Thursday, March 31, 2011

সিরিয়ায় মন্ত্রিসভার পদত্যাগ

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে সিরিয়ার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাজি ওতরি পদত্যাগ করার পরপরই প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এ খবর জানিয়েছে।
সানা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ওতরি প্রেসিডেন্টের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন। প্রেসিডেন্ট তা গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করেন।

বর্বরোচিত গণহত্যা বন্ধ করুন: গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি পশ্চিমা নেতাদের বলেছেন, ‘বর্বরোচিত গণহত্যা বন্ধ করুন। আপনারা সাধারণ জনগণকে রক্ষার নাম করে শান্তিপ্রিয় মানুষ ও উন্নয়নশীল একটি জাতির বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছেন। লিবিয়ার সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই গণহত্যা বন্ধ করুন।’
লন্ডনে লিবিয়া অভিযান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে গাদ্দাফি এসব কথা বলেন। গতকাল তাঁর এই চিঠি লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায় প্রকাশ করা হয়।লন্ডন সম্মেলন: ৪০টিরও বেশি দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি গতকাল লন্ডন সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে ইতালির পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি, গাদ্দাফির নির্বাসন এবং লিবিয়ার বিদ্রোহী ও উপজাতি নেতাদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, ‘আমরা গাদ্দাফিকে নির্বাসনে পাঠিয়ে স্থিতিশীল লিবিয়া গড়ে তুলতে চাই। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ন্যাটোর প্রধান ফগ রাসমুসেন অংশ নেন।
বাধার মুখে বিদ্রোহীরা: সিরত দখল করতে গিয়ে গতকাল প্রবল বাধার মুখে পড়েছে বিদ্রোহীরা। গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে বিন জাওয়াদ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে তারা। এ দিকে সামরিক জোট ন্যাটো বুধবার লিবিয়া অভিযানের নেতৃত্ব নিতে চাইলেও তা এক দিন পেছানো হয়েছে।

গিলার্ডের কম্পিউটারে সাইবার হামলা

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের কম্পিউটারে সাইবার হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় চীনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ইঙ্গিত দিয়েছে, কমপক্ষে ১০ জন মন্ত্রীর কম্পিউটারের কয়েক হাজার ই-মেইল হ্যাক করা হয়েছে। এর মধ্যে গিলার্ডসহ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রুড ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন স্মিথের কমিম্পউটারও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে হ্যাকিংয়ের এ ঘটনা ঘটে বলে পত্রিকাটি জানায়।
পত্রিকাটি আরও জানায়, ‘সরকারের চারটি পৃথক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বিদেশি হ্যাকারদের তালিকায় চীনের গোয়েন্দা সংস্থাও রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা জানিয়েছে, হ্যাকাররা সরকারের বড় ধরনের সম্পদ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জঙ্গি দমনে ‘হটলাইন’ সংযোগ স্থাপনে রাজি ভারত-পাকিস্তান

ভারত ও পাকিস্তান জঙ্গিদের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের স্বার্থে ‘হটলাইন’ সংযোগ স্থাপনে একমত হয়েছে। নয়াদিল্লিতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে বৈঠকের পর গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রসচিব চৌধুরী কামার জামানের মধ্যে এ ‘হটলাইন’ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব পন্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠাও এর লক্ষ্য বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
দুই পক্ষের আলোচনায় পাকিস্তান মুম্বাইতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তদন্তকাজে ভারতকে সহযোগিতা করতে নীতিগত সম্মতি জানায়। অপরদিকে ভারত পাকিস্তানকে সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা হামলার ঘটনা তদন্তে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে।
গত সোমবার উভয় দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক শুরু ও গতকাল মঙ্গলবার তা শেষ হয়। গতকাল বৈঠক শেষে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি কে পিল্লাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আস্থার সংকট অনেকটাই কেটে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে পাকিস্তান

