Friday, May 20, 2011

বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রোর লেনদেন শুরু আজ

দেশের পুঁজিবাজারে আজ বৃহস্পতিবার বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিক লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন শুরু হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি অনুমোদন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা ঘেছে, বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিক পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে মোট ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকসের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। আইপিও-প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়ায় ৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল এক টাকা ৭৬ পয়সা।
গতকাল বুধবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, ডিএসইর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকসের শেয়ার ‘এন’ শ্রেণীতে লেনদেন শুরু হবে। এর ট্রেডিং কোড হবে ‘BEDL’।

সার্ক বাণিজ্যে বড় বাধা পারস্পরিক আস্থাহীনতা

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে শুল্ক ও অশুল্ক বাধার চেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হলো পারস্পরিক আস্থাহীনতা।
ঢাকায় গতকাল বুধবার ‘দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও বাণিজ্য পরিবেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এ মন্তব্য করেন। সার্ক চেম্বার এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে সেমিনারটির আয়োজন করে।
সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী অভিমত দেন, সার্কভুক্ত কোনো দেশেরই প্রবলভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই। কারণ প্রত্যেকটি দেশই বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাজনীতিবিদের উদাসীনতায় এ অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।
সার্ক চেম্বারের সভাপতি আনিসুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ, সার্ক চেম্বারের সাবেক সভাপতি তারিক সাঈদ ও বর্তমান সহসভাপতি আবুল কাশেম প্রমুখ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্ক অঞ্চলের উন্নয়নে অভিন্ন নীতি গ্রহণ করতে হবে। শুল্ক ও ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অধিভুক্ত দেশগুলোর মতো সুবিধা পেলে এ অঞ্চলও এগিয়ে যেতে পারত বলে তিনি মনে করেন।
আগামী ১৫ জুন মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভিসা ও শুল্ক সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন বলে জানান।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ অভিমত দেন, বর্তমানে সার্ক অঞ্চলের ধীর প্রবৃদ্ধির জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধাই দায়ী। এ অঞ্চলের সংযোগ, অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ধীরে হচ্ছে।
এ কে আজাদ অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে লাখ লাখ ব্যবসায়ী রয়েছে। অথচ বছরে মাত্র ১০০ জন ব্যবসায়ীকে সার্ক ভিসা দেওয়া হয়। তিনি তা ৫০০টিতে উন্নীত করার দাবি জানান। তিনি একটি সার্ক বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেন।
সার্ক চেম্বারের সভাপতি আনিসুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নের অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারের মধ্যে ভালো যোগাযোগ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ‘সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন’ বা দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা ও পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, আঞ্চলিক ট্রানজিট ও যোগাযোগ বাস্তবায়ন, কাস্টমস-প্রক্রিয়া সহজকরণের তাগিদ দেন তিনি।
সার্ক চেম্বারের সাবেক সভাপতি তারিক সাঈদ বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তযোগাযোগ কম। একের ওপর অপরের আস্থাও কম। এ জন্য তিনি রাজনীতিবিদদের দায়ী করে বলেন, একমাত্র সার্ক সম্মেলন ছাড়া এ বিষয়ে কোথাও কথা হয় না।
এ ছাড়া সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় রয়েছে বিশাল এক বাজার। বিশ্বের মোট সম্পদের ১০ শতাংশ আছে এ অঞ্চলে। এ সম্পদ ব্যবহার করে পারস্পরিক উন্নতির বিরাট সুযোগও রয়েছে।
বক্তারা অভিমত দেন, এই সুযোগ ও বিরাট সম্ভাবনা ব্যবহারের জন্য ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ নেই এ অঞ্চলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে।
বক্তাদের মতে, রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা না থাকার কারণেই সার্ক প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও আটটি দেশের মোট বাণিজ্যের মাত্র পাঁচ শতাংশ হয় নিজেদের মধ্যে, যা ২৫ শতাংশ হওয়া উচিত। আঞ্চলিক সহযোগিতার অভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলো। বিশ্বের অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবদান মাত্র দুই শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বৈত কর থেকে অব্যাহতি চায়

দ্বৈত কর পরিহার করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে আয়করমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ)। আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ সুপারিশটি বাস্তবায়নের দাবি করেছে তারা।
সমিতির চেয়ারম্যান ও লংকাবাংলা ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজউদ্দিন সরকার এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয় মূল কোম্পানিগুলোর আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তার পরও অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও মূল কোম্পানিগুলোকে আলাদাভাবে আয়কর পরিশোধ করতে হয়।
বিএলএফসিএ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর হার কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। বর্তমান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মফিজ সরকার বলেন, যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করে, তখন আবার ওই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ওপরও সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য হয়। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ফলে মূল কোম্পানির আয়কর সাড়ে ৪২ শতাংশ হলেও, বাস্তবে তা ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকে।
এই কারণেই অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান করতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে জানান বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশের স্বার্থে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয়কে করমুক্ত রাখা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ নিয়ম চালু রয়েছে।
বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রচলিত আইন ঠিক রেখে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার নীতিমালা শিথিল করা প্রয়োজন। বর্তমান নীতিমালায় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মূলধনের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে শতভাগ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ঋণ প্রদানের অনুমতি দেয়নি।
বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভসহ মোট মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি নয়। তাই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক যে পরিমাণ ঋণ পাবে, তা দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চালানো সম্ভব নয়।
মফিজউদ্দিন বলেন, এসইসির নীতিমালা অনুযায়ী কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে। আর তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ছাড় দেওয়া উচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঋণের সুদের সর্বোচ্চসীমা ১৩ শতাংশ তুলে দিয়েছে। এতে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে লিজিং ব্যবসা পরিচালনা করে। এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় প্রায় ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই হারে ঋণের সুদের হার বাড়াতে হচ্ছে। আবার তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুসারে সুদের হার বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
বিএলএফসিএ চেয়ারম্যান তারল্য সংকট কাটাতে বন্ড বাজার উন্নয়নের ওপর জোর দেন। এ জন্য বন্ড বাজার উন্নয়নে বিনিয়োগের ওপর আয়কে করমুক্ত ঘোষণার প্রস্তাব করেন।
মফিজ সরকার আরও জানান, পুঁজিবাজারে ধস নামার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রচুর টাকা আটকে রয়েছে। আবার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর সংকটে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা অনেক সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

শেয়ারবাজারে তিন দিন পর আবারও সূচক পতন

পতন দিয়ে শুরু আবার পতন দিয়েই শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গতকাল বুধবারের লেনদেন। মাঝখানে দু-একবার সূচক বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি। এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের পুরোটা সময় শেয়ারের সাধারণ মূল্যসূচকের ব্যাপক ওঠানামা ঘটেছে। এই ওঠানামার মধ্যে দিনশেষে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৬১ পয়েন্ট। টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গতকাল ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে। গতকাল ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যেকার ব্যবধান ছিল ৭৩ পয়েন্ট।
ঢাকার বাজারে গতকাল ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৫৩টির দাম কমেছে, বেড়েছে ৮৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১০টির দাম।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গতকাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে (প্রফিট টেকিং) নেওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি, যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারের দামের ওপর। এটি বাজারের স্বাভাবিক আচরণ বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
ডিএসইতে গতকাল ৪৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া ১৮৬টি কোম্পানির মধ্যে ১২৪টির দাম কমেছে, বেড়েছে ৫৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল আটটির দাম। শেয়ারের দামের সঙ্গে সিএসইতে লেনদেন ও সূচক কমেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪২ পয়েন্ট। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটির টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ২৫ কোটি টাকা কম।
এমআই সিমেন্ট: এদিকে এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির বিষয়ে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল এসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় এসইসির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সংস্থাটির জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই আগামী রোববার থেকে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ডিএসই এর আগে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির বিষয়ে এসইসির দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করে। তবে এসইসির নির্দেশনার পর সিএসইতে কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টসের (এমজেএল) তালিকাভুক্তির মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে এসইসি।
এর আগে সকালে সিএসইর একটি প্রতিনিধিদল এসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সিএসইর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমদ। এ সময় সিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল মারুফ খান, সহসভাপতি তারেক কামাল, পরিচালক এ এস এম শহীদুল্লাহ, এ কে এম মহিউদ্দিন ও মফিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে

দেশের পুঁজিবাজারে আজ নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ সূচক ও লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলে। বেলা ১১টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৭ পয়েন্ট কমে যায়। তবে ১৫ মিনিটের মাথায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে সূচক আবার নিম্নমুখী হয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে। এরপর কয়েকবার ওঠানামা করলেও দিন শেষে সূচক ৪২.৫৪ পয়েন্ট কমে ৫৭১৮.০৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ ৪২৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ২৯ কোটি টাকা কম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ হাতবদল হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১০০টির, কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ১০৩.২৮ পয়েন্ট কমে ১৫৯৩৮.৮৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৬২টির, কমেছে ১২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে এক কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বে লিজিং, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, বারাকাতুল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকস, বিএসআরএম স্টিল, ডিএলএফএসএল, ডিবিএইচ, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, বেক্সটেক্স ও ইউনাইটেড এয়ার।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বারাকাতুল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকসের শেয়ারের দাম। আজই ডিএসইতে প্রথম প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। এ ছাড়া গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, নর্দার্ন ইনস্যুরেন্স, সিএমসি কামাল, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, মুন্নু স্টাফলার ও ডিবিএইচ দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে বে লিজিংয়ের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ইনটেক অনলাইন, সমতা লেদার, ফেডারেল ইনস্যুরেন্স, রেকিট বেনকিজার, অ্যাপেক্স স্পিনিং, সমরিতা হাসপাতাল, জিল বাংলা, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও শ্যামপুর সুগার দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিচয়পত্রের প্রস্তাব

পুঁজিবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিনিয়োগকারীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের কাছে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় এসইসির পক্ষ থেকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রস্তাব করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, শেয়ারবাজারে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এসইসি পর্যন্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হবে। এসইসি ও ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় এসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। এ সময় তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান শিকদার, আইজিপি, ডিবি, র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

নদী ভরাট খাল ভরাট

খাল, নদী, জলাশয়, নিচু ভূমি ইত্যাদি যে প্রতিবেশের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ—এ দেশে এই উপলব্ধির অভাব প্রকট। শুধু যে ব্যক্তিমালিকানার স্থাপনা নির্মাণের জন্য এসব ভরাট করা হয়, তা সব সময় সত্য নয়। অনেক সময় সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও এমন অদূরদর্শী ও বেআইনি কাজ করে থাকে। এর একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরের রাজখালী খালের একাংশ ভরাট করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করছে।
সড়ক নির্মাণের জন্য খালটির কিছু অংশ ইতিমধ্যেই ভরাট করা হয়েছে, এখন চলছে আরও বেশ কিছু অংশ ভরাটের কাজ। বস্তুত, পুরো সড়কটিরই নির্মাণকাজ চলছে রাজখালী খালটি গ্রাস করে। এ কাজ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যে জলাশয় সংরক্ষণ আইন ভঙ্গ করছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি শুধু আইন ভঙ্গের নয়, চলাচলের জন্য সড়ক যেমন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, তেমনি খালও নগরের পানিনিষ্কাশনের জন্য অত্যাবশ্যক, সেই অর্থে খালও একটি প্রাকৃতিক অবকাঠামো। চট্টগ্রাম নগরে প্রায়ই যে জলাবদ্ধতা ঘটে, তার অন্যতম কারণ পানিনিষ্কাশন-ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা ও অকার্যকারিতা। পৃথিবীর অনেক দেশের জনবহুল নগরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল ও নদী সংরক্ষণ করা, নাব্যতা নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা করতে দূষণ রোধ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে করা হয় ঠিক উল্টো কাজ। ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট নির্মাণকে আমরা বলি উন্নয়ন; কিন্তু এভাবে নগর উন্নয়ন করতে গিয়ে যদি বিদ্যমান খাল-নদী ভরাট করা হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন যে অন্য দিক থেকে কঠিন সমস্যা ডেকে আনে, সেদিকে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা বিশেষ লক্ষ রাখেন না। রাজখালী খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করায় চট্টগ্রাম নগরের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা সিটি করপোরেশন কীভাবে পূরণ করবে? আর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তিনটি ভবনের অবৈধ বর্ধিতাংশ বাঁচাতে খালটিকে হত্যা করার যে অপতৎপরতা সিটি করপোরেশন চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এদিকে রাজধানীর চারপাশের নদী ও শাখানদীগুলো অব্যাহতভাবে বেদখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে, হাইকোর্টের নির্দেশও এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ অভিযান চালিয়ে নদীতীরের বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নতুন করে গড়ে উঠেছে আরও। এ মুহূর্তে ধলেশ্বরী নদীর শাখানদীর তীরে চলছে ইটভাটা নির্মাণের কাজ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রথমে নদীতীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে নদীতীর প্রশস্ত হয়, নদী হয়ে আসে সংকুচিত। এবং বিস্ময়ের কথা, এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড চলে দিনদুপুরে, দিনের পর দিন—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর চোখের সামনেই। কিন্তু এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হোক।

দুর্নীতি, ভূমি ও মাওবাদী আন্দোলন by সোহরাব হাসান

এই মুহূর্তে ভারতের সামনে তিনটি প্রধান সমস্যা হলো—দুর্নীতি, ভূমি ও মাওবাদী আন্দোলন। আপাতদৃষ্টিতে তিনটি পৃথক সমস্যা হলেও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। দুর্নীতি বৈষম্য বাড়ায় আর সেই বৈষম্যের বঞ্চনা নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করে। উন্নয়নের নামে গরিবের ভূমি জবরদখল হয়ে যায়।
দিল্লির রাজদরবারে এখন রাজনৈতিক দুর্নীতির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশের সঙ্গে পার্থক্য হলো, এখানে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের কেউ দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন না। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। ভারতে দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধরা হচ্ছে, দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেল খাটছেন, ক্ষমতাসীন দলের সাংসদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ হারাতে হচ্ছে। দুর্নীতি নিয়ে লোকসভায় বিতর্ক হচ্ছে, বিরোধী দল বেশ কিছুদিনের জন্য সংসদ অচল করে রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও অকপটে ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন। দুর্নীতির কথা স্বীকার করলেই এর বিরুদ্ধে লড়াই করার তাগিদ অনুভূত হয়।
ভারতে দুর্নীতির চালচিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক আমলা এবং দেশটির তিন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে মন্ত্রিপরিষদ-সচিবের দায়িত্ব পালনকারী টি এস আর সুব্রামনিয়াম বলেছেন, ‘দুর্নীতির রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা প্রশাসনে শিকড় গেড়েছে। তিন দশক আগে নিম্নপর্যায়ে ছোটখাটো দুর্নীতি ছিল। এখন তা সহজেই উচ্চপর্যায়ে চোখে পড়বে। একইভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জানে কীভাবে চুক্তি ভাগিয়ে নিতে হয়।’
কথাগুলো বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি সত্য।
ভারতে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে যে মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি হয়, তার প্রমাণ কমনওয়েলথ ভিলেজ নির্মাণ, টেলিকম খাত কিংবা মহারাষ্ট্রের আবাসন প্রকল্প। তবে দিল্লির একজন প্রবীণ কূটনীতিক এ লেখককে বলেছেন, ‘ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি এবং উন্নয়নের অনিবার্য উপসর্গ হয়ে আসে দুর্নীতি। প্রশ্ন হলো এর মাত্রা নিয়ে। যদি সহনীয় মাত্রায় থাকে, এ নিয়ে হইচই হয় না। কিন্তু যখন প্রকল্পের পুরো টাকাই হজম করার চেষ্টা হয়, তখনই গোলমাল দেখা দেয়।’
প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বা এনডিএ জোট এখন দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হলেও তাদের আমলে দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছে—জানালেন আরেক কূটনীতিক। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন বিশ্বাসযোগ্যতা পায় না। এখনো যেসব রাজ্যে বিজেপি সরকার আছে, সেসব রাজ্যে দুর্নীতি বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি গান্ধীবাদী নেতা ও সমাজসেবক আন্না হাজারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার দাবি মেনে নেওয়ায় তিনি অনশন ভঙ্গ করেছেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতি বন্ধে স্বাধীন ন্যায়পাল গঠন করতে হবে, যার কাছে সবাই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

