Showing posts with label ভেনেজুয়েলা. Show all posts
Showing posts with label ভেনেজুয়েলা. Show all posts

Monday, March 17, 2025

কারাগারে রাখার জন্য ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিককে এল সালভাদরে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিকসহ মোট ২৬১ ব্যক্তিকে এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটির এক বিচারক তাদের প্রত্যর্পণ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাদের প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন  ট্রাম্প প্রশাসনের এই কাজের সমালোচনা করেছে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের কথা পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নায়েব বুকেলে লিখেছেন, প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়ার গ্যাংয়ের  ২৩৮ সদস্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্যাং গোষ্ঠী এমএস-১৩ এর সদস্য রয়েছে ২৩ জন।

এসব ব্যক্তিকে এল সালভাদরের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে রাখা হবে। এ জন্য মধ্য আমেরিকার দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যদের দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য গত শুক্রবার কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত।

পরের দিন শনিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ ১৭৯৮ সালের ওই ভিনদেশি শত্রু আইনের ব্যবহার ১৪ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্ত ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে’ বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকের নির্দেশ নিয়ে কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলেছেন, ‘উফ... অনেক দেরি হয়ে গেছে’।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অন্য দেশের অপরাধীদের এল সালভাদরের কারাগারে রাখার জন্য গত মাসে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি হয়েছে। এটাকে ‘অভূতপূর্ব ও অসাধারণ অভিবাসন চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

নায়েব বুকেলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের জন্য সন্ত্রাসবাদ বন্দিশিবিরে (সেকট) পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আটকাদেশ বাড়ানো হতে পারে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, ‘তাদের (প্রত্যর্পিত) পেছনে ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব কম অর্থ দেবে, কিন্তু আমাদের জন্য বিপুল অর্থ দেবে।’

শনিবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার ৩০০ অভিযুক্ত সদস্যকে এক বছর জেলে রাখতে এল সালভাদরকে ৬০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন আইন প্রয়োগ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ভেনেজুয়েলা। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের অন্যায়ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করছে। [এর মাধ্যমে] দাসপ্রথা থেকে শুরু করে নাৎসি বন্দিশিবিরের ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে, যা মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার পর্ব হিসেবে পরিচিত।’

এসব ব্যক্তিকে বিমানবন্দর থেকে এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, July 10, 2019

অবশেষে সংলাপে সম্মত ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা

নিকোলাস মাদুরো
নরওয়ের মধ্যস্ততায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা। নরওয়ে সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সপ্তাহেই আলোচনা শুরু হতে পারে। দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ও বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো বলেছেন, যে কোনও আলোচনা অবশ্যই চলমান রাজনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে হতে হবে আর তা মাদুরোর সময় ক্ষেপণের চেষ্টা হতে দেওয়া হবে না।
২০১৫ সাল থেকে খাবার  ও চিকিৎসার অভাবে সৃষ্ট মানবিক সংকট থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ নাগরিক ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে অভ্যুত্থানের ডাক দেন তিনি। এতে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। 
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট সমাধানে গত মে মাসে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময়ে মে মাসে অসলো’তে আলোচনায় সম্মত হয় গুইদোর সমর্থকরা। তবে একে সময় ক্ষেপণের প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তোলেন গুইদো। জুনে নিজস্ব সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরেক দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষ।
রবিবার ভেনেজুয়েলার তথ্যমন্ত্রী নরওয়ে সরকারের বিবৃতি টুইটারে পোস্ট করে আলোচনা শুরুর কথা জানান। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে ভেনেজুয়েলার তথ্যমন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণ, আমাদের মিত্র এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তি আমাদের অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই নির্বাচন আমাদের সংকট উত্তরণ ও ফলপ্রসু ভবিষ্যত নির্মাণের পথ সুগম করবে’।

Friday, June 28, 2019

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন ভেনেজুয়েলায়!

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন ভেনেজুয়েলায়!
বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রথম প্রচলন হয় ২০০৯ সালে। বর্তমানে বিটকয়েন ছাড়াও অনেকগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলিত আছে। গত ১০ বছরে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে এখন দু’জন প্রেসিডেন্ট। একজন নিকোলাস মাদুরো, অন্যজন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে দেখা দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি।
ভেনেজুয়েলার মুদ্রার নাম বলিভার। দেশটিতে এখন এক কাপ কফি কিনতে খরচ করতে হয় ২ হাজার ৮০০ বলিভার (২৮ সেন্ট)। মাত্র ১২ মাস আগে এক কাপ কফির দাম ছিল ০.৭৫ বলিভার। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পণ্য, টয়লেট পেপার ও ওষুধের সংকট, একই সঙ্গে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভেনেজুয়েলার ৩০ লাখের বেশি নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় দেশটির অনেকেই বলিভারের বিকল্প হিসেবে বিটকয়েনের মতো ডিজিট্যাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি দেশটির সরকারও আর্থিক সংকট সমাধানে ‘পেট্রো’ নামে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করেছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ, কেউ এই ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ নেই।
২৮ বছর বয়সি ভেনিজুয়েলার নাগরিক এলি মেরেগোট বর্তমানে কলম্বিয়ায় বসবাস করছেন। দেশে অর্থ পাঠানোর জন্য তিনি বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছেন। এতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার বাড়তি ফি দিতে হচ্ছে না। সিসিটিভি টেকনিশিয়ান মেরেগোট বলেন, ভেনিজুয়েলায় ২০১৭ সালে চাকরি হারানোর পর আমি প্রথম ক্রিপ্টো আবিষ্কার করি। ভেনিজুয়েলায় চাকরি করাটাও ছিল অর্থহীন, কেননা মাসে সর্বনিম্ন মজুরি ছিল মাত্র ৪ ডলার।
তার মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ফলে কোনও ব্যাঙ্ক বা তৃতীয় পক্ষ তার অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। অর্থের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি বলেন, বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তিনি দ্রুত এবং কোনো বাধা ছাড়াই দেশে অর্থ পাঠাতে পারেন।
বিটকয়েন হলো প্রচলিত একটি ডিজিট্যাল মুদ্রা। কোনো দেশের সরকার বা ব্যাংক এতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এর সব লেনদেন ব্লকচেন নামে একটি ডাটাবেজে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত থাকে। বর্তমানে বিশ্বে বিটকয়েনের মতো ১ হাজার ৬০০-র বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব মুদ্রা অস্থিতিশীল এবং ইন্টারনেটে অবৈধ পণ্য কিনতে এসব মুদ্রা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অর্থ পাচারকারীরাও এসব মুদ্রা ব্যবহার করেন।
ভেনেজুয়েলার অধিবাসীরা বিটকয়েন, লাইটকয়েন, ড্যাশ বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ডিজিট্যাল ওয়ালেটে তাদের অর্থ সংরক্ষণ করেন। নিজেদের মুদ্রা সংরক্ষণ করার চেয়ে এটিই তাদের জন্য ভালো। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্রিপ্টোর লেনদেন কিছুটা কমেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ডাটা ট্র্যাকার কয়েন ড্যান্সের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভেনিজুয়েলায় সপ্তাহে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন হয়েছে, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড।
কারাকাসের কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ইকোন্যানালিটিকার অর্থনীতিবিদ আসদ্রুবাল অলিভেরোস বলেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভেনেজুয়েলার মুদ্রা বলিভারের মারাত্মক পতন হয়েছে। কিছুটা মান ধরে রাখতে অনেকেই বলিভারকে বিটকয়েনে রূপান্তর করছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার অনেকেই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তারা বিটকয়েনেই তাদের কাজের মজুরি পাচ্ছেন। কারণ, বেশির ভাগ মানুষেরই বিদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। যার কারণে ডলারে লেনদেন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বলিভারে মজুরি পাওয়ার কোনো অর্থ হয় না।

