Saturday, August 13, 2011

সংস্কারকাজের জন্য এক বছর বন্ধ থাকবে স্ট্যাচু অব লিবার্টি

নিউইয়র্কে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ভাস্কর্য স্ট্যাচু অব লিবার্টির সংস্কার করা হবে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রতীক এই ভাস্কর্যটি আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এক বছর বন্ধ রাখা হবে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন সালাজার জানান, তামার তৈরি ৩০৫ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি সংস্কারে পৌনে তিন কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
দ্য ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস সূত্র জানায়, প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো স্ট্যাচু অব লিবার্টির বেসমেন্টে নতুন সিঁড়ি ও লিফট সংযোজন করা হবে। ১৮৮৬ সালে ফ্রান্স এই ভাস্কর্যটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেয়। নিউইয়র্কের লিবার্টি দ্বীপে এটি স্থাপন করা হয়। বছরে প্রায় ৩৫ লাখ পর্যটক এটি দেখতে আসেন।
নাইন-ইলেভেনে নিউইয়র্কে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর স্ট্যাচু অব লিবার্টির ভেতরে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে দুই বছর ধরে পর্যটকদের শুধু পর্যবেক্ষণ ডেকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

চীনের রণতরী নিয়ে স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র

চীন তাদের প্রথম বিমানবাহী রণতরীর বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখছে না অভিযোগ করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, ‘আমরা আরও স্বচ্ছতা দেখতে চাই। এই রণতরীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চীন যে ব্যাখ্যাই দিক না কেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাব।’
নুল্যান্ড আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো চীন অন্য দেশের মতো স্বচ্ছতা বজায় রাখে না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বিষয় ও বাজেটের যে স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করে, চীন সেটাও করে না।’
গত বুধবার চীন তাঁদের প্রথম বিমানবাহী রণতরী পরীক্ষামূলকভাবে সাগরে নামায়। এই রণতরীটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা-কল্পনার পর গত মাসের শেষের দিকে চীন জানায়, ইউক্রেনের কাছ থেকে কেনা পুরোনো বিমানবাহী রণতরীটি মেরামত করে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তা করা হবে।
এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের এই রণতরীটি ২৬টি যুদ্ধবিমান ও ২৪টি হেলিকপ্টার বহন করতে পারবে। এ ছাড়া রণতরীবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ সব ধরনের আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা ও অস্ত্রে সজ্জিত করা হবে রণতরীটি।

জেরুজালেমে ১৬০০ বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল

পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজার ৬০০ ইহুদি বসতি স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলি ইশাঈ ওই বসতি স্থাপন অনুমোদন করেছেন বলে তাঁর এক মুখপাত্র গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন।
সর্বশেষ এ পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র রোইয়ে লাচমানোভিচ বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের রামাত সলোমোতে ওই এক হাজার ৬০০ বসতি গড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খুব শিগগির গিভাট হামাটোস এলাকায় দুই হাজার এবং পিসগাট জিভ এলাকায় আরও ৭০০ বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে।
গত মার্চ মাসে সর্বপ্রথম রামাত সলোমোতে বসতি নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের এ পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষুব্ধ হতে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শান্তি আলোচনা আবার শুরুর উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে।
তবে ইসরায়েলে সাম্প্রতিক সময়ে বসবাস ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ দেশটির অর্থনৈতিক-সংকটের প্রতি ইঙ্গিত করে মুখপাত্র লাচমানোভিচ বলেছেন, এই অনুমোদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং অর্থনৈতিক কারণে।
ফিলিস্তিনি নেতারা ইসরায়েলের ওই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সোমালিয়ায় শিশুদের বেঁচে থাকার লড়াই

