Saturday, October 24, 2009

যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

একটি বিপণিবিতানে হামলার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের এক যুবককে অভিযুক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইনজীবীরা। কর্মকর্তারা জানান, তারেক মেহান্না (২৭) নামের ওই যুবক ম্যাসাচুসেটসের সুদবারি এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার সন্ধ্যায় সেখানকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জিহাদের পক্ষে প্রচারণা হিসেবে একটি ভিডিও টেপ সরবরাহ এবং অন্য ষড়যন্ত্রকারীর সঙ্গে মিলে এক বিপণিবিতানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জোগাড় করা এবং বিপণিবিতানে গুলি চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে তারেক ও তাঁর সহযোগীর মধ্যে একাধিকবার আলাপ হয়েছে।

ভারতের তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এগিয়ে

ভারতের হরিয়ানা, অরুণাচল প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি-শিবসেনা থেকে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট। মহারাষ্ট্র রাজ্যের ২৮৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস-এনসিপি জোট এগিয়ে আছে ১৪৮টি আসনে। বিজেপি ও শিবসেনা জোট এগিয়ে আছে ৮৮টি আসনে।
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, হরিয়ানায় ৯০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৪২টি আসনে এগিয়ে আছে। বিজেপি পাঁচটি আসনে এবং ওম প্রকাশ চৌতালা নেতৃত্বাধীন আইএনএলডি ৩১টি আসনে এগিয়ে আছে।
অরুণাচল প্রদেশে ৬০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৩৮টি ও বিজেপি দুটি আসনে এগিয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য উত্তর কোরিয়া বড় ধরনের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক শান্তির পথে উত্তর কোরিয়া বড় ধরনের হুমকি। তিনি বলেছেন, পিয়ংইয়ং তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি। কেবল সিউলের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের জন্যই পিয়ংইয়ং হুমকি। তিনি এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে পরমাণু ছত্রচ্ছায়ায় রক্ষা করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। খবর এএফপির।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বার্ষিক নিরাপত্তা-বিষয়ক এক সভায় রবার্ট গেটস এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
গেটস বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় আমি ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি।’ তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে।
উত্তর কোরিয়ার ১২ লাখ সেনা সদস্যের বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সাড়ে ছয় লাখ সেনা সদস্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ি-ইয়ুং বলেছেন, পিয়ংইয়ং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে এর কোনো লক্ষণ নেই।
গতকাল বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে রবার্ট গেটস ও কিম তায়ি-ইয়ুং বলেন, গত এপ্রিল ও মে মাসে ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে পিয়ংইয়ং স্পষ্টত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিশ্বে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
এর আগে গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি একেবারে বন্ধ করার পদক্ষেপ নিলেই কেবল পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। একই দিন সিউলে পৌঁছেই রবার্ট গেটস ঘোষণা দেন, ওবামা প্রশাসন কখনোই পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়াকে মেনে নেবে না।
পরমাণু ইস্যু নিয়ে কয়েক মাসের উত্তেজনা শেষে উত্তর কোরিয়া গত আগস্টে ফের ওয়াশিংটন ও সিউলের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে পিয়ংইয়ং গত সপ্তাহেও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় এ প্রক্রিয়া আবারও থমকে গেল।
গত এপ্রিলে ছয় জাতি আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তত্পরতায় পিয়ংইয়ং সম্প্রতি আবার আলোচনায় বসতে রাজি হয়। তবে ছয় জাতি আলোচনায় বসার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসে দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের উন্নতি চায়।

শহুরে জীবন বেশি পছন্দ কচ্ছপের

নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক মানুষ শহুরে জীবন পছন্দ করে। হাত বাড়ালেই শহরে প্রায় সবকিছু পাওয়া যায়। তাই অনেক মানুষই গ্রামের নির্মল পরিবেশ ছেড়ে শহরের যান্ত্রিক জীবন বেছে নিচ্ছে। কিন্তু কোনো বন্য প্রাণী যদি নিজের আবাসস্থল হিসেবে প্রাকৃতিক পরিবেশের চেয়ে শহর বেশি পছন্দ করে, তাহলে বিষয়টি বিস্ময়করই বটে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশের চেয়ে শহুরে জীবন বেশি পছন্দ কচ্ছপের।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বন-জঙ্গলের চেয়ে শহরের আবাসস্থলে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে কচ্চ্ছপেরা। দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার শহরতলিতে যেসব কচ্ছপের বসবাস, তাদের চলাফেরার পরিধি প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসকারী কচ্ছপের চেয়ে বেশি। শুধু তা-ই নয়, শহুরে কচ্ছপ খুব ভালোভাবেই খরা মোকাবিলায় সক্ষম।
গবেষণায় দেখা গেছে, কচ্ছপ শহুরে পরিবেশে খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকে এবং বেড়ে ওঠে। গবেষণায় এ ইঙ্গিত মিলছে যে, কোনো কোনো সময় বসবাসের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের চেয়ে শহুরে পরিবেশ শ্রেয়। বায়োলজিক্যাল কনজারভেশন জার্নালে গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও বিশ্বজুড়ে নগরায়ণের কারণে অনেক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নগরায়ণের ফলে প্রাণিকুল তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অনেক বন্য প্রাণী। এই প্রেক্ষাপটে খরার সময় এবং শহুরে জীবনে কচ্ছপ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, এ বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেন বিজ্ঞানীরা। বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার শহরতলির কচ্ছপ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসরত কচ্ছপের মধ্যে তুলনা করে দেখা হয়।
কিন্তু এ গবেষণায় যা বেরিয়ে এসেছে, তাতে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার দ্য ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লায়েড ইকোলজির গবেষণা দলের সদস্য জন রো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসরত কচ্ছপের তুলনায় শহরের কচ্ছপ চারদিকে কম চলাফেরা করবে। কারণ শহরের কচ্ছপদের অনেক হুমকি মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু গবেষণায় সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বেরিয়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, শহরের কচ্ছপ প্রাকৃতিক পরিবেশের কচ্ছপের চেয়ে অনেক বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে এবং তাদের আবাসস্থলের আওতা প্রাকৃতিক পরিবেশের কচ্ছপের চেয়ে তিন গুণ বেশি। গবেষকেরা শহরের ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কচ্ছপের গায়ে অতি ক্ষুদ্র রেডিও ট্রান্সমিটার যুক্ত করে দেন এবং এক বছর ধরে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।

