Monday, September 28, 2026

ইমরান খানের মুক্তি কোন পথে, আন্দোলন স্থগিতের পর কী করছে পিটিআই

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারাগারে থাকা ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। এর আগে ইমরানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক অবরোধ এবং পিটিআই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তার দল ও পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করে আসছে। সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একাকী বন্দিত্ব বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আগস্টে জানিয়েছিল, ইমরান একজন দণ্ডিত বন্দি হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরোধের সর্বশেষ বড় ঘটনা ঘটে আগস্টে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ জানানো হলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ১৮ আগস্ট তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসায় যুক্ত করা, নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত একটি বহুবিষয়ক চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথাও বলে।

তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। পাকিস্তান সরকার ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) রাতে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে পরদিন ভোরে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে কারাগারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী বলে মত দিয়েছেন।

এরই মধ্যে ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে আসছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দেয়। আদালত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে বলে।

আগস্টে অবশ্য দীর্ঘ বিরতির পর ইমরান তার বোন নোরিন এবং স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তার বোনদের সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয় বলে পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইমরানের বোনেরা আবারও তাকে দেখতে পারেননি।

ইমরানকে ঘিরে সর্বশেষ বড় উত্তেজনা তৈরি হয় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে। দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। মূল দাবি ছিল ইমরান খানের মুক্তি। এর আগে সরকার রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসানো, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ইসলামাবাদে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শত শত পিটিআই কর্মীকে আটক করা হয়।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টও পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত দীর্ঘমার্চ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রাদেশিক সরকার এমনভাবে রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা প্রবেশপথ দখল করতে পারে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইমরানের তিন বোনকে আটক করা হয়। প্রথমে আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়। এরপর উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ আইনের অধীনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। পিটিআই ও তাদের আইনজীবীরা আটককে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেন। লাহোর হাইকোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আটকাদেশ স্থগিত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।

ইমরানের বোনদের গ্রেপ্তারকে পিটিআই তাদের নেতার ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। পিটিআই ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে, ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি জানান, নতুন নির্ধারিত তারিখে পেশোয়ার থেকে দীর্ঘমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীমুখী দীর্ঘমার্চের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।

মার্চ পিছিয়ে দেওয়ার আগে পিটিআই ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে একাধিক যোগাযোগের খবরও এসেছে। গত চার-পাঁচ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি ব্যাকচ্যানেল বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় হিসেবে পিটিআইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে আলোচনায় ইমরানের চিকিৎসা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থান নিয়েও সম্ভাব্য ছাড়ের কথা উঠেছিল। তবে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে।

ইমরানের ছেলে কাসিম খানও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে তিনি সমর্থকদের আদিয়ালা কারাগারের কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা ছিল, কারাগারের কাছে বড় জমায়েত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং তার বাবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিজে কারাগারে থাকলেও তাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত থামেনি। বরং তার স্বাস্থ্য, কারাগারে সুযোগ-সুবিধা, পরিবারের সাক্ষাৎ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।

এখন পিটিআইয়ের সামনে নতুন তারিখ ৪ অক্টোবর। ওই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকার রাজধানীতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে এবং ইমরানের পরিবার ও দলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না—এসবই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন এবং তার মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, জিও নিউজ, ডন, দ্য নিউজ পাকিস্তান, আরব নিউজ, এপি নিউজ, দ্য ইকোনমিক টাইমস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান

ইমরান খানের মুক্তি কোন পথে, আন্দোলন স্থগিতের পর কী করছে পিটিআই

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশ—ইরান, ইসরাইল কিংবা অন্য কারও বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরোধ সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোয়ান বলেন, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চুক্তির মূল বিধান অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আক্রান্ত দেশের প্রয়োজন ও অনুরোধের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ধারণ করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা কিংবা গোলাবারুদ সরবরাহ থাকতে পারে। হুমকির মাত্রা অনুযায়ী আরো ব্যাপক সামরিক সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তবে কোনো হামলা ঘটলেই তুরস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে—এমন কোনো পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এরদোয়ান আরো বলেন, ইরাক, ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো স্থানে সম্ভাব্য প্রতিটি ঘটনার জন্য আগেই স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার ছক তৈরি করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসরাইল–তুরস্ক সম্পর্ক

সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরাইলে সম্প্রতি তুরস্ককে একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রচারণা তৈরি হয়েছে। তিনি এর সঙ্গে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পর্যন্ত বিভিন্ন সংকটে শান্তির উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা তুরস্কের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিয়া ও ইরান প্রসঙ্গ

