Sunday, November 16, 2025
পশ্চিম তীরের ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল
ওল্ড সিটি অব হেবরনের বাসিন্দা আরেফ জাবের হেবরন ডিফেন্স কমিটির একজন সদস্য। তিনি তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, গত শুক্রবার সকাল থেকে ইসরায়েলি সেনারা হেবরনের ওল্ড সিটির বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে রেখেছেন।
আরেফ জাবের আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওল্ড সিটিতে যাওয়ার সব সামরিক তল্লাশিচৌকি বন্ধ করে দিয়েছে। সেখান থেকে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছে না। ফলে সেখানকার বাসিন্দা অনেক ফিলিস্তিনি নিজ বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে হেবরনের অন্যান্য অংশে থাকা স্বজনদের বাড়িতে থাকছেন তাঁরা।
জাবের আরও বলেন, অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী কয়েক শ ইহুদি শুক্রবার রাতে শোভাযাত্রা করে ওল্ড সিটিতে প্রবেশ করেন। গতকাল রাতে আবার তাঁরা একইভাবে শোভাযাত্রা নিয়ে ওল্ড সিটিতে যান। ইসরায়েলি বাহিনী এ শোভাযাত্রাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে। হেবরনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রা থেকে নানা উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
জাবেরের আশঙ্কা, ইসরায়েল কারফিউ জারি করে ইব্রাহিমি মসজিদের সম্পূর্ণটা দখল করে সেটিকে সিনাগগে রূপান্তর করতে চাইছে। এ চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা কারফিউ জারি করে সেখানে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
শুক্র ও শনিবার ইহুদিরা ‘সারা’স ডে’ উদ্যাপন করেছেন। প্রতিবছর হেবরনে এ উৎসব উদ্যাপন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাচীন হেবরনে একসময় ইহুদিদের আবাস থাকার বিষয়টি তাঁরা স্মরণ করেন।
ইব্রাহিমি মসজিদ ওল্ড সিটিতে। হেবরন নগরীর এ অংশ পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে প্রায় ৪০০ ইহুদি পরিবার অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন আছেন।
১৯৯৪ সালে ইসরায়েল মসজিদ কমপ্লেক্সটি ভাগ করে। এটির ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের জন্য ও ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় একজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ২০ ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করেছিলেন।
ইসরায়েল বছরে ১০ দিন মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখে। এ সময়ে ইহুদিরা ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করেন।
![]() |
| ইব্রাহিমি মসজিদের সামনে পাহারা দিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিহারে তরুণ আর জেন-জিদের ক্ষোভ কি সামলাতে পারবেন মোদি
অজয় নিম্নবর্ণের দলিত সম্প্রদায়ের তরুণ। ভারতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের নানা সামাজিক বঞ্চনা ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হতে হয়। পিছিয়ে পড়া এই সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ভারতে কোটা বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
অজয়ও দলিতদের জন্য এই কোটার আওতায় একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার আশা করেছিলেন। এ জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সরকারি চাকরির ওই পরীক্ষা দেন। কিন্তু কয়েক দিন পর তিনি শুনতে পান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল।
চরম হতাশ অজয় যখন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর নিশ্চিত হতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাফেরা করছিলেন, ঠিক তখন তাঁর সামনে একটি ভিডিও আসে। ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, তাঁর সমবয়সী শিক্ষার্থীরা তাঁর মতো একইভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা রাজ্যের রাজধানী পাটনায় বিক্ষোভ করছেন।
মুজাফফরপুর থেকে পাটনার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। সেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাসে চেপে বসেন অজয়, সারা রাত ভ্রমণ করে সকালে নিজেকে হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারীর মধ্যে দেখতে পান।
তারপর প্রায় ১০০ দিন হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে সড়কে বিক্ষোভ করে গেছেন অজয়। প্রায় সময়ই তিনি খোলা আকাশের নিচে অন্য শত শত শিক্ষার্থীর সঙ্গে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়েছেন। তাঁদের দাবি ছিল সোজা—নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক।
কিন্তু এ বছরের এপ্রিলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষার্থীদের পুনঃ পরীক্ষার দাবিতে করা পিটিশনটি খারিজ করে দেন।
