Thursday, June 12, 2025
পিউ রিসার্চের জরিপ: ২০১০-২০২০ সাল পর্যন্ত অন্য সব ধর্মের থেকে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ইসলাম ধর্ম
২০১টি দেশ এবং অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে যেখানে বিশ্বের ৯৯.৯৮% জনসংখ্যা বাস করে। সাতটি গোষ্ঠীর মানুষের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে : খ্রিস্টান, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, সকল ধর্মের অনুসারী এবং যারা কোনও ধর্মের সাথে পরিচিত নয়। দেখা গেছে এই দশকে মুসলিমদের (৩৪৭ মিলিয়ন) জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে , যা সমস্ত অমুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মিলিত সংখ্যার (২৪৮ মিলিয়ন) চেয়েও বেশি। প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী মোট বৌদ্ধদের সংখ্যাকে (৩২৪ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। মুসলিম জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির ফলে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান কমছে। ২০১০ সালে, বিশ্বের জনসংখ্যার ২৩.৯% ছিল মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল ৩০.৬%। ২০২০ সালের মধ্যে, মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ২৫.৬% এবং খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল ২৮.৮%। উচ্চ হারে ধর্মত্যাগের কারণে খ্রিস্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি ধীর হয়ে গেছে।
বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণ
মুসলমানদের মধ্যে সন্তান উৎপাদনের হার বেশি এবং তারা গড়ে অন্য যেকোনো প্রধান ধর্মের সদস্যদের তুলনায় কম বয়সী। ২০১৫-২০২০ সময়কালের তথ্যের উপর ভিত্তি করে, অনুমান করা হয়েছে যে একজন মুসলিম নারীর জীবদ্দশায় গড়ে ২.৯ সন্তান হয়, যেখানে প্রতি অমুসলিম নারীর ক্ষেত্রে এই হার ২.২। ২০২০ সালে, মুসলিমদের বিশ্বব্যাপী গড় বয়স অমুসলিমদের গড় বয়সের চেয়ে নয় বছর কম ছিল (২৪ বনাম ৩৩)।বিশ্বব্যাপী, মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনের সাথে মানুষের ধর্মান্তরিত হওয়ার খুব একটা সম্পর্ক নেই। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১১৭টি দেশ ও অঞ্চলে সংগৃহীত জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে, অনুমান করা হয়েছে যে মুসলিম হয়ে বেড়ে ওঠা প্রায় ১% মানুষ ধর্ম ত্যাগ করে। এই ক্ষতি পূরণ হয় তুলনামূলকভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের ইসলামে যোগদানের মাধ্যমে।
মুসলমানদের ভৌগলিক বণ্টন
২০২০ সালে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলিম বাস করত (১.২ বিলিয়ন), তারপরে মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে (৪১৪ মিলিয়ন)। তৃতীয় বৃহত্তম অঞ্চল হিসেবে সাব-সাহারান আফ্রিকার ৩৬৯ মিলিয়ন মুসলিম বাস করতেন। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা অনেক কম, যদিও ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের অমুসলিম জনসংখ্যার তুলনায় তারা অনেক দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে যে অঞ্চলে মুসলিমরা জনসংখ্যার সবচেয়ে বেশি ছিল তা হল মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা, যেখানে তারা আঞ্চলিক মোট জনসংখ্যার ৯৪% ছিল। যদিও ইসলাম এই অঞ্চলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তবুও এখানে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বাস করে। ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের বাইরে: ইন্দোনেশিয়া (২৩৯ মিলিয়ন), পাকিস্তান (২২৭ মিলিয়ন), ভারত (২১৩ মিলিয়ন) এবং বাংলাদেশ (১৫১ মিলিয়ন)। বিশ্বব্যাপী, ৫৩টি দেশ এবং অঞ্চলে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত: আর কত পর্যটকের মৃত্যু দেখতে হবে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত বলা হলেও কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্ভবত সবচেয়ে করুণই বলতে হবে। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মাত্র পাঁচ কিলোমিটারে কিছু লাইফগার্ড ও বিচকর্মী থাকেন, বাকি সৈকত এলাকা একেবারেই অরক্ষিত। বিশেষ করে টেকনাফ, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর—সব জায়গায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও নেই কোনো সমন্বিত উদ্ধারব্যবস্থা। পর্যটকেরা গুপ্তখালের হুমকি বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন।
সরকার, হোটেল-মোটেলের মালিক, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি—সবাই এই বিশাল পর্যটনশিল্প থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করছে। কিন্তু সেই আয়ের ন্যূনতম অংশও পর্যটকের জীবনের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে না। এই অবহেলা অমার্জনীয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বছরে কয়েক শ কোটি টাকা আয়ের বিনিময়ে কি একটি সি-নেটিং ব্যবস্থা, আধুনিক লাইফগার্ড ইউনিট বা পর্যাপ্ত মনিটরিং টাওয়ার তৈরি করা যায় না?
বিশ্বের উন্নত সমুদ্রসৈকতগুলোতে নির্দিষ্ট সুইমিং জোন থাকে, যেখানে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। বাংলাদেশেও এক যুগ আগে এমন এক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কয়েক মাসেই ঢেউয়ের ধাক্কায় ধ্বংস হয় এবং তারপর আর কেউ ফিরে তাকায়নি। অথচ ভাঙনরোধ ও নিরাপদ গোসলের জন্য প্রযুক্তিগত ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব।
শুধু প্রশাসন নয়, হোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পর্যটন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি অংশীদারও দায় এড়াতে পারেন না। পর্যটকেরা শুধু নিজেরা সচেতন থাকাই যথেষ্ট নয়, তাঁদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও মনিটরিং ক্যামেরা এখানে যুক্ত করা উচিত। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী বা খণ্ডকালীন লাইফগার্ড বা বিচকর্মী নিযুক্ত করা যেতে পারে।
যদি পর্যটক সৈকতে গিয়ে প্রাণ হারান, তাহলে সেটির দায় কেবল ‘নিজ দোষে দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। পর্যটক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ, উদ্ধার এবং সেবার জন্য জরুরি তহবিল গঠন করা হোক। হোটেলমালিকদের নিয়েও একটি সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা হোক, যাতে তাঁরা নিরাপদ পর্যটনে অংশ নেন। মানুষ আনন্দ করতে পরিবার–স্বজন–বন্ধু নিয়ে ঘুরতে গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, তা মানা যায় না। আমরা কক্সবাজারে আর কোনো পর্যটকের মৃত্যু দেখতে চাই না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েল-সমর্থিত গ্যাংয়ের ৫০ সদস্য নিহত, গাজায় গৃহযুদ্ধের শঙ্কা
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গাজার রাফাহ অঞ্চলে মঙ্গলবার ভোরে হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইয়াসের আবু শাবাবের নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষ হয়। আবু শাবাব স্থানীয়ভাবে একজন অপরাধী হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলের আই টোয়েন্টিফোর নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, আবু শাবাবকে হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘর্ষ হয়, যাতে উভয় পক্ষের লোকজন নিহত হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, হামাসকে দুর্বল করতে তারা আবু শাবাবের গ্যাংকে অস্ত্র দিয়েছে। মানবিক সহায়তাকারীদের মতে, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা এর আগেও জাতিসংঘের সাহায্যবাহী ট্রাক লুট করেছিল।
চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি ড্রোন হামাসের চার সদস্যকে টার্গেট করে হত্যা করে। আই টোয়েন্টিফোর এই হামলাকে- ‘ইসরায়েলের প্রথম হামলা যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আবু শাবাব মিলিশিয়াকে সহায়তা করা’ বলে উল্লেখ করে।
আবু শাবাবের গ্যাং, যা ‘অ্যান্টি-টেরর সার্ভিস’ বা ‘পপুলার ফোর্সেস’ নামে পরিচিত, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা সাহায্যবাহী কনভয় পাহারা দিতে গিয়ে এবং করাপ্ট হামাস সংস্থাগুলোর হাত থেকে ত্রাণ সামগ্রী পুনরায় বিতরণ করতে গিয়ে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবককে হারিয়েছি, যাদের মধ্যে আমাদের নেতা ইয়াসেরের আত্মীয়রাও রয়েছে।
তারা আরও জানায়, আমরা এলাকা থেকে বিস্ফোরক সরাতে গিয়ে আরও সদস্য হারিয়েছি।
ইসরায়েলি মিডিয়া ইয়েনেত জানিয়েছে, এই গ্যাং হামাসের ‘অ্যারো ইউনিট’-এর ছয় সদস্যকে হত্যা করেছে। এই ইউনিটটি ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করে থাকে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের সময় আবু শাবাব গাজার একটি হামাস-নিয়ন্ত্রিত জেলে মাদক পাচারের অভিযোগে বন্দি ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে কীভাবে তা ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে ইসরায়েলের অস্ত্রধারী এই গ্যাং পূর্ব রাফাহে শতাধিক সদস্য নিয়ে সক্রিয়।
গাজার সামাজিক মাধ্যমে আবু শাবাবকে ‘ইসরায়েলি এজেন্ট’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামাস তাকে ও তার অনুসারীদের হত্যার ঘোষণা দিয়েছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি দখলদার বাহিনীর বিমান হামলায় বিশ্বাসঘাতক ইয়াসের আবু শাবাব রক্ষা না পেত, তবে সে আজ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ত।’
তারা আরও জানায়, আমরা বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করবই, যত সময়ই লাগুক না কেন। দখলদার বাহিনীর নিরাপত্তা চিরস্থায়ী নয়।
এদিকে, আবু শাবাবকে অস্ত্র দিয়ে সমর্থন করার এই পদক্ষেপ গাজাকে গৃহযুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা (আনসারুল্লাহ গোষ্ঠী) মঙ্গলবার ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হামলায় ব্যবহৃত হয় একটি ‘প্যালেস্টাইন-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ‘জুলফিকার’ ক্ষেপণাস্ত্র। এর মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বিমানবন্দরে আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়।
এই হামলার পর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, অবশিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা স্থগিত রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরের কাছে একটি স্থাপনায় হামলা চালায়। ইসরায়েল দাবি করে, স্থানটি ছিল অস্ত্র পরিবহনের ঘাঁটি।
যুদ্ধ চলতে থাকলেও হুতিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এই হামলাকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি হিসেবে উল্লেখ করছে।
![]() |
| গাজায় ইসরায়েলি সৈন্যরা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিতর্কিত কেন্দ্রে ত্রাণের আশায় গিয়ে প্রাণ গেল আরও ৪০ ফিলিস্তিনির
গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্সের’ বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে ৩১ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ২০০ জন। মধ্য গাজার ‘নেতজারিম করিডর’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘আমেরিকান সাহায্য কেন্দ্র থেকে খাবার নিতে যাওয়ার সময় কয়েক হাজার নাগরিকের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক ও ড্রোন হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমরা শহীদ অন্তত ৩১ জনের মরদেহ এবং প্রায় ২০০ জন আহতকে উদ্ধার করেছি।’
মাহমুদ বাসাল বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত খাবার বিতরণকেন্দ্রের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। কয়েক দফা ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ভোর সাড়ে পাঁচ গোলাবর্ষণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করেও বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ছাড়া গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা এলাকায় ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল–জাজিরা জানিয়েছে। নাসের হাসপাতালের বরাত দিয়ে এ কথা জানানো হয়।
গুলিবর্ষণে কথা স্বীকার করে বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে একটি বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এতে বলা হয়, নেতজারিম করিডর এলাকায় রাতে সেনারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছে।
মার্কিন দূতের বিতর্কিত প্রস্তাব
ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের কিছু ভূমি ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত ভূমির চেয়ে ৬৪৪ গুণ বেশি জমি রয়েছে।
কট্টর ইহুদিবাদী কূটনীতিক হাকাবি আগে থেকেই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণার প্রবল সমর্থক। তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলেরস্থায়ী কর্তৃত্ব চান এবং পশ্চিম তীরকে বর্ণনা করতে বাইবেলের ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ শব্দযুগল ব্যবহার করেন।
এই মার্কিন কূটনীতিকের কিছু বক্তব্য ইসরায়েলের কিছু গোষ্ঠীগুলোর মতোই যারা দাবি করে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে আরব বা মুসলিম দেশগুলোয় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা যেতে পারে।
![]() |
| ফিলিস্তিনের গাজার একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে খাবারের আশায় ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড়। ত্রাণ প্রবেশ করতে না দেওয়ায় অবরুদ্ধ এই উপত্যকার গোটা জনগোষ্ঠী দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গতকাল মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকায়। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিডনি যেভাবে ভালো রাখবেন by অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ
কিডনি নিয়ে লিখতে বসে সজীবের কথা মনে পড়ে গেল। ২৬ বছরের টগবগে তরুণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে মাস্টার্স করে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করত। একদিন মাথা নিচু করে সামনে বসে বলল, ‘স্যার, খুব দ্রুত হাঁপিয়ে যাই। মাত্র বিয়ে করেছি, শ্বশুরবাড়ির এত দাওয়াত, কিন্তু খেতে পারি না, বমি বমি লাগে।’
পরীক্ষা করে দেখি রক্তচাপ অনেক বেশি, ফ্যাকাসে চেহারা, রক্তশূন্যতা। পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে দেখা গেল, ৯৫ ভাগ কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। সে টেরই পায়নি। ঘাতক ব্যাধি নীরবে তার কিডনি শেষ করে দিয়েছে।
তেমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে বিকল হয়ে যেতে পারে কিডনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কিডনি রোগ ক্রমাগত বেড়ে চলছে। কিডনি রোগের কারণে শুধু ব্যক্তিগত জীবনই বিপর্যস্ত হয় না, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও বিশাল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।
