Wednesday, September 23, 2026

ফুটন্ত দুধের হাঁড়িতে পড়ে গেল শিশু, অতঃপর...

হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ১৭ মাস বয়সী এক শিশু। অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার বুক্কারায়সমুদ্রম গ্রামে অবস্থিত একটি সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়ে (আম্বেদকর গুরুকুল স্কুল) ফুটন্ত দুধের হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে শিশুটি।

সিসি ক্যামেরারে ফুটেজে ধরা পড়া মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ের রান্নাঘরে ছিল। শিশুটির মা কৃষ্ণাবেণী একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে ওই স্কুলে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ছাত্রছাত্রীদের জন্য রান্না করা গরম দুধ একটি বড় হাঁড়িতে করে রান্নাঘরে রাখা ছিল ঠান্ডা করার জন্য। সেটি রাখা হয় একটি সিলিং ফ্যানের নিচে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কৃষ্ণাবেণী ও তার মেয়ে আক্ষিতা রান্নাঘরে প্রবেশ করার পর কিছু সময়ের জন্য বাইরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট্ট আক্ষিতা একা রান্নাঘরে ফিরে আসে, একটি বিড়ালের পেছনে হাঁটতে হাঁটতে।

বিড়ালটি দুধের হাঁড়ির পাশে পৌঁছলে আক্ষিতাও সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ তার পা পিছলে যায় এবং সে সরাসরি ফুটন্ত দুধে ভর্তি হাঁড়ির মধ্যে পড়ে যায়। এতে তার শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়।

আক্ষিতার চিৎকার শুনে মা দ্রুত ছুটে এসে তাকে হাঁড়ি থেকে তুলে নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে অনন্তপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কুর্নুল সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আক্ষিতার।

এই ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে স্থানীয়দের মধ্যে। শিশু সুরক্ষার এমন ভয়াবহ ব্যর্থতা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

সূত্র : এনডিটিভি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের সক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল: মাখোঁ

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুরুতে সম্ভবত ঠিকভাবে বোঝা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেছেন, এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের ক্ষমতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এখন প্রণালিটি খুলে দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এবিসি নিউজের ডেভিড মুইরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাখোঁ এসব কথা বলেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

মাখোঁ বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বুঝতে পারে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্ভবত শুরুতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। এখন দ্রুত এর সমাধান করা প্রয়োজন।’

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ফ্রান্স সামরিক সহায়তা দেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মাখোঁ জানান, তিনি কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না। তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সুরক্ষায় ফ্রান্স আরও সক্রিয় হতে প্রস্তুত।

এবিসি নিউজের ডেভিড মুইরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইমানুয়েল মাখোঁ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মাখোঁ। তিনি বলেন, বোমা হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সরকার পরিবর্তন করা কার্যকর পদ্ধতি নয়। অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইউরোপীয় মিত্ররা যথেষ্ট সহায়তা করছে না। এর জবাবে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান করে এবং নিজেদের ভালো মিত্র হিসেবে মনে করে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন মাখোঁ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউরোপের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব নেই- এমন বক্তব্য তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানান।

মাখোঁ বলেন, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার মতে, ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পেয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি ও অন্য কয়েকজন নেতা কাজ করেছেন বলেও জানান মাখোঁ। তার মতে, তারা ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয় মাখোঁকে। ওই মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার বড় একটি অংশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখানো হয়েছিল।

মাখোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে একাধিকবার বলেছেন যে বিষয়টি অদ্ভুত। তার মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। তাই নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা তৈরি না করাই উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন আশঙ্কাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন মাখোঁ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা ও নতুন নিয়মকানুন তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

ধারাবাহিকতা রক্ষায় নীহা

ছোট পর্দার বর্তমান সময়ের প্রিয় মুখ নাজনীন নাহার নীহা। বেশ অল্প সময়েই নাটকে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অল্পসংখ্যক নাটকে অভিনয় করলেও সেগুলোর মাধ্যমেই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। সৌন্দর্য, গ্ল্যামার, অভিব্যক্তি, অভিনয়, দর্শকপ্রিয়তা- সবমিলিয়ে নির্মাতাদের কাছেও অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে পরিণত হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে চলতি বছরেই তার কাজগুলো দর্শক বেশি পছন্দ করেছেন। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব’র বিপরীতে ‘মন দুয়ারী’, ‘প্রিয় প্রজাপতি’, ‘মেঘবালিকা’, ‘ঘ্রাণ’, ফারহান আহমেদ জোভানের বিপরীতে ‘বেঈমান’, ‘সহযাত্রী’, ‘মায়াবতী’, ‘মিথ্যে প্রেমের গল্প’ তৌসিফ মাহবুবের বিপরীতে ‘চুপকথা’ ও ইয়াশ রোহানের বিপরীতে ‘উইশকার্ড’ নাটকগুলোর মাধ্যমে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন নীহা। শুধু তাই নয়, নাটকগুলোর মাধ্যমে অনেকেরই প্রিয় অভিনেত্রীর তালিকায় উঠে এসেছেন তিনি। এদিকে, অভিনয়ের এ পর্যায়ে এসে বেশ বুঝে শুনেই পথ চলছেন নীহা। সব ধরনের নাটকে অভিনয় করতে ইচ্ছুক নন তিনি। ভালো ও বড় আয়োজনের নাটকেই এখন পর্যন্ত দেখা গেছে নীহাকে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চান তিনি। নীহা বলেন, অল্প সময়ে যে ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের কাছে সেটা অমূল্য। এর মাধ্যমে আমার দায়িত্বও অনেক বেড়েছে বলে মনে করি। সেভাবেই নাটক নির্বাচন করছি। একটু বুঝে শুনে এগোচ্ছি। এরইমধ্যে নতুন বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছি। এগুলো সামনে মুক্তি পেলে দর্শকদের আরও ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।
mzamin