Showing posts with label গাজীপুর. Show all posts
Showing posts with label গাজীপুর. Show all posts

Thursday, April 9, 2026

বনে গ্রাম্য সড়কের পাশে পড়ে ছিল মেছো বিড়াল

প্রকাশ ১৮ মার্চ ২০২৬ঃ বিস্তৃত ভাওয়াল সবুজ বন। পাশ দিয়ে চলে গেছে গ্রাম্য সড়ক। এমন নির্মল পরিবেশে সড়কের পাশে দেখা গেল মরে পড়ে আছে একটি মেছো বিড়াল। সেটি ঘিরে গ্রামবাসীর কৌতূহল। পরে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত গাড়িচাপায় প্রাণ গেছে প্রাণীটির। আজ বুধবার সকাল ৯টায় গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী গ্রামে বনের পাশের সড়কে এই গ্রাণীর মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষক জয়নাল আবেদীন এ সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি মাওনা যাওয়ার সময় তাঁর বাড়ির পাশের একটি বনের অদূরে সড়কে মরে পড়ে থাকতে দেখেন মেছো বিড়ালটিকে। এর শরীরে ছোপ ছোপ কালো দাগ। কিছু অংশে বাদামি রঙের পশম। বিড়ালের চেয়ে বড় আকারের এই প্রাণী তাঁদের এলাকায় ‘মেছো বাঘ’ নামে পরিচিত। তিনি পরে জানতে পেরেছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি গাড়িতে চাপা পড়ে প্রণীটির প্রাণ গেছে।

বনাঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে এই শিক্ষকের ধারণা, খাবারের সন্ধানে মেছো বিড়ালটি লোকালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এরপর হয়তো এটি গাড়িচাপায় পড়ে। সম্প্রতি এই সড়কে বেজি, গুইসাপসহ নানান প্রাণী মারা পড়তে দেখা গেছে। বনে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় এসব প্রাণী লোকালয়মুখী হচ্ছে।

ওই এলাকার বনবেষ্টিত দক্ষিণ বারোতোপা গ্রামের বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম জানান, বনের প্রাণীগুলো বিভিন্ন কারণে প্রায়ই মারা যাচ্ছে। এই বনগুলো একসময় প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ছিল। এগুলো রক্ষা করতে জনসচেতনতা দরকার। তিনি বলেন, সবাইকে সচেতন করতে পারলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের শালদহপাড়া গ্রামে সড়কে একটি গর্ববতী হরিণের মৃত্যু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, হরিণটি রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপায় পড়েছিল। এ ছাড়া ওই বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনে খাবারের সংকটের কারণে বিভিন্ন সময় অনেক প্রাণী বাইরে বের হয়ে আসে। সড়কে যানবাহনচাপায় অনেক প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।

এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের শ্রীপুর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, তাঁরা ভেরামতলী গ্রামে একটি মেছো বিড়ালের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন। পরে খোঁজ নেওয়ার জন্য সেখানে বন বিভাগের লোক পাঠানো হয়েছে।

বনের পাশের সড়কে এই মেছো বিড়ালটির মরদেহ পাওয়া যায়। বুধবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী গ্রামে
বনের পাশের সড়কে এই মেছো বিড়ালটির মরদেহ পাওয়া যায়। বুধবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী গ্রামে। ছবি: সংগৃহীত


Thursday, February 12, 2026

গাজীপুরের শ্রীপুরঃ কেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজনকে প্রত্যাহার

গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর একাংশ) আসনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী ভোটার। পরে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। হারেছা গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, সালমা দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে লাকী বেগম নামের এক নারী ভোটার সকালে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান। এক ঘণ্টা পর ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকক্ষে গিয়ে দেখেন, তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানান। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারীর ভোটারের ভোট অজ্ঞাত একজন দিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে
গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারীর ভোটারের ভোট অজ্ঞাত একজন দিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলো

Monday, August 25, 2025

সরকারি চাকরি যেন আলাদীনের চেরাগ by শরিফ রুবেল

তিনি একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। চাকরি করেন গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে। চড়েন ব্যক্তিগত গাড়িতে। হাতে লাখ টাকার ঘড়ি। ড্রাইভার, কাজের লোক, আয়া-বুয়া সবই আছে। ছেলে মেয়েদেরও নামি স্কুলে পড়ান। আছে ফ্ল্যাট কেনার শখ। সুযোগ পেলেই এখানে সেখানে ফ্ল্যাট ও জমির শেয়ার কেনেন। ফাইল আটকিয়ে ভবনের মালিকানা শেয়ারও লিখে নেন। বিনিয়োগ করেছেন আবাসন প্রকল্পেও। তিনি গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। যিনি ১০ বছরের চাকরিজীবনে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সরকারি চাকরি নয়, যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। গাজীপুর চোরাস্তা এলাকায় করেছেন ৪টি বাড়ি। শহরে রয়েছে আরও ৭টি ফ্ল্যাট। পরিবারের সদস্যদের নামেও জমি কিনেছেন বিভিন্ন স্থানে। তবে চাকরি ছাড়া বৈধ আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই মুরাদ আলীর। গত কয়েকদিনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুরাদ আলীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্জিত অধিকাংশ বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি তিনি স্ত্রী রোকসানা পারভীন, বাবা আশরাফুল আলম খান, বোন মাহমুদা আক্তার ও বন্ধু আনিসুর রহমানের নামে কিনেছেন। তবে পার্টনারশিপে কিছু জমি তিনি নিজের নামে কিনে সেখানে ভবন করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদনে প্রতিটি ফাইলে ‘এম’ চিহ্ন লিখে দেন মুরাদ। এম চিহ্ন ছাড়া কোনো ফাইলই অনুমোদন হয় না। এই বিশেষ চিহ্ন মানে তিনি এই ফাইল ডিল করেছেন এবং উৎকোচ নিয়েছেন।

মুরাদের নামে বেনামে যত সম্পদ: মানবজমিন অনুসন্ধানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মো. মুরাদ আলীর সদরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, কমার্শিয়াল স্পেস, প্লট, বাড়ি ও জমি পাওয়া গেছে। পার্টনারশিপে জমি কিনে ভবন করে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করেছেন মুরাদ। এরমধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের চৌরাস্তা নলজানি গ্রেটওয়াল সিটি কাঁচাবাজারের অপর পাশে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে দু’টি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। যা মুরাদ আলীর বোন ও স্ত্রীর নামে রয়েছে। এই ভবনের নকশা অনুমোদনে মুরাদ আলীর সহায়তা রয়েছে। এর পাশেই নলজানি ৭ নম্বর রোডের সি-ব্লকে গণসেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অপরপাশে নির্মাণাধীন দু’টি ১০ তলা ভবনের দু’টি ফ্লোর রয়েছে মুরাদ আলীর। এই দু’টি ভবনের গাউকের ছাড়পত্র আটকে দিয়ে ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নিজে যুক্ত হন মুরাদ আলী। পরে শেয়ারে তিনি এই বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। মুরাদ আলীর সবচেয়ে উচ্চ মূল্যের সম্পদ রয়েছে গাজীপুর সিটির চৌরাস্তা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালের মাঠ শহীদ বরকত সরণি রোডে। এখানে তার স্ত্রী রোকসানা পারভিন, বাবা আশরাফুল আলম খান ও বন্ধু আনিসুর রহমানের নামে তিনটি শেয়ার রয়েছে। ১০ জনের পার্টনারশিপে পাশাপাশি ৩টি আলিশান বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন মুরাদ আলী। ভবনের নাম সানরাইজ টাওয়ার। প্রতিটি ১০তলা করে ভবনের নির্মাণকাজ চলমান আছে। ইতিমধ্যে ৩ নম্বর ভবনের নিচতলা একটি ওষুধ কোম্পানির কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

সানরাইজ টাওয়ারের ঠিক উল্টোপাশে পার্টনারশিপে ২৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমিটি তার বোনের নামে কেনা হয়। যার বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা। যার দলিল নং-৬৯৫/২৫। এই জমিতে একটি কাপড়ের গোডাউন রয়েছে। সম্প্রতি মুরাদ আলী নিজের বসবাসের জন্য একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটি গাজীপুর ডুয়েটের অপরপাশে পশ্চিম ভূরুলিয়া সাত্তার সরণি (রাঙ্গামাটি নীড়) রোডের শেষ মাথায়। এটি ৫ তলাবিশিষ্ট ভবন। এর পাশেই একটি ৭ তলা ভবনে ২৫০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট আছে তার। ভবনটি মিতালি ভবন নামে পরিচিত। এটি সিটি করপোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই ভবনের অনুমোদনেও জালিয়াতি করেন মুরাদ আলী। গাজীপুর শিমুলতলী এলাকায় মুরাদ আলীর ২০০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এটি ওই এলাকার চক্ষু হাসপাতাল রোডসংলগ্ন সেলিম ভিলা রোডের সেলিম ভিলার পাশে। যার হাউজ নং ৪৭৭/১, সাউথ চত্বর গাজীপুর। ভবনের নাম বন্ধন ভিউ। ফ্ল্যাট নং-৩ সি। এই ভবনের রাজউকের ছাড়পত্র আটকে দিয়ে তিনি এই ফ্ল্যাট লিখে নেন। বর্তমানে তিনি ফ্ল্যাটটি বিক্রির চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ও খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় মুরাদ আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীনের নামে ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। মুরাদ আলীর গাজীপুর চাপুলিয়া মৌজায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এসব জমি কেনেন। এ ছাড়া মুরাদ আলী ও কয়েকজন পার্টনারশিপে কেনা নামে দু’টি দলিল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে দলিল নং-৪১৬৫/১৫। জমি ৬.৬০ শতাংশ। আরেকটি দলিল নং-৬০৩২/১৫। জমি ৩.৩০ শতাংশ। এ ছাড়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামেও বাবা ও ভাইদের নামে জমি কিনেছেন মুরাদ। মুরাদ আলী ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে অফিসে আসেন। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ- ১৩-০৮১৩।


