Tuesday, May 27, 2025
পবিত্র আল–আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র ইসরায়েলিদের হামলা
জেরুজালেমের পুরোনো শহরের অলিগলি ও মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকার ভেতর দিয়ে মিছিল করার সময় কিছু ইসরায়েলি ‘আরবদের মৃত্যু হোক’ ও ‘তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক’ বলে স্লোগান দেন।
১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। তখন থেকে শহরটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবছর ইসরায়েলে ২৬ মে জেরুজালেম দিবস হিসেবে উদ্যাপন করা হয়, যা একটি বার্ষিক ছুটির দিন। এই দিনের স্মরণে প্রতিবছর একটি মিছিল বের করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আগেভাগেই শত শত সশস্ত্র পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কারণ, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নিয়মিত মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকার দোকানপাট ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, নিপীড়ন ও হয়রানি করে থাকেন।
বসতি স্থাপনকারীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন বসতি ও ফাঁড়িতে বসবাস করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
গতকালও একদল ইসরায়েলি তরুণ ফিলিস্তিনি দোকানদার, পথচারী, স্কুলগামী শিশু, এমনকি ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। তাঁরা লোকজনের গায়ে থুতু ছিটান, গালাগাল করেন ও জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টা চালান। তাঁদের অনেকের হাতেই এ সময় ইসরায়েলি পতাকা ছিল।
ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির একজন সাংবাদাতা জানান, এ সময় পুলিশ অন্তত দুই যুবককে আটক করেছে।
মিছিলকারীদের একটি ছোট দল পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর একটি কার্যালয়য়ের প্রাঙ্গণেও ঢুকে পড়ে। এ দলে একজন ইসরায়েলি সংসদ সদস্যও ছিলেন।
ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএকে দেশটি ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে গাজা উপত্যকায় সংস্থাটির ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউএনআরডব্লিউএর পশ্চিম তীরের সমন্বয়কারী রোলান্ড ফ্রিডরিশ বলেন, ডজনখানেক ইসরায়েলি মিছিলকারী ইসরায়েলি পুলিশের সামনেই মূল ফটক বেয়ে ওই প্রাঙ্গণে ঢোকেন। তাঁদের মধ্যে ইউলিয়া মালিনোভস্কিও ছিলেন। তিনি ইউএনআরডব্লিউএকে নিষিদ্ধ করা একটি আইনের অন্যতম প্রণেতা।
গত বছর একই মিছিলে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা পুরোনো জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আর চার বছর আগে একই মিছিল গাজায় ১১ দিনের একটি যুদ্ধের কারণ হয়েছিল।
গতকাল সকালে ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অন্যান্য রাজনীতিবিদসহ দুই হাজারের বেশি ইসরায়েলি পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় আগ্রাসীভাবে ঢুকে পড়েন।
বেন-গভির তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে আল–আকসা প্রাঙ্গণ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের বিজয়, সব জিম্মির মুক্তি ও নবনিযুক্ত শিন বেতপ্রধান মেজর জেনারেল ডেভিড জিনির সাফল্যের প্রার্থনা করছি।’ এর আগেও সশস্ত্র পুলিশের সহায়তায় বেন-গভির আল–আকসা প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন।
আল–জাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলেন, এই মিছিলের লক্ষ্য হলো শহরের ওপর ইসরায়েলি আধিপত্য জাহির করা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের পুরোনো শহরের ভেতরে ইসরায়েলি নাগরিকেরা ফিলিস্তিনিদের দোকানে হামলা চালাচ্ছেন এবং তাঁদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন।
![]() |
| জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে পুরোনো জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে মিছিল করছেন উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলিরা। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হামাস, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল
গাজায় ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলি বাহিনী তাদের নিরলস বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার এবং অবরুদ্ধ ছিটমহলে ত্রাণ প্রবেশে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনগুলো সামনে এলো।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে যে শুধুমাত্র সোমবার ইসরাইলি হামলায় অনেক শিশুসহ কমপক্ষে ৮১ জন নিহত হয়েছে। আল জাজিরার সূত্র জানিয়েছে যে, হামাস এবং মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় এক বৈঠকে খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। তারা বলেছেন যে এর মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় আটক ১০ জন জীবিত বন্দীর মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির শর্তাবলী এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে প্রথম দিন থেকেই কোনও শর্ত ছাড়াই মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে, উইটকফ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে রয়টার্সকে বলেছেন যে হামাস বন্দী ও যুদ্ধবিরতির জন্য তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। উইটকফের ঘনিষ্ঠ একটি মার্কিন সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে যে হামাসের দাবি ‘ভুল’ এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর চুক্তি ‘হতাশাজনক’।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার কিম্বার্লি হ্যালকেট মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, টেবিলে থাকা প্রস্তাবটি ইসরাইলের সাথে কেবল একটি ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি’।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি রেকর্ড করা বার্তা জারি করেছেন, যেখানে গাজায় অবশিষ্ট ৫৮ জন ইসরাইলি বন্দীকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন এখনও জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলি নেতা প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে কোনও উল্লেখ করেননি। জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আল জাজিরার হামদা সালহুত জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য হামাসের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হামাস তাদের পক্ষ থেকে জানিয়েছে যে তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্তি দিতে ইচ্ছুক। তারা আরও বলেছে যে তারা গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে ইচ্ছুক, যেমনটি আরব লীগ-সমর্থিত ৫৩ বিলিয়ন ডলারের ছিটমহল পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি অস্ত্র জমা দিতে বা গাজা থেকে তাদের নেতাদের নির্বাসনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, বলেছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখল অব্যাহত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দাবি তারা মেনে নেবে না।
সূত্র : আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঙ্গোলিয়ার রাজনীতি উত্তাল: প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আশঙ্কা
মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছর বয়সী ছেলে তেনমুলেনি তার বাগদত্তাকে দামি ব্যাগ, হীরার আংটি এবং একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ উপহার দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এসব ছবি সামনে আসার পর সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে- এই বিপুল সম্পদের উৎস কী? একজন সরকারি কর্মকর্তার পুত্র এমন জীবনযাপন কীভাবে করতে পারেন? তীব্র মূল্যস্ফীতি, সম্পদের বৈষম্য এবং খনিজ সম্পদ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে জনগণের ক্ষোভ বাড়ছিলই। এখন তা এসে মূলত লুভসাননামসরাই-এর বিরুদ্ধে আস্থা হারানোর রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৯,০০০ জনের স্বাক্ষর-সহ একটি পিটিশনে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই আন্দোলন এবং বিতর্কিত লাইফস্টাইলের ইস্যুটিকে প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখের সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন। তারা চান, পার্লামেন্টের ক্ষমতা খর্ব করে খুরেলসুখ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারেন, যদিও বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট মাত্র একটি ছয় বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি লুভসাননামসরাই অনাস্থা ভোটে হেরে যান, তাহলে একজন নমনীয় প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করে পার্লামেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে খুরেলসুখ নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চাইবেন। খুরেলসুখ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মঙ্গোলিয়ায় আমন্ত্রণ জানান, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম স্ট্যাটিউটে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মঙ্গোলিয়ার দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সম্প্রতি তিনি মস্কোর ‘ভিক্টরি প্যারেড’-এ অংশগ্রহণ করায় আরও সমালোচিত হন। ওইউন-এর্দেন লুভসাননামসরাই নিজেকে দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তে সোপর্দ করেছেন। তবে এখনো জনসম্মুখে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি। ফলে জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন ওবায়দুল কাদের রেগে গেলেন
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকার দেন ওবায়দুল কাদের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এই প্রথম কোনো গণমাধ্যমে কথা বলেন কাদের।
ওই গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারের নানা বিষয় ধরে ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রশ্ন রাখেন নাজমুস সাকিব।
ইন্ডিয়ান গণমাধ্যমে আপনার (কাদের) একটা ইন্টারভিউ দেখলাম, খুব ভাইরাল হলো। ওটা নিয়ে একটু জানতে চাচ্ছিলাম। বলা হচ্ছে, ৫ই আগস্ট বাথরুমে আপনাকে নাকি পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। তারপর ছাত্রদের সহায়তায় আপনি প্রাণে বেঁচে যান-এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘এছাড়া কি উপায় ছিল?’
আপনি কি তাহলে বলতে চান যে, ছাত্ররাই আপনাকে রক্ষা করেছে? তখন কাদের বলেন, ‘হ্যাঁ এটাও তো ঠিক।’
কিন্তু অনেকে বলছেন, ওই সময় মানুষের মনে যে ক্ষোভ ছিল আওয়ামী লীগের প্রতি বা আপনাদের প্রতি। সে সময় ছাত্ররা আপনাকে রক্ষা করবে অনেকের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ওরা (ছাত্ররা) বলছিলো, আপনার প্রতি রাগ ছিল। কিন্তু আপনার সামনে এসে আমাদের রাগ পানি হয়ে গেছে।’
এরপর তো আপনি তিনমাস দেশেই ছিলেন? জবাবে কাদের বলেন, ‘হ্যাঁ ছিলাম।’
দেশ থেকে তাহলে গেলেন কীভাবে, ওখানে কারা আপনাকে সহযোগিতা করলো, এটা কি বলা যাবে?
পাল্টা প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, ‘এটা কি বলা যায়? তিনমাস পরে বাড়িতে বাড়িতে যেভাবে তল্লাশি, বাড়িতে বাড়িতে অভিযান, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে তল্লাশি..., তখন শরীরটাও একটু সমস্যায় পড়ছিল। অনেকগুলো ওষুধ খেতে হয়। আমি ভাবলাম অ্যারেস্ট হলে তো আমাকে ওষুধ খাওয়ানোর লোক নেই। অনেককিছু চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম ওখানে আর থাকবো না, এই আর কি।’
তিনমাস যে আপনি থাকলেন, এই সময়ে তো আপনি বুঝতে পেরেছেন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে মানুষের ক্ষোভ, এই ক্ষোভটাকে আপনি কি মনে করেন না যে যুক্তিযুক্ত ছিল, কারণ সাড়ে ১৫ পনের বছর যা করলেন?
জবাবে কাদের বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরে পদ্মা সেতুও তো আমরা করেছি। মেট্রোরেল তো আমরা করেছি। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েও তো আমরা করেছি।’
২০১৮ সালে রাতের ভোট, ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করলেন। এই যে জনগণের ভোটের অধিকারটা যে কেড়ে নিয়েছিলেন। আপনি কি মনে করেন না যে এটা আপনাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?
উত্তরে কাদের বলেন, ‘এগুলো আলোচনার অপেক্ষা রাখে! সেগুলো চর্চা করার বিষয় আছে। আমাদেরও একটা দৃষ্টিকোণ আছে। আজকে পৃথিবীর দেশে দেশে গণতন্ত্রের স্বরূপ সব জায়গায় একরকম নয়। আমাদের দেশে অপজিশনের যে চেহারা, সেখানে আমাদেরকে একটা ইলেকশন লিগ্যালি করতে হয়। সেটি আমরা করেছি। কিন্তু উন্নয়ন তো দেশের মানুষ যা চায়.... আজকে অপিনিয়ন পোল নেন, বেশিরভাগ লোক চায় শেখ হাসিনা আবার আসুক এবং শেখ হাসিনাকে আবার চাই। এ কথা আজ মানুষের মুখে মুখে। ইলেকশনটা হলে বুঝবেন।’
কিন্তু পাবলিক পারসেপশন হচ্ছে আপনি দেখেছেন, শেখ হাসিনা যদি সত্যিই ওই সিচুয়েশন থাকতো তাহলে দেশে থাকতেন। উনাকেতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এটা কি তার রাজনীতির জন্য একটা লজ্জাজনক অধ্যায় না?
জবাবে কাদের বলেন, ‘নো, আমি এটা মনে করি না। তখন তার বেঁচে থাকার প্রয়োজন ছিল। কারণ তাদের সেদিন প্ল্যানই ছিল তাকে কিল করবে।’
আচ্ছা বেগম খালেদা জিয়াও তো মারাত্মক শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু কই, উনি তো কম্প্রোমাইজ করেননি। উনি তো আপস করেননি। দেশেই থেকেছেন। তাকে চিকিৎসা করতে দেননি। কম্প্রোমাইজ করলে তাকে বিদেশে যেতে দিতেন। তিনি তো তা করেননি। কিন্তু আপনাদের নেত্রী তো কম্প্রোমাইজ করে ভারতে চলে গেলেন! জবাবে কাদের বলেন, ‘না, কম্প্রোমাইজ করে যাননি। তাকে (শেখ হাসিনা) বাঁচার দরকার ছিল। সে জন্য চলে আসছেন।’
কিন্তু আপনার কি মনে হয় না, আপনারা ওই সময়টাতে যখন শাসনভারে ছিলেন এমন সবকিছু...
কাদের বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে আপনারা অপিনিয়ন পোল নেন, মানুষ কাকে সমর্থন করে। আমি সে কথায় যাচ্ছি বারবার।’
আপনি (কাদের) যেহেতু আওয়ামী লীগ করেন, আপনি ভাববেন বা বিশ্বাস করেন...
