Thursday, July 22, 2010

বিদেশি বন্ধুর চোখে কর্নেল তাহের by ইফতেখার মাহমুদ

কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদিন আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নেদারল্যান্ডের সাংবাদিক পিটার কাস্টার্স সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে এসেছিলেন। পেশাগত কারণেই তাহেরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা হয়। ৭ই নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেকেই লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশি সাংবাদিকেরাও আছেন। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ তাঁর আনফিনিশড রেভ্যুলেশন বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ পরিবর্তনে তাহেরের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছেন। পিটার কাস্টার্স ছিলেন তাহেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাহেরকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
বাংলাদেশের সমাজবদলের কর্মীদের প্রসঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে হতাশা আর আশাভঙ্গের বেদনা ফুটে ওঠে পিটার কাস্টার্সের চোখেমুখে। নতুন স্বাধীন হওয়া দেশ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সূত্রে এসে অনেকের সঙ্গেই তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছিল। সবার মধ্য থেকে কর্নেল তাহেরকে তাঁর আলাদা মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সময় বাংলাদেশি বন্ধুদের কাছে স্বাধীনতাযুদ্ধে এক পা হারানো এই কর্নেলের বীরত্বের গল্প অনেক শুনেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশে আসার পর তাহেরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন পিটার। ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কোনো একদিন কর্নেল তাহের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পায়ের চিকিৎসা নিতে এসেছেন শুনে তাঁকে দেখতে ছুটে যান তিনি। হাসপাতালে বসেই তাহেরের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয় পিটারের। বাংলাদেশের সমাজবদলের পথ কী হবে, সমাজ কোন স্তরে আছে, কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়ে সমাজবদলের দুই তরুণ কর্মীর মধ্যে চলে তর্কবিতর্ক।
পিটার আগে থেকেই জানতেন কর্নেল তাহেরের নানা তৎপরতা সম্পর্কে। কুমিল্লা সেনানিবাসের দায়িত্বে থেকে কর্নেল তাহের সেনাবাহিনীকে উৎপাদনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ১৯৭৪ সালে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাহেরকে নদী খননবিষয়ক কাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হলো।
তাহের মনে করতেন, বাংলাদেশের সমাজবদলের কাজ শহর থেকে শুরু করতে হবে। পিটারের মত ছিল, গ্রামের মানুষের মধ্যে জাগরণ নিয়ে আসতে হবে। এই শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন ব্রাজিলের সমাজবদলের তাত্ত্বিক পাওলো ফ্রেইরির কাছ থেকে। তাহের তাঁর মতাদর্শ অনুযায়ী সমাজবদলের জন্য যুক্ত হয়েছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে। পিটার গ্রামের মানুষকে জাগরণের শিক্ষা দিতে বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ শুরু করলেন। একই মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য দুজন দুই পথে হাঁটা দিলেও তাঁদের বন্ধুত্বে কোনো চিড় ধরেনি।
সাংবাদিকতার সূত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ থাকায় ১৯৭৫-এর আগস্টের শুরুতেই পিটার টের পাচ্ছিলেন যে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রে একটা অঘটন ঘটতে যাচ্ছে। সরকারের ভেতরে অসন্তোষ রয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর একটি অংশ দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই সংবাদগুলো পিটার জানতেন। ১৫ আগস্ট সকালে কর্নেল তাহেরের ভাই আবু ইউসুফের সঙ্গে পিটারের দেখা হলে তিনি তাঁকে শাহবাগের রেডিও স্টেশনে নিয়ে গেলেন। তখন গণমাধ্যম তেমন বিকশিত হয়নি। ক্ষমতা দখলের প্রধান পূর্বশর্ত ছিল রেডিও স্টেশন দখল করে সেখান থেকে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেওয়া।
রেডিও স্টেশনে গিয়ে পিটার দেখতে পান, কর্নেল তাহের উত্তেজিত ভঙ্গিতে খন্দকার মোশতাককে কী যেন বলছেন। তাঁদের দুজনের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক হচ্ছিল। এরপর তাহের রেডিও স্টেশন ছেড়ে চলে আসেন। ১৫ আগস্টের পর কর্নেল তাহেরের সঙ্গে আরও কয়েকবার দেখা হয়েছিল। তাহের যে আরেকটি বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তা বোঝা যাচ্ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকা গুজবের শহরে পরিণত হলো। পুরো দেশের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই তা বোঝা যাচ্ছিল। ১ নভেম্বর শোনা গেল, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসছে। বিমানবাহিনী ঢাকার ওপর বিমান চালিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই।
‘২ নভেম্বর ভোরে মিরপুর রোডের বাসা থেকে রাস্তায় বেরিয়ে দেখি হাজার হাজার সৈনিক খোলা ট্রাক ও জিপে করে রাস্থায় গুলি ছুড়তে ছুুড়তে সারি ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় জাসদের কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করেছে।’ বললেন পিটার। এ সময় পিটারের সঙ্গে কর্নেল তাহেরের দেখা হয়।
৭ নভেম্বরের পটপরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে পিটার বললেন, ‘৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বোঝা গেল, জাসদ যেভাবে পরিবর্তনের কথা ভাবছে, বিষয়টা অত সহজ নয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী অবস্থা থেকে তাহেরের নেতৃত্বে মুক্ত করার পর দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করল। তিনি একটি জিপগাড়িতে করে ঢাকা শহর চক্কর দিচ্ছেন। পিটারকে দেখে বললেন, বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে আসেন। বড় সমাবেশ হবে। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানও সেখানে বক্তৃতা করবেন। এর আগে রেডিওতে সৈনিক বিদ্রোহের ঘোষণা দেওয়া হলো। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় জাসদের কর্মীরা মিছিল করছেন। ঢাকার বাইরে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ার সংবাদ আসছিল। জিয়া রেসকোর্স ময়দানে গেলেন না। রেসকোর্সে কোনো সমাবেশও হলো না। জিয়া দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে ভিড়ে গেলেন। ধীরে ধীরে ক্ষমতা নিজের আওতায় নিতে শুরু করলেন তিনি। বোঝা গেল, ক্ষমতার লড়াইয়ে তাহের হেরে যাচ্ছেন। এ ধরনের পরিবর্তনের সময় যে ধরনের জনসমর্থন ও বিক্ষোভ হওয়া প্রয়োজন ছিল, জাসদ তা অর্জন করতে পারল না। কর্নেল তাহেরও গ্রেপ্তার হলেন।
পঁচাত্তরের ৮ ডিসেম্বর এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পিটারকে গ্রেপ্তার করেন। জেলখানায় নিয়ে আমদানি সেলে নেওয়ার পর সেখানে সপ্তাহখানেক কাটে। সেখান থেকে নিরাপত্তা সেলে নেওয়া হলো। আগস্টে পিটারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলো। বলা হলো, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই তরুণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ২১ জুলাই পিটার জেলে বসেই জানতে পারেন কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সেই রাতে পিটার ঘুমাতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে সমাজবদলের একজন কর্মীকে হারাল।