স্ত্রীর নামে কোটি টাকার ডেভেলপার কোম্পানি: মুরাদ আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীনের একটি ডেভেলপার কোম্পানি রয়েছে। পনেরো ইঞ্জিনার্স হোল্ডিং লিমিটেড নামের এই কোম্পানির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করলেই অটো রাজউকের অনুমোদন মেলে। এই কাজে সহায়তা করেন ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। এই কোম্পানি দিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় অনেক ভবন নির্মাণ ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন মুরাদ আলী।

ঘুষ নিয়ে যত ফাইল পাস:
গাজীপুর সিটি এলাকায় বাড়ি মালিকদের আতঙ্কের নাম ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী। কোনো ভবনের প্লান পাস করতে গেলেই মুরাদ আলীর ইশারা থাকতে হয়। গাউকের বেশির ভাগ ফাইলের পেছনে এম চিহ্ন দেয়া থাকে। জয়দেবপুর মৌজায় ড্যাপের নকশায় চিহ্নিত জলাশয়ে ১৩ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড করেছেন মুরাদ আলী। গত বছর ২৬শে নভেম্বর গাউক  থেকে এই ফাইল অনুমোদন হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ভূমি ছাড়পত্রটি গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর মৌজার সিএস-৮৭৫ (অংশ), আরএস-২৪৫৩ (অংশ) খন্দকার নাজিমউদ্দিন গং অনুমোদন পান। যার স্মারক নং-১৫০৫.২৪.১৬৮১। বরুদা এলাকায় ৩৬ শতাংশ জমিতে এই ভূমি ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (২০২২-২০৩৫) বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আবাসিক এলাকা দেখিয়ে এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।

প্রস্তাবিত জমির পশ্চিম পাশে ২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দেখানো হয়েছে। যাতে এ-৫ ক্যাটাগরিতে ১০ তলা বা তদূর্ধ্ব সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমতি নেয়া যায়। অথচ জমিটি চিহ্নিত জলাশয় এলাকা। এ ছাড়া ঘুষের মাধ্যমে মুরাদ আলী ফাইল পাস করেছেন তার কয়েকটি নথি মানবজমিনের হাতে এসেছে। এরমধ্যে ছাড়পত্রের নথি নং-১৪৩৫/২৪ একটি। ফাইলটি লুৎফর রহমানের নামে জমা হয়। মৌজা আড়াইশ’ প্রসাদ। নথি ইস্যু হয় মো. আব্দুস সোবাহান গং নামে। মৌজা আরিচপুর।  আব্দুস সোবাহানের নামে যে নকশা অনুমোদন হয় তার নথি নং-১৫৯/২৫। এই ২টি ফাইলেই ছাড়পত্র জালিয়াতি করা হয়। এ ছাড়া জয়দেবপুরে একটি নকশা অনুমোদনে ভবনের সামনের ১০ ফিট রাস্তাকে ২০ ফিট দেখিয়ে ১১ তলার অনুমোদন  নেয়া হয়। কাজী শায়লা শারমিন গং নথি নং ৬২/২৫। এটি ১১ তলা বিল্ডিং প্লান  দেয়ার জন্য ২০ ফিট রাস্তা প্রয়োজন। কিন্তু মুরাদ টাকার বিনিময়ে ১০ ফিট রাস্তা থাকা এলাকাকে বিশেষ প্রকল্প এলাকা দেখিয়ে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। এ ছাড়া আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেডের সকল ভবন গাউকের অনুমোদন ছাড়াই করা। বর্তমানে মুরাদ তাদের ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছে। ভূমি ছাড়পত্র ব্যবহার, ত্রুটিপূর্ণ জমিতে বিশেষ প্রকল্প দেখিয়ে ছাড়পত্র অনুমোদন করা হয়। এটারও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র হয়েছে। গত কয়েক বছরে গাউক থেকে ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ৯ তলা এবং ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে ১১ থেকে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করেছে ভবন মালিকরা। মুুরাদ আলী রাজউকের নথি ধরে ধরে এসব ভবন মালিকদের নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ পাঠান। কাউকে কাউকে মোবাইল ফোনে ভবন গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযানের হুমকি দেন। পরে কৌশলে ওই মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন মুরাদ। এমন অসংখ্য অভিযোগের কপি মানবজমিনের হাতে রয়েছে।

যা বলেছেন মুরাদ আলী: জানতে চেয়ে ইমারত পরির্দশক মুরাদ আলীকে ফোন করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রথমত আমি ফোনে কথা বলতে চাই না। আমার সঙ্গে কথা বলতে হলে গাজীপুর আসতে হবে। আর আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নামে যত সম্পদ রয়েছে সব বৈধ। অল্প বেতনে কীভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ করলেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব আমার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করা আছে। ট্যাক্স ফাইলে কোনো সম্পদের তথ্য নেই। এই তথ্য জানানো হলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

mzamin

Wednesday, April 2, 2025

দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু: সন্তানের জন্মের এক ঘণ্টা পর তাঁকে দাফন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার (২৬)। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় ছেলের জন্মের মাত্র এক ঘণ্টা পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

নিহত রনি সিকদারের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শাহানশাহগঞ্জ ছোনাট এলাকায়। তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে গতকাল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী রনি সিকদারের মৃত্যু হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রনি সিকদারের স্ত্রী সুমি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর অস্ত্রোপচার করার জন্য ছুটি নিয়ে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গতকাল সকালে মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার পথে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় পৌঁছালে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উল্টো পথে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই পুলিশ সদস্য। খবর পেয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাইওয়ে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রনির লাশ যখন বাড়িতে পৌঁছায় তখন তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তারকে অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরিভাবে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া আটটায় ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন সুমি। আর রাত ৯টার দিকে রনির জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী উপকমিশনার (সদর জোন) দ্বীন এ আলম বলেন, ‘রনি আমার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি স্ত্রীর সন্তান জন্মের খবরে ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন, কিন্তু পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রনির স্ত্রী একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।’

পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার
পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার। ছবি: সংগৃহীত

Thursday, February 13, 2025

‘ওর মৃত্যুতে দেশবাসী ছাড়া কাঁদার মতো কেউ নেই’ by মাসুদ রানা

পাঁচ বছর বয়সে বাবা পাড়ি দিয়েছেন পরপারে। তারও আগে মা চলে গেছেন অন্যের ঘরে। দেখভাল করতেন দাদি। দুই ভাই, এক বোনের সংসারে বড় ভাই আর দাদিও প্রয়াত হয়েছেন। একমাত্র বোন থাকে মায়ের সঙ্গে। এমন নিঃসঙ্গ ও অসহায় ছেলে আবুল কাশেমের পড়াশোনাও এগোয়নি খুব বেশি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ২০ বছর বয়সী ছেলেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে মারা গেলেন।

নিহত আবুল কাশেম গাজীপুর মহানগরের দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার প্রয়াত হাজি জামালের ছেলে। শুক্রবার রাতে মহানগরীর ধীরাশ্রম দক্ষিণখান এলাকায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের ওপর হামলা এবং তাঁদের আটকে মারধরের যে ঘটনা ঘটেছিল, তাতে আবুল কাশেমসহ ১৭ জন আহত হন। পরে কাশেমসহ গুরুতর আহত ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর শাখার সমন্বয়ক মো. আবদুল্লাহ বলেন, আবুল কাশেমকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার রাতে গাজীপুরের শিববাড়ী মোড় থেকে ডিসি অফিস পর্যন্ত মশাল ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজবাড়ী মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর বোর্ডবাজার–সংলগ্ন আল-হেরা সিএনজি পাম্প মাঠে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আজ আরও ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের মামলার সঙ্গে এখন হত্যা মামলার ধারাও যুক্ত করা হবে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার আল–হেরা সিএনজি পাম্প থেকে ৫-৬ কিলোমিটার পশ্চিমে আনাস মার্কেট। পাশেই আবুল কাশেমের বাড়ি। আজ বিকেল চারটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক নারী-পুরুষের ভিড়। সেখানে একটি দোকানের সামনে বসে নিহত আবুল কাশেমের ফুফু নাসিমা বেগম হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। অনেকে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনও ছুটে এসেছেন। পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে। ওই স্থান থেকে ৫ ফুট ভেতরে একটি ছোট তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন আবুল কাশেম। ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরের পর থেকে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। তবে ঘরের জানালাটা এখনো খোলা। সেই জানালার ফাঁকা দিয়ে দেখা যায় ঘরে খাট-পালং কিছুই নেই। ফ্লোরে একটি বিছানা পাতা আছে। ঘরের দেয়ালে টানানো একটি দড়িতে কাশেমের জামাকাপড় ঝুলে আছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, কাশেম নিজেই রান্না করে খেতেন। যার কারণে ঘরের মেঝের এক পাশে হাঁড়ি–পাতিল আর থালাবাসনও দেখা যায়। সেখানে কথা হয় কাশেমের দূরসম্পর্কের ভগ্নিপতি সজীব আহমেদের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আবুল কাশেমের বয়স যখন ৪-৫, তখন তাঁর মা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর তাঁর বাবা মারা যান। তাঁর বড় ভাই গত বছরের জুলাই মাসে অজ্ঞাত কারণে আত্মহত্যা করেন। মূলত তাঁকে দেখার মতো কেউ ছিল না। বোনও তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকে। কাশেম স্থানীয় একটি স্কুলে লেখাপড়া করেছিলেন। তবে বেশি দূর পড়া হয়নি।