রাগে-ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা অজয় কয়েক মাস ধরে নিজের ক্রোধ চেপে ছিলেন। নভেম্বরে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এই তরুণ নিজের রাগ উগরে দেন। গত ৬ নভেম্বর দুই ধাপের নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন অজয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বোতাম এত জোরে চেপে ধরেন যেন তাঁর ভোট তাঁর ও তাঁর মতো ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের লড়াইয়ের প্রতিশোধ নিতে সহায়তা করতে পারে।
চাকরি-শিক্ষা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা
পুষ্টি, শিশু মৃত্যুহার, শিক্ষা, মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবাসহ ভারতের বহুমাত্রিক মানব উন্নয়ন সূচকের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সারা দেশের মধ্যে বিহারের অবস্থান তলানিতে।
২০ বছর বয়সী প্রথম কুমার দক্ষিণ বিহারের জেহানাবাদ জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ি যে শহরে, সেখানে কলেজগুলো ‘শুধু ডিগ্রি দেয়, শিক্ষা নয়’। এ কারণে লেখাপড়া করতে তিনি রাজধানী পাটনায় চলে আসতে বাধ্য হন।
কিন্তু পাটনায়ও কুমারের জন্য লেখাপড়া করা কঠিন হয়ে গেছে, বলেন এই তরুণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলোতে পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা নেই, ওয়াই-ফাই রাউটার মাসের পর মাস অকেজো পড়ে থাকে। তাঁর মতো শিক্ষার্থীদের প্রায়ই তাঁদের ছাত্রাবাসের সংকীর্ণ মাঠের ঘাস কাটতে হয়। কারণ, এসব কাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নেই।
ক্ষোভের সঙ্গে এই তরুণ বলেন, ‘বিহারের সবখানেই শিক্ষার মান এতটাই খারাপ যে কেবল কাগজে ডিগ্রি পেতে কলেজে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু যদি সত্যিই কিছু শিখতে চান, তবে অতিরিক্ত অর্থ খরচে প্রাইভেট কোচিং ক্লাসে ভর্তি হতে হয়।’
তাই প্রথমবারের মতো কুমার নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে চাইছেন। বিহারের লাখ লাখ ছাত্র ও বেকার তরুণের সামনে এটাই একমাত্র বিকল্প।
মুম্বাইভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন সায়েন্সেসের (আইআইপিএস) ২০২০ সালে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিহারের অর্ধেকের বেশি পরিবার তাদের স্বজনদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল, যাঁরা কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে বা বিদেশে চলে গেছেন।
প্রথম কুমারের বন্ধু ইশান্ত কুমার। ইশান্ত বিহারের আরেক জেলা দরভঙ্গার বাসিন্দা। উন্নত জীবনের আশায় তরুণদের দলে দলে বিহার ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে তিনি বিহারি তরুণদের ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রায়ই বিহারিদের ওপর আক্রমণ হয়, তাঁদের হামলার শিকার হতে হয়।
তীব্র ক্ষোভ নিয়ে ইশান্ত আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এখানে দারিদ্র্য তরুণ বিহারিদের প্রবাসে যেতে বাধ্য করে আর সেখানে তাঁদের অবমাননার শিকার হতে হয়, আঘাত করা হয় এবং তাঁদের মর্যাদা বলে আর কিছু থাকে না। কলকাতা থেকে মহারাষ্ট্র, কেবল বিহারিরাই আক্রমণ আর উপহাসের শিকার হন।’
ইশান্ত রাজ্য সরকারের ওপরও ক্ষুব্ধ। তিনি মনে করেন, রাজ্য সরকার থেকে যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে বিহারি তরুণেরা প্রবাসে চলে যাচ্ছেন। আর তাঁদের রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমে অন্যান্য রাজ্যের উন্নতি হচ্ছে।
বিহারের জেন-জিরা কোন পথে
জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সরকার উৎখাত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত ব্যতিক্রম। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের ক্ষমতায় আছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারেও গত দুই দশকে বেশির ভাগ সময় বিজেপি ও তার অংশীদারদের জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দল ক্ষমতায় থাকলেও বিহারে তরুণদের ক্ষোভ স্পষ্ট। বিহারের পাশেই ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সেখানে গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের তুমুল বিক্ষোভে সরকারের পতন হয়। নেপালের তরুণেরা সম্পদের অসমবণ্টন, বৈষম্য, সরকারের দুর্নীতি এবং প্রভাবশালীদের সম্পদের কুৎসিত প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ওই বিক্ষোভ করেছিলেন।
ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে বিহারেই সবচেয়ে বেশি তরুণের বাস। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিহারে ১২ কোটি ৮০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে, আর প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
ভারতে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশও তরুণ। দেশটিতে ১৪৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের কম।
তবে বিহারে তরুণদের সংখ্যা যেমন বেশি, একই সঙ্গে এটি ভারতের দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর একটি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিহারে প্রতি তিনটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যা বিহারকে ভারতের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত রাজ্য হিসেবে পরিচিত করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিহারে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৪০০টি ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে, সারা দেশের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
