Tuesday, January 5, 2010

ব্রাজিলে ভূমিধসে ৪৪ জন নিহত

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ছোট বিলাসবহুল হোটেলের ওপর ভূমিধসের ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই শুক্রবার খ্রিষ্টীয় নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ওই হোটেলে জড়ো হয়েছিলেন। এ ঘটনায় এখনো অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। খবর এএফপির।
রিও ডি জেনিরোর ডেপুটি গভর্নর লুইজ ফার্নান্দো পিজাও জানান, রিও ডি জেনিরোর ইলহা গ্রানডি এলাকায় একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হোটেল সানকেতে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বড় বড় পাথর ও গাছসহ পাহাড়ের একটি অংশ ওই হোটেলসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ির ওপর ধসে পড়ে। এতে ৪৪ জন নিহত হন। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনো অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কর্নেল পেড্রো মাকাদো জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১০০ জন উদ্ধারকর্মী হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
মাকাদো আরও জানান, উদ্ধার তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় তাঁরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারছেন না।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা উদ্ধার কাজের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নৌবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মৌসাভি সংস্কারের জন্য মরতেও রাজি

ইরানের বিরোধী নেতা মির হোসেন মৌসাভি বলেছেন, সংস্কারের জন্য মৃত্যুকে বরণ করে নিতেও তিনি ভীত নন। গত শুক্রবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। গত মাসের শেষের দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাঁর ভাগ্নেসহ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া। খবর বিবিসির।
মির হোসেন মৌসাভি তাঁর বিবৃতিতে বলেন, পরিস্থিতির জন্য সরকার, পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগকে অবশ্যই সরাসরি দায়দায়িত্ব নিতে হবে। নিজের কালেমে ডট ওআরজি ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর নিজেদের ন্যায়সংগত জাতীয় ও ধর্মীয় দাবিতে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের মতো শহীদ হতে আমি অনিচ্ছুক নই।’
অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে কট্টরপন্থীরা তিনিসহ বিরোধীদলীয় নেতাদের যে কড়া সমালোচনা করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন মৌসাভি।
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ‘স্বচ্ছ আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বীকৃতিসহ জনগণের বিক্ষোভের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৌসাভি।
তিনি বলেন, ‘আমি খোলাখুলিভাবে বলছি, যতদিন পর্যন্ত না দেশে চলমান মারাত্মক সংকটের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হবে, তত দিন সংকট সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ মৌসাভি বলেন, তাঁকে অথবা অন্য বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার কিংবা হত্যা ‘পরিস্থিতি শান্ত করবে না’।

আফগানিস্তানে হামলার প্রতিশোধের অঙ্গীকার সিআইএর

আফগানিস্তানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাত কর্মীকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। গত বুধবার চালানো ওই হামলায় সিআইএ’র একজন নারী-কর্মীও নিহত হন।
১৯৮৩ সালে বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণে সিআইএর আট সদস্য নিহত হওয়ার পর এটি ছিল একসঙ্গে সিআইএর কর্মীদের সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থাগুলোকে বলেন, তাঁরা ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া নিশ্চিত করতে চান এবং তাঁরা এ কাজে সক্ষম। কর্মকর্তারা বলেন, সফল ও আক্রমণাত্মক সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে দুবার মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান থেকে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ওই দুই হামলায় পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
আফগান সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি মার্কিন ঘাঁটিতে ওই হামলা চালায়। ওই আত্মঘাতী হামলাকারীর চারপাশে যখন সর্বোচ্চসংখ্যক সিআইএ কর্মী ছিলেন, তখনই সে তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। জানা গেছে, ওই হামলাকারীর শরীরে কোনো নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়নি।
আত্মঘাতী হামলাকারী আফগান সেনাবাহিনীর সদস্য কি না, তা নিয়েও কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, হামলাকারী ছিল আফগান সেনাবাহিনীর সদস্য। কিন্তু আফগান সেনাবাহিনী ও সরকারের মুখপাত্র তালেবানের ওই দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
মনে করা হচ্ছে, ওই আত্মঘাতী হামলাকারীকে সম্ভবত চর হিসেবে তৈরি করছিল সিআইএ। এ কারণে সে কোনো তল্লাশি ছাড়াই ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে ও ঘাঁটির অনেক ভেতরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ব্যায়ামাগারে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া মার্কিন ঘাঁটিতে ওই হামলার পর আফগান সেনাবাহিনী ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাস বেড়ে গেছে।

লাদেনের মেয়ে ইমানকে ইরান ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের মেয়ে ইমানকে ইরান ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য সে দেশের সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। জিনিউজ।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সউদ আল ফয়সাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, লাদেনের মেয়ের মুক্তির ব্যাপারে ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন তাঁরা।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর থেকেই ইরানে গৃহবন্দী ছিলেন ইমান। সম্প্রতি গৃহবন্দী অবস্থা থেকে পালিয়ে তেহরানের সৌদি দূতাবাসে আশ্রয় নেন।
প্রিন্স সউদ জানান, সৌদি আরবে ভ্রমণের জন্য দূতাবাস ইমানকে অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারটি তাঁরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছেন।
২০০১ সালের পর থেকেই ইমান ও তাঁর পাঁচ ভাইবোন ইরানে গৃহবন্দী রয়েছেন। বিন লাদেনের চতুর্থ সন্তান ওমরের স্ত্রী জায়না বিন লাদেন বিবিসিকে বলেন, বাড়িতে তাঁরা যেখানে গৃহবন্দী আছেন সেখানে বাগান ও সুইমিং পুল রয়েছে। তাঁদের ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে ইন্টারনেটের কোনো সংযোগ নেই।

কলম্বিয়ায় ফার্ক গেরিলাদের দুটি ঘাঁটিতে বিমান হামলা

কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মেটা এলাকায় গভীর জঙ্গলে বামপন্থী ফার্ক গেরিলাদের দুটি ঘাঁটির ওপর বোমা বর্ষণ করেছে দেশটির বিমানবাহিনী। এ সময় স্থলপথে বিমানবাহিনীকে সহযোগিতা করে বিশেষ বাহিনী। ওই যৌথ অভিযানে ১৮ জন গেরিলা নিহত হয়েছে। ওই সময় সরকারি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে ১১ জন গেরিলা। গত শুক্রবার নববর্ষের দিন ওই অভিযান চালানো হয়।
একই দিন পৃথক আরেকটি ঘটনায় গেরিলাদের হামলায় মারা গেছেন এক সেনা ও ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হুইলা অঞ্চলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ কথা বলা হয়। খবর এএফপি ও পিটিআইয়ের।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল সিলভা বলেন, বিমানবাহিনী মেটায় গেরিলাদের ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ করেছে। এ সময় স্থলপথে বিশেষ বাহিনীও অভিযান চালিয়েছে। সিলভা আরও বলেন, ১০ দিন আগে দক্ষিণাঞ্চলের ক্যাকুয়েতা এলাকার গভর্নর লুইস ফ্রান্সিসকো কুয়েলারকে অপহরণের পর হত্যা করে ফার্ক গেরিলারা। ওই হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়াও এ অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

পাকিস্তানে বিস্ফোরণে সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রীসহ নিহত চার

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গতকাল রোববার রাস্তার ধারে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক এক মন্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাঙ্গু শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বাগতো গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
হাঙ্গু শহরের পুলিশপ্রধান আবদুল রশিদ খান জানান, বোমার বিস্ফোরণে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী ঘান্নি-উর রেহমানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত অপর তিনজনের একজন তাঁর বন্ধু, একজন দেহরক্ষী ও গাড়িচালক।
হাঙ্গু শহরের প্রধান হাসপাতালের একজন চিকিত্সকও রেহমান ও অপর তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের মুখপাত্র ফজল নঈম জানিয়েছেন, বোমাটি রাস্তার ধারে পেতে রাখা ছিল। দূর-নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
তালেবান এবং আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এতে বহু লোক হতাহত হচ্ছে।

শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত শিয়া বিদ্রোহীরা বলেন, সরকার যদি তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ‘সম্পূর্ণ’ অবসানের ঘোষণা দেয়, তাহলে তাঁরা সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। গতকাল শনিবার বিদ্রোহীদের এক নেতা এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ আবদেল সালাম নামে ওই নেতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে টেলিফোনে বলেন, ‘যখন যুদ্ধ বন্ধ হবে, তখন আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত হব।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর আহ্বানের জবাবে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন।
নতুন বছর উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি দৈনিক আল-থাওরা পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট সালেহ শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারঘোষিত শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, বিদ্রোহীদের সহিংসতা পরিত্যাগ, সরকারি ভবন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার ও আইনের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
প্রেসিডেন্ট লিখেন, যদি তাঁরা শান্তির জন্য এই আহ্বান গ্রহণ করে, তাহলে রাষ্ট্র শান্তির হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানের জবাবে আবদেল সালাম বলেন, ‘আলোচনা আবারও শুরুর জন্য প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। যাকে আমরা শান্তির পথে একধাপ অগ্রগতি এবং ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছি।’

আফগানিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২২ মে

আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, এ বছরের মে মাসে সে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আফগানিস্তানের নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যেই গতকাল শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলী নাজাফি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২২ মে আফগানিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১২ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হবে। তিনি এ জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ কোটি ডলার সাহায্য চেয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এ অর্থ পাওয়া না গেলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা আসবে কি না, সে সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায় জাতীয় নির্বাচন দেরিতে অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দেন। আফগান সংবিধানে মে মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে।

