Showing posts with label দুর্গোৎসব ও পূজা. Show all posts
Showing posts with label দুর্গোৎসব ও পূজা. Show all posts

Sunday, October 13, 2024

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজা: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার

হিন্দু শাস্ত্রমতে, এবার দেবীদুর্গা মর্ত্যে এসেছিলেন পালকিতে চড়ে। আর ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশে ফিরবেন। তিথি স্বল্পতার কারণে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা তিনদিনেই শেষ হয়েছে। একইদিনে অষ্টমী ও নবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিধিমতে, মন্ত্রপাঠ করে দেবীকে ঢাকঢোল, শঙ্খ বাজিয়ে গানের তালে তালে বিদায় জানানো হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় গতকালই প্রতিমা বিসর্জন  করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ স্থানে আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভারাক্রান্ত মনে সিদুঁর খেলার মধ্যদিয়ে প্রতিমা বিসর্জন করবে। গতকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে বিদায়ী সুর বাজছিল।

বেলতলায় ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী পূজার মধ্যদিয়ে শেষ হলো আনুষ্ঠানিকতা। সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন পালকি বা দোলায় দেবীর আগমন বা গমন হলে এর ফল হয় মড়ক। খাদ্যশস্যে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হবে ও রোগব্যাধি বাড়বে। এ ছাড়া দেবী স্বর্গে গমন করেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে দেবীর গমন বা আগমন ঘোটকে হলে ফলাফল হয় ছত্রভঙ্গ। এটা সামাজিক ও রাজনৈতিক এলোমেলো অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। পঞ্জিকা মতে, এবার মহানবমী পূজার পরই দশমী বিহিত পূজা হয়। গতকাল সকালে  শুরু হয় বিজয়া দশমীর পূজা। মণ্ডপগুলোতে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী তিথিতে বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীদুর্গার আরাধনা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

গতকাল রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি মণ্ডপেই দুর্গাপূজার শেষ সময়ের প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে। মন্ত্রপাঠে আনন্দময়ীকে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা। এবার তিথির কারণে মহানবমী পূজার পরই দশমীর বিহিত পূজা এবং বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের আহ্বায়ক বাবু পবন দাস বলেন, এবার একদিনেই নবমী-দশমী পালিত হয়েছে। রোববার প্রতিমা বিসর্জন হবে। এ বছর কিছুটা ভীতি থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জমকালোভাবেই পালিত হয়েছে দুর্গোৎসব। পরিতোষ নামের এক ভক্ত বলেন, এবার পূজা ঘিরে আমাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা হয়েছে।
শাস্ত্রমতে, নবমীতেই দেবীদুর্গা রুদ্ররূপ ধারণ করে বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। নবমীর সকাল তাই অশুভ শক্তি থেকে মুক্তির সকাল। ১০৮টি বেলপাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীদুর্গার কাছে দেয়া হয় আহুতি। ৮টা ২৬ মিনিটে শুরু হয় দশমী পূজা। দর্পণ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ভক্তদের কাঁদিয়ে একদিন আগেই দেবী দুর্গার প্রস্থান। সপ্তমী থেকে নবমী, চার সন্তান নিয়ে অন্নপূর্ণা এবার পৃথিবীতে থাকলেন কেবল তিনদিন। দেবীর বিদায়ে নবমীর আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হলো বিষাদের সুর। শেষবেলায় তাই দেবীর কাছে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

সারা দেশে মন্দির ছাড়াও বিভিন্ন মাঠে হয়েছে দুর্গাপূজা। পূজামণ্ডপ ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। সরজমিন দেখা যায়, বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন সালাম ডেইরি বালুর মাঠেও মণ্ডপ সাজানো হয়। নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সনাতন ধম্বাবলম্বীর মানুষ তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা-অর্চনা করেছেন। সনাতন ছাত্র ও সমাজকল্যাণ সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাস বলেন, এবার কিছুটা ভীতি ছিল আমাদের মনে। যদিও এখানে কোনো অপ্রীতিকর কিছু হয়নি। পুরান ঢাকার একটি মণ্ডপের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কিছুটা ভয় কাজ করেছে। তবে সুন্দরভাবে আমরা আমাদের পূজার আনুষ্ঠানিতা সম্পন্ন করতে পেরেছি।

ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা এমন সমাজ চাই না যেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ দিয়ে উৎসব পালন করতে হবে। এ সরকার এমন বাংলাদেশে গঠন করতে চায় যেখানে সব সমপ্রদায় এবং নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। শনিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে হিন্দু সমপ্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব-এর সাহায্য নিয়ে দুর্গাপূজা করেছি। তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারি খুব শিগগিরই, যেখানে তারাও ছুটি উপভোগ করবে, আমরাও ছুটি উপভোগ করবো। তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ছুটি বিসর্জন দিয়ে আমাদের আনন্দ করতে হবে না। এ ‘অপরাধবোধ’ থেকে আমরা মুক্ত হয়ে যাবো। দেশের নাগরিক হিসেবে উৎসব পালন করবো।

এ রকম রাষ্ট্র আমরা গঠন করবো। আমরা সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, যেটা দিয়ে দেশের মানুষ দুনিয়ার সামনে গর্ব করতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় মন্দিরে পৌঁছলে তাকে পূজা উৎসব পরিষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই যে আমরা আপনাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আপনাদের পূজা উৎসবের সুযোগ করে দিলাম। এটা যেন ভবিষ্যতে আর কখনো করতে না হয়, সে জন্য আমরা একযোগে কাজ করবো। আমরা এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, যে বাংলাদেশে যারা এই দেশের নাগরিক তাদের ‘সকলেরই সমান অধিকার’, এটা যেন আমরা নিশ্চিত করি।

শুধু কিতাবে লিখে দিলে হবে না- মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরপর কাটাকাটি মারামারি এগুলো করলাম, অধিকার কেড়ে নিয়ে বাহবা পেলাম, এ রকম বাংলাদেশ আমরা চাই না। এ রকম সমাজ চায় না বলেই ছাত্র-জনতা তাদের জীবন দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার স্বপ্ন নিয়ে এ যাত্রা শুরু করেছি। আমরা এ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চাই। এটা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে আমাদের কী কী নতুন দরকার, তা বের করে আনতে হবে, সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা কতোগুলো কমিশন বানিয়ে দিয়েছি। তারা তো দেশ পাল্টিয়ে ফেলতে পারবে না। তাদের সেই সাধ্য তো নেই। কমিশন করেছি এই জন্য যে, তারা আমাদের স্বপ্নগুলোকে একত্র করবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে মহাস্বপ্নে আমরা চলে এসেছি, এ স্বপ্নের একটা রূপরেখা থাকবে। আমরা বলছি সংবিধান সংশোধন করবো, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রথা সংশোধন করবো, অনেক কিছু।

সংস্কার কমিশন তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি বিষয়ে রূপরেখা দেবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেগুলো আপনারা চান সেগুলো বাস্তবায়ন করার নামই হলো সংস্কার। দেশকে ‘পাল্টে ফেলার’ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটা যেন আমাদের হাতছাড়া না হয়ে যায়। কারণ, একবার হাতছাড়া হয়ে গেলে এটা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

অপূর্ব এক সুযোগ ছাত্র-জনতা আমাদের হাতে দিয়েছে। আমাদের হাতে আলাদিনের প্রদীপ দিয়ে দিয়েছে, আমরা যা চাই, তাই করতে পারি। স্বপ্নগুলোকে একত্র করেন। ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে থাইকেন না। বড় বিষয়ের দিকে আসেন। কাঠামো তৈরি করে দিলে, তারপরে কে কী পেলো বা পেলো না, সে হিসাবই নেই, পাবো বলেই তো সবকিছু করছি।

অতীতে অত্যাচারিত হওয়ার অভিযোগ এনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এমন একটা সমাজ থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি, যেখানে সমস্ত অধিকার ছিল ছোট্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে, বাকি মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। আমরা সব অধিকার বঞ্চিত ছিলাম।

এই অভ্যুত্থান হঠাৎ করে সেটা পাল্টে ফেললো। যারা মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তাদের থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল ছাত্র-জনতা। এখন এ অধিকার আমাদের সবার কাছে আসতে হবে।

