Thursday, December 25, 2025

দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলেন রুমিন ফারহানা

দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর একাংশ) আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। রুমিন ফারহানার দাদা-দাদি ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও তিনি সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা।

গত বুধবার রুমিন ফারহানার পক্ষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন।

সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তাঁর পক্ষে গত সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে নির্বাচন করবেন। তিনি জেলা সদরের অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের অষ্টগ্রামের বাসিন্দা।

রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আজকে গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলাম। আমি ১৭ বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। ১৭ বছর দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছি। আমি এলাকার এবং দেশের মানুষের দোয়া চাই। আমি নির্বাচন চালিয়ে যাব।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমার এলাকার মানুষের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে, ১৭ বছর কারা তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলেছে। তারা ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে, আমার প্রতি অন্যায় হয়েছে।...তাদের একটাই দাবি ছিল, জোট দিয়েন না। কিন্তু সেই আকুতি গ্রাহ্য করা হয় নাই। আমাকে ভোটের মাধ্যমে মানুষ সেই অসম্মানের জবাব দেবে।’ তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতীক হাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ। রুমিন ফারহানা দাবি করেন, ‘ওই নির্বাচনে আবার বাবা বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু পরের দিন এখান থেকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল নৌকার প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে।’

বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে দাদা- দাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার বিকেলে
বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে দাদা- দাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার বিকেলে। ছবি: প্রথম আলো

এটাই কি মুহাম্মদ ইউনূসের সভ্যতার নমুনা, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের

ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘সভ্যতা’ আনার যে দাবি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস করেছিলেন, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার পর তাঁর সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘মাসের পর মাস ধরে আমরা যে নৃশংসতা দেখছি, বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর দেখলাম, এটাই কি মুহাম্মদ ইউনূসের সভ্যতার নমুনা? এই প্রশ্নটা আজকে আমাদের সবাইকে করতে হবে।’

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে হামলা এবং সব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকায় শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে এ কথা বলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ। তিনি এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, ‘আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম। যেখানে আইনকানুন ছিল না। মানুষের ইচ্ছায় যা ইচ্ছা তা করতে পারত। এখন আমরা সভ্যতায় আসলাম।’

অধ্যাপক ইউনূসের সেই বক্তব্যের পর ‘সভ্যতা’র সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে তখনই শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী আক্রমণের পর আবার তা সামনে আনলেন তিনি। তিনি মনে করেন, এই হামলাগুলো উদ্দেশ্যহীন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নয়, বরং একটা মতাদর্শিক অবস্থান থেকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়। ভাঙচুর, লুটপাটের পর প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়া হয়। এরপর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার এবং ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও একই কায়দায় হামলা হয়। পরদিন তোপখানা সড়কে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানে যে ভয়ংকর আক্রমণ, হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেগুলো অবিশ্বাস্য ঘটনা। গত দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারী হাসিনা আমলের অন্যায়, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানোসহ সবকিছুর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন, সেই নূরুল কবীরকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে তাঁর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ছায়ানট, উদীচী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আক্রমণগুলো দেখলে বোঝা যায়, এটা উদ্দেশ্যহীন কতিপয় যুবকের হঠাৎ করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নয়, এটা খুবই পরিকল্পিত একটা সন্ত্রাস-আক্রমণ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এটা আরও অবিশ্বাস্য এই কারণে যে প্রত্যেকটা ঘটনার সময় তাদের (আক্রমণকারী) সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু তারা যখন ধ্বংসযজ্ঞ করছে, মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই সময় সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দাঁড়ানো ছিল নিষ্ক্রিয়ভাবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা কী কারণে নিষ্ক্রিয় থাকল, কেন নীরব থাকল? কী কারণে, কীভাবে তারা এমন ভূমিকা পালন করল, যাতে মনে হলো যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ বা পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সহযোগিতার ভূমিকায় রাষ্ট্র নেমেছে, সরকার নেমেছে? এই ভূমিকার কারণ কী?’

সরকারের মধ্যে ‘দুই ফ্যাসিবাদ’

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীতে হামলার আগে উসকানি থাকলেও সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, গত কয়েক মাসে ফেসবুকে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রমণ করার উসকানি দেওয়া হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এগুলো অজানা থাকার কথা নয়। গোয়েন্দা সংস্থা জানে যে দেশ থেকে এবং বিদেশ থেকে কিছু উসকানিদাতা উসকানি দিচ্ছে মানুষকে আক্রমণ করার জন্য, ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এই সদস্য বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর আক্রমণ করার জন্য উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাঁরা শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন; আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুধু শেখ হাসিনার আমল নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সময় শোষণ, নিপীড়ন, আধিপত্য, বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁদের একটা স্পষ্ট অবস্থান আছে এবং সেই সঙ্গে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির ওপর আক্রমণ কারা কেন করতে পারে?

