Friday, August 5, 2016

লন্ডনে ‘হারকিউলিস’ বাহিনীর যাত্রা শুরু

ইউরোপজুড়ে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে নতুন একটি সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যাত্রা শুরু করেছে। বুধবার ‘অপারেশন হারকিউলিস’ নামে এই বাহিনীর পরিচয় করিয়ে দেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যার বার্নার্ড হোগান হাউ এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। সম্প্রতি হোগান বলেছেন, ব্রিটেনে যে কোনো সময় সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। সশস্ত্র হারকিউলিস সদস্যরা মোটরবাইক, নৌকা এবং ভ্যানে চড়ে বুধবার আত্মপ্রকাশ করেন। টেমস নদীতেও টহল দেন তারা। কর্তৃপক্ষ জানায় প্রায় ৬শ’ সশস্ত্র এবং মুখোশধারী অফিসার হারকিউলিস অপারেশনের হয়ে কাজ করবেন। হামলাকারীরা যেন তাদের চিনতে না পারেন সে কারণে নতুন ইউনিটের কর্মকর্তাদের মুখোশ পরে থাকতে হবে।
ফ্রান্সে লরি হামলায় অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যুর পর লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়। আর বুধবার ঘোষণা দেয়া হয় সন্ত্রাসবিরোধী এই ইউনিটের। আর আত্মপ্রকাশের প্রথম দিনেই লন্ডনের রাসেল স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হয় হারকিউলিসকে। বুধবার রাতে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের কেন্দ্রস্থল রাসেল স্কয়ারে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এক নারী নিহত হন। আহত হন অন্তত পাঁচজন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে রাসেল স্কয়ারে হামলা হয়। পরে পুলিশ অবশ্য বলেছে, হামলাকারীর মানসিক জটিলতা থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। ডেইলি মেইল, বিবিসি

পরাজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প?

নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে ক্রমেই সন্দিহান হয়ে পড়ছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিলারিবধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক অতিমানবীয় উত্থানের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সব আলো নিজের দিকে টেনেছিলেন তিনি। একচেটিয়াভাবে নিজ দলের মনোনয়ন যুদ্ধে জিতে ডেমোক্রেট শিবিরের সামনে এসে যেন আকূল পাথারেই পড়েছেন এবার। ডেমোক্রেটদের মনোনীত মার্কিন ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হওয়ার সন্দেহ দানা বেঁধেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে। যার কারণে নিজের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর বদলে সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারির ব্যাপারে জনমনে সন্দেহ ঢুকাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও অনাস্থা জানাচ্ছেন এই সাবেক ক্যাসিনো ব্যবসায়ী। ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলতে শুরু করেছেন- ‘এবারের মার্কিন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হতে পারে। এবং এই জালিয়াতির নির্বাচনে হিলারি জিতে গেলে কোনোভাবেই তাকে মেনে নেয়া হবে না।’ সাম্প্রতিক নির্বাচনী জনসভাগুলোতে তিনি আরও বলছেন,
‘ভোট কারচুপির মাধ্যমে কেউ নির্বাচনে জিতলে সেই নির্বাচন অবৈধ হবে। দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে। ব্যাপকভাবে নাগরিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে।’ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এ ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে নিজের পরাজয়কে সমর্থকদের কাছে বৈধ করার চেষ্ট চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি একটা শ্রেণীর মধ্যে হিলারি বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দিয়ে স্থানীভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। এমনকি হিলারি জিতে গেলেও যেন তার সম্পর্কে জনগণের একাংশ নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। অতিরিক্ত জাতীয়বাদী, রক্ষণশীল, শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদ এবং সন্দেহবাতিকগ্রস্ত ট্রাম্পভক্তদের মধ্যে হিলারির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্সির বৈধতা নিয়ে সে কারণেই সন্দেহ ঢুকাচ্ছেন তিনি। এদিকে জনমত জরিপগুলোতে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের পর্যবেক্ষণ অনুসারে আগের তুলনায় জনপ্রিয়তা বেড়েছে হিলারির। জাতীয়ভাবে নিবন্ধনকৃত ভোটারদের মধ্যে শতকরা ৫০ জন হিলারিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন সেখানে ট্রাম্পের জন্য মাত্র ৪২ শতাংশ।
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগের তুলনায় হিলারির ভোট বেড়েছে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে সিবিএস নিউজের জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প এখনও প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রস্তুত নয় এবং ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই ট্রাম্পের। ঠিক বিপরীত চিত্র হিলারির ক্ষেত্রে। হিলারিকে প্রস্তুত মনে করেন ৬০ শতাংশ এবং তার মেজাজের উপর আস্থা আছে ৫৭ শতাংশ মানুষের। আরও বিস্ফোরক তথ্য জানাচ্ছে সিএনএন’র জরিপ প্রতিবেদন। সেখানে দেখা যাচ্ছে- ৬৭ শতাংশ নারী ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না। তরুণ ভোটারদের ৭৩ শতাংশ, শ্বেতাঙ্গ স্নাতকদের ৬৮ শতাংশ এবং অশ্বেতাঙ্গদের ৮২ শতাংশই তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান না। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ট্রাম্পের পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়েছে যে, তিনি এখন সর্বোচ্চ বিপর্যয়ের আশংকায় দিশেহারা হয়ে গেছেন।

বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনো’

অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটিতে ব্যবসার পাঠ চুকিয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনও তার নির্মিত ‘ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনো’ নামে একটি হোটেল সেখানে রয়েছে। লোকসান ও শ্রমিক ধর্মঘটের কারণ দেখিয়ে বুধবার ক্যাসিনোটি বন্ধের নোটিশ দিয়েছে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ট্রপিকানা এন্টারটেইনমেন্ট। ফলে চাকরি হারাতে হচ্ছে ৩ হাজারের বেশি শ্রমিকদের। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টনি রেডিও বলেন, গত কয়েক মাসে আমরা একশ’ মিলিয়ন ডলার লোকসান দিয়েছি। তার মধ্যে শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। যে কারণে ক্যাসিনো পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির। ১৯৯০ সালে নির্মিত এই ক্যাসিনোটি ২০১৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে কিনে নেয় তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কার্ল আইকানের প্রতিষ্ঠান আইকান এন্টারপ্রাইজ। নভেম্বরে নির্বাচনে ট্রাম্প জিতলে এই ব্যবসায়ীকে তার মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। বিবিসির খবরে বলা ন্যায্য পারিশ্রমিক ও স্বাস্থ্য বীমার দাবিতে জুলাইয়ের শুরু থেকে এই ক্যাসিনোর শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন। ক্যাসিনোটি বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে আটলান্টিক সিটির মেয়র ডন গার্ডিয়ান বলেছেন,
এটা ‘দুর্ভাগ্যজনক ও বিব্রতকর’। তিনি আরও বলেন, ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটলান্টিক সিটি সারা বিশ্বে ক্যাসিনোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শ্রমিক ধর্মঘটের মধ্যেই ক্যাসিনো বন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান লেবার। বুধবার ধর্মঘটে শ্রমিকদের ডাকা এক সংহতি সমাবেশে অ্যালায়েন্সের সভাপতি মিসবাহ বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত অভিবাসী শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারকে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা মার্কিন স্বার্থের চেয়েও ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রমিক-কর্মচারী আর পণ্য সরবরাহকারীদের বিপদে ফেলছেন। ক্যাসিনোর মালিক আইকানের শ্রমিকবিরোধী নীতির সমালোচনা করে মিসবাহ বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্যাসিনোর মালিক আইকানকে অর্থমন্ত্রী বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ন্যায্য পারিশ্রমিক আর স্বাস্থ্যবীমার দাবিতে ধর্মঘটে যাওয়া শ্রমিকদের পেটে যিনি লাথি মারেন, তিনি যে আমেরিকান কতটা উন্নতি করবেন, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।

