Wednesday, December 7, 2016

কাশ্মীর–সংকট নিরসনে চেষ্টা করতে পারেন ট্রাম্প

চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ‘অসাধারণ দক্ষতা’ কাজে লাগিয়ে কাশ্মীর সমস্যাসহ সারা বিশ্বের বহু বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে তাঁর সহযোগী (ভাইস প্রেসিডেন্ট) মাইক পেন্স গত রোববার এ মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজ টেলিভিশন চ্যানেল ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মাইক পেন্সের ওই সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। এতে তিনি বলেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপারে ‘পুরোপুরিভাবে যুক্ত’ হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে কাশ্মীরের মতো বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে চায়। ট্রাম্পের প্রশংসায় মুখর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স বলেন, বিশ্ব এখন এক নতুন তেজোদ্দীপ্ত নেতৃত্ব দেখতে চলেছে। ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ রক্ষা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের পক্ষে লড়াই করতে চান। আর চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে নিজের অসাধারণ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অনেক উত্তেজনা নিরসন এবং সমস্যার সমাধান করতে চান তিনি। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে মাইক পেন্স বলেন, ট্রাম্প দুটি দেশকেই জানাতে চান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল এবং দুই দেশের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে যুক্ত হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশেষ করে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের সম্পর্ক উন্নয়নে মার্কিন প্রশাসনের যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
হবু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগী দল বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের সময়ে নিয়মনীতি বজায় রাখার ব্যাপারে পররাষ্ট্র দপ্তরের পেশাদার কর্মীদের পরামর্শ নিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে পেন্স বলেন, তিনি ও ট্রাম্প প্রতিদিনই জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ব্রিফিং’ পাচ্ছেন। ভারতের আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারেন ট্রাম্প: এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গতকাল বলেছে, বেইজিংকে ‘দমিয়ে রাখতে’ ট্রাম্পের কূটনীতিতে মার্কিন-ভারত সম্পর্ক একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু এতে চীনের ওপর সীমিত প্রভাব পড়বে। কারণ, ভারত নিজেদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বহাল রাখার স্বার্থে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘লোক দেখানো জোট’ গড়তে রাজি হবে বলে মনে হয় না। গ্লোবাল টাইমস পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত ‘দিল্লির সঙ্গে জোট গড়তে ট্রাম্প আগ্রহী হতে পারেন’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলা হয়, ট্রাম্পের কূটনীতিতে মার্কিন-ভারত সম্পর্ক খুবই গুরুত্ব পাবে। বহির্বিশ্বের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে দেশীয় বিভিন্ন সমস্যা দূর করার চেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে চাইবে। কিন্তু ভারত নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সীমিত ভূমিকাই রাখতে পারবে।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের ‘না’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য নতুন বিমান তৈরি করতে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, বোয়িং কোম্পানি বড্ড বেশি দাম হাঁকিয়েছে। সরকারের ব্যয় কমাতে তাই প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত ট্রাম্প এ চুক্তি বাতিল করে দিতে চান। গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এ কথা জানান তিনি।
টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান তৈরি করছে বোয়িং। কিন্তু খরচটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে, ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। কাজ বাতিল!’ এ সময় বিমান তৈরিতে বিপুল ব্যয়কে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করেন এয়ারফোর্স ওয়ান নামের বিমান। এতে আছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও সামরিক সুবিধা। সাধারণ বিমান থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানের এয়ারফোর্স ওয়ান ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ায় বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে নতুন বিমান তৈরির চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

