Friday, September 13, 2019

ছাত্রলীগে অস্থিরতা কী হচ্ছে?

অদৃশ্য সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করে ছাত্রলীগকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে গত বছরের ৩১শে জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয় ছাত্রলীগের। কিন্তু প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি এ দুই নেতা। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেয়া, কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন, বিলাসী জীবনযাপন, সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধীর গতি, মধুর ক্যান্টিনে সময় না দেয়া, জেলা কমিটিগুলো দিতে না পারাসহ নানা ব্যর্থতা সামনে আসছে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নেতৃত্বের  অযোগ্যতার কারণে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মধ্যেও।

বিভিন্ন সময় নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতার অনেক পর অনুষ্ঠানস্থলে শোভন-রাব্বানীর উপস্থিত হয়েছেন। যেটাকে শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ বলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। এদিকে শীর্ষ দুই নেতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষের খবর সামনে আসাতে। একের পর এক অনিয়মে জড়িয়ে থাকা শোভন-রাব্বানীর প্রতি এতোদিন অনেকে মুখ খুলতে না পারলেও তারা এখন মুখ খুলছেন। অন্যদিকে গণভবনে প্রবেশে এতোদিন ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের স্থায়ী যে পাশ ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, আগামীকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সভায় শোভন-রাব্বানী নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অথবা এ দু’জনকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত দু’জনকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়াও হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া তাদের রেখেই বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও আলোচনা আছে। ২ বছর মেয়াদের কমিটির আরও ১০ মাস বাকি থাকায় অনেকে ভাবছেন আগাম সম্মেলন নিয়ে, আবার জল্পনা আছে সম্মেলন ছাড়াই নতুন নেতৃত্ব দেয়ার। গতকাল সেতু ভবনে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এ নিয়ে (ছাত্রলীগ) আর কোনো কথা বলবো না। কারণ আমাদের সভাপতি দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখছেন। এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’ এদিকে ছাত্রলীগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেন তা মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সংগঠটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। গতকাল দুপুরে ডাকসুর সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি নিজেদের ভূলত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে আগামীতে ছাত্রলীগের দিকে যেন আর কেউ আঙ্গুল তুলতে না পারে সে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার কথা জানান।

গোলাম রাব্বানী বলেন, নেত্রীর জন্যই পুরো ছাত্রলীগ পরিবার। আপার মনে কষ্ট দিয়ে আমরা কেউ ছাত্রলীগ করতে চাই না। এজন্য বলবো যে ভুলত্রুটিগুলো হয়েছে, অবশ্যই কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, যা রটে তার কিছুটা হলেও ঘটে। সে জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করবো ভুলত্রুটি শুধরে কাজ করার। ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার আমানত। আপা যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবেই করব। এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন ভেঙে দেয়ার আলোচনা চলছে ঠিক তখনই কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। যেখানে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব নামে একজন। অডিও টেপটি প্রকাশের পর থেকে সমালোচনা আরো বাড়ছে শোভন-রাব্বানীর। এছাড়াও গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সভাপতির গাড়ীতে উঠাকে কেন্দ্র করে আবার নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়ান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ ও তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির।

এরমধ্যে বিদ্যুৎকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আর আহত অবস্থায় জহিরকে সভাপতি তার গাড়ীতে করে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসেন। মারামারির সময় দু নেতা একে অপরকে জামাত-শিবির বলে গালি দেন। এদিকে ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোর করে ভিডিও মুছে দেন আরেক সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এসময় সাংবাদিককে জোর করে সভাপতির গাড়ীতে উঠানো হয়। এ ঘটনায় পরে দুঃখপ্রকাশ করেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এর আগে গত রোববার রাতে রাব্বানীকে প্রটোকল দিতে না যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা’ সূর্যসেন হলের চারটি রুমে তালা দেয় রাব্বানীর সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়েও তীব্র সমালোচিত হন রাব্বানী।

গণভবনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেয়া প্রবেশ পাস বাতিল করা হয়। এরপরও কয়েক দফা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালান তারা। কিন্তু সফল হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনটির এই শীর্ষ দুই নেতাকে এখন গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হলে অস্থায়ী পাস সংগ্রহ করতে হবে। অস্থায়ী এই পাসের মেয়াদ থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। গণভবন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গণভবনে যাতায়াতের জন্য বিশেষ পাস দেয়া হয়। সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদেরও এ ধরনের পাসের পাশাপাশি মৌখিক নির্দেশ দেয়া থাকে যেন তারা দলের সভাপতির সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেন। এর আগে গত শনিবার ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর কর্মকাণ্ডে এক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুজনকে নিয়ে সেদিন উপস্থিত বেশ কয়েকজন নেতাও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। গণভবনে গিয়েও সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করেই তাদের ফিরে আসতে হয়। ওই বৈঠকের দুই দিন পর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গণভবনে প্রবেশের পাস বাতিল করা হয়।

ক্যামেরার সামনে নগ্ন ইরিনা শায়েক

এ সময়ের বিস্ময়কর এক মডেল ইরিনা শায়েক। রাশিয়ান ৩৩ বছর বয়সী এই সেলিব্রেটি এখন বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছেন। তাকে চিনিয়ে দিতে বেশিদূর যেতে হয়না। শুধু নাম উচ্চারণ করলেই চোখের ওপর ভেসে ওঠে তার কমনীয় মুখশ্রী। সম্প্রতি তিনি বিখ্যাত ব্রান্ড কেলভিন ক্লেইনের সর্বশেষ বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। ক্যামেরার সামনে এ জন্য একে একে খুলে ফেলেছেন সব পোশাক। তারপর পুরো নগ্ন হয়ে পোজ দিয়েছেন। অবলীলায় নির্দেশিত ভঙ্গিতে শরীরকে উপস্থাপন করেছেন। তবে এক্ষেত্রে নিজের ‘লজ্জা’ নিবারণ করেছেন ওই কেলভিন ক্লেইনের হ্যান্ডব্যাগ দিয়ে। এমন ছবি প্রকাশ করেছে বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। এতে বলা হয়েছে, মাত্র তিন মাস আগে অভিনেতা ব্রাডলি কুপারের (৪৪) সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তারপর ইরিনা শায়েক তার মডেলিং ক্যারিয়ারের প্রতি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন। এর আগে ওই ব্রাডলির সঙ্গে তিনি চুটিয়ে চার বছর ডেটিং করেছেন। একসঙ্গে বসবাস করেছেন। আর সেই সম্পর্কের ফলে তিনি হয়েছেন একটি কন্যা সন্তানের মা। ওই সন্তানের নাম রেখেছেন লিয়া। ব্রাডলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ইরিনা শায়েক বারবেরি, মোশ্চিনো’র বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে পোজ দিয়েছেন। আর শেষ পর্যন্ত গত জুনে ব্রাডলির সঙ্গে আলাদা থাকার ঘোষণা দেন। তবে তারা মেয়ে লিয়া’র জন্য তাদের সম্পর্ককে ইতিবাচক অর্থে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। একটি সূত্র মার্কিন ম্যাগাজিন পিপল’কে বলেছেন, মেয়ে লিয়ার জন্য ব্রাডলি-ইরিনা উভয়ের একই রকম লক্ষ্য আছে। এটা পরিষ্কার। তারা দু’জনেই চমৎকার পিতামাতা। কিন্তু ঘটনা প্যাচ লাগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ‘এ স্টার ইজ বর্ন’ ছবিতে সহঅভিনেত্রী লেডি গাগার সঙ্গে ব্রাডলির গোপন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তা নিয়ে এক হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্ল্যাক হোল দেখতে কেমন?

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বরের (ব্ল্যাক হোল) ছবি প্রকাশিত হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার। এতে করে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন, তা জানতে পারল বিশ্ববাসী। কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে আজ এই কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কৃষ্ণগহ্বরটির আকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার। সহজ করে বললে, কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবীর প্রায় ৩০ লাখ গুণ বড়! আকারে এটি এতটাই বিশাল যে বিজ্ঞানীরা একে ‘দৈত্যাকৃতি’র বলে উল্লেখ করেছেন।
কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। পৃথিবীজুড়ে স্থাপন করা আটটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
ব্ল্যাক হোল কী?
  • ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। এমনকি আলোও এই গহ্বরকে অতিক্রম করতে পারে না।
  • নাম গহ্বর হলেও ব্ল্যাক হোলের মধ্যে কিন্তু পুরোটা ফাঁকা জায়গা নয়। বরং এর মধ্যে খুব অল্প জায়গায় এত ভারী সব বস্তু আছে যে এসবের কারণে তীব্র মহাকর্ষীয় শক্তি উৎপন্ন হয়।
  • ব্ল্যাক হোলের পেছনে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামের একটি স্থান আছে, যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’। এই জায়গায় মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই তীব্র যে এখান থেকে কোনো কিছুই আর ফেরত আসতে পারে না।
প্রথম এই গবেষণার প্রস্তাব তোলা অধ্যাপক হেইনো ফালকে বিবিসিকে বলেছেন, এম৮৭ নামের একটি ছায়াপথে এই বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গহ্বরটির আকৃতি সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা যা দেখতে পেয়েছি, তার ভিত্তিতে বলতে হয়, আকৃতিতে কৃষ্ণগহ্বরটি আমাদের সমগ্র সৌরজগতের চেয়েও বড়। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন গুণ বেশি। আমাদের ধারণা, যতগুলো কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে, সব কটির মধ্যে এটি ভরের দিক থেকে অন্যতম। এটি স্রেফ দৈত্যাকৃতির একটি কৃষ্ণগহ্বর।’
প্রকাশিত ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কৃষ্ণগহ্বর থেকে ‘আগুনের চক্র’ নির্গত হচ্ছে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ফালকে বলেছেন, একটি সম্পূর্ণ গোলাকৃতি ও অন্ধকার গহ্বরকে ঘিরে রয়েছে এই আগুনের চক্র। গহ্বরের ভেতরে আটকে পড়া উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসের কারণে এই আগুনের উৎপত্তি বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফালকে। চক্রাকার এই আগুনের কারণে উৎপন্ন হচ্ছে তীব্র এক আলোকরশ্মি। এই আলোর তীব্রতা এতটাই বেশি যে ওই ছায়াপথে অবস্থিত শত শত কোটি তারার মোট ঔজ্জ্বল্যের চেয়েও উজ্জ্বল এই গহ্বর! এ কারণেই এত দূরে থাকা পৃথিবী থেকেও কৃষ্ণগহ্বরটিকে দেখা গেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত দিন বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের আকৃতি সম্পর্কে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও অনুমান করেছিলেন, বাস্তবের কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে তার অধিকাংশই মিলে গেছে। গবেষক দলের সদস্য ড. যিরি ইউনুসি তো এমনটাও বলছেন যে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বহু বছর আগে আইনস্টাইন যে ধারণা রেখে গিয়েছিলেন, সেটিই সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, ‘কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি সময়, মহাকাশ, এমনকি আমাদের অস্তিত্বের বিষয়গুলোকে অনেক জটিল প্রশ্নের সামনে ফেলে দিচ্ছে। এটা আশ্চর্যজনক যে আমরা যেই ছবি পেয়েছি, সেটি আমাদের তাত্ত্বিক গবেষণার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আইনস্টাইন আরও একবার সঠিক প্রমাণিত হতে চলেছেন।’
গহ্বরের চারপাশে এই উজ্জ্বল আলো কীভাবে সৃষ্টি হচ্ছে—সেটি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন কেউ। তবে প্রথমবারের মতো এই ছবি প্রকাশিত হওয়ায় কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার সুযোগ ও সম্ভাবনা—দুটোই আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাখাইনে গ্রামের পর গ্রামের অস্তিত্ব নেই, আছে পুলিশ ব্যারাক, ট্রানজিট ক্যাম্প : -বিবিসির সরেজমিন প্রতিবেদন