লন্ডনের রাসেল স্কয়ারে ছুরি হামলায় নারী নিহত

লন্ডনের রাসেল স্কয়ারে ছুরি হামলার পর রক্তাক্ত
ঘটনাস্থল পরিষ্কার করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এএফপি
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের রাসেল স্কয়ারে এক ব্যক্তির ছুরি হামলায় এক নারী নিহত ও অপর পাঁচজন আহত হয়েছেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এ হামলা হয়। হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছুরি হাতে তাকে লোকজনের ওপর হামলা করতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, এটি ‘জঙ্গি হামলা’ হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, রাসেল স্কয়ারে ছুরি হামলায় নিহত নারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার বয়স ষাটের কাছাকাছি। আহত পাঁচজনের মধ্যে দু’জন নারী ও তিনজন পুরুষ। তারা ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। রাসেল স্কয়ারে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায়।
পুলিশ রাত ১০টা ৩৯ মিনিটের দিকে ইলেকট্রিক স্টেন গান ব্যবহার করে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ১৯ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনকে অচেতন করে গ্রেফতার করে। সন্দেহভাজন তরুণকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে অথবা মানসিক স্বাস্থ্য এ ঘটনার একটি ‘উল্লেখযোগ্য কারণ’ হতে পারে। পুলিশের বিশেষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিট পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। সরাসরি সন্ত্রাসবাদ না থাকলেও সন্ত্রাসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওই তরুণ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। হামলার পরপরই রাসেল স্কয়ারের সামনে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলার পর ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাটির কাছেই ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাসেল স্কয়ারের মাঝামাঝি পার্কের বাইরে সাউদাম্পটন রো’তে পুলিশের একটি ফরেনসিক তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে জাতিগত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যখন নতুন উদ্যমে কাজ করতে শুরু করেন, বিশেষ করে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ কর্মসূচি যখন গৃহীত হয় তখন থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশের বিরুদ্ধে নানা অপঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে, যার ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বাংলাদেশের পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে চিহ্নিত জামায়াত চক্রের সঙ্গে নবগঠিত বিএনপিগোষ্ঠী একাট্টা হয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে থাকে এবং অব্যাহত চক্রান্তের মাধ্যমে তারা তাদের অনগ্রসর রাজনীতি জনগণের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী দীর্ঘ ইতিহাসে তারা বিভিন্ন কৌশলে হন্তারক-মানবতাবিরোধী অপরাধী চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের কেবল রক্ষাই করে না, দেশে তাদের অপরাজনীতির পথও সুগম করে দেয়। তারপর থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এ দেশের মাটিতে কখনোই সম্ভব হবে না বলে তারা সব সময় আস্ফালন করে এসেছে- এ বিষয়ে অবচেতন মন থেকে তারা যা কামনা করেছে তাদের এসব কথাবার্তার মধ্য দিয়ে তাই কেবল তারা প্রকাশ করেছে। কোনোদিন তারা হয়তো ভাবতেই পারেনি যে, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য শেষ পর্যন্ত এভাবে শোচনীয় পরিণতির দিকে এগোতে হবে এবং তাদের নৈতিক সমর্থনের জায়গাটিও অরক্ষিত হয়ে পড়বে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে বরাবরই একটা কৌশল অবলম্বন করে এগিয়েছে- কালের নিরিখে বেমানান,