লাখো ভক্তের শ্রদ্ধায় শেষশয্যায় জয়ললিতা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্য নেতাদের পাশাপাশি
চেন্নাইয়ে জয়ললিতার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এএফপি
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে। চেন্নাই শহরে ভারত মহাসাগরের কিনারায় মেরিনা বিচে সেইখানে তাঁকে সমাহিত করা হলো, ১৯ বছর আগে যেখানে তাঁরই রাজনৈতিক গুরু ও ‘মেন্টর’ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম জে রামচন্দ্রনকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। কর্ণাটকের আয়েঙ্গার ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও দ্রাবিড় আন্দোলনের পথিকৃৎ আন্নাদুরাই ও এমজিআরের মতো জয়ললিতার শেষকৃত্যও হলো তাঁদেরই মতো করে। এটাই ছিল তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ও রাজনৈতিক নেত্রীর শেষ ইচ্ছা। জয়ললিতার মরদেহ অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সোমবার রাতেই চেন্নাইয়ের পোজ গার্ডেনের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গতকাল সকালে তা নিয়ে যাওয়া হয় ‘রাজাজি হলে’ শেষ দর্শনের জন্য। জয়ললিতার প্রিয় রং সবুজ। সবুজরঙা শাড়িতেই ঢাকা হয় তাঁর শরীর। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয় তাঁর মরদেহ। সকাল থেকেই হাজারে হাজারে মানুষ সেখানে জড়ো হন। রাতেই দিল্লি থেকে চলে এসেছিলেন সংসদীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু। সকাল থেকে একে একে আসতে থাকেন ভারতীয় রাজনীতির প্রথম সারির নেতারা। আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদবসহ বহু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসে শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি রওনা হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই দিল্লি ফিরে আসেন বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির দরুন। পরে অন্য বিমানে চেন্নাই পৌঁছে তিনি মরদেহে মালা দেন। প্রায় একই সময়ে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানান কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। শোকবার্তা পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাজ্য রাজনীতিতে জয়ললিতার ‘চিরশত্রু’ ডিএমকের শীর্ষ নেতা করুণানিধিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘জয়ললিতা ছিলেন অসম্ভব শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে সৃষ্টি হলো এক গভীর শূন্যতা।’ করুণানিধির পুত্র স্ট্যালিনসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও রাজাজি হলে গিয়ে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন। বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ রাজাজি হল থেকে শুরু হয় শেষযাত্রা। চারদিক কাচ দিয়ে ঘেরা চন্দন কাঠের এক স্বচ্ছ কফিনে রাখা হয় জয়ললিতার মরদেহ।
দুই কিলোমিটার দূরে মেরিনা বিচের দিকে ধীরগতিতে এগিয়ে চলে মরদেহবাহী সেনা শকট। জনসমুদ্রের মাঝ দিয়ে ওই পথ পেরোতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। মেরিনা বিচে যেখানে শায়িত তাঁর রাজনৈতিক গুরু, অভিভাবক ও ‘মেন্টর’ এম জে রামচন্দ্রন, তার ঠিক পাশেই সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। ওখানেই তৈরি হবে তাঁর স্মৃতিসৌধ। ১৯ বছর আগে ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে এম জি রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহও দুদিন ধরে রাজাজি হলে শায়িত ছিল। প্রথম দিন টানা ১৩ ঘণ্টা, দ্বিতীয় দিন ৮ ঘণ্টা সেই মরদেহের এক পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন জয়ললিতা। এবার তাঁর মৃত্যুর পর সেই ভূমিকায় দেখা গেল তাঁর প্রিয়-সখী শশীকলাকে। পরনে কালো শাড়ি। হিন্দুমতে পূজারির সঙ্গে রীতি মেনে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেন শশীকলাই। এমজিআরের সমাধির ঠিক পাশেই সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে মাটির গভীরে নামিয়ে দিল ‘আম্মা’র কফিনবন্দী মরদেহ। সোমবার গভীর রাতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী পনিরসেলভাম। দুর্নীতির অভিযোগে জেলে থাকার সময় এই পনিরসেলভামই দুবার মুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার কিন্তু শশীকলাকে নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গেছে। উচ্চাভিলাষী শশীকলা শেষ পর্যন্ত এআইএডিএমকের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবেন কি না, শুরু হয়েছে সেই জল্পনা। আশঙ্কা ছিল ‘আম্মা’র সমর্থকেরা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাতে পারেন। কেউ কেউ আত্মাহুতি দিতে পারেন। সে জন্য সাবধানতার শেষ ছিল না। কিন্তু দেখা গেল চেন্নাইসহ কোথাও অঘটন কিছু ঘটেনি। যদিও সারাটা দিন তামিলনাড়ুতে পালিত হয় অঘোষিত বন্ধ। বন্ধ ছিল সব অফিস, স্কুলসহ সবকিছুই।

