Monday, May 8, 2017

ফিলিপাইন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু

ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ম্যানিলায় সীমিত আকারে বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে। যদিও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তের ১০ মাসের শাসনকালে দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে। দুতার্তে বলেছেন, বিশ্বের সুপারপাওয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সোমবার ১২ দিনের এই ‘বালিকাতান’ নামের মহড়াটি শুরু হয়েছে। এতে ২০১৫ সালের তুলনায় কম সংখ্যক সৈন্য অংশ নিয়েছে। দুর্তাতের মার্কিন-পন্থী পূর্বসূরী বেনিগনো অ্যাকুইনোর সময়ে ওই বছরের মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়।
ফিলিপাইনের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোই এই মহড়ার লক্ষ্য। বিগত বছরগুলোতে এই মহড়াকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরকে নিয়ে ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় দেশই সমুদ্রের এই এলাকাটির মালিকানা দাবি করছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর দুতার্তে আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অ্যাকুইনোর শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চীনকে চ্যালেঞ্জ করার নীতির সম্পূর্ণ উল্টো পথে চলতে শুরু করেন। তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদারের সিদ্ধান্ত নেন।

কাশ্মিরে বিক্ষোভকারীদের মোকাবেলায় পাথর বাহিনী পাঠানো হচ্ছে

জম্মু-কাশ্মিরে পাথর ছোঁড়া প্রতিবাদী তরুণদের মোকাবিলা করতে উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীদের তৈরি সংগঠন ‘জন সেনা’ কাশ্মিরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে। গতকাল রোববার এক শ’র বেশি বাসে এক হাজারের বেশি ‘স্বেচ্ছাসেবক’ রওয়ানা হয়েছেন। কাশ্মিরে গিয়ে সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ানোও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সংগঠনটির প্রধান কর্মকর্তা বালযোগী অরুণ পুরি চৈতন্য মহারাজ বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরে যেভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপরে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে তা লজ্জাজনক। এসব লোকেরা দেশদ্রোহী। এ ধরণের লোককে তাদের ভাষাতেই জবাব দেয়া হবে। এজন্য শহর থেকে পাথরবাজ সেনা তৈরি করা হয়েছে।’ ওই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘যুদ্ধ বিজয় যজ্ঞ’। বালযোগী চান, কাশ্মিরে সেনারা নিজেদের সামনে ‘জন সেনা’র পাথরছোঁড়া বাহিনীকে রাখুক। কারণ, দেশের জন্য তারা প্রাণ দিতেও পিছপা নন। দড়ির সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে পাথর ছোঁড়ার প্রশিক্ষণ নেয়া এক উপজাতীয় ব্যক্তি বলেন, তারা কমপক্ষে ২৫০/৩০০ মিটার দূরে তীব্র গতিতে পাথর ছুঁড়তে সক্ষম। কাশ্মিরি তরুণরা যেভাবে হাত দিয়ে পাথর ছুঁড়ছে তা থেকে ৭/৮ গুণ বেশি গতিতে তারা পাথর ছুঁড়তে পারে। তিনি বলেন, আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। পাথরবাজির যোগ্য জবাব দেব। স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর জন্য খাদ্য, তাঁবু, পাথর নিয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি ট্রাক। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় রেখে পাথর ছোঁড়া তরুণদের মোকাবিলা করা হবে। এজন্য উড়ে আসা পাথর থেকে কীভাবে মাথা বাঁচিয়ে পাল্টা পাথর ছুঁড়তে হয়, সেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সাধু-সন্ন্যাসীরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন। বালযোগী বলেন, ‘কানপুরে আমরা স্থায়ীভাবে পাথরবাজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলতে চাই।
এখানে আমরা আরো সাধুকে পাথর ছোঁড়ার পদ্ধতি শেখাতে চাই।’ অন্য একটি সূত্রে প্রকাশ, পাথর ছোঁড়া ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবীদের লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কাশ্মিরে পাথর ছোঁড়া তরুণীদের সামলাতে হাজারখানেক নারীকে পুলিশ ব্যাটালিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, নারী পুলিশকর্মীরা প্রাথমিকভাবে কাশ্মির উপত্যকায় পাথর মারার মোকাবিলা করবেন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাজনিত দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি পাঁচটি ইন্ডিয়া রিজার্ভড ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই একটিতে নেয়া হবে নারী পুলিশকর্মীদের। এদিকে, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীকে উপেক্ষা করে হিজবুল মুজাহিদীনের কমান্ড সামলানো জাকির মুসা এক অডিও বার্তায় কাশ্মিরি তরুণীদের পাথর ছোঁড়াকে ‘শরীয়াহ বিরুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করে তাদের পাথর ছোঁড়া থেকে বিরত থাকতে এবং বাসায় অবস্থান করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় কাশ্মিরে শরীয়াহ বহাল করার সংগ্রামের বিপক্ষে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। জাকির মুসা ছাত্রীদের ক্লাস বয়কট ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশ্যে পাথর না ছোঁড়ার আবেদন করেছেন। তার কথায়, আপনাদের ভাই এখনো জীবিত রয়েছে সে জন্য আপনাদের ময়দানে আসার প্রয়োজন নেই। শনিবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাকির মুসার ওই অডিও বার্তা ভাইরাল হয়ে ওঠে। রোববার এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

রংপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের ১১ নেতার জামিন নামঞ্জুর : কারাগারে প্রেরণ

বিভিন্ন নাশকতার মামলায় রংপুরে মহানগর যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার দুপুরে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে প্রকাশ, হরতাল অবরোধের সময় নাশকতার বিভিন্ন মামলায় সোমবার দুপুরে রংপুর জেলা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রংপুর মহানগর যবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়ন, যুগ্ম সম্পাদক আতিকুল ইসলাম লেলিন, রংপুর জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজজামান হিজবুল, সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনতারি মুন্না,
মহানগর ছাত্রদল সহ-সভাপতি নোমান হারুন, ১৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আতিকুল ইসলাম রানু, রংপুর সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাজু আহমেদ, শহর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পদক রেজাউল ইসলাম রাবু, ছাত্রদল নেতা মুরাদ মিয়া ও রাশেদুল ইসলাম রকেট। এসময় আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবির শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসময় সেখানে জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল ইসলাম নাজু, মহানগর সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডনসহ যুবদলেরর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতার উদ্দিন জানান, ‘এসব নেতার বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের আজগুবি নাশকতার মামলা রয়েছে। এসব মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানীমূলক মামলা। এই মামলায় সকল আসামি জামিনে থাকায় আমরা আশা করেছিলাম জামিন হবে। কিন্তু সেটি হলো না। উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সারা দেশে বিএনপির কর্মিসভা

পুলিশি বাধা ও দলীয় কোন্দলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সারা দেশে বিএনপির কর্মিসভা। দলকে নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে গত ২২ এপ্রিল থেকে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে এ কর্মিসভা শুরু হয়েছে। কেন্দ্র থেকে প্রাথমিকভাবে বেঁধে দেয়া সময়সীমা গতকাল শেষ হলেও সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কয়েকটি জেলার কর্মী সম্মেলন ঢাকায় করার কথাও ভাবা হচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল থেকে ৭ মে সময়ের মধ্যে ৭৭টি সাংগঠনিক জেলায় কর্মিসভা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৫১টি দল গঠন করেছিল বিএনপি। গতকাল রোববার বেঁধে দেয়া সময়ের শেষ দিন পর্যন্ত ২০টি বা এর চেয়ে কয়েকটি বেশি জেলায় কর্মিসভা করতে সক্ষম হয় দলটি। জেলাগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ এবং মহানগর, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, শেরপুর, খুলনা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, বরিশাল মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জের কর্মিসভায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নাটোরসহ কয়েকটি জেলায় পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার কারণে কর্মিসভা করা সম্ভব হয়নি বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বেশ কয়েকটি জেলায় এখনো কর্মিসভা করা সম্ভব হয়নি। নবগঠিত জেলা কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রে থেকে অযোগ্যদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে বলে ুব্ধরা বলছেন।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৮টি জেলার কর্মিসভায় কমবেশি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও বাগি¦তণ্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েকটি স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং ঝিনাইদহে কর্মিসভায় দলটির নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন আহত হন। চট্টগ্রাম উত্তরে সংঘর্ষের কারণে কর্মিসভা হয় সংক্ষিপ্ত। সংঘর্ষের মুখে চট্টগ্রাম দক্ষিণের কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় নেতারা যাননি। আর সর্বশেষ রোববার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লাস্থ জেলা পরিষদসংলগ্ন হিমালয় চায়নিজ সেন্টুরেন্টে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কর্মিসভা শুরুর আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের নেতাদের হাতে মারধরের শিকার হন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস।
লাঞ্ছনার শিকার হন ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মিসভা সম্পন্ন করতে না পারার কারণ প্রসঙ্গে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভাইস চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি জেলায় কর্মিসভা হয়েছে। বাকিগুলোতে ১৫ মের মধ্যে কর্মিসভা করতে মৌখিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার কারণে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সব জেলায় কর্মিসভা করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, যেসব জেলায় ইতোমধ্যে কর্মিসভা হয়েছে, সেসব জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা দলীয় গ্রুপিং মিটিয়ে ফেলারও চেষ্টা করেছেন।

অসুস্থতা সত্ত্বেও আদালতে খালেদা জিয়া

শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পরও আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ সোমবার সকালে সোয়া দশটার দিকে তিনি গুলশানের বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে বেলা পৌনে বারোটার দিকে আদালতে পৌঁছান। বেগম জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নয়া দিগন্তকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ।
এরপরও বিশেষ কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। আদালতের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তিনি হাঁটুতে বেগ পেয়েছেন। এসময় তার সাথে থাকা অন্যের ওপর ভর দিয়ে উপরে উঠেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) সকালে অসুস্থ শরীর নিয়ে গুলশানের বাসা থেকে রওয়ানা দিয়ে পৌনে বারোটার দিকে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তার শরীর দুর্বল।

বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা জানান, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাসাসের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৫ম তলায় অবস্থিত জাসাস অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়।
এর এক ঘন্টা পর সংগঠনের ঘোষিত মহানগর নেতাকর্মীরা তালা ভেঙ্গে অফিসে প্রবেশ করেন। এই খবর পেয়ে সংগঠনের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা পুনরায় কার্যালয়ে গিয়ে মহানগর নেতাকর্মীদের জাসাস কার্যালয় থেকে বের করে দেন। এসময় বিদ্রোহীদের আক্রমণে মহানগর জাসাসের ৩জন নেতা আহত হন বলে সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান। বর্তমানে এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

