Saturday, October 12, 2019

ভারতে এলপিজি রপ্তানি করে বাংলাদেশ লাভবান হবে: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনা ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছে। কয়েকটি স্বার্থন্বেষী মহল বিশেষ করে এলপিজি ও নয়াদিল্লির সাথে পানি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার জন্য সরকারের সমালোচনা করছে। বাংলাদেশ কেবল আমদানি করা এলপিজি ভারতে রপ্তানি করবে। এর ফলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের কাউন্সিল-২০১৯’র উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফেনী নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ নদীর ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ফেনী, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া জুড়ে রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে থাকা এ নদীর পানির ব্যবহারে দু'দেশের সমান অধিকার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় বুয়েটের ছাত্র আন্দোলনের মুখে বুয়েট কতৃর্পক্ষ শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেবার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রদের ১০ দফা দাবিইতো মেনে নিয়েছেন ভিসি। তারপরেও তারা কেন আন্দোলন করবে, আন্দোলনের কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে।’

শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ রাখতে হবে। কোন অন্যায় অবিচার আমরা সহ্য করি নাই, ভবিষ্যতেও করবো না।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মহিলা শ্রমিক লীগের কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রওশান জাহান সাথী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূইয়া এমপি সংগঠনের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

যেখানে যা অন্যায় হবে সেটা নিয়ে কথা বলতেই হবে :- সৈয়দ আনোয়ার হোসেন by তামান্না মোমিন খান

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আবরার হত্যাকান্ড শুধু বাংলাদেশে নয় সাড়া বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা কূটনৈতিক শিষ্ঠাচারের দোহাই দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাসগুলোকে চুপ থাকতে বলছে এটা ভালো দিক নয়, বিবেক সম্মত নয়। যেখানে যা অন্যায় হবে, সেটা নিয়ে কথা বলতেই হবে। আবরার হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার হবে বলে আমরা আশা করব।
শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে শুদ্ধি অভিযানের কথা চলছিল আবরার হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এ অভিযানটা অনেকটা শ্লথ হয়ে গেছে। বাস্তবতার নিরিখে বলা যায় যে, জনগনের দৃষ্টি এই অভিযান থেকে সড়িয়ে নিতেই আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, অভিযান চলমান থাকবে আমরা তার উপড় আস্থা রাখতে চাই। স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হলো কিন্তু তাকে কেন রাজকীয় ব্যবস্থায় কেন চিকিৎসা দেয়া হলো? বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেখানে চিকিৎসা পায়না সেখানে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি এত সাড়ম্বরে চিকিৎসা কিভাবে পেল সেটা আমারও প্রশ্ন।
বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নিয়ে আনোয়ার হোসেন  বলেন, ঢালাওভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বুয়েটের তাৎক্ষণিক স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে  একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।
বুয়েটের উচিৎ ছিল শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, শিক্ষকদেরও অপরাজনীতি নিষিদ্ধ করা। সে কাজটি তারা করেনি। রাজনীতিরই ফসল এই বাংলাদেশ। রাজনীতিরই ফসল বঙ্গবন্ধু। রাজনীতিরই ফসল আজকের এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনীতি না থাকলে নেতৃত্ব তৈরি হয়না। বাংলাদেশে এখন নেতৃতের একটা শূন্যতা বিরাজ করছে। তার কারণ, গত ২৯ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন হয় নি। তারপরও যে নির্বাচন হলো তা তো প্রহসনের নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব তৈরির কোন পরিবেশ তৈরি হয়নি। ডাকসু কোন কাজ করতে পারছে না। করছেও না। এবং কাজ করার কোন সক্ষমতাও তাদের নেই। আমি মনে করি, রাজনীতি অবশ্যই থাকতে হবে। তবে অপরাজনীতি কোন রাজনীতি নয়। সেই জায়গায় বুয়েটকে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন ছিল।

শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে ১০ সপ্তাহ ধরে জুমা নামাজ বন্ধ

ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ, হজরতবাল দরগাহ মসজিদ, খানকাহ মাওলাতে একটানা দশম শুক্রবার জুমা নামাজ বন্ধ ছিল। বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব মসজিদে গতকাল নিয়ে দশম শুক্রবার জুমা নামাজের আযান হয়নি।
রাজ্য সরকাররের পক্ষ থেকে পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের কাশ্মীরে আসতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি এমন যে একটানা দশম শুক্রবারেও কর্তৃপক্ষ বড় বড় মসজিদে জুমা নামাজ পড়ার অনুমতি দিতে পারেনি।  
জুমা নামাজের পরে প্রতিবাদী জনতার সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কায় টানা দশম শুক্রবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এখানকার জামিয়া মসজিদসহ অন্য বড় মসজিদগুলোতে জুমা নামাজে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর পাশাপাশি, গতকাল (শুক্রবার) কাশ্মীর উপত্যকার স্পর্শকাতর এলাকায় ১৪৪ ধারা অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জুমা নামাজের জন্য শ্রীনগরের নৌহাট্টা,  ডাউন-টাউনসহ বেশ কয়েকটি এলাকার অভ্যন্তরে ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের সাহায্যে অবরোধ সৃষ্টি করা হলে মানুষজনের চলাচল ব্যাহত হয়। জামিয়া মসজিদের আশেপাশে সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কায় সেখানে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
কর্মকর্তা সূত্রের মতে, কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং বর্তমানে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষিণ কাশ্মীর ও উত্তর কাশ্মীরের অনেক স্পর্শকাতর এলাকায় আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদিন দুপুরের পরে ডাউন-টাউন এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রতিবাদী মানুষজন পাথর নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদেরকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।
গতকাল (শুক্রবার) নিষেধাজ্ঞার কারণে কাশ্মীর উপত্যকার সমস্ত দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সড়কে যানবাহন চলাচলও খুব কম ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদেরকে স্থানীয় মসজিদগুলোতে নামাজ পড়তে বলা হয়।  শুক্রবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় আসা পর্যটকদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরে, পর্যটকরা আবার উপত্যকায় পৌঁছবে বলে আশা করা হয়েছে। যদিও উপত্যকায় সর্বত্র ল্যান্ডলাইন ফোন পরিসেবা পুনরুদ্ধারের দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ করছে না।
কাশ্মীরি গণমাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন
সরকারিভাবে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও বিগত ৬৮ দিন বিধিনিষেধের কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষজন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। সরকারকে এখন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলতে হচ্ছে, সবাই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করুন।
সরকারি এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘৭০ বছরের বেশি সময় ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক অপপ্রচারের সাহায্যে তাঁদের জীবনকে সন্ত্রাস, ধ্বংস ও দারিদ্রের নিরবচ্ছিন্ন চক্রাবর্তে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। আপনারা কি তা থেকে মুক্তি চান না?’
বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজেদের সন্ততিদের বিদেশে পাঠিয়ে লেখাপড়া করান, আর সাধারণ ছেলে-মেয়েদের হিংসা, পাথর নিক্ষেপ আর হরতালের পথে যেতে উসকানি দেন। ফের সেই পথই নিয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। আপনারা কী এখনও তা সহ্য করবেন? তাঁদের খপ্পরে পড়ে ধ্বংসকে বেছে নেবেন, নাকি সাধারণ জনজীবনে ফিরবেন?’ এর পরেই কাশ্মীরবাসীর প্রতি সরকারি আবেদন, আপনারা স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাত্রা শুরু করুন।
এদিকে, আগামী ২৪ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ব্লক উন্নয়ন কাউন্সিলের (বিডিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপি একমাত্র নির্বাচনি ময়দানে রয়েছে। অন্য সমস্ত দল তাদের নেতা-কর্মীরা আটক অথবা গৃহবন্দি থাকায় ওই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নির্দিষ্ট পাঠক্রম শেষ না হলেও এমাসের শেষ সপ্তাহে দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বিডিসি নির্বাচনের মতো দ্বাদশ শ্রেণির ওই পরীক্ষাও প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে বলে কাশ্মীরবাসীরা মনে করছেন।
গ্রেটার কাশ্মীর পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন

ইরানের তেল ট্যাংকারে হামলা: এ অঞ্চলকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার ষড়যন্ত্র

লোহিত সাগর অতিক্রম করার সময় ইরানের তেল ট্যাংকার 'সাবিতি' লক্ষ্য করে দু'টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। এতে ট্যাংকারে কিছু ক্ষতি হয়েছে। সৌদি জেদ্দা বন্দর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে থাকা ইরানি তেল ট্যাংকারে ওই হামলায় তেল কিছুটা সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়লেও পরে তেল নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, "জাতীয় তেল কোম্পানির এক তদন্তে দেখা গেছে ইরানি তেল ট্যাংকার লোহিত সাগর অতিক্রম করার সময় আধা ঘন্টার ব্যবধানে দু'টি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে।"

গত কয়েক মাস আগে লোহিত সাগরে ইরানের কয়েকটি তেল ট্যাংকারে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। গতকালসহ আগের হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। গতকাল ইরানের তেল ট্যাংকারে হামলার ব্যাপারে চীন, রাশিয়াসহ আরো অনেক দেশ ও গণমাধ্যম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইরান হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও বাইরের ষড়যন্ত্রকারীরা এ অঞ্চলকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের তেল ট্যাংকারে হামলা এমন একটি ঘটনা যার পরিণতি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাদের মতে পশ্চিমা কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে জাহাজের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যেসব প্রস্তাব উত্থাপন করছেন তা যথেষ্ট সন্দেহজনক। কারণ তাদের গৃহীত কর্মসূচি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে বরং বাড়িয়ে তুলবে। পাশ্চাত্যের নীতি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে। ঠিক এ উদ্দেশ্যেই ইরানের জাহাজে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।

গত জুন মাসে ওমান সাগরে দু'টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল ওই ঘটনার জন্য এ অঞ্চলের সেইসব যুদ্ধবাজ মহলকে দায়ী করেছে যারা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাসেম ইজ্জাদ্দিন বলেছেন, "যুদ্ধবাজ ওই মহল এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও যুদ্ধ বিস্তারের চেষ্টা করছে।

