Monday, July 25, 2016

টিভিতে দেখেছেন সাড়ে তিন কোটি দর্শক

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের জাতীয় কনভেনশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া মনোনয়ন গ্রহণের ভাষণ দেখেছেন অন্তত সাড়ে ৩ কোটি দর্শক। নিউইয়র্কভিত্তিক বৈশ্বিক তথ্য পরিমাপক সংস্থা নেলসনের প্রতিবেদনে শুক্রবার জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেয়া ট্রাম্পের এ ভাষণ বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেখেছেন গড়ে প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ দর্শক। আরও ২০ লাখ ৬৬ হাজার দর্শক দেখেছেন পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের (পিবিএস) মাধ্যমে। শনিবার এ খবর দিয়েছে লস এঞ্জেলেস টাইমস।
২০১২ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনির ভাষণের চেয়ে বেশি দর্শক দেখেছেন ট্রাম্পের এ ভাষণ। ওই বছর রমনির ভাষণ দেখেছিলেন ৩ কোটি ৩ লাখ মানুষ। তবে অল্পের জন্য ২০০৮ সালে জন ম্যাককেইনের ভাষণ দেখা দর্শকের টপকাতে পারেননি ট্রাম্প। ওই বছর ম্যাককেইনের ভাষণের দর্শক ছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ। ওই দিন ফক্স নিউজ চ্যানেলের ম্যাধ্যমে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া ট্রাম্পের ভাষণ দেখেন সবচেয়ে বেশি দর্শক। ওই চ্যানেলে রাত ১০টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নিউজের মাধ্যমে প্রচারিত এ ভাষণের দর্শক ছিল ৯০ লাখ ৩৫ হাজার। সিএনএনের মাধ্যমে দেখেছেন ৫০ লাখ ৪৮ হাজার, এনবিসির মাধ্যমে ৪০ লাখ ৫৯ হাজার,
এবিসির মাধ্যমে ৩০ লাখ ৮৬ হাজার ও সিবিএসের মাধ্যমে ৩০ লাখ ৮০ হাজার দর্শক। সেই রাতের বক্তব্য দেখায় দর্শকদের এ সমর্থনে ক্যাবল চ্যানেলগুলোতে ট্রাম্প ‘রেটিং ম্যাগনেট’ হিসেবে আখ্যা পেয়েছেন বলে জানায় নেলসন। তবে ভাষণের দীর্ঘসূত্রতার দিক দিয়ে ৪৪ বছরের মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ট্রাম্প। জাতীয় কনভেনশনের শেষ পর্বের রাতে ৭৫ মিনিট ভাষণ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বক্তব্য এক ঘণ্টা পার করেছে। এরা হলেন: বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের বক্তব্যের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের বক্তব্যটি রেখেছিলেন বিল ক্লিনটন। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে মনোনয়ন গ্রহণের সময় ৬৪ মিনিট ধরে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