রাষ্ট্র যদি কারও অধিকার নিশ্চিত করতে পারে তা হলে সেই রাষ্ট্রের কী দরকার- এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যে অধিকার কেড়ে নেবে, তাকে যেন সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেয়া হয়। এটিই স্বপ্ন।

mzamin

Saturday, October 12, 2024

বাংলাদেশে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে -আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই দেশে আমরা কেউ সংখ্যালঘু না, সংখ্যাগুরু না, আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। সবারই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে থাকবো এবং সকলেই সবার ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যাবো। গতকাল বিকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া পূজামণ্ডপে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা কখনো অসহায়বোধ মনে করবেন না। সেইসঙ্গে কোনোদিন রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা দেবেন না। আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করবেন। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করার প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা করবো। হত্যা মামলার আসামিদের আকস্মিক জামিন হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্নে বদ্ধপরিকর। জামিন প্রশ্নে আমি শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলবো। কিছুদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়ে যাবে। এই ট্রাইব্যুনালের প্রশিকিউশন টিম জুলাই-আগস্ট পৈশাচিক গণহত্যার প্রচুর আলামত সংগ্রহ করেছে, গণহত্যার বিচার শুরু হলে আমাদের সকল দ্বিধা, প্রশ্ন কেটে যাবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধা ও স্মরণ করে ড. আফিস নজরুল বলেন, আমাদের এখন সময় নষ্ট করা যাবে না, নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা এই দেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করি। গত আন্দোলন কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের আন্দোলন ছিল না। সব ধর্মের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে এ দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সভায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন, সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ হোসেন, জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাস, এডভোকেট কল্যাণ সাহা, এডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ঈশান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে জেলার শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ও তাড়াশ উপজেলার চলন বিল ঘুরে দেখেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

mzamin


Friday, October 11, 2024

চট্টগ্রামের পূজা মণ্ডপে ইসলামিক দলের গান পরিবেশনা নিয়ে যা জানা গেলো

চট্টগ্রামের একটি পূজা মণ্ডপে ‘ইসলামিক গান’ গাওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেই গানের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা আলোচনায় মাতেন নেটিজেনরা। তবে এরমধ্যে জানা গেছে, নগর পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতার আহ্বানে ব্যক্তি পরিচালিত একটি দল এই গান পরিবেশন করে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের জেএমসেন হলের পূজা মণ্ডপে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামের একটি ইসলামিক গানের দল ওই গান পরিবেশন করে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ওই গানের দলের ছয় সদস্য গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠে। সংগঠনটি শাহ্ আবদুল করিমের লেখা বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান’-শীর্ষক গান দুটি পরিবেশন করে। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান-গানটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই গান গাওয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পূজা উদযাপন কমিটির এক নেতার আমন্ত্রণে সংগঠনটি ওই পূজা মণ্ডপে গান করতে যায়। তবে গান গাওয়ার পরে সনাতন ধর্মের মানুষদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা ওই সংগঠনটিকে জামায়াত ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করছেন। যদিও জামায়াত জানিয়েছে, তারা এই গান করার বিষয়ে কিছুই জানে না, গানের দলটিও তাদের কোনো অঙ্গ সংগঠন নয়।

চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি-র সভাপতি সেলিম জামান গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদের সজল বাবু আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ফোন করে বলেন ‘‘আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর (সুযোগ) দেব। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন।’’ সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান করে। কিন্তু এটি নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।’

চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতের কোনো গানের দল কিনা এমন প্রশ্নে সেলিম জামান বলেন, ‘এটি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নয়। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশে ২০১৫ সালে আমাদের গানের দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।’

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের অনুমতি নিয়ে ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে এসে গান পরিবেশ করেছে বলে জেনেছি। তবে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’ সংগঠনটি জামায়াতের কিনা এমন প্রশ্নে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন,কয়েকটি ছেলে মণ্ডপে গিয়ে সম্পৃতির গান গেয়েছে শুনলাম। তবে এদের সাথে জামায়াত  বা শিবিরের কোন সম্পৃক্ততা নেই।।

এদিকে মণ্ডপে গান গাওয়া এই  তরুণদের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে তদেরকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট। এছাড়া তাদেরকে গানের দাওয়াত দেয়া সজল দত্তকে পূজা উদযাপন পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

mzamin

Sunday, September 22, 2024

দাকোপে মন্দিরে মন্দিরে উড়োচিঠি, ‘দুর্গাপূজা করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে’

দুর্গাপূজা করতে হলে প্রতিটি মন্দিরের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে—এ রকম উড়োচিঠি পেয়েছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা। এ কথা প্রশাসন বা সাংবাদিকদের জানালে ‘কচুকাটা’ করা হবে বলে চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর থেকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। কোনো কোনো মন্দির পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বুধবার বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এই চিঠি আসা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ ঘটনায় উপজেলার ভিন্ন চারটি মন্দিরের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

দাকোপের একটি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ডাকযোগে চিঠি পাওয়ার পর থেকে তাঁদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। বুধবার চিঠি পাওয়ার পর তাঁরা রাতে এলাকার মানুষকে নিয়ে সভা করেছিলেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষ পূজা না করার পক্ষে মত দেন। পরে সবাই মিলে পূজা করার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। এখন থেকেই এলাকায় প্রতিদিন পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে কিছু মন্দির কমিটি পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে।

দাকোপের কামারখোলা সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি শেখর চন্দ্র গোলদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা না করে খুব ছোট পরিসরে পূজা করার আলোচনা চলছিল। তবে এ ধরনের চিঠি পাওয়ার পর আমাদের সদস্যরা আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ বছর আমাদের পূজাটা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

এসব চিঠির কপি প্রথম আলোর হাতে এসেছে। প্রতিটি চিঠি কম্পিউটারে কম্পোজ করা। তিনটি মন্দিরে পাঠানো চিঠি থেকে দেখা গেছে, সব কটি চিঠির বক্তব্য এক। হলুদ খামের ওপর প্রাপক মন্দির কমিটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের সভাপতি–সম্পাদককে উদ্দেশে এসব চিঠি লেখা হয়েছে। চিঠির এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হানিফের প্রজেক্টে যেমন করেছি, তোদের পরিণতিও তেমন হবে’।

হানিফের প্রজেক্ট বিষয়টা কী—জানতে চাইলে শ্রীনগর গ্রামের কয়েকজন জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের চিংড়িঘেরে ব্যাপক লুটপাট চলে। কয়েক দিন ধরে চলে সে লুটপাট। এখনো সেখানে থাকা ছোটখাটো জিনিসপত্র লুটপাট চলছে।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই উড়োচিঠির বিষয়ে শুক্রবার চারটি মন্দির থেকে জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। আমাদের পক্ষ থেকে মন্দির সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর টিমসহ আমরা থানা থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছি। গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়নভিত্তিক পুলিশ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক টহলে আছেন।’ 

দাকোপের সুতারখালি দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্দেশে হুমকি ও চাঁদা চেয়ে পাঠানো চিঠির খাম
দাকোপের সুতারখালি দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্দেশে হুমকি ও চাঁদা চেয়ে পাঠানো চিঠির খামছবি: প্রথম আলো

Thursday, September 12, 2024

ইলিশ চেয়ে চিঠি: একটি দল ছাড়া সবাই উগ্রবাদী ভারতের এমন মনোভাবের পরিবর্তন চান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের উগ্রবাদের উপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় উদ্বেগ নাকচ করে দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। কোনো দলের না না নিয়ে তিনি বললেন, ‘শুধুমাত্র একটি দল ছাড়া বাকি সবাই উগ্রবাদী’-তাদের (ভারতের) এমন মনোভাবের পরিবর্তনটা জরুরি। উপদেষ্টা ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ‘আওয়ামী লীগ প্রীতি’র প্রতি ইঙ্গিত করেন। বুধবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র খবরে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমার মনে হয় তাদের এই ন্যারেটিভ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে একটি দল ছাড়া বাকি সবাই উগ্রবাদী। এ ধরনের একটা ন্যারেটিভ প্রচার করা হচ্ছে দেশটির মিডিয়াতে। আমি মনে করি, এটা থেকে ভারতের বের হয়ে আসা প্রয়োজন। তৌহিদ হোসেন বলেন, দ্বিতীয় কথা হলো- আমাদের কাছে যে তথ্য আছে এখানে উগ্রবাদীরা বিরাট কিছু করে ফেলছেÑ এ রকম না। সরকারে যারা আছেন তাদের কারও এ ধরনের কোনো এজেন্ডা নেই, এরকম কোনো ব্র্যাকগ্রাউন্ড নেই। আমার মনে হয়, তাদের এ বক্তব্য থেকে বের হয়ে আসা প্রয়োজন। এটা দু’দেশের সম্পর্কের জন্য ভালো হয়।