সিরিয়ার স্থিতিশীলতাকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তার মতে, সিরিয়ার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে আনা দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। কুর্দিরাও যেন সমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারেন, তুরস্ক এমন একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে বলে তিনি জানান।

ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্ক সতর্কভাবে নজর রাখছে বলে জানান এরদোয়ান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইরানের জনগণের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত এবং কোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানে পিকেকে/পিজেএকে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।

সব মিলিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কোনো নতুন ইরান বা ইসরাইলবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে উপস্থাপন না করে তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক আঞ্চলিক সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নীতি বজায় রাখবে—এমন বার্তাও তিনি দিয়েছেন।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও নিউজউইক

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান বা ইসরাইলের বিরোধী নয়: এরদোয়ান

নরক হয়ে উঠেছে ওলেশকি, ঘাস-আগাছা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা

ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহরে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা প্রায় বন্ধ। খাদ্য সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় শহরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ এখন বাগানের ঘাস ও আগাছা রান্না করে খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। নিরাপদে বের হওয়ার পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের এই শহরে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

এক নারী জানান, শহরে খাবার শেষ হয়ে গেছে। তিনি একসময় ১১০ কেজি ওজনের ছিলেন, এখন তার ওজন ৬৭ কেজিতে নেমে এসেছে। তিনি জানান, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার না পেলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে তার নিজের বাড়ি ও যেখানে গত শীতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই বাড়িটিও ধ্বংস হয়েছে।

ওলেশকি খেরসন শহরের বিপরীতে ডিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই শহরটি রুশ বাহিনীর দখলে রয়েছে। বর্তমানে এটি ইউক্রেনীয় ও রুশ বাহিনীর মধ্যবর্তী একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

বন্ধ খাবার সরবরাহ

ওলেশকির ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, শহরে শেষ খাদ্য সরবরাহ মে মাসে পৌঁছেছিল। এরপর দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসিন্দাদের হাতে থাকা খাদ্যও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়।

খাবারের অভাবে অনেকে বাগানে জন্মানো আগাছা সংগ্রহ করে রান্না করছেন। স্থানীয় যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপগুলোতে কোন আগাছা খাওয়ার উপযোগী এবং কীভাবে সেগুলো রান্না করতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

শহরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কেন্দ্রীয় পানির সরবরাহও নেই। কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর ২০২৩ সালে ভয়াবহ বন্যায় ওলেশকির বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর থেকে শহরের স্বাভাবিক জীবন আর ফিরতে পারেনি।

খাবার আনতেও মৃত্যুর ঝুঁকি

খাবারের সন্ধানে পাশের এলাকায় যাওয়াও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এক স্থানীয় নারী জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর এক দম্পতি ওলেশকি থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের রাদেনস্ক এলাকায় খাবার আনতে গিয়েছিলেন। কারফিউয়ের আগে তারা শহরে ফিরতে পারেননি। পরে ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।

এ ধরনের ঘটনার কারণে স্থানীয়রা খাবারের জন্য শহরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। রাস্তার বিভিন্ন এলাকায় মাইন থাকার পাশাপাশি আকাশে ড্রোনের উপস্থিতিও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

লাশ পড়ে থাকার অভিযোগ

শহরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার আরেকটি চিত্র উঠে এসেছে মৃতদের দাফন নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, বিভিন্ন হামলা বা বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ যথাযথভাবে দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একাধিক ছবি পেয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, কিছু মরদেহ দীর্ঘদিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কিছু লাশ রাস্তায় পড়ে থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের ইউক্রেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাবে, চলতি বছর ওলেশকি ও কাছাকাছি হোলা প্রিস্তান এলাকায় অন্তত ২৯ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ৫৪ জন আহত হওয়ার খবর নথিভুক্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের হিসাব আরো বেশি।

‘প্রায় কিছুই খাওয়ার নেই’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ২৫ সেপ্টেম্বর ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, শহরে প্রায় কোনো খাবার অবশিষ্ট নেই। কিছু বেসামরিক মানুষ ঘাস ও আগাছা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শিশুদেরও একই পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

সিবিহা জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দ্রুত ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। যারা শহর থেকে বের হতে চান, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থারও দাবি করেন তিনি।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই সংকটের জন্য রাশিয়ার দখলকে দায়ী করা হয়েছে। তবে রুশ পক্ষ পাল্টা অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনীয় হামলার কারণে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ২১ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ বলে স্বীকার করলেও এর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন এবং বলেন, রুশ সেনারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

ড্রোনে খাবার পাঠাল ইউক্রেন

এর মধ্যেই ওলেশকির বাসিন্দাদের জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে খাবার পাঠিয়েছে। খেরসন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর প্রায় চার টন খাদ্য ১০০টি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।

