Tuesday, December 10, 2024

বাশারের কুখ্যাত কারাগারে ১১০০ নম্বর বন্দীসহ কয়েকজনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

‘আমার নাম ছিল নম্বর ১১০০’, বললেন হালা। নিজের নামে পরিচিত হতে এখনো ভয় পান তিনি। সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের কারাগারগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া হাজারো মানুষের একজন হালা। দুই সপ্তাহের কম সময়ে বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়।

হালা আল–জাজিরাকে বলেন, ২০১৯ সালে তাঁকে হামা শহরের একটি তল্লাশিচৌকি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগ আনা হয়েছিল। বাশার আল-আসাদের সরকার প্রায়ই সন্দেহভাজন সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে তাঁদের গ্রেপ্তার করত এবং পাশবিক নির্যাতন চালাত। হালাকে গ্রেপ্তারের পর আলেপ্পোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ছিলেন।

সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীগুলো গত ২৯ নভেম্বর আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর তিনিসহ অসংখ্য মানুষ ওই কারাগার থেকে মুক্ত হন।

বিদ্রোহী বাহিনী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) কারাগার খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে হালা বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবতেই পারিনি যে কখনো দিনের আলো দেখতে পাব। বিশ্বাসই হচ্ছে না যে এটি সত্যি হয়েছে।’

মুক্তিদাতাদের সম্পর্কে হালা বলেন, ‘এই আনন্দ ছিল অপরিসীম; ইচ্ছা করছিল, তাঁদের জড়িয়ে ধরে চুমু খাই। আমরা চিৎকার করে তাঁদের ধন্য বলছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন আমার পরিবারের কাছে পৌঁছাই, তখন আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, যেন আবার আমার জন্ম হয়েছে।’

এইচটিএস আলেপ্পোয় পৌঁছানোর পর বেশ কিছু অবকাঠামোর পাশাপাশি আলেপ্পোর প্রধান কারাগারটিও খুলে দেয়। এরপর বাহিনীটি আলেপ্পো থেকে দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয়। তারা পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

সিরিয়ান মানবাধিকার নেটওয়ার্কের দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্রোহীরা আসার আগে দেশটির নৃশংস কারাগারগুলোয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের বেশি মানুষ বন্দী ছিলেন।

সিরিয়ার কারাগারগুলো ছিল বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম খুঁটি। ২০১৩ সালে সিরিয়ার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসে। ছবিগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলে, সিরিয়ার সরকারি কারাগারগুলোয় ব্যাপক নির্যাতন, অনাহার, মারধর এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ছিল এসব ছবিতে। এসবই ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ, বলেছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

হালা আরেকটি মেয়ের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের কথা বলেন। ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি নির্যাতনে মারা যায়। বিয়ের দুই মাস পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হালা বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, একজন বয়স্ক মহিলা এবং দুই চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করেছিল। ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা বিপ্লবীদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

যে স্মৃতি মোছা যায় না

আলেপ্পোর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে ৪৯ বছর বয়সী সাফি আল-ইয়াসিন বলেন, ‘এই দিন আমার পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো। মনে হচ্ছে, এটি আমার জীবনের প্রথম দিন। এই আনন্দ বর্ণনাতীত।’

সাফি আল-ইয়াসিন ২৯ নভেম্বরের আগে কারাগারের কাছাকাছি লড়াইয়ের শব্দ শোনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেও কারাগারের পরিবেশ ছিল অনেকটাই নীরব-নিস্তব্ধ। এরপর আমরা চারপাশ থেকে বিজয়ী বিদ্রোহীদের স্লোগানের শব্দ শুনতে পাই।’

সাফি আরও বলেন, এই কারাগারে প্রায় পাঁচ হাজার বন্দী ছিলেন। আমরা সবাই দরজা-জানলা ভেঙে বেরিয়ে আসি। এমনকি কারা কর্মকর্তা ও রক্ষীরাও সাদাপোশাক পরে আমাদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিদ্রোহীদের হাতে যাতে ধরা না পড়েন, সে জন্যই তাঁরা এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

সাফি পেশায় কামার। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের উপকূলীয় শহর বানিয়াসে মাছ ধরার নৌকা তৈরি করতেন। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার বছর ২০১১ সালে একটি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, তাঁকে ৩১ বছরের সাজা দেওয়া হয়। তাঁর প্রায় অর্ধেক সাজা ভোগ করা হয়ে গেছে।

সাফি বলেন, গ্রেপ্তারের পর ১৪ বছরে সিরিয়ার বিভিন্ন কারাগারে নিয়ে তাঁর ওপর গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এটা চলেছে বছরের পর বছর।

সাফি আল-ইয়াসিন এক বছর সেদনায়ার কুখ্যাত কারাগারে কাটিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালে এই কারাগারকে ‘মানব কসাইখানা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি বলেন, সেদনায়া কারাগারের অভিজ্ঞতা অবিশ্বাস্য, লিখে প্রকাশ করার মতো নয়। সাফিকে পরে সুইদা এবং অবশেষে আলেপ্পোর কারাগারে রাখা হয়। প্রতিটি কারাগারে নৃশংসতা ও জিজ্ঞাসাবাদের ধরন আলাদা ছিল বলে জানান সাফি।

কারাগার থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত এই ব্যক্তি রক্তমাখা এক বয়স্ক বন্দীর স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি যে দৃশ্য দেখেছি, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারব না।’ ওই ব্যক্তি পরে মারা যান।

মৃত্যুর হাতছানি

সিরিয়ার একটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন মাহের। তিনি আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বললেও পুরো নাম জানাতে চাননি। ২০১৭ সালে ‘সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের’ অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিরিয়ার কারাগারে বিনা বিচারে গত সাত বছর বন্দী ছিলেন। ভেবেছিলেন, কর্তৃপক্ষ হয়তো তাঁকে ভুলেই গেছে। ‘যেন আমি কোনো মানুষ নই। কারণ, আমি তো কেবল একটি নম্বর।’ তিনি কারাগারে তাঁর নিজের এবং নিজের দেখা অন্যদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।

মেহের বলেন, ‘অত্যাচারের তীব্রতা এবং নৃশংসতার কারণে প্রতি মিনিটে মনে হতো মৃত্যু হাতছানি দিচ্ছে। একটি পশুর পক্ষেও এমন নির্যাতন সহ্য করা সম্ভব নয়।’ তবে সম্ভবত সবচেয়ে মর্মান্তিক মুহূর্তটি ছিল যখন তিনি দামেস্কের কুখ্যাত মেজেহ কারাগারে একজন আত্মীয়ের মুখোমুখি হন।

মেহের বলেন, ‘একদিন একটি বাসে করে কিছু নতুন বন্দীকে কারাগারে আনা হলো। তাঁদেরকে আমার সেলে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন বন্দীকে দেখে আমার শ্যালকের মতো মনে হয়েছিল। আমি প্রথমে ইতস্তত করলাম এবং ভাবলাম, এটি আয়মান হতে পারে না, এটা হতে পারে না—তার পা তো কাটা ছিল না?’

সন্দেহ দূর করার জন্য তিনি ওই বন্দীর কাছে যান। তিনি দেখেন, পা হারানো মানুষটি মানসিক স্থিতিও হারিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ওই বন্দীর শরীরে একটি উল্কি দেখে তিনি বোঝেন, ইনিই তাঁর সেই আত্মীয়।

মেজেহ ছিল মাহেরের বন্দী থাকা অনেকগুলো কারাগারের একটি। বছরের পর বছর নির্যাতনের পর একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি আলেপ্পোর এই কারাগার থেকে বের হতে পারবেন না। কিন্তু তার পরই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটল।

মেহের বলেন, ‘কারাগারের কাছে গোলাগুলির আওয়াজ শুনে আমরা সবাই “আল্লাহু আকবর” স্লোগান দিতে শুরু করি। আমরা কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি যে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আমরা দরজা ভেঙে কারাগার থেকে বের হয়ে বিপ্লবীদের আলিঙ্গন করি। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় সেজদায় লুটিয়ে পড়ি। ইদলিবে বোনের বাড়িতে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত আমাদের নিরাপদে রাখা হয়েছিল।’

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের প্রশাসন বিরোধী মতের মানুষদের বিনা বিচারে দিনের পর দিন কারাগারে আটকে রেখে নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছিল। আলেপ্পো কেন্দ্রীয় কারাগার
সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের প্রশাসন বিরোধী মতের মানুষদের বিনা বিচারে দিনের পর দিন কারাগারে আটকে রেখে নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছিল। আলেপ্পো কেন্দ্রীয় কারাগার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আসাদের পতনের পর কোন ব্যক্তি সিরিয়া শাসন করবে?

