Thursday, October 6, 2011

এক একটি ছবি এক একটি স্বপ্নঃ অপু বিশ্বাস by কামরুজ্জামান

কেটে গেছে অনেক বছর। দত্তবাড়ির মন্দিরে অষ্টমী আর নবমীর দিনে শাড়ি পরে বান্ধবীদের সঙ্গে ঠাকুর-দর্শনে যেতেন অপু। তখন সবে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলেরা এসে বলত, ‘কি গো, সিঁথি তো খালি, একটু সিঁদুর দিব নাকি?’
আবার কেউ এসে বলত, ‘মঙ্গলসূত্রটা কি গলায় দেবে? তাহলে আর দেরি কেন? চলো না...।’ ছেলেদের এমন দুষ্টুমি উপেক্ষা করেই পূজার আনন্দ উদ্যাপন করেছেন অপু। সাঁতার জানতেন না বলে বিসর্জনের দিনে নৌকায় ওঠা হতো না। করতোয়ার পাড়ে বসেই বিসর্জনের দৃশ্য দেখে বাড়ি ফিরতেন।

ব্ল্যাকের এক যুগ by কল্লোল মেহেদী

শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন বন্ধু—জাহান, টনি আর জন। একই ক্লাসের একই শাখার ছাত্র ছিলেন তাঁরা। টনি ছিলেন খুব চঞ্চল, জাহান নিজেকে সব সময়ই একটু জ্ঞানী ভাবতেন আর জনের মধ্যে ছিল সিদ্ধান্তহীনতার একটা ব্যাপার। এই তিন বন্ধু মিলেই একদিন গড়ে তুললেন একটি ব্যান্ড, ব্ল্যাক। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়, এক যুগ। বেরিয়েছে চারটি অ্যালবাম—আমার পৃথিবী (২০০২), উৎসবের পর (২০০৩), আবার (২০০৮) আর এবার রোজার ঈদে ব্ল্যাক।

বলিউডে দুর্গাপূজা by রুম্মান রশীদ খান

ব্যস্ততাকে যে পাশ কাটাতেই হবে! দুর্গাপূজা বলে কথা! বলিউডের তারকারাও শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে পূজার চার দিন মিশে যান হইহুল্লোড়ে। কেউ চলে যান পুরোনো পাড়ায়, কেউ আবার অষ্টমীর দিন সবার সঙ্গে অঞ্জলি দেন। এবারও পূজায় জমজমাট আয়োজনে মেতে উঠেছেন বলিউডের তারকারা। আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ ‘মুখার্জিবাড়ির পূজা’। এ নিয়ে মুখার্জিবাড়ির পূজা এবার ৬৪-তে পা দিল। এবার এই পূজার ভাবনা ‘নবদুর্গা’। বরাবরের মতো এবারও কাজল-রানী প্রত্যক্ষভাবে এই পূজায় অংশ নিয়েছেন।

সময় এখন সেলেনার by মাহফুজ রহমান

‘নিপাত যাক, নিপাত যাক, সেলেনা গোমেজ নিপাত যাক!’ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এমন ভীষণ কোপানলে পড়তে হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী সেলেনা গোমেজকে! দোষ কী তাঁর? দোষ একটাই—তিনি কেন জাস্টিন বিবারের প্রেমিকা! বিবার আমাদের। দুনিয়ার বিবারভক্তদের এমন পাগলামি দেখে প্রথম প্রথম চটেই গিয়েছিলেন সেলেনা। সংবাদমাধ্যমের সামনে ঝেড়েছিলেন তীব্র ক্ষোভ। বলা বাহুল্য, ফলাফল হয়েছিল আরও খারাপ। অসংখ্য টিনএজ তরুণীর আকথা-কুকথা হজম করেছে তাঁর কান।

পূজায়ও ব্যস্ত টালিগঞ্জের নায়িকারা by সাগর মৈত্রী

টালিগঞ্জের রুপালি পর্দার কন্যারা পূজার সময়টাতে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ সময়ে নেই শুটিং, নেই ডাবিং, তাতে কী? প্রতিটি দিনই তারকাদের কাছে যেন খুবই মূল্যবান। তাই শুটিং না হওয়ার ক্ষতিটা পুষিয়ে নিচ্ছেন এ মণ্ডপ-ও মণ্ডপে গিয়ে এবং ভক্তদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠান করে। তাতেই তো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। অবশ্য এ নিয়ে তারকাদের কোনো সুনির্দিষ্ট চাহিদা নেই। যে যা দেয়, তাতেই খুশি।

‘ষাটজনের সাক্ষ্য’ এখনো প্রাসঙ্গিক

৯৭১ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করতে প্রকাশিত হয় ষাটজনের সাক্ষ্য। আর এবার স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তিতে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। চিহ্নিত কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রায় চূড়ান্ত। গতকাল বুধবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ৪০ বছর পূর্তিতে ‘ষাটজনের সাক্ষ্য স্মরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার এ কথা বলেন।

সিলেটে ওএমএসের চাল ডিলারদের 'গলার কাঁটা'

ক মাস আগেও সিলেটে খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের জন্য দীর্ঘ লাইন থাকত। কিন্তু এখন চাল নিয়ে ডিলাররা পড়েছেন দ্বিমুখী জটিলতায়। তাঁরা না পারছেন চাল বিক্রি করতে, না পারছেন ফিরিয়ে দিতে। এবারের বরাদ্দ করা চাল আতপ হওয়ায় এবং এর গুণগত মান যথাযথ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আতপ চালে অভ্যস্ত না থাকায় স্বল্প আয়ের লোকজনদের মধ্যে চাল ক্রয়ে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ করা চাল যেহেতু বিক্রি করতেই হবে_তাই ডিলারদের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে না দাঁড়িয়ে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ট্রাক নিয়ে যেতে হচ্ছে। ফেরি করার মতো রাত পর্যন্ত চাল বিক্রির চেষ্টা করছেন তাঁরা। ডিলাররা ওএমএসের জন্য আতপ চালকে 'গলার কাঁটা' বলে মন্তব্য করছেন। ডিলাররা জানিয়েছেন, এখন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চাল বিক্রি করছেন।
দৈনিক জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে চাল বিক্রির নিয়ম থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদার চেয়ে বেশি চাল গছিয়ে দিতে চেষ্টা করছেন তাঁরা। কিন্তু একবার ক্রেতারা এই চাল নেওয়ার পর দ্বিতীয়বার চাল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ক্রেতাদের অভিযোগ, এ চাল রান্না করার পর হাঁড়িতে বসে যায় এবং নরম হয়ে যায়। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে কম মূল্যে সরকার ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরের অংশ হিসেবে সিলেট নগরেও ওএমএসের চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় চাল বিক্রির জন্য ১৫ জন ডিলার রয়েছেন। প্রত্যেক ডিলারকে প্রতিদিন তিন টন (তিন হাজার কেজি) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই হিসাবে সিলেট নগরে প্রতিদিন ৪৫ হাজার কেজি চাল বিক্রি করা হয়। প্রতিদিনই সেই পরিমাণ চাল নিতে হচ্ছে ডিলারদের। ডিলাররা অভিযোগ করেছেন, সিলেটে খোলাবাজারে আতপ চালের চাহিদা একেবারেই কম। এ জন্য তাঁরা চাল বিক্রি করতে পারছেন না। নগরের পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে ট্রাক নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থেকেও চাল কেনায় ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তাঁরা এই বিপুল পরিমাণ চাল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিদিনই তাঁদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরেজমিন কয়েকটি জায়গায় দেখা যায়, আগে যেখানে চালের ট্রাকের জন্য লোকজন অপেক্ষা করতেন, এখন সেখানে বলতে গেলে ক্রেতাই নেই। ওএমএসের চাল বিক্রির সময় কোথাও কোনো স্বল্প লাইনও দেখা যায়নি। ক্রেতারা পাঁচ কেজি চাল কিনতে এলে তাঁদেরকে অনেকটা জোর করে ১০ কেজি দিয়েও দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে চৌকিদেখি এলাকার ডিলার মাহবুব আহমদ বলেন, 'সবাই জানেন সিলেটের মানুষ আতপ চালে অভ্যস্ত। কিন্তু ওএমএসের চালের ক্রেতারা খুবই স্বল্প আয়ের, যাঁদের প্রায় শত ভাগই বিভিন্ন বস্তির বাসিন্দা এবং তাঁরা সিলেটের স্থানীয় নন। অন্য জেলার লোকজন আতপ চালে অভ্যস্ত নন এবং তাঁরা সিদ্ধ চাল খেয়ে থাকেন। প্রতিদিন ট্রাকের ভাড়া, তিনজন মজুরের মজুরি, চাল বিক্রি না হলে গুদামজাতকরণ সব মিলে আমাদেরকে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান মাহবুব।' একই কথা বললেন মদিনা মার্কেট এলাকার ডিলার বজলুর রহমান, কানিশাইল এলাকার মো. শহিদ ও মেডিক্যাল এলাকার আজমল আলী। তাঁরা জানান, সারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও দুই হাজার কেজি চাল বিক্রি করতে পারছেন না। ডিলারদের কথার সত্যতা পাওয়া গেল কয়েকজন ক্রেতার মুখ থেকে। আম্বরখানা, চৌকিদেখি, মীরাবাজারের কয়েকজন ক্রেতা জানান, কম দামে তাঁরা সিদ্ধ চাল খেতে চান। আতপ চাল খেয়ে তাঁরা অভ্যস্ত নন। এটা রান্না করাও কষ্টকর। বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিলেট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমরেন্দ্র কুমার শর্মা। তিনি বলেন, 'ডিলাররাও আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁরা আতপ চাল চালাতে পারছেন না। কিন্তু এটা সরকারের বরাদ্দ। আমাদের কিছু করার নেই।' আগামী কুরবানির ঈদের পর আবারও সিদ্ধ চাল আসবে বলে জানান তিনি।

ছাদ ধসের আতঙ্কে চলছে পাঠদান

ক্লাসরুমের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এযাবৎ পাঁচ ছাত্রী মাথায় জখমপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রায়ই ছাদের একটু-আধটু পলেস্তারা খসে পড়ছে। ক্লাসে বসে আতঙ্কে থাকি, কখন যে মাথায় ছাদ ধসে পড়ে! এর মধ্যেই চলছে পাঠদান।' গতকাল বুধবার এ কথাগুলো বলল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া মডেল কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সাকিলা তারিন। আতঙ্কিত তারিন জানায়, ছয় কক্ষবিশিষ্ট ৮৩ বছরের পুরনো মূল স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর দুই বছর আগে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুই বছর ধরে বাইরে ত্রিপল টানিয়ে এবং বর্ষা মৌসুমে চার কক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞান ভবনটি শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করে পাঠদান চলছে।
এতে শিক্ষার্থীরা একদিকে মৃত্যুর আতঙ্কে ক্লাসের সময় পার করছে, অন্যদিকে বিজ্ঞান ভবনে পাঠদান করায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানাগারের অভাবে ব্যবহারিক যন্ত্রপাতি বাঙ্বন্দি হয়ে পড়ে আছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই শুধু নয়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া মডেল কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের এক হাজার ৩১৯ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে ভবনের ছাদধসের আতঙ্কের মধ্যে। সরকারি কাগজপত্রে বিদ্যালয়টি মডেল বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। কয়েক বছর ধরে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং অব্যাহতভাবে ভালো ফল অর্জনকারী হিসেবে ৮৩ বছর ধরে বেশ সুনামের সঙ্গে চলছে বিদ্যালয়টি। অথচ মডেল স্কুল হয়েও বিদ্যালয়টি দুই বছর ধরে শ্রেণীকক্ষের সংকটে ভুগছে। মডেল স্কুলের আওতায় নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রায় ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। দরপত্র প্রকাশের এক বছর পেরোলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. রফিকুল ইসলাম বলে, 'এক বছর ধরে শুনছি আমাদের নতুন স্কুল ভবন হবে। বিজ্ঞান ভবনের ছাদ ধসে পড়ার আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। আতঙ্কে পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন স্কুল ভবন না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে শিক্ষা কার্যক্রম।' বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৮ সালে ১৫.৪৭ শতাংশ জমিজুড়ে মঠবাড়িয়া কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয় উপজেলার ৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। মানসম্মত শিক্ষার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখানকার ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী স্বীকৃতি লাভ করে। ৮৩ বছরের পুরনো কো-এডুকেশন পর্যায়ের এ স্কুলে ২৬টি শাখায় এক হাজার ৩১৯ ছাত্রছাত্রী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টি প্রতিবছর ভালো ফল অর্জন করে। ১৯৮৮ ও ১৯৯৩ সালে পর পর দুইবার বরিশাল বিভাগে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। এসএসসি পরীক্ষায় এযাবৎ ১৯৬৬, ১৯৬৭, ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে মোট চারবার যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান। ১৯৭৩ ও ১৯৮৩ সালে দুইবার দ্বিতীয় স্থান। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বোর্ডে অষ্টম স্থান। ১৯৮৯ সালে যশোর বোর্ডে ১৮তম এবং ১৯৮২ সালে যশোর বোর্ডে ১৬তম স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া প্রতিবছর এ বিদ্যালয় থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি জিপিএ ৫ অর্জনসহ শতকরা ৯৬ ভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার কৃতিত্ব অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮৩ বছরের পুরনো ছয় কক্ষবিশিষ্ট স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত পাঁচ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। দুই বছর আগে ধসে পড়ার উপক্রম হলে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে বিদ্যালয়ে ছয়টি শ্রেণীকক্ষের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। এর পর থেকে শুকনো মৌসুমে স্কুলের সামনে ত্রিপল টানিয়ে এবং বর্ষা মৌসুমে চার কক্ষের জরাজীর্ণ বিজ্ঞান ভবনটিতে শ্রেণীকক্ষ হিসেবে পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস যথাযথভাবে চলছে না। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটি মডেল বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়ে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা আবার বাতিল করা হয়। পরে আবার যাচাই-বাছাইয়ের পর দেশের ৩০৬টি বেসরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় এ প্রতিষ্ঠানও তালিকাভুক্ত হয়। ২০০৯ সালের ৯ মার্চ মডেল স্কুল উন্নীতকরণ প্রকল্পের পরিচালক প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বরাদ্দ হয়েছে বলে চিঠি দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাহিদাপত্র নেন। অদ্যাবধি ওই বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আবদুল হাই তালুকদার স্কুলের প্রকল্প পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের আশ্বাস দেন। এর জন্য ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানের পর আবার তা অজ্ঞাত কারণে স্থগিত করা হয়। বর্তমানে নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি এক রকম ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামান খান বলেন, বর্তমানে স্কুল ভবনের অভাবে এক হাজার ৩১৯ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে শ্রেণীকক্ষের তীব্র সংকটের মধ্যে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞান ভবনটি শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যথাযথভাবে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ছাত্রছাত্রী আহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা বিভাগের মডেল স্কুল প্রকল্পের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিদ্যালয়টি উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি ভালো ও মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি শ্রেণীকক্ষের সংকট। নতুন বিদ্যালয় ভবন অতীব জরুরি।' তবে ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি

রংপুরে সক্রিয় নারী ছিনতাইকারীচক্র পূজামণ্ডপ থেকে আটক ৩

রংপুরে ভাসমান নারী প্রতারক ও ছিনতাইকারীচক্র এখন বেশ তৎপর। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রংপুরে এসে কৌশলে ও প্রতারণার মাধ্যমে তারা সাধারণ নারীদের গলার হারসহ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। সমপ্রতি এমন বেশ কিছু নারী প্রতারক ও ছিনতাইকারীকে জনগণ হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই জেলার বাইরে থেকে আসা। গত ঈদের রাতে নগরীর গোল্ডেন টাওয়ার শপিং কমপ্লেঙ্রে দুটি সোনার দোকান থেকে যে ৮০ ভরি সোনা চুরি যায়, সেই চুরির সঙ্গে জড়িতদের বাড়ি গাজীপুরে। সবশেষ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র প্রেসক্লাবের সামনে রঙ্গপুর ধর্মসভা পূজামণ্ডপে।
মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা দেখার সময় সাত-আটজনের নারী ছিনতাইকারীচক্র দেবী রানী সরকার নামের এক বৃদ্ধার গলা থেকে সোনার চেইন ছিনতাই করার সময় হাতেনাতে আটক হয়েছে তিনজন। ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ পুরবী সরকার ও মেয়ে চন্দনা সরকার জানান, রাত ৮টায় তাঁরা ধর্মসভা পূজামণ্ডপে প্রতিমা দেখতে এলে কয়েকজন নারী তাদের ঘিরে ফেলে এবং নিজেদের মধ্যে জটলা করে তারা দেবী রানীর গলার চেইনটি খুলে নেয়। তাৎক্ষণিক তাঁরা ওই ছিনতাইকারীদের আটক করে মন্দিরে দায়িত্বরত পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের সঙ্গে আরো তিন-চারজন ছিল। তারা ধরা পড়ার পরই অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটককৃতরা হচ্ছে নাজমা খাতুন (২১), স্বামী মরণ মিয়া; বানেছা খাতুন (২০), স্বামী মোশারফ হোসেন ও বিউটি বেগম (৩২), স্বামী আবদুল কাদের। তাদের প্রকৃত ঠিকানা ব্রাক্ষণবাড়িয়া হলেও তারা একেক সময় একেক ঠিকানার কথা বলছে। তারা এখন জেলহাজতে।

রহস্যে ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিউরী গ্রামের যুবলীগকর্মী সাগর হত্যার সাত মাসেও মামলার কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন খুনীদের একজন লৌহগাঁওয়ের একদিলকে পুলিশ গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ জানায়, এ সময় সে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় এবং নিজে এর সঙ্গে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে। পরের দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে বলেও রাজি হয়। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর সকালেই একদিল আচমকা বেঁকে বসে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে না বলে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। ফলে পুলিশ সাগর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে ফের ঘুরপাকের মধ্যে পড়ে।
থানা হাজতে কে বা কারা একদিলকে ইন্ধন দিল, এ নিয়ে পুলিশের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, গভীর রাতে কেউ একদিলকে ফাঁসির ভয় দেখায়। তাই সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। পুলিশের বিপথগামী কোনো সদস্য আসামি পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থানা হাজতের ভেতর একদিলকে অসৎ পরামর্শ দিয়ে থাকতে পারে বলেও গুঞ্জন ওঠে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাজিতপুর থানার ওসি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের 'রোল কল' করে এর ব্যাখ্যা চান। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ 'ষড়যন্ত্রের' রহস্য জানা যায়নি।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদে একদিল জানায়, হত্যা পরিকল্পনাকারীরা ঘটনার দিন তাকে মদ পানের দাওয়াত দেয়। রাতে এসে একদিল দেখে, চারজন হাওরের নির্জন ভিটায় অপেক্ষা করছে। তাদের মধ্যে সাগরও ছিল। পরে তারা সবাই মদ পান করে। একপর্যায়ে মাতাল অবস্থায় সবাই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। ওই সময়ই চারজন মিলে সাগরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে সাগরের পরনের লুঙ্গি খুলে লাশ হিজল গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রটি জানায়, একদিল যাদের নাম প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে আল-আমিন নামের সাগরের চাচাতো ভাইও আছে। তার দেওয়া তথ্যমতে বৃহস্পতিবার পুলিশ পিউরী থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সাগর হত্যা মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, একদিলের বক্তব্যের সঙ্গে আল-আমিনের বক্তব্যের মিল রয়েছে। তবে আল-আমিন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। আল-আমিন জানায়, ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে সে প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নয়তো পরিকল্পনাকারীরা তাকেই খুন করত।

প্রকাশিত সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ

ত ৩ অক্টোবর কালের কণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত 'চট্টগ্রামের নাজির খালের প্রতিরোধ দেয়াল, দুই ছাত্রদল নেতার বাধায় নির্মাণকাজ ছয় মাস বন্ধ' সংবাদের একটি অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুর আলম। প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। প্রতিবেদনে তিনি লন্ডন ছিলেন দাবি করা হলেও রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার আগের দিন দেশে ফিরে আসেন বলে জানান। তাঁর দাবি, প্রতিবেদক সত্যতা যাচাই না করে সংবাদটি পরিবেশন করেছেন।
এদিকে যে সমস্যার কারণে নাজির খালের প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করে পুনরায় কাজ শুরু করার জন্য প্রধান প্রকৌশলী মোখতার আলম নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এয়াকুব নবী কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন, যে দুটি পক্ষ রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পূজার পরে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এরপরও যদি কেউ কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি করে তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মানবতার প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ

ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসব পালনে কখনই হিংসা-বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। ঈদ ও পূজা উৎসব খুব নিকটবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে অনেকবার। এতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা একে অন্যদের উৎসব পালনের পরোক্ষ অংশীদার হয়েছে, বাধা হয়নি। এটা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সম্প্রদায়ের শারদীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর সবুজবাগ বাসাবো এলাকার কালিমন্দির, দক্ষিণগাঁও দাসপাড়া মন্দির ও পূর্ব রাজারবাগ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা মো. ইউনুছ মৃধা, কমিশনার গোলাম হোসেন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, হামিদুল হক, কাজী নুরুজ্জামান দুলাল, সুজন, মনির হোসেন, সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ। পূজামণ্ডপগুলোয় আয়োজক নেতারা মির্জা আব্বাসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনিও আয়োজনকারীদের কথাবার্তা শোনেন এবং তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতি ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন।

সরকার দেশের মানুষকে ভাতে-পানিতে মারা শুরু করেছে

রিকল্পনা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও এলডিপির নির্বাহী সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বর্তমান সরকার দিনে এনে দিনে খাচ্ছে, প্রতিদিন ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে। ব্যাংকগুলো টাকাশূন্য হয়ে পড়ছে। মানুষ ব্যাংকে চেক দিয়ে টাকা পাচ্ছে না। তারা এখন দেউলিয়া সরকারে পরিণত হয়েছে। গতকাল এলডিপির উত্তর-পূর্ব সাতকানিয়া শাখার উদ্যোগে বিওসির মোড়ে সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা ছাড়া কোনো বিচারের রায় দেওয়া হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের কারণে মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তারা যেন বঙ্গবন্ধুর 'দেশের মানুষকে' ভাতে মারব, পানিতে মারব ভাষণের বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সাতকানিয়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি এ জি এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মিসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জাব্বার চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা প্রমুখ।

যুব উন্নয়ন অধিদফতরে দুর্নীতির চাষ by শরীফুল ইসলাম

দুর্নীতি গ্রাস করেছে যুব উন্নয়ন অধিদফতরকে। প্রকল্পের কাজ শুরু না করে টাকা আত্মসাৎ, কেনাকাটায় অনিয়ম, কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সুবিধা আদায়, বিভিন্ন কর্মসূচিতে লোক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন যেন এ অধিদফতরের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বয়ং অধিদফতরের ডিজির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ডিজি অধিদফতরের গুটিকয় কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা চলছে।

গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ সরকারের পতন ঘটাবে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, 'আশুগঞ্জে ভারতের জাহাজ এসেছে। গোপনে ভারতকে করিডর দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকার বলছে, ট্রানজিট দেওয়া হয়নি।' তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই জনগণ এই সরকারের পতন ঘটাবে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন 'বুটের নিচে গণতন্ত্র : পিষ্ট মানবতা' শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ভয়েস অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এহসানুল হক জসিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, মহিলা এমপি শাম্মি আকতার, নিউ নেশন সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
ড. মোশাররফ বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে মানবাধিকার, সুশাসন_কোনোটাই থাকে না। দেশ স্বাধীনের ৪০ বছর পরও আলোচনার বিষয়বস্তু করতে হয় গণতন্ত্র বুটের নিচে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নাম করে গলাবাজি করলেও স্বাধীনতার পর তারাই প্রথম গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। ওই সময় সরকার চারটি সরকারি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার থাকার পরও দেশে রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল। মোশাররফ আরো বলেন, সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। সরকারের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুর্নীতি, পরহিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির ফলই হলো মানুষের এই চরম দুর্গতি। এ জন্যই সরকার প্রতিদিন ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকা ধার করে চলছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনীতি নিরাপদ নয়। জনদুর্ভোগের হাত থেকে দেশের জনগণকে উদ্ধার করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

পর্যায়ক্রমে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে

ওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ীই হবে। ইতিমধ্যেই দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সাকা চৌধুরীর মতো যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হবে। গতকাল বুধবার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত কর' শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে 'আমরা করব জয়' নামের একটি সংগঠন।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, 'যাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ সরকার সম্পন্ন করবে না, তাঁদের সামনে প্রমাণ হিসেবে রইল সাঈদী ও সাকা চৌধুরী। আমরা যুদ্ধাপরাধের তথ্য ও প্রমাণ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করব, যাতে কেউ বলতে না পারে এ বিচার সুষ্ঠু হয়নি।'
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, 'এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বাস করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আর যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে তাদের মুখোশও উন্মোচন করা হবে। আমরা দুর্নীতিকে, মিথ্যাকে, স্বৈরতন্ত্রকে জয় করব।' প্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনেক আগেই সম্পন্ন করা উচিত ছিল। তবে আমরা আশান্বিত যে এ সরকার তাদের বিচার শুরু করেছে। আশা করি, এ বিচার অতি দ্রুত সম্পন্ন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।' সংগঠনের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ডিআইজি (সিআইডি) আনোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আশরাফুল ইসলাম খান, ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ লুৎফর রহমান, নারী উদ্যোক্তা কানিজ ফাতিমা রিমা, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ নাজির মিয়া প্রমুখ।

ঢাকা-সিলেট রোডমার্চ সফলের আহ্বান জামায়াতের

বিএনপিসহ চারদলীয় জোট এবং সমমনা দলগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট রোডমার্চ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘোষিত এ রোডমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে গণ-আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সে জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