ইব্রাহিমের বয়স তিন বছর । কিন্তু তার ওজন আট কেজিরও কম। তার এই ওজন আট মাস বয়সী একটি শিশুর ওজনের কাছাকাছি। পাঁজরের ছোট ছোট হাড়ের সঙ্গে সেঁটে রয়েছে ছোট্ট শিশুটির শরীরের চামড়া। অপুষ্টির শিকার সোমালীয় এই শিশুটি এখন মায়ের সঙ্গে রাজধনীি মোগাদিসুর একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছে। ইব্রাহিমের মা রুকিও আবদুল্লাহি বলেন, ‘আমার সন্তান খুব অসুস্থ। হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সে। একই সঙ্গে জ্বর ও বমি হচ্ছে। স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে কিছু ওষুধ খাইয়েছিলাম, কিন্তু এতে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে ওর।’ নর্দমায় বয়ে যাচ্ছে শিশুটির মুখ থেকে বের হওয়া রক্তের ধারা। অসুস্থ এই শিশুসন্তানকে নিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে গত সপ্তাহে মোগাদিসুতে পৌঁছান রুকিও আবদুল্লাহি। ব্যাপক সহিংসতার জন্য সোমালিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী মোগাদিসু এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শহরগুলোর একটি। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই তাঁর এই দুঃসাহসী প্রচেষ্টা। ক্লান্তি ও দুঃখবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার হাতে কোনো অর্থ নেই, যা দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতে পারি।’ এ সময় কান্নারত শিশুটিকে ঘিরে থাকা মাছির ঝাঁক তাড়াচ্ছিলেন তিনি। মোগাদিসুর বানাদির হাসপাতালে নেওয়ার পর বেঁচে থাকার জন্য লড়াই শুরু হয় শিশু ইব্রাহিমের। সে এতটাই দুর্বল ছিল যে খেতে পারছিল না। খাওয়ানোর জন্য চিকিৎসকেরা তাঁর নাকের মধ্যে নল স্থাপন করে দেন।
সংঘাতপূর্ণ সোমালিয়ায় বর্তমানে চলছে চরম খরা ও দুর্ভিক্ষ। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল জুড়ে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ এই দুর্যোগের শিকার হয়েছে। মোগাদিসু ও চারটি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। চলতি শতাব্দীতে এটিই প্রথম কোন দেশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হলো।
খাবার, পানি ও আশ্রয়ের সন্ধানে গত দুই মাসে প্রায় এক লাখ মানুষ মোগাদিসুতে গেছে। চিকিৎসকেরা সেখানে উপচে পড়া রোগীদের সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই তাঁরা যতটুকু সম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন রোগীদের।
জাতিসংঘের খাদ্য তদারক বিভাগ বর্ণনা করেছে, সোমালিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ১৯৯১-১৯৯২ সালের পর এটিই আফ্রিকার তীব্রতম খাদ্যসংকট। বানাদির হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের প্রধান লুলু মোহাম্মদ বলেন, ১৯৯২ সালের পর এটিই তাঁর দেখা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। ওই বছরের বিপর্যয়ের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সিয়াদ বারে। এরপর শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী লড়াই চিরকালের জন্য গ্রাস করে সোমালিয়াকে। ডা. মোহাম্মদ আরও বলেন, সেই বছরের পর এবারই প্রথম একসঙ্গে এত বেশিসংখ্যক অপুষ্টির শিকার শিশুকে দেখা গেল।
জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত আল-শাবাব বিদ্রোহীরা এত দিন মোগাদিসুর প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। গত সপ্তাহে তারা আকস্মিকভাবে মোগাদিসু ছেড়ে চলে যায়। তবে বিদ্রোহীদের একাংশ এখনো রয়ে গেছে মোগাদিসু শহরে। আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ত্রাণকর্মীদের মতে, শহরে কিছু সাহায্য পাঠানো হলেও অতিরিক্ত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নিতান্তই অপ্রতুল। ত্রাণকর্মী আদান ইউসুফ মাহাদি বলেন, খরাপীড়িত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ মোগাদিসুতে চলে আসায় দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। মানুষ এখানে অসহায়, তাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন। বর্তমান সীমিত সহায়তার উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
শহরের বাইরের পরিস্থিতি আরও করুণ। প্রাণ বাঁচানোর জন্য খাবারের সন্ধানে সেখান থেকে হাজার হাজার মানুষ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ত্রাণতৎপরতা সেখানে আরও সীমিত। বৃষ্টির অভাবে শস্যখেত শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার পর এবং গবাদিপশুগুলো মরে যাওয়ার পর ভিটেমাটি ছেড়ে মোগাদিসুতে চলে এসেছেন আবদুল্লাহি। তিনি বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে কেউ সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে না। আমরা কখনোই কোনো সাহায্য পাইনি।

বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কিছুটা ভুল করেছিল

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভ দমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ‘কিছুটা ভুল’ করেছিল। সিরিয়া সফররত ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার (আইবিএসএ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে প্রতিনিধিদলকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সংস্কারের বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইবিএসএ প্রতিনিধিদলে আছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক অতিরিক্ত সচিব দিলীপ সিনহা, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী ইব্রাহিম ইব্রাহিম ও ব্রাজিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি পাওলো কোরডেইরো। সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট সমাধানের বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁরা দামেস্ক গেছেন।
প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর ভারতের জাতিসংঘ মিশন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আসাদ স্বীকার করেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্ষোভ দমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী কিছুটা ভুল করেছিল। তবে এর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াইলাম জানিয়েছেন, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া এ বছরের মধ্যেই সিরিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হবে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।
ভারতীয় মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর লক্ষ্যে সংস্কারের বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনও করা হবে।
প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, ‘দেশের মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন আইনকানুন এবং দেশের অর্থনীতির নতুন রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে সংলাপ অব্যাহত থাকবে।’ এ ছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পন্ন করা হবে বলে জানান প্রেসিডেন্ট আসাদ।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণ এবং তা মোকাবিলা করতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুয়াইলাম। প্রতিনিধিদল বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সব ধরনের সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানায়। তবে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার বিষয়ে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রতিনিধিদল।
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত পাঁচ: এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আরও দুই শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। তুরস্ক সীমান্তবর্তী ইদলিব প্রদেশের সারাকিব শহরে গতকাল খুব সকালে ট্যাংক নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় সেনাসদস্যরা।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সারাকিব শহরে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সেখানে সরকার উৎখাতের দাবিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ করছে লোকজন।’
সংস্থাটি পরে জানায়, সেনাসদস্যরা শহরের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে। শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সারাকিব শহরের দক্ষিণে হোমস প্রদেশের কুসায়ার শহরে গতকাল সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা: সিরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘দ্য কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিরিয়া’ এবং মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিরিয়াটেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়া সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ইন্দোনেশিয়ায় ফেরত দিল পাকিস্তান

২০০২ সালে বালি দ্বীপে বোমা হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন জঙ্গি উমর পাতেককে ইন্দোনেশিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের কাছে বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি থেকে ইন্দোনেশীয় বিশেষ বিমানে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে দেশে ফেরত নেওয়া হয়।
৪১ বছর বয়সী পাতেক গত ২৫ জানুয়ারি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গ্রেপ্তার হন।
ইন্দোনেশিয়ার সন্ত্রাস দমন বিভাগের প্রধান আনসাইয়াদ এমবাই গত বুধবার বলেন, পাতেক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি বিশদ ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, পাতেক ওসামা বিন লাদেনের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা করেছিলেন।
সন্ত্রাস দমন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাতেককে বহনকারী বিমানটি গতকাল সকালে জাকার্তায় পৌঁছায়। এরপর তাঁকে সোজা পশ্চিম জাভার কেলাপা দুয়া শহরে পুলিশের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে তাঁর বিচারের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পাতেক বালি দ্বীপে হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে স্বীকার করেছেন। ওই হামলায় অস্ট্রেলিয়ার ৮৮ জনসহ মোট ২০২ পর্যটক নিহত হন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু অবৈধভাবে বোমা রাখার অভিযোগ আনা হতে পারে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

রাজীব গান্ধীর তিন হত্যাকারীর ক্ষমার আবেদন নাকচ

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর তিন হত্যাকারীর ক্ষমার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল। এর মধ্য দিয়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেল। রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র অর্চনা দত্ত গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানান।
অর্চনা দত্ত বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, গত সপ্তাহে বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরে ওই তিন ব্যক্তির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি।
ক্ষমার আবেদন করা হত্যাকারী তিনজন হলেন: মুরুগান, সানথান ও পেরারিভালান। তিনজনই শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) সদস্য। রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই কারণে এলটিটিইর সদস্য ভারতীয় নারী নলিনী শ্রীহরণেরও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালের ২১ মে রাজীব গান্ধী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শ্রীপেরুমবুদুরে যান। সেখানেই তিনি আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৯ সালে মুরুগান, সানথান ও পেরারিভালানের মৃত্যুদণ্ড দেন। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তিন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।
রাজীব গান্ধী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে। ইন্দিরা গান্ধীও ক্ষমতাসীন থাকার সময় ১৯৮৪ সালে নিজ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন।

কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবাকে জরিমানা

মেয়েকে বিষধর সাপের দংশনের মাধ্যমে সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে জরিমানা গুনতে হয়েছে অস্ট্রেলীয় এক সাপুড়েকে। সাপগুলো বিষদাঁতমুক্ত করা হয়েছে, তা প্রমাণ করার জন্য তিনি এ কাণ্ড করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মেলবোর্নের একটি বিপণিকেন্দ্রে। সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে ৪৯ বছরের সাপুড়ে রেমন্ড হোসার তাঁর মেয়েকে সাপ দিয়ে দংশন করান। দুটি সাপের দংশনে তাঁর ১০ বছরের মেয়েটি রক্তাক্ত হলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
হোসার বলেন, ‘সে (তাঁর মেয়ে) কেবল রক্তাক্ত হয়েছে। সাপগুলো বিষধর হলে সে দুই মিনিটের মধ্যে মারা যেত। আমি নিশ্চিত না হলে এ কাজ কখনোই করতাম না।’
কাণ্ডজ্ঞানহীন এ কাজের জন্য হোসারকে সাত হাজার ৬৫০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার চাইল্ডহুড ফাউন্ডেশনের প্রধান জো টুসি বলেছেন, ‘একটি বিষয় প্রমাণ করার জন্য কোনো শিশুকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলা উচিত নয়। ক্ষতি হতে পারে—এমন কাজে শিশুদের কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়।’

লুটেরা দলে কোটিপতির মেয়ে, শিক্ষক, স্কুলছাত্র

যুক্তরাজ্যে টানা চার দিনের দাঙ্গা ও লুটতরাজের সময় কোটিপতির মেয়ে, শিক্ষক, নিরাপত্তারক্ষী, সমাজসেবক, ডাকপিয়ন, নরসুন্দর, বাবুর্চি, এমনকি ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্রও লুটেরাদের দলে ছিল বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে দ্য সান পত্রিকার খবর সূত্রে জানা গেছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ লুটেরাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী লরা জনসন নামের লন্ডনের এক কোটিপতির মেয়েকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, লরা প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সিগারেট ও অ্যালকোহল লুট করেছেন। তবে লুট করার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করায় লরাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেক্সলি জেলহাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, লরা গাড়ি চালিয়ে চার্লটন ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের একটি বিপণিকেন্দ্রে গিয়ে লুটপাট চালিয়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে লরার বাবা রবার্ট ও মা লিন্ডসে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত সোমবার রাতে আলেকজান্ডার এলিয়ট (১৮) ও জোয়াহিল (১৭) নামে আরও দুজনের সঙ্গে লরা গ্রেপ্তার হন। তাঁরা সবাই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সামনে মুখ লুকানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাঁরা ছাড়াও লুটের অভিযোগে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি স্টিভেন ডেভিস বলেছেন, ওই স্কুলছাত্রকে পুলিশ সরাসরি লুট করতে দেখেছে। কিন্তু পুলিশ যখন তাকে হাতেনাতে আটক করে, তখন সে বলেছে, সে আসলে লুট করেনি। বরং জিনিসগুলো নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রাখার জন্য নিয়েছে।
এদিকে ক্রয়ডন এলাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকানে লুট করার অপরাধে অ্যালেক্স বেইলি (৩১) নামের স্টকওলের একটি স্কুলের এক শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অ্যালেক্স বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।
এ ছাড়া নটিংহামে ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ বছরের এক কিশোরীকে এবং টেলিভিশন লুটের অভিযোগে এক সমাজসেবককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে প্রচারণা চালিয়ে এ বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে স্টিভেন জোনস নামের ১৮ বছর বয়সী তরুণকে অভিযুক্ত করেন আদালত।
জানা গেছে, প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার জন্য লন্ডনের আদালত বিকেল পাঁচটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

