Thursday, July 11, 2013

শ্রম আইনে শ্রমিকবান্ধব সংশোধনী আনতে হবে by মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি হঠাৎ করেই জিএসপি স্থগিত করল বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন শ্রমমানের উন্নয়ন না হলে জিএসপি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দিল! রানা প্লাজাই কি এর অন্যতম কারণ! বা ওয়াশিংটন পোস্টে বেরোনো খালেদা জিয়ার চিঠিই কি এর কারণ? নাকি ড. ইউনূস? বা আমিনুলের মৃত্যুকে কি আমরা এর কারণ ধরব? নাকি কারণ আরও গূঢ় ও ব্যাপক! যারা এই শ্রম-সম্পর্কিত বিষয়ে জানেন; তারা অবশ্যই অবহিত আছেন যে, নব্বই দশক থেকেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন এএফএল-সিআইও ও ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো বাংলাদেশের শিশুশ্রম ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কথা বলে আসছিল। এবং এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়েছিল মানবাধিকার সংস্থা। তারা এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালায়। ক্রেতাদের যেমন এই বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য চাপ দিতে থাকে, তেমনই এই সংগঠনগুলো বাংলাদেশ সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। চাপ ক্রমে তীব্র হতে থাকে এবং একসময় সেটি প্রচণ্ড হয়ে ওঠে। আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে তখন সাফ সাফই জানিয়ে দেয় যে, শ্রমমানের উন্নতি না হলে তারা বাংলাদেশকে বাণিজ্যে যে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে, তা বন্ধ করে দেবে। আমরা গোড়া থেকেই এ রকমই একটা আশংকা করে আসছিলাম। আমরা গভীর উদ্বিগ্ন ছিলাম এই শংকায় যে, ট্রেড ইউনিয়নবিহীন পোশাক শিল্পে হয় শ্রমিক বিস্ফোরণ ঘটবে অথবা দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি পশ্চিমের দেয়া সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত হবে। অমন অঘটনটি ঘটবে, তবেই সবার টনক নড়বে। এখন এমন হল, বিশ্বের বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম, মূল প্রবন্ধ, প্রেসিডেন্ট ওবামা থেকে মহামান্য পোপ, আমেরিকান সিনেট, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট- সবাই তীব্র কণ্ঠে চিৎকার করে সরব হলেন। তারপর আমাদের একটু বোধোদয় হল। তারপরও আমাদের দু’একজন মন্ত্রী বললেন, না এটা তেমন কিছুই না, এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে।
তবে শুধু আশংকা করে করেই আমরা, শ্রমিকরা ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা, নিরস্ত ছিলাম না। অমন ভয়াবহ পরিস্থিতির যেন উদ্ভব না ঘটে, সে জন্য বাংলাদেশের শ্রমিকরা এবং শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা অনেক চেষ্টাও করে যায়। কিন্তু কে শোনে শ্রমিকদের কথা! কে কর্ণপাত করে সত্য ভাষণে! বিগত দুই-তিন বছর ধরে এমনকি শ্রমিক-মালিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় সভাও হয় না! যেখানে বিষয় গুলো নিয়ে কথা বলা যেত।
আইএলও অনেকদিন থেকেই বাংলাদেশের শ্রমমানের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে আসছে। চেষ্টা করে চলছে ইউরোপ ও আমেরিকায় বাংলাদেশের বাজারটি বহাল রাখার জন্য। নানা উদ্যোগ নিয়েছে যেন বাংলাদেশ ইউরোপ ও আমেরিকায় বাজারটি না হারায়। আইএলও খুব সাফল্যের সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসনে পোশাক শিল্পকে সাহায্য করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, আইএলও শত চেষ্টা করেও অন্যান্য শ্রমমানের উন্নয়নের গুরুত্বটি বাংলাদেশ সরকার ও মালিকদের বোঝাতে সমর্থ হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ও মালিকরা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলোর দাবি ও নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাকে অবহেলা তো করেছেই; উপরন্তু ক্রেতা-দাতারা যে মান চেয়ে এসেছে, তারা সেগুলো বরাবর পাশ কাটিয়ে গেছে। এরা ট্রেড ইউনিয়নের পরিবর্তে গঠন করতে আগ্রহী হয়েছে পার্টিসিপিটরি কমিটি। আগুন লাগলে বা বিপদ আপদে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অব্যবহারযোগ্য লোহার সিঁড়ি ইত্যাদি বানিয়ে দায় সারতে চেয়েছে। এবং মূল করণীয় কর্ম থেকে বরাবর রয়ে গেছে দূরে। এসব করে যে বিদেশী ক্রেতাদের বা দাতাদের মানানো যাবে না; এই গূঢ় সত্যটি উপলব্ধি করার শক্তি ও সামর্থ্য আমাদের কর্তাদের ছিল না। লোহার সিঁড়ির হালচাল বা ইত্যাকার গৌণ বিষয়াদি পর্যবেক্ষণের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন করে তারা। সেই কমিটি নিরাপদ কর্মসংস্থান আছে কিনা- এসব বৃত্তান্ত দেখেশুনে আসতে নানা ফ্যাক্টরিতেও যায়। এরা ফ্যাক্টরিতে খানিকটা ঘুরেফিরে এসে কাগজে টিক মার্কও দিয়ে যেতে থাকে। এই রানা প্লাজাও ওই কমিটি কর্তৃক টিক মার্কপ্রাপ্ত। রানা প্লাজার ধস হয়তো শ্রমমানের বিষয়ে দাতা-ক্রেতাদের কঠোর হতে বাধ্য করেছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের যে অভিযোগ, সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে কদাপি নেয়া হয়নি। বরং সেতুবিষয়ক কর্মকর্তাদের ঘুষ নেয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে যথাযথ কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কী করা হল? করা হল যেনতেন হালকা-পাতলা আবোলতাবোল কিছু কাজ। একেই বোধ হয় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার উদ্যোগ-চেষ্টা বলে! এতদিন ধরে পোশাক শিল্পের কমপ্লায়েন্সের বিষয়েও ওই একই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ঢাকায় এসে শ্রমিক নেতা আমিনুলের হত্যার তদন্ত দাবি করেন। আর তার এই দাবিতে আমাদের পলিসি মেকাররা বিস্মিত হয়ে একশেষ! আমিনুল কে, সে তো বড় কোনো নেতা নয়। তার বিষয়ে মার্কিনিদের এত গরজ কেন! যেন বড় নেতা হলেই তদন্ত ও বিচারের দাবি হতে পারে। টিভিতে টকশোতে দেখেছি অনেকের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া। দেশের সাধারণ কেউ ন্যায্যবিচার পাওয়ার অধিকার রাখে না এই দেশে!
রানা প্লাজার ধসের পর পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার পক্ষে সরকার থেকেই এখন বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা বলেছেন, শ্রম আইন ২০০৬-এ কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে যার ফলে পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে। বর্তমান শ্রম আইনে ইউনিয়ন করার প্রধান বাধা হল শ্রমিকরা রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন, ইউনিয়ন গঠন করার জন্য আবেদন করলে সেখানে জমা দেয়া কমিটির ও ইউনিয়নের সদস্য তালিকা মালিক বা কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে অবহিত করবেন। তাদের অনুমতি ও সত্যতা যাচাই করার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই মালিকরা যখন আগের থেকেই জানতে পারেন, তখন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন যেন না হয় সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে সেটাই পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন না হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। যে কারণে সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে না, সেটা হল সরকার ও মালিকদের পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন না হওয়ার নীতি। এ বিষয়ে পোশাক শিল্পের মালিকদের লবি খুবই তৎপর ও শক্ত অবস্থানে। যে কারণে কোনো রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয় না, ইউনিয়ন না হওয়ার আর একটি বড় বাধা ফ্যাক্টরি শ্রমিকরা কারখানার প্রাঙ্গণে বা কোনো হলে একত্র হতে পারে না। তাদের বিষয়-আশয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। কারণ এরকম সুযোগ-সুবিধা ফ্যাক্টরিতে নেই।
শ্রম আইনে যে সব সংশোধনী আনা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি হল প্রস্তাবিত ইউনিয়নের তালিকা রেজিস্ট্রেশনের পূর্বেই মালিকদের কাছে না পাঠানো। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোশাক শিল্পে ইউনিয়ন গঠন করার পক্ষে বক্তব্যের ফলে তা ইউনিয়ন গঠন করার পক্ষে আবহাওয়া তৈরি হতে সাহায্য করবে।
কেবিনেট কর্তৃক অনুমোদিত শ্রম আইন সংশোধনীতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়নি। অথচ এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের শাসনের শেষ প্রান্তে এসে ২০০০ সালে একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়, যে ঘোষণার বিরুদ্ধে মালিক পক্ষ হাইকোর্টে রিট করলে ঘোষণাটি বাতিল হয়। বিচারকরা তাদের অবজারভেশনে বলেছেন ন্যূনতম মজুরি আইন যথাযথ অনুসরণ না করে ঘোষণা করা হয়েছে।
১৩৮ ও ১৩৯ ধারায় নিম্নতম মজুরি বোর্ড প্রতিষ্ঠা ও ১৩৯ ধারায় নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশে বিভিন্ন সেক্টরে নিম্নতম মজুরির ঘোষণার সঙ্গে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে কোথাও ঘণ্টা, দিন বা মাসের ভিত্তিতে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আছে। এর অর্থ দাঁড়ায় একজন শ্রমিক যেখানেই কাজ করুক না কেন, তাকে এই ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে। আর যে সেক্টরে মজুরি বোর্ড আছে সেখানে সেই বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত নিম্নতম মজুরি কার্যকর থাকবে। তবে সেটা জাতীয় ন্যূনতম মজুরির নিচে হবে না। পাকিস্তান ও ভারতে এই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে বিভিন্ন প্রদেশ। পাকিস্তানে সর্বনিম্ন মজুরি হল ১০ হাজার রুপি। ইসলামাবাদে সাড়ে ১০ হাজার।
মুটে-মজুর বিভিন্ন পেশার মানুষ যারা ঠিকা ভিত্তিতে কাজ করেন তাদেরও শ্রম আইনে আনা উচিত। এদের শ্রম আইনের আওতায় না আনলে অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষ এর আওতার বাইরে থাকবে। ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে ইনফরমাল শ্রমিকদের শ্রম আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু তা-ই নয় এসব শ্রমজীবী মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পায়, বিভিন্ন স্বাস্থ্য স্কিমের আওতায় তাদের আনা হয়েছে। শ্রম আইনের ধারা ১-এর ৪ উপধারাসহ সব ধারা বা উপধারায় শ্রমিকের সংগঠন করার অধিকার রহিত করা হয়েছে তা বাতিল করার প্রয়োজন। ধারা ২(৬১)-এর ‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’ সংজ্ঞায় ধানকল, করাতকল, মাছধরার ট্রলার, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, সমুদ্রগামী জাহাজসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকদের যুক্ত করতে হবে।
শ্রম আইনের ১৮০ ধারার খ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা বা সদস্য হতে পারবে না, এই বিধানের ফলে ইউনিয়ন অকার্যকর করার জন্য কর্তৃপক্ষ তার অপছন্দের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করে সহজেই তাকে ইউনিয়ন থেকে অপসারণ করতে পারবেন। অথচ আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮-এ শ্রমিকের নেতা নির্বাচনের কথা রয়েছে যা বাংলাদেশ সরকার অনুসমর্থন করেছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল বা শ্রীলংকায় এরকম বিধিনিষেধ নেই। তারা শ্রমিক নয় এমন লোককেও নেতা নির্বাচিত করতে পারে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাজনীতিক নেতা ও সমাজসেবক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ভারত উপমহাদেশে কেন, ইউরোপেও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে ওঠে সোস্যাল ডেমোক্রেট ও সমাজসেবীদের দ্বারা।
কোনো কারণ ছাড়াই একজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার অবাধ অধিকার শ্রম আইনের ২৬ ধারায় দেয়া হয়েছে, যা একেবারেই অগণতান্ত্রিক ও অমানবিক। একটি লোক দীর্ঘদিন এক ট্রেডে কাজ করে অবদান রাখছে। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অর্জন করেছে, তাকে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া নিতান্তই অমানবিক।
মালিক পক্ষের সুপারিশে সরকার তার সংশোধনীতে ৩২ ধারা ২৭ (৩) ধারা সংযোজন করেছে। সেটা হল কোনো শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে কিংবা চাকরি পরিত্যাগ করলে তার পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে। এটা একটি অগণতান্ত্রিক সংযোজন। বর্তমান শ্রম আইন ধারা ১-এর ৪ উপধারায় শ্রমিক সংগঠন না করার ওপর সরকারের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে, সরকার ইচ্ছা করলে জরুরি সার্ভিস ঘোষণা করে এসব প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। এ বিধি অগণতান্ত্রিক ও আইএলও সনদবিরোধী।
বাংলাদেশেও এ সুযোগ ছিল, ১৯৭৭ সাল থেকে এই বিধি-নিষেধ করা হয়েছে। আমরা আশা করব শ্রম আইনে শ্রমিকের ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
মেসবাহউদ্দীন আহমেদ : জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি

মিথ্যাচারের রাজনীতি by মাহমুদুল বাসার

অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা রাখতে চান এজন্য যে, রাজনীতিতে দেদার মিথ্যার চর্চা হয়। হিটলারের সচিব, বিশ্ববিখ্যাত মিথ্যুক গোয়েবলস্ কোনো পাদরি ছিলেন না, ছিলেন রাজনৈতিক সচিব। সুবিখ্যাত বক্তা, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী এক বক্তৃতায় গল্পের ছলে বলেছিলেন, ‘এক নেতা কথায় কথায় মিথ্যা বলতেন। তিনি হজ করে আসার পর তার সঙ্গে দেখা গেল একজন লোক। লোকে জিজ্ঞেস করল, ‘হাজী সাহেব, ইনি কে?’ উত্তরে হাজী সাহেব বললেন, ‘ইনি আমার সচিব।’ লোকে বলল, ‘কই আগে তো কোনো সচিব ছিল না!’ হাজী সাহেব বললেন, ‘জানেন তো রাজনীতিতে নেমে মিথ্যা কথা না বলে পারি না, হজ করে আসার পর নিজে তো এত মিথ্যা বলতে পারব না, তাই মিথ্যা কথা বলার জন্য সচিব রেখেছি।’ পণ্ডিত জহরলাল নেহেরুও বলেছেন, ‘রাজনীতিতে মিথ্যাচার অনিবার্য।’ রাজনীতিতে মিথ্যাচার নিয়ে সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি গল্প বলি। একবার এক দেশে দু’জন যুবককে পৌর কর্তৃপক্ষ বললেন, ‘তোমরা একটা উঁচু মঞ্চে দাঁড়িয়ে যে যত বেশি মিথ্যা কথা বলতে পারবে, তাকে সেরা পুরস্কার দেয়া হবে।’ ওদের মিথ্যা বলা প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে এক পাদ্রি এসে ধমক দিয়ে বলল, ‘এই তোমরা এত মিথ্যা কথা বলছ কেন? জানো, আমি আমার জীবনে একটা মিথ্যা কথাও বলিনি?’ যুবকদ্বয় অট্টহাসি দিয়ে বলল, ‘ফাদার, আমাদের পুরস্কারটি আপনারই প্রাপ্য।’ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে উত্থান ঘটেছিল বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমানদের। তখনকার মিডিয়া বাংলা ভাইয়ের খুনখারাবি ও জঙ্গি তৎপরতার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী বলে বসলেন যে, ‘বাংলা ভাই বলে কেউ নেই, এসব মিডিয়ার সৃষ্টি।’ পরে দেখা গেল মূর্তমান বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হল। রবীন্দ্রনাথের ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পে আছে, ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।’ বাংলা ভাইও ফাঁসিতে জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিল নিজামী মিথ্যা কথা বলেছিলেন। বিষ এক কলস খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, একফোঁটা খেলেই যথেষ্ট।
পাকিস্তানের শাসকরা টানা ২৩ বছর মিথ্যাচার করেছে। হাদিসে আছে, ‘মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে।’ ওরাও ধ্বংস হয়ে গেছে। নিজেদের গদি রক্ষা করার জন্য পাক শাসকরা কথায় কথায় ইসলাম টেনে এনেছে; অথচ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ সাহেবই ইসলামী আচরণে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি রোজা-নামাজ করতেন না, জুমার নামাজও পড়তেন না। এটাই মিথাচার।
১৯৭৪ সালে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে দুর্ভিক্ষ লেগেছিল, এ কথা সত্য। কিন্তু তখন কেবল চালের দামই বৃদ্ধি পেয়েছিল, কাপড়ের দাম নয়। অথচ পত্রিকায় দেখানো হয়েছিল জাল পরা বাসন্তীকে। এই প্রচারণার কারণে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি মারাত্মক হোঁচট খেয়েছিল। পরে কৃতী সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দীন অকুস্থল তদন্ত করে দেখিয়েছিলেন, ঘটনাটি সাজানো। এটাও তো মিথ্যাচার।
মিথ্যাচার এখনও চলছে সমান গতিতে। সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেককেই উদ্ধার করে জীবন ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে মহিলা গার্মেন্ট কর্মী রেশমাকে সেনা তত্ত্বাবধানে অনেকটা অলৌকিকভাবেই উদ্ধার করা হয়েছে। হঠাৎ শোনা যাচ্ছে, এটা নাকি সাজানো নাটক। বলেছে এক বিদেশী পত্রিকা। বিদেশী মাত্রই ধোয়া তুলসীপাতা নয়। লর্ড ক্লাইভ এবং নীলকর দস্যুরা জঘন্য মিথ্যুক ছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রশাসন সম্পর্কে লোমহর্ষক মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কিসিঞ্জার এবং ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার। ব্রিটিশ সাংবাদিক লেখক ম্যাসকারেনহাস বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নোংরা মিথ্যা বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধু নাকি ভুট্টোর সঙ্গে গোপনে কনফেডারেশনের চুক্তি করেছিলেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ম্যাসকারেনহাস ‘দি রেপ অব বাংলাদেশ’ বইটি লিখে সুনাম অর্জন করেছিলেন। তার বদৌলতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরে রহমানের কাছে কয়েক লাখ টাকা চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তা দিতে অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমি গরিব দেশের প্রধানমন্ত্রী, এত টাকা কোথায় পাব?’ এরপরই ম্যাসকারেনহাস বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। (আবদুল মতিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : মুক্তিযুদ্ধের পর)।
বিরোধীদলীয় নেতা বিদেশের একটি পত্রিকায় নিবন্ধ লেখা নিয়ে পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা না বললেও পারতেন।
মাহমুদুল বাসার, কলাম লেখক, গবেষক

