Thursday, July 15, 2021

নিসে না গেলেই মিস! by জনি হক

প্রোমেনেড দে অ্যাংলেইস সৈকত
সাদা বালির সৈকত, সাগরমুখো চলাফেরার জায়গা, প্রাচীন স্থাপত্য ও সুস্বাদু খাবারের রেস্তোরাঁ— সব মিলিয়ে ফ্রান্সের নিস বেড়ানোর দারুণ গন্তব্য। সমুদ্রের জলে কাইটসার্ফিং, দর্শনীয় জাদুঘরগুলো ঘুরে ইতিহাস দেখা অথবা সৈকতে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সব ধরনের ভ্রমণপ্রেমীর জন্য এই ফরাসি শহর অতুলনীয়। রোমাঞ্চপ্রিয়, শিল্পপ্রেমী ও নবদম্পতিদের অন্যতম আকর্ষণ নিস। মনোরম শহরটির আনাচে-কানাচে অনেক ল্যান্ডমার্কের পাশাপাশি চোখে পড়বে অদেখা-অজানা সৌন্দর্য।
সাগরের সৈকতে
*লম্বা সবুজ পাম গাছে ঘেরা নিসে বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ঘুরে বেড়ালে দারুণ লাগে। ফিরোজা-নীল জলের সিনেমাস্কোপিক দৃশ্যের পাশে সমুদ্র উপকূলে হাঁটা সব বয়সীদের জন্য উপভোগ্য। স্কেটবোর্ডার, সাইক্লিস্ট, জগারস ও সৈকতপ্রেমীদের জন্য নিস বেশ আরামদায়ক।
ক্যাথেড্রাল সেন্ট রেপারেট
ক্যাথেড্রাল সেন্ট রেপারেট
শতবর্ষী গির্জা
*নিসের শতবর্ষী গির্জাগুলো এককথায় দর্শনীয়। খ্রিস্টানদের এসব ধর্মীয় স্থান দারুণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে শতাব্দীর প্রাচীন ইউরোপীয় স্থাপত্য ও নিপুণ নকশার নজির পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিতি ক্যাথেড্রাল সেন্ট রেপারেট ও ক্যাথেড্রাল সেন্ট নিকোলাস।
নিসের বাজার ক্যুর্স স্যালেইয়া
নিসের বাজার ক্যুর্স স্যালেইয়া
নিত্যপণ্যের বাজার
*পুরনো এলাকা বিজু নিসে আছে নিত্যপণ্যের বাজার ক্যুঁর্স স্যালেইয়া। এতে ভোজনরসিক ক্রেতারা পাবেন ক্যাফে, বার, রেস্তোরাঁ। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রা বিভিন্ন স্টল থেকে ফল, শাকসবজি, রুটি, অলিভ অয়েলসহ দৈনন্দিনে খাবারের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনে। প্রতি সোমবার এই বাজারে বিক্রি হয় প্রাচীন জিনিসপত্র। এছাড়া রোজ বিভিন্ন সুবাসিত ফুলের বিকিকিনি চলে।
ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নেইভ আর্ট আনাতল ইয়াকোভস্কি
ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নেইভ আর্ট আনাতল ইয়াকোভস্কি
জাদুঘর-গ্যালারি