পোশাক শিল্পে একর্ডের ৬৫টি কারখানার সংস্কার সম্পন্ন

একর্ডের চার বছরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় উন্নতি করেছে বলে জানিয়েছে। চার শতাধিক বেশি কারখানায় ৯০ শতাংশের বেশি সংস্কার হয়েছে। তবে মাত্র ৬৫টি কারখানায় সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই সংস্কার ও একর্ডের চার বছরের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এইসব তথ্য জানান, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক রব ওয়েস। উপস্থাপনা দেন, হেড অব পাবলিক এ্যাফেয়ার্স ও স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট ইয়্যোরিস ওল্ডেনজিল। উপস্থিত ছিলেন কাওসার আকিল, শামামা নওশীন ইয়ামিন, মোহাম্মদ শফিকউদ্দিন।
একর্ড জানায়, ৩১৫টি কারখানা তারা বন্ধ করার পর এখন ১৬৫৫টি কারখানা আছে তাদের অধীনে। ৭৮ শতাংশ কারখানা তারা পরিদর্শন করেছৈ। ৩ শ'টি কারখানায় যৌথ শ্রমিক মালিক পক্ষের নিরাপত্তা কমিটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৭৭ শতাংশ বেশি কারখানায় প্রাথমিকভাবে আগুন, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়েছে। একর্ড যেহেতু শেষ বছরে পদার্পণ করেছে, তাই প্রধান লক্ষ্য যত বেশি কারখানায় সম্ভব নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা। নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা।

ম্যাক্রোঁর জয়ের নেপথ্যে ৫ কারণ

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করে ফ্রান্সের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মধ্যপন্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এক বছর আগেও পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন। দেশটির সবচেয়ে অজনপ্রিয় সরকারের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন ম্যাক্রোঁ। আর এ বছর ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁ প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মূলধারার ডানপন্থী ও বামপন্থী দলের অনুসারীদের হারিয়ে জয়ী হন। বিশ্লেষকরা অবশ্য এই জয়ের পেছনে ম্যাক্রোঁর নিজস্ব ক্যারিশমার পাশাপাশি বেশ কিছু কারণ খুজেঁ বের করেছেন। ভাগ্যবান ম্যাক্রোঁ: নির্বাচনে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় ভোটাররা নতুন কাউকে চেয়েছিল নিজেদের নেতা নির্বাচনে। আর নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সেই জায়গাটিই দখল করতে পেরেছেন বলে মনে করেন প্যারিস বেইজড থিংক ট্যাংক 'টেরা নোভা'র প্রতিনিধি মার্ক ওলিভার পেডিস। চতুর ম্যাক্রোঁ: ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্টের ভাগ্যই কেবল সুপ্রসন্ন ছিল না। বরং সে খুব চতুরতার সঙ্গে নির্বাচনের গতিপথ তৈরি করে নিয়েছিলেন। নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ সমাজতান্ত্রিক দলের হয়ে অংশ নিতে পারতেন। তবে সরকারের থাকাকালীন সময়ে তিনি অনুধাবন করেন দলের অবস্থা জনগণের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। পেডিস বলেন, দূরদর্শী সম্পন্ন ম্যাক্রোঁ দলের অবস্থার বিষয়টি আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি সেই পথ মাড়াননি। নতুন কিছু করতে চান ম্যাক্রোঁ: নির্বাচনী প্রচারণা কাজে ম্যাক্রোঁ অনেকটা ২০০৮ সালের বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। এক্ষেত্রে প্রায় ৩ লাখের মতো বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করেন। সেই সব বাড়ির বাসিন্দাদের থেকে তুলের আনেন তাদের চাওয়া পাওয়ার কথা। সে মতেই নিজের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করেন ম্যাক্রোঁ। এটাও তার সাফল্যের একটি কারণ। ইতিবাচক বার্তা ছিল ম্যাক্রোঁর: নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেনের চেয়ে ইতিবাচক বার্তা প্রদানের মাধ্যমে অনেক এগিয়ে ছিলেন ম্যাক্রোঁ। লি পেন যখন নিজেকে এলিটদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন, তখন নবিশ ম্যাক্রোঁ তৃণমূলের কথা তুলে ধরেন। স্বপ্ন দেখান সবাইকে নিয়ে নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী ফ্রান্স গড়ার। লি পেনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ম্যাক্রোঁ: নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে মেরিন লি পেন বেশ কিছু নেতিবাচক ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে ছিল অভিবাসন বিরোধী ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা।
সে ক্ষেত্রে ম্যাক্রোঁ তার আধুনিক চিন্তার সমন্বয়ে অভিবাসীদের জন্য সীমান্ত খুলে রাখার পক্ষে মত দেয়ার পাশপাশি ইউরোপিয় ইউনিয়নে তেকে দেশকে সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ স্থান করার কথা বলেন। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ টিভি বিতর্কেও দুই প্রার্থীর মধ্যে এ নিয়ে বেশ চড়া সুরে তর্ক হয়। এ সময় লি পেনকে তার বাবার মতোই কট্টরপন্থী মানসিকতার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ। অন্যদিকে ভালো প্রচারণা চালিয়েও নিজের কট্টরপন্থী মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে পরাজয় বরণ করে নেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে ছিলেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও মারিন লি পেন। রোববারের রানঅফ ভোটে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফরাসি ভোটাররা ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার ম্যাক্রোঁকেই বেছে নেন। নির্বাচনের আগে ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই প্রার্থী সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। ম্যাক্রোঁ ইউরোপপন্থী ও উদার নীতির সমর্থক। তিনি এর আগে কখনই নির্বাচিত হননি। অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২০১৬ সালে এন মার্শে (এগিয়ে চল) দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। অন্যদিকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা ৪৮ বছর বয়সী লি পেন বিশ্বায়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী উগ্র-ডানপন্থী। তিনি প্রচণ্ড মুসলিমবিরোধী। ফ্রান্সে ‘উগ্রপন্থী’ মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে গত কয়েক দশক ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক এবং মধ্য ডানপন্থী  রিপাবলিকান দলকে নির্বাচনের প্রথম ধাপেই প্রত্যাখ্যান করেন ভোটাররা। ১৪ মে’র মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ম্যাক্রোঁ।  সূত্র: বিবিসি

উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন নাগরিক আটক

‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, গত ৬ মে কিম হ্যাক সংকে আটক করা হয়। তিনি পিয়ংইয়ং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। কিমকে উদ্বৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আগে জানিয়েছিল,
কিম নিজেকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচারক দাবি করতেন এবং তার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষামূলক খামার চালুর পরিকল্পনা ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন নাগরিকের আটকের বিষয়ে নজর রাখছেন। এ ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ে সুইডিশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। উত্তর কোরিয়ায় সুইডিশ দূতাবাস থেকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিচালনা করা হয়। এর আগে আরও তিনজন মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের এসব আটকের ঘটনাকে দাবার গুটির চাল হিসেবে বর্ণণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পবিত্রতা রক্ষায় দ্বীপে নারী নিষিদ্ধ

পৃথিবীর দু’একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ। তাই বলে পুরো একটি দ্বীপে কোনো নারী থাকবে না বা নারীদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে না তা বোধ হয় শোনেননি। এমনটাই হচ্ছে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত দ্বীপ ওকিনোশিমাতে। ওই দ্বীপটিকে 'এতটাই পবিত্র মানা হয়' যে, এখানে মহিলাদের পা ফেলতেই দেয়া হয় না। দ্বীপটিতে সমুদ্রের দেবীর সম্মানে মুনাকাতা তাইশা ওকিটসুমিয়া নামে একটি মন্দির আছে। জাহাজের নিরাপদ যাত্রার জন্য এখানে নানা রকমের আচার অনুষ্ঠান পালিত হতো।
এ দ্বীপকে পুরুষদের প্রবেশ করতে হলেও তাদের প্রথমে উলঙ্গ হয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হয়। তাছাড়া এ দ্বীপে আগতরা কী দেখলেন তার বিবরণ কাউকে কখনও বলতে পারবেন না- এমন আরও শর্ত রয়েছে দ্বীপটি ভ্রমণে। স্থানীয় পত্রিকা আশাহি শিম্বুন বলছে, ওই দ্বীপে যারা যাবেন তারা সেখান থেকে কোনো স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আসতে পারবেন না, এমনকি একটি ঘাসের টুকরোও নয়। এই দ্বীপটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে ইউনেস্কোর একটি উপদেষ্টা দল। আগামী জুলাই মাসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে পরামর্শ গ্রহণ বিষয়ে। তবে দ্বীপটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করলেও নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ওই মন্দিরের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হলেও এ নিষেধাজ্ঞা উঠবে না।’

আইএসের আফগান প্রধান নিহত

আফগানিস্তানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত প্রধান আবদুল হাসিব নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দফতর এ তথ্য দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১০ দিন আগে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে আফগান বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্বাধীন অভিযানে হাসিব নিহত হন। খবর বিবিসির। গত মার্চে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি সামরিক হাসপাতালে হামলার জন্য হাসিব দায়ী বলে ধারণা করা হয়। ওই হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এরপর গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বিশেষ বাহিনীর অভিযানে হাসিব সম্ভবত নিহত হয়েছেন। গত মাসেই মার্কিন সেনাবাহিনী নানগারহার প্রদেশে আইএসের সন্দেহজনক অবস্থান লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় 'অপারমাণবিক বোমা' ফেলে। এতে শতাধিক আইএস জঙ্গি নিহতের দাবি করা হয়। ২০১৫ সালে আইএস কথিত খোরাসান প্রদেশ ঘোষণা করে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আইএসের শাখা পুরো অঞ্চলটিকে খোরাসান প্রদেশ নামে ডাকে। এরপর থেকে তারা অঞ্চলটিতে একাধিক হামলা চালায়। এর মধ্যে গত বছরের জুলাইতে রাজধানী কাবুলে এক বিক্ষোভে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৮০ জন নিহত হয়। এর তিন মাস পর নভেম্বরে কাবুলে আশুরার তাজিয়া মিছিলে ও মসজিদে একই ধরনের দুটি হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাবুলের সুপ্রিম কোর্টে হামলার দায় স্বীকার করে আইএস, যে হামলায় ২২২ জন মানুষ প্রাণ হারান।

৩০৫ যাত্রী নিয়ে নাক ডাকা ঘুম পাইলটের

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি বিমান ৩০৫ যাত্রী নিয়ে আকাশে উড্ডয়নের পর তার পাইলট আড়াই ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। এ সময় বিমান চালকের আসনে ছিলেন একজন শিক্ষানবিস পাইলট। এতে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে কোনো অঘটন ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছে বিমানটি।, এ ঘটনা জানাজানির পর ওই পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। খবর ডন ও এনডিটিভির। ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ থেকে লন্ডন যাচ্ছিল ওই বিমান। উড্ডয়নের পরপরই পাইলট আমির আখতার হাশমি বিমানের বিজনেস ক্লাসে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় তিনি কাটা কলাগাছের মতো আড়াই ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান!
ঘুমানোর আগে শিক্ষানবিস পাইলট মোহাম্মদ আসাদ আলীকে তিনি তার আসনে বসিয়ে এসেছিলেন। একজন যাত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবি তোলেন এবং বিমানটির এক সিনিয়র ক্রু মেম্বারের কাছে পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পাইলটের এ ‘রোমাঞ্চকর ঘুম’ অ্যাডভেঞ্চারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশমির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছুক ছিল না কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সমালোচনার মুখে ও ঊর্ধ্বতন চাপে বাধ্য হয়ে তাকে সরিয়ে নেয়া হয়।

ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

আগামী পাঁচ বছর ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ম্যাক্রোঁ আগামী পাঁচ বছরের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হচ্ছেন ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। আর ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পরাজয় মেনে নিয়ে ম্যাক্রোঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অভিবাসন-বিরোধী কট্টর-ডানপন্থি মারিন লি পেন। খবর ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ও  বিবিসির। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে থাকা এই দুই প্রার্থী রোববারের রানঅফ ভোটে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফরাসি ভোটাররা ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার ম্যাক্রোঁকেই বেছে নেন। পরাজয় স্বীকার করে লি পেন তার সমর্থকদের বলেছেন, তার দেশ ‘ধারাবাহিকতার প্রার্থীকে’ বেছে নিয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ এই নির্বাচনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। কারণ লি পেন জয়ী হলে ইইউর ভবিষ্যৎ সংকটে পড়ত। ফ্রান্সের এ নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জার্মানি ও ব্রিটেনের আসন্ন নির্বাচনে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে উগ্র ডানপন্থী যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, ফ্রান্সের এই নির্বাচনের ফল তাকে কিছুটা স্তিমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী ম্যাক্রোঁ দেশের বাম-ডান বিভাজনের মধ্যে সেতুবন্ধ করতে চান। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার হুজুগ থামাতে চান তিনি। এ ধরনের হুজুগে মার্কিনিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং ব্রিটিশরা ইইউ জোট ত্যাগ করেছেন। রোববার সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) থেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা)। তবে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হয় আরও এক ঘণ্টা পর। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক জঙ্গি হামলার ফলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হয়। জরুরি অবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সারা দেশের ৫০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ম্যাক্রোঁ জয়ী হলে লুভ্যর জাদুঘরে বিজয়ী ভাষণ দেয়ার কথা ছিল।
তবে সেখানে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পাওয়ার পর জায়গাটি খালি করে দেয়া হয়। এ সময় সেখানে ৩০০ সাংবাদিক অনুষ্ঠান কাভারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিল চার কোটি ৮০ লাখ। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল আগের দুটি নির্বাচনের তুলনায় কম। প্রায় ২৫ ভাগ ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাননি। ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই প্রার্থী সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। ম্যাক্রোঁ ইউরোপপন্থী ও উদার নীতির সমর্থক। তিনি এর আগে কখনই নির্বাচিত হননি। ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা ৪৮ বছর বয়সী লি পেন বিশ্বায়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী উগ্র-ডানপন্থী। তিনি প্রচণ্ড মুসলিমবিরোধী। ফ্রান্সে ‘উগ্রপন্থী’ মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। ২৩ এপ্রিল ফ্রান্সে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে ম্যাক্রোঁ ২৪ শতাংশ এবং লি পেন ২২ শতাংশ ভোট পান। এবারের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- গত কয়েক দশক ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক এবং মধ্য ডানপন্থী  রিপাবলিকান দলকে নির্বাচনের প্রথম ধাপেই প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। ম্যাক্রোঁ অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২০১৬ সালে এন মার্শে (এগিয়ে চল) দল প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে দলটি কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তিনিও নেননি। ১৪ মে’র মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ম্যাক্রোঁ।

আফ্রিকায় বিস্তৃত হচ্ছে চীনের সাম্রাজ্য

আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে মরুভূমির নিকটবর্তী জায়গাটি নামিবিয়ার সকোপমুন্ড। এখানকার শতাব্দীপ্রাচীন দালানগুলো এখনও জার্মান উপনিবেশের চিহ্ন বহন করে চলেছে। তবে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী শহরটির লিবার্টিনা আমিথিলা এভিনিউয়ে বেশ কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাড়ি ও বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। একমাত্র এই এলাকাটিতেই ঝকঝকে আলো চোখে পড়ে। তবে এই এলাকাটিতে যারা থাকে তারা আফ্রিকান নন, চীনা। প্রতিদিন ভোরে বাড়িগুলো থেকে খাকি ইউনিফর্ম পরে তারা বেরিয়ে আসেন। তারপর একটা জায়গায় জড়ো হন। সবার শেষে যিনি আসেন তিনি ডিলান তেং। ২৯ বছর বয়সী একজন প্রকৌশলী তিনি। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে নামিবিয়ায় আসার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি এটা করে আসছেন। নাস্তার পর সকাল ৬টায় সহকর্মীদের নিয়ে উঠে বসেন বাসে। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি সিজিএন বা চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ারে চাকরি করেন তারা। সমগ্র আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর মালিক এই কোম্পানি। প্রায় ১ ঘণ্টা পর বাসটি তার গন্তব্য ইউরেনিয়ামের খনি হুসাব ইউরেনিয়াম মাইনে এসে পৌঁছায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরেনিয়ামের খনি এটি। এখানে ৪.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি। এই খনি থেকে যে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হবে তা দিয়ে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং পরমাণু অস্ত্রও প্রস্তুত করা যাবে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশের একটি গ্রামের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের একজন তেং। হুসাব ইউরেনিয়াম খনির গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন। আগামী বছর এই খনি যখন পুরোদমে উৎপাদনে যাবে তখন নামিবিয়ার জিডিপি ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে উৎপাদিত ইউরেনিয়ামের পুরোটাই যাবে তেংয়ের নিজের দেশ চীনে। এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পরমাণু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে চীন। একইসঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে দেশটি। কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে চীনের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এখন বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে। রাজধানী বেইজিংয়ে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ। আর তাই তেং তার নিজের ও তার দেশের ভবিষ্যতের জন্য আফ্রিকার নামিবিয়ায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। সকোপমুন্ডের ২৫ মাইল দক্ষিণে ওয়ালাভস উপসাগর। এখানে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অপর এক কোম্পানি প্রায় ৪০টি বেসবল মাঠের সমান একটি কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করছে। নিকটবর্তী এলাকায় চীনের অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন হাইওয়ে, শপিংমল, একটি গ্রানাইট ফ্যাক্টরি এবং ৪০০ মিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ডিপো। বর্তমানে বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনুভব করা যাচ্ছে। উদীয়মান পরাশক্তি চীন এশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলকে তাদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে নিয়ে এসেছে। ২০০০ সালে মাত্র পাঁচটি দেশ চীনকে তাদের সর্ববৃহৎ ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে গণ্য করত। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত প্রায় ১০০টি দেশ চীনকে তাদের বৃহত্তম ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে গণ্য করে। চীন তার সামরিক ও বাণিজ্য প্রকল্প ক্রমেই সারা বিশ্বে বিস্তৃত করছে। তবে আফ্রিকার দরিদ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ দেশগুলোতে তারা বেশিরভাগ প্রকল্প নির্মাণ করেছে। আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে চীন দেশের বাইরে তার প্রথম সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এছাড়া নাইজেরিয়াতে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে উচ্চগতি সম্পন্ন রেলপথ এবং ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নিকারাগুয়ার মধ্য দিয়ে একটি অসাধারণ খাল নির্মাণ করছে দেশটি। এছাড়া ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান পলিসির’ অধীনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে একসুতোয় বাঁধতে ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একসময়ের ‘সিল্ক রুট’ আবার পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করছে চীন। চীনের এই প্রকল্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর মার্শাল প্লানকেও ম্লান করে দেবে। আফ্রিকার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ১৯৬০-এর দশক থেকে। মাও সেতুং উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘ইয়া, ফেই লা’। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার আদ্যক্ষর বুঝিয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে তানজানিয়া থেকে জাম্বিয়া পর্যন্ত ১১৫৬ কিমি. রেলপথ নির্মাণ করে চীন। এরপর দরিদ্র ওই দেশগুলোর জন্য সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও প্রায় ৩০ বছর ধরে কোনো বড় প্রকল্প ছিল না। ২০০০ সালের পর এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে থাকে চীন। বেইজিং উপলব্ধি করে, তার নিজ দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে হলে বিদেশি সম্পদ ও মিত্র দরকার। আর এ কারণেই চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলো আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ শুরু করে। চীনের অগ্রগতি বস্তুত শুরু হয়েছে তখন থেকে যখন পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের পর এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমতে থাকে এবং বর্তমানে বৈশ্বিক বিভিন্ন চুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে ওয়াশিংটন। এই সুযোগে বিশ্ব নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন ও নিজস্ব বহু উদ্যোগ গ্রহণের বহুক্ষেত্র তৈরি হয়েছে চীনের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২টি শিল্পসমৃদ্ধ দেশের চুক্তি ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে তা বাতিল করেছেন। এই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করতে চায় চীন। তারা ইতিমধ্যে বিকল্প চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টতই বাইরে রাখবে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা নীতি কর্মসূচির পরিচালক ও ‘চায়না গোজ গ্লোবাল’ বইয়ের লেখক ডেভিড শ্যামবগ বলেন, ‘বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু অংশে ট্রাম্প প্রশাসনের অপেক্ষাকৃত অমনোযোগ চীনের জন্য নিশ্চিতভাবেই জায়গা করে দিচ্ছে।’ নিউইয়র্ক টাইমস থেকে ভাষান্তর জামির হোসেন

রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র রমজানে সরকারি অফিস-আদালতের সময় ঠিক করে দিয়েছে সরকার। এবার রোজায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে বেলা সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত থাকবে জোহর নামাজের বিরতি। সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অফিসসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রোজার সময় ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা সূচিতে চলবে।'
আর সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী অফিসসূচি ঠিক করে নেবে বলেও জানান তিনি। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরকারি অফিসের সময়সূচি। রমজানে ইফতারের কথা মাথায় রেখে কর্মীদের বাড়ি ফেরার সুবিধার জন্য সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে রোজা শুরু হতে পারে।

এমপি রানার জামিন চার মাস স্থগিত

আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার রানার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর এমপি রানার পক্ষে শুনানি করে আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
গত ১৩ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন দিন পর তার স্ত্রী টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর রহমান খানা রানা, তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পলাতক থাকার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এমপি রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

আড়াই বছরে হয়নি, আড়াই হাজার বছরেও হবে না

অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য আলাদা শৃঙ্খলা ও চাকুরিবিধির গেজেট জারির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ ফের সময় আবেদন করায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সোমবার ১৬তম বারের মতো সময় আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখানে কোনো গেজেট দেখছি না। এটা কী? এটা তো সময় আবেদন।’ এ সময় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোনটি, নিউইয়র্ক না টোকিও? আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর ঢাকা। সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন ও গণভবনের দূরত্ব কয়েক লাখ কিলোমিটার। আড়াই বছরেও পাড়ি দেয়া হয়নি। আড়াই হাজার বছরেও সম্ভব হবে না? আড়াই বছর ফাইল চলাচলে সময় লাগে। আপনি কী বলতে চাচ্ছেন?’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সময় চাচ্ছি।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আড়াই বছরে এখান থেকে ওইখানে ফাইল চালাচালির সময় লেগেছে কিন্তু গেজেট জারি করা সম্ভব হয়নি। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ বিষয়ে আইন করার জন্য।' আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়া এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'বন্ধের আগে আপনাকে লম্বা সময় দেয়া হয়েছিল। তখন আপনি আমাদের কি বলেছিলেন? আবারও সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করলেন?' পরে আদালত এক সপ্তাহ সময় দিলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আবার তাহলে সময় চাইতে হবে।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘দুই সপ্তাহ, দুই মাস বা দুই বছর সবই আপনার কাছে এক।
শব্দও একই।’ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে ফের দুই সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এক সপ্তাহ সময় দেন। এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট জারির জন্য ১৬ দফা সময় নিল। গত বছরের ২৮ আগস্ট থেকে ৮ মে পর্যন্ত আদালতের কাছ থেকে এ সময় নেয়া হয়। এর আগে গত ৪ এপ্রিল শুনানির শুরুতে যথারীতি দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে আদালত ৮ মে পর্যন্ত সময় দেন। ৪ এপ্রিল ১৫তম বার রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি সে সময়ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, 'আমরা সব সময় আপনার হাসি মুখ দেখতে পাই। কিন্তু এই একটা মেটার আসলেই আপনি আদালতে মাথা নিচু করে থাকেন। কী কাগজপত্র দিলেন সেটাও বলেন না।' এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বারবার সময় চেয়ে আবেদন দেয়াতে আমার মধ্যেও 'অপরাধবোধ' কাজ করে। সে সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আপনি অপরাধ বোধ করবেন কেন? রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তার দোহাই দিয়ে আপনারা বারবার সময় নিচ্ছেন। যখন তার মতো একজন ভদ্রলোকের দোহাই দেন তখন আমাদের কষ্ট লাগে। এরপর আদালত গেজেট প্রকাশে ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছিল।

সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই 'জঙ্গি' আটক

আশুলিয়া থেকে ইমরান ও রফিক নামে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাবের কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সরকারকে ফের এক সপ্তাহ সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য আলাদা শৃঙ্খলা ও চাকুরিবিধির গেজেট জারির ক্ষেত্রে আবারও এক সপ্তাহ সময় পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় আবেদন করেন। আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ সময় দেন। এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট জারির জন্য ১৬ দফা সময় নিল। গত বছরের ২৮ আগস্ট থেকে ৮ মে পর্যন্ত আদালতের কাছ থেকে এ সময় নেয়া হয়। গত ৪ এপ্রিল শুনানির শুরুতে যথারীতি দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে আদালত ৮ মে পর্যন্ত সময় দেন। জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ৭ম দফায় আলাদা আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সেটি আজও প্রণয়ন হয়নি। এ অবস্থায় একাধিকবার আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি কমিটি গঠন করে ওই খসড়া বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট জারির জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে দিয়েছি। এটির আলোকে গেজেট জারি করে ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হল। এরপর থেকে সরকারপক্ষ একাধিকবার সময় পেয়েছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে বড় রদবদল

সরকার বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে বড় ধরনের নিয়োগ ও রদবদল করেছে। বৈদেশিক সম্পর্কে গতি আনার লক্ষ্যে এ রদবদল করা হয়েছে বলে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এবার একযোগে অন্তত ছয় রাষ্ট্রদূতকে নিয়োগ ও বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে উপরাষ্ট্রদূত পদে রদবদলের পর এখন দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, ওমান, লিবিয়া, সুইডেন ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত পদে এ নিয়োগ ও রদবদল করা হয়েছে। তবে এবারের রদবদলের তালিকায় কোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নেই। সবাই পেশাদার কূটনীতিক হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এসব রুটিন রদবদল। নিয়োগ ও বদলির স্থান দেখে সহজেই অনুমেয়, কোনো কোনো নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের সুদৃষ্টি না থাকায় ভালো পোস্টিং পাননি। আবার কেউ কেউ ‘গুড বুক’-এ থাকার কারণে ভালো মিশনে পোস্টিং পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আবিদা ইসলামকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানকে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে বদলি করা হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েস ইন্তেকাল করায় সেখানে রাষ্ট্রদূত পদটি শূন্য হয়েছিল। ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সেখ সেকান্দার আলীকে লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে বদলি করা হয়েছে। লিবিয়ায় রাষ্ট্রদূত পদটি দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য আছে। সেখানে গৃহযুদ্ধ চলতে থাকায় কেউ সেখানে রাষ্ট্রদূত পদে যোগ দিতে আগ্রহী নন।
সেখ সেকান্দারকে লিবিয়ায় নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হল যে, তিনি উচ্চপর্যায়ের নেক নজরে নেই। সুইডেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারকে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে বদলি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাজমুল ইসলামকে সুইডেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়েছে। ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতের মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা নাজ। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদকে কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল পদে বদলি করা হয়। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের মিনিস্টার পদে নিযুক্ত তৌফিক আলমকে কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে। তবে জকি আহাদ ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকায় আরও এক বছর কলকাতায় নিযুক্ত রাখার আবেদন করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদন সক্রিয় বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

মুখ দেখে নয় জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন

নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, যারা জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে পেরেছেন, তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না। গত নির্বাচনে অনেককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করে আনলেও এবার কারও দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এবার জরিপ অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ প্রধান আরও বলেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। আগামী নির্বাচন কঠিন হবে।
সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সারা গ্রাম-বাংলায় তুলে ধরে জনগণের মন জয় করুন। মনে রাখবেন, সবার কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট আমার কাছে রয়েছে। আমি প্রতি ৬ মাস পর জরিপ করাচ্ছি। যারা এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন, তারা মনোনয়ন পাবেন না। এখনও সময় আছে, নির্বাচনী এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা বাড়ান, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় বন্ধন গড়ে তুলুন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের গত আট বছরের ব্যাপক সাফল্যগুলো তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, দিন শেষে কিন্তু জনগণের কাছেই যেতে হবে। সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরুন। পাশাপাশি কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। দলের মধ্যে কোন্দল-দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, দলের মধ্যে কোনো বিভেদ-অনৈক্য বরদাস্ত করা হবে না। সারা দেশের তিনশ’ আসনের জরিপ রিপোর্ট ও প্রকৃত চিত্র আমার কাছে আছে। আরও জরিপ চালাব। নির্বাচনী এলাকায় কার কী অবস্থা, জনসমর্থন কার কেমন, আর কারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন- সব রিপোর্ট আমার কাছে রয়েছে। তাই সবাই সাবধান হয়ে যান, নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করুন। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কাউকেই ক্ষমা করা হবে না। তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের সভায় স্বতন্ত্র ১১ সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রথমবারের মতো বৈঠকে অংশ নেন। আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া স্বতন্ত্র এমপিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। এখন থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করুন। দলের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করলে কিন্তু আপনারা আগামীতেও মনোনয়ন পাবেন না। যার যার এলাকায় নেতাকর্র্মীদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলুন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামুন।
এ সময় ১১ এমপিকে বৈঠকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সম্পাদক নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন সাংবাদিকদের বলেন, স্বতন্ত্র এমপিরা আমাদের দলেরই লোক। সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে তাদের আনুষ্ঠানিক যোগদানের প্রয়োজন পড়ে না। তবে বৈঠক থেকে আমরা স্বতন্ত্র এমপিদের আওয়ামী লীগ দলের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। সূত্র জানায়, ১৬ স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে ৫ জন অংশ নেননি। তারা হলেন- ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মকবুল হোসেন, রহীম উল্লাহ ও উষাতন তালুকদার। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে বৈঠকে বক্তব্য দেন সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বলেন, একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে গত নির্বাচনে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হই। আগামী নির্বাচনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে নেব। বৈঠক সূত্র জানায়, এ সময় হারুনকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলে যোগ দিয়েছেন; আমার কাছে খবর আছে, আপনি এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। এখন এলাকায় গিয়ে দ্রুত তা তুলে নেবেন। বৈঠকে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র এমপিরা হলেন- আবুল কালাম আজাদ (গাইবান্ধা-৪০), ছলিম উদ্দীন তরফদার (নওগাঁ-৩), রেজাউল হক চৌধুরী (কুষ্টিয়া-১), তাহজীব আলম সিদ্দিকী (ঝিনাইদহ-২), স্বপন ভট্টাচার্য্য (যশোর-৫), হাজী মো. সেলিম (ঢাকা-৭), কামরুল আশরাফ খান (নরসিংদী-২), সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (নরসংিদী-৩), আবদুল মতিন (মৌলভীবাজার-২), ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (কুমিল্লা-৩) এবং মোহাম্মদ ফখরুল (কুমিল্লা-৪)। বৈঠক সূত্র জানায়, রাত ৮টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের পুরোটাই ছিল নির্বাচনী তৎপরতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী বারবার এমপিদের সরকারের উন্নয়ন-সাফল্যেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বেশ ক’জন এমপির পরীক্ষাও নেন। তিনি বেশ কয়েকজন এমপির কাছ থেকে জানতে চান, সরকার কতজন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দিয়েছে? কতজনকে ভিজিএফ কার্ড দেয়া হচ্ছে? কতজনকে অসহায়-বিধবা ভাতা দেয়া হচ্ছে, কতটি কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে- ইত্যাদি।
এ সময় বেশিরভাগ এমপিই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। তখন প্রধানমন্ত্রী এমপিদের আরও বেশি পড়াশোনা করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমরা এত আর্থ-সামাজিক বিপ্লব ও উন্নয়ন করেছি। এমপিরাই যদি এসব বিষয়ে অজ্ঞ হোন, তবে আমরা জনগণকে কীভাবে অবহিত করব। জানা যায়, বৈঠকে ড. হাছান মাহমুদ, আতিউর রহমান আতিক, তারানা হালিম, মোতাহার হোসেন, ইউসুফ হারুন, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাধন চন্দ্র মজুমদার, ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না প্রমুখ সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী কৌশলসহ নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এমপিদের জন্য থোক বরাদ্দ বৃদ্ধি, এমপিদের এলাকার সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীদের সহযোগিতার হাত বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অনেক মন্ত্রীই কথা দিয়ে কথা রাখেন না। এমপিরা নিজের এলাকার সমস্যা নিয়ে গেলে অনেক মন্ত্রীই বিমাতাসুলভ আচরণ করেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে হুইপ আতিকুর রহমান আতিক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এমপি হাবিবে মিল্লাত বলেন, মন্ত্রীরা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। এলাকার উন্নয়ন করার শপথ করে তা পালন করেন না।

১২২৫ ইয়াবা ব্যবসায়ী কবে ধরা পড়বে?

