Thursday, August 20, 2015

সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিত্ব ও মন্ত্রিসভা by সৈয়দ আবুল মকসুদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করে পরদিন অস্থায়ী সংবিধান অর্ডিন্যান্স জারি করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য তিনি ২৩ বছর সংগ্রাম করেছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে তিনি সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। এবং ওই দিনই তিনি গঠন করেন তাঁর মন্ত্রিসভা। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, আবদুস সামাদ আজাদ, কামারুজ্জামান, শেখ আবদুল আজিজ, ইউসুফ আলী, জহুর আহমদ চৌধুরী, ফণি মজুমদার ও কামাল হোসেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি ছিল সবচেয়ে সফল মন্ত্রিসভা।
কোমলমতি বালক-বালিকারা টিভির পর্দায় দেশ-বিদেশের মন্ত্রীদের দেখে প্রতিদিন। তাদের কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মন্ত্রিত্ব জিনিসটা আসলে কী? রূপকথার দেশের রাজা-উজিরের কথা আমরা ছোটবেলায় শুনেছি। রূপকথার দেশই আধুনিক রাষ্ট্র। এবং সেই উজিরই আধুনিক রাষ্ট্রে মন্ত্রী। এককালে যাদের বলা হতো প্রজা, এখন তাদের বলা হয় রাষ্ট্রের নাগরিক। রাষ্ট্র থাকলে মন্ত্রী থাকবেনই। রাষ্ট্রে যে পদ্ধতির সরকারই থাকুক না কেন, তাতে গণতন্ত্র থাকুক বা না থাকুক—মন্ত্রী থাকতেই হবে।
বঙ্গবন্ধুর প্রথম মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন ১১ জন। সেটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে নাজুক সময়। তখন তাঁর দলে মন্ত্রী করার মতো নেতা ছিলেন অন্তত জনা পঞ্চাশ। ওই মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। আমার মতো সামান্য মানুষের সৌভাগ্য হয়েছিল তাতে উপস্থিত থেকে তা প্রত্যক্ষ করার।
সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরে ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের মার্চে। সেই নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মাস দুই সারা দেশে বহু জনসভায় তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছিল। ভারতীয় ও পশ্চিমি মিডিয়ার সাংবাদিকেরাও কখনো থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর মতো রাশভারী মানুষের মধ্যে একজন সহজ হাস্যরসিক মানুষ বাস করতেন। নতুন রাষ্ট্রে সীমাহীন সমস্যা। তাঁর বিরুদ্ধশক্তি সংখ্যায় অল্প হলেও খুবই সক্রিয় ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। তার মধ্যেও তিনি হেলিকপ্টারে আমাদের সঙ্গে অতীতের তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বহু ব্যাপারে স্মৃতিচারণামূলক গল্প করতেন। রসিকতা করতেন। নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক পর তিনি তাঁর দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা গঠন করেন। বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল জমজমাট। বিদেশি কূটনীতিক, সাংবাদিকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন না জাসদ, ন্যাপ প্রভৃতি পরাজিত দলগুলোর নেতারা। সম্ভবত আমাদের জিনে সংসদীয় গণতন্ত্রের উপাদান অনুপস্থিত। যা হোক, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ আকার ছিল ১৯৯১-পরবর্তী প্রায় সব মন্ত্রিসভার তিন ভাগের এক ভাগ।
অখণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদীয় পদ্ধতির মন্ত্রিসভা গঠিত হয় পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ভারতবর্ষ তখন ছিল আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত, ওদিকে আসমুদ্রহিমাচল। ব্রিটিশ সরকার তখনো বিদায় নেয়নি, তবে নেওয়ার পথে। ভারতের জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে তারা যেতে চান। আগস্ট মাসে তাঁরা কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের ডেকে বলেন, আপনারা মিলেমিশে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করুন। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেসের নেতা নেহরুকেই সরকারপ্রধান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জিন্নাহ নাখোশ। বহু দেনদরবার ও ঝগড়াঝাঁটির পর গঠিত হয় মন্ত্রিসভা। প্রকাণ্ড ভারতবর্ষ। এখনকার অনুপাতে হলে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার কথা ১ হাজার ২০০-এর কিছু বেশি। আমার কথা এখন সম্ভবত বিশ্বাস করবেন না অনেকেই। উপমহাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল ১৩ সদস্যবিশিষ্ট। পণ্ডিত নেহরুর সেই মন্ত্রিসভায় ছিলেন কংগ্রেসের সর্দার প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ, জগজীবন রাম, খ্রিষ্টান জন মাথাই, শিখ বলদেব সিং ও সি এইচ ভাবা এবং মুসলিম লীগের মন্ত্রীরা হলেন লিয়াকত আলী খান, আই আই চুন্দ্রীগর, আবদুর রব নিশতার, গজনফর আলী খান ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।
এক বছর পরে ভারত ও পাকিস্তান যখন স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট, তখন দুই রাষ্ট্রেই সংসদীয় পদ্ধতির মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের মন্ত্রিসভা এবং ভারতে প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরুর মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ১৪-র কম। অন্যদিকে, যে ভূখণ্ড নিয়ে আজকের বাংলাদেশ, সেটি তখন পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ। এই প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী স্যার খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে। তাঁর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন জনা আটেক। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের মন্ত্রিসভায় সদস্য ছিলেন সাত-আটজন। পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনের মন্ত্রিসভার আকারও ১০ ছাড়ায়নি।
বাংলার মাটিতে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে গোলমাল চিরকালই হয়েছে। চুয়ান্নর ঐতিহাসিক নির্বাচনের পরে শেরেবাংলা ফজলুল হকের নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় জনা কয়েককে নিয়ে, তার আয়ু ছিল কয়েক সপ্তাহ। টেন্ডার বিশেষজ্ঞ ছাত্র ও যুবনেতা, যাঁদের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড ও ডিজিটাল ব্যানারে আজ ভরে গেছে প্রজাতন্ত্রের রাস্তাঘাট, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খাম্বা, তাঁদের অনেকেই জানেন না আওয়ামী লীগের প্রথম মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বরে। শেখ মুজিবসহ যে কয়জন সেই কেবিনেটে মন্ত্রী ছিলেন, এখন বাংলাদেশে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর সংখ্যা তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি।
মাননীয় মন্ত্রীর একেবারে কাছে গিয়ে সালাম দিতে অথবা হ্যান্ডশেক করতে গিয়ে আজকাল হুমড়ি খেয়ে পড়ে অনেকেই হাত-পা পর্যন্ত ভাঙেন। কোনো মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ বিধাতার কৃপাদৃষ্টি পাওয়ার শামিল। গত ৪৫ বছরে বহু মন্ত্রীর সাহচর্য পেয়ে ধন্য হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের অনেকেই ছিলেন আমার ঘনিষ্ঠ, বন্ধুস্থানীয় ও অনুজপ্রতিম। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভারও অনেকে ছিলেন। কিন্তু আমার জীবনে প্রথম কোনো মন্ত্রীর হাতের পরশ পাই ১৯৫৪ সালে। ফজলুল হকের মন্ত্রিসভার কৃষক প্রজা পার্টির নেতা আবদুল লতিফ বিশ্বাস যেদিন মন্ত্রী হয়ে পায়জামা-শেরওয়ানি পরে পুলিিশ পাহারায় আমাদের বৈঠকখানায় গেলেন এবং আমার মাথায় হাত রাখলেন, সেদিন রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম, সেই শিহরণ আমি এখনো অনুভব করি। তাতে বুঝতে পারি কেন মন্ত্রীর সামনে যাওয়ার জন্য আজ ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে পাঞ্জাবি ছেঁড়েন, কেউ মোবাইল ফোন হারান, কেউ হাঁটু ভাঙেন, কেউ চশমা খোয়ান। যে লতিফ বিশ্বাসকে আমি এক হপ্তা আগে দেখেছি সাধারণ মানুষ, সাত দিন পরে শেরওয়ানি পরা অবস্থায় তাঁকে মনে হলো তিনি মানুষের বেশি কিছু—মন্ত্রী।
যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরা কখনো এমপি হবেন অথবা মন্ত্রী হবেন, সেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যাঁরা সত্যিকারের জননেতা, তাঁদের কাছে মন্ত্রিত্ব বড় ব্যাপার নয়। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না।’ সেটি তাঁর কথার কথা ছিল না। আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম ও দুর্নীতি দমনমন্ত্রী ছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্র দলীয় রাজনীতির গণতন্ত্র। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা ভাসানী সভাপতি। মাওলানা মুজিবকে বললেন, তুমি এখন মন্ত্রী। দপ্তরে অনেক কাজ করতে হয়। দলের কাজে সময় দেবে কখন? তোমাকে দলে দরকার। মন্ত্রী হওয়ার বহু লোক আছে। মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দাও।
ওই সময়ের বিপুল কাগজপত্র ঘেঁটে আমি দেখেছি, কোনো রকম গড়িমসি বা মান-অভিমান না করে শেখ মুজিব মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেন ১৯৫৭ সালের জুলাইতে। তিনি জানতেন, তাঁকে যেতে হবে বহুদূর। সচিবালয়ের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অপরিসর কামরা তাঁর জন্য নয়। তাঁকে যেতে হবে জনগণের কাছে। তাদের কল্যাণে, তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাদের পাশে থাকতে হবে। দলের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকতে তিনি মন্ত্রিত্ব ছুড়ে ফেলে দেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিত্ব পাওয়া ও হারানো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু আজকাল অনেকে মনে করেন, মন্ত্রিত্ব গেলে সবই গেল, জীবনটাও গেল, শুধু দেহটা খাঁচার মতো পড়ে রইল। সম্প্রতি সপ্তাহ খানেক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে যে নাটকটি মঞ্চস্থ হলো, তা অনেকে উপভোগ করলেও আমি বিরক্ত হয়েছি। রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ কয়েকটির দুটিই তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সাধারণ সম্পাদকের পদটি প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তাঁকে সেখান থেকে সরাননি। তিনি খুবই সজ্জন এবং তাঁকে আমরা সৎ হিসেবে জানি। সে জন্য তাঁর আলস্যকে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে মাঝে মাঝে মন্ত্রিসভায় রদবদল করা প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিতে হয়, কাউকে যোগ করতে হয়। মন্ত্রিত্ব কোনো মৌরসি পাট্টা নয়। অলস, অদক্ষ ও অসৎ মন্ত্রীদের বাদ দিলে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ে। তবে বড় আকারের মন্ত্রিসভাই দক্ষ ও ভালো মন্ত্রিসভা নয়। অনেক সময় তা বিরাট বোঝার মতো।
সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার পর তাঁর অনুরাগীদের যে প্রতিক্রিয়া ও সহানুভূতির প্রকাশ, তা যথোচিত ছিল না। সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ নয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে যেভাবে বিশ্লেষণ করলেন, তাতে কোনো দায়িত্বশীলতা ছিল না। কেউ লিখল, তিনি ‘দেশান্তরি’ হচ্ছেন অভিমানে, একই দিনে কেউ লিখল, ‘চমক আসছে’ এবং তাঁকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পরিবর্তে সংসদ উপনেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী করা হচ্ছে। সংবিধানে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ কোথায়? খবরের সূত্র কে? ধারণা করি, এ-জাতীয় সংবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিব্রত হয়ে থাকবেন। বিব্রত হয়ে থাকবেন সৈয়দ আশরাফ নিজেও। শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফ উভয়েই নিজ নিজ কীর্তিমান পিতাকে নির্মমভাবে হারিয়েছেন। তাঁদের ওই জায়গাটি নিয়ে রাজনীতি না করা ভালো। তাঁদের মধ্যে বিবাদ বাধানো বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি করা খুবই অন্যায়। তাঁরা মিলেমিশে উভয়েই সুস্থধারার রাজনীতি করুন, দেশের কল্যাণ করুন, সেটাই কাম্য।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

