Thursday, May 22, 2025

হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা কেন পিছু হটল by পিটার রজার্স

২০২৫ সালের বসন্তে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে একটা উত্তেজনাকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। তথাকথিত প্রতিরোধের অক্ষশক্তির অংশ হিসেবে হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছিল।

পরিস্থিতি মোকবিলায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ নামে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেন। এর খরচ হয় এক বিলিয়ন ডলার।

উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া। যাহোক, অভিযান শুরুর দুই মাসের মাথায় ৬ মে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে ইসরায়েলকে এড়িয়ে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইয়েমেন সংঘাত কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

সামরিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা

২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় ও আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারের পরও এই অভিযান কৌশলগত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ‘অপারেশন রাফ রাইডার’-এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে হুতিদের সামরিক সক্ষমতার ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও ইরানের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে হুতিরা কেবল টিকেই ছিল তা নয়, বরং বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর হামলা আরও বাড়িয়ে দেয়। হুতিদের এই আক্রমণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক আধিপত্যের ওপর বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। হুতিরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে। এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও বারবার হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

এই ব্যর্থতার একটি প্রধান কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র এটিকে পুরোপুরিভাবে সামরিক কৌশল দিয়েই মোকাবিলা করতে চেয়েছে। কিন্তু কেবল সামরিক পদক্ষেপ দিয়ে লোহিত সাগর সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এর কারণ হলো, এই সংকটের শিকড় রয়েছে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবও এই ব্যর্থতাকে আরও গভীর করেছে। এর আগে বাইডেনের আমলে পরিচালিত ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ অভিযানটিও ব্যর্থ হয়েছিল।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি: একটি ব্যর্থতার কেসস্টাডি

৬ মে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধের শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে বোমা হামলা বন্ধ করবে।

ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি প্রথমে উত্তেজনা প্রশমনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু দ্রুতই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধ করলেও ইসরায়েলের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে। এটি চুক্তির সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। প্রধান মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের ঘাটতিকেও খোলাসা করে।

ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে চুক্তির ঘোষণাটি ছিল নির্দিষ্টভাবেই বিস্ময়কর। এ সম্পর্কে ইসরায়েল একেবারেই কিছু জানত না। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইসরায়েল পাল্টা হিসেবে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দর ও সানা বিমানবন্দরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

ট্রাম্প এই চুক্তিকে ইয়েমেন সংকটের অন্ধগলি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসা হিসেবে চিত্রিত করলেও তিনি জোর দিয়েই বলেন, এই সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। হুতি নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতি চুক্তিটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল এক পরাজয়’ বলে অভিহিত করেন এবং এটিকে তাদের বিজয় হিসেবে চিত্রিত করেন। দ্য ইকোনমিস্ট এটিকে ‘আত্মা বিক্রির চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে। পত্রিকাটি বলে এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

ব্যর্থতার কারণ

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের ব্যর্থতার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সামরিক সমাধানের ওপর অতিনির্ভরতার কারণে অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক জটিলতাকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘মুক্তভাবে চলাচলের’ সুযোগ করে দেয়। আর্থিক ও সামরিক দায়ভার অসংগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে গিয়ে পড়ে। অভিযানে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে অনীহা এবং হুতিদের উচ্চমাত্রার প্রতিরোধক্ষমতা সংকটটিকে দীর্ঘস্থায়ী করে।

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা ও অভিযান পরিচালনার অব্যবস্থাপনাও এর জন্য দায়ী। সামরিক পরিকল্পনা ভুলবশত সিগন্যাল অ্যাপে ফাঁস হয়ে যায়। এটি সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় একটা দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরুদ্ধারের জরুরি বিষয়টিও কমে যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে হুতিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত ব্যর্থতার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অন্যদিকে হুতিরা আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল।

* পিটার রজার্স মিডল ইস্ট মনিটরের লেখক

- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের ব্যর্থতার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের ব্যর্থতার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। ছবি :রয়টার্স

