Saturday, June 11, 2011

কিসে আপস আর কিসে আপসহীন? by এ কে এম জাকারিয়া

আপস’ আর ‘আপসহীনতা’ এ দুটি শব্দ নিয়ে নতুন করে গবেষণা করা জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের কথা মাথায় রেখে ও খারাপ-ভালোর পাল্লায় ফেলে। আবার এ দুটি শব্দ যখন বিশেষণে পরিণত হয়, মানে মানুষের চরিত্রের একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হয়, তখনই বা একে কীভাবে দেখি আমরা? আমাদের এই দেখাটা কি ঠিক আছে, নাকি আমাদের ভাবনা-চিন্তায় কিছু বদল দরকার হয়ে পড়েছে?
এর আগে একটু যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে আসি। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর স্টিভ পিস আইনপ্রণেতা হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করার পর রাজ্য সিনেটে এক বিদায়ী ভাষণ দিয়েছিলেন। এ ধরনের ভাষণে সাধারণত অভিজ্ঞতা বা এ থেকে পাওয়া নিজের বোধোদয়ের বিষয়গুলোই প্রকাশ পায়। স্টিভ পিসের বোধোদয় হচ্ছে, ‘আপস শব্দটিকে একটি নেতিবাচক শব্দের ধারণা দিয়ে আমরা আমাদের সমাজের বড় ক্ষতি করেছি। অথচ আপস এমন একটি মানবিক হাতিয়ার, যা দিয়ে মতভেদ ও ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং আমাদের এই মতভেদ ও ভিন্নতার কারণে আমরা একে অপরকে খুন করি না।’ এর সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক কী, তা-ও পরিষ্কার করেছেন তিনি। ‘গণতন্ত্র বলতে আসলে যা বোঝায় তা হচ্ছে আপস। আপস ছাড়া গণতন্ত্র অচল। যখন আপনি আপস করেন, তখন আপনি গণতন্ত্রচর্চা করেন।’
চলচ্চিত্র অভিনেতা, কাহিনিকার ও প্রযোজক হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি থাকলেও স্টিভ পিস মার্কিন রাজনীতিতে তেমন আলোচিত কোনো সিনেটর নন। ২০০২ সালে রাজ্য সিনেটে দেওয়া তাঁর এ বক্তব্যটি কেন খুঁজে বের করতে হয়েছে, তা বুঝতে নিশ্চয়ই পাঠকদের কষ্ট করতে হচ্ছে না। স্টিভ যে আক্ষেপ করেছেন, সেই সর্বনাশ তো আমাদের সমাজে ঘটে গেছে বহু আগে। এখানেও আপস মানে খারাপ কিছু। যিনি যত আপসহীন, তিনি তত মহান! এদিকে আমরা আবার গণতন্ত্রকেও মেনেছি সেরা রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে। গণতন্ত্র ও আপসহীনতা—দুটোকেই একসঙ্গে মহান ভাবলে যে দুর্দশা হতে পারে, তার মধ্য দিয়েই এখন চলতে হচ্ছে আমাদের।
আপসহীনতা বিষয়টি কি তবে খুবই খারাপ কিছু? সবকিছুতেই আপসের পথ ধরতে হবে? ‘গণতন্ত্র ও আপস’ (Democracy and Compromise) এই শিরোনামে একটি লেখা পেয়েছি অ্যাপ্রোচেস টু লিগ্যাল র্যাশনালিটি নামের একটি সংকলন গ্রন্থে। প্রবন্ধটির লেখক প্যাট্রিস ক্যানিভেজ। ফ্রান্সের দ্য গল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও রাজনৈতিক দর্শনের অধ্যাপক ক্যানিভেজ তাঁর এই দীর্ঘ প্রবন্ধে এ নিয়ে নানা তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। কত ধরনের আপস বা সমঝোতা হতে পারে, কোন ধরনের আপসের ফল কী হতে পারে, উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে প্রবন্ধটিতে। এই যে আপসকে আমরা ভালো বলছি, বলছি আপস ছাড়া গণতন্ত্র অচল; কিন্তু সব সময় বা সবকিছুর সঙ্গেই কি আপস করতে হবে? আপসের কি কোনো খারাপ দিক নেই? কোন আপস খারাপ? প্যাট্রিসের প্রবন্ধটিতে এ নিয়ে যা পেলাম, তা অনেকটা এ রকম: পারস্পরিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা এ ধরনের স্বার্থে নীতির প্রশ্নে বা নীতি-নৈতিকতা ও মানবাধিকারের ব্যাপারে আপস করা হচ্ছে ‘আপস’ বিষয়টির খারাপ দিক। বুঝলাম, আপসের চর্চা বাংলাদেশে ভালোভাবেই হয়, তবে আপসের যে দিকটি খারাপ—তার চর্চা।
আমাদের রাজনীতিতে আপস হয় নীতির প্রশ্নে, দুর্নীতির প্রশ্নে, মানবাধিকারের প্রশ্নে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের স্বার্থেই এই আপস। যে নীতির বিরোধিতায় দুই দিন আগেও গলা ফেটেছে, এখন সে নীতি রক্ষায় হরতাল ডাকা বা যে নীতি প্রতিষ্ঠায় দিনের পর দিন হরতাল ডাকা হয়েছে, এখন তা থেকে সরে এসে নীতির প্রশ্নে আপস, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে ক্ষমতায় এসে মানবাধিকারের ব্যাপারে আপস, নিজ দলের দুর্নীতিবাজদের ছেড়ে দিয়ে, মামলা প্রত্যাহার করে দুর্নীতির সঙ্গে আপস—চারদিকে আপসের ছড়াছড়ি।
ক্ষমতায় আসার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই আপস করতে হয়েছে। আর এখন আপস করতে হচ্ছে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য। এর আগে ক্ষমতায় থেকে নীতির প্রশ্নে, মানবাধিকারের প্রশ্নে ও দুর্নীতির প্রশ্নে আপস করেছেন খালেদা জিয়া। এখন নীতির প্রশ্নে আপসের পথ ধরতে হচ্ছে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তো তবে আপসের খেলাই চলছে! এই আপসের ভিড়ে কি তবে আপসহীনতা তার জায়গা হারিয়েছে? কোনোভাবেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ‘আপসহীন’ হয়ে উঠেছেন আগামী নির্বাচন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে। আর বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া তো সবকিছুতেই আপসহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন খালেদা জিয়ার এই ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তিকে আরও জোরালো করতেই ঘোষণা করে দিলেন, আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে না। খালেদা জিয়া আর দেরি করেননি, তিনি বলে দিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকতে হবে। এর কোনো পরিবর্তনই মানবেন না তিনি। আর এ নিয়ে কোনো আলোচনারও সুযোগ নেই। আবার নতুন করে ‘আপসহীন’ হওয়ার সুযোগ পেলেন খালেদা জিয়া!
সরকার বা সরকারি দল আওয়ামী লীগ যদি বিএনপির দাবি মেনে আগামী নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগের মতোই রেখে দেয়, তবে খালেদা জিয়ার আপসহীনতার প্রাথমিক জয় হবে। কিন্তু বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়টি যখন আসবে, তখন কী হবে? বিএনপি যদি তাঁকে মেনে না নেয় এবং যদি অন্য বিকল্পগুলো বিবেচনায় নিতে হয়, তবে কি আলোচনা ছাড়া এই বিষয়টির সুরাহা করা যাবে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সংসদে বা সরকারের সঙ্গে ‘আলোচনার সুযোগ নেই’ এই আপসহীন অবস্থান আর গণতন্ত্র কি একসঙ্গে যায়?
যেখানে আপসহীন (নীতির প্রশ্নে, মানবাধিকারের প্রশ্নে, দুর্নীতির প্রশ্নে) হওয়ার কথা, সেখানে আপস; আর যেখানে আপস (দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ ও সমঝোতা) দরকার, সেখানে আপসহীন! উল্টা পথেই চলছে দেশটি!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক
akmzakaria@gmail.com