খেরসন কর্তৃপক্ষ বড় ড্রোন ব্যবহার করে ওলেশকি ও আশপাশের এলাকায় জরুরি খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে। প্রায় চার টন খাবার ১০০টি স্থানে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এর কতটা রুশ বাহিনী আটক করেছে বা সব মানুষের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

পালানোর পথও বন্ধ

ওলেশকির বাসিন্দাদের জন্য শহর থেকে বের হয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিনিপ্রো নদী একদিকে এবং রুশ বাহিনীর অবস্থান অন্যদিকে থাকায় নিরাপদ স্থলপথ সীমিত। মাইন ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করে এই মানুষগুলোকে বাঁচানো যাবে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বাস্তবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিরাপদে বেসামরিক মানুষ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও'ফ্লাহার্টিও ২৫ সেপ্টেম্বর ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের অভাবে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি মানবিক সহায়তার সুযোগ এবং বেসামরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

একসময় ২৪ হাজার মানুষের প্রাণচঞ্চল শহর ওলেশকি এখন যুদ্ধ, দখল, ধ্বংস ও খাদ্যসংকটে প্রায় জনশূন্য। যারা এখনও সেখানে রয়ে গেছেন, তাদের সামনে একদিকে খাবার ও চিকিৎসার সংকট, অন্যদিকে পালানোর পথে মাইন ও ড্রোন হামলার ভয়। ফলে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের এই শহরটি এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি

নরক হয়ে উঠেছে ওলেশকি, ঘাস-আগাছা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা

৬৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙলে একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে ২৮ মসজিদ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ছয় শতাধিক বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটিয়েছেন শত শত মুসলিম। মসজিদ রক্ষার দাবিতে অবস্থানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন।

ইন্দোরের আলেম মুফতি জুনাইদ অবশ্য বিষয়টিকে আরো বিস্তৃত আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরো ২৮টি মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের পুনর্বিন্যাসের নামে পুরোনো মসজিদগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, শাহী মসজিদটি ১৩৯০ সালের স্থাপনা এবং এর বয়স প্রায় ৬৩৬ বছর। মসজিদ পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে পুরোনো সরকারি নথিও রয়েছে।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই আন্দোলনকে ‘গান্ধীবাদী’ বা অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় স্থাপনা এভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়।

রোববার রাতেও মসজিদের বাইরে বুলডোজার অবস্থান করছিল। সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও ভাঙার কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন। রোববার রাতে মসজিদ এলাকায় মানুষের উপস্থিতি আরো বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেওয়ায় ওই রাতে মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙার কার্যক্রম এগোয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

মসজিদে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিবাদ নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা পালাক্রমে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে।

মসজিদটি উজ্জয়নের মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়েন পৌর করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এই প্রকল্পের নির্ধারিত অংশে শাহী মসজিদের কিছু স্থাপনা পড়েছে।

প্রস্তাবিত অপসারণের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নামাজের হলের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজহার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মসজিদ পরিচালনাকারীরা এর বৈধতা নিয়ে আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব এবং ধর্মীয় স্থাপনা বাদ দিয়েও রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে।

অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমনকে সামনে রেখে যান চলাচল ও জনসুবিধার জন্য সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মামলার রায়ে সড়ক সম্প্রসারণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

মসজিদ ভাঙার বিষয়ে এর আগে করা দুটি আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েই পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও গ্রহণ করেনি।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ নতুন করে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করেছে। ওই আবেদনের শুনানি সোমবার হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে মসজিদ ভাঙার কার্যক্রমের পরবর্তী গতি আদালতের নতুন শুনানির ওপরও নির্ভর করছে।

মুসলিম পক্ষের আরো দাবি, এর আগে উজ্জয়নের তাখিয়া মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই শাহী মসজিদের ক্ষেত্রে তারা এবার সরাসরি মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৬০০-এর বেশি পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিশেষ বাহিনীর সদস্য এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত আছে এবং একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চলছে। ফলে উজ্জয়নের এই বিরোধ এখন শুধু একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক মর্যাদা, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।

সোমবারের আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপই এখন নির্ধারণ করবে শাহী মসজিদের বিতর্কিত অংশ শেষ পর্যন্ত অপসারণ করা হবে কি না। এর মধ্যে মসজিদের ভেতরে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত থাকায় উজ্জয়নে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ফ্রী প্রেস জার্নাল, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য ডেইলি ওয়াদা

৬৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙলে একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে ২৮ মসজিদ