পশ্চিমবঙ্গে ২৩ মাওবাদীর মুক্তির বিনিময়ে ছাড়া পেলেন অপহূত ওসি

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে মাওবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ জনকে। এর মধ্যে ১৪ জন নারী ও নয়জন পুরুষ। এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল লালগড় থেকে। ওই খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মাওবাদীরা সাঁকরাইল থানার অপহূত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ছেড়ে দিয়েছে। মাওবাদীদের নেতা কিষানজি সংবাদমাধ্যমকে গতকাল ফোন করে এ কথা বলেছেন। এর আগে মাওবাদী ওই নেতা বলেছিলেন, সরকার কারাবন্দী মাওবাদীদের ছেড়ে দিলেই ওসিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানা থেকে কয়েক দিন আগে ওসি অতীন্দ্রনাথ দত্তকে অপহরণ করে মাওবাদীরা। এরপর কিষানজি টেলিফোনে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরাই সাঁকরাইল থানা আক্রমণ করে লুট করেছেন পুলিশের অস্ত্র।
ওসি অতীন্দ্রনাথ দত্তকে মুক্ত করার জন্য গতকাল সকালে যৌথ বাহিনী জঙ্গলমহলের পূর্ণপানি এলাকায় অভিযান শুরু করে। এ সময় মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় হয়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই কিষানজি টেলিফোনে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকার যদি ওই অভিযান বন্ধ না করে, তবে মেরে ফেলা হবে ওসিকে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ওসিকে মুক্ত করতে হলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৫ মাওবাদীকে মুক্তি দিতে হবে।
কিষানজির ওই টেলিফোন পাওয়ার পর রাজ্য সরকার বন্ধ করে দেয় যৌথ বাহিনীর অভিযান। একই সঙ্গে মেদিনীপুরের জেলা দায়রা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় মাওবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ জনকে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সাঁকরাইল থানা আক্রমণ করে মাওবাদীরা ছিনিয়ে নেয় পুলিশের সব অস্ত্র। তারা থানা লুট করার পর পাশের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার একটি শাখায় হামলা চালিয়ে লুট করে নেয় ব্যাংকের নয় লাখ ২৭ হাজার টাকা এবং অস্ত্র। এ সময় খুন করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে। একই সময় থানার ওসিকে অপহরণ করে তারা। এই মাওবাদীরাই দুই মাস আগে ছাব্বির হোসেন ও কাঞ্চন গড়াই নামের দুই পুলিশ কনস্টেবলকে অপহরণ করে। তাঁদের আজও ছেড়ে দেয়নি তারা।

নেহরু-এডুইনাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ আপাতত হচ্ছে না

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডুইনার সম্পর্ক নিয়ে চলচ্চিত্র আপাতত হচ্ছে না। ভারত সরকারের চাপে শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়ান সামার চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলই করে দিল প্রযোজক সংস্থা ইউনিভার্সাল স্টুডিও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
অ্যাটোনমেন্ট খ্যাত পরিচালক জো রাইটের এই চলচ্চিত্র পরিচালনা করার কথা ছিল। চলচ্চিত্রটিতে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভূমিকায় ব্রিটিশ অভিনেতা হিউ গ্রান্ট, এডুইনার চরিত্রে ব্রিটিশ অভিনেত্রী কেট ব্লানচেট ও নেহরুর চরিত্রে ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খানের অভিনয়ের কথা ছিল। রাইটের দাবি, ভারত চাইছিল ছবিতে নেহরু-এডুইনার সম্পর্কের বিষয়টা যতটা সম্ভব কম থাকুক। অথচ রাইটের মতে, ওই অংশটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

পাকিস্তানে বন্দুকধারীদের গুলিতে সামরিক কর্মকর্তাসহ নিহত ২

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী তালেবানের ঘাঁটি বলে পরিচিত দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানের সর্বাত্মক সেনা অভিযান চলাকালে এ হামলা চালানো হলো।
পুলিশ কর্মকর্তা জাফর আব্বাস জানিয়েছেন, সেনা সদস্যরা ইসলামাবাদের একটি আবাসিক এলাকায় সামরিক যানে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাত্ বন্দুকধারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে ব্রিগেডিয়ার মইনউদ্দিন ও সামরিক যানটির চালক আসগর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ছাড়া আরও একজন সেনা সদস্য আহত হন।
টেলিভিশনে দেখা গেছে, গুলিতে সামরিক যানটি ঝাঁঝরা হয়ে গেছে; চাকা ফুটো হয়ে গেছে; গাড়ির সামনের ও পেছনের কাচ গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।
পুলিশ বলেছে, দুজন তরুণ বন্দুকধারী এ হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পরপরই বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেছে।
ইসলামাবাদে গত তিন দিনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হলো। গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত চারজন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়।
পাকিস্তানে গত এক মাসে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ২০০ লোক নিহত হয়েছে।