পূজায় ইলিশ চায় ভারত, উপদেষ্টা যা বললেন-
এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির জন্য চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের ফিস ইমপোর্টার এসোসিয়েশন। ইলিশ চেয়ে পাঠানো চিঠিটি উপদেষ্টার হাতে পৌঁছেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি ১৫ মিনিট আগে কাগজটা দেখেছি এবং আমি বলেছি যে, এটা সরকারের যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আছে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা তো আর মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেই না। ইলিশ চেয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে আবেদন বিষয়ে ফিস ইমপোর্টার এসোসিয়েশনের সম্পাদক আনোয়ার মাকসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর পুজোর আগে একটা চিঠি দিই। যেন বাংলাদেশ থেকে পুজোর আগে ইলিশ পাঠান। এই বছর আগস্টে তো ঝামেলা হলো বাংলাদেশে। সেই কারণে আমরা আগস্ট মাসে চিঠি দিইনি। এখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে বলে আমরা একটা আবেদন করেছি। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দপ্তরে ই-মেইল পাঠিয়েছি। কমার্স সচিব, এডভাইজার তৌহিদ সাহেব সবাইকে চিঠি পাঠিয়েছি যাতে প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও পুজো উপলক্ষে ওনারা আমাদের ইলিশ দেন। আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ না আসায় বাজারে ইতিমধ্যেই চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দামও কিছুটা বেশি আছে। যে মাছ হাজার বারোশ’ রুপিতে বিক্রি হয়, সেই মাছ দেড় থেকে দুই হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া এপারের বাঙালিদের কাছে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের বরাবর একটা চাহিদা আছে। দাম বেশি হলেও ক্রেতারা কেনে। আমরা আশা করি এই ঝামেলার মধ্যেও পুজোর সময় ওনারা আমাদের ইলিশ দেবেন। বাঙালির পাতে ইলিশ থাকবে না সেটা ভাবাই যায় না।
mzamin

Sunday, October 6, 2019

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে কুলিয়ারচরে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রাণের উচ্ছ্বাস

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এ বছর ৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও বিশ্বব্যাপী অবারিত মঙ্গলধ্বনি বয়ে যাক এমন বার্তা নিয়ে দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে এবার লোকালয়ে আসছেন। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় আনন্দে মাতোয়ারা ভক্তবৃন্দ। পূজায় কোনো কিছুই যেন কমতি না থাকে এই নিয়ে ব্যস্ত প্রতিটি পূজামণ্ডপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে মহাআনন্দ, সাজ সাজ রব। আলোকসজ্জা গেট, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি বিভিন্ন রং-বেরংয়ের উপাদান দিয়ে সজ্জিত করেছে পূজামণ্ডপের স্থান ও আশেপাশের এলাকা। পূজারি, ভক্তবৃন্দ, শিশু-কিশোররা নতুন বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পরিধান করে উৎসবে অংশগ্রহণ করছে। গত বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে আসনে স্থাপন হয়েছে দেবীর প্রতিমা।
শুক্রবার ঢাকের তালে ধূপের সুগন্ধে দেবী বন্দনায় ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সর্বজনীন শারদীয় দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। যা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ষষ্ঠীতে কল্পারম্ভ এবং দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস শেষে মাতৃরূপে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঠাঁই করে নেন। কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যে আসে মা দুর্গা।
মূলত দুর্গাপূজা হয় আশ্বিনের শুক্লাষষ্ঠী থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত। এ বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার পৌর এলাকায় বিশেষ করে কুলিয়ারচর বাজারে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এ উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশিল সমাজের সহযোগিতায় ধুমধামের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী সমপ্রদায়ের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে সকল স্তরের ভক্তবৃন্দের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো।
শারদীয় দুর্গাপূজা পালনে এ বছর উপজেলার পৌর এলাকায় ১১টি, সালুয়া ইউনিয়নে ৯টি, রামদী  ইউনিয়নে ৫টি, ফরিদপুরে ২টি, উছমানপুর ইউনিয়নে ২টি, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে ১টি ও ছয়সূতী ইউনিয়নে ৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা অনুষ্ঠানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে পূজাঅর্চনা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া, কুলিয়ারচর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা জিসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আজিজ,  কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিশিকান্ত দাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনমথ চন্দ্র দাস। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।
এ বছর কুলিয়ারচর পৌর এলাকার কুলিয়ারচর শ্রী শ্রী কালীবাড়ী দাসপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা, দাসপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা বাবু জয়কৃষ্ণ দাস মহাশয়ের বাড়ী, ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা রামানন্দ ঘোষের বাড়ী, সনাতন যুব সংঘ শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা পূর্বগাইলকাটা ডাকবাংলার সামনে, কুলিয়ারচর বাজার শ্রী শ্রী কালীবাড়ী, ছয়সূতী ইউনিয়নের হাজারিনগর স্বর্গীয় নিবারন ভৌমিক ও স্বর্গীয় সুরেশ ভৌমিক মহাশয়ের বাড়ি, ছয়সূতী দাসপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গা মণ্ডপ অমৃত দাসের বাড়িসহ এ বছর গত বছরের চেয়ে ২টি বেশী অর্থাৎ ২টি স্থানে নতুন করে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মহাঅষ্টমী, কুমারী পূজা আজ

আজ মহাঅষ্টমী। ষষ্ঠী তিথিতে আমন্ত্রণ আর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দেবীর বোধন পূজা। গতকাল সপ্তমী তিথির ঊষালগ্নে নবপত্রিকা স্নান শেষে চক্ষু দানের মধ্য  দিয়ে প্রাণসঞ্চার করা হয়েছে দেবীর মৃন্ময়ীতে। আজ পালন হবে শারদীয়া দুর্গা উৎসবের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিকতা মহাঅষ্টমী ব্রত।
নতুন কাপড় আর বাহারি সাজে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে দেয়া হবে পুষ্পাঞ্জলি। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর ঢাকের তালে আনন্দে মেতে উঠবে সকলে। আরাধনা করা হবে দেবী দুর্গার। হবে সন্ধি পূজা।
এই দিনেই মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগৎ জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে কুমারী পূজা। শাস্ত্র মতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় ‘উমা’। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। পরদিন নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করতে মা আনন্দময়ী কৈলাশ ছেড়ে তার চার সন্তানকে নিয়ে এসেছেন পিতৃলোক তথা আমাদের এই মর্তলোকে।  আর মায়ের এই আগমনকে ঘিরে জমে উঠেছে পূজা মণ্ডপগুলো। ষষ্ঠীর দিন থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ দেয়। গতকাল মহাসপ্তমী তিথিতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রতিমা দেখতে ভির জমিয়েছেন দর্শণার্থীরা। লাল পাড় সাদা শাড়ির পাশাপাশি বাহারি সাজে সেজে মাকে বরণ করতে এসেছেন নারী-পুরুষেরা। দেশের বাইরে থেকেও এসে যোগ দিয়েছেন অনেকে। মন্দিরের নিরাপত্তাকে ঘিরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি। বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত দুর্গা পূজাঙ্গনে গিয়েও দেখা যায় নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে মায়ের দর্শনে ছুটছে মানুষ। জমকালো আলোক সজ্জা আর কাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো পূজাঙ্গন। এ ছাড়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, খামারবাড়ি কৃষি ইনস্টিটিউটের দুর্গাপূজা মণ্ডপ, ফার্মগেট, রামকৃষ্ণ মিশন, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, শাঁখারী বাজার, পশ্চিম ধানমণ্ডির দুর্গা মন্দির, আখড়া মন্দির, ফার্মগেট, বনশ্রীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতে আয়োজিত পূজা মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভির চোখে পড়ার মতো। এদিকে, মহাঅষ্টমী তিথিতে দেবীর কুমারী পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগৎ জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে এই দিনে। জানা যায়, রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার এই আয়োজন সবচেয়ে আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে থাকে। ফুলের মালা, চন্দন ও নানা অলঙ্কার-প্রসাধন উপাচারে নিপুণ সাজে সাজানো হবে কুমারীকে।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবারের মতো এ বছরও আমরা কুমারী পূজার আয়োজন করেছি। ৫ থেকে ৬ বছরের বালিকাকে সাজানো হবে কুমারী মাতৃকারূপে। মাতৃকাশক্তির বীজরূপা হচ্ছে বালিকা। পুণ্যার্থীরা কুমারী মায়ের সামনে প্রার্থনায় সমবেত হবেন। এ উপলক্ষ্যে রামকৃষ্ণ মিশন ও এর আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সার্বজনীন মহানগর পূজা কমিটির প্রধান পুরোহিত রনজিত চক্রবর্তী জানান, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। সব নারীতে মাতৃত্বরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজায় উল্লেখ রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম ভিন্ন হয়। শাস্ত্রমতে এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুঞ্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসর্ন্ধভা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞ এবং ষোল বছরে আম্বিকা বলা হয়ে থাকে।  দেশ-জাতি তথা সকল মানবকূলের শান্তি কামনায় মহাঅষ্টমী তিথিতে কুমারি কন্যা দেবীরূপে পূজিত হবে।