সামরিক সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের ‘আর্মস পার্টনার’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমেই সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে এরই মধ্যেই বেইজিংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ইসলামাবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, পাকিস্তান সম্প্রতি হাতফ-২ নামে ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা শেষ করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তান চীনের সাহায্য নিয়ে তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছিল পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু নাইন ইলেভেনের ঘটনার পর থেকে এ ইস্যুতে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কে ভাটা পড়ে।
ফক্স নিউজ বলেছে, নাইন ইলেভেনের পর পাকিস্তানে মাত্রাতিরিক্তি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়া, জঙ্গিবাদের উত্থান ও পশ্চিমা বিদ্বেষ ঘনীভূত হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া কমিয়ে দিতে শুরু করে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সরকারগুলোকে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ও ‘দুর্বল’ বিবেচনা করেও যুক্তরাষ্ট্র সমরাস্ত্র সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়টিই পাকিস্তানকে চীনের দ্বারস্থ হতে উৎসাহ জুগিয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা এবং এ বিষয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত করে তোলার ব্যাপারে পাকিস্তান এখন কার্যত চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে কয়েকটি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান সরবরাহ করে। ওই সময় ইসলামাবাদ ঘোষণা দেয় তাদের জেএফ-১৭ জঙ্গি বিমানকে সজ্জিত করতে উন্নত রাডার সিস্টেম এবং বেশ কিছু এসডি-১০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য তারা চীনকে ফরমায়েশ দিয়েছে।
ফক্স নিউজ বলেছে, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে চীন পাকিস্তানের কাছে ২৫০টি জেএফ-১৭ বিমান সরবরাহ করবে। এ ছাড়া কয়েকটি জে-১০ যুদ্ধবিমান ও ছয়টি সাবমেরিন সরবরাহ করার বিষয়ে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ১৩০ কোটি ডলারের আলাদা একটি চুক্তিও হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারত দ্রুত গতিতে তার নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোয় পাকিস্তান উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ভারতীয় নৌ-হুমকি ঠেকাতে অবিলম্বে পাকিস্তানকেও তার নৌ-শক্তি বাড়াতে হবে। সে কারণে পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে আরও সাবমেরিন যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাপানে পরমাণু চুল্লি থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত প্লুটোনিয়াম

জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিষাক্ত প্লুটোনিয়াম ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে বলা যাচ্ছে না।
ফুকুশিমা কেন্দ্রের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) গতকাল জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো কেন্দ্রের বাইরের কয়েকটি স্থানের মাটিতে স্বল্প পরিমাণে বিষাক্ত প্লুটোনিয়াম পাওয়া গেছে। তবে পরমাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা এখনো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
সরকারের মুখপাত্র মন্ত্রিপরিষদের মুখ্য সচিব ইয়োকিয়ো এদানো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘সংকট সামাল দিতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এদানো জানান, কর্মীরা এখনো ওই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন পানি দিয়ে ফুয়েল রড ঢেকে দেওয়ার। এ ছাড়া সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় পানি নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত সোমবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রের একটি চুল্লির বাইরে পানিতে অতিমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায়। এরপর সন্দেহ বাড়তে থাকে, সম্ভবত দুই নম্বর চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয় তরল চুইয়ে বেরিয়ে আসছে।
এর আগে গত রোববার টেপকো জানায়, দুই নম্বর চুল্লির পানিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে এক কোটি গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে তা সংশোধন করে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এ লাখ গুণ বেশি। সরকার জানায়, এ ধরনের ভুল একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। কেননা এতে করে মানুষ চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
কিন্তু বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে বলা হচ্ছে জাপান আসলে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কম করে দেখানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃত তথ্য তারা মানুষকে জানাচ্ছে না।
চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের ভূভাগের বাতাসে তেজস্ক্রিয় উপাদান শনাক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা জানায়, দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেছে।
চীনের পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয় জানায়, জিয়াংশু, সাংহাই, ঝেজিয়াং, আনহুই, গুয়াংদাং ও গুয়াংঝিসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তা স্বল্প মাত্রার। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশে বাতাসে তেজস্ক্রিয় উপাদান পাওয়া গেছে।
ভিয়েতনামের একটি পত্রিকা জানায়, সে দেশের বিজ্ঞানীরা তাঁদের ভূভাগের বাতাসে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণু নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট রাজধানী সিউলসহ দেশের ছয়টি স্থানে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১ শনাক্ত করেছে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বাজেট কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কান বলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সংকট বাড়তে থাকায় আরও বেশি এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া দরকার কি না তা নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
জাতীয় কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী কোইচিরো গেমবা জানান, সরকারের উচিত টেপকোকে সাময়িকভাবে জাতীয়করনের জন্য বিবেচনা করা। গত সোমবার টেপকোর শেয়ার তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কমদামে নেমে আসে।