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামের পর গ্রামের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। ভেঙেচুরে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে মাটির সঙ্গে। সেখানে গড়ে উঠেছে একের পর এক পুলিশ ব্যারাক, সরকারি বিভিন্ন বিশাল বিশাল ভবন এবং রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন শিবির। এক অনুসন্ধানে এমন চিত্র দেখতে পেয়েছেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি জোনাথন হেড। এ নিয়ে তিনি প্রমাণ হিসেবে সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, মিয়ানমার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার ইচ্ছাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ, বর্তমান গৃহীত ব্যবস্থায় তাদেরকে আটকে রাখা হবে ট্রানজিট ক্যাম্পে। হাতেগোনা অল্প কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা তাদের মূল বসতি বা সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হতে পারেন।
জোনাথন হেড লিখেছেন, সরকারি সফরে বিবিসি চারটি এলাকা দেখতে পেয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থান এক সময় স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গিয়েছিল রোহিঙ্গাদের বসতি। সরকারি কর্মকর্তারা এসব গ্রামে ভবন নির্মাণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সামরিক নৃশংস অভিযানে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনাকে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। তবে সেনাদের ব্যাপকহারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ বার বারই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। এখন তারা বলছে, কিছু সংখ্যক শরণার্থীকে (রোহিঙ্গা) তারা ফেরত নিতে প্রস্তুত। কিন্তু গত মাসে দ্বিতীয় দফায়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মিয়ানমার অনুমোদন দেয়া রোহিঙ্গাদের ৩৪৫০ জনের একজনও দেশে ফেরত যেতে রাজি হননি। এর কারণ হিসেবে তারা তুলে ধরছে ২০১৭ সালে সংঘটিত নৃশংসতায় জবাবদিহিতার অভাব, তারা ফিরে গেলে স্বাধীনভাবে চলাচলের অনুমতি পাবে কিনা সে বিষয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা, নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশকে দায়ী করছে মিয়ানমার। তারা বলছে, বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত। তাদের এই প্রস্তুতি দেখানোর জন্য বিবিসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিককে ওইসব ‘ফ্যাসিলিটিজ’ দেখাতে নিয়ে যায় মিয়ানমার।
জোনাথন হেড আরো লিখেছেন, রাখাইনে প্রবেশাধিকার স্বাভাবিকভাবেই কঠোর বিধিনিষেধে আটকানো। আমরা সরকারি একটি গাড়িবহরে করে সেখানে সফরে গেলাম। পুলিশের তদারকি ছাড়া কোনো মানুষের ছবি তোলা ও সাক্ষাৎকার নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়নি আমাদের। কিন্তু আমরা পরিষ্কারভাবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মূল করে দেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখতে সক্ষম হয়েছি। স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবির বিশ্লেষণ করেছে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের নৃশংসতায় রোহিঙ্গাদের যেসব গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে শতকরা কমপক্ষে ৪০ ভাগ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে বিবিসি কি দেখেছে?
সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো হ্লা পেয়ে কাউং ট্রানজিট ক্যাম্পে। এখানে ২৫,০০০ শরণার্থীকে রাখা যাবে বলে তারা জানিয়েছে। বলা হয়েছে, স্থায়ী আবাসনে পাঠানোর আগে রোহিঙ্গাদেরকে এই ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান করতে হবে দু’মাস। প্রায় এক বছর আগে এই ট্রানজিট ক্যাম্প নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে এর অবস্থা খুবই নাজুক। নির্মিত টয়লেটগুলো ভেঙে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের দুটি গ্রাম হাও রি তু লার এবং থার জাই কোনে’র পাশে নির্মাণ করা হয়েছে এই ক্যাম্প। ওই গ্রাম দুটি ২০১৭ সালের নৃশংসতার পরে ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে।
জোনাথন হেড আরো লিখেছেন, যখন আমি ক্যাম্প প্রশাসক সোয়ে শয়ে অংয়ের কাছে জানতে চাইলাম, কেন এসব গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে? জবাবে তখন তিনি গ্রাম নিশ্চিহ্ন করার কথা প্রত্যাখ্যান করলেন। কিন্তু তাকে আমি স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি তখন আমাকে বললেন, অতি সম্প্রতি তিনি এখানে কাজে যোগ দিয়েছেন। এসব প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারবেন না।
আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো পুনর্বাসন বিষয়ক ক্যাম্প কিয়িন চাউংয়ে। জাপান ও ভারত সরকারের অর্থায়নে এই ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। শরণার্থীরা ফিরে গেলে তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী আবাসন হবে এটি। কিন্তু এই ক্যাম্পটি নির্মাণের জন্য জমি পরিষ্কার করতে বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে মিয়ার জিন গ্রাম। এই ক্যাম্পটি বর্ডার গার্ড পুলিশের জন্য নির্মিত একটি নতুন বিশাল আকারের ব্যারাকের খুব কাছেই। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের একটি ইউনিট এই বর্ডার গার্ড পুলিশ। ক্যামেরার আড়ালে কর্মকতারা ওই মিয়ার জিন গ্রামটি ধ্বংস করে দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
মূল শহর মংডুর ঠিক বাইরে মিও থু গাইই। এক সময় এখানে বসবাস করতেন কমপক্ষে ৮,০০০ রোহিঙ্গা। সরকারি একটি গাড়িবহরে করে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আমি এই গ্রাম চিত্রায়ন করেছিলাম। এই গ্রামের বহু বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বড় বড় দালানগুলো তখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে। রাখাইন গ্রামকে ঘিরে রাখা গাছগুলোও ছিল। কিন্তু এখন সেই এলাকা অতিক্রম করার সময় দেখা গেল সরকারি বিশাল বিশাল সব ভবন, পুলিশ কমপ্লেক্স। সেই গাছগুলো আর নেই।
জোনাথন হেড লিখেছেন, আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো ইন ডিন গ্রামে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এই গ্রামের ১০ জন মুসলিমকে আটক করে তাদেরকে গণহত্যা করা হয়। এ ঘটনা সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। মিয়ানমারে নৃশংসতার বিষয়ে সেনাবাহিনী যা দু’একটা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। ইন ডিন গ্রামের চারভাগের তিনভাগই মুসলিম। বাকিরা রাখাইন বৌদ্ধ। কিন্তু এখন ওই গ্রামে একজন মুসলিম বা তার বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেখানে রাখাইনদের বসতিগুলো এখন শান্ত ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়িগুলো ছিল, যখন আপনি সেখানে পেঁৗঁছাবেন, দেখবেন গাছগুলো উধাও হয়ে গেছে। তার পরিবর্তে গড়ে উঠেছে কাঁটাতারের বেড়া। এই বেড়া নতুন করে গড়ে উঠা বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্যারাককে বেষ্টন করে আছে। সেখানে রাখাইন বৌদ্ধ অধিবাসীরা আমাদেরকে বলেছেন, তাদের পাশাপাশি তারা আর কখনো মুসলিম বসতি মেনে নেবেন না।

শরণার্থীদের কাছে এর অর্থ কি?
জোনাথন হেড লিখেছেন, ২০১৭ সালের সামরিক নৃশংসতার পরে রোহিঙ্গাদের বসতি ধ্বংস করে দেয়ার এই ব্যাপকতা ও অব্যাহত থাকা প্রচেষ্টা বন্ধ হওয়ার অর্থ এই যে, হাতেগোনা কিছু সংখ্যক শরণার্থী তাদের পুরনো বসতি ও সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হতে পারেন। ব্যাপক সংখ্যায় শরণার্থী ফেরত যাওয়ার দৃশ্যমান একটিই প্রস্তুতি হলো হ্লা পেয়ে কাউং, পুনর্বাসন ক্যাম্প কিয়িন চাউংয়ের মতো জরাজীর্ণ ট্রানজিট ক্যাম্প। ফলে দু’ বছর আগে শরণার্থীরা যে মানসিক ক্ষতের মুখে পড়েছিলেন সেই ক্ষত হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারেন সামান্য কিছু সংখ্যক শরণার্থী। ফলে তাদেরকে ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে তার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জোনাথন হেড লিখেছেন, ইয়াঙ্গুনে ফেরত আসার পথে আমি বাস্তুচ্যুত একজন তরুণ রোহিঙ্গার সাক্ষাত পেতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আমাদেরকে আলাদা হতে হবে। কারণ, অনুমতি ছাড়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাত করা নিষিদ্ধ বিদেশীদের জন্য। ওই তরুণ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাত বছর ধরে একটি আইডিপি ক্যাম্পে আটকা পড়ে আছেন। ২০১২ সালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর বাস্তুচ্যুত হন কমপক্ষে ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। তাদের মতোই ওই তরুণকে সিতওয়েতে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার সক্ষমতা রাখেন না। অনুমতি ছাড়া তাকে ক্যাম্পের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের প্রতি তার পরামর্শ, ফিরে আসার মতো ঝুঁকি নিও না। ফিরলে আমাদের মতো একইরকমভাবে কড়া প্রহরার বন্দিশিবিরে থাকতে হবে।

সরকার কি বলছে?
জোনাথন হেড লিখেছেন, রাখাইনে যা দেখতে পেয়েছি সে বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমরা মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের দ্বারস্থ হলাম। কিন্তু কোনো উত্তর দেয়া হলো না সেখান থেকে। সরকারিভাবে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শরণার্থীদের ফেরত নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মিয়ানমার। কিন্তু মন্ত্রীরা এখনও রোহিঙ্গাদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে। তারা বলেন, গত ৭০ বছর ধরে এসব মানুষ অবৈধ উপায়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছে। এমনভাবে অভিবাসনের পক্ষে সামান্যই প্রমাণ আছে। রোহিঙ্গাদেরকে যে নিজ দেশের অধিবাসী হিসেবে মিয়ানমার বিশ্বাস করে না তার বড় রকমের প্রতিফলন ঘটে এর মধ্য দিয়ে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও চলাচলে স্বাধীনতা দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। তারা শুধু ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দিতে চেয়েছে রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারের দাবি, এটা হলো রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ওই কার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ, এই কার্ড দেয়া হলেও তাদেরকে বাঙালি হিসেবে অভিহিত করা হবে।
জোনাথন হেড আরো লিখেছেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে যখন সেনাবাহিনীর নৃশংসতা চরমে তখন মিয়ানমারের সেনা কমান্ডার, সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, ১৯৪২ সাল থেকে যে অসম্পন্ন কাজ রয়ে গেছে তারা সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি রাখাইনে জাপান ও বৃটিশ বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই সময় রোহিঙ্গা ও রাখাইন বৌদ্ধরা সমর্থন করছিলেন বিরোধী পক্ষগুলোকে। এতে একজন অন্যজনকে হত্যা করছিলেন। এর ফলে সেখানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সেনাপ্রধান বলেছেন, উত্তর রাখাইনে মুসলিমদের বন্যা নেমেছিল। এই রাখাইন হলো বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া।
সীমান্তের কাছে মংডু ও বুথিডাং হলো দুটি জেলা। ২০১৭ সাল থেকে এখানে সবচেয়ে বেশি গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আর এ দুটি জেলাই ছিল মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একমাত্র অঞ্চল। সেখান থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পালিয়ে আসার ফলে বাকি যারা রয়ে গেছেন তারা এখন সেখানকার মোট জনসংখ্যার সম্ভবত শতকরা মাত্র ১০ ভাগ। তারা এখন হয়তো সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন।
বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার সরকার, চলাচলের স্বাধীনতা নেই অথবা নাগরিকত্বের পরিষ্কার কোনো পন্থা নেই। এর ফলে বেশির ভাগ শরণার্থীর ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে, এর মধ্য দিয়ে সম্ভবত সেই ‘অসম্পূর্ণ কাজ’ এখন সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।
>>>বিবিসি

পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যাত্রীদের চাপ, যানবাহন চলাচলের গতি, সড়কের দৈর্ঘ্য, ডাস্ট ম্যানেজমেন্ট, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে স্থপতিদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রত্যক্ষ করার সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য আপনাদের জনগণের সম্ভাব্য চাপ, যানবাহনের গতি, প্রকল্প এলাকাগুলোর সড়কের দৈর্ঘ্য ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা ও এ লক্ষ্যে পানি সংরক্ষণের জলাধার খননে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য স্থপতিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবনগুলোতে কিছুটা খোলা জায়গা, নেচারাল ভেন্টিলেশন, বারান্দা ও আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী নির্মাণাধীন বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ও ভবনগুলোতে যথাযথ বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তিনি প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর সব দিকের পরিবর্তে এক দিকে স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন। ভবনগুলোর হোলসেল নির্মাণ বন্ধে আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষর্থীদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে আরো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির মধ্যে বহুতল ফ্ল্যাট ভবন নির্মাণের সংশোধিত মাস্টার প্ল্যান এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভার জন্য বড় পরিসর রেখে ২০তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প। অন্য দুটি প্রকল্প হচ্ছে- শেরেবাংলা নগরে বিশ্ববিখ্যাত প্রকৌশলী লুই আইকানের স্থাপত্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৪৩ একর জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২০তলা বহুমুখী ভবন নির্মাণ। আজিমপুর বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি ২০তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। গণপূর্ত বিভাগ ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ১৮০০, ১৫০০ এবং ১২৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট ১ হাজার ১৪০ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে ৪৩ একর জায়গায় গণপূর্ত বিভাগ ১০তলা বিশিষ্ট ৫১ টি ভবনে ১০০০ এবং ১৮০০ বর্গফুটের ১ হাজার ৮৩৬ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে। ৪ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। শের-ই-বাংলা নগরে বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক হিসেবে স্থপতি লুই-আই কানের সহযোগি স্থপতি হেনরি উইলকোটের অন্তর্ভূক্তি অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া ৪২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সচিবালয়ে ২০তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হচ্ছে।

ভবনে দু’টি বেসমেন্ট রয়েছে এবং সেখানে মন্ত্রিসভা বৈঠকের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিলে ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে কার পার্কিংসহ সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি বহুমুখী ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রত্যক্ষণের পর প্রধাপনমন্ত্রী পদ্মা অথবা যমুনা নদীর পাড়ে ২০তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। স্থপতি বিভাগের সদ্য বিদায়ী স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস, স্থপতি বিভাগের সহকারি স্থপতি সৈয়দা শাকিলা বিনতে আলম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ইরানে ২ কোটি বিনিয়োগে ৬ কোটি আসে : অনন্ত জলিল

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই হলিউড-বলিউডের খ্যাতিমান তারকাদের সাথে নিজের তুলনা করে আলোচনায় আসা অনন্ত জলিল এখন নতুন মিশন নিয়ে এগোচ্ছেন। তার ভাষায় দেশের মৃতপ্রায় চলচ্চিত্র বাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যেগ্যের বিকল্প নেই। একারণেই ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নব নির্বাচিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বুধবার রাতে অনন্ত জলিল বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র বাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে  নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। যাদের সাথে কাজ করলে আমরা লাভবান হবো তাদের সাথে কাজের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। দেশে এখন যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বলতেই কলকাতার সাথে মিলেমিশে সিনেমা করাকে বুঝায়। এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। যারা এই অবস্থার উত্তরণ চায় তাদের উৎসাহ দিতে হবে। তবেই দেশের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসবে।

বর্তমানে তিনি ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনায় ‘দ্বীন-দ্য ডে’নামের একটি ছবি করছেন। এই ছবির অনুমোদন নিতে গিয়ে তার অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, ‘আমি বিএফডিসিতে দুই দফা মিটিং করেও এই ছবির অনুমোদন পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে ইরান থেকে ২০ জনের একটি টিম বাংলাদেশে এসে দুই সপ্তাহ থেকে আবার ফিরে গেছে। কোন সিদ্ধান্ত না নিয়েই। পরে প্রযোজক সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি ছবিটি করার অনুমতি পাই। আমরা প্রশ্ন হলো, একটা ভালো কাজ করতে হলে, এতো বাঁধা কেনো অতিক্রম করতে হবে?’

ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে বিনিয়োগে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি লাভ উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, ইরানের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সিনেমা। ওখানে ফেসবুক-ইউটিউবের কোন অনুমোদন নেই। তাই সিনেমা দেখতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার কোন বিকল্প নাই। ওই দেশের হিসেব অনুযায়ী ইরানে ৭হাজার প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। তাই যে কোন মানের ছবিই বিনিয়োগকৃত অর্থের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ব্যবসা করতে পারে। আমাদের দেশীয় সিনেমায় এখন টাকা লগ্নি করলে ফেরত আসবে কিনা সেই শঙ্কায় থাকতে হয়। অথচ আমরা যদি ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে ২কোটি টাকা বিনিয়োগ করি তাহলে অনায়াশে ৬ কোটি টাকা ব্যবসা করা সম্ভব। এই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

প্রায় ৫বছর ধরে তিনি সিনেমা থেকে দূরে আছেন উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, অনেকদিন ধরে ব্যবসার ব্যস্ততা এবং চলচ্চিত্র বাজারের নাজুক অবস্থার কারণে আমি চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলাম। তবে এখন আবার উদ্যেগী হয়ে কাজ করবো।

প্রযোজকদের মাঝে ঐক্য তৈরীতে নিজের এক ব্যর্থ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, কয়েক বছর আগে হোটেল সেভেন্টি ওয়ানে প্রযোজকদের সম্মানে একটি দিনার পার্টির আয়োজন করেছিলাম। প্রায় ৩০০’র কাছাকাছি প্রযোজক সেখানে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তারা মারামারি করে বের হয়ে এসেছিলেন। আমার প্রশ্ন, এই মারামারি কেন? এখানে কি সরকারি কোনো বরাদ্ধ আসে যে এটা নিয়ে আমাদের মারামারি করতে হবে? নিজের টাকায় সিনেমা বানাবো এখানে দলা-দলী আর মারামারির কি আছ?

উল্লেখ্য অনন্ত জলিল এখন তেহরানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফারাবি সিনেমা ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করছেন।

৫ কারণে ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল পাকিস্তানের জন্য জয় by উমাইর জামাল

পাকিস্তানে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরটি ব্যাপকভাবে সফল বলে অভিহিত করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেও যে সফরের কোনো সম্ভাবনা ছিল না, সেটিই পাকিস্তানের কূটনীতিকে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে।

ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

প্রথমত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইমরান খানের বৈঠকের মূল বিষয়ই ছিল আফগানিস্তান। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছিল। এতে প্রমাণিত হয় যে আফগানিস্তান নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী ও দলের কাছে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রয়াস যথার্থ ছিল। সম্ভবত ইমরান খানের সফরের পর পাকিস্তান হবে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান আলোচনার প্রধান খেলোয়াড়।

দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের প্রতি আর কোনো মারাত্মক অভিযোগ দেখা যায়নি। এমনকি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকেও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুটি তেমনভাবে দেখা যায়নি। বিভিন্ন ফোরামে বক্তৃতাকালে ইমরান খান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দেশের অবস্থান ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক পর্যায়ে একমত প্রতিষ্ঠা হয়েছে যে মিলিশিয়াদের দেশের মধ্যে কাজ করতে দেয়াটা দেশের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে পাকিস্তানের নীতিকে অনুমোদন করেছে বলেই মনে হয়েছে।

তৃতীয়ত, কাশ্মির সঙ্কট নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য বের করাটাও পাকিস্তানের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত অর্জন। এমনকি তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততা পর্যন্ত করতে চেয়েছেন। এটা দারুণ একটি সাফল্য পাকিস্তানের জন্য। ভারতের জন্য আরো খারাপ বিষয় হলো, ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদিই তাকে কাশ্মির সমস্যা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্ততা করতে বলেছেন। অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারত জানায়, তারা এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেয়নি, কাশ্মির প্রশ্নে তারা তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততা চায় না। নয়া দিল্লি অস্বীকার করলেও ট্রাম্পের মুখ দিয়ে ওই কথা বের করতে পারাটাও যথেষ্ট সাফল্য।

চতুর্থত, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সামরিক বাহিনী পর্যায়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে এই সফরে। গত বছর পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করেন ট্রাম্প। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইমরান খানের সাথে বৈঠকের একপর্যায়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে আফগানিস্তানের ব্যাপারে দুই দেশের অর্জনের ওপর নির্ভর করছে পাকিস্তানে নিরাপত্তা সহায়তা আবার শুরু হওয়া। তাছাড়া জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পরবর্তী চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলে মাত্র কয়েক দিন আগে বলেছেন যে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাথে জোরালো সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই মার্কিন স্বার্থ সর্বোত্তমভাবে সংরক্ষিত হতে পারে। ফলে খুবই সম্ভব যে আফগান ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্যগুলো নিরসন করার পর গত বছর স্থগিত হওয়া পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আবার শুরু করবেন ট্রাম্প।

পঞ্চমত, ট্রাম্পের সাথে ইমরান খানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাটা ছিল পাকিস্তানের জন্য আরেকটি বড় অর্জন। ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকন্তু, ট্রাম্পের সাথে ইমরানের এই বৈঠকের পর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। দু্ই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় যে জটিলতা ছিল, সেগুলোর অবসানে এটি বেশ সহায়ক হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে ইমরান ও ট্রাম্প পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলবেন। আর পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারবে।

সর্বোপরি ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক বিবেচনায় ইমরান খানের সফরটি পাকিস্তানের কূটনীতিতে বড় ধরনের আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। ইসলামাবাদ এখন এর পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় এখনো আসেনি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বলা যায়, পাকিস্তান বড় ধরনের জয় পেয়েছে।