নিহতের চাচা আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাতিজা স্থানীয় ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যোগ দেয়। তাকে হামলা চালিয়ে মারধর করে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই।’

নিহত কাশেমের চাচি সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে বাসার সামনে বসে আছি। ও বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার সঙ্গে শেষ কথা হয়। বলে চাচি আমি জয়দেবপুর যাচ্ছি, আসতে রাত হবে। এই বলে সে চলে যায়। সন্ধ্যার পরে শুনলাম ছাত্রদের সাথে কোথায় যেন গেছে। এরপরে শুনি কারা যেন ওরে মারধর করেছে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছে। ওর মৃত্যুতে কাঁদার মতো কেউ নেই দেশবাসী ছাড়া। ওর মৃত্যুতে যারা দায়ী, তাদের বিচার চাই।’

আবুল কাশেম
আবুল কাশেম। ছবি: সংগৃহীত

Tuesday, January 21, 2025

গাজীপুরে রেহানা পরিবারের বিপুল সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক by মারুফ কিবরিয়া

গাজীপুরে একের পর এক রিসোর্ট ও বাগানবাড়ির সন্ধান মিলছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা পরিবারের সদস্যদের। বিভিন্ন সময়ে কেনা এসব রিসোর্ট ও বাগানবাড়ি করা হয় অবসর সময় কাটানোর জন্য। সরকার পতনের পর কয়েকটি রিসোর্ট ও বাগানবাড়িতে বিক্ষুব্ধ মানুষের হামলার ঘটনাও ঘটে। যুক্তরাজ্যে রেহানাকন্যা টিউলিপের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ ওঠা এবং তার পদত্যাগের পর দেশেও রেহানা পরিবারের সদস্যদের সম্পদের খোঁজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য মিলেছে।

গাজীপুর মহানগরীর কানাইয়া। জয়দেবপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এলাকাটি। কাঁচা-পাকা রাস্তা আর সারি সারি গাছপালা। অনেকটা সবুজে ঘেরা এই কানাইয়ায় গড়ে উঠেছে শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও সদ্য পদত্যাগ করা বৃটিশমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের নামে একটি বাগানবাড়ি। প্রায় ৩৫ বিঘার ওপর নির্মিত বাগানবাড়িতে কী নেই! বাংলো, পুকুর, হরেক রকমের ফুল ও ফলের গাছ। এর নামকরণও করা হয়েছে টিউলিপের নামে ‘টিউলিপ’স টেরিটরি’।

সরজমিন ঘুরে জানা যায়, শুধু টিউলিপ সিদ্দিকের নামে বাগানবাড়ি নয়, গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে দেড়শ’ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে শেখ রেহানা পরিবারের। বাংলো, পুকুর আর সবুজে ঘেরা এসব বাগানবাড়ি নির্মাণ করে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের একান্ত সময় কাটানোর জন্য।
বাগানবাড়ির দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর কেউই আসেননি টিউিলিপ’স টেরিটরিতে। তারা আরও জানান, শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিক এ বাগানবাড়ি তত্ত্বাবধান করেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও মালিকদের বেতন-ভাতাও তিনি পরিশোধ করেন।
সরজমিনে আরও জানা যায়, টিউলিপ’স টেরিটরির দায়িত্বে রয়েছেন একজন নিরাপত্তারক্ষী আর দু’জন মালি। রোববার সেখানে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষী আবদুর রহিম ও মালি নজরুল ভূঁইয়ার দেখা মেলে।

নজরুল ভূঁইয়া জানান, তিন বছর ধরে টিউলিপ’স টেরিটরির মালির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই বাগানবাড়ির মালিক শফিক সিদ্দিক। স্যার এখানে আসেন না। আগে পরিবারের সদস্যরা সবাই আসতেন আবার চলে যেতেন। ৫ই আগস্টের পর তারা আর কেউ আসেনিন।
বেতন কীভাবে পান জানতে চাইলে নজরুল বলেন, বেতন আগেও স্যার পাঠিয়ে দিতেন এখনো ওভাবেই দেন।

বাগানবাড়িটির দায়িত্বে থাকা আবদুর রহিম মানবজমিনকে বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এখানে থাকি। গণ্ডগোলের পর থেকে কেউ আসেনি। ৫ই আগস্ট কারা যেন এসে দুটো বাংলো ভাঙচুর করে। গ্লাস ভেঙে গুঁড়ো করে দিয়ে গেছে। ভেতরে আসবাবপত্র ছিল লুটপাট করছে। আমরা তো নিরীহ মানুষ কাউকে কিছু বলতে পারিনি।

কানাইয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগেও এই বাগানবাড়ি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বাইরে থেকে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা দিতেন। এ ছাড়া যেদিন শেখ রেহানা পরিবারের সদস্যরা বেড়াতে আসতেন সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াদুদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এখানে বাগানটা ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে দেখছি। শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাদের। এলাকার মানুষের কাছ থেকে জমি কিনে কিনে বিশাল বাগানবাড়ি বানিয়েছে। যারা কাজকর্ম করতো তাদের কাছে শুনেছি পার্কের মতো সুন্দর করে সাজানো। আমরা লোকাল মানুষ কখনো ঢুকতে পারিনি।

আবদুস সোবহান নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই জায়গা আনুমানিক ৩৫ বিঘার ওপর আছে।

কানাইয়ার বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কথা বললে যদি কোনো বিপদ হয়। এই বাগানবাড়ি শেখ রেহানার মেয়েদের নামে বানানো। আসল মালিক তার স্বামী শফিক সিদ্দিক।

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর বাঙালগাছ এলাকায় ২৫ বিঘা জমির ওপর বাগানবিলাস, ২৩ বিঘা জমির ওপর ফাওকাল বাগানবাড়ি, ১৫ থেকে ১৬ বিঘা জমির ওপর কালিয়াকৈরে মৌচাকের বাগানবাড়ির তথ্য পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। সূত্র জানায়, স্থানীয়রা এগুলো শেখ রেহানার বাগানবাড়ি বলেন জানতেন, তবে  এগুলোর মালিকানায় রয়েছেন তার স্বামী শফিক আহমেদ সিদ্দিক, দেবর তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তাদের নিকট আত্মীয়-স্বজনের।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরীর ফাওকাল এলাকায় বাংলাদেশ সমরাস্ত্র ও টাকশালের পাশেই ২৩ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বাগানবাড়ি। বড় সীমানা প্রাচীরে ঘেরা, ভেতরে নান্দনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে সেখানে। ২০১২ সালে সনাতন ধর্মাবলম্বী স্থানীয় অনিল ও অক্ষয়দের থেকে কিনে এই বাংলো তৈরি করা হয়। ৩৫ লাখ টাকা বিঘা মূল্য ১৪ বিঘা জমি ক্রয় করা হয় এবং কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় ৮ বিঘার কোনো দাম দেয়া হয়নি। বর্তমানে সেখানকার বিঘা প্রতি জমির মূল্য আড়াই কোটি টাকা। জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বপনের মধ্যস্থতায় কেনেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শেখ রেহানার দেবর তারিক সিদ্দিক।

মহানগরীর বাঙালগাছ এলাকায় প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে আরেকটি বাংলো বাড়ি। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাগান বিলাস’। কয়েকশ’ গাছ নিয়ে বাংলোর ভেতরে চমৎকার পরিবেশ। অবকাশ যাপনের জন্য আছে তিন রুমের একটি দোচালা ঘর। পাশেই ছোট আরেকটি ঘর। সামনে বড় পুকুর, বিল। এ ছাড়া একটি ওয়াচ-টাওয়ারও রয়েছে ভেতরে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণের পূর্ব পাশে অবস্থিত ১৫-১৬ বিঘা জমির ওপরে আরেকটি বাংলো রয়েছে। যেটি শেখ রেহানার। প্রতি বছর শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যরা একান্ত সময় কাটাতে আসতেন। এ ছাড়াও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক করতেন এখানে।

দুদক জানায়, টিউলিপ’স টেরিটরিসহ শেখ রেহানা পরিবারের বেশ কিছু স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে সংস্থাটির অনুসন্ধানে। এসব স্থাপনার আনুমানিক মূল্য ১৬৫ কোটি টাকার বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত চারটি বাগানবাড়ির তথ্য আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে। এগুলো সরজমিন দেখা হচ্ছে। 

mzamin

Sunday, November 24, 2024

মর্মান্তিক!

