Friday, April 15, 2011

ডিএসইতে সূচক কমলেও বেড়েছে সিএসইতে

দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল বুধবার মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচক আবার কমেছে। তবে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রামে সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে এদিন ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও দিন শেষে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের নাম আসায় তাঁদের অনেকেই বাজার থেকে দূরে থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এ কারণেই বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এর পর থেকে সূচক কিছুটা কমে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার পর আবার সূচক বেড়ে যায়। তবে দুপুর পৌনে ১২টার পর থেকে সূচক নিম্নমুখী হতে থাকে, যা সারাদিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে সূচক ৩৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৩৮৬ পয়েন্টে ।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের। ডিএসইতে এদিন মোট ৮৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকাল মঙ্গলবারের চেয়ে ৬৩ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৬০ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ৮৮৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ১২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের। সিএসইতে এদিন মোট ৮৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
এদিকে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: বেক্সিমকো, অ্যাকটিভ ফাইন, তিতাস গ্যাস, বেক্সটেক্স, আফতাব অটো, ডেসকো, আরএকে সিরামিকস, গ্রামীণফোন, ফু-ওয়াং ফুড ও ফু-ওয়াং সিরামিকস।

মিছিলে ধর্মগ্রন্থ ও শিশুদের ব্যবহার কেন? by মশিউল আলম

কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে বা মাথায় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করা এ দেশে নতুন নয়। রাজনীতির ময়দানে যাঁরা এই কৌশলটি প্রয়োগ করেন, তাঁরা দেখাতে চান যে দাবি আদায়ের সংগ্রামে তাঁরা প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। প্রাণ দিয়ে হলেও দাবি আদায় করে ছাড়ব—এই তাঁদের বার্তা।
কিন্তু তাঁরা যখন মিছিলে যান পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে, তখন তার কী মানে হয়? এভাবে তাঁরা সরকারকে, জনগণকে, এমনকি নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের কী বার্তা পৌঁছাতে চান?
যাঁরা নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই সঙ্গে কাঁধে করে এনেছিলেন নাবালক শিশুদের, তাঁদের কাছে এসবের কী ব্যাখ্যা আছে জানি না। তাঁদের সত্যিকারের মনের কথাটা হয়তো জানা সম্ভবও নয়। তাঁরা তো রাজনীতি করেন, রাজনৈতিক কলাকৌশলের গূঢ় উদ্দেশ্য-অভিসন্ধিগুলো তাঁরা জনগণকে জানতে দিতে চান না। কয়েক দিন ধরে একটু একটু করে কথা বলার চেষ্টা করলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে। পথে-ঘাটে, দোকানে, বাজারে—যখন যেখানে যেটুকু সুযোগ মেলে। এমন একজন মানুষেরও দেখা পেলাম না, যিনি মিছিলে পবিত্র কোরআন বা শিশুদের নিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গেলাম বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায়। ছোটখাটো একটা জরিপের মতো চালিয়ে দেখা যাক। লোকবল মাত্র এক। তাই এটাকে সেই অর্থে জনমত জরিপ বলে দাবি করা ঠিক হবে না। মাত্র দেড় দুই ঘণ্টায় কজন মানুষের মতামত সংগ্রহ করা সম্ভব!
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের নিচতলায় টুপি, তসবি, জায়নামাজ ইত্যাদি বিক্রি হয় যেসব দোকানে, প্রথমে গেলাম সেই সারিতে। তাঁরা আমাকে খদ্দের ভাবলেন, একটি দোকানে আমি নিজের সাংবাদিক পরিচয়টুকু জানালাম। ‘কী জানতে চান?’ জিজ্ঞাসা করলেন সেই দোকানের দুজন বিক্রেতার একজন। মধ্যবয়সী পুরুষ, মাথায় সাদা গোল টুপি, পরনে হলদে পাঞ্জাবি, কপালে নিয়মিত নামাজ পড়ার দাগ। মিছিলে পবিত্র কোরআন বহনের প্রসঙ্গটি তুললাম। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ডানে-বাঁয়ে মাথা ঝাঁকাতে লাগলেন, ‘না না, এইটা ঠিক না। উচিত না। মিছিলের মধ্যে কেন কোরআন নিয়ে যাবে?’ তাঁর পাশের যুবক, তাঁর মাথায় টুপি নেই, কিন্তু কপাল দেখে বোঝা যায় নিয়মিত নামাজ পড়েন, তিনি বললেন, ‘আগে তো কখনো শুনি নাই যে মিছিলে কোরআন নিয়া যায়। এবারই প্রথম দেখলাম। ঠিক করে নাই উনারা।’ সারি ধরে এগিয়ে গেলাম, একের পর এক দোকানিদের সঙ্গে কথা চলল একই প্রসঙ্গে।
ঘড়ি মেরামতির এক দোকানে কথা শুরু করলে দোকানি বললেন, ‘আমি কিছু জানি না, কিছু বুঝি না। মুরুখকু মানুষ।’ উল্টো দিকের সারিতে কয়েক দোকান পরের এক দোকানের দিকে আঙুল তুলে তিনি বললেন, ‘ওই মুরব্বিরে জিগান, উনি বলতে পারবে।’ সেই মুরব্বির সামনে দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম। মুখভর্তি মেহেদিরাঙা দাড়ি, গোঁফ সযত্নে ছাঁটা, মাথায় টুপি, পরনে আলখাল্লার মতো সাদা পাঞ্জবি। আমার প্রশ্ন শুনে তিনি বললেন, ‘মানুষ তো খারাপ হয়ে গেছে। দিন দিন আরও বেশি খারাপ হয়ে যাইতেছে।’ মনে হলো, তিনি আমার প্রশ্নটির উত্তর সরাসরি দিতে চান না। আমি সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোরআন শরিফ নিয়ে মিছিল করা কি আপনি সমর্থন করেন?’ কিন্তু মুরব্বি আগের সুরেই বলে চললেন, ‘পুলিশের সঙ্গে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গোলাগুলি, বোমাবাজি, টিয়ার গ্যাস—মিছিলে কত কিছু হয়, হয় না? ওই দিন আমি মাগরিবের নামাজ পড়তে গেলাম, ওরে বাপরে, টিয়ার গ্যাসের গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল, দৌড়ে বার হয়া আসলাম। নামাজটা আর ওখানে পড়তেই পারলাম না। ইয়ামেনি মসজিদে গিয়া পড়লাম।’
আরেক দোকানে একজন বললেন, ‘কোরআনবিরোধী আইন করলে মিছিল তো হবেই। পুলিশ বাধা দেয় ক্যান?’ আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোরআনবিরোধী আইন হয়েছে আপনি কোথায় শুনলেন?’ তিনি বললেন, ‘পেপারে লেখতেছে, টিভিতে কইতেছে, ওয়াজ মাহফিলে আলেমরা কইতেছে।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘কোনো আইন হয়নি, একটা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, নীতি আর আইন এক জিনিস নয়।’ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনে কোন পেপারের লোক?’ আমি আমাদের সংবাদপত্রের নাম বললাম। তিনি বললেন, ‘আপনারা তো সব খবর ঠিকমতো লেখেন না।’ আমি জানতে চাইলাম, কোন সংবাদপত্র সব খবর ঠিকমতো লেখে। তিনি দুটি দৈনিক সংবাদপত্রের নাম বললেন। আমি বললাম, ‘পত্রিকা দুটি যদি লিখে থাকে সরকার কোরআনবিরোধী আইন করেছে, তাহলে মিথ্যা লিখেছে। যে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা হলো নারী উন্নয়ন নীতি। এই নীতিতে বলা হয়েছে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখাপড়া, চিকিৎসা এসব ক্ষেত্রে মেয়েদেরও পুরুষের মতো সমান অধিকার থাকবে।’ তিনি আপত্তি করে বললেন, ‘তা কেমনে হয়? পুরুষ আর মহিলা সমান? এটাই তো ইসলামবিরোধী কথা।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘এই মত আপনি সমর্থন করতে না পারেন, কিন্তু ইসলামে কোথাও বলা নেই, নারী আর পুরুষ সমান হতে পারবে না। শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ছেলেসন্তান যা পাবে, মেয়েসন্তান পাবে তার অর্ধেক। নারীনীতিতে এই বিষয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি। তার মানে, যেমন আছে তেমনই থাকবে। উত্তরাধিকারের সম্পত্তির ভাগ মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেকই পাবে।’ তিনি আর কিছু বললেন না। তবে তাঁর মুখ দেখে মনে হলো না তিনি আমার কথাগুলো শুনে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম, ‘আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? ঠিক আছে, আপনার কথা যদি ঠিকও হয়, তবু কোরআন শরিফ আর শিশুদের নিয়ে রাস্তায় মিছিল করা কি আপনি সমর্থন করেন?’ তিনি দৃঢ়ভাবে বললেন, ‘এইটা কেউই সাপোর্ট করবে না।’
মোট ৩৫ জনের সঙ্গে কথা বললাম। দোকানদার, ক্রেতা, পথচারী, রিকশাচালক ও হকার। একজনকেও পাওয়া গেল না যিনি মিছিলে কোরআন ও শিশুদের ব্যবহার করার রাজনৈতিক কৌশলটাকে সমর্থন করেন। মসজিদের মূল ফটকের সামনের চত্বরে পথচারী একজন বয়স্ক ভদ্রলোক কৌশলটি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে: ‘পেপারে মাঝেমধ্যে খবর পাওয়া যায়, বিদেশে কিছু লোক দাবি আদায়ের জন্য অস্ত্র, বোমা এইসব নিয়ে ইশকুলের বাচ্চাদের জিম্মি করে। আল্লার কালাম নিয়ে মিছিল করা সেই রকম একটা অপকৌশল। মুসলমানের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে জিম্মি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা। পুলিশের সঙ্গে মারামারি লাগবে, পবিত্র কোরআন শরিফ রাস্তায় পড়ে যাবে, পেপারে সেই ছবি ছাপা হবে, টিভিতে দেখা যাবে। লোকে বলবে, দ্যাখো দ্যাখো সরকার কত খারাপ।’ একটু থেমে বললেন, ‘তারা মসজিদের মধ্যে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল জড়ো করে রাখে। মসজিদ থেকে মিছিল বের করে পুলিশের সঙ্গে মারপিট বাধায়, পুলিশ তাদের ধাওয়া করতে করতে মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সাধারণ মানুষ নামাজ পড়বে কী? জানের ভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। জিম্মি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার রাজনীতি...।’
একটা বিষয় লক্ষ করার মতো, যত জনের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যেকেই শুনেছেন বা সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন যে সরকার ইসলামবিরোধী আইন করেছে। যে নারীনীতি নিয়ে এত কথা, সেটির প্রধান বক্তব্যগুলো সম্পর্কে প্রায় কেউই জানেন না। কিছু ধর্মভিত্তিক দল ও গ্রুপ প্রায় প্রতিদিনই মিছিল-সমাবেশের বক্তৃতায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পাড়ায়-মহল্লায় ওয়াজ মাহফিলগুলোতেও বিভ্রান্তিকর অনেক কথা বলা হচ্ছে। কোনো কোনো ধর্মীয় বক্তা সংবিধান, সংসদ, আদালত—সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে বক্তৃতা দিচ্ছেন। অন্যদিকে নারীনীতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণকে জানানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। কয়েক দিন আগে ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম লিখেছেন, ঘোষিত নারীনীতির পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে এখন ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝানো উচিত।
কিন্তু ক্ষমতাসীন দল, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো যেন এ বিষয়ে নির্বিকার। তাদের সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর আসছে তাতে মনে হয়, তারা দলের ওপর ভর করে ব্যক্তিগত ভাগ্যোন্নয়নেই বেশি ব্যস্ত।
মশিউল আলম: সাংবাদিক
mashiul.alam@gmail.com

আন্নার হাতে অহিংসার ঝান্ডা

তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িচালক। একসময় জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে ভেবেছিলেন আত্মহত্যা করবেন। তবে সরে আসেন সেই পথ থেকে। তারপর মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এ কাজেই তিনি খুঁজে পান জীবনের অর্থ। সাদা পোশাক আর মাথায় গান্ধী টুপি চাপানো আন্না হাজারে এখন সাধারণ ভারতীয়দের চোখের মণি। ভারতে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি এক সোচ্চার কণ্ঠ।
ভারতবর্ষে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল মহাত্মা গান্ধীর হাতে। সেটা অনেক দিন আগের কথা। গান্ধীর যোগ্য অনুসারী আন্না হাজারের মাধ্যমে এ শতকে ভারতবাসী আবার দেখেছে অহিংস আন্দোলনের মহিমা। শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই আন্না হাজারে নয়া সত্যাগ্রহের এক অবিসংবাদিত নেতা।
১৯৪০ সালে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার র‌্যালেগান সিদ্ধি গ্রামে আন্না হাজারের জন্ম। ১৯৬৩ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে গাড়িচালক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। চাকরি ছেড়ে তিনি তাঁর গ্রামে চলে আসেন। মানুষের জন্য আন্না হাজারের সংগ্রামের সূচনা সেখানেই।
আন্না র‌্যালেগান সিদ্ধিকে একটি পরিবেশবান্ধব গ্রামে পরিণত করেছেন। তিনি কৃষকদের সংগঠিত করে পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক নির্মাণ করেছেন। বৃক্ষে বৃক্ষে ভরে দিয়েছেন পুরো গ্রাম। আন্না হাজারের অক্লান্ত শ্রমে এক দশকেরও কম সময়ে র‌্যালেগান সিদ্ধি ভারতের একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি তাঁর গ্রামে মাদকবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার বিস্তারেও আন্দোলন করেছেন। তিনি সমাজে প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। যৌতুক প্রথা, বিয়ের জমকালো আয়োজন ও শ্রেণীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আন্না হাজারের কণ্ঠ সব সময়ই সোচ্চার।
সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন করে আন্না সবার নজর কেড়েছেন। ভারতে লোকপাল নিয়োগের বিল পাস করার দাবিতে ৫ এপ্রিল তিনি দিল্লির যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন। আন্নার কঠোর অহিংস আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার তাঁর দাবি মেনে নিয়ে লোকপাল বিলের খসড়া তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
আন্না হাজারে এর আগেও কয়েকবার অনশন করেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে একজন মন্ত্রী পদত্যাগে পর্যন্ত বাধ্য হন। ১৯৯৭ সালে মহারাষ্ট্রে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করার দাবিতে তিনি অনশন করেছেন। সরকার তাঁর দাবি মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরে তার বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আবার অনশনে যান। একটানা ১২ দিন অনশন করার পর ২০০৩ সালে রাজ্য সরকার এ আইন পাস করে। তাঁর এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে ভারত সরকার ২০০৫ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস করে।
আন্না হাজারের সর্বশেষ এই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু টিভি চ্যানেল দিল্লির যন্তর-মন্তরকে কায়রোর ‘তাহরির স্কয়ার’ বলে অভিহিত করেছে। আর কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম হাজারেকে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের যোগ্য ধারক বলে আখ্যা দিয়েছে।

স্ত্রীর চড় খেয়ে হাসপাতালে!

