Saturday, January 25, 2025
পানির নিচে ১২০ দিন, বিশ্বরেকর্ড
খাদ্য, দর্শনার্থী ও ডাক্তারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় জায়গাটি। সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় সেখানে। যদিও ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু গোসলের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। কোচের যাত্রার মাঝপথে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক। তাকে কোচ বলেন, তার অভিজ্ঞতা পাল্টে দিতে পারে জীবন সম্পর্কে ধারণা। তিনি আরও বলেন, আমরা যেটি বোঝানোর চেষ্টা করছি তা হলো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাসস্থানের জন্য সমুদ্র একটি টেকসই জায়গা। এদিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের বিচারক সুসানা রেইস-এর উপস্থিতিতে পানির নিচে তার ৩০ বর্গমিটারের (৩২০ বর্গফুটের) ‘ঘর’ থেকে আবির্ভূত হন তিনি।
ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে এ রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জোসেফ দিতুরি। ফ্লোরিডার অগভীর হ্রদে ১০০ দিন পানির নিচে থাকার রেকর্ড ছিলো তার। এদিকে ১১ মিটার (৩৬ ফুট) পানির নিচে থেকে এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ বলেন, এটা খুব ভালো অ্যাডভেঞ্চার ছিলো। আমি অনেক উপভোগ করেছি। তবে এটি শেষ হওয়াতে একটু আশাহতও হয়েছি। তিনি আরও বলেন, এ অনুভূতি বর্ণনা করা অসম্ভব। এ অভিজ্ঞতা আপনি নিজে অর্জন করলে তখন তা অনুভব করতে পারবেন।

Friday, January 24, 2025
পানামা ক্যানেল দখলের হুমকি ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান পানামা-চীনের
পানামা ক্যানেলের ইতিহাস: ঐতিহাসিকভাবে এই পানিপথ নির্মাণে এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। প্রথমে এই পানিপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ফরাসি সরকার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ প্রকল্প তাদের অধিকারে নিয়ে নেয়। ক্যানেলটির নির্মাণ সম্পন্ন হয় ১৯১৪ সালে। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এই ক্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওই সময় পানামার সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। সেই চুক্তিতে পানামার কাছে আস্তে আস্তে পানিপথটি তুলে দেয়ার কথা বলা হয়। জিমি কার্টারের এই চুক্তিকে ডনাল্ড ট্রাম্প ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে পানামা ক্যানেল অথরিটি এই পানিপথের এক্সক্লুসিভ নিয়ন্ত্রণ হাতে পায়। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়, এই পানিপথ স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু এই চুক্তির অধীনে এই পানিপথে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে যেকোনো হুমকি মোকাবিলার অধিকার রাখে যুক্তরাষ্ট্র।
কেন এলো চীনের নাম: তবে পানামা ক্যানেল নিয়ন্ত্রণে চীন সরকারের বা সামরিক কোনো উদ্যোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে ওই এলাকায় চীনের বিভিন্ন কোম্পানির উপস্থিতি আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ক্যানেল দিয়ে শতকরা ২১.৪ ভাগ কার্গো অতিক্রম করেছে চীনের। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পর এই ক্যানেল ব্যবহারে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে চীন। এই ক্যানেল বরাবর আছে ৫টি বন্দর। তার মধ্যে দু’টি বন্দর হলো বালবোয়া এবং ক্রিস্টোবাল। এর অবস্থান প্রশান্ত ও আটলান্টিকের পাশে। ১৯৯৭ সাল থেকে হাচিসন পোর্ট হোল্ডিংসের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনা করছে। এটি সিকে হাচিসন হোল্ডিংস-হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এর মূল মালিকানা হংকংভিত্তিক ব্যবসায়ী লি কা-শিং। বৃটেন সহ ২৪টি দেশে বন্দর অপারেশনে কাজ করে তারা। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি চীন রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয়। এ কথা বলেছেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আমেরিকাস প্রোগ্রামের পরিচালক রিয়ান বার্গ। তবে ওয়াশিংটনে এ নিয়ে উদ্বেগ হলো- এই কোম্পানির ওপর কতোটা চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে বেইজিং।

Thursday, January 23, 2025
পানামা খাল দখল করতে গেলে বিপদে পড়তে পারেন ট্রাম্প
ট্রাম্প যদি শক্তি প্রয়োগ, বিশেষ করে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পানামা খাল দখলের চেষ্টা করেন, তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতিবিরুদ্ধ। তা ছাড়া যুদ্ধ করাটা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নীতিরও বিরোধী। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধ করার বিরোধিতা করে আসছেন। তাই হঠাৎ তিনি যদি পানামা খাল দখলের জন্য একটি বড় রকমের যুদ্ধ শুরু করেন, তা জনসমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হতে পারে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার (১৯৭৭-৮১) পানামা খাল পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পানামা খাল চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাস হয় ১৯৭৮ সালে। জিমি কার্টার এই চুক্তির পক্ষে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যের ভোট আদায় করতে পেরেছিলেন।
পানামা খাল পানামা সরকারের কাছে ফেরত দেওয়াটাকে ন্যায্য মনে করতেন জিমি কার্টার। ওয়াশিংটন যেহেতু তখন পর্যন্ত মধ্য আমেরিকায় আধা ঔপনিবেশিক নীতি অনুসরণ করত, তাই জিমি কার্টারের পানামা খাল ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল।
