Sunday, November 14, 2010

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সূচকে মিল থাকছে না

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা কৌশল ঠিক করতে পারছে না সরকার। এ পর্যন্ত ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রার একটির সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই। একেক মন্ত্রণালয় একেক রকম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যাতে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে (এমটিএমএফ) একরকম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রক্ষেপণ করা হলেও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করা হচ্ছে আরেক রকম। আবার এ দুইয়ের সঙ্গে ফারাক রয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত রূপকল্প ২০২১-এর।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এবং সনাতন ও দায়সারা পদ্ধতিতে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর, অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ কতদূর এগোতে চায়, এমটিএমএফের মাধ্যমে তার একটি প্রক্ষেপণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে একই সময়ের জন্য প্রণীতব্য ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও একই বিষয়ের ওপর প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আবার কিছু প্রক্ষেপণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এটি করা হয়েছে রূপকল্প-২০২১-এর ওপর ভিত্তি করে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য রূপকল্পের নাম দিয়েছেন অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের রূপরেখা।
একই সরকারের সময়কালে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই বিভিন্ন প্রক্ষেপণের নেতিবাচক সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা। উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাগুলোর শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এমটিএমএফের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, প্রথাগত পদ্ধতিতে অর্থনীতির সূচক নির্ণয়ের কারণে অঙ্কের হেরফের হচ্ছে, প্রকৃত চিত্রও উঠে আসছে না। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো কম্পিউটেশনাল জেনারেল ইক্যুইলিব্রিয়াম (সিজিই মডেল) পদ্ধতি অনুসরণ করলে এ সমস্যা কেটে যাবে।
উদাহরণ দিয়ে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রথাগত পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে দেখা যায়, প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভোগব্যয় বাড়ে। কিন্তু সিজিই পদ্ধতিতে হিসাব করলে ওই রেমিট্যান্সের কারণে প্রকৃত আয় কত বাড়ল, আমদানি-ব্যয় বাড়ল কি না, বা কৃষি খাতের ওপরই বা কী প্রভাব তৈরি হলো, তার চিত্রটা উঠে আসে।
যেসব নীতি চলকের ওপর ভিত্তি করে পাঁচ বছরের জন্য এমটিএমএফ প্রণীত হয়েছে এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন, মোট রাজস্ব, মুদ্রাবিনিময় হার, মোট ব্যয়, প্রবাসী-আয় (রেমিটেন্স), বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ব্যয় ইত্যাদি।
জিডিপির প্রবৃদ্ধি: পাঁচ বছর মেয়াদি এমটিএমএফে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বর্তমান বাজেটে এই হারই বহাল রেখেছেন। ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৬ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরেই প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে উন্নীত হবে এবং পরের বারও বজায় থাকবে এই হার।
এমটিএমএফের মতো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৮ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। বাকি তিনবারের প্রক্ষেপণে এমটিএমএফের সঙ্গে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কোনো মিল নেই। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ ৬ দশমিক ৯ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের ৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা এমটিএমএফের এই দুবারের তুলনায় দশমিক ৩০ শতাংশ কম। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এমটিএমএফের তুলনায় দশমিক ৫০ শতাংশ কম।
মূল্যস্ফীতি: এমটিএমএফে চলতি অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫, ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৩ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এমটিএমএফ অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরেই মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নেমে আসবে এবং পরের অর্থবছরেও একই হার, অর্থাৎ ৬ শতাংশই বজায় থাকবে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি প্রক্ষেপণে এমটিএমএফের সঙ্গে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চলতি ২০১০-১১ এবং শেষ ২০১৪-১৫, অর্থাৎ দুই অর্থবছরের মিল রয়েছে। উভয়টিতেই চলতি অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৬ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
তবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এমটিএমএফের সঙ্গে এ তিন বছরের প্রক্ষেপণে কোনো মিল নেই।
মোট বিনিয়োগ: এমটিএমএফে চলতি অর্থবছরের জন্য মোট বিনিয়োগ (বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে) প্রক্ষেপণ করা হয়েছে জিডিপির ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ২৮ দশমিক ৪, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৩০, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৩১ দশমিক ৬ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৩২ শতাংশ।
এ বিষয়ে এমটিএমএফ এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একই রকম ধরা হয়েছে। এমটিএমএফের তুলনায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাকি তিন বছরের প্রক্ষেপণেই রয়েছে ব্যাপক অসামঞ্জস্য। যেমন, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ২৯ দশমিক ৬, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৩১ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য তা ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ, যার একটির সঙ্গেও এমটিএমএফের প্রক্ষেপণের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
মোট রাজস্ব: মোট রাজস্ব এমটিএমএফে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপির ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ১২ দশমিক ৫, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ১৩ দশমিক ১, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ১৩ দশমিক ৬ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব জিডিপির ১১ দশমিক ৯ শতাংশ উভয় প্রক্ষেপণে একই রয়েছে। কিন্তু বাকি চার বছরের একটিরও মিল নেই। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ১২ দশমিক ৬ এবং পরের তিন অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৫, ১৪ দশমিক ৪ এবং ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
অর্থায়ন: এমটিএমএফে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস ও বৈদেশিক খাত মিলিয়ে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপির ৫ শতাংশ। পরের চার অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭, ৪ দশমিক ৩, ৪ দশমিক ২ এবং ৪ শতাংশ। কিন্তু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থায়ন প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আর পরের চার বছর ধরেই এ হার ৫ শতাংশ থাকবে বলে বলা হয়েছে।
বিনিময় হার: ডলারের বিপরীতে টাকার মান, অর্থাৎ বিনিময় হার এমটিএমএফে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে চলতি অর্থবছরের জন্য ৭০ দশমিক ২ টাকা। পরের চার অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৭, ৭১ দশমিক ২, ৭১ দশমিক ৫ ও ৭১ দশমিক ৯ টাকা।
সব চলকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসামঞ্জস্য এই বিনিময় হারের প্রক্ষেপণে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিনিময় হার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭১ দশমিক ৬ এবং পরের চার বছরের জন্য যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ২, ৭৬ দশমিক ৯, ৭৯ দশমিক ৭ এবং ৮২ দশমিক ৪ টাকা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
এমটিএমএফ এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে রূপকল্পের প্রক্ষেপণেও কোনো মিল নেই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে রূপকল্পকে মাথায় রেখে। গত ফেব্রুয়ারিতে রূপকল্প বাস্তবায়নের একটি খণ্ডচিত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। ‘রূপকল্প বাস্তবায়ন: কোন পথে?’ শীর্ষক অধ্যায়ে মোট রাজস্বের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জন্য ১২ দশমিক ২, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ১ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এখানেও দুই অর্থবছরের প্রক্ষেপণে অন্যগুলোর সঙ্গে কোনো মিল নেই।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম এই প্রক্ষেপণগুলো একই রকম হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মধ্যে এ ব্যাপারে একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেন তিনি।
মির্জ্জা আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চলকের ওপর প্রক্ষেপণ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের দুই রকম মতামত অনাকাঙ্ক্ষিত। এ রকম হলে প্রক্ষেপণের ওপরই অনাস্থা তৈরি হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
এ বিষয়ে জিইডির সদস্য এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এমটিএমএফ ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রক্ষেপণে পার্থক্য থাকার কোনো সুযোগ নেই; যদি থাকেও, তা সংশোধনযোগ্য।

