Thursday, July 8, 2010

এ কোন জাহাঙ্গীরনগর by ইসরাত জাহান

জাহাঙ্গীরনগরে এসব কী হচ্ছে? সকালে পত্রিকা খুলেই মনে হলো, এটা কি কোনো স্বাধীন, সভ্য দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ?
বিগত বিএনপি সরকারের অরাজকতায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দেশবাসী অনেক আশা করে ভোট দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে। ভোটের আগে যেসব আশ্বাস মানুষকে দিয়েছিল তার কিছুই তারা এ পর্যন্ত পূরণ করতে পারেনি। এটা অবশ্য একটু বুঝদার মানুষ মাত্রই জানেন, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যা-ই বলেন, সবই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তার পরও আশাই তো এ দেশের হতভাগা মানুষের বাঁচার একমাত্র ভেলা। তাই বারবারই ওই ভেলায় চড়ে তারা। আর প্রতিবারই নতুন সরকার তাদের স্বেচ্ছাচারের জোয়ারে ভরাডুবি ঘটায়।
দেশবাসী হয়তো সরকারগুলোর নৈরাজ্যে এরই মধ্যে পাথর হয়ে গেছে। তা না হলে কীভাবে এসব নৈরাজ্য সয়ে তারা বেঁচে আছে? কবেই তো এসব সরকারকে ছুড়ে ফেলার কথা তাদের। তার পরও চলছে দিন। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ যে বিভীষিকার জন্ম দিয়েছে, তা পাথর বুকে বেঁধে রাখা দেশবাসীর বুকেও ধাক্কা দিয়েছে নিঃসন্দেহে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত। ভিসি লাঞ্ছিত। একজন প্রক্টরও আহত। সংঘর্ষে মারামারি, লাঠালাঠি, গোলাগুলি, কোপাকুপির সঙ্গে এবারের নৃশংসতায় আরেকটু নতুনত্ব যোগ করেছে ছাত্রলীগ। আত্মরক্ষার জন্য ছাদে আশ্রয় নেওয়া প্রতিপক্ষকে ধরে ধরে চারতলার ওপর থেকে ছুড়ে ফেলেছে নিচে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাওয়া ছবিতে দেখা গেল, যেখানে দেহগুলো নিথর পড়ে আছে, তার পাশেই কাঁটাতারের বেড়া। কোনো ছবিতে আবার দেখা গেল, ওপর থেকে ছুড়ে ফেলেই ক্ষান্ত হয়নি রোষ, ওই নিথর দেহগুলোকেই আরও পেটানো হচ্ছে প্রতিশোধের নেশায়। হতাহতের সংখ্যা এত বেশি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে জায়গা হয়নি তাঁদের। বাসে করে কোনোমতে গুরুতর আহত ছাত্রলীগের এসব কর্মীকে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হচ্ছে। আল-বেরুনী হলের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা।
জাহাঙ্গীরনগরে ক্ষমতা দখল নিয়ে ছাত্রলীগের এই কামড়াকামড়ি নতুন কিছু নয়। এবারও আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর সেখানকার কমিটি স্থগিত করা হয়। কিন্তু বছরখানেক পরই গত ১৯ মে এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়। দেড় মাসের মাথায় ক্ষমতা দখলের লড়াইটা হলো কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম গ্রুপের মধ্যে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সারা দেশেই ছাত্রলীগ যখন বেপরোয়া এবং খোদ শেখ হাসিনাও নাকি দলের এ অঙ্গসংগঠনটির ওপর নাখোশ, তখন কার স্বার্থে রক্তক্ষয়ী একটা সংঘর্ষের এক বছরের মধ্যে আবার এ রকম একটি পরিস্থিতি তৈরির জন্য নতুন কমিটি করা হলো? ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করার পর কি বিশ্ববিদ্যালয়টি অচল হয়ে পড়েছিল? না এখানকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন?
প্রকৃত সত্য হচ্ছে, জাহাঙ্গীরনগরে ক্ষমতা মানেই হচ্ছে টাকার ঝনঝনানি। এখানে যে দল ক্ষমতায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাবতীয় ঠিকাদারি তো বটেই, আশপাশের সব ঠিকাদারির নিয়ন্ত্রণও থাকে তাদের হাতে। ঠিকাদারি ছাড়াও সংলগ্ন এলাকায় যত অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলে তা এক বা দুই নম্বরি যা-ই হোক তার বড় একটি ভাগ পায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতায় থাকা ছাত্রসংগঠন। নীতি-নৈতিকতার চর্চাহীন আওয়ামী লীগ বা বিএনপির ছাত্রসংগঠনগুলোর এ অর্থলিপ্সাই সম্বল!
বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অতীতে দেখা গেছে, বাম সংগঠনগুলো যখন শক্তিশালী ভূমিকায় থাকে তখনো দেশের মূল রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির ছাত্রসংগঠন এখানকার ক্ষমতায় থাকে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাম সংগঠনগুলো সোচ্চার থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নীরব সমর্থন থাকে বামদের প্রতি। ফলে সাধারণের স্বার্থহানিকর কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে ক্ষমতাসীনদের একটু হলেও ভাবতে হয়। অতীত অভিজ্ঞতা এও বলে, ক্ষমতাসীনেরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে বামদের সঙ্গে মিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসছাড়া পর্যন্ত করে ছাড়ে। ক্ষমতাসীনেরা হাজারও অস্ত্রে সজ্জিত হয়েও তখন সংগঠিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারে না।
এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশব্যাপী ছাত্রলীগের নির্লজ্জ কামড়াকামড়ি থামাতে খোদ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ব্যর্থ। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তো কোন ছাড়। এসব বেপরোয়া দখলদারি থেকে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায়, সবুজ ক্যাম্পাসটিকে রক্তে লাল নয়, তারুণ্যে সবুজই রাখতে দরকার নীতি-আদর্শের চর্চাকারী ছাত্রসংগঠনের বলিষ্ঠ কার্যক্রম। আর তাদের পাশে প্রয়োজন অধিকার-সচেতন, সংগ্রামী সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোবল।
ইসরাত জাহান: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ

ওরা শুধু রড ব্যবহারে ক্ষান্ত হয়নি, গোলাগুলি করেছে। রক্তাক্ত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। নৃশংসতা সীমা ছাড়িয়ে গেছে যখন হামলাকারীরা প্রতিপক্ষ নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে আধমরা করে তিন ও চারতলা থেকে বাইরে ছুড়ে ফেলেছে। স্বয়ং উপাচার্যের উপস্থিতিতেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে গেছে। সহকারী প্রক্টরও রডের আঘাতে আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কগ্রস্ত। শিক্ষাজীবন বিপন্ন।
ছাত্রলীগের ছেলেরা এ দুঃসাহস পায় কোথায়? সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা যতই দাবি করুন যে ছাত্রলীগ আর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন নয়, বাস্তব হলো, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগই ছাত্রলীগের খুঁটির জোর। না হলে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে গোলাগুলি চলে কীভাবে?
প্রভাব বিস্তারের জন্য নাকি এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। কারণ প্রভাব থাকলে নির্বিঘ্নে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া যায়। এদের প্রতি কারও কোনো অনুকম্পা থাকা উচিত নয়। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট অভিযুক্ত ১৭ জন ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ১৩ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। দুই প্রতিপক্ষের মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, নিজ উদ্যোগে কিছু করেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটির অভিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? কেন এসব নেতাসহ হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সবাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না? এখানে কি কোনো অলিখিত বাধা কাজ করছে? ছাত্রলীগের নাম করে যে যা-ই করুক না কেন, তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ নাকি দিয়েছেন বলে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা অচল?
ছাত্রলীগের আত্মঘাতী হানাহানি নতুন নয়। বছর দেড়েক আগেও তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জের ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের কার্যক্রম এক মাসের জন্য বন্ধ এবং কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯ মে কমিটি পুনর্গঠনের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। সুতরাং পুরোনো ওষুধে কাজ হবে না। সংঘর্ষের উৎসে হাত দিতে হবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল করে প্রভাবশালী নেতাদের রাতারাতি অগাধ সম্পদের মালিক হয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে না পারলে শিক্ষাঙ্গনে রক্তাক্ত হানাহানি থামানো যাবে না।
এখন সরকারকেই ঠিক করতে হবে, তারা ছাত্রলীগ নামধারী এসব নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চায় কি না। যদি তারা বন্ধ করতে চায়, শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষ বন্ধ করা সহজ হবে। সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে কতটা প্রস্তুত, সেটাই প্রশ্ন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে টরন্টো এক ঘণ্টা অন্ধকারে

কানাডার টরন্টো গত সোমবার এক ঘণ্টার বেশি সময় অন্ধকারে ডুবে ছিল।
টরন্টোর একটি ট্রান্সফরমার স্টেশনে স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন লেগে গোটা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
এতে নগরবাসীর জীবনযাত্রা দৃশ্যত থমকে যায়। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হয়। পাতালপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে শুরু করে। ২০০৩ সালের পর কানাডায় এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল।

তুরস্কে সংঘর্ষে তিন সেনা ও ৯ বিদ্রোহী নিহত

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে গত সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রচণ্ড সংঘর্ষে তিন সেনা ও নয় বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। কুর্দি বিদ্রোহীরা একটি সেনা চৌকিতে হামলা চালালে এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর এএফপির।
কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি দল ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত ওই সেনা চৌকিতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হন।
অপর ঘটনায় তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে সোমবার রাতে বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলায় পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা আনাতোলিয়া এ কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিকেকে তুরস্কের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনা সদস্যদের ওপর প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে।
পিকেকে আঙ্কারার তালিকাভুক্ত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তুর্কির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৮৪ সালে পিকেকে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়।

পরমাণু আলোচনায় ফিরছে ইরান

ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণু মধ্যস্ততাকারী সাঈদ জালিলি বলেছেন, তেহরান আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের ছয়টি শক্তিধর দেশের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে পারে। তবে ওই আলোচনা শুরুর আগে তাদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টোনকে লেখা এক চিঠিতে জালিলি তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, আলোচনা শুরুর আগে ইরানকে হুমকি-ধমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে, যুক্তিসংগতভাবে আলোচনা করতে হবে এবং ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির (ইসরায়েল) পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে ছয় জাতির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি পরমাণু আলোচনা শুরুর জন্য তেহরানের প্রতি অনুরোধ জানায়। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আলোচনা দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন। এদিকে ব্রিটেন, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের যাত্রীবাহী বিমানগুলোকে পুনরায় জ্বালানি ভরার সুযোগ দিচ্ছে না বলে দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যে দাবি করেছিলেন, ইরান সরকার গতকাল মঙ্গলবার তার সত্যতা অস্বীকার করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা র‌্যামিন মেহমানপারাস্ত সাংবাদিকদের জানান, ওই তথ্যটি ঠিক নয়। আমাদের বিমানের পুনরায় জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত আছে।
গত সোমবার ইরানিয়ান এয়ারলাইনস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহদি আলিইয়ারি বলেছিলেন, গত সপ্তাহে সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব পাসের পর থেকে ব্রিটেন, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিমানগুলোকে যাত্রাপথে জ্বালানি তেল ভরতে দিতে অস্বীকার করছে। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশ তিনটি এর প্রতিবাদ জানায়। তাঁর দাবি ঠিক নয় বলেও দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়। এর পরদিনই ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খোলাসা করা হলো।