অজয়ের মতো অনেকেই নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। বিহারে দুই ধাপে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ ভোট দিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের বিধান সভা ২৪৩ সদস্যের।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেভাবে তরুণ প্রজন্ম তাদের নিপীড়ক শাসকের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিহার নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দেবে যে মোদি এখনো ভারতে জনগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুবসমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম আছেন কি না।
নাকি রাজ্যে মোদিদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টি বিহারের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যুবসমাজের এ অসন্তোষকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে।
আরজেডির নেতৃত্ব দিচ্ছেন লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব। কংগ্রেস পার্টির রাহুল গান্ধীও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা, তাঁর বয়স ৫৫ বছর।
বিহারে এবার দলের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন মোদি।
মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আবার ক্ষমতায় এলে তারা বিহারে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রস্তাব হলো, তারা ক্ষমতায় আসার ২০ দিনের মধ্যে প্রতিটি বিহারি পরিবারের জন্য একটি সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির নেতা রাহুল গান্ধীও বারবার জেন-জি ভোটারদের প্রতি ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
গত কয়েক বছরে ভোটদানের প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে রাহুল সেগুলো প্রতিহত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল বিজেপি দেশের ভোটার তালিকায় অযোগ্য ও মিথ্যা ভোটার যোগ করে ভোট জালিয়াতি করছে।
![]() |
| নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে বিহারে ভোটের জোর প্রচারণা চলেছে। অক্টোবর মাসে তোলা। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতির পর গাজায় কমপক্ষে ১৫০০ ভবন ধ্বংস করেছে ইসরাইল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তিচুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সব ধরনের সামরিক অভিযান, যেমন বিমান ও কামান হামলা, স্থগিত থাকবে। ট্রাম্প পরবর্তীতে বারবার ঘোষণা দিয়েছেন যে যুদ্ধ শেষ। তবে বিবিসির স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হাতে ভবন ধ্বংস এখনো ব্যাপকভাবে চলছে। বিবিসি লিখেছে, আমরা রাডার চিত্র বিশ্লেষণের জন্য একটি ‘চেঞ্জ ডিটেকশন অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করেছি। এটা হলো যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে তোলা ছবিগুলোর পার্থক্য নির্ণয় করার একটি পদ্ধতি। এভাবে সম্ভাব্য ধ্বংসের চিহ্ন শনাক্ত করা যায়। তারপর হাতে গুনে দৃশ্যমান ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন গণনা করা হয়। বিশ্লেষণ করা হয় ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনের অঞ্চলগুলো- যা গাজার উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক বরাবর চলে গেছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল তাদের বাহিনী এই রেখা পর্যন্ত প্রত্যাহারের কথা বলেছে।
অনেক ভবন, যেমন খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলের আবাসান আল-কবিরা এলাকায়, ধ্বংস হওয়ার আগে অক্ষত অবস্থায় ছিল। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ভবনগুলোর কাঠামো অক্ষত, আশেপাশে ধ্বংসাবশেষ বা ভাঙনের কোনো চিহ্ন নেই। সেখানে বাগানবাড়ি, গাছপালা, এমনকি ছোট ফলের বাগানও ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় (অক্টোবর ২০২৩) তোলা স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়কার ছবির তুলনা করলে দেখা যায়, অনেক ভবন ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আবাসান আল-কবিরার বাসিন্দা লানা খলিল যুদ্ধের আগে কাছাকাছি এল-মাওয়াসিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, তার বাড়ি ছিল ‘একটি স্বর্গ’, ‘খামার ও সবজিতে ভরা’। এখন সেই এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনারা আমাদের কিছুই রাখেনি। সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা এল-মাওয়াসির তাঁবু থেকেই ধ্বংসের শব্দ শুনতে পেতাম। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে।
