Thursday, May 23, 2013

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ইমরান খান

পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান (৬০) গতকাল বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এরপর তিনি লাহোরের বাড়িতে ফিরে গেছেন। দুই সপ্তাহ আগে নির্বাচনী এক সমাবেশে মঞ্চ থেকে পড়ে বড় ধরনের আঘাত পান ইমরান খান।লাহোরের শওকত খানম মেমোরিয়াল হাসপাতালের মুখপাত্র খাজা নাজির জানান, ইমরান খান এখন সুস্থ আছেন। তিনি হাসপাতাল থেকে তাঁর লাহোরের বাড়ি চলে গেছেন। সেখানে তিন দিন থাকার পর ইসলামাবাদের বাড়িতে যাবেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে আরও দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ইমরান খান দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সোজা হয়ে দাঁড়ান। সেদিন কারও সহযোগিতা ছাড়াই কিছুদূর হেঁটে যান। এ সময় তাঁর কোনো রকম অসুবিধা হয়নি কিংবা ব্যথা টের পাননি। নির্বাচনী মঞ্চ থেকে পড়ে ইমরানের শরীরের কয়েক জায়গায় হাড় ভেঙেছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ

কেনিয়ায় পাঁচ বছর আগে ঘটা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো সম্পৃক্ত বলে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দুই নেতাকে অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০৮ সালে সংঘটিত ওই সহিংসতায় অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ছয় লাখ লোক। এ ঘটনার পর তা তদন্তে ‘দ্য ট্রুথ রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড জাস্টিস কমিশন’ (টিআরজেসি) গঠন করা হয়। টিআরজেসি ১৯৬৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে গত মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট উহুরুর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার প্রধান বিরোধী দলের নেতা ছিলেন উহুরু ও রুতো। ওই বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁদের দল জয়লাভ করে। এরপর শুরু হয় ভয়াবহ ওই সহিংসতা। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ না করা প্রসঙ্গে টিআরজেসির চেয়ারম্যান বেথুয়েল কিপলাগাত বলেন, ওই সহিংসতার কারণে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। টিআরজেসির প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাড়াও মন্ত্রী নাজিব বালালা ও দুজন সিনেটরের বিরুদ্ধে সহিংসতায় সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ব্যাপারে আরও তদন্ত করে তাঁদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। শুধু তা-ই নয়, টিআরজেসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ১৯৮৪ সালে ওয়াগালা গণহত্যায় সম্পৃক্ত থাকতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উহুরু কেনিয়াত্তা দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট জোমো কেনিয়াত্তার ছেলে। জোমো কেনিয়াত্তা কেনিয়ার স্বাধীনতার পর ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থীর তালিকা থেকে রাফসানজানি ও মাশায়ি বাদ

ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আটজনকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির অভিভাবক পর্ষদ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল)। এই সাংবিধানিক নজরদারি কর্তৃপক্ষ প্রার্থী হিসেবে যাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে, তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সংস্কারপন্থী নেতা আকবর হাশেমি রাফসানজানি ও প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এসফানদিয়ার রহিম মাশায়িও রয়েছেন। আহমাদিনেজাদ অভিভাবক পর্ষদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, তিনি মাশায়িকে যোগ্য প্রার্থী ঘোষণা করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করবেন। অন্যদিকে, রাফসানজানি পর্ষদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী অভিভাবক পর্ষদ কাউকে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করলে তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না। এখন একমাত্র সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশে এই পর্ষদের রায় পরিবর্তিত হতে পারে। নিবন্ধিত ৬৮৬ প্রার্থীর মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত যে আটজনকে যোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁরা সবাই রক্ষণশীল রাজনীতিক। এই আটজনের মধ্যে ইরানের মুখ্য পারমাণবিকবিষয়ক আলোচক সায়িদ জলিলি, সাবেক পারমাণবিক আলোচক হাসান রোহানি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর বেলায়েতির নাম রয়েছে।

মার্কিন সিনেট কমিটিতে অভিবাসন বিল পাস

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক কোটির বেশি অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে ওবামা প্রশাসনের পদক্ষেপে আরও অগ্রগতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার অভিবাসন বিলে সম্মতি দিয়েছে সিনেট কমিটি। আগামী মাসে এই বিল নিয়ে সিনেটে আলোচনা হবে সিনেট কমিটিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলোচিত অভিবাসন বিলের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩টি এবং বিপক্ষে পাঁচটি। এই ভোটাভুটির আগে বিলে একটি পরিবর্তন আনা হয়। আগের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা পাওয়া যে কারও জন্য সমলিঙ্গের ‘সঙ্গীদের’ স্থায়ীভাবে সে দেশে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে ভোটাভুটির আগে এই সুযোগ বাতিল করা হয়। বিলে সম্মতি দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিনেট কমিটিকে। সিনেট কমিটিতে পাসের আগে বিলটিতে আরও কিছু সংশোধন করা হয়। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো থেকে দক্ষ কর্মী আনার ওপর যে বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, রিপাবলিকানদের দাবি অনুযায়ী তা প্রত্যাহার করা হয়। আইন সংস্কারের প্রধান উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করে নেওয়া।