সংবিধান সংশোধন: কে কত কাজের কাজি by আব্দুল কাইয়ুম

সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, তা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ পর্যন্ত যত সংশোধনী এসেছে, সেগুলো একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলই করেছে। বিরোধী দলের পরামর্শ নেওয়ার কথা কেউ ভাবেনি। ব্যতিক্রম ছিল শুধু একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনী। ১৯৯১ সালে সার্বভৌম সংসদ ও সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতৈক্যের ভিত্তিতে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে এ দুটি সংশোধনী গৃহীত হয়। এবার যদি সংসদীয় কমিটিতে মতৈক্যের ভিত্তিতে সংবিধানের সংশোধনী গৃহীত হয়, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে আমাদের গণতন্ত্রের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
প্রথম কাজ হবে সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের কমিটিতে পূর্ণ মর্যাদায় রাখা। তাঁদের কথা শোনা। সুপারিশগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করা। আওয়ামী লীগ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করতে চায় আর কমিটিকে লোক দেখানো ব্যাপারে পরিণত করে, তাহলে উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। বিএনপিকে কোনোভাবেই বাইরে রাখা যাবে না। শুধু বিএনপি না, জাতীয় পার্টিকেও জড়িয়ে-পেঁচিয়ে রাখা দরকার। কারণ, এরাই সেই দুই দল, যারা স্বাধীনতা-উত্তরকালে দুই দফায় সামরিক শাসন চালিয়েছিল। আর পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় মূলত সামরিক শাসনবিরাধী। তাই এই সংশোধনীতে তাদের সম্মতি ও সক্রিয় অবদান থাকাটা জরুরি।
প্রশ্ন হলো, কমিটিতে বিএনপি থাকতে রাজি হবে কি না। তারা এ ব্যাপারে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তই আশা করব। যদি তারা কমিটিতে না থাকার কথা ভাবে, সেটা হবে দুঃখজনক ব্যাপার। বিএনপি তো দাবি করে যে তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। তা-ই যদি হয়, তাহলে তো তাদের সদলবলে এই সংবিধান সংশোধনীতে যোগ দেওয়া দরকার। এটা তাদের সংসদ অধিবেশনে ফিরে যাওয়ার একটি মোক্ষম উপলক্ষ হতে পারে। তাদের সংসদে গ্যাঁট মেরে বসে দাবি করা উচিত যে এটা তাদের এজেন্ডা। কারণ তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। সুতরাং পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তাদের সানন্দে বরণ করে নেওয়া দরকার। তারা এখন জোরগলায় বলুক যে আর কখনো কোনো শক্তিকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিপন্ন করতে দেওয়া হবে না। বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরবচ্ছিন্ন রাখার ব্যাপারে তারা যে কত বড় কাজের কাজি, সেটা প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে এসেছে।
এ ব্যাপারে যদি মতৈক্য হয় তাহলে আমরা বলব, সংশোধনীতে এমন একটা বিধান রাখা উচিত যেন ভবিষ্যতে সংবিধানবহির্ভূত পথে কেউ ক্ষমতা দখল করার সাহস না পায়। এটা কি করা সম্ভব? নিশ্চয়ই সম্ভব। সোজা বাংলায় লিখে দেওয়া হোক যে ভবিষ্যতে যদি কেউ বন্দুকের জোরে বা বলপ্রয়োগে সামরিক শাসন জারি করে, সংবিধান স্থগিত রাখে, তাহলে তাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখনই জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরে আসবে, তখনই অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের সম্মুখীন করা যাবে। এ জন্য আদালতের অতিরিক্ত কোনো রায়ের প্রয়োজন হবে না।
এই বিধানটা যোগ করা দরকার এ জন্য যে পঁচাত্তর-উত্তর সামরিক শাসকেরা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর বলে তাঁদের অবৈধ শাসন জায়েজ করিয়ে নিয়েছিলেন। এবং সেই অবৈধ জিনিসটাকে অবৈধ ঘোষণার জন্য ২৫-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকারীদের আর এই সুযোগ দেওয়া যাবে না। যদি কেউ সংবিধান-বহির্ভূতভাবে ক্ষমতায় আসেন, তাঁকে বিচার ও শায়েস্তা করার বিধান সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লিখে রাখা হোক।
দ্বিতীয় আরেকটি সংশোধনী দরকার। সেটা হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ কোনো অজুহাতেই তিন মাসের বেশি হতে পারবে না। কমিটি যদি সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পরিসমাপ্তি চায়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু যদি ব্যবস্থাটি অব্যাহত রাখা হয়, তাহলে তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক করতে হবে। ওয়ান-ইলেভেন নামে খ্যাত বা অখ্যাত সরকার যে দুই বছর থাকতে পেরেছে, সেটা সম্ভব হয়েছে আইনে কিছু ফাঁকফোকরের সুযোগে। ওগুলো বন্ধ করতে হবে। সংবিধানের ৫৮খ (১) অনুচ্ছেদের দিকে নজর দিন। এটাই যত নষ্টের গোড়া। সেখানে বলা হয়েছে, ‘...নতুন প্রধানমন্ত্রী তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণ করার তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকিবে।’ ৫৮গ (১২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নতুন সংসদ গঠিত হইবার পর প্রধানমন্ত্রী যে তারিখে তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণ করেন, সেই তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হইবে।’ সমস্যাটা হলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন না, আর তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারও যায় না! এভাবে দুই বছর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকল সংবিধানসম্মত উপায়েই। এই ফাঁক বন্ধ করতে হবে।
কীভাবে? খুব সোজা। লিখে দেওয়া হোক যে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিদায় নেবে। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই যথেষ্টভাবে তার ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও করা হোক, যেন তারা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সুসম্পন্ন করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাজের ওপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করবে।
এটা কি সম্ভব? খুব সম্ভব। আমেরিকায় যদি প্রতি চার বছর পর নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরদিন যে মঙ্গলবার, সেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে পারে এবং সেটা যুগ যুগ ধরে যদি অবিচলভাবে অনুসৃত হতে পারে, তাহলে আমরা কেন সংবিধানে সুস্পষ্ট ভাষায় এ কথাটা বলতে পারব না যে প্রতি পাঁচ বছর পরপর তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। হ্যাঁ, ব্যতিক্রমের একটা বিধান থাকতে পারে। যদি ভূমিকম্প বা ওই ধরনের কোনো কারণে সব ওলটপালট হয়ে যায়, যদি কিছু সময় লাগে, তাহলে সংবিধানের ১১৯ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম কখনো নিয়ম হতে পারে না।
গণতন্ত্র নিরঙ্কুশ করতে হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদেরও মেরামত দরকার। অনেকে এ ব্যাপারে বাহাত্তরের সংবিধানের বিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। আমরা আরেকটু সংযোজন করে বলতে পারি, ৭০ অনুচ্ছেদটি এভাবে লেখা হোক যে শুধু বাজেট ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো প্রশ্নে সাংসদেরা স্বাধীনভাবে নিজ বিবেচনায় ভোট দিতে পারবেন। সেখানে কোনো হুইপিং খাটবে না। সাংসদদের এটুকু অধিকার না থাকলে কিসের গণতন্ত্র? মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজপথে জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু সংসদে নিজ দলীয় সাংসদদের মত প্রকাশের অধিকার দিতে নারাজ! এটা হাস্যকর।
প্রায় ৪০ বছর আগে মস্কোতে কমিউনিস্ট পার্টির এক নেতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার আদায়ের জন্য এত ধর্মঘট, সংগ্রাম, বিপ্লব করে ক্ষমতায় যাওয়ার পর চীন-রাশিয়ায় শ্রমিকদের কেন ধর্মঘট করতে দেওয়া হয় না? উত্তরে তিনি বলেন, সমাজতন্ত্রে শ্রমিক শ্রেণী তো রাষ্ট্রের মালিক, কোনো কারখানার মালিক কি ধর্মঘট করে! মনে হয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারাও ওই ধরনের অকেজো যুক্তি আওড়ে চলেছেন। তাঁরাও হয়তো বলতে চান, বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য রাজপথে এত সংগ্রাম করে ক্ষমতায় এসেছি, এখন আবার মত প্রকাশের স্বাধীনতার দরকার কী? এসব বস্তাপচা যুক্তি ঝেড়ে ফেলার সময় এসেছে।
একটা কথা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে যে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর তো থাকে বাহাত্তরের সংবিধান, সেখানেই ফিরে যেতে হবে। কারণ, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আওয়ামী লীগ নিজেই পরিত্যাগ করেছে। আর তা ছাড়া বাহাত্তরের সংবিধান ছিল প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক। কিন্তু যখন বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা ওঠে, তখন একদল রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক আর্তস্বরে চিৎকার শুরু করেন—গেল গেল, সব গেল; বিসমিল্লাহ থাকবে না, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না, ইত্যাদি। এটা আসলে দেশের সরল সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি অপকৌশল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ধারণ করেই বাহাত্তরের সংবিধান রচিত হয়েছিল। যাহা বাহাত্তর, তাহা যে আসলে একাত্তর, এই সরল সমীকরণটি অনেকের সহ্য হয় না। সে জন্যই তাদের আপত্তি। একাত্তরের জন্মসূত্রে ফিরে যাওয়ার জন্যই বাহাত্তরের সংবিধান দরকার। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। বাহাত্তরের সংবিধান মানে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ আইনের মর্যাদা দেওয়া।
একাত্তরের সঙ্গে বাহাত্তরের এই সংযোগটা অনেকে খেয়াল করেন না। বাহাত্তরের সংবিধানের খসড়া উপস্থাপন করার সময় ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর অত্যাচারের মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি জানি না, আপনাদের মেমোরি শর্ট কি না। বাংলার মানুষ ভুলে যায় কি না। কিন্তু এমন ইতিহাস আমরা পেয়েছি।...এদের পাশবিক অত্যাচার—পশুর মতো, বর্বরের মতো—যাতে হিটলারও লজ্জা পায়, যাতে হালাকু খানও লজ্জা পায়, যাতে চেঙ্গিস খানও লজ্জা পায়। অত্যাচার করেছে বাংলাদেশের মাটিতে। আজ বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্যরা সেই রক্তলেখা দিয়ে শাসনতন্ত্র দিতে চান। শাসনতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ চলতে পারে না’ (সংসদীয় কার্য বিবরণী, খণ্ড ২, সংখ্যা ১, পৃষ্ঠা ১৭)।
রক্তে লেখা বাহাত্তরের সংবিধান হুবহু ফিরিয়ে আনার কথা কেউ বলেন না। কিন্তু তার মূল সুরটি অবিকল থাকতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা, সার্বভৌম সংসদ—এককথায় সংসদীয় গণতন্ত্র। পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর সংবিধানের ওপর সামরিক কাঁচি চালানো হয়েছে। পরে পঞ্চম সংশোধনী দিয়ে সেগুলো সংবিধানে ঢোকানো হয়। ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার পথে বাধা নেই। তবে অবশ্যই বাস্তবতা বিচারে কিছু সংযোজন-বিয়োজন দরকার, সে কথা আগেই বলেছি। সংসদের নেতাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এখন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো প্রমাণ করুন কে কতটা দায়িত্বশীল।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