ডিএসইতে দিনভর সূচকের ওঠানামা

মূল্যসূচকের ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় সূচক বেড়েছে সামান্য। দুই বাজারেই লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমেছে।
বুধবার লেনদেন শুরুর পর থেকে ঢাকার বাজারে মূল্যসূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারের এই ধারা স্বাভাবিক বলেই মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, টানা চার-পাঁচ দিন শেয়ারের দাম বাড়ার পর বাজারে কিছুটা মূল্যসংশোধন হতেই পারে। গত বৃহস্পতিবার থেকে পুঁজিবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এই কয় দিনে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ২৮০ পয়েন্ট।
এ অবস্থায় গতকাল দিনের শুরু থেকেই বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত। সকাল থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল আগের দিনগুলোর তুলনায় একটু বেশি। আর এতেই সূচক বারবার ওঠানামা করে। তবে দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৪৯ পয়েন্টে।
গতকাল দিনের লেনদেনের শুরুতেই সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বাড়ে। কিন্তু ১৫ মিনিটের মাথায় গিয়ে সেটি আবার ২০ পয়েন্ট কমে যায়। আবার প্রথম ৩০ মিনিটের মাথায় ফের সূচক বাড়ে আগের দিনের চেয়ে ৩০ পয়েন্ট। এভাবে দিনভর সূচক ওঠানামা করে।
জানতে চাইলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, গতকালের বাজারে বাজেট প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। একদল বিনিয়োগকারী বাজেটের আগে মুনাফা তুলে নিয়েছেন। আরেক দল বিনিয়োগকারী বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব হবে—এই আশায় শেয়ার কিনেছেন। এতে বাজারে উত্থান-পতন ঘটেছে।
প্রতিবছর বাজেটের আগে এ ধরনের উত্থান-পতন ঘটে থাকে বলে তিনি জানান।
বুধবার ডিএসইতে ২৬৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৪১টির দাম বেড়েছে। কমেছে ১২০টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে ঢাকার বাজারে ৭৭১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১০৬ কোটি টাকা কম।
অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫০৫ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে হাতবদল হওয়া ১৯০টি কোম্পানির মধ্যে ৯৪টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৯১টির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সিএসইতে ১০৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা কম।
এদিকে বাজেট সামনে রেখে একদল বিনিয়োগকারী গতকালও রাজধানীর মতিঝিলের ডিএসই ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সরকারের ব্যাংক ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াতে পারে

ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাজেটে বিদেশি সাহায্য পাওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক কম হওয়ায় এ অবস্থা দেখা দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের শেষ ভাগে এসেই মূলত সরকারকে ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নিতে হচ্ছে। সর্বশেষ গত ৩০ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ব্যাংক-ব্যবস্থায় সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৪৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অথচ ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক বা তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় সাত হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা কম।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, চলতি জুন মাসে সরকার ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে নতুন করে আরও অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সেটা হলে জাতীয় বাজেটে অনুমোদিত অর্থের চেয়ে বেশি ঋণ করবে সরকার।
এ বছর ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে সরকারকে নিট ১৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় সংসদ। সংসদ একই সঙ্গে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ করারও অনুমোদন দেয়। কিন্তু, সঞ্চয়পত্রে মুনাফার পরিমাণ কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা সরকারের কাছে অর্থ খাটাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। জুলাই-মার্চ সময়কালে এ খাতে সরকারের প্রকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ৩০ মে পর্যন্ত সরকার ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তার মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এর মধ্যে উপায়-উপকরণ আগাম হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকা, ওভারড্রাফট হিসাবে এক হাজার ৬২৮ কোটি এবং ডিভল্ভমেন্ট হিসাবে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।
আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিয়েছে ১৩ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তবে এর বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের দুই হাজার ৩২০ কোটি টাকার আমানত জমা রয়েছে। এই আমানত বাদ দিয়েই সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ দেখানো হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, কোনো বেসরকারি খাতের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহীতার এফডিআরকে (স্থায়ী আমানত) জামানত হিসাবে দেখানো হয়। কিন্তু, সেসব ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিট ঋণ হিসাব করতে আমানতকে বাদ দেওয়া হয় না। যদিও সরকারের ব্যাংক খাতের নিট ঋণের ক্ষেত্রে আমানতকে বাদ দেখানো হয়।
সাধারণভাবেই বলা হয়, সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ করলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্তির পরিমাণ কমে আসে। আর সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন টাকা ছেপে সরকারের চাহিদা মেটাতে হয়। টাকা ছাপালে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।
এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে ব্যাংক-ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৫১ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। এটি তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় চার হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা কম। কিন্তু চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা।
এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার প্রথম বছরে টাকা খরচের কায়দাটা ঠিক বোঝেনি। কিন্তু, এ বছর খরচের জায়গাটা বের করে ফেলেছে।
চলতি অর্থবছরে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) ধরা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দুই দফায় সংশোধন করে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। কিন্তু, জুলাই-এপ্রিল সময়ে অর্জন হয়েছে ২০ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা, যা সংশোধিত এডিপির ৬০ শতাংশ। এখনো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের দুই বছরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঋণদানকারী দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৪২৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান পাওয়া গেছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১০-১১ অর্থবছরের মে পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৪৮৪ কোটি ডলারের বৈদেশিক সাহায্য পাওয়ার অঙ্গীকার পাওয়া গেছে। কিন্তু, এপ্রিল পর্যন্ত ১৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বর্তমান অর্থবছরেই বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ৭৪ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং সুদ বাবদ ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার পরিশোধ হয়েছে।
এসব পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে এগোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মত হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হতে পারে। এগুলো বাস্তবায়নে যথেষ্ট পরিমাণ বিদেশি সাহায্য ও বেসরকারি খাতের বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তা না হলে মাঝপথে এগুলো বন্ধ হয়ে পড়তে পারে। অথবা দেশীয় উৎস থেকে অর্থের জোগান দিতে গিয়ে বৈদেশিক লেনদেনে সংকট তৈরি হবে।
বিশ্লেষকেরা বলেন, লেনদেনের ভারসাম্য মাথায় রেখেই আগামী বছর প্রকল্প-পরিকল্পনা করা উচিত হবে। বড় প্রকল্পের অর্থনৈতিক প্রয়োজন আছে, রাজনৈতিক চাহিদাও আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পদের জোগানের কথা চিন্তায় রেখেই প্রকল্প করতে হবে। এসব প্রকল্পের অর্থায়নজনিত ঝুঁকি, লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকার বিষয়গুলো খুবই জরুরি।