নিউইয়র্কে ৩৬ ঘণ্টায় বিদ্বেষের শিকার দুই মুসলিম নারী

আমল এলসোকারি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দুজন মুসলিম নারী ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের একজন সদস্য ও অন্যজন পরিবহনকর্মী। এ অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও নগরের মেয়র উভয়েই এর নিন্দা করে বলেছেন, যেকোনো ধরনের বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রয়াস শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক পুলিশে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত আমল এলসোকারি গত শনিবার ব্রুকলিনে ধর্মীয় বিদ্বেষের মুখে পড়েন। ঘটনার সময় তিনি কর্তব্যরত ছিলেন না। একজন শ্বেতাঙ্গ তাঁর হিজাব পরা নিয়ে বিদ্রূপ করে এবং জঙ্গি সংগঠন আইএসের সঙ্গে তুলনা করে। লোকটি এলসোকারির সঙ্গে থাকা ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বলতে থাকে, ‘দেশে ফিরে যাও।’ বিদ্বেষের এ অভিযোগে ক্রিস্টোফার নেলসন (৩৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্ক নগরের মেয়র ও পুলিশপ্রধানের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আমল এলসোকারি বলেন, ‘নিউইয়র্কের ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরতেই আমি পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়েছিলাম। আমি সব সময় দেখাতে চেয়েছি একজন মুসলিম নারী হয়েও এ কাজ করা সম্ভব।’ আবেগের সঙ্গে এলসোকারি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় সবাইকে সাহায্য করি।’ গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের ঘটনা বেড়ে গেছে। এনওআইপিডির নারী পুলিশ সদস্যের ওই ঘটনার পর সোমবার আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে নিউইয়র্ক ট্রানজিটের একজন নারী কর্মচারীকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। হিজাব পরা নারী কর্মচারীটি তাঁর কাজের জায়গায় যাচ্ছিলেন। পড়ে গিয়ে তিনি হাঁটু ও কোমরে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কোমো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নগরের একটি ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবিদ্বেষী সংগঠনের প্রচারপত্র পাওয়া গেছে।

বিবর্তনকেই বদলে দিচ্ছে সিজারিয়ান!

সন্তান জন্মদানে সিজারিয়ান অর্থাৎ অস্ত্রোপচার পদ্ধতির ঘন ঘন প্রয়োগ মানব বিবর্তন প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করছে বলে ভিয়েনার একদল বিজ্ঞানী মত দিয়েছেন। তাঁদের নতুন এক গবেষণা বলছে, শ্রোণি সরু হওয়ার কারণে এখন আগের চেয়ে বেশি প্রসূতির সন্তান জন্মদানের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হচ্ছে। শ্রোণি হচ্ছে তলপেট ও ঊরুর মাঝের অংশ। অস্ট্রিয়ার গবেষকেরা বলছেন, মায়ের শরীরের সন্তান প্রসবের পথের সঙ্গে বাচ্চার আকৃতি না মেলার ঘটনা ১৯৬০ সালে হাজারে ৩০টি ঘটত,
বর্তমানে তা ঘটছে হাজারে ৩৬টি। অতীতে এসব ক্ষেত্রে সাধারণত মা ও সন্তান উভয়েরই মৃত্যু হতো। কাজেই এ জিনগুলো মায়ের থেকে সন্তানে যেতে পারত না। ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনার তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞান বিভাগের ফিলিপ মিত্তেরোএকার বলেন, শ্রোণি সরু হওয়াজনিত জটিলতার এই হার এত বেশি কেন, তা মানুষের বিবর্তনের গবেষণায় এক পুরোনো প্রশ্ন। অত্যন্ত সরু শ্রোণির নারীরা ১০০ বছর আগে সন্তান জন্মদানের সময় সাধারণত বাঁচতেনই না। আর বিবর্তনের তত্ত্ব অনুযায়ী এটাই ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’। খুব সরু শ্রোণির নারীরাও এখন অস্ত্রোপচারের সহায়তায় সন্তান জন্ম দিচ্ছেন এবং তাঁদের জিন মেয়েসন্তানদের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার এই গবেষকেরা বলছেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে এত বেশি মাত্রায় নয় যে অস্ত্রোপচার ছাড়া সন্তানের জন্ম দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এই গবেষণাপত্রটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী হলেন ক্যাজনভ