পরিকল্পিত একটা মতাদর্শিক অবস্থান থেকে এই আক্রমণগুলো করেছে দাবি করে আনু মুহাম্মদ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার অবশ্য সব জায়গায় নিষ্ক্রিয় নয়, কোনো কোনো জায়গায় তারা খুবই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেওয়াসহ বিভিন্ন গোপন ও অস্বচ্ছ চুক্তি করার ক্ষেত্রে সরকারের তাড়াহুড়া দেখা গেছে। তাদের দৃঢ়তা ও সক্রিয়তার অভাব শুধু জনগণের স্বার্থ যেখানে আছে, সেখানে। এই সরকারের মধ্যে দুটি ফ্যাসিবাদী ধারার একটা সম্মেলন ঘটেছে—ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও করপোরেট ফ্যাসিবাদ।

সাত দাবি

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নির্বাহী সদস্য মফিজুর রহমান। এসব দাবির মধ্যে আছে শরিফ ওসমান বিন হাদি, দীপু চন্দ্র দাস, আয়েশা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার; উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশজুড়ে সংঘটিত প্রতিটি মব ও সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত ও বিচার এবং সব সহিংসতায় উসকানিদাতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা।

অন্য দাবিগুলো হলো মতপ্রকাশের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া; চরমভাবে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণ এবং তফসিলে ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের শিল্পীদের প্রতিবাদী গানে শুরু হয় এই সমাবেশ। বাউলগান পরিবেশন করেন শিল্পী দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিনিধিরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, কাঁটাবন ও শাহবাগ মোড় ঘুরে উদীচী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ বুধবার ঢাকার শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ বুধবার ঢাকার শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে। ছবি: প্রথম আলো

নাহিদ ইসলামরা গতকাল রাতে স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন -সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। এতে তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে এবং কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি লেখেন- নাহিদ ইসলামরা গতকাল রাতে স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন। এদিকে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে জোটের আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন আব্দুল কাদের। তিনি লেখেন- তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামাতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধছে। সারাদেশে মানুষের, নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। আর এরইমধ্যে দিয়ে কার্যত এনসিপি জামাতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

১) জামায়াতের থেকে এনসিপি চেয়েছিল ৫০ আসন, ধর কষাকষির সর্বশেষ পর্যায়ে সেটা ৩০ আসনে গিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে।

২) জোটের শর্ত অনুযায়ী এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না, সেগুলাতে জামায়াতকে সহযোগিতা করবে এনসিপি।

৩) জামায়াতের পক্ষ থেকে জোটসঙ্গী হিসেবে আসন প্রতি এনসিপিকে নির্বাচনী খরচ দেয়া হবে দেড় কোটি টাকা।

৪) সমঝোতার ৩০ আসনে কারা কারা চূড়ান্ত হবেন সেই দায়িত্ব জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপির একজনকে ঠিক করে দেয়া হয়েছে। তিনি হচ্ছেন জামায়াতের অন্যতম আস্থাভাজন, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আর জামায়াতের দিক থেকে থাকবেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই দুইজন মিলেই এনসিপির ৩০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

৫) ছোটন গং এর সাথে নাহিদ ইসলামের আরো এক ধাপ আগানো সমঝোতা হয়েছে। ছোটন গং জানিয়েছে, পশ্চিমারা প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে জামায়াতকে চায় না। সেই হিসেবে নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম হবেন প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলে গেলে নাহিদ হবে বিরোধী দলীয় নেতা।

এতো এতো তরুণ নিজের গোছানো ক্যারিয়ার, পরিবার পরিজন বাদ দিয়ে দেশের হাল ধরতে এসেছিল, একটা সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, স্বপ্ন দেখেছিল; নাহিদ ইসলাম’রা গতকাল রাতে গিয়ে সেই স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন!

https://mzamin.com/uploads/news/main/195754_sorkar.webp

ওড়ার পরপরই শক্তিশালী রকেটের বিস্ফোরণ

আকাশের বুক চিরে মহাকাশের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল শক্তিশালী এক রকেট। সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হচ্ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের ঠিক পরমুহূর্তেই ঘটল এক কাণ্ড! কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাঝ-আকাশ থেকে ধেয়ে এলো আগুনের গোলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আছড়ে পড়ল কিম জং উনের পাশের দেশের রকেট।