উদ্বেগ হূদরোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়

ব্রিটেনের এক দল গবেষক বলেছেন, যেসব হূদরোগী উদ্বেগে ভোগেন, তাদের ‘স্ট্রোক’, ‘হার্ট অ্যাটাক’ ও ‘হার্ট ফেইলিয়র’জনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী আর্কাইভস্ অব জেনারেল সাইকিয়াট্রির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেদারল্যান্ডের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ বিষয়ে সহস্রাধিক হূদরোগীর ওপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এতে তাঁরা দেখেছেন, সাধারণ হূদরোগীর চেয়ে উদ্বেগে ভোগেন, এমন হূদরোগীর ৭৪ শতাংশেরই ঝুঁকি থাকে ‘স্ট্রোক’, ‘হার্ট অ্যাটাক’ ও ‘হার্ট ফেইলিয়র’জনিত মৃত্যুর। তবে করোনারি হূদরোগের সঙ্গে উদ্বিগ্নতার যোগসূত্রতা থাকার কারণ এখনো জানা যায়নি। গবেষকেরা বলেছেন, এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
সাধারণ নিয়ন্ত্রণহীন উদ্বেগে ভুগছেন, এমন ১০৬ জন রোগীর মধ্যে হূদযন্ত্রসংক্রান্ত ঝুঁকির হার দেখা গেছে ৯.৬ শতাংশের। অন্যদিকে উদ্বেগে ভোগেন না, এমন ৯০৯ জন রোগীর মধ্যে ওই ঝুঁকির হার ছিল মাত্র ৬.৬ শতাংশের। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, হূদরোগে ভুগছেন এমন রোগীর ২৪ থেকে ৩১ শতাংশ উদ্বেগেও ভোগেন।

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে।
সর্বশেষ গত মার্চে বারাক ওবামা ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হয়। গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তুষ্টির কারণে বৈঠক হূদ্যতাপূর্ণ ছিল না। প্রথা অনুযায়ী উভয় নেতা ছবির জন্য পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেননি।
এবারের বৈঠক আগের চেয়ে উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করার কথা। এ ছাড়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ডান শ্যাপিরো বলেছেন, আগের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থগিত শান্তি আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করতে পারেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করতে আমি প্রস্তুত। যেকোনো দিন যেকোনো স্থানে তাঁর সঙ্গে আমি আলোচনায় বসতে চাই।’
২০০৮ সালে গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা বন্ধ রয়েছে। ২২ দিনের ওই হামলায় এক হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

মাওবাদীদের ৪৮ ঘণ্টার ভারত বন্ধ্ শুরু আজ

ভারতের মাওবাদী অধ্যুষিত অন্ধ্রপ্রদেশের শীর্ষ মাওবাদী নেতা চেরিপুরি রাজকুমার ওরফে আজাদকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভারত বনেধর ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। এদিকে দার্জিলিংকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে ৪৪ দিনের পাহাড় বনেধর ডাক দিয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন আজাদ। তবে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতা কিষেণজি বলেছেন, আজাদ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হননি। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজাদ হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ পালন করবেন।
আজাদ চার দশক ধরে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ৩২০টি মামলা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার আজাদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১২ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
ভারত বন্ধেক ঘিরে মাওবাদীরা যাতে কোথায়ও নাশকতা চালাতে না পারে, সেজন্য অন্ধ্রপ্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে মাওবাদী সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ১৪ জুলাই রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম মাওবাদী অধ্যুষিত সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এক বৈঠক ডেকেছেন। রাজ্যগুলো হলো—পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ওডিশা ও মহারাষ্ট্র। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং উপস্থিত থাকবেন। তবে ঝাড়খন্ড রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন বলবৎ থাকায় সেখান থেকে এই বৈঠকে যোগ দেবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের মহানির্দেশক।
দার্জিলিংয়ে ৪৪ দিনের পাহাড় বনেধর ডাক: দার্জিলিংকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে ৪৪ দিনের পাহাড় বনেধর ডাক দিয়েছেন জিএনএলএফ থেকে বহিষ্কৃত এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং।
পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংকে পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই আশির দশকে। আর এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফোর্সের (জিএনএলএফ) নেতা সুভাষ ঘিসিং। ১৯৮৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জিএনএলএফ পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে একটানা ৪০ দিন বন্ধ্ পালন করেছিল পাহাড়ে।
এবার সেই স্মৃতি ধরে রাখতে আবার ৪৪ দিনের পাহাড় বনেধর ডাক দিলেন জিএনএলএফ থেকে বহিষ্কৃত নেতা বিমল গুরুং। বিমল গুরুং অবশ্য জিএনএলএফ ছেড়ে এসে গড়ে তুলেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নামের পৃথক সংগঠন। জনমুক্তি মোর্চা একই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিন দফায় ৪৪ দিনের দার্জিলিং বনেধর ডাক দিয়েছে। গত রোববার দার্জিলিং শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চুংথং শালবাড়ি কমিউনিটি হলে আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং। তিনি জানান, ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার দার্জিলিং সমস্যার সমাধানের পথে না গেলে ২৫ জুলাই বন্ধ্ পালিত হবে ২৪ ঘণ্টা বা একদিনের। এরপর ২৮ জুলাই পালিত হবে ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিনের বন্ধ্। তারপর ২ আগস্ট থেকে এই বন্ধ্ চলবে একটানা ৪০ দিন।

গাজায় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

হামাসনিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকায় নির্মাণসামগ্রী রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। গত সোমবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল সরকার এ কথা জানায়।
গাজায় যেসব নির্মাণসামগ্রী ঢুকতে দেওয়া হবে, এর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের যেসব প্রকল্পের কাজ চলছে, কেবল সেগুলোর জন্য নির্মাণসামগ্রী ঢুকতে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে যেসব পণ্য গাজায় ঢুকতে দেওয়া হবে না, এর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নির্মাণ ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যায় এমন সব পণ্য আছে এই তালিকায়। এর মধ্যে আছে পাথর ফুটো করা যন্ত্র, নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়া গর্ত থেকে পানি নিষ্কাশনের যন্ত্র, নির্দিষ্ট সার, বল-বেয়ারিং, ডুবুরিদের সরঞ্জাম, ইঞ্জিনবিহীন বিমান, আতশবাজি ইত্যাদি। ইসরায়েলের আশঙ্কা, এসব সরঞ্জাম হামাস বাঙ্কার ও সুড়ঙ্গ তৈরিসহ অন্যান্য সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ২২ দিনের সামরিক অভিযানের পর থেকে গাজা অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল।

শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য-সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ

শ্রীলঙ্কার সরকার দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপের বাজারে তাদের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য-সুবিধা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
১৫ আগস্টের পর থেকে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। শ্রীলঙ্কা মানবাধিকার-সংক্রান্ত কনভেনশন বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানালে ইইউ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। তবে ইউরোপীয় জোটটি বলেছে, শ্রীলঙ্কার জন্য আলোচনার পথ খোলা থাকবে।
‘জিএসপি প্লাস’ নামে এ ব্যবস্থার আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গীকার মেনে চলার বিনিময়ে ১৬টি উন্নয়নশীল দেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথারিন অ্যাশটন বলেন, বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইইউর প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রীলঙ্কা বিশ্বস্ততা দেখায়নি।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেছেন, ইইউ না দিতে চাইলে তিনি সুবিধা নেবেন না। সরকারি কর্মকর্তারা একে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইইউর এ পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কার সরকারকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে না পারলেও দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পসহ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শ্রীলঙ্কায় গত বছর তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শেষদিকে সেনাবাহিনী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে বারবার অভিযোগ উঠেছে।
কলম্বোয় বিক্ষোভ: এদিকে শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে প্রাক-তদন্ত প্যানেল গঠনের প্রতিবাদে কলম্বোর জাতিসংঘ অফিসকে ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ হয়েছে। গৃহায়ণমন্ত্রী বিমল বীরাবংশা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।

আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন নীতি

অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড গতকাল মঙ্গলবার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের পূর্র তিমুরে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তাঁর সরকার। এ ব্যাপারে পূর্ব তিমুরের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর তিন মাস ধরে বিদ্যমান অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। গিলার্ড বলেন, শিগগিরই এই সাময়িক স্থিতাবস্থা তুলে নেওয়া হবে। তবে আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে শিগগির এই স্থিতাবস্থা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান। বিষয়টি তাঁর সরকার বিবেচনা করবে। এতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।
গিলার্ড বলেন, পূর্ব তিমুর হবে আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্র। আশ্রয়প্রার্থীরা প্রথমে সেখানে গেলে মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, মানবপাচারকারীদের কাছে বিক্রি করার মতো কোনো পণ্য নেই, তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থার মেয়াদ তিন মাস বাড়ল

মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ সত্ত্বেও থাই সরকার দেশে জারি করা জরুরি অবস্থার মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ১৯টি প্রদেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ফের বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অপর পাঁচটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছে সরকার।
আগাম নির্বাচনের দাবিতে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন দমনে গত এপ্রিলে রাজধানী ব্যাংককসহ আরও ২৪টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দুই মাসের সহিংস আন্দোলনে ৯০ জন নিহত ও প্রায় দুই হাজার লোক আহত হয়।
সরকারের মুখপাত্র সুপাচাই জয়সমুত বলেছেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে পাঁচটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বাকি ১৯টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে।’
এ আইন অনুযায়ী পাঁচজনের বেশি লোকের যেকোনো সমাবেশ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে কাউকে গ্রেপ্তার করে ৩০ দিন আটকে রাখার বিধান রয়েছে।
ব্যাংককে ২৫ জুলাইয়ের একটি উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এপ্রিলের বিক্ষোভের ঘটনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিরোধী দল পুয়ে থাই পার্টির একজন নেতা এই উপনির্বাচনে লড়ছেন। তিনি নির্বাচনের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গত সোমবার থাই সরকারকে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে তাঁরা বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় উদ্ধার করা কিছু অস্ত্রের এখনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সরকারের জরুরি আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা নেই।

ভারতে একদিনের বনেধ ক্ষতি ১৩ হাজার কোটি রুপি

ভারতে বিরোধী দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা বনেধ ১৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। ভারতের ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এ তথ্য জানায়। গত সোমবার ভারতে বন্ধ পালিত হয়।
ব্যবসায়ী সংগঠনটি জানায়, বনেধর দিন শিল্পকারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) এক বিবৃতিতে জানায়, এক দিনের বনেধ দেশের কিছু কিছু এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। যেকোনো বনেধ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শ্রমজীবী মানুষ। আর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া বনেধ পরিবহন খাতের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
গত সোমবারের বনেধ সরকারি সম্পদের ওপরও হামলা চালানো হয়। মুম্বাইয়ে শত শত বাস ভাঙচুর করেন শিবসেনার সদস্যরা। বেশ কয়েকটি বাসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। বনেধর দিন মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ৫২ শতাংশ কমে যায়। প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার কোটি রুপির লেনদেন হলেও ওই দিন তা দুই হাজার ৮৫৭ কোটি রুপিতে নেমে যায়। দ্য ন্যাশনাল স্টক একচেঞ্জে লেনদেন কমে ৩৫ শতাংশ, যার পরিমাণ সাত হাজার ৭৬৫ কোটি রুপি।
বিরোধী দলগুলো বন্ধ সফল হয়েছে বলে দাবি করলেও এতে হতাশ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা।