বেরনাদ ক্যাজনভ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ তাঁর সমাজতন্ত্রী সরকারের প্রধান হিসেবে বেরনাদ ক্যাজনভের নাম গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন। ক্যাজনভ এত দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে মানুয়েল ভালস প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ায় ক্যাজনভকে সেই দায়িত্ব দিলেন প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সমাজতন্ত্রী দলের পক্ষে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন ভালস। ওলাঁদ গত সপ্তাহে জানিয়ে দিয়েছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তিনি লড়তে চান না। রয়টার্স

বব ডিলানের জায়গায় সভেতলানার স্বাক্ষর করা চেয়ার

গোল টেবিলে উপুড় করে রাখা চেয়ারগুলোতে রয়েছে
নোবেল বিজয়ীদের স্বাক্ষর। ছবি: প্রথম আলো
নোবেল মিউজিয়ামের দরজা খুলল স্থানীয় সময় ঠিক দুটোর সময়। সারিবদ্ধ মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো না। আমাদের জন্য রাস্তা করে দিলেন প্রহরীরা। নোবেল বিজয়ীদের ছবি পাশ কাটিয়ে পৌঁছে যাই গন্তব্যে। সেখানে একজন সাংবাদিক খুব নিবিষ্ট মনে চেয়ারগুলো দেখছেন। একটু পরেই সেখানে উপস্থিত হতে থাকেন আরও সাংবাদিক। আমরা এখানে, এই গ্যামলা স্তানের নোবেল মিউজিয়ামে কেন এসেছি, তা বুঝতে পারি এখন। একটি গোল টেবিলে উপুড় করে রাখা হয়েছে ছয়টি চেয়ার। সে চেয়ারগুলোয় নোবেল বিজয়ীদের স্বাক্ষর। আর তার পাশেই আছে নোবেল বিজয়ীদের স্মারক। মঙ্গলবারেই প্রথম নোবেল মিউজিয়ামে এসেছেন নোবেল বিজয়ীরা। এখানেই তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। খেয়েছেন দুপুরের খাবার। আর তারপর সবাই স্বাক্ষর দিয়েছেন চেয়ারগুলোয়। পদার্থবিজ্ঞানীরা দিয়েছেন একটি চেয়ারে, রসায়নবিদেরা আরেকটায়। এভাবে ছয়টি চেয়ারে রয়েছে স্বাক্ষর। আমরা সবাই একটি নির্দিষ্ট স্বাক্ষর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু সে চেয়ারে ভদ্রলোকের নামটা আছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে যে অন্য কারও স্বাক্ষর! বব ডিলানের স্বাক্ষর নেই। বিষয়টা প্রথম চোখে পড়ে ভারতীয় সাংবাদিক দিব্যর। আমি একটু তাকিয়েই বুঝে গেলাম বিষয়টা। বললাম, ‘দেখুন, এই চেয়ারে ছবি আছে দুজনের। স্বাক্ষরটা ওই দ্বিতীয়জনের। দেখুন, এই চেয়ারে সাল লেখা আছে ২০১৫।’ আমরা বুঝে ফেলি, গত বছর সাহিত্যে নোবেল পাওয়া সাহিত্যিক সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচের স্বাক্ষর করা চেয়ারটা এখনে রাখা হয়েছে। সঙ্গে আছে বব ডিলানের ছবি। কী ব্যাপার—জানতে চাই মিউজিয়ামের প্রেস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার হেলেনা ওয়াল্লেমোর কাছে। হেলেনা বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই, ডিলান আসেননি।