শেখালেই কি উন্নত মানুষহবে by রুখসানা তাজীন

শিশুরা পরিবেশ থেকে শিখে। এ প্রক্রিয়ায় পরিবার, সমাজের পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব খুব বেশি, তা হলো বিদ্যালয়। শিশুরা বিদ্যালয়ে কী শিখবে, কেন শিখবে এবং কীভাবে শিখবে—এ নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। আবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উদ্দেশ্য কি শুধু জ্ঞানের বিকাশ? নাকি শিশুর মানসিক, নৈতিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক—সব ধরনের উন্নয়নের দায়িত্ব বিদ্যালয় নিতে পারে? এই গুরুভার শিক্ষক আর বিদ্যালয়ের হাতে তুলে দিতে অভিভাবকেরা রাজি কি না? শিশুরা শুধু গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য ইত্যাদি শিখতে বিদ্যালয়ে যাবে, নাকি সবার ওপরে স্থান পাবে কীভাবে ভালো মানুষ হওয়া যায়, সমাজ ও বিশ্বের উপকারে আসা যায় সেই শিক্ষা? প্রশ্নগুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, ভালো চাকরি—এমনতরো পার্থিব চাহিদা মেটানোকেই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বিবেচনা করলে এবং শিশুদের মানবিক বিকাশের মতো গুরুত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডির বাইরে বিবেচনা করলে তা সমাজের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। পাশ্চাত্যে যখন হতাশাগ্রস্ত ও দিগ্ভ্রান্ত কিশোর-তরুণদের অপরাধ-প্রবণতার স্বরূপ স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত দুই-তিন শতক ধরে এই উপলব্ধিটি জোরদার হচ্ছে। এই প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে স্কুলের অভ্যন্তরে হত্যাযজ্ঞের মতো মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয়। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোধোদয় ঘটে যে শিশু-কিশোরদের মূল্যবোধ আর চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা হেলাফেলার বিষয় নয়। আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এসব দেশে সরকারি পর্যায়ে চরিত্র গঠনমূলক শিক্ষা, সমাজিক সচেতনতামূলক শিক্ষা, মূল্যবোধ উন্নয়নের শিক্ষা—এমন নানা কার্যক্রমের আওতায় স্কুলে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে। এই বিষয়ে আলাদা শিক্ষানীতি তো রয়েছেই, নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে, যাতে তারা সুষ্ঠুভাবে নৈতিক এবং চারিত্রিক শিক্ষা প্রদানে সক্ষম হন।
শিশুদের নৈতিক বিকাশ এবং চরিত্র গঠনের কাজটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হতে পারে—শিক্ষকেরা তাঁদের নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সত্যবাদিতা, সদাচার এসব বিষয়ে ভালো ভালো কথা বলবেন, বাচ্চারা সেটা মন দিয়ে শুনবে, উপলব্ধি করবে এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবে। কিন্তু আসলেই কি মানবিক এবং সামাজিক বিকাশের ব্যাপারটি এত সরল এবং ঝামেলাহীন? শিক্ষক যেটাকে ভালো বলবেন, বাচ্চারা কেন সেটাকে ভালো হিসেবে মেনে নেবে, আর মেনে নিলেও তাদের এই জ্ঞান কতদিন স্থায়ী হবে বা নিজেদের জীবনে মূল্যবোধ এবং চরিত্র শিক্ষার সফল প্রয়োগ ঘটানোর জন্য তারা কতটুকু ব্রতী হতে পারবে? মূল্যবোধ বিকাশের শিক্ষা প্রদানে প্রচলিত কিছু মতাদর্শ আছে, যেগুলো নানা সময়ে বিভিন্ন সমাজ অনুসরণ করেছে। যেমন একটা ধারা হচ্ছে, কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা সংজ্ঞায়িত না করে বিচারের ভার শিক্ষার্থীর ওপর ছেড়ে দেওয়া।
কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের কোন ধরনের আচরণ কাম্য সেটা নির্দিষ্ট করে না দিয়ে এই ধারার আওতায় শিক্ষার্থীর নিজস্ব বিচারশক্তির বিকাশকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর উল্টো মতাদর্শ হচ্ছে, শিশুকে সুনির্দিষ্ট করে বোঝাতে হবে ভালো এবং মন্দের স্বরূপ ও পার্থক্য। শ্রেণীকক্ষে, বিদ্যালয়ে, পরিবার ও সমাজে তাদের ব্যবহার এবং আচরণপ্রবণতা কেমন হবে সে বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা প্রতিটি শিশুকে দিতে হবে যাতে তারা ছোট থেকে শিখতে পারে কোন আচরণ কাম্য এবং কোনটা নয়। এর মাঝামাঝি একটা পন্থাও আছে, যেখানে মানবিক গুণাবলিকে চিহ্নিত করে সেটা অর্জনের পথ বাতলে দেওয়া হবে, আবার এর পাশাপাশি শিশুদের নিজের বিচারশক্তি বিকাশের জন্য আত্মসমালোচনামূলক চিন্তা এবং প্রতিফলনের শিক্ষাও দেওয়া হবে।
চরিত্র বা মূল্যবোধ গঠনের শিক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। একজন শিক্ষককে আমরা আজীবন মনে রাখি প্রধানত তিনি মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন সেটা বিবেচনায় এনে, তিনি আমাদের কেমন পড়িয়েছেন সেটা এখানে মুখ্য ভাবনা হিসেবে কাজ করে না। তেমনি এটাও গ্রহণীয় নয় যে শিক্ষকেরা শিশুদের জন্য ভয়ের উৎস হবেন। শুরুতেই বলেছি, শিশুদের অপার সম্ভাবনার কথা। একজন প্রকৃত শিক্ষক সর্বপ্রথম এই সম্ভাবনার ক্ষেত্রটিতে মনোনিবেশ করেন। শুধু বইয়ের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় মুখস্থ করে পরীক্ষায় হুবহু উপস্থাপনের বাইরেও শিশুরা যে কতটুকু ক্ষমতা ধারণ করে সেটা আবিষ্কার করেন একজন ভালো শিক্ষক। বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার যে স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে, সেটাকে চলমান রূপ দিতে পারেন একজন শিক্ষক।
শ্রেণীকক্ষে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে প্রতিটি শিশুর মানসিক প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়। একজন শিক্ষক পারেন শিশুর অন্তর্নিহিত জগতের খবর বের করে আনতে। আর এটা তখনই সম্ভব, যখন একটা শিশু শিক্ষকের প্রতি আস্থাশীল হয়ে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে নিরাপদ এবং নিশ্চিত বোধ করবে। এর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন শ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে ধৈর্যসহকারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কথা শোনা এবং তাদের চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া।
পরীক্ষার খাতায় শিশুরা পাতার পর পাতা ভরে ফেলছে মানবিক উৎকর্ষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আর ভালো মানুষ হওয়ার শপথ ব্যক্ত করে। এখন বোধহয় ভাবার সময় এল, বিদ্যালয়জীবনে অর্জিত নৈতিক শিক্ষাকে আমাদের শিশুরা পরবর্তী জীবনে প্রয়োগ করতে পারছে কি না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি শিশু-মননে কোনো স্থায়ী প্রভাব ফেলতে সক্ষম হচ্ছে, যাতে তারা পাঠ্যপুস্তক থেকে শেখা আর শিক্ষকদের মুখে শোনা উপদেশবাণীগুলো হূদয়ঙ্গম করে সে অনুযায়ী কাজ করছে? দীর্ঘ সময় এত শ্রম আর অধ্যবসায় ব্যয় করে শিশুরা কি শুধু কারিগরি শিক্ষাপ্রাপ্তই হবে? ওদের ভেতরে সুন্দর মানুষের সুস্থ, সবল যে শিশু গাছগুলো রয়েছে, সেগুলো কেন বিদ্যালয়ের আলো-বাতাস পেয়ে একেকটা বটবৃক্ষে পরিণত হচ্ছে না? মেধার স্ফুরণের পাশাপাশি কেন আমরা মানবিকতার চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধন দেখছি না? শূন্যতা তাহলে কোথায়? কী সেই নিয়ামক, যা ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা আর তার প্রয়োগের সদিচ্ছার মধ্যে বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে আছে?
স্কুলে আমাদের বাচ্চারা যতটুকুই নৈতিক শিক্ষা পাচ্ছে, সেটা আসলে আত্মস্থ করতে পারছে না। অনুভব করতে পারছে না কেন তাদের ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিঃস্বার্থভাবে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করার সুফল কী, কেন ও কীভাবে সহমর্মিতা, সহনশীলতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাপোষণ ও পরমত সহিষ্ণুতা সমাজে শান্তি নিশ্চিত করতে পারে, এ বিষয়ে শিশুদের মনোজগতের গভীরে কোনো আত্মজিজ্ঞাসা সৃষ্টি করতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সফল হচ্ছে না। চরিত্র গঠন আর নৈতিক শিক্ষাকে পরোক্ষভাবে বিবেচনা করার প্রবণতা থেকে বের না হয়ে আমরা শুধু শূন্য আশা করেই যাচ্ছি যে, বাচ্চারা প্রাকৃতিকভাবে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে, এ জন্য তাদের কোনো শিক্ষা বা প্রণোদনার দরকার নেই। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করলে আমরা একটা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ আর মানবিক গুণসম্পন্ন একটা সৎ, যোগ্য নাগরিক গোষ্ঠীর স্বপ্নও দেখতে পারি না।
রুখসানা তাজীন: অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে উচ্চশিক্ষারত।