Saturday, October 5, 2019

কলকাতার যে দুর্গাপূজা আয়োজনের উদ্যোক্তা মুসলমানেরাও by অমিতাভ ভট্টশালী

ভারতের কলকাতা শহরেই ৬০ বছর ধরে হয়ে আসছে একটি দুর্গাপূজার আয়োজন, যেটির মূল উদ্যোগটাই নেন মুসলমানরা।
কলকাতা বন্দরের কাছাকাছি মুসলমান-প্রধান খিদিরপুরের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় সেই পূজার খোঁজ বাইরের মানুষ খুব একটা রাখেন না হয়তো।
কিন্তু পাড়ার মানুষের কাছে ঈদের মতোই উৎসবের সময় দুর্গাপূজা বা কালীপূজা।
দুর্গাপূজা আদতে হিন্দু বাঙালীদের সবথেকে বড় উৎসব হলেও কালে কালে তা অন্যান্য ধর্মের মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে উৎসবের সময়।
পূজার সময়ে হিন্দুদের মতোই মুসলমান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন - সকলেই মেতে ওঠেন উৎসবে। অনেক জায়গায় পূজার উদ্যোগেও জড়িয়ে থাকেন নানা ধর্মের মানুষ, যেমনটি মুন্সিগঞ্জের এই আয়োজন।
তিন রাস্তার মোড়ে বেশ সাদামাটা প্যান্ডেল। বাহুল্য খুব একটা নেই।
পূজার কদিন আগে প্যান্ডেল তৈরি করে তার পাশেই চলছিল দুর্গাপ্রতিমা গড়ার শেষ মুহূর্ত কাজ।
সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট সলমান সর্দার।
উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিল বিরাট হাঁ করে থাকা দুর্গার বাহন সিংহের মুখের মধ্যে দিয়ে ভেতরে কিছু দেখা যায় কিনা।
সলমন বলছিল, "দুগ্গাপূজোয় খুব মজা হয়। ঠাকুর দেখতে যাই। ফুচকা আর আইসকিরিমের দোকান বসে, খাই - দোলনায় চাপি। আবার আমাদের পূজোয় চলে আসি।"
এই পূজাটাকে সলমান যেমন ছোটবেলা থেকেই 'আমাদের পূজো' বলে ভাবতে শিখেছে, তেমনই নিজেদের পূজা বলেই মনে করেন পাড়ার সবাই।
"ষাট বছর ধরে এভাবেই পূজা হয়ে আসছে। আমাদের মামা, দাদাদের দেখেছি সকলে মিলে দুর্গাপূজা-কালীপূজা-ঈদ-মহররম পালন করতে, আমরাও সেভাবেই করি। আবার আমাদের জুনিয়ার যারা বড় হয়েছে, তারাও পূজার কাজে এগিয়ে আসে। চাঁদা তোলা, ঠাকুর নিয়ে আসা, ভাসান দেওয়া - সবেতেই সবাই থাকি," বলছিলেন পূজা কমিটির প্রধান প্রেমনাথ সাহা।
মি. সাহা বলছেন, "এই তো মহরম গেল। আমরাও বাজার করেছি, খাবার বিলি করেছি, জল দিয়েছি। কখনও কোনও সমস্যা হয় না এ পাড়ায়"।
"৯২ এর বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে যখন সারা দেশ জ্বলছিল, তখনও এ পাড়ায় তার আঁচ পড়ে নি।"
পাশে দাঁড়িয়ে কথা শুনছিলেন পূজার আরেক উদ্যোক্তা শেখ বাবু।
এগিয়ে এসে বললেন, "ঠাকুর নিয়ে আসতে যাই আমরা, প্যান্ডেলে ঠাকুর তোলা, দেখভাল - সবই মুসলমানরা করি হিন্দু ভাইদের সঙ্গে। কিন্তু প্রতিমার কাছে যারা পূজায় বসেন তারা হিন্দু, কারণ সেই কাজে তো মন্ত্র লাগে! আমি তো আর মন্ত্র জানি না!"
শাস্ত্র বা মন্ত্র না জানলেও পূজার ব্যবস্থাপনায় পাড়ার মুসলমান ছেলেরাই সামনের সারিতে।
প্যান্ডেল-কর্মীদের কাজ দেখভাল করছিলেন যে কয়েকজন, তাদেরই অন্যতম মুহম্মদ নাজিম।
"আসলে এটা রেডলাইট এলাকা তো। যেসব মানুষ এখানে থাকেন, বিশেষ করে মহিলারা, তারা কেউ একটা জাত বা ধর্মেরতো নয়। আবার যারা আসেন এ পাড়ায়, তারাও নানা জাত-ধর্মের। তাই আমাদের পাড়ায় জাতপাত-হিন্দু-মুসলিম ব্যাপারটাই নেই। একটা হিন্দু বাড়ির বাচ্চা আর মুসলিম বাড়ির বাচ্চা ছোট থেকেই একসঙ্গে বড় হয় - তারা এই ভাগাভাগিটা ছোট থেকেই দেখে না। আমরাও যেমন ছোট থেকে এভাবেই বড় হয়েছি," বলছিলেন মুহম্মদ নাজিম।
পূজা এসেই গেল বলতে গেলে, কিন্তু সবার কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়নি। তাই ভরদুপুরেই চাঁদার বিল নিয়ে বের হলেন কজন তরুণ।
কানে এলো তারা দোকানীদের বলছেন, "বছরে একবারই দুর্গাপূজা। একটু বুঝেশুনে চাঁদাটা দেবেন কাকা। তবে আপনার যা মন চায় তাই দেবেন।"
সেই চাঁদা তোলার দলেরই একজন মুহম্মদ সেলিম।
বলছিলেন,"আগে আমাদের পূজায় আর্টিস্ট এনে শো হত। এখন খরচ এত বেড়ে গেছে, সেসব বাদ দিতে হয়েছে। পাড়া প্রতিবেশী আর রাস্তা থেকে চাঁদা তুলে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো ওঠে। তাই দিয়েই পূজা করতে হচ্ছে।"
কিন্তু আর কতদিন নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে শুধু চাঁদা তুলে পূজা চালিয়ে যেতে পারবেন, সেই চিন্তা রয়েছে মুন্সিগঞ্জের এই পাড়ার বাসিন্দাদের।
পরে কী হবে, তা নিয়ে অবশ্য এখন আর ভাবতে চান না তারা, আগে এবারের পূজার কটাদিন তো আনন্দে কাটুক!