পাকিস্তানকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান আফগানিস্তানের

আফগানিস্তানে হামলা পরিচালনাকারী পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা র‌্যাংগিন দাদফার স্পান্তা গত সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান।
দাদফার স্পান্তা জানান, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তালেবান যোদ্ধাদের আফগানিস্তানে হামলা পরিচালনা করার জন্য তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আফগান কর্তৃপক্ষের হাতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তা ইসলামাবাদের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে।
দাদফার স্পান্তা আরও জানান, এটা এখন আর গোপন কোনো খবর নয় যে সন্ত্রাসীদের আস্তানা রয়েছে পাকিস্তানে। সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ শিবিরও আছে। তারা আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে আবার পাকিস্তানে অবস্থিত ঘাঁটিতে ফিরে যায়।
স্পান্তা এও জানান, সীমান্তে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দমনে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, হয়তো আগামী মাসে কাবুলে অথবা ইসলামাবাদে আমরা এ ব্যাপারে একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু করতে পারব।’
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তালেবানদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছার ব্যাপারে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে নয় বছর ধরে চলা যুদ্ধের একটি ইতি টানতে চাইছেন তিনি।
জামাত-উদ-দাওয়াকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা: পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়াকে (জেইউডি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি উর্দুতে প্রচারিত একটি খবরে এ কথা জানানো হয়। খবরে বলা হয়, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ওই দলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ শাখা ও সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একাধিক দল বিভিন্ন জেলায় কাজ করবে। প্রতিটি টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে থাকবেন জেলা পুলিশের প্রধান।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে: লস্কর-ই-তাইয়েবা, জামাত-উদ-দাওয়া, জইশে মুহাম্মদ, লস্কর-ই-ঝাংভি, সিপাহ-ই-সাহাবা, তেহরিক-ই-নিফাজ-ই-শরিয়াহ মুহাম্মদি, সিপাহ-ই-মুহাম্মদ পাকিস্তান, তেহরিক-ই-জাফরিয়া পাকিস্তান, মিল্লাত-ই-ইসলামিয়া পাকিস্তান, খুদামুল ইসলাম, ইসলামি তেহরিক পাকিস্তান, হিজব-উত-তেহরির, জামায়াত-উল-আনসার, জামায়াত-উল-ফুরকান, খাইর-উন-নাস ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট, ইসলামিক স্টুডেন্টস মুভমেন্ট ও বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি। তবে তালিকার বাইরে থাকা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে না এই টাস্কফোর্স।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে এই সংগঠনগুলোর ঘাঁটিতে অভিযান চালানো এবং এদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, লস্কর-ই-ঝাংভি ও সিপাহ-ই-সাহাবার সঙ্গে কাজ করছে আল-কায়েদা ও তালেবান সদস্যরা। বিশেষ করে পাঞ্জাবে তাদের তৎপরতা বেশি।
পাকিস্তানে ২৩ জঙ্গি নিহত: পাকিস্তানের পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেনা অভিযানে ২৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোয়ারদির জেলার পুলিশ প্রধান মুমতাজ জিরিন জানান, লোয়ারদির জেলার প্রত্যন্ত কিলপানি গ্রামে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। জঙ্গিরা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ২৩ জঙ্গি নিহত হয়।
৩৩৪ জন বিদেশি সেনা নিহত: আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও তিন জন বিদেশি সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে চলতি বছর নিহত বিদেশি সেনার সংখ্যা ৩৩৪ জনে পৌঁছেছে। ন্যাটো বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, গত সোমবার এক বোমা হামলায় ওই তিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁদের জাতীয়তা সম্পর্কে জানানো হয়নি।
২০০৯ সালে সেখানে ৫২০ জন বিদেশি সেনার মৃত্যু হয়েছিল।

দুপচাঁচিয়া মোকামে চালের বেচাকেনা বন্ধ

অব্যাহতভাবে চালবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ও ট্রাকচালক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার থেকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মোকামের ব্যবসায়ীরা চাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ট্রাক মালিক সমিতির আহ্বানে ট্রাকচালকেরাও চাল ওঠানো-নামানো থেকে বিরত রয়েছেন।
এর ফলে দুপচাঁচিয়া উপজেলার প্রায় ৬০০ চাতাল ও ৩৫টি আড়তের ১২ হাজার এবং ট্রাকের ৪০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
চাল ব্যবসায়ী ও ট্রাক-মালিক ও চালকেরা জানান, গত এক বছরে দুপচাঁচিয়া মোকাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার পথে অন্তত ১০টি চাল বোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এর মধ্যে গত মে মাসে বছির উদ্দিন এবং জুনে মোখলেছার রহমান নামে দুজন চালক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত হন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিকার হয়নি।
দুপচাঁচিয়ার আড়তদাররা প্রথম আলোকে জানান, এখান থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক চাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যায়।
গৌতম রাইস মিলের শ্রমিক সর্দার শাহাদত আলী জানান, চাল লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আড়তদারের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তাঁদের সংসার চালাতে হচ্ছে।
উপজেলা সম্মিলিত ট্রাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কে নিরাপত্তা না থাকায় কোনো চালকই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক চালাতে চাইছে না।
আড়তদার সমিতির সভাপতি হাজী আজিমুদ্দিন বলেন, প্রশাসন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা না দিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফিয়া নাজিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা চাল কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছে, সেটা আমার জানা নাই। তবে ট্রাকসহ চাল ছিনতাইয়ের ঘটনা আমার থানায় ঘটেনি। তার পরও বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

আইএমইডিকে শক্তিশালী করতে লোকবল বাড়ানোর প্রস্তাব

উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগতমান উন্নত ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) শক্তিশালী করতে যাচ্ছে সরকার।
এই বিভাগে লোকবল বাড়ানোর জন্য ৬৩০টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানা গেছে।
আইএমইডির সচিব মো. আবদুল মালেক বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেছেন, ‘যদি উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি জোরদার করা যায়, তাহলে গুণগতমানও নিশ্চিত করা যাবে। আইএমইডিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ বিবেচনাকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।’
সচিব আরও জানান, বর্তমান লোকবল ও অনুষঙ্গ নিয়ে কোনোভাবেই সবগুলো উন্নয়ন প্রকল্প তদারক করা সম্ভব নয়। গুণগতমান নিশ্চিত করা তো আরও সম্ভব নয়।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যদি একজন কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়ে কোনো একটি প্রকল্প তদারক করতে হয়, তাহলে পরিবহন থেকে আরম্ভ করে নানা ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়।
আইএমইডিকে শক্তিশালী করার জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে প্রশাসন ও উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির কাছে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে সাতটি বিভাগীয় শহর ও ২১টি পুরোনো জেলায় আইএমইডির শাখা কার্যালয় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কাছে আইএমইডিতে নতুনভাবে ৬৩০টি পদ সৃষ্টির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৭২টি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ এবং ৪৫৮টি অধীনস্থ কর্মীর পদ।
বর্তমানে আইএমইডিতে ৯১ জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা আছেন। এদের মধ্যে ৫৪ জন অর্থনৈতিক ক্যাডারের, ছয়জন প্রশাসন ক্যাডারের ও ৩১ জন ক্যাডারবহির্ভূত।
আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি নতুন পদ সৃষ্টির তথা লোকবল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়, তাহলে বিভাগের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের থোক বরাদ্দের ব্যয় তদারকি করাও সম্ভব হবে।
বর্তমানে যে লোকবল ও অনুষঙ্গ আছে, তার মাধ্যমে মোট প্রকল্পের ২০ শতাংশও তদারক করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আইএমইডি সচিব।
আইএমডিকে শক্তিশালী করার জন্য যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন ধরনের সুফল আসবে বলে মনে করে বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
স্বল্পমেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ও পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল, জরুরিভিত্তিতে দ্রুত মাঠপর্যায় থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য সরবরাহ এবং দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদনের মান উন্নত করা সম্ভব হবে।
মধ্যমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনমূলক কর্মকাণ্ডগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ হবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব রোধ হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।
আর দীর্ঘমেয়াদে এসে আঞ্চলিক বৈষম্য ও আয়-বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে আইএমইডি শক্তিশালীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইএমইডিকে শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে তাতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এবার আবার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইএমইডিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রস্তাব দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

রপ্তানি আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে

সদ্য শেষ হওয়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানিতে মোট আয় হয়েছে এক হাজার ৪৪৯ কোটি ১১ লাখ ডলার।
আর গোটা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার ৭৬০ কোটি ডলার।
ফলে, জুন মাসে গিয়ে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ঘাটতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। খবর ইউএনবির।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে মোট রপ্তানি আয় তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় আড়াই শতাংশ বেশি।
আবার শুধু মে মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের মে মাসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
তবে মে মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। আর এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ডলার।
রপ্তানির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে প্রায় ৮০ ও ৩৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সময়কালে পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার, যেখানে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
তবে প্রধান রপ্তানি পণ্য নিট ও তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কমে গেছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়কালে নিট পোশাক থেকে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৯৩ শতাংশ কম।
এ ছাড়া এই আয় আলোচ্য ১১ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ কম।
ওভেন পোশাক রপ্তানি আয় এই সময়কালে প্রায় দশমিক ১০ শতাংশ কমে হয়েছে ৫৩৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, হোম টেক্সটাইল ও টেক্সটাইল ফেব্রিকসের মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ও পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি থেকে ১১ মাসে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১১ লাখ ডলার। এটি এই সময়কালের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নয় শতাংশ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কম।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চামড়ার রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ডলার।
তবে চামড়ার রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ বেড়েছে।
পাশাপাশি পাদুকাসামগ্রী রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ বেশি।