জিমি কার্টার পানামা খাল চুক্তি সই করেছিলেন—এ কথা বলার পাশাপাশি এটাও বলা দরকার যে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের প্রেসিডেন্টরাই চুক্তিটির শর্ত মেনে চলেছেন। এসব প্রেসিডেন্টের মধ্যে রয়েছেন রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন। বিল ক্লিনটনের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পানামা খাল পরিচালনার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর পর থেকে পানামা খালের পরিচালনা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসনের তথ্যমতে, আমেরিকার বন্দরগুলোয় যাতায়াত করা জাহাজগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি পানামা খাল ব্যবহার করে।
গত সোমবার ভাষণের আগেও গত ডিসেম্বরে পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের করা এক মন্তব্যের জবাবে পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, পানামা খাল ও এর আশপাশের অঞ্চলের প্রতি বর্গমিটার জায়গার বর্তমান মালিক পানামা এবং ভবিষ্যতেও তা পানামার থাকবে।’
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে লেখা চিঠিতে সংস্থাটির ঘোষণার একটি ধারার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্পের হুমকিতে আমরা উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের ঘোষণায় “অন্য দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা ভূখণ্ডের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে শক্তি ব্যবহার বা হুমকি” দেওয়া যাবে না বলে বলা হয়েছে।’
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন পানামা খাল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, পানামা সরকার এ সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ট্রাম্পের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার এ খালে কার্যক্রম পরিচালনা করে—হংকংভিত্তিক এমন দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে পানামা সরকার।
হুমকি অনুযায়ী পানামা খাল দখলে ট্রাম্প যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তা গুরুতর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। পানামা খালের এলাকার আয়তন প্রায় ৫০০ বর্গমাইল। আর পানামার জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। পানামা খাল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকুক—এটি দেশটির জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কোনোভাবেই চাইবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, ‘কোনো সামরিক অভিযান সফল করার জন্য প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিরুদ্ধে ২০ জন যোদ্ধা দরকার হয়।’ সেই হিসাবে পানামার বর্তমান জনসংখ্যা অনুসারে পানামা খাল দখলে নেওয়ার জন্য যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৯০ হাজার সেনা মোতায়েন করতে হবে। ট্রাম্প এত বড় পরিসরে কোনো যুদ্ধ শুরু করলে তাঁকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে পানামায় সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস করা লাগবে। দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এই ধরনের প্রস্তাব পাস করার জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন পেতেও ট্রাম্পকে হিমশিম খেতে হবে। কারণ, উভয় দলের অনেক কংগ্রেস সদস্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পানামা খাল দখলের বিরোধিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পানামা খালের দখল নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে সেটির ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে। এই খাল দিয়ে প্রতিবছর বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৬ শতাংশ হয়ে থাকে। অথচ এরই মধ্যে লোহিত সাগরের সুয়েজ খালে দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে অস্থির করে তুলেছে ইয়েমেনের হুতিরা। এ খাল দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্য হয়ে থাকে।
প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর রাজনৈতিক জীবন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাই বলে পানামা খাল দখলের জন্য সামরিক শক্তির ব্যবহার হবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ—এ ধরনের অভিযান ব্যর্থ হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে নাৎসিদের প্রতীকসংবলিত পোস্টার পোড়াচ্ছেন পানামার শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। পানামা সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
Thursday, January 2, 2025
পানামা খালের ইতিহাস কী, যুক্তরাষ্ট্র কেন এটি খনন করেছিল
পানামা খাল নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি দুটি। তাঁর মতে, খাল কর্তৃপক্ষ এটি ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘অত্যন্ত বেশি হারে’ মাশুল নিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই খালের ওপর চীনের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে। ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র উদার হাতে যেভাবে পানামাকে সহায়তা করছে, তারপরও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে হারে মাশুল নেয়, তা ‘হাস্যকর’।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত এ খালটি ১৯১৪ সালে চালু করা হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে দেশটি পানামার সঙ্গে একটি চুক্তি করে খালটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য। তবে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দুই দেশ যৌথভাবে পানামা খাল নিয়ন্ত্রণ করে।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি নিশ্চিত করে বলতে চাই, পানামা খাল ও এর আশপাশের প্রতি বর্গমিটার পানামার সম্পত্তি এবং ভবিষ্যতেও তা–ই থাকবে। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে দর–কষাকষি চলবে না।’