Friday, October 4, 2019

শুরু হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব by সুদীপ অধিকারী

নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলী ফুলের ঘ্রাণ। প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জায়ই জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। সাথে নিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। দুষ্টের বিনাশ ও সৃষ্টের পালন করতে বছর ঘুরে আবারও দুর্গতিনাশিনী দশভুজা ‘দেবী দুর্গা’ এসেছেন আমাদের মাঝে।
আজ পবিত্র ষষ্ঠি তিথিতে অশ্বমেথ বৃক্ষের পূজার মাধ্যমে আবাহন করা হবে দেবী দুর্গার। ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে দেবীর বোধন পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমী তিথিতে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রাণ সঞ্চার করা হয় দেবীর মৃন্ময়ীতে। পরদিন মহা অষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে দেবীকে দেয়া হবে পুষ্পাঞ্জলি।
এই দিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে কুমারী পূজা। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় ‘উমা’। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। আর দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পূজা সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বনানী দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রস্তুত করা হয়েছে মহামায়া দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। বাহারি সব রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব প্রতিমা। রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা আর নানা রঙের ডিজাইনের কাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো পূজাঙ্গন। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের যুগপূর্তি উপলক্ষে এবার দুর্গোৎসবকে ঘিরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শুধাংশু কুমার দাস জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারো বনানী মাঠে শারদীয় উৎসব তথা দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে, ২০০৮ সাল থেকে আয়োজিত এই শারদীয় সমপ্রীতির ১২ বছর উপলক্ষে এবার বিশেষ আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে। ৪ঠা অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এ ছাড়াও মন্ত্রী, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ওইদিনই প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ থেকে ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত সন্ধ্যার পর আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। থাকবে সন্ধ্যারতি, ধূনচী নাচ। উদ্বোধনী দিনে ১২ জন গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরই মধ্যে দেবী দর্শনের জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়েছে।
এদিকে মিরপুর রোডস্থ কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আরো একটি দুর্গাপূজা। রাস্তার দু’পাশসহ দুর্গাপূজাকে ঘিরে রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো কলাবাগান এলাকা। দিনের আলোয় মোহনীয় রূপ ছড়ানো পূজামণ্ডপটি রাতেও আলোকচ্ছটা ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। পূজাকে ঘিরে এখানেও বিশাল প্যান্ডেল করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। এরই মাঝে প্রতিমা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
খামারবাড়ী কৃষি ইনস্টিটিউটের দুর্গাপূজা মণ্ডপেও একই চিত্র। খামারবাড়ী মোড়েও আলোকসজ্জা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্রবেশদ্বার। রাস্তার দু’ধার সাজানো হয়েছে লাল-নীল বাতি দিয়ে। নারী-পুরুষ উভয় দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা আবার রেখে দেয়া হয় বছরজুড়ে। তাই এখানকার প্রতিমা তৈরিতে একটু বেশিই নজর দেয়া হয়। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমার রঙ-তুলির আঁচড়। ত্রিশূল, চক্র, ঢাল-তলোয়ারসহ নানা অস্ত্রে সজ্জিত করা হয়েছে দশভূজা দেবী দুর্গাকে। জমকালো সাজে সাজানো হয়েছে পুরো ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অন্দরবাহির।
এদিকে রামকৃষ্ণ মিশন, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, শাঁখারী বাজার, পশ্চিম ধানমন্ডির দুর্গা মন্দির, আখড়া মন্দির, ফার্মগেট, বনশ্রীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও জমকালোভাবে আয়োজন করা হয়েছে দেবী দুর্গাপূজা। পঞ্জিকা মতে জানা গেছে, এবার মা আসছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চেপে। দশমীর দিন তিনি কৈলাশে ফিরেও যাবেন ঘোড়ায় চেপে। অর্থাৎ এই বছরে দেবীর আগমন ও গমন ঘোটকে। শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতেরা বলছেন, দেবীর ঘোড়ায় আগমন ও গমন মর্ত্যবাসীর জন্য মোটেই শুভকর নয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সারা দেশে ৩১ হাজার একশ’টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৩৭টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। যা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি। তবে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঢাকেশ্বরী মন্দিরে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এছাড়া রাজধানী রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, বনানী মাঠ, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, কলাবাগান মাঠ এবং সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, দেবীর আবাহনী সংগীত, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান আয়োজন থাকবে। তিনি আরো বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মন্দিরের পাশাপাশি সারা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সারা দেশে ৫ই অক্টোবর থেকে মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

Tuesday, September 24, 2019

দুর্গা পুজো নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানি by পরিতোষ পাল

এ বছরে কলকাতায় দুর্গা পুজো নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানি বেশ প্রবল হয়ে  উঠেছে। সাধারণভাবে  কলকাতা শহরের প্রায় সব পুজোর কর্তৃত্ব থাকে শাসক রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীদের হাতে। এবার অবশ্য রাজনৈতিকভাবে উজ্জীবিত বিজেপি শুরুতেই চেষ্টা করেছে বেশকিছু পুজো কমিটির কর্তৃত্ব হাতে নিতে। সে ক্ষেত্রে সফল তারা হন নি। তবে একটি দুটি কমিটিকে বাগে আনার ব্যবস্থা তারা করে ফেলেছে। আর এই সব পুজোর উদ্বোধনে দলের সভাপতি অমিত শাহকে আনা হচ্ছে। আনা হচ্ছে দলের কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডাকে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন শুরু করে দেন। এবারো তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না বলে দলীয় সূত্রের খবর। বরং এবার কলকাতা ছাড়িয়ে শহরতলির পুজো উদ্বোধনেও দেখা যাবে মমতাকে। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতারা চাইছেন, দুর্গা পুজোকে অবলম্বন করে তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরো তীব্র করে তুলতে। এবার তাই তারা পুজোকে পুরস্কার দেবার ব্যবস্থাও করেছে। এমনিতেই সরকারি ও বেসরকারিভাবে শ্রেষ্ঠ পুজো থেকে শ্রেষ্ঠ বারোয়ারি পুজো, মূর্তি থেকে মণ্ডপ সজ্জা নিয়ে বিস্তর পুরস্কার দেয়া হয়। কিন্তু বিজেপি হেঁটেছে অন্যপথে। ভারতীয় জনতা শাদ সম্মান প্রতিযোগিতায় পুরস্কার দেয়া হবে সেরা অর্চনা, সেরা মহাভোগ, সেরা আরতি ও সেরা সিঁদুর খেলার জন্য। সব সংগঠনকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। সিঁদুর খেলার পুরস্কার বাদে বাকি সব প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেয়া হবে নবমীতে। প্যান্ডেলে গিয়ে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। এই প্রতিযোগিতার জন্য জুরি কমিটি বাছাই করা হয়েছে। তারা যেমন মণ্ডপে ঘুরবেন তেমনি ভিডিও ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যেই ৭০টির বেশি ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্য আবেদন করেছে। 

একটি গাছের পুনর্জন্ম
গাছের মৃত্যু যেখানে নগর সভ্যতার প্রসারে অবধারিত ধরে নিয়ে যখন তখন কেটে ফেলা হচ্ছে ঠিক তখনই কলকাতার বুকে একটি শতাব্দী প্রাচীন গাছের পুনর্জন্ম হয়েছে। গাছটি একটি ঔষধিগুণ সম্পন্ন হরিতকি গাছ। এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একশ’ বছর আগে গাছটি লাগানো হয়েছিল। এখন সেই গাছটি ২৫ ফুট উঁচু হয়ে ডালপালা ছড়িয়েছে চারদিকে। কিন্তু হাসপাতালের একটি অংশ সম্প্রসারণের জন্য গাছটিকে নিয়ে পড়েছিলেন কর্তৃপক্ষ বেজায় মুশকিলে। শেষ পর্যন্ত গাছটিকে অন্যত্র সরিয়ে বসানো যায় কিনা তা নিয়ে কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। তাদের  পরামর্শে গাছটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত ১৪ই জুন সেই কাজটি করা হয়েছে। তবে সতর্কতা নেয়া হয়েছিল যাতে গাছটি মরে না যায়। প্রথমেই গাছটির শিকড়কে পোক্ত করতে দেয়া হয়েছিল অক্সিন দ্রবণ। গাছটির ডালপালা ছেঁটে দেয়ার ফলে যাতে কোনো সংক্রমণ না হয় সেজন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ব্লিটক্স দ্রবণ। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক আধিকারিকের মতে, একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছকে সরানোর কাজটি ছিল কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। তবে গাছটি সরিয়ে অন্যত্র বসানোর পর দিন রাত নজর রাখা হয়েছিল কোনো সংক্রমণ যাতে না হয়। তবে তিন সপ্তাহ পর পাওয়া গিয়েছে খুশির খবর। গাছটি বেঁচে তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে নতুন পাতা ছেড়েছে। এই ভাবে একটি গাছের পুনর্জন্মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেমন খুশি তেমনি খুশি উদ্যান বিভাগের আধিকারিকরাও। এর আগে উত্তর কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছকে এই ভাবে অন্যত্র সরানো হয়েছিল। গত এক বছরে এই নিয়ে দুটি পূর্ণবয়স্ক গাছকে হত্যা না করে অন্যত্র সরিয়ে পুনর্জন্ম দানের ঘটনায় সকলেই খুশি।