কাদের বলেন, ‘আমি সে কথা ভাববো কেন। দেশের পাবলিক অপিনিয়ন কী এটা আপনি জানেন না?, এখন আপনি একটা দলের সমর্থক হলে তো জানবেন না। এটাই স্বাভাবিক। আপনি তো বায়াসড! হোয়েন ইউ আর এ বায়াসড অ্যাজ এ জার্নালিস্ট। আপনি ঢালাও অভিযোগ করছেন।’
সাংবাদিক বলতে কারা বায়াসড ছিল না? এই নাঈমুল ইসলাম খানের মতো লোকরা, শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে গিয়ে ভালো ভালো কথা বলতো। উত্তরে কাদের রাগান্বিতভাবে বলেন, ‘তাদের কথা বাদ। আপনি নিজেই তো বায়াসড। আমি সবার কথা তো বলছি না।’
আপনি (কাদের) নিজেও তো সাংবাদিকতা করেছেন, ‘আপনি জানেন সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন করা। আমি ওই প্রশ্নটাই আপনাকে করছি। জবাবে কাদের বলেন, ‘প্রশ্ন করে লাভ নেই। প্রশ্ন করে যেটা নেবেন সেটা লিখতে পারবেন না। কারণ আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি। সেটা আপনি প্রচার করতে পারবেন না।’
আপনাদের এখনো কি কোনো অনুশোচনা বা আত্মোপলব্ধি হয়েছে, মানে আপনারা যা করেছিলেন সেগুলো সঠিক ছিল না। সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের আত্মোপলব্ধি, আমাদের আত্ম-সমালোচনা থাকতে পারে এবং সেটা নিয়ে আমরা চর্চা করবো। যখন আমরা দেশে ফিরবো। সেখানে আলোচনা করে যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে ভুল স্বীকার করবো। সেটা দেশে, বিদেশে বসে নয়।’
কিন্তু দেশে যাওয়ার মতো বাস্তবতা আপনাদের কি হবে আদৌ হবে? কারণ আপনাদের নেতাকর্মীরা তো সবাই পলাতক, বেশিরভাগই, কাউকে তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দি সান রাইজেস এ... বাট ডিনাই... বিফোর। এই ইংরেজিটার বাংলা একটু আপনি ভাবেন। এই ধরনের অবস্থা থেকে উই ক্যান গেট আউট অব দিস...। এখন আমরা যে অবস্থায় আছি। উই ক্যান গেট আউট অব দ্য গ্যাটার। আমি সেটাই মনে করি।’
কিন্তু এই গ্যাটারে আপনারা পড়লেন কেন? কাদের বলেন, ‘আমি আপনাকে বলছি, মানুষ এখন কেন মনে করছেন-এমন আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, সেই ‘জঙ্গি’ উত্থানে। তারাও কেন এখন মনে করছে, তারা ভুল করেছে।’
তাই যদি হয়, মানুষ যদি আপনাদের পক্ষে থাকে তাহলে দেশে আসছেন না কেন? জবাবে কাদের বলেন, ‘সময় হলে দেখবেন।’
আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে। আপনাদের সময়তো অনেক ব্যবসায়ীক দুর্বৃত্ত তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তো আপনার কি মনে হয় না এই যে এতো সুসময়ের পাখি আপনারা তৈরি করেছিলেন যারা আপনাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া পত্রিকাকে কাজে লাগাচ্ছেন, কেমন লাগে আপনার কাছে? জবাবে রাগান্বিতভাবে কাদের বলেন, ‘আপনার এই চেহারাটা, বক্তব্যটা কোথায় যাবে? যদি আমরা ফিরে যাই। তখন তো আপনাকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। মানে কি আপনি কি আবার ওই প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন? যারা সমালোচনা করছেন?’
জবাবে কাদের বলেন, ‘হয়তো রিসেন্ট একটা রাজনৈতিক ক্যারেক্টার আছে সেটার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন।’ নাজমুস সাকিব বলেন, ‘না আমি সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে জাস্ট প্রশ্ন করছি।’
কাদের তখন বলেন, ‘ইউ আর নট আ জার্নালিস্ট, ইউ আর বায়াসড। পার্শিয়াল জার্নালিস্ট।’ নাজমুস সাকিব বলেন, ‘বায়াসড কে নয়। নাইমুল ইসলাম খানের মতো লোকেরা?’
কাদের বলেন, ‘জার্নালিজমের একটা নিউট্রালিটি থাকে। এইটা আপনার নাই। আপনিতো এটা করতেছেন একটা পক্ষ হইয়া। ইউনূসের লোকেরা যেভাবে বলে, ফান্ডামেন্টালিস্টরা আজকে যেভাবে আমাদের বিরুদ্ধে বলে, আপনি তাদের সেই চিন্তা চেতনার প্রতিধ্বনি করছেন। আমার সঙ্গে এ ধরনের কথা বলে লাভ কী! আর আমাদের দল নিষিদ্ধ। এখন আপনিতো এটা প্রকাশ করতে পারবেন না। দরকার কি আমার ইন্টারভিউ...।’
তবু জানতে চাই আপনার কী মনে হচ্ছে না জনগণের কাছে আপনার…।- উত্তরে কাদের বলেন, ‘জানার দরকার নাই। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু টক টু ইউ। আপনার প্রশ্নের মধ্যে তো আপনার পার্শিয়ালিটির প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। আপনি একটা পলিটিক্যাল ক্যাম্পের সাথে জড়িত। সেটার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। প্রশ্ন এভাবে করে না। একজন নিউট্রাল জার্নালিস্টের প্রশ্ন এইরকম হয় না।’
নাজমুস সাকিব বলেন, ‘শেষ প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই। তাহলে আপনারা কি কখনই জনগণের কাছে আপনাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইবেন না?’
উত্তরে কাদের বলেন, ‘আমি সে কথার জবাব দিয়েছি। শুনতে পাননি? আমরা যাই করবো দেশে গিয়ে করবো।’
ঠিক আছে আমরাও আপনাদের দেশে আসার অপেক্ষায় থাকলাম। আপনি ভালো থাকবেন। কাদের জবাবে বলেন, ‘তখন আর আপনাদের দেখা যাবে না।’
নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ও আচ্ছা আপনারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন। দেশে আসলে আমাদের একবারে শেষ করে ...।’
কাদের বলেন, ‘না আমরাতো করবো না। আপনি নিজেই পালাবেন। আপনি একটা জার্নালিস্ট, আপনি নিজেইতো...।’
নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আপনাকে কঠিন প্রশ্ন করার অপরাধে আমাকে দেশ ছাড়তে হবে, মানে ওই আগের বাংলাদেশটাই আপনারা...।
কাদের বলেন, ‘কঠিন প্রশ্ন না, শত্রুতামূলক প্রশ্ন, কঠিন প্রশ্ন না!’ নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আপনার আমার প্রশ্নকে শত্রুতামূলক মনে করছেন, কিন্তু আমি আসলে সাংবাদিক হিসেবেই আপনাকে প্রশ্নগুলো করলাম।’ সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন কাদের।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফরাসি প্রেসিডেন্টের গালে স্ত্রীর ‘চড়’: বয়সে ২৪ বছরের বড় ব্রিজিতের সঙ্গে মাখোঁর বিয়ের পেছনের সত্যিকার গল্প কী
সত্যি কথা হলো, পারিবারিক সুখ থাকলেই যে পেশাগত জীবনে সফলতা আসবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে ‘ইল ভনেই দাভোয়ার ডিজ-সেত আন’ (তাঁর বয়স তখন সবে সতেরো) বইয়ের লেখক, ফরাসি সাংবাদিক সিলভি বোমেল মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কেলেঙ্কারি বা বিতর্ক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের পদকে অনেক সময় হাস্যকর বা নাটকীয় করে তুলেছে। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী মাখোঁ এসব কিছুতে প্রভাবিত হননি।
তবে তা মানে এই নয় যে (ফরাসি প্রেসিডেন্টের) জীবনে কোনো বিতর্ক ছিল না। সিলভি বোমেলের লেখা বইটি সম্প্রতি ফ্রান্সে প্রকাশিত হয়েছে, যার জন্য পাঠকেরা অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কারণ, এতে এক ‘সাধারণ প্রেমকাহিনি’ বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, যার শুরু মাখোঁর স্কুলজীবনে। যেই স্কুলে মাখোঁ ছাত্র ছিলেন, সেখানেই শিক্ষকতা করতেন ব্রিজিত—যিনি পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী হন।
বইটিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে থাকা মাখোঁ যখন ব্রিজিতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তাঁকে নানা বিরোধিতা ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এক কিশোর ছেলের সঙ্গে তাঁকে দেখলে স্থানীয় সমাজে নানা সন্দেহ আর গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। তাঁর আত্মীয় ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই সম্পর্ক নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু এই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে মাখোঁ যে জেদ ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী লেখিকা। সমাজের চোখরাঙানি, আইনি জটিলতা আর বাস্তব সমস্যা—সব বাধা একে একে পেরিয়ে গেছেন মাখোঁ।
বোমেল মনে করেন, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের বিশৃঙ্খলা, চরম ডানপন্থার উত্থান আর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার মাঝেও প্রেসিডেন্ট মাখোঁ যেভাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন, তা সম্ভব হয়েছে তাঁর সেই একই ব্যক্তিত্ব ও মানসিক দৃঢ়তার কারণে। প্যারিসের শঁজেলিজের কাছে নেপোলিয়ন হোটেলের একটি ছোট রেস্তোরাঁয় আলাপচারিতায় বোমেল বলেন, ‘তিনি (মাখোঁ) জানেন তিনি কী চান, যা চান তা পেতে জানেন এবং তিনি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ।’
ব্রিজিত মাখোঁর চেয়ে বয়সে ২৪ বছর বড়। তাঁদের প্রথম দেখা হয় ফ্রান্সের আমিয়েঁ শহরের একটি বেসরকারি কলেজে—যেখানে ব্রিজিত ছিলেন ফরাসি ভাষার শিক্ষক আর মাখোঁ ছিলেন ছাত্র। তখন ব্রিজিত শহরের অভিজাত এলাকায় থাকতেন। তাঁর পরিবার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির ব্যবসার জন্য পরিচিত ছিল। তিনি তখন বিবাহিত ছিলেন, স্বামী ছিলেন নামকরা ব্যাংকার আন্দ্রে-লুই ওজিয়ের। লেখক বোমেল তাঁকে একজন ‘নির্ভরযোগ্য কিন্তু একঘেয়ে’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের সংসারে ছিল তিনটি সন্তান। বোমেল বলেন, ‘আমার মনে হয় না ব্রিজিত তাঁর সঙ্গে অখুশি ছিলেন। তাঁর জীবন ছিল নির্ঝঞ্ঝাট ও গোছানো। কিন্তু হঠাৎ করেই (মাখোঁর সঙ্গে) এই সম্পর্কটা তাঁর জীবনে চলে আসে।’
এখানে ‘এই’ বলতে বোঝানো হচ্ছে, সেই মেধাবী ছাত্র মাখোঁর প্রতি ব্রিজিতের আকর্ষণকে—যে তখন তাঁর স্কুলের নাট্যদলে অংশ নিয়েছিল, যেটি ব্রিজিত পরিচালনা করতেন। লেখক বোমেল জানান, তাঁদের সম্পর্কের শুরু ১৯৯৪ সালের বসন্তে। তখন মাখোঁর বয়স ছিল ১৬ বছর, আর ব্রিজিতের ৪০। দুজনে মিলে একটি নাটক নতুনভাবে সাজিয়েছিলেন, যাতে দলের সবাইকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া যায়। বোমেল বলেন, ‘কমপক্ষে তখন থেকেই মানুষ তাঁদের একসঙ্গে হাত ধরে হাঁটতে দেখত।’
এই সম্পর্ক আমিয়েঁ শহরের ক্যাথলিক মধ্যবিত্ত সমাজ ভালোভাবে নেয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক চিঠি আসে, যেগুলোর বেশির ভাগই ছিল বেনামি এবং তাতে শিক্ষিকা ব্রিজিতের আচরণকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়। এমনকি ব্রিজিতের পরিবারের কাছেও একই ধরনের কটূ ও বিরূপ চিঠি পাঠানো হয়েছিল। মাখোঁর মা–বাবাও সরাসরি ব্রিজিতকে বলেন, যেন তিনি তাঁদের ছেলেকে ছেড়ে দেন।
আইন অনুযায়ী, মাখোঁর মা–বাবা চাইলে বিষয়টি কৌঁসুলিকে জানাতে পারতেন এবং তা থেকে একটি তদন্তও শুরু হতে পারত। কারণ, ফরাসি আইনে কেউ যদি কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে কোনো নাবালকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তবে বাস্তবে মাখোঁর মা–বাবা, স্কুলের কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউই এ নিয়ে কোনো তদন্ত চাননি। এমনকি তাঁরা এটা জানার চেষ্টাও করেননি যে, ব্রিজিত আর মাখোঁর সম্পর্ক কেবল হাত ধরা পর্যন্ত ছিল কিনা। এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত, মা–বাবা মাখোঁকে প্যারিসে পাঠিয়ে দেন এই ভেবে যে সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক নিজে থেকেই শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু তা হয়নি। মাখোঁ সম্পর্কটা ভাঙেননি, বরং পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি ফ্রান্সের এক শীর্ষস্থানীয় কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন—একটি এমন প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৪৫ সাল থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিজাত ও নেতৃত্বস্থানীয় মানুষ তৈরি করে আসছে।
এদিকে ব্রিজিত তখনো ‘ম্যাডাম ওজিয়ের’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি সন্তানদের দেখভাল করতেন এবং বাইরের দুনিয়ায় তাঁর বৈবাহিক জীবনকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করতেন। তাঁর স্বামী আন্দ্রে-লুই ওজিয়ের বেশিরভাগ সময় কাজের কারণে বাড়ির বাইরে থাকতেন। যদিও সপ্তাহান্তে তিনি বাড়ি ফিরতেন, অনেক সময় দেখা যেত, ব্রিজিত তখন তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে বাইরে বেরিয়ে যেতেন। শেষ পর্যন্ত, ২০০৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং এর এক বছর পর ২০০৭ সালে ব্রিজিত মাখোঁকে বিয়ে করেন।
ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ফিলঁন ও তাঁর স্ত্রী পেনেলোপকে নিয়েও একটি বই লিখেছেন সাংবাদিক সিলভি বোমেল। মাখোঁ ও ব্রিজিতকে নিয়ে লেখা এই বই সম্পর্কে তিনি বলেন, ম্যাডাম মাখোঁর ‘অবিশ্বাস্য সাহস’ বোঝার জন্যই তিনি এ বই লিখেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, ব্রিজিতের প্রাক্তন স্বামী ওজিয়ের এসব ঘটনা কিভাবে দেখেছিলেন—বিশেষ করে যখন মাখোঁ ব্রিজিতের দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন, তখন ওজিয়েরের প্রতিক্রিয়া কী ছিল। বোমেলের ধারণা, ওজিয়ের সম্ভবত এতে খুশি ছিলেন না।
তবে লেখিকা বোমেল ওজিয়ের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য খুঁজে পাননি। বরং তাঁর ধারণা, মাখোঁর উপদেষ্টারা ইচ্ছাকৃতভাবে ওজিয়েরকে ইতিহাস থেকে, অন্তত অনলাইনে, মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেটা আমাকে সবচেয়ে অবাক করেছে, তা হলো—ইন্টারনেটে ওজিয়ের সম্পর্কে কোনো তথ্যই নেই। আমি মনে করি, মাখোঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় কেউ হয়তো ইচ্ছা করেই এসব তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন। অথচ ওজিয়ের ছিলেন ফ্রান্সের একটি বড় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর মতো একজন মানুষ সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকা সত্যিই বিস্ময়কর।’
