Monday, February 10, 2025
বইপত্র: মন্ত্রিসভা থেকে কেন পদত্যাগ করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ
‘দেশবাসী সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা,
বাংলাদেশে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তিসংগ্রাম আজ সাফল্যের তোরণে উপনীত হয়েছে।...’
রেডিওর সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ শোনে, শোনে আর কাঁদে—আনন্দে, গর্বে, বেদনামিশ্রিত বিজয়ের অনুভূতিতে।
সেই কণ্ঠস্বর ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের—পাদপ্রদীপের আড়ালে থাকা দূরদর্শী এক নেতা, যাঁর কৌশলী নেতৃত্ব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয় সম্ভব হতো না। শেখ মুজিব যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী, তখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন এক সদ্য জন্ম নেওয়া জাতির—নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সরকারকে, সামলেছিলেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি, গড়ে তুলেছিলেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির ভিত্তি। তাঁর জীবনের এমন সব ঐতিহাসিক সত্য নিয়েই মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন তাজউদ্দীন নামে একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
এই বইয়ে তাজউদ্দীন আহমদের কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবনকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। ভূমিকায় তিনি বলেই দিয়েছেন, ‘এটি তাজউদ্দীন আহমদের জীবনীগ্রন্থ নয়। এটি তাঁর রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বের আখ্যান। বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায় ১৯৭০ সালে, এই আখ্যানের শুরু সেখান থেকে। শেষ হয়েছে তাজউদ্দীন আহমদের জীবনের বিয়োগান্ত পরিণতিতে, যেদিন তাঁর শরীর ঘাতকের বুলেট আর বেয়নেটে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।’
তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও সে সময় তিনি দলের সহকর্মীদের অনেকেরই সহযোগিতা পাননি। ফলে এটি ছিল তাঁর জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর ওই সময়ের তৎপরতা ও গৃহীত অনেক সিদ্ধান্ত শেখ মুজিবের অনুমোদন পায়নি বলেই বোঝা যায়। এ জন্য সরকার ও দলের মধ্যে ধীরে ধীরে ব্রাত্য হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকেও বিদায় করে দেওয়া হয়।
বইয়ে লেখক তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক জীবন, তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, দলীয় রাজনীতির দ্বন্দ্ব ও ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের বিশ্লেষণ করেছেন। বিশেষত, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারে তাঁর অবস্থান, মুজিবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের জটিলতা এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যাকাণ্ড—এসব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন লেখক।
মহিউদ্দীন আহমদ দালিলিক প্রমাণ, স্মৃতিচারণা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাজউদ্দীন আহমদের জীবন ও রাজনীতির গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর কেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তাজউদ্দীন, তা নিয়েও সবিস্তার অনুসন্ধান আছে এখানে। আর এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে লেখক তাঁর বিশ্লেষণের সপক্ষে যুক্ত করেছেন বিভিন্নজনের চিঠি ও পেপার কাটিং। ফলে সেই সময়ের বাস্তবতা খুব নির্মোহভাবেই ফুটে উঠেছে। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারত সরকারের সঙ্গে তাজউদ্দীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সুন্দরভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে এখানে।
সৈয়দ মিজানূর রহমান
তাজউদ্দীন নামে একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন
মহিউদ্দিন আহমদ
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা; প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৪; প্রচ্ছদ: আনিসুজ্জামান সোহেল; ২৩২ পৃষ্ঠা; দাম: ৫৮০ টাকা।
বইটি পাওয়া যাচ্ছে prothoma.com এবং বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের ৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সভ্যতার শিখরে মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক মন ও মানসিকতা

অনেকেই হয়তো জানেন না যে রোমান সম্রাট কন্সতান্তিন চতুর্থ শতকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর থেকে পৌত্তলিক গ্রীকদের উপাসনালয় এবং জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রগুলিকে খ্রিস্টধর্মের মূল বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক ধরে নিয়ে একে একে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর জের ধরে ষষ্ঠ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট জাস্টিনিয়ান (Justinian I in 529 CE) বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্রসহ জ্ঞানের সাধনায় নিয়োজিত গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর প্রতিষ্ঠিত আকাদেমি চিরতরে বন্ধ করে দেয়। এই জাতীয় মন-মানসিকতার ফলস্বরূপ খ্রিষ্টান ইউরোপে মুক্তচিন্তার সাধনা একরকম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক হাজার বছর ধরে প্রাচীন গ্রীক জ্ঞান-ভান্ডার গ্রীকভাষী খ্রিস্টান বাইজেন্টাইন রোমান সাম্রাজ্যের হস্তগত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা এ জ্ঞানের ব্যাপক চর্চা, প্রসার, এবং উৎকর্ষ সাধনে ব্যর্থ হয়। রেনেসাঁর উৎপত্তির আগ পর্যন্ত এইসময়টি ইউরোপীয় সভ্যতার জন্য একারণে অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টি সচরাচর আলোচিত হয় না, তা হোল সপ্তম শতাব্দীর পর থেকেই একে একে মিশর, মেসোপটেমিয়া, পারস্য, ভারতসহ অতীত সভ্যতার জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র গুলো মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রীক বিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে পরিচিত ইউক্লিড, আর্কিমিডিস, টলেমী, গ্যালেনসহ অনেক মনীষী একসময় মিশরে অবস্থিত গ্রীক আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরিতে জ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের কাজগুলো ঐ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হয় যার বেঁচে যাওয়া (রোমান সিজারের অগ্নিকান্ড হতে) অংশগুলো পরবর্তীতে মুসলিমদের আয়ত্তে আসে। মুসলিমদের কাছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝে আপাত: দ্বন্দ্ব ছিল না বিধায় তারা হারিয়ে যাওয়া গ্রীক, পারস্য, ভারতীয় সভ্যতার জ্ঞান-ভাণ্ডারকে ধারণ করে। এমনও সময় ছিল যখন বাগদাদের খলিফা অতীতের মূল্যবান পুস্তক অনুবাদের পুরষ্কারস্বরূপ বইয়ের ওজনের সমতুল্য স্বর্ণ অনুবাদককে প্রদান করতেন। বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমাহ'(House of Wisdom) তে শুরু হওয়া আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের ‘Translation Movement’ এর সময় অসংখ্য গ্রীক ক্লাসিক আরবীতে অনুদিত হয়। ইউরোপে প্রচলিত রোমান নিউমেরাল সিস্টেমে গণিতের ব্যাপক উৎকর্ষ সম্ভব ছিল না। আরব গণিতবিদেরা প্রাচীন ভারতীয় নিউমেরাল সিস্টেমের জ্ঞান ধারণ করে এর পরিবর্ধন, উৎকর্ষ, ও ব্যাপক প্রচলন করেন। আল-খোয়ারিজমি (al-Khwārizmī) সহ মুসলিম গাণিতিকরা গ্রীক জ্যামিতির গণ্ডির বাইরে এসে অ্যালজেব্রার উদ্ভাবনসহ আধুনিক গণিতের চরম প্রসার নিশ্চিত করেন। পাশ্চাত্যের সুপরিচিত ইটালীয় গণিতবিদ ফিবোনাচ্চি (Fibonacci) মুসলিম নর্থ আফ্রিকাতে বসে হিন্দু-অ্যারাবিক নিউমেরাল সিস্টেম অধ্যয়ন করেন।