লিমন যেন ন্যায়বিচার পায় by আহমেদ সুমন

র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানাই। গত ১ জুলাই দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে ঝালকাঠির আদালত চত্বরে লিমনের কান্নার ছবি প্রকাশিত হয়। র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলার শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে লিমন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরদিন অর্থাৎ ২ জুলাই ইতিপূর্বে র‌্যাব কর্তৃক দায়ের করা সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগটি বিচারের জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বলা প্রয়োজন, মাঝে এসব মামলা একটু স্থবির হয়ে পড়েছিল। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন লিমনের বিরুদ্ধে তাদের কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি করে। লিমনের আইনজীবী মানিক আচার্য বলেছেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গত ২৩ জুন লিমন ও তার মা-বাবাকে ডেকে র‌্যাবের সঙ্গে আপস মীমাংসা করার জন্য প্রস্তাব দেন। সেটা সফল না হওয়ায় হঠাৎ করেই লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা র‌্যাবের দুটি মামলা গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেল, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আপস-মীমাংসার অংশ হিসেবে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং লিমন পঙ্গুত্ববরণ করার দায়ে র‌্যাবের অপরাধী সদস্যদের বিরুদ্ধে লিমনের দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে লিমন রাজি না হওয়ায় আপস-মীমাংসা ভেস্তে যায়। যে কোনো ঘটনার আপস-মীমাংসা আইনত সিদ্ধ। কিন্তু ঘটনা বিশেষে কখনও কখনও ন্যায়বিচারও ব্যাহত হয়। এক্ষেত্রে এমন ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছিল। যা হোক, শেষ পর্যন্ত সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলেই মনে হয়।
র‌্যাব সদস্য নিরপরাধ নিরস্ত্র লিমনের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে তাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে দিল। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে লিমন থানা গড়িয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব তাদের গতানুগতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে লিমনের নামে একাধিক মামলা দায়ের করে। আমরা দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হলে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করতে দেখি। এখানে কারও অপরাধ একটু বেশি বা কম থাকতে পারে। কিন্তু সাতুরিয়া গ্রামের পাশে সেতুর কাছে লিমনের সঙ্গে তো র‌্যাব সদস্যদের গুলিবিনিময় হয়নি। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। গ্রামের এক কিশোর যেখানে র‌্যাব আসছে শুনলে দৌড়ে পালায়, সে কি র‌্যাবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লাগতে পারে? অথচ র‌্যাব লিমনের নামে সেই অভিযোগে এনে মামলা দায়ের করে। র‌্যাবের মামলাটি যে লিমনের যৌক্তিক মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার আরও একটা অস্ত্র ছিল, তা অনুধাবনের জন্য গবেষণার প্রয়োজন হয় না। অপরাধীকে অপরাধের শাস্তি দেয়া ন্যায়বিচারের অংশ। এ অবস্থায় আপস-মীমাংসার প্রস্তাবে লিমন সম্মত হলে ন্যায় উপেক্ষিত হতো বৈকি।
লিমনের ঘটনাটি দু’বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ সাতুরিয়া গ্রামের লিমন হোসেন নিজেদের গরু আনতে মাঠে গেলে কথিত সন্ত্রাসী মোরশেদ জমাদ্দারকে ধরার অভিযানে যাওয়া র‌্যাব সদস্যরা লিমনের পায়ে গুলি চালায়। লিমনের পরিবার এর প্রতিকার চাইতে গেলে তাদের ওপর শুরু হয় একের পর এক অত্যাচার, অবিচার। ঘটনাটি এতদিন ধরে চলবে ভাবিনি। লিমন বনাম রাষ্ট্র নিয়ে অনেকেই গণমাধ্যমে আলোচনা করেছেন, সংবাদপত্রে লিখেছেন। ভেবেছি, অনেক আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সরকার নিরীহ লিমনের প্রতি সংবেদনশীল হবে। লিমনের বিরুদ্ধে সাজানো সব অভিযোগ থেকে তাকে নিষ্কৃতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক লিমনের চেয়ে সরকারি অস্ত্রধারী বাহিনী সরকারের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রান্তিক পর্যায়ের একজন মানুষ বা একটি পরিবারের ভাবনা সরকারের জন্য জরুরি নয়। জরুরি হল সরকারের বিপদে, বিরোধী দলকে দমনপীড়নে যারা সরকারের হয়ে অস্ত্র হাতে অ্যাকশনে নামে তাদের মন রক্ষা করা! এটি যখন যারা ক্ষমতায় থাকেন, তাদের সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে আমরা এমনটিই লক্ষ্য করছি। অর্থনৈতিক শক্তিশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার প্রশাসনিক যন্ত্র হিসেবে রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ায় রাষ্ট্রের মূল চরিত্র হল শাসক শ্রেণী তথা ধনবানদের স্বার্থ রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতা করা। রাষ্ট্র এখানে নিরপেক্ষ নয়। লিমন বনাম র‌্যাবের মামলায় রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকেনি। রাষ্ট্র র‌্যাবের পক্ষাবলম্বন করেছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে পাঁচটি স্তর যথা- প্রতিপাদ্য, প্রমাণ, দৃষ্টান্ত, প্রয়োগ ও সিদ্ধান্ত- এর সবই লিমনের বিপক্ষে প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় উপাখ্যানে ঋষি গৌতম যে ন্যায় দর্শন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, তা এক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যক্তির বিশেষ কোনো কাজ বা আচরণকে ন্যায় বলে এবং অপর কোনো কাজকে অন্যায় বলে নির্দিষ্ট করে। বহুকাল আগে ধারণা করা হতো, ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠির আদর্শে কেবল ব্যক্তি নয়, সামাজিক সব সংস্থার আচরণও মূল্যায়িত হয়। দ্বন্দ্বমান শ্রেণী বিভক্ত কোনো সমাজের মধ্যে একই কালে একই বিষয়ে ন্যায়-অন্যায়ের পরস্পরবিরোধী পরিমাপক অনুসৃত হতে পারে। ন্যায়-অন্যায়ের একমাত্র বৃহৎ ও স্থায়ী মাপকাঠি হতে পারে মানুষের কল্যাণ- ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের। লিমনের ক্লান্ত-শান্ত অশ্র“ভেজা চোখ বলে দেয়, এখানে ন্যায়বিচার কাঁদছে। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। ন্যায়-অন্যায় মানুষই করে এবং বিচার-বিবেচনা ও বিশ্লেষণও মানুষ করে। র‌্যাব সরকারের একটি চৌকস আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বটে। কিন্তু তারাও ভুল বা অন্যায় করতে পারে। এই ভুল বা অন্যায়ের জন্য র‌্যাবের বেশ কয়েকজন সদস্যদের বিচার হওয়ার খবরও আমরা জানতে পেরেছি। সুতরাং র‌্যাব ভুল করতে পারে না, এমনটি নয়। তাহলে লিমনের ক্ষেত্রে র‌্যাবের একটি ‘অন্যায়’কে জায়েজ করতে একের পর এক সাজানো ঘটনা যে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গ্রামের একজন নিরীহ নিরস্ত্র ব্যক্তির পক্ষে কি কোনোভাবে রাষ্ট্রের অস্ত্রধারী একটি বাহিনীকে তার কাজে বাধা দেয়া সম্ভব? এটা কি কেউ বিশ্বাস করে? অথচ আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অপরাপর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি কর্তৃক র‌্যাবের কৃতকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য লিমনের পুরো পরিবারকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। সরকারের এ অবস্থান মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। লিমনের পায়ে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে র‌্যাব তথা সরকারের ভূমিকা প্রশংসিত হতো। সরকারের কাছ থেকে সংবেদনশীল আচরণ পাওয়ার যে আকাক্সক্ষা করে জনসাধারণ, তা পূরণ হলে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ত। কিন্তু সরকার এক্ষেত্রে জনসাধারণের মনোভাবের বিপরীতে অবস্থান নেয়ায় লিমনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এক পায়ে জীবন বয়ে বেড়ানো অনেক কষ্টের, যাতনার। তাছাড়া লিমনের মাথার ওপর ছিল র‌্যাবের মামলার খড়গ। ‘র‌্যাবের মামলা থেকে যদি অব্যাহতি পেতাম, মন দিয়ে লেখাপড়া করতে পারতাম’- ঝালকাঠির আদালত চত্বরে লিমনের এ আকুতি সরকারের মনকে অবশেষে নাড়া দিয়েছে?
অপরাধ স্বীকার করার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই। মহত্ত্ব আছে। লিমনকে গুলি করার মধ্য দিয়ে র‌্যাবের যে সদস্যরা অপরাধ করেছে, তা স্বীকার না করে একের পর এক মিথ্যার উপাখ্যান সাজানো হয়েছে। র‌্যাবের দু’-একজন সদস্যকে রক্ষার জন্য পুরো র‌্যাবকেই বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যে ফেলা হয়েছে। এ কথা কে না জানে যে, একটি মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক মিথ্যা বলতে হয়। বস্তুত র‌্যাব তথা প্রশাসন এতদিন এ কাজটিই করছে। এক সময় ব্রিটেনের সমাজে একটি প্রচলিত বিশ্বাস ছিলÑ রাজা কোনো ভুল করতে পারে না। আমরা এটাও জানি, নাগরিকদের প্রতি ব্রিটেনের রাজা বা রানীর মমত্ববোধ ও সংবেদনশীল আচরণ তাকে মহিমান্বিত করেছে।
সাতুরিয়া গ্রামের লিমন তো বাংলাদেশেরই নাগরিক। নিজ দেশের দরিদ্র কলেজছাত্র লিমন ও তার পরিবারের প্রতি সরকার যে আচরণ করেছে, দেশের আর কোনো নাগরিক যেন এমন আচরণের শিকার না হয়।
আহমেদ সুমন : গবেষক ও বিশ্লেষক