এক সপ্তাহে সাধারণ সূচক বাড়লেও কমেছে মোট লেনদেন

ঢাকার শেয়ারবাজারে গত এক সপ্তাহে সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সাধারণ সূচক বেড়েছে চার দিনই। তবে গত সোমবার ডিএসইর সাধারণ সূচক কমে যায় ১৪ পয়েন্ট। সাধারণ সূচক বাড়লেও গোটা সপ্তাহেই মোট লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে কমে গেছে।
ডিএসই ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক দুই দশমিক ৫১ শতাংশ বা প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতে সাধারণ মূল্যসূচক ছিল ৭৯৮৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট। যা এক সপ্তাহের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ৮১৮৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে।
একই সময়ে আর্থিক লেনদেন গড়ে প্রতিদিন দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৪৬২ কোটি টাকা করে হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। যা সপ্তাহ শেষে দুই দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে তিন লাখ ৪৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। এ সময় লেনদেন হওয়া মোট ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টির এবং কমেছে ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
গত সপ্তাহে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, এবি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—মুন্নু স্টাফলারস, স্টাইলক্রাফট, ফু ওয়াং সিরামিক, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইনস্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, পূবালী ব্যাংক, ঢাকা ইনস্যুরেন্স, মারিকো বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার ও ইমাম বাটন।
সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—জেমিনি সি ফুড, দুলামিয়া কটন, সমরিতা হাসপাতাল, কোহিনূর কেমিক্যালস, ওসমানিয়া গ্লাস, ফাইন ফুডস, সাভার রিফ্রেইটরিজ, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ১, ফিনিক্স ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ও মেঘনা পিইটি।

ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি

ইউরোপের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর প্রবৃদ্ধি গতি হারিয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যথেষ্ট ধীর বলে জানা গেছে। জার্মানিতে এ সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার মাত্র শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল দুই দশমিক তিন শতাংশ।
ফ্রান্সের মোট দেশজ উত্পাদন জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে শূন্য দশমিক চার শতাংশ। আগের প্রান্তিকে যে হার ছিল শূন্য দশমিক সাত শতাংশ।
জার্মানি ও ফ্রান্স ছাড়াও ইতালি ও গ্রিসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার যথেষ্ট ধীর।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল দুই দশমিক তিন শতাংশ। যা এ বছর ইউরোপের কোনো দেশের সবচেয়ে সেরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তবে জার্মানির এ হারও প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থদপ্তর।

ম্যানেজারের ভুলে

এশিয়ান গেমসে খেলতে বাংলাদেশের বহরের বড় অংশটা চীনে গেছে গত ১০ নভেম্বর। ৯টি খেলার ৯৬ জন খেলোয়াড়-কর্মকর্তার ওই বহরে নেই তায়কোয়ান্দো দল। তারা যাবে ১৫ নভেম্বর। অথচ নকআউট-ভিত্তিক এই খেলায় বাংলাদেশকে কোর্টে নামতে হবে ঠিক এক দিন পর অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর। দলের ম্যানেজার নজরুল ইসলামের ভুলেই এমনটি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর্চারি দলের খেলাও শুরু ১৭ নভেম্বর। কিন্তু আর্চারি দল ঠিকই প্রধান বহরের সঙ্গে ১০ নভেম্বর চীনে গেছে। তায়কোয়ান্দো দল কি ওদের সঙ্গে যেতে পারত না? বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মানু) বলির পাঁঠা অবশ্য খুঁজে পেয়েছেন, ‘অবশ্যই সম্ভব ছিল। কিন্তু টেকনিক্যালি একটু ভুল হয়েছে আমাদের। এশিয়ান গেমসের ম্যানেজারদের সভায় তায়কোয়ান্দো দলের ম্যানেজারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেননি।’
চীনে গিয়ে খেলোয়াড়েরা অনুশীলনের সুযোগ পাবেন না বলে হতাশ তায়কোয়ান্দোর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম (রানা), ‘কমপক্ষে দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ না পেলে কীভাবে চলবে।’ এভাবে চীনে গিয়ে ফল কতটা ভালো করা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় মিজানুর রহমান, ‘আমাদের খুবই অসুবিধা হবে। ভ্রমণক্লান্তি নিয়েই খেলতে নামতে হবে। এভাবে কি ভালো ফলাফল করা সম্ভব?’
এদিকে এশিয়ান গেমসের আগে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে খেলতে মালয়েশিয়ায় রয়েছে কারাতে দল। গেমসের ঠিক আগমুহূর্তে এভাবে টুর্নামেন্টে খেললে ইনজুরির ঝুঁকি থেকে যায়। এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান জানালেন, ‘সব খেলাতেই তো ঝুঁকি আছে। তবে এ মুহূর্তে এত ঠাসা সূচিতে খেলতে যাওয়াটা ঠিক হয়নি ওদের।’ দলের সঙ্গে মালয়েশিয়া যাওয়া মরিয়ম খাতুনের খেলা হচ্ছে না এশিয়ান গেমসে। গেমসের নিয়ম অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ খেলতে পারবে না। মরিয়মের বয়স ১৭। তবে তাঁর বদলে শরীফা খাতুনকে বিকল্প হিসেবে ভেবে রেখেছে তারা।