জ্ঞানসাধনায় মুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিভঙ্গি কতখানি উদার এবং প্রগতিশীল ছিল, তা বোঝাতে শুধু একটি উদাহরণই যথেষ্ট। অনেকেই জানেন না যে প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী আল-বিরুনী তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যয় করেন। ১০১৭ সনে ভারতে গমনের পর একাদশ শতাব্দীর ভারতের ইতিহাস, জিওগ্রাফি, ভূতত্ত্ব, বিজ্ঞান, গণিত, জাতিভিত্তিক প্রথা ও ধর্মবিশ্বাসের উপর ‘তারিখ আল-হিন্দ’ (History of India a.k.a The Indica) নামে একটি বিশদ, নিরপেক্ষ গবেষণাধর্মী এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেন যার জন্য তাঁকে ‘Founder of Indology’ এবং ‘First Anthropologist’ বলা হয় – কাজটির জন্য তাঁকে al-Ustadh (The Master) উপাধিতেও ভূষিত করা হয়। অন্যদিকে গ্রীক পণ্ডিত ইরাতোস্থেনিসের (Eratosthenes) প্রবর্তিত ব্যবস্থার বাইরে এসে (যে ব্যবস্থায় তাঁকে ৫০০ মাইল ব্যবধানে অবস্থিত দু’টি স্থানে পরিমাপ নিতে হয়) পাঞ্জাবের Pind Dadan Khan এলাকাস্থিত নান্দনা (Nandna) দুর্গে বসে পাহাড়ের উচ্চতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ পরিমাপের নতুন পন্থা তিনি উদ্ভাবন করেন যার দ্বারা নির্ণীত ব্যাসার্ধ প্রায় নির্ভুল (আধুনিক স্যাটেলাইটের সাহায্যে নির্ণীত ব্যাসার্ধের সাথে কেবল ১০০ মাইলের মতো তফাত) পরিগণিত হয়। এ কারণে তাঁকে ‘Father of Geodesy’ বলা হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সমূহ অবদান রাখা এই মনীষী ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম।
মূলত উৎস যাই হোক, জ্ঞানসাধনার প্রতি সামগ্রিকভাবে মুসলিম মনীষীদের এমন নিরপেক্ষ, বুদ্ধিবৃত্তিক, এবং আগ্রহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অচিরেই মানবলব্ধ জ্ঞানভাণ্ডার এশিয়া, ইউরোপ, নর্থ আফ্রিকাতে বিস্তৃত সমগ্র মুসলিম সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপ যখন ঘোর অন্ধকার যুগে আচ্ছন্ন, তখন মুসলিম সভ্যতা জ্ঞানের মশালকে শুধু প্রজ্বলিতই রাখেনি, মুসলিম মনীষীরা এর প্রভূত বিকাশ ঘটান এবং জ্ঞানের মশাল বয়ে নিয়ে যান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, এর হাত ধরেই একসময় ইউরোপে অ্যাকাডেমিক রেনেসাঁর উৎপত্তি হয়।
পাশ্চাত্য সভ্যতায় মুসলিমদের অবদান ঠিক কি ও কতখানি, তা নিয়ে তাদের একটি বিশাল অংশ কেবল অজ্ঞই নয়, বরং অনেক রকম বিভ্রান্তি ও মিথ্যা প্রচারণার শিকার। এর পেছনের জটিল কারণগুলো নিয়ে অন্যদিন আলোচনা করা যাবে। এই প্রচারণার একটি বড় শিকার হচ্ছে পাশ্চাত্যের নারীরা। এটা তাদের জানারও কথা নয় যে দ্বিতীয় খলিফা উমর(রা:) এর সময়ে ৬৩৫ ইং সনে প্রথমে মদিনা এবং পরবর্তীতে বসরায় স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী ছিলেন আল-শিফা নাম্নী জনৈক মুসলিম মহিলা। কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০০ বছর আগে ৮৫৯ সনে মরক্কোর ফেজ নগরীতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকা বিশ্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিশ্ববিদ্যালয় আল-কারাউইয়্যিন (al-Qarawiyyin, Arabic: جامعة القرويين) প্রতিষ্ঠা করেন ফাতিমা আল-ফিহরি নামক জনৈক ধনী বণিককন্যা। ধর্মীয় উপাসনালয় না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আল-ফিহরি নিয়মিত রোজা রাখতেন বলে কথিত আছে। জ্ঞানচর্চাকে ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সম্পূরক ও পরিপূরক গণ্য করে কতখানি মর্যাদা দেয়া হোত, এ তারই প্রমাণ। দশম শতাব্দীতে Pope Sylvester II (পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্মপ্রধাণ) স্পেনের কর্ডোভা-সহ ফাতিমা আল-ফিহরির আল-কারাউইয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ফিরে গিয়ে ইউরোপে তিনি অ্যারাবিক ডেসিমাল নিউমেরাল সিস্টেম প্রচলন করেন। প্রসঙ্গত, আজকের ধনবান আরব প্রিন্স ও প্রিন্সেসদের সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শোনা যায়; এর পরিবর্তে তাঁদের কেউ কি বিশ্বের সবচাইতে বড় পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণ বা তথ্য-প্রযুক্তির সমন্বয়ে জ্ঞানের চর্চা ও প্রসারে বিপুল অবদান রাখার কথা চিন্তা করতে পারেন?