ইস্টার্ন কেবলসের লেনদেন আজ বন্ধ থাকবে

বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) রেকর্ড ডেট থাকায় আজ বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন কেবলসের লেনদেন বন্ধ থাকবে। আগামী রোববার যথারীতি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, ১ জুন ইস্টার্ন কেবলসের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ২৮ জুন বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানা প্রাঙ্গণে এজিএম অনুষ্ঠিত হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় গবাদি পশু রপ্তানি স্থগিত করেছে অস্ট্রেলিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় গবাদি পশু রপ্তানি স্থগিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রতিবেশী ওই দেশটিতে গবাদি পশুর প্রতি নির্দয় আচরণের টেলিভিশন ফুটেজ দেখে এ সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়ার সরকার।
‘অ্যানিমেলস অস্ট্রেলিয়া’ পশু অধিকার আন্দোলনের পরিচালক লিন হোয়াইটের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ার কিছু কিছু কসাইখানায় পশু জবাই করার আগে সেগুলোকে চাবুক দিয়ে বেদম পেটানো হচ্ছে।
পশু অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো যেসব দেশে গবাদি পশুর সঙ্গে নির্দয় আচরণ করা হয়, সেসব দেশে পশু রপ্তানি বন্ধের জন্য অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ায় পশু রপ্তানি ছয় মাসের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। অবশ্য গোষ্ঠীগুলো স্থায়ীভাবে রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় গবাদি পশু রপ্তানি স্থগিতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পশু রপ্তানির বিষয়টিও অস্ট্রেলিয়া পর্যালোচনা করবে বলে কৃষিমন্ত্রী জো লুড়ুইং জানান।

সপ্তাহের শেষ দিনে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেশ কিছুটা বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে শতাধিক শেয়ারের দাম। তবে লেনদেন কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। আজও বিনিয়োগকারীরা বেলা আড়াইটায় ডিএসই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ৪০.৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৯৮৯.৮১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ৬,০১১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১০৫ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ শুরুতে সূচক কিছুটা কমে যায়। ছয় মিনিটের দিকে সূচক ২ পয়েন্ট কমে। আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ডিএসই। লেনদেনের ২০ মিনিটের দিকে সূচক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ৬০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। তবে দিনের লেনদেন শেষে সূচক বাড়ার গতি কমে এলেও তা গতকালের চেয়ে ৪০ পয়েন্ট বাড়ে।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, এনবিএল, বেক্সটেক্স, প্রাইম ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল, তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও সিটি ব্যাংক।
আজ সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ৬৯.০৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪,৮৯০.৩৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আটটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৮৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

ছয় দশক পর বৈধতা ফিরে পেল মিসরের ব্রাদারহুড

দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ মিসরের ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে গত মঙ্গলবার রাজনৈতিক দল হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠনটির নতুন নাম ‘ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এ কথা জানিয়েছে।
বৈধতা পাওয়ার ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো ব্রাদারহুডের। সংগঠনটির দীর্ঘদিনের মুখপাত্র ইসাম-এল-ইরিয়ান রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান হয়েছেন। ইরিয়ান বলেন, বর্তমানে দেশে সব রকম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এর মানে, মিসরে বহু রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
বর্তমান মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সবচেয়ে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটিকে ১৯৫৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরকে হত্যার চেষ্টার দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথম দিকে সহিংসতা অবলম্বন বা সমর্থন করলেও কয়েক দশক ধরে ব্রাদারহুড সন্ত্রাসবাদের পথ পরিহার করে চলেছে।
আরব বিশ্বে ইসলামি আন্দোলনের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছিল মুসলিম ব্রাদারহুড। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিষিদ্ধ থাকলেও সংগঠনটি ব্যাপক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। এর সদস্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০০৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০ শতাংশ আসন লাভ করে।

বাম ফ্রন্টের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি ফরোয়ার্ড ব্লকের

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বাম ফ্রন্টের পরাজয়ের পর ফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল ফরোয়ার্ড ব্লক জোটের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। গত সোমবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এই দাবি তোলে। একই সঙ্গে ফরোয়ার্ড ব্লক আগামী ৯ আগস্ট থেকে ভারত যাত্রা কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
ফরোয়ার্ড ব্লকের কেন্দ্রীয় কমিটি গত শনি ও রোববার বিধানসভা নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে। গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের জন্য সিপিএমকে দায়ী করে দলটি।

ই. কোলাইয়ের ভয়াবহতা কমে আসছে: জার্মানি

ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইয়ের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে গতকাল বুধবার আশা প্রকাশ করেছে জার্মানি। দেশটি জানিয়েছে, নতুন করে আক্রান্তের হার দ্রুত কমে আসছে।
এদিকে ইউরোপের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ১৫ কোটি ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল বাহর গতকাল বলেন, ই. কোলাইজনিত রোগে মৃত্যু ও আক্রান্তের সবচেয়ে ভয়াবহ ধাক্কা কেটে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখনো বলতে পারছি না যে সতর্কতার প্রয়োজন নেই। তবে শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এই আশা করতে পারি। কেননা, নতুন করে আক্রান্তের হার দ্রুত কমে আসছে।’
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, এই জীবাণুর কারণে আরও মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এখনো প্রতিদিন নতুন নতুন লোক আক্রান্ত হচ্ছে।
ইউরোপে সবজি থেকে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইয়ের একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির সংক্রমণে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বাদে সবাই জার্মানির। অসুস্থ হয়েছে দুই হাজার তিন শর বেশি।
জার্মানির স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটও গত মঙ্গলবার জানায়, প্রাপ্ত তথ্য থেকে মনে হচ্ছে, নতুন করে আক্রান্তের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে।
এদিকে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রীরা বার্লিনে জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় কৃষিমন্ত্রীরা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৃষকদের ১৫ কোটি ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করলেও তা যথেষ্ট নয়। কৃষকদের যা ক্ষতি হয়েছে, তার পুরোটাই দেওয়া উচিত। হিসাবমতে, সবজি ও ফলচাষিদের প্রায় ৪২ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের পরিচালক ড. গেনায়েল রদিয়ের বলেছেন, শিগগির এ সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে তা হয়তো আর কখনোই জানা যাবে না।
গত মাসে জার্মানিতে ই. কোলাইজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর পরই দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, স্পেন থেকে আমদানি করা শসা থেকে ওই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে থাকতে পারে। এতে স্পেনের সবজির ব্যবসায় ধস নামে। রাশিয়াসহ অনেক দেশ ইউরোপ থেকে সবজি আমদানি বন্ধ করে দেয়। অনুসন্ধানের পর মনে করা হচ্ছে, জার্মানির একটি খামার থেকেই ওই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়েছে।

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তার পশ্চিম উপকূল থেকে গত সপ্তাহে স্বল্পপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ গতকাল বুধবার এ কথা জানায়। গত ১৯ মাসের মধ্যে এটি উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহের মাঝামাঝি পীত সাগরে একটি স্বল্পপাল্লার কেএন-০৬ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটি গত বছর থেকে কেএন-০৬ মিসাইলের পাল্লার দূরত্ব বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত সপ্তাহের ওই উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে এ চেষ্টার অগ্রগতি পরীক্ষা করা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র জংআঙ্গ ইলবো জানিয়েছে, ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরপাল্লার কেএন-০৬ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটি আরও মন্তব্য করে, দক্ষিণ কোরিয়াকে দেওয়া উত্তর কোরিয়ার সামরিক হামলার হুমকির পর পরই পরীক্ষা চালানো হলো।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নিন্দা প্রস্তাবের প্রস্তুতি