কিডনি রোগের কারণ
কিডনি রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো—অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ ও কিডনির পাথর। একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায়, প্রায় সব কটি কারণই আমাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত। একটু সচেতন হলেই এগুলো প্রতিরোধ করা যায়। তবে সজীবের ঘটনা একটু ভিন্ন। সজীবের মূত্রতন্ত্রে জন্মগত একটি ত্রুটি ছিল। যদি তার মা–বাবা একটু সচেতন থাকতেন, তাহলে ছোট্ট একটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুকালেই তা ঠিক করা যেত। আজ তার এই পরিণতি হতো না।
উপসর্গ ও লক্ষণ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সজীবের মতো ৭০ থেকে ৯০ ভাগ নষ্ট হওয়ার আগপর্যন্ত কিডনি বিকল হওয়ার কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় না। তারপরও যেসব লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে কিডনি আক্রান্ত মনে করতে হবে—
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং পরিবর্তন।
* পা, পায়ের গোড়ালি ও চোখের নিচে ফোলা ভাব।
* অবসাদ ও দুর্বলতা।
* শ্বাসকষ্ট।
* বমি বমি ভাব বা বমি, অরুচি।
* বিনা কারণে গা চুলকানো।
* রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাবে ফেনা বা প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব।
* মেরুদণ্ডের কোনো এক পাশে অথবা তলপেটে ব্যথা।
এ ছাড়া শিশুদের জন্মগত কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা ও প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা জরুরি।
কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধে
কিডনি একবার সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেলে বেঁচে থাকার উপায় ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় এত বেশি যে এ দেশের শতকরা ১০ ভাগ রোগীও তা বহন করতে পারেন না। অন্য দিকে, একটু সচেতন হলেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা ও সুস্থ জীবনচর্চার মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এই বৈকল্য ঠেকানো যায়।
প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করতে হলে কারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন, আগে তা জানতে হবে। যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বংশগত কিডনি রোগ আছে; যাঁরা ধূমপায়ী, মাদকসেবী; যাঁদের ওজন বেশি, বেশি দিন যাঁরা ব্যথার ওষুধ নিয়েছে, বারবার কিডনিতে পাথর বা মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ হয় যাঁদের, শিশুকালে যাঁদের কোনো কিডনি রোগ ছিল, এমন কি ৪০ বছরের ওপর যাঁদের বয়স, তাঁরা সবাই কিডনি বৈকল্যের ঝুঁকিতে আছেন। বছরে দুইবার মাত্র দুটি পরীক্ষা করলেই প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। প্রথমটি হলো প্রস্রাবে আমিষ যায় কি না, তা পরীক্ষা করা এবং দ্বিতীয়টি হলো রক্তের ক্রিয়েটিনিন। ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট থেকে হিসাব করে বের করা যায়, ১০০ ভাগে কত ভাগ কিডনি কাজ করছে বা ইজিএফআর (কিডনি রোগ কোন স্তরে আছে, তার পরীক্ষা) স্কোর।
সচেতন হন, সুস্থ থাকুন
কিডনি রোগের হার ব্যাপক এবং কিডনি বিকল হওয়ার পরিণতি ভয়াবহ। চিকিৎসা না করলে মৃত্যু অবধারিত, আবার চিকিৎসা করতে গেলে আর্থিকভাবে নিঃস্ব বা দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা। পক্ষান্তরে আমরা যদি সচেতন হই, সুস্থ জীবনধারার চর্চা করি, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই মরণব্যাধি ঠেকাতে পারি। তাই কিডনি রোগ সম্পর্কে জানতে হবে, সবাইকে জানাতে হবে, বিনিময়ে নিজে পাবেন সুস্থ দীর্ঘ জীবন, দেশ পাবে কর্মঠ ও শক্তিশালী সুস্থ–সবল জাতি।
কিডনি ভালো রাখার ৮টি উপায়
* রুটিন করে নিয়মিত ব্যায়াম করা বা সচল থাকা। দিনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সপ্তাহে ৫ দিন জোরে হাঁটা।
* পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত শাকসবজি ও ফল খাওয়া, চর্বিজাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া।
* ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা ও প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা এবং রক্তের হিমোগ্লোবিন এ-ওয়ান সি (HbA1c) সাতের মধ্যে রাখা।
* চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথার ওষুধ সেবন না করা।
* ধূমপান ও মাদক বর্জন।
* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রেগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ছয় মাস অন্তর পরীক্ষা করা।
* উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে (১৩০/৮০–এর নিচে আর যাঁদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে, তাঁদের ১২০/৭০–এর নিচে) রাখা। সুপ্ত উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না, নিয়মিত তা পরীক্ষা করতে হবে।
* পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি খাওয়া, পানিশূন্যতা পরিহার।
অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ, সভাপতি, কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) এবং অধ্যাপক, কিডনি রোগ বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
| বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিডনির রোগ। ছবি: কবির হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নিন্দা ও ক্ষোভ
বুধবার (১১ জুন) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। নিচে তা তুলে ধরা হলো౼
পোস্টে আইন উপদেষ্টা লেখেন, কয়েক দিন আগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায়ন বিষয়ক ভুল সংবাদের জেরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এই ঝড়ের অন্যতম শিকার হয় আমার পরিবারের সদস্যরা। দু-একজন তাদের ধিক্কার দিতে থাকে, কীভাবে এই আইন করলাম আমি! তারা বলে, এটা তো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় করেছে! কিন্তু সমালোচকরা নাছোড়বান্দা! না, আইনটিতে তো লেখা আছে আইন মন্ত্রণালয়ের নাম।
নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমি জানি, এ রকম বহু শিক্ষিত মানুষ আছে সমাজে। তাদের কাছে সবিনয়ে বলি, অন্য যেকোনো মন্ত্রণালয় যে অধ্যাদেশই করুক না কেন, তা জারি করতে হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। আমাদের রুলস্ অব বিজনেস অনুসারে এটাই বিধান। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে এটাই হয়। বাংলাদেশে এনবিআর নিয়ে যে আইনটা (অধ্যাদেশ) হয়েছে, তা করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হওয়ার পর এটা জারি করতে হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়কে। সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নিয়ে যে আইন, তাও করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু এটা জারি করতে হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়কে।
অধ্যাদেশ আকারে যত আইন অতীতে হয়েছে, সেগুলো আইন মন্ত্রণালয় জারি করেছে। ভবিষ্যতে যেসব অধ্যাদেশ হবে, সেগুলোও আইন মন্ত্রণালয়কে জারি করতে হবে। এ জন্য গেজেটের প্রথম পাতায় আইন মন্ত্রণালয়ের নামই থাকবে। কিন্তু তার মানে এটি নয় যে আইন মন্ত্রণালয় আইনগুলো করেছে বা এটি আইনগুলোর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয় নিজস্ব উদ্যোগে আইন করেছে কেবল এ মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিভুক্ত বিষয়ে। যেমন, দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনী আইন বা উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। কিন্তু অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের নেই। আছে শুধু জারি করার দায়িত্ব। এটি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা।
আইন তো তবু কিছুটা খটমটে বিষয়। কিন্তু সাদামাটা, সহজবোধ্য যে কোনো বিষয়েও আমাকে নিন্দা করার প্রবণতা আছে সমাজের কিছু মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের যে কোনো কাজের সমালোচনা যদি আমাকে করা হয়, তাহলে যে কোনো ভালো কাজের প্রশংসাও আমাকে কেন করা হয় না?
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি কীভাবে বিদেশে গেলেন এই দায় যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না দিয়ে আমাকে দেওয়া হয়, তাহলে দ্রব্যমূল্য যে স্থির রয়েছে, এই প্রশংসাও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে না দিয়ে আমাকে দিতে হবে। কিন্তু এর কোনটিই আসলে করা ঠিক নয়।
আমার কাজের জন্য নিন্দা/প্রশংসা আমাকে করবেন, অন্যর কাজের জন্য অন্যকে। যেকোনো কাজের সামগ্রিক দায়দায়িত্ব আমাদের গোটা সরকারের। কিন্তু যদি নির্দিষ্টভাবে একজন উপদেষ্টাকে দায়ী করা হয়, তাহলে সেটি শুধু তার মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত বিষয়ে করা উচিত।
যারা নিন্দা করেন, কুৎসা রটান, এর মধ্যে হয়তো কোনো আনন্দ খুঁজে পান। কিন্তু এটা অন্য কাউকে এমন কষ্ট দিতে পারে, যা আপনি নিজে কখনও বহন করতে চাইবেন না। এটি মনে রাখা ভালো।
আসিফ নজরুল বলেন, আমি জানি ‘অপরের মুখ ম্লান ক’রে দেওয়া ছাড়া প্রিয় সাধ নেই’౼এমন মানুষ আছে সমাজে। যারা এমন না, তাদের কাছে অনুরোধ, কারও নিন্দা করার আগে একটু জেনে নিন। আল্লাহ আছেন, আমাদের সবাইকে একদিন জবাব দিতে হবে।
![]() |
| আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার ইসরায়েলি দুই উগ্রপন্থি মন্ত্রীর ওপর ৪ দেশের নিষেধাজ্ঞা
মঙ্গলবার (১০ জুন) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই দুই মন্ত্রী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বারবার সহিংসতা উসকানির জন্য দায়ী। খবর রয়টার্স।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে মিল রেখে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন-গাভির, যিনি ওয়েস্ট ব্যাংকের বসতি স্থাপনকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্মোটরিচের সম্পদ ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইতামার বেন-গাভির ও বেজালেল স্মোটরিচ চরমপন্থি সহিংসতা কার্যক্রমে উসকানি এবং প্যালেস্টাইনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনায় জড়িত। এই ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছি এবং দায়িত্বশীলদের দায়বদ্ধ করেছি।
অপরদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকার আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি বিশেষ সভা করে এই ‘গ্রহণযোগ্য নয় এমন সিদ্ধান্তের’ বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী স্মোটরিচ হেব্রন হিলসে একটি নতুন বসতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের এই পদক্ষেপকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় উল্লেখ করে বলেছেন, ব্রিটেন আমাদের ভূমির জন্মভূমিতে বসতি গড়া থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেছে, আমরা সেটা মেনে নেব না। আমরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাব।
ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর গাজায় মানবিক সাহায্যের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা গাজার জন্য এই অবরোধের কারণে সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের সতর্কতা দিয়েছেন।
এই নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের উগ্রপন্থি নীতিমালা ও তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন-গাভির বর্তমানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়কমন্ত্রী এবং স্মোটরিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। উভয়েই চরমপন্থি ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচিত।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাজ্যে তাদের যে কোনো সম্পদ জব্দ করা হবে এবং ব্রিটেনে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হবে।
এর আগে গত মে মাসে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি, পশ্চিমতীরের উগ্র সেটেলারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বর সামরিক অভিযান চালানোর প্রতিবাদে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ডেভিড ল্যামি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু গাজার জনগণকে এক কোণায় ঠেলে দিচ্ছেন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছেন না।
অপরদিকে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্পর্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্মোটরিচ গাজাকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন, এমনকি ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের কথাও বলেছেন। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের মাধ্যমে গাজা ‘পরিষ্কার’ করার কথা বলেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলছি- এটি চরম উগ্রপন্থা, এটি বিপজ্জনক, এটি ভয়ংকর। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জবাবদিহির চাপ তৈরি করবে।
![]() |
| বেজালেল স্মোটরিচ এবং ইতামার বেন-গাভির। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রেটা ও তার সহকর্মীদের ইসরাইলে প্রবেশে ১০০ বছরের নিষেধাজ্ঞা
এদিকে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ এনেছেন গ্রেটা। তবে ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন যে পরিমাণ নির্যাতন সহ্য করেন এর সঙ্গে তুলনা করলে নিজের বন্দির বিষয়টি তেমন কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ইসরাইলের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন আল জাজিরার সাংবাদিক ওমর ফাইয়াদ। প্যারিসে পৌঁছানোর পর তিনি বলেছেন, আমাদেরকে টানা তিনদিন কারারুদ্ধ রাখা হয়েছিলো। কারোর সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেয়া হয়নি। এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গেও না। আমাদেরকে জোর করে একগুচ্ছ নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। আমরা জানিও না ওই নথিগুলোর বিষয়বস্তু কী? ফরাসি কনসালের তরফে আমাকে ওই নথিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয় এবং আমি স্বাক্ষর করি বলে জানিয়েছেন ওমর। এদিকে গ্রেটা ও তার সহকর্মীদের হয়ে আইনি লড়াই করা অধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ জানিয়েছে, ইসরাইল গ্রেটা ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা অবৈধভাবে সেখানে প্রবেশ করেছে। আদালাহ’র তরফে আরও বলা হয়েছে, ম্যাডলিন আক্রমণ ও নিরস্ত্র সেচ্ছাসেবীদের গ্রেপ্তার করে ইসরাইল আন্তার্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচ্ছেদ গুঞ্জনের মাঝে মেয়ের জন্মদিন: নিজের পরিচয়ে বড় হতে চান ওবামা-মিশেলের কন্যারা
ইনস্টাগ্রামে দেয়া পোস্টে মিশেল লিখেছেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমার মিষ্টি সাশাকে! বিশ্বাস করতে পারছি না সময় কত দ্রুত চলে গেছে। তুমি যে রকম একজন নারী হয়ে উঠেছো, তাতে আমি গর্বিত। সবসময় ভালোবাসি!
