Wednesday, September 14, 2016

ঈদ ও কোরবানি by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানের দুটি ঈদ—ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ এবং ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আজহা অর্থ হলো কোরবানি, জবাই বা জবেহ করা অথবা কোরবানির পশু; আজহার আরেক অর্থ হলো ছাগল, তাই একে বকরি ঈদও বলা হয়। কোরবানি অর্থ নৈকট্য, কোরবানি অর্থ ত্যাগ-তিতিক্ষা। যেকোনো ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই হলো কোরবানি। পরিভাষায় কোরবানি হলো জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বপর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট জন্তু জবাই করা। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কোরবানি করেন বাবা আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল (রা.) ও কাবিল। হাবিল কোরবানি দিয়েছিলেন দুম্বা আর কাবিল কোরবানি দিয়েছিলেন কিছু খাদ্যশস্য। সেকালে কোরবানি কবুল হলে আসমানি আগুন এসে তা পুড়ে ভস্ম করে দিত আর কবুল না হলে তা হতো না। হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল, কাবিলের হয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন: আদম (আ.)-এর পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত আপনি তাদের শোনান। যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো আর অন্যজনেরটা কবুল হলো না। অবশ্যই আল্লাহ মুয়াজ্জিনদের কোরবানি কবুল করেন। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২৭)।
কালক্রমে যুগপরম্পরায় বিভিন্ন রূপে এই কোরবানির প্রচলন চালু ছিল। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আদিষ্ট হয়েছিলেন প্রিয় বস্তু কোরবানি করার জন্য। এই আদেশ পালন করে প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি সকল প্রকার আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন প্রিয় পুত্র |ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার। প্রভুপ্রেমের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন সফলতার সঙ্গে। কোরবানি হলো বেহেশতি দুম্বা। কোরবানি ইসলামি ঐতিহ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবী! সা.) আপনি আপনার রবের উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন। (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছে না আসে। (ইবনে মাজা)। কোরবানির ইতিহাস পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক নেক সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি তাকে এক সহিষ্ণু পুত্রের সুসংবাদ দিলাম, অতঃপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম (আ.) বললেন, “হে বত্স! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে তোমাকে আমি জবাই করছি, তোমার অভিমত কী?” সে বলল, “হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন, তা-ই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম (আ.) তাঁর পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন, তখন আমি তাঁকে ডাক দিয়ে বললাম, “হে ইব্রাহিম! আপনি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করলেন!” এভাবেই আমি সত্কর্মশীল ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাঁকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানির বিনিময়ে। আমি এটা পরবর্তী বংশধরদের স্মরণে রেখে দিলাম। ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্য অভিবাদন! আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও শুভেচ্ছা।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১০০-১১০)।