সিরিয়ায় কয়েক মাস ধরে সরকারবিরোধীদের ওপর চলা দমন-পীড়নের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের গতকাল বুধবার এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করার কথা। তবে এতে লিবিয়ার মতো সামরিক অভিযান বা অবরোধের মতো কোনো প্রস্তাব থাকবে না।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের একজন মুখপাত্র গত মঙ্গলবার জানান, জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে বুধবার সন্ধ্যায় নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ওই প্রস্তাবের বিষয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কিছু করার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, সিরিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলা জুপে বলেন, ‘সিরিয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েই চলছে। কিন্তু এর পরও বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চুপ করে থাকার বিষয়টি বিস্ময়কর। আমরা বন্ধুরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠক শেষে জুপে এ কথা বলেন।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এ উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের আশঙ্কা, এ প্রস্তাব লিবিয়া অভিযানের মতো সিরিয়াতেও পশ্চিমাদের সামরিক অভিযান চালানোর প্রথম ধাপ হতে পারে।
তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এ উদ্যোগ সফল না-ও হতে পারে। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন নিন্দা প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারে। ইইউতে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভ্লাদিমির চিজোভ জানান, লিবিয়া অভিযানের মতো কোনো প্রস্তাবের পক্ষে তাঁর দেশ ভোট দেবে না।
এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ৩১টি সামরিক ট্যাংক জিসর আল সুগুর শহরের দিকে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার সরকারবিরোধীরা এই শহরে পুলিশের ১২০ জন সদস্যকে হত্যা করে।
জিসর আল সুগুরের স্থানীয় একজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এপিকে টেলিফোনে জানান, সরকারি বাহিনী এখানে চরম অভিযান চালাবে আশঙ্কা করে তাঁরা শহর ছেড়ে তুরস্ক সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার রাতে ১২২ সিরীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করে।

যত্রতত্র অফিস নয় কারও অফিস দখলও নয়

তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য নতুন এক নির্দেশ জারি করে বলেছে, মানুষের সঙ্গে মিশে, মানুষের ভালোবাসা নিয়ে কাজ করতে হবে। এখন থেকে আর যত্রতত্র দলের অফিস করা যাবে না। একই সঙ্গে অন্য দলের কোনো অফিস দখল করা যাবে না। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।
গত মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের কলকাতার ১১ বিধায়ক এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের ৯৬ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রীও। এই বৈঠকেই দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী মুকুল রায় ঘোষণা দেন, আর যত্রতত্র দলের অফিস করা যাবে না। অফিস করতে গেলে অনুমতি নিতে হবে রাজ্য সভাপতির। ফুটপাতে থাকা সব অফিস গুটিয়ে নিতে হবে। ফুটপাত দখল করে কোনো অফিস করা যাবে না। পাশাপাশি অন্য দলের কোনো অফিস দখল করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করা হলে দল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এলাকায় কেউ বাড়ি করতে এলে তার ওপর কোনো জুলুম করা যাবে না।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নতুন করে কাউকে দলে নিতে হলে রাজ্য কমিটির সভাপতির অনুমতি নিয়ে তা করতে হবে। নির্বাচনে জয়ের পর এটি তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির প্রথম বৈঠক।

সরকার গঠনের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে হামাস-ফাতাহ বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে ফিলিস্তিনের দুই গোষ্ঠী হামাস ও ফাতাহ ১৪ জুন মিসরের রাজধানী কায়রোতে বৈঠকে বসবে। গতকাল বুধবার হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রাসেক এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত মাসে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে স্বাক্ষরিত সংহতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোকপাত করা হবে। এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে গোষ্ঠী দুটি ওই চুক্তি সই করে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—এ বিষয়ে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। তবে হামাসের আপত্তি সত্ত্বেও ফাতাহর প্রধান ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

রোনালদোর পায়ে সোনার জুতো

৫৩-৫৩। মৌসুমের শেষে গোলসংখ্যার ‘লড়াই’য়ে দুজনই জিতেছেন। কিন্তু লিওনেল মেসিকে এক দিক দিয়ে হারিয়ে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা জেতেন ইউরোপিয়ান ‘গোল্ডেন শু’। এবার লিগে ৪০ গোল করে সেটাই জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম এই পুরস্কার জিতেছিলেন পর্তুগিজ উইঙ্গার।
ইউরোপের সবগুলো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন। পয়েন্ট নির্ধারিত হয় অবশ্য লিগের গোলপ্রতি মানভেদে। গুরুত্বপূর্ণ লিগগুলোয় প্রতি গোলের জন্য দেওয়া হয় ২ পয়েন্ট। লা লিগায় ৪০ গোল করার জন্য এবার সর্বোচ্চ ৮০ পয়েন্ট পেয়েছেন রোনালদো। লিগে ৩১ গোল করায় মেসির পয়েন্ট ৬২। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি। এর পর শীর্ষ পাঁচে আছেন মারিও গোমেজ (বায়ার্ন মিউনিখ, ৫৬ পয়েন্ট), আন্তোনিও ডি নাতালে (উদিনেস, ৫৬ পয়েন্ট) এবং এডিসন কাভানি (নাপোলি, ৫২ পয়েন্ট)।

পাকিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ জন নিহত

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে গতকাল বুধবার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, আফগান সীমান্তের কাছাকাছি শাওয়াল এলাকার জয়নারাই গ্রামে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ওই হামলা চালানো হয়।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হাক্কানি নেটওয়ার্ক, পাকিস্তানি যুদ্ধবাজ নেতা হাফিজ গুল বাহাদুর ও বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো শাওয়ালের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয়।
একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে মার্কিন মনুষ্যবিহীন বিমান থেকে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে ১৬ জন নিহত হয়।
অপর এক কর্মকর্তা হামলা ও নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রধান শহর মিরানশাহর এক কর্মকর্তাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮ জঙ্গি নিহত হওয়ার দুদিন পর গতকাল এ হামলা চালানো হলো।
পাকিস্তানে মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আল-কায়েদার নেতৃত্বকে দারুণভাবে দুর্বল করেছে।
মার্কিন বিশেষ বাহিনী আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর থেকে পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ১৩ বার মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেখ রাসেলকে জরিমানা

গত ৬ মে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে রেফারি ও সহকারী রেফারির সঙ্গে বাদানুবাদ এবং তাঁদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারার ঘটনায় শাস্তি পেতে হলো শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে। কাল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ক্লাবের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে তিন মাস এবং একই সঙ্গে আরেক কর্মকর্তা শাহজাহান কবিরকে এক মাসের জন্য ফুটবল অঙ্গনে নিষিদ্ধও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও ক্লাবকেও সতর্ক করা হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের কাছে ইতালির হার

৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ঢাকা আবাহনী। ঠিক এর পরই ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিলেন বেনজামিন কুপার। বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো আরামবাগের এই লাইবেরিয়ান ফরোয়ার্ডের হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পেল আবাহনী। থুয়াম ফ্রাঙ্ক কিন্তু এ থেকে গোল করতে পারেননি! বল মেরে দেন পোস্টের কোনায়, ফিরে আসা বলে সামাদ ইউসুফের শটেই বল ঢুকে যায় জালে। আবাহনীর কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি তখনই ফেলতে পেরেছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।
এই পেনাল্টি যেমন ভাগ্যক্রমে গোল উপহার দিয়েছে আবাহনীকে, তেমনি ম্যাচকে দিয়েছে নাটকের অনেক উপকরণ। আরামবাগের খেলোয়াড়দের দাবি, কুপারের হাতে বল লাগেনি; রেফারি পক্ষপাত দেখিয়ে পেনাল্টি দিয়েছেন। এই অজুহাতে আরামবাগের সব খেলোয়াড় চলে আসেন নিজেদের ডাগ-আউটের কাছে। সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। সাত মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। অবশেষে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাঁরা খেলতে রাজি হন। এরপরই সেই পেনাল্টি, ফ্রাঙ্কের ব্যর্থতার পর সামাদ ইউসুফে রক্ষা। ফ্রাঙ্ক পেনাল্টির ব্যর্থতা পরে পুষিয়ে দিয়েছেন ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোল করে।
লিগে ১৪তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জেমস মগার (১৬টি) পরই নাম লেখালেন ফ্রাঙ্ক, ছুঁলেন মুক্তিযোদ্ধার মিঠুনকে। এর আগে অবশ্য আরও একটি নাটক দেখেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। ৮৪ মিনিটে আরামবাগের কুপারের মুখে ঘুষি মেরে লাল কার্ড পেয়েছেন রবিন। বাকি ৬ মিনিট ১০ জনের আবাহনীর কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়তে পারেনি আরামবাগ।
লিগের এখন যে অবস্থা তাতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডি নিজেদের পরের তিন ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। এই জয়ে ১৮ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল আগের টানা তিনবারের শিরোপাজয়ী আবাহনী, তাদের বাকি আছে আরও চার ম্যাচ। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেখ জামাল। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে এর পরই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানেই আরামবাগ।
কাল ম্যাচের শুরু থেকে যেভাবে আক্রমণাত্মক খেলেছে আরামবাগ তাতে জয় নিয়ে ফেরার কথা ছিল তাদেরই। গিনির বাঙ্গুরা ইসমাইল বিজয়ের মঞ্চ সাজিয়েও দিয়েছিলেন। ১৩ মিনিটে খালেদ সাইফুল্লার থ্রো থেকে হেডে গোল করে প্রথমে এগিয়ে নেন দলকে (১-০)। কিন্তু অগ্রগামিতা ধরে রাখতে পারেনি আরামবাগ। আবাহনীর খেলোয়াড়দের গোল শোধের চেষ্টা, পরে অতিরক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়ার মাশুলই গুনেছে তারা। গোল খাওয়ায় প্রথমার্ধ শেষে তুলে নেওয়া হয় আবাহনীর নিয়মিত গোলরক্ষককে জিয়াউর রহমানকে। এই জিয়ার ভুলেই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে জেতা ম্যাচে ড্র করতে হয়েছে আবাহনীকে। কাল প্রথমার্ধ শেষে দর্শকদের দুয়ো শুনে হাত উঁচিয়ে গ্যালারির দিকে তেড়ে যান জিয়া। পরে তাঁকে ফেরান ক্লাব কর্মকর্তারা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন শহীদুল আলম।
আবাহনী কোচ আলী আকবর মনে করেন, আরামবাগ অতিরক্ষণাত্মক না খেললে সহজেই জিতত তাঁর দল, ‘এটা কোনো ফুটবল হলো! ওরা একেবারেই নেতিবাচক খেলেছে। রেফারি পেনাল্টি দিলে খেলা বন্ধ রেখে মাঠের পাশে গিয়ে বসে পড়েছে। যেন পাড়ার ফুটবল!’ দলকে শিরোপা লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন, কিন্তু শিরোপা নিয়ে তিনি ভাবছেন না, ‘শিরোপা নিয়ে এখন ভাবছি না। ওটা নির্ভর করছে অনেক “যদি” “কিন্তু”র ওপর।’ অসুস্থতার কারণে কাল খেলেননি আউডু ইব্রাহিম, ম্যাচে তার প্রভাব পড়েছে বলেও মনে করেন ইরানি কোচ। আরামবাগের কোচ শেখ জাহিদুর রহমানের দাবি, ‘ওটা পেনাল্টি হয়নি। এভাবে বড় দলকে রেফারি ফেবার করলে আমরা আর কী করব?’

আয়ারল্যান্ডের কাছে ইতালির হার

প্রীতি ম্যাচে অঘটনের শিকার ইতালি। পরশু বেলজিয়ামে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এদিন অনেকগুলো প্রীতি ম্যাচের মধ্যে অঘটন বলতে এই একটিই। ইতালির পরাজয়ের রাতে জিতেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও ব্রাজিল।
পরাজয়ের পেছনে অনেক অজুহাত দাঁড় করাতে পারেন ইতালির কোচ সিজারে প্রান্দেল্লি। এই সপ্তাহের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় ইউরো বাছাইপর্বের ম্যাচ সামনে রেখে দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন। ম্যাচের আগের ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠ হয়ে পড়েছিল পিচ্ছিল। তার ওপর একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকাররা। অবশ্য ইতালিয়ানদের আটকাতে আয়ারল্যান্ডের রক্ষণও দেখিয়েছে দারুণ দৃঢ়তা। ৩৫ মিনিটে কিথ অ্যান্ড্রুসের গোলে পিছিয়ে পড়ার আগেই গোলের দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিল ইতালি। ২৭ মিনিটে সে সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ জিয়ামপাওলো পাজ্জিনি। এর দুই মিনিট পর আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন আন্তোনিও নসেরিনো। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কক্স (২-০)।
ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এটি কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে স্পেনের ৪৪তম ম্যাচ। জয় ৩৯তম। ম্যাচের পাঁচ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন ডেভিড ভিয়া। ৩৫ মিটার দূর থেকে কিক নিয়েছিলেন বার্সা স্ট্রাইকার, বাঁক খেয়ে জালে ঢুকে যায় বল। রাউলকে (৪৪) ছাড়িয়ে আগেই স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসা ভিয়ার এটি ৪৭তম গোল। স্পেনের বাকি দুটি গোল করেছেন জাভি আলোনসো ও পেদ্রো রদ্রিগেজ।
একগাদা প্রীতি ম্যাচের এই রাতে রাশিয়া ক্যামেরুনের সঙ্গে এবং অস্ট্রেলিয়ার সার্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে। গোলশূন্য ড্র হয়েছে জাপান-চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচটিও।