নিসসহ ফ্রান্সের গৌরবময় অতীতের মুগ্ধকর নিদর্শন দেখা যায় বহু জাদুঘর ও গ্যালারিতে। শিল্পপ্রেমীরা পথে পথে ঘুরে এসব সাংস্কৃতিক স্থান ও মনোরম শহর উপভোগ করে মুগ্ধ হয়। নিসের বিখ্যাত কিছু জাদুঘর ও গ্যালারির মধ্যে রয়েছে ম্যাটিস মিউজিয়াম, মার্ক চাগাল মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অব মর্ডান আর্ট অ্যান্ড কন্টেমপরারি আর্ট ও ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নেইভ আর্ট আনাতল ইয়াকোভস্কি। এর মধ্যে উল্লিখিত শেষ জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা ফরাসি শিল্প সমালোচক আনাতল ইয়াকোভস্কি।
ফ্রিপ অ্যান্ড দ্য সিটি
ফ্রিপ অ্যান্ড দ্য সিটি
ফ্যাশন-শপিং
নিসের সাজানো-গোছানো রাস্তায় বুটিকসসহ অনেক দোকানপাট। প্রাচীনকালের কাপড় থেকে শুরু করে হালের ট্রেন্ডসহ সব ধরনের ফ্যাশন পণ্য পাওয়া যায় এগুলোতে। কেতাদুরস্ত মনোভাব থাকলে মাই কাট কনসেপ্ট, ফ্রিপ’এন দ্য সিটি ও ইউনিক হতে পারে জুতসই।
অপেরা দো নিস
অপেরা দো নিস
গান-বাজনা
ফ্রান্সের এই শহরে অপেরা, ব্যালে ও ক্ল্যাসিকাল কনসার্টের জন্য রয়েছে অপেরা দো নিস। ১৮৮৫ সালে চালু হয় এটি। ভিনদেশের সংস্কৃতির প্রতি কৌতূহলীদের জন্য বিশাল ভেন্যুটি উপযুক্ত। এতে প্রতি বছর সাতটি অপেরা ও ১৫টি কনসার্ট হয়ে থাকে। এসব অভিজাত সংগীতানুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শক দেখা যায়।
অবজারভাতোয়ার দো নিস
অবজারভাতোয়ার দো নিস
বিজ্ঞান জাদুঘর
মন্ট গ্রোস পাহাড়ে অবস্থিত বিজ্ঞান জাদুঘর ‘অবজারভাতোয়ার দো নিস’। এতে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে আকর্ষণীয় ঝলকের পাশাপাশি শহরটির উঁচু ভবন ও চোখধাঁধানো স্তম্ভগুলো দেখা যায় অনায়াসে। এটি স্থাপত্যের রত্ন বলা চলে। পর্যবেক্ষণাগারের বহির্ভাগে আছে একটি গম্বুজ। ইতিহাসপ্রেমী ও বিজ্ঞানে আগ্রহীদের জন্য এটি অন্যতম আকর্ষণ।
কেভ দো লা ট্যুর
কেভ দো লা ট্যুর
রাত বাইরে কাটানো
নিসে রাতের সৌন্দর্য উপভোগের ইচ্ছে হয় অনেকের। শহরটিতে কম দামে বেড়াতে চাইলে কেভ দো লা ট্যুর আর বিলাসবহুল আবহের জন্য লা ভিলা আছে। এগুলোতে মিলবে ওয়াইন ও আনন্দসহ মন প্রফুল্ল রাখার আরামদায়ক পরিবেশ।
নিসের খাবার
নিসের খাবার
বৈচিত্র্যময় খাবার
নিসে রাস্তার ধারের ক্যাফে থেকে শুরু করে বিলাসবহুল হোটেলে রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক খাবার, ফরাসি, ইতালিয়ানসহ বৈচিত্র্যময় খাবার পাওয়া যায় হাত বাড়ালেই। শুধু পকেটের ওজন বুঝে অর্ডার দিলেই চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সারাবছর এখানে দেখা যায়।