ডিআরইউ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ‘ডেইলি স্টার’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডেইলি স্টার। কাল ফাইনালে তারা ৪৫ রানে হারিয়েছে দৈনিক ডেসটিনিকে। প্রথমে ব্যাট করে ডেইলি স্টার ১ উইকেটে তোলে ৯৫ রান। জবাবে ডেসটিনি ৫০ রানে অলআউট হয়ে যায়। ম্যাচ-সেরা ডেইলি স্টার-এর আজাদ। টুর্নামেন্ট-সেরাও একই দলের নাজমুল আলম। ম্যাচ শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সকম বেভারেজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ ইরফান চৌধুরী, র‌্যাপিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হানিফ ভূঁইয়া প্রমুখ।

এরপর ক্রিকেটে ইংল্যান্ড-রাজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতনের পর ক্রিকেট-বিশ্বের শাসনভার হাতে নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার এখন পতনের শুরু। প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করবে কে? উত্তরটা দিয়ে দিয়েছেন পল কলিংউড, ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আগামী ১৫ বছর বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করবে ইংল্যান্ড!
শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রাদের দল রাজত্ব করেছে দীর্ঘদিন। কলিংউডের বিশ্বাস, তাঁর ইংলিশ সতীর্থরাও একদিন ওই উচ্চতায় উঠবে। ২০০৯ সালে ঘরের মাঠে অ্যাশেজে জয়ের পর এই বছর ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফাইনালে মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।
বছর চারেক আগের অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে কলিংউডের মূল্যায়ন, ‘যে দলটির বিপক্ষে আমরা চার বছর আগে খেলেছি, তারা ১০-১৫ বছর দারুণ একটি দল ছিল। তারা দীর্ঘদিন ক্রিকেটকে শাসন করেছে।’ এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই গত ১৮ মাসে তিন ঘরানার ক্রিকেটেই সাফল্য পেয়েছে ইংল্যান্ড। যে সাফল্য ইংল্যান্ড দলকে করেছে আত্মবিশ্বাসী। এই আত্মবিশ্বাসই ইংল্যান্ড দল নিয়ে কলিংউডকে দেখাচ্ছে উচ্চাভিলাসী স্বপ্ন, ‘আগামী ১০ বছর আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমরা সব সময় ভালো করব।’

জুলকারনাইনের সব ঘটনাই বানোয়াট

এ মুহূর্তে পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত রাষ্ট্রদূতদের একজন ওয়াজিদ শামসুল হাসান। লন্ডনে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাজারটা ঝামেলা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারের পর এবার তাঁর কাঁধে চেপেছে জুলকারনাইন হায়দারকে সামলানোর ভার। যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়া জুলকারনাইনের সঙ্গে তাই বৈঠক করেছেন শামসুল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া এই ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটও।
তার মানে এই নয় পিসিবি নরম-সরম হয়ে জুলকারনাইনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। বরং বোর্ড আগের মতোই শক্ত অবস্থানে। পাকিস্তান এই বার্তা দিয়ে দিয়েছে, দেশের মুখে ‘চুনকালি’ মাখানো জুলকারনাইন কোনো অনুকম্পা পাবেন না। পিসিবি আসলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে সত্যি ঘটনা জানার জন্য।
ঘটনা যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তান মনে করে নিজে থেকে এ ধরনের একটা ঘটনা তৈরি করে জুলকারনাইন যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পঞ্চম ওয়ানডেতে ম্যাচ না পাতালে তাঁকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি পেয়েছিলেন নাকি জুলকারনাইন। এই হুমকি তিনি চতুর্থ ওয়ানডের আগেই পেয়েছেন, যে ম্যাচে তাঁর অপরাজিত ১৯ রান পাকিস্তানকে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি জেতাতে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু পিসিবির আইন উপদেষ্টা তাফাজ্জুল রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন, চতুর্থ ম্যাচটি হয়েছিল শুক্রবার, প্রাণের মায়া যদি তাঁর এতটাই থেকে থাকে, তাহলে জুলকারনাইন কেন থেকে গেলেন সোমবার পর্যন্ত? অর্থাৎ জুলকারনাইন হুমকি পাওয়ার পরও চার দিন ছিলেন দলের সঙ্গে। রিজভী আরেকটি প্রশ্ন করেছেন, ‘পরিবারকেও খতম করে ফেলার হুমকি পাওয়ার পর জুলকারনাইনের উচিত ছিল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের সংস্কৃতি সেটাই বলে। কিন্তু ও সেটা না করে পালিয়ে গেল আরেকটি দেশে।’
ঠারেঠোরে বুঝিয়েই দেওয়া হচ্ছে, এ স্রেফ জুলকারনাইনের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ার কৌশল। কারণ পাকিস্তান ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল ছিল না এই ক্রিকেটারের। অন্তত পিসিবির পক্ষ থেকে সেটাই বলা হচ্ছে। পঞ্চম ওয়ানডেতেও নাকি এমনিতেই তাঁকে বাদ দিয়ে উমর আকমলকে উইকেটকিপিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট। উর্দু দৈনিক জং সেটাই লিখেছে। শেষ ওয়ানডের আগের দিনই জুলকারনাইনকে সেটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখেই কি তবে মানে মানে কেটে পড়লেন জুলকারনাইন?
শুধু পাকিস্তান নয়, এই ক্রিকেটারের এভাবে পালিয়ে যাওয়ার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না সৌরভ গাঙ্গুলীও। ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, জুলকারনাইনের জায়গায় তিনি থাকলে কখনোই এভাবে পালাতেন না।
সে যা-ই হোক না কেন, জুলকারনাইন এখনো যুক্তরাজ্যেই আছেন। তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনও প্রক্রিয়াধীন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়ায় তিনি অনুতপ্তও নন। এখন কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তরুণ ক্রিকেটার বলেছেন, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। হয়তো ইংলিশ কাউন্টিতে খেলার পরিকল্পনা তিনি করছেন। এরই মধ্যে ইংলিশ ভিলেজ ক্রিকেট ক্লাব ল্যাশিংস বিশ্ব একাদশ তাঁকে আগামী মৌসুমে খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে।