কার্ডিফের ভূত তাড়াল শ্রীলঙ্কা

কার্ডিফের ভূতটাকে লর্ডসে কবর দিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা। অবশ্য পরশু লর্ডসের ব্যালকনিতে উঁকি দিয়েছিল সেই ভূতটা, ৯৬ রানে পড়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেট। ক্রিকইনফোতে এক ইংলিশ সমর্থক মন্তব্য করলেন, ‘কার্ডিফ-ধসটা যেন এখানেও নামে।’
না, নামেনি। কার্ডিফে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গিয়েছিল ২৪.৪ ওভারেই। পরশু তারও দ্বিগুণ ওভার অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস দিয়েছিলেন তাঁর বোলারদের। ৫৮ ওভার পেয়েছিলেন ট্রেমলেট-ব্রড-সোয়ানরা। কিন্তু ৪৩ ওভার পার হয়ে যাওয়াতেই নিশ্চিত হয়, কার্ডিফের ভূত এবার ভর করছে না। দুই দলই মেনে নেয় ড্র।
এই ড্রয়েও অনেক তৃপ্তি আছে শ্রীলঙ্কার। ইংল্যান্ডের জন্য আছে আক্ষেপ। ইনিংস ঘোষণা করতে কেন এত সময় নিলেন স্ট্রাউস—এই প্রশ্নটা উঠছেই। এই তৃপ্তি-অতৃপ্তির সমীকরণে শ্রীলঙ্কার জন্য দুঃসংবাদও আছে। সিরিজের শেষ টেস্টে তারা পাচ্ছে না অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশানকে। লর্ডসে দিলশানের প্রথম ইনিংসে করা ১৯৩ রানের ইনিংসটাই ম্যাচ বাঁচিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার। আর তাই অ্যালিস্টার কুকের দুই ইনিংসে ৯৬ ও ১০৬ রানের পরও ম্যাচসেরা এই সিরিজেই অভিষিক্ত লঙ্কান অধিনায়ক।
প্রথম ইনিংসেই ডান হাতের বুড়ো আঙুলে দুবার লেগেছিল ক্রিস ট্রেমলেটের বল। চিড় ধরা পড়েছে পরশু। খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে পরশু ব্যাট হাতে নিতেনই না। আর কাল নিশ্চিত হয়ে গেল দিলশানকে ছাড়াই ১৬ জুন সাউদাম্পটনে শুরু শেষ টেস্টটা খেলতে হবে সফরকারীদের। স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়া কুমার সাঙ্গাকারার কাঁধেই আবার বসছে নেতৃত্বের ভার।
নিজে সরে যেতে বাধ্য হওয়ার দুঃখ আছে। তবে দিন শেষে দিলশানের জন্য তৃপ্তি, এই ম্যাচে কার্ডিফের মানসিক বাধাটা শেষ পর্যন্ত জয় করতে পেরেছে তাঁর দল, ‘সব মিলে আমি সুখী। কার্ডিফের ম্যাচটার পর ব্যাটে-বলে আমরা ভালোই করেছি লর্ডসে।’ অন্যদিকে স্ট্রাউসকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে এক ইনিংস পর পর তাঁর বোলারদের জ্বলে ওঠার অধারাবাহিক ধারাবাহিকতা। এক ইনিংসে ভালো হয় তো পরের ইনিংসে মনে হয়, বোলিংয়ে কোনো ধারই নেই, ‘গত ১৮ মাসে আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করছিলাম আমাদের বোলারদের ধারাবাহিকতার জন্য। তবে বোলাররা তো আর যন্ত্র নয়, মানুষ। তাই হয়তো মাঝেমধ্যে তারা সেই ছন্দটা পায় না।’
তবে এই ম্যাচেও একটা প্রাপ্তি আছে ইংল্যান্ডের। বেশ সাবলীল খেলেছেন কেভিন পিটারসেন। তাঁর যম হয়ে ওঠা বাঁহাতি স্পিনেই শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন। তবে এর আগে করে গেছেন ৭২ রান। এই ইনিংসটাকেই রানের চেয়ে অনেক বড় মানছেন স্ট্রাউস, ‘ও যখন নামল, পরিস্থিতি সহজ ছিল না। কালো মেঘ ছিল। এ সময় লর্ডসে ব্যাটিং করা সহজ নয় মোটেও। কিন্তু সে দারুণ করল। আশা করি, ওর সুসময়টা শুরু হয়ে গেল।

হাসিমুখেই রোনালদোর বিদায়

১৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। সেই মিনিট পনেরোর মধ্যেই তাঁর ক্যারিয়ারের পুরো ফ্ল্যাশব্যাক যেন দ্রুত প্রদর্শিত হয়ে গেল। ক্যারিয়ারজুড়েই আছে বিশাল প্রাপ্তির সঙ্গে দুই চিমটি অপ্রাপ্তির আক্ষেপ। শেষটাতেও থেকে গেল তা-ই।
মিনিট পনেরোর মধ্যেও তিন-তিনটা সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। কিন্তু রোনালদো গোল করতে পারলেন না একটিও। অবশ্য তাঁর বিদায়ী ম্যাচ হয়ে ওঠা রোমানিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটা ব্রাজিল জিতল ১-০ গোলে। ফ্রেডের করা সেই গোলের সৌজন্যে সাও পাওলো থেকে জয় দিয়েই বিদায় নিতে পারলেন শুধু ব্রাজিলেরই নয়, ফুটবলেরই এক কিংবদন্তি!
সেই বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে ‘৯’ নম্বর পরে আবারও নামবেন। তাই রোনালদোকে মাঠ থেকে বিদায় দিতে উপচে পড়েছিল সাও পাওলোর গ্যালারি। ৩০ হাজার দর্শকের মাঝে প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে নেমে গেলেন রোনালদো। শরীরে মেদ, আগের সেই বাঘের ক্ষিপ্রতা নেই। তার পরও একটি দুটি ঝলক তাঁর ঠিকই দেখা গেল।
২১ মিনিটে গোল করা ফ্রেডকে তুলেই রোনালদোকে নামিয়েছিলেন কোচ মানো মেনেজেস। প্রথম গোলটির উৎস নেইমারই দারুণ একটা বল বানিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদো নামার তিন মিনিটের মাথায়। কিন্তু শট ঠেকিয়ে দেন রোমানিয়ার গোলরক্ষক। ৩৯ মিনিটে আবারও নেইমার। এবার রোনালদো একেবারে অরক্ষিত অবস্থায়। নিজের সোনালি দিনগুলোয় চোখ বন্ধ করেই এই পজিশন থেকে গোল করতে পারতেন। কিন্তু সেই দিনটা যে এখন ধূসর, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল আরও একটি ব্যর্থতায়। ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারলেন। আরও একবার গোলপোস্টের কাছাকাছি শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোনালদোর গোল না করতে পারার হতাশা পুরো গ্যালারিতে অনূদিত হয়েছে—‘আহ্’!
মাঝবিরতিতেই রোনালদোকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়ে দেয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। জাতীয় দলের হয়ে ৯৭তম বার মাঠে নেমেছেন। গোল করেছেন ৬২টি। পেলের পর ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল তাঁরই। বিশ্বকাপেই করেছেন ১৫ গোল, যেটি এখনো ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব ফুটবলেও কাটিয়েছেন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন। ক্লাবের হয়ে অজস্র শিরোপা। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাটাও বিশাল লম্বা।
সেই রোনালদোকে হাসিমুখে বিদায় নিতে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনাও করে নিতে হলো। দর্শকদের উদ্দেশে দেওয়া ছোট্ট বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি বললেন, ‘গোল করার বেশ কটি সুযোগ পেয়েছিলাম। দুঃখিত, ঠিকমতো সেগুলো গোল বানাতে পারিনি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই পুরো ক্যারিয়ারে আমাকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ায়। যখন আমি কেঁদেছিলাম, আমার সঙ্গে আপনারাও কেঁদেছেন। যখন হেসেছি, আপনারও হেসেছেন। আবারও শিগগিরই দেখা হবে। কিন্তু এর পর থেকে আমি সাইডলাইনেই থাকব। ব্রাজিলিয়ান হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্ব হয় আমার।’

