Wednesday, December 10, 2025
ভেনেজুয়েলা সরকারের হুমকির মধ্যেও নোবেল নিতে যাবেন মাচাদো
মাচাদো বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে আছেন। তাঁকে নিয়ে নোবেল ইনস্টিটিউটের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ব্রেগ হার্পভিকেন গত শনিবার এএফপিকে বলেন, ‘(শুক্রবার) রাতে মাচাদোর সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি অসলোয় আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তিনি কবে বা কীভাবে আসবেন, তা বলতে পারছি না।’
গত ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পান মাচাদো। পরের মাসে ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, মাচাদো যদি নোবেল পুরস্কার নিতে নরওয়েতে যান, তাহলে তিনি ‘ফেরারি’ হিসেবে গণ্য হবেন। মাচাদোর নোবেল পুরস্কারের সমালোচনা করে সে সময় হোয়াইট হাউসও বলেছিল, ‘শান্তির ওপরে রাজনীতিকে’ স্থান দিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন নিকোলা মাদুরো। তাঁর বিরুদ্ধে তখন নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিলেন মাচাদো। তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন। নির্বাচনের ফলের প্রতিবাদ জানানোয় সে সময় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন মাচাদো।
মাচাদোর প্রতি সমর্থন
এদিকে নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আগে শনিবার বিভিন্ন দেশে মাচাদোর সমর্থনে সমাবেশ হয়েছে। মাদ্রিদ, বুয়েনস এইরেস, লিমা, ব্রিসবেনসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামেন হাজারো মানুষ। পেরুর রাজধানী লিমায় মাচাদোর ছবি নিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ‘ভেনেজুয়েলা মুক্ত করো’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ছিল ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকাও।
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় মাচাদোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একত্র হন ভেনেজুয়েলার একদল নাগরিক। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে দেখা যায় প্রায় ৫০০ ব্যক্তিকে। তাঁদের একজন ৬০ বছর বয়সী ন্যান্সি হোয়ার বলেন, মাচাদোর নোবেল পুরস্কারের কারণে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের মুখে আজ হাসি ফুটেছে।
এমন সময় মাচাদোর নোবেল পুরস্কারের বিষয়টি আবার সামনে এল, যখন ভেনেজুয়েলা ঘিরে ক্যারিবীয় সাগরে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলায় হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন তৎপরতার পেছনে অবৈধ মাদক চোরাচালান বন্ধের কথা বলা হলেও মাদুরোর দাবি, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতেই এসব করা হচ্ছে।
![]() |
| মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Monday, October 13, 2025
এ–ই যদি হয় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা... by মিশেল এলনার
মাচাদো আসলে কিসের প্রতীক, তা যাঁরা বোঝেন, তাঁরা জানেন, তাঁর রাজনীতির সঙ্গে ‘শান্তি’ শব্দটির কোনো সম্পর্কই নেই। যদি ২০২৫ সালের ‘শান্তি’ বলতে এটাই বোঝানো হয়, তাহলে বলা যেতে পারে, নোবেল পুরস্কার তার সব বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।
আমি ভেনেজুয়েলায় জন্মগ্রহণকারী একজন আমেরিকান। আমি খুব ভালো জানি মাচাদো কিসের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি হলেন ওয়াশিংটনের রেজিম চেঞ্জ যন্ত্রের (কোনো দেশের এক সরকারকে ফেলে দিয়ে অন্য সরকারকে বসানোর ব্যবস্থা) হাস্যোজ্জ্বল মুখ। তিনি হলেন নিষেধাজ্ঞা, বেসরকারীকরণ ও বিদেশি হস্তক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র’ নামে সাজিয়ে তোলার এক সুশীল কণ্ঠস্বর। মাচাদোর রাজনীতি সহিংসতায় ভরপুর। তিনি প্রকাশ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপকে আহ্বান জানিয়েছেন।
এমনকি গাজা ধ্বংসের খলনায়ক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও তিনি বলেছেন, তিনি যেন বোমা মেরে ভেনেজুয়েলাকে ‘মুক্ত’ করেন। তিনি নিজের দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন; অথচ তিনি জানেন, অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা নীরব যুদ্ধেরই একটি রূপ।