রবিবার সকালে, সাদা সবুজ সামরিক ইউনিফর্ম পরা দাড়িওয়ালা একজন ৪২বছর বয়সী ব্যক্তি দামাস্কাসের উমাইয়া মসজিদে প্রবেশ করেন এবং উপস্থিত  জনতা, সিরিয়ান জাতি এবং বিশ্বের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। গোটা মসজিদ সেজে উঠেছিল জমকালো সাজে। তার সামনে দাঁড়িয়ে  আহমেদ আল-শারা প্রেসিডেন্ট আসাদের পতনকে ‘ইসলামী জাতির জন্য একটি বিজয়’ হিসাবে বর্ণনা করেন এবং প্রার্থনার আহ্বান জানান। আহমেদ আল-শারা বলেন, ‘আমি ২০ বছরেরও বেশি আগে এই দেশ ছেড়েছি, আমার হৃদয় এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল। আমার ভাইয়েরা এখন  সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করো।’

গত দুই দশকের বেশির ভাগ সময় ধরেই সিরিয়ার বেশিরভাগ ডি ফ্যাক্টো শাসক তার আসল নামটি ব্যবহার করেননি। আহমেদ আল-শারা, যিনি দামাস্কাসের একটি সমৃদ্ধ পাড়ায় এক প্রগতিশীল পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন এবং চিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা করার পর হঠাৎ সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যান।

তার জায়গায় মুসলিম গৌরবকে পুনরুজ্জীবিত  করতে এগিয়ে আসেন আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। এই জোলানিই ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিয়ে  ইরাকে মার্কিন সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তারপর তাকে পাঁচ বছর ধরে বন্দী শিবিরে রাখা হয়েছিল। জোলানিও ২০১১ সালে সিরিয়ায় ফিরে এসে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং তারপর আল-কায়েদা উভয়ের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জোলানিই ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন এবং ২০১৭ থেকে ইদলিবের উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ান ছিটমহলের ২ মিলিয়ন মানুষের উপর তার শাসন কায়েম করেন। জোলানি  রবিবার  দামাস্কাসে শেষ হওয়া ১২ দিনের প্রচারাভিযানে এইচটিএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত  বিদ্রোহী জোটের সূচনা করেছিলেন।

এখন প্রশ্ন হলো কোন ব্যক্তি সিরিয়া শাসন করবে? জোলানি, যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা সন্ত্রাসী হিসাবে মনোনীত করেছে এবং তার মাথার মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে।

নাকি শারা, যিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সংগঠন পশ্চিম আক্রমণ করবে না এমন ইঙ্গিত দিতে সরে গেছেন? অনেক বিশ্লেষক বলেছেন যে শারা   জিহাদি চরমপন্থা থেকে মধ্যপন্থি পথ নিতে পারেন।

আলেপ্পো, প্রথম শহর যা বিদ্রোহী জোটের দ্বারা দখল করা হয়েছিল। শারা নিজেই ইসমাইলি শিয়া নেতাদের উপর জয়লাভ করতে এবং বিদ্রোহীদের কোনো  ক্ষতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে সুরক্ষিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিংস কলেজ লন্ডনের চরমপন্থি ইসলামের বিশেষজ্ঞ শিরাজ মাহের বলেন, 'শারা একজন সত্যিকারের পরিবর্তিত ব্যক্তি। তিনি  ইদলিবে একটি বাস্তববাদী ধর্মতত্ত্ব গড়ে তুলেছিলেন। এই পরিবর্তন হঠাৎ হয়নি। শারা  এমনকি তার প্রাক্তন অবতারেও, আল-কায়েদা এবং আইএস উভয়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং দ্বৈত আনুগত্যের জন্য  তার নিজের গোষ্ঠীর সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন। 'যদিও শারা  সম্প্রতি বলেছিলেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের আল-কায়েদার আক্রমণ উদযাপন করার জন্য অনুশোচনা করেননি, তবে খুব কমই সন্দেহ করে যে সিরিয়ার নতুন নেতা পশ্চিমা শক্তি বা অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে  কট্টরপন্থিদের দৃষ্টিভঙ্গি  প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কিছু বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে জোলানি ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর জন্য একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। এটাও স্পষ্ট যে শারার ফোকাস স্থানীয় এবং তার স্বার্থ জাতীয়তাবাদী: সিরিয়ার বৃহত্তর কল্যাণ এবং এর ক্ষতিগ্রস্ত, আঘাতপ্রাপ্ত, ভুক্তভোগী মানুষদের জন্য । বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে এইচটিএস-এর কিছু সিনিয়র নেতা এবং গ্রুপের সবচেয়ে কার্যকর যোদ্ধা, যাদের মধ্যে মধ্য এশীয় প্রবীণ চরমপন্থি রয়েছে, তারা   "জিহাদি মূল আদর্শে" প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

ওয়াশিংটন ভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসির বিশেষজ্ঞ হুসেইন আবদুল-হুসেন, গত সপ্তাহে সিএনএন-এর সাথে একটি সাক্ষাৎকারের সময় শারার পিছনে সিরিয়ার বিপ্লবের পতাকাকে  "জিহাদি পতাকা" হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

কিন্তু সিরিয়া  এখন লন্ডভন্ড। দেশে অর্থ নেই। আছে অপরাধ , দারিদ্র , লাখ লাখ উদ্বাস্তু যারা ফিরে আসতে চায়। এখন সবাই খুশি, কিন্তু শীঘ্রই মানুষ বাস্তবটা বুঝতে পারবে। তাই শারা হোক বা জোলানি দুজনকেই  কথা দিয়ে নয়, কাজের মাধ্যমে বিচার করতে হবে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

mzamin


যে সাতটি অস্ত্র নিউক্লিয়ার অস্ত্র থেকেও ভয়ংকর by আরিফুল ইসলাম

নিউক্লিয়ার অস্ত্রকে এখনো সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক হিসেবে ধরা হয়, তবে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান চর্চার বিস্ময়কর অগ্রগতি এমন কিছু অস্ত্রের উদ্ভাবন করেছে যা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনধারা, সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই অস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে না, বরং মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে এমন সাতটি অস্ত্র বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো যা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।

১. জৈব ও জেনেটিক অস্ত্র: অদৃশ্য শত্রু
জৈব অস্ত্র মানুষের জন্য অদৃশ্য কিন্তু মারাত্মক শত্রু। এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, বা অন্যান্য সংক্রামক জীবাণু ব্যবহৃত হয়, যা বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর রোগ এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্রিস্পর কেস প্রযুক্তি এমন অস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি করেছে যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। ডিএনএ লক্ষ করে এমন জীবাণু তৈরি সম্ভব যা প্রাকৃতিক মহামারীর চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও বিপজ্জনক। এটি এমন ভয়ঙ্কর যে একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রাণঘাতী হলেও উৎপাদনকারীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। এছাড়াও এ অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সরবরাহ দূষিত করা সম্ভব।

২. সাইবার অস্ত্র: আধুনিক যুদ্ধের নীরব হাতিয়ার
যুদ্ধক্ষেত্র এখন আর শুধু শারীরিক নয়, এটি ভার্চুয়াল জগতে বিস্তৃত হয়েছে। সাইবার হামলার মাধ্যমে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অকার্যকর করা সম্ভব। এ অস্ত্রগুলোর সাহায্যে ব্যাংকিং সিস্টেম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা সামরিক ডেটা সম্পূর্ণ অচল করা সম্ভব। এছাড়া একটি মাত্র ভাইরাস কোনো দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে।

৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক প্রযুক্তি যা মেশিনকে মানবিক চিন্তাভাবনার চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলে। এই প্রযুক্তি এখন অস্ত্র ব্যবস্থায় এক বিপ্লব এনে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এটি এমন বিপদশংকুল অস্ত্র যা মানুষের সিদ্ধান্ত ছাড়াই অস্ত্র ব্যবহার করা যায়। লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে অসংখ্য নিরীহ মানুষের মৃত্যু হতে পারে মুহূর্তে। মানুষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারালে বৃহৎ আকারের সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে আমাদের বিশ্বে।

৪. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) অস্ত্র: একটি বোতামেই অচল পৃথিবী
ইএমপি অস্ত্রের মাধ্যমে পুরো একটি এলাকার সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস অচল করা যায়। এটি এমন একধরনের শক্তি, যা ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দিতে পারে। একটি শক্তিশালী ইএমপি বিস্ফোরণ কোনো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আধুনিক সভ্যতা যা মূলত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল, তা এক মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এ ছাড়া এ অস্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তার করতে স্বক্ষম।

৫. কোয়ান্টাম কম্পিউটিং : এনক্রিপশন সিস্টেম ভেঙে ফেলার ওস্তাদ
কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত সুপার কম্পিউটারের তুলনায় লক্ষগুণ দ্রুত কাজ করতে পারে। এটি সামরিক ক্ষেত্রে বিপজ্জনক প্রভাবও ফেলতে পারে। প্রচলিত এনক্রিপশন সিস্টেম ভেঙে ফেলা, যা রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করতে পারে। সুরক্ষিত ডেটাবেস হ্যাক করে সামরিক বা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করা এক মুহূর্তের কাজ।

৬. ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র: নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস
ডিরেক্টেড এনার্জি উইপন বা লেজার অস্ত্র সরাসরি শক্তি নিঃসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। স্যাটেলাইট ধ্বংস করা। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার সাথে সাথে প্রচলিত অস্ত্রের চেয়ে অনেক কম খরচে বড় ধরনের ধ্বংস করতে পারে। এছাড়া দ্রুত আক্রমণ এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানাই এ অস্ত্রের মূল কাজ।