সংসদ নির্বাচনের ফল কি স্থানীয় নির্বাচনের মতো হবে? by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদান্তে এসে সাধারণত জনপ্রিয়তা হারায়। কারণ ১৬ কোটি মানুষের দেশে সরকারের পক্ষে গণমানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। আর সাধারণ মানুষ যখন দেখেন, তারা সরকারের কাছে যা আশা করেছিলেন সে আশা খুব কমই পূরণ হয়েছে, তখন তারা সরকারকে সমর্থন দেন না। ফলে সরকারের জনসমর্থন কমে যায়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের চাহিদা কিন্তু খুবই কম। দেশের অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ, যারা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি, তাদের চাহিদা সবচেয়ে কম। তারা রাতারাতি বড়লোক হতে বা গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক হতে চান না। তারা শুধু চান দু’বেলা দু’মুঠো খেতে, কাজের সুযোগ পেতে এবং নিরাপদে চলাফেরা করতে। কাজেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারলে তাদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হয়ে যায়। তবে যারা শিক্ষিত ও সচেতন, তাদের চাহিদা অন্য রকম। তারা দেখেন, সরকার প্রতিশ্র“ত নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছে কি-না, না পারলে ওই সব ওয়াদা পূরণে সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করেছে, এমপি-মন্ত্রীরা সমাজের চেহারা বদলাতে নাকি নিজের ও পরিবারের উন্নয়ন ঘটাতে কাজ করেছেন। তাছাড়া সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আছে কি-না সে বিষয়টিও তারা বিচার করে সরকারকে মূল্যায়ন করেন। আর এ দুই শ্রেণী বাদে শতকরা পাঁচ-সাত ভাগ উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী আছেন, যারা দেখেন জিডিপি বাড়ল কি-না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কতটা হল। বিভিন্ন উন্নয়নের সূচকে দেশের অবস্থানের গতিবিধি বিবেচনাসহ সরকারি কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সরকারকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করেন।
ইতিপূর্বের অন্যান্য সরকারের মেয়াদান্তে ওই সরকারগুলো যতটা জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল, মহাজোট সরকার হয়তো তার চেয়ে কিছুটা বেশি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এর প্রধান কারণ হল, এ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে করা ওয়াদা পূরণে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যর্থ হওয়া এবং ওয়াদা না করা কতগুলো বড় কাজে হাত দিয়ে সেগুলোতে সুবিধা করতে না পারা। ওয়াদা করা বিষয়গুলোর মধ্যে বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মূল্যসন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের ব্যর্থতা; দুর্নীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সুবিধা করতে না পারা; মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ ও প্রকাশ না করা; দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রত্যাশিত মাত্রায় সাফল্য না পাওয়া; সন্ত্রাস, খুন-গুম, সীমান্ত হত্যা কমাতে না পারা; জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে না পারা প্রভৃতি। আর ওয়াদা না করা কিছু বিষয়ে সরকারের অত্যধিক মনোযোগ জনগণ পছন্দ করেননি। যেমন বিরোধী দলের প্রতি হামলা, মামলা, নিপীড়ন, নির্যাতন করা, তাদের সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে না দেয়া, বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করা, টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র বন্ধ ও সম্পাদককে গ্রেফতার করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা, আলাপ-আলোচনা না করে এবং সংসদ সদস্য ও জনগণকে না জানিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা আখ্যা দিয়ে সরকারদলীয় এমপি ও নেতা-মন্ত্রীদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের একই চরিত্রসম্পন্ন মামলা জিইয়ে রাখা, সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রভৃতি।
নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি মোতাবেক কাজ না করতে পারায় সরকার যে ক্রমাগতভাবে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে, সে বিষয়টি অনেক আগে থেকেই অনুধাবন করা যায়। বিভিন্ন উপনির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভালো না করতে পারার মধ্যে প্রথম সরকারি দলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার ব্যাপারটি ধরা পড়ে। পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে গড়ে ওঠা বিরোধীদলীয় আন্দোলনের ওপর সরকারের নিপীড়ন, নির্যাতন, গ্রেফতার এবং হামলা ও মামলার চরিত্রও সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রতি বিরক্ত করে তোলে। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চকে প্রাথমিকভাবে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সরকারি সমর্থন দিয়ে হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামাদের প্রতি গভীর রাতে বাতি নিভিয়ে নির্দয় ও নিষ্ঠুর আচরণ করার বিষয়টিও মানবতাবাদী ও বিবেকবান নাগরিকরা পছন্দ করেননি। দলীয় সরকারের অধীনে নিজেরা ক্ষমতায় থেকে স্বনিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগটি সরকারি দলের কট্টর সমর্থক ছাড়া আর কেউ পছন্দ করেন না। এর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষেত্রে বেপরোয়া লুটপাট এবং পদ্মা সেতু ও রেলওয়ের কালো বিড়ালখ্যাত নিয়োগ-দুর্নীতির বস্তাভরা টাকা ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়া এবং এক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য সরকারকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় করে তোলে। সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টি কিছু পত্রিকার জরিপেও উপস্থাপিত হয় এবং এ অজনপ্রিয়তা যে নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব রাখবে, সে বিষয়টি নাগরিকদের মুখে মুখে আলোচিত হতে থাকে।
সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর যদি কেউ অখুশি হন, তাহলে ওই দলকে তিনি ভোট দেন নাÑ এই সাধারণ ফর্মুলা অনুসারে বিচার করে বলা যায়, এ সরকারের জনপ্রিয়তা অতটা কমেনি, যতটা সাধারণ মানুষ ভেবেছিলেন। কারণ এ রকম হিসাবে দেখা যায়, শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। এদের কয়েকজন ক্ষোভে আর দুঃখে আÍহত্যা পর্যন্ত করেছেন। অন্য সবাই কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন। এই ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পারিবারিক সদস্যসহ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ভোটার। গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সরকার যে আচরণ করেছে তাতে ওই ব্যাংকের সঙ্গে জড়িতরা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা যে পারিবারিক সদস্যসহ আড়াই থেকে তিন কোটির মতো ভোটার, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে গভীর রাতে বাতি নিভিয়ে যে মারাÍক নির্দয় আচরণ করা হয়েছে, তাতে সরকারের ওপর তারা অসম্ভব ক্ষুব্ধ। হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসার ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলামা যে পারিবারিক সদস্যসহ কোটিরও বেশি সংখ্যার এক বিশাল ভোটব্যাংক, সে সত্য মনে রাখা দরকার। কাজেই তারা সবাই যদি ভোট দেয়ার সময় সরকার সমর্থক প্রার্থীদের সমর্থন না দেন এবং তাদের সঙ্গে ভাসমান ভোটারদের অধিকাংশ যদি সরকারের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা বিবেচনায় যুক্ত হন, আর সেই সঙ্গে ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর, দলীয় অন্তর্কোন্দলীয় মনোবেদনা এবং সুযোগ-সুবিধার ভাগবাটোয়ারায় না পাওয়ার মনোকষ্টে অসন্তুষ্ট সরকারদলীয়দের অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থক যদি ব্যালট হাতে পেয়ে সে বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটান, তাহলে তো সরকারদলীয় প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি হওয়ারই কথা। আর এতসব ভোট যদি বিরোধী দলের শতকরা ৩৫ ভাগের মতো রিজার্ভ ভোটের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সরকারদলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবি সুনিশ্চিত। কিন্তু সরকারদলীয় প্রার্থীরা অতটা খারাপ করেননি, যা ১৫ জুনের ৪টি এবং ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে প্রমাণ করেছেন। তবে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিয়ে এখনও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করলে সরকারদলীয় প্রার্থীদের সংসদ নির্বাচনে এর চেয়ে ভালো করার সুযোগ রয়েছে।
চারটি সিটি নির্বাচনে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীরা ভালো কাজের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়ে মেয়র পদ হারালেও উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পেয়ে সরকারের মুখ রক্ষা করেছেন। তাদের একজনেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়নি। বরিশালে ১৭, সিলেটে ৩৫, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৬১ হাজার এবং গাজীপুরে ১ লাখ ৬ সহস্রাধিক ভোটের ব্যবধানে সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা প্রতিপক্ষ ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হলেও নির্বাচনে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে সক্ষম হন। এ চারটি নির্বাচনের পর কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীর (৮৪০৬) চেয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী প্রায় দ্বিগুণ (১৬২৪৪) ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জুনের শেষ সপ্তাহে নোয়াখালীর চাটখিলে আওয়ামী লীগ সমর্থক পৌর মেয়রের মৃত্যু-পরবর্তী উপনির্বাচনেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর কাছে সরকারি দল সমর্থক প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। আলোচ্য নির্বাচনগুলোর কাউন্সিলর পদগুলোতেও সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটে। চার সিটি নির্বাচনে ১১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৬৫ জন কাউন্সিলর বিজয়ী হলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৮ জন কাউন্সিলর জয় পান। কাজেই দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা, আর্থিক লুটপাট, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়নের কারণে সরকারের প্রতি বিরক্ত ভোটাররা বিক্ষুব্ধ হেফাজত নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ ১৮ দলের রিজার্ভ ভোটের সঙ্গে যুক্ত হলে সরকারদলীয় প্রার্থীদের যতটা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার কথা ছিল, তারা কিন্তু তেমনভাবে পরাজিত হননি। মেয়ররা পরাজিত হয়েও মুখ বাঁচানোর মতো ভোট পেয়ে সরকারের সম্মান রক্ষা করেছেন। এসব প্রার্থীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় ভাবমূর্তির ফলে তাদের পক্ষে এহেন ফলাফল করা সম্ভব হয়েছে।
পাঁচটি বড় সিটি নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে বড় ধাক্কা খেয়ে সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভিন্ন বিবেচনায় ভোট দেবেন। কাজেই সরকারের ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ড’ ভোটারদের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তাদের প্রার্থীরা ভালো করবেন বলে তারা মনে করছেন। কিন্তু আসলে কি তেমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা আছে? যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভালো রেকর্ড নিয়ে চারজন ডাকসাইটে মেয়র প্রার্থীর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি হল, গাজীপুরে পরাজিত না হওয়ার রেকর্ডধারী, দুর্নামহীন ও আকর্ষণীয় প্রার্থী চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হলেন, সেখানে নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টিকারী অধিকাংশ এমপি- জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় যাদের অনেকে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না- তারা সংসদ নির্বাচনে ভালো করবেন কিভাবে? ইতিমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন যেসব এমপিকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে- যাদের কেউ কেউ হামলার শিকার হয়েছেন, দু’-একজনের ওপর প্রস্তর বা পাদুকা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে- এমন সব এমপির জনপ্রিয়তা অনুধাবনে জরিপ বা গবেষণা করার প্রয়োজন হয় না। সরকারদলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন সূত্রে জরিপ করে এমপিদের জনপ্রিয়তার দুরবস্থা অবগত হয়ে প্রায় ১৫০ আসনে প্রার্থী বদলের চিন্তা করছেন (যুগান্তর, ২৮-০৬-১৩)। এ তালিকায় সাধারণ এমপিদের সঙ্গে অনেক ডাকসাইটে সরকারদলীয় নেতা ও মন্ত্রীও রয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন না করতে পারলেও অনেক এমপি নিজের ও পরিবারের ব্যাপক উন্নয়ন করে গণমাধ্যমে প্রচার পেয়েছেন। এরা মনোনয়ন পেলে ভোটার কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবেন। আসলে প্রথম থেকেই সরকারি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পেশাদারিত্বের সঙ্গে যেমন পরিচালিত হয়নি, তেমনি এমপিদের পারফরম্যান্স দেখভালের যথোপযুক্ত ব্যবস্থাও গৃহীত হয়নি। এর ফলে অনেক এমপি দলীয় ইমেজ ও জনপ্রিয়তার কথা ভুলে ফ্রিস্টাইলে কাজ করে অজনপ্রিয় হয়েছেন। ফলে সরকারদলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থা হয়েছে ওই বোকা ছাত্রের মতো, যে সারা বছর লেখাপড়া না করে পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে লেখাপড়া করে ভালো ফল করতে চেয়ে ফেল করে। সরকারি দল গত সাড়ে চার বছর সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ না করে নির্বাচনের প্রাক্কালে রাতারাতি সাংগঠনিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনে ভালো ফল করার যে চেষ্টা করতে চাইছে, তার ফল যে পাঁচ সিটি নির্বাচনের ফলের মতো হবে না এমনটা বলা যায় না।
পাটীগণিতের হিসাবে তো নিরপেক্ষভাবে সংসদ নির্বাচন হলে বর্তমান জনপ্রিয়তায় সরকারদলীয় প্রার্থীদের ফলাফল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতোই খারাপ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের উদাহরণ প্রণিধানযোগ্য। সরকারদলীয় ডাকসাইটে মেয়র প্রার্থীরা অনেক উন্নয়ন কাজ করে উল্লেখযোগ্য দুর্নাম না থাকা সত্ত্বেও এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ পেয়ে এবং তাদের দু’-একজনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কখনোই পরাজয়ের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও যদি প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কাছে বিস্তর ভোটে পরাজিত হতে হয়, তাহলে তুলনামূলকভাবে কম জনপ্রিয় অধিকাংশ এমপি অপেক্ষাকৃত কম ভালো কাজ করে কী করে সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো করবেন? সরকারও বিভিন্ন জরিপ করে দলীয় এমপিদের জনপ্রিয়তার দুরবস্থা বুঝতে পেরেছে। সে কারণে সরকার বুঝেছে যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন হলে সরকারি দল নির্বাচনে ভালো করতে পারবে না। আর এজন্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির প্রতি মনোযোগ না দিয়ে সরকার বিরোধী দলকে বিভিন্ন কলাকৌশলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি করাতে সচেষ্ট। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে সরকারি দলের নেতারা বিরোধী দলকে সরকারের ওপর বিশ্বাস রাখতে আহ্বান করছে। কিন্তু উভয় বড় দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে যেখানে পারস্পরিক বিশ্বাস অনুপস্থিত, আলাপ-আলোচনা, এমনকি মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ, সেখানে বিরোধী দল কিভাবে বিশ্বাস করবে যে সরকারি দলের অধীনে ক্ষমতা বদলের সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে? দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সরকারি আহ্বানকে যদি বিরোধীদলীয় নেতারা চতুর শিয়াল পণ্ডিত কর্তৃক গোশতের টুকরা মুখে গাছের ডালে বসা কাককে তার ‘সুমিষ্ট’ গানের গলার প্রশংসা করার মতো মতলবি আচরণ মনে করেন, তাহলে কি তাদের দোষ দেয়া যায়?
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মিসরে গণতন্ত্র অধরাই by তানিম ইশতিয়াক