‘ভেলকিবাজ মোদি ঈশ্বরকেও বোকা বানাতে পারেন’ -লালু প্রসাদ যাদব

‘মাদারি (ভেলকিবাজ) মোদি ঈশ্বরকেও বোকা বানাতে পারেন। তার একমাত্র গুণ- তিনি জনগণকে ধোঁকা দিতে পারেন।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এসব কথা বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধান লালু প্রসাদ যাদব।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিহারের উন্নয়নের জন্য ১২৫ লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় লালু মোদিকে ভেলকিবাজ বলেছেন।
বিহারের নির্বাচনে বিজেপিকে ঠেকাতে আদাজল খেয়ে লেগেছে আরজেডি, জেডি (ইউনাইটেড) এবং কংগ্রেস। কিন্তু ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত মোদি ও বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বিহারে শক্ত ঘাঁটি গাড়তে চান। এই মুহূর্তে চলছে নেতাদের কথার তুবড়ি। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ঝরছে তাদের মুখ থেকে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চলছে।
বুধবার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন লালু। তিনি বলেন, ‘তিনি (মোদি) সবাইকে বোকা বানাতে পারেন। এমনকি ভগবানকেও। কিন্তু নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া এই সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে- এমন প্রমাণ দিতে পারবেন না মোদি।’
লালুর অভিযোগ, ‘নির্বাচনে ফায়দা তুলতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মোদি। আগামী তিন মাস তার মুখে প্যাকেজের কথা শোনা যাবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এই ১৫ মাস তিনি কোথায় ছিলেন? এসব পুরোনো প্যাকেজ। তিনি বিহারের জনগণকে ধ্বংস করতে চান।’
বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে অভিহিত করে লালু বলেন, ‘আমি মরব তবু কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিহার শাসন করতে দেব না।... যারা ধর্ম নিয়ে খেলছে, আমি তাদের ধ্বংস করব।’
উল্লেখ্য, তিন মাস পর বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Premier News Syndicate Limited

শরীরের বিশেষ স্থানের প্রতি আকর্ষণ হওয়ায় তাদের ধন্যবাদ দিলেন তসলিমা!

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সাক্ষাৎ চেয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারতে তসলিমার বসবাসের অনুমতির (রেসিডেন্স পারমিট) মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে এখনও দেশটির সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ কারণেই রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন উদ্বিগ্ন তসলিমা। তবে এখনও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া দেয়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই।
এদিকে, কলকাতার উগ্রপন্থী মুসলমানরা তসলিমার স্তন কেটে নেয়ার যে হুমকি দিয়েছে তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। ওরা আমার স্তন কেন আরো কিছু চাইলে দিতে পারি। অবশেষে আমার শরীরের বিশেষ স্থানের প্রতি আকর্ষণ হওয়ার তাদের ধন্যবাদ দেয়ার আগে আমাকে ভিসার মেয়াদটা যেন বাড়ানো হয়।
তসলিমা আরো বলেন, রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। ১৭ই আগস্ট তার পূর্বের পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে সুইডেনের নাগরিক তসলিমা বলেন, রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ার কথা আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারি না।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সেখানে তসলিমার বসবাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ৫২ বছর বয়সী এ লেখিকা বলেন, অতীতে এ ধরণের সাক্ষাতের জন্য আবেদন করলে একদিনের বেশি সময় লাগতো না। কিন্তু এখন ইতিমধ্যে ২ দিন হয়ে গেছে, কিন্তু আমি কোনো সাড়া পাইনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে দেশত্যাগ করেন তসলিমা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১ বছরের জন্য ভারতে অবস্থানের অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। যার মেয়াদ ১৭ই আগস্ট শেষ হয়েছে। যদিও ২০০৪ সাল থেকে তিনি ভারতে থাকছেন। ভারত তার ভিসার মেয়াদ নিয়মিতই বাড়িয়েছে। বেশ কয়েকবার তিনি ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে কলকাতায় থাকার ইচ্ছা তার বহুদিনের। এমনকি একসময় বাঙালি অধ্যুষিত এ শহরটিতে থাকতেনও তিনি। কিন্তু সেখানে তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থী দল আন্দোলন শুরু করলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে অন্যত্র চলে যেতে বলে। এরপর থেকে তিনি রাজধানী দিল্লিতে বসবাস করছেন।
তিনি জানান, ভারতে অবস্থানের অনুমতি না পেলে, পরিচয় সংকটে পড়বেন তিনি। যা তার লেখালেখি ও নারী অধিকার বিষয়ক লড়াইয়ে প্রভাব ফেলবে।

বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরজুকে হত্যা করা হয়েছে: সাংসদ তাপস

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনাটি মানতে পারছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। এঁদের পাশাপাশি এই এলাকার (ঢাকা-১০) আওয়ামী লীগের সাংসদ ফজলে নূর তাপসও বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরজুকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে র‌্যাব।
গত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান আরজু মিয়া (২৮)। গত সোমবার রাজা মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে আরজু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রাজা মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আরজু মিয়া।
গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে আরজুকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ ‘হত্যা’র সঙ্গে জড়িত র‌্যাব সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরজুর কয়েকজন স্বজন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রায় ১০০ নেতা-কর্মী। লিখিত বক্তব্য পড়েন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক হামিদ ওরফে সাজু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আরজু মিয়া কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও নেই। আর এলাকার স্বীকৃত মাদকসেবী রাজা মিয়াকে চুরির অভিযোগে স্থানীয় মানুষ মারপিট করলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরজুকে ফাঁসানো হয়েছে। এতে র‌্যাবের পাশাপাশি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরজুর ভাই মাসুদ রানা বলেন, আরজু নিহত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘মা আমারে বলছে, তুই কোনো মামলা-মোকদ্দমা করবি না। আমার এক ছেলেরে ক্রসে দিছে। ও রাজনীতি করত, আর তুই তো সাধারণ মানুষ। তোরে যে ক্রসে দেবে না, তার কী গ্যারান্টি?’
গতকাল বেলা দুইটার দিকে হাজারীবাগ পার্কে আরজু মিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিতে ভিজে সহস্রাধিক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সাংসদ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ হাজারীবাগ থানা ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন। এরপর লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার সময় দেওয়া বক্তব্যে সাংসদ তাপস বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
সন্ধ্যায় প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সাংসদ ফজলে নূর বলেন, ‘আরজু নিরীহ-নিরপরাধ ছেলে। তাকে র‌্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে। ওখানে সেদিন যে ছেলেটা (রাজা) মারা গেছে, তার পরিবারই বলছে সে মাদকাসক্ত। সে চুরি করেছে, তাকে হয়তোবা লোকজন একটু মারধর করেছে। পরে তার (রাজার) আত্মীয় শামীমই তাকে বেশি মারধর করেছে। শামীম বুকের ওপর এমনভাবে ছেলেটাকে মেরেছে যে পরে সে মারা গেছে। ওটা একটা দুর্ঘটনা। আমরা এ জন্য দুঃখিত। এখানে আরজুর কোনো অপরাধ থাকলে তার জন্য আইন ছিল, বিচার হতো। কিন্তু এ রকম একটা ছেলে, যার কোনো ব্যাড রেকর্ড নাই, কোনো মামলা-জিডি পর্যন্ত নাই, সেই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে গিয়ে সকালবেলায় মেরে দিল। এটা কোনো কথা হতে পারে? এটা তো কোনো যৌক্তিক ঘটনা হতে পারে না!’
এটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে র‌্যাব যে দাবি করছে, সে বিষয়ে সাংসদ তাপস বলেন, ‘এটা (বন্দুকযুদ্ধ) একটা তথাকথিত গৎবাঁধা কথা। এটার কোনো মানে হয় না। এটা বিশ্বাসযোগ্যও না। এ রকম একটা নিরীহ ছেলের মৃত্যু আমি কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। প্রতিবাদ জানিয়েছে সকলে। আমরা এটার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি তো মনে করি, এটা নারায়ণগঞ্জে যে রকম একটা ঘটনা (সাত খুন) ঘটেছিল সে রকমই একটা পুনরাবৃত্তি, এ ছাড়া কিছু না।’
যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, মঙ্গলবারই র‌্যাব এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এর বাইরে এ বিষয়ে র‌্যাবের বলার মতো কিছু নেই।
মঙ্গলবার কমান্ডার মুফতি এ বিষয়ে বলেছিলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরজুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাঁকে নিয়ে র‌্যাব-২-এর একটি টহল দল অভিযানে যাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত আরজু মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন র‌্যাবের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। একপর‌্যায়ে আরজু মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওসি বদলি: গতকাল রাতে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মেই ওসিকে বদলি করা হয়েছে। হাজারীবাগ থানায় ওসি হিসেবে মাইনুলের দুই বছর পার হয়েছে।’