৭. অস্ত্রায়িত ন্যানোপ্রযুক্তি: ক্ষুদ্র কিন্তু মারাত্মক
ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে অণু বা পরমাণুর স্তরে ক্ষতিকর যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ন্যানোডিভাইস গোপনে মানবদেহে প্রবেশ করে সুনির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধ্বংস করতে পারে। এটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা লক্ষ্যমাত্রাকে আক্রমণ করতে সক্ষম। ক্ষুদ্র ন্যানোড্রোন যা শত্রুর সেনাবাহিনীর উপর গোপনে আক্রমণ চালাতে পারে। রাসায়নিক বা বায়োলজিকাল অস্ত্রের চেয়ে এ অস্ত্র আরও সূক্ষ্ম এবং কার্যকর।

সব শেষে এটাই বলতে হচ্ছে যে, এই অস্ত্রগুলো শুধুমাত্র ধ্বংসাত্মক নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিউক্লিয়ার অস্ত্র একসময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে বিবেচিত হলেও এই নতুন অস্ত্রগুলো যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে। তাই বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অস্ত্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত জরুরি। মানবজাতি কি প্রযুক্তির বিপ্লবকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবে নাকি ধ্বংসের পথে হাঁটবে, তা নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর।

লেখা: প্রবাসী সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক। কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।

mzamin


সিরিয়ার সেদনায়া কারাগারে হাজারো মানুষের ভিড়, খোঁজ নেই প্রিয়জনদের

সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সেদনায়া নামক গোপন সামরিক কারাগার। কুখ্যাত এই কারাগারে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার সিরিয়ার নাগরিক। তারা খোঁজ নিচ্ছেন আসাদ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তাদের প্রিয়জনেরা এখনও সেখানে রয়েছেন কি-না। কিন্তু তারা হতাশ হচ্ছেন। কেননা যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের অনেকেরই কারাগারে কোনো চিহ্ন নেই। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি বলছে, সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর হাজার হাজার জনতা প্রথম যে স্থানটিতে ছুটে যায় সেটি হচ্ছে সেদনায়া কারাগার। দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক শাসনে পিষ্ট হওয়ার পর প্রিয়জনদের খোঁজে আসাদের ওই কুখ্যাত কারাগারটির গোপন বন্দিশালায় প্রবেশ করে জনগণ। এই কারাগারের ভয়াবহতার জন্য এটি ‘কসাইখানা’ নামেও পরিচিত ছিল। গত দুই দিন ধরে দামেস্কের অনতিদূরে অবস্থিত গোপন কারাগারটিতে কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ থাকা প্রিয়জনদের খোঁজে জড়ো হচ্ছেন সিরিয়ার বহু নাগরিক। তবে কারাগারের ফটকগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হতাশায় মূক হয়ে পড়েন অনেকেই। তারা বলছেন, তাদের মনে হয়েছে তারা অন্ধকার কোনো গুহায় প্রবেশ করেছেন। তাদের আশা ছিল তারা সেখানে প্রিয়জনদের মুখগুলোর খোঁজ পাবেন। কিন্তু সেখানে নিস্তব্ধ আর অন্ধকার কক্ষ ছাড়া কিছুই নেই।

রোববার বিদ্রোহীরা দামেস্ক দখলের পর সেদনায়া সামরিক কারাগার থেকে মাত্র কয়েক ডজন মানুষকে মুক্ত করা হয়। এরপর সেখানে আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গদা আসাদ নামের এক নারী প্রিয়জনের খোঁজে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন সবাই কোথায়? কোথায় আমাদের সন্তানরা? নিজের ভাইকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অসাদ সরকারের পতনের পর দামেস্কের বাড়ি থেকে রাজধানীর উপকণ্ঠে কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি।

গদা বলেছেন, তার ভাইকে ২০১১ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় তার ভাই আসাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ায় তাকে আটক করে আসাদ বাহিনী। এরপর থেকে তিনি আর ভাইয়ের খোঁজ জানেন না। ওই নারী বলেন, বিগত ১৩টি বছর ধরে আমার হৃদয় জ্বলছে। আমি ভাইকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।কান্নায় জর্জরিত এই নারী বলেন, গত সপ্তাহে যখন বিদ্রোহীরা আলেপ্পো দখলে নেন তখন আমি প্রার্থনা করছিলাম তারা যেন দামেস্কে পৌঁছান এবং কুখ্যাত এই কারাগারটি উন্মুক্ত করেন।

প্রিয়জনদের খোঁজ নিতে আসা লোকজনকে সহায়তাকারী সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারাও সেখানে কোনো বন্দি না থাকায় হতাশ হয়েছেন। তবে এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি তারা। প্রিয়জনদের খোঁজে আসা অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। সেদনায়া কারাগার আসাদ সরকারের নৃশংসতার প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্রে এমন কারাগার থাকা সিরিয়ানদের ওপর বর্বর নৃশংসতার উজ্জ্বল প্রমাণ।
আসাদের শাসনামলে ২০১১ সালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর আটক হওয়াদের সেদনায়া কারাগারে বন্দি রাখার ইঙ্গিত ছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুমান বলছে, ২০১৭ সালে ১০ থেকে ২০ হাজার বন্দিকে আটক রাখা হয়েছিল আসাদের ওই কুখ্যাত কারাগারটিতে। কার্যকরভাবে এদের সকলকেই নির্মূলের জন্য আটক করা হয়েছিল বলে ধারণা মানবাধিকার সংস্থাটির।
মুক্ত হওয়া বন্দি এবং কারা কর্তৃপক্ষের বরাতে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, কারাগারের অভ্যন্তরে গণহত্যায় নিহত হয়েছে অন্তত কয়েক হাজার বন্দি। প্রতিনিয়ত কারাবন্দিদের ওপর চালানো হতো ভয়াবহ নির্যাতন। এছাড়া প্রচণ্ড মারধর ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে অনেক কারাবন্দি। প্রায় প্রতিদিনই এমন বর্বরতা চালাত কারারক্ষীরা। নির্মম এই অত্যাচারেও অনেক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের অভুক্ত রেখে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

সিরিয়াতে এমন কোনো ঘর নেই বা এমন কোনো নারী নেই যিনি তার ভাই, সন্তান, স্বামী বা পরিবারের অন্য কাউকে না হারিয়েছে। এমনটি বলছিলেন আসাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হওয়া ৫৪ বছর বয়সী খায়রিয়া ইসমাইল নামের এক ব্যক্তি। বিক্ষোভের প্রথম দিকে তার দুই ছেলেকে আটক করা হয়। যাদের একজন এখনও নিখোঁজ।

২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় আটক বা নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখে পৌঁছেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাদের কয়েক হাজার বন্দিকে সেদনায়া কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। তবে এই কারাগারে রাখা অনেক বন্দিরই কোনো হদিশ পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।

mzamin

আমলারাই এখন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী

নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, স্থানীয়ভাবে মানুষের এগোনোর জন্য কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম- আমলা, রাজনীতিবিদ না ব্যবসায়ী? আমলারাই এখন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। সারা বাংলাদেশ ঘুরে আমরা সেটা পেয়েছি।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এক নাগরিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সুশাসনের জন্য জনকেন্দ্রিক সংস্কার: সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা’- শীর্ষক এই নাগরিক সম্মেলন আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ৮ ও ৯ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশ এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা আমলারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে তারা রাজনীতি ও ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছেন। আমলারা এখন নানা পরিচয়ে মানুষের সামনে হাজির হন, যা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, কে বেশি ক্ষমতাধর- আমলা, রাজনীতিবিদ নাকি ব্যবসায়ী। এ প্রশ্নের জবাবে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘আমলারা’। এরপর তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশ ঘুরে আলোচনা করেছি। সেসব আলোচনায় আমলাদের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হিসেবে বলা হয়েছে। আজকে যিনি আমলা, কাল তিনি রাজনীতিবিদ, পরের দিন ব্যবসায়ী। এটাই সমস্যা। উনারা বহুরূপে এখন আমাদের সামনে আসেন।

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীন স্থানীয় সরকার কমিশন হলে সাধারণ অজুহাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সংস্কৃতি রোধ করা যায় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া যায়। সিপিডি’র এই সম্মানিত ফেলো রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের বিধান প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। সিপিডি’র বিশেষ ফেলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিপিডি’র বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে প্রমুখ।

mzamin

জিম্মি করে বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম

পণ্যের দাম বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুরনো কৌশল অবলম্বন করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সরকারকে চাপে ফেলে তারা ভোজ্য তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়িয়ে নিয়েছেন। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে ভোজ্য তেলের বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট চলছে, যা সম্প্রতি আরও তীব্র হয়েছে। অনেক দোকানে সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও তা থেকে মূল্য ঘষে ফেলা হয়েছে। বেশি দামে বিক্রি নিয়ে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতা বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। সরজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা হায়দার।

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম হবে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৫৭ টাকা দরে। আগে বোতলজাত এই তেলের দাম ১৬৭ টাকা এবং খোলা তেল ১৪৯ টাকা ছিল। মোস্তফা হায়দার বলেন, এক্স বন্ড, ইন বন্ড ভ্যালু এবং গত এক মাসে যে এলসি খোলা হয়েছে, তার ভ্যালু- এই তিনটা ভেল্যু যোগ ও গড় করে একটা দাম ঠিক করতে হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ খরচ, বোতলজাতকরণ খরচ যোগ করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে এই পদ্ধতি চর্চা হয়ে আসছে। এখন থেকে প্রতি মাসে সরকারের সঙ্গে বসে তেলের দাম ঠিক করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভোজ্য তেলের দাম প্রতি টন ১২০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে।