মাকে খুঁজে কেঁদে ক্লান্ত ইসরা by মরিয়ম চম্পা

পুরো নাম তাহরিন হাসান ইসরা। বয়স মাত্র এক বছর তিন মাস। এখনো মুখে কথা ফোটেনি। সারাক্ষণ শুধু ‘মা’ ‘মা’ বলে কান্না করে। দিনের বেলায় তাকে কোনোভাবে শান্ত করা গেলেও রাতের বেলায় একদমই থামতে চায় না। মিরপুরের মণিপুরের বাসায় রুমের চারপাশে তাকায় আর মাকে খুঁজে বেড়ায় ছোট্ট ইসরা। এদিক-ওদিক তাকিয়ে মাকে খুঁজে কেঁদে ক্লান্ত হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। স্বজন হারানোর শোকের  সঙ্গে ইসরার এমন কষ্টে একেবারেই ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। গত বৃহস্পতিবার মহাখালীতে বাস চাপায় মারা যান ইসরার মা ফারহানাজ। স্ত্রীর শোকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি মেয়ের কষ্ট দেখে ভেঙ্গে পরেছেন বাবা নাজমুল হাসান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের সংসার জীবনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত রোববার। ৮ই সেপ্টেম্বর ছিল আমাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী। অথচ সে আমাদের মাঝে নেই। মাত্র জীবন শুরু করেছি আমরা। এমন সময় ফারহানাজ আমাদের ছেড়ে চলে গেল। এই কষ্ট আমি কিভাবে সইবো। অনেক আগেই মা‘কে বলেছিলাম, বিদেশ চলে যাবো। তখন বিদেশে গেলে আজকে হয়তো আমার স্ত্রীকে হারাতে হতো না। আমার সন্তানকে মা হারা হতে হতো না। ‘যে দেশে মানুষ ফুটপাতেও নিরাপদ না। যে দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের দাম বাড়েনি সে দেশে স্ত্রী হত্যার বিচার পাবো কি? আমাদের দুজনের মধ্যে জানাশোনা থাকলেও ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আমাদের। আমাদের দিনগুলো খুব সুখেই কাটছিল। হঠাৎ করে এভাবে সব এলোমেলো হয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি। ও খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। আমরা তিন ভাই। আমাদের কোনো বোন নেই। তাই মা ফারহানাজকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন। ও আসলে এতোটাই ভালো ছিল যে, সারাদিন অফিসে খাটাখাটনি করে বাসায় এসে সংসারের সকল কাজ নিজেই করতো। আমার কখন কি লাগবে সে বিষয়ে ও খুব সচেতন ছিল। ওকে হারানোর কষ্টটা সারাজীবনই থেকে যাবে। 
মেয়েকে নিয়ে সে অনেক স্বপ্ন দেখতো। কোন স্কুলে ভর্তি করবে। তার ইচ্ছা ছিল মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াবে। তিন থেকে সারে তিন বছর বয়সে বাসায় হুজুর রেখে মেয়েকে কোরআন শিখাবে। কিন্তু সবই যে অপূর্ণ রয়ে গেল। ঘটনার দিন আমি প্রতিদিনের মতো ওকে নিজের মোটরসাইকেলে  করে মহাখালি নামিয়ে দেই। প্রতিদিন আমি ওকে বলি, দেখে শুনে রাস্তা পাড় হইয়ো আল্লাহর নাম নিয়ে’। ওই দিন আমি বলার আগেই ও আমাকে একই কথা বলেছে। ও তো রাস্তা দেখেই পাড় হয়েছিল। ফুটপাতের ওপরেও যে মানুষ নিরাপদ না এটা ও বুঝবে কিভাবে। আমি অফিসে যাওয়ার পর ৯ টা ১০ মিনিটে ওর অফিস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানানো হয় ইসরার আম্মু এক্সিডেন্ট করেছে। মেয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাতের বেলায় শুধু মা’কে খোঁজে। রাতে সে অনেক বিরক্ত করে। এটাই এখন বড় সমস্যা। সারাদিন ওর দাদির সঙ্গে থাকে। রাতের বেলা ঘুমানোর আগে খুব কান্না করে। এ এখনো তেমন কথা বলতে পারে না। আগে ও খুব বেশি ডাকতো না। তবে গত দুই থেকে তিন দিন ধরে কান্না করার সময় ‘মা’ ‘মা’ বলে ডাকে। মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লাহ নিবেই যখন তিনজনকে একসঙ্গে নিয়ে যেত। তাহলেই হয়তো ভালো হত। কিংবা ওকে না নিয়ে আল্লাহ আমাকে নিতেন। তাহলে মেয়েটা অন্তত মায়ের কাছে থাকতে পারতো। রাতে এখন আমি, মা আর ইসরা একসঙ্গে ঘুমাই। এতোই কান্নাকাটি করে যে, একবার ঘুম থেকে উঠলে আর ঘুমাতে চায় না। একেতো আমার মানসিক এবং শারীরিক অবস্থা ভালো না। তার ওপর ওর কান্না দেখে ঘরে থাকতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। আমার আর কিছুই বাকি রইলো না। সব শেষ হয়ে গেছে। এরকম দুর্ঘটনায় মৃত্যু মেনে নেয়া খুব কষ্টকর। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কতো আন্দোলন হলো। কতো কিছু হলো। আসলে যারা এসব করছে তাদের তো আর কেউ হারায় না। আমরা যারা সাধারণ মানুষ আমাদের আপনজন হারায়। যার হারায় একমাত্র সেই বুঝতে পারে কি হারিয়েছে। ইসরার বড় চাচা মোহাম্মদ সাইফুল রহমান বলেন, ছোট ভাই নাজমুল হাসান তার স্ত্রীকে হারিয়ে  শোকে অনেকটা পাথর হয়ে গেছে। শারীরিকভাবে সে অনেক অসুস্থ। কিছুই খাচ্ছে না, ঘুমাতে পারছে না। রোববার থেকে ইসরার ঠান্ডা জ্বর। মেয়েটা এতোদিন কোনো কথা বলতো না। কয়েক দিন থেকে ‘মা’-‘মা’ বলে কান্না করছে।

কাশ্মীর: ভারত কি কাশ্মীরকে চূড়ান্ত সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া অনুচ্ছেদ ৩৭০'এর বিলোপের পর থেকে ভারত শাসিত কাশ্মীর কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও তুলনামূলক রাজনীতি বিষয়ের অধ্যাপক সুমন্ত্র বোস বিশ্লেষণ করেছেন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে।
অক্টোবরের শেষে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের রাজ্য থাকবে না।
গত সপ্তাহে ভারতের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত হয় যে কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে দু'টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হবে - জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ।
ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো রাজ্যগুলোর চেয়ে অনেক কম স্বায়ত্বশাসন ভোগ করতে পারে এবং ঐ অঞ্চলগুলো সরাসরি দিল্লির শাসনাধীন।
এই বিভক্তির ফলে সেখানকার প্রায় ৯৮% মানুষের ঠিকানা হবে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে, যেটি দুইটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত - মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকা এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু।
আর বাকি মানুষের বসবাস হবে নতুন তৈরি হওয়া কেন্দ্রশাসিত পাহাড়ি অঞ্চল লাদাখে, যেখানকার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মুসলিম এবং অর্ধেক বৌদ্ধ।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকার জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ এবং জম্মুর জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। আর লাদাখের জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের এই দাবিটি ১৯৫০'এর দশক থেকেই হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের অন্যতম প্রধান একটি দাবি ছিল।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের পর থেকে কাশ্মীরে বিক্ষোভ চলছে
হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যকে 'তুষ্ট' করে চলার উদাহরণ হিসেবে গত সাত দশক ধরে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০'এর সমালোচনা করে আসছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭০'এর এই সমালোচনা আরো বেশি সঙ্গতি পায় ভারতকে কেন্দ্রশাসিত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ভাবাদর্শিক বিশ্বাসের কারণে।
তাই জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের অনেক পুরনো একটি আদর্শিক চিন্তার বাস্তবায়নের প্রতিফলনও ঘটেছে।
২০০২ সালে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ (আরএসএস) - যারা হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রধান আহবায়ক হিসেবে কাজ করে - দাবি করেছিল কাশ্মীরকে তিন ভাগে বিভক্ত করার: হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু রাজ্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত লাদাখ অঞ্চল।
আরএসএস'এর একটি সহযোগী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সেসময় দাবি করেছিল রাজ্যটিকে চার ভাগে ভাগ করার: আলাদা জম্মু রাজ্য ও কাশ্মীর রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত লাদাখের পাশাপাশি কাশ্মীর উপত্যকা থেকে কিছু এলাকা নিয়ে আরেকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল - যেটি হবে কাশ্মীরি পন্ডিতদের জন্য আলাদা একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
কাশ্মীরে ৯০'এর দশকে সশস্ত্র জঙ্গিবাদের উত্থান হওয়ার পর সেখান থেকে কাশ্মীরি পন্ডিতদের প্রায় সবাইকেই সপরিবারে সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদ করার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, কাশ্মীরকে স্বায়ত্বশাসন দেয়া ঐ অনুচ্ছেদই সেখানে 'বিচ্ছিন্নতাবাদ' তৈরি করার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

অনুচ্ছেদ ৩৭০'এর কারণে পাওয়া স্বায়ত্বশাসনের অধিকার অবশ্য ১৯৫০ এবং ১৯৬০'এর দশকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের জন্য বেশ খর্ব হয়।
কাশ্মীরিদের মতে, তারা 'উন্মুক্ত কারাগারে' বসবাস করেন
১৯৬০'এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর অনুচ্ছেদ ৩৭০'এর যতটুকু কার্যকর ছিল তার সিংহভাগকেই প্রতীকি বলা চলে - রাজ্যের একটি আলাদা পতাকা, ১৯৫০'এর দশকে তৈরি করা একটি রাজ্য সংবিধান, যেটি একতাড়া কাগজের বেশি কিছু নয়, এবং রাজ্যের বিচারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাশ্মীরের পেনাল কোডের অবশিষ্টাংশ, যেটি ১৮৪৬ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কাশ্মীরের জন্য কার্যকর ছিল।
কাশ্মীরের বাইরের মানুষ সেখানে সম্পত্তির মালিকানা লাভ করতে পারতো না এবং কাশ্মীরিদের চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকতো যেই অনুচ্ছেদের সুবাদে, সেই অনুচ্ছেদ ৩৫এ তখনো কার্যকর ছিল - তবে এই আইন যে শুধু জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যেই বলবৎ ছিল তাও নয়।
উত্তর ভারতের রাজ্য হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও পাঞ্জাব বাদেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক রাজ্যের বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরণের আইন কার্যকর রয়েছে।
কাশ্মীর রাজ্যে 'বিচ্ছিন্নতাবাদ'এর আসল কারণ ১৯৫০ ও ১৯৬০'এর দশকে রাজ্যটির স্বায়ত্বশাসন কার্যত অকার্যকর করে ফেলা এবং তার ফলস্বরুপ তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।
কাশ্মীর রাজ্যের নেতৃত্বে দিল্লির প্রভাব তখন থেকেই ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। পাশাপাশি প্রাগৈতিহাসিক আইন কার্যকর করে কাশ্মীরকে একটি পুলিশ ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজ্যে পরিণত করে ভারত।
তবে এখন জম্মু ও কাশ্মীরের কাছ থেকে রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করলো যা স্বাধীনতা উত্তর ভারতে কখনো হয়নি।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের আগে থেকেই কাশ্মীর কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে
ভারতে যে রাজ্যগুলো রয়েছে (২৯টি, যা কিছুদিন পরই ২৮টিতে পরিণত হবে) সেগুলো যথেষ্ট স্বায়ত্বশাসন ভোগ করে। আর ভারতে যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো রয়েছে - বর্তমানে ৭টি, যা ৩১শে অক্টোবর থেকে ৯টিতে পরিণত হবে - সেগুলো কার্যত তেমন কোনো স্বায়ত্বশাসন ভোগ করার অধিকার রাখে না।