বোমেল মনে করেন, ওজিয়ের ৬৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং এখন প্যারিসে থাকেন। হতে পারে, ওজিয়ের নিজেই এসব বিষয় গোপন রাখতে চেয়েছেন। ব্রিজিতের ছোট মেয়ে, ৩৫ বছর বয়সী টিফেন ওজিয়ের একবার বলেছিলেন, ‘তাঁরা ভালো আছেন, তবে একেবারে গোপনীয়ভাবে থাকতে চান।’
তবে বোমেল বিশ্বাস করেন না, ওজিয়ের এমন কিছু বলবেন যা তাঁর বইয়ের মূল বক্তব্যকে দুর্বল করে। তাঁর মতে, বইটির কেন্দ্রীয় তত্ত্ব হলো—মাখোঁ ও ব্রিজিত ১৯৯০-এর দশক থেকে অনেক বাধা ও সমালোচনা সত্ত্বেও একে অপরের প্রতি অনুগত থেকেছেন।
বোমেল বলেন, ‘তাঁরা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে একে অপরকে ভালোবেসে গেছেন, যদিও তখন একসঙ্গে থাকতেন না। এই সময় মাখোঁর একগুঁয়েমি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এটা তাঁর স্বভাবের অংশ। আপনি তাঁকে পছন্দ করুন বা না করুন, এই দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি ব্রিজিতকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তে তিনি কখনো নড়েননি।’
ব্রিজিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সম্পর্কের শুরুর দিকে তিনি অনেক ধিক্কার ও সামাজিক বর্জনের শিকার হন এবং এখনো মাঝে মাঝে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও অনেক ভোটার তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন—কারণ, তিনি নিজের চেয়ে দুই দশকের বেশি ছোট একজন পুরুষকে বিয়ে করেছেন। তবে অনেকে তাঁকে অপছন্দও করেন, কারণ তিনি ফরাসি সামাজিক রীতি ভেঙেছেন, যেখানে সাধারণভাবে নারীরা নিজের চেয়ে বয়সে বড় পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন।
সংবাদপত্রের মন্তব্য বিভাগে তাঁর সম্পর্কে প্রায়ই নেতিবাচক মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি এলিসি প্রাসাদে পাঠানো অনেক চিঠিতেও তাঁকে উদ্দেশ করে অপমানজনক কথা লেখা থাকে বলে জানান লেখিকা বোমেল।
বোমেল বলেন, ‘মাখোঁ তো ব্রিজিতের নিজের সন্তানের চেয়েও ছোট—এটাই অনেকের মনে এক ধরনের অবচেতনের অস্বস্তি তৈরি করে। কারণ, কেউ যদি এমন একজন ছেলের সঙ্গে প্রেম করেন, যিনি তাঁর নিজের ছেলের চেয়েও ছোট, তখন অনেকেই মনে মনে ভাবেন, এ তো নিজের ছেলের সঙ্গেও প্রেম করার মতো ব্যাপার। এটাই এই সম্পর্ককে ঘিরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে, যা মানুষকে নাড়া দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাঁদের সম্পর্কে ভয়ংকর সব লেখা পড়েছি। অনেকেই বলেন, এই জুটি বিকৃত মানসিকতার। এমনকি কেউ কেউ তো বিশ্বাসই করেন না, তাঁরা সত্যিই একসঙ্গে থাকেন।’
বোমেল বলেন, ‘আমি মনে করি, এসব প্রতিক্রিয়া আমাদের সমাজ সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। এটা দেখায়, আমাদের সমাজের একটা অংশ এখনো এমন ধরনের বৈচিত্র্যময় বৈবাহিক সম্পর্ক মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’
তাঁর মতে, এই মানসিকতাই হয়তো সেই সব গুজবের পেছনে রয়েছে, যেগুলো ছড়াতে শুরু করে ২০১৪ সালে, যখন মাখোঁ অর্থমন্ত্রী হন।
একটি গুজবে বলা হয়, মাখোঁ সমকামী। আরেকটি গুজবে দাবি করা হয়, তাঁর স্ত্রী আজীবন তরুণ ছেলেদের প্রেমে পড়েছেন। বোমেল বলেন, ‘সমকামী গুজব তো এক সময় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।’
তিনি জানান, এমনকি ফ্রান্সের দূরবর্তী গ্রামগুলোতেও তিনি শুনেছেন—লোকজন বলত, ‘আমি জানি, সে সমকামী।’
বোমেলের দীর্ঘ ও গভীর গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে ইলিসি প্রাসাদে কোথাও কোনো গোপন সমকামী প্রেমিক আছেন, বা কোথাও লুকানো কোনো “খেলনা বালক” রয়েছে। বরং তিনি নিশ্চিত, গত ৫০ বছরে এই প্রথম ফ্রান্স এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে, যিনি সত্যিই একটি সুখী দাম্পত্য জীবনে আছেন।
বোমেল বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে তিনি একটি স্থিতিশীল সম্পর্কে রয়েছেন, আর এটা মোটেই কোনো তুচ্ছ ব্যাপার নয়। আপনি বা আমি যদি কোনো বড় পারিবারিক সমস্যায় পড়ি, তাহলে তা আমাদের কাজে প্রভাব ফেলে। কিন্তু মাখোঁ তা হতে দেননি—তিনি পুরোপুরি তাঁর কাজে মনোযোগ দিতে পেরেছেন।’
মাখোঁকে ঘিরে আরেকটি গুজব রয়েছে—তিনি নাকি যৌনতার প্রতি আগ্রহহীন। বোমেলের বইয়ে একজন উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় মাখোঁর মধ্যে তরুণীদের প্রতি কোনো আকর্ষণ দেখা যায়নি, যা সেখানে কাজ করা অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে সাধারণ বিষয় ছিল।’
তবে বোমেল নিশ্চিত নন, মাখোঁ কি স্ত্রীর প্রতি এতটাই নিবেদিত যে অন্য কারও দিকে তাকানোর প্রয়োজনই অনুভব করেন না, নাকি সত্যিই তাঁর মধ্যে যৌন আকর্ষণের ঘাটতি রয়েছে।
তবু বোমেল মাখোঁকে তুলনা করেছেন ডমিনিক স্ট্রস-কানের একেবারে বিপরীত রূপ হিসেবে—যিনি আইএমএফের সাবেক প্রধান হিসেবে ধর্ষণ ও দেহব্যবসার অভিযোগে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে তিনি আইনি অভিযোগ থেকে মুক্তি পান, কিন্তু তাঁর ভাবমূর্তি আর আগের মতো ফিরেনি।
মাখোঁ সেই দিক থেকে একেবারেই আলাদা—নির্মল, নিয়ন্ত্রিত এবং কেলেঙ্কারিমুক্ত।
![]() |
| দুজনের সম্পর্ক শুরু হয় ১৯৯৪ সালের বসন্তে। তখন মাখোঁর বয়স ১৬, আর ব্রিজিতের ৪০ ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় বর্বরতার জেরে কূটনৈতিক সংকটে ইসরায়েল
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার আজ এমন এক কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে, যেখানে তার দীর্ঘদিনের পশ্চিমা সহযোগীরাও আর প্রকাশ্যে সমর্থনে এগিয়ে আসছেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর নেতানিয়াহুর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল নজিরবিহীন। বিশ্বজুড়ে নেতারা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারে সরব সমর্থন জানান।
কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট হয়। প্রাণহানি, খাদ্য সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং জরুরি সহায়তা বন্ধের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাতিল করে ইসরায়েল গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে এবং একই সঙ্গে খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন একে একে হারিয়েছে নেতানিয়াহু।
এ মাসের শুরুতে জিম্মিদের মুক্ত করতে ও যুদ্ধ বন্ধের একটি শান্তিচুক্তির সুযোগ এলেও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে গাজার কেন্দ্রীয় শহর রাফায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক চাপ আরও তীব্র হয়।
১৯ মে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, নেতানিয়াহু সরকার যদি এই জঘন্য আক্রমণ অব্যাহত রাখে এবং মানবিক সহায়তায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
এই বিবৃতির জবাবে নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দাবি করেন, এই তিন নেতা হামাসের পক্ষেই কাজ করছেন। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, যারা গণহত্যাকারীদের প্রতি নমনীয়তা দেখায়, তারা ইতিহাস, মানবতা ও ন্যায়বিচারের ভুল দিকে দাঁড়িয়ে আছেন।
ইসরায়েলের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন কমার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ফ্রান্স আগামী মাসে সৌদি আরবে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা হবে।
স্পেন ইতিমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলকে ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতা থেকেও ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তত ১৭ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাল্টাও শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েল সরকারের ভেতর থেকেও সতর্কবার্তা এসেছে। মার্চে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন—মানবিক সহায়তা বন্ধ করলে হামাস দুর্বল হবে না, বরং তা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বন্ধন ছিন্ন করবে। বাস্তবতা এখন সেটিই প্রমাণ করছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন,“আমরা ভয়াবহ কৌশলগত ভুল করেছি। এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবুও নেতানিয়াহু সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।
এই পরিকল্পনার অধীনে গাজার মানুষকে প্রথমে একটি তথাকথিত ‘মানবিক জোনে’ এবং পরে বিদেশে স্থানান্তর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল যদি এই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে আন্তর্জাতিক মিত্রতা আরও দ্রুত হারাবে এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতার দেয়াল আরও ঘনীভূত হবে।
ইসরায়েল আজ এমন এক কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তার অর্জনের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিত্র হারানো, সমালোচনার ঝড় এবং যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ইসরায়েল এখন কেবল যুদ্ধের নয়, কূটনীতির ময়দানেও এক অস্থিরতার মুখোমুখি।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি, রাজি নয় ইসরায়েল
সোমবার (২৬ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরা প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকোফের পক্ষ থেকে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়েছে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হামাস পর্যায়ক্রমে ১০ জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েল আংশিকভাবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে একইসঙ্গে ইসরায়েলি কারাগার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা অসংখ্য ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হবে। এই যুদ্ধবিরতির সময় শর্তহীনভাবে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি থাকবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই চুক্তির গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করবেন। তার দূত উইটকোফ যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া চুক্তি ইসরায়েলি সরকারের কাছে পাঠিয়েছেন এবং এখন তিনি তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, নেতানিয়াহু সরকার এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা একটি ভিন্নধর্মী যুদ্ধবিরতি চায়, যাতে প্রাথমিকভাবে জীবিত ও মৃত অর্ধেক জিম্মি মুক্তি পায় এবং পরবর্তী আলোচনায় স্থায়ী শান্তির রূপরেখা নির্ধারণ হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ উইটকোফ বলেন, ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে একটি মধ্যবর্তী পর্যায়ের চুক্তি চায়। তবে আমার মতে, বর্তমান প্রস্তাব হামাসের গ্রহণ করা উচিত। এটি একটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দিচ্ছে।
হামাসের ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও ইসরায়েলের অনীহা গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আপাতত বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এখনও চলছে, আর আন্তর্জাতিক মহল এ যুদ্ধে একটি মানবিক বিরতি চায়।
![]() |
| ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিহত মাদ্রাসা শিক্ষককে ‘সন্ত্রাসী’ বানাল ভারতীয় মিডিয়া
তারই এক করুণ উদাহরণ কাশ্মীরের পুঞ্চ শহরের বাসিন্দা এবং সম্মানিত মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল। ৭ মে সকালে সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলির সময় নিহত হন মোহাম্মদ ইকবাল। পুঞ্চের জিয়া-উল-উলূম মাদ্রাসায় দুই দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানালেন, নিহত হওয়ার আগেই রাতভর পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় পরদিন সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় ইকবাল নিহত হন।
তবে ইকবালের মৃত্যুর পর পরিবার যখন শোক ও দাফন-কাফনে ব্যস্ত, তখন কিছু ভারতীয় টিভি চ্যানেল তাকে সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করে বিভ্রান্তিকর প্রচার শুরু করে। ভাই ফারুক আহমেদ বলেন, আমার ভাই একজন নিরীহ শিক্ষক ছিলেন। তারা তার দাড়ি-টুপি দেখে তাকে সন্ত্রাসী বলেছে। আমরা তাকে হারিয়েছি, তার ওপর মিডিয়া অপমান করেছে—এটা আমাদের ক্ষতে লবণ ছিটানোর মতো।
জি নিউজ, এবিপি, নিউজ ১৮-এর মতো ভারতের নামি কিছু চ্যানেল দাবি করে যে ইকবাল ‘পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ভারতীয় অভিযানে নিহত হয়েছেন।’ এমনকি তার ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, তিনি পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিলেন।
পরিবার তখনও জানত না যে মিডিয়ায় কী প্রচার চলছে। হঠাৎ এক আত্মীয় হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও পাঠান, যেখানে দেখা যায়—একটি চ্যানেল দাবি করছে, ভারতীয় সেনারা একজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে, আর স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে ইকবালের ছবি।
এই অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ ইকবালের ভাই বলেন, আমরা তো কাশ্মীরেই থাকি, আমাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে পুঞ্চে বসবাস করছে। তারা কীভাবে বলে যে আমার ভাই পাকিস্তানে থাকত?