আরেকটি এলাকা, রাফাহ শহরের পূর্বে আল-বায়ুক অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। যুদ্ধবিরতির আগে অক্ষত থাকা অনেক ভবন পরে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নভেম্বরের শুরুতে তোলা আকাশচিত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার ওপর ধুলো ও ধোঁয়ার মেঘ উঠতে দেখা গেছে। গাজা শহরেও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। বিশেষত পূর্বাঞ্চলের শুজাইয়া এলাকায় এবং জাবালিয়া শিবিরের প্রান্তে ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের আশেপাশে। ইসরাইলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সাবেক প্রধান ইটান শামির বলেন, আইডিএফের এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নয়। কারণ ইয়েলো লাইনের পেছনের অঞ্চলগুলো যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না।
যুদ্ধবিরতির পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও ও এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভবন ভাঙার দৃশ্যও যাচাই করে দেখা গেছে- সবই ইয়েলো লাইনের পেছনের এলাকা। আইডিএফ তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী গাজার সব সন্ত্রাসী অবকাঠামো, যেমন টানেল, ধ্বংস করতে হবে। ইসরাইল হুমকি, লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী অবকাঠামোর প্রতিক্রিয়ায় কাজ করছে। ১৮ অক্টোবর ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল ক্যাটজ এক্সে লিখেছেন, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ মানে সন্ত্রাসী টানেল ও অবকাঠামো ধ্বংস করা- এটাই ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতির স্পষ্ট অংশ।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ১৩ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, সব সামরিক, সন্ত্রাসী ও আক্রমণাত্মক অবকাঠামো, টানেল ও অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হবে এবং পুনর্নির্মাণ করা হবে না। তবে এটাও বলা হয়েছে, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে হবে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই)-এর সিনিয়র ফেলো ড. এইচ এ হেলিয়ার বলেন, এটি নিঃসন্দেহে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। কিন্তু ওয়াশিংটন এটি স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা শুধু বলছে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে- যদিও বাস্তবে তা কার্যকর নয়। অন্যদিকে শামিরের দাবি, আইডিএফ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে না। তার মতে, হামাস তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যা খুশি করছে, আর ইসরাইল তার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাই করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি যুবরাজের হোয়াইট হাউস সফরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আয়োজন
সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পরিকল্পনায় একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। বুধবার কেনেডি সেন্টারে মার্কিন-সৌদি বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের একটি বড় দল উপস্থিত থাকবে। ট্রাম্প সেখানে যোগ দেবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে কর্মকর্তা জানান তার উপস্থিতি সম্ভাব্য।
গালফ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি। তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার পরিদর্শন করেছিলেন। সেখানে তাকে রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্সের এফ-১৫ জেট যুদ্ধবিমান এসকর্ট করেছিল এবং তিনি ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী স্থানে এক রাজকীয় ভোজে অংশ নেন। রিয়াদে যুবরাজের সঙ্গে পূর্বের এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আমার সত্যিই মনে হয় আমরা একে অপরকে খুব পছন্দ করি। পরে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদকে অসাধারণ মানুষ এবং ‘আমার বন্ধু’ বলে আখ্যায়িত করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই সবখানে প্রতিরোধ by রেবেকা সোলনিট
১৮ অক্টোবর ডেমোক্র্যাটদের বড় বড় নীল শহরের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের ছোট ছোট লাল শহরেও সব মিলিয়ে ৭০ লাখের মতো মানুষ ‘রাজা চাই না’ আন্দোলনে শরিক হন। রচিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় দিন।
চলতি বছরে টেসলার শোরুমগুলোর সামনে হওয়া বিক্ষোভ ব্র্যান্ডটির এমন ক্ষতি করে যে এর বৈশ্বিক বিক্রি কমে যায় এবং সিইও ইলন মাস্ক তাঁর সরকারি কর্মদক্ষতা বিভাগ (ডিইওজি) থেকে নেওয়া চাকরিচ্যুতির কঠোর প্রকল্প থেকে পিছু হটেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা কখনো কখনো কেবল আইন, সত্য ও তথ্য মেনে চলার মাধ্যমেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কখনো তাঁরা হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে সত্য ফাঁস করছেন, কখনো প্রতিবাদে মুখর হচ্ছেন। যেমন গত আগস্টে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) কর্মীরা ওয়াকআউট করে জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বিক্ষোভে সংহতি জানান। ওই জ্যেষ্ঠ কর্মীরা স্বাস্থ্য ও মানবসেবামন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকাবিরোধী নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন।