ছাড়পত্র পেল সুরাইয়া

মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়াকে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা দেড়টার দিকে
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মা নাজমা বেগমের কোলে তুলে দেন সুরাইয়াকে। এ ছাড়া বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার হাতে সুরাইয়ার হাসপাতাল ছাড়ার পত্র তুলে দেন মন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রী সুরাইয়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু সুরাইয়ার মঙ্গল কামনা করে।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর সুরাইয়ার জন্ম।
২৬ জুলাই ভোর চারটার দিকে মা-বাবাকে ছাড়াই সুরাইয়াকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। কম ওজনের, সময়ের আগে জন্মানো শিশুটিকে নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও ওর শরীরে ধরা পড়ে জন্ডিস। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমতে শুরু করে দ্রুত। বুলেটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারলেও সংক্রমণের ধাক্কা কাটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দেয়।
২৮ জুলাই চিকিৎসকেরা সুরাইয়াকে স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে (স্ক্যাবু) নিয়ে যান। ২৯ তারিখ হাসপাতালে এসে পৌঁছান মা।
জন্মের ২৫ দিন পর প্রথমবারের মতো সুরাইয়াকে তার মায়ের মায়ের কোলে দেওয়া হয়। আজ ছাড়পত্র দেওয়া হলো।

সংসদ সদস্য পদ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর রিট খারিজ

সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গতকাল বুধবার এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব যায়। একই সঙ্গে নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন। দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা মীমাংসার জন্য গত ১৩ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। কমিশন ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানির জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে ডেকেছেন।
এরপর লতিফ সিদ্দিকী গত রোববার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এতে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া স্পিকারের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিতের আরজি জানানো হয়। একই সঙ্গে ওই চিঠি কেন অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুলের আরজি জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনসচিব, কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) ও স্পিকারকে রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।

‘জামিনের জন্য আমার স্ত্রী মন্ত্রীকে ফোন করেনি’ -জামিনে মুক্তির পর সাংবাদিক প্রবীর সিকদার

জামিনে মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক প্রবীর সিকদার বলেছেন, তিনি কীভাবে জামিন পেলেন, তা তিনি জানেন না। তবে এ নিয়ে তাঁর স্ত্রী অনিতা সিকদার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ফোন করেননি। বরং মন্ত্রী উল্টো তাঁকে ফোন করে জামিনের ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন। আর জামিন পেয়েও তিনি নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন না। কারণ, এখনো মামলাটি রয়ে গেছে। গতকাল বুধবার জামিন পাওয়ার পর টেলিফোনে প্রবীর সিকদার প্রথম আলোর কাছে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কীভাবে জামিন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু কম বুঝি। হুটহাট করে যা বুঝি তা করে ফেলি। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে করে ফেলি। আমার বিরুদ্ধে করা মামলাটা কোন ধারায়, তা আমি জানি না। আমার কোনো আগ্রহও নেই। আজই জামিনের প্রক্রিয়ার পর শুনেছি যে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা এই মামলাটি জামিন অযোগ্য। কিন্তু কীভাবে জামিনযোগ্য হলো—এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই।
‘কালকে আমাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিল। জামিন নিয়ে আমার স্ত্রী কখনো মন্ত্রীকে ফোন করেনি। তবে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সকালে আমি যখন কোর্ট দারোগার কাছে বসা, তখন এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে ডেকে নিয়ে ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলেন, বৌদি একটু কথা বলেন। অপর প্রান্ত থেকে এক ভদ্রলোক পরিচয় না দিয়ে বলেন, বউমা কেমন আছেন। প্রবীর কেমন আছে। ফোনে তাকে বলা হয়, আমি জামিনের ব্যবস্থা করছি, জামিন হয়ে যাবে, চিন্তা কোরো না। এ কথার প্রেক্ষিতে আমার স্ত্রী তাঁর প্রতি ধন্যবাদ জানায়। তখন পর্যন্ত আমার স্ত্রী নিশ্চিত না যে সে কার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে জামিনের কথা বলায় ধারণা করেছে যে প্রভাবশালী কেউ কথা বলেছেন।’
প্রবীর সিকদার বলেন, ‘মঙ্গলবার রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর পুলিশ আমাকে আর থানায় নিয়ে যায়নি। কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকাল সাতটার দিকে আমি যখন দাঁত মাজছিলাম, তখন আমাকে জানানো হলো, থানা থেকে পুলিশ এসেছে নিয়ে যেতে। আমি বললাম, গোসল না করে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি ভেবেছিলাম রিমান্ডে থাকব তিন দিন। এক শার্ট-প্যান্ট পড়ে থাকব। ওখানে গোসল করা হবে না। আমি গোসল শুরু করলে অন্তত ১০ বার আমাকে জেলগেটে যাওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়। আমি সেভ ও নাশতা করতেও পারিনি। জেলগেটে এসে দেখতে পাই আমার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন বসে আছেন। মনির আমাকে দেখে বলেন, দাদা কী বুঝতেছেন? আমি বলি, আপনি যদি আমাকে খুন করতে চান, তবে খুন করে ফেলুন, কিন্তু টর্চার করবেন না। এসআই মনির আমাকে বলেন, আপনার জামিনের ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। আমি তাঁর কথা বিশ্বাস করিনি। কারণ পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়ার আগে কেমন আচরণ করে আর গ্রেপ্তার হওয়ার পরে কেমন আচরণ করে, তা তো আমি এই কদিনে টের পেয়েছি।’
জামিনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবীর সিকদার বলেন, ‘আজ আমাকে হাতকড়া পরায়নি। অথচ গত কয়েক দিন আমার দুই হাতেই হাতকড়া পরানো হয়েছে। আমি বললাম, আপনি হাতকড়া পরান। কিন্তু তিনি বলেন, মনে করেন আপনার জামিন হয়ে গেছে। তারপরও আমাকে হাতকড়া না পরিয়ে জেলগেট থেকে গাড়িতে ওঠাল এবং ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ওসির রুমে নিয়ে যায়। আমাকে মনির বলে, দাদা এখন কী করবেন? আমি বলি, আপনিই জানেন আপনি কী করবেন। এসআই মনির বলেন, আমি তো ইন্টারোগেশন শেষ করে ফেলেছি। আমি বলি, কী রকম? তিনি বলেন, আমার কাজ শেষ।
‘এরপর আমাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁরাই বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। আমার জামিনের আবেদন দেওয়া হলো। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, দাদা মনে কিছু কইরেন না, সব ব্যবস্থা হচ্ছে। আপনার জামিন হবে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে যাচ্ছি। পরে আমি যখন আদালতে যাই, দেখলাম তাঁরা ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেন। তারপর আমার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেন। কোর্ট দারোগা কোনো আপত্তি করলেন না এবং আমার জামিন হয়ে গেল।’
নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রবীর সিকদার বলেন, ‘আমার নিরাপত্তা কে দেবে? এবার তো আমাকে বাঁচিয়েছে জনগণ। পাশাপাশি সরকারের শীর্ষমহলের নিশ্চয়ই হস্তক্ষেপ আছে। তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে গণমানুষের কাছে আমার ঋণ থাকবে। তারা যদি মাঠে না নামত, তাহলে বিষয়টা আরও দীর্ঘায়িত বা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারত। তারপরেও মামলাটা কিন্তু রয়েই গেল। এর জন্য আমার মনে হচ্ছে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য একটা সাময়িক উপশম করা হয়েছে। কিন্তু মামলা থেকে যাওয়ায় পরে ঝামেলা করা হতে পারে। আমার বিপদ কেটে গেছে, এটা আমি মনে করি না। দেশে-বিদেশে যেভাবে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, গণমাধ্যম সোচ্চার ছিল। ফলে সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য হয়তো এটা করা হয়েছে। কিন্তু মামলাটি পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছি না।’

ব্যাংকক হামলার পেছনে বড় চক্র

থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ইরাওয়ান মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনায় একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করেছে দেশটির পুলিশ। থাই পুলিশের প্রধান সোমিয়ুত পুমপানমাউং মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, মন্দিরে বোমা হামলায় একজন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে সন্দেহ করছেন তারা। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এরই মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজে শনাক্ত করা সন্দেহভাজনের স্কেচ তৈরি করেছে পুলিশ। সোমিয়ুত বলেন, বোমা হামলার ঘটনায় যে, থাই নাগরিকরা জড়িত আছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই, তবে মূল হামলাকারী বিদেশী নাকি থাই নাগরিক সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।
মূল সন্দেহভাজনকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন থাই সামরিক জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওঁচা। প্রায়ুথ জানান, মন্দিরে বোমা রাখার জন্য ওই লোকটিকে ভাড়া করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইরাওয়ান মন্দিরটি আবারও খুলে দেয়া হয়েছে। নিজস্ব প্রতিনিধির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ঘটনাস্থলে খুব একটা নিরাপত্তা জোরদার হয়নি। লোকজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানীর চিদলুম জেলার ইরাওয়ান মন্দিরের কাছে থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামলাটি হয়। শুরুতে প্রাণহানির সংখ্যা ১২ বলে জানানো হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে।