শেয়ারের বিপরীতে ঋণদানে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ

মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণে বিচক্ষণ ও দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের।
বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় বলা হয়, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো এতে ব্যর্থ হলে এসইসি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।
বৈঠক শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়া সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, এসইসি চায় বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে। এ ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ভাবনা জানতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বৈঠক করা হবে।
এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সংস্থাটির সদস্য মনসুর আলম ও ইয়াসিন আলী, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, এ টি এম তারিকুজ্জামান, সাইফুর রহমান, ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ খানসহ বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, এসইসির পক্ষ থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের কাছে গত দুই দিনের লেনদেন ও সূচক বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও জানতে চায় এসইসি।
এর জবাবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের প্রায় সবাই বলেন, বাজারে উত্থান-পতন একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। আর ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন ব্যাংকিং খাতের অর্ধবার্ষিক পরিচালন মুনাফার কথা।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বেশির ভাগ ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক পরিচালন মুনাফার তথ্য বাজারে চলে এসেছে। প্রকাশিত এসব খবরে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর মুনাফা তুলনামূলক ভালো। এটা ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে গতকাল সকাল থেকেই বাজারে এ বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের গুজব। এসব গুজবের মধ্যে অন্যতম হলো: এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে শেয়ারের মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই) আরও কমাতে হতে পারে—এ গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। আর তাই সকালের দিকে প্রথম এক ঘণ্টা বাজার বাড়লেও শেষ দিকে পড়ে যায়।
বাজার পরিস্থিতি: গতকাল লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইয়ের সাধারণ সূচক প্রায় ৬০ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৪০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এর পর থেকেই সূচক কমতে শুরু করে। দিন শেষে সূচক আগের দিনের পর্যায়ে নেমে আসে।
তবে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২৪৬ কোটি টাকার শেয়ার।
সিএসইতে সার্বিক সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪০ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৬৩৮ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে ১৬৯ কোটি টাকার শেয়ার।

লোর সামনে অনেক ‘মেসি’

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে এসেছে জার্মানি, মেসিকেও বেশির ভাগ সময় রেখেছিল তারা বোতলবন্দী করে। স্পেন দলে তো আর ‘মেসি’ নেই, তাই জার্মানিরও জিততে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়—জোয়াকিম লোর কানে অনেকেই তুলছেন এমন কথা। তাঁদের জন্য লোর উত্তর, একজন মেসি নয়, স্পেন দল ভরতি মেসিতে!
‘স্পেন দলে একজন মেসি নেই সত্য, তাদের আছে অনেক অনেক মেসি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে ওদের এমন অনেক ফুটবলার আছে, যারা একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলতে পারে। ওরা খুবই সংগঠিত দল, সবাই একসঙ্গে আক্রমণে ওঠে এবং রক্ষণে নামে। অসাধারণ একটা দল’—সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ স্পেনকে নিয়ে জোয়াকিম লোর মূল্যায়ন। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডকে হারানোয় যাঁরা স্পেনের বিপক্ষেও জার্মানিকে ফেবারিট ভাবছেন, তাঁদের দলে নেই লো, ‘জেনে রাখুন, স্পেন এমন একটা দল, যারা খুব কম ভুল করে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক কম। ব্যক্তিগতভাবে আমি স্পেনকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফেবারিট মনে করি। দু-তিন বছরে তারা বিশ্বের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তারা জিতেছে।’
অনেক অনেক মেসির মধ্যে লোর সবচেয়ে বেশি ভয় দুজন ‘মেসি’কে নিয়ে—মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। মেসির ‘মেসি’ হয়ে ওঠায় যে দুজনের অবদান অনেক। মেসিকে যেভাবে আটকেছেন, এই দুজনকেও সেভাবে আটকানোর পরিকল্পনা করছেন লো, ‘ওরা দুজন (জাভি-ইনিয়েস্তা) বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলছে, দুজনের বোঝাপড়া অসাধারণ। এটাই বড় একটা পার্থক্য গড়ে দেয়। মেসিকে যেমন করেছিলাম, ওদেরও সেভাবে চাপে রাখতে হবে। এটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে।’
আজকের সেমিফাইনালটিকে অনেকে দেখছেন জার্মানির প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে। ২০০৮ ইউরোর ফাইনালে এই স্পেনের কাছে হেরেই শিরোপা হাতছাড়া হয় জার্মানির। তবে প্রতিশোধ-তত্ত্বে ঠিক বিশ্বাস নেই জার্মান কোচের, ‘প্রতিশোধ বলে কিছু নেই, এটা প্রতিশোধের ব্যাপার নয়। স্পেন ইউরোপের সেরা দল ছিল, সেরা ছিল ফাইনালেও।’
এর আগে জার্মানিকে সেরা দল বলেছিলেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। জার্মান কোচ আবার সেরা বললেন স্পেনকে। সেরা দুই কোচের ট্যাকটিকস আর সেরা দুই দলের লড়াই—আজকের সেমিফাইনাল উপভোগ্য হতে বাধ্য।

‘বিজয়ী’দের দেশে ফেরা

রাত সাড়ে নয়টায় বিমানটা পৌঁছানোর কথা। কিন্তু দুপুর থেকে ভিড় জমতে শুরু হলো। কারও মুখে ভুভুজেলা, কারও হাতে ঢোল, কারও হাতে বিকট আকারের ঢাক—সব মিলিয়ে যেন ‘আফ্রিকান কার্নিভাল’ চলছে। চলছে তো চলছেই। মাঝে একবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানাল, বিমান দুই ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছাবে। তাতে কার কী!
উৎসবে ভাটা পড়ে না। বরং উৎসব আরও জমে ওঠে। সাদা-সোনালি-সবুজ পোশাক পরে, হাতে পতাকা নিয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে তারা। হঠাৎ ঘোষণা এল, বিমান এসে গেছে। যেন আকাশ ভেঙে পড়ল ঘানার কোটোকা বিমানবন্দরে। গগনবিদারী আওয়াজ উঠল, ‘উই লাভ ঘানা, উই লাভ স্টারস’।
বিমান থেকে বেরিয়ে ঘানার ‘ব্ল্যাক স্টার’রা মহাবিস্ময়ে দেখলেন, দেশের লোকজন বিশ্বকাপজয়ীর মতো বরণ করে নিতে এসেছে তাঁদের। সোমবার দেশে ফিরে আসলেই যেন বিশ্বকাপজয়ীদের মতো সংবর্ধনা পেলেন ঘানার খেলোয়াড়েরা!
ক্যামেরুন, সেনেগালের পর আফ্রিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলাটাই ঘানার সংবর্ধনা পাওয়ার যথেষ্ট কারণ হতে পারত। কিন্তু ঘানাইয়ানরা যে সেমিফাইনাল খেলতে পারল না স্রেফ ভাগ্যের দোষে! সুয়ারেজ হাত দিয়ে বল না ঠেকালে কিংবা জিয়ান পেনাল্টি মিস না করলে সরাসরিই তো ম্যাচ জিতে যায় ঘানা। অন্তত টাইব্রেকারে তো ঘানার পক্ষে হাসতে পারতেন ফুটবল-বিধাতা।
এ নিয়ে ঘানাইয়ানদের আফসোস আছে, শোক আছে; কিন্তু দলের ওপর কোনো ক্ষোভ নেই। মাইকেল এসিয়েনের মতো তারকাকে ছাড়া বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ঘানার খেলোয়াড়েরা যা করেছেন, তাতেই মহা খুশি দেশের লোকজন। এমনকি দেশটির রাষ্ট্রপতি জন ইভান আটা মিলস পর্যন্ত বলছেন, দলের পরাজয়ে দুঃখিত না হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে, ‘আমাদের দল যা অর্জন করেছে আসুন আমরা তারই প্রশংসা করি এবং ওদের পাশে দাঁড়াই। শুক্রবারের ম্যাচে একটা দলই জিততে পারত, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্ল্যাক স্টাররা পারেনি।’
প্রেসিডেন্টের আহ্বানের দরকার ছিল কি না কে জানে! কারণ, লোকজন তো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসে দাঁড়াল ঘানার ফুটবলারদের নামে স্লোগান দিয়ে। কাওসি আমপোনসাহ নামের এক সমর্থক বলছিলেন, ‘ছেলেরা যা করল, সেটাই এই দেশ এবং পুরো পৃথিবী সারা জীবন মনে রাখবে। ওরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। হেরেছে শুধু ভাগ্যের কাছে।’
৫৩ বছর বয়স্ক শিক্ষক ফেলিসিয়া আসেমপং উল্লাস করতে করতেই বললেন, ‘স্টাররা দুঃসাহসিকতার সঙ্গে খেলেছে। ওরা শুধু ঘানাকে নয়, পুরো আফ্রিকাকে গৌরবান্বিত করেছে।’ ৪২ বছর বয়স্ক টনি বাকাহ নাচতে নাচতে বলছিলেন, সদ্য জন্ম নেওয়া ছেলের নাম রেখেছেন তিনি ঘানার গোলরক্ষক রিচার্ড কিংসনের ডাক নামের সঙ্গে মিলিয়ে—ওলেলে। বাকাহ বললেন, ‘এভাবে আমি স্টারদের পারফরম্যান্সকে মনে রাখতে চাই।’
ঘানার লোকজন খুশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে, আর খেলোয়াড়েরা আপ্লুত নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখতে পেয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরা ঘানার খেলোয়াড়দের কাছে বিশ্বকাপ সাফল্যের চেয়েও বড় অর্জন যেন নেলসন ম্যান্ডেলার সাক্ষাৎ পাওয়া। সবার মুখে ম্যান্ডেলাকে দেখতে পাওয়ার বিস্ময়। কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং বলছেন, ‘আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বিরাট একটা ব্যাপার। আমরা সবাই খুব আনন্দিত যে আমরা সেই মহান মানুষটাকে দেখতে পেয়েছি।’
বিশ্বকাপে ইতিহাস তৈরি, অর্থ পুরস্কার, ম্যান্ডেলার সাক্ষাৎ—আনন্দের শেষ নেই। তবে সব আনন্দের সেরা মানুষের ভালোবাসা। দেশের মানুষ তাদের এমন সাদরে বরণ করে নেওয়ায় আপ্লুত ঘানার খেলোয়াড়েরা। অধিনায়ক স্টিফেন আপিয়াহ বিমানবন্দরে নেমে বললেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভাগ্য পক্ষে ছিল না। তবে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আমরা শিরোপার দাবি নিয়ে যাব।’