কয়েক মাস আগে জিব্রাল্টার প্রণালীতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী অবৈধভাবে ইরানের একটি তেল ট্যাংকার আটক করে। এরও উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা। গতকাল ইরানের তেল ট্যাংকারে হামলার উদ্দেশ্যও একই। আর তা হল নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এর মাধ্যমে এমন এক পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে যা কারো জন্যই কল্যাণ কর নয়।

বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি: বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বুয়েটে ছাত্র বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)
সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের নির্যাতনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ নিহত হবার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট তীব্র  ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গতকাল ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বৈঠকে বসে এ ঘোষণা দেন। এ সময় জোর করতালিতে এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানান সমবেত শিক্ষার্থীরা।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে ভিসি বলেন, বুয়েট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী শিক্ষক রাজনীতিও নিষিদ্ধ। বুয়েটের শিক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।

গত ৯ অক্টোবর বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বুয়েট কর্তৃপক্ষ চাইলে ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধ করতে পারে, তবে তিনি সামগ্রিকভাবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধে অনাগ্রহ প্রকাশ করে জানান, তিনি নিজেও ছাত্র জীবনে রাজনীতি করেছেন।

এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে ছাত্রসংগঠন তথা শিক্ষাঙ্গনে দুর্বৃত্তায়িত অসুস্থ রাজনৈতিক প্রভাবের নিষ্ঠুর পরিণতি উল্লেখ করে অবিলম্বে বুয়েটসহ দেশের সকল ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।  

টিআইবি উল্লেখ করেছে- ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ছাত্র সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা এবং একই কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যত নিষ্ক্রিয়তার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আদর্শিক ছাত্র আন্দোলনের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।’

’বুয়েটের রাজনীতির বিষয়টি নিয়ে এনজিও সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এক বিবৃতিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে।

লেজুড়বৃত্তির ছাত্র সংগঠবের বিপক্ষে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনও বলেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতি ‘লেজুড়বৃত্তি’ হওয়ার পরিণামে আজ সারাদেশ ভুগছে।

ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বলেছেন, বুয়েটে ছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য ছাত্রলীগের গত ১২ বছরের আচরণই দায়ী। হলে-হলে ছাত্রলীগের নেতাদের টর্চার সেল, ছাত্রদের ওপর নির্যাতনসহ নানা কারণেই বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা  কর্তৃপক্ষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। 

তবে, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা একটি চরম প্রতিক্রিয়াশীল উদ্যোগ বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেছেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কথিত ছাত্র রাজনীতি বন্ধ আছে সেখানেও প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ ও গোপনে ছাত্রশিবিরের তৎপরতা আছে৷ এছাড়া ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র সেখানে প্রবল মাত্রায় চালু থাকবে। আর ছাত্র-শিক্ষকরা ক্ষমতাসীনদের ছ্ত্রসংগঠনের হাতে জিম্মি হয়ে হয়ে পড়বে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে পুরো ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ।

তবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে মৌলবাদী, জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এছাড়া প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যাবে যা মোটেও শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ হবে না।’

এ প্রসঙ্গে, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হবে। আর এটির জন্য ছাত্রলীগই দায়ী থাকবে। কারণ তারাই ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব এবং সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করেছে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে প্রশাসনের স্বৈরাচারিতা বাড়বে।'
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ

জিনপিং-মোদি বৈঠক: শত্রুতা না ঘনিষ্ঠতা!

চীন আর ভারত। বাস্তবক্ষেত্রে একে অন্যের ঘোর শত্রু। বিশেষ করে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কঠোর এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তারা। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন আধিপত্য বিস্তার করে অগ্রসর হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতে উদ্বেগের শেষ নেই। এ জন্য তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করে চীনের প্রভাবকে কাটিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত। এমন বিশ্লেষণ সমাজবিজ্ঞানীদের। কিন্তু যতই প্রতিযোগিতা থাক না কেন দুই দেশের মধ্যে, যখন মুখোমুখি হন দেশ দুটির রাষ্ট্রপ্রধানরা তখন তাদের মধ্যে দৃশ্যমান হয় এক আন্তরিকতা।
এটা কূটনীতির একটি আচরিত বৈশিষ্ট্য। সেই বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুক্রবার মুখোমুখি হয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে কথা হয়েছে। এ নিয়ে চীনের মিডিয়াও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেছে। বলা হয়েছে, দুই নেতা তাদের ব্যক্তিগত ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এশিয়ান সেঞ্চুরি অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা একত্রে কাজ করার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন বলে বলা হয় চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায়। তবে ভারত ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পশ্চিমা অনেক দেশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে চীনের মিডিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, পশ্চিমারা বিশ্বাস করে যে চীন-কেন্দ্রীক সেঞ্চুরি হতে যাচ্ছে। তাই তারা এশিয়ান সেঞ্চুরি নিয়ে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু চীন, ভারত ও আঞ্চলিক অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত এশিয়ান সেঞ্চুরি অর্জিত হবে না বলে বহু আগে বলে গিয়েছেন চীনের প্রয়াত নেতা ডেং সিয়াওপিং।
শি জিনপিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে চীন ত্যাগ করার পরই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর বিশেষ করে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস মূলত ভারতের কড়া সমালোচনা করে থাকে। কিন্তু এবার তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলেছে। এতে বলা হয়েছে, কিছু পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সুযোগের জন্য অন্য একটি সুযোগ হারানো কখনোই উচিত হবে না বেইজিং ও নয়া দিল্লির।
এটা হতে পারে তাদের অতিরঞ্জিত করে বলা। তবে এর মধ্যে বোধোদয় আছে। এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, যখন এই দুটি দেশ তাদের মধ্যকার মতভেদ কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং আন্তরিক সহযোগিতার দুয়ার খুলতে পারবে, তখনই তারা এমন একটি বার্তা দিতে পারবে যে, তারা সত্যিকার এশিয়ান সেঞ্চুরির দিকে অগ্রসর হতে পারবে।

