার পর ফেদেরার ফিরে তাকিয়েছেন শুরুর দিনগুলোয়। সেই স্মৃতিচারণাতেই উঠে এসেছে ‘ব্যাকহ্যান্ড কাহিনি’, ‘একসময় আমার ব্যাকহ্যান্ড ছিল ভয়াবহ। এই দুর্বলতা ঢাকতে আমাকে নানা পথ বের করতে হতো। ফোরহ্যান্ড বেশি খেলতাম যাতে প্রতিপক্ষ আমাকে ব্যাকহ্যান্ড করাতে না পারে। ব্যাকহ্যান্ডে আমি জোরই পেতাম না। ১২ বছর বয়সে একবার দুই হাতে ব্যাকহ্যান্ড করার অনুশীলন করেছিলাম। কিন্তু এতে বুক, কবজি সব ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। আস্তে আস্তে শক্তি বাড়ল, সার্ভ আরও ভালো হলো। ধীরে ধীরে ব্যাকহ্যান্ডেরও উন্নতি হলো। এখন তো সব পারি।’
সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা এমনই নয়। একটা না একটা উপায় ঠিকই বেরই করে ফেলেন!

শারাপোভার বিদায়, ফেদেরারের রেকর্ড

পেটকো ডান্স’ এখন টেনিস-বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়। গতকাল রড লেভার অ্যারেনায় এই নাচেই টেনিস-বিশ্বকে মোহিত করেছেন জার্মানির মেয়ে আন্দ্রেয়া পেটকোভিচ। পেটকো ডান্স দিয়ে ইউটিউবে ব্যাপক জনপ্রিয় এই জার্মান নাচতে নয়, টেনিস খেলতেই অস্ট্রেলিয়ায়। কাল মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে পেটকোভিচ পেটকো ডান্স নাচার উপলক্ষ পেয়ে গেলেন কি না!
কোর্টে দাঁড়িয়ে এই নাচটা তিনি প্রথম দেন গত বছরের ইউএস ওপেনে। দীর্ঘদিন পর খেলতে নেমেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পান রাশিয়ার নাদিয়া পেত্রোভাকে। অনুপ্রেরণা জোগাতে কোচ বলেন, এই ম্যাচ জিতলে তাঁর একটা কিছু করে দেখানো উচিত। সেই একটা কিছুই পেটকো ডান্স!
ভালো টেনিস দেখার আশায় পয়সা খরচা করে গ্যালারিতে আসা দর্শকেরা বোনাস হিসেবে উপভোগ করল ‘পেটকো ডান্স’। সেরেনা নেই। ইভানোভিচ, হেনিন, ভেনাসরা আগেই বিদায় নিয়েছেন। কাল তাদের অনুসরণ করলেন শারাপোভা। শারাপোভার হারের মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই তারকাদ্যুতি অনেকটাই হারিয়ে ফেলল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলা একক। ৬-২, ৬-৩ গেমের জয়ে পেটকোভিচ প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে পা তো রেখেছেনই, র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়েছেন সাত ধাপ। ৩২ থেকে ২৫-এ উঠে আসা জার্মানের শেষ আটে প্রতিপক্ষ চীনের লি না।শারাপোভার হারের দিনে রজার ফেদেরার করেছেন আরেকটি রেকর্ড ছোঁয়ার উৎসব। তৃতীয় রাউন্ডে জয়ের মধ্য দিয়ে ফেদেরার গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। কাল টমি রব্রেডোকে ৬-৩, ৩-৬, ৬-৩, ৬-২ গেমে হারিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন জিমি কোনর্সের টানা ২৭টি গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রেকর্ড। ফেদেরার সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেননি ২০০৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে। শেষ আটে ফেদেরারের প্রতিপক্ষ তাঁরই স্বদেশি স্তানিসলাস ওয়ারিঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এই প্রথম দেখবে দুই সুইসের কোয়ার্টার ফাইনাল।
এই কোয়ার্টার ফাইনাল মঞ্চটা ওয়ারিঙ্কা সাজিয়েছেন একটা অঘটনের মধ্য দিয়ে। কাল চতুর্থ রাউন্ডে তিনি অ্যান্ডি রডিককে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে। নিজ নিজ ম্যাচ জিতে ক্যারোলিন ওজনিয়াকি এবং নোভাক জোকোভিচও পা রেখেছেন শেষ আটে।