অভিবাসী, শরণার্থী এবং চেহারার কারণে রাস্তায়, শিকাগোর পাড়া-মহল্লায়, হোম ডিপো পার্কিং লটে, স্কুলের আশপাশে ও আদালতে হেনস্তার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে তাঁদেরই জন্য অসাধারণ সংহতি গড়ে উঠছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজ্য অ্যাটর্নিরা স্বতন্ত্র ও যৌথভাবে একের পর এক মামলা করছেন। ইলিনয় ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নররা লাগাতার সমালোচনায় ট্রাম্পকে ঝাঁজরা করে দিচ্ছেন। কংগ্রেসে বিল আটকে যাওয়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের দলীয় প্রচারণামূলক ভিডিও চালাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বিমানবন্দরগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাসংক্রান্ত স্বাধীনতায় ছাড় দেওয়ার শর্তে অর্থনৈতিক প্রণোদনা পাওয়ার চুক্তি করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।
গত ২০ জানুয়ারি থেকে আমরা ট্রাম্প প্রশাসন এবং এর নীতির বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ দেখছি, এগুলো তারই অংশ। এসব নিয়ে নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে জরিপ হওয়া প্রয়োজন।
যখন কেউ আমাকে বলেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধই নেই, আমি ভাবি তারা কি এক ধাক্কায় সরকার ফেলে দেওয়ার মতো গেরিলা বিপ্লবের আশা করছে, নাকি পরিস্থিতির দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না। কারণ, বাস্তবে নানা ধরনের ব্যাপক প্রতিরোধ ও বিরোধিতা রয়েছে, এগুলো বড় ধরনের প্রভাবও ফেলেছে। কখন এটি যথেষ্ট হবে, সেটি একটি প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর তখনই দেওয়া যাবে, যখন এসবের ইতি হবে, যদি আদৌ তা হয়। এরপর কী ঘটে, সেটাও দেখতে হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেও বোধ হয় নিরাশা জন্মেছে। মানুষ ভেবেছে, স্বভাবতই একটা বদলের সূচনা হবে। কিন্তু ইতিহাসের মোড়বদল আর গতি যে কখনো অনুমান করা যায় না, সেই বাস্তবতার কথা মানুষ মাথায় রাখেনি।
প্রতিরোধ গড়ে উঠছে সর্বত্র, সব এলাকায় এবং সব ধরনের ভোটারদের মধ্যে। আছে নাগরিক সমাজ ও সরকারি কর্মচারীরা। রয়েছে মানবাধিকার, জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো, যারা নির্বাচনের আগেই আটঘাট বেঁধে রেখেছিল আর নতুন প্রশাসন আসার পরই মাঠে নেমে পড়ে। আরও আছে ধর্মীয় নেতা ও প্রতিষ্ঠান, সব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী ও বিচারক। আরও আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, গ্রন্থাগারিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক, শিল্প-সংস্কৃতির জগতের মানুষ।
অবশ্যই এই মানুষদের মধ্যেও লজ্জাজনক দালালি, আত্মসমর্পণ ও নীরবতার দৃষ্টান্ত রয়েছে। লক্ষণীয় যে এই সংকটকালে প্রায়ই সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাবানেরা সবার আগে আত্মসমর্পণ করেছেন। অভিজাত নন এমন মানুষেরাই নীতিতে অটল থেকেছেন, এমনকি ঝুঁকি নিয়ে হলেও।
বিরোধীদের বিরোধিতার কেন্দ্র কী হবে, সেটি আগে স্পষ্ট ছিল না। চাকরিচ্যুতি নিয়ে ডিওজিইর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং টেসলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচিগুলো ছিল মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর প্রশাসন ও মাস্কের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে শুরু করে প্রজনন অধিকার পর্যন্ত সবকিছুই রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে সক্রিয় প্রতিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সেই সব মানুষের সঙ্গে সংহতি, যারা সীমান্তরক্ষী, আইসিই এবং অন্যান্য সংস্থার নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এই সংস্থাগুলোকে ত্রাস সৃষ্টি, নির্মমতা, অপহরণ ও দেশজুড়ে অধিকার লঙ্ঘনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নানাভাবে এই সংহতির প্রকাশ ঘটছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা অভিবাসী ও শরণার্থীদের সুরক্ষা দিতে তাঁদের সঙ্গে অভিবাসন আদালতে যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাওয়া অভিবাসীদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এ ছাড়া পোর্টল্যান্ডে আইসিএয়ের সামনে, ওরেগনে বিক্ষোভ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি ও শিকাগোজুড়ে মহল্লাভিত্তিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে সারাহ কনওয়ে লিখেছেন, শিকাগোর সাধারণ বাসিন্দারা তাঁদের অবসর সময়ে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার দল গড়ে তুলেছেন। তাঁরা রাস্তায় নজর রাখেন এবং ফেডারেল এজেন্টদের গতিবিধি অনুসরণ করেন। কেউ কেউ পানশালায় ও লন্ড্রিতে বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করেন। অন্যরা হোম ডিপো আর মেক্সিকান রেস্তোরাঁর বাইরে তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।