মাচাদোর জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বিভাজন সৃষ্টি করে, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ক্ষয় করে এবং জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার কেড়ে নিয়ে তিনি তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবন কাটিয়েছেন।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০০২ সালের সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্টকে অল্প সময়ের জন্য উৎখাত করেছিল। তিনি ‘কারমোনা ডিক্রি’-তে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা কিনা রাতারাতি সংবিধান বিলুপ্ত ও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছিল। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’কে ন্যায্যতা দিতে কাজ করেছেন। তিনি বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে’ ভেনেজুয়েলাকে ‘মুক্ত’ করা যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ নামে এক সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধের ইন্ধন জুগিয়েছে, মাচাদো সেই বক্তব্য ও সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
ট্রাম্প যখন ভেনেজুয়েলার সম্পদ জব্দ করছিলেন, মাচাদো তখন ট্রাম্পের স্থানীয় প্রতিনিধি হতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ট্রাম্পের হাতে তুলে দিতে তৈরি ছিলেন।
মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কাজ করেছেন। অথচ তিনি ভালো করেই জানতেন, গরিব, অসুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষদের এর মূল্য দিতে হবে। তিনি সেই তথাকথিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন, যা আসলে ওয়াশিংটনের অর্থায়নে পরিচালিত এক পুতুল প্রশাসনের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট দ্বারা পরিচালিত। দেশে শিশুরা অনাহারে যখন মারা যাচ্ছিল, তখন সেই প্রেসিডেন্ট দেশের সম্পদ লুট করে বাইরে পাচার করছিলেন।
মাচাদো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি জেরুজালেমে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস পুনরায় চালু করবেন। অর্থাৎ তিনি সেই একই বর্ণবাদী রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবেন, যারা ‘আত্মরক্ষা’র কথা বলে হাসপাতালে বোমা মারে। এখন তিনি দেশের তেল, পানি ও অবকাঠামো বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে চান।
যে নব্য–উদার ফর্মুলা নব্বইয়ের দশকে লাতিন আমেরিকাকে দুর্ভোগের পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিল, তিনি ঠিক সেই ফর্মুলা অনুসরণ করেন।
২০১৪ সালের ‘লা সালিদা’ নামে যে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল, মাচাদো তার অন্যতম স্থপতি ছিলেন। ওই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারের পতন ঘটানো। বিদেশি সংবাদমাধ্যম এগুলোকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ বলেছিল। কিন্তু বাস্তবে তখন রাস্তা অবরোধ করে, বিভিন্ন স্থাপনা জ্বালিয়ে, শ্রমিকবাহী বাস পুড়িয়ে সহিংস বিক্ষোভ করা হচ্ছিল।
সে সময় কাউকে হুগো চাভেজের অনুসারী মনে হলে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা পর্যন্ত হয়েছে। চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি কিউবার চিকিৎসা ব্রিগেডকেও সে সময় আক্রমণ করা হয়েছিল। কেউ কেউ তখন আগুনে পুড়ে মরতে বসেছিল। ধ্বংস করা হয়েছিল সরকারি ভবন, খাদ্যবাহী ট্রাক, স্কুল। পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। আর সেই সময় মাচাদো টেলিভিশনে তাকে ‘প্রতিরোধ’ বলে প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্প যে পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসী শিশুদের খাঁচায় আটকে রেখেছিলেন, অনেক পরিবারকে আলাদা করে দিয়েছিলেন এবং ট্রাম্পের যে নীতির কারণে আজ হাজারো ভেনেজুয়েলান মা তাঁদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের খুঁজে ফিরছেন, সেই কুৎসিত উদ্যোগ ও নীতিকে মাচাদো ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ বলে প্রশংসা করেছেন।
এ–ই যদি হয় শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের যোগ্যতা, তবে শান্তি শব্দটা অপমানিত হবে। আসলে মাচাদো শান্তির প্রতীক নন। তিনি আসলে বৈশ্বিক এক জোটের অংশ, যেখানে ফ্যাসিবাদ, জায়নবাদ ও নব্য–উদারনীতি (নিওলিবারালিজম) জড়িত।