১২৫ বছরে কংগ্রেস হচ্ছে আরও শক্তিশালী

১৯৮৫ সালে কংগ্রেসের শতবার্ষিকী উদ্যাপনের সময় ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মুম্বাইতে তাঁর বিখ্যাত ভাষণে সামন্ততন্ত্রের পথে গণ-আন্দোলন করায় দলটির সমালোচনা করেছিলেন। রাজীব তখন বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কংগ্রেস সামান্য কিছুই করেছে। সম্ভবত রাজীব তখন ঠিক বলেছিলেন। কেননা, ১৯৮৯ সালের নির্বাচনেই হেরেছিল কংগ্রেস। যদিও দলটি ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। আবার ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয় তাদের।
কংগ্রেস এখনো তাদের ১২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা আগের অবস্থান ফিরে পেয়েছে। এটা সত্যি, কংগ্রেস এখন তাদের প্রথম দুই দশকের মতো প্রভাবশালী নয়। বিহার, উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে দলটির প্রতি জনসমর্থন কম।
দলটি খুব পুরোনো হতে পারে কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, দলটির শক্তি শেষ হয়ে যায়নি। তা ছাড়া বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও বাম দলগুলোর অবস্থা দেখে বোঝা যায়, কংগ্রেসের ভবিষ্যত্ খুব উজ্জ্বল। সরকার পরিচালনায় অন্য দলগুলোর অক্ষমতা দেখার পর জনগণ কংগ্রেসকে সমর্থন করছে। ধর্ম ও বর্ণ ও শ্রেণীর কথা বিবেচনা না করে দলটি সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। গুজরাটে দাঙ্গার কারণে ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেরেছিল বিজেপি। একই কারণে উড়িষ্যায় ক্ষমতায় থাকার পরও খ্রিষ্টানবিরোধী দাঙ্গার কারণে ২০০৯ সালের নির্বাচনে হারে দলটি।
কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে থেকে একটি পরিবার এখনো দলটির মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখেছে। মতিলাল নেহরু থেকে শুরু করে জওহর লাল নেহরু, ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া এবং বর্তমানে রাহুলসহ পরিবারটিকে সাধারণ জনগণ ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে দেখে আসছে। বিজেপি পরিবারতান্ত্রিক এ শাসনের সমালোচনা করে এবং সোনিয়া গান্ধীকে বিদেশিনী বলে নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালায়। বেশির ভাগ ভারতীয়র মতে, একটি ভারতীয় পরিবারে বিয়ে হওয়ায় সোনিয়া একজন ভারতীয় নাগরিক। তাঁর শাশুড়ি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতো সোনিয়া স্বৈরাচারী নন। ইন্দিরার কিছু নীতির জন্য দলটিকে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে মূল্য দিতে হয়েছিল।
কর্তৃত্ববাদী ও দুর্নীতি দল এবং পরিবারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করলেও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তাদের ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু সোনিয়ার মধ্যে ভোটাররা এমন কিছু পেয়েছেন, যা কিনা বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) চেয়ে বৃহত্তর সমর্থন পাওয়ার উপযুক্ত। তাঁর উপস্থিতি সংখ্যালঘুদের কাছে আশার বাণী পাঠিয়েছে। ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সোনিয়া রাজনীতিতে আরও পরিণত হয়েছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী পদে মনমোহন সিংকে নির্বাচিত করায় দলের ভাবমূর্তি অনেকখানি উজ্জ্বল হয়।
অনেক আগে অনেকেই কংগ্রেসের মৃত্যুর কথা লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ করা যায় লর্ড কার্জনের কথা। ১৯০০ সালেই তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস শেষ হয়ে যাবে। এর আট বছর পর মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) ২৩তম কংগ্রেস সম্মেলনে রাসবিহারি ঘোষ বলেছিলেন, ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস শেষ হয়ে যায়নি। শেষ হয়ে যাওয়া এর লক্ষ্য নয়।’
১০০ বছর পর তাঁর কথা সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। দলটি এখন তাকিয়ে আছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের দিকে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন উদ্বোধন করতে যাচ্ছে দুবাই

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কাল সোমবার ‘বুর্জ দুবাই’ নামে একটি আকাশচুম্বী ভবনের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এটি হবে বিশ্বে মানুষের তৈরি সর্বোচ্চ কাঠামো এবং যেকোনো বিচারে সর্বোচ্চ ভবন। সরকারের আংশিক অংশীদারিমূলক ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইমার এটি তৈরি করে।
ইমার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বুর্জ দুবাইয়ের সঠিক উচ্চতা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্ভবত সবার মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল জিইয়ে রাখতে চাচ্ছে। তবে ইমার এটুকু বলেছে, বুর্জ দুবাই তাইওয়ানের ১০১ তলাবিশিষ্ট তাইপে টাওয়ার থেকে ৮০০ মিটার বেশি উঁচু।
শিকাগোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিলের (এসওএম) অংশীদার প্রকৌশলী বিল বেকার বলেন, বুর্জ দুবাই বিশ্বে নতুন রেকর্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে স্বীকৃত তাইপের ১০১ তলা ভবনের চেয়ে কিছু উঁচু। ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে এবং এতে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার। অডরিন স্মিথ নামে একজন মার্কিন স্থপতি ভবনটির নকশা তৈরি করেন। এতে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এক হাজার ৪৪টি। ভবনটিকে ৫৯ মাইল দূর থেকেও দেখা সম্ভব হবে।

ডেনিশ কার্টুনিস্টের বাড়িতে হামলাকারী গুলিবিদ্ধ

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র এঁকে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ডেনিশ কার্টুনিস্ট কুর্ট ওয়েস্টারগার্ডের বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টার সময় এক সোমালীয়কে গুলি করেছে ডেনিশ পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ওয়েস্টারগার্ডের আরহাস শহরের বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই সোমালীয়র সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-শিবাব ও আল-কায়েদার সম্পর্ক রয়েছে।
ডেনিশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা পিইটির বিবৃতিতে বলা হয়, ২৮ বছর বয়সী ওই সোমালীয়র জঙ্গিবাদী অভিপ্রায় ছিল। সোমালিয়ার কট্টরপন্থী সংগঠন আল-শিবাব ও আল-কায়েদার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
চার বছর আগে একটি ডেনিশ সংবাদপত্রে হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ওয়েস্টারগার্ডকে বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
হামলাকারী সোমালীয় ব্যক্তি যখন ওয়েস্টারগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আরহাসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালান, তখন পুলিশ ওই বাড়িটি পাহারা দিচ্ছিল। ডেনিশ বার্তা সংস্থা রিটজাউকে ওয়েস্টারগার্ড বলেন, ‘আমি নিরাপদ কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সে একটি কুড়াল দিয়ে বাড়ির প্রবেশ দরজা ভাঙার চেষ্টা করে।’ হামলার সময় পাঁচ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
দ্য ডেইলি পলিটিকেন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, বাড়িতে ঢোকার চেষ্টার সময় রক্ষীরা তার ওপর গুলি চালায়। ওই সময় হামলাকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে কুড়াল ছুড়ে মারে বলেও পুলিশ জানায়। বাহু ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত ওই সোমালীয় ব্যক্তি এখন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
পিইটির বিবৃতিতে বলা হয়, কার্টুনিস্ট কুর্ট ওয়েস্টারগার্ডকে হত্যাচেষ্টাকারীর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক রয়েছে। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সঙ্গে সোমালীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-শিবাবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আল-কায়েদার সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, ডেনমার্কে বৈধভাবে বসবাসকারী ওই সোমালীয় পূর্ব আফ্রিকায় থাকার সময় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, হামলাকারীর বিরুদ্ধে কার্টুনিস্ট ওয়েস্টারগার্ড ও পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে হামলার নতুন পথ খুঁজছে সন্ত্রাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে হামলার জন্য নতুন উপায় খুঁজছে। সন্ত্রাসীরা মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যাচাই করে দেখতে দেশটিতে হামলার পরিকল্পনা করছে। গত বড়দিনে ডেট্রয়েটের আকাশে মার্কিন বিমানে ব্যর্থ জঙ্গি হামলার চেষ্টা আমাদের জন্য বড় ধরনের একটি সতর্কবার্তা।’
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫ জানিয়েছে, বড়দিনে মার্কিন বিমানে হামলার চেষ্টাকারী নাইজেরীয় নাগরিক ওমর ফারুক আবদুল মোতালেব সম্পর্কে তারা সবিশেষ অবগত ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য দেয়নি। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য সানডে টাইমস-এর খবরে এ কথা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নতুন করে হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালক মাইকেল লেইটার শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা তাদের হামলার ধরন পাল্টানোর চেষ্টা করছে। এর পরিণতি কী হতে পারে সে সম্পর্কেও মার্কিন কর্মকর্তারা অবহিত আছেন।
লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অপরাধ বিশেষজ্ঞ হার্ভে কুশনার বলেন, বড়দিনে যে কায়দায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছিল, সে ধরনের হামলা থেকে ফ্লাইট সুরক্ষার মতো প্রযুক্তি বর্তমানে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোর অনেকটিতেই নেই। হামলাকারী ওমর তাঁর অন্তর্বাসের মধ্যে বিশেষ কায়দায় ৮০ গ্রাম পেনট্রাইট (পিইটিএন) বিস্ফোরক নিয়ে বিমানটিতে উঠেছিলেন। পরে ওমর ওই বিস্ফোরক দিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রুদের তত্পরতায় ওমরের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কুশনার আক্ষেপ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর হামলার প্রায় নয় বছর হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে আকাশে যাত্রীবাহী বিমানের নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করা হয়েছে কোটি কোটি ডলার। কিন্তু বিমানে এমন কোনো প্রযুক্তি এখনো আবিষ্কার করা যায়নি, যা দিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫ বলেছে, তারা নাইজেরীয় নাগরিক ওমরকে নজরদারিতে রেখেছিল। ওমর ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে ছিলেন। ওই সময় তিনি সেখানে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। গোয়েন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য সানডে টাইমস জানায়, অন্য যুবকদের মতোই ওমরও কিছুটা চরমপন্থী ভাবাদর্শী ছিলেন। কিন্তু তিনি সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় জড়িত হওয়া কিংবা সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা দেওয়ার মতো কাজ করবেন—এমনটা ভাবেননি গোয়েন্দারা। এ কারণেই তাঁরা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে ওমরের ব্যাপারে তথ্য সরবরাহ করেননি। তবে ওই হামলার চেষ্টার পর তাঁরা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে এখন বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনে ওমরের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা ম্যাথু সালমন বলেছেন, ‘বিমানে হামলা করতে যাওয়ার আগে ওমর তাঁর ঘরটি ধুয়ে-মুছে তকতকে পরিষ্কার করেছিলেন। ঘরটিতে তিনি আর কিছুই রেখে যাননি। পরে তিনি সেখানে নামাজ পড়েন। তিনি এত জোরে নামাজ পড়ছিলেন যে সেই শব্দ পাশের ঘর থেকেও শোনা যাচ্ছিল। নামাজের পর তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি এমন একটি বিশ্ব দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে মানুষজন মিলেমিশে শান্তিতে বাস করবে এবং সেখানে পরস্পরের হানাহানিরও কোনো দরকার পড়বে না।