শুভ্রার শেষকৃত্য সম্পন্ন

নয়াদিল্লির লোদি রোড শশ্মানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে চোখের জলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল ভারতের ফাসর্ট্ট লেডি প্রণবপত্মী শুভ্রা মুখার্জির। সক্রিয় রাজনীতি দুর অস্ত, বরাবরই তিনি ছিলেন অন্তঃপুরবাসিনী। কিন্তু বিদায়ের শেষ বেলায় জনজোয়োরের আবেগে ভেসে দৃশ্যত তিনিও হয়ে উঠলেন জননেত্রী। অন্যদিকে রাইসিনা হিলসের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের নিগড়ে একা হয় গেলেন ‘বাংলাদেশ-বন্ধু’ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধায়। বুধবার সকাল থেকেই নজিরবিহীন আবেগঘন ঘটনার সাক্ষী হয়ে তাকাল ভারতের রাজধানী শুভ্রা মুখার্জির মরদেহের সামনে দ৭াড়িয়ে রীতিমতো অশ্র“সজল চোকে বিহ্বল হয়ে দ৭াড়িয়ে রইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ শ্রদ্ধা জানালেন উপ রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির প্রবীন নেতা লাকৃষ্ণ আদবানি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির উপ রাজ পাল নাজিব জং, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ জাতীয় রাজনীতির নেতা-নেত্রীরা। বুধবার সকালের বিমানে বোন রেহানাক, মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বিশেষ বিমান দিল্লি যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সোজা যান রাষ্ট্রপতি ভবনে, দেখা করেন প্রণব মুখার্জির সঙ্গে। সেখান থেক প্রণববাবুর সঙ্গেই তালকটোরা রোডের বাড়িতে (ছেলে অভিজিৎ মুখার্জির বাড়ী) যান শেখ হাসিনা। দীর্ঘক্ষণ মরদেহের পাশে দ৭াড়িয়ে শোকস্তব্ধ প্রণববাবুকে সমবেদনা জানান প্রতিবেশি প্রধানমন্ত্রী। আগেরদিন খবর পেয়েই রাষ্ট্রপতি ভবনে ফোন করেছিলেন শেখ হাসিনা। কথা বলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সংসদ সদস্যের জানান, প্রণব ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শেখ হাসিনার তাঁর দুই ছেলে মেয়ে জয় আর পুতুলকে নিয়ে দিল্লি আসেন। বোন রেহানার তখনও বিয়ে হয়নি।
গীতাই (শুভ্রা মুখার্জির ডাক নাম) তখন ওদের অভিভাবক ছিল।’ বিশ্লেষকরা বলেন, এত বছর পরেও এই সম্পর্ক কতটা আত্বিক তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এদিন দেখেই আন্দাজ করা যা। ফার্স্ট লেডির প্রয়াণে অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছুটে আসার ঘটনাই সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এর উপর এদিন তালকটোরা রোডের বাড় থেকে লোদি রোড শ্মশান পর্যন্ত শেষ যাত্রায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একই গাড়িতে সওয়ার হন শেক হাসিনা। রাষ্ট্রপতির কনভয়ের সঙ্গেই পুস্তস্তবক সুসজ্জিত শবাবাহী শকটে শেষকৃত্যে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের মরদেহ। লোদি রোড শ্মশানেই শেষ শ্রদ্ধা জানান দুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শেখ হাসনাসহ সকুেল। শবশয্যার পাশে নীরবে দ৭াড়িয় চিলেন কন্যা শর্মিষ্ঠা, পুত্র অভিজিৎ এবং ইন্দ্রজিৎ। তবে মৃতদেহ চুল্লিতে ঠোকানোর সময় আবেগের বাঁধ ধরে রাখতে পারেননি মমতা এবং হাসিনা। শ্রদ্ধা জানয়ে যখন সব ভিভিআইপিরা ফিরে যাচ্ছেন, তখনও চুল্লির গেট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন উপমহাদেশের এক রাষ্ট্রপ্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শোকার্ত শেখ হাসিনা বার বার চোখের জল মুছছিলেন। পরে দিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে মোদর সঙ্গে বেঠক করতে যান শেখ হাসিনা। বিকেলের বিমানেই ফের সপার্ষদ ঢাকা ফিরে আসে শেখ হাসিনা। মায়ের মূল পারলৌকিক অনুষ্ঠান বীরভূমের কীর্ণহারের গ্রামের বাড়িতেই করতে চান অভিজিৎ। তবে বাবার সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়ার পরেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ভিভিআইপিরা চলে যাওয়ার পরই শ্মশানের গেট খুলে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য।

সাংবাদিক গ্রেফতারে কোণঠাসা হাসিনা: আনন্দবাজার পত্রিকা

‘সাংবাদিক গ্রেফতারে কোণঠাসা হাসিনা’- এই শিরোনামে আজ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশিষ্ট এক সাংবাদিক-সম্পাদককে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশজোড়া চাপের মুখে কে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় এক মন্ত্রীর কাজকর্ম নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তিতে কালি পড়ল। একটি অনলাইন সংবাদপত্রের সম্পাদক প্রবীর সিকদারকে রোববার রাতে ঢাকায় তার অফিস থেকে তুলে নিয়ে য়ায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে পুলিশ জানায়, ফেসবুকে তার লেখা একটি পোস্টের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরিদপুরের সাংসদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের মানহানির অভিযোগ উঠেছে সিকদারের ফেসবুক পোস্টটিতে। মঙ্গলবার আদালত কে তিন দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। কিন্তু সিকদারের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে মৌলবাদী-বিরোধী সব মহল প্রতিবাদে সরব হয়। দেশের সব বড় শহরে গণজাগরণ মঞ্চ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। বিশিষ্ট জন এবং শাসক আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশও সিকদারের গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন। অবশেযে চাপের মুখে পুলিশ বুধবারই এই সাংবাদিককে আদালতে তোলে। সরকারি কৌঁসুলি র জামিনের বিরোধিতা না-করায় সিকদার মুক্তি পান। ফরিদপুরের প্রবীর সিকদার বাংলাদেশে পরিচিত মুখ। ১৯৭১-এ তার পরিবারের ১৪ জনকে হত্যা করেছিল রাজাকার ও পাকিস্তানের সেনারা। ২০০১ সালে ফরিদপুরের রাজাকার শিরোমণি মুসা বিন শমশেরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখায় মৌলবাদীরা তাকে খুনের চেষ্টা করে। বোমায় একটি পা হারান সিকদার। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোয় তিনি প্রাণে বাঁচেন। মৌলবাদের বিরুদ্ধে বরাবর সরব প্রবীণ সেই সাংবাদিককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে নিয়ে যাচ্ছে- এই ছবি প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। সম্পর্কে শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ সম্প্রতি সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি জোর করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার এই সব কাজের বিরুদ্ধে কলম ধরায় স্থানীয় বেশ কিছু সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় হেনস্থা, এমনকী মারধরও খেতে হয়েছে। মোশাররফের বিরুদ্ধে এমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন সিকদার। অভিযোগ, ফরিদপুরের প্রাণকেন্দ্রে অরুণ গুহ মজুমদারকে সপরিবার উচ্ছেদ করে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির দখল নিয়েছে এই মন্ত্রীর দলবল। সম্পত্তির মালিককে অস্ত্রের মুখে বিক্রির দললে সই করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই খবর প্রকাশের পর থেকেই প্রাণনাশের হুমকি পেতে থাকেন সিকদার। তিনি পুলিশে গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি। তার পরেই এই সাংবাদিক মন্ত্রী ও কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে লেখেন, তিনি খুন হলে এরা দায়ী থাকবেন। কিন্তু এ ঘটনায় মন্ত্রীর মানহানি হয়েছে অভিযোগ করে পুলিশ সিকদারকেই গ্রেফতার করে মামলা রুজু করে। বাংলাদেশে মৌলবাদী স্লিপার সেল তথাকথিত আনসার আল বাংলার হাতে এ পর্যন্ত চার জন ব্লগ লেখক খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে তিন জন ঢাকায়, এক জন সিলেটে। কিন্তু হুমকি পেয়েছেন অনেক বিশিষ্ট জন। অভিযোগ, তারা হুমকির বিষয়টি পুলিশে জানালেও প্রশাসন উদাসীন। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের মৌলবাদ-বিরোধী মহলে। প্রশাসনের প্রতি অনাস্থায় অনেকে গোপনে দেশ ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে সিকদারের গ্রেফতার অনেক প্রশ্ন তুলে ধরল।

মোদি-শরিফ নতুন ইনিংস স্থায়ী হোক by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