আদালতে কাঁদলেন অভিনেত্রী জেসিকা, ধর্ষণের অভিযোগ

আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন হলিউডের সাবেক অভিনেত্রী জেসিকা মান। কাঁদতে কাঁদতে তিনি নিউ ইয়র্কের এক জুরিকে বলছেন, হলিউডের প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেন কত খারাপ মানুষ ছিলেন। জেসিনা অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে মিডটাউনে এক হোটেল কক্ষে তাকে ধর্ষণ করেছেন হার্ভে উইনস্টেন। হলিউডের এক সময়ের দাপুটে এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে এখন থেকে ৫ বছর আগে একই রকম অভিযোগ করেন বেশ কিছু অভিনেত্রী। এখন এতদিন পরে আদালতে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কাহিনী প্রকাশ করলেন জেসিকা মান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৮ই মার্চ মিডটাউনের ডাবল ট্রি হোটেলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হার্ভে উইনস্টেন। তার আগে জেসিকাকে ওই কক্ষে কৌশলে ফাঁদে আটকে ফেলেন হার্ভে। তারপর নিজেই একটি ইঞ্জেকশন নেন তিনি। জেসিকা পরে জেনেছেন ওই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয় যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে। এরপর জোর করে জেসিকাকে ধর্ষণ করেন হার্ভে। কিভাবে দরজা বন্ধ করে জেসিকাকে আটকে ফেলে তাকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেছিলেন তিনি সে বিষয়ে জেসিকা বলেছেন- এটা এমন একটি মুহূর্ত, যা আমি মুছে দিয়েছিলাম। জেসিকা মান বলেন, হার্ভে আমাকে ধর্ষণ করার পরে আমি দেখতে পাই বিনের ভিতর পড়ে আছে সূচের একটি লেবেল। তাতে ‘নেক্রো-এরকম’ কিছু একটা শব্দ লেখা ছিল।  পরে আমি গুগলে সার্স করে দেখতে পাই এটার অর্থ আসলে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া পুরুষত্ব। কি কি ঘটেছিল তা কি আমি সব প্রকাশ করবো? আমার ভয় হয়।

মর্মান্তিক এই ঘটনা সত্ত্বেও জুরিদের কাছে মিস জেসিকা সাক্ষ্যে বলেন, এ ঘটনার পর হার্ভে উইনস্টেনের সঙ্গে জটিল এক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন, আমি স্রেফ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি তার সঙ্গে রিলেশনশিপের। সেটা যদি খারাপ সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি এটা করেছিলাম। এ বিষয়টি কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সেটা আসলে আমি জানতাম না। এ জন্য আমি শুধু সময় নিয়েছি। কখনো কখনো তিনি আমাকে বৈধভাবে ব্যবহার করেছেন। আমি না বললে সেটা তার কাছে ট্রিগারের মতো ছিল। এটাকে আমি ‘দৈত্যের আচরণ’ বলবো। এমন আচরণ বেরিয়ে আসতো।

২০১৩ সালে হোটেল কক্ষে ধর্ষণের আগেই জেসিকা মানের কাছে ‘ওরাল’ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন হার্ভে উইনস্টেন। এটা ছিল লস অ্যানজেলেসে প্রথম প্রাইভেট মিটিংয়ের সময়। জেসিকা জুরিদের কাছে বলেছেন, হার্ভে তাকে ও একজন বন্ধুকে নিজের হোটেল কক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কথা ছিল ‘ভ্যাম্পায়ার একাডেমি’ ছবির সংলাপের কপি দেবেন।  কিন্তু যখন জেসিকাকে বেডরুমে একা পান, তখন হার্ভে তার বাধা উপেক্ষা করে জেসিকার ওপর চড়াও হন। এক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করেন তিনি। তাদের মধ্যে এ সময় একরকম লড়াই হয়। এসব বলতে বলতে কাঁপতে থাকেন জেসিকা মান। তবু তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর হার্ভের সঙ্গে রিলেশনশিপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশা করেছিলেন, ভয়াবহ যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সেন্স জাগ্রত হবে। আমি শুধু বেদনাকে সরাতে চেয়েছি।
জেসিকা মান বলেছেন, ওই সময়ে তিনি এ নিয়ে কথা বলার সাহস পাননি। কারণ, হার্ভের প্রভাব ছিল বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার শক্তিশালী যোগাযোগ। জেসিকার ভাষায়- আমার মনে আছে, কল্পনা করেছি যদি আমি এসব নিয়ে কোনো কথা বলি তাহলে হার্ভে তার বন্ধু ও সিক্রেট সার্ভিসকে কল করবেন আমাকে ধরতে। হার্ভের কাছ থেকে কখনো কোনো অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন জেসিকা। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে আমি যদি কোনো অর্থ নিই তাহলে তা হবে দেহব্যবসায়ীদের নোংরা উপার্জনের মতো। কখনোই তার নোংরা অর্থ আমি চাই নি। কারণ, আমি তো বিক্রি হতে যাইনি।