মোশাররফের জামিন নামঞ্জুর

পাকিস্তানে বিচারকদের আটক ও অন্তরীণ করার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের জামিন নাকচ করা হয়েছে।  গতকাল বুধবার দেশটির সন্ত্রাসবাদবিরোধী আদালতের বিচারক মোশাররফের  জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। সরকারি এক কৌঁসুলি এ তথ্য জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় মাত্র দুই দিন আগে মোশাররফের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। বেনজির ২০০৭ সালে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গুলি ও বোমা হামলায় নিহত হন।  বেনজির হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা ও বিচারকদের আটক রাখার অভিযোগে মোশাররফকে গত ১৯ এপ্রিল থেকে তাঁর ইসলামাবাদের খামার বাড়িতে বন্দী রাখা হয়। এটিকে উপকারাগার ঘোষণা করা হয়েছে। পারভেজ মোশাররফ ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করেন। তখন বেশ কয়েকজন বিচারককে বরখাস্ত ও আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে মোশাররফ স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে গত মার্চে দেশে ফেরেন।

রাফসানজানির বাদ পড়া ও ইরানের ভবিষ্যৎ

ইরানের বর্ষীয়ান সংস্কারপন্থী নেতা আকবর হাশেমি রাফসানজানিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির সাংবিধানিক নজরদারি কর্তৃপক্ষ ‘অভিভাবক পর্ষদ’ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল)। ইরানের যেসব মানুষ বিদ্যমান রক্ষণশীল ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে দেশটিতে একটি উদার সমাজ ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের কাছে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফসানজানির এই ছিটকে পড়া হতাশাজনক। রাফসানজানিকে অযোগ্য ঘোষণার কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রথম কথা হলো, এর মাধ্যমে কার্যত ৭৮ বছর বয়সী রাফসানজানির নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থীদের রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃত্তে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হলো। যেসব মধ্যপন্থী মনে করে, নির্বাচনে দাঁড়ালে রাফসানজানি তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেন; এখন তারা নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে পারে এবং নির্বাচন বর্জন করতে পারে। এদের মধ্যে রয়েছে মধ্যবিত্ত, বণিক ও স্থানীয় ঐতিহ্যে বিশ্বাসী আলেম শ্রেণীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গোষ্ঠী। ইরানের দুর্বল ও অস্থির রাজনৈতিক ক্ষমতাবৃত্ত যে তার নিজের শেকড়কেই উপড়ে ফেলতে চাইছে, রাফসানজানির এই অযোগ্যতার ঘোষণায় তা খোলাসা হয়েছে। ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ যেসব সামাজিক গোষ্ঠীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আসছে, এখন তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তাদের আরও কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাফসানজানি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এই বিদগ্ধ রাজনীতিক আট বছর ধরে ইরাকের সঙ্গে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তবে অর্ধশতকব্যাপী বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই রাজনীতিক পরে উদারপন্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গত বছর থেকে তিনি ইরানে উদারভিত্তিক স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছেন। রক্ষণশীল ও ডানপন্থীরা তাঁর এই মতাদর্শ সহ্য করতে পারেনি। তারা তাঁকে ক্রমশ পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এখন এই অযোগ্যতার ঘোষণায় রাফসানজানির সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থীদের জোট তাঁকে বাদ দিয়ে কার্যত অবসরে পাঠাতে পারে। রাফসানজানির বিদায়ে অনেকে আবার রাজনীতির ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবেন। বড়জোর বলা যায়, তাঁরা এই ভেবে আত্মতৃপ্তি পাবেন যে দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান একদিন না একদিন রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেবে। আবার এমনও হতে পারে, রাজনৈতিক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এই শ্রেণী হারিয়ে যাবে।