রাজউকের দায়দায়িত্ব -অবৈধ ভবনগুলো নিয়ে কী করা হবে

পাহাড়প্রমাণ অনিয়ম যা, ঢাকা শহরে আকাশছোঁয়া ইমারত অনেক ক্ষেত্রে তা-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় এ রকমই এক অনুমোদনহীন ২০ তলা ভবনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। আপাদমস্তকে ভবনটি অনিয়ম, ফাঁকি ও দায়িত্বহীনতার আদর্শ উদাহরণ। ঢাকা শহরে এ রকম অজস্র ভবন রাজউক, ডেভেলপার ও ফ্ল্যাটের মালিকদের নিয়ম না-মানার কীর্তি হয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো নিয়ে কী করা হবে? কী করা হবে তাঁদের, যাঁদের সুবিধাবাদ ও নিয়ম না-মানার প্রবণতার প্রতিফলন এসব ভবন।
রাজধানীর পরীবাগে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ২০ তলা গার্ডেন টাওয়ারের মালিকপক্ষ যথাযথ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অথচ এর সব ফ্ল্যাট ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে, অনেক পরিবার সেখানে বসবাসও করছে। আইনানুযায়ী, এই ভবনসহ এ ধরনের সব ভবন ভেঙে ফেলাই করণীয়। কিন্তু রাজধানীতে এ ধরনের শত শত ভবন তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহারও হচ্ছে। সরকারের উচিত, সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব ভবন বিষয়ে করণীয় ঠিক করা। বিপজ্জনকগুলো ভেঙে ফেলাই শ্রেয়, বাকিগুলোর বিষয়ে বাস্তববাদী পদক্ষেপ নিতে আর দেরি করা উচিত নয়। কিন্তু রাজউকের অনুমোদনের বাইরে এ রকম একটি ইমারত কীভাবে গড়ে উঠতে পারে? কীভাবে বছরের পর বছর তা কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে রয়ে যেতে পারে? রাজউকের কাজ কি কেবল চেয়ে দেখা? অপরিকল্পিত আবাসন ও ভবন নির্মাণের দায় রাজউকেরও কিছুমাত্র কম নয়।
রাজউক ঢাকা শহরে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা ভবন চিহ্নিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর কিছু কিছু ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হবে, বাকিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই করা যায়, তা ভাবতে হবে। কিন্তু রাজউকের গাফিলতির জন্যই যে ডেভেলপার ও ভবন-নির্মাতারা পরিণতি যাচাই না করায় উৎসাহী হয়েছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই এ ধরনের অনিয়মের প্রতিকারের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি এসব ভবনে যাঁরা ফ্ল্যাট কিনেছেন, তাঁরা যাতে সর্বস্বান্ত না হন, সেটি বিবেচনায় রাখা জরুরি। এ কথা সত্য যে ক্রেতাদেরও অনুমোদনহীন ভবনের ফ্ল্যাট কেনার সময় সজাগ থাকার প্রয়োজন ছিল। সে জন্য ভবনের ডেভেলপার ও মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে হবে। পরিশেষে সব পক্ষেরই এই উপলব্ধিতে আসতে হবে যে আগের অনিয়মের প্রতিকার এ কারণেই হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপ আর চলতে না পারে।

আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ -সরকারের অনেক কিছু করার আছে

রমজান মাস শুরু হতে এখনো প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি, তবু এখনই কিছু কিছু খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে শাকসবজির দাম বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজ, রসুন, আদা বা চিনির দাম কেন বাড়ছে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। এর মধ্যে খবর বেরোল, আসন্ন রোজার মাসে কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টিসিবি রমজান মাসে তুলনামূলকভাবে কম দামে তেল, ডাল ও চিনির মতো ভোগ্যপণ্য বাজারে ছাড়বে বলে খবর বেরিয়েছে। এও জানা গেল, রমজান মাস শুরুর আগেই চিনির দাম কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিনির ওপর থেকে আমদানি-শুল্ক সাময়িকভাবে পুরোটাই প্রত্যাহার করা হতে পারে। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের যে আগাম চিন্তা আছে এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় যে কিছু উদ্যোগ সরকার নিতে যাচ্ছে, এটা নিশ্চয়ই স্বস্তির খবর।
তবে শেষ পর্যন্ত সরকার কতটা কী করতে পারবে এবং তার সুফল কতটা জনগণ পাবে, সেটাই দেখার বিষয়। দেখা যাচ্ছে, টিসিবির কাছে মজুদ ভোগ্যপণ্যের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য, তা দিয়ে সর্বোচ্চ তিন দিনের চাহিদা মিটতে পারে। এ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর প্রভাব সৃষ্টি করা বস্তুত অসম্ভব। তাহলে ভরসা করতে হয় ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার ওপর, কিন্তু এমন ভরসা করা কঠিন। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফার লোভ উদগ্রভাবে বেড়ে উঠবে না, এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই দরকার সরকারের কঠোর তদারকি।
কারণ যত যা-ই বলা হোক না কেন, রমজান মাসে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে ওঠে। প্রথমত, অনেক ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেশ বেড়ে যায়, কিন্তু সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ে না। ফলে মূল্যবৃদ্ধি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ভোগ্যপণ্যের চাহিদা আছে, সরবরাহও পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে, তার পরও অস্বাভাবিক হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হয়। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফালোভী অংশ সংঘবদ্ধভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায়, এমন ঘটনাও নতুন নয়। এসব অসাধু বা অনৈতিক বাজার-তৎপরতা অবশ্যই কিছু না কিছু মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, রমজান মাসে বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সরকার আন্তরিক হলে সুদক্ষ বাজার-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অবশ্যই রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙা যায় না, এটা কোনো দক্ষ মন্ত্রী বা সরকারের অজুহাত হতে পারে না, যেমনটি আমরা অতীতে শুনে এসেছি। সরকারের অনেক কিছু করার থাকে।
আর এও বড় অদ্ভুত ব্যাপার যে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। সংযম সাধনার মাসে এই চাহিদা বৃদ্ধিকে পুঁজি করে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের মুনাফালিপ্সা উদগ্র হয়ে ওঠে। এটি মোটেও ভালো কথা নয়। আমরা যদি রমজান মাসে একটুখানি সংযমী হতে পারি, তাহলে ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সুযোগ পায় না।

নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করায়

নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করায় একজন আইনপ্রণেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্টি (জিএনপি)। গতকাল মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
জিএনপি এথিকস কমিটি জানায়, গত সপ্তাহে কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নৈশভোজের সময় সিউল থেকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতা ক্যাং ইয়ং-সেউক (৪১) দলের বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। টেলিভিশন ঘোষিকা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করতে ক্যাং ইয়ং-সেউক নারীদের উপস্থিতি ও যৌন আবেদন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলের উপপ্রধান জো সুং-ইয়ং সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাং আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।’
এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই জিএনপির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্যের দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। এ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদিত হলে আগামী পাঁচ বছর দলে যোগ দিতে পারবেন না ক্যাং।
ক্যাংয়ের ওই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলো তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। নারী অধিকার গোষ্ঠী ও টেলিভিশন ঘোষকেরা ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।

গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় মাধুরী গুপ্তা অভিযুক্ত

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় কূটনীতিক মাধুরী গুপ্তাকে গতকাল মঙ্গলবার সে দেশের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভারতের উপপুলিশ কমিশনার শিবেশ সিং এ কথা জানান। মাধুরী গুপ্তা নামের ওই ভারতীয় কূটনীতিক ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্যকেন্দ্রে কাজ করতেন। দূতাবাসের নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।
শিবেশ সিং বলেন, গত এপ্রিলে ইসলামাবাদ থেকে মাধুরীকে নয়াদিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনের তিনটি ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর আইনজীবী যোগিন্দর দাসিয়াও নিশ্চিত করেছেন, আদালতে মাধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
গতকাল দাসিয়া বলেন, ‘অভিযোগসংক্রান্ত কাগজপত্র পেলে এ ব্যাপারে আমি মন্তব্য করতে পারব। এখন কিছুই বলতে পারছি না।’ দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী মাধুরীর তিন থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

আগামী রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া

উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া জাপান সাগরে বড় ধরনের একটি যৌথ সামরিক মহড়া করতে যাচ্ছে। এতে ২০টি জাহাজ ও ২০০ বিমান নিয়ে আট হাজার সেনাসদস্য অংশ নেবেন। মার্কিন সেনাবাহিনী গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়ার যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় আগামী ২৫ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ওই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। দ
দক্ষিণ কোরিয়ায় সফররত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়াংয়ের মধ্যে বৈঠকের পর সামরিক মহড়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়।
মহড়ায় অংশ নেওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বহনকারী ৯৭ হাজার টনের ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনসহ কয়েকটি ডুবোজাহাজও থাকবে। এ ছাড়া দেশ দুটির আট হাজার সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য এবং মেরিন কর্মকর্তারা মহড়ায় অংশ নেবেন।
গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

কেটু পর্বতে বুলগেরীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু

কেটু পর্বতশৃঙ্গ জয়ের অভিযানে গিয়ে এক বুলগেরীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বুলগেরীয় পর্বতারোহীদের ওয়েবসাইট ক্লাইম্বিংগাইডবিজি ডটকমে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পাকিস্তানের কেটু।
পিটার উনঝিয়েভ (৪০) নামের ওই পর্বতারোহী ১৮ জনের একটি দলের সঙ্গে কেটু শৃঙ্গ জয়ের অভিযানে যান। চূড়ায় ওঠার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে পিটারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরস।