মধ্যবিত্ত বাঙালি-জীবনে এই রকম একটা ছবি আমরা অনেক দেখেছি। স্বামীর ওপর রাগ করে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেছে এবং কিছুদিন কাটিয়ে আবার স্বামীর ঘর করতে এসেছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকা এবং দৃঢ়চেতা না হওয়ায় গড়পড়তা বঙ্গ নারীর বাপের বাড়ি নামের তুরুপের তাসটা বেশি দিন বাজি জেতাতে পারে না। মানুষের জীবনে সম্পর্কের এই বিচিত্র ওঠানামা মোটেই বিরল নয়। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে এটাই আবার একমাত্র স্থিতিশীল। এবং সেই কারণেই স্বাভাবিক। রাশিয়ার উফা শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা ‘এসসিও’র আসরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আরও একবার মোলাকাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে বারবার মিলন ও বারবার বিচ্ছেদের এই উপমাই মনে পড়ল।
রাশিয়ার বাইরে উফা শহরটার নাম কজন জানতেন, তাতে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। কিন্তু যেহেতু সেখানে দু-দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন (ব্রিকস ও এসসিও) হলো এবং সেই সম্মেলনের আসরে আরও একবার ভারত ও পাকিস্তানের মিলন ঘটল, উফা তাই বিশেষ পরিচিতি পেয়ে গেল। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দ শহরও (এখন উজবেকিস্তান) ঠিক এভাবে বিখ্যাত হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান সন্ধি স্থাপন ও ঠিক তার পরের দিন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আচমকা মৃত্যুর কারণে। ভারত ও পাকিস্তানের মধুর ও তিক্ত সম্পর্কের ওঠানামার খতিয়ানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া এভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস এভাবেই ঘুরে ঘুরে আসে।
রাশিয়ার উফা শহরে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মোলাকাত
সম্মিলিত জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালের প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হয়েছিল। ১৯৬৫-র দ্বিতীয় যুদ্ধ বন্ধেও। কিন্তু দেশভাগ ও দ্বিজাতিতত্ত্বের ফলে যে অবিশ্বাস, অনাস্থা ও শত্রুতা দুই দেশে পাকাপাকি ঘাঁটি গাড়ে, তা দিন দিন বেড়েছে ছাড়া কমেনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সক্রিয় যোগদান এবং পাকিস্তানের অঙ্গচ্ছেদ পাকিস্তান মানসিকতায় এক চিরস্থায়ী ক্ষত হয়ে রয়েছে। ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। জেনারেল জিয়াউল হকের আমল থেকে কাশ্মীরে যে ছায়াযুদ্ধের শুরু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সেটা এক নতুন বাঁক। সেই বাঁক ধরেই আজও এগিয়ে চলেছে সম্পর্কের স্রোত, সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অনাস্থাকে সঙ্গী করে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে এটাই চিরন্তন সত্য।
সম্পর্কে ওঠানামা থাকেই। কিন্তু তা তৈলাক্ত বাঁশে বাঁদরের ওঠানামার অঙ্ক অথবা সাপ-লুডো খেলার মতো হওয়া উচিত নয়। নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফের এই নতুন ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হলেই মঙ্গল কিন্তু জীবন তো থেমে থাকার নয়। চিরকালীন শত্রুতা নিয়ে ঘর যেমন করা যায় না, তেমনই প্রতিবেশীকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। সন্দেহ, অবিশ্বাস ও শত্রুতা সত্ত্বেও তাই বারবার হাত মেলানোর প্রচেষ্টা এই সম্পর্কে দেখা গেছে। ১৯৯৯ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ি ঐতিহাসিক বাসযাত্রায় লাহোর গিয়েছেন। অথচ তার পরপরই ঘটে যায় কারগিল-কাণ্ড। এই নওয়াজ শরিফই সেই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁরই নাকের ডগায় তাঁরই সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ কারগিল ছকে ফেলে ক্রমেই তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করবেন, নওয়াজ শরিফ তা টের পাননি। কারগিল চুকেবুকে গেলে ফের সেই মিলনের উদ্যোগ। আগ্রা শীর্ষ সম্মেলনে পারভেজ মোশাররফ এসেছিলেন। ২০০১ সাল। ব্যর্থ সফরের পর সেই বছরেরই ডিসেম্বরে আক্রান্ত হলো ভারতের সংসদ ভবন। ফের সেই অবিশ্বাস। ফের তিক্ততা। ফের সেই সন্দেহ ও শত্রুতার চোরাস্রোত। ২০০৮ সালের মুম্বাই আক্রমণ সম্পর্ককে আরও একবার তলানিতে নিয়ে আসে। আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের তাগিদে ভুটানের থিম্পুতে ২০১১ সালে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ঠিক হয়, দুই দেশই ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণরেখায় অবিরাম সংঘর্ষের ফলে দুই বছরের মধ্যেই তিতিবিরক্ত মনমোহন সিং জানিয়ে দেন, ‘দেয়ার কান্ট বি বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল উইথ পাকিস্তান’।
বলেছিলেন বটে, কিন্তু মুখ ফিরিয়ে চিরকাল যে থাকা যায় না, সেই উপলব্ধিও ভারতীয় নেতৃত্বের ছিল। রাজনৈতিক পালাবদলের সময় নরেন্দ্র মোদি তাই সার্ক দেশের সবাইকে আমন্ত্রণ জানান ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের সাক্ষী হতে। সম্পর্কের রকমফেরে সে ছিল এক দারুণ উদ্যোগ। তাঁর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি যে স্রেফ চমকই নয়, তিনি যে সুসম্পর্ক স্থাপনে একান্তই আন্তরিক, তার প্রমাণও মোদি রাখতে চেয়েছিলেন বন্ধ থাকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর মাধ্যমে। কিন্তু আবারও তার কেটে গেল। পররাষ্ট্রসচিবের ইসলামাবাদ সফরের ঠিক আগে সেই সফর বাতিল করে দেন মোদি নিজেই। কারণ, কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়াত কনফারেন্স নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনার আলোচনায় বসেছিলেন।
এত দূর এগিয়েও মোদি যে কেন হুরিয়াতকে খাঁড়া করে পিছিয়ে এলেন, তার সংগত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। এমন নয় যে এর আগে পাকিস্তানের কোনো হাইকমিশনার হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলেননি। কতবার যে এ রকম কথাবার্তা হয়েছে, তা হয়তো গুনে শেষ করা যাবে না। পাকিস্তান অথবা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার অনুমতিও হুরিয়াত নেতাদের দেওয়া হয়েছে। তবু কেন সেই আচমকা সিদ্ধান্ত? আরও একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে। গত এক বছরে পাকিস্তান এমন কিছুই কি করেছে, যাতে বন্ধ থাকা আলোচনা ফের শুরু করা যায়? হাফিজ সঈদকে শাস্তি দিতে পারেনি। লাকভিকেও না। কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ বন্ধ করে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঠেকাতে কুটোটি পর্যন্ত নাড়েনি। ভেঙে দেয়নি নিয়ন্ত্রণরেখার ওপাশের জঙ্গি ঘাঁটিগুলো। দাউদ ইব্রাহিমের টিকিও তারা আজ অবধি ছুঁতে পারেনি। সেই দাউদ, এক যুগ আগে পাকিস্তানের হাতে উপপ্রধানমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানির তুলে দেওয়া সন্ত্রাসী-তালিকায় প্রথম নামটি যার ছিল!
তাহলে? কেন ফের কথা বলার তাগিদ? কেনইবা উফায় আচমকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার চমক? কেনই বা যৌথ ঘোষণাপত্রে বহু ঘোষিত ১০ দফা প্রস্তাবের নতুন উত্থাপন? কোন সিদ্ধান্তটি তাহলে ঠিক আর কোনটা ভুল? আলোচনাকে প্রাধান্য দেওয়া যদি ঠিক হয়ে থাকে, তাহলে ছয় মাস আগে কথা বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল ধরতে হবে। মজাটা হলো, এই নিয়ে এখন কারও মুখে কোনো কথা নেই।
সব দেশের মতো ভারতের রাষ্ট্রনীতিতেও কট্টর ও মধ্যপন্থীদের একটা সংঘাত আছে। নরেন্দ্র মোদি যে দলের নেতা, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই বিজেপির নীতিও বরাবরই কট্টর। কিন্তু দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের পরিণতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি মৌলবাদী শক্তি যখন দিন দিন বেড়ে চলেছে। সেই উপলব্ধি মোদির যে হঠাৎ আজ হলো, তেমন মনে করারও কোনো কারণ নেই। অতএব ধরে নেওয়া যায়, বাস্তববাদী মোদি আলোচনাকেই একমাত্র উপায় বলে ধরে নিয়েছেন। আলোচনা বন্ধের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, এই পদক্ষেপ প্রকারান্তরে তারই স্বীকারোক্তি। এটা তাঁর বোধোদয়।
অস্বীকার করার উপায় নেই, পাকিস্তানও সন্ত্রাসের শিকার। এটাও ঠিক, পাকিস্তানের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক কেউ একা নয়। সেখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। প্রবল পরাক্রান্ত সেনাবাহিনী আছে। স্বার্থান্বেষী গোয়েন্দা বিভাগ আইএসআই রয়েছে। আর রয়েছে ধর্মীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসী শক্তির প্রবল উপস্থিতি। এই চতুর্মুখী শক্তির মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হলে গণতন্ত্রী ভারতকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পাকিস্তানি সরকারকেই বেছে নিতে হবে।
সম্পর্কে ওঠানামা থাকেই। কিন্তু তা তৈলাক্ত বাঁশে বাঁদরের ওঠানামার অঙ্ক অথবা সাপ-লুডো খেলার মতো হওয়া উচিত নয়। নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফের এই নতুন ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হলেই মঙ্গল।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

‘মত প্রকাশ ও আইন প্রয়োগ দুটোতেই বাড়াবাড়ি হচ্ছে’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলছেন, “এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।” তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের প্রয়োগ দুক্ষেত্রেই কিছুটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে গ্রেফতারের পর তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দেয়া হয়। এরপর গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি আইন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অধিকার কর্মীরা বলছেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনটি নিবর্তনমূলক এবং এর ৫৭ ধারাটির অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি উঠেছে। এ পটভূমিতে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭টি ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, দুই দিকেই কিছুটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে এমন কিছু লেখা যাবে না বা স্ট্যাটাস দেয়া যাবে না যা অন্যের অধিকার, মর্যাদা বা শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। সেটা যেন অন্যের অনুভূতির ওপর আঘাত আনতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।” পাশাপাশি আইনের নামে যারা এটি প্রয়োগ করবেন তারা অযথা হয়রানি করবেন, আইনের স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করবেন সেটা নয়। সে ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইকবাল সোবহান বলেন, “অনেক ভালো আইনও অপ-প্রয়োগ বা অপব্যবহারের কারণে নিবর্তনমূলক হতে পারে। স্বেচ্ছাচারভাবে ব্যবহার করলে আইনের কারণে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” আইনটির অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি-না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আইন যেটি আছে তার অপপ্রয়োগ হলে বা তার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নিশ্চই তা সুনির্দিষ্ট করার জন্য বা সংশোধন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে প্রবীর শিকদার তার স্ট্যাটাসে আরেকজনকে অভিযুক্ত করে মৃত্যুর জন্য দায়ি বলে যেভাবে লিখেছেন, সেটিও কিন্ত সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা নয়।” –বিবিসি