দেশজুড়ে বাড়ছে মরণ নেশা ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন। এ মাদকসেবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও। অধিক মুনাফার লোভে এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। এদের অনেকেই এক সময় ছিল নিঃস্ব। মাদক ব্যবসার কারণে এখন কোটিপতি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ সদস্যের নামও আছে এ ব্যবসায়ীর তালিকায়। এদের আত্মীয়স্বজনসহ অনেকেই ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। জনপ্রতিনিধির তমকা লাগানোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এদের ভয়ে তটস্থ থাকে। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নির্বিঘ্নে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিয়ে ২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা করে। তখন এতে ৫৫৪ ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে এ তালিকা এক দফায় হালনাগাদ করে। সে সময় ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ৭৬৪ জন। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর,
বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের তৈরি তালিকা সমন্বয় করা হয়েছে। সমন্বিত ওই তালিকা অনুযায়ী সারা দেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১২২৫। এদের নাম-ঠিকানা সবই আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কক্সবাজার, টেকনাফ ও উখিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ১০ সদস্য এদের মধ্যে অন্যতম। তালিকায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনের নাম রয়েছে। এছাড়া এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১ সদস্যসহ ওই এলাকার মোট ৪৯ জনের নাম আছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নামও স্থান পেয়েছে তালিকায়। তবে নাম থাকলেও ক্ষমতাধর এসব ব্যক্তি সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও এতদিন কাজে আসেনি। তবে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার এক জনসভায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে তিনি এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্ত ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। এ খবরে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফসহ আশপাশের এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই গা ঢাকা দিয়েছে। বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইয়াবা নির্মূলের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়েই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ক্যাম্পও বসানোরও উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি বলেন,
যত প্রভাবশালীই হোক ইয়াবা ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ একই ধরনের কথা বলেছেন কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রাকিবুল হক। যুগান্তরকে তিনি বলেন, কক্সবাজার এলাকায় মোট ২৩টি ক্যাম্প রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে নতুন আরও ১৫টি ক্যাম্প স্থাপন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সব সময় সোচ্চার ছিল। এ কারণে অন্যান্য সংস্থার চেয়ে বিজিবির হাতে তুলনামূলক বেশি ইয়াবা ধরা পড়েছে। এখন বিজিবি আরও বেশি তৎপরতা শুরু করেছে বলে তিনি জানান। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজ উল হক টুটুল যুগান্তরকে বলেন, মাদকবিরোধী ‘বিশেষ অভিযান’ চলমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যে তালিকা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এ অভিযান আরও জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, সর্বশেষ তালিকায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই মো. আবদুস শুক্কুর, আবদুল আমিন, মৌলভি মুজিবুর রহমান (কাউন্সিলর) মো. শফিক, মো. ফয়সাল, শাহেদুর রহমান নিপু (এমপি বদির ভাগিনা), কামরুল হাসান রাসেলের (বদির ফুফাতো ভাই) নাম আছে। এছাড়া বদির বেয়াই আখতার কামাল, শাহেদ কামাল, মামা হায়দার আলী, নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমেদ, খুরশিদা করিম, জাবেদ ইকবাল, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহমদ ও আবু বক্করের নাম আছে। এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দুইবার নির্বাচিত এমপি, আমি ইয়াবার ব্যবসা করব,
এটা সম্ভব?’ তালিকায় নামের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। এমপি বলেন, স্থানীয় কিছু সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়েছে। আপনার ভাই এবং আত্মীয়স্বজন এ ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বারবারই তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও টেকনাফের তালিকাভুক্ত ৪৯ ব্যক্তি সারা দেশের ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদকের স্বর্গরাজ্য টেকনাফ থেকে এরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদের তত্ত্বাবধানেই টেকনাফে এখন ঘরে ঘরে ইয়াবা ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তালিকা অনুযায়ী এ এলাকার কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী মিয়ানমারের কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশে পাচার করছে। এদের মধ্যে শীর্ষ কয়েকজন সারা বছর বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে। এদের মধ্যে একজন টেকনাফ এলাকার শফিউর রহমানের ছেলে আলম। সে ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার্থে মিয়ানমারের মংডু জেলার ম্যাংগোলা গ্রামে বসবাস করছে। বছরের বেশিরভাগ সময় সে সেখানেই থাকে। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, এমপির নাম সব তালিকায় আছে। এমপির সঙ্গে সব সময় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চলাফেরা। এমপির ভাই, বন্ধু ও সহযোগীরা ইয়াবা ব্যবসা করছে। এটি এমপির ক্ষমতার জোরেই চলছে, এ কথা সবাই জানে। এমপির এ ইয়াবা ব্যবসার কথা জানে সরকার ও দল। এর পরও তারা কিছু করছে না। তিনি বলেন, এখানকার সাধারণ মানুষ এমপি এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গদের কাছে অসহায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে রাশেদ। ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় তার নাম আছে। এ নেতাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার ছেলেকে ধরিয়ে দিয়ে ঘর থেকেই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবেন কিনা। এর জবাবে তিনি বলেন, তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়। সে সার ও সিমেন্টের ব্যবসা করে। ভুল করে তার নাম তালিকায় এসেছিল। বিগত মহাজোট সরকারের আমল থেকে এ অঞ্চলে মাদক ব্যবসার রমরমা অবস্থা চলছে। দিন যত যাচ্ছে মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাই শুধু বাড়ছে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা তেমন কোনো কথা বলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ কারণে তারা এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে পারছেন না। ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো নিজেকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তারা ঝামেলায় যেতে চান না।
আনোয়ারা উপকূলে পুরনো তালিকা নিয়ে চলছে অভিযান
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূল ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ইয়াবা এনে আনোয়ারার বিভিন্ন স্পটে হাতবদল করছে। মিয়ানমারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ট্রুলারে নদীপথে ইয়াবার বড় বড় চালান আসে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর নামে। আনোয়ারার পারকিসহ বিভিন্ন উপকূলে খালাস হয় ইয়াবা চালান। এরপর চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। জেলা পুলিশ এক বছর আগে করা ২১ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এতে বিভিন্ন সময় সফলও হচ্ছে তারা। তবে ইয়াবা ব্যবসায় নতুন নতুন লোক যুক্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান পদমর্যাদার জনপ্রতিনিধিও যুক্ত হচ্ছে। তারা এই ব্যবসায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি থানা পুলিশসহ বিভিন্ন প্রশাসনকে ম্যানেজ করছে। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর তারা মাছ ধরা ও পণ্যবোঝাই ট্রুলারে করে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাঠিয়ে দেয়। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে ২০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আনোয়ারার মোজাহেরের নেতৃত্বাধীন বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট এই চালানটি মিয়ানমার থেকে আনে। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মোজাহেরসহ এই সিন্ডিকেটের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় মামলা। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক বছর আগে ২১ ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকার একুশজনের মধ্যে অধিকাংশই আনোয়ারার উপকূলীয় বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্টরা জানান, আনোয়ারা উপকূলের ইয়াবা সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ আবু জাফর ওরফে জাউফ্যার হাতে। সে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর এ উপকূলের ইয়াবা সাম্রাজ্যের দখল নেয় ইউসুফ ওরফে কালামনু। এ ছাড়া তালিকায় মোজাহের, মুজাহিদ, আবু, সবুর, রহিম, কাশেম, ফয়েজ, শফিক, ফরিদ, সেলিম, নূর সৈয়দ, মানু, আবু সৈয়দ,
জাহাঙ্গীর, নাছির, সেলিম, আফছার, জাফর ও কালুর নাম ছিল। বিভিন্ন সময়ে এসব সিন্ডিকেটের বড় বড় চালান আটক হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক মামলাও। সূত্র জানায়, ইয়াবা ব্যবসায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আনোয়ারা উপজেলার গহিরার গলাকাটা ঘাটের জসিম ওরফে কালু, ফু মামুন, পরুয়াপাড়ার লগা জসিম, ময়নাগাহী বাড়ির ওসমান, রহিম, আনোয়ারার হাসান মাঝি, খালেক ও মালেক। এরই মধ্যে খালেক ও মালেক এই দুই ভাইয়ের ছয় লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র জানায়, রায়পুর, গহিরাসহ উপকূলীয় কয়েকটি ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান একাধিক চেয়ারম্যান ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের মাধ্যমেই প্রশাসন ম্যানেজ করে ইয়াবা সিন্ডিকেট নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। পুলিশের তথ্যমতে, আনোয়ারার কয়েকশ’ ট্রুলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার স্থলপথে বিভিন্ন থানা পুলিশের কড়া পাহারার কারণে ইয়াবার বড় চালান এখন সমুদ্রপথেই আসছে। ইয়াবা পাচারের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে আনোয়ারা। সবচেয়ে বেশি ইয়াবার হাতবদল হয় আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের বাচা মিয়া মাঝির ঘাট, গলাকাটা ঘাট, পরুয়াপাড়া, ছিপাতলী ঘাট, সরেঙ্গা, ঘাটকুল, গহিরা, পারকি সমুদ্রসৈকত, জুঁইদণ্ডি, বরুমচড়া, তৈলারদ্বীপসহ সিইউএফএল জেটির আশপাশের এলাকায়। আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, আনোয়ারা থানায় ১৪-১৫ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা রয়েছে। এতবড় এলাকা পাহারা দেয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তবে তারা ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তালিকাভুক্ত অনেকেই এখন অভিযানের কারণে এলাকা ছাড়া।

শ্রীপুরে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাংচুর

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পটকা গ্রামে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’জন ট্রাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন- মোশারফ হোসেন (৪০) ও মোহাম্মদ আলী (৪৫)। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় প্রোস্টার অ্যাপারেল লিমিটেডের জে জে ফ্যাশন লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। এটি চায়না মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে কমপক্ষে ১৫ জনের একদল যুবক দা, লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে। এসময় ঝুট নেয়ার জন্য মেসার্স বেপারী ট্রেডার্সের পক্ষে হাবিবুর রহমান জুয়েল ও তার লোকজন উপস্থিত হয়েছিলেন। হাবিবুর রহমান জুয়েল বলেন, শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু হামলার নেতৃত্ব দেন। তাদের অতর্কিত হামলায় ঝুটের জন্য অপেক্ষারত দুটি ট্রাকের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। এতে দু’জন ট্রাক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
কারখানার প্রশাসনিক ইনচার্জ মাহফুজুল আলম বলেন, কারখানার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী গত সাত মাস যাবত বেপারী ট্রেডার্সের পক্ষে হাবিবুর রহমান জুয়েল ঝুট মালামাল নিচ্ছেন। সোমবার সকালেও তিনটি ট্রাকযোগে তারা মালামাল নিতে আসেন। এসময় দা, লাঠি নিয়ে অতর্কিতে অপরিচিত কিছু লোক কারখানার প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে দুটি ট্রাক ভাংচুর করে। শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাশেম ও সহযোগী ইব্রাহীমের নামে ওয়ার্ক অর্ডার রয়েছে। হাবিবুর রহমান জুয়েলের লোকজন ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় রোববার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-২২৮) করা হয়েছে। আমরা কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত নই। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আসাদুজ্জামান জানান, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জিকু ও জুয়েলের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে থেকে বিরোধ চলে আসছে। হামলায় একটি ট্রাকের গ্লাস ভাংচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঝিনাইদহের 'জঙ্গি আস্তানা'র অভিযান সমাপ্ত

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার লেবুতলার 'জঙ্গি আস্তানা'র অভিযান আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা  করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় দিনের অভিযানে বাড়ি থেকে ইলেকট্রিক ডিভাইস ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া আটক জেএমবি সদস্য শামীমের মাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি দিদার আহমেদ। এর আগে সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অভিযান শুরু করে। এদিন মূলত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা বোমা নিষ্ক্রিয়ের কাজ করে। সকাল থেকে মোট ৮টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ৫ মে শামীম নামে নব্য জেএমবির এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঝিনাইদহের দুটি আস্তানায় অভিযান পরিচালিত হয়।

মন্ত্রিসভায় 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' আইনের খসড়া অনুমোদন