বুর্জ খলিফা জয় করলেন ফ্রান্সের আলা রোবে

বুর্জ খলিফা ভবন (বাঁয়ে), ভবনটির দেয়াল বেয়ে উঠছেন আলা রোবে
বিরল এক রেকর্ড গড়েছেন ‘স্পাইডারম্যান’ বলে পরিচিত ফ্রান্সের আলা রোবে। গত সোমবার মাকড়সার মতো দেয়াল বেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার চূড়ায় ওঠেন তিনি।
৪৮ বছর বয়সী আলা রোবে দড়ি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের সাহায্যে এই রোমাঞ্চকর অভিযান শেষ করেন। এতে তাঁকে মাটি থেকে দুই হাজার ৭১৭ ফুট (৮২৮ মিটার) উঁচুতে আরোহণ করতে হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাইয়ার কলেজেস অব টেকনোলজির উদ্যোগে আয়োজিত ‘এডুকেশন উইদাউট বর্ডার্স-২০১১’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলনের অংশ হিসেবে রোবের এই আরোহণের আয়োজন করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর জন্য তৈরি রাখা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি স্ট্রেচার।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলা রোবে আরোহণ শুরু করেন। ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগবে—এমন প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে নামেন তিনি। রাতে শক্তিশালী স্পটলাইট থেকে আলো ফেলে তাঁকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই রোমাঞ্চকর অভিযান দেখতে বুর্জ পার্ক ও আশপাশে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে।
বুর্জ খলিফার মালিক প্রতিষ্ঠান এমার প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমাদ আল মাতরুশি বলেন, সরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এই আরোহণের ব্যাপারে সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আলা রোবের বুর্জ খলিফার চূড়ায় আরোহণের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। “এডুকেশন উইদাউট বর্ডার্স” সম্মেলনের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করতে পেরে আমরা সম্মানিত বোধ করছি।’
আলা রোবে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টির বেশি গগনচুম্বী ভবন বেয়ে উঠেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, শিকাগোস উইলিস টাওয়ার ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টাওয়ারস। তিনি ২০০৪ সালে তাইওয়ানের তাইপে ১০১ তলা ভবন জয় করেন। বুর্জ খলিফার আগে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন।