২.
দিল্লিতে এখন কারা ক্ষমতায় আছে, তা দলীয় অফিসে লোকসমাগম এবং গাড়ির সংখ্যা দেখে আন্দাজ করা কঠিন নয়। আকবর রোডে কংগ্রেস অফিস। ১০ মে বিকেল চারটায় পৌঁছে দেখি, ফুটপাতে অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালজুড়ে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর ছবি। পাশে হকার বিক্রি করছেন দলীয় ঘোষণাপত্র, প্রতীক ও নেতা-নেত্রীদের ছবি। আগেই কথা হয়েছিল দলের অন্যতম মুখপাত্র মনীষ তেওয়ারির সঙ্গে। অভ্যর্থনাকক্ষে তাঁর নাম বললাম। এরপর দর্শনার্থী বইতে নাম-ঠিকানা লিখে মনীষ তেওয়ারির কক্ষে গিয়ে জানলাম, তিনি কিছুক্ষণ আগে বেরিয়ে গেছেন। তাঁকে টেলিফোন করতেই পরদিন আসতে বললেন। পরদিন অবশ্য ঝুঁকি না নিয়ে দৈনিক মিরর টুডের সাংবাদিক কে বেনেডিক্টকে সঙ্গে নিলাম। কংগ্রেসের বিট করেন বলে নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে। চারটায় দলের সংবাদ সম্মেলন।
সেদিন দলের আরেক মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সদস্য জয়ন্তী নটরাজন সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন বিজেপির নেতা মুরালি মনোহর যোশীর একটি বিবৃতি নিয়ে। তিনি সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি। কমনওয়েলথ ভিলেজের দুর্নীতি নিয়ে গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিলেও তা ১১-১০ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। যোশীর অভিযোগ, মন্ত্রী ও কংগ্রেসের ক্ষমতাধর নেতারা সদস্যদের প্রভাবিত করেছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র যোশীর বিবৃতির নিন্দা করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামত অগ্রাহ্য করে তিনি মনগড়া কোনো বিবৃতি দিতে পারেন না। এটি সংসদীয় রীতির বরখেলাপ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে আমরা দলের অন্যতম সম্পাদক টম ভেডাক্কানের কক্ষে গেলাম। কথা হলো দিল্লির রাজনীতি নিয়ে। তিনি মনে করেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দলের অবস্থান শক্ত। ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি বা এনডিএ জোটের যে বিপর্যয় ঘটে, এখনো তারা তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
আগের দিন বিজেপির মুখপাত্র নির্মলা সীতারাম অবশ্য এই অভিযোগ স্বীকার করলেন না। তাঁর মতে, ‘গত দুই বছরে দল অনেক গুছিয়ে নিয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ় হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্বলতাগুলো আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। একসময় যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা আবার ফিরে আসছেন—যশবন্ত সিং, উমা ভারতী প্রমুখ।’ কিন্তু বিজেপির যে দুর্বলতার কথাটি নির্মলা বলেননি তা হলো, তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানতে না পারা।
৯ মে লোদি স্ট্রিটে সিডিএনএসের কার্যালয়ে কথা হয় বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার মুচকুন্দ দুবের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতের প্রধান সমস্যা মাওবাদী বা নকশাল আন্দোলন। সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতের বেলা দেশের এক-তৃতীয়াংশ নকশালদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে সমস্যাটি রাজনৈতিক। যেসব কারণে এসব এলাকার মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে, সেসব কারণ দূর করতে না পারলে কেবল অস্ত্র দিয়ে মাওবাদীদের দমন করা যাবে না। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে দেখছেন আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে।’ ভারতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তার সুবিধা গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ পাচ্ছে না। সরকার কৃষির প্রতি নজর না দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কেবল শিল্পকারখানা গড়ে তুলছে। ফলে কৃষিজমির ওপর আগ্রাসন বাড়ছে। ব্যাংকঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে, খাদ্যের জোগান না দিতে পেরে কৃষক আত্মহত্যা করছেন। এটি সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়।
দিল্লিতে ভারতীয় মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি সিপিএমের অফিসটি বেশ সাজানো-গোছানো। কথা হলো সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নীলোৎপল বসুর সঙ্গে। ইউপিএ সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, তারা প্রায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। সিপিএম যখন কংগ্রেসের সঙ্গে ছিল, দুর্নীতি এতটা বাড়তে পারেনি। ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে বামদের সমর্থন প্রত্যাহার কি সঠিক হয়েছে? তিনি বললেন, ‘সরকার সবকিছু করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে। আমরা তো যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশমতো চলতে পারি না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। অন্তত বামদের স্বার্থেই ইউপিএ সরকারের সঙ্গে থাকা উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর এখন বামদের অস্তিত্ব রক্ষাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

৩.
আমরা যখন দিল্লিতে, তখনই বাবরি মসজিদ ও রামমন্দির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষিত হয়। আলতাফ আলম ও আর এম লোথার বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় স্থগিত ঘোষণা করেন। তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেন, হাইকোর্টের কাছে কোনো পক্ষ ভূমির মালিকানা দাবি না করলেও তাঁরা কী করে তিন পক্ষকে ভাগ করে দিলেন? একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সেখানে স্থিতাবস্থা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপিসহ হিন্দুবাদী দলগুলো রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। কংগ্রেস ও সিপিআইএম কোনো মন্তব্য করেনি। হাইকোর্টের রায় রাজনৈতিক হলেও বিবদমান তিন পক্ষই তাতে সন্তুষ্ট ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ভূমি পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্টকে ডুবিয়েছে। মায়াবতী উত্তর প্রদেশে উন্নয়নের নামে একই কাজ করেছেন। নডায় শিল্পায়নের নামে কয়েকটি গ্রাম অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকেরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের দাবি, ভূমির ন্যায্য দাম ও উন্নয়নের হিস্যা দিতে হবে। সেই আন্দোলনে বিরোধী দল অংশ নিলে পুলিশ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে। সংঘর্ষে দুই পুলিশ ও একজন কৃষক মারা যান। এর পরদিন রাহুল গান্ধী এক দলীয় কর্মীর মোটরসাইকেলে চড়ে ১৪৪ ধারা ভেঙে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। পরে উত্তর রাজ্য পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখে। রাহুল গান্ধী ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য।
বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আগুন জ্বলে যেত। উত্তর প্রদেশ সরকার বরখাস্ত হতো এবং মুখ্যমন্ত্রীকে জেল খাটতে হতো। কংগ্রেস রাহুলের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করলেও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বিরুদ্ধে কিছু বলেনি; বরং মায়াবতী কংগ্রেসের এ তৎপরতাকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে প্রচার চালাচ্ছেন।
রাহুল গান্ধীর গণমুখী রাজনীতির এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের আমন্ত্রণে যখন ঢাকায় এসেছিলেন, তখনো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাদের সঙ্গে খেয়েছেন। বনেদি পরিবারের সন্তান রাহুল জনগণের কাতারে চলে এলেও আমাদের দেশে প্রথম প্রজন্মে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা রাজনীতিকেরা সব সময় স্যুটেট-বুটেট থাকতে পছন্দ করেন। একজন সাবেক স্পিকারকে দেখলাম, মে মাসের প্রচণ্ড গরমে বিমানবন্দরে ঠা-ঠা রোদে দলীয় নেত্রীকে বিদায় জানাচ্ছেন থ্রিপিস ও টাই পরে। এটাই হলো ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিকদের পার্থক্য।

৪.
ভারতের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী দল কংগ্রেস একক কারও নেতৃত্বে পরিচালিত হয় না। সরকার ও দলে আছেন তিন সুপ্রিমো। সরকার চালান ড. মনমোহন সিং। দল ও ইউপিএ জোটের নেতৃত্ব দেন সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু ভেতরে ও বাইরের রাজনীতিটা সামাল দেন প্রণব মুখার্জি। দিল্লির দরবারে তিনি ক্রাইসিস ম্যানেজার বা সংকট মোচনকারী হিসেবে পরিচিত। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র হয়ে এখন তিনি ১২০ কোটি মানুষের দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তাঁকে বিকল্প প্রধানমন্ত্রী ভাবা হয়। মনমোহন সিং প্রশাসনের বাইরে কিছু দেখেন না। তাঁর আনুগত্য সোনিয়া গান্ধীর প্রতি, যিনি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। বাঙালি নেতা জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি সিপিআইএমের গোঁয়ার্তুমির জন্য। আর প্রণব মুখার্জির ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিকা ছিঁড়ছে না—সম্ভবত দলীয় সভানেত্রীর আস্থার অভাবে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

সাবেক সেনাপ্রধান বিজিমুঙ্গুর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

গণহত্যার দায়ে রুয়ান্ডার সাবেক সেনাপ্রধান অগাস্টিন বিজিমুঙ্গুকে ৩০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল এই কারাদণ্ডাদেশ দেন।
একই আদালত রুয়ান্ডার প্রধানমন্ত্রী আগাথে উইলিঙ্গিমানাকে হত্যার নির্দেশ এবং যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ২০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী আগাথেকে হত্যার সময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োজিত বেলজিয়ামের ১০ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী আগাথের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
আদালত রায়ে বলেন, ১৯৯৪ সালের ৬ এপ্রিল রাতে শুরু হওয়া ওই গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা সাবেক সেনাপ্রধান অগাস্টিন বিজিমুঙ্গুর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তখন তিনি সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন না। কিন্তু তাঁর কমান্ডের সেনারা পুরোপুরি তাঁরই অনুগত ছিলেন। আদালত আরও জানান, সেনাপ্রধান হওয়ার কয়েক দিন আগে অগাস্টিন বিজিমুঙ্গু রুয়ান্ডার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা মুকিঙ্গোতে একটি বক্তব্য দেন। এতে তিনি রুয়ান্ডার আদিবাসী তুতসিদের হত্যার আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে আট লাখ আদিবাসী তুতসি ও উদারপন্থী হুতু গণহত্যার শিকার হয়।

ব্যাটারি একবার চার্জ করলে গাড়ি যাবে ৩৩৩ কিলোমিটার

ব্যাটারি একবার চার্জ করলে তিন শতাধিক কিলোমিটার যেতে পারে গাড়ি। এমন বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কথা দাবি করেছে জাপানের বৈদ্যুতিক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসআইএম-ড্রাইভ। গতকাল বুধবার গাড়িটি প্রথম প্রদর্শিত হয়।
বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে বিশেষ সুনাম রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৩ সাল নাগাদ ওই গাড়িটি বাজারে ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। এ প্রকল্পে কত ব্যয় হবে, তা তারা জানায়নি।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ‘এসআইএম-এলইআই’ নামে চার আসনের এ গাড়ির প্রতিটি চাকার ভেতরে মোটর থাকবে। থাকবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোককাঠামো। একবার চার্জ করলে এটি ৩৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারবে।
গাড়িটির নকশাকারেরা জানান, মিতসুবিশি মোটরস ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান আইএইচআইসহ ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রকল্প এটি। ব্যাপক হারে নির্মাণের জন্য গাড়িটি অন্যান্য গাড়ির নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হবে। এ গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, পরিবেশদূষণের জন্য ধোঁয়া নির্গত হবে না।

মমতাকে নন্দীগ্রামে নির্বাচন করার আহ্বান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলে ছেড়ে দিতে হবে তাঁর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর পদ। একই সঙ্গে ছাড়তে হবে লোকসভার সদস্য পদও। আজ বৃহস্পতিবার তিনি এই দুটি পদে ইস্তফা দেবেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো একটি বিধানসভা আসন থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁর বিধায়ক পদ নিশ্চিত করতে হবে।
নন্দীগ্রামের বিধায়ক ফিরোজা বিবি মমতার কাছে আরজি জানিয়েছেন, তিনি যেন নন্দীগ্রামে এসে তাঁর আসনে উপনির্বাচন করেন। তিনি তাঁর আসনটি উৎসর্গ করতে চান মমতাকে।
মমতার এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে ছিল সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রামের আন্দোলন। ২০০৯ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত হন ফিরোজা বিবির ছেলে।

লাদেনের ওপর নজর রাখতে স্টেল্থ ড্রোন ব্যবহার করে সিআইএ

ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার কয়েক মাস আগে থেকেই পাকিস্তানের আকাশে স্টেল্থ ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। লাদেনের আস্তানার ওপর নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) মনুষ্যবিহীন এসব ড্রোনের ব্যবহার করে। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশে কয়েক ডজন স্টেল্থ ড্রোন পাঠানো হয়। ড্রোনগুলো আকাশের এত উঁচুতে অবস্থান করত যে সেগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করা পাকিস্তানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ড্রোনগুলো অ্যাবোটাবাদে লাদেনের ওই আস্তানার উচ্চক্ষমতার ভিডিওচিত্র পাঠায়।
সাবেক একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাপারটা এমন নয় যে মাথার ওপর ড্রোন ছাড়া হলো...পাকিস্তানিরা সেগুলোর অবস্থান জানতে পারল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অন্য সব উৎসের চেয়ে সিআইএ এ ধরনের ড্রোনের সহযোগিতায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে।
এই অভিযানে ড্রোন ছাড়াও কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে সিআইএ। অ্যাবোটাবাদে সুবিধাজনক জায়গা থেকেও লাদেনের ওই বাড়িটির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।
২ মে অ্যাবোটাবাদ শহরের ওই বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোরা অভিযান চালিয়ে লাদেনকে হত্যা করে। ধারণা করা হয়, লাদেন অন্তত পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে বাস করছিলেন।

আফগানিস্তানে বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, নিহত ১২

আফগানিস্তানে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দেশটির শান্তিপূর্ণ অঞ্চল বলে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাকহার প্রদেশের রাজধানী তালোকানে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে গুলি চালানো হয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ন্যাটোর হামলায় চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ওই বিক্ষোভ করছিল।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রায় দুই হাজার লোকের ওই বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারকে পরামর্শক দলের কার্যালয় ও জার্মান সেনাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে ও দোকানপাটে লোটপাট চালায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালালে ১২ জন নিহত হয়।
ন্যাটো জানায়, রাতে ওই শহরে হামলা চালিয়ে তারা দুজন সশস্ত্র নারীসহ চার বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিহতরা ছিল বেসামরিক ব্যক্তি।
কাবুলের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) একজন মুখপাত্র বলেন, ন্যাটোর ওই হামলার লক্ষ্য ছিল উজবেকিস্তানের ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএমইউ। সংগঠনটি বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মোবারককে ক্ষমা করার খবর নাকচ সামরিক কাউন্সিলের