কত হাত ওই হাত ধরবে

দু’জনের ঘাড়ে ভর দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অসুস্থ লোকটি। খুব কষ্ট করে এসেছিলেন এখানে। তাকে বয়ে নিয়ে যাওয়া এ দু’জনের একজন তার সন্তান, আরেকজন তার পরিচিত কেউ। একই গ্রামের মানুষ তারা। এদের মাঝে দ্বিতীয়জনের চেনা এ জায়গাটি। ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়ক ধরে একেবারে শেষ প্রান্তে লেকের ধারে একটি বাড়ি। তিনিও ঠিক এভাবেই এসেছিলেন এখানে একদিন। তখন মুমূর্ষু সহায়-সম্বলহীন মানুষটি কোনোমতে শুধু গ্রাম থেকে যাতায়াতের টাকা ধার করে এখানে পৌঁছেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার প্রত্যাবর্তন হয়েছিল সুস্থ, সবল, এককভাবে নিজের পায়ে ভর দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন স্বপ্ন দেখা মানুষ হিসেবে। যিনি আবার খুঁজে পেয়েছেন জীবন চলার নতুন শক্তি। নিজের বাইরে অন্যের কাজে একটু সহায়তার জন্য সবল বাহু। কিন্তু আজ তিনিই ব্যর্থ মনোরথে তার পরিচিত একই রোগে আক্রান্ত মানুষটিকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামে। এবার অন্যের জন্য ব্যর্থ তিনি। কে দেবে আর ক্যান্সার নামক মরণব্যাধির চিকিৎসা, প্রায় বিনা খরচে? বাড়িটিতে ওই প্রতিষ্ঠানটি যে আর নেই! তারা এও জানেন না, প্রতিষ্ঠানটি অন্য কোথাও সরে গেছে কিনা।
এবার একটি গল্প বলি, যার থিম হল ‘একটি জীবনের অবসান থেকে অগণিত জীবনের এক মহতী প্রয়াস’। বাবা আর মায়ের তৈরি এই বাক্যমালা। তাদের খুব প্রিয় সন্তান ‘মোসাব্বির’। যার জন্ম ১৯৮৫-তে, আর এ পৃথিবী থেকে বিদায় ২০০৩ সালে। ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে সেই স্নেহময় ছেলেটির প্রস্থান হয় পৃথিবী থেকে অনন্তলোকে। মা-বাবা শোকের দুর্বিষহ অবস্থায় ভেসে যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অনেক মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বপ্নে উপরের থিমে সৃষ্টি করেছেন ‘মোসাব্বির ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার’। অগণিত দরিদ্র মানুষ সেখানে চিকিৎসা পাচ্ছেন আর সুস্থ হয়ে ফিরছেন। অন্য অসুস্থ সহায় সম্বলহীন দরিদ্র মানুষদের এনে বিনা খরচায় চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলে পরিবারের মুখে আবার হাঁসি ফোটাচ্ছেন। মনে হচ্ছে তাদের প্রাণপ্রিয় মোসাব্বির যেন হেসে উঠছে। কিন্তু এ লেখার শুরুর দৃশ্যপট খেয়াল করলে দেখবেন, একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে এসেছিলেন আরেকজন ‘মোসাব্বির’ থেকে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হওয়া রোগী ও তার সন্তান। কিন্তু ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। কারণ আগেই বলেছি, হাসপাতালটি আর সেখানে নেই। কষ্ট লাগবে সবার নিশ্চয়ই। কারণ মৃত্যুর আগমনী বার্তাসহ দরিদ্র মানুষটিকে গ্রামে ফিরিয়ে নেয়ার ভাড়াটি পর্যন্ত তাদের নেই। এটা কি মেনে নেয়া যায়? আমি একটি ব্যাংকে কাজ করি।
সেই ব্যাংকের পক্ষ থেকে কয়েকজন সহকর্মীসহ আজ সেখানে গিয়েছিলাম। আমি খুব গর্ব অনুভব করেছি মোসাব্বিরের বাবার মুখে এ কথা শুনে যে, আমার প্রতিষ্ঠান তাদের পেছনে রয়েছে এবং তাদের অনেকটা সহায়তা করছে। অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক গিয়েছিলেন সেখানে। তারাও তাদের সর্বোত্তম চেষ্টা আর পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন বিনা খরচে। সবার চোখে একটিই স্বপ্ন- একখণ্ড ছোট্ট জমি হলে তারা চিরস্থায়ীভাবে তাদের এই দরিদ্র-অসহায় মানুষের ক্যান্সার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন আরও ভালোভাবে। এ লেখার শুরুতে রোগীটির ফিরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটটি আমার মনে দানা বাঁধল একটি খবর দেখে। সেটি হল তাদের এ বাড়িটি ছেড়ে দিতে হবে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। কারণ বাড়িটি ডেভেলপারকে দিয়ে দিচ্ছেন বাড়ির মালিক। তাছাড়া এখন আবাসিক এলাকায় এ রকম হাসপাতাল চালানো নিয়ম অনুযায়ী সম্ভব নয়। এভাবে বারবার ভাড়া নিয়ে এ রকম প্রতিষ্ঠান চালানো খুব কষ্টের এবং বাস্তবে সম্ভবপর নয়। তাছাড়া কেমোথেরাপিসহ বিভিন্ন রেডিয়েশন মেশিনারি এনে রোগীদের আরও উন্নত চিকিৎসা দেয়ার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ রয়েছে তাদের। এ জন্য তাদের প্রয়োজন একখণ্ড ছোট্ট জমি, অনেক অর্থের পাশাপাশি। আর এ মেশিনগুলো প্রতিস্থাপনের ঘরটি তৈরি করতে হবে আরও শক্তপোক্ত করে যেন রেডিয়েশন ছড়াতে না পারে।
লিও টলস্টয় বলেছিলেন, ‘মানুষের আর কতটুকুই বা জমির প্রয়োজন।’ আমার মতে, শুধুই সাড়ে তিন হাত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এক টুকরো জমি আর মানুষের সহায়তা কী দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোকে! ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ রকম ছোট ছোট সংগঠনগুলো কী বিরাট অবদান রাখতে পারে মানুষের কল্যাণে! এদের সঙ্গে হাত মেলাতে নিশ্চয়ই এগিয়ে আসবেন হাজারও মানুষ। আমাদের দেশের মানুষের আতিথেয়তা আর পরোপকারের ইতিহাস সবাই জানেন। তাদের কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেন নিশ্চয়ই, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে দরিদ্র-অসহায় মানুষ আর তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। তাই বলতে ইচ্ছে করে, ‘তুমি দেখবে, তুমি দেখবে ওই দুটো হাত বাড়ালে কত হাত ওই হাত ধরবে তুমি তোমার মাটিতে দাঁড়ালে।’ পুত্র হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাবা-মা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য দাঁড়িয়েছেন। নিশ্চয়ই হাজার হাত মিলিত হবেই সে হাতে। আর উপরের ওই দৃশ্যাবলী পরিবর্তিত হয়ে নতুন রোগীটি জানবে মোসাব্বির ক্যান্সার কেয়ারের নতুন ঠিকানা। কেউ না কেউ এসে তাদের জানিয়ে দেবেন ‘মোসাব্বিরের’ নতুন আরও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার ঠিকানা- যেখানে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হওয়ার স্বপ্নে শক্তি সঞ্চয় করবেন তিনি। এ আশাই রইল আজ।
চৌধুরী মনজুর লিয়াকত : ব্যাংকার

সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে একের পর এক যেভাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে, এতে যে কোনো সচেতন মানুষের উদ্বেগ বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। মাত্র কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে যেভাবে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, এতে বিশ্ববাসী কেবল যে হতবাক হয়েছে তাই নয়, সন্ত্রাসের ধরন যে এমন হতে পারে, এটা মানুষ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। গত শুক্রবার জার্মানির মিউনিখ শহরে আবারও নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে আমরা জেনেছি, শুক্রবার সন্ধ্যায় মিউনিখ শহরের একটি ব্যস্ততম বিপণিবিতানে হামলা চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অনেকে। দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ হামলা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে। এ ধরনের আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সম্প্রতি একের পর এক যেভাবে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, এসব ঘটনা প্রতিরোধে কী করণীয়, এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী নানামুখী আলোচনা চলছে। স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা যায়,
গতানুগতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে। যেহেতু সন্ত্রাসীরা একের পর এক নতুন কায়দায় হামলা চালায়, এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী জনগণের উচিত হবে সন্ত্রাসবিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচি আরও জোরদার করা। এ কথা ঠিক যে, এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে সাময়িক কোনো পদক্ষেপ হয়তো বিশেষ কোনো ফল দেবে না। যেহেতু নতুন নতুন কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, সেহেতু ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হলেই সন্ত্রাসীদের কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। মানুষ কেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, এ বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে অনেক আগে থেকেই। এ বিষয়ক গবেষণা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা পদ্ধতিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সব স্তরের শিক্ষায় দর্শন চর্চা আরও জোরদার করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি শিক্ষিত মানুষ যাতে উন্নত নৈতিকতা চর্চায় বিশেষভাবে মনোযোগী হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশ্ন হতে পারে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যারা শিক্ষিত নন, তাদের উন্নত নৈতিকতার চর্চার উপায় কী?
এ প্রশ্নটির জবাব হচ্ছে- প্রতিটি পরিবারেই উন্নত নৈতিকতা চর্চার যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এ বিষয়ে কাক্সিক্ষত ফল পেতে অনিশ্চতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সন্ত্রাসীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করছে। কাজেই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা যাতে এর অপব্যবহারে সফল হতে না পারে সে ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। কোনো সন্ত্রাসী প্রযুক্তির অপব্যবহারের উদ্যোগ নিলে তা প্রতিরোধের কাজটি সহজ নয়। তাই কোনো ব্যক্তি যাতে প্রযুক্তিকে জনগণের অকল্যাণে ব্যবহার করতে উদ্যোগী না হয়, তা নিশ্চিত করাই জরুরি। প্রতিটি প্রযুক্তিই যে মানুষের কল্যাণের জন্য আবিষ্কৃত হয়েছে এ ব্যাপারে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে হবে। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, নানারকম হতাশার কারণে কোনো কোনো তরুণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব তরুণের হতাশার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
এ বিষয়ক কোনো সমস্যার সন্ধান পাওয়া গেলে তার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। যেহেতু সন্ত্রাসবাদের সমস্যাটি বৈশ্বিক, এর সমাধানে বিশ্বের সব দেশকে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য, দর্শন ও মানব কল্যাণের মূল বাণীর সঙ্গে সব মানুষকে, বিশেষভাবে তরুণদের পরিচিত করানোর জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিলে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ফল মিলবে, এটাই আশা করা যায়। উল্লিখিত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আরও কী করণীয় তা খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। এককভাবে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সমস্যার সমাধানে করণীয় নির্ধারণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, এ সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক তৎপরতা অব্যাহত না থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। আমাদের এই পৃথিবীকে সবার বাস উপযোগী রাখার জন্য যা কিছু করণীয়, তা সবাইকে মিলেই করতে হবে।
আসফাকুর রহমান : আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক, সাবেক রাষ্ট্রদূত