যখন আসবেন, তখন আমরা তাঁর স্বাক্ষরটি রেখে দেব এ রকম আরেকটি চেয়ারে।’ কালো চেয়ারগুলোয় নোবেল বিজয়ীদের হাতের লেখা স্পষ্ট হয়ে আছে। খুব কাছে থেকে তাঁদের স্পর্শ পাচ্ছি যেন। কোস্টারলিজের থিসিস, ফেরিঙ্গার জুতা মঙ্গলবার দুপুরটা ডিলান বাদে সব নোবেল বিজয়ীই কাটিয়েছেন মিউজিয়ামে। স্টকহোম শহরের পুরোনো অংশে এই মিউজিয়াম। চেয়ারে স্বাক্ষর করার পর নোবেল বিজয়ীদের কাছে কোনো স্মারক দেবেন কি না, জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা সানন্দে নিজেদের ব্যবহার করা কিছু জিনিস দিয়েছেন। সেগুলো দেখানো হলো সাংবাদিকদের। পদার্থবিজ্ঞানী মাইকেল কোস্টারলিজের একটি থিসিস দেখা গেল। প্রদর্শক বললেন, ‘এটা খুবই দামি একটা জিনিস। এটার আর কোনো কপি নেই। কোথাও ছাপা হয়নি। সুতরাং একক স্মারক হিসেবেই এটা এখানে থাকবে।’ রসায়নে নোবেল পাওয়া বের্নার্ড ফেরিঙ্গা দিয়েছেন দুটো জুতা। ডান ও বাঁ পায়ে দুই ধরনের জুতো পরতে হয়, এ রকম সরল করে নাকি তিনি তাঁর তত্ত্ব সাজিয়েছেন। স্মারক দেখার সময়ও ঘুরেফিরে আসে ডিলান প্রসঙ্গ। হেলেনা বললেন, ‘ডিলানের পক্ষ থেকে ব্যাংকোয়েটে কিছু একটা হবে। হতে পারে তাঁর বক্তব্য তাঁর প্রিয় কোনো মানুষ পড়ে শোনাবেন।’ এ ব্যাপারে নাকি গত পরশু দিনই কথা হয়েছে। সবাই ডিলানের বক্তব্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী।
মনিটরে তিন বাঙালি
প্রতি ১০ বছরের নোবেল বিজয়ীদের নিয়ে একটি আয়োজন রয়েছে হলের সামনের দিকেই। মনিটরে বাটন চাপ দিলেই সেই ১০ বছরে কোন বিষয়ে কে পুরস্কার পেয়েছেন এবং কেন পেয়েছেন, তা উঠে আসে। আমি প্রথমে ১৯১১-১৯২০ সালে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে পেলাম। এরপর খুঁজলাম অমর্ত্য সেনকে। অমর্ত্য সেনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিনজনকে পেয়ে গেলাম। মন গর্বে ভরে উঠল। পাশের একটি ঘরে দু-তিন মিনিটের চলচ্চিত্র চলছে। আমি যখন ঢুঁ মারলাম, তখন চলছে বরিস পাস্তারনাকের ওপর তৈরি করা তথ্যচিত্র। রুশ ভাষায় কবিতা পড়ে চলেছেন বরিস। বব ডিলান যখন নিশ্চুপ ছিলেন, তখনো মনে হচ্ছিল তিনি নোবেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। বরিস পাস্তারনাকের ব্যাপারটা সে রকম নয়। স্বেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা আছে দুটি। ১৯৬৪ সালে জাঁ পল সার্ত্র নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আড়ম্বরপূর্ণভাবে পুরস্কার দেওয়ারই বিপক্ষে ছিলেন। তাই তিনি তা গ্রহণ করেননি।
আরেকজন হলেন ভিয়েতনামের রাজনীতিবিদ লে ডিক তোহ। ১৯৭৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, কিন্তু দেশের তখনকার পরিস্থিতির কারণে তিনি এই পুরস্কার নিতে পারছেন না বলে জানিয়ে দেন। তবে স্বেচ্ছায় নয়, অন্যের ইচ্ছায় পুরস্কার নিতে না আসার ঘটনাও আছে। রসায়নে নোবেল পাওয়া তিন বিজ্ঞানী রিখার্ড কুন, অ্যাডলফ বুটেনান্ডট ও গেরহার্ড ডোমাগক নোবেল পুরস্কার নিতে আসতে পারেননি। অ্যাডলফ হিটলার তাঁদের আসতে দেননি। পরে তাঁরা মেডেল ও সনদ পেয়েছেন কিন্তু অর্থ পাননি। আর সোভিয়েত লেখক বরিস পাস্তারনাক নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করবেন বলে সম্মতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের চাপে পড়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ফিরে আসার আগে চেয়ারগুলোর দিকে তাকাই। এগুলো কিন্তু মিলনায়তনে রাখা হবে। এগুলোর ওপর বসবেন সাধারণ মানুষ। তবে এগুলো এই জাদুঘরেই থাকবে সব সময়।