মিসর আবার অগি্নগর্ভ হয়ে উঠেছে। মুরসি সমর্থকদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিতে অর্ধশতাধিক নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্মরণ : মিরসরাই ট্র্যাজেডি by রওনক নূরুল্লাহ

ধ্রুব। পুরো নাম ধ্রুব নাথ। মা-বাবার স্বপি্নল আশার উজ্জ্বল প্রতীক। মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ূয়া এক দুরন্ত কিশোর। সবুজ শ্যামল বাংলার নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সদা চঞ্চল বালক। সে পঞ্চম শ্রেণীতে (ঢ়ংপ) বৃত্তি পেয়েছে।

গাজীপুর থেকে শিক্ষা নিন by মোশারফ বিন কামাল

খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় আওয়ামী লীগের জন্য ছিল একটা সতর্কবার্তা। ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হারাটা বলা চলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।

নামমাত্র কাজ by তন্ময় হক

নামমাত্র কাজের উদাহরণ দিতে গিয়ে একটি গল্প বলা যায়। এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার। বাজেট কয়েক কোটি টাকা। স্থানীয় লোকেরা ভেবেছে, এবার তবে বেশ ভালো ব্রিজ হবে।

বাংলাদেশে ফার্ম-ডির ভবিষ্যৎ by মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও এসএম নাসির উদ্দিন

১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম চালু হয় ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসি এবং ১৯৯৫ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ অনুষদে উন্নীত করা হয়। আক্ষরিক অর্থেই একটা সময় ছিল যখন ফার্মেসি থেকে সাধারণ অনার্স পাস করা মানে আমেরিকায় যাওয়া নিশ্চিত।

জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ by একেএম নূর-উন-নবী

বাংলাদেশ ২০১৫ সালে টোটাল ফার্টিলিটি রেট ২.১ শতাংশে নামিয়ে আনবে, এমনটিই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার আগেই এটা অর্জিত হয়েছে। জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারেও রাশ টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে।

জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ by একেএম নূর-উন-নবী

বাংলাদেশ ২০১৫ সালে টোটাল ফার্টিলিটি রেট ২.১ শতাংশে নামিয়ে আনবে, এমনটিই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার আগেই এটা অর্জিত হয়েছে। জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারেও রাশ টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে।

জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ by একেএম নূর-উন-নবী

বাংলাদেশ ২০১৫ সালে টোটাল ফার্টিলিটি রেট ২.১ শতাংশে নামিয়ে আনবে, এমনটিই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার আগেই এটা অর্জিত হয়েছে। জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হারেও রাশ টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে।

চীনে ভূমিধসে ৪০ জনের মৃত্যু

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশে গতকাল বুধবার ভূমিধসে ৩০ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ব্যাপক বৃষ্টিপাতে ওই অঞ্চলের বহু বাড়িঘর ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিচুয়ান প্রদেশের জংসিং এলাকার একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা জানতে পেরেছেন সেখানে ভূমিধসে ১১টি পরিবার চাপা পড়েছে। ওই এলাকা থেকে ২০০টিরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে এখনো কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা জানতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে সিচুয়ান প্রদেশ অন্যতম। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত সোমবার থেকে সিচুয়ানে অন্তত তিনটি সেতু ধসে পড়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, গত মঙ্গলবার জিয়াংগু এলাকায় একটি সেতু ধসের ঘটনায় ১২ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অন্তত দুই হাজার ৭০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়। ওই সেতু ধসের ঘটনায় বেশ কিছুসংখ্যক যানবাহনও ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যায়। এমন একটি গাড়িতে ছিলেন লিন রুই। তিনি সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। লিন জানান, ধসে পড়ার সময় সেতুর ওপর অন্তত ১৮টি গাড়ি ছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সিচুয়ান ও প্রতিবেশী ইউনান প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে অন্তত ৩০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৮০০ বাসিন্দাকে। এএফপি।

পাকিস্তানে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক

ওসামা বিন লাদেন হত্যার ঘটনা নিয়ে অ্যাবোটাবাদ কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরদিন পাকিস্তানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। লাদেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপন করে ছিলেন। পাকিস্তানকে না জানিয়েই দেশটির ভেতর ঢুকে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে হত্যার অভিযান চালায়। ঘটনাটি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দর্পে আঘাত হানে। লাদেন হত্যার পর লোকজন এ কথা বলা শুরু করে যে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা আল-কায়েদাপ্রধানের অবস্থান নির্ণয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যর্থ। তারা ওই ‘বৈরী’ মার্কিন অভিযান আঁচ করতে বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অ্যাবোটাবাদ কমিশনের প্রতিবেদনটিতে প্রচলিত ওই কথার কম-বেশি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি ফাঁস হওয়ার পর অনুষ্ঠিত সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক নিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকটি ছিল নিয়মিত মাসিক বৈঠকের অংশ। এতে সামরিক বাহিনীর পেশাগত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে একজন সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, বৈঠকে কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তা মূল আলোচ্য ছিল না। জেনারেলরা ওই গোপন প্রতিবেদন কীভাবে গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস হলো সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। প্রতিবেদনে আল-কায়েদা বা ওই মার্কিন কমান্ডো অভিযানে কোনো পাকিস্তানি সেনাসদস্যের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় বৈঠকে কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করেন। লাদেন হত্যার ঘটনার পাঁচ সপ্তাহ পর পাকিস্তানের সেনা কমান্ডারদের এক বৈঠকে তাঁদের বিরুদ্ধে সব সমালোচনা উড়িয়ে দেওয়া হয়। জেনারেলরা সমালোচকদের এই বলে অভিযুক্ত করেন যে, তাঁরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চিরন্তন পক্ষপাতদুষ্টতা থেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অ্যাবোটাবাদ কমিশনের প্রতিবেদনে ওই মার্কিন কমান্ডো অভিযানকে পাকিস্তানের জন্য এক জাতীয় অবমাননাকর ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়। লাদেনর অবস্থান নির্ণয়ে পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর সবচেয়ে অপমানজনক ঘটনা বলে আখ্যা দেয় কমিশন। ডন।

সরকারি পদে থাকলে দলীয় পদ ছাড়তে হবে

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দলীয় পদে থাকতে পারবেন না। ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি প্রাদেশিক সরকারে থাকা তাদের পাঁচ নেতাকে অবিলম্বে দলীয় পদ ছাড়তে বলেছে। পিটিআইয়ের ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন’ মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের এ রাজনৈতিক দলই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে। পিটিআইয়ের ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন’ জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাটাককে তাঁর দলীয় পদ ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি দলের প্রাদেশিক কমিটির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। একইভাবে প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার দলের প্রাদেশিক কমিটির সভাপতির পদে রয়েছেন। তাঁকে দলীয় এ পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এ দুজন ছাড়াও যাঁরা একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পদ এবং প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন, তাঁদেরও দলীয় পদ ছাড়তে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, রমজান মাসের পর খালি হওয়া দলীয় পদগুলো পূরণ করতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। পদগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পদে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকবেন। পিটিআইয়ের চার প্রভাবশালী নেতা সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা নেতাদের দলীয় পদ ছাড়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গত সোমবার ইসলামাবাদে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দলীয় পদ ধরে রাখতে পারবেন না। ডন।

বিক্রম শেঠকে দেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইছেন প্রকাশক

যথাসময়ে নতুন বইয়ের পাণ্ডুলিপি জমা দিতে না পারায় আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় লেখক বিক্রম শেঠের নেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইছে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস। এক সপ্তাহ আগে পেঙ্গুইন ও র‌্যান্ডম হাউস একীভূত হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস গঠিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, একীভূত হওয়ার অন্যতম প্রতিক্রিয়া হিসেবে খরচ কমাতে উদ্গ্রীব হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঔপন্যাসিক বিক্রম শেঠকে ১৭ লাখ মার্কিন ডলার অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু টাকা ছিল তাঁর বহুল বিক্রীত রোমান্টিক উপন্যাস এ সুটেবল বয়-এর পরবর্তী উপন্যাস এ সুটেবল গার্ল-এর জন্য। উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি গত জুন মাসে প্রকাশককে দেওয়ার কথা ছিল। আর এটি প্রকাশের কথা ছিল চলতি বছরের শেষ দিকে। কিন্তু লেখক তা পারেননি। তাই শেঠকে দেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইছে পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস। বিক্রম শেঠের পক্ষ থেকে তাঁর এজেন্ট ডেভিড গডউইন পেঙ্গুইন গ্রুপের অন্যতম ট্রেড নাম হ্যামিশ হ্যামিলটনের সঙ্গে যোগাযোগ চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, চুক্তিটা একেবারে ভেঙে গেছে বলা ঠিক হবে না। সবাই জানেন, বিক্রম লেখার ব্যাপারে ধীরেসুস্থেই এগোন। বিষয়টা মিটমাট করে নতুন তারিখ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