নগর প্রতীকের অনন্য রূপকল্প by মামুন আবদুল্লাহ

ট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সামনের শিশুপার্কটি তুলে দিলে সৃষ্টি হবে এক চিলতে সবুজ চত্বর। এর সামনে আউটার স্টেডিয়ামের মাঠটি অবিকল রাখতে হবে। এই মাঠের চারপাশে থাকবে নগর মিলনায়তন (সিটি হল), গ্রন্থাগার (লাইব্রেরি), আর থাকবে একটি জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষণ করা হবে এই নগরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কিংবদন্তি এবং মনীষীদের জীবনবৃত্তান্ত ও ছবি। আরও থাকবে তথ্য-প্রযুক্তিকেন্দ্রসহ (আইটি সেন্টার) আনুষঙ্গিক নানা স্থাপনা।

সচেতনতায় প্রতিরোধ সম্ভবঃ ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে by হামিদ উল্লাহ

ট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মশার কামড় থেকে রক্ষায় জনসচেতনতার অভাব এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণে সিটি করপোরেশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। এসব রোগীর তালিকায় সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও আছেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ এবং বিআরটিএর একজন সহকারী পরিচালকও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কাউন্সিল অধিবেশন ২৪ ডিসেম্বর

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জাতীয় কমিটির এক বিশেষ অধিবেশন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে নুরুজ্জামান আনসারী ও পরে নুরুল আজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য দেন_মোহাম্মদ ফিরোজউদ্দিন, কাজী আ কা ফজলুল হক, মহিবউদ্দিন চৌধুরী, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মনোয়ারা বেগম, আ. ম. বাবুর, সাহিনুর আল আমিন, আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, গোলাম মোস্তফা, জুলফিকার আলী প্রমুখ।
সভায় জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন ও বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন করে সহকারী শিক্ষক পদকে শিক্ষকতা পেশা শুরুর পদ ধরা, সহকারী প্রধান শিক্ষকের সৃষ্টপদ কার্যকর করাসহ প্রধান শিক্ষকদের গেজেটেড মর্যাদা দিয়ে মহাপরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতির দাবি জানান। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মতে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ গঠনের লক্ষ্যে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সাক্ষাৎকার- রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের নগর করা সম্ভবঃ আদনান মোর্শেদ

ধুনিক নগর বিনির্মাণের স্থাপত্যশৈলী আর পরিকল্পনা নিয়ে ১৫ বছর ধরে গবেষণা করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকার সহযোগী অধ্যাপক আদনান মোর্শেদ। বিশ্বমানের নগর হিসেবে চট্টগ্রামের প্রতীক কী হতে পারে, তা নিয়ে একটি গবেষণাকর্মে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের এই স্থপতি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন ওমর কায়সার।

যে গ্রামে পাখিরা ঘুম ভাঙায় by মোহাম্মদ রফিক

ম্বা গলা, লালচে হলুদ ঠোঁট। ধ্যানীর মতো ওরা দল বেঁধে বসে আছে বাঁশঝাড়ের মাথায়। বকের এমন আড্ডা দেখে যে কেউ মোহিত হবেই। শুধু কি বক? এদের পাশে ঘুরঘুর করছে পানকৌড়ি-কাদাখোঁচা আর হট্টিটিও। ওদিকে শিমুল-পলাশগাছে গুনগুন করে সুর তুলেছে দোয়েল-কোয়েলের দল। পাশের বটগাছের পাতার আড়ালে চলছে ঘুঘু-শালিকদের খুনসুটি আর বেশুমার চড়ুই পাখির কলরব। পাখির এই অভয়ারণ্য দেখতে হলে যেতে হবে শহরতলীর নিভৃত পল্লি হাটহাজারীর লালিয়ার হাট গ্রামে। অনেকেই এখন এ গ্রামকে পাখিগ্রাম বলতেও দ্বিধাবোধ করেন না।

পাহাড়ে কফিচাষ ভেস্তে যাচ্ছে by মো. নিজাম উদ্দিন লাভলু

পার্বত্য চট্টগ্রামে কফিচাষের সফলতা ক্রমেই ভেস্তে যাচ্ছে। উৎপাদিত কফি প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের সমস্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা না থাকায় সম্ভাবনাময় কফির বাগানগুলো এখন ধ্বংসের পথে। অযত্ন, অবহেলায় বাগানগুলোর অনেক ফলবান গাছই মারা গেছে। জীবিত গাছগুলোও রুগ্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১২ কোটি টাকার মিশ্র ফলচাষ প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার ছয়টি উপজেলায় কফির বাগানগুলো সৃজন করা হয়। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ের পতিত জমিতে কফিসহ মিশ্র ফলচাষের মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারকে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করে।

রামমোহন রায় লাইব্রেরি নিয়ে ত্রিমুখী রশি টানাটানি by আপেল মাহমুদ

রকারের এক কর্তৃপক্ষ বলছে, জরাজীর্ণ ভবনটি বিপজ্জনক। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে। আরেক দপ্তর বলছে, পুরনো ভবনটি মহামূল্যবান। এর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ভবনটি রক্ষা করতে হবে। সরকারেরই আরেক অফিস বলছে, স্থাপনাটি অতি সাধারণ মানের। তার মধ্যে প্রত্নতাত্তি্বক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। এই হচ্ছে ঢাকার প্রথম গণগ্রন্থাগার হিসেবে স্বীকৃত ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ভবনের বর্তমান অবস্থা। ১৪০ বছরের পুরনো এ পাঠাগারটির সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, শামসুর রাহমানসহ আরো অনেক খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে পাঠাগার ভবনটি নিয়ে ত্রিমুখী রশি টানাটানির ফলে ঢাকা ব্রাহ্মসমাজও দ্বিধাবিভক্ত। এ পরিস্থিতিতে লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজ নেই by আসিফ সিদ্দিকী

ন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৫৭টি সাধারণ কর্গো জাহাজ থাকলেও কোনো কনটেইনার জাহাজ নেই। দেশীয় মালিকানাধীন যে পাঁচটি কনটেইনার জাহাজ ছিল সেগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে বিভিন্ন রুট থেকে। গত আড়াই বছরে দেশীয় মালিকানাধীন ৩৩টি জাহাজ পণ্য পরিবহনে যুক্ত হলেও কোনো নতুন কনটেইনার জাহাজ এই বহরে আসেনি।

এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আইন অবশেষে চূড়ান্ত by আবুল কাশেম

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। 'ডাইরেক্ট সেল আইন-২০১১' নামের এই আইনের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এটি পাস হতে পারে। এটি পাস হলে এ আইনের আওতায়ই পরিচালিত হবে দেশের এমএলএম ব্যবসা। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে গতকাল বুধবার আইনটির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে কমিটি। খসড়ায় আইনের বিভিন্ন ধারায় সর্বমোট ৪০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একটুও কমেনি এমপি সরোয়ারের দাপট by মোশাররফ বাবলু ও রফিকুল ইসলাম

ল যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, তখন তাঁর দাপটে তটস্থ থাকতেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষ। দল এখন ক্ষমতায় নেই, কিন্তু তিনি আছেন পুরনো সেই মেজাজে। তবে তাঁর তাতানো মেজাজ-মর্জির এখন শিকার নিজ দলেরই লোকজন। আনুগত্যের সামান্য হেরফের হলে তাদের ওপর নিজ বাহিনীর হামলার নজিরও কম নেই।

জ্বলেই নিভে গেছে বিনা মূল্যের বাল্ব by আরিফুজ্জামান তুহিন

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার গত বছর বেশ ঘটা করে দেশের ৩৮টি জেলায় যে এক কোটি পাঁচ লাখ এনার্জি সেভিং বাল্ব বিনা মূল্যে বিতরণ করেছিল, এর ৮০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে বাতি জ্বালানোর এক সপ্তাহের মধ্যে। জলে গেছে ১০৩ কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই। ভেস্তে গেছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সাধের প্রকল্পটির প্রথম পর্ব। অথচ প্রতিটি বাতির আয়ুষ্কাল ছিল ১০ হাজার ঘণ্টা, যা একনাগাড়ে চললেও ৪১৬ দিন পর্যন্ত টিকে থাকার কথা। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বাল্ব কেনার কারণেই এ কাণ্ড ঘটেছে। রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় কালের কণ্ঠের সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।

এমবিবিএসের প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টাঃ ২০ লাখ টাকায় রফা হয় শুভেচ্ছা কোচিংয়ের সঙ্গে

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার জন্য শুভেচ্ছা কোচিং সেন্টারের মালিক আবদুল মান্নানের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় রফা হয়েছিল ছাপাখানার শ্রমিক শাহেনশাহ ঠাকুরের। দরদাম ঠিক করার বৈঠকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ব্যবস্থাপক ফাইজুর রহমানও ছিলেন। তিনি শাহেনশাহের মামা। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাহেনশাহ ঠাকুর এসব তথ্য দিয়েছেন। তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রশ্নের ক্রেতা মান্নানের নাম আসার পর গত মঙ্গলবার ভোরে শুভেচ্ছা কোচিংয়ের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পার্লমুটারের ভুল নম্বরে ফোন নোবেল কমিটির!

নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ সল পার্লমুটার বলেছেন, নোবেল কমিটির কাছে তাঁর ভুল ফোন নম্বর ছিল। গত মঙ্গলবার তাঁর নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর তিনি প্রথম তাদের কাছ থেকে পাননি। খবরটি পান তিনি সুইডিশ গণমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে। পার্লমুটার বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় তখন সকাল। এ সময় সুইডেনের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে আমি ফোন পাই। তিনি আমাকে বললেন, “অভিনন্দন।” জবাবে আমি বলি, কোন ব্যাপারে অভিনন্দন?’

স্টিভ জবসের ১০ ‘বিপ্লব’

থ্যপ্রকৌশলে স্টিভ জবসের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তার পরও যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা প্রায় ৩০০ প্রযুক্তি পেটেন্টের উদ্ভাবক অথবা সহ-উদ্ভাবক হিসেবে জবসের নাম জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি উপকরণের উদ্ভাবক ও এগুলোর তৈরির আগে প্রাথমিক ভাবনার নিয়ামক হওয়ার কারণে অনেকেই এই প্রযুক্তিবিদকে আধুনিক পৃথিবীর ‘লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চি’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রিয় পাঠক, আসুন দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিই, তথ্যপ্রযুক্তি জগেক বদলে দেওয়া স্টিভ জবসের ১০টি যুগান্তকারী কাজের ওপর।

শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে রাজি করাতে ইয়াজউদ্দিনের ‘প্রস্তাব’

ড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর। শেখ হাসিনা নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্মত হলে ২০০১ সালের ভোটার তালিকা এবং ২০০৬ সালের সম্পূরক তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান চৌধুরী মার্কিন দূতাবাসকে এ কথা বলেছিলেন। তবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার-সবার দায়িত্বশীল থাকা বাঞ্ছনীয়

বিলম্ব সত্ত্বেও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে একজন অভিযুক্তের বিচার শুরু হতে চলার খবরে বিভিন্ন মহলে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। আসামিপক্ষের তরফে বিচার বর্জনের ইঙ্গিত সত্ত্বেও ৩০ অক্টোবর বিচার শুরু হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত হবে, জনগণের ও আইনের শাসনের দাবি পূরণে যাতে আশাভঙ্গের কারণ না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। পুরো বিষয়টি যাতে সুষ্ঠু, পরিচ্ছন্ন, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ থাকে, সে জন্য প্রসিকিউশন ও তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই শুধু নন, পুরো নির্বাহী বিভাগকেও সজাগ থাকতে হবে। কারণ, তারা তাদের কাজে স্বাধীন হলেও বাস্তবে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয়েই প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়াটি যুগপৎ আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। তাই বিচার-সংক্রান্ত খবরাখবর প্রকাশে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিডিয়ার অতি উৎ সাহ সমস্যা সৃষ্টি করে।
গোড়া থেকেই আমরা নির্বাহী বিভাগ, বিশেষ করে, এক জুনিয়র মন্ত্রীকে বিচার অনুষ্ঠান নিয়ে নানা মন্তব্য করতে দেখছি, যা বিচারবিরোধীদের অপপ্রচারের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এত দিন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু না হওয়ার পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এখন যদি অতি উৎ সাহী ব্যক্তিদের না সামলানো হয়, তাঁরা যদি আগের মতো মেঠো বক্তৃতা করে আসর মাত করার প্রবণতা অব্যাহত রাখেন, তাহলে সমূহ বিপদ। সরকারের মধ্যে যাঁরা বাগাড়ম্বরপ্রিয়, তাঁদের মনে রাখা উচিত, হাইকোর্টে বিচারাধীন কোনো মামলা নিয়ে তাঁরা কিন্তু একই ধরনের মন্তব্য করেন না। তাঁরা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান থাকার সময় বলেন না যে আদালত অমুক তারিখ বা সময়ের মধ্যে দোষীকে শাস্তি দেবেন। আদালতের প্রতি অযাচিত পক্ষাবলম্বনও কখনো আদালত অবমাননা বলে গণ্য হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে প্রথমবারের মতো ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধের বিষয়ে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। এখন সরকারের তরফে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয়ে সব ধরনের অনভিপ্রেত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। মানুষ এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করবে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা কী ধরনের আচরণ দেখিয়ে থাকে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষে ঘোষিত মুখপাত্র ছাড়া অন্যদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, তদন্তকারী দল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পেশ করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রথমেই মিডিয়ার সামনে পেশ করা হলো। এটা অসংগত ও বিধিবহির্ভূত, যা নানা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের আগে সংবাদ সম্মেলন ডাকা বিধিসম্মত কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হলেও তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এটা কাম্য নয়।
আমরা আশা করব, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিরোধী দলের বৈধ উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তার ওপর অর্পিত সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব সুসম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিকে গ্লানিমুক্ত করবে।

খেলতে রাজি ছিলেন তেভেজ!