বাটদের শুনানি জানুয়ারিতে

স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত পাকিস্তানিত্রয়ীর ভাগ্য নির্ধারণের তারিখ ও ‘ভাগ্যনির্ধারক’দের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। আগামী ৬ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি হবে। শুনানি পরিচালনার জন্য গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা হলেন মাইকেল বিলোফ কিউসি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি আলবি সার্চস ও কেনিয়ার শরদ রাও।

জয়ে পুনরাভিষেক পেলেগ্রিনির

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ছাঁটাই হওয়া কোচ হোসে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি আবার পা রেখেছেন স্পেনের ফুটবলে। মালাগার দায়িত্ব নিয়েছেন চিলিয়ান কোচ। পুনরাভিষেকে জয়ই পেয়েছেন। পরশু কিংস কাপের দ্বিতীয় লেগে হারকিউলিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে মালাগা। এই জয় প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোয় তুলে দিয়েছে তাদের।
১৯৮৮ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা পেলেগ্রিনি ভিয়ারিয়াল দিয়ে স্পেনের ফুটবলে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে। শুরুর বছরেই দলকে ইন্টারটোটো কাপ জেতানো ছাড়া আর কিছু এনে দিতে পারেননি। তবে ভিয়ারিয়ালকে তিনি পরিণত করেন লড়াকু একটি দলে। আর এ জন্যই রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে কোচ করে নেয় ২০০৯ সালে।
কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ-যাত্রাটা তাঁর জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। দলকে কিছু এনে দিতে পারেননি বলে বার্নাব্যু-দিন এক মৌসুমেই শেষ হয়ে যায় তাঁর। কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে কোচ হয়েছেন তিনি মালাগার। তাঁর ছোঁয়াতেই কিনা, মালাগা পরশু জিতল সেবাস্তিয়ান ফার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের গোলে।
ফার্নান্দেজ মালাগাকে রক্ষা করার আগে হারকিউলিস সমর্থকেরা অবশ্য শেষ ষোলোতে ওঠার আনন্দ শুরু করে দিয়েছিল। প্রথম লেগটা গোলশূন্য ড্র থাকায় এই ম্যাচ ড্র হলেই অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে শেষ ষোলোতে উঠে যেত হারকিউলিস।
প্রথমে অবশ্য ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল হারকিউলিসই। এরপর দুর্দান্ত খেলে ম্যাচে ফেরে তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেটা ধরে রাখতে পারেনি এবারের লিগে বার্সাকে হারিয়ে চমক দেওয়া দলটি।

ভোলায় ফুটবল

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দৌলতখান উপজেলা। কাল ফাইনালে তজুমদ্দিন উপজেলাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে দৌলতখান। দৌলতখানের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছেন ম্যাচ সেরা মোহাম্মদ সবুজ।

ড্র হয়ে গেল কোপার

সেই ১৯১৬ সালে শুরু হয়েছিল। এক দিক দিয়ে কোপা আমেরিকা ফুটবলের আদি টুর্নামেন্টগুলোর একটি। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের ৪৩তম আসর এবার বসছে আর্জেন্টিনায়। সর্বোচ্চ নবমবারের মতো আর্জেন্টিনা কোপার আয়োজন করবে আগামী বছর জুলাইয়ে। পরশু তারই ড্র হয়ে গেল। চূড়ান্ত হয়ে গেছে সূচিও। ১ জুলাই লা প্লাতার নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া। ‘বি’ গ্রুপে পড়া ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ ৩ জুলাই, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে।
তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে ১২টি দল। দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনের সদস্যসংখ্যা ১০টি হওয়ায় দুটো আমন্ত্রিত দল খেলে এই টুর্নামেন্টে। নিয়মিত অতিথি মেক্সিকো ছাড়াও আগামী কোপায় খেলবে এশিয়ার দেশ জাপান। তিন গ্রুপের সেরা দুই দল চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। বাকি দুটো শূন্যস্থান পূরণ করবে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দুই দল।