লেবু গাছের কলম করবেন যেভাবে

লেবু গাছের গুটি কলম পদ্ধতি খুব সহজ। এর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। এ কলম খুব সহজভাবে করতে পারেন। অন্যান্য ফলের গাছ থেকে লেবু গাছের গুটি কলম পদ্ধতির সফলতা তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। তাই এখনই জেনে নিন লেবু গাছের কলম করার পদ্ধতি সম্পর্কে-

কলমের সময়: গুটি কলম করার উপযুক্ত সময় বৈশাখ-আষাঢ় মাষের মধ্যে। ইংরেজি জুন-আগস্ট মাসের মধ্যে।
গাছ ও শাখা নির্বাচন: কলম করার জন্য দেড়-দুই বছর বয়সী গাছের ডাল নির্বাচন করতে হবে। বা এর বেশি বয়সী গাছের পেন্সিলের মতো মোটা ডালের মধ্যেও গুটি কলম করা যায়। মাতৃ গাছ থেকে পেন্সিলের মতো মোটা ডালকে বেছে নিতে হবে। পেন্সিলের মতো ডালটির মধ্যে একটি গিঁটের নিচে কলমটি করতে হবে।
যা প্রয়োজন: বাকল তোলার জন্য ধারালো ছুরি, মাটির পেস্ট মোড়ানোর জন্য পলিথিন, পলিথিন দিয়ে ঢাকা মোড়কটি বাঁধার জন্য সুতলি এবং মাটির পেস্ট ইত্যাদি।
মাটির পেস্ট: গুটি কলম করার জন্য প্রথমেই মাটির পেস্ট তৈরি করতে হবে। জৈবসার মিশ্রিত ৩ ভাগ এঁটেল মাটি ও ১ ভাগ পঁচা গোবর বা পাতা পঁচা একত্রে পানি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টটিতে প্রয়োজনমতো পানি দিতে হবে। মাটিতে পানি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটু শক্ত অথচ হাত দিয়ে টিপলে নরম হবে, এরকম তৈরি করতে হবে।

কলম করার পদ্ধতি
• প্রথমে মাতৃ গাছ থেকে একটি পেন্সিলের মতো মোটা ডাল বেছে নিতে হবে।
• মাতৃ গাছের নির্বাচিত ডালের আগা থেকে ৪০-৫০ সেমি লম্বা একটি গিঁটের নিচে কলমটি করতে হবে।
• ডালের মধ্যে একটি গিঁটের নিচে ৩-৪ সেমি মাপে ডালের ছাল গোল করে ধারালো ছুরি দিয়ে কাটতে হবে।
• সাবধানে কেবল ডালটির বাকল উঠিয়ে ফেলতে হবে। ডালটির শক্ত কাঠটিতে আঘাত লাগানো যাবে না।
• বাকল ওঠানোর পর কাঠটিতে লেগে থাকা সবুজ রঙের আবরণটি ছুরি দিয়ে চেঁছে কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।
• মাটির পেস্টটি ডালের মধ্যে কাটা অংশটির মধ্যদিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে।
• যেন বাকল তোলা পুরো জায়গায় ঠিকমত মাটির পেস্টটি বসে।
• ঢেকে দেওয়ার পর ২০ সেমি লম্বা পলিথিন দিয়ে মাটির বলটি ঢেকে দিয়ে দু’দিকে উপরে এবং নিচে সুতলি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।
• কলম করা ডাল অর্থাৎ গুটির মধ্যে শিকড় আসতে সময় লাগে প্রায় ২.৫-৩ মাস।
• লেবু গাছে ২-২.৫ মাসের মধ্যেই শিকড় বেরিয়ে যায়। প্রথমে সাদা রঙের শিকড় দেখা যাবে।
• শিকড় যখন খয়েরি বা তামাটে হবে, তখন গুটিসহ ডালটি গাছ থেকে কেটে নিতে হবে।
• গুটির পলিথিন সরিয়ে ডালটি ছায়া জায়গায় পলিথিন ব্যাগ অথবা টবে ৪-৫ সপ্তাহ রাখতে হবে।
• পলিথিন ব্যাগের মধ্যে কলম করা ডালটি লাগানোর কিছুদিন পরই পলিথিন ব্যাগের ভেতরে শিকড় দেখা যাবে।
• বাইরে থেকেই শিকড়গুলো দেখতে পাবেন। যদি পলিথিনটি পরিষ্কার হয়। এবং নিয়মিত সেচ দিতে হবে।
• কলম করা ডালটি ৪-৫ সপ্তাহ রাখার পরে লাগানোর উপযুক্ত হয়ে যাবে।

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গ্যাং রেপ ও হত্যা by রুদ্র মিজান

কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে দুই যুবক। ১২ বছর বয়সী কিশোরী বলেছিল ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দেবে। তারপরই তাকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা
হয়। পরিকল্পায় সফল হতে চলেছিলো দুই খুনি। কিশোরী সুমাইয়া খাতুন আত্মহত্যা করেছে বলেই জানতো সবাই। এ বিষয়ে গত বছরের ৩১শে অক্টোবর গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় অপমৃত্যু মামলাও হয়। কিন্তু আসল ঘটনা বের হয়ে আসে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এতে উল্লেখ করা হয় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
পাওয়া গেছে ধর্ষণের আলামতও। চলতি বছরের ৩রা জুলাই একই ঘটনায় এবার হত্যা মামলা হয় কাশিমপুর থানায়। দীর্ঘ তদন্তের পর কাশিমপুরের বারেন্ডা এলাকার বহুল আলোচিত কিশোরী সুমাইয়া খাতুন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে। গ্রেপ্তারের পর গত ১২ ও ১৩ই জুলাই আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই আসামি।
কাশিমপুরের বারেন্ডা এলাকায় সুমাইয়াদের বাসার পাশেই ভাড়া থাকতো রনি মিয়া। রনির বাসায় টাকার বিনিময়ে খাওয়া-দাওয়া করতো মিলন, হাসান ও সাঈদ। তারা প্রত্যেকই শ্রমিক এবং ওই এলাকায় পাশাপাশি থাকতো। রনির বন্ধু মিলনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল সুমাইয়ার। সুমাইয়ার প্রতি আকৃষ্ট ছিল রনি ও সাঈদ। নানাভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় রনি। একইভাবে ব্যর্থ হয় সাঈদও। এরমধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। বাধ্য হয়েই ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নেয়ার চিন্তা করেন সুমাইয়ার মা। গত বছরের নভেম্বরে বাসার মালিককে জানিয়ে দেয়া হয় এই মাস পরেই অন্যত্র চলে যাবেন তারা। সুমাইয়া চলে যাবে, তা জানার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে রনি ও সাঈদ। দুইজন এক হয়ে শলাপরামর্শ করে। পরিকল্পনা করে তাকে রেপ করবে। পরিকল্পনা অনুসারেই ৩১শে অক্টোবর সকালে যখন সুমাইয়ার মাসহ অন্যরা কর্মস্থলে তখনই ঘটে ঘটনা। সুমাইয়ার সঙ্গে বসে কথা বলছিলো রনি ও সাঈদ। এরমধ্যেই হঠাৎ করে সুমাইয়াকে জাপটে ধরে। তার জামা খোলার চেষ্টা করে। সুমাইয়া বাধা দেয়। চিৎকার করতে চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিছানায় শুইয়ে মুখে বালিশ চেপে ধরে রনি। বাধা হয় তার দুই হাত, পা ধরে রাখে সাঈদ। রনি ধর্ষণ করে সুমাইয়াকে। মোবাইল ফোনে সেই ভিডিওচিত্র ধারণ করে সাঈদ। রনির পর সুমাইয়াকে ধর্ষণ করে সাঈদ। সুমাইয়া তখন বলেছিলো, ধর্ষণের ঘটনা সবাইকে জানিয়ে দেবে। মাকে নিয়ে থানায় যাবে। তারপরই আরও হিংস্র হয়ে ওঠে রনি ও সাঈদ। পরিকিল্পতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সুমাইয়াকে। তারপর নাটক সাজায় আত্মহত্যার। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় তার লাশ।
সুমাইয়ার বাবা-মা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না তার মেয়ে কেন আত্মহত্যা করবে। বারবার এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও আমলে নেয়নি কেউ। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ জানা ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাওয়ার পরই হত্যা মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১২ই জুলাই ভোরে টঙ্গী পশ্চিম থানার গাজীপুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাঈদ ইসলামকে। সাঈদ ইসলাম (১৯) নিলফামারী জেলার ডোমার থানার চিলাহাটী মাস্টারপাড়ার মৃত নবীর উদ্দিনের পুত্র। সাঈদকে গ্রেপ্তারের পরদিন ১৩ই জুলাই রাত দেড়টায় গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রনিকে। রনি মিয়া (২১) লালমনিরহাটের তিস্তা চৌরাটারী গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র। নিহত সুমাইয়া যশোরের বাঘাপাড়া থানা এলাকার বাউলিয়া গ্রামের সোহেল রানা ও রুনা বেগমের সন্তান।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, শুরু থেকেই এই ঘটনায় পিবিআই গাজীপুর জেলায় ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে থানায় হত্যা মামলা রুজু হওয়ার পর স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