কট্টরপন্থী সিদ্ধান্ত

ধারণা করা হচ্ছে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস ও ভিএইচপি ২০০২ সালে যেরকম প্রস্তাব করেছিল, তার আলোকে কাশ্মীরে কাঠামোতে আরো পরিবর্তন আসতে পারে। যার ফলে ঐ অঞ্চলের হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্ব আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিম লাদাখের কারগিল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ করা শিয়া মুসলিমরাও কেন্দ্রশাসিত লাদাখ অঞ্চরের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি।
পূর্ব লাদাখের লেহ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ করা বৌদ্ধরা এবং জম্মুর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীও তাদের বিশেষ মর্যাদা হারানোর বিষয়টিতে ক্ষুন্ন।
মি. মোদী ঐ অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর এক ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের গঠনতন্ত্র তৈরি করার জন্য শীঘ্রই একটি নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি (কোনো গঠনতন্ত্র ছাড়াই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে লাদাখ)।
ভারত শাসিত কাশ্মীরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে
ঐ ধরণের কোনো নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা কাশ্মীরের এবং জম্মুর মুসলিমরা প্রত্যাখ্যান করবে, তা অনেকটা নিশ্চিত। ফলে, ঐ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যত অকার্যকর একটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যবস্থা তৈরি হবে।

বিজেপি সরকারের নীতি

ভারতের আগের যে কোনো সরকারের কেন্দ্রভিত্তিক বা কর্তৃত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সাথে তুলনা করলে বর্তমান সরকারের কাশ্মীর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমত, এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার সবসময় আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সাধারণত তারা ছিলেন কাশ্মীর অঞ্চলের অভিজাত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। কিন্তু এখন মি. মোদী এবং মি. শাহ সেসব রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অধিষ্ঠিত না করে অতি কেন্দ্রীয় একটি ধারার দিকে হাঁটছেন।
দ্বিতীয়ত, ১৯৫০'এর দশকের পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে চলা ভারতের অত্যাচার ও দমন নীতিকে সমর্থন করে আসা হয়েছে অদ্ভূত একটি যুক্তির মাধ্যমে। তা হলো, ভারতের 'ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র' হওয়ার দাবিকে ন্যায়সঙ্গতা দেয়ার জন্য যে কোনো মূল্যেই হোক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত থাকতে হবে। তবে কট্টর হিন্দুত্ববাদী মি. মোদী এবং এবং মি. শাহ এই ধরণের খোঁড়া যুক্তিতে বিশ্বাসী নন।
লন্ডনের রাস্তায় কাশ্মীরিদের পক্ষে হওয়া প্রতিবাদ
কাশ্মীর ইস্যুতে নেয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে অক্টোবরে হতে যাওয়া ভারতের কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপি লাভবান হতে পারে। একইসাথে ভারতের অর্থনীতির দূর্দশার বিষয়টি থেকেও সাময়িকভাবে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে পারে।
কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে বিজেপি'র কট্টরপন্থী সিদ্ধান্ত ঐ অঞ্চলে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা দ্বন্দ্বকে এমনভাবে উস্কে দিতে পারে, যা হয়তো প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।
বিশ্বের অনেক গণতন্ত্রেই অভ্যন্তরীন বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বর্তমান রয়েছে: যুক্তরাজ্যের ভেতরে স্কটল্যান্ড, কানাডার ভেতরে কুইবেক বা স্পেনের ভেতরে কাতালোনিয়ার মত।
বিজেপি সরকার যা করেছে তা অনেকটা ১৯৮৯ সালে সার্বিয়ার মিলোসেভিচ শাসনামলে কসোভের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নেয়ার মত। সেসময় কসোভোর আলবেনিয় সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর ওপর পুলিশি শাসন চাপিয়ে দেয়া হয়।
তবে বিজেপি সরকার মিলোসেভিচ শাসনামলে কসোভোর আলবেনিয়ানদের বিরুদ্ধে নেয়া নীতিকেও ছাড়িয়ে গেছে, তারা কাশ্মীরকে নিজেদের অধীনে আনার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে।
হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্রোহী মনোভাবসম্পন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভারতীয় হিসেবে পরিচিতি প্রদান করতে চায়, যা বিজেপি'র অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ। এই নীতি অনেকটা জিনজিয়াংয়ে উইঘর মুসলিমদের সাথে চীন সরকারের নেয়া নীতির মতো।
কিন্তু বিজেপি এটাও জানে যে ভারত একদলীয় শাসনব্যবস্থার কোনো দেশ নয়। এর পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ।
>>>সুমন্ত্র বোস লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও তুলনামূলক রাজনীতি বিষয়ের অধ্যাপক
ক্ষোভে থমথমে শ্রীনগর : বিবিসি বাংলার ক্যামেরায়

ভাগ্য ফেরাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরা by মানসুরা হোসাইন

সালমা নাহারের বয়স ছিল ২২ বা ২৩ বছর। লেবাননে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। আড়াই বছরের মাথায় তিনি দেশে ফিরেছেন লাশ হয়ে। মাদারীপুরের সালমা অত্যাচারের কারণে সংসার করতে পারেননি। ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে ১০ বছর বয়সী ছেলে ও নিজের ভবিষ্যতের জন্যই লেবাননের পথে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি।
সালমার বাবা মো. জুলহাস সালমা যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছিলেন, তাদের কাছে শুনেছেন, মেয়ে নাকি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কিন্তু জুলহাসের মনের সন্দেহ দূর হচ্ছে না। জুলহাস বললেন, ‘মেয়ে পানি পাইলো কই? ও তো সাঁতার পারত, ডুইব্যা মরবো ক্যান? কেউ কেউ বলে, ওরে কেউ মাইরা ফালাইছে। বিদেশের কথা কেমনে কী কমু।’
জুলহাস খবর পেয়েছেন সালমা মারা যাওয়ারও তিন মাস পর। এরপর ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মেয়ের লাশ দেশে আনেন। মেয়ে লেবাননে কী কাজ করতেন, তা–ও জানেন না এই বাবা। সালমা ছেলের খরচের জন্য কখনো ৫ হাজার, কখনো ১০ হাজার টাকা পাঠাতেন দেশে। এ ছাড়া থোক কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন।লেবানন থেকে লাশ আনতে এই বাবার কোনো খরচ হয়নি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাশ আনার সময় সরকারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকার চেক পেয়েছেন। এর বাইরে সরকারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াচ্ছেন।
মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়ে লাভ কী হলো প্রশ্নে জুলহাস বললেন, ‘মেয়ের কথা মনে হইলে বুকটা ফাইট্যা যায়। দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে ও ছিল সবার বড়। বলছিল, বিদেশ যাইয়্যা টাকা কামাই কইরা ছোট বইনরে বিয়া দিব। নিজের ছেলের ভবিষ্যৎ বানাইবো। এখন লাভের মধ্যে লাভ হইলো, মেয়ের লাশটা দেখবার পারছি।’
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা লাশের তথ্য বিশ্লেষণ করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলছে, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ২৯৪ জন নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। ২০১৬ সালে ৫৭ জন, ২০১৭ সালে ১০২ জন এবং গত বছর ১১২ জনের লাশ দেশে আসে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে আসা লাশের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ জনে।মারা যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে ব্র্যাক বলছে, ২৯৪ জনের মধ্যে সব থেকে বেশি ১১০ জনই মারা গেছেন স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে। স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫০ জন। আর আত্মহত্যা করেছেন ৪৪ জন। অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ৩১ জন নারী।
সরকারের হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত নারী শ্রমিকেরা বেশি যাচ্ছেন সৌদি আরবে। সেই হিসাবে সৌদি আরব থেকেই বেশি লাশ আসছে (১১২ লাশ)। এরপরেই জর্ডান, লেবানন, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই পাঁচটি দেশ।
তবে দেশে থাকা মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দিহান। ২৫ বছর বয়সী জহুরা বেগম সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে। জহুরার বৃদ্ধ মা আলেয়া বেগম জানালেন, জহুরা যখন ছোট, তখন তাঁর বাবা মারা যান। জহুরা যখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন তাঁর স্বামী মারা যান। জহুরা মারা যাওয়ার ১০ মাস পর লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়।মুন্সিগঞ্জের এই মা আলেয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করে এখন মেয়ে জহুরার ১০ বছর বয়সী ছেলেকে খাওয়াচ্ছেন। জহুরার বড় বোন রোখসানা বললেন, ‘মনডায় কয়, বইনডারে কেউ মাইরা ফালাইছে। ও ছোট থেইক্যা কম তো কষ্ট করে নাই। ছেলে জন্মানোর তিন দিন পরেই কাজে যোগ দিছিল। মরতে চাইলে দ্যাশে থাকনের সময়ই আত্মহত্যা করত।’
জহুরার পরিবার লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক পেয়েছে, এর বাইরে আর কিছু পায়নি। জহুরার বোনের ভাষায়, ‘৩৫ হাজার টাকার বাইরে চাইর আনাও পাই নাই। বইনের লাশের সঙ্গে ম্যালা কাগজ দিছে, যা কোনো কামেই লাগে নাই।’
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বললেন, কয়েক বছর ধরে নারী শ্রমিকের লাশ আসার সংখ্যাটা বেড়েছে। ব্র্যাকের নিজস্ব পর্যালোচনায় গত তিন বছর দুই মাসে প্রায় ৩০০ নারীর লাশের মধ্যে বেশির ভাগ মারা গেছেন স্ট্রোক করে। কাজের চাপসহ বিভিন্ন কারণে না হয় মৃত্যু মেনে নেওয়া হলো। কিন্তু প্রায় অর্ধশত নারী কেন আত্মহত্যা করলেন? এই নারীরা তো ভাগ্যের উন্নয়নে চোখে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন। তাহলে কী এমন পরিস্থিতি হলো যে তাকে আত্মহত্যা করতে হলো? সরকারকে এ ধরনের মৃত্যুগুলো তদন্ত করে দেখা উচিত।হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে গত বছর অর্থাৎ ১০ বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ২৬ হাজার ৭৫২ শ্রমিকের লাশ এসেছে। তবে এই লাশের মধ্যে নারী শ্রমিকের লাশের আলাদা কোনো তথ্য নেই।প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিদেশে মারা যাওয়া শ্রমিকের লাশ দেশে আনা, দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং মৃত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক তিন লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বললেন, প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ১০টি করে (নারীসহ) শ্রমিকের লাশ দেশে আসছে। অনেক পরিবার লাশ দেশে আনতে চায় না। যারা আনতে চায় তাদের সহায়তা করা হয়। আর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ আছে—পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। পরিবার চ্যালেঞ্জ করলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই কুয়েত থেকে রিনা আক্তারের লাশ দেশে এনেছেন তাঁর স্বামী মো. আবু জাফর। ২০১০ সালে বিয়ের আগে থেকে কোম্পানিতে কাজের সুবাদে কুয়েতেই পরিচয় হয়েছিল জাফর আর রিনার। বর্তমানে দুই কোম্পানিতে কাজ করতেন স্বামী-স্ত্রী। বিয়ের আগে ও পরে সব মিলিয়ে কুয়েতে কেটে গেছে প্রায় ২২ বছর। একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা বরিশালের রিনা বাথরুমেই মারা যান। তাঁর মৃত্যু সনদে ‘স্ট্রোক’ লেখা আছে। এই দম্পতির কোনো ছেলেমেয়ে নেই।
আবু জাফর জানালেন, কোম্পানি নিজ খরচে রিনার লাশ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, তবে আবু জাফরকে নিজের টাকায় লাশের সঙ্গে দেশে আসতে হয়েছে। আবু জাফরের মতে, রিনার তেমন কোনো অসুখ ছিল না। ‘হঠাৎ স্ট্রোক’ করেন তিনি। জানালেন, কুয়েতে রিনা যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, সেখান থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ। স্বামী-স্ত্রী যা আয় করতেন, তার বেশির ভাগই দেশে থাকা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, ফলে সঞ্চয় বলতেও তেমন কিছু নেই।