এদিকে বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে বাস্তবভিত্তিকভাবে বোতলজাত সয়াবিনের একটি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে অনুমাণের ওপর ভিত্তি করে মজুতদারি আজ থেকে বন্ধ হবে।
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো এতদিন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ডিলাররা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য সম্পর্কে সার্বিকভাবে অবহিত থাকেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই দামটা সমন্বয় হতে পারে। এ কারণে হয়তো অনেকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটিয়েছেন, তাতে বোতলজাত সয়াবিনের কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, তেলের সরবরাহ-সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা ট্যারিফ কমিশনের সহায়তায় জিনিসটাকে বিন্যাস করে দেখেছি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের বাজারে সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। তখন প্রতি লিটারে দাম বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা করা হয়। এপ্রিল মাসের পরে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণে সবার মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করছিল যে বাজারে তেলের দামে পরিবর্তন আসবে। দেশে সয়াবিন তেলের বিদ্যমান যে মজুত আছে, সেটাকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি মজুতে কোনো ঘাটতি নেই।

এদিকে ভোজ্য তেলের সংকটের কথা বলা হলেও দাম বাড়ার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে পণ্যটির। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এতে পূর্বে কম দামে কেনা তেল বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিবে ব্যবসায়ীরা। গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছিলাম না। সোমবার থেকে এই তেলের আর কোনো সংকট নেই।

mzamin

হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নারীকে দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু বিত্তবান ব্যক্তিকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি হানি ট্র্যাপ চক্র। সদরপুরে দীর্ঘদিন যাবৎ এই চক্রটি একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করেছে।

গত ৪ঠা নভেম্বর এই চক্রটির খপ্পরে পরে সদরপুরের মুজাহিদ মৃধা নামক এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ৭ই নভেম্বর এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে সদরপুর থানায় ৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনের বিরুদ্ধে একটি  মামলা দায়ের করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে মোবাইল ফোনে রং নম্বরে অজ্ঞাতনামা এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় মুজাহিদের। তাদের মধ্যে কয়েকদিন মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা মেয়েটি তাকে ফোন দিয়ে বাইশরশি জমিদার বাড়িতে আসতে বলে। তিনি সরল বিশ্বাসে উক্ত স্থানে যাওয়ার পর তাকে ওই মেয়েটি অটোবাইকে উঠতে বলে। অটোযোগে ঘোরাফেরার এক পর্যায়ে ওই মেয়েটি কৌশলে পূর্ব শৌলডুবী এলাকার সাবেক মেম্বার শেখ ফারুকের বাড়িতে একটি টিনের ঘরে নিয়ে মুজাহিদকে আটক করে যেখানে আগে থেকে চক্রের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল। এরপর তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পূর্বক ৪টি সাদা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয়। বিষয়টি তার চাচা জানতে পেরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রাতের বেলা ফারুক মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে উক্ত চক্রের সোহরাব খালাসী নামে এক সদস্যকে আটক করে এবং মুজাহিদকে উদ্ধার করে। ওই সময় ওই চক্রের অন্যান্যরা পালিয়ে যায়।
পরে সোহরাব খালাসীকে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম- ঠিকানা জানা যায়। বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে তারা সোহরাবকে গ্রেপ্তার করে।
পরে এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শেখ ফারুক মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তার স্ত্রী রেণু বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২জন লিমা আক্তার এবং রবিন নামের এক যুবকসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মুক্তিপণের এমন ঘটনা নিয়ে সমপ্রতি সদরপুর থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন সদরপুর সদর ইউনিয়নের মৌসুমী আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্বামী ইসাহাক বেপারী দীর্ঘদিন ধরে সদরপুর বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করে আসছেন। গত ২রা নভেম্বর তার স্বামী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা রওনা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে তার স্বামী তাকে ফোন দিলে বলে ডাক্তারের সিরিয়াল দেয়া হলে ডাক্তার দেখিয়ে ঢাকার এক হোটেলে অবস্থান করবেন। এর পর তার স্বামীর ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও নম্বর বন্ধ পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবার।
পরে ৩রা নভেম্বর সকালে তার স্বামী তার মোবাইল নম্বর থেকে তাদের দোকানের কর্মচারী রনিকে ফোন দিয়ে বলে যে তাকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা জিম্মি করেছে। তাদের দেয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে ১০ লাখ টাকা পাঠালে তাকে ছেড়ে দিবে। পরে সেই অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠিয়ে ইসাহাককে মুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা উল্লিখিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর তদন্ত করে জানতে পারে যে, উক্ত অ্যাকাউন্টটি ঢেউখালী ইউনিয়নের মৌসুমী নামের এক মেয়ের। পরে মৌসুমীর বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ইসহাকের স্ত্রী। এরপর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মৌসুমীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায় গত ৫ই ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পুলিশের হাতে আটক হন মৌসুমী। পরে জানা যায় মৌসুমী হানি ট্র্যাপ চক্রের অন্যতম সদস্য। এই নিয়ে চক্রের মোট ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ সদস্যকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালো সদরপুর থানা পুলিশ।
এই চক্রের বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, এই চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হয় তবে আরও বহু ব্যক্তি এই চক্রের খপ্পরে পড়ে নিজের সর্বস্ব হারাবেন।
এ ব্যাপারে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই তানভীর বলেন, আগের মতো কেউ সোর্স হয়ে আসামিদের খোঁজখবর দিতে চায় না। তাই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে একটু সময় লাগছে।
সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আমরা ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। শিগগিরই চক্রের সকল সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

mzamin

এক দশকে রাশিয়ার আভিজাত্যে বড় আঘাত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ফলে সিরিয়ার কতোটুকু লাভ বা ক্ষতি হয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতেই প্রমাণ হয়ে যাবে। এখন আলোচনায় আবু মোহাম্মদ আল জোলানি। কিন্তু আল কায়েদা ও আইসিলের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিশ্চয়ই পশ্চিমাদের কাছে স্বস্তির নয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আসাদ পালিয়ে যাওয়ার পরই সিরিয়ায় দেদারছে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। তারা গোলান মালভূমির বড় একটি অংশ বাফার জোন নাম দিয়ে দখল করে নিয়েছে। হাসিমুখে টেলিভিশনে এ ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বা তার দেশ একবার যে ভূখণ্ড দখল করে তা ছেড়ে দেয়ার নজির খুব কমই। ফলে আসাদ থেকে মুক্তি পেলেও সিরিয়াবাসী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা দোসরদের কব্জা থেকে সহজে মুক্তি পাবে বলে মনে হয় না। এরই মধ্যে আলোচনায় ফিরেছে আসাদকে উৎখাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বদলে যাবে। বিশেষ করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি, ইরান বা ইরাক লড়াই করছে- তারা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। এ অবস্থা আসাদকে সমর্থনকারী রাশিয়ার জন্যও তার আভিজাত্যের প্রতি একটি বড় আঘাত বলে মনে করছেন বিবিসি’র রাশিয়া বিষয়ক সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ। তিনি বলছেন, প্রায় এক দশক ধরে বিষয়টি ছিল রাশিয়ার ‘ফায়ারপাওয়ার’, যা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় রেখেছিল। অবশেষে দামেস্কের পতন হয়েছে। বাশার আল আসাদ পালিয়ে মস্কো গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। রাশিয়া থেকে বলা হয়েছে, সেখানে আসাদ, তার পরিবারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি শনিবার দিবাগত রাতে পালিয়ে কোথায় চলে যান, তার কি পরিণতি হয়েছে- তা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ার ছিল সতর্ক দৃষ্টি। রাশিয়ার একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রাশিয়ার নিউজ এজেন্সিগুলো এবং রাষ্ট্রীয় টিভি রিপোর্টে বলেছে, মানবিক কারণে আসাদ ও তার পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে রাশিয়া। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ক্রেমলিনের সিরিয়া-প্রজেক্ট সবচেয়ে নাটকীয় মোড় নেয়। সিরিয়াকে, আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মস্কো ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে।

এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে যে, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সিরিয়ার নাটকীয় পটপরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি রাখছে মক্কো। আসাদ শাসকগোষ্ঠীর পতন রাশিয়ার আভিজাত্যের জন্য বা ইমেজের ওপর এক বড় রকম আঘাত। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে টিকিয়ে রাখতে সেখানে ২০১৫ সালে হাজার হাজার সেনা পাঠায় রাশিয়া। এর মধ্যদিয়ে রাশিয়া বিশ্বে নিজেকে অন্যতম শক্তিধর হিসেবে দেখাতে চেয়েছে। পশ্চিমা শক্তি এবং তাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এটাই ছিল ভ্লাদিমির পুতিনের বড় বড় চ্যালেঞ্জ। এর বড় সফলতা দেখা যায়। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিন সিরিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার হমেইমিম বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং ঘোষণা দেন, মিশন সম্পন্ন হয়েছে। নিয়মিত রিপোর্টে বলা হচ্ছিল, রাশিয়ার বিমান হামলায় বিপুল পরিমাণ নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল। রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রত্যক্ষ করার জন্য তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাংবাদিকদেরকে নিয়ে যায় সিরিয়ায়। এমন এক সফরে গিয়েছিলেন সাংবাদিক স্টিভ রোজেনবার্গ। তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা আমাকে তখন বলেন- সিরিয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়টি ছিল আভিজাত্যের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