আন্দোলনকর্মীরা শহরতলির যেসব হোটেলে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্টরা থাকেন, সেগুলো খুঁজে বের করছেন এবং সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কেউ কেউ পায়ে হেঁটে, গাড়িতে এবং বাইকে চড়ে পালা করে তাঁদের মহল্লা পাহারা দিচ্ছেন, ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতির ব্যাপারে প্রতিবেশীদের সতর্ক করছেন। তাঁরা এজেন্টদের আগ্রাসী কৌশল এবং গ্রেপ্তার নিয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ করছেন।
ক্যাথলিক চার্চও মাঠে নেমেছে। চার্চে আসতে ভয় পাওয়া অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব বোঝাতে বেঞ্চে কার্ডবোর্ডে তৈরি প্রতিকৃতি রেখেছে মিডওয়েস্টার্ন চার্চ। শিকাগোতে জন্ম নেওয়া পোপ লিও চতুর্দশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি বারবার দরিদ্র ও অভিবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন। যদিও শুধু ক্যাথলিকরাই নন, অন্যান্য চার্চের যাজকেরা, ইহুদি যাজকেরাও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ২০০ জনের বেশি পাদরি একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার শিরোনাম হলো, ব্রডভিউতে যিশুর ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে। বহু নগর কর্তৃপক্ষ নিজেদের শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে এবং আইসিএর সঙ্গে সহায়তা করা তাদের নীতি নয় বলে ঘোষণা দিয়েছে।
রিপাবলিকান দলের একজন তহবিল সংগ্রাহকের পদ ত্যাগ করার সময় মাইলস ব্রুনার বুলওয়ার্কে লিখেছেন, ‘আমি রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগ করছি এবং কর্তৃত্ববাদী সংঘে পরিণত হতে যাওয়া দলকে সহায়তা করার চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি।’ সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগের ব্যাখ্যায় মেরিন কর্নেল ডাউগ ক্রুগম্যান ওয়াশিংটন পোস্টে লিখেছেন, ‘সংবিধান মেনে কাজ করা বা এটিকে সংশোধনের বদলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরীক্ষা করতে চাইছেন, তিনি কত দূর পর্যন্ত এটিকে উপেক্ষা করে চলতে পারেন।’
গত মাসে কোনো কারণ জানানো ছাড়াই পদত্যাগ করেন নৌবাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের অ্যাডমিরাল। তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যারিবীয় সাগরে ছোট ছোট নৌকায় মানুষ হত্যার হামলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক সেনাদের সংগঠন ‘এবাউট ফেইস’ ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো বেআইনি আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানো সেনাদের পাশে থাকা এবং তাদের উৎসাহিত করা।
অহিংস আন্দোলনে বর্জন বা বয়কট সব সময়ই শক্তিশালী কৌশল। টেসলা, টার্গেট ও ডিজনিকে বর্জন কার্যকর প্রভাব ফেলেছে। আইসিইতে যোগ দেওয়ার বিজ্ঞাপন চালানোয় স্পটিফাইয়ের বিরুদ্ধে বয়কট কর্মসূচি চালু করেছে ইনিডিভিজিবল নামের প্রগতিশীল আন্দোলন। অতি ডান অধিকারকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মৃদু মন্তব্য করে চাকরি হারান লেটনাইট হোস্ট জিমি কিমেল।
কখনো কখনো প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ ভেতরে প্রতিরোধ উসকে দেয়। যেমন কিছু আইনজীবী বড় আইনি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়েছেন, কেননা প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরের শুরুতে প্রশাসনের প্রতি নুয়ে পড়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আরও কিছু প্রকাশনা ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ায় অনেক সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাকরি ছেড়েছেন। জনগণকে তথ্য জানাতে ও সম্পৃক্ত রাখতে স্বাধীন, ছোট, বিকল্প গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নতুন প্রশাসন ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ইনডিভিজিবল আন্দোলনে সদস্যসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পরপর আরও বেশি আন্দোলনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে ৫০৫০১ নামে আরেকটি সংগঠন। আরও অনেক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রতিরোধ আন্দোলন ও প্রগতিশীলদের ঢালাওভাবে ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ আখ্যা দিয়েছেন। অথচ মানবাধিকার, আইনের শাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সংবিধান, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের শত্রুরা আসলে রয়েছে আংশিকভাবে ধসে পড়া হোয়াইট হাউসের ভেতরে। এই দেশের যদি কোনো ভবিষ্যৎ থাকে, তবে সেটি রাস্তায়, আদালতে, আন্দোলনে এবং এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে অব্যাহত বাক্স্বাধীনতা ও জনসমাবেশের স্বাধীনতা চর্চায়।
* রেবেকা সোলনিট, দ্য গার্ডিয়ানের যুক্তরাষ্ট্র-বিষয়ক একজন কলামিস্ট। তিনি ‘অরওয়েল’স রোজেস’ বইয়ের লেখক এবং ‘নট টু লেইট: চেঞ্জিং দ্য ক্লাইমেট স্টোরি ফ্রম ডেসপায়ার টু পসিবিলিটি’ বইয়ের সহসম্পাদক।