স্ত্রীর হাতের চড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক ব্যক্তি। বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হলে উল্টো স্ত্রীর চড় খেয়ে নিজেই কুপোকাত হন। গত সোমবার রাতে গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদের কাঙ্কারিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত দুইটার দিকে কাঙ্কারিয়ার বাসিন্দা রমেশ পারমার (৩৫) সংসারের খরচ নিয়ে তাঁর স্ত্রী মধুবনের (৩২) সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে এই ঘটনা ঘটে।
১৫ দিন ধরে বেকার রমেশ হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ জোটাতে না পেরে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডাবাজি করেই সময় পার করছিলেন তিনি। সংসারের খরচ কীভাবে চলছে, তা নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছিলেন না তিনি।
ঘটনার দিনও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরলে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে রমেশের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রমেশ খেপে স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হলে মধুবন তাঁর হাত ধরে ফেলেন এবং উল্টো স্বামীর গালে সপাটে চড় মারেন। এক চড়েই রমেশ বেচারা মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়েন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ধাতব বস্তুর সঙ্গে জোরে আঘাত লেগে তাঁর কপাল ফেটে যায়। দ্রুত তাঁকে ভিএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রমেশ-মধুবন দম্পতির ১০ বছরের বিবাহিত জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে।

বাগবোকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ

আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের কর্তৃত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ওয়াতারা গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দেন। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় ওয়াতারাকে অভিনন্দন জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফোন করলে দেশটির সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, বাগবোকে গৃহবন্দী করে রাখা হবে। গত সোমবার লরা বাগবোকে স্ত্রী, ছেলে ও তাঁর সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে আইভরি কোস্টের বিচারমন্ত্রী জিনত আহৌসো কোয়াদিও বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাগবো ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে গৃহবন্দী করে রাখা হবে।
তবে বাগবোকে অন্তরীণ রাখার স্থান কিংবা তাঁর সহযোগীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াতারার সরকার জানায়, বাগবোকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান বাগবো। ফলে, কয়েক মাস ধরে দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে।
নতুন প্রেসিডেন্ট ওয়াতারার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে, দেশটির প্রধান শহর আবিদজানসহ বাগবোর সমর্থকদের এলাকায় অস্থিরতা দমন করা।
এদিকে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ এলাকা প্লাতিউসহ কয়েক জায়গায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানায়, বাগবোর সঙ্গে আটক হওয়া সাবেক মন্ত্রী দিসায়ার তাগ্রো গত মঙ্গলবার মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় বাগবোর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। সমর্থকদের দাবি, তাগ্রোকে হোটেলে আটক অবস্থায় গুলি করা হয়েছিল; কিন্তু একজন কূটনীতিক জানান, তিনি সম্ভবত আত্মহত্যা করেছেন।
আবিদজানের কোনো কোনো রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং কিছু জায়গায় লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু শহরের বেশির ভাগ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে এবং দোকানপাট খোলা পাওয়া যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করায় ওয়াতারাকে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। আইভরি কোস্টকে ঐক্যবদ্ধ করা, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা পুনরায় শুরু করা, নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াতারাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন ওবামা।
উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য একটি প্রকৃত কমিশন গঠন করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ওয়াতারাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের নয় হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাদের মিশন অব্যাহত থাকবে। মানবিক প্রয়োজনে আইভরি কোস্টকে জাতিসংঘ সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বান কি মুন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফ্রান্স বলেছে, তারা দেশটিকে জরুরি সাহায্য হিসেবে মোট ৫৮০ মিলিয়ন ইউরো দেবে।
অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার
ফরাসি সেনারা আইভরি কোস্টে একটি বড় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে। আবিদজানের উপকণ্ঠে খুঁজে পাওয়া এ অস্ত্রভান্ডার লরা বাগবোর বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রভান্ডারে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া যায়, যার মধ্যে ছিল মর্টার, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রভৃতি।

হোসনি মোবারক ও তাঁর দুই ছেলে আটক

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তাঁর দুই ছেলেকে ১৫ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের আটক করা হয়। মিসরের প্রসিকিউটর জেনারেল এই আটকাদেশ দেন।
হূদেরাগে আক্রান্ত মোবারককে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে আটকের কথা ঘোষণা করা হয়। গত মঙ্গলবার তাঁকে লোহিতসাগরের তীরের অবকাশযাপন কেন্দ্র শারম আল শেখের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে মোবারককে আটকের বিষয়ে একটি বিবৃতি বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে মোবারকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত করা হচ্ছে মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষোভের সময় জনতার বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানোর ঘটনারও। প্রসিকিউটর জেনারেল আবদেল মাগুইদ মাহমুদ তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোবারক ও তাঁর দুই ছেলে জামাল মোবারক ও আলা মোবারককে ১৫ দিন আটকের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
অসুস্থ মোবারককে হাসপাতালেই আটক রাখা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলেকে আটক রাখা হয়েছে কায়রোর তোরা কারাগারে। এখানে জামাল ও আলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই কারাগারে মোবারকের সময়ের আরও কিছু কর্মকর্তাকে আটক রাখা হয়েছে। তোরা কারাগারে সাধারণত রাজনৈতিক বন্দীদের রাখা হয়।
মোবারককে মঙ্গলবার শারম আল শেখ আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই হাসপাতালের সামনে প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী তাঁর দুই ছেলেকে আটকের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় প্রাদেশিক নিরাপত্তাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ এল খতিব বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে। মোবারকের দুই ছেলে জামাল ও আলাকে ১৫ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আটকও করা হয়েছে।’ এ ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা উল্লাস প্রকাশ করে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের বিচারের দাবিতে মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে গত শুক্রবার বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারী ও রেভল্যুশনারি ইয়ুথ কোয়ালিশনের সদস্য মোহাম্মদ সুকরি বলেন, ‘আমরা মিলিটারি কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করে তাহরির স্কয়ার থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের বিচারের জন্য সামরিক বাহিনীকে আমরা একটি সুযোগ দিতে চাই।’
প্রসঙ্গত, প্রায় ৩০ বছর মিসরের ক্ষমতায় ছিলেন মোবারক। ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ চলার সময় সহিংসতায় অন্তত ৮০০ মানুষ প্রাণ হারায়। ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

জাপানে পারমাণবিক বিপর্যয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে

জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামি-পরবর্তী পারমাণবিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) এ পরিকল্পনা করেছে। টেপকো গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
টেপকোর প্রেসিডেন্ট মাসাতাকা শিমিজু গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক কেন্দ্রের সমস্যা সমাধান করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিপর্যয়ের কারণে যারা উচ্ছেদ হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তবে শিমিজু ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে তাঁর পদত্যাগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি আরও বলেন, ‘টেপকো থেকে আমি পদত্যাগ করব কি না, সে ব্যাপারে মন্তব্য করার জায়গা এটি নয়।’
জাপানের ইউমিউরি শিম্বুন পত্রিকা জানায়, পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দুই হাজার ৪০০ কোটি থেকে চার হাজার ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে কয়েক হাজার নারীর বিক্ষোভ

গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে সিরিয়ায় গতকাল বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূূচি পালন করেছেন কয়েক হাজার নারী। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান মহাসড়কে তাঁরা ওই কর্মসূচি পালন করেন। মানবাধিকার সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মী রামি আবদেল রহমান জানান, গত মঙ্গলবার বাইদা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েক শ বিক্ষোভকারীর মুক্তির দাবিতে বুধবার পাঁচ হাজারেরও বেশি নারী টারটাস এবং বানিয়াস শহরের প্রধান সংযোগ সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উপকূলীয় শহর বানিয়াস এবং বাইদা নামের একটি গ্রামে গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েক শ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশটিতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বলবৎ জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে আসছে। এ পর্যন্ত দুই শতাধিক লোকের প্রাণহানী হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বাতিল মহাকাশযান যাচ্ছে জাদুঘরে

বাতিল হওয়া তিনটি মহাকাশযান জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও ওয়াশিংটনের জাদুঘরে এসব নভোযান পাঠানো হবে।
রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশ অভিযানের ৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রথম মানুষ হিসেবে তিনি মহাকাশ অভিযানে যান।
ভার্জিনিয়ার এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে ডিসকভারি, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আটলান্টিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া সায়েন্স সেন্টারে এনডেভার মহাকাশযান রাখা হবে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের আদলে নির্মিত এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি যান পাঠানো হবে নিউইয়র্ক সিটির ইন্ট্রেপ্রিড জাদুঘরে। এই যানটি কখনো আকাশে ওড়েনি।
নাসার প্রশাসক সাবেক নভোচারী চার্লিস বোল্ডেন বলেন, প্রতিটি মহাকাশযান নিয়ে বলার মতো গল্প আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যানগুলোর যত্ন নেবেন। এসব যান আপনাদের ভালো সেবা দিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি প্রতিষ্ঠান এসব বাতিল মহাকাশযান নিতে চেয়েছিল।

ইয়েমেনে সামরিক ইউনিটের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ৫

ইয়েমেনে ভিন্নমতাবলম্বী সামরিক ইউনিটের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে আমরান প্রদেশে সামরিক বাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকিতে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে গতকাল বুধবার ইয়েমেনজুড়ে হাজার হাজার জনতা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের সময় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সেনাসদস্যদের গুলিতে সরকারবিরোধী দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানী সানা থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে আমরান প্রদেশে সামরিক বাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ হামলা চালায়। হামলায় একজন সেনা কর্মকর্তা নিহত ও অপর দুই সেনা আহত হন। এ সময় সেনাসদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গ্রেনেডচালিত রকেট হামলাও চালানো হয়। এতে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভিন্নমতাবলম্বী ওই সেনা ইউনিট ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক অঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল আলী মোহসেন আল আহমারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেনারেল মোহসেন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তিনি এখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তামিলনাড়ু, কেরালা পুদুচেরিতে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ

ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরি রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনে গতকাল বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এর আগে গত ৪ এবং ১১ এপ্রিল আসামেও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়।
এখন বাকি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ১৮, ২৩ ও ২৭ এপ্রিল এবং ৩, ৭ ও ১০ মে ছয় পর্বে এই ভোট গ্রহণ হবে। আর এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ১৩ মে।
তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে লড়েছেন দুই হাজার ৭৭৩ জন প্রার্থী। কেরালায় ১৪০ আসনে লড়েছেন ৯৭১ জন। আর পুদুচেরিতে ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৪৭ জন প্রার্থী।
তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির ডিএমকে এবং জাতীয় কংগ্রেস জোট। কেরালায় ক্ষমতায় রয়েছে বাম দল সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট বা এলডিএফ আর পুদুচেরিতে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট।

শেষ চারে ম্যানইউ

ক্যামেরা এক ফাঁকে ধরল তাঁকে। গ্যালারিতে মুখ গোমরা করে বসে আছেন। একটা দীর্ঘশ্বাসও যেন বেরিয়ে গেল। খেলা শেষ হতে তখনো ঢের বাকি। কিন্তু রোমান আব্রামোভিচ যেন তখনই বুঝে গিয়েছিলেন, নিয়তি এবারও বঞ্চনায় পোড়াবে।
পোড়াল! চেলসি মালিকের বড় সাধের চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফিটা এবারও জেতা হচ্ছে না। পরশু হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও পার্ক জি সুংয়ের গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-১ গোলে হারাল চেলসিকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হার শেষ আট থেকেই বিদায় করে দিল চেলসিকে। কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ও কি আসন্ন?
ম্যাচের আগে চেলসির কোচ জোর গলায়ই বলেছিলেন, চাকরি নিয়ে ভাবছেন না। কিন্তু এই ম্যাচের পর সুর পাল্টে গেছে, ‘আমি থাকব কি না, সেটা তো আমার হাতে নেই।’ আনচেলত্তি নিজের পায়ে কুড়ালটা মারলেন প্রথমার্ধে দিদিয়ের দ্রগবাকে বসিয়ে ফার্নান্দো তোরেসকে খেলিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দ্রগবা গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন সিদ্ধান্তটা কত বড় ভুল ছিল।
৭৭ মিনিটে দ্রগবার গোল ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়েছিল। আরেকটা গোল করলে চেলসিই চলে যায় সেমিফাইনালে। কিন্তু চেলসির সমর্থকদের সেই আশা বেঁচে ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ৭৭ মিনিটেই গোল শোধ করে দেন পার্ক।
ব্রিটিশ রেকর্ড ৫ কোটি পাউন্ডে কেনা তোরেস ১১তম ম্যাচেও চেলসির হয়ে গোলের দেখা পেলেন না। শোনা যাচ্ছিল, এই ম্যাচে তাঁকে বসিয়ে রাখবেন আনচেলত্তি। দ্য সানকে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরশু প্রথম একাদশে তোরেস! এটাই কি তবে আনচেলত্তির ‘সারপ্রাইজ গিফট’? পরশু ম্যাচ শেষে ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন কিন্তু বলছেন, ‘লোকে বলছিল দ্রগবার কথা, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল তোরেসই খেলবে।’
ফার্গুসন যেন এও জানতেন এই ম্যাচেও নায়ক হবে পুরোনো সেনানী রায়ান গিগস। হয়েছেনও। প্রথম লেগে ওয়েইন রুনিকে গোল বানিয়ে দিয়েছিলেন এই ৩৭ বছর বয়সী। ২১ বছর ধরে শুধু ম্যানইউতেই খেলে যাওয়া গিগস পরশুও বানিয়ে দিলেন দুটি গোলই।

দ. আফ্রিকা ‘এ’ ২৩৩/২

প্রথম চার দিনের ম্যাচে হার। দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের শুরুটাও ভালো হলো না বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। পিটারমরিসবার্গে প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের মাত্র ২ উইকেট তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। ডিন এলগারের সেঞ্চুরিতে দিন শেষে ২৩৩ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৪ বলে ১২০ রান করেন এলগার। উইকেট দুটি পেয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও নূর হোসেন। চার দিনের ম্যাচ শেষে আগামী ১৯ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজের জন্য আগামীকাল দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন ওপেনার জহরুল ইসলাম, অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা ও স্পিনার ইলিয়াস সানি। দেশে ফিরে আসবেন মেহরাব জুনিয়র, কামরুল ইসলাম ও সাকলাইন সজীব।

শেষ চারে ম্যানইউ

ক্যামেরা এক ফাঁকে ধরল তাঁকে। গ্যালারিতে মুখ গোমরা করে বসে আছেন। একটা দীর্ঘশ্বাসও যেন বেরিয়ে গেল। খেলা শেষ হতে তখনো ঢের বাকি। কিন্তু রোমান আব্রামোভিচ যেন তখনই বুঝে গিয়েছিলেন, নিয়তি এবারও বঞ্চনায় পোড়াবে।
পোড়াল! চেলসি মালিকের বড় সাধের চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফিটা এবারও জেতা হচ্ছে না। পরশু হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও পার্ক জি সুংয়ের গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-১ গোলে হারাল চেলসিকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হার শেষ আট থেকেই বিদায় করে দিল চেলসিকে। কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ও কি আসন্ন?
ম্যাচের আগে চেলসির কোচ জোর গলায়ই বলেছিলেন, চাকরি নিয়ে ভাবছেন না। কিন্তু এই ম্যাচের পর সুর পাল্টে গেছে, ‘আমি থাকব কি না, সেটা তো আমার হাতে নেই।’ আনচেলত্তি নিজের পায়ে কুড়ালটা মারলেন প্রথমার্ধে দিদিয়ের দ্রগবাকে বসিয়ে ফার্নান্দো তোরেসকে খেলিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দ্রগবা গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন সিদ্ধান্তটা কত বড় ভুল ছিল।
৭৭ মিনিটে দ্রগবার গোল ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়েছিল। আরেকটা গোল করলে চেলসিই চলে যায় সেমিফাইনালে। কিন্তু চেলসির সমর্থকদের সেই আশা বেঁচে ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ৭৭ মিনিটেই গোল শোধ করে দেন পার্ক।
ব্রিটিশ রেকর্ড ৫ কোটি পাউন্ডে কেনা তোরেস ১১তম ম্যাচেও চেলসির হয়ে গোলের দেখা পেলেন না। শোনা যাচ্ছিল, এই ম্যাচে তাঁকে বসিয়ে রাখবেন আনচেলত্তি। দ্য সানকে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরশু প্রথম একাদশে তোরেস! এটাই কি তবে আনচেলত্তির ‘সারপ্রাইজ গিফট’? পরশু ম্যাচ শেষে ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন কিন্তু বলছেন, ‘লোকে বলছিল দ্রগবার কথা, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল তোরেসই খেলবে।’
ফার্গুসন যেন এও জানতেন এই ম্যাচেও নায়ক হবে পুরোনো সেনানী রায়ান গিগস। হয়েছেনও। প্রথম লেগে ওয়েইন রুনিকে গোল বানিয়ে দিয়েছিলেন এই ৩৭ বছর বয়সী। ২১ বছর ধরে শুধু ম্যানইউতেই খেলে যাওয়া গিগস পরশুও বানিয়ে দিলেন দুটি গোলই।

উইজডেন টেস্ট একাদশে তামিম

উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়ার পর আরেকটি সুখবর পেলেন তামিম ইকবাল। উইজডেনের সেরা টেস্ট একাদশেও স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। গতকাল প্রকাশিত উইজডেন অ্যালমানাক-এর ১৪৮তম সংখ্যায় ২০১০ সালের জন্য সেরা টেস্ট একাদশ ঘোষণা করা হয়। ওয়েবসাইট।
বছরের ‘লিডিং ক্রিকেটার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে শচীন টেন্ডুলকারের নাম। ২০০৪ সাল থেকে প্রবর্তিত ‘লিডিং ক্রিকেটারের’ পুরস্কার এর আগে পেয়েছেন রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, মুত্তিয়া মুরালিধরন, জ্যাক ক্যালিস ও বীরেন্দর শেবাগ। আইসিসির বর্ষসেরা হয়েছেন আগেই। সেদিন জিতলেন বিশ্বকাপ। এবার উইজডেনের লিডিং ক্রিকেটার—টেন্ডুলকারের সুসময় শেষই হচ্ছে না!
২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া উইজডেন টেস্ট একাদশে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি স্থান পেলেন। এবারের একাদশ আরেকটি ‘প্রথম’ দেখল—কোনো অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি! টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ভারতের সর্বোচ্চ পাঁচজন আছেন তালিকায়। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন করে। অন্যজন শ্রীলঙ্কার।
ইয়ান বিশপ, রমিজ রাজা, ইয়ান চ্যাপেল ও উইজডেন-এর সম্পাদক শিল্ড বেরিকে নিয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলী নির্বাচন করে এই একাদশ। ওয়েবসাইট।
২০১০ উইজডেন টেস্ট একাদশ: ১. বীরেন্দর শেবাগ (ভারত), ২. তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), ৩. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা), ৪. শচীন টেন্ডুলকার (ভারত), ৫. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা), ৬. ভিভিএস লক্ষ্মণ (ভারত), ৭. মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত), ৮. গ্রায়েম সোয়ান (ইংল্যান্ড), ৯. ডেল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা), ১০. জহির খান (ভারত), ১১. জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)।