পেন্টাগনের সহায়তার বিষয়টি তদন্তের দাবি এক আইনপ্রণেতার

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগে পেন্টাগনের সহায়তার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতা ও হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান পিটার কিং। তাঁর অভিযোগ, ওই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নির্মাতাকে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সরবরাহ করে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে ওবামা প্রশাসন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের মহাপরিদর্শককে লেখা এক চিঠিতে স্পর্শকাতর ওই সামরিক অভিযানের তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পিটার কিং। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার রাজনৈতিক সাফল্য উপস্থাপনের কৌশল হিসেবে এ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
হলিউডের অস্কার বিজয়ী নির্মাতা ক্যাথরিন বিগেলো চলচ্চিত্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে ওসামাকে হত্যার জন্য পরিচালিত মার্কিন অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এ ব্যাপারে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইরাক যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে দ্য হার্ট লকার চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য অস্কার পুরস্কার পান ক্যাথরিন বিগেলো। তিনি লাদেনকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে সেটি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ওসামাকে ধরতে এক দশকব্যাপী হন্যে হয়ে তাড়া করেছে বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় থেকেই আল-কায়েদার সঙ্গে কার্যত যুদ্ধ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের। ক্লিনটনের উত্তরসূরি জর্জ বুশের শাসনামলে সর্বগ্রাসী রূপ নেয় সেই যুদ্ধ। সারা বিশ্বের রাজনীতি পাল্টে দেওয়ার অনুঘটক ওসামাকে তাড়া করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অবশেষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে লাদেন-নাটকের যবনিকা ঘটে।
ওসামাকে নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রে ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকবে। লাদেন হত্যা অভিযানের চলচ্চিত্ররূপ যথাসম্ভব বাস্তবানুগ হবে বলে জানিয়েছেন ছবিটির নির্মাতা ক্যাথরিন বিগেলো। এ কারণেই তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও সিআইএর কাছ থেকে। চলচ্চিত্রটি ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

আর্সেনালের সংসার ভাঙছেই

শেষ পর্যন্ত আর্সেন ওয়েঙ্গারের সুখের ঘরে আগুন লাগলই। বিসিবি স্পোর্টের খবর, শুধু সেস ফ্যাব্রিগাসকে নয়, আর্সেনাল হারাতে চলেছে দলের আরেক ভরসা সামির নাসরিকেও। ফ্যাবিগ্রাস বার্সেলোনায় আর ফরাসি মিডফিল্ডার নাসরি চলে যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। এই দুই তারকাকে বিক্রি করে অবশ্য আর্থিকভাবে লাভবানই হবে আর্সেনাল। ফ্যাব্রিগাসকে ন্যু ক্যাম্পে দিয়ে সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড আর নাসরিকে বিক্রি করে দুই কোটি ২০ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড পাবে আর্সেনাল। এই টাকা দিয়ে প্রতিভাবান নতুন ফুটবলার কেনা যাবে!
দুই বছর ধরেই ঝুলে থাকা ফ্যাব্রিগাসের বিষয়টির হঠাৎ করেই নাটকীয় পরিবর্তন। আগামী মঙ্গলবারের আগেই বার্সা-আর্সেনালের চুক্তি হয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে আর্সেনাল খেলবে ইতালির উদিনেসের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটি খেললে এই মৌসুমে আর বার্সার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো ম্যাচেই খেলতে পারবেন না ফ্যাব্রিগাস। এ কারণে দুই ক্লাবই ওই ম্যাচের আগেই ফ্যাব্রিগাসের চুক্তিটি সেরে ফেলতে চায়।
দলের অধিনায়ক আর অন্যতম খেলোয়াড়কে হারানো আর্সেনালের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে, একের পর এক শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে কাটাতে গানার্স সমর্থকেরা সাফল্যের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ লিগ তারা জিতেছিল সেই আট মৌসুম আগে! ২০০৫ সালে এফএ কাপ জেতার পর আর কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি আর্সেনাল।
তবে এর মধ্যেও মন্দের ভালো দেখছে আর্সেনাল। দলের আরেক তারকা আন্দ্রেই আরশাভিন যেমন বলছেন, ‘ওদের দুজনের একজনকে হারানোও হবে অনেক বড় ক্ষতি। আমরা স্বাভাবিকভাবেই চাই সেস ও সামির দলে থাকুক। কিন্তু ওরা নিজেরাই যেহেতু আর থাকতে চাইছে না, তাই ব্যাপারটা সেরে ফেলাই ভালো।’
শেষ মুহূর্তে এসে রাজি হলেও কোচ ওয়েঙ্গার নিজে এই দুজনকে ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। কদিন আগেই এই ফরাসি এমন মন্তব্য করেছেন, এই দুই তারকাকে হারালে সেটি সমর্থক আর প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছে বার্তা পাঠাবে যে আর্সেনাল এবার শিরোপার দৌড়েই থাকছে না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মত পাল্টেছেন ওয়েঙ্গার। জোর করে খেলোয়াড় ধরে রেখে যে লাভ নেই, সেটি গত মৌসুমেই বুঝেছেন।
দলবদলের বাজারে তাই হঠাৎ আলোড়ন। শুধু আর্সেনাল খেলোয়াড় বেচছে বলেই নয়, নতুন খেলোয়াড়ও তারা কিনবে। বড় অঙ্কের বাজেট নিয়েই মাঠে নামতে পারবে তারা। আপাতত আর্সেনালের রাডারে আছেন স্কট ড্যান, গ্যারি কাহিল, ফিল জাগিলকা, হুয়ান মাতার মতো খেলোয়াড়েরা।