বাংলাদেশ না হোক ২০১১ নম্বর কক্ষ by ব্র্যাড অ্যাডামস

ব্র্যাড অ্যাডামস
বাংলাদেশ শাসকদলীয় কর্মীরা ফেসবুক পোস্টের পরে একজন ছাত্র হত্যা করেছে। নিহতের নাম আবরার ফাহাদ। তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়মুক্তিকে সামনে এনেছে। দিনটি ছিল ৬ই অক্টোবর। ২১ বছরের বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। তাকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নেয়া হলো ২০১১ নম্বর কক্ষে। এটি ছাত্রদের কাছে একটি টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত। এই কক্ষটি পরিচালিত হতো ছাত্রলীগের সদস্যবৃন্দের দ্বারা।
ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে ফাহাদকে মৃত পাওয়া গেছে।
বুয়েট ছাত্রলীগের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিডিয়াকে বলেছেন, ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বিষয়ে ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ছাত্রশিবির হলো ইসলামী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন। ছাত্রলীগ কর্মীরা দাবি করেছেন যে, ফাহাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং তার সেল ফোন জব্দ করার পর তারা শিবিরের সঙ্গে ফাহাদের সম্পর্কের যোগসূত্রের প্রমাণ পেয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা যায়, ছাত্ররা ফাহাদের অচেতন দেহ মধ্যরাতে ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্ট বলেছে, ফাহাদের শরীরে বিপুলসংখ্যক আঘাত করা হয়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। পুলিশ বলেছে, ২০১১ নম্বর কক্ষে তারা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প পেয়েছেন। পুলিশের সন্দেহ এই স্টাম্প দিয়ে ফাহাদকে পেটানোর ফলে তার মৃত্যু ঘটেছে। 
এই মরণঘাতী ঘটনায় বিস্ময় নই। আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলছিলেন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি, নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংস আক্রমণ পরিচালনা এবং এমনকি ২০১৮ সালের ছাত্র প্রতিরোধ আন্দোলন দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগী হিসেবে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
হাজার হাজার ছাত্র ফাহাদ হত্যার দাবিতে প্রতিবাদ করছেন। ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন ফাহাদের বাবা। পুলিশ এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সদস্য।
কিন্তু ফাহাদ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত ব্যর্থতার একটা সুগভীর প্রতিফলন। বাংলাদেশে একটি সরকার রয়েছে, যারা নির্যাতন, গুম, নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারকে অবজ্ঞা করছে। আর এসবই এমন একটি সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে, যেখানে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ‘টর্চার সেল’ পরিচালনা করতে পারে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষসমূহের উচিত হবে একটি ব্যাপকভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পরিচালনা করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
বাংলাদেশকে অবশ্যই ২০১১ নম্বর কক্ষে পরিণত হতে দেয়া উচিত নয়।
(ব্র্যাড অ্যাডামস। এশিয়া পরিচালক, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)
>>>১০ই অক্টোবর, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইট থেকে।