সামরিক সহায়তা পাওয়ার বিনিময়ে রাশিয়াকে হমেইমিমে একটি বিমান ঘাঁটি ও তারতোউসে একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের জন্য তা রাশিয়াকে ৪৯ বছরের জন্য লিজ দেয় সিরিয়া কর্তৃপক্ষ। ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে পা রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান পেয়ে যায় রাশিয়া। আফ্রিকার ভেতরে এবং বাইরে সামরিক কন্ট্রাক্টরদের স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে এই ঘাঁটি দু’টি। স্টিভ রোজেনবার্গ লিখেছেন- এখন মস্কোর ওই ঘাঁটি দু’টির কী হবে? বাশার আল আসাদ মস্কো পৌঁছেছেন এই ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার কর্মকর্তারা এটাও উল্লেখ করেছে যে, তারা সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। রাষ্ট্রীয় টিভির উপস্থাপক বলেন, রাশিয়ান সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা এবং সিরিয়ায় কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরোধী নেতারা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ায় এই ঘাঁটিগুলোকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আর বলা হয়েছে, বর্তমানে এগুলোর জন্য গুরুতর কোনো হুমকি নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার কট্টর মিত্র ছিলেন বাশার আল আসাদ। তার ওপর অসীম আস্থা রেখেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার কর্মকর্তারা তাকে উৎখাতের বিষয়ে কিছু চেষ্টা করেও তা মস্কোর জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাপ্তাহিক খবরের সময় রাশিয়া থেকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়। বলা হয়, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করেনি। উপস্থাপক ইয়েভগেনি কিসেলেভ বলেন, যে কেউ দেখতে পাবেন যে, সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ নাটকীয় থেকে আরও নাটকীয় হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া সব সময়ই সিরিয়ার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পুনরেকত্রীকরণ প্রত্যাশা করে। 

mzamin

‘হাসিনাকে বলুন আমরা তার বক্তব্য পছন্দ করছি না’

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য পছন্দ করছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই বার্তা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিকে অনুরোধ করেছে ঢাকা। সোমবার সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ও ভারতের ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এফওসিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করে যে বক্তব্য রাখছেন এই বক্তব্যের প্রতি আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আপনারা শুনেছেন শনিবারও তিনি একটি বক্তৃতা করেছেন। সরকার এসব পছন্দ করছেন না এটা আমরা তাদের স্পষ্ট করেই জানিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার যে অসন্তুষ্ট এটা তাকেও (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী) জানাতে বলেছি। বাংলাদেশের ওই অনুরোধের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব কী বলেছেন- জানতে চাইলে মিস্টার উদ্দিন বলেন, আমার কাউন্টার পার্ট বিষয়টি নোটে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, তার কথাবার্তা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারবে না বলেই তিনি আশা করেন। তাৎপর্যপূর্ণ এক সফরে রোববার সকালে ঢাকায় আসেন ভারতের পরাষ্ট্র সচিব বিনয় মিশ্রি। দিনের শুরুতেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই পররাষ্ট্র সচিব একান্ত বৈঠক করেন। পরে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বাৎসরিক, স্টক টেকিং বা স্ট্রাকচার্ড আলোচনা ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসিতে বসেন। প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা স্থায়ী ওই আলোচনা মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। আনুষ্ঠানিক আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি  নিয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বিস্তৃত আলোচনা হলেও ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে অংশ তাকে ফেরানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা। বৈঠক বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আলাদা আলাদা ব্রিফ করেছেন। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব একগাদা প্রশ্নের জবাব দিলেও দিল্লির বিদেশ সচিব কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি। বৈঠক সূত্র বলছে, সেখানে মোটা দাগে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন দিল্লির প্রতিনিধিরা। ঢাকার প্রতিনিধিরা ব্যাখ্যাসহ জবাব দিয়েছেন। খোলাসা করে যেটা বলা হয়েছে তা হলো- দুই প্রতিবেশির সম্পর্ক ‘বন্ধুত্ব, ‘পারস্পরিক নির্ভরশীলতা’ এবং মাঝে-মধ্যে ‘উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা’র মিশেলে হয়ে থাকে। এটাই বাস্তব। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যায় যখন বর্ডারে রক্ত ঝরে। তাছাড়া মানুষের সেন্টিমেন্টে লাগে এ সব ঘটনা যখন সামনে আসে। বিশেষত: অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে যখন বড় করে দেখানো হয় এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা সরকারি পর্যায়ে এটা নিয়ে যখন কথা বলা হয়। বাংলাদেশ সমস্যা অ্যাড্রেস করে এবং এ নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা দিলেও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের এতো সঞ্চার হতো না বলে মনে করে ঢাকা। আলোচনায় উভয়ের তরফেই বলা হয় বাস্তবতা অস্বীকার করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। বরং এতে সমস্যা বাড়বে। তাই উভয়ের যৌক্তিক কনসার্ন যত দ্রুত অ্যাড্রেস করা যাবে, ততই মঙ্গল। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের এবারের সফরের অর্জন সম্পর্কে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, দূরে থেকে তিনি বা দিল্লি যা ভাবছিলো এখানে আসা এবং আলোচনার পর নিশ্চয়ই তাদের নতুন উপলব্ধি হবে। আমাদের বক্তব্য কতটা তারা আমলে নিয়েছেন অর্থাৎ সম্পর্কে যে বরফ জমেছে তা কতটা গলেছে সচিবের সফরে, তা আগামী দিনের সাউথ ব্লক, পার্লামেন্ট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য-বিবৃতিতে নিশ্চিতভাবে রিফ্লেকশন থাকবে।

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র সচিব: জুলাই-আগস্টের গণহত্যা এবং দেশে ১৫ বছরের দুঃশাসনের জন্য শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে ফেরানোর কোনো অনুরোধ দিল্লির কাছে বাংলাদেশ করেছে কিনা? এমন প্রশ্ন ছিল সংবাদ ব্রিফিংয়ে। জবাবে সচিব বলেন, ফেরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো অনুরোধ না আসায় তা তারা সরাসরি করেননি। এটাকে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে সচিব বলেন, সিদ্ধান্ত যখন হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন ব্যবস্থা নেবে। এটা এফওসিতে বা যে কোনো পর্যায়ে হতে পারে। সেটা কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমেও হতে পারে। দিল্লিতে আমাদের যে মিশন আছে তার মাধ্যমেও অনুরোধ করা যেতে পারে।

অন্যান্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যা বলেছেন: বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান এবং অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের প্রতি কথিত বৈরী আচরণ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ানের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারত সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সচিব বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলেছি যে বাংলাদেশে বসবাসরত সবাই স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করে আসছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সরজমিন বাস্তব অবস্থা দেখা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিদেশি সাংবাদিকদেরও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করাটা যে ঠিক হচ্ছে না, সেটা ভারতকে জানানো হয়েছে, এমনটা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা বলেছি, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের মন্তব্য সমীচীন নয়। বাংলাদেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে এবং অন্যান্য দেশেরও একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ আমাদের প্রতি দেখানো উচিত। সীমান্তে হত্যার প্রসঙ্গটি আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি জীবন মূল্যবান। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারকে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা অনুরোধ করেছি। তাছাড়া, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক পাচারসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্মূল করতে ভারতের সহযোগিতাসহ সীমান্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।

ইতিবাচক সম্পর্কের প্রত্যয়, সংখ্যালঘু ইস্যুতে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত ভারতের: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে ও ইতিবাচকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় তার দেশ। এজন্য দুই দেশের জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সোমবার বিকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর বিক্রম মিশ্রি বলেন, আমাদের মধ্যে অত্যন্ত খোলামেলা, গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমি জোর দিয়ে বলেছি যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক চায়। আমরা সবসময়, অতীতেও দেখেছি এবং আমরা ভবিষ্যতে এই সম্পর্কটিকে একটি জনকেন্দ্রিক ও জনমুখী সম্পর্ক হিসেবে দেখতে থাকবো। যেই সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকবে সকল মানুষের কল্যাণ।  ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পরস্পরের জন্য সহায়ক এই সহযোগিতা আমাদের উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে কেন অব্যাহত থাকবে না এটা ভাবার কারণ নেই। আমি আজ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য ভারতের আগ্রহের কথা তুলে ধরেছি। একই সময়ে, আমরা কিছু সামপ্রতিক পরিস্থিতি এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত আমাদের উদ্বেগগুলোকে জানিয়েছি। আমরা সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক সম্পত্তির ওপর হামলার কিছু দুঃখজনক ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

টানাপড়েনের মধ্যেই হলো দিল্লি বিদেশ সফর: দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার ঢাকায় এলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হলো পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক। গত সপ্তাহে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে নজিরবিহীন হামলা করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। এর প্রতিবাদে পরদিন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে দুই পররাষ্ট্র সচিবের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু না। শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত পজিটিভ মুডেই সফরটি হলো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই ছিল ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে এটি ছিল বিক্রম মিশ্রির প্রথম বাংলাদেশ সফর।