অভিযোগপত্র জমার সাত মাস পার হলেও বিচার শুরু হয়নি

কুকুর লেলিয়ে ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী হিমাদ্রী মজুমদার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার সাত মাস পার হলেও বিচারকাজ শুরু হয়নি। গ্রেপ্তার হয়নি মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ দুই আসামি। আদালতে দেওয়া হয়নি পুলিশ প্রতিবেদনও।মামলার ধীরগতি ও নানা সংস্থার অসহযোগিতায় হতাশ ও অসহায় হয়ে পড়েছে হিমাদ্রীর পরিবার। হিমাদ্রীর মা গোপা মজুমদার গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোথায় যাব? কার কাছে যাব? মাঝেমধ্যে মনে হয় এই দেশ আমাদের না। এই দেশ টাকাওয়ালা আর ক্ষমতাবানদের।’গত বছর ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশের একটি ভবনের পাঁচতলার ছাদে হিমাদ্রীকে মারধরের পর তার দিকে জার্মানির হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামারফিল্ডের এই ছাত্রকে পরে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এর পর ২৩ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে সে মারা যায়।
ধীরগতিতে চলছে মামলা: গত বছর ২৮ এপ্রিল হিমাদ্রীর বাবা পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি করেন। একই থানায় হত্যা মামলা করেন হিমাদ্রীর মামা অসিত দে। মামলায় জুনায়েদ আহমেদ ওরফে রিয়াদ ও তাঁর বাবা শাহ সেলিম টিপু এবং জুনায়েদের তিন বন্ধু শাহদাত হোসেন ওরফে সাজু, মাহবুব আলী ওরফে ডেনি ও শাওনকে আসামি করা হয়। প্রথম তিন আসামি বর্তমানে হাইকোর্টের জামিনে রয়েছেন। গত ১ অক্টোবর আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।আদালত সূত্র জানায়, পুলিশ দুই আসামি মাহবুব আলী ও শাওনকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে তা লিখিতভাবে নিম্ন আদালতকে জানালে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নিতে পারবেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো তা জানানো হয়নি।বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ফেরদৌস আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। আদালত পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে মালামাল ক্রোক এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেবেন। এর পর মামলা জজ আদালতে শুনানিতে যাবে।’পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ প্রথম আলোকে বলেন, দুই আসামি মাহবুব আলী ও শাওনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদালতে এখনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘এটি আলোচিত মামলা। আমরা নিয়মিত এই মামলাটি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করে আসছি। পলাতক দুই আসামিকে ধরার জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় এখনো নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’
আর গান শোনায় না: গতকাল হিমাদ্রীদের হেমসেন লেনের বাসায় গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের মাঝে বিষণ্নতা। বসার ঘরে হিমাদ্রীর বিশাল একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি। তাঁর মা গোপা পুত্রশোকে অঝোরে কাঁদেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে। কিন্তু আমাকে প্রতিদিনই মারছে আমার হিমু (হিমাদ্রী)। কোনো ভালো খাবার রান্না করি না। কারণ, সে খাবারের পাগল ছিল।’ হিমাদ্রীর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ভাই ‘ও’ লেভেলের ছাত্র নীলাদ্রী পড়ছে। সে জানাল, ‘দাদার গিটার আমাকে কাঁদায়। সে গিটারে নতুন গান তুলে আমাকে বসিয়ে শোনাত। এখন আর গান শোনায় না।’
হিমাদ্রীর বাবা প্রবীর বলেন, ‘সবকিছু বড়লোকের ব্যাপার। কেউ একজন ভালো করে সহযোগিতা করে না। এগিয়ে আসে না। শুধু টাকা আর টাকা। আমরা হতাশ। জানি না, এভাবে আর কত দিন পারব।’ বড় ছেলের এমন পরিণতি দেখে এখন ছোটটিকে নিয়েও নানা ভয় ও আশঙ্কা তাঁদের মনজুড়ে।

উত্তরায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও রোডে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। র‌্যাব দাবি করেছে, নিহত ওই দুই যুবক জহিরুল ইসলাম ও সাজু আকন্দ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য।র‌্যাব-১ গতকাল বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, র‌্যাব-১-এর একটি দল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উত্তরার মাসকট প্লাজার কাছে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় র‌্যাবের সদস্যদের থামার সংকেত অমান্য করে একটি প্রাইভেট কার ১১ নম্বর সেক্টরের দিকে যেতে থাকে। র‌্যাবের সদস্যরা ধাওয়া করলে তাঁদের লক্ষ্য করে ওই গাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়। র‌্যাব পাল্টা গুলি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ বাধে। একপর্যায়ে গাড়িটি ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও রোডে থেমে যায়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলের দুই সদস্য পালিয়ে যান। পরে র‌্যাবের সদস্যরা গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-গ ১১-৪৮৬৮) তল্লাশি চালিয়ে আসনে বসা একজনকে এবং রাস্তায় আরেকজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওই দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, র‌্যাবের সদস্যরা ওই গাড়ি থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি, গুলির ছয়টি খোসা, দুটি চাপাতি, দুটি ছুরি, একটি হাতুড়ি ও হত্যায় ব্যবহূত ইস্পাতের জিআই তার পান। উদ্ধার হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তির নাম জহিরুল ইসলাম ও সাজু আকন্দ বলে জানা যায়। তাঁদের দেহ তল্লাশি করে একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই দুজনের লাশ শনাক্ত করতে গতকাল রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কেউ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে যায়নি।র‌্যাব-১-এর অপস কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, ১৩ মে হোটেল র‌্যাডিসনের কর্মী আলেয়া ফেরদৌসী কাওলার বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন এবং ওই দিন গাজীপুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলেয়ার স্বজনদের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একটি ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পায় র‌্যাব। ভোরে উত্তরায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ক্রেডিট কার্ডটি আলেয়া ফেরদৌসীর। এই সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১৩ মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের টঙ্গীর একটি এটিএম বুথ থেকে এবং ১৪ মে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলে। এটিএম বুথের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ছবির ব্যক্তি ও নিহত জহিরুলের চেহারা হুবহু। জহিরুলের বাবার নাম আবদুস ছালাম, গ্রামের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরের পূর্ব বলিয়াদহে। নিহত সাজু আকন্দ রাজধানীর ৫৫১ পূর্ব বাড্ডার সিকান্দারবাগে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম সামসুল আকন্দ। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের সদস্যরা আলেয়াকে হত্যা করেছে।
টঙ্গী প্রতিনিধি জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাস্থলের পাশের একজন দোকানি প্রথম আলোকে বলেন, র‌্যাবের সদস্যরা একটি গাড়ির পেছনের ডান চাকায় গুলি করে সেটি থামান। ভয়ে তিনি সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। এরপর তিনি ৩০-৪০টি গুলির শব্দ শোনেন।
পাশের বস্তির আবদুল মালেক ও মানসুরা বেগম বলেন, ফজরের নামাজের আগে তাঁরা তিনটি এবং নামাজের পর ৩০-৩৫টি গুলির শব্দ শোনেন। ভোরে তাঁরা দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ওই দুজনকে তাঁরা আগে কখনো ওই এলাকায় দেখেননি।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ইমরান খান

পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান (৬০) গতকাল বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এরপর তিনি লাহোরের বাড়িতে ফিরে গেছেন। দুই সপ্তাহ আগে নির্বাচনী এক সমাবেশে মঞ্চ থেকে পড়ে বড় ধরনের আঘাত পান ইমরান খান।লাহোরের শওকত খানম মেমোরিয়াল হাসপাতালের মুখপাত্র খাজা নাজির জানান, ইমরান খান এখন সুস্থ আছেন। তিনি হাসপাতাল থেকে তাঁর লাহোরের বাড়ি চলে গেছেন। সেখানে তিন দিন থাকার পর ইসলামাবাদের বাড়িতে যাবেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে আরও দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ইমরান খান দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সোজা হয়ে দাঁড়ান। সেদিন কারও সহযোগিতা ছাড়াই কিছুদূর হেঁটে যান। এ সময় তাঁর কোনো রকম অসুবিধা হয়নি কিংবা ব্যথা টের পাননি। নির্বাচনী মঞ্চ থেকে পড়ে ইমরানের শরীরের কয়েক জায়গায় হাড় ভেঙেছিল।

পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারি জোরালো করতে চায় চীন

পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারিমূলক সম্পর্ক জোরালো করার ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। দুদিনের সফরে গতকাল বুধবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে লি এই ঘোষণা দেন। লি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করা হবে। ভারত সফর শেষে চীনা প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী ‘মিত্র’ দেশটিতে গেলেন। ইসলামাবাদের পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে লিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। চীনা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সফরকালে লি সে দেশের প্রেসিডেন্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মীর হাজার খান খোসোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া আজ বৃহস্পতিবার ভাবী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। চীনা প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম পিটিভি বলেছে, ‘দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহায়তা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের কৌশল বের করে আনাই হচ্ছে এই সফরের উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি যাই হোক পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ পাকিস্তানের গণমাধ্যমকে লি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এখনো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আগামী দুই-তিন বছরের এই বিনিয়োগ দেড় হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী উভয়পক্ষ। লি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীন ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং একটি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির মতো অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে আমাদের দুই পক্ষকে নজর দেওয়া দরকার।’ পাকিস্তানে বর্তমানে চরম বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক স্থানে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির অনেক শিল্পকারখানা। এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে চাকরিও হারিয়েছে। অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে  স্থবিরতা। জেঁকে বসছে দারিদ্র্য।