ফের বিকিনিতে মালাইকা

বলিউডে আইটেম গানের শীর্ষ তারকা ধরা হয় মালাইকা আরোরাকে। ‘ছাইয়া ছাইয়া’, ‘মুন্নী বদনাম’সহ আরো অনেক আইটেম গানে পারফর্ম করে আকাশছোঁয়া সফলতা পেয়েছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরবাজ খানের সঙ্গে ডিভোর্স ও পরবর্তীতে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েই বেশি আলোচনায় থেকেছেন তিনি। অনেক দিন ধরেই নতুন কোন আইটেম গানে দেখা মিলছে না তার। তবে এবার নতুন খবর জানালেন মালাইকা। একতা কাপুর প্রযোজিত একটি নতুন ছবির আইটেম গানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। নাম না ঠিক হওয়া এ ছবির নায়ক ও নায়িকা হিসেবে কাজ করবেন তুষার কাপুর ও সানি লিওন। আর সেখানেই একটি আইটেম গানে কোমর দোলাতে দেখা যাবে মালাইকাকে। প্রায় একশ নৃত্যশিল্পী নিয়ে একটি সুইমিংপুলের সামনে এ গানটিতে বিকিনি পড়ে ক্যামেরাবন্দি হবেন তিনি। এর আগেও বিকিনিতে পারফর্ম করেছেন তিনি। তবে সেটা দীর্ঘ সময় আগে। এবার ফের তাকে দেখা যাবে এমন খোলামেলা রূপে। এরইমধ্যে গানটির শুটিংয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এর শুটিং হবে। মালাইকা বলেন, একতা কাপুরের ছবির আয়োজন সব সময় ভালো লাগে আমার। এবারের ছবির আইটেম গানটিও এক্সক্লুসিভ হতে যাচ্ছে। এখানে বরাবরের মতো সুপারহট মালাইকাকে আবিস্কার করা যাবে। আশা করছি ভালো লাগবে সবার।

প্রথম ছবিতেই যৌন দৃশ্য

২০১৫ সালে মিস ইন্ডিয়ার খেতাব জিতেছিলেন অদিতি আরিয়া। এরপর বেশ কিছু পণ্যের বিজ্ঞাপনে কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন। হেঁটেছেন বড় বড় র‌্যাম্পের মঞ্চেও। তবে এবার অদিতির অভিষেক হতে যাচ্ছে বলিউডে। রনবীর সিং ও দীপিকা পাডুকোন অভিনীত নতুন ছবি ‘৮৩’ তে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। এটি পরিচালনা করছেন কবির খান। সম্প্রতি লন্ডনে এর শুটিং শুরু হয়েছে। এ ছবিটি ভারতীয় স্পোর্টস জগতের একটি সত্য ঘটনার ওপর নির্মিত হচ্ছে।
আর ছবিতে অদিতি অভিনয় করবেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মহিন্দর অমরনাথের স্ত্রীর চরিত্রে। শুধু তাই নয়, পুরো ছবিতেই খোলামেলা রূপে অভিনয় করবেন তিনি। প্রথম ছবিতেই তাকে একটি যৌন দৃশ্যেও দেখা যাবে। সম্প্রতি বিষয়টি খোদ একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন অদিতি। আর বিষয়টি নিয়ে বেশ উত্তেজিত এ সুন্দরী। অদিতি বলেন, আমার অভিনীত প্রথম ছবিটিই ভারতের স্পোর্টস ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাচ্ছে। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। ছবিতে সুপারহট অদিতিকে আবিস্কার করবেন দর্শক। তাই অপেক্ষায় থাকুন।

পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার দরপতন হুমকির মুখে ক্ষুদ্র চা শিল্প

চা বাগান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পঞ্চগড় জেলার ৫ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি। চা পাতার মূল্য বিড়ম্বনায় এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে চাষিদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে কোনো সুরাহা না পাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এ জেলার সুনাম নষ্ট করতে সংশ্লিষ্টরা কৌশলগতভাবে চাপাতার দরপতন করিয়ে চাষিদের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য এখানকার চা শিল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে অনেকে মনে করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন অনার্স এসোসিয়েশন আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেবে। অব্যাহতভাবে চলা মূল্য বঞ্চনার একপর্যায়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত ১৪ই জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ কমিটির এক সভায় প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৬ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এ সভায় চা কারখানার মালিক, চা বাগান মালিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এক্ষেত্রে কোনো চাষির পাতার মান ভলো না হলে ১০ শতাংশ হারে কর্তন করে চাষিদের মূল্য পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কাঁচা চা পাতা কেনার জন্য চাষিদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। এছাড়া চাপাতা বিক্রির সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পাতা কেনার পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করছে। কাঁচা চা পাতার এমন দরপতনের জন্য চাষিরা কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। চাষিদের চাপাতার ভাউচারে কর্তনের হিসাব ও প্রতি কেজির মূল্য উল্লেখ না করে শুধুমাত্র মোট টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো চাষি আপত্তি জানালে তার চা পাতা কারখানার মালিক নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এতে চা চাষিরা প্রতিনিয়ত লোকসান গুনলেও কারখানা মালিক কৌশলে কোটি কোটি টাকা উপরি আয় করছে বলে অনেকে জানিয়েছে। ২০১৮ সালে পঞ্চগড় জেলায় কাঁচা চা পাতার মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু এ বছর কমতে কমতে ১৬ টাকা ৮০ পয়সায় এসে দাঁড়িয়েছে। এতে নতুন চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় চায়ের চারাও বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চারা উৎপাদনকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার ১৫টি চা কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দেয়ার জন্য চা বাগান মালিকদের অন্যখাত থেকে চা শ্রমিকদের মজুরি ও সার কিটনাশকের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভে চায়ের গাছ থেকে কাঁচা চা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে চা চাষি ও কারখানা মালিকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। চাষিরা জানায়, কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করে কাঁচা চা পাতার মূল্য কমিয়েছে। অপরদিকে, কারখানা  মালিকরা বলছে ক্ষুদ্র চাষিরা নিয়ম অনুযায়ী কাঁচা পাতা না তুলার কারণে উৎপাদিত চায়ের মান কমে গেছে। তাই অকশন বাজারে তৈরি চায়ের মূল্য কমে যাওয়ায় কাঁচা চা পাতার দাম কমানো হয়েছে। অভিযোগ মতে, ভালো মানের চারা দিয়ে বাগান ও কাঁচা চাপাতা তুলার ব্যাপারে চাষিদের উদ্বুদ্ধ, প্রশিক্ষণ ও সচেতন করার জন্য টি বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকর তৎপরতা নেই। তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, চা চাষিদের অবস্থা অনেকটা তৎকালীন নীল চাষিদের মতো হয়েছে। কারণ চা কারখানার মালিকদের একতরফা সিদ্ধান্তে কাঁচা চাপাতার যে মূল্যে দিচ্ছে তা দিয়ে বাগানের সার-কীটনাশক ও পাতা তোলার কামলা খরচও হয় না।  আমি এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও বিভাগী কমিশনার মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি তারা যেন বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদোয়ের সঙ্গে কথা বলে চা বাগান মালিকদের কাঁচা চাপাতার সঠিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রম্মতল এলাকার চা চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি ১৫ একর জমিতে চা চাষ করেছি। এখন চা নিয়ে আমাদের নাজেহাল অবস্থা। সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে চায়ের পাতা বৃদ্ধি পেয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দা দিয়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া চা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলো ১২ টাকা কেজি দরের উপর কিনছে না। এক কেজি চা পাতা তুলতেই তো ৪ থেকে ৫ টাকা খরচ হয়। সেখানে লাভের আশা কিভাবে করবো। সে আশা আর স্বপ্ন নিয়ে চা চাষ শুরু করেছিলাম সব স্বপ্নই আমাদের ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টি ফ্যাক্টরি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার ও তেঁতুলিয়ার বাংলা টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী শেখ মো. শাহ আলম বলেন, আমরা বর্তমানে নির্ধারিত প্রতি কেজি ১৬ টাকা ৮০ পয়সা দরেই কাঁচা চা পাতা ক্রয় করছি। তবে ভেজাপাতা থাকলে সেক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর্তন করা হয়। কাঁচা চা পাতার মূল্য কমে যাওয়ার পেছনে কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব নেই। বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, নিলাম বাজারে পঞ্চগড় জেলার চায়ের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় কাঁচা পাতার দামে প্রভাব পড়েছে। চা উৎপাদনে গুণগতমান রক্ষা করতে পারলে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হতে পারে। তবে কারখানা মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। এছাড়া ইচ্ছেমতো যখন তখন কারখানা বন্ধ করা হলে চাষিরা বিপদে পড়তে পারেন। নির্ধারিত মূল্যে যাতে কারখানাগুলো চাষিদের কাছ থেকে চা পাতা ক্রয় করেন সেজন্য কাঁচা চাপাতার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি কমিটির তদারকি অব্যাহত আছে। তবে এই সমস্যা অল্পদিনের মধ্যে কেটে যাবে।

যানজট এড়াতে আসছে উবার এয়ার

অফিস টাইম। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। গাড়ি পাচ্ছেন না। এই জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে বেসরকারি উদ্যোগে অনেক পরিবহন সেবা এসেছে বিশ্বে। মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এসব সেবার মধ্যে রয়েছে ট্যাক্সি, মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা। তাতে খরচ একটু বেশি পড়লেও জীবন হয়েছে অনেকটা সহজ। কিন্তু সেই সুযোগকে আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। একবার ভাবুন তো, অফিসে যাবেন।
রাস্তায় জ্যাম। হাতে সময় নেই। এমন সময় কোনো একটি অ্যাপের বাটন চাপলেন। অমনি আপনার বাসার ছাদে বা উপযুক্ত একটি স্থানে উড়ে এলো একটি ট্যাক্সি। আপনি তার ভেতর উঠে বসলেন। আপনাকে নিয়ে আকাশপথে উড়ে চললো সেই ট্যাক্সি গন্তব্যে। যথাসময়ে অথবা তার আগেই আপনি পৌঁছে গেলেন গন্তব্যে। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও এটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
হ্যাঁ, এমনই এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছে উবার। তারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে এমন সেবা নিয়ে আসছে। এ সেবা নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়বে যে ট্যাক্সি তার নাম দেয়া হয়েছে ‘উবার এয়ার’। এজন্য উবার বেছে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নকে। এমন কর্মসূচি চালু হচ্ছে তিনটি পাইলট সিটি মেলবোর্ন, ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসে। ২০২০ সাল থেকে এমন ফ্লাইট পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। আর বাণিজ্যিকভিত্তিতে তা চালু হওয়ার কথা ২০২৩ সাল থেকে।
ভবিষ্যৎ পরিবহনের জন্য এরই মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি উড়ন্ত ট্যাক্সি উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। সে যাত্রায় উবার অগ্রগামী। তারা এক্ষেত্রে সফল হলে শহরগুলোতে যে গা-ঘামা ট্রাফিক জ্যাম তা থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারবে।
উবারের বেসামরিক বিভাগ উবার এলিভেট-এর বৈশ্বিক প্রধান এরিক অ্যালিসন বলেছেন, যেহেতু বড় বড় শহরগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছেই। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা থাকলেই তার ওপর নির্ভর করা টেকসই পদক্ষেপ হবে না। এজন্য সড়কে যানজট এড়াতে ব্যাপক সুবিধা নিয়ে আসছে উবার এয়ার।
তিনি বলেন, মেলবোর্নের মূল বাণিজ্যিক এলাকা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে উবার এয়ারের লাগবে মাত্র ১০ মিনিট সময়। অন্যদিকে গাড়িতে করে সেখানে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে উবার। তাদের রয়েছে দুটি এয়ারক্রাফট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। তা হলো এমব্রায়ের এবং পিপিস্ট্রিল এয়ারক্রাফ। গত বছর উবার বলেছে, তারা উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরির জন্য প্যারিসে একটি ল্যাবরেটরি খুলবে।
এখানে উল্লেখ্য, উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরির জন্য শুধু উবারই একমাত্র কোম্পানি এমন নয়। এ কাজ করে যাচ্ছে আরো অনেকে। যাত্রী বহনকারী স্কাই ট্যাক্সি আবিষ্কারের জন্য প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এয়ারবাস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করে উড়ন্ত ট্যাক্সির বিষয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রথমবার ড্রোন ট্যাক্সি চালিয়েছে দুবাই। আলাদাভাবে গুগল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের অর্থায়নে একটি ইলেকট্রিক এবং স্বচালিত এয়ার ট্যাক্সি তৈরি করা হয়েছে, যা ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