গাজীপুরের শ্রীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, মীর মোজাম্মেল নাঈম, মুস্তাসিন নাহিন ও জুবায়ের আলম শাকিব। তারা সবাই গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (আইইউটি)’র শিক্ষার্থী। জানা গেছে, সকালে গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রায় ৪৬০ জন শিক্ষার্থী বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার বাসে করে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামের মাটির মায়া ইকো রিসোর্টে যান। তারা বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার ৬টি, তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বাসগুলো গ্রামীণ আঞ্চলিক সড়ক ধরে রিসোর্টের উদ্দেশ্যে উত্তর পেলাইদ গ্রামের যেতে থাকে। বাসগুলো গ্রামীণ সড়কের উদয়খালী বাজার পৌঁছালে বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার বাসটি বাজারের উপরে পল্লী বিদ্যুতের তারে স্পর্শ হয়। বাসে ৬০/৭০ জন যাত্রী ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকি দু’জনকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

গাজীপুর কালিয়াকৈর সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখানে কারও অবহেলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে গেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে তিন দিনের ভিতরে রিপোর্ট প্রদান করবেন।

mzamin

Thursday, September 19, 2024

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এখনও যোগ দেননি তারা অপকর্মে জড়িত’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সব সদস্য এখনও যোগ দেননি তারা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তাদের আর যোগ দিতে দেয়া হবে না।

বুধবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তা এবং ২৫তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সংস্কারের মাধ্যমে একটি দক্ষ, সুসংগঠিত, পেশাদার ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে যা যা করণীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি জরুরি মুহূর্তে আনসার বাহিনীর সদস্যগণ গভীর দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বিধানসহ কূটনৈতিক এলাকার সুরক্ষায় এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থানা, ট্রাফিক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ডিএমপির থানাগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এবং হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে পুলিশ বাহিনীর স্বল্পতার মাঝেও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সাহসিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করছে। তিনি জাতির জরুরি প্রয়োজনে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য বাহিনীটির সকল সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। উপদেষ্টা এ সময় মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন। এবং কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন।

mzamin

Sunday, September 8, 2024

গাজীপুর-আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলেছে

কঠোর নিরাপত্তায় গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকায় কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো খুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, শ্রমিক নেতা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের   আশ্বাস পাওয়ায়  গতকাল  সকালে নির্ধারিত সময়ে বেশির ভাগ কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। এর মধ্যে আবারো কয়েকটি কারখানা সাধারণ ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ জানায়, শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানা চালু থাকলেও বন্ধ রয়েছে নিউ এইজ, নাসা, অনন্ত ও শারমিনসহ কয়েকটি কারখানা। এগুলোতে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে সেসব কারখানায় কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কতোগুলো কারখানা বন্ধ রয়েছে বা ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে যেসব এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে,  সেসব এলাকায় নিরাপত্তা  জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার পার্ল গার্মেন্টসের সামনে  মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা। আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা।

এদিকে মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় বেশকিছু কারখানা আগে থেকেই বন্ধ আছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ১৭টি কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছে। আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে অস্থিরতা চলছে, অনন্ত অ্যাপারেলস, আল-মুসলিমসহ  বেশ কয়েকটি কারখানার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কোনো কারখানায় হামলা-ভাঙচুর কিংবা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা বিক্ষোভ করার পাশাপাশি কাজ না করে যার যার মতো কারখানা থেকে  বেরিয়ে চলে গেছেন। এদিকে শ্রমিকদের বাসায় থাকার অনুরোধ জানিয়ে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ইপিক গ্রুপের পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড কারখানাটি এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আশুলিয়ায় নরসিংহপুর এলাকার হামীম গ্রুপের  কার্যক্রম চলমান থাকলেও বন্ধ রয়েছে নিউ এইজ। নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা কারখানায় এলেও কার্ড পাঞ্চ করে বেরিয়ে গেছে। অনন্ত কারখানার শ্রমিকরা কারখানার  ভেতরে অবস্থান করলেও কাজ করছে না। আল-মুসলিমেরও একই অবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, সকালে কারখানায় প্রবেশের পর মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় ১১টার পর আমরা কারখানা থেকে চলে যাই। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, সকালে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও  কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন না বলে কর্তৃপক্ষকে জানান। এ সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় অনন্ত, আল-মুসলিমসহ  বেশকিছু কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানা থেকে  বেরিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আশঙ্কায় আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় ছুটি  দেয়া হয়। সব মিলিয়ে দুপুর পর্যন্ত ১৭টি কারখানা ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে।  এ ছাড়া কারখানার সামনে বিশৃঙ্খলার সময় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত কারখানা সংলগ্ন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে ও কারখানার সামনে  সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

এদিকে গাজীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে খুলে দেয়া হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। শনিবার সকাল থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করেছেন। কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ কারখানায় এসেছেন। কারখানা এলাকার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। টহলে রয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গত কয়েকদিন শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় গাজীপুরে বেশকিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। পরে বিজিএমইএ’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে সকল কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন মালিকরা। কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।  তারা বলছেন, হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা ছাড়া প্রকৃত শ্রমিকরা এ সময়ে তেমন কোনো আন্দোলনে নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহিরাগতরা সমস্যার সৃষ্টি করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে চান তারা।
মালিকপক্ষ বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে হামলা চালিয়ে, ভাঙচুর করে শিল্প খাতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি ও ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ জানান, সব কারখানাই খোলা রয়েছে। কারখানা এলাকায় নিরাপত্তায় প্রায় ৯শ’ শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। গাজীপুরের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা, লক্ষীপুরা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, কালিয়াকৈরসহ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো খোলা হয়। সবার প্রত্যাশা উৎপাদন কাজ স্বাভাবিক রেখে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে এই খাতকে সামনে রেখে।

Saturday, August 17, 2019

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বৃষ্টিতেও দর্শনার্থীদের সমাগম by রায়হানুল ইসলাম আকন্দ

ঈদের দিন গাজীপুরের আকাশ ছিল অনেকটাই পরিষ্কার। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বেড়িয়েছেন দর্শনার্থীরা। ঈদের পরদিন হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবারও (১৩ আগস্ট) পার্কটি খোলা ছিল। এদিন ভ্রমণপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ বুধবারও পার্কে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম চোখে পড়েছে।
মূলত ঈদের পরদিন থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিশেষ দিনগুলো ছাড়া স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে পার্কে। ছুটিতে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। আর ঈদের ছুটিতে তা হয়ে যায় কয়েকগুণ বেশি।
পার্কের ইজারাদার শেখ সফিকুর রহমান সফিক জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য পার্ক খোলা থাকে। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বুধবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে আবহাওয়ার কারণে ঈদুল আজহায় দর্শনার্থী সমাগম তুলনামূলক কম হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অভিভাবকের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ঈদ আনন্দ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। ঈদে পাঁচভাগের সবটিতেই ছিল দর্শনার্থীদের সমাগম।
বরাবরের মতোই এবারের ঈদেও বন্যপ্রাণীর প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল বেশি। প্রাণীজগতের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে সুবিশাল সবুজ প্রকৃতি উপভোগের জন্য ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ময়ূর, ধনেশ, ক্রাউন্ট ফিজেন্টসহ দেশি-বিদেশি নানান জাতের পাখির পাখিশালা, প্রজাপতি কর্নার, বিভিন্ন প্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র, মেরিন অ্যাকুরিয়াম, লেকজোন ও কুমির পার্ক সাফারি কিংডমের বৈচিত্র্য আনন্দ দিয়ে সবাইকে।
কোর সাফারিতে বাড়তি মাত্রা
বাঘ, সিংহ, সাদা সিংহ, ভালুক, চিত্রা, মায়া ও সাম্বার হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বক, আফ্রিকার ওয়াইল্ড বিস্ট, অরিক্স, কমন অ্যালান্ড, থমসন গ্যাজেল, জেব্রা, জিরাফ পার্কের কোর সাফারিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এগুলো আলাদা আলাদা সীমানা প্রাচীরের ভেতর উন্মুক্তভাবে বিচরণ করছে। পার্কের নির্ধারিত মিনিবাস-গাড়িতে চড়ে এসব প্রাণী দেখতে হয়। এজন্য রয়েছে ২৮-৩০ আসনের ছয়টি মিনিবাস। গাড়ির আসন অনুযায়ী দর্শনার্থীরা বেড়ানোর সুযোগ পান।
প্রবেশমূল্যে নজরদারির দাবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, ১৮ বয়সীদের নিচে দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা। শিক্ষা সফরে আসা বা সাধারণ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে জনপ্রতি টিকিট ফি ১০০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পার্কের কোর সাফারি
তবে ভাড়া নিয়ে আপত্তি জানালেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার খোকন মিয়া। গাজীপুরের এসএসআর সোয়েটার কারখানার নিটিং অপারেটর তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাফারি পার্কে ঘুরতে এসেছেন। তার মন্তব্য, ‘কোর সাফারি পার্কে ১৮ বছরের নিচে সবার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা অতিরিক্ত। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।’
একই আপত্তি তুললেন চুয়াডাঙ্গার শাহরিয়াত হোসেন ফয়সাল। মেয়েকে বাঘ দেখাতে নিয়ে এসেছেন। তার অভিযোগ, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য কোর সাফারি দেখার জন্য ১০০ টাকা করে টিকিট নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘোরাঘুরির সময় পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনও লোক সঙ্গে না থাকায় আমার ছেলে ও সঙ্গী কেউ বাঘ বা কোনও প্রাণীর দেখা পায়নি। এটি দর্শনার্থীদের সঙ্গে পার্ক কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতামূলক আচরণ।’
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আসার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল মাদারীপুরের সোনিয়া আক্তারের। এবার অফিস ছুটি ও বাড়িতে ঝামেলা না থাকায় সেই সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ঘুরে দেখলাম, ভালো লাগছে। তবে শিশুদের আলাদাভাবে বাঘ ও বিভিন্ন প্রাণী দেখানো গেলে অভিভাবকরা আরও উৎসাহ পেতেন।’
পার্ক কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে বন্ধু সোনিয়া আক্তারকে নিয়ে সাফারি পার্কে এসেছেন শফিকুল ইসলাম সুজন। তার অভিযোগ, পার্কের লোকজনের সঠিক তদারকি ও নিয়মশৃক্সখলা না থাকার কারণে অনেক দর্শনার্থী পরিবার নিয়ে এসেও না বেড়িয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাই বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এদিকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। পার্ক কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এই দর্শনার্থী।
কাপাসিয়া থেকে স্বামীকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছেন আমরিনা হক। তিনি বলেন, ‘এখানে দর্শনার্থীদের গাইড করার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। পার্ক কর্তৃপক্ষ শুধু দর্শনার্থীদের টিকিট দিয়েই খালাস, যেন তাদের কোনও দায়িত্ব নেই।’ এছাড়া বিভিন্ন প্রাণী দেখার জন্য ৩০ টাকা টিকিট নেওয়া হলেও তা চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ তার। এক্ষেত্রে কচ্ছপের উদাহরণ দেন তিনি।
তবে সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি বগুড়ার শেরপুরের ইসমাইল হোসেন। ঈদের ১৫ দিন আগে নতুন বিয়ে করেছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ি থেকে নতুন গাড়ি পেয়ে বউকে নিয়ে সাফারি পার্কে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই চাকরিজীবী।
পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রত্যেক সাফারির প্রবেশদ্বার ও কোর সাফারির ভেতরের উল্লেখযোগ্য স্থানে প্রাণীবৈচিত্র্যের নানান বৈশিষ্ট্য সংবলিত ফেস্টুন রয়েছে। এগুলো দর্শনার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রাণীর ব্যাপারে প্রাথমিক জ্ঞান লাভে সহযোগিতা করে। একদিনে ও অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে প্রাণীবৈচিত্র্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। পার্কটি প্রাণীবৈচিত্র্য নিয়ে নিয়মিত চর্চার নিরাপদ জায়গা।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রবেশপথ