ভারতের সংবাদমাধ্যমে এই গুজব এত দ্রুত ছড়ায় যে, পরদিন—৮ মে—পুঞ্চ জেলা পুলিশ বাধ্য হয় একটি স্পষ্ট বিবৃতি দিতে। বিবৃতিতে জানানো হয়, মাওলানা মোহাম্মদ ইকবাল সীমান্তে গোলাবর্ষণে নিহত হয়েছেন। তিনি একজন সম্মানিত ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন এবং তার কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই। পুঞ্চ পুলিশ এই মিথ্যা প্রচারের তীব্র নিন্দা জানায়।
তবে এরপরও বেশির ভাগ টিভি চ্যানেল এই ভুলের জন্য ক্ষমা চায়নি। শুধু নিউজ১৮ পরিবারটির কাছে ভুল তথ্য প্রচারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। অন্য কেউ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষোভ আর অপমানের বহিঃপ্রকাশ নয়—এটি ভারতীয় মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নগ্ন উদাহরণ। নিউজলন্ড্রি-র সম্পাদক মনীষা পাণ্ডে বলেন, রেটিংয়ের প্রতিযোগিতায় পড়েই মিডিয়াগুলো যাচাই না করেই খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে—যেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। একজন নিরীহ নাগরিক, বিশেষ করে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এমন মিথ্যা রটানো মানবিকতার চরম অবমাননা।
কাশ্মীর পরিস্থিতি জটিল, সেনা সংঘর্ষ চলছেই—কিন্তু সেই সঙ্গে যদি তথ্য যুদ্ধেও নিরীহরা প্রতিনিয়ত অপমানের শিকার হয়, তবে তা শুধু সাংবাদিকতার ব্যর্থতাই নয়, এক ধরনের নীরব সহিংসতাও বটে।
সূত্র : বিবিসি
![]() |
| মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় শিশুরা ক্ষুধায় মরছে, আমরা কী করছি by রিয়ানন লুসি কসলেট
অনেক সময় এসব ছবি আমি স্কিপ করে দিই। কারণ, ভীত হই সামনে আরও কী দেখা যাবে। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, এগুলো দেখাই আমার দায়িত্ব। আমি যেন এসব অন্যায়ের সাক্ষী না হয়ে থাকতে পারি না।
আমরা যারা নিরাপদে–আরামে আছি, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার শিশুদের দুঃখজনক অবস্থা দেখি। আর পাশেই চোখে পড়ে হাসিখুশি মানুষের ছবি, মজার মিম। তখন গাজার শিশুরা আরও বেশি বাস্তব হয়ে ওঠে। কারণ, তারা হতে পারত আমাদের সন্তানের মতোই, যদি জন্ম হতো অন্য কোনো জায়গায়।
অনেক মানুষ চেষ্টা করছেন কিছু করার—কেউ রাজনৈতিক নেতাদের চিঠি লেখেন, কেউ দান করেন, কেউ প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন, তবু গাজার শিশুদের ওপর যুদ্ধ থামছে না। আমরা অসহায় বোধ করি। প্রতিদিন নতুন খবর আসে, অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১৪ হাজার নবজাতক মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। এটি কোনো সাধারণ খাদ্যসংকট নয়, বরং ইচ্ছাকৃত—যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে শত্রুকে দুর্বল করতে। এটা যেন গণহত্যার একটা পদ্ধতি।
যখন আমরা এত ভয়াবহ ঘটনা দেখি, কিন্তু কিছুই করতে পারি না, তখন আমাদের মনে নৈতিক আঘাত বা মোরাল ইনজুরি তৈরি হয়। এটার মানে হলো, আমাদের মূল্যবোধ ও আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার সাংঘর্ষিক অবস্থায় আমরা মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি।
শব্দটি আমি প্রথম শুনেছিলাম কোভিডের সময়, যখন ডাক্তার-নার্সরা বলেছিলেন, তাঁরা রোগীদের বাঁচাতে পারছেন না প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কারণে। তাঁদের মনে অপরাধবোধ আর দুঃখ জমে যায়।
এখন এই একই অনুভূতি আমাদের অনেকের মধ্যেই জেগে উঠছে—বিশেষ করে যখন দেখি গাজার শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কাঁদছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না। এটা শুধু মানবিক দুর্দশা নয়, সমাজের জন্যও এক বড় ধাক্কা। যদি আমরা এসব দেখে নীরব থাকি, তাহলে তা আমাদের ভেতরে ধ্বংস ডেকে আনে।
গাজার চিকিৎসক ও সাহায্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি এই মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন মানুষকে বাঁচাতে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার ও যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন।
কাঁদতে থাকা মাকে সাহায্য করতে না পারা, আহত শিশুকে সঠিক চিকিৎসা না দিতে পারা—এই ব্যর্থতা তাঁদের মনের গভীরে ক্ষত তৈরি করে। গাজার মা–বাবার জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর কষ্ট হলো নিজের সন্তানকে ক্ষুধায় কাঁদতে দেখে কিছু করতে না পারা।
এই অসহায়তা আমাদের মন ও মূল্যবোধে একটি ভারী বোঝা নিয়ে আসে, যেটা আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি না। এত বড় অন্যায়ের সাক্ষী হয়ে কিছু করতে না পারার যন্ত্রণা আমাদের সমাজে কী প্রভাব ফেলবে? হয়তো এটি আমাদের অনুভূতির জায়গাকে ভেঙে দিচ্ছে।
আমার মা আমার জন্মের পর খবর দেখা বন্ধ করেছিলেন। কারণ, তিনি এসব সহ্য করতে পারতেন না। আমি এখন মা হওয়ার পর অনেক সময় ভাবি, আমার সন্তানকে এই ভয়ানক পৃথিবীর বাইরে রাখাই ভালো। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে খবর আমাদের চোখের সামনে; দূরে থাকা যায় না।
রাতের অন্ধকারে আমি আমার ছেলেকে ঘুম পাড়াই, ভরা পেটে আরামদায়ক পায়জামায়। চুপচাপ কেঁদে যাই সেই শিশুদের কথা ভেবে, যাদের কেউ আদর করে শুইয়েও দিচ্ছে না। আমার ছেলে দুধ খেতে ওঠে, আমি দুধ গ্লাসে ঢালি। চারপাশে পাখির ডাক—বোমার শব্দ নয়।
আমার ছেলের নিরাপত্তা আর গাজার শিশুর ভয়াবহ অবস্থা আমাকে অন্যায় ও অশ্লীল মনে হয়। এটি কি একধরনের মানসিক আঘাত নয়? যখন আপনি ছোট শিশুর সঙ্গে সময় কাটান, তাদের সরলতা দেখে, আর অন্য কোনো শিশুর ওপর নির্যাতন দেখলে মনে হয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপমান।
আমার ছেলের নিরাপত্তা আর গাজার শিশুর ভয়াবহ অবস্থা আমাকে অন্যায় ও অশ্লীল মনে হয়। এটি কি একধরনের মানসিক আঘাত নয়? যখন আপনি ছোট শিশুর সঙ্গে সময় কাটান, তাদের সরলতা দেখে আর অন্য কোনো শিশুর ওপর নির্যাতন দেখলে মনে হয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপমান।
শুধু মা-বাবাই নয়, যেকোনো ভালোবাসাপূর্ণ মানুষ এসব দেখে দুঃখ পায়। শিশুদের রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব, যা দেশের সীমানার বাইরে যায়।
কিন্তু এত বড় অন্যায় দেখে কিছুই করতে না পারার যন্ত্রণা আমাদের বিশ্বাসে ফাটল ধরায়। আমরা ভাবতে শুরু করি—এই দুনিয়ায় ন্যায়ের জায়গা আছে তো?
● রিয়ানন লুসি কসলেট দ্য গার্ডিয়ান-এর একজন কলাম লেখক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া ইংরেজির সংক্ষেপিত অনুবাদ
![]() |
| কেউ দান করেন, কেউ প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন, তবু গাজার শিশুদের ওপর যুদ্ধ থামছে না। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় খাবারের খোঁজে ‘রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে’ ক্ষুধার্ত শিশুরা
সংস্থাটির মানবিক পরিচালক র্যাচেল কামিংস বলেন, ‘প্রতিদিন আমি দেখি, খাবারের খোঁজে খালি পাত্র হাতে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে শিশুরা। একটু পানির জন্য বোতল নিয়ে ছুটতে তারা। মায়েরা আমাদের বলেছেন, কীভাবে তাঁরা সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়ছেন; সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়বে জেনেও কীভাবে তাঁরা তাদের ক্ষুধা মেটাতে নোংরা পানির সঙ্গে ঘাসপাতা মিশিয়ে খাওয়াচ্ছেন।’
গত ২ মার্চ থেকে উপত্যকাটিতে খাবার-পানিসহ সব ধরনের জরুরি পণ্য প্রবেশ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এ কারণে সেখানে খাবারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ১১ সপ্তাহ অবরোধের পর সম্প্রতি সীমিত আকারের খাবার প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও, তা ঠিকমতো হাতে পাচ্ছেন না গাজাবাসী। খাবারের অভাবে উপত্যকাটির অনেক ত্রাণ সরবরাহকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
গাজায় প্রতিদিন অন্তত ৫০০ ট্রাক করে ত্রাণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে রোববার ইসরায়েলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সেদিন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ১০৭ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করেছে। এসব ট্রাকের কয়েকটি লুট হয়েছে জানিয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, মানুষের ক্ষুধা নিরসনে ইসরায়েলকে আরও দ্রুত ও বেশি পরিমাণে ত্রাণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।
ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজা কেবল বাইরের ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। সেখানকার বাসিন্দারা চাষাবাদও করতেন। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট কেন্দ্র (ইউএনওএসএটি) ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত মাস পর্যন্ত গাজার ১৫ হাজার ৫৩ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৩৭ হেক্টরই ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি মোট কৃষিজমির ৮০ শতাংশের বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে সেভ দ্য চিলড্রেনের মানবিক পরিচালক র্যাচেল কামিংস আল-জাজিরাকে বলেন, ‘গাজায় একটি যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন, যাতে আমরা সবচেয়ে বিপদে থাকা এই মানুষ ও শিশুদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারি।’
এদিকে আজও গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা নগরীর ফাহমি আল-জারজাউই স্কুলে হামলা হলে ৩৬ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনই শিশু। ওই স্কুলটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অসহায় ফিলিস্তিনিরা। এ নিয়ে উপত্যকাটিতে ৫৩ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
![]() |
| গাজায় ত্রাণ সরবরাহকেন্দ্রে খাবার নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে এক শিশু। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর: কুকুর লেজ নাড়ছে, নাকি লেজ কুকুরকে by সামি আল-আরিয়ান
সফরের আগে ট্রাম্প হুতিদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা করেন। ওই সমঝোতায় ইয়েমেনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধের কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার অনুমতি দেন। সে আলোচনায় একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বন্দিমুক্তির বিনিময়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের দিক থেকে স্পষ্ট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত আসলে কে নেয়—ওয়াশিংটন নাকি তেল আবিব?
এই প্রশ্ন বহু বছর ধরেই ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আসলে ইসরায়েলপন্থী লবি নিয়ন্ত্রণ করে। এই লবির মূল লক্ষ্য ইসরায়েলি স্বার্থ পূরণ করা।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জন মিয়ারশেইমার ও স্টিফেন ওয়াল্ট, তাঁদের বিখ্যাত বই দ্য ইসরায়েল লবি অ্যান্ড ইউএস ফরেন পলিসিতে এই দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন।
তাঁরা সেখানে বহু দশকের নানা উদাহরণ তুলে ধরেছেন। সেসব উদাহরণ দেখায় কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবি, বিশেষত কংগ্রেসে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবং একের পর এক প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
উদাহরণস্বরূপ, তাঁরা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলপন্থী লবি ও নব্য রক্ষণশীলদের প্রভাব ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল।
সাংবাদিক জে জে গোল্ডবার্গ তাঁর ‘জুইশ পাওয়ার’ বইয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষায় প্রভাবশালী লবি কাজ করে এবং তাদের ক্ষমতার গঠন ও কার্যপ্রণালী কী।
এই লবির প্রভাব আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন বিখ্যাত ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ইলান পাপে। তাঁর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে জায়নাবাদী লবি শত বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি প্রভাবিত করেছে ও নিয়ন্ত্রণ করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন লেখক ও বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি একাধিক বইয়ে লিখেছেন, আসলে যুক্তরাষ্ট্রই জায়নাবাদী শাসনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে তার নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। চমস্কির মতে, ইসরায়েল কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাতিয়ার, যার মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখে।
এই ব্যাখ্যার পক্ষে ঐতিহাসিক নজিরও রয়েছে। যেমন ১৯৫৬ সালে ইসরায়েল, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মিলে মিসরে হামলা চালায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার নিজে নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলকে সিনাই উপত্যকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
আরেকটি উদাহরণ ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ। তখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে বলেছিল, ইরাকের স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা যেন প্রতিক্রিয়া না জানায়, যাতে আরব মিত্ররা ক্ষিপ্ত না হয়।
এই সব নজির আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মধ্যপ্রাচ্যে সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, তা বোঝার জন্য একটি প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ: কে কাকে চালায়? ইসরায়েল কি সেই ‘লেজ’, যা ‘কুকুর’ যুক্তরাষ্ট্রকে নাড়ায়? নাকি বরং যুক্তরাষ্ট্রই সেই শক্তিমান কুকুর, যার হাতে ইসরায়েল নামের লেজটি ধরা?
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ‘তুফান আল-আকসা’ হামলার পর, ইসরায়েল এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে গাজায় যে যুদ্ধ শুরু করেছে, সেটি কার্যত গণহত্যা ও জাতিগত নিধন অভিযানে রূপ নিয়েছে।
এই যুদ্ধের মাধ্যমে তারা কয়েকটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। তারা দীর্ঘ মেয়াদে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা হ্রাস করে ডেমোগ্রাফিক সমস্যার সমাধান করতে চায়; তারা পশ্চিম তীরে আগ্রাসী বসতি স্থাপন ও জমি দখল চালিয়ে এমন বাস্তবতা তৈরি করতে চায়, যাতে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
এই পুরো সময় (প্রায় ১৫ মাস ধরে) যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন এমন একটি নীতি অনুসরণ করেছে, যা ইসরায়েলের অবস্থান থেকে আলাদা ছিল না; বরং তারা ইসরায়েলের আগ্রাসনের গণহত্যামূলক চরিত্রকেই সরাসরি টিকিয়ে রেখেছে।
এই নীতি ইসরায়েলপন্থী লবির চাপের কারণে হয়েছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এতে আসল বিষয় বদলায় না।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একবার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল না থাকলে আমাদের একটি ইসরায়েল তৈরি করতে হতো।’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য একটি শক্তিশালী জায়নাবাদী শাসনের প্রয়োজন হয়, যেন সেটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে।
এই যে যুক্তরাষ্ট্র আজ ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে, এটা নতুন কিছু নয়। বরং শুরু থেকেই জায়নাবাদী নেতারা বুঝে নিয়েছিলেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রকল্প কাকে এবং কীভাবে উপকার দেবে।
প্রথম জায়নাবাদী প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়েইজম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘একটি ইহুদি ফিলিস্তিন হবে ইংল্যান্ডের জন্য এক নিরাপত্তার গ্যারান্টি, বিশেষ করে সুয়েজ খাল সংরক্ষণের দিক থেকে...যদি আমরা ইংল্যান্ডের জন্য ফিলিস্তিনের এক খণ্ড জমি না জুগিয়ে দিতাম, তাহলে কেবল ইংল্যান্ড নয়, সমগ্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক শক্তির অবস্থান কী হতো, সেটা ভেবে দেখা উচিত।’
অর্থাৎ জায়নাবাদী প্রকল্প শুরু থেকেই ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থে গড়া। পরে এই প্রকল্পই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া গণহত্যা ও আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সব রকম সহায়তা দিয়ে গেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ‘বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার রক্ষক’ হিসেবে তাদের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তবে এটা অস্বীকার করা অবান্তর যে জায়নাবাদী লবি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বিশাল প্রভাব রাখে। তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়: ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে চালায়, না যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে?