Monday, June 10, 2019

ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ৪০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে ৪০ লাথেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৫০টি দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। খাদ্য-ওষুধের প্রবল সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসী আশ্রয় নিচ্ছেন প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশে। যুক্তরাষ্ট্রসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা মনে করে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ গোয়াইদোর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় বিতরণ করা সম্ভব হলে তা মাদুরোর ভাবমূর্তিকে দেশবাসীর সামনে ম্লান করে দিতে সক্ষম হবে। আর মাদুরোর দাবি, ত্রাণ দেওয়ার মাধ্যমে সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের।
জাতিসংঘ জানায়, ২০১৫ সালের শেষ দিকে থেকে দেশত্যাগের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিগত সাত মাসেই পালিয়েছে ১০ লাখ মানুষ। তারা জানার্য়, এই অভিবাসী ও শরণার্থীদের জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানায়, বিশ্বে এখন ভেনেজুয়েলার জনগণই সবচেয়ে বেশি স্থানচ্যুত। জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সূত্র থেকে তারা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তবে তারা এই দেশত্যাগ শুরুর নির্দিষ্ট কেনাও তারিখের কথা বলেনি।  
শরণার্থ বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র বিবিসিকে জানায়, যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক অভিবাসীর প্রকৃত হিসেব কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
ভেনেজুয়েলার শরণার্থী ও অভিবাসীর জন্য ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের বিশেষ প্রতিনিধি এডুয়ার্ডো স্টেইন বলেন, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে এই সংকট বেশি। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এর সমধানা করা সম্ভব নয়।
লাতিন আমেরিকাতেই বেশিরভাগ ভেনেজুয়েলান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী কলম্বিয়াতে ১৩ লাখ ও পেরুতে ৭ লাখ ৬৮ হাজার ভেনেজুয়েলান নাগরি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া মধ্য আমেরকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতেও প্রচুর ভেনেজুয়েলান রয়েছে।

Saturday, May 18, 2019

নরওয়েতে আলোচনায় বসছে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধীরা

নরওয়েতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। ইতোমধ্যেই উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা দেশটিতে পৌঁছেছেন। আলোচনায় বিদ্যমান সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বিবদমান দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন তিনি। এ মাসের গোড়ার দিকে এক ভিডিও বার্তায় আকস্মিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন গুইদো। ভিডিওতে তার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকেও দেখা যায়। এই অভ্যুত্থানে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবে না। এমন পরিস্থিতিতেই বুধবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিমান চলাচল স্থগিতের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যেই নরওয়েতে মিলিত হচ্ছে বিবদমান দুই পক্ষ।
কয়েক মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নরওয়ের রাজধানী ওসলো-তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবিসি নিউজের খবরে এই আলোচনাকে মার্কিনপন্থী বিরোধীদের নীতিগত পরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেননা ইতোপূর্বে তাদের পক্ষ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-র বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির সরকারবিরোধী পক্ষের নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও কার্গো ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এ ঘোষণা দিয়েছে। এতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাকে ফ্লাইট চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিদ্যমান পরিস্থিতি যাত্রী, বিমান ও ক্রু-দের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে দেশটিতে মার্কিন বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে চীন। সোমবার দেশটির চিকিৎসা সামগ্রীবাহী দ্বিতীয় বিমানটি ভেনেজুয়েলায় অবতরণ করে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭১ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান রাজধানী কারাকাসে অবতরণ করেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্যও ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকার ও চীনের মধ্যে একটি ‘মানবিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো বলেন, দ্বিতীয় চালানটি পৌঁছানোর ফলে এখন আমাদের দেশে ১৬৬ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। রাশিয়া ফেডারেশন, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কাছ থেকে ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছি।
এর আগে ২৯ মার্চ চীন থেকে ৬৫ টনের একটি মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণ করে। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলায় খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির তিন কোটি মানুষের প্রায় এক-চতুর্থাংশেরই জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি বারোরং বলেন, অবরোধের ফলে দেশটির যা ক্ষতি হয়েছে এই ওষুধ সহায়তায় তা কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

Tuesday, May 14, 2019

বিমানে করে ভেনিজুয়েলায় মেডিক্যাল সামগ্রীর বিশাল চালান পাঠাল চীন

চীন সরকার বিমানে করে ভেনিজুয়েলায় মেডিক্যাল সামগ্রীর বিশাল চালান পাঠিয়েছে। গত তিন মাসে এ নিয়ে ভেনিজুয়েলায় এ ধরনের দ্বিতীয় চালান পাঠাল বেইজিং। ভেনিজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএনকে জানিয়েছে, সাহায্যবাহী বিমানটি সোমবার কারাকাস বিমানবন্দরে অবতরণ করে।মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ওষুধ ও সার্জিক্যাল মেডিক্যাল সাপ্লাইসহ বিমানটিতে মোট ২০ লাখ ইউনিট মেডিক্যাল সামগ্রী রয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছিল, ৬৫ টন মেডিক্যাল সামগ্রী নিয়ে সেদেশের একটি বিমান ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। কারাকাসে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি বাওরং ওই চিকিৎসা সাহায্য ভেনিজুয়েলা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর গতমাসে চীন সরকার এ খবরের সত্যতা অস্বীকার করে যে, ওই বিমানটিতে করে বেইজিং ভেনিজুয়েলায় ১২০ জন সৈন্য এবং সামরিক সরঞ্জামও পাঠিয়েছে।
ভেনিজুয়েলায় গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। গত জানুয়ারি মাসে দেশটির সরকার বিরোধী নেতা হুয়া গুয়াইদো আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এক জনসভায় নিজেকে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণার পর  আমেরিকাসহ বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন জানায়।
তবে রাশিয়া, চীন, ইরান, তুরস্ক ও কিউবাসহ বিশ্বের বহু দেশ ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরো সরকারকে উৎখাতের জন্য ভেনিজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদার এবং একাধিকবার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে রাশিয়া ভেনিজুয়েলায় যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রেখেছে।

Thursday, May 2, 2019

ভেনিজুয়েলায় আবার আমেরিকার অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ

ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় সেনাবাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু সদস্যকে দিয়ে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা আবার ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকার উসকানিতে বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দিনভর গুয়াইদোর সমর্থক, সেনাবাহিনীর দলছুট কিছু সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন আহত হন।
দিনশেষে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো শীর্ষস্থানীয় সেনা কমান্ডারদের পাশে নিয়ে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন, সেনাবাহিনীকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার যে চেষ্টা গুয়াইদো করেছিলেন তা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদেরকে ‘গুরুতর অপরাধ’ করার দায়ে অভিযুক্ত করে প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো বলেন, এই অপরাধীদের শাস্তি পেতে হবে।  এ ছাড়া, ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ অ্যারিয়াজা বলেছেন, সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও সরকার বিরোধীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৩৫ বছর বয়সি সরকার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসের উপকণ্ঠে ‘লা কারলোতা’ বিমান ঘাঁটিতে কয়েকজন সেনা পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঘোষণা করেন, দেশের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তিনি তার ভাষায় ‘ভেনিজুয়েলাকে মুক্ত করার অভিযান’ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন। কিন্তু দিনের শেষে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের ধরাশায়ী করে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুকূলে দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির প্যাদরিনো লোপেজ বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের সংবিধান ও বৈধ সরকারকে রক্ষা করেছে।
ভেনিজুয়েলায় অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন সরকারকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন হুমকি দিয়ে বলেছেন, ভেনিজুয়েলার ব্যাপারে সব পন্থা অবলম্বনের পথ খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন। তিনি দাবি করেছেন, মাদুরো সরকারের প্রতি রাশিয়া ও কিউবা’সহ আরো কিছু দেশের সমর্থনের কারণে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
মার্কিন সরকার এমন সময় ভেনিজুয়েলায় তার ভাষায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে এবং দেশটিতে ত্রাণসাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করছে যখন মাদুরো সরকার সেদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমেরিকাকে দায়ী বলে মনে করছে। কারাকাস বলছে, আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে দেশে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। ভেনিজুয়েলা সরকার মনে করছে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লোভে ওয়াশিংটন সেদেশে সরাসরি হস্তক্ষেপের নীতি গ্রহণ করেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় নাজুক অবস্থায় রয়েছে। একদিকে সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রতি আনুগত্যের শপথ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সরকার সমর্থকরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গুয়াইদো আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে নিজ সমর্থকদেরকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত অবস্থায় ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। শেষ পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নিতে মার্কিন কর্মকর্তারা হয়তো সামরিক হস্তক্ষেপ করতেও দ্বিধা করবে না। কিন্তু সে মার্কিন প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করছে ল্যাতিন আমেরিকার দেশটির জনগণ ও সেনাবাহিনী মার্কিন হস্তক্ষেপকে কীভাবে নেবে তার ওপর।