কোরবানি সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কোরবানি কী? এটা কোথা থেকে এসেছে? প্রিয় নবী (সা.) উত্তরে বললেন, এটা হলো তোমাদের পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত বা আদর্শ। এই আদর্শকে অনুসরণের জন্যই আল্লাহ পাক তোমাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কী রয়েছে? উত্তরে মহানবী (সা.) বললেন, কোরবানি জন্তুর প্রতিটি পশমে তোমরা একটি করে নেকি পাবে। সাহাবায়ে কেরাম বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা যদি ভেড়া কোরবানি করি? ভেড়ার তো অনেক বেশি পশম, এর বিনিময়েও কি আল্লাহ আমাদের ছাওয়াব দেবেন? নবী করিম (সা.) বললেন, আল্লাহর ভান্ডার অফুরন্ত। কেউ যদি তাকওয়ার সঙ্গে আল্লাহর নামে ভেড়া কোরবানি করে, তাহলে তার বিনিময়ে তাকে সে পরিমাণ ছাওয়াব আল্লাহ অবশ্যই দান করবেন। কোরবানি করার সময় হলো ১০ জিলহজ ঈদের দিন ঈদের নামাজের পর থেকে ১১ জিলহজ ও ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বপর্যন্ত। এই তিন দিন (১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বপর্যন্ত) সময়ের মধ্যে যদি কেউ সাহেবে নিসাব বা মালিকে নিসাব (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসাপণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তাহলে তাঁর নিজের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স এক বছর হতে হয়; গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে।
একটি কোরবানি হলো একটি ছাগল, একটি ভেড়া বা একটি দুম্বা অথবা গরু, মহিষ ও উটের সাত ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ একটি গরু, মহিষ বা উট সাতজন শরিক হয়ে বা সাত নামে, অর্থাৎ সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়। শুধু গৃহপালিত হালাল পশুই কোরবানি করা যায়, বন্য পশু নয়। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি ইচ্ছা করলে নফল কোরবানি দিতে পারবেন। ওয়াজিব কোরবানির পাশাপাশিও নফল কোরবানি দেওয়া যায়। একজনের কোরবানি আরেকজন প্রদান করলেও আদায় হবে। কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা উত্তম; অন্য কেউ জবাই দিলেও হবে, নাবালক এবং নারীরাও কোরবানির পশু জবাই করতে পারবেন। ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করলেই কোরবানি শুদ্ধ হবে। তবে নির্দিষ্ট দোয়া জানা থাকলে পড়া উত্তম। ইবাদত মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, মোমিন বান্দা তার কোনো ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করবে না। অর্থাৎ ইবাদত হতে হবে সকল প্রকার শিরকমুক্ত, শুধু এক আল্লাহর উদ্দেশে। মহান রাব্বুল আলামিন হজরত ইব্রহিম (আ.)-কে সে শিক্ষাই দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে: ‘বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু সমগ্র জগতের প্রতিপালক আল্লাহর
জন্যই নিবেদিত।’ এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল কোরবানি শুধু আল্লাহর উদ্দেশেই হতে হবে। লৌকিকতা বা সামাজিকতার উদ্দেশে নয়। সুতরাং কেউ যদি লাখ টাকার গরু দিয়ে লোক দেখানোর জন্য অথবা নিজের দম্ভ ও অহংকার প্রকাশের জন্য কোরবানি দেন, তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে ওদের গোশত, রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছায় তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)। ঈদের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, ফজরের নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা, সকালে গোসল করা, মিসওয়াক করা, সম্ভব হলে নতুন জামা অথবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা, আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা, ঈদগাহে এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় ফিরে আসা, আসা-যাওয়ার সময় তাকবির (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ) বলা, খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা ইত্যাদি। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা সুন্নত ও অতি উত্তম আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে প্রকৃত মুমিন নয় যে নিজে পেটপুরে খায়; কিন্তু তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। (তিরমিজি)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com