৯৮ বছরের এপার-ওপারে কী পেলেন চা শ্রমিকরা by রিপন দে

দিনের পর দিন অবর্ণনীয় শোষণ-নির্যাতন ও মানবেতর জীবনযাপনে অতিষ্ঠ হয়ে একসময় চা শ্রমিকেরা কাজ ছেড়ে নিজেদের এলাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯২১ সালের ২০ মে ‘মুল্লক চলো’ আওয়াজ তুলে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক চাঁদপুরে পৌঁছেছিলেন স্টিমারে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সেখানে বাধা দেয় মালিকপক্ষ। বাগান মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী ব্রিটিশ সরকারের গোর্খা সৈন্যরা সেদিন পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে শত শত মেহনতি মানুষকে। পরে তাদের লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় মেঘনা নদীতে। আজ থেকে ৯৮ বছর আগের এই ঘটনার পর থেকে ২০ মে দিনটিকে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সিলেট অঞ্চলে চা উৎপাদন শুরু করেন ব্রিটিশ মালিকরা। উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে উপমহাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত বিভিন্ন এলাকা থেকে গরিব মানুষদের এনে চা-বাগানের কাজে লাগিয়েছিলেন বাগান মালিকেরা। নামমাত্র মজুরিতে অমানসিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো ওই অসহায় শ্রমিকদের।
সেই দিবসের ৯৮ বছর পর কেমন আছেন চা শ্রমিকরা?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মৌলভীবাজারের কয়েকটি চা বাগানে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে তাদের বাসস্থানে গিয়ে দেখা যায় এখনও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো লড়ছেন এ মানুষগুলো। ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণা করা, দৈনিক মজুরি বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের ন্যায়সংগত সংগ্রাম চলছে।
চা গাছ ছেঁটে ছেঁটে ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দেয়া হয় না। চা শ্রমিকের জীবনটাও ছেঁটে দেয়া চা গাছের মতোই, লেবার লাইনের ২২২ বর্গফুটের একটা কুঁড়ে ঘরে বন্দি। মধ্যযুগের ভূমিদাসের মতোই চা বাগানের সঙ্গে বাধা তাদের নিয়তি।
চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে দেশের প্রায় ১৬৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। প্রায় ২০০ বছর ধরে মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানে বংশ পরম্পরায় কাজ করছেন চা শ্রমিকরা। তাদের শ্রমে এই শিল্পের উন্নয়ন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। দৈনিক একজন শ্রমিকের মজুরি ১০২ টাকা। আর সেই সঙ্গে সপ্তাহ শেষে তিন কেজি খাওয়ার অনুপযোগী আটা। তাও আবার ওজনে কম।

মৌলিক চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তাদের। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিয়ে চা বাগান আগলে রাখলেও তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসা এখন সেই অবহেলিত রয়ে গেছে।
সরকার তাদের আবাস্থল নিজ নিজ মালিকানায় করে দেবে বললেও এখনো এর কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। আর এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভূমি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন চা শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা পরাগ বাঁড়ই জানান, চা শ্রমিকরা সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এ দেশে বাস করছে। তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। কিন্তু তারা আজও অবহেলিত।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী জানান, চা শ্রমিকদের ২০ দফা দাবি মালিকপক্ষকে লিখিত দেয়ার পর কয়েক দফা দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। তবে মালিকপক্ষ কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বালিশিরা বাগান ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, বিভিন্ন দিবস এলে সবাই আমাদের খোঁজ নেয়, বক্তৃতা বিবৃতি দেয়। কিন্তু আমাদের যে মূল দাবি সেগুলো নিয়ে কেউ ভাবে না ৷ আমাদের মূল দাবি হলো আমাদের ভূমির অধিকার৷ চাকরি না থাকলে ভূমিও থাকবে না। এরকম অমানবিক নিয়মের মধ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি ৷ প্রশাসন ও বাগান মালিকদের কাছে চা শ্রমিকরা মানুষ কিনা সেটা স্পষ্ট হওয়া উচিত। তা না হলে শ্রমিকদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হতো না।
তিনি জানান, আইন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য প্রতিটি পরিবারে একটি টিউবওয়েল বসানোর কথা। অথচ পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা শহরের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

রেখে এসেছিলাম সন্তান আর ভিসি ফেরত দিলেন লাশ: -আবরার ফাহাদের মা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