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে ক্ষমা করে দেওয়া হতে পারে বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা নাকচ করেছে ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল। হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সামরিক কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
হোসনি মোবারক এখন শারম আল-শেখের একটি হাসপাতালে আটকাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে রাষ্ট্রের কাছে সম্পদ হস্তান্তরের পর গত মঙ্গলবার মোবারকের স্ত্রী সুজান মোবারককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে।
ফেসবুকে সামরিক কাউন্সিলের এক ঘোষণায় বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তাঁর পরিবারকে ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। জাতিকে বিভক্ত করার জন্যই এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

কানাডা থেকে লিবিয়ার পাঁচ কূটনীতিক বহিষ্কৃত

কানাডা সরকার গত মঙ্গলবার লিবিয়ার পাঁচজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। ওই কূটনীতিকেরা কানাডার রাজধানী অটোয়ায় লিবিয়ার দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচার-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।
কানাডার পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লিবিয়ার ওই কূটনীতিকদের কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক শিষ্টাচার-বহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

মায়াবতীর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা রাহুল গান্ধীর

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেন দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী। রাহুল জানান, উত্তর প্রদেশের প্রতিটি গ্রামে গিয়ে মায়াবতীর সরকারকে হটানোর জন্য তিনি লড়াই করবেন। গতকাল বুধবার বেনারসে দলের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাহুল গান্ধী।
রাহুল গান্ধী ভট্ট প্রসুল গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সহিংস আচরণে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কৃষকেরা আমাকে জানিয়েছেন তাঁরা জমি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাঁদের প্রশ্ন, কেন এ অত্যাচার করা হলো, কেন তাঁদের ঘরবাড়ি ধংস করা হলো?’
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘উত্তর প্রদেশের সরকার বলছে, ভট্ট প্রসুল গ্রামের সবকিছু ঠিকঠাক আছে। আমার প্রশ্ন হলো, সবকিছু ঠিক থাকলে সেখানে ১৪৪ ধারা কেন জারি করা হয়েছে? গ্রাম ছেড়ে লোকজন কেন পালিয়ে যাচ্ছে? সেখানে কেন বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না?’
মায়াবতীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রাহুল বলেন, ‘আমি উত্তর প্রদেশের প্রতিটি প্রান্তে যাব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’ তিনি বলেন, ‘এটি নির্বাচনী কোনো যুদ্ধ নয়।’
নয়াদিল্লি থেকে আগ্রা পর্যন্ত মহাসড়ক তৈরির জন্য উত্তর প্রদেশের বৃহত্তর নয়ডার ভট্ট প্রসুল গ্রামে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করে রাজ্য সরকার। স্থানীয় কৃষকেরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাঁদের ওপর গুলি চালায় ও নির্যাতন করে। কৃষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে ১০ মে সেখানে যান রাহুল। তিনি কৃষকদের সঙ্গে তাঁদের ‘ধরনায়’ (অবস্থান কর্মসূচি) অংশ নেন। ওই দিন রাতে রাজ্য পুলিশ রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পর রাহুল অভিযোগ করেন, ‘উত্তর প্রদেশের ভট্ট প্রসুল গ্রামের প্রতিটি মানুষ বিষয়টি জানে। আমরা এর ছবিও দেখাতে পারব। সেখানে নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে, গ্রামবাসীকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।’
রাহুলের এই বক্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল তাঁর দলের পক্ষ থেকে এ বিতর্ক বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাহুলের বক্তব্য প্রসঙ্গে কংগ্রেসের আরেক সাধারণ সম্পাদক জনার্দন দ্বিবেদী গতকাল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাহুলের বক্তব্য গণমাধ্যমে সঠিকভাবে উঠে আসেনি। তিনি ৭৪ জন কৃষক নিহত হওয়ার কথা কখনোই বলেননি। রাহুল বলেছেন, একটি জায়গায় তিনি ৭৪ ফুট ছাইয়ের স্তূপ দেখেছেন। সেখানে মানুষের হাড়ও দেখতে পেয়েছেন।’
জনার্দন বলেন, কৃষক হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের অভিযোগটি তদন্তের বিষয়। তদন্তের পর তা জানা যাবে। আর রাহুল গান্ধী ঘটনার সময় নয়ডায় ছিলেন না। নয়ডার স্থানীয় জনগণ তাঁকে এ বিষয়গুলো জানিয়েছে।
রাহুলের কার্যালয়ের উদ্যোগে ভট্ট প্রসুলে গ্রামবাসীর বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত মানুষের ছবি প্রকাশ করা হয়। তবে ছবিতে মরদেহের সংখ্যা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।
উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ক্ষমতাসীন মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

আসাম ও কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ

কংগ্রেসের নেতা তরুণ গগৈ (৭৬) গতকাল বুধবার ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আসামের রাজ ভবনের দরবার হলে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের রাজ্যপাল জে বি পট্টনায়েক।
একই দিন কেরালা রাজ্যের ২১তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা উমেন চান্দি। ওই রাজ্যের রাজ্যপাল আর এস গাভাই তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ই আহমেদ, মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্রন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্চ্যুতানন্দন, সিপিআই (এম) নেতা এম বিজয় কুমার, এম এ বাবি, টিম এম টমাস উপস্থিত ছিলেন।
গগৈর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় কৃষ্ণ হান্দিক, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা ও আসাম কংগ্রেসের সভাপতি ভুবনেশ্বর কালিতা উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন কংগ্রেসের নবনির্বাচিত ৭৭ জন বিধায়ক, পুলিশ, সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্ত্রী ডলি, ছেলে গৌরব ও মেয়ে চন্দ্রিমাকে নিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন গগৈ। এ সময় তিনি সাদা কুর্তা, পাজামা ও কোট পরেছিলেন।
শপথ গ্রহণ শেষে মন্ত্রীদের তালিকা আনতে দিল্লিতে যাবেন গগৈ। কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এই তালিকা অনুমোদন করেছেন।

আসাদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তাঁর সরকারের ছয়জন শীর্ষনেতা ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট আসাদকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে অথবা পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে গতকাল বুধবার ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের মূল লক্ষ্য দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং গণতন্ত্রে উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি। পাশাপাশি সিরিয়ার জনগণের মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
সিরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক আল সারা, প্রধানমন্ত্রী আদেল সাফার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহীম আল সার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলী হাবিব মাহমুদ, সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আবদুল ফাতাহ কুদসিয়া ও রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ দিব জাইতুনের বিরুদ্ধেও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট আসাদসহ ওই সাতজনের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সম্পত্তি থাকলে তা-ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। আদেশে বলা হয়, আসাদ তাঁর বৈধতা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। এখন হয় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে হবে, নয়তো পদত্যাগ করতে হবে।

কান স্পষ্টতই আইএমএফ চালানোর অবস্থানে নেই

নিউইয়র্কের কারাগারে আটক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান দমিনিক স্ত্রস কানের সামর্থ্যের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী টিমোথি গেইথনার বলেছেন, কান স্পষ্টতই আইএমএফ চালানোর মতো অবস্থানে নেই । তিনি বলেন, ‘তাঁর পেশাগত অবস্থান সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা আছে।’
যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার স্ত্রস কানের ব্যাপারে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর প্রকাশ্যে মন্তব্য এটাই প্রথম। তাঁর এই মন্তব্যে গতকাল বুধবার নতুন করে চাপের মুখে পড়েন কান। গেইথনার বলেন, আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডকে একজন অন্তর্বর্তী প্রধানের কথা ভাবতে হবে।
১৪ মে নিউইয়র্কের এক হোটেলে একজন নারী কর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কানকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত কানের জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাঁকে নিউইয়র্কেরই রাইকার্স দ্বীপের কারাগারে রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কানের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ হতে পারে।
কান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি যাতে আত্মহত্যা করতে না পারেন, এ জন্য তাঁকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর কারারক্ষীরা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
কানের পদত্যাগ দাবি করে অস্ট্রিয়ার অর্থমন্ত্রী মারিয়া ফেক্টার বলেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি চলে না গেলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে। স্পেনের অর্থমন্ত্রী এলিনা সালগাদোও একই আহ্বান জানান। নারীর অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ওয়াশিংটনভিত্তিক জেনডার অ্যাকশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কানের মামলার ফল যা-ই হোক না কেন, আইএমএফে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।
এদিকে ফ্রান্সে জনগণের একটি বড় অংশ কানের সমর্থনে সরব রয়েছে। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির একমাত্র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে কানকে। তাঁর সমর্থকেরা মনে করছেন, তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ মানুষ এটিকে ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন।
অভিযোগকারীর শঙ্কা: কানের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু যে নারী, তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। ওই নারীর আইনজীবী ও প্রতিবেশীরা এ কথা বলেছেন। তাঁর আইনজীবী জেফ শাপিরো বলেন, গোটা দুনিয়া তাঁর সামনে উল্টে গেছে। তিনি বলেন, ওই নারী এক কিশোরী মেয়ের মা এবং খেটে খাওয়া একজন কর্মী। ওই হোটেলে কাজ করে তিনি যা পান, তা দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। শনিবারের ঘটনার পর তিনি না পারছিলেন বাড়ি ফিরে যেতে, না পারছিলেন কাজে মন বসাতে। তাঁর ভবিষ্যৎ এখন কী, এ নিয়ে ভেবে তিনি কূল পাচ্ছেন না।

সিটিতেই থাকছেন তেভেজ

কার্লোস তেভেজের মন যেন শরতের আকাশ। এই ভালো, এই মন্দ। আনন্দ-হতাশার দোটানা বেচারাকে ছাড়ছেই না! এ কারণেই ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়বেন, নাকি থেকে যাবেন—এই সিদ্ধান্তও নিতে পারেন না। আজ ম্যান সিটি ছেড়ে যাবেন বলেন তো, আগামীকাল পাল্টে ফেলেন মত। গত সপ্তাহে সিটি ছাড়বেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কোচ রবার্তো মানচিনির কথা অনুযায়ী দিন তিনেকের মধ্যেই আবার মত পাল্টেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পরশু তেভেজের জোড়া গোলে ম্যান সিটি স্টোক সিটিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর মানচিনি বলেছেন, ‘তেভেজ এখানেই থাকছে।’
২০০৬ সালে ইংলিশ ফুটবলে নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। ওয়েস্টহাম থেকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছেন। এখন আছেন ম্যান সিটিতে। ক্লাব বদল করেছেন, কিন্তু এত দিনেও তেভেজের ‘রোগ’টা সারেনি।
তেভেজের এই রোগ আসলে তাঁর পরিবারের জন্য। নতুন ক্লাব ম্যান সিটিতে তিনি সুখেই আছেন। গত ডিসেম্বরে যখন সিটি ছাড়ার কথা বলেছিলেন, অনেকেই আবিষ্কার করেছিলেন তাঁর সঙ্গে কোচ রবার্তো মানচিনির শীতল সম্পর্ক। কিন্তু তেভেজ বলেছেন, কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা নেই। দুই মেয়েই টানে কার্লিটোসকে!
এই তো গত সপ্তাহে সিটি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে তেভেজ বলেছিলেন, ‘ক্লাবের কারও সঙ্গেই আমার সমস্যা নেই। (কোচ রবার্তো) মানচিনির সঙ্গেও আমার দারুণ সম্পর্ক। কিন্তু আমি থাকব কি থাকব না, সিদ্ধান্ত নিতে আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা দরকার। আমার পরিবার, আমার সন্তানেরা ম্যানচেস্টার থেকে অনেক দূরে থাকে। যদি চলে যাওয়ার বিষয়টি আসে, তাহলে সেটা হবে আমার পরিবার ও সন্তানদের জন্য। সিদ্ধান্তটি যতটা পেশাগত, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত।’ তেভেজ এটাও বলেছেন, ম্যান সিটিতেই থাকবেন, যদি পরিবারের বিষয়ে একটা সমাধানে আসতে পারেন।
পরশুর জয়ে ৩৭ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে গেছে সিটি। আগামী রোববার বোল্টনের সঙ্গে জিতলেই সরাসরি খেলবে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে। আর ২০ গোল নিয়ে বারবেতভের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষে আছেন তেভেজ। এসবই কি তেভেজের মন পাল্টে গেছে? হয়তো না। হয়তো পরিবার থেকে সিটিতে থেকে যাওয়ারই সুপারিশ এসেছে। কারণ পরিবার তো তাঁর কাছে সবার আগে!

জাতীয় মহিলা ফুটবল

জাফুরা (৪টি) ও মৌসুমীর হ্যাটট্রিকে জাতীয় মহিলা ফুটবলের আঞ্চলিক পর্বে কাল ঠাকুরগাঁও ৮-০ গোলে হারিয়েছে কুড়িগ্রামকে। কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে ম্যাচের অন্য গোলটি করেন মনসা রানী। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক টাঙ্গাইল ৩-০ গোলে হারিয়েছে গাজীপুরকে। গোল করেছেন নাজিয়া, শাহানা ও বন্যা। যশোর স্টেডিয়ামে নড়াইল ১-১ গোলে ড্র করেছে ফরিদপুরের সঙ্গে। নড়াইলের গোলটি কিমির, ফরিদপুরের তমার।