মসজিদ ভাঙতে বুলডোজার ও পুলিশ মোতায়েন, উত্তপ্ত ভারতের মধ্যপ্রদেশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ ঠেকাতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন মুসলিমরা। রোববার রাতে মসজিদ ভাঙতে বুলডোজার আনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ওই রাতে ভাঙার অভিযান স্থগিত করে বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মাকতুব।

সোমবারও মসজিদের ভেতরে শত শত মুসলিম অবস্থান করেন। দুপুরের নামাজের পরও সেখানে অন্তত ১ হাজার মানুষ ছিলেন । যদিও অবস্থানকারীরা পালাক্রমে মসজিদে থাকছেন, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী সব সময়ই সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকছেন। মসজিদে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে।

মসজিদে অবস্থানকারী স্থানীয় বাসিন্দা তৌকির খান বলেন, মসজিদ রক্ষার জন্য এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে পালাক্রমে সেখানে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ অবস্থান চলছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে মসজিদের আশপাশে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয় এবং বুলডোজার আনা হয়। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে শেষ পর্যন্ত অভিযান বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

মসজিদ নিয়ে বিরোধ চলমান থাকায় এর বিষয় দেখভালের জন্য ১১ সদস্যের একটি নুমাইন্দা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মতিতে গঠিত ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদের ভেতরে পালাক্রমে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শাহী মসজিদটি উজ্জয়নের মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে ওই এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে উজ্জয়েন পৌর করপোরেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার জন্য মসজিদের একটি অংশ অপসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ভাঙার মধ্যে রয়েছে মসজিদের নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজহার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মসজিদ পরিচালনাকারীদের দাবি, স্থাপনাটি শত বছরেরও বেশি পুরোনো এবং এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের পক্ষে পুরোনো সরকারি নথিও রয়েছে।

মসজিদ কমিটির উদ্ধৃত নথির মধ্যে রয়েছে ১৯২৫ সালের একটি চিঠি। তৎকালীন সিন্ধিয়া শাসিত গ্বালিয়র সরকারের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের ওই চিঠিতে জমি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মসজিদের অবশিষ্ট অংশ অক্ষত রাখার নির্দেশের কথা বলা হয়েছে বলে কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালের মধ্যপ্রদেশ সরকারের একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতেও মসজিদটির নাম ও পরিমাপের উল্লেখ রয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি অবস্থান এখন মসজিদ পরিচালনাকারীদের প্রত্যাশার অনুকূলে নেই। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি উজ্জয়েন পৌর করপোরেশনের জারি করা ভাঙার নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি আবেদন খারিজ করেছে।

বিচারপতি সন্দীপ এন ভাটের আদালত মনে করেছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আদালত সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও গ্রহণ করেনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমন, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জনসুবিধার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মহাকালেশ্বর মন্দির ও ক্ষিপ্রা নদীর কাছে মসজিদটির অবস্থানও সড়ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মসজিদ পরিচালনাকারী পক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত ভাঙার ফলে শুধু একটি ভবনের অংশ অপসারণ হবে না; এর সঙ্গে মসজিদের নামাজের স্থান, মিনার ও ঐতিহাসিক কাঠামোর একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা পৌর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে, ইন্দোরের বিশিষ্ট আলেম মুফতি জুনাইদ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, উজ্জয়নের পুরোনো তাখিয়া মসজিদ ভাঙার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা ভাঙা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মুফতি জুনাইদের বক্তব্য, তাখিয়া মসজিদের ঘটনার পর শাহী মসজিদ নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলে মুসলিমরা এবার প্রশাসনের আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই মসজিদ রক্ষায় অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরো দাবি করেন, শাহী মসজিদ ভাঙার পর উজ্জয়নের আরো ২৮টি মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তার অভিযোগ, শহর পুনর্বিন্যাসের নামে একের পর এক পুরোনো মসজিদ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে এই অভিযোগের বিপরীতে প্রশাসনের পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ, যান চলাচল এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য জনসুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মসজিদ পক্ষের আইনজীবী জায়েদ পাঠান বলেন, নুমাইন্দা কমিটি তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, আপাতত মুসলিমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। প্রস্তাবিত ভাঙার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মসজিদটি রক্ষাই এই অবস্থানের উদ্দেশ্য।

মুফতি জুনাইদ অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে আরো কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। তার বক্তব্য, মুসলিমরা প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না; কিন্তু ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষায় তারা মসজিদের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবেন। তিনি এমন কথাও বলেছেন যে, বুলডোজার চালানোর আগে সেটি তাদের ওপর দিয়ে চালাতে হবে। তার এসব বক্তব্য মুসলিম পক্ষের ক্ষোভ ও আশঙ্কার মাত্রা তুলে ধরলেও এগুলো তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।