কলকাতা নিয়ে ভোটাভুটির ব্যবস্থা
নাগরিকরা কেমন দেখতে চান নিজের শহরকে, কোন ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত, ঘাটতি রয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে-এমনই কিছু প্রশ্ন নিয়ে নাগরিকদের কাছে সরাসরি হাজির হতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এক কথায় কলকাতা নিয়ে নাগরিকদের ভোটাভুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুর পরিষেবাকে উন্নত ও আধুনিক মানের করে তুলতেই এমন পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি নিজেরাই জানাতে পারবেন পছন্দ-অপছন্দের কথা।  পুরসভার মতে, এটা এক ধরনের অনলাইন ভোটাভুটি। এক পুরকর্তা জানিয়েছেন, নাগরিকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানো না-গেলে তাদের সমস্যা, তারা কী চাইছেন, সেই সব ব্যাপারে দিশা পাওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই কম সময়ে নাগরিকদের কাছে পৌঁছতে এই পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে প্রথমে একটি অ্যাপ তৈরি করা হবে। যে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই নাগরিকেরা পুরসভার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। তবে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে যারা আগ্রহী, তাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অনলাইনেই এই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। তবে কত জন এই ভোটে অংশ নিতে পারবেন, সেই ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের এই ভোটাভুটিতে শামিল করা হবে। পুর পরিষেবার উন্নতিতে এবং কলকাতার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভাবে এই প্রথম নাগরিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

বাংলা শব্দের ঐতিহাসিক অভিধান
প্রতিটি বাংলা শব্দের উদ্ভব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তৈরি হচ্ছে বাংলা শব্দের একটি ঐতিহাসিক অভিধান। তবে অনলাইনে তৈরি হওয়া এই অভিধানের নাম দেয়া হয়েছে শব্দকল্প। এই প্রথম ভারতের মধ্যে কোনো ভাষা নিয়ে এই ধরনের অনলাইন অভিধান তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য স্কুল অব কালচারাল টেক্সট এন্ড রেকর্ডস। এটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষ বাংলা নিয়ে সহজেই গবেষণা করতে পারবেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই অভিধান তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, বাংলা এমন একটি ভাষা যার প্রতিটি শব্দ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই প্রতিটি শব্দের প্রথম উদ্ভব, তার ব্যবহার, তার ক্রম অগ্রগতি এবং বিবর্তন বর্ণনা রাখা হবে। ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি অধ্যাপক, ছাত্র ও গভেষক শব্দ সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। জানা গেছে, টেক্সট থেকে শব্দ বাছাই করে তা উদ্ভবের তারিখ অনুযায়ী সাজানোর জন্য বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সিস্টেমের ব্যবহার হচ্ছে। শব্দের ক্ষেত্রে কোনো বাছবিচার করা হবে না। বড়লোকদের ভাষা, মধ্যবিত্তের ভাষা থেকে শুরু করে স্ল্যাং ভাষাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই অনলাইন অভিধান তৈরির কাজ শেষ হলে যে কেউ এই অভিধান ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না। অভিধান প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্তরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে শব্দের উচ্চারণ ও ধ্বনিবিন্যাস অভিধানে যুক্ত করা হবে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ এই অভিধান তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ হবে। এই ধরনের একটি উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখভাষা বিশেষজ্ঞরা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট ভাষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। বাংলা ভাষার যে কোনো শাখার উচ্চশিক্ষার্থীরা এটি থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

চালু হয়েছে মানবতার কাফে
অভিনবত্বে কলকাতার জুড়ি মেলা ভার। এবার কলকাতার বুকে চালু হয়েছে মানবতার ক্যাফে। তবে এটি আসলে একটি ভেগান কমিউনিটি ক্যাফে। আর এটি যারা চালু করেছেন তারা হলেন উবানটু কমিউনিটির সদস্য। খটমট এই শব্দটির অর্থ কি, কোন ভাষার শব্দ এটি সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসলে উবানটু জুলুভাষার শব্দ। এর অর্থ মানবতা। একসঙ্গে থাকার প্রেরণায় একদল তরুণ-তরুণী মিলে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়াতে তৈরি করেছে এই উবানটু কমিউনিটি ক্যাফেটি। পরিবেশবান্ধব এই ক্যাফেতে দূষণকে শতহাত দূরে রাখা হয়েছে। নারিকেলের খোলে তৈরি বাসনে এবং কাঠের থালায় পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার। টেবিলে প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচের বোতলে দেয়া হচ্ছে পানীয়। এই ক্যাফেতে দূষণের কথা ভেবেই রাখা হয় নি কোনো এসি। চলছে পাখা। পুরনো ফেলে দেয়া আসবাবকে সাজিয়ে গুছিয়ে করা হয়েছে ক্যাফের টেবিল চেয়ার। মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে রান্নার লোভে এর শেফের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এক অবাঙালি। পাওয়া যায় পিৎজা, শাহি বড়া, বড়িওলি পাস্তা থেকে গো গ্রিন স্মুদি পর্যন্ত। উবানটু কমিউনিটির মতাদর্শ হল, ইট, লিভ এন্ড শেয়ার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে  তিনতলা বাড়িটির নিচ তলায় হয়েছে ক্যাফে। দোতলায় হোস্টেল। আরতিন তলায় ইভেন্টের জায়গা। পর্যটকরা কলকাতায় এসে উবানটুর হোস্টেলে থাকতেও পারবেন। তবে খেতে হবে ভেগান খাবার।

Friday, August 23, 2019

আয়কর বিতর্কে কলকাতার দুর্গাপূজো by পরিতোষ পাল

দুর্গাপূজো এখন আর হিন্দুদের উৎসব নয়। এটি এখন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই উৎসবের চারদিনে সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ যোগ দেন। সম্প্রীতির আবহে অনুষ্ঠিত হওয়া এই দুর্গাপূজো নিয়ে পুজোর দু’মাস বাকি থাকার আগেই শুরু হয়েছে আয়কর বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপূজো কমিটিগুলোকে আয়কর কর্তৃপক্ষের দেয়া নোটিশের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। গত মঙ্গলবার দিনভর বিভিন্ন পুজো কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে অবস্থান-বিক্ষোভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বঙ্গজননী এবং মহিলা শাখা। কোনোভাবেই পুজো কমিটিগুলোর উপর কর ধার্য করা মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। মমতা বলেছেন, পুজোর সঙ্গে যুক্ত সকলের আয় থেকে টিডিএস (উৎসে কর) কাটা আসলে টেরিব্‌?ল ডিজাস্টার স্কিম (ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক প্রকল্প)।
তবে কলকাতার বড় পুজো কমিটিগুলোর বাজেট শুনলে চমকে উঠতে হয়। কোনো কমিটিই খরচের কথা প্রকাশ্যে না জানালেও পুজোর আড়ম্বর দেখলেই বোঝা যায়, বেশ কয়েক কোটি রুপি খরচ করে এক একটি পুজো কমিটি। আগের মতো চাঁদা নিয়ে আর পুজো হয় না। এখন পুজো হয় করপোরেট সংস্থার বদান্যতায়। কিন্তু নিয়মমতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হলেও কাউকে কোনো কর দিতে হয় না।