Friday, March 29, 2019

ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে রুশ সেনারা: যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলায় পৌঁছে গেছে রুশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল একটি দল। ইতিমধ্যে এটি নিশ্চিত করেছে দুই দেশই। বৃহস্পতিবার ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রুশ সেনারা পৌঁছালেও এখনো সামরিক কোনো অভিযানে তারা অংশ নিচ্ছে না। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ভেনিজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত শনিবার রাজধানী কারাকাসের কাছেই একটি বিমানবন্দরে রুশ বিমান বাহিনীর দুটি বিমান অবতরণ করে। সেখানে ১০০ রুশ সেনা ছিল। তবে রাশিয়া সেনা পাঠানোকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বীকার করতে নারাজ।
দেশটি জানিয়েছে, রুশ সেনারা শুধু ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করতে সেখানে গেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বৃহস্পতিবার তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়া লাতিন আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো আমরা কাউকে হুমকি দিচ্ছি না। রুশ সেনারা পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার জন্যেই ভেনিজুয়েলায় অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকটে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অনবরত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও চীন। অপরদিকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডোকে সমর্থন দিচ্ছে। নির্বাচনে সমাজতন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো বড় ব্যবধানে জয় লাভ করলেও সে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যায়িত করে নিজেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন হুয়ান গাইডো।
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি
এদিকে, ভেনিজুয়েলায় সেনা পাঠানোয় রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াকে সাবধান করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাদের সামনে এখনো সেনা ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, রাশিয়া যে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে তারা স্পেশাল ফোর্স ও সাইবার নিরাপত্তা সদস্য। ভেনিজুয়েলার শুধু সেনাশক্তি ছাড়া আর কিছুই নেই বলেও মন্তব্য করেন ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কঠিন জবাবও দিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘে রাশিয়ার সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি টুইটারে বলেন, একটা রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে কে দিয়েছে! এটি শুধু ভেনিজুয়েলার মানুষ ও তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর হাতেই রয়েছে।

Tuesday, March 26, 2019

ভেনেজুয়েলায় দুটি সামরিক বিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে রাশিয়ার দুটি সামরিক বিমান। গত শনিবার কয়েক ডজন সেনা ও বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম নিয়ে বিমান দুটি কারাকাসে অবতরণ করে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তিগত সামরিক চুক্তি পূরণে এই সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক হাভিয়ার মায়রকা এক টুইটার বার্তায় বলেন, তিনি উড়োজাহাজগুলো থেকে প্রায় ১০০ জন সেনা এবং ৩৫ টনের মতো সরঞ্জাম নামাতে দেখেছেন। মায়রকা ওই টুইটে আরও বলেন, রাশিয়ার বিমানবাহিনীর অ্যান্তনভ-১২৪ বিমান ও একটি ছোট জেট কারাকাসে অবতরণ করে। রাশিয়ার জেনারেল ভাসিলি তনকুশকরাভ সৈন্যবাহিনীকে বিমান থেকে নামানোর কাজ পরিচালনা করেন।
তিন মাস আগে যৌথ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সম্মত হয় দুই দেশ। আর এর পরেই এই উড়োজাহাজ পাঠাল রাশিয়া।
ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশকে কোটি কোটি ডলার ঋণ ও দেশটির তেলশিল্প ও সামরিক শক্তিকে সব সময় সমর্থন দিচ্ছে তারা।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে আসছে রাশিয়া।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর মস্কো ও ভেনেজুয়েলার মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলায় দুটি পরমাণু বোমারু টিইউ-১৬০ বিমান পাঠায় রাশিয়া। মাদুরোর প্রতি সমর্থন ও একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রকাশের জন্য এ বিমান পাঠায় তারা। ওই বিমান দুটি ব্ল্যাকজ্যাক নামে পরিচিত। এর সঙ্গে রয়েছে একটি এএন-১২৪ পরিবহন বিমান এবং আইএল-৬২ যাত্রীবাহী বিমান।
বেশ কিছুদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। খাবার ও ওষুধের মতো মৌলিক পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার জনগণ। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালিয়েছেন। এর মধ্যে গত ১০ জানুয়ারি মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বছর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জয়ী হন মাদুরো। বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন দাবি করছে। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও পার্লামেন্টের স্পিকার গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন; যদিও দেশটির অঙ্গরাজ্য ও সেনাবাহিনীর ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০টির বেশি দেশ হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মিত্র হিসেবে রাশিয়াকে সব সময় পাশে পাচ্ছেন মাদুরো।

Saturday, March 23, 2019

মাদুরো এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। গত বছর চাভুসওগ্লু'র সঙ্গে বৈঠকের সময়ে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে নির্মিত একটি টিভি সিরিজ দেখার পর এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন মাদুরো।
তুরস্কের আলিনিয়া শহরে অবস্থিত আলাদ্দিন কেইকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ভাষণ দেয়ার সময় এ কথা জানান চাভুসওগ্লু। ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাদুরোর সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো বলে জানান তিনি। আলাপের সময়ে ওই টিভি সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছিলেন মাদুরো।
ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াডোর সঙ্গে মাদুরোর টানাপড়েন তুঙ্গে তখন এ মন্তব্য প্রকাশ করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Saturday, March 9, 2019

ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ভেনেজুয়েলায় ২৪ ঘণ্টার ব্ল্যাকআউটে (বিদ্যুৎ বিপর্যয়) জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো দেশ অচল হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এই ব্ল্যাকআউটের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাবোটেজ’ বলছেন।
আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভেনেজুয়েলায় এত দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকটে আরও উত্তাপ সৃষ্টি হয়। দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর দাবি, তাঁর প্রতিপক্ষের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘স্যাবোটেজ’ করেছে।
দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই টুইট বার্তায় জানান, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু করার কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট মাদুরো সব কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে অল্প অল্প করে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হয়। পাশাপাশি মিরান্দা ও ভারগাসের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হয়। তবে চালু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ–সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সময় ২৪ ঘণ্টা ছাপিয়ে যায়। রাত গভীর হলে রাজধানীজুড়ে লোকজন সসপ্যান পিটিয়ে শব্দ করা শুরু করে। এটা দক্ষিণ আমেরিকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের জনপ্রিয় একটি পন্থা।
কিছু জ্বালানি তেলের স্টেশনে লোকজনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তাঁরা জেনারেটর বা গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল নিতে আসেন। অ্যান্টনিও বেলিসারিও নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পেট্রল নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হওয়া মাত্রই চলে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দেশটি জুড়ে বিশৃঙ্খলা লেগে যায়। অনেকে রাতের অন্ধকারে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতাল থেকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে—এমন ক্লিনিকগুলোয় স্থানান্তর করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারাকাসে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারিয়েলসি অ্যারে নামের এক রোগী মারা যান। তাঁর চাচা জোসে লুগো বলেন, চিকিৎসকেরা তাঁর ভাতিজাকে হাত দিয়ে পাম্প করাসহ যা করার সব রকম চেষ্টা করেছিলেন বাঁচানোর জন্য। কিন্তু বিদ্যুৎ–সংযোগ না থাকলে তাঁরা আর কতটুকুই কী করতে পারবেন?
ইমিলসে আরেলানো নামের এক মা জানান, তাঁর সন্তানের জরুরি ডায়ালাইসিস বাতিল হয়ে যায়। হাসপাতালের কর্মীরা মোবাইল ফোনের আলোতে কাজ করছিলেন।
কারাকাসের প্রধান মর্গ বেলো মন্টের রেফ্রিজারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের উদ্বেগ নিয়ে মর্গের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাঁরা সৎকারের জন্য মরদেহ নেওয়ার অনুমতির অপেক্ষা করছিলেন।
বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ট্রাফিক সংকেত অকার্যকর হয়ে পড়ে। সাবওয়ে সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ লোকজন অফিস থেকে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দেন। অপরাধপ্রবণ কারাকাস শহরে হাজার হাজার বাড়িঘরে বিদ্যুতের অভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শহরটিতে ২০ লাখ লোকের বাস রয়েছে। টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যুতের অভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হুয়ান গুয়াইদোর পক্ষে সীমান্ত দিয়ে বিদেশি সাহায্য বন্ধে প্রেসিডেন্ট মাদুরো সীমান্ত বন্ধের ঘোষণার পর গতকাল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