উত্তম বড়ুয়া এখনো নিখোঁজ পরিবার বিপদে

রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন উত্তম কুমার বড়ুয়া। আট মাসেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি। এলাকায় প্রচার রয়েছে, উত্তম বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাবুল আকতার বলেন, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলার পরপরই উত্তম আত্মগোপন করেন। বান্দরবানে অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযানও চালান। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। উত্তমকে পাওয়া গেলে রামুর ঘটনার অজানা কাহিনি হয়তো জানা যেত।
রামুর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত সরকারি কমিটি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২০৫ জনের বিরুদ্ধে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, তাতে উত্তম বড়ুয়াকে এক নম্বর অভিযুক্ত দেখানো হয়। যদিও তদন্ত কমিটি উত্তমের সাক্ষ্য নিতে পারেনি।
উত্তমের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তাঁর ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার ছবি দেখা গেছে। তখন শোনা যায় যে, কেউ একজন ওই ছবিটি তাঁর ফেসবুকে সংযুক্ত (ট্যাগ) করেছিল।
উত্তম বড়ুয়া রামু সদরের চেরাংঘাটা গ্রামের সুদত্ত বড়ুয়ার ছেলে। তিনি রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। স্ত্রী রিতা বড়ুয়া ও একমাত্র ছেলে আদিত্য বড়ুয়াকে (৪) নিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদের সামনে মেরংলোয়া গ্রামের হূদয় রঞ্জন দাশের ভাড়া বাসায় থাকতেন।
গতকাল বুধবার সকাল নয়টায় সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজখবর করার পর উত্তমের স্ত্রী রিতা বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হয়।
উত্তমের খবর জানতে চাইলে রিতা বলেন, ‘ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আটটায় সে যে পালিয়ে গেল, এখন পর্যন্ত কোনো খবর নেই। কেউ বলছেন, থাইল্যান্ড গেছে, কেউ বলেন মিয়ানমার। কিন্তু সে বেঁচে আছে কি না, তা-ও জানতে পারছি না। তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। ছেলেটা বাবার জন্য প্রায় সময় কান্নাকাটি করে।’
রিতা আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে উত্তম বড়ুয়ার ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছিল। তখন ছেলেটাকে নিয়ে কোনোমতে বাবার বাড়িতে (বড়ুয়া পাড়ায়) আশ্রয় নেই। রাত নয়টার দিকে লোকজন উত্তমের খোঁজে সেখানে হইচই শুরু করে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আশপাশের আরও ১০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে কোলের শিশু নিয়ে পালাতে থাকি। সারা রাত ছেলেকে নিয়ে বাইপাস সড়কের আমতলি নামক স্থানে ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকি। মশার কামড়ে ছেলে কান্নাকাটি করলে মুখ চেপে ধরি। পরদিন ভোরে সেখান থেকে বাসে চরে যাই ৫০ কিলোমিটার দূরে চকরিয়া। সেখান থেকে বাসে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় এলাকায়। এক ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে আশ্রয় নেই। পরিচয় গোপন করে ওই ঘরে দেড় মাস রান্নাবান্নার কাজ করেছি।’ রিতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার স্বামী অন্যায় করে থাকলে তার খেসারত আমাকে দিতে হবে কেন? আমার ছোট্ট ছেলেটা কী অপরাধ করেছে? তাকেও কেন পালিয়ে থাকতে হচ্ছে?

গান্ধীর দানপত্র ৬৫ লাখ টাকায় বিক্রি

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর দানপত্র নিলামে ৫৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে; বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬৫ লাখ টাকার সামান্য বেশি। দুই পাতার এই দানপত্র গুজরাটি ভাষায় লেখা। গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ার কাউন্টির লাডলো রেসকোর্সে আয়োজিত ওই নিলাম অনুষ্ঠানে এই দানপত্রের সঙ্গে গান্ধীর ব্যবহূত ৫০টি স্মারকও তোলা হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান মুলক এর আয়োজন করে। নিলামে তোলা উল্লেখযোগ্য আরও দুটি জিনিস হচ্ছে গান্ধীর এক জোড়া চটি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অণুবীক্ষণযন্ত্রের স্লাইডে ব্যবহূত রক্তের নমুনা। দানপত্রটি ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু নিলামে সেই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। চটি জোড়া বিক্রি হয়েছে ১৯ হাজার পাউন্ডে। স্লাইডে থাকা গান্ধীর রক্তের নমুনা বিক্রি হয়নি। ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মহাত্মা গান্ধীকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করা হয়। নিলামে সেই ঘোষণার অনুলিপিও তোলা হয়। ধারণা করা হয়েছিল, এটি ২০০ থেকে ৩০০ পাউন্ডে বিক্রি হবে। শেষ পর্যন্ত ২৬০ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে এটি। এ ছাড়া তখনকার ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের সঙ্গে গান্ধীর করমর্দনের একটি আঁকা ছবির ছাপা কপি ২৫ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। নিলামে আরও ছিল গান্ধীর বিছানার চাদর ও তাঁর জপমালা।