সোমবার রাতের এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপ সংস্থা ইনোস্পেসের তৈরি হ্যানবিট-ন্যানো রকেটটি। ৫টি ছোট উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট নিয়ে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র এক মিনিটের মাথায় হঠাৎই রকেটটিতে আগুন ধরে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টটি মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যেই ধুলোয় মিশে যায়। ৫৭ ফুট লম্বা রকেটটি রাত ৮টা ১৩ মিনিটে ব্রাজিলের আলকানতরা স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানা গেছে। হানবিট-ন্যানো হলো ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান। রকেটটি ৫টি ছোট উপগ্রহ ও ৩টি পরীক্ষামূলক যন্ত্র বহন করে কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এই উৎক্ষেপণটি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বেসরকারি সংস্থা ও ব্রাজিলের বায়ুসেনার যৌথ পরিকল্পনা ছিল।

বিস্ফোরণের সেই শিউরে ওঠা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উড়ন্ত রকেটটি হঠাৎই একটা বিশাল আগুনের বলের মতো ফেটে পড়ছে এবং তার ধ্বংসাবশেষ বৃষ্টির মতো আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে। স্পেস অরবিটের ট্র্যাকিং অনুসারে, উড়ানের পর পরই রকেটে একটি সমস্যা দেখা দেয়।

সেটি পৃথিবীতে ফিরে আসে। দক্ষিণ কোরীয় সংস্থা ইনোস্পেস সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো প্রকাশ করেনি। 

ছবি : সংগৃহীত

রোগীকে মারধর করলেন ভারতীয় চিকিৎসক

সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করায় শ্বাসকষ্টে ভোগা এক রোগীকে মারধর করেছেন ভারতীয় এক চিকিৎসক। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, উত্তর ভারতের শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজের (আইজিএমসি) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সোমবার ওই রোগীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী অর্জুন পানওয়ার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পরে শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়ায় অন্য একটি ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে পড়েন। পানওয়ারের অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই ওই চিকিৎসক তার সঙ্গে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। তিনি এ আচরণের প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে মারধর শুরু করেন বলে পানওয়ার জানান। পানওয়ার বলেন, আমি তখন মাত্র ব্রঙ্কোস্কপি করিয়েছি এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অক্সিজেন চাইলে চিকিৎসক আমার ভর্তি সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু অনুরোধ করেছিলাম যেন তিনি সম্মানের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। আমি যখন জিজ্ঞেস করি, তিনি কি নিজের পরিবারের সঙ্গেও এভাবে কথা বলেন? তখন তিনি বলেন আমি ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়ে কথা বলছি এবং মারধর শুরু করেন। ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, চিকিৎসক বারবার ঘুষি মারছেন, আর পানওয়ার আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনার পর হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। শিমলা আইজিএমসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আইজিএমসি শিমলার মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রাহুল রাও জানান, কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে এবং শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি পুলিশ মামলাও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে ভারতে আরেকটি ঘটনায় অপারেশন থিয়েটারের ভেতর দুই চিকিৎসকের পারস্পরিক গালাগালির ভিডিও ভাইরাল হয়। জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ওই বিতণ্ডার ফলে একটি শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. অশোক নাইনিব্রাল ও অ্যানেস্থেটিস্ট ডা. মুরারি লাল তাক অচেতন রোগীর ওপর অস্ত্রোপচার চলাকালে একে অপরের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। যোধপুরের উমাইদ হাসপাতালে সংঘটিত ওই ঘটনায় প্রায় এক ডজন চিকিৎসাকর্মী অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। উমাইদ হাসপাতালের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রঞ্জনা দেশাই জানান, ওই নারীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। পরে গুরুতর জন্মকালীন শ্বাসকষ্টের কারণে তার শিশুর মৃত্যু হয়।

https://mzamin.com/uploads/news/main/195422_Abul-9.webp

নাজনীন মুন্নীর টকশো বন্ধ হলো যে কারণে

গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে বাদ দিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষকে কয়েকজন তরুণ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত চ্যানেলটির কার্যালয়ে গিয়ে এই হুমকি দেয়া হয়। তারা বলেন, ‘চাকরি না ছাড়লে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো অফিস পুড়িয়ে দেয়া হবে।’