টঙ্গীর কারখানায় বিস্ফোরণ

ঈদুল আজহার ছুটি কাটানোর আনন্দঘন মুহূর্তে টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীতে একটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেজিং কারখানার বিয়োগান্ত দুর্ঘটনায় আমরা মর্মাহত। ২৫ জনের অকাল মৃত্যু, আরও অন্তত ১০ জনের নিখোঁজ থাকা ও ৫০ জনের আহত হওয়ার ঘটনা আমাদের এই অপ্রিয় সত্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, আমাদের কলকারখানাগুলো এখন পর্যন্ত মেহনতি শ্রমিকের নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত হওয়া থেকে অনেক দূরে রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিস্ফোরণের পরে আগুনের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির কথা বলেছেন। আমরা আশা করব একই সঙ্গে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা তদারকির বিষয়টি জোরদার করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। সারা দেশের জন্য অনধিক ১০ জন বয়লার পরিদর্শক থাকা কোনো কাজের কথা নয়। বিস্ফোরণের পর সংশ্লিষ্ট ভবনটির অংশবিশেষ যেভাবে উড়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আমাদের রানা প্লাজার বিয়োগান্ত স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
নির্মাণে বড় ধরনের ত্রুটির কারণে রানা প্লাজা ধসে পড়েছিল। আর এক সাবেক সাংসদের মালিকানাধীন টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডের যে ভবনে মূল দুর্ঘটনা, সেটি ৪৫ বছরের পুরোনো। একটিমাত্র ফটকনির্ভর এই পাঁচতলা কারখানা বিসিক নগরীতে কী করে নিয়মনীতি না মেনে এতকাল চলেছে, সেটি একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন। ভবনটিতে জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। উপযোগী ভবন ও কর্মীদের যথা প্রশিক্ষণ থাকলে হয়তো প্রাণহানি কম হতো। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক মো. শরাফত আলী তাঁর রিপোর্টে বয়লার বিস্ফোরণ বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরের সত্যতা নাকচ করেছেন। কারণ, বয়লার অক্ষত রয়েছে। আশা করব ঘটনার তদন্তে গঠিত দুটি সরকারি কমিটি তাদের রিপোর্ট দ্রুত জমা দেবে, যার আলোকে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিরূপণ হওয়া উচিত। আর দুর্ঘটনার দিনেই বয়লার পরিদর্শক তঁার সরকারি প্রতিবেদন ই–মেইলে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন, জবাবদিহির এই মনোভাবকে আমরা স্বাগত জানাই। এখন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচিত দুর্ঘটনাকবলিত কারখানা টাম্পাকো ফয়েলসের গ্যাস নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট প্রকাশ করা।

কাশ্মীরে পৃথক ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা ও চার জঙ্গি নিহত

ভারতশাসিত কাশ্মীরে গতকাল রোববারও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল পৃথক ঘটনায় পুলিশের এক সদস্য ও চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান শহর শ্রীনগরের উত্তর-পশ্চিমে ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় চার জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করেন ভারতের সেনারা। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এন এন জোশি বলেন, তারা নওগাম সেক্টর দিয়ে ভারত সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করে। চার জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে একে ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে শ্রীনগরের দক্ষিণে পুঞ্চ সেক্টরে অজ্ঞাতসংখ্যক জঙ্গির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই দিন কাশ্মীর উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের পুলওয়ানাসহ দুটি স্থানে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ২০১০ সালের পর থেকে মুসলিম-অধ্যুষিত এই এলাকায় ভয়াবহ সহিংসতায় ৮০ জন বেসামরিক লোক নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার লোক।

‘হাত দিয়ে সূর্য ঢাকতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র’

চীনের সীমান্তবর্তী উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে দেশটির
দুই সেনা সদস্য। পরমাণু পরীক্ষার পর দেশটির
সেনারা বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে। রয়টার্স
উত্তর কোরিয়া বলেছে, দেশটিকে ‘বৈধ পরমাণু শক্তিধর দেশ’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতেই হবে। শুক্রবার পঞ্চম ও সবচেয়ে বড় পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল রোববার পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হয়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কেএনসিএ বলে, ‘প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈধ পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থানকে অস্বীকার করার জোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি এমন যে তারা হাত দিয়ে সূর্যকে ঢাকতে চাইছে।’ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পরমাণু পরীক্ষায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তবে উত্তর কোরিয়া পরমাণু পরীক্ষার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু হুমকি মোকাবিলার জন্যই এ পরীক্ষা। গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালায়।
গতকালের বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া বলেছেন, তাদের পরমাণু শক্তির পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এদিকে পঞ্চম পরমাণু পরীক্ষার ওপর তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির চেষ্টাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন উত্তর কোরিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র। ওই মুখপাত্র বলেন, এখন পর্যন্ত ওবামা ও তাঁর সঙ্গীরা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যেসব অনর্থক কথা আওড়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই হাস্যকর। গতকালই যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষ দূত বলেন, তাঁর দেশ এককভাবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। পরমাণু বিস্ফোরণের পর পাশের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তরের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়া হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর পরমাণু হামলার কোনো চেষ্টা করলে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংকে ধূলিসাৎ করে দেবে তারা।