কার্লোস তেভেজের ভাগ্য হয়তো নির্ধারিত হয়েই গেছে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে দেওয়া হয়েছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ। পরশু ঘটনার বক্তব্য তেভেজের মুখ থেকে শুনতে সিটির কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা এসেছিলেন চেশায়ারে তেভেজের বাড়িতে। সেখানেই প্রায় ৮০ মিনিট অবস্থান শেষে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। দুই পক্ষে কী কথা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। তবে সূত্রগুলোর কাছ থেকে খবর বের করেছে ইএসপিএন। তেভেজ নিজের আগের বক্তব্যেই অটল ছিলেন বলে জানা গেছে। জেরার মুখে তেভেজ বলেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ার্মআপ করতে অস্বীকৃতি জানালেও খেলতে রাজিই ছিলেন।
স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় জেরার মুখোমুখি হন তেভেজ। এ নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার মাত্রাতিরিক্ত কৌতূহলের কারণে জেরার আয়োজনটি তেভেজের বাড়িতেই করা হয়, যেন এর আঁচ সিটির মূল দলের ওপর গিয়ে না পড়ে। সেই শুনানিতে তেভেজ নিজের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তাঁর দাবি, আগেই যথেষ্ট ওয়ার্মআপ করেছিলেন। ফলে নতুন করে ওয়ার্মআপের দরকার নেই বলেই কোচ রবার্তো মানচিনিকে জানান। বড় ধরনের কোনো অপরাধ করেননি দাবি করে কোচের কাছে ক্ষমা চাইতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তবে এই কথা বলেও তেভেজ সহজে পার পাবেন না। কারণ, ঘটনার দিন ম্যাচ শেষে এক টিভি সাক্ষাৎকারে তেভেজ স্বীকার করেছিলেন, মাঠে নামার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না বলেই তিনি খেলতে রাজি হননি।
তেভেজের চুক্তির শর্ত ভালোভাবে খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটিই এখন ভাবছে সিটি। তবে আরেক দফা শুনানির আগে বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। সিটির জার্সি গায়ে তেভেজের খেলার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। তেভেজকে আর খেলাবেন না—মানচিনির এ অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ক্লাবের মালিকপক্ষ।
আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ হলেও কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি তেভেজকে। তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রথম দফায় দুই সপ্তাহের বেতন কাটা হবে। এর পর বিষয়টি প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে আরও ছয় সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তেভেজের দুই মাসের বেতন কেটে নেওয়া হতে পারে। যে অঙ্কটা প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড!
এর পর তেভেজকে রিজার্ভ টিমের সঙ্গে খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে খেলতে রাজি না হলে জরিমানার অঙ্কটা ৩০ লাখ পাউন্ডে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে আপাতত জানুয়ারির দলবদলের বাজারে তেভেজকে বিক্রি করে দেওয়াই হতে পারে ভালো সমাধান!

‘রেকর্ডটি ভেঙেও দিতে পারি’

টেলমো জারার রেকর্ডটি ছিল ১৯৫০-৫১ মৌসুমে গড়া। সেই রেকর্ডটি ছুঁতে অন্য কাউকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় চার দশক। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জারার রেকর্ডটি ছোঁন হুগো সানচেজ। রেকর্ডটি ভাঙতে আবার ২১ বছরের অপেক্ষা।
অবশেষে গত মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ৪০ গোল করে স্প্যানিশ লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বলছেন, রেকর্ডটি আবার ভাঙতে এবার কিন্তু বেশি দিন অপেক্ষা না-ও করতে হতে পারে। ইঙ্গিত পরিষ্কার, রেকর্ডটি ভাঙতে চান তিনি নিজেই।
এই মৌসুমে লিগে এরই মধ্যে ৬ ম্যাচে ৭ গোল করা রোনালদো বলেছেন, ‘ফুটবলে অসম্ভব কিছুই নেই। আগের রেকর্ডটি আমি ভেঙে দিতে চাই। অবশ্য গতবার এই ট্রফিটি (সর্বোচ্চ গোলদাতার) জেতার জন্য সতীর্থদেরও ধন্যবাদ দিতে হবে। দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়। কী হতে পারে কেউ জানে না। হয়তো আমি রেকর্ডটা ভেঙেও দিতে পারি।’
হয়তো লিওনেল মেসির উদ্দেশে একটা বার্তাও পাঠালেন রোনালদো। গতবারও এই দুজনের মধ্যে দারুণ জমেছিল গোল-দ্বৈরথ। দুজনে করেছেন ৫৩টি করে গোল। অবিশ্বাস্য! এবারও এই দ্বৈরথ জমে ওঠার আভাস। ১০ ম্যাচে ৯ গোল রোনালদোর। ১১ ম্যাচে মেসির ১৪টি। মেসি এগিয়ে আছেন।
তবে রোনালদো যদিও জানালেন, নিজে গোল করার চেয়ে করাতেই নাকি বেশি ভালো লাগে তাঁর, ‘আমি সতীর্থদের গোল করাতেই ভালোবাসি। এটা আমার কাজের মধ্যে পড়ে। ওরা আমাকে বল বানিয়ে দেয়, আমিও ওদের দেই। আমার লক্ষ্য থাকে দলের ভালো, যেন আমরা জিততে পারি।’

খতনার পক্ষে গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রানসিসকো শহরে খতনা নিষিদ্ধ করার একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত রোববার ওই অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেরি ব্রাউন আইনসভায় পাস হওয়া এমন এক বিলে স্বাক্ষর করেন, যা খতনার ব্যাপারে হস্তক্ষেপে বাধা দেবে। ধর্মীয় সংগঠনগুলো গভর্নরের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে।
পুরুষের খতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সানফ্রানসিসকো শহরের একটি পক্ষ। ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে খতনা করাতে না পারে, সে জন্য আগামী নভেম্বর মাসে ভোটাভুটির আয়োজনের জন্যও তারা ব্যাপক প্রচার শুরু করে। তাদের যুক্তি, খতনা যন্ত্রণাদায়ক, অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ। খতনা করা হলে জরিমানা ও শাস্তির বিধান চায় তারা।
জেরি ব্রাউন ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থা নেন। সানফ্রানসিসকোর প্রশাসন যাতে এ ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে না পারে, সে জন্য অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পাস হওয়া একটি বিলেও স্বাক্ষর করেন তিনি। এর মাধ্যমে খতনা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আপাতত বন্ধ করা হলো।

লিবিয়ায় নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত

লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) নেতারা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছেন। দেশ নিরাপদ হওয়ার পরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করবেন।
এনটিসি-প্রধান মুস্তফা আবদুল-জলিল এবং লিবিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিব্রিল যৌথভাবে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেন। তবে নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক অন্তর্বিরোধ চলার পর গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই মন্ত্রিসভা গঠনে এই দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন লিবিয়ানরা।
রাশিয়ার পিটাসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা মাহমুদ জিব্রিল প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নিয়েছেন। ফলে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আল-ইসাবিকে বিদায় নিতে হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা অর্থনীতিবিদ আলী আল তারহোনি তেলমন্ত্রী পদে থাকবেন।

মার্কিন নাগরিক আমান্ডাকে খালাস

ব্রিটিশ ছাত্রী মেরেডিথ কারচারকে (২১) খুনের দায়ে দণ্ডিত মার্কিন নাগরিক আমান্ডা নক্সকে গত সোমবার খালাস দিয়েছেন ইতালির একটি আদালত। চার বছর আগে ইতালিতে খুন হয়েছিলেন মেরেডিথ। এ ঘটনায় মেরেডিথের পরিবারের সদস্যরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
ঘটনার সময় মেরেডিথকে তাঁর নিজের শোবার ঘরের বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর দেহ ছিল রক্তাক্ত। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করেছিল পুলিশ। হত্যার আগে মেরেডিথ যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে প্রমাণ মেলে। ওই সময় তাঁর সঙ্গে একই কক্ষে আমান্ডা নক্সও থাকতেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আদালত ২০০৯ সালে নক্সকে ২৬ বছরের এবং মেরেডিথের সাবেক প্রেমিক রাফায়েল সোলেসিতোকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া রুদি গুয়েদ নামের অন্য এক ব্যক্তিকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কৌঁসুলিরা তখন দাবি করেন, নক্স, সোলেসিতো ও গুয়েদ ব্রিটিশ ছাত্রী মেরেডিথের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে নক্স ও সোলেসিতোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্বাসযোগ্য নয় উল্লেখ করে গত সোমবার ইতালির আদালত তাঁদের খালাস দেন। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইতালি ছাড়ার কথা ছিল নক্সের।

কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার পরিত্যাগের উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা জন বেডিংটন। গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফোরামে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।
ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানী বলেন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে এখনো পরমাণু জ্বালানি মুখ্য ভূমিকা রাখে।

আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে অহিংস আন্দোলন

জাতিসংঘের সদস্যপদের দাবিতে কঠিন বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে ফিলিস্তিনকে। তবে ফিলিস্তিনের কর্মকর্তাদের আশা, কঠোর অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন আদায় করা যাবে। খবর এএফপির।
রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবিতে সদস্যপদের জন্য গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ঐতিহাসিক আবেদন করে ফিলিস্তিন। এরপর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তাঁর দলের নেতারা বারবার অহিংস আন্দোলনের ওপর জোর দিচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের মধ্যস্থতাকারী নাবিল শাথ গত শনিবার বলেন, ‘অহিংস আন্দোলন নিয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তা নীতিও এটিকে সমর্থন করে। পশ্চিম তীরের সর্বত্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও সহিংসতার একটি ঘটনাও ঘটেনি।’
পশ্চিম তীরের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে সহিংসতার চেয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি বেশির ভাগ জনমত গড়ে উঠছে।
নাবিল শাথ বলেন, আব্বাস সব সময় শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ ও সংগ্রামের কথা বলেন, যা হবে পুরোপুরি অহিংস। সহিংসতা হতে পারে—এমন এলাকা থেকে তিনি দূরে থাকতে বলেন।
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত সপ্তাহে বলেন, আরব জাগরণ প্রমাণ করেছে, গণপ্রতিরোধই অধিকার আদায়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সোমালিয়ায় মন্ত্রণালয়ের ফটকে গাড়িবোমায় ৭০ জন নিহত

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি একটি কম্পাউন্ডের সামনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪২ জন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাসদস্য ও ছাত্র রয়েছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কট্টর ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গত আগস্টে মোগাদিসু থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর আল-শাবাবের এটি সবচেয়ে বড় হামলা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই হামলাকারী ট্রাকবোঝাই বিস্ফোরক নিয়ে মোগাদিসুতে চারটি মন্ত্রণালয় রয়েছে—এমন একটি কম্পাউন্ডে ফটক দিয়ে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় তুরস্ক সরকারের বৃত্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিস্ফোরণের সময় জাতিসংঘ ও পশ্চিমা-সমর্থিত সোমালিয়ার ট্রানজিশনাল ফেডারেল সরকারের (টিএফজি) সদস্যরা একটি ভবনে বৈঠক করছিলেন। তবে তাঁরা হতাহত হয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি।
বিস্ফোরণে কম্পাউন্ডের মূল ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে বহু মানুষকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে গেছে। হতভম্ব সরকারি সেনারা আকাশে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছিলেন।
একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শ মিটার দূরে নিহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক শাবাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে থাকা টিএফজি কর্মকর্তা, আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সেনা ও অন্য গুপ্তচরদের হত্যা করতে আমাদের এক মুজাহিদিন তাঁর জীবন উৎ সর্গ করেছেন।’
বিস্ফোরণের পর পর এইউ ও সরকারি সেনারা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।
এর আগে আল-শাবাবের জঙ্গিরা গত সোমবার ইথিওপিয়ার সীমান্তের কাছে পশ্চিম সোমালিয়ার ধুসামারেব শহরে হামলা চালায়।
১৯৯১ সালের পর থেকে সোমালিয়ায় কোনো কার্যকর কেন্দ্রীয় সরকার নেই। ইতিমধ্যে জাতিসংঘ দেশটির ছয়টি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা করেছে। দুর্বল টিএফজি সরকার ও ইসলামি জঙ্গিরা দেশটির নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত আল-শাবাব সোমালিয়ার অনেক অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিয়াওবোকে কারাগারের বাইরে যাওয়ার অনুমতি