ধীরে চলছেন সিদ্দিকুর

ঠিক চমকও দিতে পারছেন না, আবার খুব খারাপও করছেন না। বলা যায়, সিঙ্গাপুর ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে স্থিতিশীল একটা অবস্থায় ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। এই রাউন্ডে পারের চেয়ে ২ শট কম খেলেছেন সিদ্দিকুর। দুই রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে ৬ শট কম খেলে সেরা ১৫-তে আছেন বাংলাদেশি গলফার।
সিদ্দিকুরের সঙ্গে একই অবস্থানে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গলফার মার্টিন কেমার ও ফিল মাইকেলসন। কাল দারুণ খেলেছেন ভারতের জীব মিলখা সিং। দ্বিতীয় রাউন্ডে পারের চেয়ে ৭ শট কম খেলেছেন তিনি, এখন আছেন সেরা ৭-এ।
সিঙ্গাপুর ওপেনের নেতৃত্ব এখন দুই রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে ১২ শট কম খেলা অস্ট্রেলিয়ান অ্যাডাম স্কটের হাতে।

রান-পাহাড়ের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা

গ্যালারিতে বসে ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদ। মাঠে পাকিস্তানি বোলারদের সংগ্রাম দেখে অনেকেরই দীর্ঘশ্বাস পড়তে বাধ্য, ‘আহা...মাঠের বাইরের ওই তিনজন যদি থাকতেন মাঠের ভেতরে!’
কিন্তু ‘সময়’ নামের ‘জিপসি বুড়ো’ তো আর থেমে থাকে না। বাইরে থেকে দেখা ছাড়া তাই তিনজনের কিছুই করার নেই। সেই দেখাটাও খুব সুখকর কিছু হয়নি। ১০১তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে দুবাইয়ের অভিষেক দিনেই রান-পাহাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিয়ারের ২১তম আর অধিনায়ক হিসেবে ২০তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন গ্রায়েম স্মিথ। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এখন এককভাবে স্মিথের। অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ রানও এখন তাঁর, কাল ছাড়িয়েছেন পন্টিংয়ের পূর্বসূরি অ্যালান বোর্ডারকে। রান পেয়েছেন পিটারসেন-আমলা-ক্যালিসরাও। ক্যালিস আবার বোর্ডারকে ছয়ে নামিয়ে উঠে গেছেন টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারীর তালিকার পাঁচে।
পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল কুঁচকির চোটে মোহাম্মদ ইউসুফকে পুরো সিরিজেই না পাওয়ার দুঃসংবাদ শুনে। আগের টেস্টের একাদশ থেকে সাতটি পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছে স্মিথ-পিটারসেনের উদ্বোধনী জুটি। যদিও শুরুতে খানিকটা নড়বড়ে ছিলেন দুজনই, দুজনেই পেয়েছেন ভাগ্যের ছোঁয়া। ব্যক্তিগত ৯ রানে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েছিলেন আলভিরো পিটারসেন, কিন্তু আউট দেননি ড্যারিল হার্পার। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, ব্যাটের কানা ভালোভাবেই ছুঁয়েছিল বল। ৮ রানে সেই গুলের বলেই জোরালো এলবিডব্লুর আবেদন থেকে বেঁচে যান স্মিথ, টিভি রিপ্লে দেখায় বল লাগত লেগ স্টাম্পে। এবারও আম্পায়ার ছিলেন হার্পার। খারাপ ভাগ্যের সঙ্গে যোগ হয়েছিল পাকিস্তানিদের বাজে ফিল্ডিং। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে স্মিথকে রানআউট করার সহজ সুযোগ ছাড়েন আজহার আলী।
নড়বড়ে সূচনার মাঝে বাজে বলের ফায়দা তুলতে ভোলেননি দুজনের কেউই। প্রথম সেশনেই তাই উঠে যায় ১০১ রান। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম তিন বলেই চার মেরে শুরু করেছিলেন স্মিথ। তবে রানের গতি না কমলেও এ সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকা হারায় পিটারসেন-স্মিথকে। ১৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটির পর দুজনই আউট হয়েছেন দৃষ্টিকটুভাবে। রেহমানের করা দিনের সবচেয়ে বাজে বলটিতেই হয়তো আউট হয়েছেন পিটারসেন, শর্ট বলে পিটারসেনের পুল মিড উইকেটে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন ইউনুস খান। ১৫১ বলে সেঞ্চুরি পাওয়ার পরের বলেই শর্ট বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ হয়েছেন স্মিথও। তৃতীয় উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এগিয়ে নিয়ে যান হাশিম আমলা ও জ্যাক ক্যালিস।
গোধূলিবেলায় আমলা ফিরে গেলেও টিকে আছেন ক্যালিস, বাইরে ডি ভিলিয়ার্স, প্রিন্স, বাউচাররা। দ্বিতীয় দিনেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে পাকিস্তানের জন্য।