এই জোট মুখে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘শান্তি’র কথা বলে, কিন্তু তাদের আসল লক্ষ্য হলো দমন ও আধিপত্য। ভেনেজুয়েলায় এই মতবাদ মানে ছিল অভ্যুত্থান, নিষেধাজ্ঞা ও বেসরকারীকরণ। গাজায় এর মানে হলো গণহত্যা ও জাতিগতভাবে ফিলিস্তিনিদের সত্তাকে মুছে ফেলা। দুই জায়গায় নীতিটা এক। এই নীতির কাছে কিছু জীবন তুচ্ছ; সার্বভৌমত্ব বিক্রিযোগ্য আর সহিংসতাকে ‘শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা’ বলে বিক্রিও করা যায়।
তবে হেনরি কিসিঞ্জার যদি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন, তবে মারিয়া কোরিনা মাচাদো কেন পাবেন না? ‘অধিকার দখলের মধ্যেও সহানুভূতি’ দেখানোর জন্য হয়তো আগামী বছর ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ও এই পুরস্কার পেয়ে যেতে পারে। প্রতিবার যখন এই পুরস্কার কোনো সহিংসতার স্থপতিকে ‘কূটনীতিক’ সাজিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা প্রকৃত শান্তিকর্মীদের মুখে থুতু ছিটানোর মতো মনে হয়।
অথচ প্রকৃত শান্তিকর্মীরা হলেন গাজার ধ্বংসস্তূপে লাশ তোলা চিকিৎসকেরা, জীবন বাজি রেখে সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকেরা আর সেই মানবিক ত্রাণকর্মীরা, যাঁরা ফ্লোটিলায় করে শিশুদের জন্য খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিতে গিয়ে ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু আসল শান্তি কোনো পুরস্কার বা বড় সম্মেলনে তৈরি হয় না। সেই পুরস্কার গড়ে ওঠে অবরোধের সময় মানুষকে খাওয়াতে এগিয়ে আসা নারীদের হাতে, নদী রক্ষায় লড়াই করা আদিবাসীদের ঐক্যে, শ্রমিকদের অবিচল সংগ্রামে আর সেই ভেনেজুয়েলান মায়েদের প্রতিবাদে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কারণে হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের ফেরত চান।
এই শান্তি পুরস্কার প্রাপ্য ভেনেজুয়েলা, কিউবা, ফিলিস্তিন ও পুরো বৈশ্বিক দক্ষিণের—যে শান্তি আত্মসমর্পণের নয়, বরং স্বাধীনতা ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ায়।
* মিশেল এলনার, কোডপিংক নামের নারী আন্দোলনমূলক একটি শান্তি ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ক
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত বামপন্থী ধারার ওয়েবসাইট কমন ড্রিমস থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
| ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Tuesday, October 29, 2024
গুরুতর অসুস্থ ইরানের নোবেলজয়ী কারাবন্দি নার্গিস মোহাম্মাদি, নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে
এতে বলা হয়, ফ্রি নার্গিস কোয়ালিশন নামের গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে- নার্গিসের শরীরে একাধিক অসুস্থতা রয়েছে। এজন্য অবশ্যই তাকে হাসপাতালে যেতে অস্থায়ী মুক্তি (মেডিকেল ফার্লো) দিতে হবে। শুধু হাসপাতালে স্থানান্তর করলেই গত কয়েক মাসের অবহেলা এবং বঞ্চনার কারণে নার্গিসের গুরুতর যে স্বাস্থ্যহানি হয়েছে তার সমাধান হবে না বলে দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
মোহাম্মদিকে ইরানের এভিন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক বন্দি এবং পশ্চিমা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের রাখা হয়। তিনি ইতিমধ্যে ৩০ মাসের সাজা ভোগ করছেন, যার সাথে জানুয়ারিতে আরও ১৫ মাস যুক্ত করা হয়েছিল। গত ৬ আগস্ট এভিন কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডে অন্য রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে নার্গিস মোহাম্মাদিকে আরও ছয় মাসের জেল দিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মাদি হৃদরোগে ভুগছেন, এবং সেপ্টেম্বরে জারি করা তার মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, তার হার্টের মূল ধমনীতে আবার একটি গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মোহাম্মাদির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে ফ্রি নার্গিস কোয়ালিশন।

Friday, October 18, 2019
অতীত ঢাকতে পুরস্কার চালু করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল?