এই বিতর্ক আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন ‘পরীক্ষিত একজন বন্ধু’ হিসেবে; যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ইসরায়েলপন্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন (যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির পরিপন্থী); মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের ‘সার্বভৌমত্বের’ স্বীকৃতি দেন (যা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন)।
ট্রাম্প ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করতে ওয়াশিংটনে পিএলওর অফিস বন্ধ করে দেন; পিএ, ফিলিস্তিনি এনজিও, দাতব্য সংস্থা ও শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থসাহায্য বন্ধ করে দেন।
মনে রাখতে হবে, এই পিএলও-ই ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত শান্তিপ্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়েছিল, যার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে নিজেদের দখল আরও মজবুত করে।
ট্রাম্প একজন লেনদেনকামী প্রেসিডেন্ট। তিনি নিজের ‘মাগা’ সমর্থকদের দেখাতে চান, তিনি ফলদায়ী, বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি নেতানিয়াহুর পুরোনো প্রতিশ্রুতি (‘ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে চূর্ণ করা’) নিয়ে আর সময় নষ্ট করতে চান না, কারণ বারবারই এই প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করিয়েছিল, তা ইসরায়েল ভঙ্গ করে ১৮ মার্চ থেকে আবার গণহত্যা শুরু করে।
তখন ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আরও দুই মাস সময় দেন লক্ষ্য অর্জনের জন্য। কিন্তু সেগুলোও পূরণ হয়নি।
পরিণামে, ৭ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সফরের সময় ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় যাচ্ছে।
নেতানিয়াহু তখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজের সঙ্গে মিলে ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন, ওয়াল্টজকে পদচ্যুত করেন এবং কূটনৈতিক পথ বেছে নেন। এটি নেতানিয়াহুকে হতাশ করে।
সেই একই সফরে নেতানিয়াহু সিরিয়া–বিষয়ক নীতির জন্য ট্রাম্পের সমর্থন চান। ইসরায়েল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর থেকেই সিরিয়ায় নতুন আগ্রাসন চালাচ্ছে।
তারা প্রথমে সিরিয়ার বাকি সামরিক সম্পদ ধ্বংস করে। তারপর বিমান হামলা ও স্থল আগ্রাসনে ৪০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি জমি দখল করে নেয়। আর আগে থেকেই তারা গোলান মালভূমির ১ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার দখলে রেখেছিল।
এই দখলদারির মূল উদ্দেশ্য কেবল সিরিয়াকে দুর্বল করা নয়, বরং দেশটিকে ভেঙে চারটি জাতিগত-গোষ্ঠীগত অঞ্চলে ভাগ করে ফেলা। অঞ্চলগুলো হলো দ্রুজ, আলাবি, কুর্দি ও সুন্নি।
কিন্তু এই বিপজ্জনক পরিকল্পনা সরাসরি তুরস্কের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যায়। সিরিয়ায় শাসন পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তুরস্ক। তাই তারা নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। অথচ এদিকে ইসরায়েলের একাধিক মন্ত্রী তুরস্ককে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন।
কিন্তু নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল—ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পক্ষ নিয়েছেন। শুধু তা–ই নয়, ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অংশ উত্তর সিরিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে বলেন, তুরস্কের সঙ্গে বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে হবে এবং সমঝোতায় আসতে হবে।
গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নীতিগত মতবিরোধ ছিল খুবই বিরল। কিন্তু ট্রাম্পের অবস্থান ইসরায়েলকে বাধ্য করে তারা যেন সিরিয়া নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনায় বসে, যাতে কোনো সংঘর্ষ বা যুদ্ধ না হয়।
এর পাশাপাশি, ইসরায়েলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প ঘোষণা দেন—সিরিয়ার ওপর আর কোনো মার্কিন বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। এ ঘোষণাটি তিনি দেন সৌদি আরব সফরের সময়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও এরদোয়ানের প্রবল তদবিরের পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক লক্ষ্যও ভূমিকা রেখেছে। তিনি তাঁর সমর্থকদের সামনে নিজেকে সফল হিসেবে তুলে ধরতে চান। এ জন্য তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্রিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যিক চুক্তির দিকে ঝুঁকেছেন।
কিন্তু সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা চলতে থাকলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও একটি বেসামরিক নিউক্লিয়ার চুল্লির দাবি তোলে। বাইডেন প্রশাসন মাসের পর মাস এই চুক্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়, কারণ ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানে রাজি হয়নি।
কিন্তু ট্রাম্প এসব শর্ত বাদ দিয়ে সরাসরি সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন (১৪২ বিলিয়ন ডলারের)। একই সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির বিষয়েও চুক্তি হয়।
ইসরায়েল এই দুটি চুক্তিরই বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তারা কিছু করতে পারেনি। যদি এটি কোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট করতেন, তাহলে নেতানিয়াহু রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়ে হয়তো চুক্তি বানচাল করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু যেহেতু এটি এসেছে রিপাবলিকান সরকারের পক্ষ থেকে এবং ইসরায়েল এতে নেই, তাই তিনি কিছুই করতে পারেননি।
ট্রাম্প ইসরায়েলকে আরও এক ধাক্কা দেন ৬ মে। তিনি ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সেখানে হুতিদের ইসরায়েলবিরোধী হামলা বন্ধ করার কোনো শর্ত ছিল না।
হুতিরা গাজায় গণহত্যা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা থামাতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এই ফ্রন্টে ইসরায়েলকে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন।
দুই দলই (রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট) এত দিন একই নীতি মেনে চলেছে। হামাস বা হিজবুল্লাহর মতো রাষ্ট্রবহির্ভূত সংগঠন দমনে ইসরায়েলকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়ে উভয়েই একমত ছিল। কারণ, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থ জড়িত।
তবু ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কয়েক মাস সময় দিয়েছিলেন গাজায় একটি গণহত্যামূলক অভিযান চালানোর জন্য। এর মধ্যে ছিল নির্বিচার বোমাবর্ষণ এবং ২ মার্চ থেকে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানি বন্ধ রেখে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে অনাহারে রাখার নীতি।
তবে ট্রাম্প নিজে একজন ‘ডিল-মেকার’ হিসেবে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তির বিষয়টিকে তাঁর কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে লুফে নিতে চেয়েছিলেন। তিনি বন্দিমুক্তির বিনিময়ে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কিন্তু নেতানিয়াহু তাঁর চরম জেদের কারণে এই সুযোগও নিতে চাননি। তিনি বারবার দাবি করেন, ‘পুরোপুরি বিজয়’ ছাড়া তিনি থামবেন না। এটি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে এবং বন্দীদের জীবন আরও বিপন্ন করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ইসরায়েলপন্থী লোকজন দিয়ে ভরা। ফলে ট্রাম্পের হাত ধরে আসা এই পরিবর্তনগুলো আদৌ দীর্ঘমেয়াদি কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রকৃত চেহারা বোঝার শেষ পরীক্ষা হবে ট্রাম্প কি ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যা থামাতে বাধ্য করতে পারবেন কি না, তার মধ্য দিয়ে।
সেই মুহূর্তেই বোঝা যাবে—যুক্তরাষ্ট্র আসলে নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, নাকি ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী ও ধর্মান্ধ ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পকে সমর্থন করে যাচ্ছে।
এই পরীক্ষাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে—আসলে কুকুর লেজ নাড়ে, নাকি লেজ কুকুরকে।
মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া।
অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
সামি আল-আরিয়ান ইস্তাম্বুল জায়িম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের (সিআইজিএ) পরিচালক।
| আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে খাদ্যের অভাবে কঙ্কালসার শিশু সিওয়ার
মৃত, মুমূর্ষু ও মৃত্যুর প্রহর গোনা মানুষের মধ্যে বসবাস করা একটি শিশুকে আর কীই–বা অবাক করতে পারে?
ক্ষুধা তাদের নিঃশেষ করে ফেলেছে। সামান্য একটু খাবারের আশায় তারা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কখনো কখনো ভাগ্যে কিছুই জোটে না।
বিবিসির জন্য কাজ করা আমার সহকর্মী ও তাঁর ক্যামেরার সঙ্গে এসব গাজাবাসী অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
বিবিসির সহকর্মী দেখেছেন তাঁদের অনাহার, মৃত্যু পথযাত্রা এবং কীভাবে তাঁদের মরদেহ বা দেহের খণ্ডাংশ সাদা কাফনে মোড়ানো হয়। নাম জানা থাকলে তাঁদের নাম সেই কাফনের ওপর লেখা হয়।
১৯ মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং এখন নতুন করে ইসরায়েলি হামলার মধ্যে এই স্থানীয় ক্যামেরাম্যান হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেঁচে থাকা মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট আহাজারি শুনে চলেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আমি তাঁর নাম প্রকাশ করছি না।
তিনি শারীরিকভাবে সম্মানজনক দূরত্বে থাকেন, কিন্তু তাঁরা দিনরাত তাঁর মনে জেগে থাকেন।
তিনিও তাঁদেরই একজন—একই সংকীর্ণ নরকে বন্দী।
এই সকালে বিবিসির সহকর্মী খুঁজতে বেরিয়েছেন শিশু সিওয়ার আশুরকে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পাঁচ মাস বয়সী এই কন্যাশিশুর কঙ্কালসার দেহ এবং কান্না তাঁকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে তিনি আমাকে লিখেছিলেন, তাঁর ভেতরটা ভেঙেচুরে গেছে।
সিওয়ার আশুরের ওজন ছিল মাত্র দুই কেজির একটু বেশি।
পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশুর ওজন সাধারণত ছয় কেজি বা তার বেশি হওয়া উচিত।
সিওয়ারকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সে এখন তার বাসায়, এমনটাই শুনেছেন আমার সহকর্মী।
এ খবর পেয়ে আমার বিবিসির সহকর্মী ছুটে এসেছেন গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি আর ত্রিপল ও টিনের তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে।
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আমার সহকর্মী অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক দিন আগে আমি খুদে বার্তা দিয়ে তাঁর খোঁজ নিয়েছিলাম। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ঠিক নেই। মাত্র কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী খান ইউনিসের বেশির ভাগ এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে...আমরা জানি না কী করব, যাওয়ার জন্য কোথাও কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।
‘আল-মাওয়াসি এলাকাটি বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড়ে গিজগিজ করছে। আমরা দিশাহারা, এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’
বিবিসির সহকর্মী এক কক্ষবিশিষ্ট একটি ছোট কুটির খুঁজে পেলেন, যার প্রবেশপথে ধূসর-কালো ফুলেল পর্দা টাঙানো। কক্ষের ভেতরে রয়েছে তিনটি গদি, একটি ড্রয়ারের অংশবিশেষ আর একটি আয়না। সে আয়নায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে তা সিওয়ার, তার মা নাজওয়া ও নানি রিমের সামনে মেঝেতে এসে পড়েছে।
সিওয়ার চুপচাপ, দুই নারীর সুরক্ষার ছায়ায় সে এখন নিরাপদে আছে।
শিশুটি প্রচণ্ড অ্যালার্জির কারণে সাধারণ দুধের ফর্মুলা হজম করতে পারে না।
একদিকে যুদ্ধ, তার ওপর ইসরায়েল গাজায় ত্রাণসামগ্রী ঢুকতে দিচ্ছে না। এ কারণে সেখানে সিওয়ারের মতো শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্মুলা দুধের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
২৩ বছর বয়সী নাজওয়া বলেন, ‘নাসের হাসপাতালে থাকার সময় তাঁর মেয়ের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। তাই চিকিৎসকেরা কয়েক দিন আগে একটি ফর্মুলা দুধের কৌটা দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেন। এখন বাসায় ফেরার পর সিওয়ারের ওজন কমতে শুরু করেছে। চিকিৎসকেরা আমাকে বলেছিলেন, সিওয়ারের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমার মনে হয়, সে এখনো হাড় জিরজিরে। তার অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি। সিওয়ারের জন্য কেবল একটি দুধের কৌটা খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁরা (চিকিৎসক)। সেটিও এখন ফুরিয়ে এসেছে।’
সিওয়ারের মুখের সামনে মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে।
সিওয়ারের মা নাজওয়া বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। পোকামাকড় ওর গায়ে ভিড়তে আসে। ওকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়, যাতে তাঁর গায়ে কিছু না লাগে।’
গত বছরের নভেম্বরে জন্মের পর থেকে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই বড় হচ্ছে সিওয়ার। কাছে কিংবা দূর থেকে কখনো মর্টার বা রকেট, আবার কখনো বোমার শব্দ ভেসে আসছে। ক্ষণে ক্ষণে বন্দুকের গুলি কিংবা মাথার ওপর গর্জে উঠছে ইসরায়েলি ড্রোন।
নাজওয়া বলেন, ‘এত কাছে থেকে প্রচণ্ড জোরে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান আর রকেটের শব্দ হয় যে সে এগুলো বুঝতে পারে। যখন সিওয়ার এগুলোর শব্দ শোনে, তখন সে ভয়ে কেঁদে ওঠে। ঘুমিয়ে থাকলেও চমকে উঠে কান্না করে ফেলে।’
গাজার চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক তরুণী মা জানিয়েছেন যে তাঁরা অপুষ্টির কারণে তাঁদের শিশুদের বুকের দুধ পান করাতে পারছেন না।
সেখানে প্রধান সমস্যা এখন খাবার ও পরিষ্কার পানি।
সিওয়ারের জন্মের সময় নাজওয়া নিজেই অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। তিনি ও তাঁর মা রিম এখনো নিজেদের জন্য খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। আর প্রতিমুহূর্তে চলছে সেই সংগ্রাম।
নাজওয়া বলেন, ‘অতিরিক্ত দাম ও সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে আমরা দুধ বা ডায়াপারও জোগাড় করতে পারি না।’
ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট ২২ মে বলেছিল, গাজায় কোনো খাদ্যসংকট নেই।
তারা বলেছে, সম্প্রতি গাজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিশুখাদ্য ও বেকারির জন্য ময়দা আনা হয়েছে। এই সংস্থা বারবার দাবি করেছে, হামাস ত্রাণ চুরি করে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বলছে, হামাসকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এবং গাজায় জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের ২০ জন জীবিত এবং আরও ৩০ জনের বেশি মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজায় কোনো খাদ্যসংকট নেই বলে কোগাট যে মন্তব্য করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা, জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্যসহ বহু বিদেশি সরকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজায় মানুষ ‘অনাহারে’ আছে বলে মন্তব্য করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ ঢুকতে দিয়েছে, সেখানকার চাহিদার তুলনায় ‘এক চা–চামচের’ সমান।
গুতেরেস বলেছেন, জ্বালানি, আশ্রয়, রান্নার গ্যাস এবং পানি বিশুদ্ধকরণ সামগ্রীর অভাবের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা ‘সম্ভবত এই নিষ্ঠুর সংঘাতের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পর্যায়’ পার করছে।
![]() |