শান্তিতে নোবেলজয়ী চীনের ভিন্নমতাবলম্বী লিউ সিয়াওবো গত মাসে কিছুক্ষণের জন্য কারাগার থেকে বেরোনোর অনুমতি পেয়েছিলেন। বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই অনুমতি দেয়। গতকাল মঙ্গলবার সিয়াওবোর ছোট ভাই এ তথ্য জানান।
চীনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, সে দেশের কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সপ্তম দিনে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হয়। সিয়াওবোর ছোই ভাই লিউ জিয়াওজুয়ান এএফপিকে বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর বড় ভাই ১৮ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে বাড়ি আসেন।
সিয়াওবো ওই দিন কতক্ষণ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তাঁর ভাই। তবে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে কারাগারে গিয়ে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। এর আগে আগস্টে সিয়াওবোর স্ত্রী লিউ জিয়া তাঁর সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ পান। সিয়াওবো গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণার পর গত বছরের অক্টোবর থেকে তাঁর স্ত্রীকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

অস্ত্রবিরতিতে রাজি মাওবাদীরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলের মাওবাদীরা আলোচনা চলাকালে অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে রাজি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করার ঘটনায় সরকার নতুন করে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু করার ঘোষণা দেয়। এর কয়েক দিন পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাওবাদীদের অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।

দালাই লামার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল

কর্তৃপক্ষ সময়মতো ভিসা না দেওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তাবিত সফর বাতিল করেছেন তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের ধর্মশালার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটুর ৮০তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দিতে দালাই লামাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন টুটু।
শান্তিতে নোবেলবিজয়ী দালাই লামা গত আগস্টে ভিসার জন্য আবেদন করেন।
দালাই লামার কার্যালয় থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৬ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ ভিসা অনুমোদন করেনি। এ ঘটনাকে ডেসমন্ড টুটু শান্তিকেন্দ্রের পক্ষ থেকে ‘অন্ধকারতম দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের মুখপাত্র নোমফুনডো ওয়াজালা বলেন, ‘এ ঘটনা কতটা বেদনাময় অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।

পাকিস্তানে গুলি করে ১৩ শিয়াকে হত্যা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটায় গতকাল মঙ্গলবার একটি বাসে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছে। বাসটি শিয়া মুসলিমদের বহন করছিল। গোষ্ঠীগত কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হামিদ শাকিল জানান, বাসটি সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের নিয়ে যাচ্ছিল। কোয়েটার শহরতলিতে চারজন বন্দুকধারী দুটি মোটরসাইকেলে করে এসে বাসটি থামায়। এরপর যাত্রীদের লক্ষ্য করে তারা গুলি ছোড়ে। এতে ১৩ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ১২ জন শিয়া ও একজন পশতুন রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন ঘটনাস্থলে মারা যায়। গুরুতর আহত অপর দুজন মারা যায় হাসপাতালে।
পুলিশ জানায়, বাসের যাত্রী শিয়ারা সংখ্যালঘু হাজারা গোষ্ঠীর লোক। হাজারা অধ্যুষিত হাজারগঞ্জি থেকে কোয়েটা যাচ্ছিল তারা। এ ঘটনায় টিভিতে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, বাসটিতে আগুন জ্বলছে। আশপাশে লেগে আছে রক্তের ছোপ। যাত্রীদের মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
ঘটনার পর হাজারা গোষ্ঠীর প্রায় ৪০০ জন স্থানীয় বোলান মেডিকেল কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করে। আহত যাত্রীদের ওই হাসপাতালে চিকিৎ সা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর কোয়েটার দক্ষিণে মাসটাং এলাকায় বাস লক্ষ্য করে চালানো বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন শিয়া নিহত হয়।

রিপাবলিকান দলে চলছে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়েছেন টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি। তবে জনপ্রিয়তায় সবার আগে আছেন ম্যাসাচুটসের সাবেক গভর্নর মিট রমনি।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টানা দুই মাস ধরে ২৫ শতাংশ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন মিট রমনি। তিনিই এখন সবার শীর্ষে।
সেপ্টেম্বরের জরিপে ২৯ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে শীর্ষে ছিলেন রিক পেরি। তবে কয়েকটি বিতর্কে দক্ষতা দেখাতে না পারায় তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। ১৩ শতাংশ কমে এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।
সবচেয়ে অগ্রগতি হয়েছে হারম্যান কেইনের। জনপ্রিয়তা ১২ শতাংশ থেকে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। অর্থাৎ তাঁর ও পেরির জনপ্রিয়তা এখন সমান।
নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি প্রচারণায় নেমে পড়ার কারণেই রিক পেরির জনপ্রিয়তা কমেছে। ক্রিস্টির জনপ্রিয়তা খুব বেশি নয়, মাত্র ১০ শতাংশ। তাঁর পরেই আছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পেলিন। তাঁর জনপ্রিয়তা ৯ শতাংশ।
জরিপে ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান জানান, ক্রিস্টির নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় থাকা উচিত। অন্যদিকে, ৩১ শতাংশ মনে করেন, পেলিনের এবারও চেষ্টা করা উচিত।

দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি সই

ভারত ও আফগানিস্তানের নেতারা দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারি চুক্তিতে সই করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফররত আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে এক বৈঠকের সময় দুদেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে এই প্রথম কোনো দেশের এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হলো।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গতকাল মঙ্গলবার দুদিনের সফরে ভারতে যান। এ নিয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট এ বছর দ্বিতীয় দফায় ভারত সফর করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে জঙ্গি হামলা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরহানউদ্দিন রাব্বানির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ উত্তেজনার মধ্যে কারজাই ভারত সফর করছেন। অন্যদিকে কাশ্মীরের জঙ্গিদের মদদ দেওয়াসহ নানা ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে ভারত।
কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মনমোহন সিং বলেন, দুদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবে। এর ফলে ভারত শিক্ষা, উন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে সাহায্য করতে পারবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে এ চুক্তি। তিনি বলেন, আফগান প্রেসিডেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তাঁর বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
মনমোহন জানান, কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি ছাড়াও দুই দেশ খনি ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট দুটি চুক্তিতে সই করেছে। এ দুটি চুক্তি দুদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হামিদ কারজাই বলেন, আঞ্চলিক শান্তির জন্য ভারত যে প্রয়াস চালাচ্ছে, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার জন্য তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
আফগানিস্তানের ব্যাপারে ভারত বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে এবং নয়াদিল্লি ইতিমধ্যে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। ভারতের কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, কারজাই তাঁর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে স্থিতিশীলতা আনতে নয়াদিল্লির আরও গতিশীল ভূমিকা দেখতে চান। এ জন্য তাঁর এ সফরে আসা।

মহাসাগরে হাঙরের বৃহৎ অভয়ারণ্য

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ সরকার প্রশান্ত মহাসাগরে হাঙরের নিরাপদ বসবাসের জন্য একটি বিশাল অভয়ারণ্য তৈরি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই অভয়ারণ্যের আয়তন প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটার (সাত লাখ ৫০ হাজার বর্গমাইল)।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপদেশটি পার্লামেন্টে একটি বিল পাস করেছে। এই বিলের আওতায় সে দেশের জলসীমায় বাণিজ্যিকভাবে হাঙর শিকার ও হাঙর থেকে উৎ পাদিত পণ্যের বাণিজ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রধান আকর্ষণ পর্যটন। ১৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৬৮ হাজার।
আবাসস্থল ধ্বংস ও অবাধে শিকারের কারণে হাঙর ও এ ধরনের মৎ স্য প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিপন্ন প্রায় প্রজাতির চূড়ান্ত তালিকায় আছে এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক হাঙর।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ সরকার সম্প্রতি পার্লামেন্টে হাঙর রক্ষাসংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করে। সিনেটর টনি ডিব্রাম এ বিল সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে হাঙরের যে গুরুত্ব, তা বোঝাতে এই বিল পাস করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র হতে পারি, কিন্তু আমাদের জলসীমা হচ্ছে হাঙরের বসবাসের দিক থেকে সবচেয়ে বড়।’
এই অভয়ারণ্যের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সৌদি আরবের জলসীমাও কিছুটা পড়েছে। এ আয়তন যুক্তরাজ্যের আয়তনের চেয়ে আট গুণ বড়।
এই বিলের আওতায় হাঙর বসবাসের জলসীমার আয়তন ২৭ লাখ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ৪৬ লাখ বর্গকিলোমিটারে পৌঁছাবে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে হাঙর শিকার ও হাঙর থেকে উৎ পাদিত যেকোনো পণ্যের বাণিজ্য। তা ছাড়া ঘটনাক্রমে হাঙর বা এ প্রজাতির কোনো মৎ স্য ধরা পড়লে তা অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে।
দেশটির জলসীমায় মৎ স্য আহরণে যেসব ফাঁদ ব্যবহার করা হয়, তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে দুই লাখ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে নিজেকে ‘আন্ডারডগ’ ভাবছেন বারাক ওবামা

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখছেন বেশির ভাগ মার্কিন ভোটার। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় গত সোমবার ওবামা বলেছেন, ২০১২ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেকে ‘আন্ডারডগ’ (দুর্বল প্রতিপক্ষ) হিসেবেই দেখছেন। পরবর্তী নির্বাচনে অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে পারে কি না—এবিসি নিউজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, ‘নিজেকে ‘আন্ডারডগ’ ভাবতেই আমি অভ্যস্ত। কিন্তু দিনশেষে মানুষ নিশ্চয় জানতে চাইবে—কার ভেতরে লক্ষ্য আছে?’
ওবামা স্বীকার করেন, চার বছর আগে দেশের মানুষ যেমন ছিল, এখন তার থেকে ভালো নেই। বেকারত্বের হার অত্যধিক এবং তা ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্ধশতকের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে মূল্যবোধ ও লক্ষ্যের প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা উচিত কি না, তা নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবছে তা যাচাই করা।
এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের জনমত জরিপে ৩৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক আশা করেন, ওবামা আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। যেখানে ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, ২০১২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হবেন।

উজ্জ্বল ত্বকের মানুষের বেশি ভিটামিন ডি দরকার

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য শারীরিক সৌন্দর্যের অংশ। তবে রোদে উজ্জ্বল রঙের মানুষের ত্বক বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। দেহে ভিটামিন ডি উপাদানের অভাবে এ রকম হয়ে থাকে।
যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক বলছেন, বিবর্ণ চামড়ার এসব মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই সে ঘাটতি তাদের বিকল্প পদ্ধতিতে পুষিয়ে নিতে হয়।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষক দলটি জানায়, প্রচুর পরিমাণে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকলেও উজ্জ্বল চামড়ার মানুষ তাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। আবার বেশি মাত্রায় সূর্যের আলোয় থাকার ফলে তাদের শরীরের চামড়ায় লাল ফোসকা বা ঘা হয়ে যায়। থাকে ক্যানসারের ঝুঁকিও।
গবেষকেরা এক হাজার ২০০ মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৩০ জনের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিটামিন ডিয়ের পরিমাণ কম ছিল। তাদের বেশির ভাগই অতিরিক্ত সাদা চামড়ার অধিকারী এবং রোদে পুড়ে তাদের মুখ ও হাতের চামড়ায় দাগ ধরে গেছে।
আর আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, বয়স্ক মানুষ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু, গর্ভবতী নারী এবং সূর্য থেকে শরীর বাঁচিয়ে বা পুরো শরীর আবৃত রেখে চলাফেরা করে, এমন মানুষের বেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তাদের শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, শরীরের শক্তিশালী হাড় ও দাঁত গঠনে ভিটামিন ডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেশি বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণের প্রত্যাশায় উজ্জ্বল চামড়ার মানুষের বেশি বেশি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা ঠিক হবে না। ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প পদ্ধতির শরণাপন্ন হতে হবে। সেটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্যানসার ইউকের গবেষক হ্যাজেল নান বলেন, উজ্জ্বল চামড়ার মানুষের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই তাদের সূর্যের রশ্মির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আর ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিলে চিকিৎ সকের পরামর্শে বিকল্পভাবে তা গ্রহণ করা যেতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট-বিরোধীরা আরব জাগরণে অনুপ্রাণিত!