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় দিল্লি, প্রধান উপদেষ্টাকে বিদেশ সচিব
ভারত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় বলে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, আমরা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। গতকাল বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার মিডিয়া সেল এ তথ্য জানায়।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের নৃশংসতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণ উদ্বিগ্ন কারণ তিনি সেখানে বসে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এটা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। প্রফেসর ইউনূস ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার দুর্নীতিগ্রস্ত দুঃশাসনের ইতি টেনেছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে- তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। এটি নতুন বাংলাদেশ। মিশ্রি প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, আপনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা আপনার সফলতা কামনা করছি। তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণা আমাদের সরকারের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটা ভুল ধারণা যে, ভারত বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। বরং সম্পর্ক সবার সঙ্গে রাখছে। প্রফেসর ইউনূস বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনায় ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তার উদ্যোগে যোগ দিতে বলেন। আমরা সবার জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে চাই। মিশ্রি বলেন, ভারত সার্কের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। যদিও এখানে কিছু বাধা রয়েছে। সংখ্যালঘু ইস্যুতে ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সব নাগরিকের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বিবেচনা না করে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আমরা একটি পরিবার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টাকে বিক্রম মিশ্রি গত মাসের থেকে ভিসা দ্বিগুণ করার কথা জানান। বলেন, পর্যায়ক্রমে এটি বাড়ানো হবে। আমরা আমাদের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে যমুনায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ও আরও জোরদার করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে হাইকমিশনে আক্রমণের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সহিংস আক্রমণের বিষয়ে আগেই বলা হয়েছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করছে। তারা যেহেতু সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে এসেছে। তাই সেটি বলা হয়নি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রোপাগান্ডার জবাব লিখিত-মৌখিক আগেই জানিয়েছি। এগুলো বেশির ভাগই রাজনীতির অংশ। সরকার এটি ধারণ করে না বলে জানিয়েছে। তিনি বলেন, সম্পর্কের মেঘ দূর করতে হবে। পারস্পরিক স্বার্থ নিয়ে কাজ করার অনেক কিছু রয়েছে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, সুনির্ধারিত বিষয়গুলো পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

mzamin

মালিক দোষ করলে প্রতিষ্ঠানের শাস্তি নয়: অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা আইনসিদ্ধ হচ্ছে না

বেক্সিমকো গ্রুপের নাম উল্লেখ করে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মালিক যদি অন্যায় করে থাকে, তবে তার শাস্তি হওয়া উচিত। দোষ করে মালিক, প্রতিষ্ঠান দোষ করে না। তাই মালিককে শাস্তি দেয়া হোক, প্রতিষ্ঠানকে নয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা স্থগিত করা হচ্ছে, তা আইনসিদ্ধ হচ্ছে না। আদালতের প্রক্রিয়ার বাইরে এভাবে ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার বিষয়টি তিনি নিজেও পছন্দ করেন না।

সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বর্তমান ব্যবসা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিআইএফইউ)।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অন্যায়ভাবে (ব্যাংক হিসাব) ফ্রিজ করাটা আমি নিজেও পছন্দ করি না। এখন যেটা ঘটছে, ইচ্ছা হলেই আরেকজনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেয়া হচ্ছে; এটা আইনসিদ্ধও নয়। বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত। যদি উপযুক্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে অনুসন্ধান করে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ফ্রিজ করা যেতে পারে। আমার ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করতে পারে, আপত্তি নেই; কিন্তু যা-ই করুক আইন অনুযায়ী করুক।

সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের পোশাক খাতের ১৬টি কোম্পানির মালিকানা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সরকারের উপদেষ্টা কমিটির এক সভায়। এর বাইরে এই গ্রুপের বেশ কয়েকটি কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কারা বিক্রি করবে, কেন করবে? কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রতিষ্ঠান নৈতিকও না অনৈতিকও না। এসব প্রতিষ্ঠান যারা চালায়, তারা যদি অনৈতিক হয়, আইন মেনে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এ নিয়ে আমি কিছু বলবো না। মালিকদের শাস্তি হোক, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ না হয়। কোনো উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান, যেখানে হাজার হাজার লোক কাজ করে, তা নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেবে না, সেটা আশা করবো।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা মন-কষাকষি চলছে। এর কারণ, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ভুলে গিয়ে শুধু একটি দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে। এখন সেই সরকার আর ক্ষমতায় নেই, এটা ভারতের জন্য মেনে নেয়া কষ্টকর। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নীতি হচ্ছে, আগে আপনি (ভারত) ৫ই আগস্টের নীতিগত স্বীকৃতি ঠিকমতো দেন; এরপর আমরা ভবিষ্যতের দিকে আগাই। আমিও মনে করি, এটা যথাযথ চিন্তাধারা। ভারতকে বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে আত্মসম্মান যেন বজায় থাকে।

আবদুল আউয়াল বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার পর্যালোচনায় বোঝা যায় যে একনায়কতন্ত্র, স্বেচ্ছাচারী শাসন, দলীয়করণ, দলীয় লোকদের তোষণ-পোষণকে বিগত সরকার রাষ্ট্রীয় রীতি-নীতিতে পরিণত করে ফেলেছিল। অন্যদিকে আবার বিগত সরকার জনগণের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে নিজেদের কব্জায় নিয়ে ধ্বংস বা দুর্বল করে দিয়েছিল। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। ফলে জনগণের কল্যাণে যথোপযুক্ত নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পরিবর্তে আত্ম-স্বার্থ সন্ধানী রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক অর্থাৎ বিশেষ স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর লুটপাটে সহায়তা করার লক্ষে আইন-কানুন-নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যস্ত ছিল।
বিদেশি ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার বিদেশি ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অনেক স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছে। সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে এ ধরনের ঋণ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নিতে উৎসাহিত করেছে।

এফসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে নিচু মানের দুর্বল শাসন ব্যবস্থা এক বড় রকমের জরুরি মাথাব্যথা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচু মানের শাসন দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য হ্রাসের পথে এখন এক পর্বত সমান বাধা। শাসনে দুরবস্থা জাতীয় অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুরে কুরে খাচ্ছে। বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অবনতির অতল গহ্বরে।
পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি করতে হলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা বলেছেন যে তারা দায়িত্বে আছেন, ক্ষমতায় নেই। এটা তো ভয়ঙ্কর কথা। গণতান্ত্রিক সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকে। তাই অতিসত্বর নির্বাচন দেয়া, অন্তত নির্বাচন নিয়ে একটা রোডম্যাপ দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

সব ক্ষেত্রে সংস্কার দরকার নেই উল্লেখ করে বিএনপি’র এই নেতা আরও বলেন, যেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সেগুলো তারা (সরকার) এখনই করতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোর বিষয়ে সবার সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করে দিতে পারে। তাতে ভবিষ্যতে যে-ই সরকারে আসুক, তারা ওই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবেন।

mzamin

শিলংয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত সিলেট আওয়ামী লীগের ৬ নেতা, গ্রেপ্তার ৪

ভারতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬ নেতা। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে একটি আবাসিক হোটেলে থাকাকালীন তারা ধর্ষনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী। এরপর তারা কলকাতায় পালিয়ে এসে নিউটাইনের একটি ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন। সেখানেই অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ ও মেঘালয়ের শিলংয়ের পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের রোববার গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত দুইজন পালিয়ে গিয়েছেন। ঘটনাস্থলে আটক এক ইউপি চেয়ারম্যানকে এজাহারে নাম না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুত্রে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতারা সিলেট থেকে পালিয়ে শিলংয়ে অবস্থান করার সময় তাদের আবাসস্থলেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিলং থানায় ছয় জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। কলকাতায় আটককৃতরা হলেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সিলেট মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন ও যুবলীগের সদস্য জুয়েল। পলাতক ২ জন হলেন, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসর আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিটু।

রোববারই ধৃত চারজনকে  বারাসাতের স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্টে তোলার কথা থাকলেও বিচারক না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এরপরে শিলং পুলিশ তাদের শিলং নিয়ে যায়। জানা গেছে, নিউটাউনে যেখান থেকে পুলিশ চার আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে সেখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী  উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

অনাস্থা ভোটের আগেই আকস্মিক পদত্যাগ টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর

টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রী সিওসি সোভালেনি তার নেতৃত্বে পরিকল্পিত অনাস্থা ভোটের আগে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংসদ কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটির রাজপরিবারের সাথে ক্ষমতার লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে টোঙ্গায় একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চালু আছে। দেশটির রাজপরিবার তাদের কিছু ক্ষমতা ধীরে ধীরে ত্যাগ করেছে, টোঙ্গান রাজা এবং তার সহকর্মী সম্ভ্রান্তরা যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে এখনো  রয়ে গেছেন। মাতাঙ্গি টোঙ্গা নিউজ ওয়েবসাইট এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার একটি লাইভ স্ট্রিমের প্রতিবেদন অনুসারে, সোভালেনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত গলায় বলেছিলেন- "আমি সংবিধান মেনেই অবিলম্বে পদত্যাগ করব। আমি ভেবেছিলাম এই ভূমি স্বাধীন, কিন্তু এখনও দাসত্ব রয়েছে। আমি আশা করি এমন একটি সময় আসবে যখন আমরা একসাথে সবাই কাজ করব। 'সোভালেনি, যিনি ২০২১ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সোমবার বিকেলে বিরোধী আইন প্রণেতাদের দ্বারা আনা অনাস্থা ভোটে মুখোমুখি হওয়ার আগে পদত্যাগ ঘোষণা করেন । ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ববর্তী অনাস্থা ভোটে তিনি জয়ী হন। টোঙ্গান সংসদের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী দেশের ভালোর জন্য এবং টোঙ্গাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পদত্যাগ করেছেন। টোঙ্গার বংশানুক্রমিক রাজপরিবার দেশের ২৬সদস্যের আইনসভায় নয়টি আসন দখল করে আছে। যদি তারা বিরোধীদের পাশাপাশি একটি ব্লক হিসাবে ভোট দিত, তাহলে তারা সোভালেনিকে জোর করে বিধানসভা থেকে বের করে দিত। এর আগে রাজা টুপাউ ষষ্ঠের কাছে অপমানিত হয়েছিলেন সিওসি সোভালেনি।