এদিকে মসজিদটির চারপাশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে মাকতুব জানিয়েছে। ফলে একদিকে মসজিদের ভেতরে মুসলিমদের অবস্থান, অন্যদিকে বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি—দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি বিষয়—সড়ক সম্প্রসারণের সরকারি পরিকল্পনা, শাহী মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে মর্যাদা এবং আদালতে চলমান আইনি লড়াই। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষের ভাঙার নোটিশের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ করেছে। এখন মসজিদ পরিচালনাকারী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদালত এ বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এর মধ্যে মসজিদে মুসলিমদের অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন আবারও বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ একটি নগর উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ এখন ধর্মীয় স্থাপনা, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, আদালতের নির্দেশ এবং স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিবাদের প্রশ্নে বিস্তৃত হয়েছে।

মসজিদ ভাঙতে বুলডোজার ও পুলিশ মোতায়েন, উত্তপ্ত ভারতের মধ্যপ্রদেশ

পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ফের শুরু করতে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরানের নেতারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ, এমনকি অবরোধ বা নতুন করে বিমান হামলা হলেও তা সামলে নেওয়া সম্ভব।

মধ্যস্থতাকারীদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আপস করিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে এ উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের কাছ থেকে এমন একটি ছাড় আদায় করা, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে পারে। কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে ট্রাম্প সংঘাতের মূল লক্ষ্যকে আবারও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনাও অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে দেশটির সরকারকে ‘ধ্বংস’ করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন।

আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সরকারি কর্মকর্তারা, যারা ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, তেহরানের নেতৃত্ব মনে করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সহ্য করতে পারবে। এমনকি মার্কিন অবরোধ কিংবা নতুন করে বিমান হামলা হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে তারা মনে করছে।

আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানও চায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিক, যাতে আলোচনার অগ্রগতি সম্ভব হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে হামলা চালায়।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এখন প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কী ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কী সমঝোতা হবে; তা এখনো স্পষ্ট নয়

সূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : এএফপি
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : এএফপি

ইসরাইলের মদতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা এবং তাদের জমি দখলের ঘটনাকে ইসরাইলি সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফ্রান্স। রোববার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি ইসরাইলিদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

ফ্রান্স ইন্টার রেডিও ও ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তার প্রতি ইসরাইলি সরকারের মনোভাব অপরাধমূলক ও লজ্জাজনক পর্যায়ের প্রশ্রয়পূর্ণ।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দেওয়া বক্তব্যের পর বারোর মন্তব্য এলো। ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, পশ্চিম তীরে প্রতিদিনই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং এগুলো কার নামে করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস পশ্চিম তীরে কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে এটিকে ‘অহংকারী অযৌক্তিকতা’ বলে আখ্যা দেয়। বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, হামাসের সদস্যরা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বারো অবশ্য ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের বক্তব্য স্পষ্ট—ইসরাইল সরকারের নীতি গাজা কিংবা পশ্চিম তীর, কোথাও হামাসকে দুর্বল করছে না।’

পশ্চিম তীরে হামাসের কার্যক্রম আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বারো সরাসরি 'হ্যাঁ' বা 'না'—কোনোটিই বলেননি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে ফ্রান্সের অবস্থান ইসরাইলি সরকারের চেয়ে ভিন্ন। তিনি যুক্তি দেন যে, হামাসকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার দোহাই দিয়ে পশ্চিম তীরের ঘটনাপ্রবাহের প্রতি যে প্রশ্রয়মূলক নীতি নেওয়া হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করা যায় না।

বারো আরও বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৈরী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে অপপ্রচার, সাইবার অভিযান এবং অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার কোনো ড্রোন দিয়ে ফ্রান্সের বিমানবন্দর বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি যোগ করেন যে, ফ্রান্স দীর্ঘ সময় ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইসরাইলের মদতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত।

আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন বেন গভির

আল-জাজিরাঃ ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে এমন বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলেছেন তিনি।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি হাসান সালামেহর সঙ্গে কথা বলছেন বেন-গভির। একপর্যায়ে সালামেহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাই।’

ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে বেন-গভির তার অবস্থান আরো স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে সালামেহর মতো বন্দিদের ‘মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবেন’।

শুধু বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের কথাই নয়, একই বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার নীতি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বেন-গভির।