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্পের দমনমূলক বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ৭০ লাখের মতো মানুষ ‘রাজা চাই না’ আন্দোলনে শরিক হন। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো
তিনি জানান, প্রায় দুই ডজন মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এলাকা থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছিলেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, বন্যা মূলত উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে, যেখানে গত মাসে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতির পর বহু পরিবার ফিরে এসেছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতেও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলের দুই বছরের যুদ্ধের কারণে যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তাদের ‘দুর্দশার সমাধানে’ এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শীতের শুরুতেই আমরা বাড়ি, কারাভ্যান এবং তাঁবুর দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানাই, যাতে এই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা কমে।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিশর, সৌদি আরব, তুর্কি প্রভৃতি আরব ও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থনকারী মার্কিন খসড়া প্রস্তাব দ্রুত পাসের আহ্বান জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, জর্ডান ও তুর্কি বর্তমানে আলোচনায় থাকা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে সমর্থন জানাচ্ছে। তারা এর দ্রুত অনুমোদন চেয়েছে।
ওদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী সপ্তাহে একটি প্রস্তাব আলোচনা করবেন, যাতে গাজার জন্য ৩ হাজার ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পরে সেখানে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুক্রবার দেখতে পাওয়া এক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইইউর কূটনৈতিক দপ্তর মন্ত্রীদের বৈঠকের আগে একটি নথিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা নিয়ে ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ইইউ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইইউর পুলিশ সহায়তা মিশন গাজার ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণের নেতৃত্ব নিতে পারে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্যকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। পরবর্তীতে গাজার পুরো ১৩ হাজার সদস্যের বাহিনীকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়াবহ সংকটে ইরান, মসজিদে দোয়া
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রদিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী তেহরানের উত্তরে অবস্থিত ইমামজাদে সালেহ মসজিদে শত শত মানুষ বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য জড়ো হন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তেহরানে বৃষ্টিপাত শত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশের অর্ধেক প্রদেশে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এক ফোঁটা বৃষ্টিও হয়নি। তীব্র পানি সংকট মোকাবিলায় সরকার রাজধানী তেহরানের এক কোটি বাসিন্দার জন্য পর্যায়ক্রমে পানির সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পানির খরচ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবারের নামাজে নারী-পুরুষ পৃথক স্থানে ইসলামি রীতিনীতির অনুসারে দোয়া করেন। নারীরা হিজাব পরে আলাদা এলাকায় অবস্থান করেন, আর পুরুষরা মূল নামাজস্থলে বৃষ্টি প্রার্থনার দোয়া করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, তেহরানের প্রধান খাবার পানির উৎস দুই সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে যেতে পারে। শহরটির পানি সরবরাহকারী সংস্থার পরিচালক বেহজাদ পারসা বলেছেন, শহরের প্রধান জলাধার আমির কাবির বাঁধে বর্তমানে মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। বর্তমানে এটি মাত্র আর ১৪ দিন তেহরানকে পানি সরবরাহ করতে পারবে। তেহরান প্রদেশ দীর্ঘমেয়াদি খরার কবলে পড়েছে, যা অঞ্চলটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পানি সংকটের মুখে ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমের মতে, আগামী কয়েক মাসে যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে তেহরানে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পানীয় জলের সরবরাহ গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