শেষ পর্যন্ত ইউরোপেরই বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপটা শুরু থেকেই বড় বিভ্রান্ত করে আসছে। ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ডের মতো তিন ইউরোপিয়ান পরাশক্তির পতনের পর মনে হলো, এবার ইউরোপের কপালে দুঃখ আছে। শেষ আটে যখন চারটি লাতিন দল উঠে এল, মনে হলো, এবার লাতিনরাই বাজিমাত করবে।
অথচ কী বিস্ময়কর ব্যাপার! সেই টুর্নামেন্টই গত পরশু লাতিনশূন্য হয়ে গেল। প্রথম সেমিফাইনালে হল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে উরুগুয়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল, বিশ্বকাপ ইউরোপেই যাচ্ছে। ইউরোপিয়ানদের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কতগুলো ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে গেল। ১৯৬৬ সাল থেকে চলে আসা একটা চক্র ভেঙে গেল। সেবার ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের পর থেকে একবার ইউরোপ, একবার লাতিন; এই ছিল বিশ্বকাপের গন্তব্য। ২০০৬ সালে ইতালির পর এবার আবার কোনো ইউরোপিয়ান দেশই শিরোপা জিততে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে ইউরোপের নতুন একটা কীর্তিও হচ্ছে—এই প্রথম নিজ মহাদেশের বাইরে বিশ্বকাপ জিতছে তারা। এর আগে নিজের এলাকার বাইরে থেকে বিশ্বকাপ জিতে আনার কৃতিত্ব ছিল শুধু ব্রাজিলিয়ানদের।
এবার তিন ইউরোপীয় দেশের সেমিফাইনালে উঠে আসাটা কী প্রমাণ করে? না, একটা-দুটি বিশ্বকাপ দেখে ‘আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে’ এ রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে একটা সিদ্ধান্তে মিশেল প্লাতিনি পৌঁছে গেছেন—স্পেন, জার্মানি ও হল্যান্ডের এই উত্থান প্রমাণ করে বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করার বিকল্প নেই।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার সভাপতি, ফরাসি কিংবদন্তি প্লাতিনি বলছেন, ‘গত ১০ বছরে বিশ্বের অধিকাংশ যুব টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা দল তিনটিই সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। পুরো ব্যাপারটাকে সৌভাগ্য বলে বোঝাতে পারবেন? আমার মনে হয় না। এতে আমি শুধু খুশি হচ্ছি তা নয়, এই দুর্দান্ত দল তিনটি আমাকে খুব তৃপ্তও করছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই তিনটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘ মেয়াদে যে পরিকল্পনা করেছে, ফুটবল শিক্ষা ও ট্রেনিংয়ে যে বিনিয়োগ করেছে, তার পুরস্কার পাচ্ছে এখন।’
ইউরোপের এই সাফল্য উয়েফা প্রেসিডেন্টের জন্য এমন তৃপ্তিরই ঘটনা। কিন্তু এ ঘটনা একই সঙ্গে লাতিনদের জন্য সতর্কবার্তাও কি দিচ্ছে না? এটা নিশ্চিত, লাতিনদের দিন ফুরিয়েছে, এমন বালখিল্য চিন্তার সুযোগ নেই। কিন্তু লাতিনদের নতুন করে ভাবার সময় চলে এসেছে।
আগামী বিশ্বকাপ লাতিন আমেরিকায়—খোদ ফুটবল-স্বর্গ ব্রাজিলে। এখনই সতর্ক না হলে লাতিন আমেরিকাতেই না লাতিনদের ভরাডুবি হয়ে যায়!

‘জার্মান ক্যাসিয়াস’

নিয়তি! নিয়তি কারও সামনে পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আবার নিয়তিই কারও সামনের ‘পর্বতমালা’ গুঁড়িয়ে দিয়ে মসৃণ পথ বানিয়ে দেয়। নিয়তি ভিক্টর ভালদেজের সামনে বাধা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয় ইকার ক্যাসিয়াস আর পেপে রেইনার মতো দুই পর্বতকে। আবার নিয়তিই এসে পাশে দাঁড়ায় জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যারের।
যে ম্যানুয়েল নয়্যারের এই বিশ্বকাপে হয়ে থাকার কথা ছিল তৃতীয় গোলরক্ষক, সেই নয়্যার জার্মানির ‘এক নম্বর’ হয়ে ওঠেন। দু-দুটো দুর্ঘটনা সরিয়ে দেয় নয়্যারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পর্বতকে। মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে এসে তিনি সংবাদমাধ্যমে পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘জার্মানির ক্যাসিয়াস’ নামে!
কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত মাত্র দুটি গোল হজম করেছেন, বিপরীতে ঠেকিয়েছেন ১৮টি শট। খোদ ক্যাসিয়াসও ২টি গোল হজম করেছেন, কিন্তু তাঁকে ঠেকাতে হয়েছে মাত্র ১০টি শট। এই পরিসংখ্যানই বলছে, নয়্যার ‘জার্মান ক্যাসিয়াস’ খেতাব পাওয়ার কত উপযুক্ত।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দেওয়া এই উপাধি মাথায় পেতে নিচ্ছেন নয়্যার। কিন্তু কণ্ঠে তাঁর দারুণ বিনয়, ‘আমি নিজে এ রকম কিছু শুনিনি। কিন্তু ক্যাসিয়াসের সঙ্গে আমাকে তুলনা করে থাকলে, সেটা বিরাট সম্মানের ব্যাপার। উনি তো অবিশ্বাস্য ভালো একজন গোলরক্ষক। জীবনে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন। আমি অবশ্য জিরো ফোরে (নয়্যারের ক্লাব) যেমন খেলি, তেমনই খেলছি। আমরা টুর্নামেন্টে যে মাত্র দুটি গোল খেয়েছি সে জন্য আমি ধন্যবাদ দেব আমাদের দুর্দান্ত রক্ষণভাগকে।’
বিনয় যতই করুন ২৪ বছর বয়সী এই জার্মান তরুণ, এরই মধ্যে তারকা হয়ে গেছেন। অথচ ছয় মাস আগেও তাঁর পোস্টের নিচে দাঁড়ানোর কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।
গত বছর লেম্যানের ভাবশিষ্য নয়্যার জাতীয় দলে এসেছিলেন তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে। জার্মানির এক নম্বর গোলরক্ষক তখন রবার্ট এনকে, পরের জন রেনে এডলার। গত নভেম্বরে এনকের আলোচিত আত্মহত্যা নয়্যারকে দুই নম্বর গোলরক্ষক বানিয়ে ফেলল।
শালকে জিরো ফোরের এই গোলরক্ষক তখনো কল্পনা করেননি, বিশ্বকাপেই পোস্টের নিচে দাঁড়াতে হবে তাঁকে। এডলারকে বিশ্রাম দিতে গিয়ে কোচ জোয়াকিম লো দু-একটা ম্যাচে মাঠে নামিয়েছিলেন নয়্যারকে। কিন্তু তিনি মনে মনে সাইড বেঞ্চের প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছিলেন।
আরেকবার নিয়তি নয়্যারের হয়ে হাসল। এবার পাঁজরের চোট এডলারকে ছিটকে দিল বিশ্বকাপ থেকে। ‘এক নম্বর’ হয়ে গেলেন নয়্যার। পরিসংখ্যানই বলছে, এখনো পর্যন্ত এক নম্বর জার্সিটার মান দারুণভাবে রাখতে পেরেছেন। সেমিফাইনালে পৌঁছানো চার গোলরক্ষকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শট সেভ করে এসেছেন। এখন অপেক্ষা শীর্ষে পৌঁছানোর।
শীর্ষে পৌঁছাতে গেলে আজ ক্যাসিয়াসকেই টপকাতে হবে ‘জার্মান ক্যাসিয়াস’ নয়্যারকে। চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত তিনি। ক্যাসিয়াসকে মাথায় তুলে রেখেও বলছেন, ‘প্রতিপক্ষকে দেখিয়ে দিতে হবে সেরা কে! সেটা করতে পারলেই তো কিছু অর্জন করা হয়ে গেল।’
দেখা যাক, দুই ‘ক্যাসিয়াসে’র লড়াইয়ে কে জেতে!

উত্তেজিত তাবারেজ

এমনিতে খুব ঠাণ্ডা মেজাজের মানুষ বলে পরিচিত তিনি। অথচ গত পরশু এক দিনে দু-দুবার সাংবাদিকদের সঙ্গে লেগে গেল উরুগুয়ে কোচ অস্কার তাবারেজের। প্রথমবার লুইস সুয়ারেজের ‘হ্যান্ডবল’ নিয়ে। এরপর সাংবাদিকদের ‘গোয়েন্দাগিরি’!
গতকাল উরুগুয়ে তাদের সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলে ফেলেছে হল্যান্ডের বিপক্ষে। সে ম্যাচে ফলাফল যা-ই হোক, সুয়ারেজ-বিষয়ক আলোচনা শেষ হচ্ছে না। ঘানার বিপক্ষে গোললাইন থেকে সুয়ারেজ হাত দিয়ে বল ফিরিয়ে উরুগুয়ের কাছে যেমন ‘নায়ক’ হয়েছেন, তেমনই ‘প্রতারকে’ পরিণত হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের অংশবিশেষে।
সুয়ারেজের এই হ্যান্ডবলের ফলে ঘানা পেনাল্টিও পেয়েছিল, কিন্তু সে পেনাল্টি থেকে গোল হয়নি। ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে, শেষ হয়ে গেছে ঘানার বিশ্বকাপও। শেষ হয়নি আলোচনা। এই আলোচনায়, বিশেষত সুয়ারেজকে নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের আচরণে খুব চটেছেন অস্কার তাবারেজ।
সংবাদ সম্মেলনে এক ব্রিটিশ সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, সুয়ারেজের ওই কাণ্ডে সেমিফাইনালে উঠে তাবারেজ বিব্রত কিনা? তাবারেজ চটে গিয়ে উত্তর দিয়েছেন, ‘সম্ভবত এই প্রশ্নটা আপনার সুয়ারেজকেই করা উচিত। বাকিদের মতো সেও প্রশ্ন করলেই উত্তর দিচ্ছে। আমি বিব্রত হচ্ছি, বিশেষ করে ব্রিটিশ মিডিয়ায় যেভাবে গল্পটা উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা নিয়ে। একজন ফুটবলার গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল ফিরিয়েছে, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে।’
উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের ‘প্রতারক’ বলায় অস্কার তাবারেজ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে বলছেন, ‘এই বিশ্বকাপে উরুগুয়ের পারফরম্যান্স ও আচার-ব্যবহার নিয়ে আমি গর্বিত। তিন ম্যাচে উরুগুয়ের খেলোয়াড়েরা একটাও হলুদ কার্ড দেখেনি। ফলে আমাদের প্রতারক বলার বা সাজানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করবেন না। এটা আমরা একদমই মেনে নেব না।’
সুয়ারেজের ব্যাপার নিয়ে এমনিতেই অগ্নিশর্মা হয়ে ছিলেন। এরপর আবার তাবারেজকে চটিয়ে দিয়েছেন আরেক দল সাংবাদিক। তাঁরা উরুগুয়ের রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে অনুপ্রবেশ করে ভিডিও করেছেন। তা সম্প্রচারও করে দিয়েছেন।
এমনিতে তাবারেজ ম্যাচের এক দিন আগে একাদশ ঘোষণা করে আসছেন। কিন্তু পরশু এর ব্যতিক্রম ঘটালেন, ‘আজ আমাদের দল ঘোষণার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। আমরা সাধারণত এটা করি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বদলে ফেলেছি। আমরা রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করছিলাম। কিন্তু কিছু সাংবাদিক রীতিমতো যুদ্ধ-প্রতিনিধির মতো আচরণ করেছেন। আমাদের দল ও কৌশল সম্পর্কে খবর প্রচার করেছেন। তাঁরা নিয়ম ভেঙেছেন।’
পরে ফিফা জানিয়েছে, উরুগুয়ের অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিটই শুধু সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

‘সেইন্ট ইকার’

তিনবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলেছে তারা, শিরোপা জিতেছে দুবার। এর সর্বশেষটিতে ছিলেন তিনি নিজেও। তবে ওই তিন ফাইনাল বা অন্য কোনো ম্যাচ নয়, জার্মানির বিপক্ষে আজকের সেমিফাইনালটিকেই স্পেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলছেন ইকার ক্যাসিয়াস।
১৯৬৪ সালের ইউরো (সে সময়ের ইউরোপিয়ান নেশনস কাপ) জিতে ফুটবলে প্রথম বড় কোনো শিরোপা জিতেছিল স্পেন। ১৯৮৪ ইউরোর ফাইনালে হেরেছিল স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে। ২০০৮ ইউরো জিতে ৪৪ বছর পর আবার বড় কোনো শিরোপার স্বাদ পায় স্পেন। দুই বছর আগে ভিয়েনার ফাইনালে জার্মানিকে হারানো সেই শিরোপায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যাসিয়াস। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম সেমিফাইনালে উঠে স্পেন আবার মুখোমুখি হচ্ছে সেই জার্মানির। ক্যাসিয়াসের মতে, এই ম্যাচের সঙ্গে আগের কোনো ম্যাচেরই তুলনা হয় না, ‘কেউই কিন্তু বলছে না ২০০৮ ইউরোতে আমরা কতটা ভালো দল ছিলাম। সবাই বলছে আমাদের বিশ্বকাপ জিততে হবে। লোকে বিশ্বকাপ চায়। আমরা তাই জানি, জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালটাই আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, অস্ট্রিয়ায় ২০০৮ ইউরোর ফাইনালের চেয়েও।’
সেমিফাইনালে উঠেই অবশ্য বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য ছোঁয়াটা নিশ্চিত করে ফেলেছে স্পেন। সেমিফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হারলে চতুর্থ হবে স্পেন। এখনো পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য ১৯৫০ বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়া, সেবার অবশ্য সেমিফাইনাল বলে কিছু ছিল না। তবে তৃতীয়-চতুর্থের চিন্তা মাথায় ঢুকতেই দিচ্ছেন না ক্যাসিয়াস, ‘আমরা এখানে চতুর্থ হতে আসিনি। জার্মানিকে হারিয়ে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। আমাদের সবারই স্বপ্ন আছে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমরা মাদ্রিদে ফিরতে চাই। তবে এখন প্রথম লক্ষ্যটা হলো জার্মানিকে হারানো।’
জার্মানিকে হারানোটা যে সহজ হবে না, এটা অবশ্য মানছেন ক্যাসিয়াস। জার্মানির এই তরুণ দল আর সবার মতো মুগ্ধ ও বিস্মিত করেছে স্প্যানিশ অধিনায়ককেও, ‘আমার ধারণা, বিশ্বকাপের সেরা দল ওরা। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চার গোল করা মানে, এটা বিশেষ কিছু। একটা তরুণ দল, যাদের চার-পাঁচজনকে অনূর্ধ্ব-২১ দল থেকে আনা হয়েছে, তারা কীভাবে এমন খেলছে এটা দারুণ কৌতূহল জাগায়। এটা অবশ্যই কোচের ভালো ব্যবস্থাপনার কৃতিত্ব।’
স্পেন অধিনায়কের নিজের জন্যও বিশ্বকাপটা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। পেপে রেইনা ও ভিক্টর ভালদেজের মতো বিশ্বমানের দুজন গোলকিপার বসে আছেন বেঞ্চে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বশেষ মৌসুমটায় ঠিক নিজের মান অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। বিশ্বকাপের শুরুটাও হয়েছিল বাজে। দল হারল, সাংবাদিক বান্ধবীকে জড়িয়ে তাঁকে নিয়ে অনেক বিতর্কও হলো। তবে সব সমালোচনার জবাব দিয়ে আবার ফিরেছেন সেরা ফর্মে, কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি ঠেকিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন ভক্তরা তাঁকে এমনিতেই ‘সেইন্ট ইকার’ নাম দেয়নি।
ক্যাসিয়াস তাই এখন স্বস্তি পাচ্ছেন অনেকটাই। তবে তাঁকে অবাক করেছে রোনালদো, রুনি, মেসিদের ব্যর্থতা। স্পেন অধিনায়কের উপলব্ধি, এককভাবে খুব বেশি কিছু করা এখন আর সম্ভব নয়, ‘এটা প্রমাণ করেছে যে জাতীয় দল মানে শুধু একজন ফুটবলার নয়। আগে হয়তো একজন খেলোয়াড় দলকে শিরোপা এনে দিতে পারত, ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোয় ম্যারাডোনা যেমন আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন। কিন্তু এখন এটা অনেক বেশি দলীয় খেলা। একজন খেলোয়াড় হয়তো খুব ভালো পারফর্ম করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আবার হারল অস্ট্রেলিয়া

কী যে হলো অস্ট্রেলিয়ার! ইংল্যান্ডের কাছে ৫ ম্যাচের সিরিজ হারল ৩-২ ব্যবধানে। এরপর পাকিস্তানের নতুন ‘হোম’ ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের কাছে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হলো। কাল দ্বিতীয় ম্যাচটি হেরেছে তারা ১১ রানের ব্যবধানে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান ৯ উইকেটে তুলেছে ১৬২ রান। গত ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান উমর আকমল কাল করেছেন ২৫ রান। সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংসটি খেলেছেন তাঁরই বড় ভাই কামরান আকমল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সালমান বাটের ৩১।
১৬৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৩৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় তারা। এর পরও যে ১৫১ রান তুলতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া, তা মাইকেল ক্লার্ক (৩০), জেমস হোপস (৩০), ডেভিড হাসি (৩৩) ও মাইক হাসির (২৫) চারটি ইনিংসের কল্যাণেই। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ২৭ রানে ৩টি এবং শহীদ আফ্রিদি ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।

উমর আকমলে মুগ্ধ ওয়াকার

টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ১২ ম্যাচে একটিও জয় নেই পাকিস্তানের। অবশেষে পরশু এজবাস্টনে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৩ রানে জিতেছে পাকিস্তান। যাতে বড় অবদান উমর আকমলের। ৩১ বলে ৭টি চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো আকমলের ৬৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের সৌজন্যে পাকিস্তান তোলে ১৬৭। জবাবে শেষ ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৪৪ রানে।
উমর আকমলের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ কোচ ওয়াকার ইউনুস। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার বলে মনে হয়েছে উমরকে, ‘গত ১৫-২০ বছরে সম্ভবত ও আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার।’
তরুণ এই ক্রিকেটারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ওয়াকার, ‘সে এক বিস্ময়কর ক্রিকেটার। একেবারে তরুণ, মাত্র ২০ বছর বয়স। সামনে এখনো অনেক সময় পড়ে আছে ওর। ও দ্রুত যেকোনো ব্যাপার আয়ত্ত করে ফেলে। এটা খুবই ভালো ব্যাপার।’ শুধু ওয়াকারই নন, ম্যাচ-সেরা উমর পেলেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের প্রশংসাও

হোন্ডার স্বপ্ন

জাপানের কেইসুকে হোন্ডা বেশ ভালোই খেল দেখালেন এবার। তাই তাঁর আশপাশে সুবাতাস বইছে। সেই বাতাসে ইন্টার মিলান, ভ্যালেন্সিয়া, সেভিলা, ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের মতো ক্লাবের ডাকও ভেসে আসছে! তবে রাশিয়ার সিএসকেএ মস্কো ক্লাবের ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার স্বপ্ন দেখছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলার, ‘আমার স্বপ্ন রিয়ালে দশ নম্বর জার্সিটি পরব। সব সময় সবচেয়ে ভালো কিছুই চাই আমি। এবং আমার সব সময়ের লক্ষ্য সবচেয়ে উঁচু পর্যায়ে খেলা। যদি বড় কোনো ক্লাব থেকে ডাক আসে তবে অবশ্যই সেটাই বেছে নেব।’ গত জানুয়ারিতে নয় মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে হল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল লিগের ক্লাব ভিভিভি থেকে হোন্ডাকে কিনে নেয় সিএসকেএ মস্কো।

স্পেনে এক টুকরো জার্মানি

আজ মায়োরকায় কী হবে, কে জানে। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, জার্মানি-স্পেন ম্যাচের ফল সেখানে কাউকে হাসাবে, কাউকে কাঁদাবে। বলাই বাহুল্য, জার্মানি জিতলে জার্মানরা হাসবে, স্পেন জিতলে স্প্যানিয়ার্ডরা। একই রাষ্ট্রে যে দুই দেশের জাতির অস্তিত্ব!
স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মায়োরকায় ২৭ হাজার জার্মানের স্থায়ী আবাস। মোট জনসংখ্যা আট লাখ ৬২ হাজার। কিন্তু প্রতিবছর এখানে বেড়াতেই আসে ৪০ লাখ জার্মান পর্যটক। গত মে মাসেই এসেছে সাড়ে চার লাখ জার্মান। মায়োরকা যেন একখণ্ড জার্মানিই হয়ে গেছে। স্পেনের পতাকা তো থাকবেই, আছে অনেক জার্মান পতাকাও। বিশ্বকাপের এই সময়ে রমরমা ব্যবসা রেস্টুরেন্ট আর বারগুলোর। সেই সুযোগ দিতে নানা আয়োজন তো আছেই। বিশেষ করে, জার্মান রেস্তোরাঁ-বারে। সেখানে সবার ভাষা একটাই—জার্মান।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার বারুদ উড়ছে বাতাসে। যেটির প্রতিফলন জার্মানদের পত্রিকার শিরোনামেও, ‘ফুসবলফিবার’ মানে ফুটবল-জ্বর। জার্মানি জিতবে? জার্মানরা জয়ই দেখছে। এক জার্মান বারের মহাব্যবস্থাপক উইয়ির আত্মবিশ্বাস, ‘স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা বিপজ্জনক। কিন্তু ওদের তালাবদ্ধ করে রাখার চাবিটা আমাদের হাতে আছে।’
অনেক দিন এক জায়গায় থাকলে যা হয়, ভদ্রলোক এখন নিজেকে খানিক স্প্যানিয়ার্ড ভাবছেন। তবে জার্মানি বা স্পেন যে-ই জিতুক, এই ম্যাচ শেষে আতশবাজি উৎসবই হবে বলে জানালেন তিনি। অনেক জার্মান এখানে থাকতে থাকতে স্পেনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের জন্য খুলে বসা এক দোকানের মালিক ৩৭ বছরের মারিয়া জানাচ্ছেন, ‘আমরা অনেক স্প্যানিশ পতাকা বিক্রি করেছি জার্মানদের কাছেও।’
তবে এই দ্বীপের এটিই আসল ছবি নয়। মিউজিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ড্যানিয়েল যেমন বললেন, ‘জার্মানরা মায়োরকাকে জার্মানিরই একটা অংশ মনে করে। এখানে দুটি কমিউনিটির মধ্যে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছেই। তবে ফলাফল যা-ই হোক, এখানে উৎসবের পরিবেশই থাকবে।