৩২ বছর ধরে বিবাহিত এই দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস ধরেই মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে মিশেল গত মাসে ‘দ্য ডায়েরি অব এ সিইও’ নামের এক পডকাস্টে সরাসরি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, যদি আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে সত্যি কোনো সমস্যা থাকত, সবাই তা জানতেন।
উল্লেখ্য, ওবামা দম্পতির বড় মেয়ে মালিয়া ওবামা এখন নিজের পেশাগত পরিচয়ে পিতার পদবি বাদ দিয়ে ‘মালিয়া অ্যান’ নাম ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে মিশেল বলেন, তিনি মালিয়ার নিজস্ব পথ তৈরি করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন এবং চান তার মেয়েরা নিজেদের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক।
তবে গুজব আরও বেড়ে যায় মিশেল ওবামার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে। যেমন- ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শেষকৃত্যে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মার্চ মাসের এনবিএ অল-স্টার গেমেও তাদের পারিবারিক উপস্থিতি দেখা যায়নি, যা অতীতে একটি সাধারণ বিষয় ছিল। তবে এই গুঞ্জনের মাঝে দুই সপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্কে এবং তার আগে ওয়াশিংটনে ডিনার ডেটে ওবামা দম্পতিকে একসঙ্গে দেখা গেছে। যদিও সামাজিক মাধ্যম এবং ট্যাবলয়েড সংবাদমাধ্যমে এই দম্পতিকে নিয়ে ‘বিচ্ছেদের পথে’ এমন শিরোনাম বাড়তেই থাকে।
মিশেল সম্প্রতি আরও জানিয়েছেন যে, তিনি এখন থেরাপি নিচ্ছেন। কারণ তিনি জীবনের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছেন। অন দ্য জে শেঠি পডকাস্টে তিনি বলেন, আমি এখন ৬০ বছরের একজন নারী, একটি কঠিন অধ্যায় পার করে এসেছি। আমার পরিবার অটুট রয়েছে, আমার মেয়েরা স্বাধীন। আমি এখন নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। মিশেল ব্যাখ্যা করেন যে, এখন তিনি অন্য এক রূপে নিজেকে আবিষ্কার করছেন। তিনি বলেন, এখন আর ‘আমার স্বামী বা সন্তানদের জন্য আমাকে করতে হবে’- এই অজুহাত নেই। এখনকার প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমার নিজের। তাই থেরাপি নিচ্ছি যেন পুরনো অভ্যাস ভাঙতে পারি, অপরাধবোধ কমাতে পারি এবং নতুন করে নিজেকে গড়তে পারি।
তিনি এটাও জানান, তার দুই কন্যা- মালিয়া ও সাশা তাদের ‘বিশেষ পরিচয়’ থেকে বের হয়ে নিজস্ব পরিচয় তৈরির চেষ্টা করছে। মিশেল বলেন, তারা চায় না মানুষ মনে করুক যে তারা শুধুই সুযোগ পেয়েছে, তারা চায় লোকে জানুক তারা কঠোর পরিশ্রম করছে। তবে মালিয়ার স্টেজনেম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে মিশেল বলেন, আমরা দু’জনেই (বারাক ও আমি) ওকে বলেছি- ‘তবুও মানুষ বুঝে যাবে এটা তুমিই, মালিয়া’।
মালিয়া ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘দ্য হার্ট’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে পারিবারিক টানাপড়েনের গুঞ্জনের মাঝেও ওবামা পরিবার নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে- মেয়েদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিসত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্ককে মূল্য দিয়ে আগাচ্ছে জীবনের নতুন পথে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভ নিয়ে এ পর্যন্ত যা কিছু জানা গেছে
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জন্ম নিলেও গত সোমবার ট্রাম্প আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও ৭০০ মেরিন সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের লাতিন জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বড় সংখ্যায় অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার শুরু করলে লোকজন এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন।
শুরুতে এসব বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা একটি প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং চালকবিহীন কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সোমবার সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে কেন বিক্ষোভ হচ্ছে
গত শুক্রবার ফেডারেল ইমিগ্রেশন সংস্থা (আইসিই) লস অ্যাঞ্জলেসের লাতিন জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় অভিযান শুরু করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরই লস অ্যাঞ্জেলেসে ধরপাকড় বেড়ে যায়।
বিবিসির সহযোগী মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক ও প্যারামাউন্ট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্যারামাউন্ট শহরের ৮২ শতাংশের বেশি বাসিন্দা হিসপ্যানিক।
প্যারামাউন্টের একটি হোম ডিপো শপে আইসিই অভিযান চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায়। তবে কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, এ তথ্য সঠিক নয়।
পরে আইসিই সিবিএসকে জানায়, গত শুক্রবার অভিবাসীদের একটি কর্মস্থলে অভিযান চালিয়ে ৪৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিন লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের কোথায় বিক্ষোভ হচ্ছে এবং সেখানে কী ঘটছে
বিক্ষোভ মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ ছিল। কয়েক দিনের সংঘর্ষের পর পুলিশ সেখানে সমাবেশ বেআইনি ঘোষণা করে।
গত রোববার বিভিন্ন যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনীর ওপর অগ্নিসংযোগকারী সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। দাঙ্গা মোকাবিলার বিশেষ পোশাক পরা পুলিশ কর্মকর্তারা ‘ফ্ল্যাশ-ব্যাং’ গ্রেনেড ও ‘পিপার স্প্রে’ ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভের কারণে কিছুক্ষণের জন্য ১০১ ফ্রিওয়ে (একটি প্রধান সড়ক) বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে লুটপাটের খবর আসে।
শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ফেডারেল ভবনে আইসিইর অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত শনিবার সংস্থাটি হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ভবনটি ঘেরাও করা ও হামলার অভিযোগ তুলেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে ৩২ কিলোমিটারের মতো দক্ষিণে প্যারামাউন্ট এলাকার একটি খুচরা নির্মাণসামগ্রীর দোকান (হোম ডিপো) বিক্ষোভের বড় আরেকটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার সেখানে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদা গ্যাসের শেল ও ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ছোড়ে। রোববার সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ড ওই এলাকার কাছাকাছি একটি ব্যবসাকেন্দ্র পাহারা দেয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানায়, তারা শনিবার ২৯ জন ও রোববার ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে রোববার সান ফ্রান্সিসকোতে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সোমবারও বিক্ষোভ চলেছে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে বিক্ষোভ অনেকটা শান্ত হয়ে আসে এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল ও সহিংস ঘটনা—উভয়ই কমে আসে।
লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অন্যান্য এলাকায় জীবনযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। তবে এলএ প্রাইড প্যারেড উপলক্ষে কিছু সড়ক সপ্তাহান্তে বন্ধ রাখা হয়।
ন্যাশনাল গার্ড কী এবং কেন ট্রাম্প তাদের মোতায়েন করলেন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম উপকূলের শহরটিতে সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প আরও দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করার নির্দেশ দেন। বাড়তি সহায়তা হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনও ৭০০ মেরিন সদস্য ডেকেছে।
ন্যাশনাল গার্ড যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইব্রিড বাহিনীর মতো কাজ করে। এটি একযোগে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য উভয় সরকারের অধীন কাজ করে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গভর্নরের অনুরোধে কোনো রাজ্যে এ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।
তবে ট্রাম্প এসব প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে বিরল ব্যবহৃত একটি ফেডারেল আইন কার্যকর করেন। তিনি যুক্তি দেখান, চলমান এ বিক্ষোভের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একধরনের বিদ্রোহ’ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এবারই কোনো গভর্নরের অনুরোধ ছাড়া ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হলো।
এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশই যথেষ্ট ছিল।
নিউসম ওই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘আগুনে ঘি ঢালার শামিল’ উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সোমবার করা এ মামলায় ক্যালিফোর্নিয়া সরকার অভিযোগ করেছে, গভর্নরের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধানের দশম সংশোধনী অনুযায়ী, সংবিধানে ফেডারেল সরকারকে যেসব ক্ষমতা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি, সেসব রাজ্য সরকারগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এ মোতায়েনকে ‘বাস্তবতা বিবর্জিত উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত’ ও ‘ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে সিবিএস নিউজ/ইউগভ-এর এক জরিপ অনুযায়ী, জুনের শুরুতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে ৫৪ শতাংশ মার্কিন ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তবে অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৪২ শতাংশের এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় তাঁর নীতির প্রতি সমর্থন ছিল আরও কম; মাত্র ৩৯ শতাংশ।
অন্যান্য কোন সংস্থা জড়িত
ন্যাশনাল গার্ডের কাজ হলো কর্তব্য পালনের সময়ে ফেডারেল এজেন্সির (যেমন আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়া।
এই সেনারা নিজেরা অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযান বা সাধারণ পুলিশি কাজ পরিচালনা করেন না। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ সে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
আইন অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম (যেমন ইনসারেকশন অ্যাক্ট) ছাড়া বেসামরিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেল সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ।
যদিও ট্রাম্প আগে ২০২০ সালের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় এই আইন প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিকতম বিক্ষোভের আগে তিনি এ ক্ষমতা ব্যবহার করেননি।
ট্রাম্পের সমর্থকেরা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজনে নিকটবর্তী ক্যাম্প পেন্ডলটনে থাকা সক্রিয় মেরিন সদস্যদের পাঠানো হবে এবং বর্তমানে তাঁরা ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছেন।
আইসিই কাদের ফেরত পাঠাচ্ছে
সাম্প্রতিক এসব অভিযান ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসীবিরোধী অভিযানের’ পরিকল্পনার অংশ। লস অ্যাঞ্জেলেসের অধিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে বলে জায়গাটি এমন অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত মে মাসের শুরুতে আইসিই জানিয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ২৩৯ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। তবে গ্রেপ্তার করা অভিবাসী ও তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ট্রাম্পের প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
পরের মাসে হোয়াইট হাউস আইসিইকে দিনে অন্তত তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে।
তল্লাশির অন্তর্ভুক্ত এলাকার পরিসরও বাড়িয়ে প্রশাসন এখন রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে অভিযান চালাচ্ছে।
অভিবাসনবিরোধী বড় ধরনের এ অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এল সালভাদরের একটি বড় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব বন্দীর ভেতর অন্তত একজন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থায় ছিলেন। ট্রাম্পের অনেক পদক্ষেপ ইতিমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
![]() |
| লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। ৮ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্ক কি ইতিহাসে প্রথম কোনো মুসলিম মেয়র পেতে যাচ্ছে
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার ডেমোক্র্যাট সদস্য জোহরান মামদানি এবং সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বকে প্রগতিশীল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রক্ষণশীল ধারার পুরোনো প্রজন্মের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৪ জুন প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক বাছাই কেন গুরুত্বপূর্ণ
নিউইয়র্ক নগর মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই বলা যায়, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২১ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে এরিক অ্যাডামস প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেছিলেন। সেই জয়ের পর থেকে এরিক অ্যাডামস জাতীয় পর্যায়েও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
নতুন মেয়রকে কী কী সামলাতে হবে
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ার অর্থ হলো, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও ব্যস্ততম শহরের নির্বাহী কর্মকর্তা। শহরটির নতুন মেয়র যিনি হবেন, তাঁকে অনেক সমস্যা ও জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে আছে আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, যানজট ও গণপরিবহন।
নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে এ নির্বাচনের প্রভাব স্পষ্ট। তবে প্রতিবছর শহরটিতে ভ্রমণে আসা প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ওপরেও এ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়বে।
নিউইয়র্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
রাজনৈতিকভাবে প্রাথমিক বাছাইপর্বের এ প্রতিযোগিতা ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ এবং দলটির বামপন্থী অংশের প্রার্থীদের নির্বাচনী সক্ষমতা বোঝার পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং দুই বছর পর হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বাছাইপর্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার মানে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া। সর্বশেষ তিনজন মেয়রের সবাই পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কারা
ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ৬৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু কুমো এবং ৩৩ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নরের সন্তান এবং নিজেও গভর্নর হওয়া কুমোর কর্মজীবন বিস্তৃত। ২০১১ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন।
২০২১ সালে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমো পদত্যাগ করেন। তিনি এখন রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। কুমোকে কয়েক বছর আগে পদত্যাগের আহ্বান জানানো মানুষদের সঙ্গেই তিনি আবার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।
কুমো তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন, তার মধ্যে আছে—শহরের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো।
কুমো একজন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