জয়ে শুরু বাংলাদেশের

ডেভিস কাপের বাছাইপর্বে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে ‘বি’ গ্রুপের খেলায় ৩-০ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানকে হারাল স্বাগতিকেরা। প্রথম এককে অমল রায় ৭-৬, ৪-৬, ৬-৩ গেমে ইজিজ দভলেতভকে হারানোর পর দ্বিতীয় এককে শিবু লাল ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারান জামসিদ ইলমুরাভকে। দ্বৈতে রঞ্জন রাম ও আলমগীর হোসেন জুটি বেঁধে ৬-৭, ৬-০, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন বখতিয়ার আতাবায়েভ-রুস্তম বেইরামভ জুটিকে। দিনের অন্য ম্যাচে জর্ডান ২-১ ম্যাচে কাতারকে ও কিরগিজস্তানও ২-১-এ হারিয়েছে বাহরাইনকে।

পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে চায় ভারত

২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই ক্রিকেট অঙ্গনে পরস্পরের মুখোমুখি হয়নি ভারত ও পাকিস্তান। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার পর আবারও নতুন করে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক তৈরি হতে যাচ্ছে এ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। মোহালিতে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচটা দেখতে এসে এ বিষয়ক কথাবার্তার সূত্রপাত করেছিলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। গতকাল বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণাও পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
এ বছরই ভারতের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে এ বছর আইসিসি নির্ধারিত সফরসূচি নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে দুই দেশের ক্রিকেটারদের। এই সিরিজ কবে, কোথায় আয়োজন করা হবে, সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই।

পন্টিংয়ের ‘স্পিন-দুশ্চিন্তা’

টানা তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী হলেও অস্ট্রেলিয়ার সেই মহা পরাক্রমশালী দাপুটে চেহারাটা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ইংল্যান্ডের কাছে অ্যাশেজ বিসর্জন দিয়ে অনেক কড়া সমালোচনার তীর হজম করতে করতে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে তারা। কিন্তু এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটিকে নিজেদের ‘অপরাজিত’ তকমাটা ঠিকই গায়ে সেঁটে রেখেছে অসিরা। গ্রুপ পর্বের চারটি খেলায় তিনটিতেই জিতেছে তারা। পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ।
তবে এর পরও নিজেদের পারফরমেন্সে খুব বেশি খুশি হতে পারছেন না অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। কেনিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৬০ রানের সহজ জয় পেলেও বোলিং আক্রমণ নিয়ে এই মুহূর্তে কিছুটা চিন্তিতই হয়ে পড়েছেন তিনি। কেনিয়ার বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা ৩২৪ রান তুলে জয়ের ভিত্তি গড়ে দিলেও বল হাতে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাতজন বোলার ব্যবহার করে মাত্র ৬টি উইকেট নিতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে আবার তিনটিই এসেছে রানআউট থেকে। রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘আমরা আরও বেশি উইকেট নিতে পারলে আমি অনেক বেশি খুশি হতাম। এটা ঠিক। কিন্তু তার জন্য আমি হতাশ হইনি। আমরা পুরো ১০০ ওভার যেভাবে খেলেছি, সেটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক ব্যাপার।’
কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দুটি উইকেট পেয়েছেন শন টেইট। একটি পেয়েছেন ব্রেট লি। উপমহাদেশের স্পিনারবান্ধব উইকেটে অসি স্পিনাররা খুব বেশি ধারালো বোলিং করতে পারছেন না। এই ব্যাপারটা কিছুটা ভাবিয়েই তুলেছে পন্টিংকে। দলের স্পিন আক্রমণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘কেনিয়ার বিপক্ষে আমি কয়েকজন স্পিনারকে ব্যবহার করেছি। স্মিথকে পাওয়ার প্লের সময় বোলিংয়ে এনেছি, সে ওই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে কিনা, এটা দেখার জন্য। জ্যাসন ক্রেজা অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তার বল অনেক টার্নও করছিল। কিন্তু তারা উইকেটের পতন ঘটাতে পারলেই আমি অনেক বেশি খুশি হতাম।’

একটি জাতীয় নদী চাই by আশরাফুল হক, এম আনোয়ার হোসেন, তুহিন ওয়াদুদ, রাজীব নন্দী, শাহমান মৈশান, হেলাল হোসেন ও সুহা সানোয়ার হাবিব

আজ ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারস)। আজ নদীর প্রতি জবাবদিহি করার দিন। আমরা জানি, সারা বছর নদী তার পানি ও প্রতিবেশে আমাদের জীবন সচ্ছল রাখে। এর প্রতিদান আমরা কীভাবে দিই, আজ তার হিসাব-নিকাশের দিন।
১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দেওয়া এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেখানে একত্র হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, লেসোথো, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরাই ১৪ মার্চকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। এবার পালিত হচ্ছে ১৪তম নদীকৃত্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নদীর জন্য অনুপ্রাণিত হোন, সৃষ্টিশীল হোন, সক্রিয় হোন’।
বস্তুত, নদী নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যে দেশ নদীর আশীর্বাদে গড়ে উঠেছে অথচ যেখানে নদীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে এমন দিবস আরও তাৎপর্যপূর্ণ। নদীর ব্যাপারে সক্রিয় হওয়া আমাদের কর্তব্য। মুমূর্ষু নদীগুলোকে বাঁচাতে সৃষ্টিশীল আয়োজন ও উদ্যোগের বিকল্পও নেই। আমরা রিভারাইন পিপলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালন করছি। এ উপলক্ষে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে সেমিনার ও বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নদীর বিষয়ে রিভারাইন পিপলের বর্ষপত্র নদী প্রকাশ পাবে।
একই সঙ্গে নদীকৃত্য দিবস সামনে রেখে আমরা দাবি জানাই একটি জাতীয় নদী ঘোষণার। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বহুল আলোচিত গঙ্গাকে ভারত জাতীয় নদী ঘোষণা করেছে। গঙ্গাকে জাতীয় নদী ঘোষণা করেই ভারত সরকার খালাস হয়নি। এর মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে প্রধান এবং যেসব রাজ্যের ওপর দিয়ে গঙ্গা বয়ে গেছে, সেগুলোর মুখ্যমন্ত্রীকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে।
পাকিস্তানও সিন্ধু নদীকে ‘কওমি দরিয়া’ বা জাতীয় নদী ঘোষণা এবং প্রতিবছর ২৪ জানুয়ারি সিন্ধু দিবস ঘোষণা করেছে। নদীবহুল যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিবেচনায় পাঁচটি প্রবাহকে জাতীয় নদী ঘোষণা করা হয়েছে। কোনোটি সবচেয়ে দূষণমুক্ত, কোনোটি সবচেয়ে প্রাকৃতিক, কোনোটি সুদৃশ্যতম, কোনোটি আবার প্রবাহিত হয়েছে ঐতিহাসিক সব স্থানের মধ্য দিয়ে। আবার বাফেলো ছাড়া বাকি চারটি নদীর পুরো অংশ ‘জাতীয়’ ঘোষণা করা হয়নি। যে অংশ নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পড়েছে, শুধু সেটুকু।
প্রশ্ন উঠতে পারে যে, শত শত নদীর দেশে একটি নদীকে আলাদা করে চিহ্নিত করার আদৌ প্রয়োজন আছে কী না? এও বলা যেতে পারে, একটি নদীকে জাতীয় ঘোষণা করে বাকিগুলোর ব্যাপারে কী হবে? কোনো কিছুকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার সাধারণ কারণ হচ্ছে, সেটার প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়া। একটি নদীকে জাতীয় ঘোষণা করার অর্থ বাকি নদীগুলোর ব্যাপারে কম মনোযোগী হওয়া নয়।
আমাদের দেশে তো জাতীয় ফুল, জাতীয় ফল, জাতীয় বৃক্ষ ও জাতীয় পাখি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ অন্যান্য ফুল, ফল, বৃক্ষ ও পাখিকে অবহেলা করা হয়নি। আমরা মনে করি, জাতীয় নদী ঘোষণা করা হলে সেটি নদী সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার জাতীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। এর আদলে অন্য নদীগুলোকেও প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
আমরা যখন নদীকৃত্য দিবস পালন করছি, তখন সারা দেশের নদীগুলোর অবস্থা কী? বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা তুরাগসহ বহু নদী দূষিত ও দখল হয়ে যাচ্ছে নদীদস্যুদের কবলে পড়ে। নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় অনেক নৌপথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে যেমন জাতীয় পর্যায়ে তেমনি আঞ্চলিক পর্যায়েও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। কেননা, বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর উৎস ভারত, নেপাল ও চীন। নদী, মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো উন্নয়ন নীতি নেওয়া যাবে না।
সন্দেহ নেই, আমাদের নদীগুলোকে সচল ও স্বাস্থ্যবান করতে হলে কেবল জাতীয় নদী ঘোষণা নয়, আরও অনেক কাজ করা দরকার। কিন্তু এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতারও প্রয়োজন আছে। তাতে করে নদীবিষয়ক চিন্তা ও তৎপরতায় নিঃসন্দেহে উৎসাহ বাড়বে।
লেখকেরা ‘রিভারাইন পিপল’ নামে নদীবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
riverine.people@gmail.com

বিরোধী দল বধের বটিকা by মিজানুর রহমান খান

আপনি আচরি ধর্ম পরকে শিখাও। আমরা সবাই জানি, দুই বড় দল পরস্পরকে ধাক্কা মারার তালে থাকে। যে যখন পারে ধাক্কা মারে। আজকে একটি উপযুক্ত পাঠের কথা বলব। রোগ হলে ওষুধ চাই। এটা তেমন এক ওষুধ। একটু তেতো। তবে নিশ্চিত উপশম মিলবে। আওয়ামী লীগ ধাক্কা মারতে পারবে। বিএনপিও ধাক্কা মারতে পারবে। উভয় দল যখন সমান বেগে ধাক্কা মারবে, তখন গণতন্ত্র পোক্ত হবে। আজ যেটা বলব সেটা হলো, জনগণ একটা মস্ত ফাঁকিতে আছে। সংসদ ফাঁকি দেয়। সুপ্রিম কোর্টও এক রকম ফাঁকি দিয়ে বসে আছেন। আসুন আগে রোগটা শনাক্ত করি।
সংসদ বয়কট একটি রোগ। এটা ক্যানসারে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দল সংসদে যাচ্ছে। আসন রক্ষার জন্য। কারণ সংবিধানের ৬৭(১) খ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদের অনুমতি না নিয়ে কেউ যদি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক দিবস (সিটিং ডে) অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তাঁর সংসদের আসন শূন্য হবে। বিশ্বব্যাপী সংসদে প্রতিবাদের ভাষা ওয়াকআউট। বয়কটও বিরল নয়। তবে আমাদের মতো ১৬ মাস ধরে সবেতন সংসদ বয়কটের নজির আর কেউ গড়তে পারেনি।
সংবিধান উপস্থিতি অনুমান করেছে। অনুমতিহীন অনুপস্থিতি সংবিধান নিরুৎসাহিত করেছে। ওয়াকঅউট বা বয়কট সংবিধানে লেখা নেই। সংসদে ‘অনুপস্থিতি’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায় এ প্রসঙ্গে আমরা আলোচনা করতে পারি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে দীর্ঘতম সংসদ বয়কট চলে। আওয়ামী লীগ, জাপা ও জামায়াত সংসদ থেকে গণপদত্যাগ করে। এরপর ১৯৯৫ সালের ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি রেফারেন্স পাঠান সুপ্রিম কোর্টে। সেই থেকে আমরা গুনতে শিখলাম, কী করে ৯০ দিন হয়। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় সেদিন আওয়ামী লীগ, জাপা ও জামায়াতের পছন্দ হয়েছিল। শাসক বিএনপির হয়নি।
প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মোস্তাফা কামাল, বিচারপতি লতিফুর রহমান, বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দিন সরকারের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ একাদিক্রমে ৯০ কার্যদিবস কীভাবে গণনা হবে, সেটা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার দল সংসদে আসছে। কারণ তারা ৯০ দিনের ফাঁদে পড়ছে। আপিল বিভাগের ওই রায় পড়ে মনে হলো, এটাই তো বিরোধী দলের চিরকালীন ব্রহ্মাস্ত্র। আপিল বিভাগের বাতলে দেওয়া ফর্মুলা পড়ে আমি তো হতবাক। হতে পারে সেটাই আইনের অমোঘ গন্তব্য। কিন্তু তাতে সংসদের লালবাতি যে জ্বলবেই, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিরোধী দল এক্কা-দোক্কা খেলবে। এক দিনের জন্য যাবে। বেরিয়ে আসবে। ৯০ কার্যদিবস গুনতে বসবে। এক দিন ফের উদয় হবে। বেতন-ভাতা তুলতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের ওই অভিমত তাঁদের বর্ম। বিরোধী দলের এহেন শত অনাচারেও সংবিধানের ইজ্জত যাবে না।
রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ওয়াকআউট তো করল। এরপর অনুমতি নিল না। পলাতক হলো। অকস্মাৎ উদয় হলো। এই অন্তর্বর্তী সময় ‘অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। দ্বিতীয়ত, বয়কটকে সংবিধান বর্ণিত অনুপস্থিতির মধ্যে ফেলা যাবে কি না। তৃতীয়ত, ৯০ দিন গণনা কীভাবে হবে। সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যে যে সময়টা সংসদ বৈঠকে থাকে না, সেই সময় ৯০ দিন থেকে বাদ যাবে কি না। চতুর্থত, স্পিকার অনুপস্থিতির সময় গণনা এবং তা নির্ধারণ করবেন কি না। আপিল বিভাগে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও ড. কামাল হোসেন যুক্তি দিয়েছিলেন যে এসবের উত্তর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঠিক হবে না। আদালত তাঁদের সঙ্গে একমত হননি। সেটা মনে হয় ঠিক ছিল। আদালত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব দেন। তৃতীয় প্রশ্নের জবাব ছিল ৯০ দিন গণনায় দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময় বাদ যাবে। গণনায় আসবে না। আর চতুর্থ প্রশ্নের জবাব ছিল, স্পিকারই অনুপস্থিতির সময় নির্ধারণ ও গণনা করবেন।
১৬ বছর পর আজ স্মরণ করছি যে এই রায় আমাদের কী উপকার করেছিল। উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়েছে। যদি দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়কে গণনায় নেওয়া যেত, তাহলে বিরোধী দল সংসদকে এত বেশি অকেজো করতে পারত না।
বিচারপতি মোস্তাফা কামাল দেখিয়েছিলেন, কয়েকটি দেশে অনুমতিবিহীন অনুপস্থিতির জন্য আসন শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত সংসদই নিতে পারে। ভারতের ১০১(৪) অনুচ্ছেদ, মালয়েশিয়ার (অনুচ্ছেদ ৫২), পাকিস্তানের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ৬২) ও ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৬৮ ধারা এ কথাই বলেছে। তিনি পার্থক্য দেখান যে বাংলাদেশের সংবিধান কিন্তু কোনো সাংসদের আসন শূন্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত সংসদের হাতে ন্যস্ত করেনি। বাংলাদেশই শুধু নয়, শ্রীলঙ্কা (অনুচ্ছেদ ৬৬), নেপাল (অনুচ্ছেদ ৩৮) ও সিঙ্গাপুর (অনুচ্ছেদ ৪৬) সংসদকে কোনো আসন শূন্য ঘোষণার ক্ষমতা দেয়নি। আমাদের সংবিধানের ৬৭(১)(খ) অনুচ্ছেদে একটি অটোমেশন ধারা আছে। সংসদ সচিবের একমাত্র দায়িত্ব হলো সংসদ সদস্যদের জন্য একটি হাজিরা বই সংরক্ষণ করা। আর স্পিকারের সীমিত দায়িত্ব হচ্ছে কোনো আসন শূন্য হলে তা সংসদের নজরে আনা।
এখানে স্মরণে রাখা দরকার যে আসন শূন্য হওয়া বা তাঁর ঘোষণা দেওয়া নিয়ে আইনগত অস্পষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক কালেও নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে। এসব দেখেশুনে আমাদের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে, এসব বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের দরকার থাকতে পারে। বিশেষ কমিটি তা যাচাই করতে পারে।
রাষ্ট্রপতির ওই রেফারেন্সের শুনানিতে এস আর পাল, আসরারুল হোসেন, টি এইচ খান গণমুখী যুক্তি দিয়েছিলেন। ওয়াকআউট কিংবা বয়কট যখন গণ-অনুপস্থিতিতে রূপ নেয়, তখন ওয়াকআউট আর ওয়াকআউট থাকে না। পায়ে হাঁটা আর ঝেড়ে দৌড়ানো এক নয়। তা ছাড়া সংবিধান কোনোক্রমেই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে প্রলম্বিত ওয়াকআউট বা বয়কট যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এমন কিছু কল্পনা করেনি।
১৬ মাস ধরে বিরোধী দল সংসদে ছিল না। টি এইচ খান যুক্তি দিয়েছিলেন যে ওই সময়ে তাঁরা সংসদে উপস্থিত আছেন বলে ধরে না নিলে সংসদ আর সংসদ থাকে না। এটাকে অবশ্য আদালত ঠিকই দুর্বল যুক্তি বলেছিলেন।
আপিল বিভাগের যুক্তি ছিল, সব লিখিত সংবিধানে সংবিধান প্রণেতারা সংসদ থেকে সদস্যদের ‘অনুপস্থিতি’ কল্পনা করেছেন। বয়কটের কারণ যতই অসংসদীয় হোক না কেন, অনুপস্থিতির একটা সীমা বাঁধা হয়েছে। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে উপনির্বাচনের বিধান, যাতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। তবে বিচারপতি মোস্তাফা কামাল একটি বিষয় চিহ্নিত করেন। বিশ্বের অন্যান্য কিছু সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী পর্যালোচনান্তে দেখা যায়, আমাদের সংবিধানই দীর্ঘতম মেয়াদে স্পিকারের বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা কিন্তু সংসদের বিশেষ কমিটি বিবেচনায় নিতে পারে। ৯০ দিনের বিধান পাল্টাতে হবে। এর মেয়াদ কমাতে হবে।
আপিল বিভাগের ব্যাখ্যায় আমাদের বয়কটাসক্ত বিরোধী দল উল্লসিত হয়। কারণ তারা বলেন, অনুপস্থিতি শব্দটি বিভিন্ন ধরনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পেতে পারে না। তাহলে সাংবিধানিক বিধানাবলীতে অনিশ্চয়তার উপাদান যুক্ত হবে। যদি আমরা রেফারেন্সে বর্ণিত অনুপস্থিতি মেনে নিই, তাহলে আমরা দুই ধরনের অনুপস্থিতি দেখতে পাব। প্রথমটি সংবিধানে বলা আছে, দ্বিতীয়টি সংবিধানে বলা নেই। আর তা হলে সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাই আমরা দুই ধরনের সংসদীয় অনুপস্থিতি অনুমোদন দিতে পারি না।
ওই রেফারেন্স যখন হয়, তখন ‘অনুপস্থিতি’ বিষয়ক একটি মাইলফলক রায় কিন্তু আপিল বিভাগে বিচারাধীন ছিল। ১৯৯৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি কাজী শফিউদ্দীন ও বিচারপতি কাজী এ টি মনোয়ার উদ্দীনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই রায় দেন। সংসদ বয়কটরত আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতকে সংসদে ফেরাতে ওই বেঞ্চে রিট হয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে সংসদে ফিরতে বলছেন। ওই সময় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন তিনি। আদালতে তাঁর যুক্তি ছিল ‘যদি আবেদনকারীকে প্রতিকার দেওয়া হয়, তাহলে সেটা নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যকার ক্ষমতার বণ্টন নীতি ধ্বংসের শামিল হবে। বাংলাদেশের লিখিত সংবিধানের ভিত্তিটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।’ এর অর্থ হলো, সাংসদেরা সংসদকে দোলনা বানাবে, তাতে আদালতের কী! সংসদের বিষয় সংসদ বুঝবে।
১৯৯৪ সালের ওই মামলাতেও আমরা দেখি অনুপস্থিতি ও বয়কটের মধ্যে পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিকার চাওয়া হয়েছে যে সংবিধান সাংসদদের প্রতিবাদের ভাষা ঠিক করে দিয়েছে। তারা ওয়াকআউট করবেন, সাময়িক বয়কট করবেন কিন্তু একাদিক্রমে ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিতির ফায়দা নেবেন না। হাইকোর্ট বলেছেন, সংসদের অনুমতি না নিয়ে অনুপস্থিত থাকা সাংসদদের বিশেষ অধিকার বলে গণ্য হতে পারে না। সরকারি দলের পক্ষে এই যুক্তি ছিল যে ‘স্পিকারের অনুমতি না নিয়ে একাদিক্রমে ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকা সম্ভব নয় কিংবা বাস্তবসম্মত নয়। যদি বৈঠক কথাটি বিলোপ করা না হয়, তাহলে সংবিধান প্রণেতাদের লক্ষ্য ব্যাহত হবে। তাই সংবিধানের ৬৭ (১)খ থেকে বৈঠক বা সিটিং কথাটি তুলে দিতে হবে। হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সংসদ থেকে অব্যাহত অনুপস্থিতি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও বাতিল। বয়কটরতদের সংসদে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের সংসদে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ১ মার্চ ১৯৯৪ থেকে পরবর্তী ২৫০ দিন অনুপস্থিত থাকেন। এই সময়ের যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নেন, তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গোড়াতে বলেছিলাম, রোগের ওষুধ আছে। তবে তেতো বটিকা। হাইকোর্টের ওই রায় আমরা সমর্থন করি। আজকে আওয়ামী লীগেরও ওই রায় ভালো লাগবে। না, কথাটি ঠিক হলো না। এই রায় সেদিনের সরকারি দলের ভালো লেগেছিল। আজকের সরকারি দলেরও লাগবে। সেদিন রায়দানকারী এক বিচারকের বাসায় বোমা পড়েছিল। এই রায়কে বিরোধী দল ও তার মিত্ররা উপহাস করেছিল। আজ সরকারি দল ওই রায় মানতে পারে। এর বিরুদ্ধে আপিল এখনো পেন্ডিং রয়েছে। সেটি তুলে নেওয়া সহজ। সেদিনের পলাতক বিরোধী দল গরিব জনগণের ট্যাক্সের টাকা ফেরত দিক। তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার দলটির কাছ থেকেও আমরা টাকা ফেরত পেতে পারি!
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