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৈনিক মানবজমিনকে নাজনীন মুন্নি বলেন, ‘আমাকে সরাসরি কিছু বলেনি তারা। তবে অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটা শো করি। এর আগে তারা ফোন দিয়ে আমার শো বন্ধ করে দেয়। সম্ভবত চেয়ারম্যান স্যারকে তারা ফোন দেয়। বিভিন্ন অখ্যাত পত্রিকায় নানা ধরনের গুজব লিখে ওই লিংক তাকে পাঠায়। যা খুশি তাই লিখে পাঠায়। বেশ কয়েকদিন যাবত এগুলো করছিলো। তারপর আমার শো করা অ্যাজইউজুয়াল বন্ধ হয়ে যায়।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাই। সেখান থেকে ১৭ ডিসেম্বর ফিরি। ফিরে আসার পর আমার শো করার কথা। কিন্তু আমাকে আর শো করতে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেও এক সপ্তাহ শো করতে পেরেছি। তার আগে আবার বন্ধ ছিলো। মানে দুই মাস করেছি, আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার এক সপ্তাহ করেছি, তারপর আমেরিকা গিয়েছি। সেখান থেকে ফেরার পর শো বন্ধ।’

শো বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্ভট ধরনের গল্প বানিয়ে এগুলো চেয়ারম্যানকে পাঠায়। প্রথমে সহজভাবে বলেছেন বাদ দেয়ার জন্য। আমি বলেছি—কেন আমি বাদ দেবো। প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাকে ফোন দেয়। তবে চেয়ারম্যান স্যার কখনো আমাকে বলেননি। শুধু আমাকে বলেছেন দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। আপনি কয়েকদিন শো কইরেন না। শো করলে তো সবার নজরে পড়ে আরও বেশি। এটা নিয়ে আমি আমার মতো করে বলেছি—কেন করবো না। এটা তো লুকানোর কিছু নেই। আমি একটা টেলিভিশনে কাজ করি। জার্নালিস্ট ও অ্যাংকর, আমাকে তো দেখবেই মানুষ। অ্যাংকরিংয়ে যদি কোনো ক্রাইসিস থেকে থাকে তাহলে আপনারা আমাকে বলবেন যে, এই সমস্যা হচ্ছে। শব্দগত বা কারও সাপোর্টে কথা বলেছি কিনা—তখন আপনি বন্ধ করতে পারেন। কে কী দিচ্ছে এর জন্য আমার শো বন্ধ—এটা কেমন কথা! তখন তিনি বললেন, এখন তো কোনো যুক্তির কথা খাটছে না।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘প্রথমে আমাকে বললেন তফসিল ঘোষণা করুক। তখন অবস্থা ঠান্ডা হয়ে যাবে এবং এটা নিয়ে কোনো কেওয়াজ করবে না। তখন আমি বললাম—ঠিক আছে, তবে তফসিল ঘোষণার করার পরও শো করতে দেয়া হয় না। তখন আমি বিষয়টা জানতে চাইলাম। তখন বলা হলো—ঝামেলা হচ্ছে। সবাই যখন নমিনেশান পেপার জমা দেবে তখন থেকে করবেন। এরমধ্যে শো-এর জন্য একজন হোস্ট হিসেবে ঠিক করে ফেললেন। তখনই আমি বুঝেছি আমাকে আর শো করতে দেয়া হবে না।’    

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পুড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের সবার মন খারাপ ছিলো। এরপর ২১ ডিসেম্বর ৭-৮ জন আমার অফিসে আসেন। তবে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তখন হয়ত আমি অফিসে ছিলাম না বা বাইরে বের হয়েছি। তখন বিষয়টা আমাকে জানানো হয়নি। পরদিন আমি নরমালি অফিস করেছি। এরপর সন্ধ্যার দিকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়। আমাকে বলা হয়, অনেকগুলো ছেলে আসছিলো, তারা হুমকি দিয়ে গেছে। অফিস পুড়িয়ে দেবে।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আমি চলে যাই। এরপর এমডি স্যারের কাছে ফোন আসে। কয়েকটা ছেলে বলছে তারা এমডি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। তিনি তাদের আসতে বলেন। তারপর তারা ৭-৮ জন আসেন। এমডির রুমে প্রবেশ করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটি হিসেবে তারা পরিচয় দেন। আসার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, আমাদের শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের জন্য মন খারাপ। আপনাদের গ্লোবাল টিভিতে হাদি ভাইয়ের কাভারেজ ভালো হয়নি। এটা আওয়ামী লীগের এমপির চ্যানেল আমরা জানি, কিন্তু আমরা কিছু বলি না। আপনারা নাজনীন মুন্নীকে কেন রাখছেন। উনি তো আওয়ামী লীগের দোসর। তখন এমডি বলেছেন, উনি আওয়ামী লীগের দোসর কীভাবে হন। আমরা তো উনাকে বুঝেশুনেই নিয়েছি। তখন তারা বলে, উনি আওয়ামী লীগের দোসর। উনাকে আপনারা বাদ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘অফিস আমার বিষয়ে আন্তরিক। চেয়ারম্যান ও এমডিকে বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত আমার বিষয়ে হুমকি দেয়া হয়। তবুও তারা আমার পক্ষেই থেকেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর নিতে পারেননি। কারণ দুইদিন আগে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়ে দেয়া হয়।’