শোকে কাতর মা। ক’দিন ধরে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। কান্না থামছে না কিছুতেই। চোখগুলো ফুলে গেছে। একটু পর পর চিৎকার দিয়ে লুটে পড়ছেন মাটিতে। শোকাতুর এ মায়ের সঙ্গে কথা হয় গতকাল। বলেন, আমি চাই ঘাতকদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার হোক। তাদের ফাঁসি দিয়ে আমার সন্তানের আত্মাকে শান্তি দিক।
যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের স্থায়ী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এমন জানলে আমার ছেলেকে আমি বুয়েটে দিতাম না। যে বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করে সন্তান দেই আমার ছোট ছেলেকে তো আমি সেখানে দিবো না।
রোববার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটুনিতে নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বুয়েটের ভিসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। বলেন, আমার সন্তান যখন মারা গেছে ওখানে সংবাদ পাওয়ার পরও ভিসি তার কাছে ছুটে যান নাই। যখন জানাজা হয়েছে তখনও তিনি যান নাই। আমার ছেলেটা মরে গেল এই কথা শোনার পর একবারও তিনি দেখতে আসলেন না। তার কি সন্তান নেই তার সন্তানের প্রতিও কি তিনি এমনই নির্দয়। যে ভিসি ক্যাম্পাসে আমার ছেলেকে দেখতে গেলেন না তিনি ২৫৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে চলে গেলেন, আমার সঙ্গে দেখাও করলেন না। তিনি যখন সুদূর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় আসছিলেন তখন আমি বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, হয়তো তিনি আমার কাছে আসবেন। আমি তাকে বলতে চেয়েছিলাম, আপনার কাছে সন্তান রেখে এসেছি, আর আপনি আমাকে দিলেন লাশ। তিনি এখানে এসেছেন নাটক করতে। আমি তার পদত্যাগ চাই।
এমন নির্দয় ভিসির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই। তিনি কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন বুয়েটে যারা দশ দফা দাবি করছে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। আবরারের মা বলেন, আমার ছেলে খুব সহজ-সরল ছিল। কারো সঙ্গে কোনো দিন তার বাধেনি। সারাদিন পড়াশোনা করতো। পড়াশোনা নিয়ে থাকতো। একজন মানুষকে কি করে এতগুলো মানুষ পেটালো তাদের কি স্বজন নেই তারা আমার বুকটা খালি করে দিলো ‘স্কুল কলেজের গণ্ডি শেষ করে আমার ছেলেকে যখন বুয়েটে ভর্তি করে হলে উঠিয়ে দিয়ে আসি তখন ছেলেকে বলেছিলাম, বাপগো, এখন থেকে তুমি তোমার নিজের বুদ্ধি দিয়ে চলবা। রোকেয়া খাতুন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট সেখানে কোনো কলহ নাই, কোনো মারামারি নাই, রাজনীতি নাই। সে কারণে ছেলের ইচ্ছে-ই তাকে ভর্তি করিয়ে দিলাম। অথচ আজ আমার ছেলে লাশ হয়ে ফিরলো। আমি তো সন্তান হারিয়ে ফেলেছি। যারা আমার ছেলের জন্য ঢাকায় আন্দোলন করছে তারা সবাই আমার সন্তান। যারা আমার ছেলের মতো বুয়েটে পড়ছে তাদের নিরাপত্তার জন্য হলেও এই ভিসির পদত্যাগ দরকার। তিনি বলেন, আমি তাকে সামনে পেলে হয়তো তার কাছে বলতাম, আমি চাই আমার সন্তান যেভাবে বুয়েট থেকে লাশ হয়ে আমার কাছে ফিরে আসছে, আর যেন কোনো মায়ের সন্তান তার বুকে লাশ না হয়ে ফিরে যায়। আবরারের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঢাকায় আসার জন্য রোববার সকালে আবরারকে ঘুম থেকে তুলে দেই আমি।
ঢাকায় আসার পথে কয়েকবার ফাহাদের সঙ্গেও কথাও হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছে আমাকে ফোন করে সে খবরও জানান। কিন্তু এরপর মা রোকেয়া খাতুন ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ছেলের খবর নিতে রাতে বারবার ফোন করেছেন তিনি। কিন্তু ছেলের মোবাইল ফোনটি একবারও রিসিভ হয়নি। আবরারের মা বলেন, আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি আর পারছি না। আমি কিভাবে আমার সন্তানকে ভুলবো। একটু বলে দেন না। আমার চোখের সামনে এখনো ফাহাদ ঘুরছে। রোববার রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ও আর ফোন ধরেনি। আমার ছোট ছেলে ফায়াজ ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ফাহাদকে নক করে। সে সময়ও ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেয়নি। আমার ছেলের কি কষ্টটা মনে হয়েছিল। কিভাবে যে আমার ছেলের প্রাণটা গেছে মা হয়ে আর ভাবতে পারছি না। আমার এই ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো তার, তাই চার থেকে পাঁচটি ভাষা শিখেছে, বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমার ছেলেটার আর বিদেশ যাওয়া হলো না। কিন্তু এমন জায়গায় চলে গেল আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।
আবরার ফাহাদের মা বলেন, আমার বড় ছেলেকে মেরেছে এখন ছোট ছেলেটাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তার ফেসবুক আইডিটা কে যেন নষ্ট করে দিয়েছে। তার নামে বেশ কয়েকটি আইডিতে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এই স্ট্যাটাসের দায় আমার সন্তান বা পরিবার কেউ নিবে না। আমাকে বেশ কয়েকজন ফোন দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে, ছোট ছেলেকে যেন বাড়ির বাইরে না পাঠাই। অনেক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। গত বুধবার প্রশাসনের লোকজন আমার ছেলেটাকে ধরে মারলো। এসব আর সহ্য হচ্ছে না। আমার ছোট ছেলের নিরাপত্তা এখন কে দিবে আমি চাই না আমার ছোট ছেলেটাকেও হারিয়ে ফেলি।