প্রাসঙ্গিকভাবে, বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান HP (Hewlett-Packard Company) এর এককালীন CEO কার্লি ফিওরিনার একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য উদ্ধৃত করছি । ২০০৫ সাল পর্যন্ত ফিওরিনা ছিলেন Fortune 500 কোম্পানির সর্বময় কর্তৃত্বে আসা সাকুল্যে তিনজন নারীর একজন। Fortune ম্যাগাজিনের 50 most powerful women in business in the United States লিস্টে ছয়বার ফিওরিনার নাম আসে এক নম্বরে। ম্যানেজমেন্ট এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রিধারী ফিওরিনা Stanford University থেকে Medieval History ও Philosophy তে গ্র্যাজুয়েশন করেন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ফিওরিনার “Technology, Business, and our way of life: What’s next” শীর্ষক বক্তব্যের অংশবিশেষ নিচে উদ্ধৃত হোল। ইতিহাস, ঐতিহ্য, এবং বাস্তবতার খেই হারিয়ে ফেলা উগ্র ধর্মবিদ্বেষী এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর লাগামহীন প্রচারণায় দিশেহারা অবস্থায় এ উদ্ধৃতি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। একই সাথে এতে রয়েছে ভবিষ্যতের কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব ব্যবস্থার উপরেও কিছু দিক-নির্দেশনা।
***“একসময় পৃথিবীতে এমন এক সভ্যতা ছিল, যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ গণ্য করা হোত। এই সভ্যতা একটি আন্ত মহাদেশীয় সুপার-ষ্টেট তৈরি করতে সমর্থ হয়, যার বিস্তৃতি ছিল এক মহাসাগর থেকে অন্য মহাসাগর পর্যন্ত – উত্তরের হিমাঞ্চল, ক্রান্তীয় অঞ্চল, মরুভূমিসহ বিভিন্ন জলবায়ুর ভূখন্ড এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন মতবাদ এবং জাতিগোষ্ঠীর লক্ষ কোটি মানুষের সমন্বয়ে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
***পৃথিবীর বিশাল একটি অংশের জন্য এর ভাষা হয়ে উঠেছিল সার্বজনীন, যা শত শত ভূখণ্ডের অধিবাসীদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছিল। এর সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন জাতির সৈন্য সমাবেশ ঘটেছিল। রাষ্ট্রের শান্তি এবং সমৃদ্ধির সুরক্ষায় এ সেনাবাহিনী এমন পারদর্শী ছিল, যার জুড়ি মেলা ভার। এই সভ্যতার বাণিজ্যের প্রসার লাতিন আমেরিকা এবং চীনের মধ্যকার সমগ্র অঞ্চলে সুবিস্তৃত ছিল।
***আর সবকিছু ছাপিয়ে এই সভ্যতার চলৎশক্তি হয়ে উঠেছিল এর উদ্ভাবনী ক্ষমতা। এর স্থপতিরা অভিকর্ষের বিপরীতে নির্মাণ করেছিলেন বিস্ময়কর স্থাপত্য নিদর্শন। এর গণিতবিদরা আবিষ্কার করেছিলেন আলজেব্রা আর অ্যালগরিদম, যা আধুনিককালে কম্পিউটার থেকে এনক্রিপশন পদ্ধতি আবিষ্কারের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এর চিকিৎসকরা মানবদেহ বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, সেই সাথে আবিষ্কার করেছিলেন বিভিন্ন রোগের প্রতিকার। এর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গভীরভাবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নক্ষত্রের নামকরণ করেছিলেন, পরবর্তীকালের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন মহাকাশভ্রমণ ও অনুসন্ধানের দ্বার। এর সাহিত্যিকরা রচনা করেছিলেন বীরত্ব, প্রেম, মোহ নিয়ে হাজারো উপাখ্যান। এর কবিরা অকুণ্ঠে লিখেছেন প্রেমের কবিতা, তাঁদের আগে অন্যরা যা নিয়ে লিখতে সাহস পেত না।
***ভিন্ন চিন্তা ও দর্শনের চর্চা – যা নিয়ে সমসাময়িক অন্যান্য জাতির চূড়ান্ত ভীতি ছিল – তা এই সভ্যতার ছায়াতলে ব্যাপক প্রসার ও সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। অতীত সভ্যতার জ্ঞান যখন দমন-পীড়নের কারণে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল, তখন এই সভ্যতার ধারক-বাহকরাই সে জ্ঞানকে বাঁচিয়ে রেখেছিল এবং তা পৌঁছে দিয়েছিল পরবর্তী প্রজন্মের কাছে।
***আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতায় এর অনেকগুলো বিষয়ই আজ আমাদের পরিচিত, কিন্তু আমি যে সভ্যতার কথা বলছি, তা হল ৮০০ হতে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মুসলিম সভ্যতা, যার অধীনে ছিল অটোম্যান সাম্রাজ্য, বাগদাদ, দামেস্ক, কায়রোর মত শহর এবং সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এর মত জ্ঞানবান শাসক।