পশ্চাৎপদ ও জাতির জন্য আত্মঘাতী যেসব স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের সমর্থন আছে অথচ তা তারা খোলাখুলি আলোচনার টেবিলে উত্থাপন করতে চায় না সেগুলো হয় তারা জামায়াত চক্রের মধ্য দিয়ে কূটকৌশলে প্রকাশের চেষ্টা করেছে অথবা সাংকেতিকতার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের মনোভাব ও অনগ্রসর মানসিকতা আড়ালের চেষ্টা করেছে। এটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট যে, তারা আসলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারিক নিষ্পত্তি কখনোই চায়নি এবং জামায়াতের চেহারা জনসমক্ষে আরেকবার উন্মোচনের মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে তাদের অভিন্নতার চিত্রটি নগ্নভাবে প্রকাশ হয়ে পড়বে তারা তা ভাবতেই পারেনি। কিন্তু যখন তারা দেখতে পেল সীমাহীন ছলচাতুরি, চক্রান্ত ও কূটনীতির অবলম্বন সত্ত্বেও ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে অপরাধী চক্রকে নির্মূল করা হচ্ছে এবং তার মধ্য দিয়ে তাদের অপরাজনীতির অন্তঃসার সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে তখন অস্তিত্ব সংকটের কথা ভেবে তারা চূড়ান্তভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং এটাও বুঝতে বাকি থাকে না, এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে এক সময় জনগণের সামনে তাদের পক্ষে রাজনীতির এজেন্ডা নিয়ে হাজির হওয়াই এক রকম অসম্ভব হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, যে কোনো মূল্যেই হোক দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মাধ্যমে বহির্বিশ্বে আওয়ামী লীগ সরকারের একটা বিকৃত ভাবমূর্তি তথা অপচেহারা দাঁড় করাতে হবে। বিগত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি দেখে জামায়াত চক্র বুঝতে শুরু করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে তাদের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান তাদের পেতে হবে।
তাই আমরা দেখতে পাই নিকট-অতীতে বিএনপির কোলে আশ্রয় নিয়ে তারা নির্বাচন-পরবর্তী নজিরবিহীন সহিংসতায় অংশ নেয় এবং অগণিত সাধারণ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে তাদের কুৎসিত পাশবিক তথা জঙ্গি রূপটি আরও একবার প্রমাণ করে ছাড়ে। স্পর্শকাতর অথচ জাতীয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এমন সব বিষয় যখন সামনে এসেছে তখন তারা বারবারই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র নীতি যেমন অবলম্বন করেছে তেমনি জামায়াত চক্রের অপঘাতমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিকারভাবে সমর্থন করেছে এবং গোপনে-প্রকাশ্যে তাদের সেই অপশক্তির বিস্তারে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে তারা চেয়েছিল নির্বাচনোত্তর নাশকতায় নিজেদের অবস্থান ঠিক করে নেবে। কিন্তু তাদের সেই অগণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়া তো দূরের কথা তা যে বর্তমান দুনিয়ায় আদৌ সম্ভব নয় সে হিসেবে একটা বড় রকমের গলদ তারা করে বসে। সেনাছাউনি থেকে জন্ম নেয়া পরস্পর সংঘর্ষী বহু সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটা দলের পক্ষে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ-অনুরাগ বুঝে ওঠা কখনও সম্ভব নয়- এ প্রক্রিয়ায় জোড়াতালি, টালবাহানা ও অভিনয়-নৈপুণ্যে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বেশিদিন সংহতির বন্ধনে আগলে রাখা যায় না। কারণ স্বার্থের সংকীর্ণ জগতে সত্যের আলো এসে যখন ঠিকরে পড়ে তখন নিজেদের মৌলিক সারসত্য ও আদর্শিক বাস্তবতা উন্মুক্ত করে জনগণকে আশ্বস্ত করতে না পারলে সেই দলের প্রতি জনগণের আবেগ-সম্পৃক্তি অটুট রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পঁচাত্তরের অমানিশায় বঙ্গবন্ধুকে মর্মান্তিকভাবে সরিয়ে দিয়ে যতই নাটকীয়তার আশ্রয় নেয়া হোক না কেন, সময় ও ইতিহাসের সত্যের কাছে তা গ্রাহ্যতা পেতে পারে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার এভাবে সফলতার সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে তা হয়তো তারা কল্পনাও করতে পারেনি,