Wednesday, March 6, 2019

‘খ্যাপা সংখ্যালঘু’ ঠেকাবেন মাদুরো

ক্ষমতা থেকে উৎখাতের চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে ঠেকানোর কথা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। তিনি বলেছেন, যে ‘খ্যাপাটে সংখ্যালঘুরা’ তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের পরাজিত করা হবে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামী শনিবার ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশের’ ডাক দিয়েছেন নিকোলা মাদুরো। মার্কিন সাহায্য নিয়ে বিরোধীরা একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মাদুরো বলেন, ‘যদি খ্যাপাটে সংখ্যালঘুরা তাদের ঘৃণা, তিক্ততা নিয়ে চলতে থাকে, তা তাদের সমস্যা। আমরা তাদের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছি না।’ সামরিক বাহিনীর সামনে দেওয়া ওই ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘আমরা তাদের কর্মক্ষেত্র, জাতীয় ঐক্য থেকে সরিয়ে দেব। খ্যাপাটে সংখ্যালঘুদের তাদের তিক্ততা দিয়ে থাকতে দিন, আমরা তাদের পরাজিত করব। শাভেজের জন্য আমরা তা করব। দেশের মহান ইতিহাস রক্ষায় আমরা তা করব।’
গত সোমবার গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। কারাকাসে ফেরার পর শত শত দলীয় সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানান। গুয়াইদোর দেশে ফেরার পর এই প্রথম মন্তব্য করলেন মাদুরো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য মাদুরো সরকারকে চাপ দিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে ভেনেজুয়েলার ওপর। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এলিয়ট আবরামস বলেন, ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে মাদুরোর ভূমিকা দেখতে পাওয়া কঠিন হবে। যদি তিনি গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তা করার সুযোগ ছিল। তবে তিনি তা করেননি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন হুয়ান গুয়াইদো। এরপর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে তিনি সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে সফরে যান।
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। খাবার ও ওষুধের মতো মৌলিক পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার জনগণ। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকার দেশসহ ৫০টির বেশি দেশ অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে হুয়ান গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মাদুরো সরকার পদত্যাগ সব সম্ভাবনা বাতিল করেছে। চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় মাদুরো জানান, তিনিই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট।

Sunday, February 3, 2019

ভেনিজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব মাদুরোর

অবশেষে আগাম নির্বাচন প্রস্তাব করেছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে শনিবার তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয় দেশটিতে। এতে যোগ দিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একজন সিনিয়র জেনারেল তার পক্ষ ত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন বিরোধী শিবিরে। মাদুরোর ওপর দেশের ভিতরে ও বাইরে ক্রমশ বাড়ছে চাপ। এমন অবস্থায় তিনি শনিবার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মাদুরোর বিমানবাহিনীর একজন সিনিয়র জেনারেল ভিডিও বার্তায় তার প্রতি আনুগত্য অস্বকিার করেছেন।
তার ওই ভিডিও বার্তা শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওই জেনারেল পার্লামেন্টের প্রধান, স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনী এখনও সমর্থন করছেন মাদুরোকে। এটাই তার দৃশ্যত দেশের ভিতরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় শক্তি। দেশের ভিতরে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য জনসমর্থন অনেকাংশে হােিয়ছেন মাদুরো। তবে তিনি নিজে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় অভ্যুত্থানের শিকার বলে দাবি করেছেন।
এমন অবস্থায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে নিকোলাস মাদুরো একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী ‘কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি’তে এ বছরে ‘ন্যাশনাল এসেম্বলি’ বা পার্লামেন্টের আগাম নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। শনিবার রাজধানী কারাকাসে প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো শাভেজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম শপথ নেয়ার ২০তম বার্ষিকী স্মরণে সরকারপন্থিদের একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বক্তব্য রাখেন মাদুরো। এতে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচন চান? আপনারা আগাম নির্বাচন চান? আমরা পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিরোধীদের হাতে। গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর এ বছর ১০ই জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন। কিন্তু ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক হারে জালিয়াতি হয়েছে। তাই হুয়ান গাইডো একটি নতুন ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।  বিরোধীদলীয় একজন এমপি আরমান্দো আরমাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০২০ সালে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনের শিডিউল রয়েছে। সেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব সামনে ঠেলে দেয়া আরেকটি প্ররোচণামূলক কর্মকান্ড। নিকোলাস মাদুরো ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন আর। তাই এ দেশে কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলিরও কোনো বৈধতা নেই, কোনো মূল্য নেই।
উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলায় সেনাবাহিনীর খুবই সামান্য একটি অংশ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক অথবা প্রায় পুরোটা সেনাবাহিনী তাকে সমর্থন করছে। এক্ষেত্রে বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন দেশটির বিমানবাহিনীর হাই কমান্ডের একজন জেনারেল ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজ। তিনিই প্রথম দায়িত্বে থাকা একজন জেনারেল, যিনি হুয়ান গাইডোকে স্বকিৃতি দিয়েছেন। গত ২৩ শে জানুয়ারি নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন গাইডো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত ভেনিজুয়েলার প্রধান সামরিক অ্যাটাচেও মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। জেনারেল ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজ বলেছেন, ভেনিজুয়েলার মানুষ, সশস্ত্র বাহিনীর শতকরা ৯০ ভাগ সদস্য আর স্বৈরাচারের সঙ্গে নেই। তারা ভেনিজুয়েলার জনগণের সঙ্গে মিশে গেছেন। গণতান্ত্রিক পালাবদল ঘটবে শিগগিরই। তার এমন বক্তব্যের জবাবে বিমান বাহিনীর হাই কমান্ড ওই জেনারেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে।
অন্যদিকে কারাকারে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে গাইডো তার সমর্থকদের বলেন, ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজের পথ অনুসরণ করবেন আরো অনেকে। এমনটা আশা করেন তিনি। এর আগে ৩৫ বছর বয়সী শিল্প বিষয়ক প্রকৌশলী হুয়ান গাইডো নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করে সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের তার প্রতি আনুগত্য আনার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে তারা যদি পক্ষ ত্যাগ করে তার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

Saturday, February 2, 2019

গণতন্ত্রের হাল ধরতে সবকিছুই করবেন গাইডো

ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রের হাল ধরার জন্য নিজের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করবেন বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডো। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয় তিনি উড়িয়ে দেন নি। আল জাজিরাকে দেয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এতে তিনি বলেছেন, ভেনিজুয়েলা যে সঙ্কট মোকাবিলা করছে তা কাটিয়ে উঠতে পাঁচটি মূলনীতি তিনি বাস্তবায়ন ঘটাতে চান। তার মধ্যে অন্যতম হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আল জাজিরার সাংবাদিক লুসিয়া নিউম্যানকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলায় তিনি সুশাসন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চান। বর্তমান মানবিক সঙ্কটের বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া, নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনীতিকে সক্রিয় করা এবং ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য হাল ধরার প্রত্যয় ঘোষণা করেন তিনি। 
উল্লেখ্য, নিজেকে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকার এক ডজন দেশ, কানাডা ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মেক্সিকো ও উরুগুয়ে তাকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সমঝোতা সংলাপের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি গাইডোর। তিনি বলেছেন, এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। গাইডো বলেন, এই অচলাবস্থা দুটি সমান পক্ষের মধ্যে নয়। একটি পক্ষে রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রুপ, যারা ক্ষমতা ধরে রাখতে যেকোনো কিছু করতে চায়। অন্যপক্ষে আছে সাধারণ মানুষ। তারা মাদুরো সরকারের পরিবর্তন চায়।
তার ভাষায়, মেক্সিকো ও উরুগুয়ের সৎ উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি বুঝতে পারি। মাদুরোকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন যে আলটিমেটাম দিয়েছে সে বিষয়েও বুঝতে পারি আমি। উল্লেখ্য, গত শনিবার নতুন নির্বাচন দেয়ার জন্য মাদুরোকে আলটিমেটাম দিয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন। তবে ওই সময়সীমাকে অবজ্ঞা করবেন বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন মাদুরো।
হুয়ান গাইডো বলেন, সমঝোতার জন্য বিরোধীরা ইচ্ছা পোষণ করেছে। আমরা সব দিক থেকেই চেষ্টা করেছি। আমরা ভোট বর্জন করেছি। অনশন করেছি। প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছি। অন্যদিকে তারা আমাদেরকে হত্যা করেছে। ক্ষমতা জিম্মি করে রাখা, সরকারের হাতবদল, অবাধ নির্বাচন সব কিছুই নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পদত্যাগের জন্য নতুন করে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি শুক্রবার নতুন করে তাকে এমন হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভেনিজয়েলায় লড়াই চলছে স্বৈরাচার ও গণতন্ত্রের মধ্যে। নিকোলাস একজন স্বৈরাচার। তার ক্ষমতায় থাকার কোনো বৈধতা নেই। তাকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে যেতে হবে। যারা তারপরও ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তাদের জেনে রাখা উচিত, যেকোনো ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