ইরানের পরমাণু সংকট সমাধানে অগ্রগতি, খসড়া প্রস্তাবে মতৈক্য

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভিয়েনায় কয়েক দিনের আলোচনার পর বিশ্বের তিন পরাশক্তি রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। ওই প্রস্তাবের কপি গত বুধবার ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবারের মধ্যে এ নিয়ে চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী আইএইএ। সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এলবারাদি বার্তা সংস্থাকে বুধবার এ কথা বলেছেন।
আইএইএ প্রস্তাবিত ওই চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বার্তা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে, এই চুক্তিতে ইরানকে তার অপরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মজুদ ফ্রান্স ও রাশিয়ায় পাঠাতে বলা হয়েছে। এ দুটি দেশে ওই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পর তা ইরানের কাছে ফেরত পাঠানো হবে। ওই ইউরেনিয়াম ইরান তার বেসামরিক পরমাণু চুল্লিতে ব্যবহার করে জ্বালানি ও বিদ্যুত্ উত্পাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। তবে ওই ইউরেনিয়াম তারা পরমাণু বোমা তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে না। পশ্চিমা বিশ্ব এই খসড়া চুক্তিকে একটি সাফল্য হিসেবেই বিবেচনা করছে। কারণ, তারা এত দিন সন্দেহ করে আসছিল, ইরান তার বেসামরিক পরমাণু কমসূচির আড়ালে বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সে আশঙ্কা দূর হবে।
আইএইএ প্রধান এলবারাদি ওই বৈঠকের ব্যাপারে খুবই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সব পক্ষই চেয়েছে সংকটের সুন্দর সমাধান বের করে আনতে। এ লক্ষ্যে তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করতে অতীতকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর চেষ্টা করেছেন। সংকট সমাধানে আমি একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছি। খসড়ায় সব পক্ষের দাবিদাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। এটা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
রাশিয়ার একজন পরমাণুবিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুদ আইএইএর কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর আইএইএ তা রাশিয়ার কাছে পাঠাবে। রাশিয়ায় ওই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পর আইএইএর মাধ্যমে তা ফ্রান্সের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে ওই ইউরেনিয়াম তেহরান তাদের পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি ও বিদ্যুত্ উত্পাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
ইরানের প্রধান আলোচক আলী আসগর সুলতানিয়া আলোচনা ও খসড়া প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। যুক্তরাষ্ট্রও খসড়া চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এতে ইরানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের উত্তেজনাও কমে আসবে। আলোচনা ফলপ্রসূ করায় এলবারাদির প্রশংসাও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত পৌঁছানোর পদক্ষেপ নিয়েছে জনতা ব্যাংক

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত তাদের আত্মীয়স্বজন তথা উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক লিমিটেড ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ রেমিটেন্স অপারেশন চালু করেছে।
এ ব্যাপারে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের সঙ্গে জনতা ব্যাংক একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারকাত। অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আমিনুর রহমান এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সিনিয়র কান্ট্রি ম্যানেজার ভিজেই রাজ পাদওয়াল, বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক কোনো ধরনের কমিশন কাটবে না। এমনকি কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রাহকেরা ওই অর্থ তুলতে পারবেন। তবে গ্রাহক পরিচিতি নিশ্চিত হতে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের ফাটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশজুড়ে জনতা ব্যাংকের স্পিডি রেমিটেন্স পেমেন্ট সিস্টেমের আওতাভুক্ত ২০৫টি শাখায় গ্রাহকেরা এ সুবিধা পাবেন।

ইবিএলের খাতুনগঞ্জ শাখায় আধুনিক ব্যাংকিং-সেবা চালু

গ্রাহকদের উত্কর্ষ ব্যাংকিং-সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) চট্টগ্রামে তাদের খাতুনগঞ্জ শাখা আধুনিক ব্যাংকিং ও অন্যান্য সুবিধাসহ নতুনভাবে সজ্জিত করেছে। গতকাল রোববার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রেজা ইফতেখার নবরূপে সজ্জিত এ শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ইবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুখলেসুর রহমান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কনজুমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান আহসান জামান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকাশ্যে কৃষিঋণ বিতরণের আহ্বান- বগুড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ নভেম্বর। হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম জহির এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম গতকাল শেষ শুনানিতে অংশ নেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বছরের মাঝামাঝি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদি বা ‘ক্লোজ এন্ড’ মিউচুয়াল ফান্ডে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা এবং রাইট ইস্যু নিষিদ্ধ করে।
এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিনজন বিনিয়োগকারী ওই বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলা নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সব মিউচুয়াল ফান্ডে লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর পর দুই বছর মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এদিকে দুই বছর ধরে লভ্যাংশ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত মামলার রায় ৪ নভেম্বর

মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ নভেম্বর। হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম জহির এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম গতকাল শেষ শুনানিতে অংশ নেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বছরের মাঝামাঝি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদি বা ‘ক্লোজ এন্ড’ মিউচুয়াল ফান্ডে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা এবং রাইট ইস্যু নিষিদ্ধ করে।
এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিনজন বিনিয়োগকারী ওই বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলা নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সব মিউচুয়াল ফান্ডে লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর পর দুই বছর মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এদিকে দুই বছর ধরে লভ্যাংশ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।Q