শিরোপায় চোখ শেখ জামালের

জমকালো উদ্বোধন হয়েছে দু’দিন আগে। কিন্তু দু’দিন পরেই আয়োজকদের নানা বিশৃংখলা ও সমন্বয়হীনতার মধ্যে আজ মাঠে গড়াচ্ছে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশাদার ফুটবল আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের খেলা (বিপিএল)। উদ্বোধনী দিনে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ বিকেল সাড়ে ৪টায়। তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের মুখোমুখি হবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। সন্ধ্যা ৭টায় দ্বিতীয় ম্যাচে শেখ রাসেলের বিপক্ষে খেলবে উত্তর বারিধারা ক্লাব। তবে দিনের দুটি ম্যাচে ফেভারিটের তালিকায় নিঃসন্দেহে শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। দু’দলই জয়ের কোনো বিকল্প ভাবছে না। পেশাদার ফুটবল লীগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। তবে ঘরোয়া ফুটবলের এবারের মৌসুমে নিজেদের শুরুটা ভালো করতে পারেনি তারা। কারণ হিসেবে দলীয় টিম ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলালের কথা, ‘আমাদের আটজন ফুটবলার আইনি জটিলতায় ছিলেন। পরে তাদের খেলতে না পারাটাই আমাদের কিছুটা সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। যার কারণে স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে আমাদের বিদায় নিতে হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। তবে বিপিএলে অনেক গুছিয়ে এনেছি দলকে। অনেক নতুন মুখ।
আশা করছি, নতুনরা শেখ জামালকে আগের অবস্থানে নিয়ে আসবে।’ তবে সেই দৈন্যদশা থেকে প্রিমিয়ার লীগে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কোচ শেখ মো. আশরাফ আলী। সাবেক এই ফুটবলারের তত্ত্ব¡াবধানে কোচিং করলেও শেখ জামালের পুরনো কোচ জোসেফ আফুসি ১ আগস্ট ঢাকায় এসে দলের হাল ধরবেন। অধিনায়ক ইয়াসিন খানও লীগে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বললেন, ‘প্রিমিয়ার লীগে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমাদের পুরোনা কোচ ফিরে এসেছেন। তার কাছ থেকে আমরা সব সময় ভালো কিছু করার প্রেরণা পাই।’ আর সতীর্থদের মধ্যে দলের মূল শক্তি হিসেবে বিদেশী খেলোয়াড় ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিংয়ের ওপরে শতভাগ আস্থা রাখছেন শেখ জামাল অধিনায়ক, ‘আমাদের প্লাস পয়েন্ট হল ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং। ওদের কম্বিশেন খুবই ভালো। ওরা যদি মাঠে শতভাগ দিতে পারে তাহলে মাঠের লড়াইটা সহজ হবে। তাছাড়া প্রথম ম্যাচে সবাই চাইবে জয় দিয়ে শুরু করতে। আরামবাগকে আমরা ছোট করে দেখছি না। আমরা নিজেরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি সেরা কিছুর জন্য।’ অন্যদিকে আরামবাগ ক্রীড়া সংস্থার টিম ম্যানেজার কাজী নিয়ামুল মাজেদ জলি বলেন,
‘প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, সেটা মাথায় রেখেই আমরা মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলে ম্যাচ শেষ করা।’ এদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ফেভারিট হিসেবে শেখ রাসেলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার দৃঢ়তা থাকলেও উত্তর বারিধারাও খুব একটা সহজে ছাড় দিতে নারাজ। দলটির রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ- সব বিভাগেই বেশ ইতিবাচক খেলা খেলেছে। সেই দলীয় স্পিরিট এখনও তাদের দলে রয়েছে বলে জানান টিম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান মান্নু। তার কথা, ‘আমার দলে দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের সদ্যসমাপ্ত টুর্নামেন্টগুলোর ভালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা রয়েছে। বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আমরা অবশ্যই জিতব।’ উত্তর বারিধারা ক্লাবের টিম ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ভালো দল আমরা জানি। তারপরও এত সহজেই যে আমরা তাদের জিততে দিব, সেটা ভাবা ভুল হবে। আমরাও জয় চাই। তবে সেটা ভালো খেলে। আগে ভালো খেলাটাই আমাদের লক্ষ্য।’