Friday, February 1, 2019

গাইডোকে স্বীকৃতি দিলো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডোকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এতে গত নির্বাচনে জয়ী দেশটির সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো জোরদার হল। ওপেক সদস্য ভেনিজুয়েলার গত নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন তীব্র বামপন্থী মাদুরো। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এদিকে, দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডো নিজেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর মিত্র দেশগুলোও গাইডোকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাইডোকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কিনা এ নিয়ে ভোটাভুটি হয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে।
এতে পক্ষে ভোট দেন ৪২৯ সদস্য এবং বিপক্ষে ভোট পরে ১০৪টি। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৮৮ জন সদস্য। এই ভোটাভুটির বিষয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন বসে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য ভোটের এই ফলাফল মানা অপরিহার্য নয়। ভোটাভুটির পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সরকারগুলোকে ভেনিজুয়েলায় অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইডোকে একমাত্র বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গত শনিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন আট দিনের সময় বেধে দিয়ে বলেছিল, এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করলে গুয়াইডোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এসব দেশের ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি গাইডোর
এদিকে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি করেছেন ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে প্রতিদিন টিভিতে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। হুয়ান গাইডো জানিয়েছেন, তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক প্রবন্ধে গুয়াইদো বলেন, তিনি গোপনে ‘সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন’। তিনি আরো বলেন, সরকার পরিবর্তনের জন্য মাদুরোর উপর থেকে সামরিক বাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহার জরুরি। তার দাবি, দেশটির বর্তমান অবস্থা যে সমর্থনযোগ্য নয়, সে ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই একমত।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে প্রতিদিন সরকারি টেলিভিশনে সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। বুধবারও টিভিতে দেখানো এক ফুটেজে মাদুরোকে একটি সেনা ক্যাম্পে দেখা গেছে। সেখানে তিনি সৈন্য ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি দেশকে ভালোবাসেন? আপনারা কি সংবিধান রক্ষা করবেন? আপনারা কি আপনাদের কমান্ডার-ইন-চিফকে রক্ষা করবেন? উত্তরে সামরিক সদস্যরা বলেন, হ্যাঁ, কমান্ডার-ইন-চিফ। এর আগে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিবৃতি দিয়েছে।

Thursday, January 31, 2019

ভেনিজুয়েলায় ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে’ -গাইডোকে ট্রাম্প

ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোপনে মিটিং হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণাকারী বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গাইডো। ওই মিটিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতে সেনাবাহিনীর সমর্থন চেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত কলামে তিনি এসব বলেছেন। তবে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় নি। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি এই সেনাবাহিনীর রয়েছে অকাট্য আনুগত্য। যদি হুয়ান গাইডোর দাবি সত্যি হয় তাহলে মাদুরোর জন্য বিপদ সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে ওই বৈঠককে। কারণ, যদি হুয়ান গাইডো সেনাবাহিনীর ভিতরে বিভেদ সৃষ্টি করে তাতে বিদ্রোহ ঘটাতে পারেন তাহলে স্পষ্ট দুই ভাগ হয়ে যাবে সেনারা। আর তা হলে দেশের জন্য আরো বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমনটা হলে তাতে দেশে অস্থিরতা বাড়বে। দেখা দিতে পারে গৃহযুদ্ধ। পুরো সেনাবাহিনীকে গাইডো তার অধীনে আনতে পারবেন এমনটা ভাবা বোকামি। হয়তো কিছু সেনা তাকে সমর্থক করতে পারেন। ফলে পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্লেষকদের।
জানুয়ারির শুরুতে গাইডো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। তারপর আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সহ কমপক্ষে ২০ টি দেশ। অন্যদিকে মাদুরোর পিছনে রয়েছে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ইরানের মতো দেশ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালালে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তা থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাও ঘটতে পারে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প টুইটে বলেছেন, তিনি গাইডোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ‘ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সির’ সূচনাকে তিনি সমর্থন জানান। দ্বিতীয় আরেকটি টুইটে তিনি লিখেছেন ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে’।
ওদিকে বৃটেন সহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিকোলাস মাদুরোকে আট দিনের সময় দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবাধ, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তিনি তা করতে ব্যর্থ হন তাহলে তারা গাইডোকে সমর্থন দেবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি একটি আহ্বান জানাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এমন আহ্বানে তিনি মাদুরো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়ার ডাক দিতে পারেন। এর আগে বুধবার হুয়ান গাইডোর সঙ্গে তার কথা হওয়ার কথা।
ওদিকে মারাত্মক অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এরই মধ্যে ৩০ লাখ মানুষ ভেনিজুয়েলা থেকে পালিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে সহিংস উত্তেজনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা চালানোর ভয়ে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। গত ১০ই জানুয়ারি মাদুরো শপথ নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তখন থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। তারই এক পর্যায়ে গাইডো নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে বসেন। দু’জনের মধ্যে সেই থেকে ক্ষমতা নিয়ে লড়াই চলছে। আর এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব স্পষ্টতই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।
গাইডো লিখেছেন, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বেশকিছু সদস্যের সঙ্গে আমার গুপ্ত বৈঠক হয়েছে। মাদুরোর ওপর থেকে সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহার সরকার পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সেনাবাহিনীতে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠই একমত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যদি সেনাবাহিনীর কাউকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অপরাধী হিসেবে পাওয়া যায় তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা দেবে বর্তমানের বিরোধী দল।
ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল এম্বেলির প্রধান হিসেবে হুয়ান গাইডো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যখন অবৈধ হয়ে যান তখন সংবিধান তাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্ষমতা পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। অ্যনদিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গাইডোকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করেছে।