চা বিক্রেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী!

চা বিক্রেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী! গতকাল সোমবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়রামের মৃত্যুর পরপরই নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পনিরসেলভাম। তিনি এক সময় চা বিক্রি করতেন। ভারতে অবশ্য এমন ঘটনা নতুন নয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই তো ছোটবেলায় চা বিক্রি করতেন। তারপর রাজনীতিতে প্রবেশ। সেখান থেকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। পরে একেবারে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন। আজ মঙ্গলবার হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ১৯তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) নতুন নেতা পনিরসেলভাম ১৯৭০ সালে চা বিক্রি করা শুরু করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পনিরসেলভামের জন্ম তামিলনাড়ুর থেনি জেলার পেরিয়াকুলাম শহরে।
তিনি থেভর সম্প্রদায়ের সদস্য। ১৯৭০ সালে বন্ধু বিজয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে পিভি ক্যানটিন নামে একটি চায়ের দোকানের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ১০ বছর চা বিক্রির ব্যবসা চালানোর পর ভাই রাজার হাতে দোকানটি ছেড়ে দেন। ভাই রাজার মেয়ে রোজি দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর পিভি ক্যানটিনের নতুন নাম হয় রোজি ক্যানটিন। এখনো এই ক্যানটিনে চা বিক্রি করা হয়। ৬৫ বছর বয়সী পনিরসেলভামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তখন তিনি পেরিয়াকুলাম পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জয়ললিতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। তখন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই চা বিক্রেতা পনিরসেলভাম। ২০১৪ সালে এক মামলায় কারাগারে যেতে হয় জয়ললিতাকে। তখনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভার নিয়েছিলেন পনিরসেলভাম। জয়ললিতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর দল এআইএডিএমকে নতুন নেতা হিসেবে সেই পনিরসেলভামকে নির্বাচিত করে।

সাগরতীরে সমাহিত জয়ললিতা

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়রামের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে গুরু এম জি রামাচন্দ্রনের সমাধির পাশে চন্দনকাঠের বাক্সে করে জয়ললিতাকে সমাহিত করা হয়। এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়ললিতার মরদেহ সারা দিন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চেন্নাইয়ের পাবলিক অডিটোরিয়াম রাজাজি হলে রাখা হয়। সেখান থেকে বিকেলে জাতীয় পতাকায় ঢেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তিন কিলোমিটার দূরের মেরিনা বিচ এলাকায়। সেখানে লাখো মানুষের ভিড় জমে যায়। জয়ললিতার শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেশের অসংখ্য রাজনীতিবিদ উপস্থিত হন।
এ কারণে ওই এলাকায় সারা দিন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জয়ললিতার মৃত্যুর পর গতকাল রাতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া পনিরসেলভামও শোকযাত্রায় অংশ নেন। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে রাজাজি হলে গিয়ে দুপুরে জয়ললিতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে চেন্নাইয়ে জয়ললিতার শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেননি। তবে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীসহ দেশটির আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জয়ললিতার শেষকৃত্য ও সমাহিত করার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জয়ললিতা। তাঁর মৃত্যুতে তামিলনাড়ু রাজ্যে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এ ছাড়া তামিলনাড়ুর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।