মূল হোতা শনাক্তই হয়নি by আব্দুল কুদ্দুস

রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলার পর প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হওয়া তো দূরের কথা, মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তই করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই জামিনে বেরিয়ে গেছেন।পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত না করার বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেছে। জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ধারণা, বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনায় ছিলেন রোহিঙ্গা নেতা (আরএসও) জঙ্গি ছালামত উল্লাহ ও ইব্রাহিম। তাঁরা ধরা পড়লে মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা যেত। তা ছাড়া যাঁর ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার ছবি সংযুক্ত (ট্যাগ) করা হয়েছিল, সেই উত্তম কুমার বড়ুয়াকেও পাওয়া যাচ্ছে না।পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকে কোরআন শরিফ অবমাননাকর ছবি প্রদর্শন নিয়ে রামুর ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা হয়।পরদিন উখিয়া ও টেকনাফে আরও সাতটি মন্দির ও ১১টি বসতি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ১৯টি মামলায় ৩৭৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৫২৪ জনকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে গেছেন ১১০ জন। আর ১৯ মামলার একটিরও তদন্ত শেষ হয়নি।তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাবুল আকতার জানিয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যে রামুর আটটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।কক্সবাজার আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া ১১০ জনের অধিকাংশকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল। এই তালিকায় ফেসবুক ব্যবহারকারী উত্তম বড়ুয়ার মা আদু বড়ুয়া ও তাঁর বোন মাধু বড়ুয়াও আছেন। বর্তমানে কারাগারে আছেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা শাহজালাল চৌধুরী, জামায়াতের আরেক নেতা শহীদুল ইসলাম (ভিপি বাহাদুর), বিএনপি-সমর্থক মিজানুর রহমান (মিজান মেম্বার), কম্পিউটার দোকানের মালিক ফারুক, উখিয়ার প্রভাতী যুব সংঘের সভাপতি শাহজাদাসহ ৪১৪ জন।
হামলাকারীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন: হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে রামু হামলার জন্য ২০৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।এ ছাড়া চট্টগ্রামের দায়রা জজ আবদুল কুদ্দুস মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রতিবেদনে ২৯৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয় ১৬ মে।দুই কমিটির চিহ্নিত হামলাকারীদের মধ্যে মাত্র ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যরা এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে অবশ্য ২০৫ জনের তালিকার ১ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে উত্তম বড়ুয়ার নাম রয়েছে। ঘটনার দিন থেকে তিনি নিখোঁজ। ২ নম্বর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম (সেলিম) আওয়ামী লীগের সমর্থক ও রামু প্রেসক্লাবের সভাপতি। ঘটনার দিন থেকে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন।জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো বৌদ্ধবিহার ভাঙতে যাইনি। আমি গিয়েছিলাম লোকজনকে থামাতে। এখন হামলাকারীর তালিকায় আমার নামটি ঢুকিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।’ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আনসারুল হক ভুট্টো, তাঁর ছোট ভাই ছাত্রলীগের কর্মী রিদোয়ান, উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ রানা চৌধুরীসহ আরও অনেকে অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ধরছে না।ইউনুছ বলেন, ‘আমি তো হামলাকারী নই, পুলিশ ধরবে কেন?’তদন্ত প্রতিবেদনে ছাত্রদলের নেতা আবদুল আজিজ, আতিকুল হক, বিএনপি-সমর্থক ইটভাটার মালিক মোজাফফর আহমেদ, তাঁর ছেলে শফিউল কবির, জামায়াত নেতা আজগর আলী, শিবিরের নেতা ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলামের নামও রয়েছে। তাঁরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার বলেন, ‘বৌদ্ধমন্দিরে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়। তার পরও তদন্ত প্রতিবেদনে দলের নেতা-কর্মীদের কেন অভিযুক্ত করা হলো বুঝতে পারছি না।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদুল হক চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে ওই হামলা চালিয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা নেই।
তবে পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া তালিকা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, কমিটির কোনো প্রতিবেদন আমরা পাইনি।’ পুলিশ সুপার বলেন, বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) জড়িত ছিল। সম্প্রতি টেকনাফের একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে আরএসও নেতা ছলাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লুণ্ঠিত বুদ্ধমূর্তি উদ্ধার হয়নি: গতকাল দুপুরে রামুর চেরাংঘাটা রাখাইন বড় ক্যাং মন্দির মাঠে মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উ থোয়াই চিং বলেন, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা এই প্রাচীন মন্দিরে হামলা চালিয়ে কয়েক কোটি টাকা দামের একটি স্বর্ণ, দুটি কষ্টিপাথরের বুদ্ধমূর্তিসহ ৬৪টি মূল্যবান বুদ্ধমূর্তি লুট করে। ঘটনার প্রায় আট মাস অতিক্রান্ত হলেও একটি মূর্তিও উদ্ধার হয়নি।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক বঙ্কিম বড়ুয়া বলেন, হামলার সময় ১২টি মন্দির থেকে তিন শতাধিক বুদ্ধমূর্তি লুট হয়। ছোট আকৃতির ১২টি মূর্তি উদ্ধার হলেও মূল্যবান অন্যান্য মূর্তির খবর নেই। এতে বৌদ্ধসম্প্রদায়ের মানুষ হতাশ।
৩০০ বছরের পুরোনো ‘লালচিং’ বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষু ওয়েছেকা ছারা মহাথের বলেন, ‘হামলার আট মাসেও হিসাব মেলাতে পারছি না। গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, মন্দির ধ্বংস করে কার লাভ হলো?