এবার বিক্রমাসিংহের কাছে ধরাশায়ী রাজাপক্ষে

মাহিন্দা রাজাপক্ষে
শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ)। সরাসরি ভোট হওয়া ১৯৬টি আসনের মধ্যে ৯৩টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)। অবশ্য গত সোমবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশের আগেই পরাজয় স্বীকার করেন রাজাপক্ষে। আর প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে নির্বাচনে ‘জনগণের জয়’ হয়েছে মন্তব্য করে ঐক্যের ডাক দেন। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের মোট আসনসংখ্যা ২২৫টি। তবে সরাসরি ভোট হয় ১৯৬টি আসনে। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যেই সবগুলো আসনের ফল বোরোয়। এতে দেখা যায়, বিক্রমাসিংহের ইউএনপি জিতেছে ৯৩টি আসনে। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের ইউপিএফএ পেয়েছে ৮৩টি আসন।
এক দশক ধরে প্রেসিডেন্ট পদে থাকা রাজাপক্ষে গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁরই সাবেক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার কাছে হেরে যান। ওই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে সিরিসেনা রাজাপক্ষের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের (ইউপিএফএ) মহাসচিব ছিলেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের দ্বিতীয় প্রভাবশালী পদ প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাজাপক্ষে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে ফেরার আশায় ছিলেন। তবে সিরিসেনা তাঁর প্রধান হওয়া ঠেকাতে ইউএনপির সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু ইউপিএফএকে জেতাতে পারলে সিরিসেনা তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করতে বাধ্য হবেন বলে মনে করছিলেন রাজাপক্ষে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই গতকাল হার মেনে নিয়ে রাজাপক্ষে বলেন, ‘আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। আমি (পরাজয়) স্বীকার করছি। আমরা একটি ভালো লড়াইয়ে হেরে গেছি।’

হামলাকারী শনাক্ত, আবার বিস্ফোরণ

ব্যাংককে বিস্ফোরণে নিহত এক চীনা পর্যটকের মৃতদেহ গতকাল
মর্গে শনাক্ত করার পর তাঁর স্বজনদের আহাজারি। এএফপি
সোমবার সন্ধ্যার বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল মঙ্গলবার আবার বিস্ফোরণ ঘটল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। তবে গতকালের ওই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাইউথ শান-ওশা সোমবারের হামলাকে ‘এযাবৎকালের মধ্যে ভয়াবহ’ আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি টিভি) ধরা পড়া দৃশ্য দেখে হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। হামলাকারী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সরকারবিরোধী অংশের একজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপি ও বিবিসির। পুলিশ জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় বেলা একটার দিকে রাজধানীর সাফান তাকসিন বিটিএস স্কাইট্রেন স্টেশনের কাছের একটি খালে বিস্ফোরকটি ছোড়া হয়। স্টেশনের কাছের রেলসেতু থেকে খালের দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে ওই বিস্ফোরকটি। থাইরাথ টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পরপরই খালের পানি ওপরের দিকে উপচে পড়ে। বিলাসবহুল সাংগ্রি লা হোটেল এবং ফরাসি দূতাবাসের কাছেই ওই স্টেশনটি। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় ইয়ান্না থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। কোন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি এখন অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। সোমবারের মতো গতকালের বিস্ফোরণের দায়ও কেউ স্বীকার করেনি। ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে সোমবার সন্ধ্যায় হিন্দু মন্দিরের সামনের রাস্তায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয় শতাধিক। এদিকে মন্দিরে হামলায় শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছে ব্যাংককবাসী। হামলায় আহত ব্যক্তিদের রক্ত দিতে দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে গতকাল। রক্ত দিতে আসা এমন এই থাই নারী রাভিওয়ান বলছিলেন, ‘ব্যাংককের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত। এরপর কী ঘটবে তা জানি না।’

পৃথিবীর ‘প্রথম ফুল’

পানির নিচে যে জায়গায় জন্মেছিল প্রাচীন উদ্ভিদটি, তা আজকের ইউরোপ। উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম মন্টসেশিয়া ভিডালি। পাপড়ি না থাকলেও এটি থেকে তৈরি হয়েছিল একটিমাত্র বীজসহ ফল। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটিই ছিল সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম সপুষ্পক উদ্ভিদ। খবর এএফপির। মার্কিন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা মন্টসেশিয়া ভিডালির এক হাজারের বেশি জীবাশ্ম বা ফসিল নিয়ে গবেষণা চালান। স্পেনের কয়েকটি হ্রদে প্রায় ১৩ কোটি বছর আগে এ ধরনের উদ্ভিদ জন্মাত বলে তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণার আগ পর্যন্ত চীনা একটি উদ্ভিদ প্রজাতিকে (আরকিফ্রাক্টাস সাইনেনসিস) সবচেয়ে প্রাচীন সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে মনে করতেন বিজ্ঞানীরা। মন্টসেশিয়া ভিডালি নামের উদ্ভিদটি বহুদিন ধরেই গবেষকদের পরিচিত।
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় আইবেরিয়ান রেঞ্জ থেকে এটির ফসিল প্রথম আবিষ্কার করা হয় অন্তত ১০০ বছর আগে। প্রায় একই সময়ে পিরেনিজ পর্বতমালার ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যবর্তী মন্তসেক রেঞ্জ এলাকায়ও উদ্ভিদটির ফসিল পাওয়া যায়। মার্কিন গবেষক দলটির প্রধান ডেভিড ডিলচার বলেন, মিঠা পানির উদ্ভিদটি দেখতে সামুদ্রিক ঘাসের মতো। তবে পানির নিচে এটির শিকড় সম্ভবত ওপরের দিকে থাকত। যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডোনাল্ড লেস বলেন, ‘প্রথম সপুষ্পক উদ্ভিদ’ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা উদ্ভিদবিদ্যার একটি বড় রহস্য সম্পর্কে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

গণপিটুনিতে নিহতেরা তালিকাভুক্ত ডাকাত: পুলিশ

নরসিংদীর মনোহরদীতে গণপিটুনিতে আহত
আমিনুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবিটি
মনোহরদী থানা থেকে তোলা। ছবি: মনিরুজ্জামান
নরসিংদীর মনোহরদীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ফারুক মিয়া (২৬) ও আমজাদ হোসেন (২৮)। পুলিশ বলছে, তাঁরা তালিকাভুক্ত ডাকাত। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ফারুক মিয়ার বাড়ি মনোহরদীর গোতাশিয়া ইউনিয়নের নামাগোতাশিয়া গ্রামে। আমজাদের বাড়ি শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর এলাকায়।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, হতাহত সবাই পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত। গণপিটুনিতে আহত আমিনুল নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নিহত আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শিবপুর থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। নিহত ফারুকের বিরুদ্ধে মনোহরদী ও বেলাব থানায় ডাকাতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। ডাকাতির অভিযোগে পালিয়ে যাওয়া রাজ্জাক ও মোশারফের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গণপিটুনিতে আহত আমিনুলের তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শুকুন্দী-মনোহরদী সড়কের সুতারলরিকান্দা এলাকায় গতকাল রাত সোয়া আটটার দিকে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ফারুক মিয়া, আমজাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, রাজ্জাক মিয়া ও মোশারফ হোসেন নামের পাঁচজন যুবক আসেন। সেখানে তাঁরা সড়কের মাঝখানে গাছ ফেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকান। পরে চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা নিয়ে নেয়। আশপাশের লোকজন এ সময় তাঁদের ঘিরে ফেলে। রাজ্জাক মিয়া ও মোশাররফ পালিয়ে যান। ফারুক, আমজাদ ও আমিনুলকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ফারুক ও আমজাদ মারা যান। আমিনুল এখন মনোহরদী থানায় রয়েছে।

ওচালানকে বাইরে রেখে বড় ঝুঁকি নিল তুরস্ক -রয়টার্সের বিশ্লেষণ

আবদুল্লাহ ওচালান
তুরস্কের সঙ্গে কুর্দি বিদ্রোহীদের তিন বছরের পুরোনো শান্তিপ্রক্রিয়া এখন ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়। দেশজুড়ে সহিংস ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ রকম মুহূর্তেও একটা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রেখে চলছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। নিঃসঙ্গ এক দ্বীপে কারাবন্দী সে মানুষটিই হয়তো চলমান আগুন নেভাতে সহায়তা করতে পারতেন।
আবদুল্লাহ ওচালান নামের এই ব্যক্তি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে (পারতিয়া কারকেরেন কুর্দিস্তান) প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। রাষ্ট্র তুরস্কের বিরুদ্ধে পিকেকে প্রথম অস্ত্র হাতে তুলে নেয় ১৯৮৪ সালে। তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার ইতি ঘটাতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ২০১২ সালে যে সংলাপ শুরু করেন, তাতে আঙ্কারার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন এই ওচালানই।
কিন্তু বর্তমানে তুর্কি যুদ্ধবিমানের পিকেকের শিবিরগুলোতে উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ ও তুর্কি সেনাদের ওপর কুর্দি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওচালান গত মার্চ মাসে যে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মর্মর সাগরে অবস্থিত ইমরালি দ্বীপের নির্জন কারাগারে থাকা ওচালানের কণ্ঠস্বরও এখন আর শোনা যাচ্ছে না।
যে কুর্দিপন্থীবিরোধী রাজনীতিকেরা ওই শান্তিপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করছিলেন, তাঁদের পিকেকে নেতা ওচালানের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না তুর্কি কর্তৃপক্ষ।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গত মঙ্গলবার সামরিক বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমাদের দেশে একজন সন্ত্রাসীও অবশিষ্ট থাকা এবং (তাদের অস্ত্রগুলো) কংক্রিটের নিচে চাপা দেওয়া পর্যন্ত আমাদের যুদ্ধ চলবে।’ তাঁর এই অবস্থান তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ার শুরুর দিনগুলোতে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত। শান্তিপ্রক্রিয়ার সময় এরদোয়ান নানা স্লোগান তুলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ‘রক্তপাত থামাও, আমরা মায়েদের কান্না দেখতে চাই না।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তুরস্কে সহিংসতা ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গত ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীরই অন্তত ২৬ সদস্যকে এই সহিংসতায় প্রাণ দিতে হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায় স্বীকার করেছে পিকেকে। ইস্তাম্বুলের লেখক ও কুর্দি গবেষক গারিথ জেনকিন্স বলেন, ‘সহিংসতা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্র তুরস্ক বা পিকেকে কেউই আর সেটাকে বোতলে ভরতে সক্ষম হবে না।’
পিকেকের রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর জোট অবশ্য অতি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তুরস্ক সরকার ও ওচালানের মধ্যে সংলাপ অবিলম্বে শুরুর আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে তারা পূর্বশর্ত হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
আঙ্কারা এই আহ্বানকে এখন পাত্তা দেবে না বলেই মনে হচ্ছে। শান্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘শান্তিপ্রক্রিয়ায় ওচালান একজন খেলোয়াড়, এটা ঠিক। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, তাঁকে এতে ভূমিকা রাখতে হলে পিকেকে এবং এইচডিবিকে (কুর্দিপন্থীবিরোধী রাজনৈতিক দল) তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে—ওচালান যা চান, গ্রুপটি তা করেনি।’
পিকেকের মাঠপর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে ওচালান এখনো জনপ্রিয়। তবে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তিনি এখন তরুণ গ্রুপগুলোর মধ্যে অতটা শ্রদ্ধাভাজন নন। এসব গ্রুপই সাম্প্রতিক সহিংসতাগুলোর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হয়। তারপরও ওচালানের পক্ষ থেকে কোনো আহ্বান এলে পিকেকে যোদ্ধারা মানতে বাধ্য।