সোভালেনির উদ্দেশ্যে রাজা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তার আস্থা হারিয়েছেন। সেইসময় সোভালেনি আইনের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপ অসাংবিধানিক হবে। অবশেষে এপ্রিলে সোভালেনি পিছু হটেন। সোভালেনি ২০১৪ সালে প্রথম সংসদে নির্বাচিত হন এবং ২০১৪-১৭ থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তারপর ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী হন। ২০২১ সালে তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত পালন করেন। অক্সফোর্ড-শিক্ষিত সোভালেনির জায়গায় নতুন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয় তবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ‘আইসকে একে দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্র : আলজাজিরা

mzamin

ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে আনার অনুরোধ প্রধান উপদেষ্টার: কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় অথবা প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তিনি।

কূটনীতিকদের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। ওই বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সীমিত করায় অনেক শিক্ষার্থী দিল্লি গিয়ে ইউরোপের ভিসা নিতে পারছেন না। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। ভিসা অফিস ঢাকা অথবা প্রতিবেশী কোনো দেশে স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই উপকৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে গোটা মাসজুড়ে আমরা বিজয় উদযাপন করি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সঙ্গে এমন একটি ইনট্যারক্টিভ আলোচনায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।’

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি গত ১৬ বছর ধরে অত্যাচার, শোষণ, বলপূর্বক গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের বিষয় উল্লেখ করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে কীভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল সেসব কথা জানান। বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যাপক আকারে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এই মিসইনফরমেশন ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা যে ব্যাপক টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে তা দিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথাও আজকের বৈঠকে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ইইউ প্রতিনিধিদের বিশদভাবে জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বুলগেরিয়া বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভিসা সেন্টার ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে স্থানান্তর করেছে। তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ইইউ প্রতিনিধিরা। পরামর্শ ও সুপারিশ জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।

প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে ১৫ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে শ্রম অধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।

mzamin
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা।



সব নিয়ে নেবে আর আমরা বসে বসে ললিপপ খাব, এটা ভাবার কারণ নেই: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা, বিহার ও ওডিশা—সব নিয়ে নেবে আর তাঁরা ললিপপ খাবেন। এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এসব কথা বলেন রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। বাংলাদেশ ও ভারতের চলমান উত্তেজনার মধ্যে তিনি এমন মন্তব্য করলেন।

ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের জের ধরে সম্প্রতি বাংলাদেশের কেউ কেউ বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম নিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তা যদি হয়, তবে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আমলের অবিভক্ত বাংলা— বাংলা, বিহার এবং ওডিশাও আমরা নিয়ে নেব।’

ওই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে, বিহার দখল করব, ওডিশা দখল করব। আমি বলি ভাই, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন। এত বড় হিম্মত আপনাদের কেন, কারও নেই যে বাংলা, বিহার ও ওডিশা সব নিয়ে নেবে আর আমরা বসে বসে ললিপপ খাব। এমনটা ভাবার কারণ নেই।’

অবশ্য এই মন্তব্যের আগে মমতা বলেছেন, কোনো পক্ষেরই এমন কিছু বলা উচিত নয়, যার জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপরে যে অত্যাচার চলছে, সেটা আমরা কেউই ভালো চোখে দেখছি না। আমি বলব, দাঙ্গা কখনো হিন্দু করে না, মুসলমান করে না, শিখ বা খ্রিষ্টান করে না। দাঙ্গা করে কতিপয় সমাজবিরোধী। ফলে বিষয়টিকে মাথায় রেখে, আমরা সবাই যেন এমন কোনো মন্তব্য না করি, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হয়।’

মমতা আরও বলেন, ভারতের মানুষ সচেতন নাগরিক এবং তাঁরা ধৈর্যের পরীক্ষা দেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে শিখেছি—আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…।’

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ভারতের পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবেন।

পরে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে। উনি মুখ বাঁচানোর জন্য এই সব কথা বলছেন। ওনার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সরাসরি মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন করছেন, নরেন্দ্র মোদির নিন্দা করছেন।’

এর আগে ২ ডিসেম্বর বিধানসভায় মমতা বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব, কেন্দ্র রাষ্ট্রপুঞ্জের (জাতিসংঘ) কাছে বাংলাদেশে শান্তি সেনা পাঠানোর আরজি জানাক।’ তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি: এএনআই

জান্তার কাছ থেকে মংডু দখল, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে -ইরাবতীর খবর

মিয়ানমারের মংডু শহর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ফলে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ২৭০ কিলোমিটার সীমান্তের পুরোটাই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের জান্তার সঙ্গে লড়াইয়ের পর গতকাল রোববার সকালে মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে আরাকান আর্মি। আজ সোমবার মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

ইরাবতী জানিয়েছে, আরাকান আর্মি দাবি করেছে, গতকাল রোববার সকালে জান্তার সীমান্ত এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন নম্বর ৫ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মংডু শহরের বাইরে তারা অবস্থান করছিল। তারা দাবি করে, তারা জান্তা বাহিনীর পাশাপাশি তাদের মিত্র আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির রোহিঙ্গা মিলিশিয়া, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তারা ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে।

রাখাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মংডুতে লড়াইয়ের পর আজ সোমবার আরকান আর্মি মিলিটারি অপারেশন কমান্ড ১৫–এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরেইন তুনকে গ্রেপ্তার করে। এর বাইরে ৮০ রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ও জান্তা সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে আরাকান আর্মি।

গত মে মাসের শেষ দিক থেকে মংডুতে হামলা শুরু করে আরাকান আর্মি। মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণ পেতে তাদের ছয় মাস সময় লেগেছে। আরাকান আর্মির দাবি, বাংলাদেশ সীমান্তের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর মংডু, রাখাইনের বুথিডং ও শিন এলাকার পালেতাওয়ার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা।

রাখাইনে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পুনঃস্থাপন করলে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে বসবাসকারী মানুষের দুর্দশা কমবে।

গত মাসে জাতিসংঘ জানায়, রাখাইনে ২০ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।

জান্তার পক্ষ থেকে এসব রাজ্যে যাওয়ার জন্য সড়কপথ ও নৌপথ অবরোধ করে রাখা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাসহ খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সেখানে যেতে পারছে না।

সামরিক ওই বিশ্লেষক বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারকে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপ করতে হবে।

আরাকান আর্মি এখন দক্ষিণ রাখাইনের গাওয়া, তাউনগুপ ও আন শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করছে। ইতিমধ্যে আন শহরে ৩০টি জান্তা ঘাঁটি দখল করেছে আরাকান আর্মি। অন্য শহরগুলোতেও এগিয়েছে বিদ্রোহী এ গোষ্ঠী।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য আরাকার আর্মি। ইতিমধ্যে এ গোষ্ঠী গত বছরের অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে উত্তরের শান রাজ্যের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে হামলা চালিয়ে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৩টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

রাখাইনে আরাকান আর্মির একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প
রাখাইনে আরাকান আর্মির একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ফাইল ছবি

সিরিয়ার কুখ্যাত কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা দুজন নিজের নামও ভুলে গেছেন

সিরিয়ার কুখ্যাত সাইদনায়া সামরিক কারাগারে গতকাল রোববার মধ্যরাতে বন্ধুর বাবাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন ড. শারভান ইবেশ; কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক। আমরা কোনো তথ্য পেলাম না।’

ড. শারভান বেসরকারি সংস্থা বাহারের প্রধান নির্বাহী। সংস্থাটি সিরিয়ায় মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

শারভান যখন কারাগারে পৌঁছান, তখন সেখানে খুব বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। শত শত মানুষ কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু খুব বিষণ্ন হয়ে পড়ে। কারণ, ১৩ বছর ধরে সে স্বপ্ন দেখেছে বাবাকে একদিন ফিরে পাবে। আমাদের বলা হলো, অনেক বন্দীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

কারাগার থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দামেস্কের আল–সালাম মসজিদেও গতকাল গিয়েছিলেন শারভান। সেখানে সাইদনায়া কারাগারের অনেক বন্দীকে আনা হয়েছিল, যাতে তাঁদের পরিবার তাঁদের খোঁজ পায়। সেখানে অনেক পরিবারের সদস্যরা বন্দী থাকা স্বজনের খোঁজে গিয়েছিলেন।