দুই বছরের মধ্যে বিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াবে চীন

আগামী দুই বছরে চীন বিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। গত সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি রয়্যাল সায়েন্সের গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
২০০৪-০৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্বের দেশগুলোর বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনের সংখ্যার ভিত্তিতে রয়্যাল সায়েন্স এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। এর আগের প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের কিছু সময় পর বিজ্ঞানের গবেষণায় চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের দিক থেকে চীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যকে টপকে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় এগিয়ে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের বেশির ভাগই পশ্চিমা বিশ্বের। তবে তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ গবেষণায় বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নে প্রতিবছর ৪০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে থাকে। এদিকে যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি এবং ফ্রান্সও বিজ্ঞানের গবেষণায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
১৯৯৯-২০০৩ সালে বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশে চীনের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। তখন বিশ্বে মোট প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল চীনের। ২০০৪-০৮ সালে চীন জাপানকে টপকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ সময় চীন ১০ দশমিক ২ শতাংশ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম অবস্থান ধরে রাখলেও বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় দেশটির অবদান ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানের গবেষণায় বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তৃতীয়। তবে এ সময় বিজ্ঞানের গবেষণায় দেশটির অবদান ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় জাপানের অবনতি হয়েছে। দেশটি দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে। বিজ্ঞানে দেশটির অবদান ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ৬ শতাংশ অবদান রেখে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে জার্মানি এবং ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রেখে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কানাডা, ইতালি, স্পেন ও ভারত শীর্ষ ১০-এ অবস্থান করেছে। এদিকে রাশিয়া এর আগের শীর্ষ ১০-এ থাকলেও এবার ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। এ র্যাংকিংয়ে চীনের অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চীন গবেষণা এবং উন্নয়নে বিনিয়োগ ব্যাপক বাড়িয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে চীন প্রতিবছর ২০ শতাংশ করে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। বর্তমানে এ খাতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চীন বিনিয়োগ বাড়ার এ হার অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, এর আগে র্যাংকিংয়ে নিচে থাকা দেশের মধ্যে তুরস্ক ও ইরান বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় নাটকীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে তুরস্ক চীনের মতোই উন্নতি করেছে।

ব্যাটিংই জেতাতে পারে ভারতকে

ভারত-পাকিস্তান মহারণ আজ। জয়ের পাল্লা কোন দিকে ভারী? সে বিশ্লেষণ এখানে নয়। দেখা যাক, ভারতের ইতিবাচক দিক কোনগুলো? ভারত জিতলে কেন জিতবে?
এক, ভারতীয় টিমটাকে এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দেখাচ্ছে। চাপের মুখে ভেঙে পড়ার হারটা অনেক কমে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে চাপে পড়ে কী দারুণভাবে ম্যাচটা বের করে নিল! আজ তো বিশাল চাপের ম্যাচ। এই চাপ সামলানোর সামর্থ্য ভারতের আছে।
দুই, এই বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিংই সেরা। আমি বলব, আজ ব্যাটিং দিয়েই জিততে পারে ভারত। এটা মুখের কথা নয়, ২২ গজেও প্রমাণিত হচ্ছে। ধোনির ব্যাটই যা একটু নীরব। নইলে সবাই কম-বেশি রান পাচ্ছে। বিশেষ করে, বীরেন্দর শেবাগের কথা বলব, বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় ইনিংস খেলার পর ওভাবে তাঁকে আর দেখা যায়নি। আজই হতে পারে শেবাগের আরেকটা বড় ইনিংস খেলার দিন। শেবাগ-আগুন জ্বললে প্রতিপক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে!
তিন, ভারতের বোলিং নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু গত দু-তিনটি ম্যাচে ওদের বোলিং ভালোই হয়েছে দেখলাম। আস্তে আস্তে বোলিং সমস্যাটা কাটিয়ে উঠেছে ভারত। সেমিফাইনালে বোলিং ঠিকঠাক হলে স্বাগতিকদের চিন্তা অনেক কমে যাবে।
চার, ইতিহাস ভারতের পক্ষে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের চার সাক্ষাতে পাকিস্তান কখনো জিততে পারেনি। হ্যাঁ, এটা ঠিক, ইতিহাস উঠে এসে ভারতকে জিতিয়ে দেবে না। কিন্তু অতীতের প্রেরণা বলে একটা কথা আছে। এটা ভারত পাবে।
পাঁচ, শচীন টেন্ডুলকার সব সময়ই পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলে। গত কয়েক দিনের কাগজ পড়ে মনে হচ্ছে, এই ম্যাচে বাড়তি কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছে টেন্ডুলকার। সেটি হতে পারে তার সেরার চেয়েও সেরা কিছু। টেন্ডুলকারের ব্যাট আজ নতুন কিছু উপহার দিতে পারে। যদি দুইয়ে দুইয়ে চার হয়, ভারতকে থামানো কঠিন পাকিস্তানের পক্ষে।
ছয়, ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি খুবই ঠান্ডা মাথার। এটা ভারতের জন্য প্লাস পয়েন্ট। মাঠে যেহেতু অধিনায়ককেই নিতে হয় সব সিদ্ধান্ত, তাই অধিনায়ক পরিস্থিতি কীভাবে সামলান, সেটি বড় ব্যাপার। ম্যাচের ভাগ্যও অনেক সময় গড়ে দেয় অধিনায়কের প্রত্যুৎপন্নমতিতা। ধোনির এই গুণটা আছে।
সবকিছুই ঠিকঠাক হলে ভারতের জন্য সোনায় সোহাগা। আমরা কেবল মাঠের বাইরে বসে বিশ্লেষণ করতে পারি। দল মাঠে কতটা করে দেখাতে পারল, সেটাই আসল।