ভেনিজুয়েলা কি আরেকটি সিরিয়া হতে চলেছে? by স্বরাজ সিং

আন্তর্জাতিক আইনের কোনোই তোয়াক্কা না করে পশ্চিমা দেশগুলো নগ্নভাবে ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। তারা কোনো সন্দেহই অবশিষ্ট রেখে দেয় নি যে, তারাই ভেনিজুয়েলার ভাগ্য নির্ধারণ করতে চাইছেন। বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গাইডো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই পথ অনুসরণ করেছে কানাডা, বৃটেন, ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকার ডানপন্থি কিছু সরকার। লাতিন আমেরিকার ওই দেশগুলো হলো পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলোর হাতের পুতুল। তারা দুই ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তবে রাশিয়া, চীন, ইরান, তুরস্ক, কিউবা, বলিভিয়া ও মেক্সিকো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এভাবে পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলোর হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তারা সমর্থন দিয়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন উদ্যোগের সবচেয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এর জন্য করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়াও সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সামরিক হামলার বিরুদ্ধে। বলেছেন, এমন হামলা চালালে তাতে সৃষ্টি হবে একটি গৃহযুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা অন্য দেশগুলোর জোরপূর্বক অন্যদের ওপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। লাতিন আমেরিকাকে সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্র দেখে এসেছে তার ঘরের পিছনের জায়গা বা ব্যাকইয়ার্ড হিসেবে, যেখানে তারা যা খুশি তাই করতে পারবে। গত দুই শতাব্দীতে কিউবা বাদে সত্যিকার অর্থে লাতিন আমেরিকার কোনো দেশ স্বাধীন হতে পারে নি। সংশ্লিষ্ট দেশের মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। যখনই এই দুটি স্বার্থের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, তখনই শক্তি প্রয়োগ করতে কখনোই দ্বিধাবোধ করে না যুক্তরাষ্ট্র। উদাহরণ হিসেবে ডা. সালভাদর অ্যালেন্ডের কথাই ধরা যাক। তিনি চিলির নির্বাচিত মার্কসপন্থি প্রেসিডেন্ট। তিনি তার দেশের সম্পদ তার জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৩ সালে তার বিরুদ্ধে জেনারেল পিনোচেটকে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তার থেকে মুক্ত হতে কালক্ষেপণ করে নি যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকা থেকে বামপন্থি শক্তিগুলোতে নির্মূল করার পর্যায়ক্রমিক একটি অপারেশন কন্ডোর পরিচালনা করে। সেখানে তারা ডানপন্থি একনায়কদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।
বার বার হুগো শাভেজের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। হুগো শাভেজ ১৯৯৯ সাল থেকে ২-১৩ সাল পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তেল বিক্রির অর্থে তিনি তার দেশবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে গেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভেনিজুয়েলা অন্যতম। হুগো শাভেজ ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর নিকোলাস মাদুরো দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু তার কবল থেকে বার বার মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রতিবারই তিনি টিকে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও তেলের মূল্য পতনের ফলে বাস্তবেই ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি কঠিন অবস্থায়। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে দায়ী করার জন্য এটাকে একটি অজুহাত হিসেবে বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার মাদুরোকে সমর্থন করছে তার সেনাবাহিনী। আরেকটি ফ্যাক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ, যার জন্য মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো খুব কঠিন। তা হলো, কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় একটি ভিত্তি রচনা করে গেছেন হুগো শাভেজ। এ ছাড়া রাশিয়ার সরবরাহ দেয়া এক লাখ একে-৪৭ রাইফেল তুলে দিয়েছেন তার অনুসারীদের হাতে। ফলে যদি মাদুরোর সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত হুয়ান গাইডোর সমর্থকদের মধ্যে একটি সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে তা হয়ে উঠবে চরম মাত্রায় রক্তক্ষীয়। এই যুদ্ধ বিপর্যয়কর হবে বলে যথার্থই সতর্কতা দিয়েছেন ভøাদিমির পুতিন।
এমন একটি যুদ্ধ হলে তাতে রাশিয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোকসানটা বেশি হবে। যদি তাতে যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায় তাহলে সম্ভবত সেটা হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস্টিজের জন্য একটি ভয়াবহ আঘাত। এমনকি যদি এই যুুদ্ধে আমেরিকা বিজয়ী হয় তাহলে দীর্থে মেয়াদে এর ফল তাদের জন্য সহায়ক হওয়ার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। ইউরোপে নিজের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে রাশিয়াকে বড় রকমের বিজয় অর্জন করতে হবে এবং তার মধ্য দিয়ে তাদেরকে প্রেস্টিজ ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হবে।  ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মতো দেশের জন্য একটি বড় রকমের আঘাত দিতে হবে তাদেরকে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাতিন আমেরিকায় বিজয়ী হওযার চেয়ে ইউরোপে পরাজিত হওয়া হবে অনেক বেশি খারাপ।
এরই মধ্যে সিরিয়ার পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস্টিজ ও মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাবের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। ভেনিজুয়েলা যুদ্ধের পরিণাম সিরিয়া যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি বিপর্যয়কর হতে পারে। যদি মাদুরো টিকে যান, তারপর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মতো টিকে থাকেন তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ক্ষতি। আবার এমন যদি হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে সফলতার সঙ্গে সরিয়ে দিলো তাহলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ভয়াবহভাবে, সম্ভবত অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এতে সংঘাত ইউরোপের দিকে ছড়িয়ে পড়াটা সারা বিশ্বের জন্য হবে অত্যন্ত বিপদজনক। ইউরোপে এমন সংঘাত বা যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। দুটি বিশ্বযুদ্ধ কিন্তু শুরু হয়েছিল ইউরোপ থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে তিনটি দেশ রাশিয়া, চীন ও ভারত। রাশিয়া পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে ভারসাম্যে আনতে। চীন পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিতে ভারসাম্য আনতে। ভারত পারে যুদ্ধবিরোধী সেন্টিমেন্ট কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি করতে। সুয়েজ খাল নিয়ে যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখন খুবই ভাল ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিল ভারত। ওই সময় কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের জয় পেয়েছিল ভারত। এবং তারা এ আন্দোলনের একজন নেতা হয়ে উঠেছিল। এর ফলে গড়ে উঠেছিল নেহরু-নাসের বন্ধুত্ব। আর তাই পুরো আরব বিশ্ব ভারতকে তাদের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে দেখা শুরু করে। ভারতের এখন উচিত সেই একই রকম বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকা নেয়া। বিশ্বে প্রকৃত শান্তিরক্ষায় তার প্রেস্টিজ উন্নত করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাদের ঝুঁকে পড়ায় প্রথাগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আসুন আমরা প্রত্যাশা করি, সব পক্ষই রিবত থাকবে। এই সঙ্কটকে এমনভাবে উত্তেজনাকর করে তুলবেন না যাতে ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভেনিজুয়েলা সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধে যেন প্রবেশ না করে।
(স্বরাজ সিং ওয়াশিংটন স্টেট নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান। তার এ লেখাটি রাশিয়ার অনলাইন প্রাভদা’য় প্রকাশিত হয়েছে)