সোমালীয় স্বপ্নচারীদের দুর্দশা

ইউসুফ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ। বয়স মাত্র ১৬ বছর। স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাবে। সেখানে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ উপার্জন করে বাড়ি পাঠাবে। বাবা-মা, ভাই-বোনের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু আদম ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে তার স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতারকেরা তাকে ইংল্যান্ডের কথা বলে পাঠিয়েছে নেপালে। যেখানকার মানুষজন কিনা নিজেরাই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। ইউসুফের সঙ্গে প্রতারণার এ ঘটনা ঘটেছে ২০০৭ সালে। আর তখন থেকেই দুঃস্বপ্ন শুরু সোমালীয় এই কিশোরের।
ইংল্যান্ডে আসার জন্য আদম ব্যবসায়ীকে চার হাজার ডলার দেয় ইউসুফ। শুধু ইউসুফ নয়, তার মতো আরও অনেক সোমালীয় কিশোর ও তরুণ প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে খুইয়েছে সবকিছু। তাদের সবারই ঠিকানা এখন ইউরোপ নয়, কাঠমান্ডুর শরণার্থী শিবির। যেখানে ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে কোনোমতে দিন পার করছে তারা।
‘আমি প্রথম যখন এখানে আসি, আমি ভেবেছি ইউরোপে এসেছি। কিন্তু কখনোই এখানে কোনো সাদা মানুষের দেখা পাইনি। সোমালিয়ায় কোনো পশ্চিমা টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। এ কারণে কোনো দিন সাদা মানুষের মুখ দেখার সুযোগ হয়নি। তাই নেপালকেই ইংল্যান্ড ভেবেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পরই আবিষ্কার করতে পারি, বাস্তবে আমি কোথায় আছি।’ এক রাশ হতাশার ছাপ নিয়ে বলছিল ইউসুফ।
ইউসুফের মতো আরও ৮০ জন সোমালীয় প্রতারিত হয়ে নেপালের শরণার্থী শিবিরে উঠেছে। একদিকে বাড়ি যাওয়ার সামর্থ্য যেমন তাদের নেই, তেমনি নেপালের শরণার্থী হওয়ার মর্যাদাও পাচ্ছে না তারা। কেননা, জাতিসংঘ শরণার্থী সমঝোতায় স্বাক্ষর করেনি নেপাল।
নেপালে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডিয়ান গুডম্যান বলেন, নেপালে কাজ করার সুযোগ নেই শরণার্থীদের। মানবিক সাহায্যই এখন একমাত্র ভরসা তাদের।
গুডম্যান বলেন, ‘১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সমঝোতা এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে নেপাল স্বাক্ষর করেনি ঠিকই, কিন্তু তারা শরণার্থীদের প্রতি উদারতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিপদগ্রস্ত লোকজনকে আশ্রয় দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা, চিকিত্সাসেবা ও প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। প্রত্যেক শরণার্থীকে মাসে ৬০ ডলার করে দেওয়া হয়।’
আশা আলী ম্যাউ। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ২০০৬ সালে নেপালে আসেন ৩১ বছরের এই সোমালীয় নারী। আশা বলেন, ‘এখানকার জীবন খুবই দুর্বিষহ। ছোট একটি ঘরে খাওয়া, ঘুম সবই করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ আমাদের যে অর্থ দেয় তা যথেষ্ট নয়। কেবল পানির পেছনেই মাসে ১৬ ডলার খরচ করতে হয় আমাদের।’
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আদম ব্যবসায়ীরা নেপালের শিথিল অভিবাসন আইনের সুযোগ নিয়ে সেখানে লোকজনকে পাঠাচ্ছে। শরণার্থীরা নেপাল ছাড়তে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তারা তা পেরে উঠছে না। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ছয় ডলার করে জরিমানা গুনতে হয় তাদের। এমনকি যেসব শিশু শরণার্থী শিবিরে জন্ম নিয়েছে তাদেরও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
ওসমান বাদরি তাহির আর নেপালে থাকতে চান না। ২০০৬ সালে নেপালে আসা এই যুবক বলেন, ‘সোমালিয়ায় আমি অন্তত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে থাকতে পারব। কিন্তু নেপালে আমি কী করছি, তা আমি নিজেই জানি না।’ তিনি বলেন, ‘শরণার্থীদের সামনে তিনটি সুযোগ থাকে। প্রত্যাবাসন, অঙ্গীভূতকরণ অথবা তৃতীয় কোনো দেশে বসতি স্থাপন। কিন্তু আমাদের সামনে এর কোনোটিই নেই।’

চট্টগ্রাম মহানগরের দোকান মালিকদের নতুন সংগঠন

চট্টগ্রাম মহানগরের ছোট-বড় শতাধিক শপিংমল, মার্কেট ও দোকানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গত সপ্তাহে নতুন সংগঠন ‘চিটাগাং মেট্রোপলিটন শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হয়েছে। মিমি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আবুল কাশেমকে সভাপতি এবং জামালখান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস মঞ্জুর মোরশেদকে সাধারণ সম্পাদক করে এই সংগঠনের ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরবর্তী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে।
কমিটিতে একজন সিনিয়র সহসভাপতি, ১৫ জন সহসভাপতি, একজন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, ১১ জন যুগ্ম সম্পাদক এবং সাতজন কার্যকরী সদস্যের পদ রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘এই সংগঠন নবগঠিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী সংগঠন হিসেবে থাকবে। আমাদের নতুন সংগঠনের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশনও নেওয়া হয়েছে।’

ব্ল্যাকওয়াটার কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ ইরাক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারের পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে আনীত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরাক। ২০০৭ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ১৭ জন নিরপরাধ বেসামরিক ইরাকি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে ওই পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার ইরাক সরকারের মুখপাত্র আলী আল-দাব্বাগ এক বিবৃতিতে বলেন, ওই সিদ্ধান্তে ইরাকি সরকার দুঃখিত ও হতাশ। ইরাকি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ইরাকি কর্তৃপক্ষ পরিচালিত তদন্তে এটা পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, ব্ল্যাকওয়াটারের কর্মীরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আলী আল-দাব্বাগ আরও বলেন, ওই ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার, তাঁদের পরিবার ও অন্যান্য ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইরাকি সরকার। তিনি জানান, ইরাক ওই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক রিকার্ডো আরবিনা ব্ল্যাকওয়াটারের পাঁচ নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেন। মার্কিন সরকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে মামলা খারিজের ওই আদেশ দেন আদালত।
ইরাকি সরকার বলেছে, ইরাকে মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ভাড়া করা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারের কর্মীরা বাগদাদের রাস্তায় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিল।
২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাগদাদে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর ব্ল্যাকওয়াটারের নিরাপত্তাকর্মীরা নিরস্ত্র বেসামরিক ইরাকিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও গ্রেনেড লঞ্চারের সাহায্যে হামলা চালায়। এতে ১৭ বেসামরিক ইরাকি নিহত হয়।
ইরাকে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল রে অডিয়ের্নো মার্কিন আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস, বিবিসি ও রয়টারস অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইউসিবির ৯৩তম শাখা উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সম্প্রতি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) ৯৩তম শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।
ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এম এ সবুর এই শাখার উদ্বাধন করেন। এ সময় ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ কালাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহজাহান ভূঁইয়া এসইভিপি ও কোম্পানি সচিব এম এম রফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিকেএমইএর সভাপতি ফজলুল হক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিম ওসমান, সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান এবং ডাচ্-বাংলা চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর প্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১১ -ঘন কুয়াশায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত

ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা। অস্বাভাবিক কুয়াশার কারণে গতকাল শনিবার বিভিন্ন রাজ্যে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঘটেছে দুর্ঘটনা। উত্তর প্রদেশে পৃথক দুটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫২ জন আহত হয়েছে। নয়াদিল্লিতে কুয়াশার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিলম্বিত হয়েছে অসংখ্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
এলাহাবাদ রেলওয়ের জিএম হরিশচন্দ্র যোশি বলেছেন, গতকাল সকাল নয়টায় কানপুরের পাঙ্কি রেলস্টেশনে গোরখধাম এক্সপ্রেস পেছন থেকে এসে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসকে ধাক্কা দেয়। এতে সাতজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৪০ জন আহত হয়।
এ ছাড়া গতকাল সকাল আটটায় এটওয়া রেলস্টেশনের অদূরে সরাই ভোপাত স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মগধ এক্সপ্রেসকে ধাক্কা দেয় দিল্লিগামী লিক্কাভি এক্সপ্রেস। এতে লিক্কাভি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক নিহত হন। আহত হয় ১২ জন।
নয়াদিল্লির ইন্ধিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল কুয়াশার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিলম্বে ছাড়ে অনেক ফ্লাইট। এতে অনেক যাত্রী দুর্ভোগে পড়ে। দিল্লিতে ট্রেন যোগাযোগও মারাত্মক ব্যাহত হয়। অনেক ট্রেন দেরিতে যাত্রা করে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দিল্লির সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। প্রায় ৩৬টি অভ্যন্তরীণ এবং ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত বাতিলই ঘোষণা করতে হয়েছে।
মাওবাদীদের চেষ্টা ব্যর্থ
পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বাঁশতলা-সাবডিহা রেলস্টেশনের মধ্যে গতকাল সকালে স্থলমাইনের সাহায্যে মাওবাদীদের একটি ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্থলমাইন ও মাওবাদীদের ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।

বাজারে অগ্নি প্রতিরোধক তার নিয়ে এসেছে ম্যাক্রো কেব্ল লিমিটেড

ম্যাক্রো কেব্ল লিমিটেড ‘এফআর কেব্ল’ নামের নতুন একটি অগ্নি প্রতিরোধক বৈদ্যুতিক তার নিয়ে এসেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রিহ্যাবের সভাপতি তানভিরুল ইসলাম, বিকেএমইএর সভাপতি ফজলুল হক এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলম সারোয়ার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ম্যাক্রো কেব্ল লিমিটেডের চেয়ারম্যান চৌধুরী আহম্মেদ শোয়েব। এতে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ম্যাক্রো কেবেলর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল জলিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিককালে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি সবাইকে বিশেষভাবে তাড়িত করেছে। এ ছাড়া দূর-অতীতে বিভিন্ন গার্মেন্টসে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি সবার মনে আছে।
মন্ত্রীআরও বলেন, বিষয়টি অনুধাবন করে ম্যাক্রো কেব্ল গতানুগতিক কেবেলর পরিবর্তে অগ্নি প্রতিরোধক এফআর কেব্ল বা তার বাজারে নিয়ে এসেছে, যা অগ্নি-দুর্ঘটনা এড়াতে বহুলাংশে সাহায্য করবে।
ফজলুল হক নিরাপত্তার আঙ্গিকে ও দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকি রোধে ম্যাক্রো কেবেলর নিয়ে আসা নতুন তারের প্রশংসা করেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেন রেলপথ দ্বিমুখী হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে দ্বিমুখী করা হবে।
গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খান, সহসভাপতি মো. সিরাজউদ্দিন মালিক, পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান, মো. ইয়াদ আলী ফকির, টি আই এম নূরুল কবীর, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, নেসার মাকসুদ খান, আসিফ ইব্রাহিম, কে জি করিম প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য ইতিমধ্যে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। পরবর্তী সময়ে এ সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুত্ ও জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাজের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য তদারক করার জন্য ডিসিসিআইকে একটি সেল গঠনের পরামর্শ দেন।
ডিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার ইচ্ছা করলেই ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু তা করতে চাই না। কারণ নিয়ন্ত্রণ করলে দুর্নীতি বাড়ে।’
ডিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কাসেম খান বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে রপ্তানি ও আমদানি নীতি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সবার বিবেচনা ও সুপারিশের জন্য জনসম্মুখে প্রকাশের প্রস্তাব করেন। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারের আওতায় খাদ্যনিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন, জাতীয় কয়লানীতি প্রণয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণে রেল ও নৌপথের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ট্যারিফ কমিশন পুর্নগঠন, রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশন পুনঃ চালুকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং রাজধানীতে যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সরকারের প্রতি ডিসিসিআইয়ের সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআইয়ের পরিচালক এম এ বাতেন, সৈয়দ মোশারফ হোসেন, এম বশির উল্লাহ ভূঞা, মাহবুব আনাম, মো. নাসিরউদ্দিন খান, মো. সিরাজুল ইসলাম, এম আনওয়ারুল হক ও নাসির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীরা স্বপ্ন দেখালেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হতাশ করেছে -হানিফ মাহমুদ