গত বছরই আয়কর দপ্তর পুজো কমিটির উপর কোনো কর চাপানোর কথা না বললেও পুজোর সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থা ও ইভেন্ট কোম্পানিগুলো থেকে টিডিএস কেটে তা জমা দেয়া হয়েছে কি না সেই তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল। তারপর ফোরাম ফর দুর্গাপুজো নামে সব পুজো কমিটিকে নিয়ে গঠিত সংস্থার সঙ্গে আয়কর কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এখন তৃণমূল কংগ্রেসের হস্তক্ষেপে রাজনীতির লড়াই যুক্ত হয়েছে। কলকাতাসহ শহরতলীর সব বড় পুজো কমিটিই রাজ্যের মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। সেগুলির অনেকগুলিকেই বিজেপি দখল করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় মমতার উদ্দেশ্যই হলো, ভাবাবেগে আঘাত করার অজুহাতে সব পুজো কমিটিকেই নিজেদের দিকে রাখা। চেতলা অগ্রণী দুর্গাপুজো কমিটির কর্তা ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেছেন, টাকার থলি নিয়ে পুজো কমিটিগুলি দখল করতে গিয়েছিলেন। পারেননি। তাই পুজোগুলো বন্ধ করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদী দল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কোনোভাবেই করের ভয় দেখিয়ে পুজোগুলিকে দখল করা যাবে না। তবে আয়কর কর্তৃপক্ষ দিল্লি থেকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ বছর কোনো পুজো কমিটিকে কোনো নোটিশই দেওয়া হয়নি। নোটিশ দেয়া হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। তাতে বলা হয়েছিল, কমিটি যেন ঠিকাদার ও ইভেন্ট ম্যানেজারদের প্রাপ্য মেটানোর আগে উৎসে কর সংক্রান্ত তথ্য জমা করে।

এর উদ্দেশ্য ছিল, ঠিকাদার ও ইভেন্ট ম্যানেজাররা যাতে ঠিক সময়ে কর জমা করেন। আসলে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই যে এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল তা স্পষ্ট করেই জানিয়েছে আয়কর কর্তৃপক্ষ। বড় পুজো কমিটিগুলো তা মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু মমতার প্রতিবাদের পরই পুজো কমিটিগুলো সুর পাল্টাতে শুরু করেছে। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের কর্তা শাশ্বত ঘোষ এখন বলছেন, কর বসালে কেউ পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবে না। অনেকের রুটি-রুজি জড়িয়ে পুজোর সঙ্গে। তাদের পেটেও থাবা বসানোরও চক্রান্ত চলছে। তবে কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বত্র সবাই টিডিএস দিচ্ছেন। তাহলে পুজোর সঙ্গে যুক্ত যে সব সংস্থা মুনাফা করছে তাদের কর দিতে হবে না কেন?

হাতে টানা রিকশা বন্ধ হবে কালের নিয়মে
রিকশায় বসে সওয়ারি। আর সেই সওয়ারিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টেনে নিয়ে চলেছেন কোনো রিকশা চালক। এমন অমানবিক দৃশ্য কলকাতার বেশকিছু অঞ্চলে এখনও দেখা যাচ্ছে। উত্তর কলকাতায় বর্ষার দিনে এই হাতে টানা রিকশা প্রয়াজনীয় হয়ে পড়ে স্থানীয় মানুষের। ১৯১৯ সালে ‘ক্যালকাটা হ্যাকনি ক্যারেজ অ্যাক্ট’- চালু হয়েছিল। সেই আইনে ব্রিটিশ শাসকেরা কলকাতা শহরে ঘোড়া, গরুর গাড়ি, পালকি, হাতে টানা রিকশার উপর নিয়ন্ত্রণ এনেছিল। তখন থেকেই শহরে লাইসেন্স নিয়ে হাতে টানা রিকশা চলাচলের শুরু। তবে ২০০৬-এর ১৫ই আগস্টে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এমন রিকশা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। বাতিল করে দেয়া হয়েছিল ১৯১৯-এর হ্যাকনি ক্যারেজ আইনও। কিন্তু তারপরও কলকাতায় থেকে যাওয়া রিকশাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে নতুন করে কোনো লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না হাতে টানা রিকশাকে। এমনকি পুরনো লাইসেন্স পুনর্নবায়নও করা হচ্ছে না। কিন্তু মানবিকতার দোহাই দিয়েই চোখের সামনে এই রিকশার অবাধ চলাচল সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয় না। ফলে কলকাতার অলি-গলিতে তা আজও চলছে। পুলিশের হিসাব, প্রায় হাজার পাঁচেক এমন রিকশা চলছে কলকাতার পথে। তবে প্রশাসনের কর্তাদের ভরসা কালের নিয়ম। তাদের মতে, কালের নিয়মেই কমে আসবে হাতে টানা রিকশা। একসময় বন্ধও হয়ে যাবে। কীভাবে? আসলে রিকশাচালকদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পেশায় আসছে না। যে হাজার পাঁচেক রিকশাওয়ালা রয়েছেন, অধিকাংশের বয়স হয়েছে। ফলে কালের নিয়মে হাতে টানা রিকশা কমে আসছে। একসময় উঠেই যাবে।

তৃণমূল কংগ্রেসে এবার ক্যাডার বাহিনী
এতদিন বামপন্থিদের মধ্যেই চালু ছিল ক্যাডার কথাটি। ক্যাডার শব্দের অর্থ সাথী। আসলে বলশেভিক বিপ্লবের সময় থেকেই দলের কর্মীদের কমরেড হিসেবে সম্বোধনের শুরু হয়েছিল। পরে তা গোটা বিশ্বেই বামপন্থিদের মধ্যে প্রবলভাবে চালু হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলে ক্যাডারদের গুরুত্বও বেড়ে গিয়েছিল। বাম দলগুলোতে সাথী হিসেবে বোঝানোর চেয়ে ক্যাডার হিসেবে দলের প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীকেই বোঝানো হতো। বাম দলগুলোর, বিশেষ করে সিপিআইএম’র মধ্যে এই ক্যাডার বাহিনীই প্রকৃত শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে একসময় এই ক্যাডারবাহিনী বাম সরকারের শেষদিকে সাথীত্ব ত্যাগ করে হয়ে উঠেছিল উৎপীড়ক বাহিনী হিসেবে। তাই ক্যাডার শব্দটি নিয়ে দক্ষিণপন্থি দলগুলোর মধ্যে কোনো আগ্রহ ছিল না। বরং বাম বিরোধী দলগুলো এই শব্দটিকে সযত্নে পরিহার করেছে। তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেসে ক্যাডার শব্দটি অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে।

দলের নেতা-কর্মীরা এই শব্দটি নিয়ে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও বর্তমানে দলের পরিত্রাতা ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ হলো দলের কর্মীদের কমরেড হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। আসলে দলে অনেক সাংগঠনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কমরেড শব্দটিকে চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রশান্ত কিশোরের টিম তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের কাছে কমরেডদের নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর চেয়ে পাঠিয়েছেন। প্রথমে ভিরমি খেলেও পরে সকলে বুঝেছেন, এই ক্যাডার হলো দলের নিচুতলার নিবেদিত কর্মীবাহিনী। অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, ব্যাপারটি আলাদা কিছু নয়। তবে আমরা কখনো দলীয় কর্মীদের ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করি না। তাছাড়া দল হিসেবেও আমরা কমিউনিষ্ট পার্টির ঘরানার নই। তবে প্রশান্ত কিশোর এখন নিচুতলার কর্মীবাহিনীকেই ক্যাডার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলছেন। একসময় বাম দলের মতোই এই ক্যাডাররাই যে দলের শক্তিশালী অংশ হয়ে উঠবে তার সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে করছেন অনেক নেতাই।