Tuesday, January 29, 2019

কি হবে ভেনিজুয়েলার তেলের? বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মধ্যে ঘোর শত্রুতা। শত্রুতাই শুধু নয়, দৃশ্যত একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে অঘোষিত এক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। নিকোলাস মাদুরোকে আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানেন না ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিরোধী দলের ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট’ হুয়ান গাইডোকে। এ নিয়ে চরম এক উত্তেজনা বিরাজ করছে ভেনিজুয়েলা ও এর বাইরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে যখন এমন উত্তেজনাকর অবস্থা তখন তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক আছে। তাহলো ভেনিজুয়েলার তেল। এই তেলের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র।
ওপেকভুক্ত দেশগুলো গত বছর যে পরিমাণ তেল সরবরাহ দিয়েছে এ পরিমাণ তার শতকরা ৩৯ ভাগ।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ বৈদেশিক তেল গিয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরবরাহের দিক দিয়ে চতুর্থ বৃহৎ উৎস হলো ভেনিজুয়েলা। কিন্তু এখন ট্রাম্প, মাদুরো, হুয়ান গাইডো এবং বাকি বিভক্ত বিশ্বের মধ্যে মাদুরো ইস্যুতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তেলভিত্তিক শক্ত সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব বা টান পড়বে। বুধবার হুয়ান গাইডো নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করার পরই নাটকীয় পদক্ষেপ নেয় হোয়াইট হাউস। তারা তাকে দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে স্বীকৃতি দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন মাদুরো। ওদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছে বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশ। আর মাদুরোর পাশে আছে তার দেশের সেনাবাহিনী, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের মতো কিছু দেশ।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি করবেন- তা নিয়ে চলছে জল্পনা। এরই মধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সব ধরনের অপশন তাদের হাতে রয়েছে। এর অর্থ ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আবার অর্থনৈতিক অবরোধও দেয়া হতে পারে মাদুরোর বিরুদ্ধে। যদি অবরোধ দেন ট্রাম্প তাহলে তার আওতায় পড়বে দেশটির তেলও। এটা করা হলে ভেনিজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ভেঙে দেয়া হবে। আর তা হবে মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আঘাত। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় তাহলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভীষণ বড় প্রভাব পড়বে। বড় এক আঘাত তাদের গায়েও লাগবে। ভেনিজুয়েলার তেলভর্তি ব্যারেলের যখন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে তখন অশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। ভেনিজুয়েলা থেকে প্রতিদিন সেখানে যায় কয়েক লাখ তেলভর্তি ব্যারেল। এর ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে যে শোধনাগার রয়েছে তার সংখ্যাও দ্রুত কমে যাবে। তাই এ খাত নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিপার ডাটা’র পরিচালক ম্যাট স্মিথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধ দেয় তাহলে তাতে নিজেরই ক্ষতি করবে তারা।
ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির প্রাণ তেল
ভেনিজুয়েলার মোট রাজস্বের শতকরা ৯০ ভাগই আসে তেল রপ্তানি থেকে। ফলে তেলের ওপর নির্ভর করেই দেশটি টিকে আছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। কিন্তু জ্বালানি শিল্পের দ্রুত ক্ষতি হওয়ার ফলে এরই মধ্যে ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলন ৩০ বছরের মধ্যে নিচে নেমে এসেছে। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেট এ বিষয়টিকে এভাবে মূল্যায়ন করেছে- ২০১৯ সালে এ দেশের প্রতিদিনের তেল উত্তোলন ৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যাবে। আরবিসি আরো সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দেয় তাহলে অতিরিক্ত কয়েক লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন বাড়িয়ে দিতে পারে ভেনিজুয়েলা।
আরবিসি’র বৈশ্বিক বিষয়ক প্রধান হেলিমা ক্রফট বুধবার তার ক্লায়েন্টদের কাছে লিখেছেন, ভেনিজুয়েলায় দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, খুব কঠিন একটি অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সবকিছু।
ভেনিজুয়েলার তেলের অন্য বড় ক্রেতার মধ্যে রয়েছে চীন ও ভারত। কিন্তু এসব দেশে তেল শিপমেন্ট পাঠিয়ে অর্থের দিক থেকে তারা খুব একটা লাভবান হয় না। এ দেশগুলোর কাছে প্রচুর পরিমাণ অর্থের ঋণী ভেনিজুয়েলা। তাই যে তেল পাঠানো হয় তা থেকে ঋণের অংশ কর্তন করে নেয়া হয়। এ জন্য এই শিপমেন্ট বা রপ্তানিতে তাদের অর্থনীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। ম্যাট স্মিথ বলেছেন, এ অবস্থায় অবরোধ দেয়া হলে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির টিকে থাকার নাড়িটাই কেটে দেয়া হবে। এমনিতেই দেশটি মানবিক একটি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কারণ, আইএমএফের মতে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সেখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি কমে গেছে শতকরা ৩৭ ভাগ। ২০১৯ সালে সেখানে মুদ্রাস্ফীতি শতকরা এক কোটি ভাগে গিয়ে দাঁড়াবে বলে ধরা হচ্ছে।
ট্রাম্প কি কঠোর পদক্ষেপ নেবেন?
ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি যখন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, বিশৃঙ্খল সেখানকার সবকিছু- তখন তেল বাজার দৃশ্যত প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে থমকে আছে। এর কারণ হতে পারে, পরবর্তীতে কি ঘটতে যাচ্ছে তা একেবারেই নিশ্চিত নয়। গত বছর তেল বাজারে একটি ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ ছিল ট্রাম্পের কাছে। ইরানের ওপর অবরোধ দিলে তাতে তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল দাঁড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ইরান অবরোধে প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা নমনীয় হন তিনি। তার এই নমনীয়তায় তেলের বাজারে সরবরাহ আছে পর্যাপ্ত। ফলে মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অধীনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা জো ম্যামোনিঙ্গেল  ভেনিজুয়েলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, বাজারে খুব বেশি সংশয় রয়েছে যে, তেলের ওপর অবরোধকে পেছন থেকে টেনে ধরে রাখতে পারেন। জো ম্যামোনিঙ্গেল বর্তমানে হেজেয়ি পটোম্যাক রিসার্সের জ্বালানি নীতি বিষয়ক একজন সিনিয়র বিশ্লেষক। তিনি বিশ্বাস করেন ট্রাম্প অবরোধ আরোপকেই বেশি বেছে নিতে পারেন। তিনি সতর্ক করেন, এই অবরোধ দেয়া হলে বিশাল একটি সংকট সৃষ্টি হবে। তাতে দেখা দিতে পারে গৃহযুদ্ধ অথবা ভেনিজুয়েলায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে অপারেশন স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগার
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলাকে শাস্তি দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তেল শিল্পকে তার আওতায় রাখে তাহলে তাতে দাম বেড়ে যাবে। আকাশ ছুঁয়ে যাবে যুুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম। কারণ, নিজের তেল দিয়ে চলার মতো যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহকারীরা একাই এই সাপোর্ট দিয়ে যেতে পারবে না। গ্যাসোলিন, জেট বিমানের জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে, শোধনাগার যে সরবরাহ দেয় তা খুব বেশি নির্ভর করে অশোধিত তেলের ওপর। সস্তায় যায় ভেনিজুয়েলা থেকে। এনার্জি ইনফরমেশন এডমিনিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মতে, ভেনিজুয়েলায় সম্প্রতি তেল উত্তোলন দ্রুততার সঙ্গে কমে যায়। তা সত্ত্বেও অক্টোবরে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদিন ৫ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ দিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে আর যেসব দেশ অশোধিত তেল সরবরাহ দিয়েছে বড় মাপে তার মধ্যে রয়েছে কানাডা, সৌদি আরব ও মেক্সিকো। এমন অবস্থায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্কতা দিচ্ছেন। বলছেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দিলে তাতে ‘হেভি ক্রড’-এর দাম বেড়ে যাবে। তখন এই তেল তাদেরকে অন্য স্থানে খুঁজতে হবে। ওই দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান গত বছর সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করেছে তার মধ্যে রয়েছে সিটগো, ভ্যালেরি ও শেভরন। বৃহস্পতিবার রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক পাওলো রড্রিগুয়েজ-মিশুউ একটি রিপোর্টে লিখেছেন, অবরোধ দেয়া হলে উপসাগরীয় উপকূল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শোধনাগার আছে তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যগুলোর ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে হয় দেশটিকে। ভেনিজুয়েলার অশোধিত তেল এতটাই ভারি যে, এটাকে লঘু তেলে পরিণত করতে ন্যাপথার সঙ্গে ব্লেন্ড করতে হয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দেয় তাহলে ওই ন্যাপথা ভেনিজুয়েলায় সরবরাহ করতে পারবে না সে নিজেই। এক্ষেত্রে অন্য দেশের কাছ থেকে ওই রাসায়নিক পণ্যটি সংগ্রহ করবে ভেনিজুয়েলা। তবে তাতে দাম পড়তে পারে বেশি এবং অনেক দূর থেকে নিতে হতে পারে।
(সূত্র অনলাইন সিএনএন)

Sunday, January 27, 2019

ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি, মাদুরোকে রক্ষা করতে ৪০০ সেনা পাঠিয়েছে রাশিয়া

ভেনিজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, তখন তাকে রক্ষা করতে প্রায় ৪০০ সেনা পাঠিয়েছে রাশিয়া। ভেনিজুয়েলাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ এক যুদ্ধপরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভেনিজুয়েলায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। তাদেরকে পুলিশি প্রহরা দিতে অনুরোধ জানানো মার্কিন দূতাবাসের একটি চিঠি ফাঁস হয়ে গেছে। এসব খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বুধবার হুয়ান গাইডো নিজেকে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি পলাতক। তাকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, কানাডা সহ এক ডজনেরও বেশি দেশ।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে মাদুরোকে সমর্থন দেয় রাশিয়া, চীন, সিরিয়া, তুরস্ক সহ বেশ কিছু দেশ। এক্ষেত্রে মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন দেশের সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে বিপোর্ট ছড়িয়ে পড়েছে যে, মাদুরোকে রক্ষা করতে রাশিয়ার ৪০০ সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা তাকে সুরক্ষা দেবেন।
নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব কূটনীতিককে দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে তার দেশের দূতাবাস বন্ধ করে দেন। নিজের সব কূটনীতিককে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় রাজধানী কারাকাসের বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের। তাদেরকে বহনকারী ১০টি গাড়িকে পুলিশি নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিল মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা। এমন একটি চিঠি ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্র পরিচালিত টিভি নেটওয়ার্ক টেলেসুর প্রচার করেছে। ওদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেসব নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, মাদুরোর নির্দেশ অবৈধ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভেনিজুয়েলার বৈধ শাসক মনে করে না। তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সব রকমের বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো কড়া অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারেন। এখানে উল্লেখ্য, ভেনিজুয়েলায় উত্তোলন করা তেলের এক তৃতীয়াংশ যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। মাদুরোকে বৈধ নেতা হিসেবে মানেন না বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।
তেলসমৃদ্ধ অথচ ভেঙে পড়া অর্থনীতির এ দেশটি গত বুধবার ভয়াবহ এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ওইদিন ৩৫ বছর বয়সী বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডো নিকেজে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তাকে দ্রুততার সঙ্গে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও কলোম্বিয়া সহ আঞ্চলিক অনেক দেশ সমর্থন করে। অন্যদিকে নিকোলাস মাদুরোকে সমর্থন দেয় রাশিয়া, চীন সহ বেশ কিছু দেশ। এর ফলে নতুন করে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মাদুরো সঙ্কট সমাধানে হুয়ান গাইডোর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছেন। কিন্তু গাইডো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওদিকে রাজধানী কারাকাসে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। কেউ মাদুরোর পক্ষে। কেউ বিপক্ষে। এ সপ্তাহে সেখানে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেলে ব্যাচেলেট। তিনি জেনেভায় দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি চরমভাবে উদ্বিগ্ন যে, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাতে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ এক বিপর্যয়।

Saturday, January 26, 2019

ভেনিজুয়েলা সংকট: বিভক্ত দুনিয়া স্নায়ুযুদ্ধের আভাস

ভেনিজুয়েলা সংকটকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত। পরাশক্তিধর, বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশগুলো একে অন্যের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ ও শিরদাঁড়া হিম করা এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়াজুড়ে। তবে কি স্নায়ুযুদ্ধের সেই সময়গুলো ফিরে এসেছে! সাবেক সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চলা স্নায়ুযুদ্ধে বিশ্ব দেখেছে অনেকগুলো যুদ্ধ। এখনকি ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে আরেকটি বড় যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে পরাশক্তিগুলো!
ভেনিজুয়েলার শাসক কে হবে- তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনে বিজয়ী নিকোলাস মাদুরো নাকি নিজেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণাকারী বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডো। দেশটির সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান নিকোলাস মাদুরো শপথ নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে যে নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমা কিছু দেশ।
অন্যদিকে নিজে নিজে শপথ নিয়ে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন হুয়ান গাইডো। তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এতে চটেছে চীন ও রাশিয়া। একইসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও কিউবা।
সংকট শুরু হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মাদুরোকে টেলিফোন করেন। পুতিনের দাবি বাইরে থেকে ভেনিজুয়েলার এ সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। ইঙ্গিত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং হুয়ান গাইডোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেছে দেশটি। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে রাশিয়া। এর আগে দেশটিতে দুটি পরমাণু বোমাবাহী বোম্বারু যুদ্ধবিমানও পাঠায় রাশিয়া।
রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার বলেছেন, আমরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, প্রত্যেককে সতর্ক করে দিচ্ছি।  ভেনিজুয়েলায় কোনো রকম হস্তক্ষেপ থেকে কী ফলাফল বেরিয়ে আসতে পারে তা সবার জানা উচিত। হুয়ান গাইডোকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে আমি মনে করি এই অবস্থান থেকে ভয়াবহ কিছুর ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ হলো আগুনে আরো গ্যাস যোগ করা। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির ব্যবহার করলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। এতে আন্তর্জাতিক বিপুল পরিমাণ সিস্টেমে আঘাত লাগবে, ভেনিজুয়েলাকে আরো রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেবে।
এদিকে, রাশিয়ার মিত্র চীনও ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া ও চীন প্রয়োজনীয় ঋণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে ভেনিজুয়েলাকে। বিশেষ করে চীন সে দেশে বিশাল মাত্রায় বিনিয়োগ করে এসেছে। সে দেশের পেট্রোলিয়াম শিল্পেও চীনের বড় অবদান রয়েছে। এমন অবস্থায় ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে বিশ্ব স্পষ্টত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একপক্ষ সমর্থন করছে নিকোলাস মাদুরোকে। অন্যপক্ষ সমর্থন করছে হুয়ান গাইডোকে। এ রাজনীতিতে রয়েছে স্থানীয় কৌশল। তার চেয়ে বড় হয়ে আছে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ। তাতে সে যে দেশ যাকেই সমর্থন করুক না কেন।
অনলাইন সিএনএন লিখেছে, বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গাইডোকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে রাশিয়া যে সমালোচনা করেছে তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে চীন, তুরস্ক ও সিরিয়া। এ ইস্যুতে তারা ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সমর্থন জানিয়ে কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাদুরোর বিরুদ্ধে এবং হুয়ান গাইডোকে স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যারা তার মধ্যে রয়েছে বৃটেন, কানাডা, ব্রাজিল, কোস্টারিকা, আর্জেন্টিনা, পেরু, কলোম্বিয়া, ইকুয়েডর, চিলি, স্পেন ও অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী গাইডোকে স্বীকৃতি দেয়াকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া ও তার মিত্ররা।
গত বুধবার গাইডো নিজে শপথ নিয়ে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। আরো ঘোষণা দেন যে, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এর ফলে ভেনিজুয়েলার ভেতরে ও বাইরে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ওদিকে হুয়ান গাইডোকে স্বীকৃতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকোলাস মাদুরো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কূটনীতিককে তার দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। তবে তার এ নির্দেশকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভেনিজুয়েলা সংকট নিয়ে শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে সিরিয়াও। বৃহস্পতিবার দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপের নিন্দা জানায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার। এমন হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক সব নিয়ম কানুন, আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। আর তা ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর ভয়াবহ এক আক্রমণ।
সেনাবাহিনী রয়েছে মাদুরোর পক্ষে
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গেই রয়েছে তার দেশের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার তারা এ কথা জানিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করেছে, তাদের দেশে একটি সমান্তরাল সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একে একটি অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মন্ত্রিসভার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়েই রয়েছেন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো লোপেজও সেনাবাহিনীর কর্নেল হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। ২০০২ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় হুগো শ্যাভেজ সরকারের প্রতি অনুগত ছিলেন তিনি। একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রচারের কারণে তিনি বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, শ্যাভেজ এখনও বেঁচে আছেন। তার মাতৃভূমি এগিয়ে চলছে। স্বাধীন ও সমাজতান্ত্রিক মাতৃভূমি।
পাদ্রিনো লোপেজ যৌথ বাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবে এবং পরে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১৪ সালে মাদুরো তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। তার মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুগত্য ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতা নির্ধারণ করে দিতে সক্ষম।
মাদুরোকে এরদোগানের ফোন, তুরস্ক আপনার পাশে আছে
ভেনিজুয়েলা সংকটের মধ্যে বুধবারই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ফোন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তিনি তাকে দৃঢ়তা অবলম্বনের আহ্বান জানান। বলেন, আপনার পাশে আছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিনকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাডোলু। ইব্রাহিম কালিন বৃহস্পতিবার টুইটে লিখেছেন, এরদোগানের নেতৃত্ব সব রকম অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে তুরস্ক।
ওদিকে মাদুরোকে সমর্থন দিয়েছে চীনও। তারা বলেছে, ভেনিজুয়েলা সরকার তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিইং বলেছেন, চীন আশা করে ভেনিজুয়েলার অন্য দলগুলো তাদের সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং রাজনৈতিক বিরোধ সহিংসতা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মধ্য দিয়ে বজায় থাকুক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধী চীন। হুয়া চুনিইং বলেন, ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সব পক্ষই বিরোধিতা করবে। আমি বলতে চাই বাইরের দেশ থেকে অবরোধ এবং হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। এতে সংকটের সমাধান হবে না।
অবস্থা যখন এই, তখন ভেনিজুয়েলার রাজপথ অস্থির। আর বিদেশি শক্তিগুলো পক্ষ নেয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি, ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ পর্যন্ত ভয়াবহ এক  বিপর্যয় থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।