নোবেল ১৯ শতকের সফলতম রসায়নবিদদের একজন ছিলেন। সুইডিশ এই নাগরিকের বিস্ফোরক সফলতাই পরবর্তী জীবনে তার জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে বেশিকিছু বলেননি তিনি। কিন্তু অতীতে তার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কাজের ইতিহাস ঘাটলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
নোবেল সফলতার শিখরে পৌঁছেন ‘ডাইনামাইট’ আবিষ্কার করে। তার এই আবিষ্কার তাকে এনে দিয়েছিল বিশ্বজোড়া খ্যাতি আর সফলতা। কিন্তু ডাইনামাইট আবিষ্কার নিয়ে বেশ আক্ষেপ ছিল নোবেলের। তিনি চাননি মানুষ তাকে এই ধ্বংসকারী বস্তু আবিষ্কারের জন্য মনে রাখুক।
নোবেল মারা যান ১৮৯৬ সালে। মৃত্যুর আগে নোবেল পুরস্কারের জন্য একটি বিশাল অঙ্কের তহবিল রেখে যান তিনি। তার রেখে যাওয়া তহবিল দিয়ে ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান। পুরো বিশ্ব থেকে যাচাই-বাছাই করে বিশেষ কয়েকটি বিভাগে এই পুরস্কার দেয়া হয়। নোবেল তার উইল-এ লিখে গিয়েছিলেন, বিশ্বের মধ্যে ওই বিভাগগুলোয় সমসাময়িক কালে শ্রেষ্ঠ কাজ, শান্তির প্রচারণায় মুখ্য ভূমিকা রাখা ও সামরিক বাহিনীর নিশ্চিহ্নকরণ বা হ্রাসকরণের কৃতিত্ব হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হবে। ধ্বংসলীলাকে পূর্ণতা দিতে পারা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন কথা কিছুটা বেমানান শোনায়।
আঠারো শতকের ষাটের দশকে শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন নোবেল। ওই পরীক্ষার অংশ হিসেবে নাইট্রোগ্লিসারিন ও ব্ল্যাক পাওডার এর এক করে ডাইনামাইট আবিষ্কার করেন এই বিজ্ঞানী। অবশ্য পরীক্ষার শুরুতেই সফলতা পাননি তিনি। ১৮৬৪ সালে এই পরীক্ষায় একবার এক নাইট্রোগ্লিসারিন কারখানা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার এক ভাইও মারা যান। কিন্তু নোবেল অনুধাবন করতে পারছিলেন যে, তিনি এমন কিছু আবিষ্কারের কাছাকাছি আছেন যা পুরো বিশ্বকে পাল্টে দেবে। ভাইয়ের মৃত্যুর পরও তিনি কাজ থামাননি। ১৮৬৭ সালে নোবেল আবিষ্কার করেন যে, নাইট্রোগ্লিসারিনের সঙ্গে ‘ডিয়াটোমাইট’ মেশালে নাইট্রোগ্লিসারিন নিরাপত্তার মাত্রা বেড়ে যায় ও তা আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি নিজের এই আবিষ্কারের নাম দিলেন ‘ডাইনামাইট’। গ্রিক শব্দ ডাইনামিস (শক্তি) থেকে ডাইনামাইট শব্দটির উৎপত্তি। আবিষ্কারের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এর তীব্র চাহিদা দেখা দেয়।
ডাইনামাইটের বাণিজ্য করে বিপুল অর্থ আয় করেন নোবেল। বিশ্বজুড়ে খাল কাটায়, রাস্তা নির্মাণে, সুরঙ্গ তৈরি সহ নানাভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে ডাইনামাইট। নোবেল ডাইনামাইটের একাধিক কারখানা নির্মাণ করেন। প্রতিনিয়ত ডাইনামাইট আরো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যান। ১৮৭৫ সালে তৈরি করেন ডাইনামাইটের চেয়েও শক্তিশালী বিস্ফোরক- বিস্ফোরক জেলাটিন। এই ব্যবসায় অকল্পনীয় লাভ করেন তিনি।
ডাইনামাইট ছাড়া অন্যান্য বস্তু নিয়েও কাজ করেছিলেন নোবেল। যেমন, আর্টিফিসিয়াল সিল্ক ও লেদার। লিখেছিলেন উপন্যাসও। যদিও সেগুলোর কোনটিই প্রকাশ পায়নি। ডাইনামাইটই ছিল নোবেলের সবচেয়ে বড় ব্যবসা। এই ব্যবসার সূত্র ধরেই একসময় প্রবেশ করেছিলেন যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরির কাজে। কিন্তু নোবেল ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, নিজেকে শান্তিবাদী দাবি করতেন নোবেল। উনবিংশ শতকের অস্ট্রীয় শান্তিকর্মী, ঔপন্যাসিক বার্থা ভন সুটনারের লেখা অনুসারে, নোবেলের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৭৬ সালে। সেসময় নোবেল তাকে বলেছিলেন, তিনি এমন একটি বিস্ফোরক আবিষ্কার করতে চান, যেটি সব যুদ্ধ শেষ করে দেবে। ১৮৯১ সালের মধ্যে নোবেলের ৯০টি বিস্ফোরক ও যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কারখানা ছিল নোবেলের। সেসময় কারখানাগুলোর সমর্থনে শান্তিকর্মীদের তিনি বলেছিলেন, যেদিন দুটি সামরিক পক্ষ একে অপরকে সেকেন্ডের মধ্যে নিঃশেষ করে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে, সেদিন সব সভ্য রাষ্ট্র নিশ্চিতভাবেই আতঙ্কে ভীত হয়ে তাদের সব সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত করে দেবে।
কিন্তু নোবেল ভুল হিসেব করেছিলেন। যুদ্ধ চলতেই থাকলো। কোনো জাতি ভীত হয়ে পিছু হটেনি। বিলুপ্ত হয়নি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে বিখ্যাত নোবেলজয়ীদের কেউ কেউ বলেছেন, নোবেল তার জীবনের সেরা কাজ নিয়ে অনুশোচনায় ভুগতেন। আর সে আক্ষেপ ঢাকতেই নোবেল পুরষ্কার চালু করেছিলেন তিনি। এদের মধ্যে ১৯২১ সালে পদার্থে নোবেল পাওয়া আলবার্ট আইনস্টাইনও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে ফেলা আনবিক বোমাগুলো তৈরিতে তার গবেষণার ভূমিকা ছিল।