স্নোডেন ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন এখনো আশ্রয়ের ব্যাপারে ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গোপনীয়তাবিরোধী ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়। এর আগে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আইনপ্রণেতা আলেক্সেই পুশকভ সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলেছিলেন, স্নোডেন ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে আধঘণ্টা পরেই পুশকভ তাঁর বার্তা মুছে ফেলেন। উইকিলিকস টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, ‘স্নোডেন আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব এখনো গ্রহণ করেননি। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা তাঁর টুইটার বার্তা মুছে ফেলেছেন।’ স্নোডেন ১৭ দিন ধরে রাশিয়ার শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন। জনগণের ওপর প্রশাসনের নজরদারির কথা ফাঁস করায় স্নোডেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। আইনপ্রণেতা পুশকভ রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ওই বার্তা দেননি। তবে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে এই বক্তব্যে প্রেসিডেন্টের অবস্থানের আভাস রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ ব্যাপারে পুতিনের মুখপাত্র সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘ওই বার্তার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাকেই জিজ্ঞেস করুন।’ পুশকভ তাঁর প্রথম টুইটার বার্তাটি মুছে আরেকটি বার্তায় লিখেছেন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভেস্তি ২৪ থেকে তিনি স্নোডেন-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জেনেছেন। তারপরে টুইটারে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বার্তায় পুশকভ লিখেছেন, ভেস্তি ২৪ টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্নোডেন ভেনেজুয়েলা যেতে রাজি হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো গত সোমবার রাজধানী কারাকাসে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে স্নোডেনের করা আবেদন তাঁরা হাতে পেয়েছেন। এর আগে ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়া স্নোডেনকে আশ্রয় দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। গত ২০ মে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে হংকং যান স্নোডেন। গত ২৩ জুন হংকং থেকে রাশিয়ায় পৌঁছান তিনি। প্রায় শুরু থেকেই স্নোডেনের সঙ্গে আছেন উইকিলিকসের কর্মকর্তা সারা হ্যারিসন। এদিকে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান-এর ব্লগার গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড দাবি করেছেন, গত মঙ্গলবার তিনি স্নোডেনের সঙ্গে অনলাইনে কথা (চ্যাট) বলেছেন। তাতে স্নোডেন ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার ব্যাপারেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্নোডেন মনে করেন, ভেনেজুয়েলা গেলেই তিনি সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাবোধ করবেন। ওই দেশটিই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। এএফপি, রয়টার্স।

‘ফুকুশিমা থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সাগরে মিশেছে’

সুনামিতে অচল ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রের চুল্লি ছিদ্র হয়ে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে বলে সন্দেহ করছে জাপানের পরমাণু সংস্থা (এনআরএ)। ফুকুশিমার পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ারের (টেপকো) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এনআরএ গতকাল বুধবার বলেছে, ভূগর্ভস্থ পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ ও উৎস শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে টেপকো। আমাদের জোরালো সন্দেহ উচ্চমাত্রার দূষিত বর্জ্য পদার্থ মাটির নিচ দিয়ে বের হয়ে সাগরে ছড়িয়ে পড়েছে। এনআরএ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ফুকুশিমা দাইচি প্রকল্পে ভূগর্ভস্থ পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, ওই পানিতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ‘সিজিয়াম-১৩৪’-এর মাত্রা শুক্রবারের চেয়ে ১১০ গুণ বেশি। এনআরএর অন্যতম কমিশনার তয়োশি ফুকেতা বলেন, ‘টেপকো বলছে এর ফলে পরিবেশের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। কিন্তু আমরা দেখছি, এতে সাগরের পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ২০১১ সালের মার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সুনামিতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্র। এতে কেন্দ্রটির পরমাণু চুল্লিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার সম্ভাব্য প্রভাব এড়াতে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ ওই সময় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। অচল কেন্দ্রটি এখন বিপদমুক্ত করার কাজ করছে টেপকো। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি চুল্লি শীতল করতে হাজার হাজার টন পানি সেখানে মজুত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফুকুশিমাকে বিপদমুক্ত করার কাজ সম্পূর্ণ করতে চার দশক সময় লেগে যেতে পারে। এএফপি।

সুপ্রিম কোর্টের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার ঝড়

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দুটি সিদ্ধান্ত ও একটি সুপারিশ দেশের প্রশাসন ও রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এ নিয়ে শুরু হতে চলেছে বিচার বিভাগীয় অধিকার বা এখতিয়ার নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছেন বিচারপতি অশোককুমার পট্টনায়ক ও বিচারপতি সুধাংশু জ্যোতি মুখোপাধ্যায়। আট বছরের পুরোনো একটি রিট আবেদনের রায় দিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(৪) ধারায় অভিযুক্ত যে কেউ দুই বছরের সাজা পাবেন, তাঁরা লোকসভা বা বিধানসভার নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। রায়ে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার থেকেই এই রায় কার্যকর হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত অথচ উচ্চতর আদালতে আপিল করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এই রায়ের আওতায় পড়বেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে দুই বছরের সাজা পেলে তাঁদের নির্বাচিত পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের আইনসভা যথেষ্টই দুষ্কৃতকারীমুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে লোকসভার ১৬২ জন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সারা দেশে বিধায়ক ও সাংসদ মিলিয়ে এই সংখ্যা এক হাজার ৪৪৮ জন। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও বিজেপি আপাতত এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও কোনো কোনো মহল থেকে মনে করা হচ্ছে, নতুন রাজনীতিকেরা রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হতে পারেন। আইনমন্ত্রী কপিল সিবাল বলেছেন, আইন না দেখে মন্তব্য করবেন না। দ্বিতীয় সুপারিশটি করেছেন বিচারপতি এইচ এল দাত্তু ও দীপক মিশ্র। সিঙ্গুর মামলায় মূল বিচার্য বিষয়ের মধ্যে না গিয়ে তাঁরা টাটার আইনজীবীকে বলেন, যে উদ্দেশ্যে সিঙ্গুরে জমি নেওয়া হয়েছিল, তা যখন বাস্তবায়িত হলো না, তখন জমি কেন ফেরত দিচ্ছেন না? টাটার আইনজীবীকে বিচারপতিরা বলেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা করে এই বিষয়ে তাঁরা যেন তাঁদের অভিমত সুপ্রিম কোর্টকে জানান। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অভিমত রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে যথেষ্ট স্বস্তির। তৃতীয় অভিমতটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর (সিবিআই) স্বশাসনের প্রসঙ্গে। কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে মামলায় সিবিআইকে স্বশাসন দিতে ব্যগ্র সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বলেছেন, সিবিআইকে স্বশাসন কতটা দিতে হবে এবং কেমন, তা নির্ধারিত করতে আইন বদলাতে হবে। আইনসভাই তা ঠিক করবে। কিন্তু কোনোভাবেই সিবিআইকে সরকারের আওতায় রাখা চলবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর কবে হবে বা আদৌ হওয়া সম্ভব কি না, সেই বিতর্ক থাকছেই। কিন্তু এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে এই তিন রায় ও অভিমত দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে।

মিসরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তোড়জোড়

মিসরে চলমান রক্তপাতের অবসান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি। এ চেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার তিনি উদারপন্থী নেতাদের দ্বারস্থ হন। ক্ষমতাচ্যুত ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় তারা যোগ দেবে না। গণবিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে উৎখাতের পর তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা দেশটিতে অব্যাহতভাবে ব্যাপক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার কায়রোতে মুরসির সমর্থকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়েন সেনাসদস্যরা। এতে অন্তত ৫১ জন নিহত ও ৪৩৫ জন আহত হন।
উদারপন্থী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বেবলাউয়ি (৭৬) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তিনি উদারপন্থী রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ এল বারাদি ও জিয়াদ বাহা আল-দিনের সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাছাই ও সরকারের কাজ শুরুর চেষ্টা চালাবেন। বেবলাউয়ি মিসরের সাবেক অর্থমন্ত্রী। এল বারাদি ও জিয়াদ বাহা উভয়েই মিসরের প্রধান ধর্মনিরপেক্ষ দল ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টের জ্যেষ্ঠ নেতা। দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসির পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছিল। সব দলের সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের কাজটি একটি চ্যালেঞ্জ হবে—বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেবলাউয়ি বলেন, ‘কোনো কিছুর পেছনে সর্বসম্মত সমর্থন থাকতে পারে, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। তবে, এ অবস্থায়ও সব সময় কোনো কিছু বাছাই করে নেওয়ার সুযোগ থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী বেবলাউয়ি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি তাঁর মন্ত্রিসভায় ব্রাদারহুড মনোনীত প্রার্থীসহ অন্য ইসলামপন্থীদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়ার ব্যাপারে খোলামন দেখাবেন। তবে ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) বলেছে, বেবলাউয়ির গঠন করা মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করবে না।
মিসরের সংবিধান সংশোধন ও নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর সোমবার রাতে এক আদেশ জারির কয়েক ঘণ্টা পর এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেবলাউয়ি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএর সাবেক প্রধান এল বারাদির নাম ঘোষণা করা হয়। ব্রাদারহুড নেতা বাদিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ: মিসরের সরকারি অভিযোক্তার কার্যালয় গতকাল বুধবার ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়। সোমবার রাজধানী কায়রোতে রিপাবলিকান গার্ডের সদর দপ্তরের বাইরে সহিংসতায় বাদির বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দিনের সহিংসতায় অন্তত ৫১ জন মারা যান। ব্রাদারহুডের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এরই মধ্যে আটক রয়েছেন। এ ছাড়া দলের আরও কয়েক শ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এফজেপির মুখপাত্র জেহাদ আল-হাদ্দাদ বলেন, তাঁদের আন্দোলন নস্যাৎ করতেই বাদি ও ব্রাদারহুডের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যামনেস্টির অভিযোগ: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল বলেছে, তাদের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, মিসরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ শক্তি প্রয়োগ করেছে। দেশে ‘বিপর্যয়’ এড়াতে সেনাবাহিনীকে সংযত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার কায়রোয় রিপাবলিকান গার্ডের সদর দপ্তরের বাইরে সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারী মুরসি-সমর্থকদের সংঘর্ষে বহু লোক হতাহতের ঘটনার দুদিন পর অ্যামনেস্টি এ অভিযোগ করল। এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

নারীর অধিকার-হেফাজত আমিরের নসিহত ও তেঁতুলতত্ত্ব by আবু সাঈদ খান

একদা নারী ছিল অবরোধবাসিনী। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মনীষীর প্রচেষ্টায় উনিশ শতকে হিন্দু নারীরা যখন শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন, পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন, তখনও বাংলার মুসলিম নারীরা গৃহবন্দি।

নারীর অধিকার-হেফাজত আমিরের নসিহত ও তেঁতুলতত্ত্ব by আবু সাঈদ খান

একদা নারী ছিল অবরোধবাসিনী। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মনীষীর প্রচেষ্টায় উনিশ শতকে হিন্দু নারীরা যখন শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন, পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন, তখনও বাংলার মুসলিম নারীরা গৃহবন্দি।

লিমনের মামলা প্রত্যাহার- অবশেষে শুভবুদ্ধির উদয়

প্রায় আড়াই বছর অশেষ হয়রানি-ভোগান্তির পর ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাহে রমজান- ত্যাগ ও সংযমে উদ্ভাসিত হোক

আবার এসেছে মাহে রমজান। শাবানের শেষ দিবস শেষের সন্ধ্যার আকাশে বাংলার কৃষকের কাস্তের মতো বাঁকা চাঁদ ঘোষণা করেছে ত্যাগ ও সংযমের মাসের আবাহনী। ধর্মপ্রাণ মুসলমান শবেবরাতের মহিমান্বিত রজনী থেকেই অপেক্ষা করেন রমজানের।

মিসরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তোড়জোড়

মিসরে চলমান রক্তপাতের অবসান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি। এ চেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার তিনি উদারপন্থী নেতাদের দ্বারস্থ হন।

সুপ্রিম কোর্টের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার ঝড়

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দুটি সিদ্ধান্ত ও একটি সুপারিশ দেশের প্রশাসন ও রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এ নিয়ে শুরু হতে চলেছে বিচার বিভাগীয় অধিকার বা এখতিয়ার নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক।

বিক্রম শেঠকে দেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইছেন প্রকাশক

যথাসময়ে নতুন বইয়ের পাণ্ডুলিপি জমা দিতে না পারায় আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় লেখক বিক্রম শেঠের নেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাইছে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস। এক সপ্তাহ আগে পেঙ্গুইন ও র‌্যান্ডম হাউস একীভূত হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউস গঠিত হয়েছে।

অ্যাবোটাবাদ কমিশন প্রতিবেদন প্রসঙ্গ পাকিস্তানে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক

ওসামা বিন লাদেন হত্যার ঘটনা নিয়ে অ্যাবোটাবাদ কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরদিন পাকিস্তানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

রুশ আইনপ্রণেতার কথা নাকচ করেছে উইকিলিকস স্নোডেন ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন এখনো আশ্রয়ের ব্যাপারে ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গোপনীয়তাবিরোধী ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়।

হেফাজতের সমাবেশে হতাহত বিতর্ক অধিকারের কাছে নাম-ঠিকানা চেয়েছে সরকার

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তথ্য দিয়েছিল। সরকার ওই সব ব্যক্তির মা-বাবার নাম-ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছে অধিকারের কাছে।

নেত্রকোনার অ্যাসিডদগ্ধ হেনা পেলেন দুটি গাভি ও বাছুর

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের নন্দেরছটি গ্রামের অ্যাসিডদগ্ধ হেনা আক্তারকে গতকাল বুধবার প্রথম আলো ট্রাস্ট সহায়ক তহবিলের পক্ষ থেকে দুটি গাভি ও একটি বাছুর দেওয়া হয়েছে।

জেদ্দায় মারধরের ঘটনা-সম্মান রক্ষায় সরব হচ্ছেন পররাষ্ট্র ক্যাডার সদস্যরা

সৌদি আরবের জেদ্দায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিবকে মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের সদস্যরা সম্মান রক্ষায় সরব হচ্ছেন। জেদ্দায় মারধরকারী বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম

নিজামীর নির্দেশে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়-নিজে কাঁদলেন আদালতকে কাঁদালেন শ্যামলী নাসরিন

একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।

শাহরি রমজান-আহলান সাহলান by মাওলানা এম এ করিম

পবিত্র রমজান মাস, স্বাগত। আহলান সাহলান। এটি আল্লাহপ্রেমিক মুসলমানদের প্রতীক্ষার মাস। তাঁর প্রতি ভয় ও ভালোবাসার শিক্ষা, দীক্ষা ও পরীক্ষার মাস। এ মাসের পুরো সময় চলবে স্রষ্টা মাশুকের সঙ্গে আশেক নর-নারীর সালাম, কালাম, আরজি পেশ, ইশক ও মহব্বত নিবেদন।

নতুন মেয়রদের সম্পদের হিসাব চেয়েছে সরকার by মোশতাক আহমদ

আইন অনুযায়ী নবনির্বাচিত মেয়রদের সম্পদের হিসাব চেয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ব্যালটে সিলের বদলে আসছে টিক চিহ্ন

ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোট দেওয়ার যুগ শেষ হতে চলেছে! ভোট দিতে সিলের পরিবর্তে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বস্তি আবার অস্বস্তিতেল, চিনি, রসুন, ডালের দাম কমেছে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, শসা ও বেগুনে আগুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ও অস্বস্তির মিশেল নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে রমজান মাস। প্রথম দিন রোজা শেষে ইফতারে শসা, কাঁচা মরিচ আর বেগুনি রাখতে গেলে পকেট থেকে একটু বেশি পয়সা বের করতে হবে।

এক অবরোধে অচল ঢাকা-বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল বাতিল ও সব সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ফলবঞ্চিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

লিমনের মামলা প্রত্যাহার-এখনো চিঠি যায়নি

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা গতকাল বুধবার পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়নি।

টিআইবির রিপোর্ট রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : প্রধানমন্ত্রী

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতির রিপোর্টকে 'রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র' বলে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, টিআইবি ২০০১ সালে এমন প্রতিবেদন দিয়েছিল।

নৈতিকতা শিখিয়ে দুর্নীতি রোধ!সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল by আবুল কাশেম ও ওমর ফারুক

আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধের নানা চেষ্টা হয়েছে। তার সবই গেছে বিফলে। এবার তাই সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা শেখানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

আয়নায় নিজের চেহারাও দেখুন by পলাশ আহসান

‘রাবিশ’ শব্দটি এলেই অর্থমন্ত্রীর কথা মনে পড়ে যায়। রেগে গিয়ে তিনি প্রায়ই এই শব্দটি ব্যবহার করেন। আজকাল কোন কোন সাংবাদিক নিজেকে সেই পর্যায়ে ভাবতে শুরু করেছেন।

পুলিশ-বিসিএস শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাহবাগ রণক্ষেত্র by আদনান রহমান ও নুরুল আমিন

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত বিসিএস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,

এবার বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার ঘোষণা বি. চৌধুরীর

এবার বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বিকল্প ধারার সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

পালিয়ে বাঁচলেন রিহানা!

ব্যস্ততার ক্লান্তি থেকে মুক্তির জন্য কিছুদিন সাগর সৈকতে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন পপ স্টার রিহানা। কিন্তু ভক্তদের মধুর ভক্তির কারণে ক্লান্তি কাটানো সম্ভব হয়ে উঠলো না তার।

রিসার্চ করলে আমি বেশি টাকা পেতাম : পাওলি

আলোচিত অভিনেত্রী পাওলি দামের একটি কথোপকথন প্রকাশ করেছে ‘আমার আনন্দবাজার’ পত্রিকা। সেই কথোপকথনটি বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল এখানে...

জিরো ফিগার চান না হুমা কোরেশি

বলিউড সিনেমার নায়িকা মানেই তাকে জিরো সাইজ ফিগারের অধিকারী হতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেক অভিনেত্রী এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে

দেখতে দারুণ হবে না বার্তোলি!

উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন ফাইনালে অন্যরকমের এক ঘটনা ঘটেছে। পোডিয়ামে ট্রফি হাতে যখন উল্লাসে মেতে মারিয়ন বার্তোলি ছিল ঠিক তখনি তাকে নিয়ে বিবিসি-র রেডিওতে ধারাভাষ্যকার জন ইনভার্ডেল বিব্রতকর মন্তব্য করেন।

দুই বছরেও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস আজ

মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস আজ বৃহস্পতিবার। ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ট্রাক রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে ৪২ ছাত্রসহ ৪৪ জন নিহত হয়। ছাত্ররা খেলা দেখে ওই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল।

রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে

রাজধানীসহ সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা ও রথমেলা শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করা হয়।

আইনজীবীকে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দিলেন অতিরিক্ত সচিব

ঢাকার এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কক্ষে এক আইনজীবীকে পিস্তল বের করে হুমকি দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) আবুল মোসাদ্দেক আজাদ।

স্বজনের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই আমির খুন হন

‘হ্যার কোনো দোষ আছিল না। একটাই দোষ, রাজনীতি করত। হেইডাই খাইছে হ্যারে।’ গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে এভাবেই বিলাপ করছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের সাংসদ ইলিয়াস মোল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী আমির হোসেনের স্ত্রী নাসরিন বেগম।

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

সওজ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলেন মেয়র

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র এস এম এ মঈন গতকাল বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের জেলা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিলেট সিটিতে বকেয়া কর ৫৩ কোটি টাকা by উজ্জ্বল মেহেদী ও সুমনকুমার দাশ

২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিক ছাড়া কারও কাছ থেকে কোনো কর আদায় হয়নি। ফলে এ পর্যন্ত ৫৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার কর অনাদায়ি রয়েছে।

খুলনা মেডিকেলের হূদেরাগ বিভাগটির রোগ সারাবে কে? চিকিৎসক-সংকট

চিকিৎসক-সংকটের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হূদেরাগ (কার্ডিওলজি) বিভাগের প্রবেশপথে যে নোটিশ টাঙানো হয়েছে, তা কেবল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিদের জন্যও লজ্জাজনক।

রাজনৈতিক দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা টিআইয়ের জরিপ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার ২০১২’ শীর্ষক বৈশ্বিক জরিপের মোদ্দা কথাটি হচ্ছে, বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হলো রাজনৈতিক দল—শতকরা ৯৩ ভাগ মানুষের এই ধারণা থেকে অনুধাবন করা যায় দুর্নীতির ব্যাপকতার মূল কারণ।

ধর্ম রোজাদারের ইফতার করার আনন্দ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

রোজাদার ব্যক্তি সারা দিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পরই যেসব খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে রোজা ভঙ্গ করেন, তা-ই ইফতার; এর অর্থ রোজা ভঙ্গ করা। আরবি ‘ফুতুর’ শব্দ থেকে এটি উদ্ভূত, যার মানে নাশতা করা, হালকা খাদ্য গ্রহণ করা।

ইমরানের ভুবনে by শফিক আল মামুন

২০০৮ সাল। মঞ্চে চলছে ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’-এর চূড়ান্ত দশের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীদের একজন ইমরান। গাইছেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর গাওয়া পুরোনো দিনের ‘ওই দূর-দূরান্তে, মন-মনান্তে’ গানটি।

হলিউড টপচার্ট

১. ডেসপিসেবল মি: স্টিভ ক্যারেল, রাসেল ব্র্যান্ড, মিরান্ডা ক্রসগ্রোভ
২. দ্য লোন রেঞ্জার: জনি ডেপ, আর্মি হ্যামার,

বলিউড টপচার্ট

১. লুটেরা: রণবীর সিং, সোনাক্ষী সিনহা
২. পুলিশগিরি: সঞ্জয় দত্ত, প্রাচি দেশাই,

বলিউড দুই লুটেরার গল্প

ছবিতে নেই কোনো আইটেম গান। নেই গ্ল্যামারের ছিটেফোঁটা কিংবা বারের ফ্লোরে নাচানাচি। অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি খোঁচা মেরে বলবে—ভিনদেশে গিয়ে ছবি শুট করার আদৌ কি প্রয়োজন আছে? নির্মল আনন্দ বলতে যা বোঝায়, তা-ই যেন নতুন আলোয় আবার দেখা গেল সেলুলয়েডের রঙিন ফিতায়।