সিডন্সের শেষ লড়াই শুরু

বিদায়ের বিউগল কি শুনতে পাচ্ছেন জেমি সিডন্স? বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিসিবির শীর্ষ মহল কোচকে নাকি ‘বিদায়ী ধন্যবাদ’ও জানিয়েছে। নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই শেষ হচ্ছে জেমি সিডন্সের বাংলাদেশ অধ্যায়।
মিরপুরে সেই সিরিজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল কাল।্রপ্রথম দিনের অনুশীলনের এক ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেই কোচকে পড়তে হলো বিব্রতকর প্রশ্নটার সামনে, ‘বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হয়েছে?’ সিডন্স প্রশ্নটা এড়িয়ে যাননি, ‘খুব দ্রুতই হয়তো কোনো ঘোষণা শুনবেন। হাতে তো আরও দু-তিন মাস সময় আছে।’ আসলেই কি আছে? বোর্ড সূত্র জানাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পরপরই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবেন সিডন্স।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং সিরিজ দিয়ে শেষ করতে তিনি নিজেও যেন মুখিয়ে আছেন, ‘আমি দলটা (অস্ট্রেলিয়া) সম্পর্কে ভালো জানি। তাদের জন্য পরিকল্পনা করা আমার পক্ষে সহজ। তবে পরিকল্পনা কাজে লাগাতে হবে খেলোয়াড়দেরই।’ রিকি পন্টিং অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেও সিডন্সের কাছে তাঁর মর্যাদা অন্য রকম, ‘খুবই বিপজ্জনক ক্রিকেটার। সম্ভবত অস্ট্রেলিয়া দলেরই সেরা ব্যাটসম্যান। অধিনায়কত্ব ছেড়ে বাংলাদেশে নির্ভার হয়ে আসবে পন্টিং।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ভার হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের পর নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করতে চাইবে তারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও কোচ মনে করিয়ে দিলেন, ‘চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই দলটার ওপর প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু চাপ সামলানো, বড় চাপ নেওয়া, এসবে তারা সেভাবে অভ্যস্ত নয়।’
বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে ৫৮ আর ৭৮ রানে অলআউট হলেও সেখানেই সবকিছুর শেষ দেখছেন না সিডন্স। বিশ্বকাপ থেকে বরং খুঁজে পাচ্ছেন অনেক ইতিবাচক দিকও, ‘এবার তিন ম্যাচে আমরা ২০০-এর বেশি রান করেছি। ছয় ম্যাচের তিনটি জিতেছি, গত বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ জিতেছিলাম নয় ম্যাচে। দুটো ম্যাচ নয়, পুরো পরিসংখ্যানই বলবে, বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স খুব খারাপ নয়।’
তবে সিডন্স হতাশ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল নিয়ে। জুনায়েদ সিদ্দিকের না থাকাটাই পোড়াচ্ছে তাঁকে, ‘গত ১২ মাসে খুবই সফল ছিল সে (জুনায়েদ), বিশেষ করে ৩ নম্বরে। তাকে না পেয়ে আমিও একটু হতাশ। তবে আশা করি, অন্য যারা দলে এসেছে, তারা ভালো করবে।’ সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল নিয়ে প্রধান নির্বাচক কোচের সঙ্গে কথা বললেও কোচের সব ইচ্ছার প্রতিফলন দলে ঘটেনি।