***যদিও এই সভ্যতার কাছে আমরা ঠিক কতখানি ঋণী, সে ব্যাপারে আমরা অনেকেই বিন্দুমাত্র ধারণা রাখি না, তবে সত্য এই যে, আমাদের ঐতিহ্যের অনেক কিছুই তাঁদের অবদান। আরব গণিতবিদদের অবদান ছাড়া আজকের প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হত না। রুমির মতো সুফি কবি-দার্শনিকরা সত্তা ও সত্য নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন। সুলেমানের মতো মহান শাসক সহনশীলতা ও নাগরিক নেতৃত্ব বিষয়ক ধারণায় সমূহ অবদান রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে – এ নেতৃত্ব ছিল যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত – উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নয়। এ ছিল এমনই এক নেতৃত্ব ব্যবস্থা যা খ্রিস্টান, মুসলিম, এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও সামর্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছিল**শিল্প-সংস্কৃতি, সহনশীলতা, বৈচিত্র্য, বীরত্ব গাঁথায় পূর্ণ এমন একটি আলোকিত নেতৃত্ব সুদীর্ঘ ৮০০ বছরের উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির প্রসার নিশ্চিত করেছে।
***আজকের অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং গুরুতর সময়ে অনুরূপ মহান একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমাদের অঙ্গীকার করা প্রয়োজন। অতীতের যে কোনও সময়ের চাইতে এখন সাহসী এবং ব্যক্তিগত আচরণে দায়িত্বশীল একটি নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার। সম্মিলিতভাবে আমাদের জন্য নেতৃত্বের ভূমিকা ঠিক কি হওয়া উচিত, সে প্রশ্ন দিয়ে আমি আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই …”
ফিওরিনার মতো একজন প্রভাবশালী নারীর উদ্ধৃতিতে মনে হতে পারে পাশ্চাত্যের প্রচলিত ধ্যান-ধারণায় কিছুটা হলেও পরিবর্তন এসেছে, যা আশার কথা। তাঁর এ উক্তি অনেককে ইসলাম সম্পর্কে নতুন করে পড়াশোনা করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে যা তাদের বিভ্রান্তি নিরসনে সহায়ক হবে। কেবল অমুসলিমদের জন্য নয়, হালের মুসলিমদের জন্যও একথা সমভাবে প্রযোজ্য। সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থায় জ্ঞানের প্রতি ধর্মপ্রাণ মুসলিম মনীষীদের যে উদার, যৌক্তিক, প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এই নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে, তা সমকালীন মুসলিম বিশ্বে অনেকটাই অকল্পনীয়। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষের এযুগে ধর্মবিদ্বেষী ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর ক্রমাগত আগ্রাসনে উঠতি প্রজন্মকে ধর্ম সম্পর্কে খুব সহজে বিভ্রান্ত হতে দেখা যায়, যা থেকে অনেকাংশে প্রতীয়মান হয় যে সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য, বা দর্শন সম্পর্কে এদের জ্ঞান খুবই সামান্য।
প্রশ্ন উঠতে পারে, ইতিহাস নিয়ে কথা বলা কি অতীত নিয়ে পড়ে থাকা? আমার মতে অবশ্যই নয়, কারণ ইতিহাস কেবল অতীতের বিশেষ ঘটনাবলীর চর্চা নয় – অতীতকে পরম তপস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও এর মূল লক্ষ্য নয়। বরং অতীতের কোন মন-মানসিকতা বা চিন্তা-চেতনা সামগ্রিকভাবে একটি জাতির চরম উৎকর্ষের সহায়ক শক্তি হয়েছিল বা তার পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল, তা বিশেষভাবে শেখার বিষয়। ইতিহাসলব্ধ জ্ঞান একটি জীবন্ত ও গতিশীল সমাজে কিভাবে প্রতিফলিত হবে তার কোনও সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। কারও জন্য এর গুরুত্ব বুদ্ধিবৃত্তিক বা জ্ঞানের প্রসারের মাঝে সীমাবদ্ধ। কারও কাছে তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নির্দেশনার উৎস। প্রতিফলন যেভাবেই হোক, ইতিহাস চর্চার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ অতীতমুখী মনোভাব বা অনুতাপে বিদ্ধ হওয়া নয়, বরং অতীতের নির্মোহ বিশ্লেষণলব্ধ জ্ঞানে উদ্বুদ্ধ ও সমৃদ্ধ হয়ে মানবসভ্যতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইলন মাস্ক যেভাবে বিশ্বের ১ নম্বর সমস্যা হয়ে উঠলেন by সোমদীপ সেন