ব্রাজিলের ভাবনায় ২০১৪ বিশ্বকাপ

কে হবেন ব্রাজিলের কোচ? ফুটবলবিশ্বে এখন এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে পাঁচজনের নাম উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রধান রিকার্ডো টিসেইরা কি কারও সঙ্গে কথা বলেছেন?
সিবিএফ থেকে অবশ্য কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। লুই ফেলিপে স্কলারি, মানো মেনজেস, মুরিসি রামালহো, রিকার্ডো গোমেজ ও লিওনার্দো—এই পাঁচটি নামই ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের উত্থাপিত। এঁদের মধ্যেই কেউ পরবর্তী ব্রাজিল কোচ হতে পারেন বলে ধারণা সংবাদমাধ্যমের। তবে আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করা সিবিএফ সভাপতি টিসেইরা বলেছেন, এখনো কোনো কোচের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।
তবে কোচ নিয়োগের সময় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ব্যাপারটি যে মাথায় থাকবে টিসেইরা বলেছেন এমনটিই, ‘আমি এমনটা চাই না, একজন কোচ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের (১০ আগস্ট ব্রাজিলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ) লক্ষ্য নিয়ে আসবে। এটা সবারই বুঝতে হবে, আমাদের ভালোভাবে তৈরি হতে হবে। অন্তত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার কথা মাথায় রাখতে হবে।’
২০১৪ সালে বিশ্বকাপটা হবে ব্রাজিলে। এরপর ২০১৬-তে আছে অলিম্পিক গেমস। এ দুটি ইভেন্টকে মাথায় রেখেই এগোতে চায় দক্ষিণ আমেরিকার এই ফুটবলপাগল দেশটি। ‘আমরা দলে তরুণ খেলোয়াড় চাই। এর মানে এই নয় যে এ দলটির খেলোয়াড়দের কাজে লাগানো হবে না। তবে আমরা এমন খেলোয়াড়দের রাখতে চাই, যাদের ২০১৪ বিশ্বকাপে পাওয়া যাবে।

টেস্ট অধ্যায়ের ইতি টানছেন মুরালি

শুরুটা হয়েছিল ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্ট দিয়ে। ১৮ বছর পেরিয়ে এসে শেষটা হচ্ছে গলে। মুত্তিয়া মুরালিধরন জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে ১৮ জুলাই থেকে শুরু গল টেস্টই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। ওয়ানডে অবশ্য খেলে যেতে চান। লক্ষ্য আগামী ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দিয়ে বিদায় নেবেন ক্রিকেট থেকেই।
মুরালির অবসর ঘোষণা অবশ্য চমক নয়। গত বছরই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে হোম সিরিজটি খেলে বিদায় নেবেন। কিন্তু গত নভেম্বরে আরও চিন্তাভাবনা করে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের দিনক্ষণ এগিয়ে আনেন টেস্ট ও ওয়ানডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন ৩৮ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অফ স্পিনার। ভাবনাটা গত এশিয়া কাপের সময় থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথায়। অবশেষে চূড়ান্ত করে ফেললেন, গলই তাঁর শেষ।
শ্রীলঙ্কা দলের প্রধান নির্বাচক অরবিন্দ ডি সিলভা এবং অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা দুজনই চেয়েছিলেন, তিন টেস্টের সিরিজটা পুরো খেলেই অবসর নিন মুরালি। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে আর খেলার ইচ্ছে নেই সফল কিন্তু অ্যাকশন নিয়ে বহু বিতর্কের মুখে পড়া এই স্পিনারের।
ওয়ানডেতে ৫১৫টি উইকেটের মালিক আবেগ উপচানো শেষ টেস্টে কেমন করেন কে জানে। তবে মুরালি-ভক্তরা চাইবেন, যেন অন্তত আরও ৮ উইকেট তিনি পান। তা হলেই যে টেস্টে ৮০০ উইকেট পূর্ণ হয়ে যায় তাঁর

জার্মানির সুখের ঘরে অশান্তি?

একের পর এক ফেবারিটকে উড়িয়ে-মাড়িয়ে তরতর করে ছুটছে জার্মানির বিশ্বকাপ রথ। ফুরফুরে সুখী হাওয়াই তো বয়ে যাওয়ার কথা জার্মানি দলে। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে জার্মান দলে ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছে অনেকে। তাহলে কি সুখের ঘরে কোন্দলের আগুন লেগেছে!
ঘটনাটার শুরু জার্মানির বিল্ড পত্রিকাকে দেওয়া ফিলিপ লামের একটি সাক্ষাৎকার থেকে। অধিনায়কত্বটা ফেরত দিতে চান না, বিল্ডকে এমনই বলেছেন মাইকেল বালাকের চোটের সুবাদে বিশ্বকাপে জার্মানির অধিনায়ক হয়ে যাওয়া লাম। একই দিনে চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে না পারা বালাকও জার্মান শিবির ছেড়ে গেছেন। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন—জার্মানি দলে ঝামেলা!
কোচ জোয়াকিম লো আর ম্যানেজার অলিভার বিয়েরহফ বলছেন, কিছুই হয়নি। জার্মানি দলে সুখের বাতাসই বইছে। বাইরের মানুষ যা বলছে, তার পুরোটাই গুঞ্জন। টিম হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন বিয়েরহফ, ‘কোনো ঝামেলা নেই দলে। এমনকি বিরোধের কোনো চিহ্নও নেই।’ চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া জার্মানির নিয়মিত অধিনায়ক বালাক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে যোগ দিয়েছিলেন জার্মান শিবিরে। গতকাল আবার চলেও গেছেন। এই আসা এবং চলে যাওয়া যে পূর্বনির্ধারিতই ছিল বিয়েরহফ বলেছেন সেটাই, ‘আসলে লোকেরা যা বলছে, ব্যাপারটা তা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা রওনা হয়ে আসার আগে বালাক সিসিলিতে দলের অনুশীলন শিবিরে গিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে যে ও আসবে, সেটা আগেই ঠিক করা ছিল।’
লামের সাক্ষাৎকার ছাপা হওয়ার দিনই বালাকের চলে যাওয়াটা যে শুধুই একটা কাকতাল ঘটনা, বিয়েরহফ সবাইকে বলছেন সেটাই, ‘এটা আসলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিলে গেছে। জার্মানি ফাইনালে গেলে সে আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় আসবে।

ফেসবুকের কল্যাণে

নাইজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবার সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের কাছে চিরঋণী হয়ে গেল। সুপার ইগলদের আকাশে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা, ঠিক তখনই ফেসবুক ব্যবহারকারীরাই পার করল তাদের। নাইজেরিয়ার বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিষিদ্ধ করেছিলেন নাইজেরিয়াকে। আবার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে ফিফার কালো তালিকায় পড়তে হতো ফুটবল ফেডারেশনকে। তবে ফেসবুকে একের পর এক অনুরোধ ও পরামর্শ পেয়ে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনের মতি ফিরেছে। জনাথন জানিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে আসলে ফেসবুকে আসা শত শত পোস্টের ভূমিকাই বেশি। ফেসবুকের সেই সব অনুরোধকারীর পরামর্শ নাকি ফেলতে পারেননি শেষতক।

ফুটবল ও প্রযুক্তি

বিশ্বকাপ প্রায় শেষ হতে যাচ্ছে। এ লেখা ছাপাখানায় গেছে প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কিছু আগে। তাই সরাসরি খেলার বিষয়ে না বলে অন্য একটা বিষয় তুলি, কয়েক দিন ধরে যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইংল্যান্ড এবার দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিলেও একটা বিষয়কে বোধ হয় অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। ফুটবলেও খেলা পরিচালনায় প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারটা বোধ হয় আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ল্যাম্পার্ডের গোলটা টাচলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে নিশ্চিত গোল বলে প্রমাণিত হতো। ইংলিশ মিডিয়া তাদের প্রতি অবিচারের কথা সারা বিশ্বে তোলপাড় তুলে বলতে পেরেছে। ফলে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটি জোরালো মতামত তৈরি হয়েছে। ম্যারাডোনার ‘ঈশ্বরের হাত’-খ্যাত গোলটি যদি ফুটবলপাগল ইংল্যান্ড না হয়ে অন্য কোনো দেশের বিপক্ষে হতো, তাহলে তা এত কুখ্যাতি পেত কি? ঠিক সে রকম তাঁর ছয়জনকে কাটানো ঐন্দ্রজালিক দ্বিতীয় গোলটি যদি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না হতো, তাহলে সেটিও এত বিখ্যাত হতো কি না, জানি না।
সে যা-ই হোক, এবারের বিশ্বকাপের কিছু খেলার বিতর্কিত পরিচালনা নিয়ে ফিফা এখন চাপে আছে। ফিফার প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার ফুটবলের রেফারিংয়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে এত দিন অনমনীয় থাকলেও এখন নরম হয়েছেন। তিনি এখন বলছেন, ২০১৪ সাল থেকে বল গোললাইন অতিক্রম করল কি না, সেটা নির্ধারণ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করার প্রস্তাব থাকবে।
কিন্তু ব্যাপারটা কী করে সম্ভব, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। ফুটবল হচ্ছে একটানা চলা একটি সার্বক্ষণিক উত্তেজনার খেলা। এখন যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য নির্ধারিত বিরতির বাইরে বারবার খেলা বন্ধ করতে হয়, তাহলে আবার আগের রেশ ধরে খেলা চালু করা যাবে কি? কতবার যে একটি খেলায় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই! সেটা কোনো খেলায় একবারও প্রয়োজন না হতে পারে, আবার কোনো সময় হয়তো বারবার প্রয়োজন হবে। তা হলে খেলা শেষ হওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো সময়ও হয়তো দেওয়া যাবে না। শেষে ফুটবলের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে না তো?
তার চেয়ে সহজ হলো পরিচালনার মান উন্নত করা। এ ব্যাপারে ফিফা অনেক পরিকল্পনা নিতে পারে।
ফুটবলের জনপ্রিয়তার কথা যখন এল, তখন আলোচনাটি একটু পেছনে টেনে নিই। বাংলা সাহিত্যে এযাবৎকাল লেখা ক্রিকেটের ওপর শ্রেষ্ঠ বই শংকরীপ্রসাদ বসুর রমণীয় ক্রিকেট। সে বইয়ের প্রথম পরিচ্ছেদে ক্রিকেট ও ফুটবলের জনপ্রিয়তার ওপর তুলনামূলক একটি আলোচনা আছে। ষাটের দশকে কলকাতা থেকে প্রকাশিত এ বইটিতে স্বীকার করা হয়েছে, ফুটবল ক্রিকেটের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়, তবে একটা বিরাট কিন্তু আছে—পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেট গ্রিক নাট্যের মতো জীবনের উত্থান-পতনকে প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, ফুটবল বেশি জনপ্রিয় হয়তো বা, কিন্তু ক্রিকেট অধিকতর জীবনঘনিষ্ঠ।
শংকরীপ্রসাদ বসুর কথা ধরে বলা যায়, ফুটবল নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কেননা এটা খেলতে সহজ, আর উপকরণ লাগে খুব কম। বিশ্বের চার ভাগের তিন ভাগ মানুষ গরিব, কিন্তু ফুটবলটা তারা সহজে খেলতে পারে। পেলে, ম্যারাডোনাসহ লাতিন আমেরিকার নামকরা অনেক খেলোয়াড়ই প্রায় বস্তি থেকে উঠে এসেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেটের ঘরানা তৈরি করেছে জমিদার শ্রেণী, আর ফুটবলার তৈরি হয়েছে শহরের দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল কিংবা গ্রামাঞ্চল থেকে। আমাদের অঞ্চলের এককালের নামকরা ফুটবলার ‘জাদুকর’ সামাদ (বিহারের পূর্ণিয়ায় জন্ম, কিন্তু পরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিবাস গড়েন) ক্লাস এইটে স্কুল ছেড়ে দেন, সম্ভবত দারিদ্র্যের কারণেই।
কিন্তু ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেট বেশি জীবনঘনিষ্ঠ—শংকরীপ্রসাদের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া যাচ্ছে না। কেননা, শুধু সহজলভ্যতাই ফুটবলের জনপ্রিয়তার কারণ নয়। ফুটবল খেলাটার দর্শন যদি কিছুটা বোঝার চেষ্টা করি, দেখব যে মানবজীবনের অপার রহস্যের সঙ্গে এরও ঘনিষ্ঠ মিল আছে। জীবনের এ রহস্যের উত্তর রবীন্দ্রনাথ জীবনের ‘প্রথম দিনের সূর্য’ হয়ে প্রশ্ন করে পাননি, পাননি ‘দিবসের শেষ সূর্য‘ হয়ে প্রশ্ন করেও। ফুটবলের প্রাণ হচ্ছে এর অপার ঐন্দ্রজালিকতা।
এ ঐন্দ্রজালিকতা আছে খেলাটার প্রকৃতিতে। মানুষ তার হাত দিয়ে নয়, পা দিয়ে একটি চামড়ার গোলককে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানেই ঘটছে জাদুর ব্যাপারটা। কবি যেমন শূন্য থেকে শব্দের চেহারায় ফুল পেড়ে আনেন, তেমনি ফুটবলাররা যেন শূন্য থেকে ছোঁ মেরেই নিয়ে আসেন একেকটি গোল।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জার্মানির দেওয়া আটটি গোলই ছিল এমন শূন্য থেকে সৃষ্টি করার কবিত্বে মাখা। এ জন্যই পেলে বা ম্যারাডোনার খেলাকে ‘পোয়েট্রি ইন মোশন’ বা চলমান কবিতা বলা হয়।