হলিউড নামে কীই-বা এসে যায়

জন্ম নিল এই তো সেদিন। অথচ এরই মধ্যে ‘তারকা’ হয়ে উঠেছে সে। বিশ্বজুড়ে বিনোদন-সাংবাদিকেরা এরই মধ্যে তাকে নিয়ে লিখতে লিখতে খরচ করে ফেলেছেন টনকে টন কাগজ। আসলে তাকে নিয়ে লেখা হচ্ছে তার জন্মের বহু আগ থেকেই।

টিআইবির কারসাজি? by আজিজুল পারভেজ ও নুরে আলম দুর্জয়

বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির পরিমাপক জরিপ হিসেবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) যে 'গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার' জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এর সঙ্গে মিলছে না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন।

'ঐক্যবদ্ধ আছে পরিবার'

নেলসন ম্যান্ডেলার দুই নাতনি জানিয়েছেন, ম্যান্ডেলা পরিবার ঐক্যবদ্ধ আছে। ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্য এবং তাঁর সমাধি নিয়ে পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে প্রশ্নোত্তরে তাঁরা এ কথা জানান।

জন্মদিনে জাতিসংঘে মালালা

আগামীকাল শুক্রবার (১২ জুলাই) ১৬ বছরে পা দেবে মালালা ইউসুফজাই। নিজের ১৬তম এ জন্মদিন পালন করবে সে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা প্রসারের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে।

স্নোডেনের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা

এডওয়ার্ড স্নোডেনের চূড়ান্ত গন্তব্য নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন তিনি- মস্কোর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়।

চীনে ভূমিধসে চাপা পড়েছে ৪০ জন

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ছংসিং শহরে ভূমিধসে কমপক্ষে ৪০ জন মাটিচাপা পড়েছে। টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে গতকাল বুধবার এ ভূমিধস হয়। গত মঙ্গলবার একই প্রদেশের চিয়াংইউতে একটি সেতু ভেঙে পড়ায় কমপক্ষে ১২ জন নিখোঁজ রয়েছে।

মহাবোধি মন্দিরে হামলা-আইএমের দায় স্বীকার, জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

ভারতের বিহারে বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দিরে বোমা হামলায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা করলে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এ ঘোষণা দিয়েছে ।

ম্যান্ডেলা এখন অনেকটাই প্রাণবন্ত

নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি এনদাবা ম্যান্ডেলা বলেছেন, ম্যান্ডেলা এখন অনেকটাই প্রাণবন্ত। গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ম্যান্ডেলার সঙ্গে দেখা করে এসে এনদাবা এ কথা বলেন। যদিও মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ম্যান্ডেলার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন, তবে স্থিতিশীল।

করাচিতে বোমা হামলা-জারদারির প্রধান নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিহত ৩

পাকিস্তানের বোমা হামলায় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির প্রধান নিরাপত্তা রক্ষী বিলাল শেখসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার করাচির জনবহুল নিউ টাউন এলাকায় ওই হামলায় কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।

দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ-কিশোর আসামির রায় আজ

নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যালের এক ছাত্রী গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কিশোর আসামির মামলার রায় দেওয়া হবে আজ বৃহস্পতিবার। গত শুক্রবার দিল্লির কিশোর বিচার আদালতে (জেজেবি) তার মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।

পাকিস্তানে আল-জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ!

কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যা বিষয়ে দেশটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের (অ্যাবোটাবাদ কমিশন) প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

অনিশ্চয়তার মুখে শান্তি আলোচনা-দোহায় কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান

আফগান তালেবান কাতারের রাজধানী দোহায় স্থাপিত তাদের কার্যালয় সামিয়কভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। কার্যালয়ের সামনে থেকে নামফলক ও পতাকা নামিয়ে ফেলতে বাধ্য করার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

মিসরে মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ-যোগ দেবে না মুসলিম ব্রাদারহুড

মিসরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাওয়ি মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার থেকে রাজনৈতিক সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড জানিয়ে দিয়েছে, এ সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা যুক্ত হবে না।

ওবামার পছন্দ ব্রকোলি

ওয়াশিংটনের শহরতলিতে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভকে নিয়ে মজা করে বার্গার খাওয়ার সময়, ওহাইয়োতে বাস্কেটবল খেলা দেখতে গিয়ে হটডগ হাতে এবং উইসকনসিনে সুস্বাদু পেস্ট্রি খাওয়ার সময় বেশ কয়েকবার ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

দুর্নীতির প্রতিবেদন-অস্বীকার নয়, প্রতিকারের উদ্যোগ নিন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশের ২০১২ সালের দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক দল ও পুলিশ বাহিনীকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে।

পবিত্র মাহে রমজান-জীবন হোক পরিশুদ্ধ ও পুণ্যস্নাত

বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। সংযম সাধনার মাস শুরু হচ্ছে আজ থেকে। প্রতিবছর পুণ্যময় এ মাস রহমত, বরকত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র এই মাস বিশ্ব মুসলিমকে শিক্ষা দেয় সংযত-সুন্দর জীবন যাপনের।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-চুল থেকেও হতে পারে সংক্রমণ

সকালে গোসলের পর বের হয়ে সারা দিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরার সময় বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন বিষাক্ত ধুলাবালি মাথার চুলে জমতে পারে। যেমন আর্সেনিক, সীসা বা লেড, সালফার এবং বাতাসের অন্যান্য ধুলাবালি।

ভালো থাকুন-রমজানে স্বাস্থ্যসচেতন হোন

রমজান মাসে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যগ্রহণের সময়ে পরিবর্তন আসে, পরিবর্তিত হয় জীবনযাপন প্রণালীও। এ পরিবর্তনের কারণে কারো কারো সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্যক্তিত্ব-পাবলো নেরুদা

পাবলো নেরুদা চিলির কবি ও রাজনীতিবিদ। জন্মগ্রহণ করেন ১২ জুলাই, ১৯০৪ সালে। তাঁর প্রকৃত নাম নেকতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ানতো। পাবলো নেরুদা তাঁর ছদ্মনাম হলেও এ নামই পরবর্তী সময় প্রতিষ্ঠা পায়।

দুর্গতির ঢাকা রাস্তার রাজা-প্রজা ও জীবনের সাতটি বছর by ফারুক ওয়াসিফ

দিব্যদৃষ্টি সহসা আসে না। ব্যতিব্যস্ত জীবনে সেই সময়ই বা কোথায়? কিন্তু ঢাকার যানজটে বসে থাকতে থাকতে একদিন আমারও তৃতীয় নয়ন খুলল। স্পষ্ট দেখতে পেলাম, রাস্তায় বসে বসেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছি।

সিটি নির্বাচন নেতিবাচক ভোটে জয় আর কত দিন? by মলয় ভৌমিক

ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীরা ছিলেন অতি আত্মবিশ্বাসী। সর্বশেষ নির্বাচনে তো বলেই ফেলা হলো, গোপালগঞ্জের পর দেশে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শক্ত ঘাঁটি হলো গাজীপুর। অন্যদিকে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা ছিলেন সংশয়াকুল।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তায় পাঁচ বছর মেয়াদি পদক্ষেপ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা মার্কিন ও কানাডার ক্রেতারা নতুন জোট গঠন করল

বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়নে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে এসেছে উত্তর আমেরিকার ক্রেতারা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৭টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের নিরাপত্তায় পাঁচ বছরমেয়াদি এক কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়: পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা দমন-পীড়ন, হত্যা-গুমের জবাব এসেছে ব্যালটে by কামরুল হাসান

বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়ন, কথায় কথায় মামলা, দলীয়করণ, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, গুম-হত্যা ইত্যাদি ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে বিতর্কিত করে তুলেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ বিষয়গুলো প্রভাব ফেলেছে।

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়: জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিমত দিনবদলের অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থতাই কারণ by রোজিনা ইসলাম

জাতীয় রাজনৈতিক বিষয় এবং দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই পাঁচ সিটি করপোরেশনে হেরেছে সরকারি দল। এ মন্তব্য জনপ্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের।

পবিত্র কোরআনের আলো-ভবিষ্যতের সব কিছুতে 'ইনশাআল্লাহ' বলা চাই

৯৯. ফালাম্মা- দাখালূ 'আলা- য়ূসুফা আ-ওয়া- ইলাইহি আবাওয়াইহি ওয়া কা-লাদখুলূ মিসরা ইনশা-আল্লা-হু আ-মিনীন। সুরা ইউসুফ।
অনুবাদ : ৯৯. এরপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল,

'কিছু নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে'

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর বাকি কয়েক মাস। এখনো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এ নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। এদিকে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনে জাতীয় নির্বাচনের মহড়া by মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

গত ১৫ জুন চার বিভাগীয় এবং ৬ জুলাই নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় ইউনিট হওয়ার কারণে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গুরুত্ব ও ফলাফল নিঃসন্দেহে অনেক অর্থই বহন করে।

মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অধিকার by মোজাহারুল হক

এ অধিকার যেহেতু সাংবিধানিক অধিকার, সে জন্য এটা নিশ্চিত করাও রাজনৈতিক সরকার বা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
জনগণ আশা করে এমন এক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যা নিশ্চিত করবে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য।

অনলাইন থেকে-ভুল তথ্য মিসরে গৃহযুদ্ধ ঘটাতে পারে

জুলাই মাসের চার তারিখে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমইএনএসহ অনেক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সংবাদ দিয়েছে যে মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম নেতা মুহাম্মাদ বেদায়ি ও তাঁর সহযোগী খায়রাত এল শাতের গ্রেপ্তার হয়েছেন।

জিএসপি বাতিলের প্রধান কারণ by ইফতেখার আহমেদ টিপু

গার্মেন্ট মালিকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধা বা জিএসপি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা গার্মেন্টশ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করার দিকে নজর দেননি।

সাদাকালো-বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে এগিয়ে আসুন by আহমদ রফিক

'নর্মদা বাঁচাও' এবং ওই ঘোষণার আহ্বায়ক এখন ইতিহাস, এই অর্থে যে দীর্ঘ সময় শেষে বিষয়টি নিয়ে আর উচ্চবাচ্য নেই। তা সত্ত্বেও ওই আন্দোলন যেমন সাড়া ফেলেছিল, প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল অকুস্থল থেকে দূর পশ্চিমবঙ্গে- সে সব কিছু মিলে ওই আন্দোলন শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, রীতিমতো ঐতিহাসিক।