মেসির জন্য পার্ক-পাহারা

মেসিকে আটকানোর কোনো অস্ত্র কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আছে? ‘জি, হ্যাঁ।’ কে সে? ‘জি!’
লিওনেল মেসির সমান হয়তো ফুটবলীয় দক্ষতা নেই। নেই প্রতিপক্ষকে ধাঁধার মধ্যে ফেলে দেওয়া ড্রিবলিং, গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে হঠাৎই অপ্রত্যাশিত বাঁক নেওয়া, চার-পাঁচজনের জটলার ভেতর থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে বল বের করে আনার জাদু, বাঁ পায়ের শিল্পিত কারুকাজ; কিন্তু পার্ক জি সুংয়ের যা আছে, সেটি মেসি তো বটেই, আর কারোরই নেই। কী আছে পার্কের? তিনটা ফুসফুস!
হয়তো মজা করেই বলা। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিট সমানতালে যেভাবে দৌড়ান, আসলেই ধন্দে পড়ে যেতে হয়, ম্যানইউর দক্ষিণ কোরীয় মিডফিল্ডারের ফুসফুস কি একটা বেশি নাকি? ইউনাইটেড সতীর্থ প্যাট্রিস এভরাও যেমন বলছেন, ‘জি অবিশ্বাস্য। এই তো চেলসির বিপক্ষে গত ম্যাচটাতে ওর খেলা দেখতে দেখতে আমার হাসি পাচ্ছিল। ও যেভাবে দৌড়ায়, সত্যি অবিশ্বাস্য। আমার ধারণা, এর রহস্য লুকিয়ে আছে ওর কোরীয় খাবারে। ওর মতো দৌড়াব বলে আমিও মাঝেমধ্যে ওর বাসায় গিয়ে কোরীয় খাবার খেয়ে এসেছি!’
ঠাট্টা রেখে এর পরই ‘সিরিয়াস’ হয়ে গেলেন এই ফরাসি লেফট ব্যাক, ‘সিরিয়াসলিই বলছি, জি সবার জন্য একটা উদাহরণ। ও সবার হয়ে দৌড়ায়। কথাটা এ জন্য বলছি, যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখনো নিশ্চিন্ত থাকি এই ভেবে, আমার দৌড়টা জি-ই দৌড়ে দেবে। ও আমাদের দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। কারণ ও সব সময় ক্লান্তিহীনভাবে দৌড়াতে পারে। আমরা ফাইনালে যাওয়ার পর আমাদের সমর্থকদের কেউ কেউ বলল, “তোমরা তো জিততে চলেছ। কারণ জি সারাক্ষণ মেসির সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে দৌড়াবে।” আমি পরে ওর সঙ্গে ঠাট্টা করে বললাম, “দেখেছ, লোকে তো এখন তোমাকে ডিফেন্ডার ভাবছে!”
পার্ক রক্ষণে আছেন, নিজের আসল জায়গা মাঝমাঠেও। আছেন আক্রমণভাগেও। তাঁর এই অবিশ্রান্ত দৌড় এভরার মতো রিও ফার্ডিনান্ডের কাছেও বিস্ময়ের, ‘আমরা ড্রেসিংরুমে মাঝেমধ্যেই কৌতুক করে বলি, জি এত শক্তি পায় কোত্থেকে? আমরা সবাই জানতে চাই, ম্যাচের আগে ও কী খেয়ে আসে। নিশ্চয়ই আমাদের আর ওর খাদ্যতালিকা ভিন্ন। যে পরিমাণ দৌড় ও দৌড়ায়, ওর যা প্রাণশক্তি—সত্যিই কিংবদন্তিতুল্য। ওকে আমাদের দলে পাওয়াটা অনেক বড় পাওয়া। ও আসলেই সত্যিকারের নেপথ্য নায়ক।’
দক্ষিণ কোরিয়া দল থেকে মাস কয়েক আগে অবসর নেওয়া পার্কের আরেকটি বড় গুণ আছে। বড় ম্যাচগুলোয় গোল করতে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন নেপথ্য নায়ক থেকে মাঝেমধ্যেই প্রচারের আলোটা নিজের ওপর টেনে আনতে। ফার্ডিনান্ডরাও সেটি জানেন, ‘বড় ম্যাচগুলোয় ও প্রায়ই গোল করে। কোচ প্রায় সবগুলো বড় ম্যাচেই ওকে নামান, এবং সেও ঠিক ঠিক নিজের খেলাটা খেলে দেয়। হয়তো সেভাবে ও খবরের শিরোনামে আসে না। কিন্তু আমরা সতীর্থরা সব সময় ওর পিঠ চাপড়ে দিই।’
সতীর্থরা ২৮ মেও তাঁর পিঠ চাপড়ে দিতে প্রস্তুত। প্রথম এশীয় খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলা, শিরোপা জেতা পার্ক নিজে কি প্রস্তুত, এবার বড় করে শিরোনামে আসতে? ওয়েবসাইট।

ওয়ার্নের ৫০ হাজার ডলার জরিমানা

আইপিএলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ৭০৮টি টেস্ট উইকেটের মালিকের জীবন থেকেই ২২ গজের ক্রিকেট এখন বিগত অধ্যায়। কিন্তু মাঠের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি শেন ওয়ার্নের জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। এবারের আইপিএলে রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (আরসিএ) সচিব সঞ্জয় দীক্ষিতের সঙ্গে বাদানুবাদ ও বিতর্কের মাশুল হিসেবে ৫০ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন কিংবদন্তিকে।
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) আইপিএল ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের সামনে অভিযুক্ত শেন ওয়ার্ন ও অভিযোগকারী সঞ্জয় দীক্ষিতের শুনানি হয়েছিল আগের দিন। আইপিএল পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান চিরায়ু আমিন, সদস্য রবি শাস্ত্রী ও আইএমজি কর্মকর্তা জনকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিশন রায়টা জানিয়েছে কাল। ৫০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে ওয়ার্নকে এবং তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতে এ রকম আচরণ করলে আরও কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটা ঘটে গত ১১ মে তারিখে। আইপিএলে শেন ওয়ার্নের দল রাজস্থান রয়্যালস ৯ উইকেটে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হারের পরপরই। স্থানীয় দলের হারের জন্য সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামের পিচকে দায়ী করেন ওয়ার্ন। দায় চাপান দীক্ষিতের ওপর। ‘মিথ্যাবাদী, অহংকারী ও প্রতারক’ গালমন্দ করেন তাঁকে। রাজস্থান রয়্যালসের মালিক শিল্পা শেঠি এসে ওয়ার্নকে থামান এবং এই আচরণের জন্য দীক্ষিতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এরপরই রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বিসিসিআই ও আইপিএলের কাছে শেন ওয়ার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। জনসমক্ষে গালমন্দ করায় শেন ওয়ার্নের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ জানান দীক্ষিতও।

ক্রনিয়ের মরণোত্তর সংবর্ধনা

শেষ পরিণতি ছিল বড় করুণ। ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির দায়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন ক্রিকেট থেকে। এরপর ২০০২ সালে রহস্যজনক প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হন হানসি ক্রনিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই সাবেক অধিনায়ক পেতে চলেছেন মরণোত্তর সংবর্ধনা।
২০০০ সালে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্রনিয়েকে সমীহের চোখেই দেখা হতো। অবশ্য এই কেলেঙ্কারির পরও সাধারণ মানুষের অনেকের চোখে নায়কের আসন তাঁর অটুটই ছিল। ২০০৪ সালে সর্বকালের সেরা দক্ষিণ আফ্রিকানদের যে তালিকা করা হয়, সেখানেও ১১ নম্বরে ছিলেন ক্রনিয়ে। আর এখন, মৃত্যুর প্রায় এক দশক পর মরণোত্তর সংবর্ধনা পাচ্ছেন নির্বাসন-যুগ পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের অন্যতম নেতা।
৪ জুন এই সম্মাননা দেওয়া হবে প্রয়াত ক্রনিয়ের পরিবারকে। ‘সিয়াবাখুমবুলা ট্রিবিউট অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতিমন্ত্রী পল মাশাটাইল। গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকার পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, এমন অনেক প্রয়াত নাগরিককে দেওয়া হবে এই সম্মান।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের বড় ক্ষতের জন্ম দেওয়া ক্রনিয়েকে তার পরও কেন বেছে নেওয়া হলো—এ প্রসঙ্গে আয়োজকদের একজন জোয়াখে এমবুলি বলেছেন, ‘মানুষ প্রায়ই ভুলে যায় যা তাদের মনে রাখা উচিত, অথচ মনে রাখে, যা তাদের আসলে ভুলে যাওয়া উচিত।

রাজশাহী-ময়মনসিংহ ফাইনাল

জাতীয় লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। স্বপ্ন দেখতে পারে ৩১তম আন্তজেলা ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়েরও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কাল সিলেটকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা। আগামীকাল একই মাঠে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে ময়মনসিংহের মুখোমুখি হবে রাজশাহী।
সিলেটের ১৯৬ রানের জবাবটা ওপেনার মিজানুর রহমানের সেঞ্চুরিতেই দেওয়া হয়ে গেছে রাজশাহীর। ১১৩ বলে ১০৫ রান করে অপরাজিত মিজান। আসিফ নাঈমের (৫১) সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতেই মাত্র ২৪.৪ বলে ১৪০ রান করে ফেলে রাজশাহী। তবে মাত্র ১৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় বাকি ৫৭ রান তুলতে ব্যাটিং করতে হয়েছে আরও ১৭ ওভার। ইশারুলকে সঙ্গে নিয়ে এই সতর্ক ব্যাটিংয়েও নেতৃত্বটা ছিল মিজানের হাতেই। দল জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দুজন।
টসে জিতে আগে ব্যাট করাটা সুখকর হয়নি সিলেটের জন্য। ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় লজ্জার সামনেই পড়ে গিয়েছিল দলটা। ষষ্ঠ উইকেটে ইজাজ ও আইয়ুবের ৯৫ রানের জুটি সে লজ্জা থেকে বাঁচালেও সিলেটকে থেমে যেতে হয়েছে ১৯৬ রানেই। রাজশাহীর সানজামুল ইসলাম ৩৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট: ৪৯ ওভারে ১৯৬ (ইজাজ ৬৫, তৌফিক ৩৮, আইয়ুব ৩৬, মাবুদ ২১, আজাদ ১৪*; সানজামুল ৪/৩৩, কামরুল ২/৪১, শামসুল ১/২৫, রেজাউল ১/২৭, শাহরিয়ার ১/৩৮)। রাজশাহী: ৪১.২ ওভারে ১৯৭/৩ (মিজানুর ১০৫*, আসিফ ৫১, ইশারুল ২৪*; আইয়ুব ২/৪০, সাদিকুর ১/৩৫)। ফল: রাজশাহী ৭ উইকেটে জয়ী।

স্মৃতির দর্পণে জাদুঘর

বিশ্বের সব জাদুঘরে প্রদর্শিত নিদর্শনগুলো বিভিন্ন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তবে তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। ওই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সমাজ-জাতি ও গণমানুষের মনে অতীতের স্মৃতিময় ঐতিহ্যনির্ভর নিদর্শনগুলো দেখে মনে যে প্রশ্ন জেগে ওঠে, তার মূল্য আছে। এই নিদর্শনগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে অতীত চলে আসে কাছে, হূদয়ে ইতিহাসের জ্ঞানের বীজ বপন করা হয় এবং নিজ সমাজে একান্তে তথ্যানুসন্ধানকারীর জিজ্ঞাসু মনোভাবকে জাগিয়ে তোলে। জাদুঘরে যে দর্শকেরা আসেন, তাঁরা প্রদর্শিত নিদর্শনগুলো একান্তে পর্যবেক্ষণের মধ্যে সম্প্রদায় বা কমিউনিটি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পারেন। নিজেদের জ্ঞানের ভান্ডার ঋদ্ধ করার সুযোগ পেয়ে যান তাঁরা। জাদুঘরে সাধারণত নিদর্শন প্রদর্শন করার বেলায় কোনো জাতি-ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায় বিশেষ অগ্রাধিকার পায় না।
১৯৭৭ সাল থেকে ১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালন করা হয়ে থাকে। জাদুঘর কোনো দেশের নৃতাত্ত্বিক, জাতিতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ফোকলোরবিষয়ক উপাদান সংরক্ষণ গ্যালারি উপস্থাপন করে থাকে এবং সামাজিক পরিমণ্ডলে বিস্তারের অনুকূলে গবেষণা ও প্রকাশনা করে থাকে। এবারের জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য শিরোনাম ‘স্মৃতির দর্পণে জাদুঘর’ (Museum and Memory)।
মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন নিজেকে পরখ করার সুযোগ পায়, তেমনই জাদুঘরের গ্যালারিতে প্রদর্শিত নিদর্শনগুলোর কাছে গেলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষ্য অনুধাবন করতে পারে। জাদুঘরে দৃশ্যমান নিদর্শনের সঙ্গে বর্তমান সমাজব্যবস্থার সাযুজ্য আছে কি না, তার তুলনামূলক বিচার করতে পারে। এর পাশাপাশি নিজ জ্ঞান-ভান্ডারকে বাড়িয়ে নিতে পারে। জাদুঘরগুলোতে দৃশ্যমান ও স্পর্শনীয় ঐতিহ্য প্রদর্শন করা হয়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, যার প্রসারিত বিরাট এলাকা নিয়ে—এসব ঐতিহ্য আমাদের অতীত ইতিহাসের জীবন্ত স্বাক্ষর।
আধুনিক পশ্চিমা জগৎ অভ্যন্তরীণ জাদুঘর ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের মিলনের উন্মুক্ত জাদুঘর বা ওপেন এয়ার মিউজিয়াম স্থাপন করেছে। সেখানে দর্শকেরা জাদুঘরের ভেতরে ও বাইরে স্থাপিত নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করতে পারে। ভারতে মধ্য প্রদেশের ভূপালে সিমলা হিলে একটি ওপেন এয়ার মিউজিয়াম রয়েছে, যা পরিদর্শন করলে ভারতে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি, নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে পুরো ধারণা পাওয়া যায়। অবশ্য আমাদের দেশে সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরটি কিছুটা হলেও ওপেন এয়ার মিউজিয়ামের আবহ রক্ষা করছে।
ঐতিহ্যের পরিমণ্ডলে সমাজ-সংস্কৃতি, কৃষ্টি, চিন্তাচেতনা উৎসব-পার্বণ, আনন্দ-বিনোদন সমানুপাতে বিকশিত হয়। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির চলনে যদিও তারতম্য হয়, তার পরও ঐতিহ্যের সংস্পর্শে তা এই গতিময়তা বাড়া-কমায় অনুকূল ভূমিকা রাখে। নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে মানবজাতি স্পর্শনীয় দৃশ্যনীয় ঐতিহ্যকে উৎসবের মধ্যে লালন-পালন করে চিত্তে সুখ অনুভব করে। আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসে এমন নিদর্শন সংগ্রহ করার তাগিদ দিয়েছে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়।
বর্তমানে জাদুঘরগুলোতে কেউ কেউ স্পর্শনীয় ও দৃশ্যনীয় ঐতিহ্যনির্ভর নিদর্শনগুলো সংগ্রহ করে স্টোরের মজুদ বৃদ্ধিতে তৃপ্ততা অন্বেষণ করার পথ খোঁজেন, কিন্তু সমাজে বসবাসরত দর্শক ও অভ্যাগতদের জ্ঞানদানের উপযুক্ত গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রচার না থাকায় মজুদঘরেই অনাবিষ্কৃত থাকে জাতির অজ্ঞাত ইতিহাস। আর এভাবে বঞ্চিত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। বাংলাদেশে নবতর জাদুঘর স্থাপন, বিনির্মাণ, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হলেও ঐতিহ্যের সঙ্গে সেতুবন্ধ রচনা করার পথ রুদ্ধ করার পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঐতিহ্য পরিদর্শন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের জাদুঘরগুলোতে দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি, নিদর্শনবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি, পুরাকীর্তির গুরুত্ব অনুধাবন, পুরাকীর্তি অঙ্গনের আধুনিকায়ন, নিদর্শন সংগ্রহকরণে উৎসাহ-প্রণোদনা সৃষ্টি, উপযুক্ত গবেষণা প্রকাশনা এবং ব্যাপক প্রচার-প্রসার করার কাজে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে এবং এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে। জাদুঘর ও দর্শকদের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা নিদর্শন ও দর্শকদের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনে সচেতনতা জাগাতে হবে। প্রতিটি নিদর্শনের নিজ নিজ ইতিহাস ও ঐতিহ্য দর্শকদের মধ্যে অনুধারণ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
নিদর্শনগুলো অতীতের কথা বলে। জাতির গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস-স্মারক, সমাজের মূলযোগ ঐতিহ্য। জাতিতাত্ত্বিক উপাত্তের শিকড়, যা দেখলে নিজেদের জ্ঞানের পরিসীমা বৃদ্ধি পায়, এমন নিদর্শনের উপযুক্ত প্রকাশনা ও গবেষণা করে সুলভ মূল্যে বিপণন, বিতরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম

পাঠকের মন্তব্য

লিবিয়া: নতুন প্রজন্মের লড়াই by ইশতিয়াক আহমদ

লিবিয়া প্রসঙ্গে গত ২৭ এপ্রিল প্রথম আলোতে সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ ‘সভ্য দুনিয়ার কী কাজ’ শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন। তাঁর কিছু বক্তব্য সম্পর্কে একনাগাড়ে ১০ বছর লিবীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফার্মাসিস্টের দায়িত্বে থাকার সুবাদে পাঠক সাধারণের সুবিধার্থে কিছু বলা উচিত এবং দায়িত্ব বলে মনে করি।
জনাব ওয়াসিফ ‘মেন মেড গ্রেট রিভার’ সম্পর্কে অন্যের মুখে শোনা আজগুবি এক তথ্য দিয়েছেন তাঁর লেখায়—এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। গাদ্দাফি লিবিয়ার দক্ষিণের মরুভূমির (কুফরা) বালুর নিচ থেকে সুমিষ্ট পানি বিশাল সুড়ঙ্গপথে বেনগাজি শহরে আনার ব্যবস্থা করার এক দক্ষযজ্ঞ শুরু করেন আশির দশকে, যার নাম দেওয়া হয় ‘নাহার সিনাই আদিম’—অর্থ, ‘মেন মেড গ্রেট রিভার’—মানুষের তৈরি বিশাল নদী। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই পানির কিয়দংশ যখন লিবিয়ার বেনগাজির সুলুক শহরের বিশাল রিজার্ভারে পৌঁছায়, হিসাব করে দেখা গেছে, এক পেয়ালা পানির দাম পড়েছে তিন ডলার। এই জলাধার থেকে নদীবিহীন দেশ লিবিয়াকে সুজলা-সুফলা করার কষ্টকল্পনা গাদ্দাফি এরপর আর করেননি।
লেখক লিখেছেন, বাস্তবতা নাকি ভাড়াটে লোকের হাতে বিদেশিরা অস্ত্র তুলে দিয়ে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। গাদ্দাফির অভিযোগ আরও মজার, তিনি বলছেন, এসব আল-কায়েদার কাজ। আফ্রিকার সব আল-কায়েদা একজোট হয়ে বিদেশি অস্ত্র নিয়ে লিবিয়ায় ঢুকে পড়েছে। লিবিয়ার গাদ্দাফিমুক্ত এলাকায় (বেনগাজি, বেদা, আজদাবিয়া ইত্যাদি) আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, স্কাই টিভিসহ দুনিয়ার প্রায় সব বিখ্যাত নিউজ মিডিয়া গাদ্দাফির দাবি এবং জনাব ওয়াসিফের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কি? নিতান্ত নিরুপায় হয়ে শেষে বিদ্রোহীরা ন্যাটো কমান্ডের কাছে অস্ত্র চেয়েছে, যখন গাদ্দাফি জনগণ ও তাঁর রাজনৈতিক বিরুদ্ধবাদীদের আরশোলা, ইঁদুর বলে সম্বোধন করে এদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে পিষে মারার জন্য মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছেন। বিদ্রোহীরা তাদের সঙ্গে গ্রাউন্ডে এক কাতারে যুদ্ধ করতে এখনো ন্যাটো বাহিনীকে ডাকেনি। বেনগাজি লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এখানকার অস্ত্রভান্ডার বিদ্রোহী সেনা ও এই এলাকার জনগণ হাতে তুলে নিয়েছে গাদ্দাফির হার্মাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে। লিবিয়ার প্রত্যেক বয়োপ্রাপ্ত মানুষকে দুই বছর বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং এদের প্রত্যেকেই আধুনিক অস্ত্র চালাতে জানে।
লেখক তিউনিসিয়া ও মিসরের সঙ্গে লিবিয়ার জনগণের আন্দোলনকে তুলনা করে বলেছেন, এখানে (লিবিয়ায়) জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করছে না এবং লিবিয়ার বিদ্রোহীরা শুরু থেকেই নাকি অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। বিশাল আয়তনের লিবিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৬০ লাখ। আরব জাগরণের আগে নিরস্ত্র লিবিয়ান জনগণের বহু আন্দোলন গাদ্দাফি নিষ্ঠুর হাতে দমন করেছেন। তা ছাড়া মিসর বা তিউনিসিয়ার মতো বেন আলী বা মোবারক তাঁদের জনগণের ওপর অস্ত্র নিয়ে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েননি, যেভাবে পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর পড়েছিল। তখন আমাদেরও যেমন অস্ত্র তুলে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না, তেমনই লিবিয়ার জনগণেরও সে রকম আর কোনো উপায় ছিল না।
জনাব ওয়াসিফের মতো অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রায় সবকিছুতেই ইসরায়েলি জুজুকে খুঁজে পান, আরব নবজাগরণেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি (লেখক) লিখেছেন, পশ্চিমা দুনিয়া আরবের এই জাগরণ নাকি ধামাচাপা না দিলে ইসরায়েলি দুর্গে শেষমেশ তা আঘাত হানবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই জাগরণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আরব জাগরণ কায়েমি স্বার্থবাদী একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের বিদ্রোহ—এটা আরব সভ্যতার (সিভিলাইজেশনের) কোনো উত্থান নয়।’ অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, এই আন্দোলনে আরব শাসক চরিত্রের তেমন কোনো পরিবর্তন হওয়ার নয়, আরবের রাজনৈতিক, সামাজিক, গণতান্ত্রিক বা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হবে না। নেতানিয়াহুর এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ আরব নবজাগরণ কোন দিকে ধাবিত হবে, তা নির্ভর করবে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ওপর। জনাব ওয়াসিফ নিশ্চয়ই মানবেন, আজ সিরিয়ায় সেই ১৯৬৬ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসাদের মরহুম পিতা হাফেজ আল আসাদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় জারি করা জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে, অথচ ইসরায়েলে ১৯৬৬ সালের পর কতবার গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার রদবদল হয়েছে। চরম দুঃসময়েও তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়নি। অথচ ১৯৪৫ সালের পর আরব বিশ্বের কোনো দেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার রদবদল হয়েছে কি? এই প্রথম আরব বিশ্বে নবজাগরণ শুরু হয়েছে প্রাথমিকভাবে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে—একের পর এক আরব রাষ্ট্রে এই আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। গণজাগরণের শক্তি এত বিধ্বংসী যে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তা দাবিয়ে রাখতে পারে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
ইশতিয়াক আহমদ: সভাপতি, ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ।
sattuka@gmail.com

যখন তোমার পা-ই তোমার পাসপোর্ট by ফারুক ওয়াসিফ

সরকারের নড়াচড়ার আগেই মানুষ নড়াচড়া শুরু করেছে। বাংলাদেশের জলবায়ু-শরণার্থীদের পায়ে পায়ে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বের বৃহৎ ও দীর্ঘতম এক অভিবাসন। উপকূলীয় দুর্গতরা নিজ নিজ বসতি ছেড়ে কেউ উঠেছে বাঁধের ওপর, কেউ এসে পড়েছে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে, কেউ মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধে। খুলনা ও চট্টগ্রামেও তারা পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ পাড়ি দিচ্ছে সীমান্ত। যারা পারছে তারা মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষা ও স্থানীয়জনপ্রতিনিধিসূত্রে জানা যাচ্ছে, সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নের অর্ধেক মানুষই এলাকা ছেড়ে যে যেদিকে পারে চলে গেছে।
হাজার বছর ধরে আর্য-দ্রাবিড়, আরব-মুঘল-পাঠান ও ইংরেজকে আশ্রয় দিয়েছে বঙ্গ। আজ বঙ্গবাসীর অনেকেই মরিয়া হয়ে হাঁটা দিচ্ছে আর্যদের দেশে, আরবদের দেশে, ইউরোপীয়দের দেশের দিকে। নভোযান যেমন পৃথিবী ছাড়ার আগে কক্ষপথে কয়েক পাক ঘুরে দূরের গ্রহ-তারার দিকে ছুটে যায়, তারা তেমনি ঘোরা শুরু করেছে স্বদেশের পথে পথে। তাদের পায়ে পায়েই শুরু হয়ে গেছে পাল্টা এক বৈশ্বিক অভিবাসন। নতুন করে উঠছে পুরোনো সেই স্লোগান: তোমার পা-ই তোমার পাসপোর্ট, তোমার হাতই তোমার কর্মের অধিকার, তোমার অধিকারই তোমার ভিসা, তোমার সন্তানই নতুন মানবতা।
প্রাচীনকাল থেকে কয়েক শতক আগে পর্যন্ত বঙ্গীয় বদ্বীপ গ্রহণ করেছিল চারটি বড় অভিবাসনের স্রোত। বাংলা ছিল সভ্যতার ফ্রন্টিয়ার জোন বা সীমান্ত অঞ্চল—যার পরই সাগর ও অরণ্য। আরব বণিক ও ধর্মপ্রচারকেরা এসেছিল, এসেছিল ভাগ্যসন্ধানী তুর্কি সেনা ও সুফিরা, তারও আগে জয় করতে এসেছিল আর্যরা, সবার শেষে আসে ইংরেজ। ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও গঙ্গা পেরিয়ে এদিকে পা রাখে। গঙ্গা নদী পূর্বদিকে সরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববঙ্গে বসতি স্থাপন এবং কৃষির বিস্তারও বেগবান হয়।
এই অভিবাসী স্রোতধারার বড় অংশই এখানকার মাটি ও মানুষের মধ্যে মিশে যায়। কম জনবসতিপূর্ণ কিন্তু উর্বর বাংলার আকর্ষণ কেইবা এড়াতে পেরেছিল? সেকালে ‘অভিবাসী’ বা ‘শরণার্থী’ নামক ধারণার জন্ম না হলেও এই ভূখণ্ডের শিথিল ও উদার সমাজকাঠামো বহিরাগতদের গ্রহণে বাধা দেয়নি। মুসাফির বা অতিথির বিশেষ অধিকার সেই সমাজে ছিল। এর সুবাদে সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিরাট এক মিশ্রণ-মঞ্চ হতে পেরেছিল বাংলা। আজ আমেরিকা নিজেকে যে অর্থে ‘মেল্টিং পট’ বলে থাকে, তার থেকেও অনেক মানবিক ও সমৃদ্ধ ছিল বাংলার বহুজন জাতির মিশ্রণ-প্রক্রিয়া।
আজ প্রতিদান চাইছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে নিচের থেকে ওপরের দিকে, পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখে আরেকটা অভিবাসন-যাত্রা (এক্সোডাস) শুরু হয়ে গেছে। সিডর-আইলার দুর্গতরা, ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার শিকারেরা, নদীভাঙন ও খরায় বিপন্নরাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিচিত্র অভিঘাতে অজস্র পেশার অজস্র মানুষ তাদের বসতি ও পরিজন ছেড়ে বের হয়েছে পৃথিবীর পথে। ঢাকার মিরপুরের বস্তিতে, মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধে তারা আছে। খুলনা ও চট্টগ্রামের বস্তিতে নতুন আসা মানুষদের সারিতেও তারা দাঁড়িয়ে। তাদের বেশির ভাগই ছিল কৃষক-কারিগর বা জেলে, এখন তারা ছিন্নমূল মানুষ মাত্র।
বড় বড় নগরে তারা আসছে। সামান্য আশ্রয় নিয়ে নগর-দরিদ্রদের সঙ্গেও যখন তাদের সংঘাত ঘটবে, রাজনীতি ও রাষ্ট্র যখন তাদের বন্দোবস্ত দিতে ব্যর্থ হবে, তখন এটা পরিণত হবে জাতীয় সমস্যায়। আর আজকের দুনিয়ায় যাহাই জাতীয় তাহাই আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ ধনী দেশগুলোকে বাংলাদেশের দুর্গতদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্পষ্ট কথায়, যারা প্রকৃতিকে চুষে-খেয়ে জলবায়ু বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে, বিপন্নদের দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। এটা তাদের ঔপনিবেশিক শোষণের দায়ও বটে। এই দায় অস্বীকার করা রাজনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল, গণবিরোধী ও নীতির দিক থেকে অনৈতিক।
কেবল তো দিনের শুরু, দিনের শেষে প্রাকৃতিক সমস্যা সার্বিক রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংকটের জন্ম দিতে বাধ্য। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের এই জলবায়ু-শরণার্থীদের সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্বের প্রতি ৪৫ জনের মধ্যে একজন এবং বাংলাদেশের প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার হবে। সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বাড়লেই দেশের ২০ শতাংশ এলাকা ডুবে যাবে। একদিকে হিমালয়ের বরফ গলা পানি, অন্যদিকে সমুদ্রের নোনা প্লাবণে আক্রান্ত হবে আরও বেশি এলাকা। অতি বন্যা, অতি বৃষ্টির পাশাপাশি চরম খরা ফিরে ফিরে আসবে। ধানের উৎপাদন কমে যাবে অর্ধেক। নতুন রোগ-মহামারির আক্রমণ ও জীবব্যবস্থার নৈরাজ্যের সামনে রক্ষাকবচ হারাব আমরা। খাদ্য-নিরাপত্তা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে আরও বেশি মানুষ। এত মানুষের উপায় দেশের ভেতর থেকে করা সম্ভব না। যাওয়ার কোনো পথও থাকবে না। মুশকিল হলো, আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনগুলো রাজনৈতিক শরণার্থী ছাড়া অন্য কোনো শরণার্থীর দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। কাদের বলা হবে জলবায়ু-শরণার্থী, সে ব্যাপারেও সবাই একমত নয়। স্পষ্ট কথায় বাংলাদেশের এত মানুষের ভার কেউ নেবে না। কাজে কাজেই কোটি কোটি মানুষ নিজ সীমানার মধ্যেই বন্দী হয়ে পড়বে।
এমনিতেই দেশ জনসংখ্যার ভারে কুঁজো; সম্পদ, জমি ও সুযোগের চরম টানাটানি। রাষ্ট্র-প্রশাসন ও রাজনীতি গণবিরোধী, অদক্ষ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও জনস্বার্থ-বর্জিত। যখন সব দিকেই আকাশ ভেঙে পড়বে আর সমুদ্র করবে তোলপাড়, তখন সীমিত সুযোগ নিয়ে কামড়াকামড়ি শুরু হবে। যাদের নেই তারা যাদের আছে তাদের ওপর হামলে পড়বে। এই চরমভাবাপন্ন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে লতিয়ে লতিয়ে বাড়বে রাজনৈতিক হানাহানি, সন্ত্রাস ও দাঙ্গা। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকেও তা উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ভারতের আশঙ্কা, অন্তত কোটি সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সে দেশে যাত্রা করতে পারে। তাদের মোকাবিলার জন্য তারা আগাম কাঁটাতারের বেড়া এবং সন্ত্রাস দমনের সামর্থ্য সৃষ্টি করছে। এমনিতেই ভারতের বিপুল দারিদ্র্য সেখানে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। এসব কারণে ভারত নিজের স্বার্থেই সব উপায়ে এই মানুষদের ঠেকিয়ে রাখবে। ভারতের সীমান্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করার সাম্প্রতিক তোড়জোড়কে এভাবেও পাঠ করা যায়।
সুতরাং আমাদের ল্যাঠা আমাদেরই সামলানোর কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যমান পরিবেশ ও মানুষবিনাশী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলানো ফরজ। সবচেয়ে বড় পরাশক্তি যে প্রাকৃতিক নিয়ম, তাকে মান্য করে নতুন করে শুরু করতে হবে সবকিছু। তার আগে দরকার হবে একটি নতুন আইন, যার সুবাদে বাংলাদেশের জলবায়ু-শরণার্থীরা আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের অধিকার নিয়ে হাজির হতে পারবে। বাংলাদেশকে বিশেষ করে এই দুর্গতদের জীবন-জীবিকা-বাসস্থান ও নিরাপত্তার বিশেষাধিকার স্বীকার করতে হবে। তাদের বিশেষ স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে সেই স্ট্যাটাসের স্বীকৃতির জন্য কাজ করে যেতে হবে। এমনকি খসড়া হিসেবে প্রণীত অভিবাসন আইনেও জলবায়ু-দুর্গতদের জন্য বিশেষ সুযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেসব দেশের উদ্বৃত্ত জমি ও সম্পদ আছে, তাতে এসব মানুষকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে। জলবায়ুবিপন্ন পৃথিবীতে এটাই হবে ন্যূনতম মানবিক অধিকার, যা বাস্তবায়িত না হলে অন্যান্য অধিকারও বিশেষ কোনো অর্থ বহন করবে না। উদ্যোগী হলে এই কাজে অন্যান্য জলবায়ুবিপন্ন দেশের সমর্থনও আমরা পাব। আন্তর্জাতিক জনমতও সহানুভূতিশীল। সবার সম্মিলিত স্বার্থে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক আইন সংশোধন তাই জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যথা যার, চিৎকারটা তাকেই করতে হবে।
সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক রাষ্ট্র ও অর্থব্যবস্থায় সবকিছুকেই ম্যানেজারিয়াল চোখে দেখা প্রায় বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যাটা যখন বুনিয়াদি, তখন ব্যবস্থাপনার খুটখাট নিয়ে মেতে থাকা সমস্যাকে আড়াল করার শামিল। হাত দিতে হবে সমস্যার গোড়ায়। সে জন্য বিশ্বের বর্তমান রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পদ্ধতি বদলাতে হবে, তেমনি জলবায়ু-দুর্যোগের সাপেক্ষে মানবাধিকারের আওতা ও ধারণা এবং আন্তর্জাতিক আইন-আদালতকেও নতুন করে সাজাতে হবে। জলবায়ুবিপন্নদের বৈধ জলবায়ু-শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবিকে ন্যায্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা তাই জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এই পৃথিবী আমাদের একমাত্র তরী, একে কেটে ভাগ করে চ্যালা কাঠ বানিয়ে রাখা অপরাধ। যাদের মাটি শুকনো, ডুবন্ত মানুষকে তাদের ডাঙায় উঠতে দিতেই হবে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর গতিক দেখে মনে হয়, নিজেদের নাকের ডগার থেকে বেশি দূর তারা দেখতে পান না। তাঁরা বাঁচলেই মানুষ বাঁচবে না।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানো নিয়েব্রিটিশ সরকারে মতানৈক্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বৈদেশিক সহায়তা বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স। ক্যামেরনের উদ্দেশে ফক্সের লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানা যায়। গতকাল মঙ্গলবার চিঠিটি টাইম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
ফক্স বলেন, মোট জাতীয় আয় থেকে সহায়তা ব্যয় ২০১৩ সাল নাগাদ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টি আইনগতভাবে পাকাপোক্ত করার যে পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তা যৌক্তিক নয়। এবার পরিকল্পনা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের হাত বাঁধা পড়তে পারে।
সহায়তা বাজেট বাড়ানোর এই পরিকল্পনায় কনজারভেটিভ পার্টির কিছু নেতা ক্ষুব্ধ। ক্যামেরন ও ফক্স উভয়ই এই দলের নেতা। এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের অন্যান্য দপ্তর থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যয় কমাতে হবে। চিঠিতে ফক্স লেখেন, ‘বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী এই বাজেট প্রস্তাবকে আমি সমর্থন করি না। কারণ এই বিল পরিকল্পনা পরিবর্তনে সরকারের সামর্থ্যকে সীমিত করে দেবে।