মরিনহোকে ভোলার মিশন

মরিনহোর চেয়ারে বেনিতেজ বসেছেন, সেও পাঁচ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো মরিনহো-বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি ইন্টার মিলান! খেলোয়াড়দের মগজ থেকে মরিনহোর রণকৌশল ধুয়ে ফেলতে পারেননি বেনিতেজ। এর প্রভাব পড়ছে ইন্টার মিলানের মাঠের পারফরম্যান্সে। ইন্টার ঠিক ইন্টার হয়ে জ্বলতে পারছে না। এ অবস্থায় খেলোয়াড়দের প্রথম কাজ, মাথা থেকে মরিনহো-ভূত নামিয়ে ফেলা। পারলে আগামীকালের মিলান-ডার্বির আগেই।
নিজের টুইটারে তাই সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করতে ওয়েসলি স্নাইডার লিখেছেন, ‘মরিনহো এখন অতীত। আর অতীতকে আঁকড়ে না থেকে আমাদের এখন অবশ্যই বর্তমান নিয়ে ভাবা উচিত।’
মরিনহোর হাত ধরে গত মৌসুমে ট্রেবল জিতেছিল ইন্টার মিলান। চাইলেই এই কীর্তিকে আড়াল রাখতে পারছেন না স্নাইডাররা, ‘আমরা সমস্যার মধ্যে থাকতেই পারি। এর ব্যাখ্যাও আছে। আমরা চমৎকার একটি মৌসুম পার করে এসেছি, যেটি ভুলে যাওয়াটা কঠিন।’
সিরি ‘আ’র টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের সামনে এবার টানা ষষ্ঠ শিরোপার চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বেনিতেজের শিষ্যরা হাঁটছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ১১ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টারের অবস্থান চতুর্থ। ৩ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে তাদেরই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলান। লাৎসিও (২২), নাপোলির (২১) মতো দলও তাদের ওপরে।
মরিনহো-ভূতই যে এ জন্য দায়ী, তা নয়। নতুন কোচ বেনিতেজের চ্যালেঞ্জ কঠিন হয়ে উঠেছে দলের শীর্ষ তারকাদের চোট-আঘাতে। গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ের নায়ক স্নাইডার অসুস্থ। হুলিও সিজার, মাইকন, জানেত্তির মতো তারকাদের নিয়মিত মাঠে নামাতে পারছেন না বেনিতেজ।
ডাচ তারকা গত সপ্তাহে ব্রেসিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে বিরতির সময় মূর্ছা গিয়েছিলেন রক্তস্বল্পতার কারণে। লেচ্চের সঙ্গে পরের ম্যাচটায় বিশ্রাম দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু তিনি আশাবাদী যে আগামীকাল এসি মিলানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন, কারণ এক ম্যাচের বিশ্রামই তাঁকে স্বরূপে ফিরতে সাহায্য করতে করবে, ‘আমি ক্লান্তিটা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমরা সেরা অবস্থায় ফিরব। কালকের এই বিশ্রাম আমাকে নির্ভার থাকতে সাহায্য করেছে।’ ‘মিলান ডার্বি’টা কিছুতেই মিস করতে রাজি নন গত বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করে হল্যান্ডকে ফাইনালে তোলার নায়ক, ‘গত মৌসুমে এই ডার্বি দিয়েই আমার অভিষেক (ইন্টার জিতেছিল ৪-০ গোলে)। আমি ওটা কখনোই ভুলব না। এখন আমাদের ও বেনিতেজের জন্য আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন। সেও (বেনিতেজ) মরিনহোর মতোই গ্রেট কোচ।’

কিউইদের আরেকটি দিন

‘আগেও দেখা গেছে কয়েক ইনিংস রান না পেলে ও হঠাৎ করেই একটা বড় ইনিংস খেলে’—হায়দরাবাদ টেস্টের আগের দিন রস টেলরের কথা শুনে সবার তো আক্কেলগুড়ুম। আগের টেস্টে ‘চশমা’ (দুই ইনিংসেই) পাওয়া টিম ম্যাকিন্টশকে হায়দরাবাদেও খেলানোর পক্ষে এই অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক। তখন কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল, এভাবে ফলে যাবে টেলরের কথা!
উপ্পলের উইকেটও ব্যাটিং-বান্ধব, তবে জায়গামতো বল রাখতে পারলে বোলারদের বিমুখ হওয়ারও কথা নয়। মোতেরার নিষ্প্রাণ উইকেটেও চরম ব্যর্থ ম্যাকিন্টশ সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন এই উইকেটে। ঢুকে গেলেন ইতিহাসেও। ‘পেয়ার’ পাওয়ার পরের টেস্টেই সেঞ্চুরি পাওয়া মাত্র ১১তম ব্যাটসম্যান তিনি। রান পেয়েছেন ফর্মের সঙ্গে লড়তে থাকা মার্টিন গাপটিলও। এই দুজনের সৌজন্যে ভারত সফরে আরও একটি দিন নিজেদের করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম দিন শেষে রান ৪ উইকেটে ২৫৮, দিন শেষের আগের ওভারে ম্যাকিন্টশ আউট না হলে হয়তো আরও চওড়া হতো ড্যানিয়েল ভেট্টোরির হাসি।
আগের টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬টি বল খেলেছিলেন ম্যাকিন্টশ, সবগুলোই জহির খানের। কালও প্রথম ১৩টি বল খেললেন সেই জহিরেরই, রান করতে পারেননি একটিও। ব্যতিক্রম বলতে এবার টিকে ছিলেন উইকেটে। ভারত সফরে মুখোমুখি হওয়া ৩০তম বলে পেলেন অন্য বোলারকে, সেই বলেই শ্রীশান্তকে চার মেরে পেলেন সফরের প্রথম রান। এরপর যতই সময় গড়িয়েছে, হয়ে উঠেছেন আত্মবিশ্বাসী। কোনো ঝুঁকি নেননি, একদম বাজে বল না পেলে শট খেলেননি। প্রথম সেশনে তাঁর রান ছিল ২৫, পরের সেশনে ৩০। ২৩৮ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরি না হলেও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না গাপটিলের ইনিংসটাও। দলের জন্য তো বটেই, নিজের জন্যও। বাজে ফর্মের জন্য বাংলাদেশ সফরের দলে ছিলেন না, বাইরে বসে ছিলেন আগের টেস্টেও। কাল উইকেটে গিয়েছিলেন মাত্র ৪ রানে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আউট হওয়ার পর। ইনিংসের শুরুতেই দুবার ঘুরে এসেছেন মৃত্যুদুয়ার থেকে। ৪ রানের মাথায় শ্রীশান্তের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসছিলেন ড্রেসিংরুমে, পরের ব্যাটসম্যান টেলরও প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন উইকেটে। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে ‘নো’ বল ডাকেন আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনা। ১১ রানের মাথায় হরভজনের বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন ধোনি।
দুবার ‘নতুন জীবন’ পেয়েই যেন বুঝে গিয়েছিলেন সঙ্গে আছে ভাগ্য। এক পাশে উইকেটে পড়েছিলেন ম্যাকিন্টশ, আরেক পাশে স্ট্রোকের পসরা সাজিয়েছেন গাপটিল। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েছেন ১৪৭ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত এই দুজন থাকতে না পারলেও উইকেটে জমে গেছেন রাইডার, বাইরে আছেন উইলিয়ামসন-ভেট্টোরিরাও। বড় রানের আশা তাই করতেই পারে কিউইরা।