১৯৪৫ সালে দেয়া এক ভাষণে আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, নোবেল তার সময়কালের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরক আবিষ্কার করেছিলেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কার্যকরী একটি উপায় বের করেছিলেন। নিজের এই অর্জনের প্রায়শ্চিত্ত করতে ও নিজেকের বিবেককে স্বস্তি দিতে তিনি শান্তির প্রচারণায় পুরষ্কার চালু করেছিলেন।
Sunday, October 13, 2019
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই আবি আহমেদ

শান্তিতে নোবেল প্রদানকারী কমিটি বলেছে, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের মীমাংসায় তার নিষ্পত্তিমূলক উদ্যোগের জন্য এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে তাকে। এছাড়া, ইথিওপিয়া এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আফ্রিকান অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিবাদ মেটানোর কাজ করা প্রত্যেক অংশীদারকে স্বীকৃতি দেয়াও এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, এ বছরের পুরস্কার জিতে শান্তিতে শততম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল জিতেছেন আবি। এ বছর এই পুরস্কারটি জন্য মনোনয়ন জমা পড়েছিল ৩০১টি। এর মধ্যে ২২৩ জন্য ব্যক্তি ও ৭৮টি প্রতিষ্ঠান ছিল। অনেকের ফেভারিট ছিলেন, জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গ ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের উইল মেনে, ১৯০১ সাল থেকেই শান্তিতে পুরস্কার ঘোষণা করে আসছে নোবেল কমিটি।
তবে গত শতকে দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়গুলো সহ মোট ১৯ বার পুরস্কার প্রদান বন্ধ থাকে। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি ছাড়াও নোবেল জিতেছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রস সর্বোচ্চ তিনবারের পুরস্কারজয়ী।
আবি আহমেদ ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় আসার পরপরই ইথিওপিয়ায় ব্যাপক আকারে উদারমনা সংস্কার শুরু করেন। নিকট অতীতে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি দেশে তার এসব পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি কয়েক হাজার বিরোধী কর্মীদের কারাবাস ও নির্বাসিত ভিন্নমতপোষণকারীদের বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেন। তার সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলো দেশটিতে ব্যাপক হারে জাতিগত উত্তেজনা কমিয়েছে। তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে করা একটি শান্তিচুক্তি। সমপ্রতি আরো একটি বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছেন আবি। তার সরকার দেশজুড়ে ৪০০ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত ৪০টি গাছের বীজ বপনের জন্য উৎসাহিত করে যাচ্ছে সরকার।
আবি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। সাইবার গোয়েন্দাগিরিতে দক্ষ ছিলেন তিনি। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে তার করা শান্তিচুক্তিতে দুই দেশের কয়েক লাখ মানুষকে উচ্ছ্বসিত করেছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সংঘাতে বহু প্রাণ ও সমপদ হারিয়েছে উভয় পক্ষই। অঞ্চলটিতে উন্নয়নের রাস্তা খুলে দিয়েছে এই চুক্তি। আরো সমপ্রতি প্রতিবেশী সুদানে একটি রাজনৈতিক চুক্তির মধ্যস্থতা করেছেন আবি। তার ওই চুক্তি দেশটিতে সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর সৃষ্ট অস্থিরতা থামাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, আবি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে নিজের ব্যক্তিগত সাহসী উদ্যোগ ও প্রতিভা ব্যবহার করে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। তিনি ইথিওপিয়ার সর্ববৃহৎ ‘অরোমো’ সমপ্রদায় থেকে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিনি বহু বছর ধরে দেশটির অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকরণের সমালোচনা করেছেন। নিজের মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের নিয়োগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। কারাবন্দি থাকা সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়েছেন। আগের প্রশাসনগুলোতে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন।
এদিকে, সম্মানজনক এই পুরস্কার জেতার পর আবিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বহু বিশ্ব নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুঁতেরা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি মোহাম্মদসহ অনেকে। জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি বলেছিলাম, আফ্রিকায় আশার বাতাস ইতিহাসে সবচেয়ে জোরে বইছে এখন। প্রধানমন্ত্রী আবি তার একটি প্রধান কারণ। তার দূরদর্শিতায় ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া একটি ঐতিহাসিক পুনর্মিলন অর্জন করতে পেরেছে। আমি গত বছর ওই অর্জনের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করি।