এক দল তরুণের হুমকি দেয়া প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার ৩৮ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেন নাজনীন মুন্নী। ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে ৭-৮ জন আমার অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে চাকরি না ছাড়লে অফিস প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন ধরিয়ে দেবে।’

বর্তমানে গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন নাজনীন মুন্নী। গত জুলাই মাসে এই চ্যানেলে তিনি যোগ দেন তিনি। এর আগে ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ছিলেন নাজনীন মুন্নী।

mzamin

গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ করার কোনো উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই: ট্রাম্পের নতুন দূত

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিযুক্ত দূত জেফ ল্যান্ড্রি বলেছেন, দ্বীপটি ‘দখল’ করার কোনো উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে ‘সংলাপ শুরু করতে’ চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ল্যান্ড্রি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করতেই হবে এটা বুঝতে যে সামনে এগিয়ে যেতে তারা কী চায়

ল্যান্ড্রি প্রশ্ন করেন, ‘তাঁরা কী খুঁজছেন? কী ধরনের সুযোগ তাঁরা পাননি? যে সুরক্ষা তাঁদের পাওয়ার কথা, তা কেন পাননি?

জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা বরাবরই তাঁদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দখলদারির বিরোধিতা করে আসছেন।

রোববার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেফ ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করবেন, যদিও তাঁর কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।

এই ঘোষণার পর ল্যান্ড্রি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ট্রাম্পের উদ্দেশে লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার এই স্বেচ্ছাসেবী পদে আপনার জন্য কাজ করতে পারাটা সম্মানের।’

জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রিমিয়ার জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীরই অধিকারে থাকবে।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড তার কৌশলগত অবস্থান এবং বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কেড়েছে।

ট্রাম্প বলছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, খনিজ সম্পদের জন্য নয়।

ল্যান্ড্রিকে বিশেষ দূত নিয়োগের পর সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

গ্রিনল্যান্ড ও কানাডা—দুই দেশ ও অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার উচ্চারিত আকাঙ্ক্ষা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, তাঁর এই জেদি আচরণ ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-24%2Fnjokpzef%2FJeff-Landry.jpg?rect=0%2C0%2C720%2C480&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট রুমে জেফ ল্যান্ড্রির বক্তব্য শুনছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ মার্চ, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

শপথ গ্রহণের দিন মামদানির পাশে দেখা যাবে বার্নি স্যান্ডার্সকে

মামদানির রাজনৈতিক যাত্রায় শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির যে অভাবনীয় উত্থান, তার সাক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। মামদানির রাজনৈতিক যাত্রায় শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন এই প্রবীণ নেতা।

আগামী ১ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের দিন আবারও মামদানির পাশে দেখা যাবে স্যান্ডার্সকে। সিটি হলের কাছে আয়োজিত গণশপথ অনুষ্ঠানে এই দুই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা একমঞ্চে থাকবেন। মামদানির দলের ধারণা, তাঁর এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার সমর্থকের বিপুল সমাগম ঘটবে।

উন্মুক্ত এই আয়োজনের প্রায় ১৩ ঘণ্টা আগেই অবশ্য মামদানির আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হবে। সেটি হবে একান্তই ঘরোয়া আয়োজন। তবে এই শপথ কোথায় হবে, সেই স্থানটি এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ঠিক আগমুহূর্তে বা মধ্যরাতে মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস। সেখানে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংবিধান ও নিউইয়র্ক সিটির সনদ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করবেন। একই সঙ্গে তিনি মেয়রের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের শপথ নেবেন।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের ‘পিছু হটা’ বা সংকোচনের বিষয়টি তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষ’ সঠিকভাবেই মনে করে যে সরকার এখন আর তাদের জন্য কাজ করছে না; বরং সরকার কাজ করছে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ জোগানদাতা ধনী ব্যক্তি এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী শতকোটিপতি শ্রেণির জন্য।