ভারতে মুসলিম নারীরা জনসংখ্যা ৬.৯ ভাগ, লোকসভায় ০.৭ ভাগ by নমিতা ভান্ডার

তিনি যদিও তার গ্রামের প্রধান, কিন্তু ২২ জনের বিশাল পরিবারের জন্য রুটি বানানো এখনো তার দায়িত্ব।
হরিয়ানার নুহ জেলার হোসাইনপুর গ্রামে মাটির ছোট্ট চুলায় রুটি বানানোর সময় ফারহুনাকে তার বিয়ে আর নির্বাচন নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই হাসলেন।
তা ছিল ২০১৬ সালের ঘটনা। তখন পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘনিয়ে আসছিল। হরিয়ানা সরকার প্রার্থী হওয়ার নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছিল। এ অনুযায়ী, নারী প্রার্থীকে অন্তত অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে, আর পুরুষ প্রার্থীকে হতে হবে ম্যাট্রিক পাস।
ওই বছর হোসেনপুরের আসনটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সমস্যা হলো, তার স্বামীর পরিবারের কোনো নারীই কখনো স্কুলে যায়নি।
ফলে ফারহুনার শ্বশুর যখন ছেলের জন্য বউ খুঁজছিলেন তখন শিক্ষার দিকে নজর দিলেন। ফারহুনা বলেন, তিনি এমনকি যৌতুক পর্যন্ত নেননি। তিনি তার বিএ ডিগ্রির জন্য গর্বিত।
বিশাল পরিবারটির জন্য রুটির দরকার কম হয় না। বিকেলে দরকার হয় ৭০টি, আর রাতেও একই সংখ্যক।
রুটি বানানো আর ছয় মাস বয়সী মেয়ের পরিচর্যা করতে করতেই তার সময় চলে যায়। পঞ্চায়েতের সভায় যোগ দেয়ার সময় খুব একটা পাওয়া যায় না।
তাছাড়া তার দুই ননদের বিয়েও ঘনিয়ে আসছে। এ কারণে তাদের দোতলা বাড়িতে ঘসামাজার কাজ চলছে। ফলে দম ফেলার অবকাশ নেই।
কিন্তু তারপরও ফারহুনা সভায় যোগ দেন, এলাকার নানা সমস্যা সমধানে তাকে কাজ করতেই হয়।
প্রতিটি স্তরে নিম্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব একটি সমস্যা। বর্তমানে ভারতীয় লোকসভায় ৫৪৩ জন সদস্যের মধ্যে মুসলিম নারী মাত্র চারজন। অর্থাৎ মুসলিম নারীরা ০.৭ ভাগ। অথচ জনসংখ্যায় দিক থেকে তারা ৬.৯ ভাগ।
আর্টস গ্রাজুয়েট ফারহুনা তার ২২ সদস্যের পরিবারের জন্য রুটি বানাচ্ছেন
স্বাধীনতার পর ভারতের ১৬টি লোকসভার মধ্যে ৫টিতে কোনো মুসলিম নারী ছিল না। আর তাদের আসন সংখ্যা কখনো চারটির বেশি হয়নি।
ভারতে রয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৪টি আসন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এ তথ্য জানিয়েছেন মাইঙ্ক মিশ্র, কুইন্টে। এছাড়া ১৩টি আসনে মুসলিমরা ৪০ ভাগের বেশি। মোট ১০১টি আসনে মুসলিমরা জনসংখ্যার ২০ ভাগের বেশি।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুসলিমরা জনসংখ্যার ১৪.৩ ভাগ। কিন্তু ৫৪৩ আসনবিশিষ্ট লোকসভায় তাদের সদস্য সংখ্যা মাত্র ২২ অর্থাৎ বর্তমান লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের হার মাত্র ৪ ভাগ।
এর একটি কারণ হলো মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থী দিতে অনীহ থাকে। ২০০৯ সালে মাত্র ৩০ জন ছিলেন মুসলিম। ওই বছর মোট মুসলিম প্রার্থী ছিলেন ৮৩২ জন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৪৭.১২ ভাগ) ছিলেন স্বতন্ত্র।
২০১৪ সালে অবস্থার উন্নতি ঘটেনি। ওইসময় ৩,২৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম ছিলেন ৩২০ জন (৯.৮ ভাগ)। বিজেপি ৪৬২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২৭ জন মুসলিম (৬ ভাগের চেয়ে কম) প্রার্থী দিয়েছিল। ২০০৯ সালে ছিল ৩১ জন।
অমুসলিম দলগুলোর মধ্যে কেবল সমাজবাদী পার্টি (এসপি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) ১৫ ভাগের বেশি মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। এটা ছিল যথাক্রমে ১৮.৪ ভাগ, ২০.৭ ভাগ ও ১৫ ভাগ।
কিন্তু মুসলিম নারীরা আরো বেশি বঞ্চনায় রয়েছেন। একদিকে মুসলিম, অন্য দিকে নারী, উভয় দিক থেকেই তিনি বঞ্চিত হন। অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক গিলেস ভারনিয়ার বলেন, সব নারীই বঞ্চনার শিকার হন। মুসলিম নারীরা আরো বেশি।
জওহেরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জয়া হাসান বলেন, স্বাধীনতার সময় থেকেই মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ ছিল কম। এরপর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ডানপন্থী প্রধান দলটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে মুসলিমদেরকে বর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা কয়েকজন মুসলিম প্রার্থী দিলেও তা হয় আরো কম সংখ্যায়।
এবারের লোকসভার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে বিজেপি মাত্র একজন নারী প্রার্থী দিয়েছে। মাফুজা খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গিপুর থেকে।
হরিয়ানার নুহ জেলায় জয়সিংহপুর গ্রামে পেহলু খানের কবর
চলমান লোকসভার শুরুতে মুসলিম এমপি ছিলেন মাত্র দুজন। এদের একজন হলেন মমতাজ সঙ্ঘমিতা (চিকিৎসক, তৃণমূল থেকে প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছেন) ও মওসুম নূর (কংগ্রেস থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত এমপি, মালদহ থেকে)। অপর দুজন উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে। এদের একজন হলেন উত্তর প্রদেশ থেকে বহুজন সমাজ পার্টি থেকে নির্বাচিত তাবাসসুম হাসান (তিনি ২০০৯ সালেও এমপি হয়েছিলেন) ও তৃণমূল থেকে নির্বাচিত সাজদা আহমদ।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৃণমূলে এবার প্রথম ধাপে যে ১,২৭৯ জন মুসলিম নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১১১ জন ছিলেন নারী। তবে এদের মাত্র দুজন ছিলেন মুসলিম।
এবার কিন্তু মুসলিম নারীদের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিন তালাকের মতো বিষয় নিয়ে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইস্যুটি তাদের হলেও তাদের কথা পার্লামেন্টে সংখ্যার অনুপাতে শোনা যায় না।
এছাড়া গোরক্ষকদের হাতে নির্মমভাবে খুনের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোও মুসলিম নারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোড়িত করে।
মুম্বাইভিত্তিক ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের (বিএমএমএ) জুবাইদা খাতুন বলেন, যারা আমাদের পক্ষে কথা বলার দাবি করে, তাদের আমাদের সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ইসলামে নারীদের কী অধিকার দিয়েছে, সে সম্পর্কেও তাদের জানাশোনা নেই।
তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের যেভাবে টার্গেট করা হচ্ছে, তাতেও মুসলিম নারীরা উদ্বিগ্ন। দিল্লির জামিয়া নগরের সংকীর্ণ লেনে একদল নারী ভয়ের পরিবেশের কথা বলছিলেন। ২০১৭ সালের জুনে দিল্লি-মাথুরা ট্রেনে জুনায়েদ নিহত হওয়ার পর থেকেই তারা আতঙ্কে রয়েছেন। সারিনা বেগম বলেন, তিনি তার তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভয়ে আছেন। তারা নিরাপদে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত তিনি ঘুমাতে পর্যন্ত পারেন না।
৭৫ বছরের উপরে বয়সী জমিলা (ডানে) এখনো বাড়ির গো-মহিষ দেখভাল করেন
তিনি বলেন, যদি আপনার দাড়ি থাকে, কুর্তা পাজামা পরেন, একটি বিশেষ ধরনের দেখা যায়, তবে আপনি রাস্তায় টার্গেট হবেন। তিনি বলেন, রাস্তায় বের হলে আমি যাতে বোরকা না পরি, সেজন্য আমার স্বামী আমাকে বলেন।
এই নির্বাচনে কী চান, এই প্রশ্নের জবাবে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে সহকারী হিসেবে কর্মরত রাজনীতি বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট জুবাইরা বলেন, তিনি চান শান্তি। এই নির্বাচনে এটুকুই তার চাওয়া।
গাজিয়াবাদের জাট সম্প্রদায় পরিবেষ্টিত থাকলেও এত দিন আয়েশা কখনো নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি সবসময় উদ্বেগে থাকেন, বাড়ি থেকে বের হতেই ভয় পান। তিনি জানান, যেকোনো সময় টার্গেট হতে পারেন বলে ভয় পান।
মুসলিম নারীরা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নিয়োজিত। আর এ কারণেই তারা নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন। আয়েশা বলেন, কংগ্রেস যে খুব ভালো তা নয়। কিন্তু ওই সময় অন্তত আমাদের প্রতি ঘৃণা করা হতো না। তিনি বলেন, তার একমাত্র লক্ষ্য হলো বিজেপিকে হারিয়ে দেয়া।
>>>লেখক: দিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক

যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন বৃটিশ অভিনেত্রী-প্লেবয় মডেল