নিউইয়র্কে ১৮ দিন আগে শুরু হওয়া ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক আরব জাগরণ থেকে তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
তবে অর্থনৈতিক দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই অন্দোলন-বিক্ষোভের সঙ্গে তুলনা চলে কেবল স্পেন বা ইউরোপের অন্যান্য অংশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের।
দুই সপ্তাহ আগে পুঁজিবাদবিরোধী কর্মীরা যখন ওয়াল স্ট্রিটের পাশে জুকটি পার্কে তাঁবু গেঁড়ে বসতে শুরু করেন, তখন তাঁরা বলেছিলেন, মিসরের কায়রোর তাহরির স্কয়ারে আন্দোলনের অনুকরণে তাঁরা এ আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু বাস্তবে তাহরির স্কয়ারের সঙ্গে জুকটি পার্কের আন্দোলনের তেমন কোনো মিল নেই। তাহরির স্কয়ারের তুলনায় এখানে আন্দোলনকারীর সংখ্যা যৎ সামান্য। এখানে কেউ সরকার পতনের দাবি তোলেনি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর সামান্যতম সম্ভাবনা নেই।
দুই সপ্তাহ পেরিয়ে তৃতীয় সপ্তাহ শুরু হলেও এখনো ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলনকে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে না। যদিও একই ধরনের আন্দোলন শুরু হয়েছে বোস্টন থেকে শিকাগো হয়ে লস অ্যাঞ্জেলসে।
কিন্তু এই আন্দোলনকারীরা কী চান? ১০ জন আন্দোলনকারীকে এই প্রশ্ন করা হলে ১০ রকমের উত্তর পাওয়া যাবে। সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ, বেকারত্ব, বৈশ্বিক উষ্ণতা, পুলিশের নির্যাতন—এভাবে একেকজন ভিন্ন ভিন্ন কথা বলবেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে জানার জন্য কোনো নেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি যে যুবকটি এই তাঁবুর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে, তিনিও দায়িত্ব অস্বীকার করেন।
অ্যান্টনি নামের ২৮ বছরের ওই যুবক বলেন, ‘এখানে যাঁরা এসেছেন তাঁদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কারণ ও লক্ষ্য রয়েছে।’ তবে তাঁর বর্তমান লক্ষ্য ওয়াল স্ট্রিটের বাইরে আন্দোলনের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা, যেখানে বাইরের কোনো নিয়মকানুন থাকবে না।
বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চললেও প্রকৃত অর্থে কোনো প্রতিবাদ আন্দোলনের লক্ষণ এখনো বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। তবে আন্দোলনকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
লস অ্যাঞ্জেলসে গত শনিবার থেকে বিক্ষোভ করছে তিন শতাধিক মানুষ। বোস্টনে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছে শতাধিক আন্দোলনকারী। শিকাগোতে ১১ দিন ধরে ৫০ জনের মতো মানুষ এ রকম অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

মরা তত্ত্বাবধায়কের এমপি সুরঞ্জিত! by ফজলুল বারী

ত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অতঃপর মরা গাছের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত! বলেছেন, ‘বিরোধীদল বিএনপি এ নিয়ে যত চেষ্টা করুক যে গাছ মরে গেছে সেটি আর জেতা করতে পারবেনা।’ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ডাকসাঁইটে আমলা ড. আকবর আলী খান দিয়েছেন আরেকটি অগ্নিতে ঘি-ঢালা বক্তব্য। ড আকবর বলেছেন, সামাজিক চুক্তি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আইনের দোহাই দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া যায় না! সুরঞ্জিত-আকবর আলী দু’জনের বক্তব্য প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবির দুটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে!

স্টিভ জবসঃ সফল এক প্রযুক্তিশিল্পী

ত্তরের দশক অনেক কিছুর জন্যই স্মরণীয়। একইভাবে স্মরণীয় স্টিভ জবস নামের এক ব্যক্তির আবির্ভাবের জন্যও। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি যে আজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ, তার পুরোধা পুরুষ এই জবসই। ১৯৭৬ সালে স্টিভ জবস বন্ধু ওজনিয়াকের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর প্রাণের প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের। সেই থেকে শুরু। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিবাজারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপ্লব আনে অ্যাপল।

ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো by স্টিভ জবস

স্টিভ জবস বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সারের (টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, মনস্টার ইনকরপোরেটেড, ওয়াল-ই, আপ-এর মতো অসাধারণ অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ২০০৫ সালে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন স্টিভ জবস। সে বছর ১২ জুন এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যে ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন, সেটি সত্যিই অসাধারণ। ভাষান্তর সিমু নাসের।

আইনের দোহাই দিয়ে কেউ এ পদ্ধতি ভাঙতে পারে না

ত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সূক্ষ্ম কারচুপি ঠেকানো গেলেও স্থূল কারচুপি রোধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিকল্প নেই। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক
(সুজন) আয়োজিত 'সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আকবর আলি খান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকার আছে উল্লেখ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে দুটো কথা বলা হচ্ছে। কেউ বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার খারাপ।
খারাপটা বলা হচ্ছে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে, যেটা অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল। যে দল জিতেছে, তারা বলেছে আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভালো ছিল। আর যারা হেরেছে, তারা বলেছে খারাপ ছিল। কিন্তু বাইরে যা-ই বলুক, ভেতরে ভেতরে এরা সবাই জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভালো কাজই করেছে।
আকবর আলি খান মনে করেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক খারাপ কাজ করলেও নির্বাচন ভালো করেছে। তারা যা খারাপ করেছে, জরুরি আইনের জন্যই করেছে। তাই জরুরি আইনের কিছু ধারা সংশোধন করা উচিত। আর দোষটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার নয়, জরুরি আইনের। বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোনো আইনি বিষয় নয়। এটি একটি সামাজিক চুক্তি। এ চুক্তিকে একতরফাভাবে নস্যাৎ করার কোনো উপায় নেই। আইনের দোহাই দিয়ে কেউ এ পদ্ধতি ভাঙতে পারে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান সরকারেও ১০ শতাংশ অনির্বাচিত মন্ত্রী আছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি অবৈধ হয়, তাহলে এটি হালাল হয় কিভাবে?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক বিচ্যুতি স্বীকার করে নিতে হয়। যেমন চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতিও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। এটাও বিচ্যুতি। এগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদে থাকে। তেমনি স্থায়ীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারও থাকতে পারে না। এটাও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত থাকবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আদালত আরো দুই টার্ম (দুই মেয়াদে) তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার কথা বলেছে, কিন্তু তার আগেই কেন এটা তুলে দেওয়া হচ্ছে?
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, 'রাজপথে লগি-বৈঠা নিয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মারামারির কারণেই ফখরুদ্দীনের সরকার এসেছিল। এবারও রাজনীতি যে সংঘাতের দিকে যাচ্ছে তাতে ১/১১ না এলেই আমি অবাক হব।' তিনি এ বিষয়ে রাজনীতিবিদদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা এ এস এম শাহজাহানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় আরো অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান, সাংবাদিক মনির হায়দার প্রমুখ।
 

বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ

বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি রিজার্ভ সংকট মোকাবিলা ও ঝুঁকি এড়াতে রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনতে বলা হয়েছে। 'বৈদেশিক মুদ্রার দেশীয় ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ভঙ্গি ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান ও আহসান উল্লাহ এবং ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রাতারাতি অনেক ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ওই সব দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে সাবধানতা অবলম্বন আবশ্যক। কেননা বিদেশি ব্যাংকের এলসি গ্যারান্টির বিপরীতে রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যাক টু ব্যাক এলসি এখানকার কোনো ব্যাংক দিয়ে থাকে। দেখা গেল পণ্য রপ্তানির পর ওই বিদেশি ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে গেল। সে ক্ষেত্রে ওই রপ্তানির অর্থ তো দেশে আসবেই না বরং ব্যাক টু ব্যাক এলসির অর্থও খেলাপি হয়ে পড়বে। তা ছাড়া দেশীয় ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে না আনলে তার পাওনা-সংশ্লিষ্ট ওই ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়লে ওই অর্থও আর ফেরত আসবে না। তাই রিজার্ভ সংকট মোকাবিলা ও ঝুঁকি এড়াতে রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২০ দিন। তবে ব্যাংকগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব তা দেশে আনতে বলা হয়েছে।

সরকার একতরফা ইসি পুনর্গঠন করলে মানবে না বিএনপি

রকার একতরফা নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন করলে বিএনপি মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। দলটির দাবি, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই ইসি পুনর্গঠন করতে হবে। গতকাল বুধবার ঢাকায় পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ইসি পুনর্গঠনের বিষয়ে দলের এ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলে বিএনপি মানবে না। নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেও ভালো ফল পাওয়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। কানাডা থেকে প্রকাশিত অনলাইন বাংলা সংবাদ নবদ্বীপনিউজ২৪ ডট কম-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সৈয়দ আশরাফ বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন, সে সম্পর্কে বিএনপি এখন পর্যন্ত কিছুই জানে না। তিনি বলেন, 'তিস্তার পানিচুক্তিতে কিছু বার্গেইনিং টিপস ছিল। করিডরের (ট্রানজিট) মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি করা যেত। কিন্তু সরকার সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মনমোহনের সফর ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যদি ভারতকে প্রভু মনে করে, তাহলে এই চুক্তি তাদের দিয়ে সম্ভব নয়।'
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'অনলাইন পত্রিকার মধ্য দিয়ে এম এইচ মামুন একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষকে সচেতন করতে সক্ষম হবেন। এটি সাংবাদিকতায় একটি নতুন অধ্যয়ের সূচনা করবে। আশা করি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সাংবাদিকতাকে আরো গতিশীল করবে এই মাধ্যম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত বিরোধী দল মানবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এম কে আনোয়ার বলেন, কমিশনে সরকার তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো সময় আছে, দেয়ালের লিখন পড়ুন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
সরকার ক্ষমতা 'চিরস্থায়ী' করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে বলে দাবি করেন এম কে আনোয়ার। তিনি বলেন, 'আমরা বলে দিতে চাই, দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, জনগণ তা মেনে নেবে না।'
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপি নেতা আবু নাছের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবীর বেপারী প্রমুখ।

বিদ্যুতের দাম ছয় মাস পর ফের বাড়বে!

জ্বালানি তেল, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনার জন্য গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটিং কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল বুধবার পিডিবি ও বিপিডিসি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে। প্রস্তাবে গড়ে ১০ শতাংশ করে দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ছয় মাস পরপর এই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংস্থা দুটি। অব্যাহত লোকসানের কারণে এ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে।
পিডিবির বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটিং কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে পিডিবি ও বিপিডিসি গতকাল ১০ শতাংশ হারে আগামী ছয় মাস পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি।'
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর বিদ্যুতের চাহিদা ৮ থেকে ১০ শতাংশ করে বাড়ছে। বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পিডিবি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ভাড়াভিত্তিকের (রেন্টাল) পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন (আইপিপি খাত) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। এ কারণে পিডিবির ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল চার হাজার কোটি টাকা, এবার বেড়ে তা সাত হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়িয়েছে বিইআরসি।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দুই টাকা ৩৭ পয়সা থেকে ১১ শতাংশ বাড়িয়ে দুই টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই দাম গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ে গত ১ আগস্ট। সেবার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দুই টাকা ৬৩ পয়সা থেকে নির্ধারণ করা হয় দুই টাকা ৮১ পয়সা।
পিডিবির দাবি বিদ্যুৎ বিতরণে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় ছিল দুই টাকা ৬২ পয়সা। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় চার টাকা ১৫ পয়সা। চলতি বছর এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ইউনিটপ্রতি চার টাকা ৮৬ পয়সা। কিন্তু পিডিবি গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করছে দুই টাকা ৮১ পয়সা দরে। এ ক্ষেত্রে পিডিবি ইউনিটপ্রতি গচ্চা দিচ্ছে দুই টাকা পাঁচ পয়সা। এ কারণে গত বছর পিডিবির ক্ষতি হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বিইআরসির কাছে পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মোহাম্মদপুরে ১০২০ ফ্ল্যাট হবে

সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরে ১০২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার। এজন্য মোহাম্মদপুরের এফ ব্লকে ১৬ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন নির্মাণ করা হবে। ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮০০ বর্গফুট থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার বর্গফুট পর্যন্ত।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, 'মোহাম্মদপুর এফ ব্লকে সীমিত আয়ের লোকদের কাছে বিক্রির জন্য ১০২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৬ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নং-৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নামে ছয়টি ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 প্রতিটি ভবনে এক হাজার বর্গফুট আয়তনের ৬০টি ফ্ল্যাট থাকবে। এ ছাড়া ভবন নং ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ভবনের প্রতিটিতে ৮০০ বর্গফুটের ৬০টি করে ফ্ল্যাট থাকবে।
ভবনগুলো নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক অনুমোদনের জন্য আগামী রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উঠবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রস্তাব ছাড়াও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরো ১৪টি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উঠবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান 'বাংলাদেশে নদী ড্রেজিংয়ের জন্য ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়' প্রকল্পের আওতায় ড্রেজার কেনার জন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল ম্যাপিং পদ্ধতি ও জরিপ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় স্যাটেলাইট ইমেজ সেবা গ্রহণের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাবও উঠছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।
এ ছাড়া রেলপথ বিভাগের ভারতীয় এক বিলিয়ন ডলার ঋণের আওতায় 'বাংলাদেশ রেলওয়ের সংযোগ সড়কসহ দ্বিতীয় ভৈরব ব্রিজ ও দ্বিতীয় তিতাস ব্রিজ নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব, সড়ক বিভাগের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় 'সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প-২ (২য় সংশোধিত)' শীর্ষক অনুমোদিত প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের প্রস্তাবও উঠছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ফেরিঘাট সড়কে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৫৭৬ দশমিক ২১ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দরপ্রস্তাব ও অনুমোদনের জন্য উঠছে ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে।
আন্তর্জাতিক পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ২৫ হাজার টন চিনি আমদানি, মরক্কো ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় এক লাখ ২৫ হাজার টন টিএসপি আমদানি ও এক লাখ টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও উঠছে মন্ত্রিসভা কমিটিতে।
এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় মড্স জোন-৮ এলাকায় সমগ্র বাড্ডা, বারিধারা, শাহজাদপুর ও পাশের এলাকা এবং মড্স-৫ এলাকার আওতায় গুলশান, তেজগাঁও, নাখালপাড়া, তেজকুনীপাড়া, কাওরানবাজার, তেজতুরী বাজার ও পাশের এলাকার কাজে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে মহেশখালী-আনোয়ারা, জালালাবাদ-বিবিয়ানা-ধনুয়া ও আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ গ্যাস নির্মাণ প্রকল্প বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর আওতায় লাইনপাইপ সংগ্রহ করতে সর্বনিম্ন দরদাতার আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনা ও বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল ম্যাপিং সিস্টেম এবং জরিপ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্যাটেলাইট ইমেজ সেবা গ্রহণের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাবও উঠবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।




পাঁচ বছরের মধ্যেই ধসে পড়বে তাজমহল!

রুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাজমহল ধসে পড়তে পারে। তাজমহলের সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার একদল কর্মী এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ৩৫৮ বছরের পুরনো এ স্থাপনার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে এবং কয়েকটি অংশে ফাটল ধরেছে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যগুলোর একটি তাজমহল। একইসঙ্গে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। স্ত্রী মমতাজের স্মরণে মোঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্মাণ করা অনন্য এ স্থাপত্যকীর্তি দেখতে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ লোক ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আগ্রায় যায়।
তবে আন্দোলনকর্মীরা জানান, তাজমহলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদী দূষিত হয়ে পড়ায় ও শুকিয়ে যাওয়ায় তাজমহলের টিকে থাকার বিষয়টি হুমকির মুখে পড়েছে। শিল্পায়ন ও বন উজাড়ের বিরূপ প্রভাবও পড়েছে এর ওপর।
তাজমহলের মূল সমাধির কয়েকটি জায়গায় এবং এর চারপাশের চারটি মিনারে গত বছর কয়েকটি ফাটল ধরা পড়ে। তাজমহলের সংস্কারের দাবিতে ইতিমধ্যে ইতিহাসবিদ, পরিবেশবিদ ও রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। তাঁরা জানান, তাজমহল ধসে পড়ার মতো 'আবছা একটি সংকট' কাটানোর সময় ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীদের নেতা আগ্রার এমপি রামশঙ্কর কাঠেরিয়া বলেন, 'জরুরি ভিত্তিতে এ সংকট সামলানো না হলে, আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই তাজমহল ধসে পড়বে। বিশ্বের বিস্ময়কর এ স্থাপত্যটি উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করেছে। এর চারপাশের মিনারগুলোর নিচে কাঠের যে ভিত্তি আছে, পানির অভাবে সেগুলো শুকাতে শুরু করেছে। এ রকমটা চলতে থাকলে মিনারগুলোও ভেঙে পড়তে পারে। গত তিন দশকে কাউকেই তাজমহলের ভিত্তি পর্যন্ত নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সবকিছু যদি ঠিকই থাকে, তাহলে এতো লুকোছাপার কী আছে?'
তাজমহল সম্পর্কে বিশ্বের অন্যতম বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রাম নাথ বলেন, 'তাজমহল যমুনা নদীর ঠিক তীরেই অবস্থিত। কিন্তু সেই যমুনা এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। তাজমহলের নির্মাতারা কখনই এটা আন্দাজ করেননি। নদীটি তাজমহলের স্থাপত্য পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এ নদী মরে গেলে তাজমহলও বাঁচতে পারবে না।'
শিল্পায়নের কারণে যমুনা নদী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি নতুন রাস্তাঘাট তৈরির জন্য ব্যাপক হারে গাছকাটার ফলে দূষণও বেড়েছে। আগে গাছপালার বেষ্টনী ধূলিঝড়ের হাত থেকে তাজমহলকে রক্ষা করত। কিন্তু এখন সরাসরি ধুলোর ঝাপটা এসে তাজমহলের ওপর পড়ে। এমপি কাঠেরিয়া বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরেই তাজমহল ধুলোর চাদরে ঢাকা পড়ছে। আর প্রতিবছরই যমুনার পানি পাঁচ ফুটের মতো করে নিচে নেমে যাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিশূন্য হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।'
তাজমহলকে রক্ষার জন্য যমুনা নদীতে একটি বাঁধ তৈরিতে সাত কোটি ১০ লাখ পাউন্ডের মতো লাগতে পারে বলে জানান কাঠেরিয়া। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পানির লাইন বসিয়েও পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তবে আশার কথা হচ্ছে, তাজমহলকে রক্ষার জন্য ভারত সরকার বিশেষ একটি কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কর্মকর্তারা মিলিতভাবে এ ব্যাপারে কাজ করছেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হচ্ছে'

ন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বুধবার সকালে সফররত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য রুশনারা আলী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
এ সময় গণতন্ত্র ও সংসদীয় ব্যবস্থাকে জোরদার করতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সীমিত
সম্পদের মধ্যেও তাঁর সরকার জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে নদীব্যবস্থাপনাসহ নাব্যতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
জবাবে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন রুশনারা।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদ-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাবি কর্মকর্তারা
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আবাসনসহ তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা সাউথ সাউথ পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং জাতিসংঘে 'শান্তির মডেল' উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
জবাবে শেখ হাসিনা জানান, তাঁর সবই বাংলাদেশের জনগণের। তিনি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমস্যাগুলোর বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বই দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী আকবরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে।

মিরসরাইয়ের কান্না শুনে ছুটে এলেন মার্ক-ফিলিপ

মিরসরাই ট্র্যাজেডির কান্না দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছুঁয়ে গেছে বহির্বিশ্বের মানুষকেও। মিরসরাইয়ের শোকার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কষ্টে শামিল হতে তাই ছুটে এসেছেন মার্ক ও ফিলিপ নামের দুই বিদেশি যুবক। আবু তোরাব এলাকায় গিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। আরো কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করে তাঁরা শোকার্তদের মানসিক শক্তি অর্জনে সহায়তা করবেন।
মানুষের জীবনে রঙের প্রভাব কেমন_এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কাজ করছেন ইংরেজ মনোবিশ্লেষক মার্ক। ফিলিপ একজন উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মিরসরাই সদরে আলাপচারিতার সময় মার্ক ও ফিলিপ কালের কণ্ঠকে বলেন, মিরসরাই ট্র্যাজেডির ঘটনায় তাঁরা তখন থেকেই মর্মাহত। গণমাধ্যমে তাঁরা খবরটি পান। এর পরই সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশে আসার। কারণ তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, এমন অকাল মৃত্যু স্বজনদের কতটা অসহায় করে তুলতে পারে। তাই তাঁরা পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছেন।
মার্ক ওয়েন্টওয়ার্থের দেশ ইংল্যান্ড ও ফিলিপ দ্য মুরার দেশ পর্তুগাল। তবে তাঁরা একসঙ্গে ডায়নামিক হার্ট প্রজেক্ট নামের এক সংগঠন গড়ে তোলেন। এর আওতায় বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁরা স্থানীয়ভাবে সেবামূলক কাজ করেন। এরপর গত বছর তাঁরা নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে কাজ করেছেন অনাথ শিশুদের নিয়ে। দেশের বাইরে তাঁদের দ্বিতীয় কর্মসূচি বাংলাদেশের মিরসরাই ট্র্যাজেডির শোকার্তদের পাশে দাঁড়ানো।
এক প্রশ্নের জবাবে মার্ক বলেন, 'ঘটনার পর থেকেই সিদ্ধান্ত নিই, যে করেই হোক বাংলাদেশে নিহত শিশুদের শোকার্ত স্বজনদের পাশে দাঁড়াব। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিক স্বস্তি দিতে চেষ্টা করব।'
বন্ধু-সহপাঠী, আত্মীয়-পরিজন এবং নিজ কমিউনিটির মানুষদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন মার্ক ও ফিলিপ। ফিলিপ বলেন, 'আগামী ১২ অক্টোবর স্বদেশে ফিরে যাব। এ সময় পর্যন্ত যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এর সবটুকুই নিজেদের এবং অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা। অস্ট্রেলিয়া ও সাইবেরিয়া থেকেও কিছু বন্ধু সহায়তা করেছেন। আমাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপালের মানুষ আবারও সেই দেশে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।'
গতকাল সকালে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের একদল শিক্ষার্থী, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা অপ্কা, ইপসা, এওয়াক, মমতা, ঘাসফুল এবং এইউডিসির কর্মকর্তা ও কর্মীরা। আবু তোরাব এলাকায় গতকাল দুপুর থেকেই তাঁদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা মিরসরাইয়ে অবস্থান করবেন। এ সময় তাঁরা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের অভিভাবক, সহপাঠী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনোবৈকল্যের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে নানাভাবে কাজ করবেন।
মিরসরাই ট্র্যাজেডির স্মৃতিবাহী সেই ডোবার পাশে তাঁরা নীরবে বসে ছিলেন কিছুক্ষণ। সেই অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তাঁরা বলেন, 'কী করে এমন দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না। সেখানে গিয়ে সেদিনের দুর্ঘটনার কথা ফের স্মরণ হয়ে গেল।'
নেপালে যুদ্ধ চলাকালে যেসব শিশু পথশিশু হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় মা-বাবা সন্তানদের ফেলে রেখে চলে গেছেন, ওই সব এতিম শিশুকে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কাঠমাণ্ডুতে। সেখানকার পরিস্থিতি থেকেও মিরসরাইয়ের আবু তোরাবের দৃশ্যপট আলাদা বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। আজ দিনভর গ্রুপভিত্তিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকাহত অভিভাবকদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।
গত চার দিন ধরে চট্টগ্রামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী, স্থানীয় নানা এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাসহ ২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন মার্ক ও ফিলিপ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাও আবু তোরাবে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