পলকে কিনতে আগ্রহী রাশিয়ার বাজিকররা

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আটটি খেলার ফল সম্পর্কে সফল ভবিষ্যদ্বাণী করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া অক্টোপাস পলকে কিনতে চেয়েছে রাশিয়ার একটি বাজি ধরার প্রতিষ্ঠান বেট লিগ। গত সোমবার রুশ পত্রিকা সোভিয়েত স্পোর্ট এ খবর জানিয়েছে।
বেট লিগের যৌথ মালিকদের একজন ওলেগ ঝুরাভস্কির বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, পল ওই প্রতিষ্ঠানের ১২০ জন কর্মীর একজন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। ওলেগ বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞরা মাসে তিন হাজার ডলার পান। আমরা পলকে পাঁচ হাজার করে ডলার দিতে চাই।’ এ জন্য আমরা পলের বাসস্থান জার্মানির ওবেরহয়জেন শহরের সি লাইফ সেন্টারকে এক লাখ ইউরো দিতে রাজি আছি।’
এর আগে স্পেনের ব্যবসায়ীরা ও সেখানকার মাদ্রিদ শহরের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পলকে কেনার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় জার্মানি।

থাইল্যান্ডে তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হচ্ছে

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে রাজধানী ব্যাংককসহ আরও ১৬টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। প্রায় দুই মাস আগে সরকারবিরোধী প্রচণ্ড বিক্ষোভের সময় থাইলান্ডের বিভিন্ন প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ওই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়।
থাই সরকারের উপমুখপাত্র সুপাচাই জাইসামাত গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভা লামপাং, রয়িত ও সাকোন নাখোন প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, এসব স্থান বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এসব প্রদেশে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নেই। এখানকার স্থানীয় প্রশাসন উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় আস্থা প্রকাশের পরই সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
থাইল্যান্ডে এর আগে আরও পাঁচটি এলাকা থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ১৬টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে, সেসব প্রদেশে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। কমিউনিটি রেডিওসহ বিভিন্ন ভাবে চলছে সরকারবিরোধীদের কর্মকাণ্ড। অন্তর্ঘাত ও গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের মতো তৎপরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে এসব প্রদেশে।
জরুরি অবস্থার সময়ে এক সঙ্গে পাঁচজনের বেশি সমবেত হতে পারবে না। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীকে কোনো অভিযোগ ছাড়া যে কাউকে ৩০ দিনের জন্য গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকেরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকদের দমিয়ে রাখার জন্য সরকার অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই দেশের বিভিন্ন স্থানে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে।

কিরগিজস্তানে নির্যাতন চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান নাভি পিল্লাই অভিযোগ করেছেন, কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে নির্যাতন ও অবৈধভাবে আটক করে রাখার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে পিল্লাই বলেন, ‘কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশকে নির্যাতন ও অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই তরুণ এবং প্রায় সবাই সংখ্যালঘু উজবেক।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে ওই অঞ্চলের শান্তি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভেঙে পড়তে পারে এবং সংখ্যাগুরু কিরগিজ ও সংখ্যালঘু উজবেকদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। গত জুন মাসে কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে কিরগিজ ও উজবেক জাতিগোষ্ঠীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৯৪ জন নিহত হয়।
বিবৃতিতে পিল্লাই আরও বলেন, ‘কিরগিজস্তানে আমাদের কর্মীরা জানতে পেরেছেন, নিয়মিতভাবে আইনবহির্ভূত গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও বন্দীদের প্রতি অসদাচরণ দেখেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে চোখ বুজে থাকে।’ তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে, জাতিগত সহিংসতার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওশ ও জালালাবাদ শহরে এক হাজারের বেশি লোককে আটকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বন্দীদের বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়, নির্যাতন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জোর করে অপরাধ স্বীকার করানো হয়, যার জন্য তাঁরা দায়ী নন। যাঁরা মুক্তি পান, তাঁদের মোটা অঙ্কের অর্থ ঘুষ দিতে হয়।

মুম্বাই হামলায় আইএসআইয়ের সহায়তার কথা স্বীকার হেডলির

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সহায়তার কথা স্বীকার করলেন ডেভিড হেডলি। এর আগে হামলার ঘটনায় জীবিত আটক একমাত্র জঙ্গি আজমল আমির কাসাবও একই কথা বলেন। ভারতীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সম্প্রতি এ কথা জানান।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে হেডলি স্বীকার করেন, মুম্বাই হামলায় অংশ নেওয়া সবাই পাকিস্তানের নৌবাহিনীর কাছে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং আইএসআই তাঁদের সহায়তা করেছে। এর আগে কাসাব জিজ্ঞাসাবাদে জানান, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সাতারুদের কাছ থেকে তিনিসহ ১০ জন সাঁতার ও পানির নিচে কাজ করার মতো প্রশিক্ষণ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি কারাগারে বন্দী লস্কর-ই-তাইয়েবার নেতা ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হেডলিকে গত মাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। কাসাব ও হেডলির কাছ থেকে পাওয়া একই রকম তথ্যের বিষয়টি পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে। গত মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বিষয়টি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিককে জানান।
জিজ্ঞাসাবাদে হেডলি জানান, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা মুম্বাই হামলাকারীদের জন্য নৌকা কিনতে লস্কর-ই-তাইয়েবাকে ২৫ লাখ রুপি দেন। ওই নৌকায় করে করাচি থেকে পাকিস্তানি সমুদ্রসীমায় গিয়ে হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে পৌঁছাতে ‘কুবের’ নামের ভারতীয় একটি নৌকা ছিনতাই করে।
হেডলির বরাত দিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ওই সময় লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধান অভিযান কর্মকর্তা ছিলেন জাকিউর রহমান লাখভি ওরফে চাচা। তিনিই মুম্বাইয়ে হামলার প্রস্তুতির বিস্তারিত বিষয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইদকে জানাতেন।
লাখভি রাওয়ালপিন্ডিতে একটি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তাইয়েবার আরও ছয় সদস্যসহ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধান হাফিজ সাইদকে সহায়তা করারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, মুম্বাইয়ে হামলার জন্য কাসাবসহ ১০ জনকে নির্বাচিত করেন লাখভি। আর হামলা চালানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করতে তাঁদের উদ্দেশে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিতেন হাফিজ সাইদ।
কর্মকর্তারা আরও জানান, মুম্বাই হামলায় জড়িত সাজিদ মীর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা বৈঠক করেছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে।

রেল দুর্ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া রেলস্টেশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে পশ্চিবঙ্গের রাজনীতি নিয়েই বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীরা। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা বলছেন, মমতার উন্নয়নকাজে বাধা দিতেই বারবার রেল দুর্ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
সাঁইথিয়ায় গত সোমবার ভোরে রেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার দিনই রেলমন্ত্রী মমতা এটি নাশকতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। আজ বুধবার কলকাতায় আয়োজিত তৃণমূলের শহীদ দিবসের জনসভাকে বানচাল করতে দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে রাজ্য পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে মঙ্গলবার পর্যন্ত নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে রেলমন্ত্রীর এই নাশকতার যুক্তিকে মেনে নিতে পারেনি ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল সিপিএম, লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), নীতিশ কুমারের জনতা পার্টি (সংযুক্ত), রামবিলাস পাশোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রেলমন্ত্রী মমতার এমন ইঙ্গিতের কঠোর সমালোচনা করে দলগুলো বলছে, তিনি (মমতা) নিজের মন্ত্রণালয়ের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ফলে রেলের ব্যাপারে তিনি মনোনিবেশ করতে পারছেন না।
পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের বিধায়ক রবীন মণ্ডল বিধানসভায় মমতার পদত্যাগ দাবি করেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু বলেন, বিভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের খবরের নামে নিজেকে টিভিতে প্রচার না করে তাঁর (মমতা) উচিত রেলের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কাজে মনোনিবেশ করা। বিধানসভায় সিপিএমের শরিক দলের বিধায়কেরা অভিযোগ করেন, রেলমন্ত্রী রাজ্য সরকারকে উৎখাত করতেই ব্যস্ত। রেলের জন্য তিনি সময় দেন না।
কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ মাসে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০২টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৭৩ জন নিহত হয়েছে। এত কম সময়ে এত দুর্ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তৃণমূলের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর নেত্রীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গেই কেন বারবার রেল দুর্ঘটনা ঘটছে? মমতার উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ করে দিতেই কি? তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বুধবার (আজ) কলকাতায় দলের সমাবেশ বানচাল করতেই এই রেল দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিধানসভায় বিরোধী দল কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস রেল দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে গতকালের বিধানসভার অধিবেশন বর্জন করে।
এদিকে সাঁইথিয়া দুর্ঘটনায় নিহত ৬৯ জনের মধ্যে ৩৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আহতদের সিউরি, সাঁইথিয়া, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দুর্গাপুর মিশন হাসপাতাল, কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একনেকে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হলো

ঢাকা শহরের বিদ্যমান পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করাসহ মোট তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খবর ইউএনবির।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ বৈঠকটি ছিল চলতি অর্থবছরের তৃতীয় বৈঠক।
বৈঠকে ঢাকা শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা ও পানির পাম্প নির্মাণে ‘অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি পয়ঃ লাইন নির্মাণ ও পুনর্বাসন—দ্বিতীয় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পে মোট ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
এ ছাড়া গতকালের বৈঠকে সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের আধুনিকায়নে ৯০ কোটি টাকা এবং পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়ক সংস্কার (সংশোধিত) প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ দুই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি প্রকল্পের ব্যয়ই সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৯১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৮৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে শতভাগ এডিবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পুরান ঢাকায় ইবিএলের সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা চালু