ফুটবল রোমাঞ্চের হাতছানি

ফুটবলের আনন্দপিয়াসী মন বলছে স্পেন। কিন্তু মস্তিষ্ক বলছে ১২তম বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠা জার্মানি। স্বপ্নবিলাসী মন বলছে প্রথমবার শেষ চারে দাঁড়ানো স্পেন। জার্মানির নাম বলছে বাস্তবতা। মাঠে প্রকাশিত ফুটবল ডাকছে জার্মানিকে, অপ্রকাশিত ফুটবলের জাদু হাতছানি দিচ্ছে স্পেনকে।
আজ মোসেজ মাভিদা স্টেডিয়ামে কে জিতবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, বলা যাচ্ছে না। জার্মানি জিততেই পারে, স্পেনও পারে। তবে এটা ঠিক, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে রোমাঞ্চকর, সবচেয়ে স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচটি দেখতে যাচ্ছে ডারবান।
কেপটাউন থেকে ডারবান প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার দূরের পথ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধের পর সবচেয়ে সমস্যাসংকুল দিক হলো পরিবহন। অভ্যন্তরীণ বিমানের টিকিট সোনার হরিণ, দূরগামী আরামদায়ক বাসও সহজলভ্য নয়। তবু জার্মানি-স্পেন ম্যাচ দেখার কী আকুতি মানুষের মধ্যে। অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়িতে ১৬-১৭ ঘণ্টা ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ যাত্রা শুরু করেছেন। জার্মানি জিতুক আর স্পেন, তাঁরা সেখান থেকে একটু রোমাঞ্চ নিয়ে ফিরতে চান।
জার্মানির তারুণ্যদীপ্ত দল রোমাঞ্চই উপহার দিয়ে এসেছে এ পর্যন্ত। খেলছে বরং খেলার আনন্দে। এখানেই স্পেন একটু পিছিয়ে। তারা সুন্দর পাসিং ফুটবলের পসরা পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি। মাঝে মাঝে কিছু ঝলক অবশ্য দেখিয়েছে। প্রথমে দেখাল চিলির বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। তারপর পর্তুগালের সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয়ার্ধে। কোয়ার্টার ফাইনাল আবার তাদের নামের পাশে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। দুটো পাল্লায় স্পেন ও প্যারাগুয়েকে তুললে প্রায় সমান সমান হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক কষ্টে ভিয়ার ভেলায় পার পেল তারা। এই স্পেন জার্মানির সঙ্গে কি করে পারবে?
একটাই আশা, তারা ফুল হয়ে ফুটবে এই ম্যাচে। দেখাবে পাসিং ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনী। মাঝমাঠে জাভি, ইনিয়েস্তারা বল নিয়ে খেলবেন জাদুকরের মতো। জাবি আলোনসো, সার্জিও বুসকেটসরা রক্ষণে ঢুকতে দেবেন না পোডলস্কি, ওজিল, ক্লোসাদের। দুই উইংব্যাক সার্জিও রামোস-ক্যাপডেভিয়া আর্জেন্টিনার ওটামেন্ডি-হেইঞ্জের মতো ভীতু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। গোলপোস্টের নিচে ইকার ক্যাসিয়াস আবার যেন বিশ্বস্ত শেষ প্রহরী। যাকে ঘিরে রইবে জেরার্ড পিকে ও কার্লোস পুয়োলের প্রতিরক্ষা দেয়াল। আর সামনে ফার্নান্দো তোরেসকে নিয়ে থাকবেন এই বিশ্বকাপকে নিজের করে নিতে মরিয়া গোলবুভুক্ষু ডেভিড ভিয়া।
ফার্নান্দো তোরেস? আগের দিন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক যেমন আভাস দিলেন, তাতে তোরেসের মনে হয় জায়গা হচ্ছে বেঞ্চে। আর্সেনাল প্লে-মেকার সেস ফ্যাব্রিগাসকে নিয়ে তিনি পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। আগের ৪-৩-৩ ছকটা বদলে ৪-৫-১ করে ফেলতে পারেন। একমাত্র স্ট্রাইকার ভিয়ার পেছনে থাকবেন ফ্যাব্রিগাস। কোচরা যখন ম্যাচের আগে ছক পর্যন্ত বলে ফেলেন, ধরে নেবেন এটা স্থায়ী কিছু নয়। ম্যাচেই বদলে যেতে পারে তাদের ছক ও পরিকল্পনা। এটা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। যে দল যত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর পরিকল্পনায় যেতে পারে, সেই দল তত সাফল্যমুখী। জার্মানি যেমন দেখাচ্ছে। ‘ডাই ম্যানশাফট’দের মূল ছক ৪-২-৩-১। কিন্তু কখনো খেলতে খেলতে ৪-৪-২ হয়ে যাচ্ছে, কখনো ৪-৪-১-১। ছক সাজিয়ে কি লাভ হয় সব সময়? আসলে যোগ্য খেলোয়াড়েরাই একটা ছক গড়ে তোলে। ২০০৯ ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা কয়েক তরুণ হঠাৎ করেই যোগ্য খেলোয়াড়ের প্রাচুর্য বয়ে এনেছেন দলে। এই জার্মানি ইঞ্জিন নয়। এরা খেলতে জানে, প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে জানে। জয়ের আনন্দটা উপভোগ করতে জানে। একুশ-বাইশের তরুণ কাঁধ যেন বত্রিশের মতো ভারবাহী। মাইকেল বালাক সেদিন কেপটাউনের গ্যালারিতে মুগ্ধ চোখে উত্তরসূরিদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকলেন এটি দেখেই।
জার্মানিকে কীভাবে বদলে ফেললেন জোয়াকিম লো! গত বিশ্বকাপে ছিলেন ক্লিন্সমানের সহকারী। খেলেছেন ফ্রেইবুর্গের মতো সাধারণ মানের এক বুন্দেসলিগা দলে, জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ছিল দূরের বাতিঘর। সেই লোই এখন এক স্বপ্নপুরুষ। পরশু তিনি ফাঁস করে দিলেন রেসিপিটা, ‘আমি এখনো ফুটবলের একজন অনুরক্ত ভক্ত। সব দেশের খেলা দেখি। আমি ইংল্যান্ডের ফুটবল থেকে নিয়েছি গতি। স্পেনের ফুটবল থেকে নিয়েছি স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ, ইতালির ফুটবল আমাকে দিয়েছে প্রতিরোধের দীক্ষা।’ লো যেটি বলেননি, তা জার্মানির হার না মানা মানসিকতা। স্নায়ুকে ইস্পাতকঠিন করে রাখা। এটাই আসল। যা আপনার চরিত্রের সঙ্গে মিশে আছে, তা আপনি নষ্ট করবেন না। তাহলেই মেকি হয়ে গেলেন। যেমন ব্রাজিল তার সুন্দর ফুটবল ছেড়ে বাস্তুহারা।
ভিসেন্তে দেল বস্ক নিজেদের পাসিং ফুটবলের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে আজ কি জার্মান হতে চাইবেন? নিশ্চয়ই একবার ভাববেন, দুবার ভাববেন, বারবার ভেবে ভেবে নিজেদের ঐতিহ্যকেই আঁকড়ে ধরবেন।
স্প্যানিশরা জার্মানিকে ‘ফেবারিট’ বলে চাপটাকে সরিয়ে রাখতে চাইছেন। ইকার ক্যাসিয়াসের কাছে এটি তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, ‘আমরা সেমিফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছি। কিন্তু এখানেই আটকে থাকতে চাই না। শিরোপা নিয়ে পা ফেলতে চাই মাদ্রিদে। এই ম্যাচ আমাদের কাছে ২০০৮ ইউরোর ফাইনালের চেয়েও বড়।’
পরস্পরের পিঠ চাপড়ানি চলছে। জার্মান গ্রেট জার্ড মুলারকে রেকর্ড বই থেকে সরিয়ে দেওয়ার পথে পা ফেলা মিরোস্লাভ ক্লোসা প্রশংসার ডালি সাজিয়েছেন স্পেনের জন্য, ‘ভিয়া অসাধারণ। ওর খেলা দেখি আর মুগ্ধ হয়ে যাই। স্পেন দলটিই তো প্রতিভায় ভরা। ওদের সঙ্গে খেলা খুব কঠিন।’ প্রশংসা শেষে আসল কথাটা ঠিকই বলে দিয়েছেন বিশ্বকাপের ১৪ গোলের মালিক, ‘স্পেন অসাধারণ, তবে অজেয় নয়। আমাদের এই দলটি গত বিশ্বকাপের চেয়ে আলাদা, গত ইউরোর চেয়েও অন্য রকম।’ ক্লোসার নতুন করে এ কথা বলার দরকারই ছিল না।
কেপটাউন, জোহানেসবার্গ, ডারবান—সারা দক্ষিণ আফ্রিকায় জুয়ার হাউসগুলোয় ব্যবসা রমরমা। বাজিতে জার্মানি এগিয়ে। তবে স্পেনের পক্ষে বাজি ধরে বেশি টাকা কামানোর ধান্ধায় অনেকেই। ৪৪ বছর পর ইউরোজয়ী দলটি প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তো যেতেই পারে।