হাসান সালামেহ ১৯৯৬ সাল থেকে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি। ১৯৯০-এর দশকে প্রাণঘাতী কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব মামলায় তাকে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা বলেছে, ভিডিওটি সালামেহর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মৃত্যুর হুমকি’। এ ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছে তারা।

নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের এই বক্তব্য ইসরাইলের বন্দি নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে।

আবার মন্ত্রী হলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন বেন গভির
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যা করা হয়েছে, পশ্চিম তীরেও তা করা উচিত -ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ

আল-জাজিরাঃ গাজায় ইসরাইল যা করেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও একই কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ।

তিনি পশ্চিম তীরে যুদ্ধ শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল রোববার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্মোতরিচ। তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় ইসরাইলি সেনাদের যুদ্ধ করতে হবে। গাজায় যা করা হয়েছে, সেখানেও তা-ই করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তার ভাষ্য, পিএ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সাক্ষাৎকারে স্মোতরিচের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়ায় কোনো ‘সন্ত্রাসী’ অবকাঠামো রাখা যাবে না। সেখানে ‘কোনো সন্ত্রাসী থাকবে না, কোনো অস্ত্র থাকবে না, কোনো সুড়ঙ্গ থাকবে না’।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। চলতি বছরে এই সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষা পাওয়া এসব অবৈধ বসতি স্থাপনকারী বিভিন্নভাবে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে গুলি চালানো, বাড়িঘর অবরোধসহ বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা রয়েছে।

‘এটা ইসরাইলের নীতি’

স্মোতরিচের বক্তব্যের পর গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর এই মন্তব্য দেশটির সরকারি নীতিরই অংশ। এই নীতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা, তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, জমি দখল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা। এসবের মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরো উৎসাহিত হবে ইসরাইলি সরকার। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা আরো বাড়তে পারে।

এদিকে স্মোতরিচের এমন বক্তব্যের সময়ই ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কত’ উপলক্ষে পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল সরকার। এর ফলে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ থাকবে।

গাজায় যা করা হয়েছে, পশ্চিম তীরেও তা করা উচিত
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। ছবি: রয়টার্স

প্রকাশ্যেই অশালীন ভাষা ট্রাম্পের, বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির ভাষা

দ্য গার্ডিয়ানঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য, সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অশালীন ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষার ব্যবহার ক্রমেই নিয়মিত হয়ে উঠছে। একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এ ধরনের ভাষা এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যেও জায়গা করে নিয়েছে। এর প্রভাব শুধু ট্রাম্পের ভাষাতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পড়ছে বলে ভাষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এমন কিছু অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যে শোনা যায়নি। তার ভাষার এই ধরন এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কথাবার্তার গ্রহণযোগ্যতার সীমাও বদলে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের প্রকাশ্য অশালীন ভাষার অন্যতম আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের জুনে। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি দুই দেশকে নিয়ে প্রকাশ্যে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। এরপর একই বছরের অক্টোবরে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিয়েও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন।

চলতি বছরও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এমন ভাষা দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইরানকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

আগে যা ছিল ব্যক্তিগত, এখন প্রকাশ্য

মার্কিন রাজনীতিতে অশালীন ভাষার ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন ও রিচার্ড নিক্সন ব্যক্তিগত কথাবার্তায় এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে এসব বক্তব্য মূলত গোপন রেকর্ডিং প্রকাশের পর জনসমক্ষে আসে।

২০০০ সালের নির্বাচনী প্রচারে জর্জ ডব্লিউ বুশের একটি অশালীন মন্তব্য সরাসরি মাইক্রোফোনে ধরা পড়ার পর তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তখন রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্য বক্তব্যে শালীন ভাষা প্রত্যাশা করা হতো।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় সেটিকে তার বক্তব্যের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই ব্যবহার করছেন। ফলে রাজনৈতিক ভাষায় পুরোনো সামাজিক নিষেধাজ্ঞাগুলো দুর্বল হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

‘সাধারণ মানুষের মতো’ শোনানোর কৌশল

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনের ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক মাইকেল অ্যাডামস, যিনি অশালীন ভাষার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করেছেন, গার্ডিয়ানকে বলেন, ট্রাম্পের গালিগালাজের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর একটি হলো নিজের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জোরালো ও অনির্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা; অন্যটি হলো প্রচলিত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেন না—এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরি করা।

ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের মার্কিন রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক জোসেফ ফিলিপসের মতে, রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাষা ব্যবহার করে রাজনীতিবিদরা নিজেদের আরও ‘আপনজন’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন বলে তিনি মনে করেন।

অর্থাৎ অশালীন ভাষা শুধু রাগ প্রকাশের মাধ্যম নয়; রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি কৌশল হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার চেয়ে বেশি সরাসরি, উত্তেজনাপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করে নেতারা সমর্থকদের সঙ্গে আবেগগত যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্প একা নন

এই প্রবণতা শুধু ট্রাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বক্তৃতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সামরিক বাহিনীর কিছু পুরোনো নীতির সমালোচনা করতে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে অভিবাসন ও সীমান্তরক্ষী সংস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থও সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নীতির সমালোচনায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন যত তীব্র হচ্ছে, রাজনৈতিক বক্তব্যেও তত বেশি আক্রমণাত্মক ও অনানুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচার কি বদলে যাচ্ছে?