টর্নেডোবিধ্বস্ত ওকলাহোমায় উদ্ধারকাজের সমাপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টর্নেডো-উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড শক্তিশালী ওই টর্নেডোর আঘাতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলেছেন, একজনকে দুবার গণনাসহ ভুলের কারণে আগে নিহতের সংখ্যা ৯১ বলে জানানো হয়েছিল। উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে আর কোনো মৃতদেহ থাকার সম্ভাবনা নেই। গত সোমবার ওকলাহোমা সিটির মুর শহরতলিতে ৩২০ কিলোমিটার বেগে টর্নেডো আঘাত হানে। এতে গোটা শহরতলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সর্বোচ্চ শক্তির মাপকাঠিতে এটি ছিল দ্বিতীয় মাত্রার টর্নেডো। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান গ্যারি বার্ড বলেন, ‘আমরা ৯৮ ভাগ নিশ্চিত যে, ধ্বংসস্তূপ থেকে আর কোনো মানুষকে জীবিত বা মৃত খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ঘটনাস্থলে আমরা তিনবার করে অনুসন্ধান চালিয়েছি। মঙ্গলবার রাতের পর থেকে আর কোনো ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত পাওয়া যায়নি।’ তবে ওকলাহোমার গভর্নর মেরি ফলিন জানান, মৃতের সংখ্যা ২৪ জনের বেশি হতে পারে। কারণ, কিছু মৃতদেহ স্বজনেরা সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য নিয়ে গেছেন। সেগুলো গণনা থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারে। উদ্ধারকাজের সময় জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা মুর শহরতলির অনেক জায়গা শনাক্ত করতেও সমস্যার মুখোমুখি হন। কারণ, সেখানে সড়ক চিহ্নের কিছুই অবশিষ্ট নেই। এ জন্য তাঁরা মুঠোফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এলাকা শনাক্ত করেছেন। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হানে। এদিন ওকলাহোমা ছাড়াও আইওয়া, মিনেসোটা, ক্যানসাস ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো হয়। ১৯৯৯ সালে ওকলাহোমায় শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়।

বাশারের পদত্যাগ সংকটের একমাত্র সমাধান: হেগ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগই হয়তো সিরিয়া-সংকটের একমাত্র সমাধান। গতকাল বুধবার জর্ডানে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থক দেশগুলোর সংগঠন ফ্রেন্ডস অব সিরিয়ার বৈঠক শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগ এসব কথা বলেন। এদিকে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ কাতারও বলেছে, তারা মনে করে যে রক্তপাত বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের পর্যবেক্ষণ হলো, সিরিয়া-সংকট সমাধানে দেশটির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ করা জরুরি। বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় রেখে সংকট সমাধানের কোনো পথ আমরা দেখি না।’ ফ্রেন্ডস অব সিরিয়ার ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইতালি, জর্ডান, ফ্রান্স ও মিসরের শীর্ষ কূটনীতিকেরা যোগ দিয়েছেন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বাশারের অন্যতম প্রধান মিত্র রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়। ফ্রেন্ডস অব সিরিয়ার বৈঠকের আগে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের জুদেহ বলেন, সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধে একটি রাজনৈতিক পথ বের করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন। তবে আম্মানে ফ্রেন্ডস অব সিরিয়ার বৈঠককে ‘সিরিয়ার শত্রুদের সম্মেলন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আম্মানে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাহজাত সুলেমান। তিনি বলেন, বৈঠকে আসলে সিরিয়ার শত্রু ও ইসরায়েলের বন্ধুরা জড়ো হয়েছে। এদিকে সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মুখদাদের গতকাল বুধবার মস্কোয় পৌঁছার কথা। সেখানে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান: বাশারের বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কুশায়ের শহরের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার পর তা পুনর্দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিদ্রোহীরা। বাশারবিরোধী জোটের প্রধান জর্জ সাবরা এক বিবৃতিতে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কুশায়েরে জড়ো হয়ে যুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাবরা বলেন, কুশায়েরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া লড়াইয়ে অনেকে আহত হয়েছে। তাদের মুক্ত করতে একটি নিরাপদ পথের ব্যবস্থা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস দাবি করেছে, সিরিয়ায় অন্তত ২৫ হাজার বেসামরিক নাগরিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তুর্কি সীমান্ত বন্ধ: চলতি মাসে সীমান্তে ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার সঙ্গে আরও একটি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্ক ওই বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য সিরিয়াকে দায়ী করলেও সিরিয়া তা নাকচ করে দেয়। তুরস্কের শুল্কমন্ত্রী হায়াত ইয়াজিছি জানান, ওই সীমান্ত আপাতত এক মাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিনা বিচারে ৩০ জন হত্যা ১০ গুমসহ নানা অভিযোগ