জরুরি নির্গমন পথসহ কারখানার নকশা বাস্তবায়ন জানুয়ারি থেকে

কোনো কারণে পোশাক কারখানায় আগুন লাগলে নির্মমভাবে পুড়ে মরতে হয় শ্রমিকদের। অকালমৃত্যুর এই ঘটনা ঘটে কারখানাগুলোতে জরুরি নির্গমন পথ না থাকায়।
এ বক্তব্য তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, জরুরি নির্গমন পথ তৈরিসহ কারখানার কাঠামোগত নকশা তৈরির আলোচনা চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে। এ ব্যাপারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যে। আর আগামী জানুয়ারির মধ্যে নকশা বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।
কাঠামোগত নকশার মধ্যে কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা, শৌচাগার, প্রশস্ত সিঁড়ি, শ্রমিকদের চিকিত্সাসহ বিভিন্ন সুবিধার বিস্তারিত তুলে ধরতে হবে।
আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক কারখানায় অংশগ্রহণমূলক কমিটিও গঠন করতে হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এসব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স ফোরামের ত্রয়োদশ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাণিজ্যসচিব ফিরোজ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মুস্তাফা মহিউদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান সাহাবউল্লাহ, তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, নিট পোশাক উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি ফজলুল হক, বেপজার মহাব্যবস্থাপক এস এম আব্দুর রশীদ, কর্মজীবী নারীর প্রধান শিরীন আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে: বিধিবিধান পরিপালন করছে না এমন (নন কমপ্লায়েন্ট) কারখানার বিরুদ্ধে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি শ্রমিক অসন্তোষের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

নতুন সব সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুত্ ব্যবস্থা থাকবে- বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা হচ্ছে: উপদেষ্টা

সরকারি মালিকানায় ভবিষ্যতে যেসব ভবন নির্মাণ করা হবে, সেগুলোয় সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পরে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং জার্মান টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের (জিটিজেড) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এনার্জি সেভিং কস্ট সেভিং’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এসব কথা বলেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, ভবিষ্যতে নতুন শিল্প স্থাপন করার সময় বিদ্যুত্-সাশ্রয় এবং উত্পাদন-ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করতে হবে।
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি জাফর ওসমান সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ইজাজ হোসেন এবং এনার্জি সেভিং ইনিশিয়েটিভ প্রজেক্টের টিম লিডার মাইকেল জন ব্রিকস প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী। এ সময় পিডিবির চেয়ারম্যান এ এস এম আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।
তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, সরকার বিদ্যুত্ খাতের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ ছাড়া সরকার গ্যাসের উত্পাদন বৃদ্ধি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বিদ্যুত্সংকট কাটাতে দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে অচিরেই উত্তরবঙ্গে বিদ্যুত্ প্রকল্প স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রতিটি নতুন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে পুরোনো ভবনের ছাদে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না বলে তিনি জানান।

আগামী তিন বছরে বিশ্বব্যাংক ২১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেবে

আগামী তিন বছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৩০০ কোটি ডলার বা প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেবে।
এ বছর ডিসেম্বর মাসে ২০০৬-০৯ সময়কালের জন্য দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলের (ক্যাস) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই সময়কালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দিয়েছে ২৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংক এখন নতুন দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলের কাজ করছে। তবে চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রস্তুত হতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রবার্ট এল ফ্লয়েড বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া—এগুলোর ওপর জোর দিয়ে ভবিষ্যত্ সহায়তা কৌশলপত্র তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের কৌশলপত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বব্যাংক তার নতুন সহায়তা কৌশল তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে অর্থনৈতিক হালনাগাদ পরিস্থিতির ওপর এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া ও সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেছেন, বিশ্বমন্দার কারণে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কিছুটা কমে গেছে। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১১ শতাংশ দারিদ্র্য কমবে। কিন্তু বিশ্বমন্দার কারণে এই হার ৯ শতাংশ হতে পারে।
সঞ্জয় কাঠুরিয়া আরও বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।
জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মজবুত অবস্থায় আছে। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে দুর্বলতা আছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে বিনিয়োগ মোট দেশজ উত্পাদনের ২৪ দশমিক ২০ শতাংশে আটকে আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দীর্ঘদিন সেটা থাকবে, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, ভারতে এ বছর খরার কারণে এবং অন্যান্য খাদ্য উত্পাদনকারী দেশগুলোতেও উত্পাদন কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে কিছুটা অস্থিরতা আছে। ইতিমধ্যেই চিনির বাজারে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি পাঁচ শতাংশের ওপরে থাকলেও গত চার বছর ধরে এটা নিম্নমুখী একটা অবস্থায় আছে। অর্থাত্ প্রতিবছরেই কিছুটা কমছে। এটাকে বাড়াতে হলে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ দুটোই বাড়াতে হবে।