দুই ছাত্রলীগ নেতা 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স by আলমগীর হোসেন

কথায় নয়, এবার কাজেই প্রমাণ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারের নির্দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী কিংবা প্রভাবশালী হলেও ছাড় পাচ্ছেন না। গেল দুই দিনে (সোম ও মঙ্গলবার) রাজধানী ঢাকা ও মাগুরায় পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রলীগের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। এরা হলেন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া এবং মাগুরা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসান আজিবর ওরফে আজিবর শেখ। আরজুর বিরুদ্ধে সোমবার এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এবং আজিবর শেখের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধসহ এক পথচারীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বাড্ডার আলোচিত আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় রোববার রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী বাড্ডা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফারুক মিলন ও আওয়ামী লীগ কর্মী নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর বাইরে চাঁদপুরে চাঁদা না পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনায়ও স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মনির, লিটনসহ অন্তত আটজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। দেশের আরও অনেক স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী বা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙানো বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে খুনোখুনি ও সন্ত্রাসের ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরাধী কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় বা তাদের পক্ষে তদবির না করতে মন্ত্রীদেরও হুশিয়ার করেন। বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খুনাখুনি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথাটি ফুটে উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মাগুরায় মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় জড়িত অজিবর শেখ নিহত হওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাগুরায় ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। ওই ব্যক্তি (অভিযুক্ত) এর আগেও অনেক গোলাগুলি করেছে। তাকে অনেক দিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছিল। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ধরতে গেলে সে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে নিহত হয়। বর্তমানে অপরাধ দমনে যা হচ্ছে, সবই আইন মেনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
হাজারীবাগে ছাত্রলীগ নেতা আরজু নিহত : রাজধানীর হাজারীবাগে মোবাইল চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে কিশোর রাজাকে হত্যায় জড়িত প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আরজু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের বাড়ুইবাড়ী এলাকায় মান্নান প্রিন্সিপালের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আরজু হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। হাজারীবাগ থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, কিশোর রাজা হত্যার ঘটনায় তার বোন রেশমা বেগমের দায়ের করা মামলায় আরজু ছিলেন প্রধান আসামি। আরজু হাজারীবাগ গণকটুলী এলাকার একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ রানা বলেন, সোমবার রাতে আরজুকে আটক করার পর ভোর রাতে তাকে নিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে বের হয় র‌্যাবের একটি দল। র‌্যাব সদস্যরা হাজারীবাগের বেড়িবাঁধের কাছে বাড়ুইবাড়ী এলাকায় গেলে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা আরজুর সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। র‌্যাবও তখন পাল্টা গুলি চালাতে থাকে। গোলাগুলির সময় আরজু পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে সহযোগীরা পালিয়ে গেলে আরজুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রোববার রাতে আরজুর গণকটুলী লেনের বাসা থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি হয়। পাশেই গণকটুলী লেনে ৪২ নম্বর বাসায় বাবা বাবুল মিয়ার সঙ্গে থাকতেন রাজা। ওই ফোন-ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে আরজু সোমবার সকালে বাসা থেকে কিশোর রাজাকে সন্দেহবশে ধরে নিয়ে যান। এরপর আরজু তার বাসার প্রধান গেট বন্ধ করে সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে কিশোর রাজাকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে রাজা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে অচেতন অবস্থায় রাজাকে তার বাসায় রেখে যান আরজু। পরে রাজাকে তার স্বজনরা ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাজার বোন রেশমা বেগম সোমবার রাতে আরজুকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি সাগর, মনির ও সুজনকে ওই রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে। অপর দিকে মূলহোতা ও প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা আরজুকে আটক করেছিল র‌্যাব-২ এর একটি দল। সোমবারের এ ঘটনার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে নানা মহলে।
রাজা হত্যায় মনিরুজ্জামান ও সুমন রিমান্ডে : আদালত প্রতিবেদক জানান, কিশোর রাজা হত্যায় গ্রেফতার হওয়া সাগর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অন্য দুই আসামি মনির ও সুজনকে তিন দিন করে রিমান্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার পর হাজারীবাগের গণকটুলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানা পুলিশের এসআই অলিভ মাহমুদ মঙ্গলবার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে সাগর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মাগুরায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত : মাগুরা সংবাদদাতা মুসাফির নজরুল জানান, ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সহিংসতায় মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ এবং একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন নম্বর আসামি মেহেদী হাসান আজিবর ওরফে আজিবর শেখ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আজিবর বিলুপ্ত মাগুরা পৌর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। সোমবার রাত ১টার দিকে শহরের দোয়ারপাড় এতিমখানা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসান উল্লাহ এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
এসপি এহসান উল্লাহ জানান, আজিবরসহ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দোয়ারপাড় এতিমখানা এলাকায় অবস্থান করছে- এমন খবরের ভিত্তিতে মাগুরা পুলিশের একাধিক টিম তাকে আটক করতে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে আজিবর শেখের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। আগের দিন সন্ধ্যায় (সোমবার) মাগুরা শহরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আজিবর গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ বারবার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করে আসছিল।
২৩ জুলাই মাগুরায় সরকার সমর্থকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষকালে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুসহ মা নাজমা গুলিবিদ্ধ এবং মমিন ভূইয়া নামে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় বাদী নিহত মমিনের ছেলে রুবেল তার এজাহারে উল্লেখ্য করেছেন, আজিবরের আগ্নেয়াস্ত্রের ছোড়া গুলিতে মমিনের মৃত্যু হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সেন সুমনকে ২ আগস্ট গ্রেফাতার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাগুরা ডিবি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ পর্যন্ত মামলার ৯ আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। দুই নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলীসহ ছয়জনকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ- ‘দিলমা চলে যাও’

প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের অভিশংসনের দাবিতে গত রোববার ব্রাজিলজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে। দুর্নীতির সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির জন্য ক্ষমতাসীন রুসেফ সরকারকে দায়ী করেছে বিক্ষোভকারীরা। খবর বিবিসির।
সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে সাও পাওলো শহরে। সেখানে সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভ হয়েছে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ায়ও। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ব্রাজিলের ফুটবল দলের হলুদ জার্সি পরে অংশ নেয়। কণ্ঠে অনেকেরই ছিল জাতীয় সংগীত। তাদের বহন করা ব্যানারে লেখা ছিল ‘দিলমা চলে যাও’।
দেশে ব্যাপক হারে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়াও দিলমার জনপ্রিয়তা কমার কারণ বলে মনে করা হয়। ব্রাজিলের একটি কোম্পানির করা সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দরিদ্র এলাকাগুলোতে রুসেফের জনপ্রিয়তা এখনো রয়ে গেছে। গত নির্বাচনে তাঁর বিজয়ে এসব এলাকার বড় ভূমিকা ছিল।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার ব্রাজিলজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ছবিটি সাও পাওলো থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভকারীরা দিলমা ও তাঁর দল বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে গত ২৫ বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতির চরম দুরবস্থার জন্যও তাঁর সরকারকে দায়ী করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সমবেত বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংগীত গাইছিল আর ‘দিলমা তুমি চলে যাও’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল। একই চিত্র ছিল রিও ডি জেনেরিও, সাও পাওলোসহ ব্রাজিলের অন্য শহরগুলোতেও। অনেকেই ব্রাজিলের ফুটবল দলের হলুদ রঙের জার্সি পড়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়।
আয়োজকদের দাবি, গতকাল দেশজুড়ে মোট ১৯ লাখ নাগরিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে তিন লাখ।
সাও পাওলোর বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ভেম প্রা রুয়া’-এর নেতা রোজেরিও চেকুয়ার বলেন, ‘দুর্নীতি আমরা আর সইতে পারছি না। আইনসভা কংগ্রেসের যদি ন্যূনতম বোধ-বিবেচনা থাকে, তা হলে তারা দিলমাকে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত নেবে।’
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, দিলমার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম বিক্ষোভ নয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে বিক্ষোভ হয়েছে। সেসময়ও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভে অংশ নেয়।
ব্রাসিলিয়ায় গতকালের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এলিনো এলভিস ডি মোরায়েস বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই। মানুষ রাস্তায় না নামলে পরিবর্তন অসম্ভব।’
দুর্নীতির দায়ে ব্রাজিলের আইনসভা যেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসন করে—সেই দাবিতে গতকাল রোববার দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ছবিটি সাও পাওলো থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্স
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছরও পূর্তি হয়নি দিলমার। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তাঁর জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে এক অঙ্কের ঘরে।
আগামী বছর রিও ডি জেনেরিওতে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক হওয়ার কথা। এ অবস্থায় ব্রাজিলের জন্য আরও কঠিন দিন আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাস নিয়ে দিলমা ও তাঁর দল বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছে বলে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, এক দশক ধরে ব্রাজিলের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এখন তা নিম্নমুখী হচ্ছে। অর্থনীতির এই অবস্থা দেশটির মধ্যবিত্তকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