মুখ খুললেন বৃটিশ অভিনেত্রী ও প্লেবয়ের সাবেক মডেল আনুশকা ডি জর্জিয়াস। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিলিয়নিয়ার প্রয়াত জেফ্রে এপস্টেইন তাকে যৌন নির্যাতন করেছেন। তার ভাষায়, জেফ্রে এপস্টেইন আমাকে দূষিত করেছেন। কলুষিত করেছেন। যৌন নির্যাতন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানে ফেডারেল কোর্টে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ ছাড়া আরো অনেকে জেফ্রে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিন্ন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। তার মধ্যে অনেকে বলেছেন, তাদেরকে যৌনদাসী বানিয়ে রেখেছিলেন জেফ্রে এপস্টেইন।
আদালতে যখন এসব অভিনেত্রী বা মডেল সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তখন তাদের সবার বক্তব্য যেন একই শোনাচ্ছিল। ২৩ জন নির্যাতিত নারী এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাতে ফুটে উঠেছে এমন চিত্র যে, জেফ্রে এপস্টেইন বিপদে পড়া যুবতীদের কাজে নিতেন। তাদেরকে গ্রুমিং করতেন। আর এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া খবরে ঠাসা।
জেফ্রে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে এমন সাক্ষ্য দেয়া প্রথম বৃটিশ অভিনেত্রী আনুশকা। নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটানে শুনানিতে তিনি বলেছেন, অনেক বছর ধরে তার ওপর যৌন নির্যাতন করেছেন জেফ্রে এপস্টেইন। আনুশকা ২০০৪ সালে জুড ল’র ছবি ‘আলফি’তে অভিনয় করেছেন। তিনি বলেছেন, টিনেজ বয়সে তিনি তখন। ওই সময়টাতে তিনি যুবতী এবং আদর্শবাদী ছিলেন। কিন্তু জেফ্রে এপস্টেইন তার ওপর যৌন নির্যাতন করেছেন। তাকে দূষিত করেছেন। টানা অনেক বছর তার ওপর এই অন্যায় করা হয়েছে। এতে তার মর্যাদাকে অপরিমেয় অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে তিনি সুস্থ সম্পর্ক রাখতে পারছিলেন না।

আনুশকা বলেন, আমি একজন ভিকটিম ছিলাম। আজকের এই অবস্থানে আসতে আমার অনেক অনেক বছর সময় লেগেছে। আজ আমি বলতে পারছি, হ্যাঁ আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। কিন্তু আমি আর ভিকটিম হবো না। আর একটি দিনও চুপ করে থাকবো না। যদিও আমি জানি কারো মারা যাওয়া একটি বেদনার বিষয়। তবু জেফ্রে এপস্টেইন মারা যাওয়ায় আমি চরমভাবে স্বস্তি পাচ্ছি এই জন্য যে, তিনি আর একটি শিশু বা নারীর ক্ষতি করতে পারবেন না। যেসব নারী ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন তাদের একটি গ্রুপের অংশ হতে পেরে আমার ভাল লাগছে।

আনুশকা ডি জর্জিয়াস হলেন মিলিয়নিয়ার অ্যান্থনি ও বারবারার কন্যা। তিনি প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী, ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন মার্লবরো কলেজে। ডাচেস অব কেমব্রিজের থেকে তিনি হয়তো দুই বছরের সিনিয়র। তিনি স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে অক্সফোর্ডে আইন পড়াশোনা বাদ দিয়ে মডেলিংয়ে মনোনিবেশ করেন। খুব দ্রুততার সঙ্গে তিনি মডেলিংয়ে খ্যাতি পান। গাই লারোচে এবং পুসি গ্লামোরের অন্তর্বাসের মডেলিংয়ে অংশ নেন। তারপর শুরু করেন ছবিতে অভিনয়। ২০০৪ সালে অভিনয় করেন ‘আলফি’ ছবিতে। তারপর চ্যানেল ৪ এর রিয়েলিটি টিভি শো ‘ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিমিং’-এ অংশ নেন। ২০০৯ সালে হলিউডের যুদ্ধ বিষয়ক ছবি ‘২১ অ্যান্ড এ ওয়েক-আপ’ ছবিতে অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে অভিনয় করেন ‘ট্রাইম ট্রাভেলার’ ছবিতে। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে। ডের্টি মারছেন বেওয়াচখ্যাত তারকা ডেভিড হ্যাসেলহফের সঙ্গে। এ ছাড়া কমেডিয়ান রাসেল ব্রান্ড, ব্লু-এর গায়ক লি রায়ান, অভিনেতা জারেড লেতো, ‘প্রিজন ব্রেক’ তারকা আমাউরি নোলাসকোর সঙ্গেও রয়েছে তার সম্পর্ক।

জেফ্রে এপস্টেইন একজন মিলিয়নিয়ার। কোটি কোটি টাকার মালিক। তিনি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। রাজনীতিক, সেলিব্রেটি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নামজাদাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক। তার বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে। এর বিচার শুরু হতে যাচ্ছে এমন সময়ে সম্প্রতি তিনি নিউ ইয়র্কের জেলে আত্মহত্যা করেন। তবে তাতে বিচার থেমে থাকে নি। আড়াই ঘন্টারও বেশি সময় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন নির্যাতিতরা।

সৌদির প্রথম বাণিজ্যিক নারী পাইলট মিয়ামানির গল্প

ককপিটের এই ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
সৌদি আরব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। নারীদের কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এক নারী দেশটিতে বাণিজ্যিক বিমানের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন।
তাঁর নাম ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। বিমান চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার ছয় বছর পর বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অনুমতি পেলেন মিয়ামানি।
মিয়ামানি বিমান চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার ছয় বছর পর বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অনুমতি পান। ছবি: টুইটার
দেশটির নেসমা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবের হেইল থেকে আল কাশিম এলাকায় নিয়ে যান ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। এটা ৯ জুনের ঘটনা। ওই দিনই সৌদির ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেন তিনি। মিয়ামানি ওই দিনই কাশিম এলাকা থেকে উড়োজাহাজে যাত্রীদের নিয়ে যান তুবাক এলাকায়। সেখান থেকে আবার হেইলে ফেরেন ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। আর এদিন ঐতিহাসিক এ অর্জনের পর এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন ইয়াসমিন। একটি বিমানের ককপিটে বসা অবস্থায় একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ, আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ উড়োজাহাজের ককপিটে, উড়োজাহাজ উড়ানোর ছবি ও ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন তিনি।
অপর সহকর্মীদের সঙ্গে সৌদি নারী ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। ছবি: টুইটার
বৈমানিক হিসেবে জর্ডান থেকে যোগ্যতা অর্জন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর রেকর্ড গড়েন ২৯ বছর বয়সী ইয়াসমিন আল মিয়ামানি।
ইয়াসমিন নেসমা এয়ারলাইনসের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। এ বিমান সংস্থাটি সৌদি আরব ও মিসরের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
‘সৌদির প্রত্যেক নারী আমাকে দেখে উৎসাহী হয়ে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন—এটাই আমার লক্ষ্যে।’ বলছিলেন ইতিহাসের অংশ হওয়া ইয়াসমিন আল মিয়ামানি। তিনি বলেন, আমি চাই না যে এ ক্ষেত্রে আমিই দেশে প্রথম কেউ হই।
২০১৩ সালে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাইলটের প্রশিক্ষণ নেন ইয়াসমিন। এরপরই মেলে লাইসেন্স। কিন্তু কাজ পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় মিয়ামানিকে। কারণ, দেশটির কর্মক্ষেত্রগুলো ঐতিহাসিকভাবে পুরুষশাসিত। আর বিমানের ক্ষেত্রে তো তা বটেই।
৯ জুন ইয়াসমিন আল মিয়ামানি প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেন। ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াসমিন আর মিয়ামানিকে প্রশিক্ষণার্থী পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেয় নেসমা এয়ারলাইনস। এর চার মাস পরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তিনি পেয়ে যান বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে ওড়ার অনুমতি।
মিয়ামানি বলেন, ‘উড়োজাহাজের অপর সঙ্গীরা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাতে আমি অভিভূত। তাঁদের আচরণ ছিল আমার নিজের ভাইয়ের মতো।’
তথ্যসূত্র: দৈনিক আল অ্যারাবিয়া ও দ্য ন্যাশনালের

পাট চাষে আগ্রহ নেই চাষিদের by মনিরুল ইসলাম

পাট চাষে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। যে কারণে যশোর অঞ্চলের ছয় জেলায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে এ বছর এই অঞ্চলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। হিসাব অনুযায়ী, ২৪ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে এবার আবাদ কম হলো। গত বছরও এই অঞ্চলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি বছরে যশোরে ২৬ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৭ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহে ২২ হাজার ৮৯৫ হেক্টরের বিপরীতে ২০ হাজার ৪২৫ হেক্টর, মাগুরায় ৩৬ হাজার ১১০ হেক্টরের বিপরীতে ৩২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ৩৫ হাজার ৪৮০ হেক্টরের বিপরীতে ৩২ হাজার ৮২৫ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গায় ১৫ হাজার ১৮০ হেক্টরের বিপরীতে ১৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর, মেহেরপুরে ২৫ হাজার ৩১০ হেক্টরের বিপরীতে ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার উত্তর ললিতাদহ গ্রামের ওবায়দুল ইসলাম গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে লোকসানে পড়েন। এ জন্য এ বছর তিনি পাট চাষ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার জায়গার ভীষণ সংকট। এ সময় পুকুরেও পানি থাকে না। গত বছর পুকুরে পাট জাগ দিয়ে পাম্প দিয়ে প্রতিদিন সেচ দিয়ে পুকুরে পানি ভরে দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। ফলে গত বছর পাট চাষ করে লোকসান হয়েছে। এ জন্য এ বছর আর চাষ করিনি।’
যশোরের কেশবপুরের দোরমুটিয়া গ্রামের মোনতাজ উদ্দীন বলেন, ‘এ বছর ৫৩ শতক জমিতে পাটের আবাদ করেছি। পাট চাষের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় পাটের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট চাষে তেমন আগ্রহ নেই। তারপরও আমরা চাষি মানুষ। চাষ করতে হয়। তাই করি। পাট চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, সার-কীটনাশক, সেচ, তিনবার নিকানো, পাট কাটা-ধোয়া, বাড়িতে নেওয়া ও জমির ইজারা—সব মিলিয়ে ৪২ শতকের এক বিঘাতে খরচ হয় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এক বিঘাতে ১০ মণের মতো পাট পাওয়া যায়। গত বছর দেড় হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী ১০ মণ পাট থেকে ১৫ হাজার ও পাটখড়ি থেকে আরও তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আয়-ব্যয় সমান সমান হচ্ছে। আমাদের শুধু কষ্টই করা হয়।’
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ বছর পাটের আবাদ কম কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘যশোরে পাট পচানোর জন্য জলাভূমির সংকট রয়েছে। ফলে চাষিদের পাট পচাতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ ছাড়া পাট উৎপাদনে চাষির খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সেই তুলনায় তাঁরা দাম পাচ্ছেন না। এতে চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে, জমি খালি পড়ে থাকছে না। পাট চাষের জমিতে চাষিরা আউশ ধানের আবাদ করছেন।’ পাট চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য কৃষি বিভাগের কোনো উদ্যোগ আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পাট চাষে কোনো ধরনের ভর্তুকি সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে না। এ-সংক্রান্ত কোনো প্রকল্পও আপাতত কার্যকর নেই। যে কারণে বিনা মূল্যে চাষির মধ্যে সার-বীজ দেওয়ার মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা আপাতত নেই।