Saturday, August 3, 2019

গাজীপুরে গরু মোটাতাজাকরণে ফ্যাক্টরির উচ্ছিষ্ট ও ক্ষতিকর তুলা by ইকবাল আহমদ সরকার

‘ঈদুল আজহা’কে সামনে রেখে গাজীপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন গরুর খামারি ও কৃষকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে গরুর পরিচর্যা। তারা বলছেন, ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। তবে দ্রুত সময়ে মোটাতাজা করতে কোথাও ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। কোথাও গো-খাদ্য হিসেবে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির উচ্ছিষ্ট, পরিত্যক্ত ও ক্ষতিকর তুলা ইত্যাদি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। যাতে পশুর স্বাস্থ্য ও মানব স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে যাতে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয় তা নজরদারি করতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মেডিকেল টিম গঠন করে জেলা জুড়ে মনিটরিং করছেন। পশুর রোগ প্রতিশোধক ভ্যাকসিনও পর্যাপ্ত রয়েছে।
এবার গাজীপুরে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু লালন পালন হচ্ছে কোরবানির জন্য। সরকারি হিসেবে প্রায় অর্ধলক্ষ গরু এবার গাজীপুরের কয়েক হাজার ছোট-বড় খামারে মোটাতাজাকরণ ও লালন-পালন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সলিম মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. তরিকুল ইসলামের নির্দেশে গত ২৪শে জুলাই মৎস্য খাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ এর আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় গো-খাদ্য হিসেবে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির উচ্ছিষ্ট, পরিত্যক্ত ও ক্ষতিকর তুলা বিক্রির অভিযোগে মকবুল নামে একজনকে আটক করা হয়। তাকে বর্ণিত পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ প্রাপ্ত উচ্ছিষ্ট তুলা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া তারেক নামের অপর এক ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান উচ্ছিষ্ট তুলা, তুলা মেশানোর মেশিন ও জেনারেটর জব্দ করা হয়। অভিযানের পূর্বেই তারেক পালিয়ে যয়। অভিযানের সময় আশেপাশে উপস্থিত জনগণকে উচ্ছিষ্ট তুলা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলে পশুস্বাস্থ্য, মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে তার সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফিন। খামারি, কৃষক ও শ্রমিকরা জানান, ঈদে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খামারের পাশাপাশি গরু মোটাতাজা করছেন জেলার অনেক কৃষক। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং গতবার লাভ কিছুটা কম হাওয়ায় এবার খামারে গরু পালন কিছুটা কমেছে। এবার মাঝারি সাইজের গরু লালন পালন বেশি হচ্ছে। যেগুলোর দাম এক লাখ টাকার মতো। তারা মনে করেন, এক লাখ টাকার চেয়ে বেশি দামের পশু কোরবানি দেয়ার লোকের সংখ্যা খুবই কম। এছাড়াও আগের চেয়ে কোরবানির জন্য লোকজনের বাজেট কমে গেছে। খামারিরা বলছেন, এলাকায় বেশির ভাগ খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে। খামারিরা বলছেন, দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালনে ব্যয় হয়েছে বেশি, কিন্তু বাজারমূল্যে লাভবান নয় তারা। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরু লালন পালনে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে খামারিকে।
সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে গরু লালন পালন করা হলে দেশি দানাদার খাদ্য ও ঘাসের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামও দেয়া হচ্ছে। তবে দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু চাষাবাদে লাভ কম হওয়ায় এক শ্রেণির খামারি ও কৃষকরা বেশি লাভের আশায় ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার করেই মোটাতাজা করা হচ্ছে। বিভিন্নস্থানে বিক্রিও হচ্ছে এসব। ভেজাল খাবারও খাওয়ানো হচ্ছে কোথাও কোথাও। ঈদ আরো কাছে চলে আসলে এসবে ব্যবহার আরো বেড়ে যায়। এতে করে প্রকৃত খামারিরা লোকসানে পড়ে। তবে লোকসান এড়াতে দেশে যাতে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আসতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন রায় জানান, ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় তাদের কর্মীরা কাজ করছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে খামারগুলো। খেয়াল রাখা হচ্ছে, যাতে মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে। এছাড়াও খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে জনসচেতনতামূলক সভা করাসহ নানা ভাবে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, গাজীপুর মহানগর ও জেলার ছোট-বড় ৫ উপজেলায় ৫ হাজার ৪শ’ ৮০ জন খামার রয়েছে। এসব খামারে ৪৮ হাজার ৪৯৮টি গরু, মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছাগল এবং ভেড়াও রয়েছে।

Sunday, June 9, 2019

পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে উদ্ধার সেই নবজাতক পেল মায়ের কোল

পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক মায়ের কোল পেয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পোড়াবাড়ী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে ওই নবজাতককে কুড়িয়ে পাওয়া যায়।
ওই নবজাতককে দত্তক নিতে নিঃসন্তান দম্পতিসহ একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটির দায়িত্ব পান আক্তার হোসেন ও শিউলি দম্পতি। চিকিৎসা শেষে আজ রোববার তাঁদের কাছে নবজাতকটি হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, সমাজে ভালো-মন্দ দুই রকমের মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু বেশিই নিষ্ঠুর। সেই নিষ্ঠুরতা থেকেই নিজের নবজাতককে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে গেছে। আবার দয়ালুরা সেই নবজাতককে কুড়িয়ে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন।
এলাকাবাসী, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের পোড়াবাড়ী এলাকায় গত মঙ্গলবার (৪ জুন) রাতে একটি বাজারের ব্যাগে নবজাতক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় পোড়াবাড়ী এলাকার সফিকুল ইসলাম ওই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় পরিত্যক্ত এক ব্যাগ থেকে শিশুর কান্না শুনতে পান। পরে তিনি ব্যাগটিতে এক নবজাতক দেখতে পান। শিশুটি উদ্ধার করে স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে সফিকুল ইসলামের নিকটাত্মীয় শিউলি আক্তার নবজাতকটির সেবা করছেন। শিশুটিকে দত্তক নিতে নিঃসন্তান একাধিক ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান। পরে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর মহানগরীর মারিয়ালী এলাকার নিঃসন্তান মো. আক্তার হোসেন ও শিউলি আক্তার দম্পতিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দত্তক দেওয়ার অনুমতি দেন।
সফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে আক্তার-শিউলির বিয়ে হয়। এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। অনেক দিন ধরেই ওই দম্পতি দত্তক নেওয়ার জন্য বাচ্চা খুঁজছিলেন। শিশুটি পাওয়ার পর থেকেই শিউলি আক্তার হাসপাতালে বাচ্চাটির দেখাশোনা করছেন। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় মেলেনি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে ওই পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, প্রথম দিকে শিশুটিকে ভালো মনে হলেও বর্তমানে তার জন্ডিস ধরা পড়েছে। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হবে।