| অপুষ্টিতে ভোগা গাজার শিশু সিওয়ার। নিজেদের জন্য খাবার জোগাড় করতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের... |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা: বিবিসি সাংবাদিকের মর্মস্পর্শী বর্ণনা
সিওয়ারের ওজন তখন মাত্র ২ কেজি (৪ পাউন্ড ৬ আউন্স)। যেখানে একজন পাঁচ মাস বয়সী শিশুর ওজন হওয়া উচিত প্রায় ৬ কেজি বা তারও বেশি। সিওয়ার একটি বিশেষ দুধের ফর্মুলা ছাড়া বাঁচতে পারে না। কারণ সাধারণ দুধে তার অ্যালার্জি দেখা দেয়। কিন্তু যুদ্ধাবস্থা এবং ইসরাইলি অবরোধে সেই ফর্মুলা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আমার সহকর্মী শুনেছেন, সিওয়ার এখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে এবং বাড়িতে আছে। তাই তিনি এসেছেন এই ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়িঘরের মধ্যে তৈরি করা অস্থায়ী তাঁবু আর টিনের ছাউনির গলিতে।
তার খোঁজ চালানো খুবই কঠিন। কয়েকদিন আগে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেমন আছেন তিনি। জবাব দেন, আমি ভালো নেই। কিছুক্ষণ আগেই ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে খান ইউনিসের বেশির ভাগ এলাকা খালি করতে হবে। আমরা জানি না কী করবো। কোথাও নিরাপদ জায়গা নেই। আল-মাওয়াসি এলাকা এখন গাদাগাদি করে থাকা উদ্বাস্ত দিয়ে ভরে গেছে। আমরা দিশেহারা, এখন ঠিক সিদ্ধান্ত কী হবে তাও জানি না।
শেষমেশ তিনি খুঁজে পান একটি এক-কামরার ঝুপড়ি ঘর, যার দরজার জায়গায় ঝোলানো আছে একটি ধূসর-কালো ফুলেল পর্দা। ভেতরে রয়েছে তিনটি গদি, একটি ভাঙা ড্রয়ার এবং একটি আয়না, যা রোদের আলো প্রতিফলিত করে ফেলেছে ছোট্ট সিওয়ার, তার মা নাজওয়া এবং দাদি রিমের সামনে। সিওয়ার শান্ত। তার মায়ের কোলে নিরাপদে আছে। কিন্তু শিশুটির স্বাভাবিক দুধ সহ্য হয় না, কারণ এতে তার মারাত্মক অ্যালার্জি হয়। ২৩ বছর বয়সী মা নাজওয়া জানান, নাসের হাসপাতালে থাকাকালীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা একটু ভালো হওয়ায় তাকে এক ক্যান ফর্মুলা মিল্কসহ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন বাড়িতে সেই একমাত্র ক্যানটি শেষ হওয়ার পথে। আর শিশুটির ওজন আবার কমতে শুরু করেছে। নাজওয়া বলেন, ডাক্তাররা বলেছিলেন সিওয়ার আগের চেয়ে ভালো আছে। কিন্তু আমি মনে করি ও এখনো খুবই দুর্বল। তেমন উন্নতি হয়নি। শুধু এক ক্যান দুধ পেয়েছিল, সেটাও প্রায় শেষ। সিওয়ারের মুখের সামনে মাছিরা ঘুরে বেড়ায়। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ- বলেন নাজওয়া। মাছিগুলো ওর গায়ে বসতে চায়, আমি ওকে কাপড়ে ঢেকে রাখি যাতে কিছু স্পর্শ না করে।
গত নভেম্বর থেকে জন্মের পর থেকেই সিওয়ার যুদ্ধের আওয়াজে বেড়ে উঠেছে। কামান, রকেট, বোমা- কাছ থেকে ও দূর থেকে বন্দুকের শব্দ, ইসরাইলি ড্রোনের শব্দ। নাজওয়া বলেন, সে এসব শব্দ বুঝে গেছে। ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, রকেটের শব্দ খুবই কাছ থেকে আসে। এসব শব্দে সিওয়ার ভয় পায়, কাঁদতে থাকে। ঘুমিয়ে থাকলেও জেগে ওঠে আতঙ্কে। গাজার ডাক্তাররা বলছেন, অনেক নতুন মা দুধ খাওয়াতে পারছেন না অপুষ্টির কারণে। সবচেয়ে জরুরি সমস্যা এখন খাদ্য এবং পরিষ্কার পানি।
সিওয়ার জন্মের সময় নাজওয়াও ছিলেন অপুষ্টিতে ভোগা এক মা। তিনি ও তাঁর মা রিম এখনও ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। এটি তাদের প্রতিটি মুহূর্তের লড়াই। বলেন- আমাদের ক্ষেত্রে, আমরা দুধ বা ডায়াপার দিতে পারি না, দাম আর সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে।
২২ মে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করে, গাজায় খাদ্য ঘাটতির কোনো প্রমাণ নেই। তারা বলেছে বেশ ভালো পরিমাণে শিশু খাদ্য ও ময়দা কয়েক দিনে গাজায় পাঠানো হয়েছে। তবে সাহায্য সংস্থা, জাতিসংঘ এবং অনেক বিদেশি সরকার, এমনকি বৃটেন এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গাজার মানুষদের ‘অনাহারে ভোগা’র কথা উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরাইল যে সহায়তা ঢুকতে দিচ্ছে তা এক চামচের মতো। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা সম্ভবত এই নির্মম সংঘাতের সবচেয়ে নিষ্ঠুর অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, গাজার শতকরা ৮০ ভাগ অঞ্চল এখন হয় ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন বা মানুষদের সেখান থেকে সরতে বলা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্কুলে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, ইসরাইলের হামলায় ৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত: মানবিক সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিভাগ আইডিএফ বলছে, ওই এলাকাটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। এছাড়া হামাস সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেছে তারা। ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, ইসরাইল ওই স্কুলটিকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গোলা বর্ষণ করছে। এতে অনেকেই আগুনে ঝলসে গেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুকেও দেখা গেছে। আর যারা বেঁচে আছেন তাদের অবস্থাও বেশ গুরুতর। পৃথক আরেক হামলায় ১৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এ তথ্য জানিয়েছে আল-আহলি হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফাদেল এল-নাইম। যদিও এই হামলার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। এই জোড়া হামলা ইসরায়েলি বাহিনীর বৃহত্তর আক্রমণের অংশ, যা গত সপ্তাহে উপত্যকার উত্তর অংশে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার প্রায় ২০০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
পদত্যাগ করলেন ইসরাইল সমর্থিত মানবিক সংস্থার প্রধান
পদত্যাগ করেছেন গাজা হিউম্যানট্যারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) প্রধান জেক উড। রোববার নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন তিনি। ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল জিএইচএফ নামের এই সংস্থা। তবে উডের দাবি গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন তিনি। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, কয়েকটি নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য বেসরকারি ঠিকাদার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল। এতে যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন দিয়েছে। তবে ওই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তরফে বলা হয়, তারা ওই পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করবে না।
ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসকে সহায়তা উপকরণ চুরি থেকে বিরত রাখতে ওই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জিএইচএফ সম্পর্কে বলা হয়, ফিলিস্তিনিরা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের চারটি বিতরণ কেন্দ্র থেকে ২০ কেজি ওজনের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে দুর্বল ও আহত ফিলিস্তিনিরা কীভাবে চারটি বিতরণ কেন্দ্র থেকে ত্রাণ গ্রহণ করবেন এ বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, ওই পরিকল্পনার ফলে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন। এক প্রান্তে ত্রাণ দেয়ার ফলে সবাই ত্রাণ পাবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে উড বলেন, মানবিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞতার কারণে দুই মাস আগে আমাকে জিএইচএফে’র দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যদের মতো গাজার পরিস্থিতি দেখে আমিও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। একজন মানবতাবাদি নেতা হিসেবে গাজাবাসীর কষ্ট লাঘবের জন্য যা করার দরকার তা করতে বাধ্য। তিনি বলেন, আমি যে কাজ তদারকি করেছি তাতে আমি গর্বিত। এদিকে জিএইচএফে’র তরফে বলা হয়েছে, উডের পদত্যাগে আমরা নিরুৎসাহিত হবো না। সোমবার থেকে ত্রাণ দেয়া শুরু হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ দশ লাখ ফিলিস্তিনির কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগামী মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে মাল্টা: ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান স্পেনের
প্রধানমন্ত্রী অ্যাবেলা বলেন, আমরা এই মানবিক ট্র্যাজেডির দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। এই ট্রাজেডি প্রতিদিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তিনি গাজায় চালানো ইসরাইলের নৃশংস বোমাবর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এতে প্রায় ৫৪,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। অ্যাবেলা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে ২০ জুনের এক সম্মেলনের পর।
মাল্টা এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পেন, নরওয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর কাতারে যোগ দিচ্ছে। এসব দেশ সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান স্পেনের
গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে এবার আরও জোরালো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিল স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেছেন, এই যুদ্ধের আর কোনও যৌক্তিক লক্ষ্য নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
রোববার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২০টি ইউরোপীয় ও আরব দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশ নেয়। বৈঠকের মূল লক্ষ্য- এই যুদ্ধ থামানো এবং গাজায় বাধাহীন, নিরপেক্ষ ও ব্যাপকভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা। আলবারেস বলেন, ইসরাইল যেন নির্ধারণ না করতে পারে কে খাবে আর কে খাবে না। খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশাধিকার একটি মৌলিক মানবিক অধিকার।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন করবে। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আলবারেস বলেন, এখন সময় এসেছে সব ধরনের পদক্ষেপ নিষেধাজ্ঞাসহ বিবেচনায় আনার। যুদ্ধ থামাতে যা কিছু সম্ভব, তা করতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলতে চায় স্পেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সম্মেলন থেকে নিষেধাজ্ঞার বাস্তব পদক্ষেপ বা প্রস্তাবনা আসে, তবে সেটি হবে গাজা যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঋতুস্রাবের ছুটি চেয়ে হেনস্তার শিকার এক শিক্ষার্থী
চীনা টিকটক নামে পরিচিত ডুয়িনের এক ব্যবহারী বলেন, ভিডিও শেয়ারের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আইডি ৩০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ১৬মে এক বিবৃতিতে গেংডান ইনস্টিটিউট বলেছে, অনলাইনে প্রচার করা ওই ভিডিও বিকৃত করা হয়েছে। বলা হয়, যারা অসত্য ভিডিও ছড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার আছে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং শিক্ষার্থীর অনুমতি নিয়েই তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া এতে কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার না করার দাবিও করা হয়।
এদিকে ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবীণ ওই নারী কর্মীকে শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরিক্ষার বিষয়ে কলেজের লিখিত প্রমাণ দিতে বলছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তবে এর কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে যেতে বলেন। গেংডাম ইনস্টিটিউটের এক কর্মী স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দুতে নিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তরফে ওই নিয়ম তৈরি করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে ছুটি নিতে না পারেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বিষয়টি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। চীনা টুইটার নামে পরিচিত ওয়েইবোর এক ব্যবহারকারী লেখেন, যদি এমন মনে হয় যে, শিক্ষার্থীরা ঋতুস্রাব নিয়ে অজুহাত দিচ্ছে তাহলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে রেকর্ড রাখুক।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় যোগ হলো গেংডাম ইনস্টিটিউট। গত বছর মে ডে ছুটির মৌসুমে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করে। এর মধ্যে একা ভ্রমণ, সাইকেলে ভ্রমণের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারীর নেশাতেই পতন: যেভাবে দিনমজুর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী
নাম শুনতে যেমন ভয়ঙ্কর, কাজ ছিল আরও ভয়ঙ্কর। হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, গুলি ছোড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি, আগুন দিয়ে বাড়ি-দোকান জ্বালিয়ে দেয়া তার কাছে ছিল মামুলি ব্যাপার। প্রায় ১ যুগ আগে সাজ্জাদ আলী খানের হাত ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডে পা রাখলেও ধীর ধীরে এই জগতে আলোচিত হয়ে ওঠে ঢাকাইয়া আকবর। সিএমপিও তাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তবে শেষমেশ নারীতেই পতন হলো এই সন্ত্রাসীর। রোববার চমেক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার রাত আটটার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। তার শরীরে অন্তত ১০-১২টি গুলি লাগে। এসময় গুলিবিদ্ধ হন ৮ বছরের শিশু রাতুলসহ আরও এক দর্শনার্থী। তবে অনেকে মনে করছেন, ঢাকাইয়া আকবরের মৃত্যু আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও অশান্তি সৃষ্টি করবে নতুন করে।
সূত্র মতে, ফেসবুকে বেশ সক্রিয় আকবর। তার আইডিও ভেরিফাইড। প্রায় সময় সে নানারকম ভিডিওর পাশাপাশি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নাকে কটূক্তি করে ভিডিও পোস্ট করতো। নগরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই ডন সরোয়ার বাবলা ও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের সঙ্গে চাঁদাবাজি ও ব্যবসাকে ঘিরে দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সেই বিরোধে জড়িয়ে ছিল তাদের শিষ্যরা। ঢাকাইয়া আকবর একসময় সাজ্জাদ আলী খানের শিষ্য থাকলেও ৩ বছর আগে থেকে তার দল ছাড়ে। পরে যোগ দেয় তারই প্রতিপক্ষ সরোয়ার বাবলার সঙ্গে। গত ১৫ই মার্চ ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হলে এই দু’গ্রপের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২৯শে মার্চ নগরের বাকলিয়ায় ব্যাপক গোলাগুলিতে ডাবল মার্ডার হয়। এরপরই ঘটে ঢাকাইয়া আকবরের ঘটনা। সরোয়ার বাবলার গ্রুপের লোকজন বলছে, এসব ঘটাচ্ছে ছোট সাজ্জাদের বাহিনী। একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে তারা হত্যা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ‘সন্ত্রাসী’ আকবরের পরনারীর প্রতি দুর্বলতা ছিল আগে থেকেই। তাই তাকে ‘হত্যাচেষ্টা মিশনে’ পাতা হয়েছিল তরুণীর ফাঁদ। যার সঙ্গে মাত্র পাঁচদিনের পরিচয়ে ‘ডেটিংয়ে’ গিয়েছিলেন আকবর। এদিকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বলছে, এই হামলার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন বড় সাজ্জাদ। ২০২৩ সালের দিকে কারাবন্দি অবস্থায় আকবরকে জামিন না করানোয় সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় গুরু ও শিষ্যের। সেই থেকেই আকবরের ওপর ক্ষোভ থাকলেও সামপ্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে তা আরও বেড়ে যায়। পতেঙ্গা সৈকতে গোলাগুলির নেপথ্যে ছিল সেই দ্বন্দ্ব। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যবসায়ী বলেন, আকবরের সঙ্গে থাকা চারজন ছেলেসহ তারা ৬-৭ জন সৈকতের ২৮ নম্বর দোকানে বসেছিলেন। মোটরসাইকেলে করে ৪ জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। এরপর আকবরের সঙ্গে থাকা ৪ জন সেখান থেকে দৌড়ে পালায়। আর যে তরুণী ছিলেন তিনি গুলিবর্ষণকারীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আকবরকে গুলির পরপরই স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এরপর তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার আগে আকবর কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, এই হামলার পেছনে রায়হান, খোরশেদ, ইমন ও বোরহান দায়ী। তারাই তাকে গুলি করেছে। ওই তরুণীর সঙ্গেও তার প্রথম দেখা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই চারজন ছাড়াও সেগুন এবং মোহাম্মদ নামে আরও দু’জন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। বাকি চারজনসহ এই ছয়জন চট্টগ্রামের আলোচিত এইট মার্ডার মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী। গুলিবিদ্ধ আকবরের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় এসব মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। ঢাকাইয়া আকবর ২০২৩ সালে গুরু সাজ্জাদ আলী খানের ভাইয়ের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে না পেয়ে সাজ্জাদ আলী খানের বাড়ি গানপাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। তার সঙ্গে থাকতে ঢাকাইয়া আকবর চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘নিয়মিত চাঁদাবাজি’ করতেন। সাজ্জাদের ‘ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে কাজ করতেন ঢাকাইয়া আকবর। ২০১৭ সালে আকবরকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে সময় ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে। এরপর দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন আকবর। দু’বছর কারাভোগের পর ২০২২ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর জামিনে ছাড়া পান তিনি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর থেকে দু’টি অস্ত্রসহ তাকে আবারো গ্রেপ্তার করে বায়েজিদ থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভবন মালিককে ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছিল সে সময়।
আকবরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর জেলে থাকা অবস্থায় আকবর ভেবেছিলেন ‘গুরু’ সাজ্জাদ আলী খান তার জামিনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু ‘গুরুর’ সেই ‘আশীর্বাদের হাত’ পায়নি সে। তার পরিবারই অনেক কষ্টে জোগাড় করেছে মামলা পরিচালনার ব্যয়। তখন থেকেই গুরুর ওপর ক্ষোভ জন্মে তার। জামিনে বেরিয়ে আকবর গুরুকে টেক্কা দিতে নিজেই গড়ে তোলেন বাহিনী। এরপর থেকেই বড় সাজ্জাদের চাঁদাবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সে। পুলিশকে সাজ্জাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়েও সাহায্য করতো সে। তাই আকবরের প্রতি সমপ্রতি বেশ ক্ষুব্ধ হয় বড় সাজ্জাদ। আকবরের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, কারাবন্দি ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে নিয়ে প্রায়ই ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও পোস্ট করতো সে। এ ছাড়া পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান এবং বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতাকে হুমকি দিয়েও ভিডিও পোস্ট করতে দেখা গেছে। সমপ্রতি গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ এই সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন আকবর- এমন গুঞ্জন আছে। হাসপাতালে আকবরের স্বজনদেরও দাবি, এই ঘটনায় কারাগারে বন্দি ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের অনুসারীরা জড়িত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫ই আগস্ট বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলাম -ওবায়দুল কাদের
সাক্ষাৎকারে লুকিয়ে থাকার ঘটনা বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘এ বিষয়ে দেশে-বিদেশে এবং ভারতবর্ষে সবার কাছে পরিষ্কার। ৫ই আগস্ট সেদিন ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ যে ছাত্র উত্থান, সে সময় আমি খুবই ভাগ্যবান, সেদিন আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। মৃত্যু থেকে অনেক কাছে ছিলাম। আমারই সংসদ এলাকার আমার নিজের বাসাকে এড়িয়ে পার্শ্ববর্তী আরেকটা বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন চারদিক থেকে মিছিল আসছিল। এটা আসলে ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর’ (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) গণভবনকেন্দ্রিক। আমরা অবাক হলাম যে, সংসদ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং একটা ‘লুটপাটের লুম্পেন স্টাইল’-এ কতোগুলো ঘটনা ঘটে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের লোক আসে এবং এদের মধ্যে বেশির ভাগই মনে হয়েছে-এটা কোনো রাজনৈতিক অভ্যুত্থান। এটা ‘লুটপাটের অভ্যুত্থান’।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি যে বাসাটায় ছিলাম, তারা সে বাসাতেও হামলা করে। তারা জানতো না যে, সেখানে আমি আছি। আমার বাসা তারা ‘লুটপাট’ করেছে, কিন্তু যে বাসায় আমি গিয়ে আশ্রয় নিলাম, সেখানে হামলা করবে- আমি ভাবতে পারিনি। দেখলাম অনেক লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারা ভাঙচুর ও ‘লুটপাট’ করতে থাকে। আমি আমার স্ত্রীসহ বাথরুমে লুকিয়ে ছিলাম। অনেকক্ষণ ছিলাম, প্রায় ৫ ঘণ্টা। তারপর একটা পর্যায়ে তারা বাথরুমের ভেতরেও কমোড-বেসিন এগুলো ‘লুটপাট’ করেছে। আমার ওয়াইফ বাথরুমের মুখে দাঁড়িয়ে, বারবার সে বলছিল আমি অসুস্থ, এ কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। একটা পর্যায়ে তারা বাথরুমে যেগুলো আছে, সেগুলো লুট করার জন্য জোরপূর্বক প্রবেশের হুমকি দেয়। সে সময় আমার ওয়াইফ জিজ্ঞাসা করলো কী করবো- বললাম, খুলে দাও। তারপর ৭-৮ জন ছেলে ঢুকলো। খুবই আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। হঠাৎ তারা আমার দিকে তাকিয়ে, ‘নেত্রী’ চলে গেল, আপনি যাননি কেন? আমি কিছু বলছিলাম। তাদের মধ্যে কী উদয় হলো-আমি জানি না। তারা আমাকে বলে, আপনার ছবি তুলবো। তারপর ছবি তুলতে শুরু করলো, সেলফি নিচ্ছিলো। এই ছাত্রদের অনেকে হয়তো আমাকে চিনতো। কী কারণে যে আক্রমণাত্মক মনোভাবটা ছিল, সেটা নিমিষেই শীতল হয়ে গেল! তখন ঠাণ্ডা মেজাজে কথা বলছিল। এদের মধ্যে এক পর্যায়ে একটা গ্রুপ চেয়েছিল আমাকে রাস্তায় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে। কেউ কেউ আবার এটাও চেয়েছিল যে, জনতার হাতে তুলে দিতে। এটা অবশ্যই তখন একটা মানসিকভাবে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিল। এরপর একটা শার্ট, এদের ব্যাচ, লাল পতাকাশোভিত ব্যাচ লাগিয়ে কালো একটা, একটা মাস্ক মুখে দিয়ে আমাকে হাঁটতে হাঁটতে সংসদ এলাকা থেকে বড় রাস্তা, গণভবন অভিমুখী রাস্তায় নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা ট্যাক্সি আসে, একটা ইজিবাইক। সেটা খালিই ছিল। ওখানে গাড়ি-ঘোড়া কিছুই ছিল না। হঠাৎ করে কেন যেন এসে পড়লো। হয়তো আমার ভাগ্য। এরা দুইজনে আমাকে ও আমার ওয়াইফকে নিয়ে অটোতে উঠলো। আর বলতে লাগলো- পথে তো অসংখ্য মানুষ। চেকআপ সব জায়গায়। বলতে লাগলো আমাদের চাচা-চাচি অসুস্থ হাসপাতালে নিচ্ছি। ডিস্টার্ব করবেন না। এই করে করে নিয়ে গেল- অনেক দূরে একটা জায়গায়। এটা ভাবতেও পারিনি যে, ওরা বাথরুমে ঢুকলো, সে বেঁচে থাকাটা সেদিন পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আনস্পেকটেডলি বেঁচে গেছি। দিস ইজ দ্য ইম্পর্ট্যান্ট।’’
কাদের বলেন, ‘ছেলেরা যেকোনোভাবে আমাদেরকে আর্মির হাতে তুলে দিতে পারতো। রাস্তায় অসংখ্য মানুষ। সেখানে অনেকেই তো আছে আমাদের অপজিশন। মেরে ফেলতে পারতো।’
এরপর কোথায় ছিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বাংলাদেশেই ছিলাম তিন মাসের মতো। আমার একটা উদ্দেশ্য ছিল-ওখান থেকে কিছু করা যায় কিনা। কিছু একটা করা যায় কিনা। সংগঠিত করা যায় কিনা। বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক অসন্তোষ, কর্মচারীদের অসন্তোষ। প্রতিদিনই এগুলো লক্ষ্য করতাম। ক্ষোভগুলো তখন রাস্তায় নেমে আসছিল। বিশেষ করে গার্মেন্টস। সে সময় ভাবলাম-এদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু করা যায় কিনা। এই চিন্তাতেই তিন মাস পেরিয়ে গেল। এরপর একে একে সবাই অ্যারেস্ট হচ্ছি। আমি তো নেত্রীর পরের, তখনই দুই শ’ বারটা খুনের মামলায় আমি আসামি হয়ে গেছি। এই অবস্থায় অনেকে বললো, আবার এখান থেকেও অনেক অনুরোধ যাচ্ছিলো আমি যেন সতর্কভাবে এদিকে চলে আসি। এভাবেই চিন্তা করলাম যে, আমার বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। অনেকগুলো ওষুধ খেতে হয়। আমি ধরা পড়লে ওষুধ খাওয়াবে কে? তারপর অনেক কিছু ভাবনা-চিন্তা করে, পঁচাত্তরে এখানে এসেছিলাম বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা হলো-কলকাতায় এসে নয় মাস ছিলাম। এখান থেকে ফিরে গিয়ে জগন্নাথ হলে একটা বৈঠক করছিলাম অনেক রাতে। ঢাকায় তখন কারফিউ। সেখান থেকে আমাকে অ্যারেস্ট করা হলো। এরপর ওয়ান ইলেভেনের পরে, তখনো জেল খেটেছি।’
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৯ মাস কলকাতায় ছিলেন, তারপর কী আর আসেননি- এই প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘যখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম তখন এসেছি। আর বিজয় দিবসে আমাকে প্রধান অতিথি করেছিল তখন এসেছি।’
আপনি (কাদের) যে রইলেন, তারপর কোনো সমস্যা হলো না? ছেলেগুলো আপনাকে কোথাও পৌঁছে দিলো বা বিষয়টা তারা ফাঁস করেনি, ছেলেগুলো এমনটা করলো এর কারণ কি-এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমি রাতেই ওখান থেকে সরে গিয়েছি। আমিও বুঝিনি।’ ছেলেগুলো আওয়ামী লীগের ছিল কিনা? জবাবে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হলে তো আমি চিনতাম।’
আপনার (কাদের) কিছু বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, আপনি ছাত্রলীগ- যুবলীগকে মাঠে নামিয়েছিলেন, তারপর জনরোষ তৈরি হয়ে গেল। ছাত্রলীগকে অভ্যুত্থান দমাতে বলেছিলেন কিনা-সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি যে, ছাত্রলীগকে অভ্যুত্থান দমানোর জন্য। সেটা লন্ডন থেকে আমাদের এক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার ইউটিউবে এ কথা বলেন। ও তখনকার ভিডিও নিয়ে সেটা প্রচার করেছে মাস তিনেক আগে। সেখানে ছাত্রলীগের নামই ছিল না। বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে ওইদিন ছাত্রলীগই যথেষ্ট-এ ধরনের কোনো বিষয় ছিল না আমার বক্তব্যে। আর আমি পার্টির সেক্রেটারি। তারা আমার মেট্রোরেল পুড়িয়ে দিচ্ছে। তারা আমার সেতু ভবন পুড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বিটিভি ভবন পুড়িয়ে দিচ্ছে। তারা আমার অফিস আক্রমণ করতে বারবার আসছে, পার্টি অফিস। তারা গণভবনমুখী আক্রমণ শানাচ্ছে। তো সে সময় আমি কি আমাকে সেইফ করবো না। আমার দলকে সেইফ করবো না! আমার নেত্রীকে সেইফ করতে হবে না? সে সময় পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে আমার ওপর সময়ারোপিত যে দায়িত্ব তা আমি পালন করেছি। এটা যে কেউ করতো। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে তিনিও সেটা করতেন।’
১৫ বছর দেশ শাসন করেছেন, এত বড় পার্টি, আপনারা কী বুঝতে পারলেন না- এত বড় জনমত (আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী) তৈরি হয়েছে। এটা কেন হলো? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একটা আকস্মিক উত্থান। এটা তো শুরু হয়েছে কোটা দিয়ে। শেষ হয়েছে একদফায়। এটা একটা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। একটা বিস্ফোরণ হয়েছে। সেটা ইন্টেলিজেন্সের একটা ব্যর্থতা ছিল এবং ব্যর্থতা ছিল না- এটা বলা যাবে না।’
জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কোনো দায় নিচ্ছেন এই ঘটনার? ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবে আমি কাজ করেছি। এখন জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আমার ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। মানুষের ভুল হবেই।
নিজের ভুল চিহ্নিত করেছেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভুল-ত্রুটি আমারও থাকতে পারে। আমি কাজ করেছি। চাঁদাবাজি করিনি। কমিশন খাইনি। পারসেন্টেজ নেইনি। আমার মন্ত্রণালয় এটা। সবাই জানে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করতে কমিশন নিয়ে কাউকে পদায়ন করিনি। চাঁদাবাজি করিনি। আমি সেদিক থেকে নিজেকে একদম নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করতে পারি।’
আপনাদের সময়ে নির্বাচন, মানবাধিকার হরণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এ সমস্ত অনেক অভিযোগ এবং অনেক দুর্নীতির বিষয়ে সামনে আসছে, এত বড় ঘটনার পরও আপনারা কোনো ভুল স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশ করেননি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমরা এদেশকে যা কিছু দিয়েছি, যা কিছু করেছেন আমাদের নেত্রী, এটার কোনো তুলনা হয় না। এই ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশে কল্পনাই করা যায় না। ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ। ১৫ বছর পরের বাংলাদেশ, দিন আর রাতের মতো পার্থক্য। আমাদের সময়তো না তারা... করে। যারা দিনের আলোতে রাতে অন্ধকার দেখে, যারা অমাবস্যায় দেখে পূর্ণিমা, তারা সমালোচনা করবেই। সমালোচনার বিষয়বস্তু আমাদের আছে। সময় হলে দেশের মাটিতে সবকিছুরই মূল্যায়ন আমরা করছি। দেশের মাটিতে গিয়েও করবো যখন সময় আসে।
অনেকেই বলছেন, আপনি দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন। বলা হচ্ছে, আপনার ভুল-ত্রুটির কারণে আপনাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল। কাইন্ড অব পানিশমেন্ট! এমন প্রশ্নে তিনি বলেন ‘কিছু লোক আছে যারা এসব বলে শান্তি পায়। তাদের এটায় একটা সুখানুভূতি আছে। আমাকে তিন তিনবার সেক্রেটারি করলো। এটা তো অনেকের পছন্দ হওয়ার কথা না। আমাদের মতো পার্টিতেই এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা ছিল। এটা এখনো আছে। আমি যখন হয়েছি তখনো ছিল। কাজেই এটা অবাস্তব কোনো কিছু না। এটা আমাদের মতো দেশে মাল্টি পার্টি সিস্টেম, এখানে আওয়ামী লীগের মতো মাল্টিক্লাস অর্গানাইজেশন, এখানে দলের অভ্যন্তরেও প্রতিযোগিতা, ফলে এ ধরনের কিছু আনপ্লিজেন্ট ঘটনা ঘটতে পারে।’
আপনার নীরবতার তাহলে কারণটা কী ছিল? কাদের বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) নিজেই খুঁজেছেন এবং উনি সবচেয়ে বেশি ওরিড ছিলেন আমার অসুস্থতার জন্য।’
কাদের বলেন, ‘আমি যখন দেশে ছিলাম, নেত্রী (শেখ হাসিনা) বললেন-তুমি টোটাল চেকআপ করো। এখন তোমার অন্যকিছু করতে হবে না। পারলে কিছু লেখো ’৭১ থেকে, দেশ নিয়ে লেখো। সামপ্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়েও লেখো, তোমার চোখে যা দেখেছো। এগুলো নিয়ে লেখালিখি করো। কখন কী করতে হবে আমি বলবো। আমি ওনার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে কখনো দেখা করার চেষ্টা করিনি। উনি যেখানে আছেন, সেখানে হাইসিকিউরিটি। সেখানে গিয়ে আমি কেন দেখা করতে চাইবো। যখন প্রয়োজন তখন উনি আমাকে ডাকবেন। আমি ভালো করেছি কী, মন্দ করেছি, তার সবচেয়ে ভরসা হচ্ছেন-তিনি। তিনি সবকিছু জানেন, আমাদের জীবন, আমাদের কর্মধারা।’
শুনতে পাচ্ছিলাম-আপনার (কাদের) জায়গাতে (সাধারণ সম্পাদক) কে হবেন, এটাই এখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি স্তরের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘ইঁদুর দৌড়’। পরবর্তী জেনারেল সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের থাকছেন না, এবার কে হবেন? এই প্রশ্ন করলে জবাবে কাদের বলেন, ‘‘এই ‘কামড়াকামড়ি’, এটা অসুস্থ রাজনীতি। এখনো আমরা দেশের বাইরে। যে ক্ষমতা আমরা হারিয়েছি, সেটা কখন পাবো তা নিয়ে আমাদের ভাবা দরকার। দলে কে কী হবে, দেশে গিয়ে সেটা ঠিক করা দরকার। এখানে বসে আমরা কামড়াকামড়ি করলে তাতে আমাদেরই ক্ষতি। এখন আমাদের সবার লক্ষ্য, আমাদের দেশকে আবারো বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের ধারায় নিয়ে যাওয়া।’
এ বিষয়ে আশাবাদী কিনা যে, আপনারা (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা) ফিরবেন, এ প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমরা শতভাগ আশাবাদী।’