বিদায়ী ২০০৯ সালে শেয়ারবাজার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখার অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে। মূল চালকের আসনে ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নানা ভূমিকা বাজারকে অনেক ভুল সংকেতও দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৯ সাল সার্বিক বিচারে শেয়ারবাজারের জন্য ভালো গেছে। বাজার মূলধন, সূচক ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।
তবে অনেকগুলো শেয়ার অতি মূল্যায়ন হয়ে আছে, যা ঝুঁকির ব্যাপার। এসইসি ও ডিএসই মাঝে মধ্যে নানা বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে, যা কাম্য ছিল না।
তাঁরা আরও বলছেন, সাধারণত বাজারে যখন মন্দা অবস্থা থাকে তখন নানা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে।
কিন্তু এসইসি একটি তেজি বাজারে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বাজারের একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নতুন অনেক শেয়ার বাজারে আসায় বিনিয়োগকারীদের উত্সাহ বেড়েছে। তবে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করার প্রচারণায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। আর মিউচুয়্যাল ফান্ড নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বড় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। সূচকে এর প্রতিফলন না থাকলেও বাস্তবে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সব পুঁজি হারিয়েছে।
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থাকে এক কথায় ভালো বলেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৯ সালকে ভালোভাবে দেখছি। অনেকগুলো নতুন শেয়ার বাজারে এসেছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া একটি বড় ঘটনা।’
মির্জ্জা আজিজুল আরও বলেন, সূচক ভালো অবস্থায় আছে, বাজারে বড় ধরনের কোনো ওঠানামা নেই। তবে কিছু শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে গেছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যে মতই থাকুক, নানা সূচকের মানদণ্ডে তা এগিয়েছে। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০০৯ সালের মধ্যে বাজার মূলধন দুই হাজার কোটি ডলার বা এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। আর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ উন্নীত করা হবে ৭০০ কোটি টাকায়। ঘটনাটি যেভাবেই ঘটুক এই সাফল্যের দাবিদার তাঁরা।
গত ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তাঁদের সাফল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি বলেন, এ বছর বাজারে যেমন অনেকগুলো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, তেমনি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১০ সালের মধ্যেই শেয়ারবাজারের দৈনিক লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, এ বছর পুঁজিবাজারে নতুন কোনো সরকারি কোম্পানির শেয়ার আনতে না পারাই ছিল তাঁদের বড় ব্যর্থতা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি গ্রামীণফোনের তালিকাভুক্তি ও বছরের শেষ দিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করে শেয়ারের অভিহিত মূল্য নিরূপণের পদক্ষেপকে ২০০৯ সালের বড় ঘটনা মনে করে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালে অর্জন অনেক। দৈনিক বাজার লেনদেন বিগত কয়েক বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজার মূলধন জিডিপি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ না করে শেয়ারবাজারে আসছেন, যা ইতিবাচক অগ্রগতি।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে ডিএসইর বাজার সূচক ছিল ২৮০৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট। ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটি দাঁড়ায় ৪৫৩৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে।
ডিএসইর এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল এক হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন লেনদেন ২১২ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বছরের শুরুতে সূচক ছিল ৮৮৬০ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট। বছরের সর্বশেষ লেনদেন দিবসে সূচক দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৮১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।
সিএসইর এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল ১৬৩ কোটি টাকা। আর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল ২৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
২০০৯ সালে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২১টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়।

এফএ কাপ থেকে ম্যানইউয়ের বিদায়

এফএ কাপের সবচেয়ে সফল দল তারা। রেকর্ড ১১ বার শিরোপাজয়ী সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে কাল তৃতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিতে হলো। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেই ম্যানইউকে ১-০ গোলে হারাল লিডস ইউনাইটেড। ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম তৃতীয় রাউন্ডে বিদায়ের লজ্জা পেল ম্যানইউ। কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের জন্যও এই রাউন্ডে এটি প্রথম পরাজয়। ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও জিতল লিডস।
ম্যানইউ হারলেও ওয়াটফোর্ডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসি। ওয়েস্টহ্যামের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। আগের দিন রিডিংয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে লিভারপুল।
ওদিকে স্প্যানিশ লিগে ড্র ভাগ্য মেনে নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। বার্সেলোনা সমর্থকদের শিরোপা-ষষ্ঠক বরণ শেষে শুরু হয়েছিল ম্যাচ। একটা সুখানুভূতি নিয়েই ন্যু ক্যাম্পে পরশু খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ম্যাচ শেষে আর সেই অনুভূতি থাকেনি। নতুন মৌসুমে নিজেদের মাঠে এই প্রথম পয়েন্ট হারাতে হলো বার্সাকে। ভিলারিয়ালের সঙ্গে ম্যাচটি তারা ড্র করেছে ১-১ গোলে। ম্যাচের ৭ মিনিটে পেড্রো এগিয়ে দিয়েছিলেন বার্সাকে। কিন্তু ৫০ মিনিটে গোল শোধ করে দেন ডেভিড ফাস্টার।

চট্টগ্রামে ইবিএলের ৩৮তম শাখার উদ্বোধন

বন্দর নগর চট্টগ্রামের সিরাজউদ্দৌলা রোডে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ৩৮তম শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্যাংকের পরিচালক মিঞা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম শাখাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ, এম ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কনজুমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান আহসান জামান চৌধুরীসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এ শাখায় গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং, কনজুমার লোন, ডিপোজিট, লকার, ২৪ ঘণ্টা এটিএম, রেমিট্যান্স ও এসএমই ব্যাংকিংসেবা দেওয়া হবে।

২০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর যমুনা সার কারখানায় ফের উত্পাদন শুরু

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা লিমিটেডে গত শুক্রবার রাতে ফের তিতাস গ্যাস কোম্পানির গ্যাসের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ইউরিয়া সার উত্পাদন শুরু হয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিতাস গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। ২০ ঘণ্টা কারখানায় সার উত্পাদন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার ফের উত্পাদন শুরু করা হয়েছে। এ কারখানায় এ নিয়ে তিন দিনে ৪৪ ঘণ্টা সার উত্পাদন বন্ধ থাকায় আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে সারসংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলে কারখানার একটি সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ সঠিকভাবে না পাওয়া গেলে সার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ক্যালিসেই উদ্ধার দক্ষিণ আফ্রিকার

মাঠটি প্রিয় দক্ষিণ আফ্রিকারও, জ্যাক ক্যালিসেরও। এক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে কোনো দলের কাছে হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। জয় এসেছে ২০ টেস্টের ১৪টিতেই। আর এই মাঠে এর আগে ১৬ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরিতে ১৪৪৮ রান ক্যালিসের, হাজার রানও নেই আর কারও। তবে নিজেদের দুর্গেও ডুবতে বসেছিল স্বাগতিকেরা। কিন্তু প্রিয় মাঠে দেশকে টেনে তুলছেন ক্যালিস। ১২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্যালিসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দিনশেষে ৬ উইকেটে তুলেছে ২৭৯। আলোকস্বল্পতায় সাত ওভার আগেই শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা।
টস জিতে যে আশা নিয়ে বোলারদের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, তা দারুণভাবেই পূরণ করেছেন ইংলিশ বোলাররা। ম্যাচের প্রথম ওভারেই জেমস অ্যান্ডারসনের দারুণ এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন অ্যাশলে প্রিন্স। পরের ওভারেই গ্রাহাম অনিয়নসের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, ধরতে পারেননি সোয়ান। এর জন্য খুব বেশি মূল্য অবশ্য দিতে হয়নি ইংল্যান্ডকে, ৩০ রানে স্মিথকে ফিরিয়েছেন অ্যান্ডারসন। এর আগেই অবশ্য হাশিম আমলাকে আউট করেছেন অনিয়নস।
৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা স্বাগতিকদের টেনে তোলার চেষ্টা করেন ক্যালিস ও ডি ভিলিয়ার্স। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ৭৬ রানের জুটি। এবার পেস বোলিং সহায়ক উইকেটেও জ্বলে ওঠেন অফ স্পিনার সোয়ান। টানা দুই বলে আউট করেন ডি ভিলিয়ার্স ও জেপি ডুমিনিকে। বাউচারকে নিয়ে এরপর ৮৯ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় কাটান ক্যালিস। ফিফটির পরই বাউচার আউট হলেও স্টেইনকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান ক্যালিস। অসমাপ্ত সপ্তম উইকেট জুটিতে দুজন তুলেছেন ৬৩ রান। ক্যারিয়ারের ৩৩তম সেঞ্চুরিটা করেছেন ক্যালিস ১৭২ বলে। তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮৩.২ ওভারে ২৭৯/৬ (স্মিথ ৩০, প্রিন্স ০, আমলা ১৪, ক্যালিস ১০৮*, ডি ভিলিয়ার্স ৩৬, ডুমিনি ০, বাউচার ৫১, স্টেইন ২৬*; অ্যান্ডারসন ২/৬২, সোয়ান ২/৭৪, ব্রড ১/৫৪, অনিয়নস ১/৬০)।

বিকেএমইএ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নির্ধারিত দিনে হচ্ছে না। গত রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠি দিয়ে আগামী রোববার তফসিল ঘোষণা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধিতে কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল ঘোষণার মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে আনা।
বর্তমানে নির্বাচনের দিন থেকে কমপক্ষে ৮০ দিন আগে তফসিল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এ সময় কমিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ দিন করার বিষয়ে সংশোধনী আনছে। তাই বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য সংগঠনে সংঘবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সংশোধনী চূড়ান্ত হতে পারে। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধনীর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাইবাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে যাচাইবাছাইয়ের পরপরই এটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
যোগাযোগ করা হলে বিকেএমইএর সভাপতি মো. ফজলুল হক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তফসিল ঘোষণা নির্ধারিত দিনে না করার জন্য চিঠি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি অবশ্য বলেন, তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে গেলেও নির্বাচন পিছিয়ে যাবে না।