দুবাই টেস্টের দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানের

প্রথম দিনের খেলা শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে এতটা স্বস্তিতে থাকতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে আজ ৩৮০ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াসদের ইনিংস। বোলিংয়ে সফলতার পর পাকিস্তানের ব্যাটিংটাও হয়েছে দুর্দান্ত। দুবাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৪৪ রান তুলেছে মিসবাহ উল হকের দল, হারিয়েছে মাত্র দুটি উইকেট। আট উইকেট হাতে রেখে প্রথম ইনিংসে এখন পর্যন্ত ২৩৬ রানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের আভাস দেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম আঘাতটা হানেন উমর গুল। রানের খাতা খোলার আগেই শিকার হ্যারিস। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিলিয়ার্স ও প্রিন্সকে সাজঘরে পাঠান গুল। সাঈদ আজমলের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে জ্যাক ক্যালিস করেন ৭৩ রান। পাকিস্তানের হয়ে উমর গুল ও আবদুর রেহমান তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। ওয়াহাব রিয়াজ ও সাঈদ আজমল নেন দুটি করে উইকেট।
বোলিংয়ে সফলতার পর ব্যাটিংয়েও একইভাবে সফলতা পেয়েছে পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে মোহাম্মদ হাফিজ ও তৌফিক ওমর এনে দেন ১০৫ রান। ৬০ রান করে হ্যারিসের শিকারে পরিণত হন হাফিজ। তৌফিক ওমর করেন ৪২ রান। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ইউনুস খান ২১ ও আজহার আলী ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এ যেন স্বর্গোদ্যান

মাটি ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশছোঁয়া সব স্থাপনা। এক টুকরো ‘নদী’ বয়ে গেছে মাঝখান দিয়ে। চারপাশে বাহারি রঙের ফোয়ারা। আলোকরশ্মির ঝলমলে আলো ঢেউ তুলছে গোটা হাইজিংশা স্কয়ারে। এটা কি কোনো স্বর্গোদ্যান?
১৬তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে হাজারো দর্শনার্থী আর অতিথির মুখে ছিল এমনই বিস্ময়। ‘স্বর্গোদ্যানের চেয়েও বেশি কিছু’—তখনই দেওয়া যাচ্ছিল এই রায়।
সন্ধ্যার আলো-আঁধারি সেটিকেও কম মনে করাচ্ছিল। এমন অভিনবত্ব নিয়ে এশিয়ান গেমস যে আগে শুরু হয়নি! এক পাশে গ্যালারি। বাকি অংশ উন্মুক্ত। তারই ফাঁকে ফাঁকে কৃত্রিম হ্রদ। প্রায় ৬০ তলা উঁচু টাওয়ারের শরীরের আতশবাজির শব্দ আর আলোর ঝলকানি যখন শুরু হলো, গোটা গুয়াংজুর আকাশই লালে লাল। হ্রদের মধ্যে উঁচু ছয়টি টাওয়ারে ততক্ষণে শোভা পাচ্ছে ৪৫ দেশের ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়াডের লোগো।
কখনো নীল, কখনো হলুদ, কখনো সাদা—ক্ষণে ক্ষণে গোটা পরিবেশটা বদলেছে। আকাশ থেকে গান গাইতে গাইতে নামলেন স্থানীয় নামী শিল্পী শিং জ্যাং। তাঁর চারপাশে কৃত্রিম জলের ফোয়ারা ছুটল। মুহূর্তের মধ্যে গোটা স্কয়ার থেকে পানি উধাও! বিশাল এক মাঠে রূপান্তরিত হাইজিংশা স্কয়ারের রং তখন গাঢ় লাল। কয়েক শ ছেলেমেয়ের ডিসপ্লে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখল এই সন্ধ্যার দর্শক-অতিথিদের। চোখের পলক ফেলারও সুযোগ মিলল না কারও। একটার পর একটা চোখ ধাঁধানো সব আয়োজন নিয়ে কালকের সন্ধ্যা মাতিয়ে রাখল চীনের অন্যতম বড় এই শহর।
তারই কিছু নমুনা—সমুদ্রে গর্জন উঠেছে, মাছ ধরা জেলের কী অবস্থা ফুটিয়ে তুলতে আস্ত জাহাজই বানিয়ে ফেলা হলো! ঝড়ের প্রতিকূলে সেই জাহাজের লড়াই গোটা আয়োজন করল আরও বর্ণাঢ্য। জনতাকে মনে করিয়ে দিল, কুংফু-কারাতে আর ব্রুস লির ছবির জন্য পরিচিত ছিল যে চীন, সেই দেশটিই প্রতিকূলতাকে জয় করে বহু আগেই বিশ্বের ক্রীড়াসরে সমীহ জাগিয়েছে। মহাদেশীয় ক্রীড়াযজ্ঞ তো তার কাছে বড় কোনো ব্যাপারই নয়।
সিনেমা দৃশ্যে নায়ক-নায়িকার মতো শূন্যে ভেসে চলা, তারই ছন্দে খুদে সাঁতারুদের সিঙ্ক্রোনাইজড সাঁতার, কৃত্রিম হ্রদে স্পিড বোর্ড চালানো, একসঙ্গে এক শ পারফর্মারের মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া, ফুলের ওপর ঢেউ খাওয়া, চিল হলে উড়ে বেড়ানো—কী ছিল না কালকের দীর্ঘ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনন্য, অসাধারণ!
মানুষ এমন সৃজনশীল চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এটা শুধুই একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, চীন যেন আবার নিজেদের সৃজনশীলতার বার্তাই পাঠাল। গ্যালারির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে থাকল তারই স্বীকৃতি। এশিয়ান অলিম্পিক কমিটির সভাপতি আহমেদ আল সাবাহর কণ্ঠে চীনের অকুণ্ঠ প্রশংসা শোনা তাই স্বাভাবিকই, ‘সাত বছরের প্রস্তুতির ফসল এটা। অভিনন্দন চীন।’
২০০৮ সালে অলিম্পিক গেমসের সফল আয়োজক বেইজিংও পেয়েছিল অকুণ্ঠ প্রশংসা। ১৯৯০ সালে এশিয়ান গেমসের আয়োজক ছিল চীনের রাজধানী। এবারই প্রথম গেমসের ৫৯ বছরের ইতিহাসে রাজধানীর বাইরে দ্বিতীয় শহর হিসেবে এশিয়ান গেমসের আয়োজন করছে গুয়াংজু। একই দেশের দুই শহরে ২০ বছরের ব্যবধানে দুবার এশিয়ান গেমস—চীন বলেই সম্ভব!
শহরজুড়ে থাকা উঁচু সব ভবনই তার সাক্ষ্য দেয় নীরবে। বাংলাদেশের মতো অপরিকল্পিত আর রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে এই ভবনগুলো হয়নি! পরিকল্পনার ছাপ সবখানেই। এক মিডিয়া-পল্লি আর মিডিয়া সেন্টারই করা হয়েছে গোটা বিশেষ নতুন ভবনে। বেশির ভাগই ১০ তলার ওপরে! প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের গেমস বাজেট তো এমনিতেই হয়নি!
গেমস-পল্লিতে একটা ভবনের গায়ে লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে। বাংলাদেশের পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়ার অর্থ, এই ভবনে শুধু বাংলাদেশের অ্যাথলেটরাই থাকছে। ৪৫টি দেশের জন্যই আলাদা অট্টালিকা। ১০ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদের ১৬ দিনের এ সফরটা মাঠের বাইরে সুখকর করে তুলতে এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকতে পারে না।
সত্যিই এ যেন স্বর্গোদ্যান! এখানকার বিখ্যাত লাল ফুল কাপকায় আচ্ছাদিত গোটা শহর তো স্বর্গোদ্যানই হবে! সাড়ে তিন ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ ক্ষণে আতশবাজির ঝলকানি আরও একবার। গুয়াংজুকে আসুন করতালিতে অভিনন্দন জানাই।