তিনি মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডিকে ‘অপরাধী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে এটির ‘মৃত্যু’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া তিনি নতুন সরকারি বিভাগ ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডজ) প্রধান হিসেবে কঠোর ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করছেন, যা অনেকের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মাস্কের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি কট্টর ডানপন্থী ট্রাম্প ও তাঁর মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) আন্দোলনকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মাস্ক তাঁর ‘বিশ্বভ্রমণ’ শুরু করেছেন। তিনি চরম ডানপন্থী মতাদর্শ উসকে দিচ্ছেন এবং যুক্তরাজ্যে তাঁর অনুগত উগ্রপন্থী নেতাদের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছেন।
গত এক বছরে মাস্ক যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থী ব্যক্তিদের (যেমন টমি রবিনসন ও নাইজেল ফারাজ) বারবার সমর্থন দিয়েছেন। জানুয়ারির শুরুতে তিনি আবারও ‘ফ্রি টমি রবিনসন!’ লিখে টুইট করেন এবং রবিনসনের বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘সাইলেন্সড্’-এর লিংক শেয়ার করেন। ওই তথ্যচিত্রে রবিনসন ভুলভাবে দাবি করেন, সিরীয় শরণার্থী কিশোর জামাল হিজাজি ইংরেজ স্কুলছাত্রীদের আক্রমণ করেছিল এবং এক সহপাঠীকে ছুরিকাঘাতের হুমকি দিয়েছিল।
২০১৮ সালে ইয়র্কশায়ারের এক স্কুলে জামাল হিজাজিকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে টমি রবিনসন একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যা ১০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছিল। ফলে হিজাজির পরিবার মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়ে।
পরবর্তী সময় মার্কিন ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত টমি রবিনসনের বিরুদ্ধে জামাল হিজাজি মানহানির মামলা করেন। সে মামলায় রবিনসন পরাজিত হন। আদালত হিজাজিকে ১ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড (প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে এবং ৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার ডলার) আইনগত খরচ বহন করতে নির্দেশ দেন রবিনসনকে। পাশাপাশি তাঁকে হিজাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে পুনরাবৃত্তি করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
টমি রবিনসন ‘সাইল্যান্সড্’ নামের একটি তথ্যচিত্র তৈরি করে আবারও জামাল হিজাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। তিনি এটি লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দেখান এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দেন, যা আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে। এ জন্য তাঁকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিন্তু ইলন মাস্ক এসব উপেক্ষা করে রবিনসনকে সমর্থন করেন। তিনি এ ঘটনাকে ব্যবহার করে প্রচার করতে চান, পশ্চিমা দেশে ব্যাপক অভিবাসন নারীদের জন্য হুমকি। এ ধারণা ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর মাস্ক সেটাকেই কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন।
গত গ্রীষ্মে এক রুয়ান্ডান বংশোদ্ভূত ব্যক্তি তিনজন ব্রিটিশ কিশোরীকে হত্যার পর যুক্তরাজ্যে সহিংস অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আসল উত্তেজনা তৈরি হয় মিথ্যা প্রচারের কারণে, যেখানে কট্টর ডানপন্থীরা, বিশেষ করে টমি রবিনসন, ভুল তথ্য ছড়িয়ে দাবি করেন, হত্যাকারী আল সাকাতি নামের ১৭ বছর বয়সী একজন আশ্রয়প্রার্থী।
এ ছাড়া ব্রিটেনে এক দশক ধরে আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং স্ক্যান্ডাল’কেও (এমন একটি প্রচারণা যেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষেরা শ্বেতাঙ্গ কিশোরীদের নিপীড়ন করেছে) মাস্ক ও কট্টর ডানপন্থীরা বর্ণবাদী ও অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছেন।