নতুনদের মধ্যে মেধাবীর সংখ্যাই বেশি

*অভিনয়ে কম দেখা যাচ্ছে কেন?
**আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘থার্ডবেল’ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। অভিনয়ের চেয়ে এখানেই এখন বেশি সময় দিতে হয়। তবে এর বাইরেও সময় বের করে অভিনয় করার চেষ্টা করছি।
*উপস্থাপনায়ও আগের মতো দেখা যাচ্ছে না...
**উপস্থাপনায় আগের মতোই আছি। তবে হুটহাট যেনতেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছি না। বুঝে শুনে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব কাঁধে নিচ্ছি। মানের দিক থেকে কোনো আপস করছি না বলে অনেক অনুষ্ঠানই ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তাই হয়তো অনেকেই মনে করছেন উপস্থাপনা কমিয়ে দিয়েছি।
*গেল ঈদে ‘রক্তদ্রোণ’ নামে আপনার অভিনীত একটি নাটক প্রচার হয়েছে। কেমন সাড়া পেলেন?
**এর আগে বোবা, বধির অনেক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও এই নাটকটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্যারালাইসিস রোগীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। দারুণ একটি গল্পনির্ভর নাটক ছিল এটি। তাই প্রচার হওয়ার পর দর্শকদের কাছ থেকে বেশ ফিডব্যাক পেয়েছি। চ্যানেলে ফোন করে তারা নাটকটির প্রশংসা করেছেন। এতে কাজ করার আরও উৎসাহ পেয়েছি। যা আগামীতে দর্শকদের কাছাকাছি থাকতে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
*এত ব্যস্ততার মধ্যেও সংসার জীবন কেমন চলছে?
**সবার দোয়ায় বেশ ভালোই চলছে আমাদের সংসার। ব্যবসা এবং অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরেও আমরা সংসারটাকে গুছিয়ে নিয়েছি। আশা করি আমৃত্যু এভাবে ভালো থেকেই কাটিয়ে দিতে পারব।
*স্বামী হিল্লোলের চেয়ে অভিনেতা হিল্লোলকে কতটা পছন্দ আপনার?
**একজন অভিনেতা হিসেবে হিল্লোল সত্যিই অনেক ভালো। অভিনয়ের প্রতি তার দায়িত্বশীলতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করে। তার সাবলীল অভিনয়ে আরও মুগ্ধ হই আমি। বিয়ের আগে থেকেই হিল্লোলের অভিনয়ের ভক্ত ছিলাম, এখনও আছি। পর্দায় তার ব্যক্তিত্বটা দারুণ উপভোগ্য আমার কাছে।
*উপস্থাপনা বা অভিনয়ে তরুণদের কাজ কেমন লাগে?
**তরুণদের মধ্যে অনেকেই ভালো করছেন। অনেকেরই কাজ আমার দারুণ ভালো লাগে। উপস্থাপকের মধ্যেও অনেকে ভালো করছেন। তরুণদের মধ্যে ভালো কাজ করেন এমন তালিকা করলে বড় হয়ে যাবে। তাই নামগুলো বলতে পারছি না। তবে এখন যারা মিডিয়া অঙ্গনে কাজের জন্য আসছেন তাদের মধ্যে প্রায় সবাই মেধাবী। তাদের প্রোপার গাইড করতে পারলে ভবিষ্যতে শোবিজ অঙ্গন ভালো ভালো কিছু আর্টিস্ট পাবে বলে আমি মনে করি।
অনিন্দ্য মামুন