ম্যানইউর রেকর্ড, বায়ার্নের হার

অনেক দিন গোল পাচ্ছিলেন না। চেলসির ল্যাম্পার্ডের
এই গোল উদ্যাপনে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকল স্বস্তিও
সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে জয় আর এমন কী? এ নিয়ে কেন উচ্ছ্বসিত হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো পরাশক্তি?
উচ্ছ্বসিত হওয়ার দুটি কারণ তো পরিষ্কারই। প্রথম কারণ—গত পরশু মস্কোতে ১-০ গোলের এই জয়ে একটা বন্ধ্যাত্ব ঘুচল ম্যানইউর। গত বছর যে মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল, সেই মাঠেই তারা প্রথম জয় পেল কোনো রুশ ক্লাবের বিপক্ষে। দ্বিতীয় কারণ—এই জয়ে আয়াক্স আমস্টারডামের একটি রেকর্ড ছুঁল ম্যানইউ। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
ম্যানইউয়ের যুগল আনন্দের কারণ এই জয় এসেছে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোল করে যা এনে দিয়েছেন ইকুয়েডরের উইঙ্গার আন্তনিও ভ্যালেন্সিয়া। এর আগে তাঁর একটি শট বারে লেগে ফিরেছে, নানির দুর্দান্ত ডাইভিং হেড ঠেকিয়ে দিয়েছেন গোলকিপার।
ম্যানইউর মতোই টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ডের আরেক দল চেলসি। তবে সেই জয়টা এসেছে অনেক সহজে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছেন আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার সলোমন কালু। বাড়তি সময়ে চতুর্থ গোলটি আত্মঘাতী, অন্যটি ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের। গত আগস্টের পর এটি ল্যাম্পার্ডের প্রথম গোল, তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো চেলসির জার্সি গায়ে এটি তাঁর ১৩৩তম গোল, যেটি করে চেলসির পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জিমি গ্রিভসের ওপরে তুলে দিল ল্যাম্পার্ডকে। রেকর্ডটা অবশ্য এখনো অনেক দূরে। ২০২ গোল করে যেটির মালিক ববি টাম্পলিং।
পরশু রাতে ম্যানইউ-চেলসির জয়ের চেয়েও উল্লেখযোগ্য বলে মানতে হবে, বোর্দোর কাছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের পরাজয়কে। ঘটনাবহুল এই ম্যাচে নয়জনের দলে পরিণত বায়ার্নকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বোর্দো। দ্বিতীয়ার্ধে বোর্দো দুটি পেনাল্টি মিস না করলে ব্যবধানটা আরও বড় হতো। বোর্দোর খেলোয়াড় কায়ানির জন্য এই ম্যাচটা স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে। ৬ মিনিটে তাঁর আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়েছিল বোর্দো। ২৭ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে ওই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন তিনি। ৪০ মিনিটে বোর্দোর জয়সূচক গোলটি করেছেন প্ল্যানাস। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে বোর্দো। ৪ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্ন আছে তৃতীয় স্থানে। এ দিন ম্যাকাবি হাইফাকে একমাত্র গোলে হারিয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে জুভেন্টাস।

প্লাতিনির চোখে বছরটা এবার মেসির

‘আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আমি খেলোয়াড় হিসেবে যাকে সবচেয়ে পছন্দ করতে পারি সে একজন আর্জেন্টাইন এবং বার্সেলোনার হয়ে খেলে’—একটু ধাঁধার মতো করে কথাগুলো বলেছেন মিশেল প্লাতিনি, উয়েফা সভাপতি। ধাঁধার মতো শোনালেও এর মধ্যে মোটেও ধোঁয়াশা নেই। লিওনেল মেসির কথাই বলেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি।
মেসিকে শুধু সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় বলেই থামেননি তিনবার ইউরোপের বর্ষসেরা এবং দুবার ওয়ার্ল্ড সকার-এর বর্ষসেরা সাবেক খেলোয়াড়। বলেছেন, ‘মেসিকে আমি দারুণ পছন্দ করি এবং আমার বিশ্বাস, সে বছর শেষে জিতে নেবে সবগুলো ট্রফি।’
গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে আগস্টে ইউরোপের সেরা ক্লাব খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার ‘ছোট জাদুকর’। তবে ২০০৮-এর ব্যালন ডি’অর আর ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার পাননি। দুটোই জিতেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের (তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের) পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দুই জায়গাতেই মেসি হয়েছিলেন দ্বিতীয়। তবে প্লাতিনি মনে করেন, রোনালদোর মতো ২০০৯ সালটা হবে মেসিরই, ‘তার গত বছরটা অসাধারণ গেছে। আগের বছর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো স্বীকৃতিটা তার প্রাপ্য।’
এ বছর ১ ডিসেম্বর ঘোষিত হবে ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম। গত রোববার প্রকাশিত ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকায় রোনালদোর পাশে তাঁর নাম ওঠাটা ওই পুরস্কার জয়ের পথে মেসির প্রথম পদক্ষেপ। ব্যালন ডি’অরের পর আসবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার, ফিফা বর্ষসেরার ঘোষণা। সাংবাদিকেরা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের নির্বাচক ফিফা বর্ষসেরার নির্বাচকমণ্ডলী, সারা বিশ্বের জাতীয় দলগুলোর কোচ ও অধিনায়ক। ওই নির্বাচকমণ্ডলীকে প্রভাবিত করার কিছু নেই মিশেল প্লাতিনির। তবে তিনি যখন এবার সবগুলো পুরস্কার মেসির হাতে উঠবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, তখন তার আলাদা একটা গুরুত্ব তো থাকেই।