কেননা তারা আশা করেছিল নির্বাচন বর্জন করলে সম্ভাব্য যে দুর্বল সরকার ক্ষমতায় আসবে আন্দোলন-সংগ্রামে তার পতন ঘটানো তাদের পক্ষে কঠিন হবে না। কিন্তু বাস্তবে তারা যা দেখল তাতে তাদের পক্ষে বুঝতে বাকি থাকল না যে, বৈধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই গণতান্ত্রিক সরকারের পতন তো দূরের কথা তাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের টিকিটিও নাড়ানো যাবে না। তখন জামায়াত-বিএনপি চক্র সোজা পথ ছেড়ে দিয়ে সহিংসতা ও নাশকতানির্ভর তাদের খোদ চেহারায় আবির্ভূত হল; এই চেহারাটিই তাদের জঙ্গিবাদী চেহারা এবং ইতিহাসের নিরিখে বোঝা যায় এটাই তাদের প্রকৃত চেহারা। এরপর জাতীয় অর্থনীতির সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি ও উপর্যুপরি উন্নয়ন-কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে দেখে তাদের মাথায় বাজ পড়ে এবং অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ব্যাংক-ব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের জমানো টাকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা বিপুল সহায়তা কাজে লাগিয়ে দেশ-বিদেশে পরামর্শক নিয়োগ করেও যখন তারা দেখল যে আখেরে রক্ষা পাওয়ার একেবারেই কোনো পথ খোলা নেই তখন তারা নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চোরাগোপ্তা উপায়টি অবলম্বন করতে শুরু করে। কৌশল হিসেবে তারা বিশ্বব্যাপী চলমান জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও আÍঘাতী সন্ত্রাসের সঙ্গে নিজেদের চালানো নাশকতামূলক ভূমিকাটি জুড়ে দিয়ে জনগণকে দ্বিধান্বিত করতে চেয়েছে।
একটা কথা বলা জরুরি, সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান ও শোলাকিয়ায় সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আইএসের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা যদি সম্ভব হয়ও তবু এটা মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশে আইএস থাকলে তার সদস্যরাও হবে বাংলাদেশের তথা জামায়াত চক্রের লোকেরা, বাইরে থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী আমদানি করার প্রয়োজন পড়বে না। ধর্মান্ধ জামায়াত চক্র যুদ্ধাপরাধীদের, বিশেষত তাদের ‘অর্থশক্তির গোডাউন’ মীর কাসেমকে বাঁচানোর জন্য যদি আইএসের নামে বা মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয় তাহলে নিজেদের পক্ষেও যেমন খানিকটা আড়ালে থাকা যায়, তেমনি আবার তাতে একটা আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সরকারের বেকায়দায় ফেলা এমনকি ভয় দেখানোও সম্ভব হতে পারে। নজিরবিহীন নাশকতার যে নীলনকশা তারা প্রণয়ন করে তা কেবল আইএসের মতো বৈশ্বিক সন্ত্রাসীর পরিচয়ে চালানো গেলেই যে তা মানানসই হতে পারে সেটা তারা নিশ্চয়ই ধরে নেয়। সেই অনুযায়ী, সিরিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকারী আইএস যেহেতু একই সময়ে তাদের অপশক্তি ও নাশকতার মহড়া দিচ্ছে সেহেতু বাংলাদেশে হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্তির বিষয়টি প্রচার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হবে, এটা নিশ্চয়ই তারা ধারণা করে থাকবে। এটা সত্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ প্রবল এবং ভারত-চীন-রাশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের সঙ্গে বহুজাতীয় সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে এমন একটা অবস্থানে তাদের অনুগত শক্তি এবং সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, তবু এটা ভাবার কারণ নেই যে একমাত্র আন্তর্জাতিক পরাশক্তিই এখানে ঘাঁটি গাড়ার আশায় জঙ্গি তৎপরতায় মদদ দিচ্ছে।
যখন যুদ্ধাপরাধী চক্রের গলায় একে একে ফাঁসির রশি পরিয়ে তাদের জন্য উপযুক্ত ঐতিহাসিক পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার একটা ক্রান্তি-পর্যায় উপস্থিত হয়েছে ঠিক তখনই এমন ধরনের আকস্মিক পটপরিবর্তনের বিষয়কে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার একেবারেই কোনো উপায় নেই। বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, জামায়াতের রাজনীতিতে অর্থজোগানদার প্রধান হোতা মীর কাসেম আলীর ভাগ্য পাল্টে দিয়ে ছলেবলে-কৌশলে তাকে বাঁচানোর জন্য একশ’ সাতানব্বই কোটি টাকা ছড়ানো হয়েছে, তখন বোঝা যায় সমূলে উৎপাটনের হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে তারা কতটা তৎপর। নিজেদের দলের প্রধান প্রধান দুষ্কৃতকারীর মুণ্ডুপাত সমাপ্ত হলে দেশের মাটিতে রাজনীতির হালে পানি পাওয়া যে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং তাদের দলের তরুণ অংশের কাছে তাদের নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতার চিত্রটি যে খোলাসা হয়ে পড়বে সেটাও তাদের মাথায় ছিল নিশ্চয়। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন আইএসের পক্ষে এই মুহূর্তে এখানে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন প্রাসঙ্গিক হতে পারে না এ জন্য যে, আইএস তার নিজের অধিকৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে তার অবস্থান স্থায়ী করতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে তার প্রভাব বিস্তারের মতো চিন্তা এমন পরিস্থিতিতে তাদের মাথায় আসার কথা নয়।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার সঙ্গে আইএসের যোগসূত্র জোর করে দেখানো গেলে অথবা আগ বাড়িয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের দেশে নিজেদের লোক দিয়ে বিভিন্ন নামে বাহিনী গড়া সম্ভব হলে কেবল জামায়াত চক্রের জন্যই তা লাভজনক হতে পারে। এটা এখন জোর দিয়েই বলা যায়, বাংলাদেশের ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনা পর্যন্ত সবগুলো ঘটনাতেই জামায়াত, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও বিএনপির সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জড়িত এবং এগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তাদেরই অপকর্মের স্বাক্ষর বহন করছে। আইএসের মতো কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের ছদ্মপরিচয়ে সন্ত্রাস চালাতে পারলে জামায়াতি গোষ্ঠীভুক্ত জঙ্গিদের সুবিধা, এতে তারা সরকারের সন্ত্রাস দমন অভিযানের লক্ষ্যমুখটি অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পারবে, তাদের আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ঢেকে রাখাও সম্ভব হবে। বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যক্রমের দিকে চোখ রাখলে দেখা যাবে প্রথমদিকে জঙ্গিরা বেছে বেছে সাধারণ হিন্দু, ব্রাহ্মণ-পুরোহিত, গির্জার যাজক, মন্দিরের সেবায়েত এবং বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করা শুরু করেছিল। এক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিষবাষ্প ছড়িয়ে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি মোদি সরকারকে উসকে দেয়া, যাতে হাসিনা সরকারের প্রতি মোদি সরকারের সমর্থন নষ্ট করা যায়। যা হোক বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় নেই, এক্ষেত্রে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের করণীয় অনেক- প্রথমত, জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি কোনো প্রকার অনুকম্পা প্রদর্শন না করে জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে তাদের প্রতিরোধের প্রশ্নে কঠোরতার সর্বোচ্চ মাত্রা প্রয়োগ করতে হবে।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী ও ভোল-পাল্টানো বর্ণচোরা চক্রের ঘাপ্টিমারা অবস্থান শনাক্তকরণের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক পরিশোধনের প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নিষ্ঠাবান দলীয় কর্মীরা যাতে হঠাৎ আবির্ভূত সুবিধাবাদীদের দ্বারা কোণঠাসা হয়ে না পড়ে সেদিকে মনোযোগ দেয়া বর্তমান অবস্থায় খুবই জরুরি। র‌্যাব-পুলিশ-এনএসআই-ডিজিএফআইয়ের কমান্ডিং ও ফিল্ড পর্যায়ে জামায়াতি জঙ্গি মতাদর্শের লোক ঢুকে যাওয়ার কারণে সরকার বিভিন্ন অভিযানে আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না এবং কোথাও কোথাও ব্যর্থতারও পরিচয় দিচ্ছে। আঞ্চলিক পরিসরে এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জঙ্গি মানসিকতার লোকদের চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে তাদের দিকে নজরদারি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিদ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুই শতাধিক নিখোঁজ তরুণ-তরুণী কোথা থেকে প্রণোদনা পেয়ে কীভাবে জঙ্গিজীবনে প্রবেশের প্রেরণা পেল সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের অতিদ্রুত সরিয়ে দিতে হবে। পর্যবেক্ষণের আলোকে বোঝা যায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা অর্থের বিনিময়ে এমন কাজ করছে যা সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী- এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিকার-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মোহাম্মদ আলী আশরাফ : সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট
ashrafvpbcl@gmail.com