স্ট্রিট ফুডের ঐতিহ্যের স্বীকৃতি
কলকাতার রাস্তার ধারের ফুটপাতের খাবারের আকর্ষণে বহু সেলিব্রেটিকেও দেখা গেছে দামি রেস্টুরেন্ট ছেড়ে পথের খাবারের স্বাদ নিতে। আসলে কলকাতার স্ট্রিট ফুড বলতে বোঝায় নানা ধরনের খাবার। বিরিয়ানি থেকে ভাত মাছের ঝোল বা কাটলেট থেকে রোল, এমন নানা খাবার পাওয়া যায়। বৈচিত্র্যের এক সুবিশাল উপস্থিতির টানে সকলেই ছুটে আসেন এই পথের খাবারের দোকানে। বিশেষ করে অফিসপাড়া বলে পরিচিত এলাকাতে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। জেলার বিখ্যাত সব মিষ্টিও পাওয়া যায় এই স্ট্রিট ফুডের দোকানে। এমনকি সল্টলেকের আইটি এলাকাতেও এই স্ট্রিট ফুডের চাহিদা প্রবল। একদিকে দামে যেমন সস্তা তেমনি খাদ্যের গুণগত মানও বেশ ভালো। অবশ্য কলকাতায় এই স্ট্রিট ফুডের প্রচলন নতুন নয়। বিশিষ্ট কলকাতা বিশেষজ্ঞ হরিপদ ভৌমিকের মতে, কলকাতার ফুটপাথের খাবারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে বাড়ির বাইরে থাকা পড়ুয়াদের বড় অংশই মেসে থাকতেন। সেই মেসের বাসিন্দারা মেসের খাবারে অরুচি হওয়ায় স্বাদ বদল করতে খাবারের খোঁজ করতেন। এইভাবেই কলকাতায় বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে খাবারের দোকান। আবার উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে রেল স্টেশনগুলোতে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের জন্য স্টেশন সংলগ্ন রাস্তার ফুটপাথে খাবারের দোকান চালু হয়েছিল। পরে তা শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এখন শহরতলীতেও ফুটপাথে রয়েছে খাবারের দোকান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই স্ট্রিট ফুডের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকেই স্বীকৃতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হেরিটেজ কমিশন। যদিও হেরিটেজ আইনে ঐতিহাসিক স্থাপত্যকেই মর্যাদা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থাপত্য নির্ভর ঐতিহ্যের বাইরে অন্য যে সব সংস্কৃতি রয়েছে তাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দোল, দুর্গাপুজো, মহরম, পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবকেও। কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, শহরের ঐতিহ্য হিসেবে ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যে সব সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে তাকে এই প্রথম একত্রিত করে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাই কলকাতার স্ট্রিট ফুডের পাশাপাশি কলকাতা বইমেলাও এই স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন বলেছেন, ফুটপাথের খাবার বা বইমেলার যে জনপ্রিয়তা তাকে বাদ দিলে কলকাতা আর কলকাতা থাকে না।

মৈত্রীর বন্ধনে দুই বাংলার সংগীত
দুই বাংলার মৈত্রীর বন্ধনে সংস্কৃতির যে ভূমিকা রয়েছে তা বারে বারে দেখা গেছে। আর এই মৈত্রীর বন্ধনকে জোরদার করতেই দুই বাংলার শিল্পীরা নানা প্রয়াসে শামিল হয়ে চলেছেন। এবারও দুই বাংলার দুই প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী মৈত্রীর বন্ধনকে নতুন মাত্রা দিতে একসঙ্গে প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্রসংগীতের দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়া একটি অ্যালবাম। কলকাতায় এই অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে আমার নিবিড় সম্পর্ক। ভালোবাসার টান। তাই তো বাংলাদেশের শিল্পী অরূপ রতনের সঙ্গে গান গাইতে পেরে আমার খুব ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে আমরা আবার একসঙ্গে গান গাইবো, সেই প্রত্যাশা রইল আমার। অ্যালবামের অপর শিল্পী ড. অরূপ রতন চৌধুরীও মৈত্রীর বন্ধনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দুই বাংলার সংস্কৃতির সেতুবন্ধনকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রথম হৈমন্তী শুক্লার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে একটি রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম। অরূপ রতনের কথায়, আমি চাই, আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে কলকাতার সংস্কৃতির আরও বেশি আদান-প্রদান হোক। আমাদের দুই দেশের সংস্কৃতির নৈকট্য বাড়ুক। দৃঢ় হোক ভালোবাসা আর সংস্কৃতির বন্ধন। আমাদের মৈত্রীর বন্ধন চির অটুট থাকুক। গত মঙ্গলবার বিকালে কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার’- শীর্ষক অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচনে ছিলেন শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা ও অরূপ রতন চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র পরিষদ দেবাশীষ কুমার।

‘দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার’ অ্যালবামে স্থান পেয়েছে পাঁচটি জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত। গানগুলো হচ্ছে- ‘সেদিন দু’জনে দুলেছিনু বনে’, ‘আমার পরাণ যাহা চায়’, ‘দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে’, ‘তোমার কাছে এ বর মাগি, মরণ হতে যেন জাগি’ এবং ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি’। অ্যালবামটিতে ধারাভাষ্য দিয়েছেন অভিনেতা ও আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সংগীত পরিচালনা করেছেন সুমন সেনগুপ্ত। বাংলাদেশের সাউন্ডটেক ইলেকট্রনিক্স এই অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে।

Saturday, October 24, 2015

পূজামণ্ডপে ‘আদিম গুহা’

অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে দুর্গাপ্রতিমাকে। মন্দিরজুড়ে জ্বলছে রংবেরঙের আলো। প্রতিমার সামনে চলছে পূজা-অর্চনা ও আরতি। নারী ও শিশুসহ পুণ্যার্থীরা আসছেন দলে দলে। প্রতিমার সামনে ভিড় করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভিড় জমে মন্দির চত্বরে, যেখানে কাগজ আর বাঁশের কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে আদিম গুহা। তুলে ধরা হয়েছে হাজার বছরের পুরোনো মানবসভ্যতার এক খণ্ড মনোহর চিত্র।
এই দৃশ্য দেখা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়া বটতলা পূজামণ্ডপে গিয়ে। বগুড়া আর্ট কলেজের একদল হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থী মনের মাধুরী মিশিয়ে এই ‘মানব গুহা’ নির্মাণ করেন। এ জন্য তাঁরা কোনো পারিশ্রমিকও নেননি।
আর্ট কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ব্যতিক্রমী রূপ দিতেই ভিন্ন কিছু করার ভাবনা তাঁদের মাথায় আসে। এর সঙ্গে যোগ হয় অধুনা বিলুপ্ত জাদুঘর কারুপল্লী। সেখানে একটি অংশে আদিম মানুষের আজব গুহা তৈরি করে বগুড়ার চিত্রশিল্পী আমিনুল করিম ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু তিন-চার বছর আগে ওই কারুপল্লী ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু প্রয়াত এই শিল্পী আজও তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগান। এ কারণেই সেই কারুপল্লীর আদলে তাঁরা প্রাচীন মানবসভ্যতার চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট হন।
ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়ার এই কালীমন্দিরে তিন বছর ধরে দুর্গোৎসবের আয়োজন করছে স্থানীয় মহালয় যুব সংঘ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস প্রথম আলোকেবলেন, ‘দুর্গাপূজাকে স্মরণীয় করতে প্রতিবছরই বিখ্যাত শিল্পীর হাতে তৈরি প্রতিমা সংগ্রহ করি। এ ছাড়া উৎসবে নতুন কিছু মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করি। আমাদের এই  যুব সংঘের বেশির ভাগ সদস্যই ছাত্র। শারদীয় উৎসব ঘনিয়ে এলে, সবাই মিলে প্রস্তুতি বৈঠক করি। এবারের বৈঠকে আর্ট কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আদিম গুহা তৈরির প্রস্তাব দেন। দেবীর প্রতি ভক্তি আর শিল্পী আমিনুল করিমের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থেকেই আমরা এ ব্যাপারে একমত হই।’
আদিম মানুষের এই গুহা তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র সোহাগ কুমার বলেন, যেই ভাবনা, সেই কাজ। এর পেছনে তিনটি উদ্দেশ্য ছিল, নতুন এই পূজামণ্ডপকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা, সেই সঙ্গে হাজার বছরের মানবসভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরা এবং বিলুপ্ত বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘কারুপল্লী’কে নব প্রাণ দেওয়া।  প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পুরোনো পত্রিকা ও বাঁশের কাঠামোতে রং স্প্রে করে নির্মাণ করা হয় এই আদিম গুহা।
ঠনঠনিয়া ব্যাংকপাড়ার জুয়েল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব বরাবরই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রতীক। তাই মণ্ডপে আসি। প্রতিমা দেখি। কিন্তু এর আগে কখনো কোনো মণ্ডপে আদিম সভ্যতা ফুটিয়ে তুলতে দেখিনি। আদিম এই গুহা দেখে সত্যিই মন-প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। খুব ভালো লেগেছে।’
আদিম গুহার নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পূজামণ্ডপে। গতকাল বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়া বটতলা এলাকার মহালয় যুব সংঘের উদ্যোগে মণ্ডপটি তৈরি করা হয় l প্রথম আলো