বিনিয়োগ বাড়াতে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, এর ফলে ২৭টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এ আইনের আওতায় আসবে। এর আগে জানানো হয়, এ আইনের অধীনে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ করতে ‘এক ছাতার’ নিচে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ ১৬ ধরনের সেবা দেয়া হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের আলাদাভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অন্য কোনো সংস্থায় যেতে হবে না। উদ্যোক্তা (দেশি ও বিদেশি) দেশের যে কোনো অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে এ আইনের সব সুবিধা পাবেন। জানা গেছে, এর আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (একক সেবা কেন্দ্র) আইনের খসড়ার ওপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভোটিং শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হয়।
সর্বশেষ মতামত নেয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর বিল আকারে আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করা হবে। এ আইন পাস হওয়ার পর বিনিয়োগের জন্য একটি দফতর থেকে ১৬ ধরনের সেবা মিলবে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি নির্বাচনের অনুমতি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা, বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়ার অনুমোদন, সার্টিফিকেট অব অরিজিন বা উৎস দেশের সনদ, মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত নেয়ার অনুমোদন, রেসিডেন্ট ও নন-রেসিডেন্ট ভিসা, কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, নির্মাণের অনুমোদন, হাইটেক পার্কের ভূমি নির্বাচনের অনুমতি, প্লট বরাদ্দ বা ইজারা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ, যে কোনো প্রকারের আইনগত দলিল এবং এছাড়া সরকার ঘোষিত অন্য কোনো সেবাও দেয়া হবে। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে যারাই দেশের যেখানে বিনিয়োগ করবেন তারাও একই সুবিধা পাবেন।

‘রুম পার্টি’তে সর্বনাশ

রাজধানীর বনানীতে ধর্ষিত দুই তরুণীকে গভীর রাতে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে ‘রুম পার্টি’তে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। গভীর রাতের ওই বিশেষ পার্টিতেই তাদের সর্বনাশ হয়। রাজধানীতে রুম পার্টির নামের এক ধরনের উচ্ছৃঙ্খল অনুষ্ঠান চলে বিভিন্ন অভিজাত হোটেলসহ বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। এতে অংশ নেয় বিত্তশালী পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দুই তরুণী এ ধরনের পার্টিতে লালসার শিকার হন। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় তাদের ওপর। ঘটনার পর সামাজিক মর্যাদার ভয়ে তারা দীর্ঘ সময় মুখ খোলেননি। তবে ধর্ষণকারীদের অব্যাহত হুমকির মুখে তারা বাধ্য হয়ে থানায় প্রথমে অভিযোগ পরে মামলা করেন। তবে ঘটনার এতদিন পর ধর্ষণের অভিযোগ মানতে নারাজ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে ধর্ষণ মামলাটি করা হয়েছে। অভিযোগকারী তরুণীরা স্বেচ্ছায় গভীর রাতে সেই হোটেলে যান। সেখানে অনৈতিক ‘কোনো কিছু’ হয়ে থাকলে তা ছেলেমেয়ে উভয়ের সম্মতিতেই হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক নয়।
এজাহারে সেই রাতের বর্ণনা
 মামলার এজাহারে বাদী বলেন, ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন ২৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত তার এক বান্ধবী ও দুই ছেলে বন্ধুকে গুলশানের রেইনট্রি নামের একটি হোটেলে অস্ত্রের মুখে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে ও তার বান্ধবীকে আসামিরা জোর করে হোটেলের রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মদ পান করানোর পর এক নম্বর আসামি সাফাত আহমেদ তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অপর বান্ধবীকেও একাধিকবার ধর্ষণ করে দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ। এজাহারে আরও বলা হয়, তিন নম্বর আসামি সাদমান সাকিফকে তারা গত ২ বছর ধরে চিনতেন। তার মাধ্যমেই এক ও দুই নম্বর আসামির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ২৮ মার্চ এক নম্বর আসামির জন্মদিন উপলক্ষে সাদমান সাকিফ তাদের দাওয়াত দেন। অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তাদের কাছে গাড়ি চালক বিল্লাল ও বডিগার্ড পাঠানো হয়। ওই গাড়িতে তারা গুলশানের রেইনট্রি হোটেলে যান। অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাদের বলা হয়েছিল হোটেলের ছাদে অনেক বড় অনুষ্ঠান হবে। সেখানে অনেক লোকজন থাকবে। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিন্ন দৃশ্য দেখেন।
তারা সেখানে রুম পার্টির আয়োজন দেখতে পান। তাছাড়া হোটেলে গিয়ে তারা আরও দুই তরুণীকে দেখতে পান। এজাহারে বলা হয়, ওই দুই তরুণীকে নিয়ে সাফাত ও নাঈম বার বার হোটেলের ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে যাচ্ছিলেন। এসব দেখে অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি ভালো মনে হয়নি তাদের। একপর্যায়ে সেখান থেকে তারা চলে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। এতে আসামিরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। আসামি সাফাত ও নাঈম তাদের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। তাদের বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসামিরা। শুধু তাই নয়। ধর্ষণের সময় এক নম্বর আসামি সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লালকে দিয়ে ঘটনার ভিডি চিত্র ধারণ করা হয়। হোটেলে নির্যাতিত হওয়ার পর ঘটনা গোপন রাখার জন্য তাদের ওপর চাপ দেয়া হয়। বিশেষ করে সাফাত তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী পাঠিয়ে তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতির মধ্যে রাখে। এ কারণে তাদের মামলা করতে দেরি হয়।
আসামিদের পরিচয়
বনানী থানায় পাঁচ যুবককে আসামি করে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার হাতে লেখা এজাহারের একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হল- সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, তাদের গাড়ি চালক বিল্লাল ও সাফাতের দেহরক্ষী (নাম অজ্ঞাত)। জানা গেছে, মামলার এক নম্বর আসামি সাফাত আহমেদের পিতার নাম দিলদার আহমেদ সেলিম। তিনি দেশের শীর্ষ স্থানীয় স্বর্ণলঙ্কার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক। এছাড়া দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। তার বিস্তারিত পরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের নাম পাওয়া যায়নি। তবে তিনি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে।
মামলার তিন নম্বর আসামি সাদমান সাকিফের বাবার নাম মোহাম্মদ ওরফে জনি। তিনি রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডে অবস্থিত রেহনাম রেগনাম সেন্টারের মালিক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাঈম আশরাফের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ইন্টারেনেটে কথা বলার অ্যাপস ভাইবারে তার সঙ্গে কথা হয়। এ সময় নাঈম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কায় তিনি মিডিয়ার সামনে আসছেন না। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগ প্রমাণ করা যাবে না। সেদিন রাতে যা কিছু হয়েছে তার সবকিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য
ধর্ষণের অভিযোগকারী দুই তরুণী রাজধানীর দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের একজন নিকেতন আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে মেসে থাকেন। নিকেতন এলাকাতেই আরেকজন ভাড়া থাকেন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ধর্ষণ মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য রোববার এ দুই শিক্ষার্থীর বাসায় গেলে উভয় পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি মিডিয়ায় আসুক- এটি তারা চান না। কারণ এতে করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে। এক তরুণীর মা জানান, তার মেয়ে ঘটনার দিন ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে এমনিতে পড়াশোনা নিয়েই থাকে। তবে অস্বীকার করব না সে একটু বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মার্চের কোনো একদিন সে আমাকে এসে জানাল, তার এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি আছে। সেখানে দাওয়াত খেতে যাবে। রাতে নাও ফিরতে পারে।
পরদিন ভোরে মেয়ে ঠিকঠাক বাসায় এসেছে। ধর্ষণ বা তার সঙ্গে কেউ খারাপ আচরণ করেছে- এমন কোনো কথা সে বলেনি। আরেক তরুণীর মা বনানী থানায় মামলা দায়েরের পর ঢাকায় এসেছেন। রোববার দুপুরে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ধর্ষণ মামলার বিষয়ে আমার মেয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। সে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ে ভার্সিটি থেকে ফিরলে আমি মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করব। প্রভাবশালীদের কোনো পক্ষের চাপের কারণে আপনারা ভীত কিনা জানতে চাইলে এক তরুণীর মা বলেন, আমরা সাধারণ ফ্যামিলি। মেয়েটার বিয়েশাদি দিতে হবে। তাই এখন এমন কিছু বলব না যাতে আমরা আরও বিপদে পড়ি। অপর মেয়ের মা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। যদি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে তবে আমরা ন্যায্য বিচার চাই। তবে অযথা কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়।
ধর্ষণ নয় সমঝোতা
এদিকে ধর্ষণের এ অভিযোগ মোটেও আমলে নিতে রাজি নন আসামিদের পরিবারের সদস্যরা। এক নম্বর আসামি জুয়েলারি ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদ সেলিম যুগান্তরকে জানান, তার ছেলে নিরপরাধ। ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল করতে ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। ৮ মার্চ আসলে কী ঘটেছিল- এমন প্রশ্নের উত্তরে দিলদার আহমেদ বলেন, সেদিন সাফাতের জন্মদিন ছিল। রেইনট্রি হোটেলটি আমাদের পরিচিত। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে তার জন্মদিন উদযাপনের কথা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্টিতে তার বান্ধবীরা যোগ দিয়ে থাকতে পারে। সেখানে বান্ধবীদের সঙ্গে যদি কিছু হয় তবে তা নিশ্চয় সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে। ধর্ষণের প্রশ্নই ওঠে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ছেলে ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া শেষ করেছে। কিন্তু ২ বছর আগে তার জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। পিয়াসা নামে এক টিভি মডেলের সঙ্গে সাফাতের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সম্পর্কের কথা তারা কেউ জানতেন না।
পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রেখে তার ছেলে পিয়াসাকে বিয়েও করে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে মেনে না নিলে সাফাত দুই মাস আগে পিয়াসাকে তালাক দেয়। পিয়াসার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকেই মূলত তার ছেলেকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দেয়ার সময় পিয়াসা নিজেই থানায় উপস্থিত ছিল। তাছাড়া মামলা দায়েরের পর অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পিয়াসা তার মোবাইল ফোনে মেসেজও পাঠিয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। আপন জুয়েলার্সের কর্মকর্তা ডা. দৌলা যুগান্তরকে বলেন, আসলে এ ধর্ষণ মামলার পেছনে পিয়াসার হাত রয়েছে। সে-ই পেছন থেকে সব কলকাঠি নাড়ছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা যুগান্তরকে বলেন, এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়। ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় তিনি তাদের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন। ঘটনার রাতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী যে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হন তার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী শুনানি ১৫ মে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৫ মে ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার বকশী বাজারে স্থাপিত জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত এ দিন ধার্য করেন। এদিন বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। আদালতে উপস্থিত হয়ে তার আইনজীবীদের মাধ্যমে আত্মপক্ষের সমর্থন মুলতবি চেয়ে সময়ের আবেদন দাখিল করেন তিনি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত বদলির আবেদন শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে হাইকোর্ট। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে সময়ের আবেদনটি মঞ্জুর করা হোক। আদালত খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদনের শুনানি নিয়ে তা নামঞ্জুর করেন।
এরপর পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন। এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদালতের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি পুরান ঢাকার বকশী বাজারের স্থাপিত জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে বিচারাধীন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