৬৩ বছর পর বাংলা রেডিও সার্ভিস বন্ধ করছে ভয়েস অব আমেরিকা

ভয়েস অব আমেরিকা গত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে ৬৩ বছর ধরে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় সম্প্রচার করে আসা বাংলা রেডিও সার্ভিস বন্ধ হতে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলায় এফএম এবং শর্টওয়েভ রেডিও সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিকতা ৬৩ বছর পর আসছে ১৭ই জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।
একই সঙ্গে, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের টেলিভিশন এবং সোশ্যাল
মিডিয়া কন্টেন্টের পরিধি যথেষ্ট বাড়ানো হবে। কারণ এই প্ল্যাটফরমগুলো ভিওএ বাংলার (এক কোটি ষাট লাখ) সাপ্তাহিক শ্রোতাদের দ্বারা বেশি ব্যবহৃত হয়।
ভিওএ প্রোগ্রামিংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জন লিপম্যান বলেন, “ভিওএ বাংলা ১৯৫৮ সালের জানুয়ারিতে যখন চালু হয়েছিল, বাংলাদেশ তখন ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং অঞ্চলটি সামরিক আইনের অধীনে ছিল যেখানে কোনো টেলিভিশন বা বেসরকারি রেডিও ছিল না।”
তিনি বলেন, ‘তখন সীমান্তের বাইরে থেকে ভিওএ-র শর্টওয়েভ রেডিওতে সম্প্রচারিত স্বাধীন সংবাদ এবং তথ্যের ওপর নির্ভর করতো বাংলাভাষী জনগণ।’
যদিও শর্টওয়েভ রেডিও শ্রোতা এখন এক শতাংশেরও কম, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিওএ বাংলার শ্রোতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। টুইটার অ্যাকাউন্টে সম্পৃক্ততা আগের বছরের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও দেখা ২৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
লিপম্যান উল্লেখ করেন, ‘কয়েক ডজন দেশীয় টেলিভিশন এবং রেডিও স্টেশন বাংলাভাষী শ্রোতা ধরতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, এর পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমের সংখ্যাও বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংবাদের জন্য বাংলাদেশে টিভি এবং অনলাইন অ্যাক্সেসের চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভিওএ বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান সেসব প্ল্যাটফরমে পরিবেশন করা দরকার যেখানে তার শ্রোতারা ইতিমধ্যেই সক্রিয়।
ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শতরূপা বড়ুয়া এ মাসেই বলেছিলেন, ‘রেডিও যখন প্রাথমিক সংবাদমাধ্যম ছিল সে সময় থেকেই ভিওএ বাংলা তার শ্রোতাদের কাছে বিশ্ব সংবাদ পরিবেশন করতে থাকে। এটি ছিল আমাদের গড়ে তোলার মাধ্যমে, সবার মুখে মুখে ছিল এর নাম। শর্টওয়েভ এবং মিডিয়ামওয়েভ রেডিওর চেয়ে এখন যেসব মিডিয়ায় আমাদের উপস্থিতি আরও বেশি জনপ্রিয় সেসব জায়গায় আমাদের সেই খ্যাতিকে ভিত্তি করে এগিয়ে যাবো।’
শতরূপা বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের এমন ইতিহাসের কারণে, ভিওএ-তে কাজ করা আমাদের অনেকের জন্য ‘ড্রিম জব’।

আসন্ন পরিবর্তনগুলোর পরও তা অব্যাহত থাকবে।”
সম্প্রচারের শেষ দিনগুলোতে ভিওএ বাংলা রেডিও সার্ভিস তাদের সূচনালগ্ন অর্থাৎ ১৯৫৮ সালের পর থেকে এ দেশে ঘটে যাওয়া নানা পরিবর্তন সম্প্রচার করবে।