পানামা খালের শুরুটা যেভাবে
পানামা খাল খননের আগে দুই আমেরিকা মহাদেশের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে জাহাজের চলাচল হতো কেপ হর্ন ঘুরে। এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের একেবারে দক্ষিণ বিন্দু। ফলে জাহাজগুলোকে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মাইল ঘুরে চলাচল করতে হতো, কখনো কখনো এর জন্য কয়েক মাস লেগে যেত।
আমেরিকায় যেসব দেশ কলোনি স্থাপন করেছিল, তাদের কেউ কেউ চেয়েছিল এমন একটি জলপথ তৈরি করতে, যা আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচলের সময় কমিয়ে আনবে। তবে তাদের ওই চাওয়া কখনোই পূরণ হয়নি।
এরপর বিশ শতকের প্রথম দিকে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট এমন একটি জলপথ তৈরি করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেন। এখন যেটি পানামা, তখন তা নিয়ন্ত্রণ করত রিপাবলিক অব কলম্বিয়া। কিন্তু মার্কিন–সমর্থিত এক বিদ্রোহে পানামা ও কলম্বিয়া ভাগ হয়ে যায়, ১৯০৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন দেশ পানামা প্রজাতন্ত্র।
সদ্য স্বাধীন দেশ পানামা ও যুক্তরাষ্ট্র ওই বছরই একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ১০ মাইল লম্বা একটি ভূখণ্ড মার্কিন নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর বিনিময়ে অর্থ পায় পানামা। আর যুক্তরাষ্ট্র পায় একটি খাল খননের অধিকার।
খাল খননের কাজ শেষ হয় ১৯১৪ সালে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি সুপারপাওয়ার হিসেবে তখন যুক্তরাষ্ট্র সবার কাছ থেকে বাহবা পায়। কিন্তু এই খাল খননের জন্য বড় ধরনের মানবিক মূল্য দিতে হয়েছিল। এটির নির্মাণকালে ৫ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এই খালের বাস্তব গুরুত্ব বোঝা যায়। সে সময় দুই মহাসাগরের মধ্যে মিত্রশক্তির জাহাজগুলো কম সময়ে চলাচল করতে পেরেছে। কিন্তু খালের নিয়ন্ত্রণ, পানামার শ্রমিকদের সঙ্গে আচরণ ও খালের এলাকায় দুই দেশের পতাকা একই সঙ্গে ওড়ানো হবে কি না, এমন প্রশ্নে পানামা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
১৯৬৪ সালের ৯ জানুয়ারি উত্তেজনা চরমে ওঠে। সেদিন আমেরিকাবিরোধী দাঙ্গায় খাল এলাকায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। অল্প সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেরও ছেদ হয়। এরপর বছরের পর বছর ধরে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
ওই চুক্তিতে পানামা খালকে নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বলা হয় যে সব জাহাজের জন্য এটি খোলা থাকবে। চুক্তি মোতাবেক, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত খালের নিয়ন্ত্রণ পানামা ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যৌথভাবে থাকবে এবং এরপর তা পানামার হাতে চলে যাবে। তবে সবাই জিমি কার্টারের এই চুক্তি সমর্থন করেননি। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রোনাল্ড রেগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ‘খালের এলাকার ন্যায়সংগত মালিক’।
পানামা খাল নিয়ে ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সে সময় পানামার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ম্যানুয়েল নরিয়েগা। তখন ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পানামায় সামরিক অভিযান চালায় এবং ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
নতুন ঝামেলা
২০০০ সালে খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওই জলপথের সক্ষমতার চেয়ে বেশি জাহাজ সেটি ব্যবহার করা শুরু করে। ২০০৭ সালে খালের বড় ধরনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় এক দশক পর। কিন্তু খালের এলাকায় ব্যাপক খরা দেখা দেওয়ায় পানির স্তর নেমে যায়, ফলে এটি পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং মাশুল বৃদ্ধি করে।
সম্ভবত ওই অতিরিক্তি মাশুলের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তষ্ট।
তবে রাষ্ট্র হিসেবে পানামা ও খালের ওপর চীন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ চাইছে ট্রাম্পের এই দাবির কিছুটা ভিত্তি রয়েছে। ২০১৭ সালে পানামা একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করে, যাতে বলা হয় যে তারা তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখবে না। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এই ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে। সেই থেকে খালের এলাকায় চীনের প্রভাব বেড়েছে।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো অবশ্য বলেছেন, ‘খেয়াল খুশিমতো মাশুল নির্ধারণ করা হয়নি।’ চীন খালের ওপর প্রকাশ্যে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে, এমন ধারণাও তিনি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘এই খালের ওপর চীন, ইউরোপীয় সম্প্রদায়, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো শক্তির পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
![]() |
| পানামা খাল। ফাইল ছবি: এএফপি |
BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1497)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