অনুতপ্ত নন ম্যারাডোনা

দিন সাতেক পেরিয়ে গেছে। থিতিয়ে এসেছে উত্তেজনা। পেছন ফিরে তাকালে নিশ্চয়ই কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার? উরুগুয়ে ম্যাচের পর যেভাবে হামলে পড়েছিলেন সাংবাদিকদের ওপর, অশোভন আচরণ আর গালিগালাজের কারণে সেপ ব্ল্যাটার থেকে শুরু করে ইয়োহান ক্রুইফ পর্যন্ত সমালোচনা করেছেন। মাথার ওপর ঝুলছে ফিফা নিষেধাজ্ঞার খড়্গ।
কিন্তু না, ম্যারডোনা এখনো অটল। পরশু ক্যানাল সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘আমি নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু তাদের কাছে চাইনি, যারা ফুটবল নিয়ে টেলিভিশনে কথা বলে। যা বলেছি তার জন্য আমি অনুতপ্ত নই। বিশ্বকাপে উঠে যাওয়ার পর আমি যা বলার বলেছি। প্রত্যেকেই দোষ করেছে।’
কেন অনুতপ্ত নন সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ। বলেছেন, বিশ্বকাপে তাঁর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অন্যায় সমালোচনা করা হয়েছে। যাঁরা নানা রকম মন্তব্য করেছিল তাদের অনেকেরই ফুটবলের কৌশল সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই। সেদিনের আচরণ তাঁকে আদর্শ মানে এমন তরুণ প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকল—এই সমালোচনার জবাবে ম্যারাডোনার বক্তব্য, ‘আমি এমন এক সময় কথাগুলো বলেছি যখন ছোটরা টিভি দেখে না।’
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা জাগায় ফুটবল-পাগল পুরো দেশ যেন উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। সেই উত্তাপের আগুনে ঘি ঢেলেছে সংবাদমাধ্যম। ম্যারাডোনা তাই বলছেন, ‘আমরা যদি বিশ্বকাপের বাইরে ছিটকে পড়তাম তাহলে হয়তো আমাকে হাইতিতে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে হতো... আর্জেন্টিনায় প্রথম যে মানুষটিকে গুলি করা হতো সেটি হতো ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।’
গত নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোট ১৩ ম্যাচে ৭০ জনের বেশি খেলোয়াড়কে ডেকেছেন ম্যারাডোনা। এ নিয়েও সমালোচনা সইতে হয়েছে তাঁকে। ম্যারাডোনার বক্তব্য, অনেকেরই বাজে ফর্ম আর কৌশলগত কারণে তাঁদের বাদ দিয়ে নতুনদের ডাকতে হয়েছে, ‘পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচগুলো ছিল ভাগ্য নির্ধারণী। আর্জেন্টাইন দলগুলোর অনেক খেলোয়াড় আমাদের তা পার করে দিয়েছে।’
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল। আর ম্যারাডোনা বিশ্বকাপে দলকে তুলে নিয়েছেন তারই প্রতিশোধ, “আমি জানতাম আমি প্রতিশোধ নেবই। আর তাই বিশ্বকাপে যাওয়ার পর আমি (সাংবাদিকদের) বলেছিলাম, ‘তোমরা ভুল বলেছিলে’।”
এখন আর এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না ম্যারাডোনা। দলকে গুছিয়ে আনাই তাঁর মূল কাজ। আট মাসের মতো সময় আছে হাতে। এরই মধ্যে দলকে সুসংঘবদ্ধ করতে চান। কথা বলতে চান হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, হাভিয়ের মাচেরানো, গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ আর লিওনেল মেসিদের মতো দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে। কথা বলবেন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুলিও গ্রন্ডোনার সঙ্গেও।
সবার প্রতি ম্যারাডোনার আহ্বান, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফকে দেখাতে হবে আমরা বিশ্বকাপের চাপ নিতে সক্ষম, যেটা সহজ নয়। একসঙ্গে থাকার, ইনজুরির চাপ সামলাতে হবে। আমাদের একটা দল গড়ে তুলতে হবে, যারা সবাই একে অন্যকে সাহায্য করবে।’
এদিকে লিওনেল মেসির পড়তি ফর্ম নিয়ে শোরগোল উঠে গেছে বার্সেলোনা শিবিরেও। লিগের প্রথম ৫ ম্যাচে ৫ গোল করা মেসির দ্যুতি হারিয়ে ফেলার জন্য স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ম্যারাডোনাকেই দায়ী করছে। স্পেনের একটি পত্রিকা লিখেছে, ‘ম্যারাডোনা মেসির সব ঝলকানি শুষে নিয়ে তাঁকে প্রতিভাশূন্য বানিয়ে ছেড়েছে।’ স্পেনের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক মার্কা লিখেছে, ‘মেসিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন তাঁর গতি আর ড্রিবলিং করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, যে দুটোই তাঁর মূল শক্তি।’