জোহরান মামদানি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা–বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া মামদানি ২০২১ সাল থেকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত প্রার্থী।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সী মামদানি নিজেকে এমন একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারাতে পারেন। তিনি ভোটারদের মন জয় করতে আবাসন, গণপরিবহন ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
জোহরান মামদানি নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন নিউইয়র্ক নগরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা–বাবার সন্তান মার্কিন মেয়র।
জোহরান মামদানির জন্ম উগান্ডার কাম্পালায়। তিনি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্ক নগরে চলে আসেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তাঁর মা মিরা নায়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা, আর বাবা মাহমুদ মামদানি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
মামদানি একটি প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন, তার মধ্যে আছে ভাড়া স্থিতিশীল রাখা, সরকারি বাসের ফি তুলে নেওয়া এবং নগর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন সাশ্রয়ী মূল্যের মুদিদোকান তৈরি করা।
জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে, ছোট দাতাগোষ্ঠী এবং বামপন্থী স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে মামদানির জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
আর কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস, সাবেক কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার, অঙ্গরাজ্যের সিনেট সদস্য জেসিকা রামোস, অঙ্গরাজ্যের সিনেট সদস্য জেলনার মাইরি, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও অঙ্গরাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা মাইকেল ব্লেক এবং বিনিয়োগকারী হুইটনি টিলসন।
নানা কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্তের মুখোমুখি বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনে কনজারভেটিভ অধিকারকর্মী কার্টিস স্লিওয়া একমাত্র রিপাবলিকান প্রার্থী।
কোন তারিখে কী হচ্ছে
প্রথম ডেমোক্রেটিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৪ জুন। আর দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত বিতর্ক হতে যাচ্ছে আগামীকাল ১২ জুন। দলীয় বাছাইপর্বের আগাম ভোট শুরু হবে ১৪ জুন। প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুন। মেয়র পদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ নভেম্বর।
জরিপ কী বলছে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকোতে ৯ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা এখন মোটামুটি পরিষ্কার, মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে এখন মূল লড়াই হচ্ছে অ্যান্ড্রু কুমো আর জোহরান মামদানির মধ্যে।
প্রতিবেদনে দুটি নতুন জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়। মামদানির পক্ষের দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’-এর মাধ্যমে চালানো জরিপে দেখা গেছে, কুমো এখন মামদানির চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। তবে কুমোর নিজের পক্ষের আরেকটি জরিপ বলছে, তিনি মামদানির চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।
‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’ ৩০ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৮১৯ ডেমোক্র্যাট ভোটারের মধ্যে জরিপ চালায়। এতে দেখা গেছে, ভোটের শুরুর দিকে কুমো ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও ধাপে ধাপে ভোট গণনার (র্যাঙ্কড চয়েস) শেষে কুমো ৫১-৪৯ ব্যবধানে মামদানির চয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই জরিপে মার্জিন অব এররও (কিছুটা ভুলত্রুটি) থাকতে পারে। কারণ, দুজনের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম।
মামদানির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘নিউইয়র্কারস ফর লোয়ার কস্টস’ সুপার পিএসি এবং ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি’-এর জাতীয় পিএসির পক্ষ থেকে ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’–এর মাধ্যমে এই জরিপ চালানো হয়েছে।
ফলাফল বলছে, মামদানির দারিদ্র্য আর ধনীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি অনেক ভোটারকে আকর্ষণ করছে, বিশেষ করে যাঁরা বাসস্থানসংকট ও দাম বাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত। অবশ্য অনেকেই বলছেন, মামদানি তুলনামূলকভাবে তরুণ ও তাঁর অভিজ্ঞতা কম।
নিউইয়র্কারস ফর লোয়ার কস্টসের মুখপাত্র বিল নাইডহার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এই জরিপ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, নিউইয়র্কের মানুষ এখন জোহরান মামদানির মতো এমন একজন মেয়র চান, যিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো নিয়ে ভাবেন। তাঁরা কেলেঙ্কারিতে জড়ানো অ্যান্ড্রু কুমোর মতো এমন একজন ব্যক্তিকে চান না।
অন্যদিকে কুমোর শিবিরের পক্ষ থেকে করা জরিপে দেখা গেছে, ৬০০ ভোটারের মধ্যে চালানো জরিপে তিনি ১২ পয়েন্টে এগিয়ে। তাঁর পক্ষে ৫৬ শতাংশ ও মামদানির পক্ষে ৪৪ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। এই সময়ে ৪ জুন প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম টিভি বিতর্ক হয়, আর ৫ জুন জনপ্রিয় কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ মামদানিকে তাঁর প্রথম পছন্দ হিসেবে ঘোষণা করেন।
এ সময়ে কুমোর সমর্থক একটি সংগঠন টিভি ও মেইলে বিজ্ঞাপন চালিয়ে বলছে, মামদানি নাকি কর বৃদ্ধি করতে ও পুলিশ বিভাগের বাজেট কমাতে চান।
কুমোবিরোধী ভোটগুলোকে নিজের পক্ষে আনতে পারলে বামঘেঁষা এ আইনপ্রণেতার প্রাথমিক বাছাইয়ে জয়ের বেশ ভালোই সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং কী, কীভাবে কাজ করে
নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা এই পদ্ধতিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
ভোটাররা তাঁদের পছন্দের কয়েকজন প্রার্থীর ক্রম নির্ধারণ করেন। যেমন প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ—এভাবে। প্রথম দফার গণনায় শুধু প্রথম পছন্দের প্রার্থীর ভোট গোনা হয়। যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তাহলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আবার গণনা শুরু হয়।
প্রতিটি নতুন দফার গণনায় বাদ পড়া প্রার্থীর ভোটগুলো তাঁর ভোটারদের ব্যালটে থাকা পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে বণ্টন করা হয়।
গাজা ইস্যু কেন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে
গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভোট দেবে বা ইসরায়েল কতটা সামরিক সহায়তা পাবে, তা নিউইয়র্ক নগরের পরবর্তী মেয়র ঠিক করবেন না।
তবু স্থানীয় নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব পড়বে।
মামদানি জোরালোভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের বাইরে অনশন করেছিলেন।
জোহরান মামদানির এমন অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও রিপাবলিকান পার্টির নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য বিকি প্যালাডিনো সম্প্রতি তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানান।
প্যালাডিনোর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এর জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে মামদানির সম্পৃক্ততা থাকায় তিনি নাগরিকত্বের যোগ্য নন।
![]() |
| নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটিতে নির্বাচনী প্রচারের পর সাবওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত ও পাকিস্তান কি বড় নৌযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে by আবিদ হুসেইন
রাজনাথ সিং মাথায় নৌবাহিনীর ক্যাপ পরে ছিলেন। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সৌভাগ্যবান যে ওই সংঘর্ষে ভারতীয় নৌবাহিনীকে নামানো হয়নি।
তাঁর ভাষায়, ‘ভারতীয় নৌবাহিনী নীরব থেকেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ব্যস্ত রেখেছে। ভাবুন তো, যে বাহিনী চুপ থেকেও একটি দেশের সেনাবাহিনীকে বোতলে বন্ধ করে রাখতে পারে, সে যদি মুখ খোলে তাহলে কী হতে পারে?’
তার দুই দিন পর, ১ জুন পাকিস্তান নৌবাহিনী পাল্টা বার্তা দেয়। তারা এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, তারা দুই দিনব্যাপী নৌমহড়া চালাবে। এতে অংশগ্রহণকারীরা ‘পাকিস্তানের সব প্রধান বন্দর ও উপকূলে অপ্রচলিত ও অসম লড়াইয়ের হুমকি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ’ নেবে। এই প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন আসে ভারতীয় অপারেশন সিঁদুর ও পাকিস্তানের অপারেশন বুনিয়ান মারসুসের পর।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
২২ এপ্রিল, ভারতশাসিত কাশ্মীরের পাহেলগামে এক হামলায় ২৬ জন পর্যটক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। ভারত অভিযোগ তোলে, এই হামলায় পাকিস্তান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাত আছে। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
এরপর ৭ মে, ভারত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে একাধিক স্থানে মিসাইল হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন সেনা ও কয়েকজন শিশু ছিল। এরপর তিন দিন দুই দেশ পরস্পরের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়।
এই ৯৬ ঘণ্টার সংঘর্ষে উপমহাদেশের ১৬০ কোটির বেশি মানুষ যুদ্ধের মুখোমুখি হয়। তবে নৌবাহিনী সরাসরি লড়াইয়ে অংশ না নিলেও, তারা পরস্পরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রস্তুত ছিল। স্যাটেলাইট ছবি অনুযায়ী, পাহেলগাম হামলার পরপরই ভারতের আইএনএস বিক্রান্ত পাকিস্তান উপকূলের দিকে এগিয়ে যায় এবং চার দিন আরব সাগরে অবস্থান করে। তারপর এটি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
পাকিস্তানও তাদের নৌবহর মোতায়েন করে। ২ মে করাচি বন্দরে একটি তুর্কি রণতরি ভেড়ে। পাকিস্তান নৌবাহিনী জানায়, তুর্কি নাবিকেরা পাকিস্তানিদের সঙ্গে ‘একাধিক পেশাদারি কার্যক্রমে’ অংশ নেয়।
নৌযুদ্ধের প্রাথমিক ইতিহাস
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য এবং পাকিস্তানের এই মহড়া ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতের সংঘর্ষে নৌবাহিনীর বড় ভূমিকা থাকবে। এই ভূমিকায় ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশেরই পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত স্বাধীন হলো। স্বাধীনতার পর ভারত উপমহাদেশে থাকা ব্রিটিশ নৌসম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পায়। প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (১৯৪৭) হয়েছিল কাশ্মীর নিয়ে। সেই সময় নৌবাহিনী ব্যবহার করা হয়নি। কাশ্মীরের কিছু অংশ ভারত, কিছু পাকিস্তান ও কিছু চীন নিয়ন্ত্রণ করে। ভারত পুরো অঞ্চল দাবি করে। আর পাকিস্তান চীনের দখলে থাকা অংশ বাদে বাকি সব নিজের বলে মনে করে।
১৯৬৫ সালের কাশ্মীর যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের নৌবহর বৃদ্ধি করে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সহায়তায় তারা গাজি নামে একটি সাবমেরিন সংগ্রহ করে। ভারতের তখনো কোনো সাবমেরিন ছিল না। তাদের একটি বিমানবাহী রণতরি ছিল। পাকিস্তানের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো বিমানবাহী রণতরি নেই।
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্থলযুদ্ধ শুরু হলে, ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পাকিস্তান নৌবাহিনী করাচি বন্দর থেকে সাতটি রণতরি ও একটি সাবমেরিন নিয়ে গুজরাটের দ্বারকা উপকূলে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল দ্বারকার রাডারসহ কিছু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা। পাকিস্তান নৌবাহিনীর তথ্যমতে, তারা ‘প্রতিটি জাহাজ থেকে ৫০টি করে গোলা ছুড়ে’ এই অভিযান চালায়।
অভিযানের জন্য দ্বারকার নির্বাচনের প্রতীকী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে রয়েছে হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র স্থান সোমনাথ মন্দির। এর নামেই পাকিস্তান এই অভিযানের নাম দেয়। দ্বারকার রাডার। রাডার ধ্বংস করা গেলে ভারতের পক্ষে করাচির ওপর বিমান হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়ত। তখন ভারতকে মুম্বাই বন্দর থেকে রণতরি পাঠাতে হতো। আর সেই রণতরিকে পাকিস্তানের সাবমেরিন গাজি আক্রমণ করতে পারত।
পরিকল্পনাটি পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে পাকিস্তান নৌবাহিনী জানায়, তারা চার মিনিটে ৩৫০টি গোলা ছুড়ে নিরাপদে ফিরে আসে। লাহোরভিত্তিক নৌনিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ শরেহ কাজি বলেন, এটি ছিল কৌশলগত চমক, তবে কোনো ভূখণ্ড বা সমুদ্র এলাকা দখল করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্যমতে, পাকিস্তানের ছোড়া গোলার বেশির ভাগই বিস্ফোরিত হয়নি। ফলে কোনো বড় ক্ষতি হয়নি।
১৯৭১: নৌবাহিনীর বড় ভূমিকা
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি যুদ্ধে জড়ায়। নৌবাহিনী বড় ভূমিকা নেয়। সেই সময় ভারত অপারেশন ট্রাইডেন্ট ও অপারেশন পাইথন চালায়। এতে পাকিস্তানের পিএনএস খাইবার, পিএনএস মুহাফিজ জাহাজ ডুবে যায়। করাচি বন্দরে জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস হয়।
ভারতীয় সাবেক কমোডোর উদয় ভাস্কর বলেন, ‘নৌবাহিনীর ভূমিকাই স্থলযুদ্ধে বিজয়ের ভিত্তি তৈরি করে।’ পাকিস্তান সাবমেরিন গাজিকেও হারায়। সাবমেরিনটি ভারতের বিশাখাপট্টনম বন্দরে মাইন বিস্ফোরণে ডুবে যায়।
এই যুদ্ধে পাকিস্তানের একমাত্র বড় সাফল্য ছিল সাবমেরিন হাঙর দিয়ে ভারতীয় জাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দেওয়া। এতে ১৭০ জন নাবিক মারা যান। ভারতের আঘাতে পাকিস্তানের নৌশক্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভিন্ন কৌশল, ভিন্ন লক্ষ্য
১৯৭১ সালের পর ভারত ও পাকিস্তান দুই ভিন্ন ধরনের নৌকৌশল গ্রহণ করে। ভারত ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ গড়ার চেষ্টা করছে; অর্থাৎ যা সমুদ্রপথে দূরদেশেও শক্তি দেখাতে সক্ষম। তাদের উদ্দেশ্য হলো ভারত মহাসাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।
ভারত শুধু জাহাজের সংখ্যায় নয়, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শক্তি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন মরিশাস বা প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত অভিযান চালাতে সক্ষম। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারত নৌ-উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হাতে আছে ২৯টি বড় যুদ্ধজাহাজ, ২টি বিমানবাহী রণতরি, ১২টি ডেস্ট্রয়ার, ১৫টি ফ্রিগেট ও ১৮টি সাবমেরিন (২টি পারমাণবিক)।
অন্যদিকে পাকিস্তান বেশি গুরুত্ব দিয়েছে স্থল ও বিমানবাহিনীতে। তাদের নৌশক্তি ধীরে ধীরে বেড়েছে চীন ও তুরস্কের সহায়তায়। একই সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর হাতে আছে ১১টি ফ্রিগেট, ৮টি সাবমেরিন, অন্তত ২১টি প্যাট্রোল ভেসেল। পাকিস্তানের কোনো বিমানবাহী রণতরি বা ডেস্ট্রয়ার নেই।
ভারতের লক্ষ্য যেখানে বিশ্বব্যাপী শক্তি প্রদর্শন, পাকিস্তান সেখানে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করতেই নৌবাহিনী ব্যবহার করে। তাদের ৯৫ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়। তাই বাণিজ্য নিরাপত্তা তাদের মূল লক্ষ্য। পাকিস্তান উপকূলবর্তী অঞ্চল প্রতিরক্ষায় মনোযোগী। তারা গভীর সমুদ্র অভিযান নয়, উপকূল রক্ষা করে। এ জন্যই তারা সাবমেরিনে বিনিয়োগ করেছে, যেগুলোতে আছে ক্রুজ মিসাইল।
ভবিষ্যতের সংঘর্ষে নৌবাহিনী কতটা জড়াবে?