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, মানবাধিকার বিষয়ে বৈশ্বিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্ব আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
আর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি প্রধানমন্ত্রীর ২০১২-এর জানুয়ারির একটি মন্তব্য ‘দেশে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি’ উদ্ধৃত করার পাশাপাশি বছরজুড়ে ঘটা বিভিন্ন ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কয়েক ডজন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় লন্ডনে অ্যামনেস্টির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৩ প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্বের ১৫৯টি দেশের গত বছরের (২০১২) সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রকাশ করে থাকে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পরিস্থিতির বিবরণে বিনা বিচারে ৩০ জনকে হত্যা, ১০ জনের গুম এবং অনেকগুলো নির্যাতনের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু, নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা থেকে আদিবাসীদের রক্ষায় ব্যর্থতা, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু, সংখ্যালঘুদের প্রার্থনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাকেন্দ্রে হামলার বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
তবে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় সংস্থাটি এবারের প্রতিবেদনে মূলত অভিবাসী ও শরণার্থীদের ভোগান্তি এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়।  এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম ২
সংস্থাটি বলছে, বিশ্বব্যাপী সংঘাত থেকে বাঁচতে অথবা কর্মসংস্থানের আশায় দেশান্তরি হওয়া লাখ লাখ উদ্বাস্তু ও অভিবাসী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো তাদের নাগরিক অথবা উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার চেয়ে বেশি আগ্রহী সীমান্ত রক্ষায়।
অ্যামনেস্টির মহাসচিব সলিল শেঠি বলেছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে অনেক বেশিসংখ্যক সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত হচ্ছে, যা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বৈধ সীমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোতে রাজপথ এবং অনলাইন—উভয় ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ‘রাষ্ট্রের নির্মম আক্রমণ’কে একটি অভিন্ন প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের জন্য বিরোধী দল বিএনপির দাবি এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তির দাবিতে হরতাল কার্যকর করা এবং বিরোধীদের সমাবেশে সরকার-সমর্থকদের হামলার দৃষ্টান্ত এতে তুলে ধরা হয়।
বিনা বিচারে হত্যার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জনের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। আর নিহতদের পরিবারগুলো বলেছে, বেসামরিক পোশাক পরিহিত লোকজন র্যাব বা পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর মেরে ফেলা হয়েছে। এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার একজন কৃষক আতিয়ার রহমান ওরফে তোফা মোল্লার নিহত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়। র্যাবের দাবি, তিনি ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। আর তাঁর পরিবার ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, র্যাব তাঁকে আগের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁর মৃতদেহে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যেগুলোর মধ্যে দুটো ছিল পেছন দিকে।
নির্যাতন এবং দুর্ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোনো জবাবদিহি নেই। নির্যাতনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে মারধর করা, লাথি মারা, ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা, খাবার ও ঘুম থেকে বঞ্চিত করা এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। গত বছরে মোট ১০ জন গুম হয়েছেন উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতভাগ্য ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আর যাঁদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তাঁদের দেহে মারধর ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ক্ষেত্রে গত বছরের ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়া বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
নারী এবং মেয়েশিশুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌতুক দিতে না পারায় হত্যা, ধর্মীয় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সালিসের মাধ্যমে দোররা মারা, পারিবারিক সহিংসতা এবং যৌন সহিংসতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে দৃষ্টান্ত হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আলেয়া বেগম এবং তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করার অভিযোগের কথা বলা হয়। তাঁদের দুই দিন খোকসা থানায় আটক রাখার পর কুষ্টিয়া সদর থানায় নিয়ে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর কলেজপড়ুয়া মেয়েটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে পুলিশ যৌন নিপীড়ন চালায়। ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার পর তাঁরা ছাড়া পেয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে এসব অভিযোগ জানালে পুলিশ ২৬ সেপ্টেম্বর আবার তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
আগের বছরগুলোর মতোই গত বছরও সরকার আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের দাবি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি বলেছে, এই জনগোষ্ঠীর ওপর বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সুরক্ষা দিতে পারেনি।  পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশ উন্নয়নের দাবি সমর্থন করেছেন যেসব শ্রমিকনেতা, তাঁদের হয়রানি করা এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে জানিয়ে অ্যামনেস্টি গত বছরের ৪ এপ্রিল শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়া এবং পরে ঘাটাইলে তাঁর লাশ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে। পরিবার তাঁর দেহে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে। পরিবার বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল।
এ ছাড়া গত নভেম্বরে সাভারের তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরে বলা হয়, কারখানার কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য গেট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গত সেপ্টেম্বরে এক নতুন মাত্রা লাভ করে বলে মন্তব্য করে অ্যামনেস্টি বলেছে, ফেসবুকে কোরআন শরিফের বিকৃত ছবি প্রকাশের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের পটিয়া ও কক্সবাজারের রামুতে হাজার হাজার লোক ২০টি বৌদ্ধমন্দির ও আশ্রম, একটি হিন্দু মন্দির এবং বহু বাড়িঘর ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে ৪৫ জনের। আর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে একজনের।

লন্ডনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেনাসদস্য খুন

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের উলউইচে দুই হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই দুই হামলাকারী আহত হন। নিহত ব্যক্তি একজন সৈনিক ছিলেন বলে যুক্তরাজ্য সরকার বলছে। যুক্তরাজ্য এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে জরুরি বৈঠক করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী এমআই-ফাইভ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ তাঁকে জানিয়েছেন, হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে দুজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিত্সা চলছে। লন্ডনের ওই এলাকার পার্লামেন্টের সদস্য নিক রেইন্সফোর্ড জানান, হামলায় নিহত ব্যক্তিটি উলউইচ সেনানিবাসের একজন সেনাসদস্য। তবে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেমস বলেন, টি-শার্ট পরিহিত একজনের ওপর দুজন হামলা করেন। তাঁরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে দেন। দুই হামলাকারী ও হামলার শিকার ব্যক্তির বয়স প্রায় ২০ বছর হবে। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভয়ংকর এই হামলা চালানোর পর দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন এবং আশপাশের লোকজনকে তাঁদের ছবি তোলার আহ্বান জানান।