ওবামা ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের মালিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্পদের মূল্য এক কোটি ২০ লাখ ডলার। গত সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নথির সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। ওবামার সম্পদের তথ্যবিষয়ক এসব কাগজপত্র অনুযায়ী, ওবামার ওই অর্থের বেশির ভাগই এসেছে তাঁর দুটি বইয়ের আয় থেকে। এগুলো বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইগুলোর অন্যতম।
প্রকাশিত তথ্যমতে, ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার শীর্ষক বইয়ের রয়্যালটি বাবদ ওবামা ১০ থেকে ৫০ লাখ ডলার পান। ওবামার অন্য বইটি হচ্ছে দ্য ওডোসিটি অব হোপ। তাঁর ১০ থেকে ৫৫ লাখ ডলারের ট্রেজারি বিল ও একই পরিমাণ অর্থের টেজারি নোট রয়েছে। এসব বিল ও নোট থেকে মেয়াদান্তে মোটা অঙ্কের মুনাফা লাভের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জে পি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানিতে ওবামার আড়াই থেকে পাঁচ লাখ ডলার জমা রয়েছে।
২০০৯ সালে ওবামা যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর ৭৭ লাখ ডলারের সম্পদ ছিল। ২০০৯ সালে ট্রেজারি নোট থেকে ওবামার সম্পদে মোটা অঙ্কের অর্থ যোগ হয়।

আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক সফরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ চার দিনের এক ঐতিহাসিক সফরে গতকাল মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানী ডাবলিনের বাইরে অবস্থিত ব্যালডোনেল সামরিক বিমানঘাঁটিতে তাঁকে বহনকারী একটি রাজকীয় বিমান গতকাল অবতরণ করে। সেখান থেকে তাঁকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক উপনিবেশ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে গত ১০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ অধিরাজ পা রাখলেন। এর আগে ডাবলিনের কাছের একটি শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে পেতে রাখা শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
লন্ডনে আইরিশ ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি ও ডাবলিনের কাছ থেকে বোমা উদ্ধারের পর রানির সফর বাতিল হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে বোমা উদ্ধারের পরপরই ও আয়ারল্যান্ডের পক্ষ থেকে রানির সফর বাতিল হবে না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রানি ও তাঁর স্বামী ডিউক অব এডিনবরা গতকাল মঙ্গলবার ডাবলিনের বাইরে ব্যালডোনেল সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁদের আইরিশ সেনারা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। একটি শিশু রানির হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়ার পর সেখান থেকে তাঁদের আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি ম্যাকআলিসের সরকারি প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাসাদের বাইরে ম্যাকআলিসে করমর্দন করে রানিকে স্বাগত জানান। এ সময় যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
আয়ারল্যান্ডের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রানির এ ঐতিহাসিক সফরের প্রাক্কালে ডাবলিনের ২৫ কিলোমিটার দূরের মেনুথ শহরে একটি বাসে একটি শক্তিশালী পাইপ বোমা পাওয়া যায়। একটি অজ্ঞাত সূত্র পুলিশকে ফোন করে বোমা পেতে রাখার তথ্য দিলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সেখানে ছুটে যায়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাসটি মেনুথ থেকে ডাবলিনের পথে রওনা হচ্ছিল। তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। পরে বিস্ফোরিত বোমার অবশিষ্টাংশ তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ডাবলিনের ট্রামস্টেশনে আরেকটি সন্দেহজনক ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখছেন। এর আগে গত রোববার লন্ডনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রিটেনের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের শান্তি-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আইরিশ ভিন্নমতাবলম্বীরা এ হুমকি দেয় বলে গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রানির সফর বানচাল করতে তারাই মেনুথ শহরে বোমা পেতে রেখেছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাকআলিসের আমন্ত্রণে রানি এলিজাবেথ চার দিনের সফরে এসেছেন। এর আগে ১৯১১ সালে রানির পিতামহ রাজা পঞ্চম জর্জ আয়ারল্যান্ড সফরে এসেছিলেন। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো রাজা বা রানি দেশটিতে সফর করেননি। ১৯২১ সালে আয়ারল্যান্ড ব্রিটিশ শাসন থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এ নিয়ে ভিন্নমতাবলম্বীরা আন্দোলন করে আসছে।

ন্যাটো জোটের গুলিতে দুই পাকিস্তানি সেনা আহত

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার ন্যাটো জোটের হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালালে দুজন পাকিস্তানি সেনা আহত হন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
কাবুলে পশ্চিমা সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জন এল ডোরেইন জানান, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতীয় এলাকায় ন্যাটো জোটের হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে ন্যাটোর দুটি হেলিকপ্টার থেকে একটি সেনা চৌকিতে পাল্টা গুলি চালানো হয়। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত জেলা মিরানশাহর ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে ওয়াচা বিবিতে এ ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও দেশটির বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে মার্কিন সিনেটর জন কেরি সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলার এক দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটল।
আল-কায়েদার নেতা ওসামাকে হত্যায় মার্কিন সেনাবাহিনী ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে হামলা চালানোর পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে।
ইসলামাবাদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যাটো জোটের দুটি হেলিকপ্টার পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং আফগানিস্তানে ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের দাবি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হেলিকপ্টার দুটি লক্ষ্য করে সেনারা গুলি চালালে পরে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আমাদের দুজন সেনা আহত হয়।’
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডোরেইন বলেন, ন্যাটোর অগ্রগামী একটি দলের সমর্থনে দুটি হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকায় গেলে একটি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। কিন্তু এ সময় কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। পরে দ্বিতীয়বার গুলি চালানো হলে এর পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন।

ত্রিপোলিতে সরকারি দুটি ভবনে ন্যাটোর হামলা

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে গত সোমবার রাতে দুটি সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি লুইস মোরেনো ওকামপো লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করার পর এ হামলা চালানো হলো। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পক্ষে সমর্থন জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ।
ন্যাটো সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আল-জামহুরিয়া এভিনিউয়ে সরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ভবন ও দুর্নীতি দমন সংস্থার ভবনে হামলা চালায়। এতে ভবন দুটিতে আগুন ধরে যায়। দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে লিবিয়ার কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপ দেখাতে বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে যান।
লিবিয়ার পরিদর্শন ও জননিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান জানান, ন্যাটোর হামলায় ভবনটি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্নীতি দমন সংস্থার ভবনে কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, ওই ভবনে থাকা নথিপত্রগুলো ধ্বংস করতে বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল ন্যাটোকে সেখানে হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ওই হামলার পরে জামহুরিয়া এভিনিউয়ে আরও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রসঙ্গত, গাদ্দাফির বাসভবন ওই এলাকায় অবস্থিত।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হেগ বলেন, ‘লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের আচরণ সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। তাই গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্য আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির আবেদনকে স্বাগত জানাই আমি।’
লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিভিত্তিক ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলও গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদেল হাফেজ ঘোগা বলেন, ‘আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা আইসিসির আগে গাদ্দাফির বিচার করতে আগ্রহী।’
মুসা ইব্রাহীম এ প্রসঙ্গে বলেন, গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি লুইস মোরেনো ওকামপো গত সোমবার গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে সাইফ আল ইসলাম ও গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ সেনুসির বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

মিয়ানমারে বন্দীদের মুক্তি শুরু, রাজবন্দীরা নেই

মিয়ানমারের নতুন সরকার সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ১৪ হাজার কারাবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুই হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাজার হাজার বন্দীর কঠোর সাজা কমানো হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কৌশল হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দেশটির বিভিন্ন কারাগারে এখনো হাজার হাজার রাজবন্দীকে আটক রাখা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই হাজার ২০০ জন রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়া বন্দীরা বেশির ভাগই সাধারণ অপরাধী। এর মধ্যে রাজবন্দীর সংখ্যা খুবই কম। ১৯৮৮ সালে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনে নামা বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে তৎকালীন সেনা শাসক আটক করেন। পশ্চিমা দেশগুলো অনেক দিন ধরে তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশেষ দূত বিজয় নামবিয়ার মিয়ানমার সফরকালে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট থিন সিন এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। গতকাল প্রায় দুই হাজার বন্দীকে ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ইউএস ক্যাম্পেইন ফর বার্মার পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার ব্যর্থতা এটাই প্রমাণ করে যে মিয়ানমারের নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক সংস্কারের কোনো ইচ্ছা নেই।

হাজারো বইয়ের টাওয়ার

ছয়তলাবিশিষ্ট পেঁচানো এই টাওয়ারটি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে উন্মোচন করা হয়েছে। টাওয়ারটির বিশেষত্ব হলো, প্রতিটি তলার ভিত্তি ইস্পাতে গড়া হলেও এটির বাইরের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে শুধুই বই দিয়ে। দুই, চার, পাঁচ শ নয়, গুনে গুনে ৩০ হাজার বই দিয়ে আকর্ষণীয় এ টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে।
টাওয়ারটির নকশাকার মার্তা মিনুহিন। অসাধারণ চিত্রকর্মের জন্য দেশ-বিদেশে সমানভাবে পরিচিত আর্জেন্টিনার বিখ্যাত এই শিল্পী ১৯৬০ সাল থেকেই তিনি তাঁর দেশের শিল্প-সংস্কৃতিসহ সব ধরনের আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে কাজ করছেন। শিল্পের মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গেছেন সে দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে।
ইউনেসকো চলতি বছর বুয়েনস এইরেসকে ‘ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটল-২০১১’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে টাওয়ারটি নির্মাণ করেছেন মিনুহিন। ৮২ ফুট (২৫ মিটার) উঁচু টাওয়ারটি নির্মাণে তিনি পাঠক, গ্রন্থাগার ও ৫০টির মতো দূতাবাস থেকে বইগুলো অনুদান হিসেবে পেয়েছেন। বইগুলোর মধ্যে দর্শন থেকে শুরু করে শিশুতোষ সাহিত্য পর্যন্ত রয়েছে।
নানা ভাষার এসব বইয়ের ব্যাপারে মিনুহিন বলেছেন, ‘আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না যে, কেন আমাদের ভিন্ন ভাষা থাকতে হবে।’ শিল্পের মাধ্যমে সব মানুষকে এক সুতায় গাঁথতে পারার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাওয়া এই শিল্পী বলেন, ‘আজ থেকে শত বছর পরও মানুষ বলবে, বুয়েনস এইরেসে একটি ব্যাবেল টাওয়ার ছিল, যার কোনো অনুবাদের দরকার হয়নি। কেননা, শিল্পের কোনো অনুবাদ নেই।’
বুয়েনস এইরেসের কেন্দ্রস্থল প্লাজা সান মার্টিনে নির্মিত ‘দ্য টাওয়ার অব বাবেল’ নামের এ টাওয়ারটিতে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা একটি গান শুনতে পাবে। এই গানের সুরকারও মিনুহিন। এ ছাড়া তারা আরও একটি জিনিস শুনতে পাবে, তা হলো মিনুহিনের কণ্ঠে উচ্চারিত বিভিন্ন ভাষার ‘বই’ শব্দটি।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা

বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আট লাখ ৭০ হাজার বাড়ি ও দোকানে সোলার হোম সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ-ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট বা পল্লী বিদ্যুতায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন (আরইআরইডি) শীর্ষক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নসুবিধা দিয়ে এসব সোলার হোম সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ-ব্যবস্থা স্থাপনে সহায়তা করেছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন (আরইআরইডি) প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের সুবাদে বিশ্বব্যাংক এখন আরও ছয় লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে সহায়তা করতে দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ইডকল) তার অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় পল্লী বিদ্যুতায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন (আরইআরইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালের শেষ দিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইডকলকে অতিরিক্ত ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা দেয়, যাতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অধিকসংখ্যক বাড়ি ও দোকানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়। সে অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থায়ন সুবিধা দিয়ে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত তিন লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পটির আওতায় সন্দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ১০০ কিলোওয়াট সোলার ফটোভোল্টেইক (পিভি) মিনি-গ্রিড এবং আরও দুটি মিনি-গ্রিড স্থাপনে অর্থায়ন করা হয়।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, সোলার হোম সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। কারণ বিদ্যুতের অনেক সুবিধা থাকে। এটি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ছেলেমেয়েদের অধিক সময় ধরে পড়ালেখা করা এবং গ্রামে নতুন ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়তা করে।

আমালকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে ইয়েমেনের এনজিও

ইয়েমেনের একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের স্ত্রী আমাল সাদাহকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা কাজ করছে। আমাল বর্তমানে পাকিস্তানে আটক রয়েছেন।
আবদুলরাহমান বারমান নামের এক আইনজীবী জানান, বিন লাদেনের কনিষ্ঠ স্ত্রী আমালকে (২৯) ইয়েমেনে ফিরিয়ে আনতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্য ন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর ডিফেন্ডিং রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস (এইচওওডি) কাজ করে যাচ্ছে। আমাল ইয়েমেনের রাজধানী সানার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইব প্রদেশের আল-সাদা গোত্রের সদস্য।
বারমান জানান, ‘আমালের মুক্তিসহ তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানোর জন্য আমরা ইয়েমেনের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব। কারণ, তিনি নিষ্পাপ। তাঁর একমাত্র অপরাধ, ওসামাকে বিয়ে করা।’ তিনি জানান, এইচওওডি আমালের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমালের সাফিয়া নামের একটি মেয়ে আছে।
জানা গেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আমালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন বিন লাদেন। এ সময় আমাল পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। অভিযানের সময় আমালসহ বিন লাদেনের তিন স্ত্রী ওই বাড়িতে ছিলেন।

ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দিতে পারেনি ৮ প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালের প্রথম তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, জনতা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সোনারগাঁ টেক্সটাইল লিমিটেড। আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে জেলা সরকার জরুরি

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে জেলাভিত্তিক সরকার গঠনের ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাদেশিক সরকারের সমর্থক নই। আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে প্রয়োজন জেলায় জেলায় সরকার। জেলাভিত্তিক সরকার করতে পারলে সচিবালয়ের ক্ষমতা সংকুচিত করা যাবে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুষম ও গতিশীল হবে।’
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও বাজেট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ৪০ ধরনের কাজ করে থাকে। এর মধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি কাজও যদি জেলা সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায়, তা হলে বৈষম্য অনেকখানি কমিয়ে আনা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (এনবিডিএফ) উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সাংসদ শাহরিয়ার আলম। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামান। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সেমিনারে বক্তব্য দেন। সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন সাংবাদিক মোল্লা আমজাদ।
এম আসাদুজ্জামান বলেন, রাজশাহী দেশের বৃহত্তম বিভাগ। এর মোট আয়তন ৩৪ হাজার ৫১৪ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের মোট আয়তনের ২৩ শতাংশ। এখানকার জনসংখ্যার পরিমাণ মোট জনগোষ্ঠীর ২৪ শতাংশের মতো। অথচ নগরায়ণে পিছিয়ে থাকার দিক থেকে এ অঞ্চল দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। এমনকি গ্রামীণ ভূমিহীনের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অঞ্চলটি। আনুপাতিকভাবে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবার কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ অঞ্চলের অধিবাসীরা আয়ের দিক থেকে দরিদ্রতম অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের নীতি-সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ জন্য তিনি উত্তরাঞ্চলের কয়লা উত্তোলনের ওপর জোর দেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবেশের কথা বলে অনেকে কয়লা উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন। কিন্তু ঢাকায় বিভিন্ন কোম্পানির বর্জ্য বুড়িগঙ্গার পানি বিষাক্ত করে তুলছে, সে ব্যাপারে তাদের কিছু বলতে দেখি না।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিলেটে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের পরও এই খাতে অর্থ বরাদ্দের কোনো অভাব হয় না। অথচ উত্তরবঙ্গে উৎকৃষ্টমানের কয়লা থাকার পরও তা উত্তোলনের ব্যাপারে সরকারের তেমন কোনো বরাদ্দ নেই। কয়লা উত্তোলনের কথা এলেই কয়লানীতির কথা বলা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, কয়লানীতি ওয়েবসাইটে রয়েছে। এটা ওয়েবসাইটেই থাকবে, নাকি বেরুবে?’
একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কোথাকার কোন আনু মুহাম্মদ না ফানু মুহাম্মদ এসে এলাকার লোকজনকে ১০০ বছরের ক্ষতিপূরণ দাবি করার উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় জনগণ তাদের কথা না শুনে দৌড়ানি দিয়েছে।’
শাহরিয়ার আলম বলেন, ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে সরকারের উচিত বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা।
সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ এ কে এম মাইদুল ইসলাম বলেন, কয়লা রপ্তানি করা হবে না—জনগণকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে খনির কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বাসন করতে হবে।
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী জুনের আগে জাতীয় কয়লানীতি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত না রাখলে আরও বেশি সময়ও লাগতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাই চায় কয়লা উত্তোলন হোক। কিন্তু আজকেও যদি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলেও পাঁচ বছরের আগে হবে না। সাত বছর লাগবে। মন্ত্রীর নিজের ধারণা, ১০ বছরও লেগে যেতে পারে। তাই কয়লানীতি দ্রুত প্রণয়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান, সাংসদ ফজলে রাব্বী, আকরাম চৌধুরী, মকবুল এলাহী, মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, ফজলে হোসেন বাদশা, ইস্রাফিল আলম, আবদুল মান্নান প্রমুখ।

রোববার থেকে লেনদেন শুরু করবে এমআই সিমেন্ট

আগামী রোববার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের লেনদেন শুরু হবে।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতিপতী মৈত্র এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সতিপতী মৈত্র বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুয়ায়ী আজই প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেছেন, ‘এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আর কোনো জটিলতা নেই। এসইসির নির্দেশ অনুযায়ী কোম্পানিটি ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হবে। তবে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’ দুপুরে এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তি নিয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শাকিল রিজভী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এসইসি এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আগের নির্দেশনা বহাল রাখে। তবে এর আগে ডিএসইর পক্ষ থেকে ওই নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।’
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন, সদস্য হেলালউদ্দিন নিজামী, ডিএসইর সহসভাপতি মো. শাহজাহান, পরিচালক আহমদ রশীদ, পরিচালক এস এম মতিউর রহমান ও আবদুল হাফিজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি এমজেএল ও এমআই সিমেন্টের শেয়ার অতিমূল্যায়িত উল্লেখ করে সরকার এগুলোর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে সরকারের নির্দেশে শর্ত সাপেক্ষে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় এসইসি।

বাজারে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতা আনাই আমাদের লক্ষ্য: সিএসই সভাপতি

‘বাজারে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতা আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে যেসব আইন-কানুন পরিবর্তন করা দরকার, তা দ্রুত করা হবে।’
আজ বুধবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধিদলের সাক্ষাত্ শেষে সিএসই সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এ কথা বলেন।
ফখর উদ্দিন বলেন, এসইসির নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতা কীভাবে আনা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আইপিও আসার ও বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে যেসব আইন পরিবর্তন করা দরকার, সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ১৯৯৬-এর অর্ডিন্যান্সের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। বাজারে সার্ভিল্যান্স ও নিয়ন্ত্রণ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।
ফখর উদ্দিন আরও বলেন, সর্বোপরি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কমিশন এ ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন, সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী, সিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল মারুফ খান, সহসভাপতি তারেক কামাল, পরিচালক এ এস এম শহিদুল্লাহ, এম কে এম মহিউদ্দিন ও মফিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকসের লেনদেন শুরু কাল

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কাল বৃহস্পতিবার থেকে বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি অনুমোদন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকসের পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে মোট ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকসের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। আইপিও প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়ায় ৮৬ কোটি টাকা। আইপিও বিবরণীতে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল এক টাকা ৭৬ পয়সা।
আজ বুধবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বারাকাতউল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকসের শেয়ার লেনদেন ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীনে কাল শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসই ট্রেডিং কোড ‘বিইডিএল’ আর কোম্পানি কোড ১৫৩১৩।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেন্সিং?

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ আর গ্যালারির মাঝখানে আবার কাঁটাতারের বেড়া চাইছে বাফুফে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে আজ এ ব্যাপারে চিঠি দিয়ে আবেদন করা হবে। পরশু রহমতগঞ্জের বিপক্ষে হারের পর আবাহনীর সমর্থকেরা মাঠে তাণ্ডব চালানোর পর বাফুফের এই উদ্যোগ।

‘ভারতীয় আইসিসি’ নিয়ে সরব গ্রেগ

অনেকেরই মনের কথা। কিন্তু মুখ ফুটে বলার মতো সাহস আছে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট খুব কম মানুষেরই। এবার হঠাৎই ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠলেন একজন। এ জন্য উপলক্ষটাও বেছে নিয়েছেন—টনি গ্রেগ: এ রিঅ্যাপ্রাইজাল অব ইংলিশ ক্রিকেট’স মোস্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল ক্যাপ্টেন নামের একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। সেখানেই বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ‘কন্ট্রোভার্সিয়াল ক্যাপ্টেন’ গ্রেগই বলেছেন, আইসিসিতে ভারতীয় আধিপত্যের অবসান হওয়া প্রয়োজন। আইপিএলের জন্য আলাদা ‘জানালার’ দাবিকেও সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেছেন ‘হাস্যকর’। ওয়েবসাইট।
গত বছর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ভারত। ওয়ানডেতেও এখন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তবে মাঠের বাইরের ক্রিকেটে ভারত ‘চ্যাম্পিয়ন’ অনেক আগ থেকেই। বিশাল বাজার আর রমরমা বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে আধিপত্যটা ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠা করেছে দেশটি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির বর্তমান প্রধান একজন ভারতীয় বলেই নয়, বরাবরই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম নিয়ন্তা ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআই।
কখনো আইসিসির প্রধান হলে এই আধিপত্যটাই সবার আগে ভাঙতে চেষ্টা করবেন গ্রেগ, ‘প্রথম কাজই হবে আইসিসিকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করা। এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটা এমন যে আইসিসিকে আসলে নিয়ন্ত্রণ করছে বিসিসিআই। তারা জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ এবং আরও দু-একটি দেশকে দিক-নির্দেশনা দেয় এবং সব সময়ই ভোট পায়। কাজটা কঠিন, কিন্তু যেকোনোভাবেই এটা বদলানো প্রয়োজন।’
আইপিএলের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার দাবি বর্তমান-সাবেক অনেক ক্রিকেটারেরই। কিন্তু একটি দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জন্য এমন দাবি হাস্যকর মনে হচ্ছে গ্রেগের কাছে, ‘এমনিতেই অনেক বেশি ক্রিকেট হচ্ছে। আমি (আইসিসির প্রধান হলে) সব দেশকে ডেকে বলতাম, ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জন্য জানালার দাবির এই ফাজলামোটার মানে কী? আইপিএলকে একটা জানালা দেওয়া মানে বিশ্বের অন্যান্য জায়গার ক্রিকেট দুই মাসের জন্য বন্ধ, বর্তমান বাস্তবতায় এটা স্রেফ হাস্যকর।’
আইপিএলের থাবায় টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত জনপ্রিয় এই ক্রিকেট ভাষ্যকার, ‘পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে খেলাটার মূল ভিত্তি টেস্ট ক্রিকেট যেন ধ্বংস না হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানের সঙ্গে খেলছে আর গেইল-পোলার্ড আইপিএলে খেলছে...অদ্ভুত!’ ৬৪ বছর বয়সী সাবেক অলরাউন্ডার অবশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন, আপত্তি শুধুই ভারতীয় বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে। দেশ হিসেবে ভারত, ভারতের মানুষ আর ক্রিকেট তাঁর ভীষণ প্রিয়।
এমন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ি জীবনেও একবার হয়েছিলেন গ্রেগ। গত শতাব্দীতেই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় এক অধ্যায়ের অন্যতম ‘নায়ক’ ছিলেন গ্রেগ। ক্যারি প্যাকারের যে ওয়ার্ল্ড সিরিজ বিশ্ব ক্রিকেটের খোলনলচে পাল্টে দিল, তিনি ছিলেন সেটার অন্যতম সংগঠক। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটারদের সংগঠিত করার কাজটা গ্রেগই করেছিলেন। যে বইয়ের উদ্বোধনীতে এসেছিলেন, সেই বইটিও ওই ঘটনা নিয়েই। গ্রেগ নিজে অবশ্য লেখেননি, লেখকের নাম ডেভিড টোসেল।

নাদালের পর জোকোভিচ

অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার পুরস্কার পেলেন নোভাক জোকোভিচ। বছর শেষের টুর্নামেন্ট এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসে খেলা নিশ্চিত করলেন অজেয় সার্বিয়ান। দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগেই কোয়ালিফাই করলেন জোকোভিচ। আগের কৃতিত্বটা রাফায়েল নাদালের, ২০০৯ সালে। এএফপি।
এ বছরের ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর লন্ডনে বসবে এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের আসর। ২০১১ সালের ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা আট খেলোয়াড় সুযোগ পাবেন খেলার। এ বছর জোকোভিচ জিতেছেন টানা ৩৭টি ম্যাচ। আর এটাই নিশ্চিত করে দিয়েছে তাঁর অংশগ্রহণ।
২০০৮ সালে এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুরে চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচের সর্বশেষ পরাজয় এই টুর্নামেন্টেই, গত বছরের সেমিফাইনালে। জোকোভিচ হেরেছিলেন রজার ফেদেরারের কাছে।