এর আগে অন্য অভিনেত্রীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হার্ভে উইনস্টেন অভিযুক্ত হন ২০২০ সালে। তবে জেসিকা মানকে থার্ড-ডিগ্রি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তা উল্টে দেয়া হয়। এখন আবার সেই অভিযোগের নতুন করে বিচার হচ্ছে। যদি এতে হার্ভে অভিযুক্ত হন তাহলে তার ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। হার্ভের বিরুদ্ধে পুনঃবিচারে জেসিকা মান হলেন তৃতীয় ও চূড়ান্ত অভিযোগকারী। এর আগে সাবেক মডেল কাজা সোকোলা, প্রযোজকের সাবেক সহকারী মরিয়ম মিমি হ্যালি একই অভিযোগ আনেন।

mzamin

এরদোয়ানের গদি বাঁচাতেই কি পিকেকে ভাঙছে by সিনান উলগেন

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র বিদ্রোহী আন্দোলন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেছে। তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম হামলার প্রায় চার দশক পর কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) তাদের সংগঠন ভেঙে দেওয়ার এবং অস্ত্র পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে শুধু তুরস্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোচড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে আবদুল্লাহ ওজালানের নেতৃত্বে পিকেকে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। সংগঠনটি শুরু থেকেই একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল। পাশাপাশি তুরস্কে বসবাসকারী কুর্দিদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাও তাদের উদ্দেশ্যের অংশ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পিকেকের নেতাদের সহিংসতা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

প্রথমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকানো যাক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইতিমধ্যেই দুটি মেয়াদ শেষ করেছেন এবং তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে চান। এ জন্য তাঁকে তুরস্কের সংবিধান সংশোধন করতে হবে অথবা পার্লামেন্টকে আগাম নির্বাচনের জন্য রাজি করাতে হবে। এই দুটি পথেই তাঁর সরকারের অতিরিক্ত রাজনৈতিক সমর্থন দরকার। এই সমর্থন বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট—জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) দিতে পারছে না।

সমর্থনের এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম দল পিপলস ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (ডিইএম)। দলটি কুর্দিপন্থী।

আন্তর্জাতিক পটভূমিও পিকেকের এই আত্মবিলুপ্তির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। আসাদ তুরস্ককে দুর্বল করতে পিকেকে যোদ্ধাদের ব্যবহার করতেন। কিন্তু আসাদ সরকারকে উৎখাত করে সিরিয়ায় এখন যে নতুন সরকার এসেছে, তারা পিকেকের প্রতি আসাদের মতো সহানুভূতিশীল নয়। পিকেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যে সংগঠনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র এত দিন মদদ দিয়ে এসেছে, তাদের কাছ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র এখন ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। পিকেকের সহযোগী সংগঠনগুলো একসময় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) প্রায় নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেই ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব। আরেকটি বিষয়, যেটি খুব একটা আলোচিত হয় না; কিন্তু পিকেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে, সেটি হলো তুরস্কের সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে ড্রোনপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। বিশেষ করে, এই ড্রোন দিয়ে তুরস্ক পিকেকের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, এমনকি ইরাকের গভীর অঞ্চলেও।

এর ফলে পিকেকের সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি হয়তো তাদের বাধ্য করেছে পুরো বিদ্রোহী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে। এসব কারণ মিলিয়ে তুরস্কের জন্য একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে সহিংসতার পথ ছাড়াই কুর্দি সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যেতে পারে। তবে অস্ত্রের যুগ থেকে শান্তি ও সংহতির যুগে সফলভাবে প্রবেশ করতে হলে এরদোয়ানের সরকারকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রথমত দরকার স্বচ্ছতা। পিকেকে বহু বছর ধরে সহিংসতা চালিয়ে এসেছে, ফলে তুরস্কের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি ক্ষোভ স্বাভাবিক। তাই তুরস্ক সরকার ও পিকেকের মধ্যে যে আলোচনা হবে, তা স্পষ্টভাবে ও খোলাখুলি প্রকাশ করা খুব জরুরি। বিশেষ করে পিকেকেকে কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে, সেটা মানুষকে জানানো দরকার। যেমন সিরিয়ার সশস্ত্র সংগঠন ওয়াইপিজি যেটি পিকেকের সঙ্গে সম্পর্কিত—তারা অস্ত্র ছাড়বে কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন। এই প্রক্রিয়া খুব সংবেদনশীল, তাই এতে তুর্কি পার্লামেন্ট, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গণতন্ত্র। এই ঐতিহাসিক শান্তির সুযোগ তখনই সফল হবে, যদি তা প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে হয়—যার মধ্যে থাকবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা আরও জোরদার করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ।