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে সৌদির অতিরিক্ত অর্থায়ন

রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। সৌদি ফান্ডের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে দেশটি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রামের মহাপরিচালক আহমেদ এম আলগানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ও সৌদি ফান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন অংশ নির্মাণে সৌদি আরব অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সৌদি ফান্ডের শর্ত অনুযায়ী এ ঋণের বার্ষিক লোন চার্জ দিতে হবে ২ শতাংশ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। চুক্তি শেষে মেজবাহউদ্দিন বলেন, সৌদ আরব ও বাংলাদেশ পরস্পরের পরীক্ষিত বন্ধু। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত অর্থ এফডিসি থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হবে। এটি যানজট নিরসনে সহায়তা করবে। এম আহমদ আলগানান বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা আমি নিজে দেখেছি। আশা করি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী উপকৃত হবেন। যানজট কমে আসবে। তিনি জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশেষত সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ অর্থ দিয়ে এফডিসি গেট থেকে কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে নতুন ফ্লাইওভার। এর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৪৫০ মিটার। এ অংশটি নির্মিত হলে এফসিডিসি রেলক্রসিং এরিয়ে সহজ যাতায়াত স্থাপিত হবে। আরও জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর ও তেজগাঁও এলাকার যানজট নিরসন করে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বর্তমানে নতুন অংশ যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব অর্থ সহায়তা বাড়িয়েছে। এ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ২৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়েল বা ৬ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে সৌদি ফান্ড। সূত্র জানায়, ঢাকায় গত কয়েক দশকে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা এ অধিক জনসংখ্যার ভার বহন করতে পারছে না। ব্যাপক যানজটের কারণে অসহনীয় নগরীর মানুষের জীবন। এ অবস্থায় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ড ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। এছাড়া আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট তাদের ১৯৯৯ সালের সমীক্ষায় ঢাকা মহানগরীর ২০টি পয়েন্টে ফ্লাইওভার/ইন্টারসেকশন আন্ডারপাস, বাস বে-বাস টার্মিনাল ও পার্কিং এরিয়া নির্মাণের প্রস্তাব করে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিশ্ব একাদশে খেলতে নরওয়ে যাচ্ছেন তামিম

‘শান্তির দেশ’ নরওয়েতে ক্রিস্টিনা ক্রিকেট ক্লাবের ‘প্লে ফর পিস ফেস্টিভ্যাল’ নামে দাতব্য আয়োজনে পাকিস্তান স্টার্স দলের বিরুদ্ধে খেলবে অলস্টার ক্রিকেট দল। অলস্টার দলের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সৌজন্যে এ খবর পাওয়া গেছে। ম্যাচে খেলার জন্য বিসিবি তামিমকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।
১৯ আগস্ট পাকিস্তান স্টার্স দলের বিপক্ষে নরওয়ের রাজধানী অসলোর বিসলেট স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে তামিমদের অলস্টার ক্রিকেট দল। ২০১৩ সালে অসলোর একবার্গে বসেছিল প্লে ফর পিস ফেস্টিভ্যালের আগের আসর। ম্যাচটি খেলতে তামিম আগামী ১৭ আগস্ট ঢাকা ছাড়বেন। পাকিস্তান স্টার্স দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির টেস্ট দলের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। নরওয়ে থেকে ২১ আগস্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে তামিমের। নতুন বার্তা।

আবারও প্লেব্যাকে মৌসুমী

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী। সিনেমার ব্যস্ততা আগের মতো আর না থাকলেও দর্শকদের হৃদয়ে এখনও জনপ্রিয়তার আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের একটি ছবিতে প্লেব্যাক করলেন এ নায়িকা। ছবির নাম ‘আমার বাংলাদেশ’। শিশুতোষ চলচ্চিত্র এটি। জানা গেছে, এ ছবির একটি গানে সাতজন শিশুশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমীও কণ্ঠ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন,
‘দীর্ঘদিন পর অনেক শিশুর সঙ্গে একটি গানে কণ্ঠ দিলাম। মূলত পরিচালকের অনুরোধেই এটি করা। জানি না কেমন হয়েছে। তবে আমি ভালো গাওয়ার চেষ্টা করেছি।’ প্রসঙ্গত, একই নির্মাতার ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নব্বই দশকে চলচ্চিত্রে আসেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। অভিনয়ের পাশাপাশি মনতাজুর রহমান আকবরের ‘মগের মুল্লুুক’, নাজমুল হুদা মিন্টুর ‘মৌসুমী’সহ আরও কয়েকটি ছবিতে গান গেয়েছেন তিনি।