জাপানের জন্য কাফু

৮.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্প, সেটা থেকে সুনামি আর তাতেই তছনছ জাপানের পূর্ব উপকূল। গত ১১ মার্চের এই বিপর্যয়ে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের দুুর্দশা নাড়া দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। ছুঁয়ে গেছে কাফুর হূদয়ও। ওই দিন থেকেই ভাবছিলেন, জাপানের জন্য একটা কিছু করা দরকার। অবশেষে ‘কিছু করার’ সে উপায়টা খুঁজে পেয়েছেন সাবেক ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার। জাপানের সাহায্যার্থে আয়োজন করবেন একটি ফুটবল ম্যাচ। কাফুর মহতী উদ্যোগে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ফিফাও।
মানবিক কারণ তো আছেই। জাপান দেশটাও কাফুর হূদয়ের খুব কাছাকাছি। ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনটা এই দেশেই, ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে জিতেছিলেন বিশ্বকাপ। জাপানের মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন সে সময় পেয়েছিলেন, সেটাও হূদয়ে গেঁথে আছে সাবেক রাইট ব্যাকের। এবার তার কিছুটা ফিরিয়ে দিতে চান, ‘জাপানের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে আমি ওদের সাহায্য করতে চাই। এ জন্যই জাপানে একটা ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করতে চাই, ২০০২ সালে দেশটি আমাদের যা দিয়েছিল, তার কিছুটা ফিরিয়ে দিতে চাই।’
বুন্দেসলিগায় খেলা জাপানি ফুটবলারদের উদ্যোগে গতকালই একটা প্রদর্শনী ম্যাচ হয়েছে ডুইসবার্গে। সদ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ড খেলেছে জাপানি ফুটবলারদের সঙ্গে। কাফুর ম্যাচের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে ঠিক হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ব্রাজিল ও জার্মানি দলের সম্মিলিত একটা দল খেলবে বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে গড়া ‘রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ দলের সঙ্গে। ফিফার প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার কাফুকে সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ইয়োকোহামায় ম্যাচটি আয়োজনের চেষ্টা করছে ফিফা।

গোল ছিল যাঁর রক্তে

ভাগ্যিস, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা পাল্টে ফেলেছিলেন তাঁর বাবা। ফেলেছিলেন বলে আজ ৫৬ বছর পেরিয়ে এসেও রেকর্ডের পাতায় জ্বলজ্বলে তাঁর নাম। এখনো স্প্যানিশ লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। নিশ্চিতভাবেই রেকর্ডের সেই রাজত্বটা আরও অনেক দিন অটুট থাকবে টেলমো জারার। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে করেছিলেন ২৫২ গোল। এখনকার সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল ডেভিড ভিয়ার। সেটি মাত্র ১৫৮। জারার রেকর্ডটা আদৌ ভাঙবে তো!
অবশ্য স্প্যানিশ লিগে সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ডটি নয়; জারা আলোচনায় এসেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সৌজন্যে। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ এই উইঙ্গার এক মৌসুমে ৩৮ গোল করলেন। রোনালদোর আগে এই কীর্তি ছিল রিয়ালেরই হুগো সানচেজ আর বিলবাওয়ের জারার। যে ফর্মে আছেন, লিগের শেষ ম্যাচে রোনালদো হয়তো রেকর্ডটা একার করে নেবেন। কিন্তু তার পরও এক জায়গায় রোনালদো-সানচেজ দুজনের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন ২০০৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে ওপারে চলে যাওয়া জারা। সানচেজ-রোনালদোর সময় লিগে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে জারা যখন রেকর্ডটি করেছিলেন, তখন ছিল ৩০।
রোনালদো অবশ্য এবার এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৩৩ ম্যাচ, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে সানচেজ খেলেছিলেন ৩৫টি। গোলগড়েও তাই এগিয়ে জারা। গড়ে প্রতি ম্যাচে ১.২৬৭টি গোল স্প্যানিশ লিগের রেকর্ডও। বিলবাওয়ের হয়ে যে ১৫ বছর (১৯৪০-৫৫) খেলেছেন, তাতেই পিচিচি ট্রফিটা জিতেছেন ছয়বার। জারার গোল করার অবিশ্বাস্য দক্ষতা বোঝা যাবে এই রেকর্ড থেকেও—স্পেনের হয়ে ২০ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল! এর মধ্যে ১৯৫১ সালে সুইজারল্যান্ডকে ৬-৩ গোলে হারানো সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে একাই করেছিলেন চার গোল। ১৯৫০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটিও করেছিলেন তিনি। সেই গোলেই স্পেন উঠে গিয়েছিল সেরা চারে। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত যেটি ছিল বিশ্বকাপে স্পেনের সেরা অর্জন।
এমন এক প্রতিভাকে কিনা তাঁর বাবা ফুটবলই খেলতে দিতে রাজি হননি! বাবার যুক্তিটাও ছিল অদ্ভুত। জারার বড় দুই ভাই ছিলেন ফুটবলার। সবচেয়ে বড়জন, টমাস প্রথম বিভাগেও খেলেছেন। দ্বিতীয়জন ডমিঙ্গো স্পেনের গৃহযুদ্ধে নিহত না হলে হয়তো নাম কামাতেন। সে যা-ই হোক, বাবার যুক্তি ছিল, ‘বড় দুই ভাই খেলছে, সেটাই যথেষ্ট। তোমার আর ফুটবল খেলে কাজ নেই, বাপু।’
বাবার অবাধ্য হয়েছিলেন জারা। শৈশবের সতীর্থদের কাছে ‘ভয়ানক টেলিমো’ নাম পেয়ে যাওয়া জারা ১৮ বছর বয়সে শুরু করেছিলেন পেশাদার ফুটবল। মাত্র এক বছরই খেলেছেন এরান্দিওতে। এর পরই চলে আসেন বিলবাওতে। তাঁর সময়ে স্বর্ণযুগ কাটিয়েছে ক্লাবটি। একবার লিগ আর পাঁচবার কোপা ডেল রে জিতেছেন।
১৯৫৭ সালে অবসর নেন। এর পরও টুকটাক খেলে গেছেন, যে ফুটবলের মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকা তুলে গরিবদের মধ্যে দেওয়া। ফুটবলের রবিনহুড ছিলেন জারা। গোলের রেকর্ডের মতো বিশাল হূদয়ও যে ছিল তাঁর।

আন্তজেলা ক্রিকেটের ফাইনালে ময়মনসিংহ

বলতে গেলে একাই লড়ে গেলেন ফয়সাল হোসেন। কিন্তু ময়মনসিংহ জেলা দলের সঙ্গে প্রতিপক্ষ যখন হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টিও, সেটি যথেষ্ট হলো না কুমিল্লা জেলা দলের জন্য। কাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে ডি/এল পদ্ধতিতে ২ রানে ম্যাচ জিতে আন্তজেলা ক্রিকেটের ফাইনালে উঠে গেছে ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের ইনিংসে ওপেনার উত্তম সরকার করেছেন ৮৯, সাত নম্বর ব্যাটসম্যান আরাফাত সালাউদ্দিন ৬২—মাঝের পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই শূন্য, বাকি দুজন মিলে ৮ রান! ৫৫ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর উত্তম-আরাফাতের ৭৩ রানের ষষ্ঠ উইকেটজুটির সৌজন্যে ৭ উইকেটে ১৯৮।
জবাবে কুমিল্লার শুরুটাও সব মিলিয়ে বাজেই ছিল। একে তো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা, সেই সঙ্গে বৃষ্টির বাধা। ১৩ ওভারে রান যখন ২ উইকেটে ৩৬, তখনই নামে বৃষ্টি। ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হলে ডি/এল পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১ ওভারে ১৫২। ৪২ রানে ৪ উইকেট পড়লেও হাবিব আর মানিককে নিয়ে অধিনায়ক ফয়সাল লড়াইটা নিয়ে গিয়েছিলেন শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৬ রান। ওভারটা ছক্কা মেরে শুরু করলেও ৫৪ বলে ৬৩ রান করে লং অফ বাউন্ডারি থেকে আসা সরাসরি থ্রোতে ফয়সাল রান আউট হয়ে যান দুই বল বাকি থাকতে। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৭ রান, হয়েছে ৪।
আজ একই মাঠে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ও সিলেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ময়মনসিংহ: ৫০ ওভারে ১৯৮/৭ (উত্তম ৮৯, আরাফাত ৬২, সালেহীন ১৭*, মাজিদুর ১০*; হাবিব ৩/৩১, মামুন ২/২২, মানিক ১/৩৬, ফয়সাল ১/৫৮)।
কুমিল্লা: ৩১ ওভারে ১৪৯/৬ (ফয়সাল ৬৩, হাবিব ২৩, মামুন ১৭, মানিক ১৪*, রিজওয়ান ১১; সালেহীন ৩/২৫, বিরাজ ১/১৭, মাজিদুর ১/২৪)।
ফল: ডি/এল পদ্ধতিতে ময়মনসিংহ ২ রানে জয়ী।

ভালো ঝামেলায়ই পড়েছেন ওয়ার্ন

‘ঘরের’ মাঠে শেষ ম্যাচটা মনে রাখার মতো হয়নি। জয়পুরে শেন ওয়ার্নের শেষ আইপিএল ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস উড়ে গেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে। তবে ওই ম্যাচের পর থেকে এ পর্যন্ত যা হলো, তাতে ওয়ার্ন চাইলেও মনে হয় ভুলতে পারবেন না। যেটাকে মনে হচ্ছিল মামুলি এক ব্যাপার, সেটাই তিল থেকে মোটামুটি তাল হওয়ার উপক্রম। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর শেষ পর্যন্ত কাল মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের শুনানিতে হাজির হতে হলো ওয়ার্নকে।
বিসিসিআই কাল শুনানিতে ডেকেছিল সঞ্জয় দীক্ষিতকেও। ওয়ার্নের সঙ্গে ঝামেলা বা বিতর্ক যা-ই বলেন, সেটা এই দীক্ষিতের সঙ্গেই। দীক্ষিত রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (আরসিএ) সাম্মানিক সচিব ও রাজস্থান সরকারের ঊর্ধ্বতন আমলা। ঘটনার সূত্রপাত ৯ মে। নিজেদের মাঠ জয়পুরে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে ৬৩ রানে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ন বলেছিলেন, ওই ম্যাচে তাদের পছন্দমতো উইকেটে খেলানো হয়নি। দীক্ষিত ওই দিনই জবাব দেন, আইপিএলে কোনো দল কখনোই উইকেট পছন্দের সুযোগ পায় না। তার পরও ওই উইকেটে খেলার কথা নাকি ২ মে-তেই ওয়ার্নকে জানানো হয়েছিল।
১১ মে রাজস্থানের পরের ম্যাচটিও খেলানো হয় ওই উইকেটে। সেই ম্যাচেও ৯ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর দীক্ষিতকে সামনে পেয়ে নাকি যাচ্ছেতাই গালাগাল করেন ওয়ার্ন। দীক্ষিত ব্যাপারটা আরসিএকে জানানোর পর আরসিএ পরদিনই আইপিএল কর্তৃপক্ষ ও বিসিসিআইয়ের কাছে ওয়ার্নের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানায়। আইপিএলের সিওও সুন্দর রমনের কাছে লেখা চিঠিতে আরসিএর ভেন্যু পরিচালক নরেন্দ্র যোশি অভিযোগ করেন, ওয়ার্ন দীক্ষিতকে ‘মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও অহংকারী’ বলেছেন। দুই দিন পর আরসিএকে ই-মেইল পাঠিয়ে রয়্যালসের প্রধান নির্বাহী শন মরিস জানান, ওয়ার্নের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা মেইলে দীক্ষিত কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চান। এরপর রয়্যালস আর কোনো সাড়া দেয়নি। আরসিএ-ও বিসিসিআইয়ের কাছে করা অভিযোগ তুলে নেয়নি।
গত রোববার কোচির বিপক্ষে আরেকটি হারের পর ওয়ার্ন টুইট করেন, ‘আইপিএলের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, সে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আর যেসব রাখেনি, সব আমি জানাব।’ দীক্ষিত পাল্টা টুইট করেন, ‘আমিও শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। তবে উপযুক্ত প্রমাণ দেওয়ার কথা যেন মনে থাকে।’ এর পরই কালকের শুনানি।
এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আবার সমস্যায় পড়েছেন ডিন জোন্স। ভারতীয় একটি টিভি চ্যানেলে বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যান। সেখানেই নাকি মন্তব্য করেছিলেন, ‘আরসিএর উচিত ওয়ার্নের পা চাটা (লিক)।’ আইপিএলের আইনি কমিটি জোন্সের কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছিল। কাল জোন্স ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘পা চাটার কথা বলার প্রশ্নই আসে না। আমি বলেছিলাম, আরসিএর উচিত ওয়ার্নের পায়ে চুমু দেওয়া (কিস), সোজা কথায় এর মানে একজনকে প্রাপ্য সম্মানটা দেওয়া। এখানে অনেকেই বলে শচীন টেন্ডুলকার ঈশ্বর, আমার মতো অনেকের কাছে ওয়ার্নও ক্রিকেটের ঈশ্বর। ওকে প্রাপ্য সম্মানটা দেওয়া উচিত।’

ক্যাসিয়াসের রোনালদো-স্তুতি

নিজে গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের সঙ্গেই তাঁর লড়াই। তাঁদের খুব কাছ থেকেও দেখেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, ২২ জনের খেলা এই ফুটবলে বল জালে ঢোকানো সহজ কাজ নয়। সেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবারের লা লিগায় করে ফেলেছেন ৩৮ গোল! এখনো এক ম্যাচ বাকি। ইকার ক্যাসিয়াস তাই মুগ্ধ, বিস্মিত।
সেই বিস্ময়মাখা মুগ্ধতা থেকে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক বলেছেন, ‘ও ব্যবধান গড়ে দেওয়া প্রভাববিস্তারী এক খেলোয়াড়। খুব কম খেলোয়াড়ই এতগুলো গোল করতে পেরেছে। (রোনালদোসহ) মাত্র তিনজন। এ থেকেই তো বোঝা যায়, ও কোন মাপের প্রতিভা।’
রোনালদোর আগে স্প্যানিশ লিগে এক মৌসুমে ৩৮ গোলের কীর্তি ছিল রিয়ালেরই সাবেক হুগো সানচেজ (১৯৮৯-৯০ মৌসুম) ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের টেলমো জারার (১০৫০-৫১)। রোনালদোর সামনে সুযোগ থাকছে রেকর্ডটা একার করে নেওয়ার। গত তিন ম্যাচে ৯ গোল করা এই পর্তুগিজ উইঙ্গারকে করতে হবে আর একটি গোল। নিশ্চিতভাবে রোনালদো চাইবেন গোলের সংখ্যা আরও বাড়াতে।
মৌসুমের মোট গোলসংখ্যায় যে প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির চেয়ে এক গোলে পিছিয়ে আছেন। মেসির গোলসংখ্যা ৫২, রোনালদোর ৫১। লিগ ম্যাচ ছাড়াও মেসি বাড়তি একটা ম্যাচ পাবেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। রোনালদোকে তাই যা করার, আগামী শনিবার লিগের শেষ ম্যাচটাতেই করতে হবে। গোলসংখ্যায় এগিয়ে থাকলে ফিফা ব্যালন ডি’অর-এর লড়াইয়েও মেসিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবেন।
ক্যাসিয়াসও বলছেন, সতীর্থদের সবার উচিত রোনালদো যেন ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো পান, সেই সাহায্যই করা, ‘এ বছর আমাদের পক্ষে আর কোনো দলগত ট্রফি জেতা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা ওকে ব্যক্তিগত ট্রফি জিততে সাহায্য করতে পারি। আমরা মনে করি, ওর এই পুরস্কার পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণও। কারণ, সে এটার প্রাপ্য। ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’
ক্যাসিয়াস অবশ্য পিচিচি ট্রফিটার কথাই বলছেন। স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার এই পুরস্কার রোনালদো নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির চেয়ে যে তিনি ৭ গোলে এগিয়ে!