আশাবাদী কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এই কারণে যে, বাংলাদেশের জনগণ, আপনি এখন পাবলিক অপিনিয়ন নেন-সবাই বলবেন, বেশির ভাগ মানুষ বলবেন শেখ হাসিনাই ভালো ছিল...। শেখ হাসিনাকে হারিয়ে আমরা (জনগণ) অনেক কিছু হারিয়েছি। আমাদের কাছে যেটা, সেটা হলো-আমাদের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। এই জায়গায় আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’
ভারত সরকার ছাড়া অন্য কোনো দেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দিলো না, আবার আপনারা ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশ করছেন না-এ জায়গায় কোনো জেদাজেদি তৈরি হয়েছে বা আওয়ামী লীগ একঘরে হয়ে যাচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না আমরা কারও সঙ্গে জেদাজেদি করবো না, ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। সংকটে আমরা বারবার ভারতের কাছে ছুটে এসেছি। অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দিচ্ছি না। কারও সমালোচনা করছি না। আমরা এখন আমাদের দেশ, আমরা যেখান থেকে স্থানচ্যুত হয়েছি, যেখান থেকে অর্থাৎ দেশের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি, সেই শিকড়ে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমরা কারও বিরুদ্ধে নেই, কারও সমালোচনাও করিনি।’
দেশবাসীর কাছে ন্যূনতম ভুল স্বীকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতে বসে আমি কেন ক্ষমা প্রার্থনা করবো। আমি দেশে গিয়ে করবো। আমার ভুল-ত্রুটি হলে সেটার জন্য আমাদের নেত্রী আছেন। তিনিই দেশবাসীকে বলবেন, এখান থেকে কি বলা ঠিক?’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্বস্তি কমলেও টানাপড়েন কাটেনি: গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে
গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করার পরই নতুন অস্থিরতা শুরু হয়। দেখা দেয় উদ্বেগ। এই অবস্থা নিরসনে আলোচনার জন্য দলগুলো আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর পরে বৈঠকের সূচি ঠিক করে। দুইদিনের এই বৈঠকের আগে শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পরই জানানো হয় প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না।
ওই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে নির্বাচন, সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতসহ অন্যান্য দল সরকারের কথায় আশ্বস্ত হলেও বিএনপি’র সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি বলে নেতারা মনে করছেন। কারণ দলটি যেসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তার কোনোটি নিয়েই সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। বৈঠকে নির্বাচন ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এতে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কোনো বার্তা পায়নি দলটি। বৈঠকে কেন বিএনপিকে ডাকা হয়েছে, সে ব্যাপারেও অর্থপূর্ণ কিছু খুঁজে পাননি দলটির নেতারা।
বিএনপি বলছে, বরাবরের মতো এবারো বৈঠকে বিএনপি’র নেতারা বলেছেন আর প্রধান উপদেষ্টা শুনেছেন। তেমন কোনো মতামত দেননি। বৈঠক ছিল কার্যত ওয়ান-সাইডেড, অর্থাৎ ইন্টার-অ্যাকটিভ কোনো আলোচনা হয়নি। এ ছাড়া বিএনপি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করেছে, সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকেও রাখা হয়েছে। এটাকেও বিএনপি ভালোভাবে নেয়নি। এসব কারণে বৈঠক হলেও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন রয়ে গেছে বিএনপি’র।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের রোডম্যাপ তো উনি (প্রধান উপদেষ্টা) এখনো ঘোষণা করেন নাই। আমরা দাবি রেখে এসেছি। উনি আগের কথাই বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে চেষ্টা করবো, না পারলে জুনের মধ্যে অবশ্যই করবো। তার জন্য উপযুক্ত সময়ের আগেই ঘোষণা (রোডম্যাপ) দেয়া হবে। আর আমাদের দাবি এখনো পুরোপুরি মেনে নেয়া হয়নি। আমরা দাবি জানিয়ে এসেছি, বিতর্কিত তিনজন উপদেষ্টা নানাভাবে এই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।
ওদিকে বিএনপি’র সঙ্গে বৈঠকের পর একইদিন জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনো সময় বেঁধে দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। তবে সংস্কার শেষ হয়ে গেলে ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করছে দলটি। এরপরে টেনে লম্বা করলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না বলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে জামায়াত। অন্যদিকে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং আওয়ামী লীগের আমলের সব নির্বাচন আইনিভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটা সুবিধাজনক সময়ের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার এবং বিচারের কিছু প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে। সংস্কার শেষ না করে যদি কোনো নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। আর মাঝে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। আপাতত দৃষ্টিতে তা কিছুটা কেটেছে। এর স্থায়ী নিষ্পত্তি করতে হলে দুইটা রোডম্যাপ ঘোষণা করলেই তার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। একটা হচ্ছে সংস্কারের রোডম্যাপ, আরেকটা হচ্ছে নির্বাচনের রোডম্যাপ।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের উপর এনসিপি আস্থা রাখতে পারছে না। এই কমিশন সংস্কার করে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হয়। জুলাই গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন (গণপরিষদ) এই তিনটির সমন্বিত রোডম্যাপ যাতে ঘোষণা করা হয়, সেই দাবি আমরা জানিয়েছি। এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমরা চেয়েছি।
ওদিকে রোববার ১৯টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই বৈঠকেও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের কথা কিছু বলেননি সরকারপ্রধান। তবে জুনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দল ও সংগঠনগুলো। তবে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কথা বলেননি। জুনের একদিন পরেও নির্বাচন যাবে না তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৈঠকে অংশ নেয়া রাজনৈতিক ও সংগঠনের চারজন নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, উনি কাজ করতে পারছেন না। হতাশা তৈরি হয়েছিল। সেই অবস্থায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বলেছেন, আমরা যুদ্ধ অবস্থায় আছি। রাজনৈতিক দল ও সংঠনগুলো বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর তাদের সমর্থনের ঘাটতি নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার পরামর্শও দেয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সকল সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ওদিকে কেউ কেউ ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বললেও প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট করে কোনো দিন কিংবা মাসের কথা বলেননি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত আরও দু’জন নেতা মানবজমিনকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, প্রশাসনে কোনো শৃঙ্খলা নেই, কেউ কারও নির্দেশনা মানেন না, এই অবস্থায় নির্বাচন দিলে যে এলাকায় যারা শক্তিশালী তারা ভোটের বাক্স নিয়ে চলে যাবে। এজন্য প্রশাসন ঠিক করে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে চাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে কেউ কেউ ডিসেম্বরে সম্ভব না হলেও জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেয়ার পরামর্শ দিলেও প্রধান উপদেষ্টা জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা আবারো পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আগের কথাই বলেছেন, অল্প সংস্কার চাইলে ডিসেম্বরে, আর বেশি সংস্কার চাইলে জুনে নির্বাচন হবে। আর বলেছেন, উনি জুনের পরে যেতে চান, এজন্য লিখিতভাবে যদি দিতে হয়, তাও উনি দিতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন নির্বাচনের জন্য প্রশাসন অপ্রস্তুত। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত কীভাবে নির্বাচন দেবেন সেই বিষয়টিও প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। আর নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে হবে বলে সরকারপ্রধান আমাদের জানিয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মানবজমিনকে বলেন, সংস্কারের ভিত্তিতে আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। সংস্কারে আমরা সরকারকে সমর্থন করবো বলে জানিয়েছি।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু মানবজমিনকে বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা একটা যুদ্ধ অবস্থায় বিরাজ করছি। আর প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, উনি পদত্যাগ করবেন না।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মানবজমিনকে বলেন, বৈঠকে নির্বাচন, সংস্কার, বিচার ও নারী কমিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি না করে সুনির্দিষ্টভাবে রোডম্যাপ ঘোষণার করার কথা আমরা বলেছি। আর ধর্মীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কিছু তার দ্বারা হবে না বলে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন মানবজমিনকে বলেন, এই বৈঠককে আমরা চলমান সংকট উত্তরণের অগ্রগতি মনে করি। এর মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো গণঐক্যের দিকে হাঁটা শুরু হলো।
গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে
সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ আরও অনেক বিষয় অমীমাংসিত থেকে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বেশকিছু সুপারিশের বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন তিনি।
এর মধ্যে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের কাঠামো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কতোবার নির্বাচিত হতে পারবেন, একজন সংসদ সদস্য কতোগুলো পদে থাকতে পারবেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া কী হবে- এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিত থেকে গেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্বের সংলাপ শেষে অগ্রগতি তুলে ধরতে গতকাল সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলন করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার মধ্যদিয়ে জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মে মাসের শেষে বা জুনের শুরুতে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু হবে। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
সংবিধান সংস্কারে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া গেছে তা তুলে ধরতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে ‘বহুত্ববাদ’ না রাখার ব্যাপারে অধিকাংশ দল মতামত দিয়েছে। অন্য চারটি মূলনীতির ব্যাপারে এক ধরনের ঐকমত্য আছে। তবে অনেক দল এই চারটির বাইরেও অন্যান্য বিষয় যুক্ত করার কথা বলেছে।
তিনি বলেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের ব্যাপারে অধিকাংশ দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। কিছু দল অবশ্য এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। নিম্নকক্ষে নারীদের জন্য ১০০ আসন সংরক্ষণের প্রশ্নে এক ধরনের ঐকমত্য রয়েছে দলগুলোর মধ্যে। তবে এর পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। যারা সংসদের উভয় কক্ষের পক্ষে এবং যারা এক কক্ষবিশিষ্ট আইন সভার পক্ষে, উভয়ই আইন সভায় ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেয়ার পক্ষে বলে জানান তিনি।
আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের ৪৮(ক) অনুচ্ছেদ যা কার্যত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নির্ধারণ করে, তা সংশোধনের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা রদ করে আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার প্রস্তাবে অধিকাংশ দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। কোনো কোনো দল প্রবীণতম তিন বিচারকের মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ক কমিশনের যেসব সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে তা তুলে ধরতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, দল নিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিধান করার ব্যাপারে অধিকাংশ দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা শপথ ভঙ্গ করলে মেয়াদ শেষে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করবে প্রস্তাবিত সংসদীয় কমিটি। এরপর সেই কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ পাঠাবেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে। এ বিধানের বিষয়ে বেশির ভাগ দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রশ্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দলগুলো। এর আইনি দিক বিবেচনার জন্য অধিকাংশ দল গুরুত্ব দিয়েছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত এবং ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন প্রশ্নে অধিকাংশ দল একমত পোষণ করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে পুনর্গঠন করে তিনটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করার ব্যাপারে বেশির ভাগ দল নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের পুরনো চারটি বিভাগের সীমানাকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালু করা, বিদ্যমান জেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করা, ওয়ার্ড মেম্বারদের ভোটে পৌরসভার চেয়্যারম্যান নির্বাচিত হওয়া এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে বেশির ভাগ দল একমত হয়নি।
দুদক সংস্কার কমিশনের বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, দুদক সংস্কারে কমিশনের সব সুপারিশের পক্ষেই মোটাদাগে রাজনৈতিক দলগুলো নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 27
(23)
- পবিত্র আল–আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের ওপর উ...
- যুদ্ধবিরতিতে রাজি হামাস, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে...
- মঙ্গোলিয়ার রাজনীতি উত্তাল: প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে...
- কেন ওবায়দুল কাদের রেগে গেলেন
- ফরাসি প্রেসিডেন্টের গালে স্ত্রীর ‘চড়’: বয়সে ২৪ বছর...
- গাজায় বর্বরতার জেরে কূটনৈতিক সংকটে ইসরায়েল
- যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি, রাজি...
- নিহত মাদ্রাসা শিক্ষককে ‘সন্ত্রাসী’ বানাল ভারতীয় মি...
- গাজায় শিশুরা ক্ষুধায় মরছে, আমরা কী করছি by রিয়ানন ...
- গাজায় খাবারের খোঁজে ‘রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে’ ক্ষুধা...
- ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর: কুকুর লেজ নাড়ছে, নাকি ল...
- গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে খাদ্যের অভাবে কঙ্কালসার শিশু...
- গাজা: বিবিসি সাংবাদিকের মর্মস্পর্শী বর্ণনা
- স্কুলে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, ইসরাইলের হামলায়...
- আগামী মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে মাল্ট...
- ঋতুস্রাবের ছুটি চেয়ে হেনস্তার শিকার এক শিক্ষার্থী
- নারীর নেশাতেই পতন: যেভাবে দিনমজুর থেকে শীর্ষ সন্ত্...
- ৫ই আগস্ট বাথরুমে পাঁচ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলাম -ওবায়দুল ...
- অস্বস্তি কমলেও টানাপড়েন কাটেনি: গুরুত্বপূর্ণ অনেক ...
- রয়টার্সের প্রতিবেদন: চাপে ইউনূস সরকার, ক্রমাগত বিক...
- ভারতীয় মিডিয়ায় সীমান্তের গোলাগুলিতে নিহত ব্যক্তিকে...
- দুই ছিনতাইয়ের ভিডিও ভাইরাল: ভুক্তভোগী তরুণের মুখে ...
- পুতিন এখন পুরোপুরি পাগল: ট্রাম্প
-
▼
May 27
(23)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