বিকালে আ'লীগকে আমন্ত্রণ জানাতে যাবে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানাতে বিকালে দলটির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে যাবে বিএনপির প্রতিনিধিদল। সোমবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'ভিশন ২০৩০' বিষয়ক চেয়াপারসনের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি।
এ লক্ষ্যে বিকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ক্ষমতাসীন দলের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান তাইফুল ইসলাম। বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কূটনীতিকদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আগামী বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ সংবাদ সম্মেলন করবেন। গত বছরের ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলে ‘ভিশন-২০৩০’ এর রূপরেখা দেয়া হয়েছিল, সেটা ছিল আউটলাইন। এখন তা পূর্ণাঙ্গভাবে দেয়া হবে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে পৌঁছেন তিনি। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেন খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি পুরান ঢাকার বকশী বাজারের স্থাপিত জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে বিচারাধীন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

তিন বন কর্মকর্তাসহ ১২ জন বরখাস্ত

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন বন কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার তাদের বিরুদ্ধে এই বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে বলে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে জানিয়েছেন। এরা হলেন, সুন্দরবনের জোংড়া কাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ, শরণখোলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও সহকারী বন কর্মকর্তা মোশাররেফ হোসেনসহ ৪ বনরক্ষী ও ৫ বোটম্যান। আমির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, সম্প্রতি গাছ পাচারের পৃথক ঘটনায় দুটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনে এই ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
গাছ পাচারের ঘটনায় গঠিত একটি কমিটির প্রধান ছিলেন খুলনা অঞ্চলের উপবনসংরক্ষক বশিরুল আল মামুন। আর অন্য কমিটির প্রধান ছিলেন শরণখোলা রেঞ্জের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হোসেন। কমিটির প্রধানরা গত ৪ মে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরীর কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহে 'জঙ্গি আস্তানা'র ৫টি বোমা নিষ্ক্রিয়

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার লেবুতলার 'জঙ্গি আস্তানা' থেকে উদ্ধার করা বোমা নিষ্ক্রিয়ের কাজ চলছে। সোমবার সকাল ১০ টা ৪০ মিনিট থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এ কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে ৫টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। সোমবার সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিট, বেলা ১১টা ও ১১টা ২৭ মিনিটে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। সকাল ৮টা থেকে ওই বাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়। এরপর বাড়ির আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
রোববারের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ৫ মে শামীম নামে নব্য জেএমবির এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঝিনাইদহের দুটি আস্তানায় অভিযান পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রামে পাল্টে যাবে ভোটের হিসাব

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নতুন জোটে যুক্ত হল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী ফ্রন্টের যোগদানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা। সারা দেশে ইসলামী ফ্রন্টের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকলেও চট্টগ্রামে রয়েছে এই দলের বিশাল ভোটব্যাংক ও কর্মী-সমর্থক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে চট্টগ্রামে এই নতুন জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং এটা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটের হিসাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। রোববার ঢাকায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নতুন নির্বাচনী জোট- ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’-ইউএনআই ঘোষণা দেন। এ সময় ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মান্নান, মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিনসহ সহস াধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ইসলামে নারী নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও ভঙ্গুর ও ত্রুটিপূর্ণ। কওমিরাও ইসলামের মূল ধারার সঙ্গে নেই। তাই তারা যেসব জোটে বা দলের সঙ্গে আছে তাদের সঙ্গে ইসলামী ফ্রন্টের জোট হতে পারে না। যেহেতু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন পুরুষ। তাছাড়া ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় যেমন অনেক ইতিবাচক কাজ করেছেন, তেমনি দেশের উন্নয়নেও তার অবদান অপরিসীম। তাই ইসলামী ফ্রন্ট জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ জোট জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, ইসলামী ফ্রন্টের রয়েছে ছাত্র ও যুব সংগঠন। ইসলামী ছাত্র সেনা ও ইসলামী যুব সেনা।
বৃহত্তর চট্টগ্রামে ইসলামী ফ্রন্টের রয়েছে শক্ত অবস্থান। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের যেমন কমিটি রয়েছে, তেমনি জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ইসলামী ফ্রন্টের কমিটি। পীর-আউলিয়া ও দরবারভিত্তিক এই সংগঠনের রয়েছে শক্ত অবস্থান। সুন্নি আকিদা ও মতাদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে দলটি। ১৯৯১ সাল থেকে ইসলামী ফ্রন্ট নিবন্ধিত দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে। ’৯১ সালে সারা দেশে ২৩টি আসনে প্রার্থী দেয় ইসলামী ফ্রন্ট। দলটির প্রতীক মোমবাতি। ১৯৯৬ সালে ২২টি, ২০০১ সালে ২৬টি এবং ২০০৮ সালে ১৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। প্রতিটি আসনে গড়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোট পায় এই দলের প্রার্থীরা। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পটিয়া ও বোয়ালখালীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই দল থেকে দু’জন প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করেন। সূত্র মতে, কোনো নির্বাচনে এই দলের প্রার্থী না থাকলে তাদের ভোট যেত আওয়ামী লীগের বাক্সে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এরপরও ইসলামী ফ্রন্টকে কখনই মূল্যায়ন করেনি আওয়ামী লীগ। উল্টো ভোটের হিসাবে উতরে যেতে জামায়াতের লোক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের নমিনেশন দেয়া হয়েছে। বানানো হয়েছে এমপি। আবার শাপলা চত্বরের জন্ম দিয়েছে যে কওমিরা তাদেরও দেয়া হচ্ছে নানা অন্যায় সুযোগ-সুবিধা। মূলত এসব কারণে সুন্নি আকিদাভিত্তিক এই রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষুব্ধ। যে কারণে তারা শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির সঙ্গেই জোট বেঁধেছে।

নিজ বাড়িতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফাকে (৩৫) নিজ বাড়ির উঠানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কড়েরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গোলাম মোস্তফা ১নং কড়েরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন। নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় কড়েরহাট বাজার থেকে রাতে নিজ মোটরসাইকেলে গোলাম মোস্তফা বাড়ি ফিরছিলেন। নিজ বাড়ির উঠানে এলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম মোস্তফার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সোমবার ভোরে গোলাম মোস্তফার বাড়িতে ছুটে যান কড়েরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান জসিম উদ্দিন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান। জোড়াগঞ্জ থানার এসআই বিপুল দে যুগান্তরকে জানান, খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা ও ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ঝিনাইদহের 'জঙ্গি আস্তানা'য় অভিযানের প্রস্তুতি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের 'জঙ্গি আস্তানা'য় অভিযানের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার সকাল ৭টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। আস্তানাটির আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গ্রামের লোকজনের চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বাড়িটির আশপাশের এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শাহিনুর রহমান জানান, রোববার থেকেই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় দফা অভিযানের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোমা বিশেষজ্ঞদল আসার পরেই অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় একটি বাড়ি ঘিরে অভিযানের মধ্যেই রোববার ভোরে জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে লেবুতলা গ্রামে অন্য একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে স্থানীয় বাসিন্দা সরাফতের বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এক দফা অভিযানও চালানো হয়। পরে রাতে ব্রিফিংয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. দিদার আহম্মেদ জানান, সরাফতের বাড়িতে অভিযানকালে ৮টি বোমা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং দু'জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- সরাফতের বড় ছেলে দিনমজুর হাসান ও ছোট ছেলে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র শামীম।

পাঁচবিবিতে পুলিশ-ডাকাত 'বন্দুকযুদ্ধ', আহত ৬

জয়পুরহাটের সীমান্তবর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় পুলিশ সঙ্গে ডাকাতদের 'বন্দুকযুদ্ধে' চার পুলিশসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা সদরের বালিঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ মিলন ও রফিকুল নামে দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। পাঁচবিবি থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, রাতে বালিঘাটা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্ততি নিচ্ছিল- এমন গোপন সংবাদে পুলিশের একটি  টহলদল অভিযানে যায়।
উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতেরা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষে মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ডাকাত দলের সদস্য মিলন ও রফিকুলকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এএসআই হোসেন আলীসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

ফের মেয়াদ বাড়ছে বেগুনবাড়ী হাতিরঝিল প্রকল্পের

বারবার মেয়াদ বাড়ছে বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের। ফলে সময় ক্ষেপণকারী প্রকল্পের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত করার কথা থাকলেও ফের দেড় বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এক্ষেত্রে নতুন করে ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্প সমাপ্ত করতে না পারায় কাক্সিক্ষত সুফল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত মেয়াদে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানোর কোনো সুযোগ না দেয়াসহ ১২টি শর্তে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে বাস্তবায়ন,পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. জালাল আকতার ভুঁইয়া রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পের মূল কাজ প্রায় শেষ। অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করছি আর মেয়াদ বাড়াতে হবে না। বর্ধিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউলুপ নর্থ অর্থাৎ মেরুল বাড্ডা অংশের ইউটিলিটি সিফটিং কাজ দেরি হওয়া, সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে স্যানিটারি লাইন ডাইভারশন করা এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় একটি সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাতে নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। উদ্দেশ্য ছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধে বেগুনবাড়ী খাল এবং হাতিরঝিলের নিন্ম এলাকা খনন ও উন্নয়ন করা। এছাড়া ওয়েস্ট ওয়াটার ডিসপোজাল ইস্যু বিবেচনায় ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে পুরো এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, ঝিলের পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করে রাখতে চারদিকে ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ এবং ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঝিলের চারদিকে সড়ক (অভারপাসসহ) নির্মাণ করা। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ১ হাজার ৪৮০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় অনুমোদন করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৯০ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১ হাজার ৯৭১ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং মেয়াদ দেড় বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ সময় এম্পিথিয়েটার বাদ রেখেই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ প্রকল্পে আরও বেশ কিছু ভৌত কাজ যুক্ত করায় ব্যয় ২৬৪ কোটি ৭১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ২৩৬ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এ সময় মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু ভায়াডাক্ট-৩ সংলগ্ন জমি, সাত রাস্তা সংযোগ সড়কের জন্য জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সংযোগ সড়কের জন্য জমি এবং উত্তর ইউলুপের জন্য প্রয়োজনীয় জমি নির্ধারিত সময়ে অধিগ্রহণে জটিলতা থাকায় বিশেষ বিবেচনায় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীর পরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ অসমাপ্ত থাকা এবং জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় একটি অংশের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে না পারায় আবারও দেড় বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। সূত্র জানায়, মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব পাওয়ার পর ২৬ জানুয়ারি প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন আইএমইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পরিচালক। পরিদর্শন শেষে তিনি মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ১২টি শর্ত দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- প্রকল্পের মেয়াদ এরপর আর বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না। এম্পিথিয়েটারে প্রবেশ, প্রস্থান, গ্যালারি ও মঞ্চের পেছনের দিকে দুঘর্টনাবশত কারও পানিতে পড়া রোধে যথেষ্ট নিরাপত্তা অবকাঠামো যুক্ত করতে হবে। উত্তর ইউলুপ নির্মাণ কাজ বর্ষা আসার আগেই রাজউক ও সেনাবাহিনীকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইউলুপ নির্মাণের সময় রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন এলাকায় ফেন্সিং, নেটসহ অন্যান্য দুঘর্টনা প্রতিরোধী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। নির্মাণাধীন ১০ তলা ম্যানেজমেন্ট ভবনের পার্কিং থেকে হাতিরঝিল অংশে একটি ফুটওভার সেতু সংযোগ করতে হবে।