ম্যাচ বাড়ছে বাংলাদেশ লিগে

লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে আবাহনী অধিনায়ক বিপ্লব
প্রথম দুটি পেশাদার ফুটবল লিগে ১১ দলের ম্যাচ ছিল ১১০টি। পরশু শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় পেশাদার লিগে ১৩ দল ম্যাচ খেলবে ১৫৬টি।
শুধু ৪৬টি ম্যাচ বাড়ছে না, লিগে এসেছে অনেক পরিবর্তন। বি-লিগের জায়গায় নতুন নাম ‘বাংলাদেশ লিগ’। ভারতে ‘আই লিগ’ মানে ইন্ডিয়া লিগ। কিন্তু বি-লিগ নামে শুরু হওয়া বাংলাদেশের পেশাদার লিগ নিয়ে বাফুফে সভাপতি বিদেশে প্রায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন করতেন, ‘তাহলে এ-লিগ কোনটা?’ এই বিড়ম্বনা এড়াতেই বাংলাদেশ লিগ নামকরণ।
লোগোতেও তাই পরিবর্তনটা অনিবার্য ছিল। তবে পরিবর্তন অতিসামান্য, বি-লিগের জায়গায় বাংলাদেশ লিগ কথাটা লেখা হয়েছে লোগোর মাঝখানে। কাল রাজধানীর একটি হোটেলে উন্মোচন করা হলো এই লোগো।
১৩টি দলের একজন করে খেলোয়াড় বা প্রতিনিধিকে নিয়ে ফ্যাশন শোর আয়োজন ছিল এতে। প্রথম দুটি পেশাদার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল আবাহনীর হয়ে অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য ক্যাটওয়াকে অংশ নিয়েছেন। রানার্সআপ মোহামেডানের কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। অগত্যা দলটির সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমান দলের সঙ্গে যুক্ত ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবকে ধরে এনে পরিয়ে দেওয়া হলো সাদা-কালো জার্সি। বাকি দলগুলোর জার্সি গায়ে বর্তমান খেলোয়াড়েরা এলেও সমন্বয়হীনতা ছড়িয়ে ছিল গোটা অনুষ্ঠানেই।
উপস্থাপিকা লিগটাকে দুবার ‘টুর্নামেন্ট’ বললেন। আরামবাগকে বললেন ‘আরামগঞ্জ’! উপস্থাপিকাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব যদি থাকে আয়োজকদের, সে দায়িত্ব পালনে বাফুফে ছিল উদাসীন।
লোগো উন্মোচন না করে সবাইকে অবাক করে গান গাওয়ার জন্য কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদারকে মঞ্চে তুলে দেওয়া হলো। লোগো উন্মোচন করা হলো দুটি গানের পর, তাও প্রতিবাদ ওঠায়। পৃষ্ঠপোষক সিটিসেল প্রতিনিধি সৈয়দ তানজীন হক, বাপ্পা মজুমদার ও অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাকে সঙ্গে নিয়ে এটি উদ্বোধন করেন বি-লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী।
অনুষ্ঠানে একমাত্র বক্তা হিসেবে সালামের মুখে ছিল আশাবাদ, বাংলাদেশ লিগ জমজমাট হবে এবং ক্লাবগুলোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। তবে একটা সমস্যার কথাও তুলে ধরলেন তিনি, ‘আন্তর্জাতিক খেলা থাকায় এবারের লিগটা বাধাগ্রস্ত হবে।’
এবার নতুন দল তিনটি। গতবারের দলগুলোর অবস্থান তো জানাই, নতুন দলগুলোর মধ্যে ক্লাব কাপে চ্যাম্পিয়ন নারায়ণগঞ্জ শুকতারা ১১তম, রানার্সআপ ফেনী সকার ১২তম এবং সিলেট বিয়ানীবাজার ১৩তম। নবাগত দলগুলোর হোম ভেন্যু তাদের জেলা স্টেডিয়াম। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ পাঁচটি ভেন্যুতে খেলা হবে এই লিগ। মোটকথা, ভেন্যু বেড়েছে দুটি। প্রথম দুবার খুলনায় খেলা হয়েছিল, অবনমিত হওয়ায় তৃতীয় আসরে খুলনা নেই।
এবার ২৫ জনের জায়গায় প্রতিটি দল নিতে পারবে ২৭ জন খেলোয়াড়। বিদেশি খেলোয়াড় কোটা পাঁচজনই, এক ম্যাচে খেলতে পারবেন তিনজন। আগামীকাল পর্যন্ত বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করা যাবে।
পরশু প্রথম দিনে আবাহনী-বিয়ানীবাজার ম্যাচ। পরদিন মোহামেডান-ফেনী সকার। ২৭ অক্টোবর শেখ রাসেল-শুকতারা। ২৮ অক্টোবর ব্রাদার্স-মুক্তিযোদ্ধা, ২৯ তারিখ চট্টগ্রাম মোহামেডান-আরামবাগ ও ফরাশগঞ্জ-চট্টগ্রাম আবাহনী। প্রথম রাউন্ডে চট্টগ্রাম মোহামেডানের ম্যাচটা চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে হবে। বাকি সব ম্যাচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, শুরু বিকেল সাড়ে ৫টায়।