স্যান্ডার্স আরও বলেন, ‘জোহরানের কাঁধে এখন এক অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে সরকার কেবল ধনীদের জন্য নয়, বরং শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্যও সুফল বয়ে আনতে পারে।’

জোহরান মামদানি ও বার্নি স্যান্ডার্স
জোহরান মামদানি ও বার্নি স্যান্ডার্স। কোলাজ

আসামে আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালি-বিহারীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মধ্য–দক্ষিণাঞ্চলীয় স্বায়ত্ত্বশাসিত কার্বি আংলং জেলায় কয়েক দিনের সহিংসতায় অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন, যাঁদের অধিকাংশই আসাম পুলিশের সদস্য।

মৃত দুজনের একজন আদিবাসী আথিক তাইমুং এবং অন্যজন হিন্দু বাঙালি সুরেশ দে (২৫) বলে জানা গেছে। সুরেশ দে শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত।

চলতি সপ্তাহের গোড়ার থেকে আদিবাসী ও আদিবাসী নন, এ রকম দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সোমবার বিক্ষোভকারীরা স্বায়ত্বশাসিত কার্বি আংলং পরিষদের প্রধান ব্যবস্থাপক ও বিজেপি নেতা তুলিরাম রংহাঙ্গের পৈতৃক বাড়ি জ্বালিয়ে দেন।

গতকাল মঙ্গলবার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে। ওই অঞ্চলের খেরোনি বাজারে আগুন ধরিয়ে পুরো বাজার ও আশপাশের বহু বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। কারফিউ জারি থাকলেও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে।

এ লড়াই হচ্ছে মূলত আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালি ও বিহারীদের। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে যে প্রচার গোটা পূর্ব ভারতে চলেছে, তার ফলেই হামলার তীব্রতা বেড়েছে। অঞ্চলের বিহারি শ্রমিকদেরও বক্তব্য, তাঁদের ওপরও কয়েক মাস ধরে হামলা চলছে।

এই বিহারি শ্রমিকেরা বেশ কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে রয়েছেন। এখানে তাঁরা এখন স্থায়ী বাসিন্দা বলা যায়।

আদিবাসীদের বক্তব্য, তাঁদের সম্প্রদায়ভিত্তিক যে জমি রয়েছে, তাতে বাইরে থেকে এসে লোকজন বসছেন। এর ফলে তাঁদের সম্প্রদায়ভিত্তিক জায়গাজমি বহিরাগতদের হাতে চলে যাচ্ছে। যেখানে এ ঘটনা ঘটেছে, তা পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের আদিবাসী–অধ্যুষিত পার্বত্য জেলা। অঞ্চলটি দক্ষিণ আসামের বাঙালি–অধ্যুষিত তিন জেলা হাইলাকান্দি, শ্রীভূমি (করিমপুর) এবং কাছাড়ের ঠিক উত্তরে অবস্থিত। এই অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশ সীমান্ত।

জেলার ফেলাঙ্গপি নামক এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে নয়জন আদিবাসী অনশন করছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বাইরে থেকে এসে যাঁরা বসেছেন, বিশেষ করে সম্প্রদায়ের গরু, মহিষ ইত্যাদি চরানোর জমিতে—তাঁদের সেখান থেকে অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে।

গত সোমবার অনশনকারী ব্যক্তিদের অনশনস্থল থেকে সরিয়ে গৌহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বশাসিত এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন মহাপরিদর্শক অখিলেশ সিং। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অনশনরত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে তাঁদের গৌহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ওই অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরই সহিংসতা শুরু হয় এবং অঞ্চলটির মুখ্য ব্যবস্থাপকের বাড়িতে হামলা হয়। এরপর আদিবাসীরা মূলত আক্রমণ করেন ওই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিদের ওপর। এতে দুজনের মৃত্যু হয়। তবে কে বা কারা এই হত্যার জন্য দায়ী, সে সম্পর্কে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ বুধবার পরিস্থিতি থমথমে। তবে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ওই অঞ্চলে মোতায়ন করা হয়েছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-24%2Fw41y23t5%2Fassam.jpg?rect=68%2C0%2C696%2C464&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আসামের কার্বি আংলংয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালি–বিহারিদের সংঘর্ষের সময় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, কার্বি আংলং। ছবি: এএনআই