আলোচনা- 'মোস্লেম ভারত' পত্রিকায় চর্চিত মুসলিম ধর্ম-দর্শনের স্বরূপ' by ড. সৌমিত্র শেখর

বিশ শতকের সূচনাতে আমাদের সমাজে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সর্ব ক্ষেত্রে তার বিস্তার ঘটে নি। এ সময় সাহিত্য রচনা ও প্রকাশের দিক থেকে যেমন, পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তেমনি সমপ্রদায়ের ঊধের্্ব চিন্তাকারী ব্যক্তিত্বের খোঁজ খুব কমই পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে হিন্দু বা মুসলিম বা ব্রাহ্ম মতে চরম অবস্থানকারীরা পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন বা প্রকাশ করেছেন। সে কারণে সব ধর্মের লেখকদের একই পত্রিকার পাতায় একত্রীকরণ সম্ভব হয় নি তাঁদের পক্ষে। আবার কোনো কোনো পত্রিকা স্বীয় ধর্মমতের প্রাধান্য প্রদর্শনের জন্য অন্য ধর্মমতকে আক্রমণ বা তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। এর ফলে সমাজে সমন্বয়ের পরিবর্তে আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও রক্ষণশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইতিহাস- 'চারশ' বছরের ঢাকা লোক ঐতিহ্যের দশ-দিগন্ত' by আনিস আহামেদ

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ডিসি সরকার বলেছেন, কলহনের রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থে 'ঢাক্কা' শব্দটি পাওয়া গেছে যার অর্থ পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি। বিক্রমপুর বা সোনারগাঁওয়ের পর্যবেক্ষণ ঘাঁটি হিসেবে প্রাচীনকালে এক সময় উঁচু ভূমিতে অবস্থিত এ অঞ্চলটিকেই বলা হতো 'ঢাক্কা'।

সেই থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি। তিনি আরো বলেছেন, প্রাকৃত একটি উপভাষার নাম 'ঢাকা ভাষা'। অর্থাৎ ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যবহূত ভাষা। ঐতিহাসিক যতীন্দ্র মোহনও অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন। ১২২৯ সালে আফগান সেনাপতি মালিক সাইফুদ্দিন আইবেক যখন সূর্যসেনকে যুদ্ধে পরাজিত করে এই অঞ্চল দখল করেন তখন ঢাকা 'ঢাবাকা' নামে পরিচিত ছিল।

গল্পালোচনা- 'মৃত্যুর মুশায়রা' by সেলিনা হোসেন

কাগজের ওপর কাটাকুটি করতে করতে গালিব যেন একটি ঘোরের মধ্যে ঢুকলেন। বার বার লিখলেন আমি যে শহরে বাস করি তার নাম দিলিস্ন।

যে মহলস্নায় আমার ঘর তার নাম বিলিস্নযোঁরাও। দুটো বাক্য যতবারই লিখলেন ততবারই কাটলেন। কাটতে কাটতে কাগজের পৃষ্ঠা ভরে গেলো।
কালি লেপট গিয়ে হিজিবিজি রেখায় গোলকধাঁধার মতো দেখতে হলো পৃষ্ঠা। তিনি ভাবলেন, এই শহরে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। অলিগলি, পথঘাট, খোলা মাঠ, গাছপালা, ঘরবাড়ি-ঘরবাড়ি, ঘরবাড়ি।