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) পুরান ঢাকার চকমোগলটুলী শাখায় সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে।
ইবিএলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভোক্তা ব্যাংকিংয়ের আঞ্চলিক প্রধান মো. মুসা সমপ্রতি এই সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় ইবিএলের ব্র্যান্ড ও বিপণন বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম, ঢাকা ক্লাস্টার প্রধান-১ মেহবুব বেনজীর, শাখা সাপোর্ট ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেন, এসএমই ব্যাংকিংয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক মো. সাবু মুন্সী, চকমোগলটুলী শাখার এসএসএম মো. মতিউর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি ব্যাংক ও ইসলামী ফাইন্যান্স রাইট ছাড়বে

বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড রাইট শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথকভাবে প্রিমিয়ামসহ (অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত) মোট ৪২২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ টাকা সংগ্রহ করবে।
এর মধ্যে সিটি ব্যাংক ৩৯২ কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার এবং ইসলামী ফাইন্যান্স ২৯ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫০ টাকা তুলবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সভায় গতকাল মঙ্গলবার রাইট শেয়ারসংক্রান্ত এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
একই বৈঠকে সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড নামে পৃথক দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড দুটি যথাক্রমে ১০০ কোটি ও ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের মূল উদ্যোক্তা সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান নিজে এ ফান্ডটির ২৫ শতাংশ বা ২৫ কোটি টাকা জোগান দেবে। প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে ২৫ কোটি টাকা। বাকি ৫০ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
ফান্ডটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইসিবি এএমসিএল।
ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের মূল উদ্যোক্তা বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। এ ফান্ডটিতে উদ্যোক্তারা জোগান দেবে ১৫ কোটি টাকা। ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে, যার অর্ধেক সংগ্রহ বরাদ্দ থাকবে অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য। বাকি ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে আইপিওর মাধ্যমে।
ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্বে থাকছে বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
রাইট শেয়ার: সিটি ব্যাংক একটির বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার প্রস্তাব করবে। সেই হিসাবে ব্যাংকটি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এক কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ১২৫টি রাইট শেয়ার ছাড়বে। প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০০ টাকা প্রিমিয়াম থাকায় ব্যাংকটি এর দ্বিগুণ অর্থ সংগ্রহ করবে।
ইসলামী ফাইন্যান্স দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ছাড়ছে। সেই হিসাবে প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ১৯ লাখ ৯২ হাজার ১৯১টি রাইট শেয়ার ছাড়তে হবে। প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫০ টাকা প্রিমিয়াম থাকায় ইসলামী ফাইন্যান্সের মোট সংগ্রহ দাঁড়াবে এর দেড়গুণ।

লেনদেনে চাঙাভাব, সূচকও বেড়েছে

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বুধবার লেনদেনে ছিল চাঙাভাব। সাধারণ সূচকও ২৬ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৯৫ পয়েন্টে। আজ বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮৯ কোটি টাকার। লেনদেন হওয়া মোট ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, কমেছে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের। অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, আফতাব অটো মোবাইলস, বেক্সিমকো, সিটি ব্যাংক ও লংকা-বাংলা ফিন্যান্স।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ফিডেলিটি অ্যাসেট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ কোম্পানি, আফতাব অটো মোবাইলস, অ্যাপেক্স ফুডস, অ্যাপেক্স ওয়েভিং ও সিঙ্গার বাংলাদেশ।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো সমতা লেদার, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রামীণ ১ স্কিম ২ ফান্ড।

মোহামেডানের চাই আর এক পয়েন্ট

হকি লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে শেষ ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেই চলবে মোহামেডানের। শনিবার আবাহনীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগে কাল সোনালী ব্যাংককে ৫-১ গোলে হারিয়েছে সাদা-কালোরা। চয়ন ও জিমি দুটি করে গোল করেছেন। পাকিস্তানি মোহাম্মদ সাব্বির অন্যটি। প্রথমার্ধে ৪-০ হওয়ার পর এক গোল শোধ করেন ব্যাংকের খালিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে একটু ঝামেলাও হয়েছে। ব্যাংক দলের ইরফানুলের পায়ের গোড়ালিতে লেগেছিল জিমির স্টিক। তাঁকে কার্ড দেখানোর দাবি তোলেন ব্যাংকের খেলোয়াড়েরা। এ নিয়ে বাদানুবাদ চলে। দুই আম্পায়ার আলোচনা করে ১৫ মিনিটের বহিষ্কারাদেশ দেন জিমিকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আপত্তি ছিল সোনালী ব্যাংকের। খুলে ফেলা জুতা-শিন গার্ড নিয়ে ইরফান তেড়ে যান আম্পায়ারের দিকে। ধাক্কাও মারেন তাঁকে।

আত্মবিশ্বাসী বাট

অধিনায়কত্বের চাপ সামলাতে গিয়ে সালমান বাট তাঁর ব্যাটিং ফর্মটা হারিয়ে ফেলবেন না তো? এমন সংশয় যাঁদের মনে, তাঁরা একটু স্বস্তিতেই থাকতে পারেন। বাট নিজেই বলছেন, অধিনায়কত্বের বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত। সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিলেন, অধিনায়কত্ব তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বয়স মাত্র ২৫, খেলেছেন ২৮টি টেস্ট—বাট অধিনায়ক হতেই পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মনে সংশয়, অধিনায়কত্ব না আবার বাটের ব্যাটিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে! তবে প্রত্যাশার ছবিই দেখাচ্ছেন বাট, ‘আমি জানি, অধিনায়কত্বটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এর জন্য আমি প্রস্তুত। অধিনায়কত্ব আমার ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলবে না। বরং এটা আমাকে দলের সিনিয়র ওপেনার হিসেবে আরও বেশি ধারাবাহিক হতে অনুপ্রাণিত করছে।’
ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন সহঅধিনায়ক হিসেবে। শহীদ আফ্রিদির আচমকা ‘অবসরে’ ‘সহ’টুকু ছেঁটে এখন তিনি পুরোদস্তুর অধিনায়ক। বাট বলছেন, তাঁর কল্পনারও বাইরে ছিল এটা, ‘সত্যি বলতে আমি কখনোই আশা করিনি এই পরিস্থিতিতে দলের অধিনায়ক হব। এটাও ভাবিনি, আফ্রিদি প্রথম টেস্ট শেষেই অবসর নেবেন। অস্ট্রেলিয়ায় হতাশাজনক সফরের পর দলকে ভালোভাবে পরিচালনা করছিলেন আফ্রিদি। ভালো অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর অবসর দলের জন্য একটা ধাক্কা হয়েই এসেছে। কিন্তু তার পরও আমাদের সামনে এগোতে হবে।’
বাট যখন তাঁর দল নিয়ে শোনাচ্ছেন আশার গান, তখন সদ্য সাবেক আফ্রিদি কিনা বলছেন এই দলে এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন, যাঁদের টেস্ট খেলার মেজাজই নেই! শুধু তা-ই নয়, অধিনায়ক থাকার সময় অনেককে নাকি এ ব্যাপারে বোঝাতেও চেষ্টা করেছেন আফ্রিদি, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি কয়েকজন ক্রিকেটারকে টেস্ট না খেলার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা টেস্ট খেলতে চায়। তারা যে রকম পারফর্ম করছে, তাতে দল বা নিজেদের সঙ্গেও ন্যায়বিচার করছে না। কারা টেস্ট খেলবে, কারা ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলবে, সেটা ঠিক করার সময় এসে গেছে।’

সেই বলি এখন

১৯৯৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তাঁর গোলে এসি মিলানকে হারিয়েছিল অলিম্পিক মার্শেই। ফুটবল ছাড়ার পর বাসিলে বলি শুরু করেছিলেন সেবামূলক কাজ। ফ্রান্সে আফ্রিকান বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের যার যার দেশে পুনর্বাসনের জন্য ‘আন্ডারটেকিং অ্যান্ড সাকসিডিং ইন আফ্রিকা’ (ইআরএ) নামের একটা সংগঠন তৈরি করেছিলেন। অথচ প্রতারণার মামলায় এখন আদালতে যেতে হচ্ছে সেই বলিকে। ফ্রান্সের নাঁতেরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সোমবার অর্থ আত্মসাৎ ও চোরাই অর্থ লেনদেনের অভিযোগে বলিকে ডেকে পাঠিয়েছেন।