কোয়ার্টার ফাইনালেই ব্রাজিল-স্পেন

কোনো অঘটন ছাড়াই যুব বিশ্বকাপ পেরিয়ে গেল শেষ ষোলোর লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে টুর্নামেন্টের ফেবারিটরাই। তবে ব্রাজিল ও স্পেনের শেষ আটে ওঠাটা হয়েছে দুই ভাবে। সৌদি আরবকে ৩-০-তে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। আর শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলতে থাকা স্পেন টাইব্রেকারে (৭-৬) হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। স্পেন যেন হাঁফ ছেড়েই বাঁচতে পারছে না। কোয়ার্টার ফাইনালেই যে ব্রাজিলের সামনে পড়েছে তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স ও নাইজেরিয়া। দুটি ম্যাচেরই ফল ১-০। নাইজেরিয়া হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ফ্রান্স ইকুয়েডরকে।

ভারতীয় বোলিং নিয়ে খেলছে ইংল্যান্ড

ফর্ম ছিল না বললে অন্যায় হবে। তবে এই সিরিজের আগে ১০ টেস্টে যাঁর ৬ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটি, তিনি কিনা আগের দুই টেস্টে করলেন মোট ২০ রান! তাঁর গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও খানিকটা উঠেছিল। অ্যালিস্টার কুক বুঝিয়ে দিলেন, ওটা ছিল স্রেফ ভালো সময়ের পর খারাপ সময় আসার প্রাকৃতিক নিয়ম! ঠিক নিজের মতো খেলেই ৭১তম টেস্টে তুলে নিলেন ১৯তম সেঞ্চুরি। ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এখন চোখ রাখতেই পারেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দিনশেষে অপরাজিত ছিলেন ১৮২ রানে।
২০০৬ সালে নাগপুরে অভিষেক টেস্টের সেই সেঞ্চুরির পর এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেলেন কুক। যেভাবে খেলছেন, মনে হচ্ছে ব্যাটিং করে যাবেন অনন্তকাল ধরে! দ্বিতীয় দিনশেষে এখন নিরঙ্কুশ আধিপত্য ইংল্যান্ডের। ৩ উইকেটে তুলেছে ৪৫৬ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে লিড ২৩২ রানের।
কুকের আগেই সেঞ্চুরি পেতে পারতেন তাঁর উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী। সেঞ্চুরিটা হয়তো বেশি জরুরি ছিল তাঁর জন্যই। বছরের শুরুতে অ্যাশেজের সিডনি টেস্টে ৬০ করার পর ৮ ইনিংস ফিফটিবিহীন ছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। কাল যেভাবে খেলছিলেন, সেঞ্চুরিটা প্রাপ্যই ছিল। ইংল্যান্ড অধিনায়ককে বঞ্চিত করেছে ভাগ্য। অমিত মিশ্রকে সুইপ করছিলেন বারবার। সুইপ করতে গিয়েই বল স্ট্রাউসের গ্লাভসে লেগে, প্যাডে লেগে লেগ স্টাম্পের বাইরের অংশে আলতো ছোঁয়ায় ফেলে দেয় বেল। হতাশ স্ট্রাউস যখন ফিরছেন, টিভি রিপ্লে দেখাল মিশ্রর বলটি ছিল ‘নো’! এড়িয়ে যায় আম্পায়ার সাইমন টফেলের দৃষ্টি।
ভারতের বোলিং নিয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। না ছিল পরিকল্পনা, না ছিল বাড়তি কিছু করার স্পৃহা। বরাতজোরে পাওয়া স্ট্রাউসের উইকেটে বোলাররা জেগে উঠবেন কী, নতুন ব্যাটসম্যান ইয়ান বেলকে উপহার দেওয়া হলো একের পর এক অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল। বেল তাই প্রথম ৩০ রান তুলে ফেললেন টি-টোয়েন্টির গতিতে। এর মাঝে স্লিপে বেলের ক্যাচও ছাড়লেন দ্রাবিড়। প্রাভিন কুমারের দুরন্ত এক বল বেলকে ফেরত পাঠিয়েছে, কিন্তু ভারতীয় বোলারদের কচুকাটা করার প্রতিজ্ঞা নিয়েই যেন নেমেছে ইংলিশরা।
 জুটি
স্ট্রাউস-কুকের এটি ১১তম সেঞ্চুরি জুটি, ইংলিশ উদ্বোধনী জুটির মধ্যে সামনে কেবল হবস-সাটক্লিফ (১৫)