২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওল্ডহ্যামে তথাকথিত ‘গোপন তথ্য লুকানোর’ ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু মাস্ক সত্যকে উপেক্ষা করে ‘গোপন তথ্য লুকানোর’ ধারণা ছড়িয়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি মাস্ক দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (যিনি ২০০৮-২০১৩ সালে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, সংক্ষেপে ‘সিপিএস’ পরিচালনা করেছেন) ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। টুইটে তিনি লেখেন, ‘স্টারমার ব্রিটেনের ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগী ছিলেন এবং তাঁর বিচার হওয়া উচিত।’
মাস্ক যুক্তরাজ্যের উপমন্ত্রী জেস ফিলিপসকে ‘ধর্ষণের সমর্থক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং রাজা চার্লসকে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাস্কের টুইট ও টমি রবিনসনের মতো ব্যক্তিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন হয়তো যুক্তরাজ্যে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে তিনি স্পষ্টভাবেই দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কট্টর ডানপন্থার উত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করছেন।
মাস্ক তাঁর বিশ্বব্যাপী কট্টর ডানপন্থা উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জার্মানিতেও হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি দেশটির কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) প্রকাশ্য সমর্থক হয়েছেন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এএফডিকে জার্মানির ‘শেষ আশার আলো’ বলে উল্লেখ করেন। সে লেখায় তিনি বলেন, অভিবাসন সীমিত করার মাধ্যমে দলটি দেশকে নিরাপদ রাখতে ও জার্মান সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে।
জানুয়ারির শুরুতে মাস্ক এক্সে এক সরাসরি আলোচনায় এএফডির নেতা অ্যালিস ভিডেলের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, শুধু এএফডি–ই দেশকে অভিবাসনজনিত অপরাধ বৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। ভিডেলও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, হিটলার আসলে কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক ছিলেন।
জানুয়ারির শেষ দিকে মাস্ক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জার্মানির হাল্লেতে এএফডির এক সমাবেশে বক্তৃতা দেন। সেখানেও তিনি এএফডিকে জার্মানির ভবিষ্যতের ‘সর্বশেষ আশা’ বলে অভিহিত করেন।
এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ভিডেলকে প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার মাধ্যমে মাস্ক সম্ভবত এএফডিকে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ট্রাম্পের মতো জয়ী করতে সাহায্য করতে চাইছেন।
ট্রাম্প কট্টর ডানপন্থীদের উত্থানে ভূমিকা রাখছেন। তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে মাস্কও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন।
এ ছাড়া মাস্ক প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেয়ির প্রশংসা করেছেন। মিলেয়ির কঠোর অর্থনৈতিক নীতিগুলো তার ‘ডজ’ নীতির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। মিলেয়ি ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরে মাস্ক এল সালভাদরের বিতর্কিত নেতা নায়িব বুকেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নায়িব বুকেল কঠোর অপরাধ দমন নীতি ও গণহারে লোকজনকে জেলে পাঠানোর জন্য বিশাল কারাগার বানানোর জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছেন। এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত অপরাধীদের বুকেলের কারাগারে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। বুকেলে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফি নিয়ে তাদের কয়েদিদের রাখার মাধ্যমে তিনি নিজের কারাগারব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চান।
মাস্কের ডানপন্থী প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও কিছু দেশে তা প্রভাব ফেলছে। পোল্যান্ডে এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটার মাস্ক–সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