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ড্রোনসহ আধুনিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে নৌবাহিনী আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে যদি পাকিস্তান কোনো দুষ্কর্ম করে, তাহলে জবাবের শুরুটা আমাদের নৌবাহিনী করতে পারে।’ বোঝাই যাচ্ছে, যদি আবার সংঘর্ষ হয়, তাহলে নৌবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বেশি।
নৌনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও দিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক বশির আলি আব্বাস বলেন, ‘যদি ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানবিরোধী বড় ভূমিকা নেয়, তাহলে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। যুদ্ধজাহাজ একবার আঘাত করলে তা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা বলেই বিবেচিত হবে।’
এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিও হবে সর্বোচ্চ। তবে এটাও ঠিক যে সিংয়ের বক্তব্যে পরিষ্কার নয় যে তিনি নজরদারি বোঝাতে চেয়েছেন নাকি আগ্রাসন। যদি করাচির মতো শহরে আক্রমণ হয়, তাহলে পাকিস্তানের জবাবও হবে কঠিন।
* আবিদ হুসেইন আল–জাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
![]() |
| ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যদি আবার সংঘর্ষ হয়, তাহলে নৌবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বেশি। ছবি: এআই/প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসামে মন্দিরে কারা রেখে গেল গরুর মাংস, এ নিয়ে দুই পক্ষে ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার সকালে ধুবড়ি শহরের একটি হনুমান মন্দির চত্বরে পশুর মাংস পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গত সোমবার সকাল থেকে এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। মন্দির–সংলগ্ন একটি রাস্তা অবরোধ করেন বাসিন্দারা। তাঁরা স্লোগান দেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয় প্রশাসন প্রাণীর দেহাবশেষ সরাতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত দেহাবশেষ সরাতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এ নিয়ে তৃতীয়বার ওই মন্দিরে এমন ঘটনা ঘটল। আসাম বিজেপিশাসিত রাজ্য।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের ঘোষণা দিয়েছে, ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধুবড়ি টাউনে সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। কেবল চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দমকল ও জরুরি পরিষেবা প্রভৃতি খোলা থাকবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধা–সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তাবিষয়ক অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ছাড় দেওয়া হবে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–কে ধুবড়ির জেলা শাসক দিবাকর নাথ বলেছেন, সন্দেহ করা হচ্ছে, স্থানীয় হনুমান মন্দিরের কাছে গরুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এর জেরে সোমবার থেকে সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও গতকাল রাতে উত্তেজনা অনেকটাই কমে এসেছে। সব সম্প্রদায়কে নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করার পাশাপাশি এলাকায় পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আজ বুধবার এই বিষয়ে উসকানিমূলক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুসলিমরা গরুর মাংস খায়, হিন্দু এলাকায় ফেলে দেয়, হিন্দুদের তাড়িয়ে দেয়, তারপর জায়গা দখল করে। গরুর মাংসকে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা আমরা সহ্য করব না। আমরা এটা কখনই হতে দেব না।’
হিমন্তের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ প্রকাশ করেছেন আসামের স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ এবং সেচ মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী অশোক সিংঘল।
অশোক ঘটনার সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনায় মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে ‘এক্সে’ যা লিখছেন, তার বিষয়বস্তু নিয়ে সর্বভারতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সিংঘল রোববার থেকে নিয়মিত যা লিখছেন, তার মোটামুটি বিষয়বস্তু হলো—ধুবড়িতে যে ঘটনা ঘটছে, তা হঠাৎ ঘটছে না। তা দীর্ঘদিন ধরে চলা কংগ্রেসের রাজনীতির ফল। এখন মুসলিম সম্প্রদায় গরু খেয়ে তার দেহাবশেষ হিন্দুদের মন্দিরে ফেলছে। সিংঘলের মতে, এর কারণ ধুবড়ির হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে।
আসামে কাদের লক্ষ্য করে আদিবাসী, মূল নিবাসীদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অনুমতি দিল হিমান্তের সরকার
- ৩০ মে ২০২৫
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্যের মন্ত্রিসভা গত বুধবার একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এতে বলা হয়েছে, রাজ্যের আদিবাসী, মূল নিবাসী এবং উপজাতি জনজাতিকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই ঘোষণাকে ‘বিপজ্জনক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীরা।
মূলত বাংলাদেশি বলে রাজ্যের মুসলিমদের চাপে রাখতে বিজেপি–দলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত শর্মার সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ গতকাল বৃহস্পতিবার হিমান্ত শর্মার সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অনুমতি ভবিষ্যতে আসামে সহিংসতা বৃদ্ধি করবে।
বিশ্বশর্মা গত বুধবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আসাম রাজ্যে ধুবড়ি, বরপেটা, নগাঁও, মরিগাঁও, দক্ষিণ শালমারা, গোয়ালপাড়ার মতো এমন অনেক জেলা রয়েছে, যেখানে আমাদের মূল নিবাসী আদিবাসীরা সংখ্যালঘু। তারা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন। বিশেষত, সম্প্রতি বাংলাদেশের ঘটনার পরে তাঁরা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, সীমান্তের ওপার থেকে তাঁদের ওপর হামলা হতে পারে বা তাঁদের গ্রামেও হামলা হতে পারে। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আসামের এসব অঞ্চলে মূল নিবাসী আদিবাসীদের আগ্নেয়াস্ত্রের অনুমতি দেওয়া হবে। আমরা তাঁদের লাইসেন্স দেব।’
হিমন্ত শর্মা যে ছয়টি জেলার কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোতে মুসলিমদের বসবাস বেশি। যেমন ২০১১ সালের শেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, বরপেটা জেলায় মুসলমান জনসংখ্যা ৭৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ধুবড়িতে ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, নগাঁও জেলায় ৫৬ দশমিক ২০ শতাংশ, মরিগাঁওতে ৫২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, দক্ষিণ শালমারায় ৯৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং গোয়ালপাড়া জেলায় ৫৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এর বাইরেও একাধিক জেলা রয়েছে যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যেমন পশ্চিম আসামের বঙ্গাইগাঁও, দক্ষিণ আসামে করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি, মধ্য আসামে হোজাই এবং দারাং। তবে সেসব জেলায় আগ্নেয়াস্ত্রের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আসাম সরকার অতীত ও বর্তমানের বক্তব্য অনুসারে এসব জেলায় মুসলিমদের মধ্যে প্রধানত রয়েছেন বাঙালি মুসলমান। যদিও মুসলিম সম্প্রদায়ে বড় অংশ এই বক্তব্যকে অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা ওই রাজ্যেই জন্মেছেন। তাঁরা বাঙালি নন, আসামের মুসলিম। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘আমরা দেখেছি এখানে উপজাতি সম্প্রদায় চূড়ান্ত ভয়ের মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষত বর্তমানে ‘বাংলাদেশি নাগরিকদের’ ফেরত পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে মূল নিবাসী মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। কিছু কিছু গ্রামে মূল নিবাসী মানুষ চূড়ান্তভাবে সংখ্যালঘু।’
বড়পেটা জেলার উদাহরণ দিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেন, ‘বাঘাবার-জনিয়া নামের এক অঞ্চলে কী হচ্ছে, আমি নিজে তা জানি। সেখানকর গ্রামে উপজাতিদের ৫০০টি পরিবার রয়েছে। তাদের আশপাশে আর কেউ নেই। এই অঞ্চল থেকে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার আবেদন জানালে আমরা নিশ্চিতভাবে তাঁকে বন্দুক রাখার অনুমতি দেব।’
কংগ্রেসের বিরোধিতা
আসামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সমাজের বড় অংশের মানুষ বলেছেন, এর ফলে রাজ্যে ও অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আসামের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ এই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামের মানুষের যেটা প্রয়োজন সেটা হলো চাকরি, কম খরচের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা। বন্দুকের প্রয়োজন তাদের নেই। কিন্তু সরকার এখন পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে শক্তিশালী না করে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতি সহানুভূতিশীলদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বিতরণ করতে চাইছে, যা স্থানীয় অপরাধ চক্রের হাতে পৌঁছাবে। এতে ব্যক্তিগত আক্রোশের ভিত্তিতে বিভিন্ন উপদলের মধ্যে সহিংসতা ও অপরাধ বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করা হবে।’
গৌরব গগৈ আরও বলেন, এটা সুশাসন নয় বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পদক্ষেপ, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এবং জঙ্গলের রাজত্বে তৈরি হবে।
কংগ্রেস নেতা বলেন, এই সিদ্ধান্ত মানুষের কল্যাণে করা হয়নি। নির্বাচন নিয়ে যে উদ্বেগ, তা মাথায় রেখে করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
আসামের পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে সীমান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে আসাম তথা ভারতের সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
![]() |
| আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘পুশ ইন’ কি দিল্লির বৈরী নীতির অংশ নয় by খাজা মাঈন উদ্দিন
অন্যদিকে যে বাংলাদেশ প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদ হওয়া দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীকেও আশ্রয় দিয়েছে, তার ভূখণ্ডেই ঠেলে (পুশ ইন) দেওয়া হচ্ছে আরেক সীমান্ত-সংলগ্ন দেশের নাগরিক মুসলমান নর-নারীকে।
এভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মুসলমানদের পণ বানানোর পাশাপাশি নিজ দেশের ইস্যুকে আন্তসীমান্ত দ্বন্দ্বে পরিণত করা হচ্ছে। মুসলমান ভোটার-সমৃদ্ধ পশ্চিম বাংলা ও আসামে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের কেন্দ্রীয় হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এমন পদক্ষেপ সে দেশের ভেতরকার গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বিবেকবান মানুষের কাছেও কি প্রশংসিত হচ্ছে?