ইউসুফ-ঝড়ে হঠাৎ রোমাঞ্চ

মাস তিনেক আগের আবুধাবির আবদুল রাজ্জাককে কাল সেঞ্চুরিয়নে মনে করিয়ে দিলেন ইউসুফ পাঠান। আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাত নম্বরে নেমে ৭২ বলে ১০৯ রান করে পাকিস্তানকে প্রায় অসম্ভব এক জয় এনে দিয়েছিলেন রাজ্জাক। কাল ‘রাজ্জাক’ প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন ইউসুফ। যখন উইকেটে গিয়েছিলেন, তখন ভারতের সামনে লজ্জাজনক এক পরাজয়ের শঙ্কা। সেখান থেকে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের কাছাকাছি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পারেননি। আউট হয়েছেন ৮টি করে চার-ছয়ে ৭০ বলে ১০৫ রান করে।
ইউসুফের বিদায়ে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের পরাজয়ও। ৩৩ রানে জিতে ৩-২-এ সিরিজ নিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশের মাটিতে নেতৃত্ব দেওয়া শেষ সিরিজটা জিতলেন গ্রায়াম স্মিথ। টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজেও ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল ভারতের সামনে। কিন্তু টেস্টের মতো ব্যর্থ হলো এখানেও। টেস্ট সিরিজটা অবশ্য ড্র হয়েছিল।
ইউসুফের খুনে সেঞ্চুরিতে অনেকটাই চাপ পড়ে গেছে হাশিম আমলার আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি। আমলার অপরাজিত সেঞ্চুরির কল্যাণেই বড় পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেয় ৪২ ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল তখন ৩ উইকেটে ২২৬। ঘণ্টা খানেক পর শুরু হলে খেলা নেমে আসে ৪৬ ওভারে। বিরতির পর প্রথম ওভারেই আউট হন জেপি ডুমিনি। দ্রুত রান তোলার তৃষ্ণায় শেষ দুই ওভারে আউট আরও ৫ জন। ওই ৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলতে পারে মাত্র ২৪ রান। এই পাগলাটে কয়েকটা ওভারই অবশ্য বিচলিত করতে পারেনি আমলাকে, অপরাজিত থেকে যান ১৩২ বলে ১১৬ রান করে।
৬০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর উইকেটে গিয়েছিলেন ইউসুফ। পরিস্থিতি বুঝে শুরুতে খেলছিলেন দেখেশুনে, প্রথম ২১ বলে করেছিলেন ১৪ রান। এক পাশে টিকে থেকে দেখলেন ১১৯ রানে ৮ উইকেট হারাল ভারত। পরিস্থিতিই আবার নিজের সহজাত খেলায় ফেরাল ইউসুফকে। এক পাশে উইকেট আগলে রাখলেন জহির খান, আরেক পাশে পেশিশক্তির দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখালেন ইউসুফ। টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়া শটগুলোও অনায়াসে চলে যাচ্ছিল গ্যালারিতে। দৃষ্টিসুখকর ব্যাটিং নয়, কিন্তু ভীষণ কার্যকরী। মরনে মরকেলকে চার মেরে ফিফটি ছুঁয়েছেন ৪৭ বলে। ফিফটির পর যেন খ্যাপাটে হয়ে উঠলেন পরের ফিফটিতে বল লাগল মাত্র ২১টি। সতসোবেকে ছয়, চার, ছয়ে তিন অঙ্ক ছুঁলেন ৬৮ বলে। ওই ওভারেই নিয়েছেন ২০ রান। একপর্যায়ে ৫০ রান প্রয়োজন ছিল ৬৮ বলে। কিন্তু মরকেলকে ছয় মারতে গিয়ে আকাশে তুললেন ইউসুফ, ফ্যাফ ডু প্লেসিসের ক্যাচে স্বস্তি ফিরল স্বাগতিকদের। নবম উইকেট জুটিতে ঠিক ১০০ রান উঠেছে, এর মাত্র ১৩ রানই জহিরের। ৭৯ রানই ইউসুফের! এরপর জহির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৬ ওভারে ২৫০/৯ (স্মিথ ৭, আমলা ১১৬*, ফন উইক ৫৬, ডি ভিলিয়ার্স ১১, ডুমিনি ৩৫, ডু প্লেসিস ৮, বোথা ২, পিটারসন ৪, মরকেল ০, স্টেইন ০, সতসোবে ০*; মুনাফ ৩/৫০, যুবরাজ ২/৪৫, জহির ২/৪৭)।
ভারত: ৪০.২ ওভারে ২৩৪ (লক্ষ্য ৪৬ ওভারে ২৬৮) (পার্থিব ৩৮, রোহিত ৫, কোহলি ২, ধোনি ৫, যুবরাজ ৮, রায়না ১১, ইউসুফ ১০৫, হরভজন ১৩, পীযূষ ৮, জহির ২৪, মুনাফ ৪; মরকেল ৪/৫২, স্টেইন ২/৩২, সতসোবে ২/৫৭, বোথা ১/৩৩, পিটারসন ১/৪৫)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩ রানে জয়ী (দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২-এ সিরিজ জয়ী)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হাশিম আমলা।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: মরনে মরকেল।