‘এই শিক্ষককে নিয়া আমরা কী করিব

মাদ্রাসাটিতে বিদ্যুৎই নেই, কম্পিউটারও নেই, কিন্তু একজন কম্পিউটার শিক্ষক আছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁকে কোনো দিন দেখেনি, কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানে না, তবু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের হালনাগাদ এমপিওতে সেই উড়ে এসে জুড়ে বসা শিক্ষকের নাম আছে! অথচ এই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকই ২০০৬ সালে ওই নিয়োগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপারকে জালিয়াতির অভিযোগে কারণ দর্শাতে বলেন। তিনি কারণ না দর্শালেও স্বয়ং অধিদপ্তরই পাঁচ বছর পর জালিয়াতির হোতা ওই শিক্ষককে এমপিওভুক্ত বলে গেজেট জারি করে। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচগ্রাম জান্নাতুন নূরী দাখিল মাদ্রাসার এই জালিয়াত শিক্ষককে নিয়ে কী করবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ? একই সঙ্গে জানা দরকার, অধিদপ্তর কীভাবে জালিয়াতির বিষয়টি ভুলে তাঁর নাম এমপিওভুক্ত করল?
এ ঘটনাটিকে আমরা দুর্নীতির একটি কার্যকর নমুনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। মাদ্রাসার সুপার সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সই জাল করে নিজের ছোট বোনকে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতির যে প্রক্রিয়া শুরু করেন, তা সম্পূর্ণ হয় শিক্ষা অধিদপ্তরের হাতে। তৃণমূল থেকে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষপর্যায় পর্যন্ত তারা তাদের অসাধু স্বার্থে ব্যবহার করতে পেরেছে। কিসের বিনিময়ে পেরেছে, সেটাও একটা প্রশ্ন বটে। এমন না যে অধিদপ্তর বিষয়টি জানত না। তারা নিজেরাই যেখানে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত করেছে, সেখানে সেই তদন্তে বেরিয়ে আসা সত্যকে নিজেরাই কীভাবে অমান্য করতে পারে? হয় এটি তাদের গভীর গাফিলতি অথবা নির্লজ্জ দুর্নীতি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি তথা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে অনেক কাণ্ড-কারখানা হয়ে থাকে। প্রভাবশালীদের তদবির এখানে খুবই সক্রিয়। একইভাবে নামমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খাড়া করে ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষকতা দানও বিরল ঘটনা নয়। অজস্র শিক্ষিত বেকারের এই দেশে একটি চাকরি খুবই লোভনীয় এবং তার জন্য যেকোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম খুবই চালু একটি ব্যাপার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ায় একজন বেকার কমলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা যদি এভাবে শিক্ষক হয়ে বসেন, তাহলে কেবল পেশা হিসেবে শিক্ষকতার সম্মান যেমন ক্ষুণ্ন হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা নিজেও। আশা করি, সরকারের অন্যতম সফল মন্ত্রণালয় বলে স্বীকৃতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব অনিয়মের বিষয়ে আরও সজাগ ও কঠোর হবে।

পদত্যাগ করবেন না উইলিয়াম হেগ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। লিবিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে আনার কাজে ধীর গতি এবং লিবিয়ায় গোপন এসএএস মিশনের কারণে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এও বলেন, দলে এখনো তাঁর বিপুল সমর্থন রয়েছে। আর তিনি ‘জাদুকরি ক্ষমতা’ হারিয়েছেন বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
হেগের সমালোচকদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মেনজাইস ক্যাম্পবেলও রয়েছেন। তিনি লিবিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের ধীর গতিতে সরিয়ে আনার সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সেখানে এসএএস মিশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উইলিয়াম হেগ বলেন, তাঁর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পুরোপুরি সমর্থন রয়েছে।

পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের অনুমতি

ইসরায়েল গতকাল রোববার ঘোষণা করেছে, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কয়েক শ বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। তারা ইহুদি বসতিকারীদের জন্য এই বসতি নির্মাণ করবে। গত শুক্রবার এক ইহুদি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার এক দিন পর ইসরায়েল এ ঘোষণা দিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ইসরায়েলি বসতি ব্লকে আরও কয়েক শ অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। তারা গুশ ইতজিয়ন, মালে আদুমিম, আরিয়েল ও কিরিয়াত সেফার ইউনিটে এই বসতিগুলো নির্মাণ করবে। গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গতকাল তা প্রকাশ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রদাইনাহ বলেন, এটি ইসরায়েলের ভুল সিদ্ধান্ত ও অসমর্থনযোগ্য। এই সিদ্ধান্ত শুধু সমস্যার সৃষ্টি করবে।
এদিকে গত শুক্রবার এক ফিলিস্তিনির ছুরিকাঘাতে এক ইসরায়েলি পরিবারের যে পাঁচজন নিহত হয়, তাদের মধ্যে ১১ বছর, চার বছর ও তিন মাসের শিশুসহ তাদের বাবা-মা রয়েছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। তবে এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইসরায়েল নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইছে।
সন্দেহ করা হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে ফিলিস্তিনের জঙ্গিরা জড়িত। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু হামাস জঙ্গিরা বলছে, এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে হামাসের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

কিউবায় মার্কিন নাগরিকের ১৫ বছরের দণ্ড

রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে কিউবার একটি আদালত মার্কিন সাহায্যকর্মী অ্যালেন গ্রসকে (৬১) ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
কিউবার ওই আদালত ৫ মার্চ অ্যালেন গ্রসকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে আদালত তখন তাঁর শাস্তি ঘোষণা করেননি। আইনজীবীরা আদালতের কাছে গ্রসের ২০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন।
কিউবার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মার্কিন সরকারের অর্থায়নে গ্রস দেশটিতে ইন্টারনেটের অবৈধ সংযোগ স্থাপন করছিলেন।
২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কিউবা সরকার গ্রসকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে কিউবায় গণতন্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রস কাজ করছিলেন।
গ্রসের স্ত্রী জুডি মানবিক কারণে তাঁর স্বামীকে মুক্তি দিতে কিউবার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। গ্রস কারাগারে নানা ধরনের রোগে ভুগছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মার্কিন সরকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গ্রসের মুক্তির আগে কিউবার সঙ্গে আর কোনো সম্পর্কোন্নয়ন নয়।

মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনায় জার্মানিতে বিক্ষোভ

পারমাণবিক চুল্লির সময়কাল বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে জার্মানিতে গতকাল রোববার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এর অংশ হিসেবে সু্বটগার্টে বিক্ষোভকারীরা ৪৫ কিলোমিটার (২৭ মাইল) দীর্ঘ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
আয়োজকেরা জানান, জাপানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে পারমাণবিক চুল্লিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা প্রমাণ করেছে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি। চলতি বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনে অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়াবে পরমাণুনীতি।
আয়োজকেরা মানববন্ধনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ অংশ নেওয়ার কথা বললেও পুলিশ বলছে কয়েক হাজার।
বিক্ষোভকারীরা স্টুটগার্ট ও নেকারওয়েসথেইমের পরমাণু স্থাপনা পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময় তাঁরা হলুদ পতাকা নেড়ে ‘পরমাণু স্থাপনা নয়—ধন্যবাদ’ বলে স্লোগান দেয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেডেন-উয়েরটেমবার্গ রাজ্যে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী নির্বাচনে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের রক্ষণশীল দলের পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
মেরকেলের সরকার গত বছর পরমাণু চুল্লির নিরাপত্তার কথা ভেবে এর মেয়াদ বাড়িয়েছিল।
সাংবাদিকদের কাছে মেরকেল বলেন, ‘আমরা জানি, আমাদের স্থাপনা কতটা নিরাপদ। তাই এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প বা সুনামির জলোচ্ছ্বাসে স্থাপনাগুলোর ক্ষতির ঝুঁকিতে আমাদের পড়তে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু জাপানে যা ঘটেছে, তা থেকে আমরা শিক্ষা নেব।’
জাপানে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা-১ নামে পরমাণু স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন ধাতবনির্মিত হওয়ায় চুল্লির ভেতরের অংশ অক্ষত আছে।

বায়ু চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিবেশী দেশগুলো

জাপানে পারমাণবিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গুরুত্বের সঙ্গে বায়ু চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির প্রতিবেশীরা।
গত শুক্রবার দেশটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামিতে উত্তর-পূর্ব উপকূলের ফুকুশিমায় অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব কোন এলাকায় পড়বে, তার অনেকটা নির্ভর করবে ওই কেন্দ্র থেকে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে তার ওপর।
গতকাল রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সেফটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক লি ডার্ক-হান বলেন, ‘বর্তমানে বাতাস পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জাপানের পারমাণবিক দুর্ঘটনার তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। তবে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হলে আমাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ লিয়াওনিংয়ের কর্মকর্তারা বাতাসে সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। তবে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।
পরমাণু-বিষয়ক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, প্রদেশটি এখনো আক্রান্ত হয়নি।

‘আমি কি স্বপ্ন দেখছি!’