Tuesday, April 2, 2019

গাজীপুরে গজারির বনে বসন্ত by সাদিক মৃধা

‘ছোটবেলায় বনের মাটিতে শুয়ে গজারি ফুলের ছন্দময় পতন দেখতাম। অপূর্ব সুন্দর ফুলগুলো মগডাল থেকে ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে পড়ত। দৃশ্যটি দেখার মতো। ফুলের তীব্র গন্ধ প্রচলিত যেকোনো ফুলের চেয়ে ভিন্ন এক অনুভূতি জাগায়।’
কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা এমরান আহমেদ। বসন্তের শেষ সময়ে দেশের সবুজবেষ্টিত এলাকা শ্রীপুরে হাজারো একর গজারি বনে ফুল ফুটেছে। গত বুধবার সরেজমিনে শাল-গজারির বন ঘুরে দেখা যায়, গাছগুলোতে নবযৌবন এসেছে। ৫০০ গজ এগিয়ে বনের কাছাকাছি যেতেই মাতাল করা গন্ধ নাকে এসে লাগে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল সারি সারি গাছের আগা সাদা-হলুদের মিশ্রণে মেঘের মতো হয়ে আছে। গাছের পাতাগুলো ঝরে যাওয়ায় নতুন পত্রপল্লব গজাচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো গাছের ডালপালা ফুলে ফুলে ভরে গেছে। বনের গাছগুলোর নিচে পড়ে আছে ঝরে পড়া গজারি ফুলগুলো। বনের ভেতরে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া পিচের রাস্তায় বিছিয়ে আছে ঝরা ফুল, এ যেন এক গালিচা। এ যেন জাপানের সড়কগুলোতে থাকা চেরি ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে কম নয়।
বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসজুড়ে গজারিগাছে ফুল থাকে। এপ্রিলের শুরুর দিকে ফুল ঝরতে থাকে। এর গন্ধ তীব্র হয়। গজারি ফুলগুলো ঝরে পড়ার সময় উড়ে গিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল মাসে বনের হাজার হাজার একরজুড়ে সাদা মেঘের মতো ফুলের সমারোহ দেখা যায়। এ অঞ্চলে ৩০ হাজার একরের বেশি জায়গায় গজারিগাছ বিস্তৃত।
শ্রীপুর উপজেলার পেয়ার আলী কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আহাম্মাদুল কবির বলেন, ‘ছোটবেলায় বনের মাটিতে শুয়ে গজারি ফুলের পতনের দৃশ্য দেখতাম। এক অদ্ভুত ছন্দে এরা ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে পড়ে। ওপর থেকে একটা ফুল পড়তে দেখলে যেখানে ধারণা করা হয় সেখানে কখনোই পড়ে না, উড়তে উড়তে দূরে গিয়ে পড়ে এটি।’ তিনি বলেন, ‘১০ বছর ধরেই আমি গজারির নতুন পাতা দেখতে যাই। মাতাল করা গন্ধ উপভোগ করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে। নতুন পাতার রংটা যেন এস এম সুলতানের কল্পনার মতো সুন্দর।’
লেখক শাহান শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘পারস্যের গোলাপ বাগান যেমন মানুষকে সৌন্দর্যে আচ্ছন্ন করতে পারে; ওমর খৈয়াম যেভাবে সেই গোলাপে মগ্ন হয়েছিলেন, আমরাও গজারি ফুলের সৌন্দর্যে মগ্নতায় হারিয়ে যাই। ওমর খৈয়ামের জন্য যে অর্থে গোলাপ, আমাদের জন্য সৌন্দর্যের নাম সে অর্থে গজারি ফুল। এর গন্ধ মহুয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম না। মনকে জাগতিকতার দহন থেকে মুহূর্তে বের করে নিয়ে আসার জন্য এই ফুলের কাছে একটা আলাদা ক্ষমতা আছে বলে মনে হয়।’ তিনি বলেন, ‘দোল পূর্ণিমার রাতে এই ফুলের সৌন্দর্য দেখার মতো। জ্যোৎস্নার রং যেন ফুলের গায়ে লেপ্টে থাকে। এমন বহু রাত বনে কাটিয়েছি ফুলের গন্ধ আর সৌন্দর্যের প্রেমে।’
শ্রীপুরের আযোগীচালা গ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান। বর্তমানে পড়াশোনা করছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। তিনি টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবুজের এই যে উপহার, এর তুলনা হয় না। রিপন নামে আমার এক বন্ধুর বাড়ি শ্রীপুরের গজারি বনবেষ্টিত গ্রাম ভেরামতলীতে। এক পূর্ণিমা রাতে আমরা জ্যোৎস্না দেখতে তাঁদের বনে গিয়েছিলাম। ফুলে ফুলে ছেয়ে ছিল বন। আর সেবার ফুলের গন্ধে অভিভূত হয়ে সারা রাত বসে ছিলাম বনে। শালের সঙ্গে আরও নানা ফুলের সুবাস মিশে সে কী বুনো মাতাল গন্ধ। সে এক অদ্ভুত সুন্দর জ্যোৎস্না রাত ছিল। সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, এই শালবনকে বাঁচিয়ে রাখুন। অবাধে গাছ কাটা, আগুন ধরিয়ে দেওয়া, বনের মাটি কাটা বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন করুন।’

Tuesday, March 5, 2019

অধিকাংশ সড়কবাতি জ্বলে না

গাজীপুর নগরের বেশির ভাগ রাস্তায় সড়কবাতি জ্বলে না। নগরবাসীকে চলাচল করতে হয় সড়কের পাশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আলোতে।
গত বুধ থেকে শুক্রবার তিন দিন গাজীপুর নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেই বাতি নেই। কিছু এলাকায় সড়কবাতি আছে, তবে অপর্যাপ্ত। আবার কিছু সড়কে অনেক দূর পরপর দু-একটি খুঁটিতে বাতি জ্বলে, তারপর আবার অন্ধকার। এর মধ্যেও কিছু সড়কবাতির ঢাকনা নেই, কোনোটির খুঁটি বাঁকা, আবার কোনো খুঁটিতে বাতি নেই। মূল শহর, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক এলাকাতেও খুব একটা বাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
টঙ্গী বিসিক এলাকায় প্রায় দেড় শ প্রতিষ্ঠান আছে। কারখানার শ্রমিক আর পথচারীদের চলাচলে রাতদিন সরগরম থাকে এলাকাটি। সেখানকার অধিকাংশ সড়কেই বাতি জ্বলে না। চলাচল করতে হয় মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গিয়ে দেখা যায়, টঙ্গী লেভেল ক্রসিং থেকে বিসিক এলাকায় ঢুকতেই অন্ধকার। কয়েক মিটার সামনে লিলি ফুডের মোড় থেকে পাগাড়, ফকির মার্কেট ও নদীবন্দর যেতে প্রতিটি সড়কই অন্ধকারাচ্ছন্ন। সড়কের দুই পাশের কারখানার ফিকে আলোতেই পথ চলতে হয়।
শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সড়কের লিলি ফুডের মোড় ও পানির ট্যাংক মোড়ে রাখা হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী। জানতে চাইলে লিলি ফুডের মোড়ে দায়িত্বরত মো. দিলবার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে সারাক্ষণ হাতে টর্চ রাখতে হয়। অন্ধকারে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, তার ঠিক নেই। সড়কবাতি থাকলে এ সমস্যা হতো না। আর পানির ট্যাংক মোড়ের নিরাপত্তাকর্মী মো. সুলতান বলেন, ‘ইজতেমার সময় কয়েক জায়গায় বাতি লাগাইছিল। এখন সেগুলোও নষ্ট হইয়া গেছে।’
টঙ্গী বাজার ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হয়। দেখা যায়, টঙ্গীর আনারকলি রোডের বাটা মার্কেটের সামনে থেকে টঙ্গী বাজার মসজিদ পর্যন্ত সড়কের ডান পাশে সড়কবাতির ১৮টি খুঁটি আছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি খুঁটিতে বাতি জ্বলে। বাকিগুলোর কোনোটিতে বাতি নেই, কোথাও বাতি জ্বলে না, আবার কোনোটি থেকে বৈদ্যুতিক তার খুলে ফেলা হয়েছে। কথা হয় এই সড়কের ডিমপিঠা বিক্রেতা মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। কিছু কিছু দোকানদার নিরাপত্তার জন্য দোকানের সামনে বাতি জ্বালিয়ে রেখে যান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. ইবরাহিম খলিল জানান, কিছু সড়কে বাতি লাগানোর কাজ চলছে। এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। আর বিভিন্ন সড়কে সৌরবাতির ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় তা অকেজো হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
গাজীপুর মূল শহরের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। শুক্রবার রাতে গিয়ে দেখা যায়, জয়দেবপুর শিববাড়ি মোড় থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের ওপর মোট ৩২টি বাতি। এর মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত ১৫টি বাতিই জ্বলে না। এরপর পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত নষ্ট হয়ে আছে ছয়টি বাতি। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনো সড়কবাতি নেই। এ ছাড়া জাঝর বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার সড়ক, কাজিবাড়ি সড়ক, হকের মোড় সড়ক, জয়দেবপুর-পুবাইল সড়ক, জয়দেবপুর-চৌরাস্তা সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে খুব একটা সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সড়কবাতির জন্য আমাদের প্রায় দেড় লাখ বৈদ্যুতিক খুঁটি দরকার। সেখানে আমাদের আছে মাত্র আড়াই হাজার। তারপরও আমরা মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধান করা হবে।’

Wednesday, February 13, 2019

গাজীপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি মেয়ে by ইকবাল আহমদ সরকার