দল থেকে নাঈম ইসলামের বাদ পড়ার পক্ষে অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন সিডন্সও, ‘নাঈমের দুর্ভাগ্য। দলে তিনজন বাঁহাতি স্পিনার রাখতেই তাকে বাদ দিয়ে শুভকে (সোহরাওয়ার্দী) নিতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে অনেক ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নাঈম বাদ এ কারণেই। নইলে বিশ্বকাপে ও খুবই ভালো করেছে।’ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে অলক কাপালির অন্তর্ভুক্তিতে খুশি মনে হলো কোচকে, ‘পাওয়ার প্লের ব্যাটিং আর লেগ স্পিনের জন্য বিশ্বকাপেও অলক আমাদের আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি ১৫০ রানের একটা ইনিংস খেলেছে অলক। লোয়ার মিডল-অর্ডারে আমাদের এমন কাউকেই দরকার।’
আড়াই বছর পর দলে ফিরে আশাবাদী অলক নিজেও, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরের সিরিজগুলোর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। টার্গেট থাকবে প্রতি ম্যাচেই ভালো কিছু করা।’ ২০০৮-এ সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই খেলেছিলেন, আবারও সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই পড়ছেন। অলক বললেন, ‘যে দলই আসুক, আমাকে নতুন করেই শুরু করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া বলে কিছু নয়, আমার টার্গেট ভালো করা।’
অলক-শুভাগতদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। শুধু তামিম ইকবালই অনুশীলনে যোগ দেননি, ছুটি নিয়ে বেড়াতে গেছেন মালয়েশিয়ায়। প্রায় দেড় মাস পর অনুশীলনে ফিরে আত্মবিশ্বাসীই দেখাল ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা মাশরাফিকে, ‘বল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে না। তবে “নো” বল হয়ে যাচ্ছে। আশা করি, ঠিক হয়ে যাবে।’
জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আর ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে আজ মিরপুরে দুই দলের মধ্যে হবে প্রস্তুতি ম্যাচ। মাশরাফির কাছে এই ম্যাচটা নিজেকে দেখার আয়না।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই হতাশাজনক বিদায়ের পর শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পন্টিং যুগ। অনেক ব্যর্থতা, সমালোচনার বোঝা মাথায় নিয়ে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রিকি পন্টিং। আর পূর্বানুমান মতো, তাঁর জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক। সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শেন ওয়াটসন। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দলেও অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেবেন ক্লার্ক-ওয়াটসন জুটি।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার ৪৩তম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লার্ক বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়াটা আমার জন্য খুবই সম্মানের। তবে রিকি এভাবে সরে যাওয়ায় কিছুটা অবাক হয়েছি।’ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে আবার নতুন করে সাজাবেন কি না, বা অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ক্লার্ক বলেছেন, ‘আমি নতুন করে কিছুই করতে চাই না। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই আমি আমার পূর্বসূরিদেরই অনুসরণ করতে চাই। আমরা আবার সব ধরনের ক্রিকেটে এক নম্বর দলে পরিণত হতে চাই। তবে এর জন্য অনেক সময় লাগবে।’