এনামুল-ইব্রাহিমের যুগলবন্দী

পিছিয়ে পড়া ম্যাচে আবাহনীকে জয় এনে দিল এনামুল-ইব্রাহিমের যুগলবন্দী। আবাহনীর স্ট্রাইকার জুটির সৌজন্যে কাল কমলাপুর স্টেডিয়াম দেখল গোছানো ফুটবল আর পরিকল্পিত আক্রমণ। আগের পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া রহমতগঞ্জ এগিয়ে গিয়েও হেরে গেল এ দুজনের কাছেই। আবাহনীর ৩-১ জয়ে এনামুলের গোল দুটি, ইব্রাহিমের একটি।
তিনটি গোলই ৪১-৪৭ মিনিটে। ওই সময়টা জ্বলে ওঠার দরকার ছিল আবাহনীর। ১০ মিনিটে ফেলিক্সের গোল রহমতঞ্জকে শুধু এগিয়েই দেয়নি, গতবারের দুঃস্বপ্ন-স্মৃতিটাই যেন ফিরিয়ে আনছিল। এই রহমতগঞ্জের কাছে হেরেই গতবার লিগ-যাত্রা শুরু হয়েছিল আবাহনীর। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলেও আতঙ্কটা তো রয়েই গেছে।
গত লিগে মোহামেডানকেও একবার হারিয়ে দিয়েছিল রহমতগঞ্জ। এবার অবশ্য প্রথম সাক্ষাতে রহমতগঞ্জকে অঘটন ঘটতে দেয়নি সাদা-কালোরা। তবে মোহামেডানও এ ম্যাচে চাপে ছিল। এমন অবস্থায় দুই প্রধানই যখন ৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে, আবাহনী সপ্তম ম্যাচটা শুরু করেছিল রহমতগঞ্জের কাছে গোল হজম করে!
সেই গোল আবাহনীর দুর্বল রক্ষণ আর গোলকিপিংয়ের ফল। রাইটব্যাক নজরুল বলটা জমা দেন ফেলিক্সের পায়ে। সামনে পড়া সুজনকে সহজেই কাটিয়ে কোনাকুনি ঢুকে পড়লেন ফেলিক্স। গোলরক্ষক বিপ্লব প্রথম বারে এসে ফাঁকা জমিটা ভরাট করলে গোল খেলেন সবাইকে অবাক করে দিয়ে। এক ড্রপ খেয়ে বল তাঁর হাতের ফাঁক গলে জালে!
এই গোলে জেগে ওঠা আবাহনী এরপর প্রথমার্ধটা খেলল এবারের লিগে এখন পর্যন্ত সেরা ফুটবল। বল দেওয়া-নেওয়া, প্রান্ত বদল করা, আক্রমণে ওঠানামা—আবাহনীর মতোই খেলল আবাহনী। ইব্রাহিমই ছিলেন চালিকাশক্তি। ইনজুরির কারণে স্বদেশি শেরিফ খেলতে না পারায় তাঁর কাঁধে কাল ছিল বাড়তি দায়িত্ব। মৌসুমে এদিনই নিজের সেরা ফুটবলটা খেললেন ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার। আক্রমণে নেতৃত্ব দিলেন, বল ছাড়লেন সময়মতো। এনামুলের দুটি গোলই তাঁর বানিয়ে দেওয়া।
এনামুল ছিলেন চটপটে এবং নিশানাভেদে নিখুঁত। ৪১ মিনিটে ইব্রাহিমের বক্সে তুলে দেওয়া বলটা বুক দিয়ে নামিয়ে দারুণ ভলি নিয়েছেন, রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেনি। উজ্জীবিত আবাহনীর বিরতিতে যায় ২-১ করে। এগিয়ে যাওয়ার গোলটা ইব্রাহিমকে দিয়ে করিয়েছেন উজ্জ্বল। ইব্রাহিমকে ফাঁকায় দাঁড়ানো দেখে কর্নার থেকে পাওয়া বলটা আলতো করে তুলে দেন বক্সে। ইব্রাহিমের হেড জালে।
বিরতির দুই মিনিট পরই ইব্রাহিমের ডিফেন্স-চেরা থ্রু ধরে ৩-১ করেন এনামুল। মাটি কামড়ানো কোনাকুটি শটে রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক হিমেলকে পরাস্ত করে পেয়ে যান এবারের লিগে নিজের ষষ্ঠ গোল। জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বাকি সময়টা হালকা মোজাজেই খেলেছে আবাহনী। এই সুযোগে ফেলিক্স আবার পরীক্ষায় ফেলেন বিপ্লবকে। বিপ্লব পরাস্ত হলেও ফেলিক্সের তীব্র শট প্রতিহত হয় ক্রসবারে।
তা হোক, এমন জয়ে আবাহনী কোচ অমলেশ সেন খুশি, ‘গোলটাই আমাদের জাগিয়ে দিয়েছে। গোল খাওয়ার পর খেলোয়াড়েরা বুঝতে পেরেছে সর্বশক্তি দিয়ে খেলতে হবে। প্রথমার্থে এই মৌসুমের সেরা ফুটবলটাই খেলেছি আমরা। ইব্রাহিম দারুণ খেলেছে।’

ঢাকায় রিহ্যাবের পাঁচ দিনব্যাপী আবাসন মেলা মঙ্গলবার থেকে

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) উদ্যোগে রাজধানীতে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে জমি ও ফ্ল্যাটের মেলা। ঢাকা শেরাটন হোটেলে ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০০৯’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় এ মেলায় মোট ২৬৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২৬২টি জমি উন্নয়ন ও বাড়ি নির্মাতা এবং ছয়টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
মেলার বিস্তারিত জানাতে রিহ্যাব গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ জুয়েল মোল্লা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সভাপতি তানভীরুল হক, সহসভাপতি মো. আবদুর রহিম খান ও সাঈদ নজরুল, যুগ্ম সম্পাদক মুরাদ ইকবাল চৌধুরী, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জাহিদ হোসেন ও মেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আহম্মেদ।
খালেদ মোহাম্মদ জুয়েল মোল্লা বলেন, ‘দেশের আবাসন সমস্যার সমাধানে বেসরকারি খাতের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রিহ্যাব সদস্যদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে, একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা, স্বচ্ছ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনার অভাবে গৃহায়ণশিল্পে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনিশ্চয়তার কারণে এ শিল্প বিনিয়োগে উত্সাহ হারাচ্ছে।’
রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ১৫ শতাংশ ভূমিকা রাখা এ খাতের স্থবিরতা সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন পেশাজীবী, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের অন্ন জোগানের এ শিল্প খাতটি ক্রমান্বয়ে সংকটে পতিত হচ্ছে। ক্রেতাসাধারণের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থায় এ খাতের সংকট কাটাতে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, ব্যাংকঋণের উচ্চহারের সুদ এবং ভবনের নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা মানুষের স্বপ্নপূরণে ডেভেলপারদের কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। এত কিছুর পরও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফ্ল্যাট বিক্রির চেষ্টা করছে। সরকারের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণে বিকল্প কোনো পথ নেই।
রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, গত জুনে জাতীয় বাজেটে যুগান্তকারী ঘোষণা এ বিনিয়োগে উত্সাহিত করেছে। সরকারের সিদ্ধান্তে এক দিকে শিল্প বাঁচবে, অন্য দিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু সরকার এক দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ালেও অন্য দিকে জমির সরকারি মূল্য বাড়ানোয় সাধারণ মানুষ নতুন সংকটে পড়েছে। চলতি বাজেটে নিবন্ধন ব্যয় কমলেও জমির সরকারি মূল্য বাড়ায় সাধারণ মানুষ নিবন্ধনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
রিহ্যাবের সভাপতি তানভীরুল হক বলেন, চলতি বছরের জাতীয় বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ থাকায় মেলায় বেচাবিক্রিতে ভালো সাড়া পাওয়া যেতে পারে। মেলায় ৫০০ কোটি টাকার বেচাবিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি। মেলায় ক্রেতাদের রাজউক অনুমোদিত ফ্ল্যাট কেনার পরামর্শও দেন রিহ্যাবের সভাপতি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেলা উপলক্ষে রিহ্যাব সেমিনার, উপস্থিত বক্তৃতা ও শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, এবারের মেলায় প্রতিবার প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। আর পাঁচ দিনের টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিন বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা এবং অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শক-ক্রেতাদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। অন্যান্যবারের মতো এবারও প্রবেশ টিকিট বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের সবটাই দুস্থদের সাহায্যার্থে দান করবে রিহ্যাব।

আইপিএলে সাকিব শাহরিয়ারের নাম

গতবার যখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে নাম উঠল সাকিব আল হাসানের, বাংলাদেশের মানুষ অন্তত ধরে নিয়েছিল নিলামে তাঁকে নিয়ে বেশ হইচই হবে। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অলরাউন্ডার, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বছরজুড়ে। সাকিবের দিকে নিশ্চিতই লোভাতুর চোখ থাকবে কোনো না কোনো দলের। কিন্তু নিলামে নামই উঠল না সাকিবের। এটা ছিল একটা বিস্ময়। তবে বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা নিলামে ঝড় তুলে বিক্রি হলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে। মাশরাফির সঙ্গে আর শুধু মোহাম্মদ আশরাফুল সুযোগ পেলেন আইপিএলে। আশরাফুলকে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এবারও আইপিএলে নাম উঠেছে সাকিবের। তাঁর সঙ্গে নিবন্ধিত হয়েছে আইসিএল-ফেরত শাহরিয়ার নাফীসের নাম।
১৯ জানুয়ারির নিলামের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ৯৭ জন ক্রিকেটার । গত বছর আইপিএল মিস করা পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএল নিলামে নাম ওঠানোর জন্য এবার আবেদন পর্যন্ত করেছেন। তাঁরাই সংখ্যায় সর্বাধিক—২৬ জন। শাহরিয়ার নাফীসের মতো আইসিএল ফেরতাও বেশ কয়েকজন আছেন—শেন বন্ড, ডেমিয়েন মার্টিন, ক্রিস কেয়ার্নস, সাকলায়েন মুশতাক, জাস্টিন কেম্প।
এখন আইপিএল কর্তৃপক্ষ এই ৯৭টি নাম পাঠিয়ে দেবে দলগুলোর কাছে। তারাই পরে পছন্দের খেলোয়াড়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করবে নিলামে। নিলামের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে আগামীকালের মধ্যে। সাকিব-শাহরিয়ারের নাম কি উঠছে আগামী মার্চে শুরু হতে যাওয়া এবারের আইপিএলের নিলামে?
সাকিব যে কোনো টুর্নামেন্টে ভালো করতে চান, আজ শুরু ত্রিদেশীয় সিরিজেও তাঁকে প্রত্যয়ী দেখাচ্ছে। তবে আইপিএল যে মাথায় একদম নেই, তা কিন্তু নয়, ‘পারফরম যে কোনো জায়গায় করলে সেটা সবাই দেখে। তবে ভারতের বিপক্ষে করলে হয়তো একটু বেশিই চোখে পড়বে। জানি না... মনের কোনে এই ইচ্ছা কারও থাকতেই পারে।’

বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের বাজার দখলের লড়াইয়ে উত্পাদকেরা by কে এ ইসলাম

ভোজ্যতেলের বাজার এবার শিরোনাম হলো বহির্বিশ্বেও। গত ১২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার শীর্ষ শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে ক্রমহ্রাসমান পাম তেল রপ্তানি রুখতে চায় মালয়েশিয়া।’
বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের বাজারটি যখন প্রসারিত হচ্ছে, তখন মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আমদানি কমছে। ফলে উদ্বিগ্ন মালয়েশিয়া। বাজার বাড়াতে উদ্যোগও নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নিয়ে ঢাকায় দুই দিন কাটিয়ে গেছেন মালয়েশিয়ার মন্ত্রী বার্নার্ড ডম্পক। এ লেখকের সঙ্গে কথা হয় মালয়েশিয়ার প্লান্টেশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও কমোডিটিবিষয়ক মন্ত্রী তানশ্রী বার্নার্ড ডম্পকের।
বিশাল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার: তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃৃদ্ধি আর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতার কারণে ভোজ্যতেলের ভোগ বাড়ছে। ফলে উত্পাদকদের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর হিসাবে, গত বছর বাংলাদেশে মাথাপিছু ভোজ্যতেল ভোগ হয়েছে আট কেজি ৬০০ গ্রাম। মাত্র দেড় দশকেই দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে মাথাপিছু ভোগ। ডম্পকের মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু ভোজ্যতেলের ভোগ বিশ্বের গড় ভোগের (২২ কেজি) চেয়ে কম, তবে এ দেশের জনসংখ্যার আকার আর ক্রমবর্ধমান ভোগই আকর্ষণীয় বিষয়। তিনি জানান, ‘পরিমাণগত ভোজ্যতেল ভোগের হিসাব করলে বাংলাদেশের বাজারটি কয়েকটি ধনী ইউরোপীয় দেশের সম্মিলিত বাজারের চেয়েও বড়।’
বার্নার্ড ডম্পকের হিসাবে, গড় খুচরামূল্যের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের বাজারের আকার প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার, টাকার অঙ্কে ১০ হাজার কোটিরও বেশি। এর ৮৫ শতাংশই আবার আমদানিনির্ভর। আমাদের উত্পাদিত সরিষা কিংবা অধুনা উপকূল অঞ্চলে চাষ করা কিছু সয়াবিন বীজ দিয়ে দেশের চাহিদার ১৫ শতাংশও মেটে না। অপরিশোধিত পাম, সয়াবিন আর তৈলবীজ খাতে বাংলাদেশের আমদানিব্যয় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বাজারে সিংহভাগই পাম তেল: আশির দশকে মালয়েশিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে পাম তেল পরিচিত হয়। এখন পুরো বাজারই অনেকটা পাম তেলনির্ভর হয়ে গেছে। পরিমাণগত দিক দিয়ে আমাদের বাজারের তেল বিক্রির শতকরা ৮০ ভাগই খোলা তেল। কম আয়ের ভোক্তা খোলা সয়াবিন জেনে যা কেনেন তা আসলে পাম তেল। সুপার পাম নামে পরিচিত এটি পাইকারি বাজারে। বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের আমদানির দুই-তৃতীয়াংশই পাম তেল। ২০০৮ সালে প্রায় নয় লাখ টন পাম তেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর শীর্ষ সাত পাম তেল আমদানিকারকের একটি। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় উত্পাাদিত হয় পৃথিবীর মোট পাম তেলের ৮৫ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে তেল সংগ্রহ করে রপ্তানি করেন বাংলাদেশে। ইদানীং ইন্দোনেশিয়া থেকেও সরাসরি আমদানি বাড়ছে। বার্নার্ড ডম্পক বলেন, মালয়েশিয়া উদ্বিগ্ন, কারণ বাংলাদেশে তাঁদের পাম তেল রপ্তানি কমছে। ২০০৮ সালে রপ্তানি ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার টন, ২০০৯ সালের ১০ মাসে ৬০ হাজার টনের নিচে নেমেছে।
বার্নার্ড ডম্পক বলেন, তাঁরা দেখেছেন, ইন্দোনেশিয়ার পাম উত্পাদন অঞ্চল ও বন্দরগুলো বাংলাদেশ পাম আমদানির জন্য সুবিধাজনক। ফলে মালয়েশিয়া সরকার কাজ করছে কীভাবে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের আরও বেশি সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, তাঁদের সরকার বাংলাদেশকে পাম তেল আমদানি অর্থায়ন করতে প্রস্তুত আছে। বেসরকারি আমদানিকারকদের এ সুবিধা নিতে হলে সরকার থেকে গ্যারান্টি দিতে হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কসহ আরও কিছু দেশ মালয়েশিয়া থেকে এ সুবিধা নিচ্ছে।
কিন্তু সরকার বোধ হয় এ সুযোগটির কথা বেসরকারি আমদানিকারকদের জানাতে চায় না। বার্নার্ড ডম্পক বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সরকারি বিবৃতিকে শুধু বলা হয়, টিসিবি মালয়েশিয়া থেকে পাম আমদানির চুক্তি করতে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের জন্যও যে সহজ অর্থায়নের সুযোগ থাকছে, সেটি কেন ঘোষণা হলো না তা বোধগম্য নয়।

পরিচালকদের ঋণ বন্ধে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিমত -বার্ষিক সভা অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা ও লভ্যাংশ না দেওয়া by ফখরুল ইসলাম

বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করলে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দিলে কোম্পানির পরিচালকেরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাবেন না—পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং ১৯৯৩ সালের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের মাধ্যমে। এই দুই আইনে শুধু ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ না দেওয়ার বিধান রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ও এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থতায় কোম্পানির পরিচালককে ঋণ না দেওয়ার বিষয়ে আইনে কিছু বলা নেই। আর দুটি বিষয়ই কোম্পানির সুশাসন সম্পর্কিত, ব্যাংকিং সম্পর্কিত নয়। সুতরাং এ বিষয়ে ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বাংলাদেশ ব্যাংক নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমসংক্রান্ত এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে।
ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এজিএম না করা বা লভ্যাংশ না দেওয়ার বিষয়টি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাখ্যা করে বলেছে, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রত্যেক কোম্পানিকে বছরে একবার এজিএম করতে হয়। না করলে ওই আইনেই দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই কারণে এসইসি কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আর ডিএসই ও সিএসই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত করে, এমনকি তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দিয়ে শেয়ার লেনদেনও বন্ধ করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে একটি কোম্পানি পরিচালিত হয় না। কোম্পানিতে একক ব্যক্তি বা পরিচালকের নিয়ন্ত্রণ থাকাও স্বাভাবিক নয়। এজিএম অনুষ্ঠান ও লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরত থাকা কোম্পানির কোনো পরিচালক তাঁর অন্য কোনো কোম্পানিতে সফল হতে পারেন—যে কোম্পানি নিয়মিত এজিএম করে ও লভ্যাংশও দেয়।
সুতরাং এই পরিচালককে বা তিনি পরিচালক আছেন এমন কোনো কোম্পানিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করলে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত, নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা এবং ওই পরিচালকের বিদ্যমান ঋণও তখন খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি লিমিটেড কোম্পানি একেকটি পৃথক সত্তা। এতে পরিচালকদের দায়দায়িত্ব শেয়ারমূল্যের মাধ্যমে নির্ধারিত। অর্থাত্ এক কোম্পানির দায়দায়িত্ব অন্য কোম্পানির ওপর বর্তায় না। তবে পরিচালকেরা যেহেতু সাধারণ শেয়ারধারকদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাই বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে সাধারণ শেয়ারধারকেরা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে সমষ্টিগতভাবে এবং সদস্যদের আলাদাভাবে দোষী সাব্যস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে এসইসি।
তবে এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা ও লভ্যাংশ না দেওয়ার বিদ্যমান শাস্তি উপযুক্ত ও সময়োপযোগী নয় বলেও মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় কোম্পানি আইন, এসইসি অধ্যাদেশ এবং ডিএসই ও সিএসই বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, শেয়ারের শ্রেণী পরিবর্তন বা তালিকাচ্যুত করে স্টক এক্সচেঞ্জ বরং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অনুরূপ অনিয়ম অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া পত্রে কোম্পানিতে সুশাসন আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় নিয়মিত এজিএম করতে ও লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ কোম্পানির বিরুদ্ধে তিনটি বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
পদক্ষেপগুলো হচ্ছে: সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অপসারণ বা জরিমানা করা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা এবং কোম্পানির অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া।

লরাঁর সেই গোল

জাতীয় দলের হয়ে করেছেনই মাত্র দুটো গোল। কিন্তু এরই একটা অমরত্ব দিয়েছে তাঁকে। পেলে, ম্যারাডোনা, মিশেল প্লাতিনি, ইয়োহান ক্রুইফদের মতো কিংবদন্তির উচ্চতায় হয়তো যেতে পারেননি, কিন্তু তার পরও ইতিহাস চিরদিনই স্মরণ করবে তাঁকে। ১৯৩০ বিশ্বকাপের সেই কীর্তি আজও অমলিন। এর পর আরও ১৭টি আসর হয়েছে। সব মিলে বিশ্বকাপে গোল হয়েছে দুই হাজারেরও (২০৬৩) বেশি। কিন্তু তার পরও অক্ষুণ্ন তাঁর কীর্তি। অক্ষুণ্ন রবে চিরকাল। ফ্রান্সের লুসিঁয়ে লরাঁ যে করেছিলেন বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি!
১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই মন্টেভিডিওর এস্তাদিও পসিতসে সেদিন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে জড়ো হয়েছিল মাত্র হাজারখানেক দর্শক। ফ্রান্স খেলেছিল মেক্সিকোর সঙ্গে। ম্যাচের ১৯ মিনিটের ঘটনা। সতীর্থ আর্নেস্ত লিবারাতির বাড়িয়ে দেওয়া বলে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেওয়া শটে মেক্সিকান গোলরক্ষক ওস্কার বনফিগলিও পরাস্ত। ফ্রান্স শুধু ১-০ গোলেই এগিয়ে গেল না, ফরাসি ফরোয়ার্ড লরাঁও নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়।
সেদিন ফ্রান্স ৪-১ গোলে জিতেছিল। না জিতলেও ক্ষতি ছিল না। লরাঁ যে কীর্তি গড়েছেন, সেটির অমরত্ব তো নিশ্চিত হয়ে গেছে তখনই।
নিপাট এই ভদ্রলোক মারা গেছেন ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল। ৯৭ বছর বয়সে। আজীবন ওই একটি গোলের জন্যই আলোচিত হয়েছেন। অন্তত বিশ্বকাপের মৌসুমে। এখন যেমন হচ্ছে। তবে ১৯৯৮ সালে ইংলিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টকে লরাঁ বলেছিলেন, ওই গোলের মাহাত্ম্য অন্তত তাঁর কাছে খুব একটা ছিল না। ‘আমাদের গোলরক্ষক কিক মেরে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকে দিল। সেখান থেকে রাইট উইঙ্গার (লিবারাতি)। ও প্রতিপক্ষের ফুল ব্যাককে পরাস্ত করে একটা ক্রস করল। আমি ১২ গজ দূরে কোনাকুনি একটা ভলি করলাম’—লরাঁর আবেগহীন বর্ণনা।
কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘তখন তো আসলে কল্পনাও করতে পারিনি আমার গোলের মাহাত্ম্য। আমরা বুঝতেও পারিনি, বিশ্বকাপ আসলে শেষ পর্যন্ত টিকবে। মনে আছে, দেশে ফেরার পর আমাদের এক পত্রিকায় ছোট্ট করে একটা লেখা বেরিয়েছিল। ফুটবল তো তখন ছিল তার শৈশবে।