এ পর্বে কিছু মুসলমান ভারতীয়র গলা ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর এ কাজটি দিল্লি করছে জুলাই ২০২৪ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে। ঢাকার প্রতি বৈরী নীতির অংশ হিসেবেই যে এই উদ্যোগ, সেটা বাংলাদেশের মানুষের না বোঝার কিছু নেই।
প্রথমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য ভারত দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করা হলো।
গণতন্ত্র হত্যাকারী শাসক হাসিনার বিরুদ্ধে একটি সফল ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা আখ্যা দিয়ে ভারতীয় ‘গদি মিডিয়া’ ব্যাপক গুজব ও কুৎসা রটনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। এর আগে বাংলাদেশের গণমানুষের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটা হাসিনাকে দিল্লিতেই আশ্রয় দেওয়া হলো বাংলাদেশিদের আবেগের প্রতি স্পর্শকাতরতা না দেখিয়েই।
এ-জাতীয় পরিস্থিতিতে যৌথ নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, চোরাচালানের মতো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো কি তাহলে বাংলাদেশের দৃষ্টির আড়ালেই রাখা যাবে?
দিল্লিওয়ালাদের এহেন মনোভাব এবং কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ভারত ও বাংলাদেশের বাইরে পররাষ্ট্রনীতির পণ্ডিত, এমনকি কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন বৈশ্বিক নাগরিকেরা বোঝেন না, এমন তো নয়!
ভারত এখন বলতে চায় ‘পুশ ইন’ করানো ব্যক্তিরা তার দেশে অনুপ্রবেশকারী এবং অনেকে অনেক দিন ভারতে বসবাস করলেও তারা সেখানকার বৈধ নাগরিক নয়।
নিজের নাগরিকদের রাষ্ট্রহীন করার বিষয়ে বিদেশি গণমাধ্যম, যেমন বিবিসি ভিকটিমের নাম ধরে রিপোর্ট করেছে, নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের দিকে ‘পুশ ইন’ করা মুসলমানেরা ভারতের নাগরিক।
তাদের কেউ যদি সত্যি বেড়াতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী সসম্মানে তাদের ফেরত পাঠানো যেত। তাই বলে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ তার নাগরিক মানবে, সে রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই ঢাকার। নরেন্দ্র মোদির বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ‘অবৈধ’ ভারতীয়দের আমেরিকায় স্বাগত জানাচ্ছেন?
নিজের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির দাবার চাল দিতে ব্যবহার করে রাষ্ট্র এবং সভ্যতা হিসেবে ভারত নিজের ভয়াবহ দৈন্য প্রকাশ করছে এবং এটা তার নেতৃবৃন্দ ও নীতি পরিচালনাকারীরা করছেন সচেতনভাবেই।
বাংলাদেশকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় ফেলে কতটা ঠিক আচরণ করছে, সেই আত্মসমালোচনা ‘দূর কি বাত’, দিল্লি সেই আত্মোপলব্ধির ধারকাছে আছে বলে মনে হচ্ছে না। বরং বাংলাদেশ নিয়ে তার পদক্ষেপ, যেমন প্রফেসর ইউনূস সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পারতপক্ষে যোগাযোগ না রাখার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকাশ পাচ্ছে ক্রোধ, যে ক্রোধের উৎস ঢাকায় তার অনুগত শাসকের পতন।
ভারত বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে ক্রুদ্ধ হবে তার যথাযথ কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, এর উল্টোটা ছাড়া। দিল্লির গোপন ও প্রকাশ্য মদদে হাসিনা এ দেশের মানুষকে দেড় যুগ গণতন্ত্র ও মানবিক অধিকারবঞ্চিত রেখেছে, এক ফ্যাসিবাদী শাসককে মহান প্রমাণ করতে সচেষ্ট থেকেছে।
ভুলে গেলে চলে না ২০২৪-এর ডামি নির্বাচনের পর পরই সংক্ষুব্ধ বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জন শুরু করেছিল, হাসিনা খেদাও আন্দোলনের আগেই। সে অবস্থায় বাংলাদেশের জনগণের ওপর নতুন দিল্লির রাগ-ক্ষোভ পরাজিত পক্ষের ক্রোধের সঙ্গে তুলনীয়। যদিও দিল্লির ক্রোধ বেশি থাকার কথা সীমান্ত সংঘাতে জড়ানো পারমাণবিক শক্তি পাকিস্তান এবং অধিক শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ওপর।
শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতি নমনীয়তা আর পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন প্রতিবেশীর সামনে এসে অগ্নিমূর্তি ধারণ করাটা চাণক্য কৌটিল্যের ‘মাৎস্যন্যায়’ নীতিরই আধুনিক রূপ, যে নীতিতে বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে।
দিল্লির শাসকেরা ওই পুরোনো নীতিতেই বুঁদ হয়ে আছেন, যখন বাংলাদেশের মানুষের প্রতি শান্তি ও সৌহার্দ্যের হাত বাড়ালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অচলাবস্থার বরফ গলা শুরু হতে পারত।
জাপান, জার্মানি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় তাদের পূর্বের শাসকদের অন্যায় কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কাছে; তাতে তাদের ক্ষতি হয়নি।
বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকে হাসিনার কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো কোনো নৈতিক যুক্তি নেই দিল্লির। অস্বীকার করা যাবে না, গুমের বাংলাদেশি ভিকটিম আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রিপোর্টে উঠে এসেছে হাসিনা শাসনকালের গুম, খুন, অত্যাচারের কাহিনি। সারা বিশ্ব দেখেছে কেমন হয়েছে তখনকার বাংলাদেশের তিন তিনটি জাতীয় নির্বাচন।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বইয়ে এবং ২০১৪-এর নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের ঢাকা সফরকালে হাসিনার অনুকূলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনে দিল্লির নগ্ন হস্তক্ষেপ এখানকার রাজনৈতিক শক্তি ও সচেতন মানুষকে ভীষণভাবে আহত আর অপমানিত করে।
সেই অত্যাচারী হাসিনা রাজত্বের যখন অবসান হলো, সভ্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল এক রকম, ভারতের ভিন্ন। অতঃপর ইউনূস সরকারের প্রতি দিল্লি ও ভারতীয় মিডিয়ার আচরণ হয়ে পড়ে অনেকটাই খড়্গহস্ত অথচ বাকি পৃথিবী প্রফেসর ইউনূসের প্রতি প্রবলভাবে শ্রদ্ধাশীল।
আবার হাসিনা আমলে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমার কালেও, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সীমান্তে হোক বা জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে হোক, বাংলাদেশকে সমর্থন করেনি ভারত।
তাহলে কেউ তো ধরে নিতেই পারে ভারত বাংলাদেশকে প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধু রাষ্ট্র জ্ঞান করে না, যদি না সে ‘করদ রাজ্য’ হয়। এবং কৌটিল্যেরই ফর্মুলায়, যদি ‘আমার শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ হয়, ভারতের ‘জানি দোস্ত’ ইসরায়েলের শত্রু ইরানের স্ট্যাটাস কী দাঁড়ায় বা ভারত বন্ধু রাশিয়ার শত্রু আমেরিকার? অথবা চিরশত্রু পাকিস্তানের বন্ধু তুরস্ক বা চীনের বন্ধু যখন বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় ‘মানব পাচারের’ মতো কূটচালের সাফল্য ও নেতিবাচক প্রভাব দুই-ই ভালো করে জানেন সে দেশের কূটনীতিক ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা। যেমন কিঞ্চিৎ জানেন অন্য বন্ধুপ্রতিম দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও, যাদের কাছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন তা অজানা নয়।
বাংলাদেশের দিকে তার মুসলমান নাগরিকদের সংকীর্ণ কারণে ঠেলে পাঠিয়ে ভারত বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে শুধু সংখ্যালঘুর প্রতি জুলুমই প্রমাণ করছে না, যাকে এত দিন ধরে বলত ১৯৪৭-এর দেশভাগ, সেই মুসলমান জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি পাকিস্তান এবং এখনকার বাংলাদেশ গঠনের যথার্থতাকেই নিশ্চিত করে।
যে মুহূর্তে বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, হত্যাকাণ্ড, গুম, জেল, জুলুম, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বড় বড় অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, এবং দেশকে বিশ্ব সমাজে একটি মর্যাদাশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট, তখন ভারত গঠনমূলক যোগাযোগ ও সংলাপ থেকে দূরে সরে আছে।
হাসিনা আমলে সই করা কিছু অসম এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী গোপন যুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে জনমতের চাপ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ঢাকা এখন পর্যন্ত চুক্তিগুলো ঢেকেই রেখেছে, সম্ভবত সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতে।
কূটনীতি পারস্পরিক সৌজন্যের দাবি রাখে, যা বোধ হয় শুধুই গোপন ব্যাপার বা পেঁচিয়ে অর্ধেক কথা বলার বিষয় নয়; আগামী দিনে দিল্লি ঢাকার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়তে ও রাখতে চায়, তার ধারণা বাংলাদেশের জনগণকে সরাসরি দিয়ে দিলেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগ শুরু হতে পারে।
* খাজা মাঈন উদ্দিন সাংবাদিক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সীমান্ত দিয়ে ১৪ ব্যক্তিকে পুশ-ইন করাতে চেয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা দেয়। ১৭ মে, বড়াইবাড়ি সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর- কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্প মধ্যস্থতা করতেও পারেন: পররাষ্ট্র দপ্তর
কাশ্মীর সংকট সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো পদক্ষেপ নিলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। গত মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) প্রতিটি পদক্ষেপ এমনভাবে নেন, যেন তা দেশগুলোর মধ্যে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিরোধ মেটাতে বা যুদ্ধের ইতি টানতে সহায়ক হয়। সুতরাং এমন একটি বিষয়ে (কাশ্মীর) তিনি যদি হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহ দেখান, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’
‘তিনি (ট্রাম্প) শুধু আগ্রহীই নন; বরং এমন কিছু ব্যক্তিকে আলোচনার টেবিলে এনেছেন, যাঁদের একসঙ্গে বসার কথা কেউ কল্পনাও করেনি। এটা তিনিই একমাত্র পেরেছেন। তাই আমি তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে দুনিয়া তাঁর স্বভাব সম্পর্কে জানে। এ (কাশ্মীর) বিষয়ে তিনি কী করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আপনি চাইলে হোয়াইট হাউসে ফোন করে জানতে পারেন। আমার ধারণা, সেখানে এ নিয়ে বলার মতো অনেক কিছু আছে।’
বর্তমান সময়কে আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে ব্রুস বলেন, ‘যদি আমরা ওই সংঘাতের (কাশ্মীর) ক্ষেত্রে একটি সমাধানের দিকে যেতে পারি, তাহলে সৃষ্টিকর্তার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (মার্কো) রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকেও (জেডি ভ্যান্স) ধন্যবাদ দিতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রতিদিনই কিছু নতুন ঘটনা ঘটছে। আশা করি, এ বিষয়ও প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সমাধান হয়ে যেতে পারে।’
দ্য ডন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেন। শান্তি স্থাপনে দুই দেশের নেতারা যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, ট্রাম্প সেটার প্রশংসা করেছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের দুজনের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী, যেন কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো যায়।’
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর প্রসঙ্গে ব্রুস জানান, প্রতিনিধিদলটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালিসন হুকার। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়গুলো উঠে আসে।
ব্রুস বলেন, ‘আমরা জানি যে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যান্ডাউ গত সপ্তাহে ভারতের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভারতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহলে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য সম্প্রতি একটি ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। তারা ইসলামাবাদ-নয়াদিল্লির মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভারতীয় লবির প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে কোনো কৃতিত্ব দেয় না। কিন্তু অন্য কেউ এটা থামাতে পারত না।’ ট্রাম্প এখানে ভারতের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যস্থতার জন্য ভারত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে নর্থ ক্যারোলাইনার উদ্দেশে যাত্রার সময়, ১০ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যালিফোর্নিয়া কেন জ্বলছে by হাসান ফেরদৌস
পরপর তিন দিনের বিক্ষোভ ও দাঙ্গার পর অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা একই সঙ্গে ফেডারেল পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ও অঙ্গরাজ্যে গভর্নরের নির্দেশে কাজ করে থাকে। কয়েক দিন আগে গার্ডদের প্রথম দলটি আইস বা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট–বিরোধী দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছায়। ভারী অস্ত্রসজ্জিত এসব গার্ডের উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে তা আরও উসকে দেয়। দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনাকে কেন এভাবে একটি ফেডারেল সমস্যায় দাঁড় করানো হলো, তা নিয়ে এখন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ন্যাশনাল গার্ডদের নিয়োগ নতুন ঘটনা নয়—গত ৬০ বছরে অবস্থা সামাল দিতে দুই ডজনের বেশি সময় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু একবার ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয় স্থানীয় গভর্নরের অনুরোধে, অথবা গভর্নরের অনুমতি ও সমর্থনেই তেমন নিয়োগ হয়েছে। এবার তার ব্যতিক্রম কেন?