ক্যাটিচ নেই সিএর চুক্তিতে, সাবেকেরা ক্ষুব্ধ

ব্যাপারটিকে অপ্রত্যাশিতই বলা যায়। নতুন মৌসুম সামনে রেখে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের যে তালিকা দিয়েছে, তাতে নেই সাইমন ক্যাটিচের নাম। অথচ গেল মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ব্যর্থতার মধ্যেও স্বীয় পারফরম্যান্স দিয়ে দারুণ ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়স্ক এই অসি ওপেনার। বয়সটা ৩৫ হয়ে যাওয়াতেই ক্যাটিচকে বলির কাঠে মাথা রাখতে হল বলে মানে করা হচ্ছে। ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে গেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটির প্রধান অ্যান্ড্রু হিলডিচের কথাতেও। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন একটি নতুন প্রজন্ম তৈরি করার প্রত্যয়ে রয়েছি। আমরা একটি নতুন উদ্বোধনী জুটি তৈরি করতে চাই যাঁরা আগামী অ্যাশেজ সিরিজে ফর্মের তুঙ্গে থেকে পারফর্ম করতে পারবে। ক্যাটিচের বয়সটা ৩৫ হওয়াতে তাঁকে এই প্রকল্প থেকে বাদই দিতে হয়েছে।’
তবে হিলডিচ যাই বলুন না কেন ব্যাপারটিকে যথেষ্টই সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। সমালোচনাটা এসেছে মূলত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট ক্রিকেটারদের কাছ থেকে। তাঁরা ক্যাটিচের বাদ পড়াটাকে ‘পৃষ্ঠদেশে ছুরিকাঘাত’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন। অনেকে বলেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ক্যাটিচকে একপ্রকার গলায় রশি লাগিয়েই ‘ঝুলিয়ে’ দিয়েছে।
মাইকেল স্ল্যাটার অস্ট্রেলিয়ার ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেছেন, ‘একমাত্র ইনজুরি ছাড়া ক্যাটিচকে বাদ দেওয়ার কোনেই কারণ নেই। এটা অনেকটা ওকে গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়েই দেওয়া হলো।’
১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপজয়ী অসি দলের কোচ বব সিম্পসন বলেছেন, ‘বয়স কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। নতুন প্রজন্মের দল তৈরি করতেও দুই-একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের দরকার হয়। ক্যাটিচের যে ফর্ম ছিল, তাতে সে এতে দারুণভাবে কাজে লাগত।’
সত্তরের দশকের শেষদিকে ক্যারি প্যাকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজে খেলতে গিয়ে যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় পুরো দলই নিষিদ্ধ, তখন ৪২ বছর বয়সে অসিদের অধিনায়কত্ব করতে হয়েছিল সিম্পসনকে। তাই বয়সের অজুহাত দেখিয়ে ক্যাটিচকে চুক্তির বাইরে রাখাটাকে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেছেন, ‘ক্যাটিচ নিজেকে প্রমাণ করেছিল, পারফরম্যান্স দিয়েই। যদি বয়সের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়—সেটা প্রচণ্ড অন্যায় হয়েছে।’
আরেক অস্ট্রেলীয় গ্রেট মার্ক ওয়াহও সোচ্চার ক্যাটিচকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে। তিনি বলেছেন, ‘ক্যাটিচের বয়স হয়তো ৩৫। কিন্তু, সে গত ১২-১৪ মাসে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সেটা ভুলে গেলে কি চলবে?’
অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক ম্যালকম কন একটি পত্রিকায় নিজের কলামে লিখেছেন, ‘ক্যাটিচ নির্বাচকদের কাছ থেকে অন্যায্য আচরণের শিকার হয়েছেন। ব্যাপারটি অনেকটা পেছন থেকে কাউকে ছুরি মারার মতো।’

বালাকের সঙ্গে বসবেন লো

গত বছর মার্চ মাসের পর জার্মানির সাদা-কালো জার্সি গায়ে আর খেলেননি মাইকেল বালাক। ইনজুরির কারণে গত বছরের বিশ্বকাপটাও মিস করেছেন এই প্লেমেকার। দেশের হয়ে ৯৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা আবারও জার্মান দলের হয়ে খেলবেন কি না—তা অবশ্য নির্ভর করছে কোচ জোয়াকিম লোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ওপর।
দুজনের মধ্যে অবশ্য কোনো সমস্যা নেই। লো মনেপ্রাণেই চান মাইকেল বালাক জার্মান দলে ফিরুন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ৩৪ বছর বয়সী এ তারকার বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেসের ওপর। ইংলিশ ক্লাব চেলসি থেকে ট্রান্সফার নিয়ে বায়ার্ন লেবারকুসেনের হয়ে এবারের মৌসুমটা অবশ্য তেমন ভালো কাটেনি বালাকের।
অচিরেই বালাকের সঙ্গে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় বসবেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে আলোচনাটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়ে যাওয়াই শ্রেয়।’
জার্মানি গত বিশ্বকাপে মাইকেল বালাককে ছাড়াই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সবার সমীহ আদায় করে নিয়েছিল সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে। সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেই ভঙ্গ হয়েছিল তাদের স্বপ্নযাত্রা। তৃতীয় ও চতুর্থস্থান নির্ধারণী ম্যাচে অবশ্য উরুগুয়েকে হারিয়ে তৃতীয় স্থানটা নিজেদের করে নেয় দলটি। এবারের ইউরো ২০১২ বাছাইপর্বেও এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি জার্মানিকে। গ্রুপে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগিয়ে চলেছে কোনো বাধা ছাড়াই। জোয়াকিম লো বলেছেন, বালাকের সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক ব্যস্ততা শেষে যখন ছুটিতে যাবেন, তখনই বসতে চান।
এদিকে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, মাইকেল বালাক নিজেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছেন। তিনি জোয়াকিম লোর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি চাউর করবেন। লোও নাকি বালাকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তবে বালাকের সঙ্গে এনিয়ে শেষ একটি আলোচনা সেরে নিতে চান।
এ ব্যাপারে তিনি নিজেও বলেছেন, ‘আমি বালাকের সঙ্গে আগে বসব। আমি কখনোই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে পছন্দ করি না।’ জোয়াকিম লোর শেষ মন্তব্যটিই বলে দিচ্ছে সবকিছু