প্রিমিয়ার লিগে ফিফটি

‘হাফ সেঞ্চুরি’ বা ‘ফিফটি’ ক্রিকেটেই মানায় ভালো। তবে কদিন আগে ফুটবলার ফার্নান্দো তোরেসও একটা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৫০টি গোল। লিভারপুলের পক্ষে যেটি দ্রুততম ৫০ গোলের রেকর্ড। হাফ সেঞ্চুরি করতে তোরেস খেলেছেন ৭২ ম্যাচ। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের স্ট্রাইকার রজার হান্টের (৭৮টি ম্যাচ)। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এটি চতুর্থ দ্রুততম। সব ক্লাব মিলে রেকর্ডটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় অ্যান্ডি কোলের। ৫০টি গোল করতে তাঁর লেগেছিল ৬৫ ম্যাচ। কোলের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৫০ গোল করা অ্যালান শিয়ারার আছেন দুই নম্বরে। ম্যানইউর হয়ে খেলার সময় ডাচ স্ট্রাইকার রুড ফন নিস্টলরয় ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন ৬৮তম ম্যাচে। আর্সেনালের সাবেক খেলোয়াড় থিয়েরি অঁরি আছেন পাঁচে (৮৩ ম্যাচ)। সান্ডারল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার কেভিন ফিলিপসেরও লেগেছিল ৮৩টি ম্যাচ।

মহিলা ফুটবল দল পশ্চিমবঙ্গে যাবে

এসএ গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৬ দিনের সফরে ১৬ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ যাবে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল। সফরে চারটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলবে দলটি। বাংলাদেশ মহিলা দলের সঙ্গে প্রধান কোচ হিসেবে যাচ্ছেন সাহীদুর রহমান সান্টু। সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব পালন শেষে সান্টু ফিরে গেছেন তাঁর মূল দায়িত্বে।

প্রাইম দোলেশ্বর-ওরিয়েন্ট প্রিমিয়ার লিগে

২০১০-১১ মৌসুমের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলার টিকিট পেল প্রাইম দোলেশ্বর ও ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব। ১৬ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। সমান ম্যাচে উত্তরা ও ওরিয়েন্ট স্পোর্টিংয়ের পয়েন্ট ছিল ২২। তবে দুই দলের মুখোমুখিতে ওরিয়েন্ট জেতায় রানারআপ হয়েছে তারাই।
কাল শেষ ম্যাচে মাজিদের হাফ সেঞ্চুরিতে (৭১) প্রাইম দোলেশ্বর (২৪৬/৬) ৪ উইকেটে সিটি ক্লাবকে (২৪৪/৮) এবং ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং (৮০/১) ৯ উইকেটে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে (৭৫) হারিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার টানা পঞ্চম হার

তাহলে কি অবনমনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র? অবস্থাদৃষ্টে সেটাই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ লিগে প্রথম পাঁচ ম্যাচই হেরে যাওয়া একটি দলের পক্ষে টিকে থাকা খুব কঠিন। ব্রাদার্স, শেখ রাসেল, ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনীর পর কাল ফেনী সকারও যেভাবে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকে, তাতে দলটির আত্মবিশ্বাস নেমে যাওয়ার কথা তলানিতে।
১২ মিনিটে টিপুর গোল মুক্তিযোদ্ধাকে এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দলটির নতজানু চেহারা। দম, গতি, উদ্যম—সবকিছু হারিয়ে বসলে দুই গোল আদায় করে নেয় সকার। ৬২ ও ৭৫ মিনিটে দুটি গোলই করেছেন বদলি স্ট্রাইকার আশরাফুল কাদের মঞ্জু। পঞ্চম ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল নবাগত ফেনী সকার। তাদের পয়েন্ট ৭।
মুক্তিযোদ্ধার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অভিজ্ঞ। তবে এটা দলের কোনো কাজে আসছে না। বরং ‘মুক্তিযোদ্ধা বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক দল’—এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ম্যাচে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দলটি লড়াই করতে পারছে, ক্লান্তির কারণে এরপরই আস্তে আস্তে ছিটকে যায় ম্যাচ থেকে। কাল যে দুটি গোল খেল মুক্তিযোদ্ধা, তা অনেকটা মনঃসংযোগ না থাকার কারণে। মঞ্জু দুটি গোলই করলেন হেড করে। দুবারই তিনি ছিলেন প্রায় অরক্ষিত।
এটাই বারবার বললেন হতাশ মুক্তিযোদ্ধা কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু, ‘রক্ষণকাজটা ঠিকমতো হয়নি। মঞ্জু অরক্ষিত ছিল।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এই ম্যাচ থেকেও পয়েন্ট পেলাম না...খুবই বাজে অবস্থায় পড়ে গেছি আমরা। এটাকে একটা বড় সংকট হিসেবেই দেখছি।’ দলের কেন এই অবস্থা? বললেন, ‘ম্যাচ যত গড়ায় লড়াইয়ের সামর্থ্যটা হারিয়ে ফেলে খেলোয়াড়েরা। এটাই মূল কারণ। তারওপর কিছুটা ইনজুরি সমস্যাও ছিল।’
মুক্তিযোদ্ধার চারজন বিদেশির মধ্যে একজন মাত্র আছেন। বাকি তিনজন মাঝখানের বিরতিতে দেশে গেছেন। ওই খেলোয়াড়েরা আর নাও ফিরতে পারেন। তাঁরা না এলে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো হবে আরও কঠিন।

শিরোপা দিয়ে শুরু নাদালের ২০১০

জয় দিয়েই নতুন বছরের শুরু হলো রাফায়েল নাদালের। তবে পারলেন না টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরার। আবুধাবির প্রদর্শনী টুর্নামেন্টে কাল রবিন সোদারলিংকে ৭-৬ (৭/৩) ও ৭-৫ গেমে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন নাদাল। আর পরশু সুইস তারকা ফেদেরার সেমিফাইনালে হেরেছিলেন নাদালের ফাইনালের প্রতিপক্ষ সোদারলিংয়ের কাছেই। সুইডিশ সোদারলিংয়ের কাছে ম্যাচটি তিনি হেরেছিলেন ৭-৬, ৬-৭, ২-৬ গেমে। র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর তারকা স্প্যানিয়ার্ড নাদাল স্বদেশি ডেভিড ফেরারকে ৭-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়ে উঠেছেন ফাইনালে।
সোদারলিংয়ের কাছে ফেদেরারের হার বিশ্ব টেনিসের আলোচিত এক ঘটনাই। এর আগে দুজনের ১২টি সাক্ষাতের সবগুলোই জিতেছেন ফেদেরার। কিন্তু অপয়া ‘তেরো’কেই পয়মন্ত বানিয়ে জয়ের মুখ দেখলেন সোদারলিং। এই ফাইনাল নাদালকে দারুণ এক প্রতিশোধের সুযোগই করে দিয়েছিল। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে প্রথমবারের মতো নাদালকে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছিল এই সোদারলিংয়ের কারণেই। বছরের শেষ এটিপি টুর্নামেন্টেও নাদালকে হারিয়েছিলেন তিনি। কাল সোদারলিংকে হারিয়ে এর প্রতিশোধ নিলেনও নাদাল।
এদিকে অবসর ভেঙে টেনিসে ফেরা জাস্টিন আজই প্রথম কোর্টে নামছেন ব্রিসবেন আন্তর্জাতিক টেনিস দিয়ে।

ভারত-বাংলাদেশ সিরিজে রেফারেল নেই

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পর বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট সিরিজ। দুই টেস্টের ওই সিরিজে রেফারেল পদ্ধতি থাকবে না বলে জানা গেছে। মাঠের আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের আবেদন করার এই পদ্ধতি অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা-ইল্যান্ড দুটো সিরিজেই চলছে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে বেশ বিতর্কও চলছে এ নিয়ে। আইসিসি অবশ্য রেফারেল পদ্ধতির পক্ষে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত কিছুদিন আগেও মন্তব্য করেছিলেন, রিভিউ পদ্ধতির কারণে শুধু আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তের পরিমাণ কমছে না, মাঠে খেলোয়াড়দের আচরণও ভালো হচ্ছে।
আইসিসি পক্ষে থাকলেও বাংলাদেশ সফরে রিভিউ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে না বলেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন।