টানা পাঁচ বছর শুষ্কতা এবং রেকর্ড তাপের পর, তেহরান পৌরসভার কলগুলো শুকিয়ে যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জলাধারের পানির স্তর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং মানুষের মেজাজ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যদি উল্লেখযোগ্যভাবে পানি ব্যবহারে কাটছাঁট না করা হয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাজধানীর কিছু অংশ ‘ডে জিরো’র মুখোমুখি হতে পারে। অর্থাৎ, বাড়ির পানির কল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং পানি সরবরাহ করা হবে স্ট্যান্ডপাইপ বা ট্যাংকারের মাধ্যমে।
বছরের শুরুতেই তারা এই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি পানি সংকট নয়, বরং পানির দেউলিয়াত্ব, এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে পানি এতটাই অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে ক্ষয়ক্ষতি আর পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।
রাজধানী তেহরান ইরানের বৃহত্তম শহর এবং প্রায় এক কোটি মানুষের বাসস্থান। এটি পানির জন্য পাঁচটি প্রধান বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত জুলাইয়ে এর ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়, তেহরানের অন্যতম সরবরাহকারী আমির কবির বাঁধের জলাধারের কেন্দ্র থেকে উঁচু পাথরের ঢাল উঠে এসেছে এক ফোঁটা পানি নেই সেখানে। পানির তীব্র সংকটে থাকা খুজেস্তান ও সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ একাধিক প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট সমাধানের জন্য পানি, জ্বালানি ও ভূমি নীতিতে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। ইরান আগামী সাত বছরে পুনর্ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রিত সেচের মাধ্যমে বার্ষিক পানি ব্যবহার ৪৫ বিলিয়ন ঘনমিটার কমানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিনিয়োগের ঘাটতি এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
![]() |
| মসজিদে দোয়ায় অংশ নিয়েছেন মুসল্লিরা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গাজায় দেড় হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস ইসরায়েলের
নতুন কিছু স্যাটেলাইট চিত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৮ নভেম্বর ওই সব এলাকা থেকে সর্বশেষ কিছু স্যাটেলাইট চিত্র ধারণ করা হয়। ‘বিবিসি ভেরিফাই’ স্যাটেলাইট চিত্রগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছে। এতে দেখা যায়, আইডিএফ কোনো কোনো পাড়া-মহল্লা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, ইসরায়েল যেসব এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র বিবিসির হাতে আসেনি।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভবন ধ্বংস করা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করতে পারে। দুই বছরের বেশি সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
ভবন ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইডিএফের এক মুখপাত্র বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, তাঁরা ‘যুদ্ধবিরতির রূপরেখা অনুযায়ী’ কাজ করছেন।
ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা বন্ধে গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল ও হামাস। এই ২০ দফাই যুদ্ধবিরতির ভিত্তি। এর একটি দফায়, ‘বিমান ও গোলা হামলাসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত’ রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ এখনো ব্যাপকভাবে চলছে। এসব চিত্র বিশ্লেষণের জন্য বিবিসি ভেরিফাই ‘চেঞ্জ ডিটেকশন অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে তোলা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে মূলত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার পেছনের বিধ্বংস ভবনগুলো হিসাব করা হয়েছে। এটি গাজা উপত্যকার উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের একটি সীমারেখা। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোকে ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের এই সীমারেখায় প্রত্যাহার করে নেয়। হলুদ রেখা নামটি ইসরায়েলের দেওয়া। তাদের প্রকাশ করা গাজার মানচিত্রে এই সীমারেখা রয়েছে।
![]() |
| ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর বিশ্লেষণে মূলত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার পেছনের বিধ্বংস ভবনগুলো হিসাব করা হয়েছে। ফাইল ছবি: প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 16
(8)
- পশ্চিম তীরের ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন...
- বিহারে তরুণ আর জেন-জিদের ক্ষোভ কি সামলাতে পারবেন মোদি
- যুদ্ধবিরতির পর গাজায় কমপক্ষে ১৫০০ ভবন ধ্বংস করেছে ...
- সৌদি যুবরাজের হোয়াইট হাউস সফরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ...
- ট্রাম্পের বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই সবখানে প্রতিরোধ b...
- গাজায় বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো
- ভয়াবহ সংকটে ইরান, মসজিদে দোয়া
- যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গাজায় দেড় হাজারের বেশি ভবন ধ্ব...
-
▼
Nov 16
(8)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