আবরার বলেছিল,‘ও ভাই আমার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে’: আদালতে ইফতি ও জিয়নের জবানবন্দি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শেরেবাংলা হলের ২০১১ কক্ষ। সে রাতে ওই কক্ষে দানবের রূপ ধারণ করেছিল ছাত্রলীগের কিছু নেতা। ক্যাম্পাসের মেধাবী, নিরীহ ছাত্র আবরার ফাহাদকে ওই কক্ষে ডেকে নিয়ে একের পর এক পিটানো হয়। আবরার চিৎকার করে কাঁদছিলেন। হাতে-পায়ে ধরে বাঁচার জন্য অনুনয় করেছিলেন। কিন্তু খুনিদের এতটুকু মায়া হয়নি। ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে একের পর এক পিটানো হচ্ছিলো আবরারকে। একজন ক্লান্ত হলে আরেকজন।
শরীরে মলম দিয়ে আবার পিটায়। বেদম মারে শব্দহীন, নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিলেন আবরার। বমি করছিলেন বারবার। খুনিদের ভাই সম্বোধন করে বলেছিলেন, ভাই, ও ভাই আমার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা মার খেয়ে নিরব হয়ে যান। নিথর হয়ে যায় তার শরীর। বুয়েটের আবাসিক চিকিৎসক নিশ্চিত করেন আবরার আর বেঁচে নেই। লাশটি সিঁড়ির পাশে রেখেও নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলো খুনিরা। গ্রেপ্তারের পর এই হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। শুক্রবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে জবানবন্দি দেয় জিয়ন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে জবানবন্দি দেয় ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশাররফ সকাল।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা দিয়েছে ইফতি ও জিয়ন। ইফতির কক্ষেই সেসহ অন্যরা ৬ই অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হত্যা করে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে।
আদালতে দেয়া জবানবন্দি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রুমে যাওয়া মাত্রই আবরারকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরার তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলো। ছাত্রলীগ নেতাদের ধারণা ছিলো আবরার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চেক করা হয়। এতে শিবির সংশ্লিষ্ট কিছু না পেলেও আবরারের কাছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল জানতে চায়, ক্যাম্পাসে কারা, কারা শিবির করে? এসময় আবরারকে কয়েকটি চড় মারে মেহেদি। সেইসঙ্গে ওই রুমে থাকা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাদের নির্দেশ দেয় আবরারকে পিটিয়ে তথ্য জানতে হবে। ওই নির্দেশ দিয়ে মেহেদি রুম থেকে বের হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।
ওই নির্দেশের পরেই শুরু হয় বেদম মার। প্রথমে চড় ও লাথি। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সামসুল আরেফিন রাফাত স্ট্যাম্প এনে দেয় ইফতির হাতে। স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে আবরারের কাছে ইফতি জানতে চান, ক্যাম্পাসে শিবির করে কারা, কারা? আবরার জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তারপর দু’হাত টান টান করে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন আবরারকে। আবরার ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করেন। এভাবে কয়েকবার মারার পর স্ট্যাম্পটি ভেঙ্গে যায়।
পরে অন্য স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে পিটাতে থাকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার। ইফতির বর্ণনা অনুসারে আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে আঘাত করছিলো অনিক সরকার। পায়ের তালুতে আঘাত করলে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে আবরার। এসময় অংশ নেয় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মেফতাহুল। একই কায়দায় সেও পেটায় আবরারকে। এভাবে মার চলছিলো রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যেই রাতের খাবার খেতে ক্যান্টিনে যায় ইফতি। খাবার খেয়ে ফিরে এসে দেখতে পায় আবরার মেঝেতে পড়ে আছে। এসময় ধমক দিয়ে তাকে উঠে দাঁড় করিয়ে পিটাতে থাকে ইফতি। মোটা দড়ি দিয়ে আবরারকে এই দফায় পিটাতে থাকে মুজাহিদুর রহমান। তারপর আবার ইফতি। তারপর তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, রবিন।
প্রায় একটানা এক ঘন্টা পিটিয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। রাত ১১টার দিকে আবার ওই কক্ষে যায় অনিক। এসময় অনিক স্টাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি শতাধিক আঘাত করে আবরারকে। আবরার তখন পা ধরেছিলো বারবার। মারবেন না, মারবেন না বলে অনুনয় করেছিলো। অনিক খুবই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবরারকে মারতে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত আবরারকে মারতে থাকে সে। মারতে মারতে ঘেমে যায়। আবরারের কথা তখন অস্পষ্ট। কথা বলার শক্তি নেই প্রায়। অনিক তখন বের হয়ে যায়।
জবানবন্দিতে ইফতি জানিয়েছে, তখন আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছিলো। ওই সময়ে আবরার বমি করেন। পরপর দু’বার বমি করেন। ভয় পেয়ে যায় ইফতি। ফোনে এ বিষয়ে কথা বলে অনিকের সঙ্গে। অনিক পরামর্শ দেয় আবরারের শরীরে মলম লাগিয়ে দিতে। পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে বিছানায় রাখা হয় আবরারকে। এসময় ম্যাসেজ পাঠায় বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহা সবকিছু জানার পরে নির্দেশ দেন তাকে আরও মারতে হবে। মেরে তথ্য বের করতে হবে। কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও অনিক ২০০৫ নম্বর কক্ষে যায়। মেহেদি তখন বলে, ‘কিচ্ছু হয়নি। ও নাটক করতেছে’।
ওই সময়ে আবার বমি করেন আবরার। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলে। তোশকসহ আবরারকে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। ওই সময়ে আবরার অস্পষ্টভাবে কয়েকবার তাদের বলেছিলো, ভাইগো, ভাই শরীরটা খুব খারাপ লাগছে।
সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল তখন নিচে নেমে হলের প্রধান ফটকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। তখন মুনতাসির জানায়, আবরারের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। ইসমাইল ও মনির তখন অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দেয়। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় তামিম বাইক নিয়ে বুয়েট মেডিকেলের চিকিৎসক নিয়ে আসে। চিকিৎসক আসার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স আসে। সিঁড়িতে আবরারকে দেখে চিকিৎসক জানান, আবরার মারা গেছে। আবরার মারা গেছে জানার পর  হলের কক্ষে শুয়ে থাকে ইফতি।
জবানবন্দিতে ইফতি জানায়, আবরারকে ধরে আনার নির্দেশ ছিলো আরও আগেই। ৪ঠা অক্টোবর আবরারকে ধরে আনার নির্দেশনা দেয় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন। শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে যোগ হয় অমিত সাহা। অমিত সাহা ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখেছিলো, ওকে বাড়ি থেকে ফিরতে দেন। আবরার শিবির করে কি-না তা নিশ্চিত হতে ডেকে নিয়ে তার ফোন ও ল্যাপটপ চেক করেছিলো বুয়েট ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মুনতাসির আল জেমি।