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান দিয়েগোর জ্ঞানবিজ্ঞান অধ্যাপক বেঞ্জামিন বার্গেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগে যেসব জায়গায় অশালীন ভাষা অকল্পনীয় ছিল, সেখানেও ভবিষ্যতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ভাষার প্রচলিত সামাজিক নিয়মই পরিবর্তিত হচ্ছে।

তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অধ্যাপক বার্গেনের মতে, কোনো এক প্রজন্মের রাজনীতিবিদ অতিরিক্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে পরবর্তী প্রজন্ম তার বিপরীত প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ভাষা আবার শালীনতার দিকে ফিরে যেতে পারে।

ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড বনাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির গুরুত্বও এই প্রবণতার পেছনে কাজ করছে। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরি এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এখন রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলিপসের মতে, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরির সুযোগ বেশি। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরির প্রণোদনাও মার্কিন রাজনীতিবিদদের মধ্যে বেশি।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি অংশ হলো প্রচলিত রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রতিষ্ঠিত রীতির বাইরে অবস্থান নেওয়া। অশালীন ভাষা সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক যোগাযোগেরই একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গেও উত্তেজনা

ট্রাম্পের ভাষার এই পরিবর্তনের সঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনও যুক্ত হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর এক নারী সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, তিনি শুধু তাকে সমর্থন করে এমন সংবাদমাধ্যমকেই হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে রাখতে চান কি না। ট্রাম্প প্রশ্নের জবাবে ওই সাংবাদিককে ‘চুপ থাকতে’ বলেন এবং সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে তার পুরোনো অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে ট্রাম্প একাধিক সংবাদমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অশালীন ভাষা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে শুরু করে তার প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিরোধী দলের কিছু নেতার বক্তব্যেও এ ধরনের ভাষা ব্যবহারের নজির রয়েছে।

ভাষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পেছনে রাজনৈতিক মেরুকরণ, রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেকে ঘনিষ্ঠ দেখানোর চেষ্টা এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরির প্রবণতা কাজ করছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—যে ভাষা একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল, সেটিই এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুধু নীতি ও মতাদর্শ নয়, রাজনৈতিক ভাষার গ্রহণযোগ্য সীমাও নতুন করে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ্যেই অশালীন ভাষা ট্রাম্পের, বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির ভাষা

গাজায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ, চাপা পড়ে আছে ১০ হাজার মরদেহ

গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে ভয়াবহ এক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা উপত্যকায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এর নিচে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় এ ধরনের অভিযান হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘের হিসাবে, পুরো ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। এ কাজে ব্যয় হতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলার।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে তৈরি হওয়া মোট ধ্বংসস্তূপের প্রায় ২০ গুণ।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় কর্মীরা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে ত্রাণবাহী গাড়ি, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল সহজ হয়েছে।

তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পরও এ কাজে অগ্রগতি খুব ধীর। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশের মতো।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর নিচে মানুষের মরদেহের পাশাপাশি অবিস্ফোরিত বোমা ও অন্যান্য বিস্ফোরক পড়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপে অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থও রয়েছে।

গাজায় প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশেও বড় ধরনের বাধা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনেক সরঞ্জামকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয় না। ফলে সেখানে থাকা পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি গাজায় পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধাতু ও অন্যান্য উপকরণ আলাদা করে কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরায় পরিণত করা হচ্ছে।

পুনর্ব্যবহার করা এই উপকরণের বড় একটি অংশ সড়ক মেরামত ও গর্ত ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ধ্বংসস্তূপ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ের নিচে দিয়ে মাটি উঁচু করতেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের পানি সেখানে না জমে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রকৌশলী নেহাল আবু হাসান বলেন, এসব উপকরণের মান সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় কম। তবে প্রয়োজনীয় বিকল্প না থাকায় পরিস্থিতির কারণে এগুলোই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তিও ফিরছে। রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে, যানবাহন চলাচল সহজ হচ্ছে এবং ইঁদুর-পোকামাকড়ের উপদ্রব কমছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দোকান ও ছোট ব্যবসা আবার চালু করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