গাজীপুরের শ্রীপুরে পর পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক থাকার সন্দেহ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে বলি হয়েছে শিশুকন্যা। পাষণ্ড পিতা হত্যা করেছে তার একমাত্র শিশু সন্তানকে। শিশুকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেন নি। ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে, আর ঠাঁই হয়েছে কারাগারে। কারাগারে যাওয়ার আগে গতকাল সোমবার বিকালে গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা খাতুনের আদালতে হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক রফিকুল ইসলাম।
শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, শ্রীপুর পৌরসভার  কেওয়া এলাকার ইয়াসিন আলীর ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলামের বাসার খাটের নিচে এলুমিনিয়ামের বড় হাঁড়ির ভেতর থেকে রোববার দিবাগত রাতে শিশু মনিরা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মনিরা খাতুন (৬) জেলার কাপাসিয়া উপজেলার হাইলজোড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী কিন্ডারগার্টেনের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মনিরার বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা নাসরিন আক্তার কেওয়া এলাকার ইয়াসিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে স্থানীয় ডেনিম্যাক পোশাক কারখানার ওয়াশিং সেকশনে চাকরি করতো। তিনি আরো জানান, অন্যান্য দিনের মতো ওই দিন শিশুটির মা নাসরিন আক্তার দুপুরের খাবার বিরতির পর আবারো ডিউটি করতে যায় কারখানায়।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মেয়েকে ঘরে এবং আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে এবং স্বামীর সন্ধান না পেয়ে মোবাইলফোনে মনিরার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানান শ্রীপুর থানায়। পরে পুলিশ তাদের বাসায় গিয়ে তাদের ঘরের ভেতর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে খাটের নিচে এলুমিনিয়ামের বড় হাঁড়ির ভেতর মনিরার মরদেহ পান। নিহতের গলায় শ্বাসরোধে হত্যার আলামতও পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের স্বার্থে ময়নাতদন্ত করাতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান। হত্যার ঘটনায় শিশুর মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে তার স্বামীর নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর রাতেই ওই এলাকা থেকে শিশুটির ঘাতক বাবা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান প্রাথমিক তদন্ত ও রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধারণা করেন, নাসরিনের পরকীয়া সম্পর্ক ও দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে। এ ছাড়া বিকালে গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা খাতুনের আদালতে হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক রফিকুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, রফিকুলের সঙ্গে একই এলাকার নাসরিনের বিয়ে হয় প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। রফিকুলের সঙ্গে বিয়ের আগে ও পরে নাসরিনের আরো তিনটি বিয়ে হয়। প্রায় দুই বছর আগে তারা আলাদা হয়ে যান। গত ছয়মাস ধরে আবার তারা একত্রে বসবাস শুরু করেন। বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া পুরনো স্বামীদের কারো সঙ্গে বা অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে নাসরিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল- এমন বিষয় টের পেয়ে রফিকুল তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতো। এ ছাড়া টাকা-পয়সা নিয়েও এই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। তাদের মধ্যে কলহ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত শুক্র ও শনিবার তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটির পর মারামারিও হয়েছে। এসব অশান্তি থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রফিকুল তার নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। সন্তানকে হত্যা করে বড় হাঁড়ির ভেতর ভরে ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজে আত্মহত্যার করতে পারেনি সে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এখন ঠাঁই হয়েছে কারাগারে।

Friday, September 21, 2018

ভেষজের কারিগর ডালেশ্বর গ্রাম by রায়হানুল ইসলাম আকন্দ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বাজার পেরিয়ে এক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকলে ডালেশ্বর গ্রাম। গ্রামে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে খলা (উন্মুক্ত জায়গা)। এর পাশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে কাটছে ভেষজ উদ্ভিদ। এরপর সেগুলো রোদে শুকাতে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ঘণ্টা পরপর রোদে শুকাতে সেগুলো উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।
ডালেশ্বর গ্রামে বাসিন্দারা ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করছে। ভাওয়াল বনের ভেতর থেকে তারা বনজ লতা-পাতা, গুল্ম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করেন। পরে সেগুলো দেশের নামকরা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে সরবরাহ করেন। এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে বনজ তথা ভেষজ উদ্ভিদ প্রক্রিয়াকরণের ওপর।
দুপুরের পর থেকে খলার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। লতা-গুল্ম নিয়ে খলায় ঢুকছে রিকশা ভ্যান। এ গ্রামের বিভিন্ন খলার চিত্রগুলো ঠিক একই রকম। কোনও কোনও খলা নিরাপত্তার জন্য প্রাচীরঘেরা।
খলায় শুকানো হচ্ছে ভেষজ গাছ, পাতা
খলায় শুকানো হচ্ছে ভেষজ গাছ, পাতা
ডালেশ্বর গ্রামের আব্দুল কাদির মিয়ার (৭০) বাবা ৬০ বছর আগে এ কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘৬০ বছর আগে আমার বাবা ওয়াহেদ আলী মিয়া এ এলাকায় সর্বপ্রথম ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহের কাজটি শুরু করেন। তখন ভাওয়ালের বন অনেক গভীর ছিল। তখন নানা প্রজাতির লতাপাতা, গাছপালার অভাবই ছিল না। বাবার সঙ্গে ভেষজ সংগ্রহের কাজ করতে গিয়ে নিজেই এ কাজে জড়িয়ে পড়ি। ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার ছেলেও একাজের সঙ্গে যুক্ত।’
কাদির মিয়ার প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান বলেন, কমপক্ষে ৪০ বছর আগে ওয়াহেদ আলী মিয়ার দেখাদেখি তার বাবাও এ পেশায় যুক্ত হন। ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দিনে দিনে ভেষজ সংগ্রহের কাজটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। তার মতো অনেকেই যুক্ত হন ভেষজ সংগ্রহের কাজে। প্রত্যেকেই পরিবারের সব সদস্যদের এ কাজে নিয়োজিত করেন।
খলায় কাজ করছেন শ্রমিকরা
খলায় কাজ করছেন শ্রমিকরা
ভেষজ ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, ‘পৈত্রিক সূত্রে এ কাজে যুক্ত হয়েছি। গাজীপুরের ভাওয়াল বনাঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল জেলার বনাঞ্চল থেকে ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করা হয়। যারা বন থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন তাদেরকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে খলায় জমা করেন। ওজন ও পরিমাপ করে কম হলে টাকা ফেরত পাই। আর বেশি হলে আরও টাকা দেই।’
ডালেশ্বর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের শতাধিক মানুষ ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহের কাজ করেন। প্রায় প্রতিদিন বন থেকে তারা এসব সংগ্রহ করেন।
দরগাহচালা গ্রামের আজম আলী বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বিভিন্ন বনে, রাস্তার পাশে, বিল, পুকুর, নদীর পাড় থেকে লতপাতাগুলো সংগ্রহ করি। সারাদিনে  সর্বোচ্চ দুটি ভ্যানগাড়ি ভর্তি করা য়ায়। পরে এগুলো ব্যবসায়ীদের খলায় নিয়ে মণ হিসেবে বিক্রি করি।’
খলায় নিয়ে আসা হয়েছে ভেষজ গাছ, লতাপাতা
খলায় নিয়ে আসা হয়েছে ভেষজ গাছ, লতাপাতা
একই গ্রামের আব্দুস শহীদ বলেন, ‘যে উদ্ভিদ বেশি পাওয়া যায় তার দাম তুলনামূলক কম। যেটি দূর দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয় তার দাম একটু বেশি। যেমন নিমপাতা, বেলপাতা, শিশু পাতা ৫০০ টাকা মণ দরে ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করি। আমলকি, বহেরা দুই বা আড়াই হাজার টাকা মণ, হরিতকি, নিশিন্দা, কালো মেঘ, অর্জুন ছাল, এরকম ভেষজ জিনিসগুলোর দাম একটু বেশি। ৪-৫ হাজার টাকা মণ দরে এগুলো সরবরাহ করে থাকি।’
ডালেশ্বর গ্রামের ভেষজ খলার মালিক রাশিদা বলেন, তার খলায় লতাপাতা প্রক্রিয়াকরণে ২০ জন লোক কাজ করে। কেউ কাটাকুটি, কেউ শুকানো, কেউ আবার বস্তাভর্তি করাসহ নানা প্রক্রিয়ার কাজে নিয়োজিত। তাদের মজুরি দেওয়া হয় মণ হিসেবে। সংগৃহীত একেক ভেষজের জন্য একেক হিসেবে মজুরি দেওয়া হয়।
আরেক খলার মালিক মনির হোসেন বলেন, খলায় ভেষজ শুকাতে গেলে নানা সমস্যা হয়। মানুষ, গরু, ছাগল খলায় ঢুকে ভেষজ উপাদান নষ্ট করে ফেলে। খলার মেঝে পাকা থাকলে প্রক্রিয়াকরণ সহজ ও সময় কম লাগে।

Monday, July 2, 2018

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা সমীচীন হয়নি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা সমীচীন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে ঢাকায় সফররত যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী (এশিয়া প্যাসিফিক ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস) মার্ক ফিল্ডের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছিলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অনিয়মের খবরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর এ নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ বেড়েছে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলাটা সমীচীন হয়নি। কারণ পৃথিবীর সব দেশেই, পশ্চিম বাংলায় নির্বাচন হয়, ভারতে নির্বাচন হয়, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন নিয়ে কিন্তু এখনো বিতর্ক চলছে।
কিন্তু আমাদের এই নির্বাচনগুলো নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনভিপ্রেত। একটা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আরেকটা দেশের রাষ্ট্রদূতের কথা বলা সমীচীন নয়। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে বলে মনে করি। গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবে কিনা- জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিল ক্লিনটন বিএনপির এক কর্মীর কাছে বলেছেন-ওয়ার্ল্ড পলিটিকস ইজ নাউ ডিফিকাল্ট। কাজেই একটা দেশের রাষ্ট্রদূত কী বললো, সেটা নিয়ে দেশ চলে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দৃঢ়চেতা নেতা। তার অধীনে আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুটি নির্বাচন নিয়ে কিন্তু তেমন কোনো কথাবার্তা হয়নি। গাজীপুরে নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য হয়েছে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৭ শতাংশ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজারের মতো ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী পেয়েছে ২ লাখের মতো ভোট। ভোটের রেশিও দেখলেই  বোঝা যায় যে, নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কিন্তু তত বেশি কোনো বাস্তবসম্মত কথা বলার সুযোগ পায়নি। তাদের যে নেতা লন্ডনে থাকেন তিনিই তো বলেছেন, তাদের এজেন্ট ছিল না। আমাদের দল টাকা দিয়ে তাদের এজেন্ট... যে দলের এজেন্ট টাকা খেয়ে সরে যায়, সেটা কোনো দল হলো। তাদের এজেন্টদের আমাদের দলের লোক টাকা দিতে যাবেই বা কেন? তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলেছে, আগামী তিনটি নির্বাচন দেখার পর তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী তিনটা নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমি মনে করি, বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। কারণ বৃটিশ মন্ত্রীও বলে গেলেন, দুবার যদি তারা নির্বাচন না করে তাদের তো নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন থাকবে না। আরেকটি নির্বাচন না করলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেই আমি মনে করি। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপিরও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা উচিত, মানুষের কাছে যাওয়া উচিত।