এরদোয়ানের সরকার চাইলে এ বিষয়ে দ্রুত কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের সাম্প্রতিক আদেশ মেনে কুর্দি রাজনৈতিক নেতা সেলাহাত্তিন দেমিরতাশকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দেওয়া সম্ভব। যখন ওজালানকে মুক্তির চিন্তা হচ্ছে, তখন সরকারের উচিত অন্য রাজনৈতিক বন্দীদের বিষয়েও খেয়াল রাখা। যেমন ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও ভিক্টোরি পার্টির নেতা উমিত ওজদাগের অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া দরকার।

পিকেকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত তুরস্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। পিকেকের সন্ত্রাসবাদ থেকে সদ্য পাওয়া মুক্তিকে ধরে রাখতে হলে, তুরস্কের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই প্রচেষ্টা শুধু তুরস্কের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। এটি দেখাতে পারে যে রাজনৈতিক বিদ্রোহ বা সহিংসতা বন্ধ হলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও অংশগ্রহণমূলক শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।

সিনান উলগেন ইস্তাম্বুলভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইডামের পরিচালক
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

পিকেকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত তুরস্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে
পিকেকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত তুরস্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। ছবি: রয়টার্স

খুন করে দেহ কুমিরকে খাইয়ে দিত অপরাধী, গ্রেপ্তার সিরিয়াল কিলার ‘ডক্টর ডেথ'

পুলিশের ফাইলে ‘ডক্টর ডেথ’ নামে পরিচিত এক সিরিয়াল কিলারকে ভারতের রাজস্থান থেকে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে একটি আশ্রমে পুরোহিতের ছদ্ম পরিচয় দিয়ে আত্মগোপন করেছিল ওই খুনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মঙ্গলবার পুলিশ খুনির গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আনে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি ২০২৩ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। তারপর থেকেই উধাও হয়ে যায়।

জানা যায়, অন্তত ৫০ জনকে খুন করে দেহ কুমির দিয়ে খাইয়েছে এই অপরাধী। ৬৭ বছর বয়সী দেবেন্দ্র শর্মা ছিল পেশায় একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। কিন্তু সেখান থেকে অপরাধীতে পরিণত হয়। এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ট্রাক এবং ট্যাক্সিচালকদের খুনের অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে তিনি রাস্তায় গাড়ি লুট করতেন, তার পর চালকদের খুন করে সেই গাড়ি নিয়ে চম্পট দিতেন।

গাড়িগুলো চোরাবাজারে বিক্রি করে দিতেন। উত্তরপ্রদেশের কাশগঞ্জে কুমির-অধ্যুষিত হাজারা খালে তার শিকারদের মৃতদেহ ফেলে দিয়ে লোপাট করে দেওয়ার জন্যই তার নাম শিরোনামে উঠে এসেছিল। ফলে দেহগুলোর আর কোনও চিহ্ন পাওয়া যেত না। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, ডাকাতি-সহ ২৭টি মামলা রয়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কিডনি পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১২৫টি কিডনি পাচার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দিল্লি, রাজস্থান এবং হরিয়ানায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। গুরুগ্রাম আদালত তার মৃত্যুদণ্ডেরও নির্দেশ দিয়েছে।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আদিত্য গৌতম সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন চিকিৎসক। ২০২৩ সালে প্যারোলে মুক্তি পেতেই পালিয়ে যান। তার পর থেকে তার খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ।উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২০ সালে প্যারোলে ছাড়া পেয়ে সাত মাসের জন্য উধাও হয়ে গিয়েছিল দেবেন্দ্র শর্মা।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

mzamin