যোগ হলো ডাচ-লজ্জাও

বাংলাদেশ দলের এবারের ফেরাটা হতে পারত সাফল্যের রঙে রঙিন। অথচ কাল ভোরে এই দলটাই দেশে ফিরবে মাথা নত করে। হতাশা আর লজ্জা নিয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের সুখানুভূতি যে পরিণত তেতো স্বাদে! আয়ারল্যান্ডের পর কাল গ্লাসগোতে হল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের হার বাংলাদেশ দলের যুক্তরাজ্য সফরটাকেই করল কলঙ্কিত।
টিটউড মাঠের বৃষ্টিবিঘ্নিত ৩০ ওভারের ম্যাচে ডাচদের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। হল্যান্ড ম্যাচ জিতে গেছে ৭ বল বাকি থাকতে। ৫৫টি ওয়ানডে খেলা হল্যান্ডের এটি ২৩তম জয়, তবে কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে এই প্রথম।
ওপেনিংয়ে এরিক সোয়ার্জিনস্কি ও অ্যালেক্সি কারভেজির ৮.১ ওভারে ৬১ রানের জুটিই হল্যান্ডের কাজটা সহজ করে দেয়। এরপর সাফল্যের ক্যানভাসে তুলির শেষ আঁচড় দেয় জুইডেরেন্ট-বারেসির পঞ্চম উইকেট জুটি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ১০৪ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর এই দুই ব্যাটসম্যানের ৯৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় ডাচদের।
ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার না হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখার হাত থেকে বেঁচে গেছে। তবে মাঠে বসে খেলা দেখেছেন, এমন এক দর্শক কাল রাতে টেলিফোনে জানিয়েছেন, ব্যর্থতার কারণ বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিং আর বাজে ফিল্ডিং। হল্যান্ডের অনভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের সামনে যেন লাইন-লেন্থ খুঁজে পেতেই কষ্ট হচ্ছিল বোলারদের!
৬ ওভারে ২৮ রানে ২ উইকেট নেওয়া নাজমুল হোসেন ছাড়া ডাচ ব্যাটিংয়ের নির্যাতনের শিকার হননি কে? সঙ্গে যোগ হয়েছে মিস ফিল্ডিং। ক্রিকইনফোর তথ্য, ৫৪ বলে ৬৭ রান করা ওপেনার সোয়ার্জিনস্কি ব্যক্তিগত ২৫ রানের সময় আবদুর রাজ্জাকের বলে কাভারে সহজ ক্যাচ দিলেও মাহমুদউল্লাহর পিচ্ছিল হাত ধরতে পারেনি সেটি। এ ছাড়া ২৮তম ওভারে ব্যক্তিগত ৩২ রানের মাথায় নিশ্চিত রান আউটের হাত থেকে বেঁচে গেছেন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা জুইডেরেন্ট।
আইরিশদের সঙ্গে সিরিজ ১-১ এ ড্র করার পর স্কটল্যান্ডে ভুল করার সুযোগ ছিল না বাংলাদেশের। বৃষ্টিতে পরশু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা না হলেও কাল হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দেরি করে (স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটা) শুরু হয়। ফলাফল যা, তাতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হয়তো এখন মনে হচ্ছে, বৃষ্টিতে এই ম্যাচটাও ধুয়ে গেলেই ভালো হতো। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে নাম লেখানোর পর আইসিসির কোনো সহযোগী সদস্যের কাছে এটি পঞ্চম পরাজয় বাংলাদেশের। হল্যান্ডের কাছে প্রথম।
৭ উইকেটে ১৯৯ রান করলেও ব্যাটসম্যানরা বাজে শট খেলে আউট না হলে বাংলাদেশের স্কোরটা আরও বড় হতে পারত, এমনটাই মনে করছেন গ্লাসগোর ওই দর্শক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার তামিম ইকবাল আউট হয়ে গেলেও দ্রুত রান তোলার কাজটা করেছেন জুনায়েদ সিদ্দিক (১৯ বলে ৩১)। দলের ৫২ রানে জুনায়েদও বল আকাশে তুলে কট বিহাইন্ড হয়ে যাওয়ার পর ইমরুল-জহুরুল মিলে ১১.১ ওভারে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। তবে ১৮তম ওভারে জহুরুল ফিরে যাওয়ার পর ছোটখাটো বিপর্যয়ে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ইনিংসের ২০তম ওভারে পরপর দুই বলে ইমরুল ও মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান মিডিয়াম পেসার পিটার বোরেন। মাহমুদউল্লাহ সেই হ্যাটট্রিক ঠেকালেও শেষ পর্যন্ত ঠেকানো গেল না লজ্জা।

খেটে মরেও খুশি মরিনহোর শিষ্যরা

রিয়াল মাদ্রিদে ‘সামরিক শাসন’ শুরু হয়ে গেছে। ‘স্বৈরশাসক’-এর নাম হোসে মরিনহো। রিয়ালের নতুন কোচ নাকি দুদণ্ড দম নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন না খেলোয়াড়দের। এরই মধ্যে যাঁরা ক্যাম্পে নাম লিখিয়েছেন, মরিনহো তাঁদের শরীরের প্রতিটা কোষ থেকে ঘাম ঝরিয়ে ছাড়ছেন। দিনমান এই খাটাখাটুনির পরও নাকি খেলোয়াড়েরা খুশি! এখানেই তো আসল জাদু লুকিয়ে মরিনহোর। সাধে কি তিনি আর ‘স্পেশাল ওয়ান’!
রিয়ালের মার্সেলোর কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন, কেমন চলছে দিনকাল। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, ‘অনুশীলনে যাতে আমরা একটুকুও দম ফেলতে না পারি, মরিনহো সেটা নিশ্চিত করেছেন। তার পরও আমরা তাঁকে পেয়ে খুশি।’ কেন খুশি, সেই কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন মার্সেলো। ‘দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে’র ভাবসম্প্রসারণ মরিনহো যে এরই মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর শিষ্যদের মধ্যে!
নইলে মার্সেলো কেন বলবেন, ‘আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছি। জিততে হলে অনুশীলনে কষ্ট তো করতেই হবে। মরিনহো মানুষ হিসেবে খুবই ভালো। তিনি আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন। কাউকে বাড়তি গুরুত্ব দেন না।’
২০০৩ সাল থেকে এই সাত বছরে সব মিলে পাঁচটি শিরোপা জিতেছে রিয়াল। তিনটি লিগ, দুটি সুপার কোপা ডি স্পানা। তবে রিয়ালের সবচেয়ে বড় দুঃখ হয়ে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। এই শিরোপাটি রেকর্ড নয়বার জিতেছে তারা, অথচ ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই মুকুটের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা ২০০১-০২ মৌসুমে।
ছবিটা পাল্টে দেবেন—এই আশা নিয়েই মরিনহোর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ।

একজন ‘মেসি’ পেল লিভারপুল

৯০ হাজার পাউন্ড সাপ্তাহিক বেতন তো পাবেনই, লিভারপুলে নাম লেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই জো কোল পেলেন অন্য রকম একটি তুলনা। লিভারপুল অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড তাঁকে তুলনা করেছেন লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে!
অ্যানফিল্ডে রাফায়েল বেনিতেজের উত্তরসূরি রয় হজসন। ইংলিশ মিডফিল্ডার কোলের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেই হজসন লিভারপুলকে নিজের মতো করে সাজানোর কাজ শুরু করলেন। নতুন কোচের প্রথম চুক্তিটা দারুণ হয়েছে বলেই মনে করেন জেরার্ড। ২৮ বছর বয়সী কোলকে নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত, ‘জো মেসি কিংবা রোনালদোর মতোই ভালো খেলোয়াড়। দক্ষতার দিক থেকে সে যেকোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে।’
শুধু কথা দিয়ে নয়, ৭ নম্বর জার্সিটি তাঁকে দিয়ে লিভারপুল বুঝিয়ে দিয়েছে, জো কোলের কাছে তাদের প্রত্যাশার পরিমাণ। এই জার্সি পরে খেলেছেন ক্লাবের কিংবদন্তি কেনি ডালগ্লিশ। কোল কি পারবেন প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে?
ওয়েস্টহামের যুবদল দিয়ে ১৯৯৪ সালে ফুটবল শুরু করা কোল ছেলেবেলা থেকেই ‘প্রতিভাবান’ বিশেষণ শুনে শুনে বড় হয়েছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩—এই ৫ বছর খেলেছেন ওয়েস্টহামের মূল দলে। এরপর যোগ দেন চেলসিতে। এই দুই ক্লাবে ১২ বছরে জিতেছেন ৩টি প্রিমিয়ার লিগ এবং ২টি এফএ কাপ শিরোপা।
শিরোপা জয়ের সঙ্গে দারুণ ফুটবল খেলে জিতে নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমী ও সাবেক তারকাদের মনও। লিভারপুল কিংবদন্তি ইয়ান রাস তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে দিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সেরার মর্যাদা, ‘স্কিলের দিক থেকে জো ইংল্যান্ডের সেরা। ওকে দলে নেওয়াটা ক্লাবের জন্য দারুণ সুখবর।’
এমন একজন খেলোয়াড়কে চেলসি ছেড়ে দিল কেন? অনেকেই এর মধ্যে দেখছেন ভিন্ন কিছু। কেউ বলছেন চেলসির সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না কোলের। কেউ আবার বলছেন কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের কথা। কেউ কেউ আবার টাকার অঙ্কটাকে দেখাচ্ছেন বড় করে।
তবে সবকিছু উড়িয়ে দিয়েছেন কোল, ‘এটা আর্থিক ব্যাপার নয়, কার্লোকে (কোচ কার্লো আনচেলত্তি) নিয়েও কিছু নয়। আমি কার্লোকে পছন্দ করি। আমার মনে হয়, লোক ও ম্যানেজার হিসেবে সে দারুণ। চেলসিতেও দারুণ সময় কাটিয়েছি আমি। ভক্তদের প্রতিও ভালোবাসা আছে আমার। কিন্তু এ কথা অন্য দিন হবে। আমি আপনাদের বলব, এখন এটা বলার সময় নয়।’