১৭ বছর পর ইতালি, ১৮ বছর পর জার্মানি

আঠারো বছর! ঠিক দেড় যুগ পর ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল জার্মানি। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর পরশু স্টুটগার্টে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে কোলোনে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি; পরের পাঁচটি ম্যাচের চারটিই জিতেছিল ব্রাজিল, অন্যটি হয়েছিল ড্র।
৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার, ৫ মিনিট পর দারুণ এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ‘জার্মান মেসি’ মারিও গোয়েটশে। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটা গোল শোধ করেন রবিনহো। ৮০ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করে দেন আন্দ্রে শুয়ারেল। শেষ বাঁশির আগমুহূর্তে আরেকটা গোল শোধ করেন নেইমার।
এই জয় ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের আগে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাল জার্মানদের। তবে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস পেয়েছে মনে হয় ইতালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ২-১ গোল হারিয়ে। স্পেনের বিপক্ষে ইতালির এই জয়টাও ১৭ বছর পর। স্পেনের বিপক্ষে ইতালি সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপে।
বারিতে ১১ মিনিটেই রিকার্ডো মন্তোলিভোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক ইতালি। কিন্তু পেনাল্টি থেকে প্রথমার্ধেই গোলটা শোধ করে দেন জাবি আলোনসো। খেলা শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে আলবার্তো অ্যাকুইলানির শট রাউল আলবিওলের পায়ে লেগে দিক পাল্টে ঢুকে যায় জালে। ভাগ্যগুণে পেয়ে যাওয়া এই গোলটাই জিতিয়েছে ইতালিকে।
সে যাই হোক, এই জয় সিজারে প্রানদেল্লির তরুণ ইতালিকে উজ্জীবিত করবে নিশ্চিত। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বেশ কিছু আক্রমণে বারবার কোণঠাসা হয়ে পড়া ইতালি এই ম্যাচেও কিছু দুশ্চিন্তা দিয়ে রাখল কোচকে। প্রানদেল্লি সেটাই বলেছেন ম্যাচ শেষে, ‘আমরা ভালো খেলতে খেলতে হুট করে ছন্দ হারিয়ে ফেলছি। আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে।’
স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কও তাই এই পরাজয় নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। বিশেষ করে দলের অনেক তারকাকে এই ম্যাচে যখন পাননি। দেল বস্ক বলছেন, ‘শুরুতে আমাদের খেলায় একটু জড়তা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। বেশ কিছু খেলোয়াড়কে এই ম্যাচে না পাওয়ার পরও যেভাবে খেললাম তাতে আমি সন্তুষ্ট।’
মানো মেনেজেসের প্রতিক্রিয়ায় মিশে আশে সন্তুষ্টি আর দুশ্চিন্তা। জার্মানির কাছে ১৮ বছর পর হেরে যাওয়াতেও বড় কোনো বিপদবার্তা দেখছেন না ব্রাজিল কোচ। দলটা যে একটা পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, সেটাই মনে করিয়ে দিলেন মেনেজেস। তবে এটাও বলেছেন, ‘আমাদের লম্বা একটা পথ পাড়ি দিতে হবে। শুধু ভালো খেলতে চাওয়াই যথেষ্ট নয়। আমরা আরও ভালো করতেই চাইব। ফুটবলে অলৌকিক কিছু ঘটে না। পরিশ্রম করেই আমাদের এই ধাপগুলো পেরোতে হবে। তিনজন ফরোয়ার্ড আর একটা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার খেলিয়েও আমরা প্রত্যাশিত আক্রমণাত্মক মেজাজটা পাচ্ছি না।’
জার্মান কোচ জোয়াকিম লো দলের খেলায় তৃপ্ত। বিশেষ করে তরুণদের খেলায়। গোয়েটশের গোলটার কথাই আলাদা করে বললেন, ‘এত বেশি খেলোয়াড় আমার হাতে আছে আমি আনন্দিত। মাঠের জায়গা বদলানোর ব্যাপারে গোয়েটশের বিচার-বুদ্ধি আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