রোনালদিনহো-কাকা নন—পাতো! by উত্পল শুভ্র

ব্রাজিলের অতীত-বর্তমানকে ছাপিয়ে উজ্জ্বলতম ‘ব্রাজিলের
ভবিষ্যত্’—মিলানের উত্সবের মধ্যমণি পাতো
রিয়াল মাদ্রিদ বনাম এসি মিলান মানে ইউরোপের সফলতম দুই ক্লাবের লড়াই। গৌরবময় ফুটবল ঐতিহ্যেরও। গত পরশু সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে এই দুই ক্লাবের সর্বশেষ দ্বৈরথে সেসব তো থাকলই, যোগ হলো একটা ভিন্ন অনুষঙ্গও। ব্রাজিলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ যেন একসঙ্গে দেখা দিল সবুজ মাঠের ফ্রেমে।
অতীত—রোনালদিনহো।
বর্তমান—কাকা।
ভবিষ্যত্—পাতো।
নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পর রোমাঞ্চকর দ্বিতীয়ার্ধের এক ম্যাচে অতীত-বর্তমানকে ছাপিয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন ‘ব্রাজিলের ভবিষ্যত্’। পাতোর দুই গোলেই নয়বারের ইউরোপ-সেরা রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারাল সাতবারের সেরা মিলান।
অথচ এই ম্যাচের আগে কোথায় পাতো—সব আলোই ছিল কাকাকে ঘিরে। যে মিলানের জার্সি গায়ে তাঁর কাকা হয়ে ওঠা, সেই মিলানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ডোরাকাটা লাল-কালোর প্রায় সমার্থক হয়ে ওঠা মিডফিল্ডার মিলানকে আর্থিক স্বস্তি দিতে মৌসুমের শুরুতে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোতে নাম লিখিয়েছেন রিয়ালে। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড়েরও কি মন বলে কিছু থাকতে নেই! কাকা তাই ঘোষণা করেছিলেন, মিলানের বিপক্ষে গোল করলেও তা উদ্যাপন করবেন না। কাজটা কঠিন হতো। তবে কাকাকে সেই পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। গোলই যে করতে পারেননি।
বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে বলটাকে যিনি ইচ্ছেমতো কথা বলাতেন, মিলানে ৮০ নম্বর জার্সি পরে তিনি নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। টুকটাক স্কিলের দু-একটা ঝলক দেখালেও এ দিন রোনালদিনহোর স্লো মোশনে চলাফেরা দেখে মনে হলো, যেন কোনো পুরাকীর্তি। অতীত গৌরবের স্মৃতি নিয়েই যাঁর বেঁচে থাকা।
আর পাতো? চনমনে, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। চোখে বিশ্ব জয়ের স্বপ্নের মায়াজাল আঁকা ২০ বছর বয়সী এক স্ট্রাইকারের যেমনটি হওয়া উচিত। ৬৬ মিনিটে গোল করে ১-১ সমতার ম্যাচে প্রথম এগিয়ে দিলেন মিলানকে। ২-২ সমতার পর ৮৮ মিনিটে করলেন জয়সূচক গোল।
অথচ প্রথম এক ঘণ্টা পাতোর মতো এসি মিলানকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ম্যাচে। রিয়ালের গোলে একটি শটও যায়নি এ সময়ে। ক্যাসিয়াস মাঠে আছেন কি নেই, সেটিই বোঝার উপায় ছিল না। টিভি ক্যামেরার যে তাঁকে ধরার প্রয়োজনই পড়ছিল না!
রোনালদিনহো-কাকা-পাতো ছাড়াও ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ছিলেন আরও। রিয়ালে মার্সেলো, মিলানের গোলপোস্টের নিচে দিদা। মিলানের কোচও তো এক ব্রাজিলিয়ান—১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের ডিফেন্ডার লিওনার্দো। দিদার অবিশ্বাস্য এক ভুলেই ১৯ মিনিটে এক সময়ের ইউরোপিয়ান কাপ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগে রাউলের ৬৬তম গোল। গ্রানেরোর হীনবল এক শট ধরেও কীভাবে যেন তা ফেলে দিলেন। পড়বি তো পড় রাউল ‘সুযোগসন্ধানী’ গঞ্জালেসের পায়েই!
এই গোল শোধ করা যখন মিলানের অসাধ্য বলে মনে হচ্ছে, তখনই নিস্তরঙ্গ ম্যাচের রং বদলে দিলেন আন্দ্রেস পিরলো। ৩০ গজ দূর থেকে বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডারের গোলার মতো এক শটে ম্যাচে হঠাত্ই সমতা। মিলানও ঝলমল করে উঠল এরপর। ম্যাচটাও উঠে যেতে লাগল অন্যরকম উচ্চতায়। চার মিনিট পরই বক্সের বাইরে একটা বল ধরতে গিয়ে ক্যাসিয়াসের ব্যর্থতায় মিলানকে এগিয়ে নিলেন পাতো। ৭৬ মিনিটে রাউলের বুদ্ধিদীপ্ত কর্নার কিকে বল পেয়ে পোস্ট ঘেঁষা শটে সমতা আনলেন রিয়ালের ডাচ মিডফিল্ডার রয়স্টন ড্রেন্থা। ম্যাচ কি তাহলে ড্র-ই হচ্ছে? মানলেন না পাতো। বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে দেওয়া তাঁর জয়সূচক গোলটির উত্স ক্ল্যারেন্স সিডর্ফের দারুণ এক পাস।
সেই সিডর্ফ, তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ইউরোপ-সেরার শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি যাঁর। আয়াক্স ও মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন এই রিয়ালের হয়েই। সেই স্মৃতিমেদুরতার কারণেই কি না, শেষদিকে মিলানের একটা গোল বাতিল হয়ে যাওয়া নিয়ে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় হাতাহাতিতে তিনি অবতীর্ণ ‘শান্তি-রক্ষী’র ভূমিকায়।
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম পরাজয়, সেটিও নিজেদের মাঠে। চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর খেলতে না পারাটা খুবই গ্রহণযোগ্য অজুহাত হতো। রিয়ালের কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি কিন্তু মোটেই সে পথে হাঁটলেন না, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচটা হঠাত্ই কয়েক মিনিটের মধ্যে বদলে গেল। রোনালদো খেলেনি বলে আমরা হারিনি। হেরেছি ডিফেন্সিভ ভুলের কারণে, অভিজ্ঞ মিলান দল যেটির শাস্তি দিয়েছে।’
আসল কথাটাই বলেছেন পেলেগ্রিনি। এটা মিলানের অভিজ্ঞতারই জয়। যদিও পরিহাসই বলতে হবে, সেই জয় এল ইউরোপীয় মঞ্চে দলের অনভিজ্ঞতম খেলোয়াড়টির সৌজন্যে।