Wednesday, June 6, 2018

গাজীপুরে ফুলরূপী কাঁঠাল নিয়ে কৌতূহল by ইকবাল আহমদ সরকার

গাজীপুরের একটি গাছের কাঁঠাল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌতূহল। এক ধরনের ফুলের রূপ নিয়েছে ওই গাছের সব কাঁঠাল । শুরুতে ওই গাছের কাঁঠাল খেতে সুস্বাদু হলেও এখন কাঁঠাল বড় হয়ে কোষগুলো বাইরে বেরিয়ে যায়। দেখতে থোঁকা থোঁকা ফুল মনে হওয়ায় সেসব ছবি ইতিমধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যতিক্রমী এই বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিদিন শ’ শ’ লোকজন ভিড় করছেন ওই কাঁঠাল গাছের নিচে। তবে কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীনগত কারণে অথবা রোগজনিত কারণে এমনটি হতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে এবং সমাধান দেয়া যাবে।
গাজীপুর মহানগরের উত্তর সালনা এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিনের বাড়ির গাছের কাঁঠাল বড় হলে গত কয়েক বছর ধরে সেটির কোষ আর ভেতরে আবদ্ধ থাকছে না। যদিও শুরুতে এই গাছের কাঁঠাল খেতেও বেশ সুস্বাদু ছিল। কোষগুলো বাইরে বেরিয়ে গিয়ে থোকায় থোকা ফুলের মতো ঝুলে থাকে। কাঁঠাল নতুন ধরনের ফুলে রূপ নেয়ার এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে গেলে তা দেখতে গাছের নিচে প্রতিদিনই ভিড় জামাচ্ছেন শ’ শ’ মানুষ। অনেকে ব্যতিক্রমী এ কাঁঠালের ছবি তুলে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, গাছে যথারীতি মুচি হয় এবং বড় হয়। কিন্তু পাঁকার আগে কাঁঠাল ফেটে গিয়ে এর কোষগুলো বাইরে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় কাঁঠালগুলো আর খাওয়ার উপযোগী থাকছে না। এলাকাবাসি বলছেন, এই প্রথমবার তারা এমন ব্যতিক্রমধর্মী কাঁঠাল দেখছেন। তাই লোকজনের মুখে শুনে এখানে দেখতে এসেছেন। অনেকে ব্যতিক্রমী এ কাঁঠালের ছবি তুলে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আর তাতে করে আরো বেশি সংখ্যক নানা বয়সী নারী-পুরুষ বিশেষ করে তরুণদের ভিড় জমে উঠছে। অনেকে বিষয়টিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জিল্লুর রহমান জানান, ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের এই কাঁঠাল নিয়ে আগ্রহ রয়েছে কৃষি বিজ্ঞানীদেরও। তারা বলছেন, কাঁঠালের স্বাভাবিক যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা থেকে এই গাছের কাঁঠাল আলাদা। এছাড়া বিভিন্ন জাতের সমস্যাও রয়েছে। তবে এই প্রথম সালনা এলাকায় যে কাঁঠাল গাছটি দেখা গেছে সেটির কাঁঠাল বড় হয়ে পাকার উপযোগী হলে এর কোষগুলো ফেটে বাইরে বেরিয়ে আসছে। এটি শারীরতাত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে হতে পারে। এছাড়া গাছের জিনগত অথবা রোগাক্রান্ত হয়ে এমনটি হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এর সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন এই কৃষি বিজ্ঞানী।
প্রায় ১৬ বছর আগে কাঁঠাল গাছটির চারা রোপণ করা হয়। কয়েক বছর পর সেই গাছে কাঁঠাল ধরতে শুরু করে এবং শুরুতে এই কাঁঠাল খেতেও বেশ সুস্বাদু ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাঁঠালের এই গাছটি আরো অন্য কোনো গাছের জন্য বা মানুষের জন্য কতটুকু উপকারী, না ক্ষতিকর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এখানকার স্থানীয়রা।

Wednesday, May 23, 2018

রমজানেও গাজীপুরে থেমে নেই যৌন ব্যবসা by ইকবাল আহমদ সরকার

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় মাস, সংযমের মাস রোজার মাসেও থেমে নেই গাজীপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের অবৈধ যৌন ব্যবসা। নগরের চান্দনা চৌরাস্তা, তেলিপাড়া, কোনাবাড়ি, টঙ্গী, হোতাপাড়া, মাওনা চৌরাস্তা, এমনকি ভাওয়ালের বনে গড়ে প্রায় অর্ধশত আবাসিক হোটেলে চলছে জমজমাট এ ব্যবসা। এমনকি একটি আবাসিক হোটেলের ড্রামের ভেতর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি হোটেলও ঈদ সামনে রেখে রোজার আগেই আবার চালু করা হয়েছে। অবাধ যৌন ব্যবসার পাশাপাশি অনেক স্থানেই লেনদেন হয় মাদকদ্রব্য। এলাকাবাসীর অনুরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয় রোজার দিনে এ ধরনের চারটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে যৌনকর্মীসহ খদ্দের ও সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে। হোটেলগুলোকে সিলগালা করা হয়েছে। আবার অনেককে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক জেলও দেয়া হয়েছে। যৌন ব্যবসায় জড়িত, এসব হোটেলে এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে খদ্দেরসহ যৌনকর্মীদের আটক করে সাজাও দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলোকে সিলগালা করে দেয়ার কিছুদিন পর রহস্যজনক কারণে আবারো সেগুলো জমজমাট হয়ে ওঠেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এনডিসি বিএম কুদরত-এ-খুদা জানান, জেলার সাধারণ মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নির্দেশে গত শনিবার দ্বিতীয় রোজার দিনে জেলার চান্দনা চৌরাস্তা, তেলিপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর এলাকার রোজ ভ্যালি, বন্ধু বোর্ডিং, বৈশাখী এবং বিলাস নামের চারটি আবাসিক হোটেলে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন এনডিসি বিএম কুদরত-এ-খুদা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আহমেদ। তিনি  আরো জানান, এসব হোটেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবাধ যৌনাচার বিপণনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে আটককৃতদের অশ্লীল ও আপত্তিকর অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় বেশ কয়েকজনকে আটক এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব নামমাত্র আবাসিক হোটেলগুলো মাদকের অবাধ বিস্তার, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত। ব্যাটালিয়ন আনসার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সর্বস্তরের জনতা এই অভিযানে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখারও জোর দাবি জানান।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের আহ্বান এবং রোজার আগেই বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের মিছিল-মিটিং-এর পরও অবৈধ এ যৌন ব্যবসায়ী চক্র কোনোভাবে থেমে থাকেনি। বরং ঈদ সামনে রেখে তাদের হোটেল নামের মিনি পতিতালয়গুলোকে আরো সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলা হচ্ছে।

Sunday, May 13, 2018

হেফাজত আমীরের দোয়া নিতে বিমানবন্দরে জাহাঙ্গীর by দীন ইসলাম

হেফাজতে ইসলামের আমীর ও কওমী মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা শফি আহমেদের কাছে দোয়া চাইলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১৪দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী  অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ জন্য শনিবার রাতে তিনি এয়ারপোর্টে হাজির হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হন হেফাজতের আমীর শফি আহমেদ। এর কিছুক্ষণ পরই এয়ারপোর্টে হাজির হন মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর। কুশল বিনিময়ের পর জাহাঙ্গীর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেফাজতের কাছ থেকে পুনরায় সমর্থন চান। এর বিপরীতে শফি আহমেদ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য আশীর্বাদ করেন। গাজীপুর সিটি মেয়র প্রার্থী দীর্ঘ সময় হেফাজতে ইসলামের আমীরের পাশে সময় কাটান। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওই সময়ে বিএনপি দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজত কর্মীরা ওই সময় মেয়র মান্নানের পক্ষে প্রচারণা চালান ও ভোট চান। শেষ পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী এম এ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই চিন্তা মাথায় রেখে মনে করা হচ্ছে এবারও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অরাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করবে হেফাজতে ইসলাম। এ কারণে হেফাজতের আমীরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় জোট দুই পক্ষ থেকেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৫ই মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। গত ৬ই মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত শিমুলিয়া এলাকার এক ব্যক্তির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচনে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম স্থগিতের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন তাদের আপিল আবেদন জমা দেয়। এর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আগামী ২৮শে জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার নির্দেশ দেন। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এর আগেই হাসান উদ্দিন সরকার ও অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম নতুন মেরূকরণের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। হেফাজতে আমীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ মেরূকরণের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।