রুনিকে চায় রিয়াল

এমনিতেই ওয়েইন রুনির দিকে চোখ পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের। তারওপর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও পাশে চাইছেন পুরোনো সতীর্থকে। একেবারে দুইয়ে দুইয়ে চার। রুনিকে চাই—স্লোগান উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ স্ট্রাইকারের জন্য ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত খরচ করার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে তারা।
ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি স্টার-এর খবর অনুযায়ী ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার ফি-ই শুধু নয়, রুনিকে সপ্তাহে ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড বেতন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন রিয়াল সভাপতি। ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন অবশ্য আগেই বলে রেখেছেন, রুনি কোথাও যাবে না। যেকোনো মূল্যে রুনিকে তিনি ধরে রাখতে চান।
এমন প্রস্তুতি সর্বশেষ দলবদলের বাজারেও নিয়েছিলেন ফার্গুসন। পর্তুগিজ উইঙ্গার রোনালদোকে ধরে রাখতে কম চেষ্টা করেননি। কিন্তু ফার্গুসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে সব বাঁধন ছিঁড়ে রোনালদোকে ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে যেতে দেখেছে ‘রেড ডেভিল’রা। রুনির বেলায়ও কি সে রকম কিছুই হবে?
রিয়াল মাদ্রিদের একটি সূত্র জানিয়েছে, সে রকম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ পেরেজ একবার যে খেলোয়াড়কে পছন্দ করেন, যাঁকে রিয়ালের জার্সিতে দেখতে চান; তাঁকে যেকোনো মূল্যে দলে নাম লেখান। রোনালদোর বেলায় তো তা-ই হয়েছে।
৯৪ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেই (ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড) ম্যানইউ তারকাকে বার্নাব্যুতে নিয়েছে রিয়াল। ওই সূত্র বলেছে, ‘ডেভিড বেকহাম আর রোনালদোকে যেভাবে রাজি করিয়েছে, মাদ্রিদ তাঁকেও (রুনি) ঠিক সেভাবেই রাজি করাবে।’
তবে আর্সেনাল তারকা সেস ফ্যাব্রিগাসকে পেতে মনে হয় ভালোই লড়তে হবে রিয়াল মাদ্রিদকে। এই মৌসুম শেষেই আর্সেনাল ছাড়বেন বলে নাকি আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে জানিয়ে রেখেছেন স্প্যানিশ প্লে-মেকার। কিন্তু ফ্যাব্রিগাসকে পেতে চায় বার্সেলোনাও। মাঠের মতো মাঠের বাইরেও কঠিন লড়াই করে বার্সাকে হারাতে পারলেই ফ্যাব্রিগাসকে পাবে রিয়াল।
আর্সেনালও ফ্যাব্রিগাসকে নিয়ে রিয়াল-বার্সার সম্ভাব্য লড়াইয়ের সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় আছে। তাঁকে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের নিচে কেউ পাবে না বলেও নাকি জানিয়ে দিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।

বিশ্বকাপের জন্য ত্যাগ

বিশ্বকাপের জন্য আপনি উন্মুখ হয়ে বসে আছেন। বিশ্বকাপ দেখার জন্য কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত আপনি? লুকা টনির মতো নয় নিশ্চয়ই। গত বিশ্বকাপজয়ী এই ইতালিয়ান বিশ্বকাপেও খেলতে চান। আর সেই চাওয়াটা বাস্তবে রূপ দিতে প্রায় ৬ কোটি টাকা (৬ লাখ ইউরো) হাতছাড়া করছেন টনি!
জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পূর্বশর্ত ক্লাবের হয়ে ভালো খেলা। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখে নিয়মিত একাদশেই জায়গা পাচ্ছিলেন না টনি। অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নটাকেই বাঁচিয়ে তুলতে বায়ার্ন ছেড়ে ধারে খেলবেন এএস রোমায়। বায়ার্নে থাকলে যে বেতন পেতেন, তার চেয়ে আগামী ছয় মাসে ৬ লাখ ইউরো কম পাবেন। রোমা যদি তাঁকে একটু বেশি সময় রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করে, সে ক্ষেত্রে টনির ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে আরও। বায়ার্নের তুলনায় বেতন কমে যাবে ২৫ শতাংশ।
তাও সই। ৩২ বছর বয়সী লুকা টনির জন্য এটাই হয়তো বিশ্বকাপে খেলার শেষ সুযোগ। আরেকটি বিশ্বকাপ আসতে আসতে তাঁর বয়স হয়ে যাবে ৩৭। তত দিনে ফুটবল ছেড়ে টনি নিশ্চয়ই নিশ্চিন্তে যাপন করবেন অবসর।
শুধু টনি একা নন। এ জানুয়ারিতে আবারও শুরু হওয়া দলবদলের বাজারে অনেকেই নতুন দল খুঁজছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন নতুন ঠিকানা। ডেভিড বেকহাম যেমন। টনির মতো আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়তো হতে হবে না তাঁকে। বেতন যা কম পাবেন, সেটি বিজ্ঞাপন-টিজ্ঞাপন করে পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু সংসার অন্তঃপ্রাণ বেকহামকে আগামী ছয়টা মাস প্রায় পুরোটাই ছেড়ে থাকতে হবে স্ত্রী-সন্তানদের। লক্ষ্য একটাই—ফ্যাবিও ক্যাপেলোর দলে জায়গা পাওয়া।
সবাই শুধু নতুন ক্লাবেই যাচ্ছেন—এমনও নয়। নতুন ক্লাবে গেলে সেখানকার সেরা একাদশে জায়গা পাবেন কি না—এই সংশয়ে লোভনীয় বেতনের প্রস্তাবও অনেকে পায়ে ঠেলছেন। নাপোলির স্লোভাকিয়ান মিডফিল্ডার মারেক হামসিক যেমন নির্দ্বিধায় অগ্রাহ্য করছেন চেলসি, লিভারপুল, বার্সেলোনার মতো ক্লাবের প্রস্তাব। নাপোলিতে সেরা একাদশে জায়গা তাঁর পাকা। কিন্তু বড় ক্লাবে গেলে পরিস্থিতি একই রকম না থাকার শঙ্কাই বেশি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সার্জিও আগুয়েরো আর বায়ার্নের ফ্রাঙ্ক রিবেরির ভাবনাতেও নিশ্চয়ই বিষয়টা ঘুরছে।

পাকিস্তানের হঠাত্ আমির-ধাক্কা

কাল কিরিবিলি হাউসে গিয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুডের সরকারি বাসভবনের অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররাও ছিলেন। ছবিটা ওই অনুষ্ঠানেরই, রুডের পাশে মোহাম্মদ আমির। রুড হাসছেন, মন খুলে হাসছেন আমিরও।
ওই ছবি দেখে কে বলতে পারত আজ ভোরে শুরু সিডনি টেস্টে নেই মেলবোর্ন টেস্টের সফলতম পাকিস্তানি বোলার আমির। কুঁচকির ইনজুরি নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন। কালই পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দিল সিডনিতে তাঁকে খেলিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি দল।
পত্রিকা হাতে পাওয়ার আগেই যাঁরা টিভি খুলে বসেছেন, এতক্ষণে জেনে গেছেন পেস বোলিংয়ে আমিরের বিকল্প কে হয়েছেন। তাঁকে হারানোটা সফরকারীদের জন্য বড় একটা ধাক্কাই। মেলবোর্ন টেস্টের এক ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করতে পারেনি পাকিস্তান। তবু ১৭ বছর বয়সী এই বোলারই বড় হুমকি ছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে। তবে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে আমিরকে হারিয়ে ফেলার পরও পাকিস্তান দলের প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছেন না রিকি পন্টিং। মেলবোর্নে ১৭০ রানে পাকিস্তানের পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পন্টিং বলছেন, এমন একটা পরাজয়ের পর যেকোনো দলই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। আর পাকিস্তান তো পারেই; কারণ তাদের নিয়ে পূর্বানুমান করা সবচেয়ে কঠিন। সতীর্থদের সতর্ক থাকতেই পরামর্শ দিয়েছেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক, ‘আগের সপ্তাহে যা ঘটেছে (মেলবোর্নে বড় জয়) আমাদের ক্ষেত্রে তা আবারও ঘটবে, এমনটা আশা করা যায় না। তারা এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে, সেই সামর্থ্য তাদের আছেও। তাদের দিক থেকে কী আসবে, সেটা আমরা জানি। খুব মেধাবী কিছু ক্রিকেটার আছে তাদের।’ তবে পন্টিং এটাও মনে করিয়ে দিলেন সিডনিতে ভালো শুরুটা নির্ভর করছে তাদের নিজেদের ওপরই।
কনুইয়ে সমস্যা থাকলেও সিডনিতে খেলছেন পন্টিং। হয়তো খেলবেন কনুইয়ের ইনজুরিতে সাইমন ক্যাটিচও। তবে টেস্ট শুরুর আগে তাঁর বিকল্প হিসেবে মেলবোর্ন থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে ওপেনার ফিলিপ হিউজকে।
মেলবোর্নের পরাজয়, সিডনি টেস্টের আগে আমির-ধাক্কা—এসবের পরও সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পাকিস্তানের প্রেরণা হতে পারে সিডনির মাঠ। গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে পাকিস্তান টেস্টে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল এ মাঠেই। এখানে নিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দানিশ কানেরিয়া ১৮৮ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।
এই সিডনি-প্রেরণা কতটা কাজে লাগাতে পারবে পাকিস্তান? ওয়েবসাইট।

তিন জাতি সিরিজের টিকিটের দাম ঘোষণা

তিন জাতি আইডিয়া কাপ সিরিজের টিকিটের দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। টিকিট পাওয়া যাবে ঢাকায় অবস্থিতি গ্রামীণফোনের আউটলেট সেন্টারগুলোয়। এ ছাড়া সারা দেশের সব গ্রামীণফোন সেন্টারে টিকিট বুকিং দেওয়া যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে ম্যাচের কমপক্ষে দুদিন আগে টিকিট বুকিং দিতে হবে।
প্রথম ৬ ম্যাচের গ্যালারির টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২০০ টাকা করে। ফাইনালের টিকিট ৩০০ টাকা। স্পেশাল এনক্লোজার প্রথম ৬ ম্যাচের জন্য ৪০০ টাকা করে এবং ফাইনালের জন্য ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। ক্লাব হাউসেও প্রথম ৬ ম্যাচে ৫০০ টাকা, ফাইনালে ৬০০ টাকা, ভিআইপি গ্যালারিতে প্রথম ৬ ম্যাচের জন্য ২০০০ টাকা এবং ফাইনালের জন্য ২৫০০ টাকা ধরা হয়েছে।

নাজমুলকে ছিটকে দিল ইনজুরি

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত ওয়ানডে সিরিজে এই একই রকম ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এবার তিন জাতি সিরিজ শুরুর আগে আকস্মিক এক ইনজুরি এসে দর্শকই বানিয়ে দিল নাজমুল হোসেনকে। আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের ১৫ সদস্যের দল থেকে বাদ পড়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর জায়গায় দলে ঢুকেছেন আরেক পেসার শাহাদাত হোসেন।
৩১ অক্টোবর অনুশীলন ম্যাচে বল করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে ডান ঊরুতে ব্যথা পান নাজমুল। দলের ফিজিও জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে।
যেদিন দল ঘোষণা হলো ওই দিন বিকেলেই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন। তিন জাতি সিরিজে ভালো করার জন্য দারুণ অনুপ্রাণিত বোধ করছিলেন নাজমুল। গত জানুয়ারির ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ১০ ওভারে ৩০ রান খরচায়। এবার হঠাত্ করেই তাঁকে ছিটকে ফেলল ইনজুরি। খুবই হতাশ নাজমুল, ‘খুবই খারাপ লাগছে আমার। গত কয়েকটি সিরিজ আমি ভালোই বল করেছি। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বোলিংটা উপভোগ করতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু এমন সময় এই ইনজুরিতে পড়লাম।’