Saturday, March 23, 2019
জাসিনদা আরডেনকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার পিটিশন

গত সপ্তাহের শুক্রবারে দেশটির ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নামাজরত মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে ৫০ জনকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। এরপর পরিস্থিতি যেভাবে সামলেছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন সে জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার এই দাবি তোলা হয়েছে।
চার দিন আগে পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গে। এতে কমপক্ষে ৩০০০ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন অনলাইনে। অন্যদিকে ফরাসি সাইট আভাজ ডট অর্গে স্বাক্ষর করেছেন কমপক্ষে ১০০০ মানুষ।
ফরাসি সাইটে লেখা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বিয়োগান্তক ঘটনার পর, উপযুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন, আমরা আশা করি তার জন্য আগামী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার তার হাতে তুলে দেয়া হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি সাইটে এই আবেদনটির উদ্যোক্তা ফরাসি কবি ড. খাল তোরাবুলি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড লিখেছে, গত সপ্তাহের ওই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর দেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাসিনদা তার জন্য সারা বিশ্ব তার প্রশংসা করেছে। তার এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে একজন মুসলিম নারীকে তিনি আলিঙ্গন করছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতি তিনি যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়েছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ। বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন জাসিনদা।
ওদিকে শুক্রবার রাতে জাসিনদার প্রশংসা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ‘আমেরিকা ডিজার্ভস এ লিডার অ্যাজ গুড অ্যাজ জাসিনদা আরডেন’। অর্থাৎ জাসিনদা আরডেনের মতো একজন উত্তম নেতা দাবি করে আমেরিকা। এতে বলা হয়, সন্ত্রাসের বিষয়ে যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন তার কাছ থেকে বিশ্বের শিক্ষা নেয়া উচিত। আরো বলা হয়েছে, আরডেন তার দেশের ওই এলাকার মানুষদের ক্ষোভের কথা শুনেছেন। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তিনি সামরিক ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, এ অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হবে।
Sunday, August 16, 2009
জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস-অভিনন্দন বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তানকে
গরিবের ব্যাংকার হিসেবে বিশ্বে নন্দিত মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও জগদ্বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, মার্কিন রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি এডওয়ার্ড কেনেডি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেকের প্রতীক ধর্মযাজক নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুসহ বিশ্বের ১৬ জন ব্যক্তিত্ব এ বছর ফ্রিডম অব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আমাদের ঘরের ছেলে মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি তাঁদেরও জানাই অভিনন্দন।
বিনম্র, একনিষ্ঠ সাধক মুহাম্মদ ইউনূস নীরবে কাজ করে যেতেই পছন্দ করেন। ৩৩ বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালে তিনি সামান্য পুঁজি নিয়ে ‘গরিবের অর্থনীতি’র যে ক্ষীণ ধারার সূচনা করেছিলেন, তা যেন একের পর এক ডালপালা মেলে সারা বিশ্বকে জানান দিচ্ছে। এই পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন এক অবিস্মরণীয় গৌরব ও সম্মান। মেডেল অব ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড লাভের পর মুহাম্মদ ইউনূস তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যথার্থই বলেছেন, ‘এ সম্মানপ্রাপ্তি শুধু আমার নিজের জন্য নয়, এটা দেশের জন্য সম্মানজনক বলে মনে করছি।’
বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ আমরা কালেভদ্রে পাই। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা আর দুর্যোগকবলিত দেশ হিসেবে পরিচিত। সেই পরিচয়ের বৃত্ত থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে যে কজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। আমরা তাঁর কর্মময় দীর্ঘজীবন কামনা করছি। জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস!
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2006)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