জাপানে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর যে প্রলয়ংকরী সুনামি হয়ে গেল, সেটাকে অনেকে এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁদের ধারণা, তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন আর না হয় সিনেমার কোনো কল্পকাহিনি অবলোকন করছেন। কয়েক মুহূর্তের তাণ্ডবে এত ক্ষতি হয় কীভাবে? এটা কি আদৌ সম্ভব?
চোখের সামনে নজিরবিহীন ধ্বংসলীলার বিশাল নজির থাকলেও অনেকের কাছে এটাকে স্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে। তাঁদেরই একজন হিটাচি শহরের বাসিন্দা ইচিরো সাকামাতোর। তিন দিন আগে ঘটে যাওয়া প্রলয়ংকরী দুর্যোগকে বাস্তব বলে মেনে নিতে যেন তাঁর কষ্ট হচ্ছিল।
৫০ বছর বয়সী সাকামাতোর ভাষ্য হচ্ছে, ‘এটি কি স্বপ্ন? আমার মনে হচ্ছে, আমি কোনো সিনেমা দেখছি। আমি যখন একা থাকি তখন গায়ে চিমটি কাটি। স্বপ্ন দেখছি না বাস্তব অবস্থা অবলোকন করছি, সেটা জানার এ কাজটা করি।’
হিটাচির মতো একই অবস্থা ১০ লাখ লোকের শহর সেনদায়ির। এ শহরও সুনামির কারণে কাদায় একাকার হয়ে গেছে। উপড়ে পড়া গাছপালা আর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরে একাকার হয়ে গেছে শহরটি। এখানেও চারদিকে ধ্বংসের ক্ষত। এ শহরের বাসিন্দা মিচিকো ইয়ামাদা বললেন, তাঁর ৭৫ বছরের জীবনে অনেক সুনামি দেখেছেন কিন্তু এমন এমন প্রলয়ংকরী সুনামি আর দেখেননি। তিনি জানালেন, এ সুনামিটি ছিল কালো। চোখের সামনে তিনি অনেক লোককে ভাসিয়ে নিতে দেখেছেন। তাঁর সামনেই গাড়িতে বসা ছিল এক বৃদ্ধ দম্পতি। সুনামি তাঁদের এক টানে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
ইয়ামাদার গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে অনেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিয়োডো নিউজের খবর অনুসারে সুনামিতে ওসুচি নামের ওই গ্রামের পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ফুকোশিমা শহরেও চলছে উদ্ধার তৎপরতা। সেখানে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ ভাসমান একটি ঘরের চালা ধরে কোনোমতে বেঁচে ছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা পরে তাঁকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করেন। উপকূলসংলগ্ন ছোট শহর অফুনাতোতোর এক বাসিন্দা ভেসে গিয়েছিলেন জলের তোড়ে। তাঁকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে একটি নার্সিংহোমে। এ শহরের লোকসংখ্যা ১৭ হাজার ৫০০। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুসারে শহরের অর্ধেক লোকের কোনো হদিস নেই।
দিন যত গড়াচ্ছে জাপানের সুনাসি আর ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা তত বাড়ছে। বেরিয়ে আসছে তাণ্ডবলীলার ভয়াবহ চিত্র।

ডিএসইর চারজন নতুন পরিচালক নির্বাচিত

কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের চারটি পদে নির্বাচন। সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ডিএসইর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৫৮ ভোট। নির্বাচিত বাকি প্রার্থীদের মধ্যে মোনা ফাইনানশিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আহসানুল ইসলাম ১৪১টি ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া গ্লোব সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান এবং ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান খান সমানসংখ্যক ভোট (১১৫) পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বছর ডিএসইর চার পরিচালক পদের বিপরীতে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরাজিত তিন প্রার্থী হলেন বুলবুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস শাহুদুল হক বুলবুল, এম অ্যান্ড জেড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর উদ্দিন আহম্মেদ এবং ফিনিক্স সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির চৌধুরী।
ভোট গণনা শেষে ডিএসইর নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম রফিকুল ইসলাম বিকেল পাঁচটায় ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে মতিঝিলে ডিএসইর কার্যালয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল চার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে।
এ বছর নির্বাচনে ২২৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৯৪ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংঘবিধি অনুযায়ী ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের ২৪ জন পরিচালকের মধ্যে ১২ জন সরাসরি সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। আর বাকি ১২ জনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মনোনীত করা হয়।
একজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর টানা তিন বছর পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেই হিসেবে প্রতিবছর চারজন করে পর্ষদ সদস্যের মেয়াদ শেষ হয়। এ বছর লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ব্র্যাক ইপিএল ব্রোকারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম, অ্যাসেঞ্জ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লাইলুন নাহার ইকরাম এবং অ্যারিস সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুল হকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই চারজনের শূন্যপদে নির্বাচিত চারজন দায়িত্ব পালন করবেন।
যোগাযোগ করা হলে আহমেদ রশিদ বলেন, ‘আমরা যাঁরা নির্বাচিত হয়েছি তাঁরা পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থেই কাজ করব। আর এ জন্য যেসব সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে হবে, ডিএসই যাতে তা নিতে পারে, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।’
আগামী ১৬ মার্চ রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদের সভায় ডিএসইর নতুন সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে।

রাজশাহীতে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু

রাজশাহীতে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। নগরের কালেক্টরেট মাঠে এ মেলার আয়োজন করেছে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেলাটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এম ওবাইদুল্লা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় মোট ১১২টি স্টল ও আটটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। এতে প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।
এ মেলা চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। মেলায় শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আমার মামা কে জি মুস্তাফা by ফিউরি খোন্দকার

কে জি মুস্তাফা। দরাজদিল এই মানুষটির চারিত্রিক দৃঢ়তা ফুটে উঠত তাঁর ঋজু ভঙ্গিতে কথা বলার মধ্য দিয়ে। তাঁর জীবন উৎ সর্গীকৃত ছিল সাংবাদিকতা, রাজনীতি আর সহকর্মীদের জন্য। তাঁকে নিয়ে গর্ব করার মতো বিষয়গুলোর মধ্যে কর্মের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা প্রধান।
আজ কে জি মুস্তাফার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছর এই দিনে ৮৬ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
রাজনৈতিক কারণে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ষাটের দশকে এ দেশে সাংবাদিকদের জন্য প্রথম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন এবং আইয়ুব খানের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ যে আন্দোলন গড়ে তোলে, তাতে তাঁর অন্যতম প্রধান ভূমিকা ছিল।
তিনি ছিলেন প্রথম সারির ভাষাসংগ্রামী।
আমার জন্ম ১৯৫১ সালের ২৬ অক্টোবর, ঢাকায়। হীরা মামা (কে জি মুস্তাফা) তাঁর ভাগনেকে দেখতে এসে বললেন—ওর নাম রাখব আমি। তখন কোরিয়ায় যুদ্ধ চলছিল। শুনেছি, সেই যুদ্ধের শক্তিমত্তা বা প্রচণ্ডতাকে উপলক্ষ করে তিনি আমার নাম রেখেছিলেন—ফিউরি। এরই কিছুদিন পর বায়ান্নর ফেব্রুয়ারি। একপর্যায়ে আমাকে (চার মাসের শিশু) নিয়ে আমার আম্মা হাসিনা আমজাদ এক অসামান্য আবেগের বশবর্তী হয়ে মিছিলে যেতে চাইলেন। হীরা মামা তখন আমাকে আমার মায়ের কোল থেকে রেখে দিয়েছিলেন। হীরা মামা সে সময় সংবাদ-এ বার্তা বিভাগের শিফট-ইন-চার্জ ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এর আগে তিনি ১৯৪৯-এ কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সংগঠকরূপে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ধর্মঘটের একপর্যায়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি প্রথম কারাবরণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, আবদুল মতিনসহ ২৫ জন ছাত্রনেতা সে সময় গ্রেপ্তার হন। হীরা মামা ’৫৩ সালে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত এবং কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। এসবই মামাকে নিয়ে আমার অহংকারের বিশাল হীরকখণ্ডের কয়েকটি টুকরো।
এর কয়েক বছর পর আমি আর আমার ছোট ভাই পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন হীরা মামার সাদামাটা ও অতি ঘরোয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করি। বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল লক্ষ্মীবাজারে সাদেক খান সাহেবের এক আত্মীয়ের বাসায়। আমার মামি সাবেরা খাতুন সে সময় সরকারি কলেজের অধ্যাপিকা। আজিমপুর কলোনিতে তাঁদের বাসা। তিনি বেতার-টিভিতে অভিনয় করতেন এবং কর্মক্ষেত্রে ছিলেন আপসহীন আর নিবেদিত। সব বিষয়েই তিনি মামাকে সহায়তা করেছেন।
আমার আব্বা মরহুম খোন্দকার আমজাদ হোসেন কলকাতা থেকেই সাংবাদিকতা এবং লেখালিখির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই পারিবারিক প্রেক্ষাপটে সম্ভবত সে সময় আমার অবচেতন মনে সাংবাদিকতা, লেখালেখি—এসব বিষয়ে দুর্বলতা তৈরি হয়। আমি দৈনিক পত্রিকার কিশোরদের পাতায় লেখালেখি শুরু করি। এ সময় বর্তমানে চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর, টাঙ্গাইলের খান মোহাম্মদ খালেদসহ আমরা কজনা পূর্বদেশ পত্রিকার চাঁদের হাট-এর একটি সংখ্যা সম্পাদনা করার সুযোগ পাই।
পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের মুখে ব্যাপক অসন্তোষ আর গণজাগরণের সৃষ্টি হয়। তখন আমার মনে এই বোধ দৃঢ় হতে থাকে যে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থেকেই শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে। দূর থেকে হীরা মামার কার্যকলাপ ও আদর্শ আমার মধ্যে এই আস্থার জন্ম দেয় যে সফল আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন এবং শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি হয়ে ওঠেন আমার জীবনের অবধারিত রোল মডেল।
জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে আইএসসি ভালোভাবেই পাস করলাম। আব্বা আমাকে না জানিয়েই ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির আবেদনপত্র নিয়ে এলেন। আমি তাঁকে নিরাশ করলাম। সন্তানের ভবিষ্যৎ ঘিরে একজন পিতার কল্যাণকর স্বপ্নের মধ্যে যে মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা আর পবিত্রতা থাকে, আমি তার অমর্যাদা করেছি। এটা ভাবলে এখনো আমি শিহরিত হয়ে উঠি। আব্বাকে তখন বলেছিলাম, আমি তো ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা করব, তাই যেকোনো বিষয়ে লেখাপড়া করলেই হবে। আব্বা খুব আহত আর অবাক হয়ে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। পরে আব্বা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হীরা মামা আত্মগোপন করে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে খুঁজতে আজিমপুরের বাসায় গিয়েছিল। পেলে হয়তো শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম দেখতে হতো।
নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশে আমি সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করে দিলাম। অবসরে শরীফ মিয়ার ক্যানটিনে অথবা নিউমার্কেটের মনিকো রেস্তোরাঁয় কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডায় তরুণ এবং প্রতিষ্ঠিত লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হলো। আমি লেখালেখির বিষয়ে অধিকতর মনোযোগী হয়ে পড়লাম।
আমি ১৯৭৩ সালে সাবসিডিয়ারি পরীক্ষার পর বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দিই। হীরা মামা লেবাননে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হয়ে চলে গেলেন।
আমার পড়াশোনা, লেখালেখি আর সাংবাদিকতা সমানতালে চলতে লাগল।
তখন দৈনিক বাংলা পত্রিকার রোববারের সাহিত্য সাময়িকী পাতা খুব জনপ্রিয় এবং মানসম্পন্ন ছিল। এই সাহিত্য পাতা দেখতেন কবি আহসান হাবীব। তিনি একদিন তাঁর তৃতীয় তলার দপ্তরে চা খেতে খেতে আমাকে বললেন—ফিউরি, তোমার নামটা বদলে দিই?
আমি একটু অপ্রস্তুত হলাম। তিনি আমাকে বোঝালেন—দেখো, এখন হয়তো তোমার ভালো লাগছে; কিন্তু ধরো, যখন তোমার বয়স বেশি হবে, ছেলেপুলে হবে, তখন হয়তো এখনকার মতো পছন্দ হবে না। আমি মনে মনে ভাবলাম, নামটা আমার অপছন্দের নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, হীরা মামা এই নামটা রেখেছেন। আমি একটু অনুনয়ের স্বরে হাবীব ভাইকে বললাম, থাক না ওটা, নামে কী আসে যায়। হাবীব ভাই একটু হাসলেন।
আজ সে কথা বারবার মনে পড়ছে।

সেনাবাহিনী আছে, দেশ নেই by আহমেদ রশিদ

পাকিস্তানে জঙ্গিবাদী দ্বারা সংগঠিত রাজনৈতিক সহিংসতার লজ্জাকর নজিরগুলোর অন্যতম সংখ্যালঘুবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড। প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলল চার অস্ত্রধারী। পাঞ্জাবের গভর্নর ও পাকিস্তানের উদারপন্থী কণ্ঠস্বর সালমান তাসির নিহত হওয়ার মাত্র দুই মাস পর ঘটল মর্মান্তিক এ ঘটনা। উভয় হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আরও লজ্জাজনক। এতে আশঙ্কা জাগে, এ অঞ্চলে পশ্চিমা নীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এখনো জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে চলেছে।
শাহবাজ ভাট্টি রোমান ক্যাথলিক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভায় একমাত্র খ্রিষ্টান সদস্য তিনি। তাঁর এমন মৃত্যু আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। সালমান তাসিরকে মেরে ফেলা হয় পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইন সংশোধনে তাঁর লড়াইয়ে সাহসী ভূমিকার কারণে। সংখ্যালঘুদের শায়েস্তা করার কাজে ব্যবহূত হতো সেই আইন। ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের লড়াইয়ে শাহবাজও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কয়েক মাস আগে শাহবাজ একটি ভিডিও টেপ ধারণ করেন। উদ্দেশ্য, তাঁকে মেরে ফেলা হলে সেই টেপটি যেন বিবিসিকে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই টেপে ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখতে তাঁর অঙ্গীকারের কথা বলেন, ‘আমার জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আদর্শের সঙ্গে আপসের চেয়ে আমি বরং মৃত্যুই বেছে নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহিংস গোষ্ঠী, জঙ্গিবাদী, নিষিদ্ধ সংগঠন, তালেবান ও আল-কায়েদা পাকিস্তানের ওপর তাদের কট্টরপন্থী দর্শন চাপিয়ে দিতে চায়। যে মানুষই এর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাকেই তারা ভয় দেখায়।’
শাহবাজ জানতেন, তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে। ইদানীং তাঁকে বারবার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। সরকারের কাছে নিরাপত্তা আর বুলেটরোধী গাড়ি চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু তাসিরের হত্যাকাণ্ডের পরও সরকার কিছু করল না। তাসিরের মতোই মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে তাঁরও মৃত্যু হলো। অবশ্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ালে কোনো উপকার হতো কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাসিরকে তো নিজের দেহরক্ষী—উচ্চপ্রশিক্ষিত এক পুলিশ কর্মকর্তাই গুলি করে মারলেন। উভয়ের খুনিরা যে সংস্কৃতির অংশ, সেটি গত কয়েক বছরে ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে, সেখানে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের অভাব নেই; আর জিহাদ ও বল প্রয়োগের শব্দমালা দিয়েই ইসলামকে ব্যাখ্যার অপচেষ্টা চলে।
পোপ, হিলারি ক্লিনটন কিংবা নিকোলা সারকোজির মতো বিশ্বনেতারা যখন শাহবাজ হত্যার তীব্র নিন্দা জানান, সেই মুহূর্তে পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়া নিষ্প্রাণ। যেসব সহিংস জঙ্গিগোষ্ঠী এই দুজনের হত্যাকে স্বাগত জানিয়েছে, তাদের অবাধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি, কোনো প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যায়নি। এসব জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী সিআইএর মার্কিন এজেন্ট রেমন্ড ডেভিসের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে এখন প্রতিদিন লাহোরে বিক্ষোভ করছে। দুই পাকিস্তানিকে হত্যার দায়ে রেমন্ড পাকিস্তানের হেফাজতে। নিহত দুই পাকিস্তানি সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এজেন্ট বলে ধারণা করা হয়। (ডেভিস পাকিস্তানে সক্রিয় সিআইএর গোপন একটি দলের সদস্য হয়ে কাজ করছিলেন। তাঁর কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের অস্বস্তিকর মিত্রতার ওপর তারও চাপ তৈরি হলো।)
শাহবাজ কিংবা তাসির হত্যা—কোনোটির ব্যাপারেই সেনাবাহিনী খেদ প্রকাশ করতে পারেনি। প্রকাশ্যে তাসির হত্যার নিন্দা জানানো, এমনকি তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি। জানুয়ারি মাসে ইসলামাবাদে তিনি পশ্চিমা কূটনীতিকদের বলেছেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে বহু সেনা খুনির প্রতি সহমর্মী। খুনির সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে বীর হিসেবে অভিনন্দিত করার ছবিসংবলিত একটি খেরো খাতা তিনি কূটনীতিকদের দেখান। কায়ানি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো প্রকাশ্য বিবৃতি সেনাবাহিনীর ঐক্যকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।
সেনাবাহিনীর এই নীরবতার পেছনে আরও অশুভ কিছু ব্যাপার আছে। সেনাবাহিনী ও আইএসআই কয়েক দশকজুড়ে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আফগানিস্তান ও কাশ্মীরে প্রক্সি বাহিনী হিসেবে কাজ করার বিনিময়ে তাদের অস্ত্র সজ্জিত করা ও প্রশিক্ষণদানের কাজটিও করেছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেনাবাহিনী এসব গোষ্ঠীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে, তারা এখন সেনাবাহিনীর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের ওপর জঙ্গিবাদীদের হামলা দিন দিন বেড়ে চলা সত্ত্বেও (গত পাঁচ বছরে তাদের হাতে অন্তত দুই হাজার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন) সেনাবাহিনী একসময়ের অনুগ্রহভাজনদের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যে বিপুল সম্পদ আছে, সেদিক থেকে এটা এক অশুভ লক্ষণ। ্পাকিস্তানের নিয়মিত সেনা পাঁচ লাখ। আরও পাঁচ লাখ রিজার্ভ সেনা। আছে ১১০টি পারমাণবিক অস্ত্র (মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী)। আর আছে দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, যার কর্মীসংখ্যা এক লাখ।
সেনাবাহিনীর দিক থেকে জঙ্গিবাদীদের মোকাবিলার ইচ্ছা ত্যাগ করা যদি সাম্প্রতিক ঘটনা হয়ে থাকে, তবে রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছে বহু আগেই। প্রধানমন্ত্রী গিলানি ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) শীর্ষস্থানীয় নেতা। পিপিপি পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক দল। প্রয়াত নেত্রী বেনজির ভুট্টোর স্বামী হিসেবে জারদারির কাছে জঙ্গিবাদ কোনো অচেনা বস্তু নয়। বরং যে জনগোষ্ঠী তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি, সেটি ঐতিহ্যগতভাবে মোল্লাতন্ত্রবিরোধী, সেনাশাসনের বিরোধী এবং গণমুখী নীতির পক্ষে ভোট দেয়। দুঃখজনকভাবে কিছুসংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ ও অযোগ্য নেতা এসব নীতি পরিত্যাগ করেছেন। আজকের পিপিসি অতীতের ছায়াও নয়।
ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন জারদারি। পাশাপাশি জঙ্গিবাদীদের সামর্থ্যের সংকোচন ও নতুন করারোপের মতো অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি থেকেও পিছু হটেছেন। পাকিস্তানের একটি আধুনিক রাষ্ট্র হয়ে ওঠার জন্য এগুলো সহায়ক হতো। প্রায় সব পালাবদলের সময় সেনাবাহিনী যে বেসামরিক নেতৃত্বকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট থেকেছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজনীতিকেরা প্রতিরোধ কিংবা পদত্যাগের পরিবর্তে শুধুই শোচনীয় আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করে গেছেন।
ফলে রাজপথে চলছে অশুভ ডাবল গেম, শাহবাজের মৃত্যুতে সৃষ্ট বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো লাহোরের মাটিতে লেলিয়ে দিয়েছে লস্কর-ই-তাইয়্যেবাকে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও জাতিসংঘ এই গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করেছে, মনে করা হয় পাকিস্তানও একে নিষিদ্ধ করেছে। লস্কর সমর্থকেরা রেমন্ড ডেভিসের ফাঁসি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এ ধরনের নিষিদ্ধ গোষ্ঠীকে অবাধে তৎ পরতা চালাতে দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে সব জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর কাছে এই বার্তাই পাঠাচ্ছে যে, তারা নির্বিঘ্নে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে। এই জটিল ও আতঙ্কজনক কৌশলের পেছনে কী আছে? এটা আসলে মার্কিন ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যকার বৃহৎ ইঁদুর-বিড়াল খেলারই অংশ। তালেবানের সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যে শান্তি আলোচনাই হোক না কেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যাতে কাবুলে পাকিস্তানপন্থী আফগান সরকার বসানোর পাকিস্তানি বাহিনীর বাসনা পূর্ণ হয়। সেনা নেতৃত্ব দ্বিগুণ নিশ্চিত হতে চায়, আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কোনো আয়োজনে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ভারত যেন সুবিধাজনক অবস্থানে না যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অবিচল রয়েছে। এরই মধ্যে তালেবানের কিছু অংশের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা শুরু করতে আইএসআইকে পাশ কাটিয়ে গেছে। ফলে যে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে বলে বিবেচিত, তাদের রাজপথে নামতে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ জন্য ডেভিসকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। আর এ কারণেই পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্কও এখন গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সেনাবাহিনী ও সরকার প্রতিবছর প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়ে চলেছে।
আইএসআই হয়তো মার্কিনদের নিয়ে খেলছে, কিন্তু তা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদীদের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান এমন এক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে এক সেনাবাহিনী আছে, যার দেশ নেই।
দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অব বুকস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত
ড. আহমেদ রশিদ: পাকিস্তানি সাংবাদিক ও লেখক।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা হয়নি কংগ্রেস ও তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ করা হবে ১৮ এপ্রিল। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হবে ২৪ মার্চ। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
গতকাল শনিবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদের কলকাতায় এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থী তালিকা যৌথভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল

নাইজারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ

নাইজারের অধিবাসীরা গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট দিয়েছেন। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম দফা ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচনটিকে দেশটির বিদায়ী সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল সালু জিবো সমগ্র আফ্রিকার গণতন্ত্রের জন্যই একটি উদাহরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
দেশটির সামরিক জান্তা মামাদু তানজা ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ১৩ মাস পর নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। মামাদু ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নাইজারের ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এরপর তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে পরবর্তী সময়েও ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা চালালে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এর মধ্যদিয়ে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল সালু। তিনি ক্ষমতায় এসে দেশটির সংবিধান পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। সালু সামরিক জান্তার কোনো সদস্যই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিরোধী নেতা মাহমাদু ইসুফু (৫৯) এবং মামাদুর শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী সেইনি ওমারো (৬০)।
নির্বাচনে বিরোধী নেতা ইসুফু বিজয়ী হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম দফা নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ওই সময় ৩৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নেন। তাতে ২৩ শতাংশই পান ইসুফু। এই প্রবীণ নেতা মামাদুর শাসনামলের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন।

‘পোলানস্কির চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা’

চলচ্চিত্র পরিচালক রোমান পোলানস্কি ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সামান্থা জেইমারকে ধর্ষণ করেছিলেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন পোলানস্কি। অবশেষে অস্কারজয়ী এই চলচ্চিত্র পরিচালককে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বললেন জেইমার। তিনি বলেছেন, পোলানস্কি নন, মার্কিন বিচার ব্যবস্থাই তাঁর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।
তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ পোলানস্কিকে ধরার যে কাজ করছে সেটি তাঁর বেশি ক্ষতি করেছে উল্লেখ করে জেইমার বলেন, পোলানস্কির প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। ১৯৭৭ সালে পোলানস্কি তাঁর বন্ধু জ্যাক নিকোলসনের হলিউডের বাসায় তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ওই ঘটনার ৩৪ বছর উপলক্ষে মার্কিন টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎ কারে জেইমার বলেন, ২০০৯ সালের শুরুর দিকে পোলানস্কি তাঁর কাছে এ ব্যাপারে ছোট একটি চিঠি লেখেন, যা ছিল ক্ষমা চাওয়ার মতো। এ বিষয়টি তাঁর ভালো লেগেছে। তবে তাঁর ক্ষোভ বিচারক ও জেলা অ্যাটর্নিদের প্রতি, যাঁরা এ ঘটনাকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য ব্যবহার করছেন।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে হার্ভার্ড

বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। দ্য টাইমস হাইয়ার এডুকেশন-এর এক জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে। বিশ্বের ১৩১টি দেশের ১৩ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষাবিদের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপে বিশ্বের ১০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি দ্বিতীয়, যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে চতুর্থ হয়েছে। স্বনামখ্যাত অপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ এবং জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় অষ্টম স্থানে রয়েছে।

ইয়েমেনে বিক্ষোভকারীদের শিবিরে পুলিশের অভিযানে নিহত ১, আহত শতাধিক

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গতকাল শনিবার ভোরে বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী শিবিরে অভিযান চালিয়েছে সে দেশের পুলিশ। এতে অন্তত একজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অভিযানে পুলিশ লাঠিসোঁটা ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। সরকারবিরোধীরা ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ৩২ বছরের শাসনের অবসানের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই অস্থায়ী শিবিরগুলোতে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎ সকেরা জানিয়েছেন, পুলিশ চিকিৎ সক দলকে শিবিরের মধ্যে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। এক চিকিৎ সক বলেন, ‘মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানকালে তাঁরা গুলির শব্দ শুনেছেন।
এক বিক্ষোভকারী জানান, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের দিকে টিয়ারগ্যাস ও গুলি ছোড়েন। এ ছাড়া কিছু বিক্ষোভকারীকে রাস্তার দিকে ধাওয়া করেন।
তিউনিসিয়া ও মিসরের সফল গণআন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে ইয়েমেনের সরকারবিরোধীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভের মুখে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনী সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে।

আইভরি কোস্টে সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে

আইভরি কোস্টের অব্যাহত সহিংসতায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির প্রধান শহর আবিদজানে সাম্প্রতিক সময়ের সংঘর্ষের পর বিভিন্ন রাস্তায় ইতস্তত পড়ে আছে বহু মানুষের লাশ। এসব লাশের কোনো কোনোটি কুকুরে ছিঁড়ে খাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানায়।
গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলাসেন ওয়াতারা জয়ী হন। আফ্রিকান ইউনিয়ন তাঁর এই বিজয়কে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন লরা বাগবো তাঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি।
ওয়াতারা বর্তমানে নাইজেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর সমর্থকেরা আইভোরি কোস্টের উত্তরাঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্য অঞ্চলগুলো বাগবোর সমর্থকদের দখলে। প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে বাগবোকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। কিন্তু বাগবো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আবিদজানের অন্তত তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। ৭৭ লাখ শরণার্থীর আশ্রয় মিলেছে প্রতিবেশী লাইবেরিয়ায়।

পৃথিবীর অক্ষরেখা ১০ সেন্টিমিটার সরে গেছে

জাপানে গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার সরে গেছে। জাপানের উপকূলীয় অঞ্চল সরেছে প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার।
শুক্রবার জাপানে স্থানীয় সময় বেলা পৌনে তিনটায় রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এটি ১৪০ বছরের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি গতকাল শনিবার জানায়, ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার সরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানায়, ওই ভূমিকম্পের কারণে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার সরে গেছে।
পৃথিবীর অক্ষরেখা সরে যাওয়ায় কয়েক শতক পর এক দিনের দৈর্ঘ্য এক সেকেন্ড কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ভূতত্ত্ববিদ্যার অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মিয়াল।
তবে দিনের দৈর্ঘ্যে এটা খুব সামান্যই প্রভাব ফেলবে।

আইভরি কোস্টে সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে

আইভরি কোস্টের অব্যাহত সহিংসতায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির প্রধান শহর আবিদজানে সাম্প্রতিক সময়ের সংঘর্ষের পর বিভিন্ন রাস্তায় ইতস্তত পড়ে আছে বহু মানুষের লাশ। এসব লাশের কোনো কোনোটি কুকুরে ছিঁড়ে খাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানায়।
গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলাসেন ওয়াতারা জয়ী হন। আফ্রিকান ইউনিয়ন তাঁর এই বিজয়কে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন লরা বাগবো তাঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি।
ওয়াতারা বর্তমানে নাইজেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর সমর্থকেরা আইভোরি কোস্টের উত্তরাঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্য অঞ্চলগুলো বাগবোর সমর্থকদের দখলে। প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে বাগবোকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। কিন্তু বাগবো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আবিদজানের অন্তত তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। ৭৭ লাখ শরণার্থীর আশ্রয় মিলেছে প্রতিবেশী লাইবেরিয়ায়।

বড় চাঁদ ভূমিকম্প সুনামি

কয়েক দিন ধরেই ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে কথাবার্তা চলছিল, শিগগির বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এমন আশঙ্কা করার কারণ নাকি চাঁদ। ১৯ মার্চ পূর্ণিমা, ‘বড় পূর্ণিমা’। বড় পূর্ণিমা বলতে গত ১৮ বছরের মধ্যে চাঁদ পৃথিবীর এত কাছে আসেনি। তাই চাঁদের বিশাল আকর্ষণ পৃথিবীকে বেসামাল করে দিতে পারে।
গত শুক্রবার জাপানে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প-প্রসূত সুনামির পর তিথি-নক্ষত্র ঘেঁটে ওই সব লোক এখন হয়তো জোর গলায় বলতে শুরু করবে, ‘আগেই তো বলেছিলাম।’ যদিও বিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদদের মতে, আমাদের পৃথিবীর ওপর চাঁদের কিছু প্রভাব থাকলেও সে পৃথিবীকে ওলট-পালট করে দেওয়ার মতো শক্তি রাখে না।
দিল্লির নেহরু প্লানেটোরিয়ামের পরিচালক এ রত্নশ্রী বলেন, ‘ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে চাঁদ-সূর্যের অবস্থানের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত ধারণা নেই। ১৯ মার্চ চাঁদ পৃথিবীর বেশ কাছে চলে আসবে এবং সে কারণে নাকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে। কিন্তু কথা হলো, ১৯ মার্চ তো এখনো সাত-আট দিন বাকি। এর আগেই কেন এই ভূমিকম্প বা সুনামি হলো? আমার মতে এ ধরনের সম্পর্ক খোঁজার মানে হয় না।’
রত্নশ্রী জানান, শুক্রবার যখন সুনামি হয় তখন পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ছিল তিন লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৭ কিলোমিটার। ১৯ মার্চ পূর্ণিমার দিন চাঁদ আরও ৪০ হাজার কিলোমিটার কাছে চলে আসবে।

শস্যবিমা চালুর বিষয়ে অগ্রগতি নেই

বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরাও আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও চালু হচ্ছে না শস্যবিমা।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে শস্যবিমার ওপর কৃষকদের জন্য ভর্তুকি বাবদ রাজস্ব খাত থেকে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ অর্থ খরচ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শস্যবিমা চালুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ মন্ত্রণালয় শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সময় পার হয়ে গেছে আট মাসেরও বেশি। অগ্রগতির মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সাধারণ বিমা করপোরেশন (এসবিসি) শুধু একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের উৎ পাদিত শস্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হয়। তাঁদের শস্যমূল্য সহায়তার জন্য আমরা কৃষিবিমা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
সূত্রমতে, চলতি অর্থবছর থেকেই শস্যবিমা চালু করতে চাইছে সরকার। এ জন্য ‘শস্যবিমা প্রকল্প, ২০১১’ নামক একটি প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কৃষকদের প্রিমিয়ামে ভর্তুকি বাবদ ব্যয় হবে। এসবিসির ধারণাপত্রে এই বরাদ্দ থেকেই পাঁচ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সারা দেশে সম্ভব না হলেও সরকার চাইছে শস্যবিমা প্রকল্পটির আওতায় এ বছর অন্তত একটি উপজেলায় শস্যবিমা চালু করা হোক। প্রকল্প এলাকা হিসেবে এ জন্য প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাকে।
আগে পাঁচটি পণ্যকে বিমার আওতায় নিয়ে আসার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত শুধু ধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সব ধরনের ধানের ওপর নয়। আউশ, আমন, বোরো বা ইরি ধান। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সারা দেশেই শস্যবিমা চালু করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শস্যবিমা চালুর অগ্রগতি বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্বল্পসময়ের মধ্যে শস্যবিমা চালুর ওপর তাগিদ দিয়ে শস্যবিমার ওপর সাধারণ বিমা করপোরেশনের তৈরি করা ধারণাপত্রের ওপর আলোচনা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে। অবশ্য বাস্তবায়নের জন্য উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কমিটি, উপজেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি নামে তিনটি কমিটি করা হবে।
ধারণাপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু করা হবে পরীক্ষামূলক ও এক বছর মেয়াদে। প্রকল্প এলাকা হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রোডে আওলিয়া ব্রিজের উভয় পাশে আবাদযোগ্য ৩০০ বিঘা ধানিজমি। আউশ ধানে ছয় শতাংশ, আমনে পাঁচ শতাংশ এবং ইরি বা বোরোতে চার শতাংশ প্রিমিয়ামের সুযোগ রাখা যেতে পারে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির ফসল নষ্ট হলে কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এ ছাড়া বন্যা, খরা, অতি বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, শিলাবৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে দেশের কৃষি সম্পদকে রক্ষা করা।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই বছর ধরে সরকার শস্যবিমা চালুর কথা বলে আসছে।
তবে শস্যবিমা চালুর জন্য ২০০৬ সালেই একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সে সময় ৬৪টি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবিমা চালুর কথা ভাবা হয়েছিল। শস্য ছিল ধান, গম, আলু, পাট ও আখ—এই পাঁচটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎ পাদনের (জিডিপি) হার বাড়া-কমা নির্ভর করে মূলত কৃষির ওপর। অথচ দেশের মোট জাতীয় শস্য উৎ পাদনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ধান এবং ২৩ শতাংশ গম প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়। এতে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে কৃষক পরিবার। ফলে তারা পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক কৃষি উৎ পাদন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। আর তাই শস্যবিমার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে বলে সরকার মনে করে।
জানা গেছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও তালিকাভুক্ত ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নিলেই বাধ্যতামূলকভাবে শস্যবিমার আওতায় আসতে হবে। বাধ্যতামূলক শর্তটি জুড়ে দেওয়ার চিন্তাটি এসেছে কৃষকদেরই স্বার্থে।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ১৯৭৭ সালে প্রথম শস্যবিমা চালু করা হয়েছিল। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের ৫৬ থানায় বিস্তৃত হয় এর আওতা। পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়ানো হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সালে প্রকল্পটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, শস্যবিমার সফল বাস্তবায়নে ভারতের আদলে বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠা করা হবে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স একাডেমি। এ জন্য কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এসবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার চেয়েছিল শস্যবিমা বিষয়ে একটি স্থায়ী প্রকল্প চালু করতে। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছর থেকে শুধু একটি উপজেলা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে এ বছর থেকেই প্রকল্পটি চালু হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
যোগাযোগ করলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই শস্যবিমা চালুর জন্য চেষ্টা চলছে। কার্যকরভাবে চালু করা গেলে কৃষকেরা সত্যিই উপকৃত হবেন এতে।’