সেই প্রশ্ন তুলে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর যুক্তি—যে আইনের ভিত্তিতে ন্যাশনাল গার্ডদের ট্রাম্প প্রেরণ করেছেন, তা শুধু বহিরাগত ‘আক্রমণ’ বা বড় ধরনের ‘বিদ্রোহ’ ঠেকাতে করা হয়ে থাকে। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো বিদেশি আক্রমণ ঘটেনি, কোনো বিদ্রোহ হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা ক্যালিফোর্নিয়ার নিজের রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে রাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যেই এমন অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের তিনি সেনাধ্যক্ষ, অথচ এ বিষয়ে তাঁর সম্মতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ট্রাম্প দেখেননি।
ট্রাম্প ও নিউসামের মধ্যে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। নিউসামকে যে তিনি পছন্দ করেন না, সেটাও কোনো গোপন ব্যাপার নয়। তাঁকে অযোগ্য ও ব্যর্থ অতি বাম রাজনীতিক হিসেবে হরহামেশাই বিদ্রূপ করে থাকেন ট্রাম্প। তিনি নিউসামের নতুন নাম দিয়েছেন নিউস্কাম (স্কাম শব্দের এক অর্থ জঘন্য বা আবর্জনা)। আইসের অভিযানের সময় গোলযোগ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে অযোগ্য ও অপদার্থ প্রমাণের এমন একটি সুযোগ তিনি সম্ভবত হাতছাড়া করতে চাননি।
নিউসামের পক্ষ নিয়ে ডেমোক্রেট দলীয় গভর্নররা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ন্যাশনাল গার্ডের অধিনায়ক হচ্ছেন সে রাজ্যের গভর্নর। অথচ সেই অধিনায়কের সম্মতি ছাড়াই ন্যাশনাল গার্ড নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত অকার্যকর ও ভয়াবহ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য সব সমালোচনা শুধু অগ্রাহ্য করেছেন তা–ই নয়, প্রয়োজন হলে নিউসামকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন। উত্তাপ কমানোর বদলে তার প্রশাসন আরও দুই হাজার গার্ডকে গোলযোগ দমনে পাঠাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। কয়েক হাজার নৌ সেনাকেও সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
‘দেশ বাঁচাও’ যুক্তিতে ন্যাশনাল গার্ড ও নিয়মিত সেনাসদস্যদের নিয়োগ করা হলেও ট্রাম্প যে একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুসরণ করছেন, তাতে সন্দেহ নেই। তাঁর অন্যতম উপদেষ্টা স্টিভেন মিলার বলেছেন, তাঁরা ‘সভ্যতা বাঁচানোর’ লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছেন। অথচ ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুসারীরা কংগ্রেস ভবন আক্রমণ করে মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি হুমকি দিয়েছিল, তা ঠেকাতে শত অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো ন্যাশনাল গার্ড তিনি পাঠাননি।
ট্রাম্প অনেক দিন থেকেই বলে আসছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্রাটদের নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও শহরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেমন নিউইয়র্ক সিটি সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন, এটি অপরাধ ও দুষ্কর্মে ভরা এক অবিশ্বাস্য ‘নরকের গর্ত’ (তাঁর কথায় ‘হেল হোল’)। শিকাগো, বাল্টিমোর বা ফিলাডেলফিয়াসহ যেকোনো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ও রাজ্যকেও তিনি এই ভাষায় আক্রমণ করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের আইসবিরোধী দাঙ্গার উদাহরণ তুলে ট্রাম্প এখন তাদের ওপর একহাত নেওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছেন।
এ কথা ভাবার কারণ রয়েছে, একই রকম প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ ঠেকাতে ট্রাম্প অন্য অনেক শহরেও সৈন্য পাঠাতে পারেন। যে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি সৈন্য প্রেরণের নির্দেশ দেন, তাতে কোথাও ক্যালিফোর্নিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেখানেই অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ হবে, এমনকি তা যদি শান্তিপূর্ণও হয়, তা প্রতিরোধে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো হবে। অর্থাৎ ট্রাম্প ভাবছেন আইনবিরোধী বিক্ষোভ দেশের অন্যত্রও হবে। তাদের দমনেও ফেডারেল সৈন্য ব্যবহার করা হবে—এমন আগাম হুঁশিয়ারি তিনি এই নির্বাহী আদেশে দিয়ে রাখলেন।
কয়েক দিনের বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলির কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাতবোমা থেকে কিছু লোক আহত হয়েছেন। কিন্তু কেউ নিহত হননি। এ ধরনের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে মোটেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। নতুন যা হলো, এ ঘটনাকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তরের চেষ্টা। সে কথা উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছে, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য বেপরোয়া শক্তির প্রদর্শনী।
আরও কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ব্রেনন সেন্টার ফর জাস্টিস। মানবাধিকারভিত্তিক এই সংস্থার অন্যতম পরিচালক এলিজাবেথ গয়তিন স্থানীয় গভর্নরের সম্মতি ছাড়া সৈন্য প্রেরণের সিদ্ধান্তকে অভূতপূর্ব ও আইনবহির্ভূত বলেছেন। যে আইনের ব্যবহার করে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে শুধু ‘শেষ ব্যবস্থা’ হিসেবে সৈন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার সংস্থা এসিএলইউ। এই সংস্থার পরিচালক হিনা শামসি বলেছেন, বেসামরিক পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার যে নীতি এত দিন আমরা মেনে এসেছি, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর ফলে শুধু যে স্থানীয় নাগরিকেরা বিপদের মুখে পড়বে তা নয়, সৈন্যরাও বিপদে পড়তে পারে। কারণ, তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে পড়বে।
যেভাবে ও যে ভাষায় হোয়াইট হাউস থেকে এই অভিযানের পক্ষে কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় ব্যাপারটায় তারা মহাখুশি। অবৈধ অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে তিনি আপসহীন ও কঠোর, নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন। এখন হাতে–কলমে সে কথার এক প্রমাণ দিলেন। ঠিক এই মুহূর্তে কেন, তারও একটা ব্যাখ্যা রয়েছে। বাণিজ্যযুদ্ধ, বাজেট প্রশ্নে বিতর্ক ও অব্যাহত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এখন তাঁর প্রয়োজন ছিল দেশের মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ফেরানো। ক্ষমতা গ্রহণের চার মাস হতে না হতেই তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবে যে একটি বিষয়ে তিনি এখনো আমেরিকানদের, বিশেষ করে তাঁর রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়, তা হলো অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর অব্যাহত কঠোর অবস্থান। মনে হয়, নিজের নড়বড়ে জনপ্রিয়তাকে জোড়া লাগাতে তিনি সেই অভিবাসন প্রশ্নটিকেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাতে কাজও দিয়েছে। সিবিএস নিউজ পরিচালিত এক জনমত জরিপ অনুসারে, দেশের ৫৪ শতাংশ মানুষ অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর এই কঠোর অবস্থানে খুশি। খুশি নন, এমন মানুষের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ।
| এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা অ্যানা শহরে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাশুড়ি ও দুই শ্যালককে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে রবিন
গ্রেপ্তারকৃত রবিন ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাকে গত ৫ই জুন আদালতে পাঠালে শাশুড়ি ও দুই শ্যালককে হত্যার কথা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এরপর আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। নিহতরা হলেন- গাংগুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস বেগম (৪০), তার দুই ছেলে শামীম হোসেন (১৭) ও সোলায়মান (৬)। বড় ছেলে শামীম ভেকু মেশিনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ও ছোট ছেলে সোলায়মান রক্ষিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির ছাত্র ছিল। সূত্র মতে, রক্ষিত গ্রামের রাজা মিয়া ডেকোরেটরের ব্যবসা করতেন। বছরখানেক আগে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মারা যান। মেয়ে নাসরিন আক্তারের আড়াই বছর আগে রবিন হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। রাজা মারা যাওয়ার পর তার ডেকোরেটরের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন রবিন ও নারগিস বেগম। নেশায় আসক্ত রবিন ব্যবসার অধিকাংশ টাকা ব্যয় করে ফেলেন। এ কারণে আড়াই মাস আগে ওই ডেকোরেটরের ব্যবসাও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন নারগিস বেগম। এ নিয়েই কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা জানান, ডেকোরেটরের ব্যবসা বিক্রির জেরেই রবিন ১লা জুন রাতে কামারপাড়া গ্রামে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে নিজ বাড়িতে ঘুমের ঘরে রেখেই ৬ কিলোমিটার দূরে রক্ষিত গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আসে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে প্রথমে কৌশলে টিনের বেড়া খুলে তার বড় শ্যালক শামীম হোসেনের ঘরে ঢুকে। এরপর ঘুমন্ত শ্যালককে বালিশচাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পাশের কক্ষে তার শাশুড়ি নারগিস ও ছোট শ্যালক সোলায়মানকেও একই কায়দায় বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে দরজা লাগিয়ে রাতেই নিজ বাড়িতে চলে যায় রবিন। পরদিন রবিনের স্ত্রী নাসরিন তার মাকে ১০-১২ বার ফোন করেও না পেয়ে দুপুর ২টার দিকে মায়ের বাড়িতে যান। এ সময় ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে একই খাটে তার মা ও দুই ভাইয়ের লাশ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ তিনটি লাশই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরদিন সন্ধ্যায় তিনজনের জানাজায়ও অংশ নেয় ঘাতক রবিন।
রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, আমার স্বামী আমাকে ঘুমে রেখে মা ও দুই ভাইকে হত্যা করেছে তা বুঝতেই পারিনি। আমার পরিবারের আমি আর আমার ৬ মাসের মেয়ে ছাড়া এখন আর কেউ রইলো না। আমি রবিনের কঠোর বিচার চাই। পিবিআই জানায়, রবিন তার শাশুড়ি ও দুই শ্যালককে হত্যার পর দু’দিন ভাত খায়নি। সে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনাও করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, তিন লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে নিহত নারগিস বেগমের ভাই আব্দুর রশিদ অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে রবিন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করার পর ধামরাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে রবিন জেলহাজতে রয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে মুসলিম দেশগুলোকে ভূমি ছাড়ার পরামর্শ দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ‘মুসলিম দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত ভূমির চেয়ে ৬৪৪ গুণ বেশি জমি রয়েছে।’
‘তাহলে যদি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের এমন কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে এমন কারও (মুসলিম দেশ) থাকা দরকার, যে বলবে, ‘‘আমরা সেটা (ফিলিস্তিন রাষ্ট্র) আমাদের এখানে রাখতে চাই’”, বলেন মাইক হাকাবি।
কট্টর ইহুদিবাদী কূটনীতিক হাকাবি আগে থেকেই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণার প্রবল সমর্থক। তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের স্থায়ী কর্তৃত্ব চান এবং পশ্চিম তীরকে বর্ণনা করতে বাইবেলের ‘জুদিয়া ও সামারিয়া’ শব্দযুগল ব্যবহার করেন।
এই মার্কিন কূটনীতিকের কিছু বক্তব্য ইসরায়েলের অতিরাষ্ট্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর মতোই, যারা দাবি করে, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে আরব বা মুসলিম দেশগুলোতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা যেতে পারে।
তবে এ রকম নীতি কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে বলে মনে করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় বারবার উসকানি দেওয়ায় ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় হাকাবি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও কড়া সমালোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারে হাকাবি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপকভাবে সমর্থন পাওয়া দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাবকে ‘একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এই সমাধান অনুযায়ী, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম এবং এটি ইসরায়েলের পাশাপাশি অবস্থান করবে।
ব্লুমবার্গে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে না।
পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানান, রাষ্ট্রদূত তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছেন, আর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে মার্কিন নীতির দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের।
এ মাসের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের কূটনীতিকেরা এক সম্মেলন আয়োজন করবেন। ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা নির্ণয় করা হবে এর লক্ষ্য।
যদিও হাকাবি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কোথায় গঠিত হতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের চেষ্টাকে সমর্থন করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেননি। তবে সম্মেলনটিকে ‘সময়োপযোগী ও যথাযথ নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একটি যুদ্ধ চলার মধ্যে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ভুল দৃষ্টিভঙ্গি।’ এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও দুর্বল হবে বলে যুক্তি দেন তিনি।
বিবিসির নিউজআওয়ার অনুষ্ঠানে হাকাবি বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কেন ঠিক ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রিত জমিতেই গঠিত হতে হবে? আমি মনে করি, যাঁরা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কথা বলছেন, তাঁদের সবার কাছে এ প্রশ্ন তোলা উচিত।’
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা উচিত নয়—যুক্তরাষ্ট্র এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে কি না, জানতে চাইলে হাকাবি বলেন, ‘আমি বলছি না, কখনোই হবে না। আমি বলছি, এ নিয়ে সংস্কৃতিগত পরিবর্তন ঘটতে হবে।’
‘এ মুহূর্তে সেখানে এমন সংস্কৃতি রয়েছে, যেখানে ইহুদিদের হত্যা করা ন্যায়সংগত ভাবা হয় এবং তাতে পুরস্কৃতও করা হয়। এ সংস্কৃতি বদলাতে হবে’, বলেন হাকাবি।
ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সঙ্গে তার সংকটে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মতে, চূড়ান্ত সমাধান অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা কোনো পূর্বশর্ত হতে পারে না।
নিষেধাজ্ঞা ‘মর্মপীড়াদায়ক’
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, এই দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা চরমপন্থী সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। তাই যুক্তরাজ্যে তাঁদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে তাঁদের সম্পদ থাকলে জব্দ করা হবে।
ইসরায়েল এ পদক্ষেপকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হাকাবি একে ‘মর্মপীড়াদায়ক সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হাকাবি বলেন, ‘এই দুই নির্বাচিত মন্ত্রীর ওপর দেশগুলো কেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, আমি এখনো এমন কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ শুনিনি। দেশগুলোর উচিত ছিল, ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো এবং এটি বোঝা যে তাঁরা কোনো অপরাধ করেননি।’
![]() |
| ওয়েস্টার্ন ওয়ালের ফাঁকে চিরকুট গুঁজে দিচ্ছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেন, এই চিরকুট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো। ওল্ড সিটি, জেরুজালেম, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রেইনকোট, খুকরি আর রক্তমাখা ষড়যন্ত্র
প্রমাণের পাহাড়
তদন্তে যে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে, তা হলো- অভিযুক্ত আকাশের একটি রক্তমাখা শার্ট, ফরেনসিকে নিশ্চিত হয়েছে তাতে যে রক্ত লেগে আছে তা রাজার। সোনমের রেইনকোটেও মিলেছে রক্তের দাগ। হত্যায় ব্যবহৃত ‘খুকরি’ নামের বাঁকা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আনন্দের পরনে থাকা রক্তমাখা জামাকাপড়। হত্যাযন্ত্র এবং রাজার ব্যবহৃত জিনিসে অভিযুক্তদের আঙুলের ছাপ। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস। মোট ৪২টি লোকেশনের সিসিটিভি ফুটেজ, যাতে অভিযুক্তদের গতিবিধি ধরা পড়েছে। হোটেল মালিকদের বক্তব্য, যেখানে অভিযুক্তরা নিজেদের আসল নামেই বুকিং দিয়েছিল। স্কুটার ভাড়ার কাগজ, যেখানে নবদম্পতির সই রয়েছে। খুকরি বিক্রেতার সাক্ষ্য। আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের ফটোকপি, যা অভিযুক্তরা লজে জমা দিয়েছিল। ট্রেন ও ফ্লাইট টিকিট, যা অভিযুক্তদের যাত্রাপথের সঙ্গে মিলে যায়। কল ডিটেইল রেকর্ড: সোনম, রাজ এবং তিন খুনির সক্রিয় যোগাযোগ। মোবাইল লোকেশন ডেটা: হত্যার দিন, ২৩ মে, সকলেই ঘটনাস্থলের আশপাশে। তিন অভিযুক্তের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি। অনেক ডিজিটাল প্রমাণ ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে।
যেসব প্রমাণ এখনো অধরা
তদন্তকারীরা এখনো খুঁজে পাননি সোনমের মোবাইল ফোন। তাতে থাকতে পারে ফাঁস হওয়ার মতো চ্যাট, ছবি বা কল লগ। একইসঙ্গে অন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ও ঘটনার সময়কার পোশাকও এখনো উদ্ধার হয়নি। আরো একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়েছে রুপির লেনদেন ঘিরে। পুলিশ বলছে, ২০ লক্ষ রুপির বিনিময়ে এই খুন করা হয়েছে। কিন্তু সেই রুপির উৎস ও লেনদেনের পথ এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনার কালানুক্রম
মে ১১: রাজা ও সোনমের বিয়ে হয় ইন্দোরে।
মে ২১: তাদের শিলং আগমন, বালাজি গেস্ট হাউজে থাকা।
মে ২২: স্কুটার ভাড়া নিয়ে চেরাপুঞ্জির উদ্দেশে রওনা।
মে ২৩: ‘হানিমুন ট্রেক’ শুরু, রাজাকে খুন করা হয়।
মে ২৪: ফেলে যাওয়া স্কুটার উদ্ধার, সোহরারিম এলাকা।
জুন ২: রাজার দেহ উদ্ধার।
জুন ৭: অভিযুক্ত তিন খুনি গ্রেফতার, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ থেকে।
জুন ৮: সোনম আত্মসমর্পণ করেন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের নন্দগঞ্জ থানায়।
খুনের ছক ও ঘটনার পুনর্গঠন
সোনম ও রাজের সম্পর্ক: রাজা কিছুই জানতেন না। রাজ ছিলেন সোনমের পারিবারিক ব্যবসায় কর্মরত। তিন খুনি (আকাশ, আনন্দ, বিকাশ) ইন্দোর থেকে শিলং পৌঁছান বিভিন্ন যানবাহনে চেপে, যাতে কারো নজরে না আসেন।
মে ২৩: চেরাপুঞ্জির কম চেনা মাওলিংখিয়াত ট্রেইল দিয়ে ট্রেক শুরু করেন পাঁচজন।
১০টা নাগাদ: স্থানীয় গাইড আলবার্ট দেখেন যে তারা গাইড নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ট্রেইলে একান্তে যাওয়ার পর: সোনম পিছিয়ে পড়েন এবং চিৎকার করেন ‘মেরে দো!’
তারপর: বিকাশ প্রথম আঘাত করে, বাকিরা মিলে রাজাকে মাথা ও বুকে কোপায়।
দেহ গিরিখাতে ফেলে দেওয়া হয়: যেখানে সোনম নিজেও সহায়তা করেন বলে অভিযোগ।
পলায়নের রাস্তায়
খুনের পর সোনম মাওকাডক থেকে ট্যাক্সিতে শিলং যান। এরপর গুয়াহাটি হয়ে ট্রেনে ইন্দোর ফেরেন বলে অনুমান। তিন খুনি আলাদা আলাদা ট্রেনে করে গিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ।
কীভাবে ফাঁস হলো ষড়যন্ত্র
প্রথমে সোনম নিজেকে নিখোঁজ দেখানোর চেষ্টা করেন, যেন মনে হয় তিনিও অপহৃত। কিন্তু পরবর্তীতে ৮ জুন গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন। তদন্তে নেতৃত্ব দেন মেঘালয় পুলিশের এসপি বিবেক সিয়েম। তার ভাষায়, উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল, ফরেনসিক ও সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে সোনম ও রাজ কুশওহার বিরুদ্ধে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হানিমুনে স্বামী হত্যা, ২০ লাখ রুপির চুক্তি, হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন সোনম
২৪ বছর বয়সী সোনম ও ২৯ বছর বয়সী রাজা ১১ই মে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে হানিমুনের জন্য সোনম মেঘালয় ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। তারা ২১শে মে শিলং পৌঁছান। এরপর তারা পূর্ব খাসি হিল জেলার চেরাপুঞ্জি বা সোহরা অঞ্চলে যান। কিন্তু রাজার পরিবার জানত না যে, সোনম প্রেমে পড়েছেন তাদের পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করা ২১ বছর বয়সী কর্মচারী রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে। অভিযোগ আছে, কুশওয়াহা তার তিন বন্ধুকে রাজাকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেন এবং সোনম তাদের ২০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২৩শে মে সোনম ও রাজা জলপ্রপাত দেখতে একটি পাহাড়ের চূড়ায় ট্রেকিংয়ে যান। সেই সময়ই হত্যাকারীরা তাদের পিছু নেয় এবং নির্জন স্থানে পৌঁছালে সোনমই রাজাকে হত্যার নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনম এরপর নিজেই তার স্বামীর দেহ গিরিখাদে ফেলে দিতে সাহায্য করেন।
পূর্ব খাসি হিল জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানান, হত্যার পর সোনম প্রথমে মাওকাদক থেকে ট্যাক্সিতে শিলং যান। সেখান থেকে গৌহাটি পৌঁছান একটি পর্যটক ট্যাক্সিতে। এরপর গৌহাটি থেকে একটি ট্রেনে চেপে পালিয়ে যান। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি ইন্দোরে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য অভিযুক্তদের জবানবন্দি পাওয়ার পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপরদিকে তিন হত্যাকারী সোহরা থেকে ট্যাক্সিতে গৌহাটি যায় এবং সেখান থেকে ট্রেনে করে ইন্দোরে ফিরে যায়। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, তাদের আলাদা ও সমন্বিত পালানোর পদ্ধতি দেখে বোঝা যায়, হত্যার পর পালানোর পরিকল্পনাও আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের সাত দিনের মধ্যেই তারা সোনমের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে তাকে গ্রেফতার করে। যদিও সোনমের মোবাইল এখনও উদ্ধার হয়নি, তবে পুলিশ নিশ্চিত যে হত্যার দিন সে কুশওয়াহার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং কুশওয়াহা আবার তার ঘাতক বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি সোনম আগে কখনও মেঘালয়ে এসেছিলেন কিনা অথবা হত্যার নির্দিষ্ট স্থানটি তিনি আগে থেকেই ঠিক করেছিলেন কিনা।
এসপি বিবেক সিয়েম বলেন, তিনি হয়তো গুগল সার্স করে নির্জন জায়গা খুঁজে বের করেছিলেন। এখানে প্রচুর বন আছে। হয়তো সুযোগ বুঝে এটাই করেছে। এটা অন্য যেকোনো জায়গায়ও হতে পারত। আমরা নিশ্চিত নই। কারণ তিনি বলছেন আগে কখনও শিলং আসেননি।
সোনম মঙ্গলবার রাতে শিলং পৌঁছানোর কথা। কুশওয়াহা ও বাকি তিন ঘাতক বুধবার সকালে পৌঁছানোর কথা। পুলিশ সুপার বলেন, আমরা তাদের আদালতে হাজির করবো এবং এরপর পুলিশ রিমান্ডে নেব। তখনই ঠিক করবো কবে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের পুনর্গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, তারা একসঙ্গে উপরে উঠেছিল। তারা একটি দর্শনীয় স্থানে মিলিত হয় এবং সেখান থেকে হেঁটে যায়। তাদের স্কুটারগুলো নিচে ছিল। ঘাতকদের মতে, সোনমই তাদের ‘ওয়েই সাওডং’ ঝরনায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এই ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সদ্য বিবাহিত এক নারী কীভাবে এমন নির্মম পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়লেন, তা নিয়ে সমাজে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে পুলিশ জানতে পারবে হত্যার পুরো পরিকল্পনা কার মাথা থেকে এসেছিল এবং আসল উদ্দেশ্য কী ছিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 12
(20)
- পিউ রিসার্চের জরিপ: ২০১০-২০২০ সাল পর্যন্ত অন্য সব ...
- কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত: আর কত পর্যটকের মৃত্যু দেখতে হবে
- ইসরায়েল-সমর্থিত গ্যাংয়ের ৫০ সদস্য নিহত, গাজায় গৃহয...
- বিতর্কিত কেন্দ্রে ত্রাণের আশায় গিয়ে প্রাণ গেল আরও ...
- কিডনি যেভাবে ভালো রাখবেন by অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ
- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নিন্দা ও ক্ষোভ
- এবার ইসরায়েলি দুই উগ্রপন্থি মন্ত্রীর ওপর ৪ দেশের ন...
- গ্রেটা ও তার সহকর্মীদের ইসরাইলে প্রবেশে ১০০ বছরের ...
- বিচ্ছেদ গুঞ্জনের মাঝে মেয়ের জন্মদিন: নিজের পরিচয়ে ...
- লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভ নিয়ে এ পর্যন্ত যা কিছু জা...
- নিউইয়র্ক কি ইতিহাসে প্রথম কোনো মুসলিম মেয়র পেতে যা...
- ভারত ও পাকিস্তান কি বড় নৌযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ...
- আসামে মন্দিরে কারা রেখে গেল গরুর মাংস, এ নিয়ে দুই ...
- ‘পুশ ইন’ কি দিল্লির বৈরী নীতির অংশ নয় by খাজা মাঈন...
- মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর- কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্প মধ্য...
- ক্যালিফোর্নিয়া কেন জ্বলছে by হাসান ফেরদৌস
- শাশুড়ি ও দুই শ্যালককে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে রবিন
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে মুসলিম দেশগুলোকে ভূমি ছাড়ার...
- রেইনকোট, খুকরি আর রক্তমাখা ষড়যন্ত্র
- হানিমুনে স্বামী হত্যা, ২০ লাখ রুপির চুক্তি, হত্যাক...
-
▼
Jun 12
(20)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