চাপে রয়েছেন বাতিস্তা

জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষেই রয়েছে আর্জেন্টিনার নাম। কী দেশে, কী বিদেশে সব জায়গাতেই এ দলটিকে নিয়ে আলাদা একটি আগ্রহ পরিলক্ষিত। শুধু তা-ই নয়, প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এ দলটি মাঠে নামে একরাশ প্রত্যাশাকে সঙ্গী করে।
আগামী মাসে ঘরে মাঠে অনুষ্ঠিত হবে লাতিন অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা কোপা আমেরিকার আসর। আর এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দমবন্ধ এক প্রত্যাশার চাপ এরই মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ সার্জিও বাতিস্তা।
আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার বোঝাটা বড় করে চাপিয়েছেন দলের অন্যতম প্লে-মেকার কার্লোস তেভেজ। তিনি তো বলেই বসেছেন, ‘ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় এবারের কোপা আমেরিকার ট্রফিটা বাইরে চলে গেলে সমর্থকেরা আমাদের ক্ষমা করবে না।’
বাতিস্তা অবশ্য এতটা ভাবতে রাজি নন, তার পরেও তিনি যে চাপে রয়েছেন—তা তাঁর গলাতেই স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে আমাদের ওপর কোপা জয়ের চাপ থাকবে—এতে সন্দেহ নেই। সব আর্জেন্টাইনই প্রত্যাশা করে থাকবে, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।’
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বাতিস্তাকে আরও বেশি করে ভাবিয়ে তুলেছে। মোটামুটি দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে নাইজেরিয়ার কাছে ৪-১ ও পোল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের হার কেবল বাতিস্তা নয়, আর্জেন্টাইন সমর্থকদেরও কোপাতে প্রিয় দলের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। ১৯৯৩ সালের পর আর্জেন্টিনা কোনো বড় আসরের শিরোপা জেতেনি। দুয়েকবার অবশ্য অলিম্পিকের সোনা গলায় তুলেছে তারা, তবে সেগুলো জাতীয় দল নয়।
এদিকে নাইজেরিয়া ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সারির দল খেলিয়ে পরাজয়ের কারণে, খোদ আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানেরই সমালোচনা শুনতে হয়েছে বাতিস্তাকে। আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রধান হুলিও গ্রানদোনা অভিযোগ করেছেন, ‘বাতিস্তা আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের সম্মান প্রকাশ্যে নিলামে তুলেছেন।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ভারত জয়ী

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকদের জন্য আরও একটি হতাশার দিন ছিল কাল। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেও সূচনাটা ছিল দুর্দান্ত। সিমন্স, এডওয়ার্ডস, সারোয়ান, স্যামুয়েলসের ব্যাট হেসে যাচ্ছিল নিরন্তর। কিন্তু, মিডল অর্ডারে হঠাত্ই ছন্দপতন। যেখানে ৩৫ ওভারে ৩ উইকেটে উইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১৭৫ সেখানে ৫০ ওভারে ২৪০ রান তুলতেই সব শেষ। অধারাবাহিকতার আরও একটি নমুনা সবাই কাল দেখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে।
এ অধারাবাহিকতার পেছনে অবশ্য একজন ভারতীয় স্পিনারের ‘দায়ভার’ সবচেয়ে বেশি। অমিত মিশ্রই মূলত নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে শেষ করে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় রান সংগ্রহের সব প্রচেষ্টা।
অমিত মিশ্রের পাশাপাশি বিরাট কোহলি ও পার্থিব প্যাটেলের ব্যাটও কাল হেসেছে। সব মিলিয়ে ফলাফল ভারতের বিজয়। তবে জয়টা এসেছে ডাক ওয়ার্থ লইস পদ্ধতি অনুসরণ করে। ৩৭ ওভারে ১৮৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা সময় খেলা বন্ধ থাকার কারণে ভারতের লক্ষ্যমাত্রা ২৪১ রান থেকে কমে দাঁড়ায় ১৮৩ রান। তবে এ জন্য ১৩টি ওভারও কম খেলতে হয়েছে তাদের। এই লক্ষ্যে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ জয়ের ফলে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে রইল ২-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের এই বিজয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সুরেশ রায়না। তিনি পাওয়ার প্লেতে অমিত মিশ্রের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে অমিতের বোলিং ছিল “অবিশ্বাস্য”।’ অমিত মিশ্র ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়েই মূলত ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামান। এর পাশাপাশি মুনাফ প্যাটেল ৩৫ রানের বিনিময়ে নেন ৩ উইকেট। কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৮১ ও পার্থিব প্যাটেল ৫৬ রান করে ভারতকে এনে দেন আরো একটি প্রতাপান্বিত জয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সেরা পারফর্মার ছিলেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিমন্স ও রামনরেশ সারোয়ান। সিমন্স ৫৩ ও সারোয়ান ৫৬ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে।
ম্যাচ শেষে হতাশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি এ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে বলেছেন প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, ‘আজও আমাদের সংগ্রহ ছিল লক্ষ্যের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ রান কম।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪০/৯ (৫০ ওভার)
সিমন্স ৫৩, সারোয়ান ৫৬
মিশ্র ৪/৩১, মুনাফ ৩/৩৫
ভারত ১৮৩/৩ (৩৩.৪ ওভার/ ৩৭ ওভার)
কোহলি ৮১, পার্থিব প্যাটেল ৫৬
মার্টিন ১/২৯
(ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৭ উইকেটে জয়ী)

ঢাকা আসবে পূর্ণশক্তির আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য। বাফুফে আগেই নিশ্চিত করেছে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মাতাবেন মেসি-তেভেজরা। তবু কেন যেন ব্যাপারটি বিশ্বাস হতে চাচ্ছে না অনেকেরই। পুরো ব্যাপারটির মধ্যেই যে কেমন একটা ঘোর লাগা স্বপ্ন মিশে রয়েছে। ঢাকার মাঠে আর্জেন্টিনা! এ যে একসময়ের অলীক স্বপ্ন। তবে অর্থ খরচে যে অনেক কিছুই হয়, অনেক স্বপ্নই বাস্তবে রূপ লাভ করে, সেটা খুব সম্ভবত প্রমাণ করেই দিচ্ছেন বাফুফে সভাপতি ও বাংলাদেশের ফুটবল কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন।
সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে ঢাকায় আর্জেন্টিনার সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়া। ব্যাপারটি পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে নাইজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সাধারণ সম্পাদক মুসা আমাদু এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনার সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সেখানে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এই ম্যাচটি খেলার জন্য সম্ভব সব ধরনের কাগজপত্র সইটই করাও শেষ। আমরা এখন সেই দিনটির অপেক্ষায় রয়েছি।’
মুসা আমাদু আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া দুটি দলই পূর্ণশক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে যাবে। দুটি দলেই শীর্ষ তারকারা খেলবেন।’
গত সপ্তাহেই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় সারির দলকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে নাইজেরিয়া।

আবারও শ্রীলঙ্কা দলে জয়সুরিয়া

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে শেষবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন সনত্ জয়সুরিয়া। ৪২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনারকে যে আবারও শ্রীলঙ্কার হয়ে মাঠে নামতে দেখা যাবে এমনটা হয়তো কেউই ভাবে নি। কিন্তু সম্প্রতি ওপেনার উপল থারাঙ্গা ডোপ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় নতুনভাবে জেগে উঠেছে জয়সুরিয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এই মাসের শেষ থেকে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোর জন্য দলে ডাকা হয়েছে জয়সুরিয়াকে।
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড আজ বৃহষ্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘উপল থারাঙ্গার বিরুদ্ধে চলমান ডোপ বিতর্কের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। একারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে তিনি অনুপস্থিত থাকবেন।’
উপমহাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পান নি জয়সুরিয়া। এমনকি সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলের চতুর্থ আসরেও তাঁকে দলে ভেড়ায় নি কোন দলই। ৪৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৩,৪২৮ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বল হাতেও তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩২২টি উইকেট।
শ্রীলঙ্কা দল: তিলকারত্নে দিলশান, থিলানা কান্দাম্বে, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, সনাত্ জয়সুরিয়া, দিনেশ চান্দিমাল, জীবন মেন্ডিস, দিমুথ কারুনারাত্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, থিসারা পেরেরা, লাথিস মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারা, দিলহারা ফার্নান্দো, সুরাঙ্গা লাকমাল, সুরুজ রনদিভ, অজন্তা মেন্ডিস।