এটি ঠিক, মাস্কের বৈশ্বিক ডানপন্থী বিপ্লবের প্রচেষ্টা এখনো প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তাঁর কিছু পদক্ষেপ সফল হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তিনি হয়তো যে রকম প্রভাব চাচ্ছেন, তা না–ও হতে পারে। তবে এটি চিন্তার বিষয় যে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্রে মাস্ক অনেক দূর এগিয়ে গেছেন।
সোমদীপ সেন রস্কিল্ড ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক
আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ইলন মাস্ক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় আগ্রাসন: নেতজারিম করিডর ছেড়ে গেল ইসরায়েলি বাহিনী
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস পঞ্চম ধাপের বন্দিবিনিময় সম্পন্ন করে গত শনিবার। এরপর শর্ত অনুযায়ী গতকাল সকালে নেতজারিম করিডর থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল। তাঁরা বর্তমানে গাজা ও ইসরায়েল সীমান্তের বাফার জোনে অবস্থান নিয়েছেন।
সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ওপর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নেতজারিম করিডর ও এর আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। এমনকি সেখানকার কৃষিজমিগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর গাজার উত্তর ও দক্ষিণাংশের মধ্যে বেসামরিক লোকজনকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এখন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর গাজায় যানবাহন চলাচল ও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ বাড়বে।
গাজাকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নেতজারিম করিডর তৈরি করেছিল ইসরায়েল। ওই এলাকায় অনেক সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হামাস বলেছে, এটি যুদ্ধের আরেকটি লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের ব্যর্থতারই প্রমাণ।
পশ্চিম তীরে অভিযান বিস্তৃত
এদিকে গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম তীরের জেনিনের পর এবার নুর শামস এলাকায়ও সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। এর আগে ২১ জানুয়ারি জেনিনে ‘আয়রন ওয়াল’ নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, নুর শামস শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের একজন হলেন ২৩ বছর বয়সী সোনদোস জামাল মুহাম্মদ শালাবি। এ সময় তাঁর গর্ভের আট মাসের সন্তানও নিহত হয়। গুরুতর আহত হন শালাবির স্বামী। নিহত অপরজন হলেন ২১ বছর বয়সী রাহাফ ফুয়াদ।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান সৌদির
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। গতকাল এক বিবৃতিতে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় জাতিগত নিধনসহ ফিলিস্তিনি ভাইদের ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের চালানো অপরাধ থেকে নজর সরাতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলো ইসরায়েলি নেতার (নেতানিয়াহু) বক্তব্যের নিন্দা জানানোয় এবং বিষয়টির বিরোধিতা ও পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করায় বিবৃতিতে সাধুবাদ জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে ইসরায়েলি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে মিসর। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতও সৌদি আরবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ঘিরে ‘সর্বশেষ মারাত্মক ঘটনাপ্রবাহ’ নিয়ে আলোচনা করতে ২৭ ফেব্রুয়ারি আরব দেশগুলোর জরুরি সম্মেলন ডেকেছে মিসর। গতকাল মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মিসর ও জর্ডানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশ দুটি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ‘জরুরি আরব সম্মেলন’ আহ্বান করল মিসর।
| নেতজারিম করিডর থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর বেসামরিক লোকজন গাজার উত্তরে যাচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