জোকোভিচের জয়, নাদালের পরাজয়

দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে এক নম্বর হিসেবে যাত্রা শুরু হলো নোভাক জোকোভিচের। অন্যদিকে যাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন রাজ্যপাট, সেই রাফায়েল নাদাল হেরে গেছেন। উইম্বলডন ফাইনালের পর পরশুই প্রথম কোর্টে নেমেছিলেন বিশ্বের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। কানাডার মন্ট্রিয়ল মাস্টার্সে পরশু জোকোভিচ হারিয়েছেন রাশিয়ার নিকোলাই ডেভিডেঙ্কোকে। নাদাল হেরেছেন অচেনা মুখ ক্রোয়েশিয়ার ইভান ডডিগের কাছে।
পরশুর জয়টি ২০১১ সালে জোকোভিচের ৪৯তম জয়। তবে এক নম্বর হিসেবে অভিষেকে প্রথম দিকে কিছুটা জড়তা ছিল। বছরের দ্বিতীয় পরাজয় চোখও রাঙিয়েছিল জোকোভিচকে। প্রথম সেটে ডেভিডেঙ্কো এগিয়ে গিয়েছিলেন ৪-১ গেমে। এর পরই স্বরূপে ফেরেন টেনিসের নতুন রাজা। ম্যাচের ফল ৭-৫, ৬-১।
এক নম্বর হওয়ার পর কিছুটা হলেও কি পাল্টায়নি জীবন, এমন প্রশ্নের উত্তরে জোকোভিচ বলেছেন, ‘অবশ্যই, লোকজন এখন আমাকে একটু ভিন্ন চোখেই দেখে। কাঁধে বাড়তি চাপও অনুভব করছি।’
স্বপ্ন পূরণ হওয়াটাকে উপভোগই করছেন এ বছর দুটি গ্র্যান্ড স্লামসহ আটটি শিরোপা জেতা জোকোভিচ। অন্যদিকে বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় নাদাল অবাছাই ডগিগের কাছে হেরেছেন ১-৬, ৭-৬, ৭-৬ গেমে। ২০০৮ সালের রোম মাস্টার্সের পর এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই হারলেন। পরাজয়টা নাদালের ফ্লাশিং মিডোর প্রস্তুতিতে ভালোই প্রভাব ফেলবে। এ মাসের শেষে নিউইয়র্কে ইউএস ওপেনের শিরোপা ধরে রাখতে নামবেন তিনি।
টরন্টোতে রজার্স কাপের প্রথম ম্যাচেই মেয়েদের এক নম্বর ক্যারোলিন ওজনিয়াকি অবাছাই ইতালিয়ান রবার্তা ভিঞ্চির কাছে হেরেছেন ৬-৪, ৭-৫ গেমে।