যমুনা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

বিনিয়োগকারীদের জন্য যমুনা ব্যাংক ২২ শতাংশ এবং এনসিসি ব্যাংক ৩২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংক দুটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যমুনা ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট আগামী ৬ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১০৬,৬০,১০,০০০ টাকা, শেয়ারপ্রতি আয় ৪.৭৮ টাকা, শেয়ার প্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৮.৭৪ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪.৭৯ টাকা।
এনসিসি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টায় ঢাকার বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৪ মার্চ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৫.৩৩ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২০.৭৯ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.২৭ টাকা।

ট্রানজিট বিধিমালা প্রণয়নে শ্লথগতি

পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট বিধিমালার রূপরেখা তৈরির কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এই বিধিমালার খসড়া রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত ট্রানজিট-সংক্রান্ত কোর গ্রুপ।
জানা গেছে, কোর গ্রুপের একজন সদস্য বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আরেকজন সদস্য অসুস্থ। এ ছাড়া একটি উপকমিটির প্রধানকে সম্প্রতি নিজ দপ্তর থেকে বদলি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গত ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই রূপরেখার খসড়া তৈরির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ট্যারিফ কমিশন কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও তা সম্পন্ন করতে পারেনি।
ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে গত ২ ডিসেম্বর ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানকে সভাপতি করে ট্রানজিট-সংক্রান্ত কোর গ্রুপ গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই গ্রুপকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রানজিট-সংক্রান্ত বিধিমালার রূপরেখা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
গত ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কোর গ্রুপের প্রথম সভায় পাঁচটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
এর মধ্যে রুট নির্ধারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পুনরুদ্ধার—এই দুটি উপকমিটির প্রধান ট্রানজিট বিশেষজ্ঞ রহমত উল্লাহ বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় পুরোপুরি সময় দিতে পারছেন না।
ট্রানজিট মাশুল নির্ধারণসংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (শুল্ক) হুসেইন আহমদকে বদলি করা হয়েছে এনবিআরের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হিসেবে (সদস্য মর্যাদায়)। ফলে এই উপকমিটির নতুন প্রধান শাহ আলম খান যিনি এখন এনবিআরের নতুন সদস্য (শুল্ক)।
এ উপকমিটির একজন সদস্য জানান, সংবেদনশীল ও কৌশলগত এ বিষয়ের উপকমিটির প্রধানকে বদলি করায় কাজের গতি কিছুটা কমেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের ট্রানজিট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণসংক্রান্ত অপর উপকমিটির প্রধান বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এই উপকমিটিও কাজ শেষ করে এনেছে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমদ বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এ উপকমিটির কাজ হলো ট্রানজিট রুট, মাশুল, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট-সংক্রান্ত তথ্যাদি উপকমিটিগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান দেশের বাইরে থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। অথচ চারটি উপকমিটি মোটামুটি নিজ নিজ খসড়া দাঁড় করিয়েছে। অবশ্য তাদের আরও কাজ করতে হবে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কোর গ্রুপের সভাপতি মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, সাদিক আহমেদ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তাঁর সঙ্গে উপকমিটির নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ এবং রেল বিভাগ তাদের প্রতিবেদন পাঠালেও নৌ মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবেদন পাঠায়নি।
দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কেন বিধিমালার খসড়া রূপরেখা তৈরি করা যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে মজিবুর রহমান আরও জানান, ট্রানজিটের মতো একটি গুরত্বপূর্ণ ও বিশ্লেষণমূলক কাজ এত অল্প সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। এটি একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। তার পরও আশা করছি, চলতি মার্চ মাসের মধ্যে রূপরেখা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ট্রানজিট দিতে প্রাথমিকভাবে ছয়টি সড়ক রুট, পাঁচটি রেলরুট এবং দুটি নৌরুট চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব রুটগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনটির উন্নয়ন করা হবে এবং এর জন্য কত বিনিয়োগ দরকার হবে—তা চূড়ান্ত করা হয়নি।
এ ছাড়া ট্রানজিট মাশুল আদায়ের বিষয়ে উপকমিটি একমত পোষণ করেছে। এ ছাড়া পরিবেশ বিপর্যয়, শব্দদূষণ, দুর্ঘটনা, ট্রাফিক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ আর্থসামাজিক বিষয়গুলো আর্থিক অঙ্কে নিরূপণ করে মাশুল আকারে আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এসবের রূপরেখা এখন চূড়ান্ত করছে সংশ্লিষ্ট উপকমিটি।
পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট বিধিমালার রূপরেখা তৈরি করতে চারটি কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ট্রানজিট রুটগুলো চিহ্নিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পুনরুদ্ধার, ট্রানজিট মাশুল এবং ট্রানজিটের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ।
এসব কার্যপরিধি নিয়ে কাজ করতে গঠিত উপকমিটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
ট্রানজিটসংক্রান্ত বিধিমালার রূপরেখার ওপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি জাতীয় সেমিনার করার কথা রয়েছে। সেই সেমিনারের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।

৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনে অনিশ্চয়তা নেই

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডটি গঠনে অনিশ্চয়তার কোনো অবকাশ নেই। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান আজ রোববার প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
ফায়েকুজ্জামান বলেন, ৯ মার্চ আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ফান্ডটি অনুমোদন করা হয়েছে। এই অনুমোদনের বিষয়টি ফান্ডটির কো-স্পন্সরদের ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কো-স্পন্সরদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো হবে। এসইসির অনুমোদনের পর পর্যায়ক্রমে ফান্ডটি গঠন করা হবে এবং বাজারে আসবে।
ফায়েকুজ্জামান আরও বলেন, কো-স্পন্সরদের অনেকেই আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তাঁরা সবাই ফান্ডটি গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং এ বিষয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে বাজারে তারল্য সংকট দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ফান্ডটির স্পন্সর হিসেবে কাজ করছে আইসিবি এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সরকারি চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), বাংলাদেশ জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।
এর আগে ২ মার্চ স্টক ব্রোকারদের সঙ্গে এবং ৬ মার্চ বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইসিবি পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফান্ডটি গঠনের উদ্যোগ নেয়।

মবিল যমুনার সময় বাড়ানোর আবেদন বাতিল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় বাড়ানোর জন্য মবিল যমুনা লিমিটেডের (এমজেএল) আবেদন বাতিল করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ রোববার দুপুরে কমিশনের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণের তারিখ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে এসইসিতে তালিকাভুক্ত হতে হয়। এ নিয়ম অনুযায়ী ২২ মার্চ এ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সময়সীমা শেষ হবে।
ওই সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইপিওর টাকা বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেলে ছয় মাস পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।
কিন্তু লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি বিনিয়োগকারীদের আলাদা করা সম্ভব নয়, যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শর্তটি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আর এ কারণে ডিএসই ও এসইসি এ শর্ত মেনে প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হচ্ছে না।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে এমজেএল আইপিওর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করে।

বদলে গেলেন ডেসকাটরা

অনুশীলনের একেবারে শেষ ভাগে কয়েকজন খেলোয়াড় বসে পড়লেন আইস বাথে। একটা বাক্সে বরফ রাখা। সেটিতে শরীরের অর্ধেক ডুবিয়ে হল্যান্ড খেলোয়াড়েরা নিজেদের ‘শীতল’ করলেন। এটা অনুশীলনেরই অংশ। একজন উঠছেন তো আরেকজন বসছেন।
কাল সূর্য যখন মাথার ওপরে, ডাচরা অনুশীলন গুটিয়ে চললেন হোটেলে। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রওনা হওয়ার আগে সকাল ১০টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা মিরপুরের একাডেমি মাঠে যে ডাচ দলটিকে দেখা গেল, আগের দুপুরের চেয়ে তারা পুরোপুরি আলাদা। আগের দুপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে বাংলাদেশ যখন বোলিংয়ে নেমেছে, পিটার বোরেনের দল হোটেল লবিতে দুই ওভার দেখে বেরিয়ে গেছে ঘুরতে।
সামনে-পেছনে নিরাপত্তারক্ষীর কড়া নজরদারির মধ্যে গন্তব্য ছিল বসুন্ধরা শপিং মল। লালবাগের কেল্লাও ঘুরে এসেছে এক ফাঁকে। রিকশায় চড়ারও স্বাদ মিটিয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম আসা ডাচ দল চারদিকে আঁতিপাতি করে শুধু নতুনত্ব খোঁজে!
পরদিন সকালবেলা সেই দলটিরই এমন কঠোর অনুশীলনের একটা কারণ হতে পারে, আগের রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সংহারমূর্তি তারা দেখেছে। এমনিতে বাংলাদেশকে সমীহ করেই তাদের আগামীকাল নামার কথা। তবে সাকিব আল হাসানের দল যেভাবে ইংল্যান্ডকে হারাল, তাতে বাংলাদেশ ম্যাচটা নিয়ে হোমওয়ার্ক তাদের বাড়াতেই হবে। বাড়িয়ে যে দিয়েছে, সেটা তো দেখা গেল ব্যাট-বলে কালকের ওই হাড়ভাঙা অনুশীলন।
পরশু কেনাকাটা করে হোটেলে ফিরে বাংলাদেশ ম্যাচটা নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন ডেসকাটরা। ম্যাচ নিয়ে তাঁদের কোনো কথাবার্তা শোনার উপায় ছিল না। নিরাপত্তাকর্মীরা ডাচ খেলোয়াড়দের কাছেই ঘেঁষতে দিলেন না সাংবাদিকদের।
অনুশীলন সেশনে দলের আপত্তি না থাকলে এমনিতে কেউ না কেউ কথা বলতে আসেন। এটা আইসিসি স্বীকৃত ব্যাপার। ডাচ মিডিয়ার ম্যানেজারের কথাবার্তায়ও বোঝা গেছে, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারলে তাঁরা ধন্য হন। কিন্তু আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কথা বলে এদিন ডাচ খেলোয়াড়দের দূরেই রাখা হলো। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর এসে বললেন, ‘কথা বলা তো নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি, এমনকি মাঠে ঢোকাও। আপনাদের যে (সাংবাদিক) ঢুকতে দিয়েছি, এই ঢের!’
যা দেখে এক মিডিয়াকর্মী তাঁর টেপ রেকর্ডারে ধরা ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেনের কথা আবার শুনতে লাগলেন। ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকায় নেমে ডাচ অধিনায়ক বলেছেন, বাংলাদেশে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তাঁদের আসা। এবং বাংলাদেশকে হারানোর ক্ষমতা যে ডাচদের আছে, সেই বিশ্বাসটাকে পুঁজি করেই ঢাকায় পা রাখা। এর আগে হল্যান্ড-বাংলাদেশ একমাত্র ম্যাচে কিন্তু বাংলাদেশ হেরেছে। সেই সুখস্মৃতিও সঙ্গে রয়েছে বোরেন ও তাঁর দলের।
প্রথম চার ম্যাচেই হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত জেনে ফেলার পর হল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ ম্যাচটা কিছু পাওয়ার ম্যাচ। আর কোনো সন্দেহ নেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে আলোচিত ডেসকাটই ডাচদের সবচেয়ে বড় তাস। এদিন নেটে তাঁর ছক্কার অনুশীলনটা চোখ কাড়ল আলাদা করে। দুটি বল তো একেবারে পাশের রাস্তায় গিয়ে পড়ল!
সাকিবের দেশে এঁরা এসেছিলেন উপভোগের মন্ত্র জপে। কিন্তু পরশুর বাংলাদেশ ডাচদের পরিশ্রমের মাত্রাটা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ! সেটি আলাদাভাবে প্রবাহিত এই দলের অ্যালেক্সেই কারভেজির মধ্যে, উস্টারশায়ারে সাকিবের টিমমেট তেতে আছেন এখানে কিছু করার জন্য।

স্বাগতিক হয়েও ভিন দেশে

ম্যাচের আগে হোক বা পরে, কুমার সাঙ্গাকারার প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে অবধারিত প্রশ্ন, ‘দেশের মাটির বিশ্বকাপের একটা গ্রুপ ম্যাচ খেলতে হবে ভিন দেশে, এটাকে কীভাবে দেখছেন?’ ভালোভাবে দেখার কারণ নেই। সাঙ্গাকারা যে তা দেখছেনও না, সেটি কখনোই লুকাননি। চোস্ত ইংরেজি বলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। এ জন্যই কিনা, সব প্রশ্নেরই মোটামুটি বড়সড় উত্তর দিতে ভালোবাসেন। এই প্রশ্নের উত্তরেও প্রতিবারই দু-তিন মিনিট ধরে উগরে দিয়েছেন বিস্ময়, হতাশা, আর আক্ষেপের মোড়কে ক্ষোভ।
বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা শেষ গ্রুপ ম্যাচটা খেলবে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, আগামী ১৮ মার্চ। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল হলে কথা ছিল। নিজেরা স্বাগতিক হয়ে গ্রুপ ম্যাচ খেলতে হবে আরেক স্বাগতিক দেশে, ব্যাপারটা মানতেই পারছেন না সাঙ্গাকারা। কিন্তু লঙ্কান দলপতি কি ভুলে গেছেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা ভারত খেলে গেছে বাংলাদেশে! বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিকের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেরই পরম সৌভাগ্য হয়েছে সব ম্যাচ নিজেদের উঠোনে খেলার।
বিভিন্ন সময় কথাবার্তা শুনে আর নানা জায়গায় পড়ে যে ধারণা হয়েছে, তাতে ক্রিকেট ইতিহাস মোটামুটি ভালোই জানা সাঙ্গাকারার। তাহলে তাঁর এটাও জানা উচিত, এমনটা এবারই প্রথম নয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সময় সাঙ্গাকারার বয়স ছিল ১৮, সে সময়ের উঠতি ক্রিকেটার বিশ্বকাপটা নিশ্চয় মনোযোগ দিয়েই দেখেছিলেন। তাহলে মনে থাকার কথা, গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল গিয়েছিল দিল্লিতে। প্রথম নয় এই উদাহরণও। নিজ দেশের (১৯৯২ বিশ্বকাপ) প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিই তো অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল তাসমান সাগরের ওপারে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে!
সাঙ্গাকারার সঙ্গে মাহেলা জয়াবর্ধনের দারুণ সম্পর্ক। দুজনের অনেক কিছুতেই মিল। তবে প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে এই জায়গাটায় একটু দ্বিমত হলো জয়াবর্ধনের। ওই একই প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘ভালো ও খারাপ দুটোই। খারাপ কেন, এটা তো আর ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। ভালো, কারণ ফাইনালটা ওই স্টেডিয়ামেই হবে। ফাইনালের আগে ওই মাঠে খেলতে পারা তো আমাদের জন্য বেশ বড় এক পাওয়াই বলতে হবে!’ নৈরাশ্যবাদীরা নাকি সবকিছুতেই নেতিবাচক কিছু বের করে ফেলে। আর আশাবাদীরা চরম হতাশার মাঝেও আশার কিছু একটা খুঁজে নেন। জয়াবর্ধনে কোন দলে, এটা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না। ফাইনালে উঠতে হলে এখনো কত কাঠখড় পোড়াতে হবে। অথচ ঠিকই দলকে অনুপ্রাণিত করার একটা পথ বের করে ফেলেছেন।
তিলকরত্নে দিলশানের কাছে আবার খারাপের কিছুই নেই, পুরোটাই ভালো। ‘দেশের মাটিতে তো খেলা হলোই, ফাইনালের আগে ওখানকার মাঠ, উইকেট সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেলে মন্দ কী?’—দিলশানের যুক্তি। দিলশান এমনভাবে বললেন যে ফাইনালে এক পা তারা দিয়েই রেখেছেন। আত্মবিশ্বাস ব্যাপারটাই এ রকম।
তবে জয়াবর্ধনে-দিলশান তো বটেই, একটা তথ্য মনে পড়লে ভারতে খেলতে খারাপ লাগার কথা নয় সাঙ্গাকারারও। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে একটা গ্রুপ ম্যাচ ভারতে খেলে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা, পরে জিতে নিয়েছিল বিশ্বকাপও। এবারও একটা গ্রুপ ম্যাচ ভারতে, তবে কি ফিরে আসছে ১৯৯৬!