বিশ্বকাপ মাসকটের নাম দিন

২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেট হবে বাংলাদেশেও। শুধু তা-ই নয়, এই বিশ্বকাপে চাইলে আপনার নামটিও লিখিয়ে নিতে পারেন। না, বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে খেলার কথা বলা হচ্ছে না। ২০১১ বিশ্বকাপে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের অংশ নেওয়ার সুযোগটি করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বিশ্বকাপ মাসকটের জন্য একটি উপযুক্ত নাম চাইছে আইসিসি। আইসিসির ঠিক করে দেওয়া মাসকটের চরিত্রের সঙ্গে সংগতি রেখে সেই নামটি দেওয়ার সুযোগ থাকছে আপনারও। বিশ্বকাপের মাসকটকে ধরে নিতে হবে একটি হাতিশাবক, যেটির বৈশিষ্ট্য ১০ বছর বয়সী শিশুর মতো। এই মাসকট উচ্ছল, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ক্রিকেটকে মনে করে বিশ্বের সবচেয়ে মজার খেলা এবং এতটাই যে পারলে সে সপ্তাহের প্রতিটা দিনই রাস্তায় নেমে ২৪ ঘণ্টা করে ক্রিকেট খেলে। মাসকটটি বোঝে ক্রিকেটে শেখার অনেক কিছু আছে, এখানে কঠোর পরিশ্রম করে ধাপে ধাপে এগোতে হয়। খেলায় মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল রপ্ত করতে চায় সে। চোখে স্বপ্ন—একদিন খেলবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট।
এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো মাথায় রেখেই দিতে হবে ২০১১ বিশ্বকাপের মাসকটের নাম এবং আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে ই-মেইলে সেটি পাঠাতে হবে www.mascot@icc-cricket.com ঠিকানায়। এ ব্যাপারে চাইলে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন এই ওয়েবসাইটে: http://icc-cricket. yahoo.net/newsdetails.php?newsId=10833_1279593660।
বিশ্বকাপ মাসকটের বিজয়ী নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক ২০০ দিন আগে কলম্বোয় আইসিসির এক মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে।

মুরালির ৭৯৩ টেন্ডুলকার

মুখে হাসি কিন্তু চোখে পানি। দু-এক ফোঁটা নেমেও গেল গাল বেয়ে। এক দিনে দু-দুবার ‘গার্ড অব অনার’ পেয়ে আনন্দ, আবেগ, কষ্ট—সব যেন মাখামাখি হয়ে গেল মুত্তিয়া মুরালিধরনের। প্রথমবার পেয়েছিলেন ভারতীয় দলের কাছ থেকে, ব্যাটিংয়ে নামার সময়। বাজি ফুটল, ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল মাঠ। বেশ কিছুক্ষণ বন্ধও থাকল খেলা। দ্বিতীয়বার পেলেন নিজ দলের কাছ থেকে, ফিল্ডিংয়ে নামার সময়।
আবেগে ভেসে গিয়ে আসল কাজটায় মনোযোগ কিন্তু হারাননি, ফাঁদে ফেলেছেন সবচেয়ে বড় শিকারটাকেই। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারে তাঁর এই ৭৯৩তম উইকেটটি না পেলেও চলত। মাঠে যা-ই হোক না কেন, এই টেস্টের আসল নায়ক তো মুরালিই। মাঠের পারফরম্যান্সে কাল শ্রীলঙ্কার নায়ক অবশ্য লাসিথ মালিঙ্গা আর রঙ্গনা হেরাথ। না, বোলার হিসেবে নয়, ব্যাটসম্যানের ভূমিকায়! দুজনের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ রান আর রেকর্ড জুটিতে এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার হারের শঙ্কা আর নেই বললেই চলে।
ভারতকে আজ ফলোঅন করাতে পারলে বরং জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দেবে স্বাগিতকদের সামনে। তবে ড্রয়েই মুরালির ‘বিদায় সংবর্ধনা’ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৫২০ রানে শ্রীলঙ্কা ইনিংস ঘোষণার পর তৃতীয় দিন শেষে ভারতের স্কোর ১৪০/৩। পুরো এক দিন খেলা না হওয়ায় ফলোঅনের ব্যবধান এখন ১৫০। ভারতের প্রাথমিক লক্ষ্য তাই ৩৭১। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারালেও তাদের আশা হয়ে আছেন বীরেন্দর শেবাগ (৮৫)।
ব্যাট হাতে যথেষ্ট যন্ত্রণা দেওয়ার পর বল হাতেও ভারতকে প্রথম আঘাত করেন ৩১ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা মালিঙ্গা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরান গৌতম গম্ভীরকে। দ্রাবিড়ের রান আউট আর টেন্ডুলকার মুরালির শিকার হয়ে ফিরে গেলে বিপদেই পড়ে ভারত। লক্ষ্মণকে নিয়ে দিনটা পার করেছেন শেবাগ। এই মাঠে তাঁর সর্বশেষ টেস্টে আদ্যন্ত ব্যাট করে ২০১ রান করেছিলেন শেবাগ। আজও এমন কিছু চাইছে ভারত।
কাল প্রথম সেশনটা কিন্তু ছিল ভারতেরই। ইশান্ত শর্মা দিনের তৃতীয় ওভারেই ফেরান থারাঙ্গা পারানাভিতানাকে। প্রথম দিনের ১১০ রানের সঙ্গে আর কেবল একটি রানই যোগ করতে পেরেছিলেন। পরের ওভারে দ্রাবিড়কে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন থিলান সামারাবীরা, কিন্তু এক বল পরই তাঁকে ফেরান অভিমন্যু মিথুন। ইশান্ত পরে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকেও আউট করে দিলে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল দারুণ শুরুর পরও শ্রীলঙ্কা হয়তো ৪০০ পেরোতে পারবে না। শ্রীলঙ্কার স্কোর যে তখন ৩৪৪/৬।
এর পরই টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটিকে কাঁদিয়ে ছেড়েছেন দুই লোয়ার অর্ডার হেরাথ আর মালিঙ্গা। দুজনের ১১৫ রানের জুটি অষ্টম উইকেটে ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারেই প্রথম ফিফটি পেয়ে গেছেন মালিঙ্গা। ইনিংস ঘোষণা না করলে টেস্টের প্রথম ফিফটিটাকে হয়তো তিন অঙ্কেই নিয়ে যেতে পারতেন হেরাথ।
চার উইকেট নিয়ে ভারতের সফল বোলার অভিষিক্ত মিথুন, প্রথম দিনের হতাশা পেছনে ফেলেছেন ইশান্তও। তবে স্পিন-জাদুকরের বিদায়ের ক্ষণে সবচেয়ে বেশি হতাশ করলেন দুই স্পিনার হরভজন ও ওঝা। দুজনে মিলে ৫৮ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন ২১৩, উইকেট পাননি একটিও!

চূড়ায় বসে মুখোমুখি

মাত্র পাঁচটি বল! মুত্তিয়া মুরালিধরনের মাত্র পাঁচটি বলই কাল খেলতে পেরেছেন শচীন টেন্ডুলকার। এই পাঁচটি বল যদি না দেখে থাকেন, তাহলে এমন এক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, যা দেখার সুযোগ আবার পাবেন কি না, কে জানে! টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানের মালিককে বোলিং করছেন সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক! মুরালি রেকর্ডটা যেখানে রেখে যাচ্ছেন আর টেন্ডুলকার রেকর্ডটাকে যেখানে রেখে যাবেন, রেকর্ড দুটো আদৌ ভাঙবে কিনা সন্দেহ আছে তো এটা নিয়েই!
১৩৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র কয়েকবারই ঘটেছে এই ঘটনা। প্রথমবার ১৮৮৭ সালে সিডনিতে ইংলিশ ওপেনার আর্থার শ্রুশবেরি বনাম অস্ট্রেলিয়ার পেসার ফ্রেড ‘ডেমন’ স্পফোর্থ। শ্রুশবেরি টেস্টটা শুরু করেছিলেন ৯০৩ রান নিয়ে, ৯৪ উইকেট নিয়ে স্পফোর্থ। ১৭ বছর পর আবার একই টেস্টে খেলেছিলেন সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেটের মালিক ক্লেম হিল ও হিউ ট্রাম্বল। কিন্তু মুখোমুখি লড়াই হয়নি, দুজনই যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার! শচীন-মুরালির আগে সর্বশেষ দুই সেরা মুখোমুখি হয়েছিলেন ব্রায়ান লারা ও শেন ওয়ার্নের রূপে। ২০০৫ সালের অ্যাডিলেড টেস্টে সেই লড়াইটা হয়েছিল দারুণ। প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির পথে ওয়ার্নকে বেদম মেরেছিলেন লারা, দ্বিতীয় ইনিংসে লারাকে মাত্র ১৭ রানে ফিরিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন ওয়ার্ন।
চূড়ায় বসে শচীন-মুরালি মুখোমুখি অবশ্য কালই প্রথম নয়। তবে কালকেরটাই হতে পারে শেষ। দ্বিতীয় ইনিংস এখনো আছে। কিন্তু ভারত আজ ফলোঅন এড়িয়ে ফেললে শচীন-মুরালির আবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কমই।