শারভান বলেন, তিনি মসজিদে দুজনের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা অনেক বছর ধরে ওই কারাগারে বন্দী ছিলেন। ওই দুজনের কাছে সবকিছু অপরিচিত ছিল। তিনি বলেন, এমনকি তাঁদের দিনের সময়জ্ঞানও ছিল না। ঘিরে থাকা অনেকে তাঁদের নাম ও বয়স জানতে চাইছিলেন; কিন্তু তাঁরা সেই উত্তরও দিতে পারছিলেন না। তাঁদের দেখে বয়সটা অনুমান করা খুব কঠিন ছিল। শারভান বলেন, এসব মানুষ পুরোপুরি নিঃস্ব। তাঁরা শুধু এদিক–সেদিক দেখছিলেন।

বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে পতন হয়েছে বাশার আল-আসাদ সরকারের। এরপর বিদ্রোহীরা যেসব কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নেন, সেগুলোর একটি সাইদনায়া কারাগার। বন্দীদের নিপীড়নের জন্য এই কারাগারের কুখ্যাতি রয়েছে।

দামেস্ক প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সব গোপন কক্ষ থেকে বন্দীদের মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের প্রায় শ্বাসরোধ হয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল।

গতকালের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কারাগার ভেঙে বন্দীরা বেরিয়ে আসছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই কারাগারে অনেকে আটকা পড়ে আছেন বা ভূগর্ভে গোপন কক্ষে লুকিয়ে আছেন; কিন্তু মানবাধিকার গ্রুপগুলো বলছে, তারা এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা পায়নি।  

জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য সিরিয়ায় সুনাম রয়েছে বেসরকারি সংস্থা হোয়াইট হেলমেটসের। সংস্থাটি বলেছে, তাদের প্রতিনিধিদল কারাগারে গিয়ে কোনো গোপন দরজার সন্ধান পায়নি। এই কারাগারের প্রবেশপথ ও গোপন পথগুলো সম্পর্ক জানেন, এমন লোকজন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সব জায়গা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তল্লাশি চালিয়েছেন।

সাইদনায়া কারাগার থেকে বেঁচে ফেরা, কারাগারে নির্যাতনের শিকার এবং সেখানে বন্দী আছেন, এমন অনেকের পরিবার নিয়ে ২০১৭ সালে গঠিত হয় অ্যাসোসিয়শন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড মিসিং পারসনস অব সাইদনায়া (এডিএমএসপি)। ২০২২ সালে সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সাইদনায়া কারাগার ‘মৃতুশিবিরে’ পরিণত হয়। তাদের হিসাবে ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি বন্দীকে হত্যা করা হয়েছে অথবা নির্যাতন বা চিকিৎসার অভাবে বা অনাহারে মারা গেছেন। আর ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০ বন্দীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

এখন সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, কারাগারে কোনো বন্দী আটক নেই। তারা বলে, ভূগর্ভে গোপন কক্ষে বন্দীরা আটকা পড়ে আছেন, এর কোনো সত্যতা নেই। যেসব গণমাধ্যম আটকা পড়ার কথা বলেছে, সেসব তথ্য সঠিক নয়। কারাগার থেকে শেষ বন্দীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করে।

গতকাল রোববার বিদ্রোহীরা দামেস্কে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে হায়াত তাহরির আল–শাম (এইচটিএস) ‘সাইয়েদানা কারাগারের নির্যাতন যুগের অবসান হয়েছে’ বলে ঘোষণা দেয়।

২০১৭ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই কারাগারকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে উল্লেখ করেছিল। তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আসাদ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসব মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকার অ্যামনেস্টির সেই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে এটিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘সত্য বিবর্জিত’ বলে দাবি করেছিল। তাদের দাবি, যথাযথ নিয়ম মেনেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।  

সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মাত্র ১২ দিনের অভিযানে গতকাল রোববার বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর সরকারি কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বন্দীদের মুক্ত করতে থাকেন বিদ্রোহীরা।

২০১১ সাল থেকে চলা গৃহযুদ্ধের সময় বন্দিশিবিরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে আটকে রাখে সরকারি বাহিনী। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব বন্দিশিবিরে আটক লোকজনকে নির্যাতন করা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

সাইদনায়া কারাগার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন বন্দীদের স্বজনেরা। দামেস্ক, ৯ ডিসেম্বর
সাইদনায়া কারাগার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন বন্দীদের স্বজনেরা। দামেস্ক, ৯ ডিসেম্বর ছবি: এএফপি

ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে ৯৩% রোগী আর্থিক সংকটে পড়েন

দেশের যেসব কিডনি রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিতে হয়, তাঁদের মাসে গড়ে ৪৬ হাজার ৪২৬ টাকা ব্যয় হয়। বড় অঙ্কের এই ব্যয় করতে গিয়ে ৯৩ শতাংশ রোগীর পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়ে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘আউট অব পকেট কস্ট অব কিডনি ডায়ালাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি আজ সোমবার বিআইডিএসের চার দিনব্যাপী ‘বার্ষিক বিআইডিএস সম্মেলন-২০২৪’-এর তৃতীয় দিনে তুলে ধরা হয়। সম্মেলনটি হচ্ছে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে।

সম্মেলনের একটি অধিবেশন ছিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে। সে অধিবেশনে তিনটি গবেষণাপত্র তুলে ধরা হয়, যার একটি কিডনি চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে। বাকি দুটি ছিল কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেকারত্ব নিয়ে। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সহ-উপাচার্য এ কে এনামুল হক।

কিডনি চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে গবেষণাপত্রটি তুলে ধরেন বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো আবদুর রাজ্জাক সরকার। তিনি জানান, গবেষণাটিতে সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি সংস্থাভিত্তিক (এনজিও) হাসপাতালের ৪৭৭ রোগীর ওপর জরিপ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ৩১ পর্যন্ত।

দেশে কত কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস সেবা নিতে হয়, তা উল্লেখ করতে ২০১৭ সালের একটি গবেষণা তুলে ধরেন আবদুর রাজ্জাক সরকার। তিনি জানান, তখন আট লাখ মানুষকে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা নিতে হতো। যার মধ্যে ৩০ হাজার এই ডায়ালাইসিস করাতে সক্ষম ছিলেন।

নতুন জরিপের বরাত দিয়ে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডায়ালাইসিসের পেছনে দেশের একজন কিডনি রোগীকে মাসে সর্বনিম্ন ৬ হাজার ৬৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। গড় ব্যয় ৪৬ হাজার ৪২৬ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশের মতো খরচ হয় ডায়ালাইসিস ফি বাবদ। প্রায় ২৩ শতাংশ ব্যয় হয় ওষুধ বাবদ। সব মিলিয়ে হাসপাতালে খরচ মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ। যাতায়াত, খাবার, থাকা, অনানুষ্ঠানিক (ঘুষ, বকশিশ) খরচ ইত্যাদির পেছনেও ব্যয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় যাতায়াতে, মোট ব্যয়ের প্রায় ৯ শতাংশ।

রোগীরা কোন ধরনের হাসপাতালে বেশি সেবা নিতে যান, তা-ও উঠে এসেছে জরিপে। দেখা যায়, ডায়ালাইসিস সেবা নিতে রোগীদের ৪২ দশমিক ৫৬ শতাংশ যান এনজিওভিত্তিক হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে যান প্রায় ৩৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বেসরকারি হাসপাতালে যান ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ রোগী। ব্যয় বেশি বেসরকারি হাসপাতালে, মাসে গড়ে খরচ ৭৭ হাজার ৫৮৯ টাকা। সরকারিতে তা ৩২ হাজার ৫৫২ টাকা এবং এনজিওভিত্তিক হাসপাতালে ৩৯ হাজার ৯১২ টাকা।

বিআইডিএসের গবেষণায় বলা হয়, প্রায় ৯২ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিবারই ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়ে। সাড়ে ১৯ শতাংশ রোগী প্রয়োজনের চেয়ে কম ডায়ালাইসিস করান। হারটি গরিবদের মধ্যে বেশি। রোগীদের মধ্যে যাঁরা কম ডায়ালাইসিস করান, তাঁরা কারণ হিসেবে (৯৫ শতাংশ) অনেক বেশি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, মাসে মাসে বিপুল ব্যয়ের চাপ থেকে বাঁচতে অনেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালান। তখন তাঁরা প্রতারকের খপ্পরেও পড়েন। একজন রোগী গবেষকদের বলেছেন, তিনি চার লাখ টাকা খুইয়েছেন। আবার মাসে মাসে বিপুল চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ফেলতে হচ্ছে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনার সময় বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো আবদুর রাজ্জাক সরকার বলেন, কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা মূলত শহরকেন্দ্রিক। বিশেষ করে ঢাকায়। ফলে জেলা পর্যায় থেকে রোগীদের ভোগান্তি হয়। তিনি বলেন, চিকিৎসার সুযোগ জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চালু করা এবং মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে আনা প্রয়োজন। বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবায় ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আবদুর রাজ্জাক কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগীদের সামাজিক নিরাপত্তা খাত ও বিমার আওতায় আনার পরামর্শও দেন।

বিআইডিএসের চার দিনের সম্মেলনের আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ দিন। এদিন বাল্যবিবাহ, কৃষিঋণ, ভূমির ব্যবহার, খাদ্য সরবরাহ, দারিদ্র্য ইত্যাদি নিয়ে গবেষণাপত্র তুলে ধরা হবে।

কিডনি