ভরিতে ১২শ’ টাকা কমল স্বর্ণের দাম

ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা। আজ থেকে এ দাম কার্যকর হবে। রোববার বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রোববার প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ৩৮ দশমিক ৪৯ ডলার। এ হিসাবে প্রতি ভরির দাম পড়ে ৩৫ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে দাম কমার পরও বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভরিতে পার্থক্য ১০ হাজার ৪৩১ টাকা। বাজুস জানায়, তারা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ১১শ’ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালোমানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা। রোববার এর দাম ছিল ৪৭ হাজার ৬৪ টাকা। এ হিসাবে ভরিতে কমেছে ১ হাজার ১৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪৪ হাজার ৯৬৪ টাকা থেকে কমে ৪৩ হাজার ৮৫৬ টাকায় বিক্রি হবে।
এ হিসাবে ভরিতে দাম কমেছে ১ হাজার ১০৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ৩৯ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে কমে ৩৮ হাজার ৬৬৬ টাকায় বিক্রি হবে। ফলে ভরিতে দাম কমল ৮১৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ২৫ হাজার ৬৬০ টাকা থেকে ৮১৫ টাকা কমে ২৪ হাজার ৮৪৪ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে কমেছে রুপার দামও। আগের দাম অনুসারে প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ১০৮ টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৪৯ টাকায় বিক্রি হবে। তবে একজন ক্রেতা কোনো জুয়েলারির দোকান থেকে স্বর্ণের অলংকার কিনতে চাইলে তাকে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। এরপর ভরিতে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হয়। জানা গেছে, মানভেদে দেশে চার ধরনের স্বর্ণ বিক্রি হয়। এর মধ্যে ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে। আর পুরনো স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা হয় সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা নেই। এদিকে বাংলাদেশে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ করছেন অর্থনীতিবিদরা। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর ভারতে স্বর্ণ পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বর্ণের নীতিমালা জরুরি।

সুবিধা পাবেন সব বিনিয়োগকারী

অবশেষে বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ আইন আলোর মুখ দেখছে। এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠছে আজ। এ আইনের অধীনে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ করতে ‘এক ছাতার’ নিচে ১৬ ধরনের সেবা দেয়া হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের আলাদাভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অন্য কোনো সংস্থায় যেতে হবে না। উদ্যোক্তা (দেশি ও বিদেশি) দেশের যে কোনো অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে এ আইনের সব সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ আইনের অধীনে উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এরই মধ্যে দুটি এলএনজি টার্মিনাল চূড়ান্ত হয়েছে। ২৪-২৬ মাস পর সেখান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে। ফলে ২০১৯ সালের পর গ্যাসের সমস্যা থাকবে না। তিনি বলেন, একটি শিল্প করতে ২ থেকে ৩ বছর সময় প্রয়োজন হয়। তাই গ্যাস পাওয়ার নিশ্চয়তাসহ আজই যে কোনো উদ্যোক্তা শিল্পকারখানা স্থাপন শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন পাঁচগুণ বেড়েছে।
এতে করে অন্তত শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের দুষ্প্রাপ্যতা এখন আর নেই। বিদ্যুতের জন্য কোনো শিল্পকারখানা হচ্ছে না- এমনটি এখন শোনা যায় না। শিল্পের জন্য জমি পাওয়ার নানা জটিলতা ও স্বল্পতার প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে একশ’ ইকোনমিক জোন করেছে। ফলে কোথায় কী সুবিধা ব্যবহার করে বিনিয়োগ করতে পারবেন, সে সিদ্ধান্ত খুব সহজেই নিতে পারবেন যে কোনো উদ্যোক্তা। ইকোনমিক জোনের বাইরে এ সংকট কীভাবে নিরসন হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজন্য কিছু অঞ্চল ও এলাকাকে শিল্প জোনিং করা হবে। সেখানে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন। সরকারকে এ ধরনের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইকোনমিক জোনের বাইরে বিনিয়োগের জন্য পায়রা বন্দর থেকে বেনাপোল হয়ে সিলেট তামাবিল পর্যন্ত এ রাস্তার উভয় পাশ ইকোনমিক করিডোর হিসেবে ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। এটি হলে ভারত-মিয়ানমার ও চীনের কুরমিং পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে দেশের উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবেন। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, আইনটি কীভাবে অনুমোদন হবে, তা তারা পুরোপুরি জানতে চান। এর আগে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। কেননা প্রথমদিকে তারা শুনেছেন শুধু সরকারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সার্ভিস দিতে এ আইনটি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তাই হলে বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমাজ তা কখনও মেনে নেবে না। কারণ এটা করা হলে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ সুবিধাবাদী কিছু লোকের লাভ হবে। তাই তারা মনে করেন, সত্যিকারার্থে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে যার শিল্প করার সক্ষমতা আছে তাকে দ্রুত শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎসহ যেসব সাপোর্ট দেয়া প্রয়োজন,
তা সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, পৃথিবীতে যেসব দেশ শিল্পবিপ্লব করে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে তারা এমন নীতি ও আইন করেছে। এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল রোববার যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো উদ্যোক্তা দেশে যে কোনো অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে এ আইনের সব সুবিধা পাবেন। এটি কার্যকর হলে বিভিন্ন সংস্থার দ্বারে দ্বারে ব্যবসায়ীদের ঘুরতে হবে না। দেশের ভেতর ব্যবসা করতে উদ্যোক্তারা সহজ অনুভব করবেন। তিনি বলেন, এ আইনে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিনিয়োগ ক্ষেত্র আরও সহজ হবে। যারা এখান থেকে সার্ভিস নেবেন, তা হবে হয়রানিমুক্ত। জানা গেছে, এর আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (একক সেবা কেন্দ্র) আইনের খসড়ার ওপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হয়। সর্বশেষ মতামত নেয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর বিল আকারে আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করা হবে। এ আইন পাস হওয়ার পর বিনিয়োগের জন্য একটি দফতর থেকে ১৬ ধরনের সেবা মিলবে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি নির্বাচনের অনুমতি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা, বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়ার অনুমোদন, সার্টিফিকেট অব অরিজিন বা উৎস দেশের সনদ, মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত নেয়ার অনুমোদন, রেসিডেন্ট ও নন-রেসিডেন্ট ভিসা, কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, নির্মাণের অনুমোদন, হাইটেক পার্কের ভূমি নির্বাচনের অনুমতি, প্লট বরাদ্দ বা ইজারা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ, যে কোনো প্রকারের আইনগত দলিল এবং এছাড়া সরকার ঘোষিত অন্য কোনো সেবাও দেয়া হবে। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে যারাই দেশের যেখানে বিনিয়োগ করবেন তারাও একই সুবিধা পাবেন। জানা গেছে, প্রথমেই হল ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি। সরকারি হিসাবে নিবন্ধন, লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা,
টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ ব্যবসা শুরুর ৯টি কাজ শেষ করতে সময় লাগে ১৯ দিনেরও বেশি। খসড়ায় এ সময় কমিয়ে করা হয়েছে ৭ দিন। বিনিয়োগের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে রাজউক থেকে নির্মাণ কাজের অনুমতি। বর্তমানে একটি বিল্ডিংয়ের অনুমতি নিতে ২৭৮ দিন সময় লাগে। নতুন নিয়মে ৬০ দিনের মধ্যে রাজউক অনুমোদন দেবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে সংযোগ পেতে ৪০৪ দিন সময় লাগে। এখন থেকে এটি ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি দু’দিনে জমি নিবন্ধন ও নামজারির ব্যবস্থা থাকছে। বিনিয়োগের জন্য নানা ধরনের সেবা পেতে ১৮ মন্ত্রণালয়ের ২৬টি বিভাগে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ আইনে সব বিভাগের সেবা সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকছে বিডা’র কাছে। বিনিয়োগের আরেক সমস্যা হচ্ছে ২১ ধরনের কর প্রদান। তা পরিশোধের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন সেবায় কর পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) ঋণ গ্রহীতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকে না। পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার উদ্যোগ রাখা হয়েছে আইনে। খসড়া ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনকার কোনো আইনে যা-ই বলা হোক না কেন, কোনো ব্যক্তি এ আইনের অধীনে কাজের ক্ষেত্রে অবহেলা করলে এবং সে কারণে বিনিয়োগকারীর কোনো আবেদন নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা না গেলে তা ‘কার্য অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ‘সরল’ বিশ্বাসে কোনো কিছু করা হয়েছে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না। জানা গেছে, সেবা প্রদানকারী ১৬টি সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ আইনে। এগুলো হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নিরাপত্তা ও বহির্গমন অনুবিভাগ, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয়, গ্যাস সরবরাহের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, পূর্ত নির্মাণকাজের অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদফতর, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, পণ্যসংক্রান্ত অ্যাসোসিয়েশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ওয়াসা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ প্রাইভেট এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি এবং আমদানি-রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। আইনের খসড়ায় উল্লেখ আছে, এ আইনের অধীনে কোনো সেবা, ছাড়পত্র, লাইসেন্স অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্যসব আইন অকার্যকর হবে। শুধু ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন সেখানে কার্যকর বলে গণ্য হবে। জানা গেছে, বিশ্বের কোন দেশে কত সহজে ব্যবসা করা যায়, প্রতিবছর এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ওই রিপোর্টকে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বলা হয়। আর বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কার্যকর সংস্কারের অভাব। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না। আর এ সংকট কাটিয়ে উঠতে বিনিয়োগকারীকে এক ছাদের নিচে সব সেবা দিতে চূড়ান্ত হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনের খসড়া। প্রথম ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের দ্বিতীয় সভায়। সংস্থাটির গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে এ ধরনের একটি আইন করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও তাগিদ এসেছে। জাপান ও চীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। জাপানের বড় বিনিয়োগকারীরা এবং চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য চীন সরকার মনোনীত প্রতিষ্ঠান মনে করে যে, আইন ছাড়া বাংলাদেশে জাপান ও চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এর আগে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারে বিনিয়োগকারীরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন করার তাগিদ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আইনটির প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে। বেজার প্রস্তাব ছিল- আইনটি শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের জন্য করা হবে। নাম হবে ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস (ওয়ান স্টপ সার্ভিসেস) অ্যাক্ট-২০১৬’। তবে পরে তা সবার জন্য করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে আপাতত বেজা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে প্রয়োজনে অন্য আরও সংস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আজারবাইজানে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করার পর সেখানে ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় ধাপ সংখ্যা, ব্যয় ও সময় অর্ধেকে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে করে দেশটিতে প্রথম ছয় মাসের মাথায় ব্যবসায়ের নিবন্ধন ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়, যাতে ৩২ হাজার ব্যবসার নিবন্ধন হয়। বাংলাদেশ এ পথ অনুসরণ করে বিনিয়োগের বন্ধ্যত্ব ঘুচাতে চায়। সেজন্য বিলম্বে হলেও এ ধরনের আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে কী, তা এখন দেখার বিষয়।