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ এবার দ. আফ্রিকার

এখনো কি হূৎ স্পন্দন বেড়ে যায় তাঁর? ঘামতে থাকে হাতের তালু? একটু অস্থির অস্থিরও যেন লাগে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ রানে তিনি দাঁড়িয়েছেন এ নিয়ে ১০২ বার। হেলমেটের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া এক জোড়া চোখ যেন কালও একটু অস্থিরই দেখাল। ৯৯-এ দাঁড়িয়ে শচীন টেন্ডুলকার একটি বল খেললেন সতর্কতার চওড়া ব্যাটে। নাগপুরের বিদর্ভ স্টেডিয়ামে তখন বিদীর্ণ চিৎ কার। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হয়ে উঠতে ব্যাকুল দর্শকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখলেন না। পরের বলটাই ডিপ কাভারে ঠেলে দিয়ে এক রান। সেই চিরচেনা ভঙ্গিতে, স্বর্গত পিতাকে উৎ সর্গ করা সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি নম্বর ৯৯!
বিশ্বকাপে সব মিলে এটি তাঁর ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। প্রথমটি করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। স্ট্রোকের বর্ণচ্ছটায় কোনটি এগিয়ে কে জানে। টেন্ডুলকার হয়তো দুটোকেই দেবেন শূন্য নম্বর। একদিনও যে জেতা হলো না তাঁর!
২ বল আর ৩ উইকেট হাতে রেখে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। জয় হলো আসলে ক্রিকেট-রোমাঞ্চের। টি-টোয়েন্টির উত্থানের যুগে ৫০ ওভারের ক্রিকেট তার আবেদন হারিয়ে ফেলছিল যখন, সেই সময় এই বিশ্বকাপ হয়ে গেল ওয়ানডে ক্রিকেটে নবযৌবন ফিরিয়ে দেওয়ার। নাগপুরেও কাল প্রতিটা সেকেন্ডে রোমহর্ষক উত্তেজনা। পুলিশের লাঠিগুঁতো খেয়ে টিকিট পাওয়া সার্থক! স্বাগতিক দর্শকদের জন্য শুধু শেষটা প্রত্যাশামতো হলো না। টেন্ডুলকার যে আবারও মুখ কালো করে ছাড়লেন মাঠ!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেও টেন্ডুলকার সেদিন ম্লান হয়ে গিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ব্যাটের ছায়ায়। ষাটের দুটো ইনিংস খেলা হাশিম আমলা আর জ্যাক ক্যালিসও কাল তাঁকে আড়াল করার ‘পাঁয়তারা’ করছিলেন। অবশ্য টেন্ডুলকারকে সেঞ্চুরি আনন্দটা বিস্বাদ করে দেওয়ার কাজটি ‘সফলভাবে’ করে রেখেছিলেন তাঁর সতীর্থরাই। কাল চীনের মহাপ্রাচীরের গাঁথুনি নিয়ে শুরু করার ভারতের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত সুনামির আঘাত। ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে গেল পাওয়ার প্লেতে রান তোলার তাগিদটা ‘ওশনিক প্লেট’ হয়ে ঠোক্কর খাওয়াতেই। যে ভারতের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ২৬৭; তারাই অলআউট ২৯৬ রানে!
জাপানি সুনামির শোক তখন ভারতীয় গ্যালারিতে। ২৯ রানে শেষ ৯ উইকেটের পতন। শেষের দিক দিয়ে এমন ব্যাটিং-ধস ওয়ানডে ইতিহাসে দেখা গেছে মাত্র চারবার।
অথচ ভারত কাল চার-পাঁচ শ রান তুলে ফেলে কি না—এমন আলোচনাও হচ্ছিল একসময়। সেই আলোচনার উপলক্ষ এনে দিয়েছিল বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে টেন্ডুলকারের উদ্বোধনী জুটিতে আসা ১৪২ রান। ওভারপিছু যে জুটি রান তুলেছে আটেরও ওপরে। শেবাগ যথারীতি তাঁর মতোই ছিলেন। প্রথম বলেই চার মেরেছেন। এবার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই শেবাগ শুরু করলেন চার মেরে!
শেবাগ আর টেন্ডুলকারের জুটিটা একসময় হয়ে গিয়েছিল দ্বৈরথ। শেবাগ তাঁর মতো একচুলও পা না নাড়িয়ে সপাটে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন তো খানিক পরে টেন্ডুলকারও বুঝিয়ে দেন শুদ্ধ ব্যাকরণই এখনো শেষ কথা। শেষ পর্যন্ত ফ্যাফ ডু প্লেসিস শেবাগ-ঝড় থামালেও টেন্ডুলকার-রথ ছুটছিলই। এবার গম্ভীরের সঙ্গে ১২৫ রানের জুটি। ১১১ রান করে টেন্ডুলকার ফিরে এলেন যখন, ভারতের হাতে শেষ ১০ ওভারে রানের বন্যা ছুটিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। সুনামির আঘাত তখনই। যে আঘাত এল ডেল স্টেইনের রূপ ধরে।
কদিন আগে মাইকেল হোল্ডিং তাঁর মন্তব্যে এখনকার বোলারদের মধ্যে কেবল স্টেইনকেই প্রকৃত ফাস্ট বোলারের মর্যাদা দেন। এর পরই এই ম্যাচে স্টেইনের শেবাগ-টেন্ডুলকারের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া। ফিরতি স্পেলে এসে স্টেইনের যেন মনে পড়ে গেল, হোল্ডিংয়ের মতো কিংবদন্তির প্রশংসার মান তো রাখতেই হয়। একে একে তুলে নিলেন ৫ উইকেট। শেষ ১১ বলে ভারত উইকেট হারাল চারটি!
শেষের দিকে বোলারদের এই লড়াইয়ে উজ্জীবিত হয়েই রান তাড়া করতে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান করবেন বলেই নাকি প্রথম চার ম্যাচে মাত্র ২১ রান করেছিলেন ক্যালিস। কাল এসে গিয়েছিল সেই সময়। দ্বিতীয় উইকেটে আমলার সঙ্গে তাঁর ৮৬ রানের জুটি অনেকটা পথ এগিয়ে নিয়েছিল দলকে। আমলার বিদায়ের পর ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গেও গড়েছিলেন ৪৬ রানের জুটি।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেবেন বলেই হয়তো প্রথম চার ম্যাচে ২ উইকেট নিয়েছিলেন হরভজন সিং। কাল তিনিই ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন ভারতকে। আমলা, ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি—তিনজনই তাঁর শিকার। ক্যালিসকে রানআউটে ফেরাতে ভূমিকা রাখল ডিপ থেকে তাঁর দুর্দান্ত থ্রোও। দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকে ম্যাচের কাঁটা সাঁ করে ঘুরে গেল ভারতের দিকে।
ষষ্ঠ উইকেটে আবারও পাল্লাটাকে নিজেদের দিকে টেনে আনলেন ইয়োহান বোথা আর ডু প্লেসিস। বদলি হিসেবে নামা রায়নার দুর্দান্ত ক্যাচ বোথাকে ফিরিয়ে ভাঙল ৩২ রানের জুটি। অথচ আগের দু বলে চার আর ছয় মেরে নাটক জমিয়ে তুলেছিলেন বোথা।
নাটক জমজমাট সমাপ্তির অপেক্ষা নিয়ে গেল শেষ ওভারে। ৬ বলে চাই ১৩ রান। হাতে ৩ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা পারবে? পারবে ভারতের চেয়েও বড় প্রতিপক্ষ হয়ে আসা মানসিক বাধাটাকে জয় করতে? গ্যালারির দিগন্তে যে উঁকি দিচ্ছে সেই অপশব্দ—চোকার্স! দক্ষিণ আফ্রিকা পারল! পারলেন আসলে রবিন পিটারসন। নেহরার করা শেষ ওভারের প্রথম দু বলে চার-ছয় থেকে ১০ রান! তৃতীয় বলে ২। চতুর্থ বলে? চার!
এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালোমতোই টিকিয়ে রাখল ‘মৃত্যুকূপ’ হয়ে ওঠা ‘বি’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে। ‘বি’ গ্রুপ আর কত রোমাঞ্চ উপহার দেবে কে জানে!

ইংল্যান্ড মানেই রোমাঞ্চ

বিশ্বকাপকে রোমাঞ্চে ভরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব যেন একাই কাঁধে তুলে নিয়েছে বিশ্বকাপের চির-অভাগা ইংল্যান্ড।
আসলেই তাই। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ইংল্যান্ড এ পর্যন্ত খেলেছে ৫টি ম্যাচ। হল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে জয়, ভারতের বিপক্ষে ‘টাই’ নাটক, আয়ারল্যান্ড ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে হার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারতে হারতে জয়, সর্বশেষ চট্টগ্রামে বাংলাদেশের কাছে হার—কোনটিতে রোমাঞ্চের কমতি ছিল বলুন?
এক নজরে ইংল্যান্ডের পাঁচ স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ:
হল্যান্ড: ২২ ফেব্রুয়ারি, নাগপুরে হল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। টেন ডেসকাটের সেঞ্চুরিতে হল্যান্ড তোলে ২৯২ রান, এতেই কেঁপে ওঠে ইংলিশ শিবির। শেষ পর্যন্ত ৮ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের বড় জয়ই ইংল্যান্ড পেয়েছে বটে; তবে তার আগে স্ট্রাউসদের পেরোতে হয় কঠিন একটা পথ।
ভারত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, বেঙ্গালুরুর ভারত-ইংল্যান্ডের ‘টাই’ ম্যাচটি তো জায়গা করে নিয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচের তালিকায়। টেন্ডুলকারের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে ভারত উঠে যায় পাহাড়ে—৩৩৮ রান। স্ট্রাউসের ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংসে সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে রং বদলে যায় ম্যাচের। টপাটপ ৩ উইকেট তুলে ভারতকে ম্যাচে ফেরান জহির খান। শেষ ২ ওভারে দরকার ২৯। স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার মধ্যে ব্রেসনান, সোয়ান, আহমেদ শেহজাদরা নিলেন ২৮, ম্যাচ টাই!
আয়ারল্যান্ড: ২ মার্চ বেঙ্গালুরুতেই ইংল্যান্ড তোলে ৩২৭/৮ রান। ১১১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে আয়ারল্যান্ড। কে জানত, ম্যাচের নাটকীয়তার শুরু ওখান থেকেই! বিপর্যয়ের মুখে আইরিশ দেবদূত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। রেকর্ডের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়া অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিই শুধু করলেন না ও’ব্রায়েন, আয়ারল্যান্ডকে এনে দিলেন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান টপকানো রেকর্ড গড়া জয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা: লো-স্কোরিং ম্যাচও যে রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ হতে পারে, ৬ মার্চ চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ তার সর্বশেষ বিজ্ঞাপন। ইংল্যান্ড করে মাত্র ১৭১ রান। বারবার রং বদলানো ম্যাচে স্নায়ুচাপে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৫ রানে অলআউট!
বাংলাদেশ: পরশু চট্টগ্রামে রোমাঞ্চদেবী কী রূপে ধরা দিয়েছিলেন সেই দৃশ্য তো হূদয়েই গাঁথা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকবার রং বদলাল ম্যাচটা! ইংল্যান্ডকে ২২৫ রানে বেঁধে ফেলে একসময় সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা যে ছিলেন রোমাঞ্চ দেখার অপেক্ষায়। ৩ উইকেটে ১৫৫ থেকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৬৯! জিততে চাই আরও ৫৭ রান। সবাই বাংলাদেশের পরাজয় দেখলেও শফিউল আর মাহমুদউল্লাহ লিখলেন অন্য এক কাব্য, যার নাম অবিস্মরণীয় জয়।

এখন অভিনন্দনের ডালি

পেনিনসুলা হোটেলের সামনে ভিড় লেগে থাকল সারা দিনই। কেউ আসছে ফুলের তোড়া নিয়ে, কারও হাতে মিষ্টি। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীই বেশি। দুপুরের দিকে ব্যান্ড বাজাতে বাজাতে একটা বিজয় মিছিলও চলে গেল হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে। আসছেন কোনো সাংসদের প্রতিনিধি কিংবা অতি সাধারণ কোনো ক্রিকেট-ভক্ত। হূদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের জানাতে হবে অভিনন্দন!
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বজয় করে ফেলেনি। তবে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার পরের ম্যাচেই ইংল্যান্ড-বধ অসাধারণ কিছু তো বটেই! টিম হোটেলের সামনের ভিড়টা সে কারণেই। অসাধারণ এই উপহার যাঁরা দিলেন, কালকের দিনটা তাঁরা কাটালেন খুবই সাদামাটাভাবে। ভক্ত-সমর্থকদের অভিনন্দন গ্রহণ করতে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছাড়াও দু-চারজন ক্রিকেটারকে হোটেলের লবিতে আসতে হয়েছে। নইলে ছুটির দিনে হোটেল থেকে বের হওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা খুবই কম। বিকালে দল বেঁধে অনেকের ফয়ে’স লেকে ঘুরতে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগেই সে পরিকল্পনা বাতিল। জয়ের দুই নায়ক মাহমুদউল্লাহ আর শফিউল ইসলাম একটা সংবাদ সম্মেলন করলেন, তাও হোটেলেই।
আয়েশে গা ভাসিয়ে একদমই নিজের মতো করে কাটানো দিনটাতে উড়ে বেড়াল জয়ের রেণু। স্বপ্নের মতো পাওয়া জয়টা যেন কালও বিশ্বাস হচ্ছিল না কারও! সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজের মাঠে পাওয়া এই জয়টাকে উঁচিয়ে ধরলেন আর সব জয়ের ওপরে, ‘এটাই আমাদের সেরা জয়। এ রকম পরিস্থিতিতে ছোট দলের বিপক্ষে আমরা জিতেছি, কিন্তু ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে এটা খুবই কঠিন কাজ।’
সাকিবের মতো তামিমেরও একটা পর্যায়ে বিশ্বাস হয়নি বাংলাদেশ জিতবে। ম্যাচের শেষ দিকে দুজনে কথা বলছিলেন ড্রেসিংরুমের ভেতরে। কে কীভাবে আউট হলেন, ব্যক্তিগত ব্যাপার-স্যাপার—ইত্যাদি বিচ্ছিন্ন বিষয়ে আলোচনা। যে জায়গায় কথা হচ্ছিল, সেখান থেকে টেলিভিশনেও ভালোভাবে খেলা দেখা যাচ্ছিল না। তবে বাইরে থেকে দর্শকদের উল্লাস শুনে অনুমান করতে পারছিলেন কিছু একটা হচ্ছে। তামিম-সাকিবের গোপন কুসংস্কার নড়ে উঠল তখনই। কথা বন্ধ করে দিলে বা ড্রেসিংরুমের বারান্দায় গেলে যদি খেলা উল্টে যায়! যে যেভাবে ছিলেন, সেভাবেই কথা চালিয়ে গেলেন, কথার বিষয়ও বদলাল না। একটু পর কার কাছ থেকে যেন শুনলেন জিততে হলে আর মাত্র ৫ রান দরকার। তবু কেউ নড়লেন না। তামিম শুধু স্যান্ডেলে একটা পা গলিয়ে দিলেন, যেন ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে মাঠে দৌড়ে যেতে পারেন। তবে স্যান্ডেলে পা-টা এতই আলতো করে গলালেন, যেন স্যান্ডেলও টের না পায়! কুসংস্কার বলে, ম্যাচ উল্টে যাওয়ার শঙ্কা লুকিয়ে সেখানেও।
শফিউলের ২৪ বলে অপরাজিত ২৪ রানের দারুণ ভূমিকা বাংলাদেশের জয়ে। তামিম তরুণ এই পেসারকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করালেন স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের সামনে, ‘ও যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা শুধু লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের জন্যই নয়, দলের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের জন্যও একটা উদাহরণ। শফিউলের ব্যাটিং থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’
তবে কোচ জেমি সিডন্স শফিউলের ব্যাটিংয়ে মোটেও বিস্মিত নন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্টে গত বছর একটা ফিফটি করেছে ও। স্লগ ওভারে যে শফিউল এ রকম ব্যাট করতে পারে, সেটা আমি জানি।’ কোচ বেশি খুশি হয়েছেন বরং মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখে, ‘রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। অনেক নিয়ন্ত্রিত আর পরিণত মনে হয়েছে তাকে।’ সিডন্সের কাছে ইংল্যান্ডের ২২৫ রান অতিক্রমযোগ্য মনে হলেও সহজ মনে হয়নি কখনোই। ১৬৯ রানে ৮ উইকেট পড়ার পর তো মনে হয়েছে অসম্ভব, ‘হাতে মাত্র ২ উইকেট রেখে ৬০ রান—আমার মনে হয় বাংলাদেশের কেউই বিশ্বাস করেনি, এটা সম্ভব। শফিউল-রিয়াদের কারণেই শেষ পর্যন্ত হলো।’
আর হলো বলেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনালাপের শুরুতে ‘কেমন আছেন’ প্রশ্নে বলতে পারলেন, ‘ভালো আছি...এক সপ্তাহ আগের চেয়ে অনেক ভালো।’