ডিএনডি খাল দখলদারদের তালিকা হয়, উচ্ছেদ হয় না by শরীফ সুমন

ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দেড় বছর আগে অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ না হলেও প্রতি বছরই বাড়ছে তাদের সংখ্যা। অব্যাহত দখলদারিত্বে অনেক এলাকাতেই এখন ডিএনডি সেচ খাল সরু নালায় পরিণত হয়েছে। এক সময় কৃষকদের আশীর্বাদ সেচ খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ডিএনডিবাসীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএনডি বাঁধ এলাকার ফতুল্লার ওয়াপদার পুল এলাকায় ডিএনডি খাল দখল করে দোকান নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে। একইভাবে সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন খালটিও দখল করে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকায় রূপসী গ্রুপের গার্মেন্ট সংলগ্ন এলাকায় ডিএনডি খাল ভরাট করে সরু নালায় পরিণত করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী পূর্বপাড়ায় মিজমিজি টিসি রোড সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয় ইসহাক মিয়া নিষ্কাশন খাল (কংস নদী) ভরাট করে তার বাড়ির জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন। একই অবস্থা ডিএনডির বিভিন্ন এলাকার খালগুলোর।
জানা গেছে, ১৯৬২-৬৮ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাঁধের ভেতর ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বাস। ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। তখন ডিএনডির ভেতরে সেচ প্রকল্প ছিল ৫ হাজার ৬৪ হেক্টর। সূত্র জানায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদী এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল; যা ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচ খাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ছিল ১৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল ছিল। এর মধ্যে আবার চ্যানেল-১ খালের দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২ এর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল ৩ কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ছিল ১০ কিলোমিটার। এসব খালের অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করেন। কিন্তু জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞার কাছে স্মারকলিপি দেন ফতুল্লার কায়েমপুরসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খালের মধ্যে ৩৯ কিলোমিটার জায়গার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে এই অর্থ শুধু কচুরিপানা পরিষ্কারেই শেষ হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ উদ দৌলা আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, দেড় বছর আগে খাল ও অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি দখলদারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। আবারও অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দুই মাসের মধ্যে নতুন তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলের বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গেলে যে লজিস্টিক সাপোর্ট (অর্থ) প্রয়োজন, সেটা আমরা পাই না। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার চৌধুরী জানান, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

ঘরের মেয়ে আর ফিরবে না, শোকের ছায়া নড়াইলে

বছর দুয়েক আগেই ডাক এসেছিল তার সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু, যাই যাই করেও শেষমেশ তা আর হয়ে ওঠেনি। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে উঠতেই চোখের পানি বাঁধ মানেনি রকিবউদ্দিনের। রকিবউদ্দিন সেন্টু- কানাইলাল ঘোষের পড়শি। কে এই কানাইলাল? তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের ভাই। বাংলাদেশের নড়াইল জেলাতেই আদি বাড়ি শুভ্রাদেবীর। ছোটবেলায় শুভ্রাদেবী ভারতে চলে এলেও বাংলাদেশেই থেকে গিয়েছিলেন তার ভাই কানাইলাল। এ দিন রকিবউদ্দিনের সঙ্গে তার মন ছেয়ে এসেছে দিদির নানা স্মৃতিকথায়। সপ্তাহখানেক আগেই তাকে দেখতে নয়া দিল্লি গিয়েছিলেন কানাইবাবু। অসুস্থ শুভ্রাদেবীর শেষ সময়ে তার পাশেই ছিলেন কানাইবাবু। তার স্ত্রী দুলালী ঘোষ বলেন, “দিদির অসুস্থতার খবরেই রাইসিনা হিল ছুটে গিয়েছিলেন আমার স্বামী।” কানাইবাবুর ছেলে প্রশান্ত ঘোষ বলেন, “পিসিমা ছিলেন আমাদের মাথার ছাদ। তার ছায়াতেই বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি। তিনি সব সময়ই আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন। আজ আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম। তার আত্মার চির শান্তি কামনা করি।” মন খারাপ রকিবউদ্দিনেরও। তিনি বলেন, “প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন দিদি তখন নড়াইলে বেড়াতে এসেছিলেন। আমরা সকলেই সে সময় খুব আনন্দ করেছিলাম। আজ খুব খারাপ লাগছে।” ভারতে এসেছেন বহু বার। সজল নয়নে তার সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গে গেলে দিদির হাতের পানি না খেয়ে এক বারও ফিরে আসিনি।” শুভ্রাদেবীর জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, নড়াইলের চিত্রাপাড়ের ভদ্রবিলা গ্রামে। তার বাবার নাম অমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, মা মীরারানী ঘোষ। নয় ভাই-বোনের মধ্যে শুভ্রাদেবী ছিলেন দ্বিতীয়। তুলারামপুর গ্রামের মামাবাড়ি থেকে চাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। সেখানেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন তিনি। ১৯৫৫ সালে পরিবারের সঙ্গে ভারতে আসা। বয়স তখন ১২। প্রণববাবুর সঙ্গে বিয়ে হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে। প্রণববাবু তখন ২২ বছরের যুবা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে মেয়ে শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বোড়াতে এসেছিলেন সস্ত্রীক প্রণববাবু। রাষ্ট্রপতি হিসাবে এর পর প্রণববাবু দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে আসেন ২০১৩ সালের ৫ মার্চ। সঙ্গে ছিলেন শুভ্রাদেবীও। স্বামীর সঙ্গে তিন দিনের সফরে এসে নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে নিজের ভিটেয়ও ঘুরে যান শুভ্রাদেবী। শুভ্রাদেবীর মৃত্যুর খবরে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি শোকবার্তা পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনা। বুধবার নয়া দিল্লিতে আসছেনও তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ কথা জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এহসানুল আমিন। শোকজ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক শিবির থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও।– আনন্দবাজার পত্রিকা

অভিজিৎ হত্যায় গ্রেফতার তৌহিদ মে থেকে ‘নিখোঁজ’

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার তিনজনকে বুধবার ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানের গ্রেফতারের সময় নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় থাকা বোন অভিযোগ করেছেন, তার ভাইকে গত মে মাসে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কোন খোঁজ না পেয়ে তারা অপহরণের অভিযোগে জিডি করেছিলেন। এখন সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে তারা আটকের ব্যাপারে জানতে পারেন। তবে পুলিশ এবং র‌্যাব বলেছে, সোমবার রাতে তৌহিদুর রহমানসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটকের পর তারা জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিম এবং ব্লগারদের দু’টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে র‌্যাব দাবি করেছে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানের আইনজীবী এল এম কামালউদ্দিন তার মক্কেলকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন মঞ্জুর করেনি। তৌহিদুর রহমানের বড় বোন নাসেরা বেগম ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসক। তিনি তার ভাইয়ের আটকের বিষয়ে বলেন, “আমার ভাইকে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেছে মে মাসের ২৮তারিখে। আমিতো কোনো খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডি করেছি অপহরণের অভিযোগে। এখন খবর পেলাম মানুষের কাছে যে টিভিতে বলেছে জঙ্গি ধরেছে।” তৌহিদুর মানসিক রোগী? জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যায় জড়িত থাকার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে, সে ব্যাপারে নাসেরা বেগম বলেন, তার ভাই দেশে ফেরার পর থেকে বাইপোলার রোগে ভুগছেন। সেকারণে তার ভাই কোন কাজ করেনা, সবসময় বাসায় থাকতো এবং নামাজ পড়তে মসজিদে যেতো। নাসেরা বেগম আরও বলেন, মসজিদে কারো সঙ্গে যোগাযোগ হলে সেটা তার জানা নাই। তবে তার ভাই কোনো সংগঠন করার মত সুস্থ ছিলেন না বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। তৌহিদুর রহমানকে মে মাসে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তার আইনজীবী আদালতেও তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তৌহিদুর রহমানসহ আটক তিনজনকে আদালতে হাজির করে র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সোমবার মধ্যরাতের পর ওই তিনজনকে আটক করা হয়। আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে জড়িত থেকে লেখক অভিজিৎ রায় এবং অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল। পরিবারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান র‌্যাবের কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেছেন, মে মাসে আটকের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, এমন অভিযোগ এনে জঙ্গি তৎপরতা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তৌহিদুর রহমানের বয়স ৫৬ বছর। অবিবাহিত তৌহিদ পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ বিমানে ক্যাটারিং সার্ভিসে চাকুরিচ্যুত হয়ে ১৯৯১ সালে তিনি লন্ডনে যান। সেখান কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশুনা করে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এরপর তিনি পূর্ব লন্ডনে থাকতেন। তৌহিদের গ্রামের বাড়ি যশোরে। ২০১৩ সালে ঢাকায় ফিরে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় তার বড় বোন ডা. নাসেরা বেগমের বাসায় থাকতেন। নাসেরা বেগম জানিয়েছেন, তার মায়ের অসুস্থতার জন্য তার ভাই দেশে ফিরে আর লন্ডনে যাননি। -বিবিসি।