রামমোহন রায় লাইব্রেরি নিয়ে ত্রিমুখী রশি টানাটানি

রকারের এক কর্তৃপক্ষ বলছে, জরাজীর্ণ ভবনটি বিপজ্জনক। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে। আরেক দপ্তর বলছে, পুরনো ভবনটি মহামূল্যবান। এর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ভবনটি রক্ষা করতে হবে। সরকারেরই আরেক অফিস বলছে, স্থাপনাটি অতি সাধারণ মানের। তার মধ্যে প্রত্নতাত্তি্বক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। এই হচ্ছে ঢাকার প্রথম গণগ্রন্থাগার হিসেবে স্বীকৃত ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ভবনের বর্তমান অবস্থা। ১৪০ বছরের পুরনো এ পাঠাগারটির সঙ্গে
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, শামসুর রাহমানসহ আরো অনেক খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে পাঠাগার ভবনটি নিয়ে ত্রিমুখী রশি টানাটানির ফলে ঢাকা ব্রাহ্মসমাজও দ্বিধাবিভক্ত। এ পরিস্থিতিতে লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
এরই মধ্যে ভবটির পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। ভবনের কোথাও কোথাও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইব্রেরি ভবনটি প্রায় ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। ভবনের ভেতরে থাকা হাজার হাজার পুরনো ও দুষ্প্রাপ্য বই, জার্নাল ও পত্রপত্রিকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাইনবোর্ড টানিয়ে পথচারীদের উদ্দেশে প্রচার করা হয়েছে বিপজ্জনক ভবনের সর্তকবাণী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটুয়াটুলীতে ঢাকা ব্রাহ্মসমাজ ফটকের পূর্ব পাশে দোতলা লাইব্রেরি ভবনটি কোনো রকম দাঁড়িয়ে আছে। ব্রাহ্মসমাজের ভানু বলেন, বিপজ্জনক ভবনটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত বলে যে কোনো সময় তা ধসে পড়ে লোকক্ষয় কিংবা সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।
জানা যায়, যেকোনো সময় রাস্তার ওপর ধসে পড়তে পারে এ আশঙ্কায় রাজউক ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল ভবনটিকে পুরনো, নকশাবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠায়। একপর্যায়ে রাজউক কারণ দর্শানো নোটিশ ও চূড়ান্ত নোটিশ দেয়। এরপর রাজউকের অথরাইজড অফিসার-১ স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাত দিনের মধ্যে ওই ভবন ভেঙে ফেলার তাগিদ দিয়ে বলা হয়, তা না করা হলে ইমারত বিধিমালা সংশোধনী অ্যাক্ট নম্বর-১২/১৯৮৩ এর ৩ ধারার ৭ উপধারা মোতাবেক ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে এবং তার খরচ পাঠাগার কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙা হয়নি বলে ২০০৫ সালের ২৫ মে অনুরূপ আরেকটি চিঠি দিয়ে একই কথা জানানো হয়।
এ পর্যায়ে পুরনো লাইব্রেরি ভবন এবং একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্রাহ্মসমাজ ছাড়াও পুরান ঢাকার সুধী মহল থেকে নানা তৎপরতা চালানো হয়। ২০০৫ সালে স্থাপনাটি রক্ষা এবং লাইব্রেরি চালু রাখার জন্য ব্রাহ্মসমাজের আচার্য ও ট্রাস্টি প্রাণেশ সমাদ্দার উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন (নম্বর-৩৭৭৯) দাখিল করেছিলেন। তিনি উচ্চ আদালতের কাছে লাইব্রেরি ভবনটি পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণের আবেদন করেন। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা রবীন ঘোষ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদনপত্র দিয়ে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরি ভবনটি রক্ষার দাবি জানান। এতে সাড়া দিয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক একটি প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শফিকুল আলম সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে বলা হয়, পুরাকীর্তি আইনের আওতায় এ নিদর্শনটি প্রাচীন কীর্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না। তা পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণেরও উপযোগী নয়। ওই বছরই ডিসিসি এক চিঠিতে বলে, রাজউকের করা ঢাকার ঐতিহাসিক এবং নান্দনিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৯৩টি স্থাপনার মধ্যে এই লাইব্রেরিটিও রয়েছে।
ব্রাহ্মসমাজের সাধারণ সম্পাদক রণবীর পাল রবি বলেন, রাজউকের পত্রবাণে আক্রান্ত হয়ে তাঁরা ওপর মহলে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সহযোগিতা না পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন, বিপজ্জনক ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন একটি লাইব্রেরি কমপ্লেঙ্ ভবন গড়ে তোলা হবে। ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি কমপ্লেঙ্ ভবন নামে একটি নতুন বহুতল স্থাপনা নির্মাণের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রাথমিক কাজকর্ম শুরু করে। কিন্তু এরই মধ্যে আচমকা ভবনটিকে ঐতিহাসিক ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয় রাজউকের নগর উন্নয়ন কমিটি।
ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) থেকে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা নগরে রাজউকের মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ঐতিহাসিক এবং নান্দনিক তালিকায় যে ৯৩টি স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে, এর মধ্যে ব্রাহ্মসমাজের আওতাধীন রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরির নাম রয়েছে। ওই বছরেরই ১৫ অক্টোবর ডিসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন ছাড়া তালিকাভুক্ত স্থাপনার আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ, পুনর্নির্মাণ ও পরিবর্ধন করা যাবে না। ব্রাহ্মসমাজের নেতারা জানান, নানা জটিলতার কারণে লাইব্রেরি ভবনটি তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে।
ব্রাহ্মসমাজের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে জানমালের ক্ষতি হতে পারে। আইনি জটিলতার কারণে ভবনটি সংস্কার করতে তাঁরা যেমন পারছেন না আবার ভবন ভেঙে সেখানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করতেও পারছেন না। শাঁখের করাতের মতো অবস্থা।
সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, নগর উন্নয়ন কমিটি শুধু ব্রাহ্মসমাজের লাইব্রেরি ভবন নয়, রামকৃষ্ণ মিশন পর্যন্ত সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। অথচ এ তালিকা করার আগে ওই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেউ সামান্যতম আলোচনা পর্যন্ত করেনি। গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এ তালিকার কথা তাঁরা জানতে পারেন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং অর্থায়নে ব্রাহ্ম মন্দির, লাইব্রেরি ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা সংস্কার এবং নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এসব স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কেও তারা ওয়াকিবহাল। নগর উন্নয়ন কমিটি তাদের অজান্তে সেসব স্থাপনা পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আইনগত অধিকার সম্পর্কেও ব্রাহ্মসমাজ প্রশ্ন তুলেছে।
এ ব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্টি বি কে দাস বলেন, যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আগে তাদের মতামত নেওয়া দরকার। কারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিরীতিতে চলে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয় সে রীতিনীতির ওপর নির্ভর করে।
নগর উন্নয়ন কমিটির তালিকায় স্থাপনাটির নাম অন্তর্ভুক্ত করায় বিভিন্ন মহল থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানের এবং ধর্মীয় স্থাপনা ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে একাধিক প্রত্নতত্ত্ববিদ কালের কণ্ঠের কাছে অভিমত প্রকাশ করেছেন। যার কারণে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের বেশ কিছু স্থাপনা পুরাকীর্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন আরো কয়েকটি স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে দেশের প্রখ্যাত পুরাতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, 'দেশের পুরাকীর্তি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কিংবা রাজউকের ভাবার কথা নয়। তারা ভাবলে দেশে প্রত্নতত্ত্ববিদ কিংবা ঐতিহাসিকরা রয়েছেন কেন?'
১৯৫১ সালে প্রকাশিত শ্রী বঙ্গবিহারি করের লেখা পূর্ববঙ্গের ব্রাহ্মসমাজের ইতিবৃত্ত বইয়ে পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠা সাল ১৮৬৯ উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য পাঠাগার ভবনের গায়ে উৎকীর্ণ করা আছে ১৮৭১ সাল। জানা যায়, ১৮৭১ সালে পাঠাগারটি নতুন ভবনে স্থানান্তর করার সময় রাজা রামমোহনের নামের এর নামকরণ করা হয়। স্থানান্তরের সালটিই ভবনের গায়ে লেখা আছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঠাগারটি অবস্থিত। ১৯১০ সালে পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন প্রথম ভারতীয় প্রিভি কাউন্সিলর এবং প্রথম আইসিএস স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্ত (স্যার কেজি গুপ্ত)।

এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আইন অবশেষে চূড়ান্ত

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। 'ডাইরেক্ট সেল আইন-২০১১' নামের এই আইনের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এটি পাস হতে পারে। এটি পাস হলে এ আইনের আওতায়ই পরিচালিত হবে দেশের এমএলএম ব্যবসা।
আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে গতকাল বুধবার আইনটির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে কমিটি।
খসড়ায় আইনের বিভিন্ন ধারায় সর্বমোট ৪০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আইন অমান্যকারী কম্পানির লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করাসহ ওই কম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারের মালিকানায় নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত।
দেশের এমএলএম কম্পানিগুলো পরিচালনার জন্য কোনো আইন বা নীতিমালা নেই। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে কম্পানিগুলো অদৃশ্য বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রায়ই আত্মসাৎ করছে। কোনো কোনো এমএলএম কম্পানির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার করার অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রথমে নীতিমালা ও পরে আইন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এর খসড়া চূড়ান্ত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মর্তুজা রেজার সভাপতিত্বে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি ছাড়াও খসড়া প্রণয়ন কমিটি নামে আরেকটি কমিটি কাজ করেছে। অতিরিক্ত সচিব এম মর্তুজা রেজার সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যতম এক সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটির বিবেচনায় খসড়াটি চূড়ান্ত। তবে এ নিয়ে শেষ মুহূর্তে এমএলএম কম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারুক খান এ ব্যাপারে বলেন, এর সংশোধনী চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসেই তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি পরিদপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শাস্তি হিসেবে আইন লঙ্ঘনকারীর ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়ার ষষ্ঠ অধ্যায়ে 'অপরাধ দণ্ড'তে বলা হয়েছে, কতগুলো ক্ষেত্রে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে অবস্তুগত বা অলীক পণ্য, স্থাবর সম্পত্তি ও বৃক্ষ। কমিশন বা বোনাস হিসেবে কোনোরূপ শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয়, সঞ্চয়পত্র, বোনাস স্কিম, কিস্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বা সঞ্চয় বা বিলিবণ্টন এমনকি লটারির টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া প্লাটিনাম, স্বর্ণ, ব্রোঞ্জ, পারদ, হাইড্রো কার্বন, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, স্পর্শকাতর রাসায়নিক পদার্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক, ধাতব মুদ্রা, অশ্লীল ছবির ফিল্ম, সিডি, ভিসিডি; উগ্র মৌলবাদী বই, ফিল্ম, সিডি, ভিসিডি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী বা ধর্ম বিকৃতকারী বই, প্রচারপত্র, ফিল্ম, সিডি ও ভিসিডি বিপণন নিষিদ্ধ। এসব পণ্য ও সেবা বিপণন করলে সংশ্লিষ্ট কম্পানির দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী, এমএলএম কম্পানিগুলোর বিপণনের পণ্য মোড়কজাত করা বাধ্যতামূলক। কোনো কম্পানি পণ্যে মোড়ক ব্যবহার না করলে দুই বছর থেকে তিন বছরের কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। মোড়কের গায়ে পণ্যের ওজন, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো পণ্যের মোড়কে এসব তথ্যের একটি বা তার বেশি তথ্য না থাকলে ওই পণ্য বিক্রয়কারী ব্যক্তিকে কমপক্ষে দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেলসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করলে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, 'কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে এই আইনের কোনো বিধান ভঙ্গ হইতে পারে, এরূপ জালিয়াতি ডাইরেক্ট সেল কম্পানির বহু স্তর বিপণন কার্যক্রমের কোনো স্তরের কোনো কর্মী বা সদস্য যদি ঐ পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক, মুদ্রণ বা অন্য কোনো প্রচারমাধ্যমে দ্বারে দ্বারে বিক্রয়, মেইল অর্ডারে বিক্রয় বা অনুরূপ অন্য কোনোভাবে ঐ পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের প্রচারণা চালায় তাহা হইলে ঐ বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট কম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকসহ শীর্ষ ব্যক্তিগণ যাহারা কম্পানির স্বার্থে এইরূপ প্রচারণার মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের পৃষ্ঠপোষকতাকারী ব্যক্তিসহ যে স্তরে অবস্থানকারী সদস্য এইরূপ প্রচারণা চালাইবে তাহার সহিত যোগসূত্র আছে এইরূপ ঊর্ধ্বতন স্তরের সকল সদস্য এই আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।'
কোনো এমএলএম কম্পানি বা তার সদস্য মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো এমএলএম কম্পানি ধার্য করা দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কমপক্ষে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আর কোনো পণ্যের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর দায়ে দায়ী ব্যক্তিদের কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা খসড়ায় বলা আছে। এ ছাড়া নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের পণ্য ও সেবা বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেতা সরবরাহ না করার কারণে কোনো স্তরের সদস্য বা ক্রেতা-পরিবেশককে তার ওপরের স্তরের কোনো সদস্য বা ক্রেতা-পরিবেশক বা কম্পানি আর্থিক জরিমানা বা জামানত হিসেবে দেওয়া অর্থ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। এসব ঘটনার অভিযোগ পেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মামলা করতে পারবে এবং মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। এ অভিযোগে দোষী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হবে।
খসড়ার ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো এমএলএম কম্পানির সদস্য ওই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন বা মালিকানাধীন স্থানে যাওয়া ও অবস্থান করতে পারবে না। কম্পানির বিক্রেতাকে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ওই স্থান ত্যাগ না করলে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন। এ অপরাধে তাঁকে কমপক্ষে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জেল ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া এমএলএম ব্যবসায় নিয়োজিত কম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বার্ষিক লেনদেন ও অডিট প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসব কম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনে যেকোনো প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা ও আদেশ জারি করতে পারবে। এসব প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা ও আদেশের সম্পূর্ণ বা আংশিক ভঙ্গকারীকে কমপক্ষে ছয় মাস ও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করতে কোনো কম্পানি অসত্য বিজ্ঞাপন প্রচার করলে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
কোনো কম্পানি তার কোনো সদস্য, পণ্যের ক্রেতা বা পরিবেশককে এমন কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ করতে পারবে না যাতে তিনি ওই পণ্য না কিনলে তাঁকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া যাবে। এ ধরনের চুক্তি করলে সংশ্লিষ্ট এমএলএম কম্পানিকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। এ অপরাধে জড়িতদের কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া পণ্য বা সেবার বাস্তব উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওই ধরনের পণ্য ও সেবা পরিবেশনের নামে অর্থ আদায় করার দায়ে দোষীদের কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে।
খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা কোনো কম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করলে ওই কম্পানির সব সম্পদ সরকারের মালিকানায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো মামলা হলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কম্পানিটি অবরুদ্ধ ও ক্রোক করা হবে। এ ছাড়া আইন অমান্যকারীদের কমপক্ষে দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ার তথ্য অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর করাসহ এমএলএম ব্যবসাকে কাঠামোর মধ্যে রাখতে ডাইরেক্ট সেল পরিদপ্তর নামে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকবে। পরিদপ্তর এই ব্যবসা পরিচালনাকারীদের লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্সের কার্যকারিতা স্থগিত, বাতিল ও পুনর্বহাল করবে।