যুবরাজের ফর্ম পাকিস্তানের জন্য হুমকি: ওয়াসিম

এবারের বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং মোট চারবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন। ১১৩ গড়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩৪১ রান। বল হাতেও দুর্দমনীয় এই বাঁ-হাতি ২৪ দশমিক ৬৩ গড়ে তুলে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এমন পারফরম্যান্স যে খেলোয়াড়ের, তাঁকে নিয়ে প্রতিপক্ষের একটু আলাদা ভাবনা তো থাকবেই। আজ মোহালিতে সেমির লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে পাকিস্তান দলও তাঁকে নিয়ে আলাদা করেই ভাবছে। ভাবনাটা নিবিষ্ট রয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ায়। যুবরাজকে নিজের মতো করে পারফর্ম করতে না দেওয়ায়। ফর্মের তুঙ্গে থাকা এ খেলোয়াড়টি যে ছত্রখান করে দিতে পারেন, যেকোনো দলের স্বপ্ন। চুপসে দিতে পারেন কোটি মানুষের প্রত্যাশার ফানুস।
পাকিস্তান দলও রয়েছে সমস্যায়। ভাবনাটা কিছুতেই এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করতে পারছে না তাঁরা। ভারতীয় দলে যুবরাজ ছাড়াও রয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ম্যাচ জয়ী ক্রিকেটার। রয়েছেন ভারতীয় কন্ডিশনে আগুন ঝরানো বোলিং সামর্থ্যের অধিকারী জহির খান ও হরভজন সিংয়ের মতো বোলার। এমন একটি পরিস্থিতিতে সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম পাকিস্তান দলের কাজটা কিছুটা সহজ করতেই পরামর্শ দিয়েছেন, আপাতত যুবরাজ সিংকে নিয়েই মাথা ঘামাতে। কারণ, ফর্মের বিচারে তিনিই যে এ মুহূর্তে পাকিস্তান দলের সবচেয়ে হুমকি।
কেবল যুবরাজকে নিয়ে মাথা ঘামালেই চলবে না। ওয়াসিম আকরামের পরামর্শ যুবরাজের বিপক্ষে একটু মাথা খাটিয়ে বল করা। কারণ, তাঁর মতো খেলোয়াড়ের বিপক্ষে মাথা খাটিয়ে বল করার কোনো বিকল্প নেই।
‘অনেক দিন অফ ফর্মে থাকার পর যুবরাজ সিং নিজেকে প্রমাণের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সে ইতিমধ্যে কয়েকটি ম্যাচে ভালো খেলেছে। সেই খেলাগুলো ভারতকে জিততে সাহায্য করেছে। প্রতিটি ম্যাচেই সে উন্নতি করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এগুলো পাকিস্তানের জন্য মোটেও শুভ সংবাদ নয়।’ ওয়াসিম আকরামের অভিমত।
ওয়াসিম আকরাম ভারতীয় অধিনায়ক ধোনির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ধোনির ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেওয়ার অধিনায়কত্বও দারুণ পছন্দ ওয়াসিমের। তিনি বলেছেন, ‘ধোনির অবস্থার বিচারে ব্যবস্থা—জাতীয় অধিনায়কত্ব আমার কাছে খুবই কার্যকর মনে হচ্ছে।’ ওয়াসিম আকরামের মতে, এই বিশ্বকাপে ধোনির সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল ইউসুফ পাঠানের মতো একজন ম্যাচ উইনারকে বাদ দিয়ে সুরেশ রায়নাকে একাদশে নিয়ে আসা। রায়না তাঁর অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ একটি জুটির অংশ হয়ে।
ধোনি সম্পর্কে ওয়াসিম আকরাম আরও বলেন, ‘আজকের ম্যাচে পাঠান খেলবে নাকি রায়না—এ নিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছে। ব্যাপারটি খুবই কেতাদুরস্ত মনে হচ্ছে।’
অনেকেই ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে সমালোচনামুখর হলেও ওয়াসিম আকরাম ভারতের বোলিংকে একেবারে নখ-দন্তহীন মনে করেন না। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেদিন কিন্তু ভারতের এই বোলিং আক্রমণই অস্ট্রেলিয়াকে ২৬০ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলেছিল। তাই এ দলের বোলিংকে কেউ যদি দুর্বল মনে করে, তাহলে সে ভুলই করবে।
তবে আজকের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত দারুণ চাপে থাকবে বলেই মনে করেন ওয়াসিম আকরাম। এ চাপই শেষ পর্যন্ত তাদের কাল হয়ে দাঁড়াতে বলেও তিনি ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছেন। আকরাম আজকের ম্যাচ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমে অনেক বড়। কিন্তু তারা তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সংবাদ এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যাতে মনে হতে বাধ্য যে আজ মোহালিতে ক্রিকেট হবে না, হবে যুদ্ধ। এটা ঠিক নয়, এতে খেলোয়াড়দের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করে। যে চাপ খেলাটার জন্য ক্ষতির কারণ হয়।’
ওয়াসিম আকরাম মনে করেন, বিদেশের মাটিতে খেলাটা পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়েছে। এতে দলটি অনেকটাই চাপমুক্ত হয়ে খেলায় মনোনিবেশ করতে পারবে।

টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন ভেট্টোরি

আরও একবার সেমিফাইনালেই আটকে গেছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে ৫ উইকেটে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে কিউইদের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর গতকালই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। একদিনের ক্রিকেটও আর খেলবেন কি না, সেটা নিয়েও ভাবতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভেট্টোরি বলেছেন, ‘আমি আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ইতিমধ্যেই খেলে ফেলেছি। একদিনের ক্রিকেটও আর খেলব কি না সেটাও ভাবছি। আমাদের পরবর্তী খেলা শুরু হওয়ার আগে আমি প্রায় ছয় মাস সময় পাব। এর মধ্যে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, আরও চিন্তাভাবনা করে সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ তবে ক্রিকেটের ছোট সংস্করণগুলো না খেললেও টেস্ট ক্রিকেটটা আরও বেশ কিছুদিন খেলে যেতে চান ভেট্টোরি। তিনি বলেছেন, ‘আমি ক্রিকেটটা খেলিই টেস্টের জন্য। একটা টেস্ট জিততে পারার মতো অনুভূতি আর অন্য কিছুতে নেই। কাজেই আমি টেস্টটা আরও কিছুদিন খেলে যাব।’
ভেট্টোরির পর অধিনায়ক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রস টেলরই হয়তো হবেন নতুন কিউই অধিনায়ক।

দায়িত্ব সচেতন ‘কূটনীতিক’ আফ্রিদি

যেকোনো সময়ই একজন ক্রিকেটারকে, তাঁর মাঠের পারফরমেন্সের বাইরে নিজ দেশের একজন প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি হিসেবেও গণ্য করা হয়। দলের অধিনায়কের ওপর তো দায়িত্বটা আরও বেশি। আর লড়াইটা যখন ভারত-পাকিস্তানের, সেটাও আবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তখন এ দায়িত্বটা যে আরও বেড়ে যায়, সেটা বলাই বাহুল্য। পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি নিশ্চয়ই সেই গুরু দায়িত্বটা বেশ ভালো মতোই উপলব্ধি করতে পারছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পাশাপাশি তাঁকে হয়তো আজ অঘোষিতভাবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করতে হবে। মোহালির ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচটাতে কি এত এত সমীকরণ কিছুটা চাপ তৈরি করবে আফ্রিদির ওপর? তেমন সম্ভাবনার কথা অবশ্য আফ্রিদি নিজে একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন।
গতকাল সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে আমি একজন ক্রিকেটার। তারপর কূটনীতিক। ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে অবশ্যই আমি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করি। কাজেই আমি জানি, আমাকে কোথায় কী বলতে হবে। আমার মতে, এই সেমিফাইনালটা দুই দেশের জন্যই একটা ভালো প্রতীক। কারণ, অনেক সময়ই ক্রিকেটই দুই দেশের মানুষকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।’
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটা না ঘটলে হয়তো এই সেমিফাইনালটা পাকিস্তানের মাটিতেও হতে পারত। আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান নাম থাকলেও নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান থেকে সব ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আবারও পাকিস্তানে ফেরানোর জন্য এই বিশ্বকাপ জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আফ্রিদি। বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এটা জিততে চাই এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আবার পাকিস্তানে ফেরাতে চাই