প্রথম থেকেই ত্রাণের প্রস্তুতি নিন

বন্যা আসে, সঙ্গে আসে দুর্ভোগ। উত্তরের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। পূর্বের সুরমা নদীর প্লাবনও চলছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এবার মাঝারি মাত্রার বন্যার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। বন্যার সঙ্গে বসবাসে জনগণকে অভ্যস্ত করার পাশাপাশি বন্যাবাহিত প্রতিকূলতা ঠেকানোয় সরকারি বন্দোবস্তটাই এখন করণীয়। প্রথমআলোর শনিবারের সংবাদ জানাচ্ছে, চিলমারি, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও সুনামগঞ্জে মাঝারি মাত্রার বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কুড়িগ্রামের ৪৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গত দুই দিনেই কয়েক শ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ও। সিরাজগঞ্জের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
এসব এলাকার ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সক্রিয়তাও জরুরি। বাংলাদেশের জন্য বন্যা একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও অভিশাপ। আশীর্বাদ এ জন্য যে এতে দেশের জলদেহ নতুন পানিতে নবায়িত হয়। এটা কৃষি ও পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। দ্বিতীয়ত, বন্যার পলি ও নতুন পানি মাটি ও পানির দূষণ কমায়। কিন্তু দরিদ্রদের পক্ষে বন্যার সময়টায় জীবনধারণ অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছে  এ জন্য বরাবরের মতো বাঁধ, উঁচু সড়ক এবং বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দিতে হবে। শুকনা খাদ্য, খাওয়ার স্যালাইন এবং ডায়রিয়া ও জ্বরজারির ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। গৃহপালিত পশুপাখিগুলোর সুরক্ষার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
পানি নেমে যাওয়ার পরে কৃষি, অর্থনৈতিক কাজকারবার, যোগাযোগ, পড়ালেখা পূর্ণোদ্যমে চালু করার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বন্যার পরে যাতে ডায়রিয়া বা পানিবাহিত রোগ ছড়াতে না পারে, তার দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের। প্রতিবছর বাঁধগুলো কেন ভাঙে, তারও সুরাহা হওয়া চাই। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজে দুর্নীতি খুবই পরিচিত ব্যাপার হলেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জবাবদিহিহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে বাস্তবতা হচ্ছে, ত্রাণের সামগ্রী বারোভূতে খেয়ে ফেলে। সরকারযন্ত্রের গাফিলতিও সুবিদিত। এ কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই বন্যা মোকাবিলার সার্বিক কার্যক্রমের তদারকি হওয়া চাই।

সংরক্ষিত বন ঘোষণার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনের একটা বড় অংশকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করায় ওই প্রাকৃতিক বনের অধিবাসীদের মনে উচ্ছেদ–আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বন বিভাগ মধুপুর বনের অরণখোলা মৌজার ৯১৪৫ দশমিক ৭ একর জমি সংরক্ষিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৯২৭ সালের বন আইনের ৩ থেকে ২০ ধারায় কোনো বন সংরক্ষিত ঘোষণা করতে হলে তার কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান আছে। প্রথমে ফরেস্ট সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা নোটিশ জারি করবেন। তারপর সেখানে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলোর মানুষের মতামত শুনতে হবে, তাঁদের আপত্তি থাকলে, তার নিষ্পত্তি করতে হবে। সবশেষে স্থানীয় ভাষায় মাইকিং করে বা ঢেরা পিটিয়ে জানাতে হবে যে সরকার বনের কিছু অংশকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু মধুপুরের শালবন এলাকায় এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ফলে সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে এই খবর পৌঁছেছে আকস্মিক এক বিপদ হিসেবে। বনের সংরক্ষিত ঘোষণা করা অংশটিতে প্রায় ছয় হাজার গারো নৃগোষ্ঠীর মানুষের বাস, আরও আছে কোচ নৃগোষ্ঠী এবং কিছু বাঙালি পরিবার। বাড়িঘর, আবাদি জমি মিলিয়ে ২ হাজার ৭৫ একর জমি গারো ও কোচরা ভোগ করছেন বহুদিন ধরে। এখন তাঁরা কোথায় যাবেন? কী হবে তাঁদের বাসস্থানের, জমি হারানোর পর তাঁদের জীবিকার উৎস হবে কী? সাধারণত প্রাকৃতিক বনকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় তাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে। সংরক্ষিত ঘোষিত বনে আইনত জনবসতি থাকতে পারে না। কিন্তু মধুপুরের শালবনে গারো নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বাস করছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। তাঁরা ওই বনেরই অংশ। এখন সেখান থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। ওই প্রাকৃতিক বনটি টিকে থাকুক, এটা আমরা যেমন চাই, তার চেয়ে বেশি চান তাঁরাই। তাই সংরক্ষিত বন ঘোষণার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।