তবে বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ সরানোর বিষয়টি পরিবারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের স্বজনের মরদেহ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং জীবনের স্মৃতি চাপা পড়ে থাকতে পারে।

ইউএনডিপির হিসাবে, এখনো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে। মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ইউএনডিপি।

মরদেহ শনাক্ত করার পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনডিপির কর্মকর্তা জ্যাকো সিলিয়ার্স।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা আরেকটি বড় ঝুঁকি। ডব্লিউএফপি ও ইউএনডিপি জাতিসংঘের মাইন অপসারণবিষয়ক সংস্থা, হালো ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে সীমিত সক্ষমতার কারণে সব অবিস্ফোরিত বোমা সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোতে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আংশিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ মনে করে বাড়িতে ফিরে যাওয়া পরিবারগুলোর ওপর ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের ফেরার আগে ভবনের নিরাপত্তা যাচাই করাও পুনরুদ্ধার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

গাজার ধ্বংসস্তূপ। ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া
গাজার ধ্বংসস্তূপ। ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাল, ধূমপান ছাড়লে প্রথম দিন থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কী কী ঘটে by জাকারিয়া সুমন

প্রকাশ ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ ধূমপানের অভ্যাস মানবদেহে নীরব ক্ষতি ডেকে আনে, এটা অজানা নয়। অনেক ধূমপায়ী ভাবেন, এত বছর ধূমপান করার পর আর কীই-বা হবে! কিন্তু আশ্চর্যজনক সত্যি হলো, ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করলে শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুততায় নিজেকে মেরামত করতে পারে। ধূমপান ছাড়ার পর প্রতিটি মুহূর্তেই আপনার দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চলুন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেসব পরিবর্তন সম্পর্কে জেনে নিই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ধূমপান ছাড়ার পর দেহের সেরে ওঠার ধাপগুলো—

* ২০ মিনিটের মধ্যে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ কমতে শুরু করে, যা শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার দ্রুততম ও প্রথম ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর একটি।

* ১২ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা স্বাভাবিক হয়। কার্বন মনোক্সাইড বেড়ে গেলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

* ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন উন্নত হয় এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে দৈনন্দিন কাজে শক্তি বাড়ে এবং শ্বাস নেওয়া আরও স্বচ্ছন্দ হয়।

* ধূমপান ছাড়ার ১ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়।

* এক বছর পর করোনারি বা হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিসংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি ধূমপায়ীদের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যায়।

* পাঁচ বছর ধূমপান না করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও কমে গিয়ে একজন অধূমপায়ীর সমপর্যায়ে পৌঁছায়।

* ১০ বছর পর, ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি ধূমপায়ীদের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসে। পাশাপাশি মুখ, গলা, খাদ্যনালি, মূত্রাশয়, জরায়ুমুখ ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে।

* আর ১৫ বছর পরে করোনারি রোগের ঝুঁকি অধূমপায়ীর সমপর্যায়ে নেমে আসে।

তাই আর দেরি না করে আজই ধূমপান ছেড়ে দিন আর সুস্থ হয়ে ওঠার সিঁড়িতে পা দিন।

প্রশ্ন হলো, সব বয়সেই কি ধূমপান ছাড়লে উপকার মেলে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, অবশ্যই সব বয়সেই উপকার পাওয়া যায়। ধাপগুলো দেখে নিতে পারেন—

* ৩০ বছর বয়সে ধূমপান ছেড়ে দিলে আয়ুষ্কাল প্রায় ১০ বছর বাড়তে পারে।

* ৪০ বছর বয়সে আয়ুষ্কাল বাড়তে পারে ৯ বছর।

* ৫০ বছর বয়সে আয়ুষ্কাল বাড়তে পারে ৬ বছর।

* ৬০ বছর বয়সে ৩ বছর জীবন বাড়তে পারে।

সবশেষে

এমনকি প্রাণঘাতী ও গুরুতর রোগ দেখা দেওয়ার পর ধূমপান ছাড়লেও দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, হৃদ্‌রোগের আক্রমণের পর ধূমপান ছাড়লে আরেকটি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে।

শুধু তা-ই নয়, ধূমপান ছেড়ে দিলে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের যে বাড়তি রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হয় (যেমন হাঁপানি, কানের সংক্রমণসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগ), তা-ও কমে যায়।

পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় নপুংসকতা ও প্রজননজনিত জটিলতা, অকালপ্রসব, শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানো এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

ধূমপান ছাড়ার ১ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়
ধূমপান ছাড়ার ১ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়। ছবি: পেক্সেলস