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল বুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠককালে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া আবরার হত্যা ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানান ভিসি। ইতোপূর্বে ঘটা র‌্যাগিংয়ের ঘটনাও তদন্ত করবে বুয়েট প্রশাসন। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা বসার দাবি অনুযায়ী গতকাল বিকাল ৫টায় বুয়েট অডিটোরিয়ামে আলোচনায় বসেন ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের দশ দফা নিয়ে পৃথকভাবে বুয়েট প্রশাসনের পদক্ষেপের কথা জানান। তবে এতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট কিনা রাতে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ করছেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকাল পাঁচটায় ভিসির বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আধঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় আলোচনা। ভিসি ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ আরও ৭ শিক্ষক। বৈঠকে বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্র্মীদের উপস্থিতি ছিল। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মিলনায়তন। মিলনায়তনের বাইরেও অপেক্ষা করতে দেখা গেছে আনুমানিক ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
বৈঠকের শুরুতে নিহত আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সকলে। এসময় ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিজের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমার কিছুটা ভুল হয়েছে, আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ভুল আমি স্বীকার করছি। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও। তিনি বলেন, আবরার আমার সন্তানের মতো ছিল। তোমাদের যেমন কষ্ট লাগছে তার মৃত্যুতে আমারও অনেক খারাপ লেগেছে। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি। তার মৃত্যুতে দুঃখ তোমরা পেয়েছ, আমিও পেয়েছি। আমরা সকলেই মর্মাহত। এসময় শিক্ষার্থীদের দশ দফা নিয়ে পৃথকভাবে বুয়েট প্রশাসনের নেয়া ব্যবস্থার কথা জানান ভিসি। প্রথম দফা ছিল- আবরার ফাহাদের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুসারে শনাক্ত খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে ভিসি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে একমত। আমরা সরকারের সাথেও কথা বলেছি। তারাও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দ্বিতীয় দফা ছিল- সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িতদের শনাক্ত করে শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে। এ ব্যাপারে ভিসি বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সবকিছু নিয়মের মধ্যে হচ্ছে। যদি তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে আমরা যদি কোর্টে হেরে যাই তাহলে সমস্যা। তাই এজাহারভুক্ত ১৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।
তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এতে কোন গাফিলতি করা হবে না। তৃতীয় দাবি হচ্ছে, মামলার সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে এবং আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করতে হবে। এ দাবির প্রেক্ষিতে ভিসি বলেন, তাদের পরিবারকে সকল প্রকার ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নেব কি ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আমরা এই ব্যাপারে নোটিশে জানিয়ে দিব। চতুর্থ দাবি ছিল- দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্বল্পতম সময়ে আবরার হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ামত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের তথ্য দিতে হবে। এ দাবির প্রেক্ষিতে ভিসি বলেন, আমরাও এই বিষয়েও একমত। সরকারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। সরকার আমাদের আশ্বস্ত করছেন। এ ব্যাপারে কোন গাফিলতি করা হবে না। পঞ্চম দাবি ছিল- আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের কপি অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে হবে। এ দাবি প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, এটাও প্রকাশ করা হবে। এ ব্যাপারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে লিখিত দেব। আজ শুক্রবার হওয়ায় লিখিত দিতে পারিনি। এই মামলার সকল আপডেট ভিসি অফিস থেকে নোটিশ আকারে জানানো হবে। ষষ্ঠ দাবি ছিল- হত্যা মামলার চার্জশিট প্রকাশ করতে হবে। এ বিষয়ে ভিসি বলেন, চার্জশিটের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে জোর করতে পারব না। তাদের নিজস্ব গতিতে কাজ করছে। চার্জশিট হাতে পেলে আমরা নোটিশে জানিয়ে দিব। সপ্তম দাবি ছিল-বুয়েটে ‘সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি’ নিষিদ্ধ করতে হবে।
এ দাবি প্রসঙ্গে বুয়েট ভিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিসির ক্ষমতা বলে আজ থেকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো। সাথে শিক্ষক রাজনীতিও। আজ থেকে পলিটিক্যাল কোন প্রোগ্রামে শিক্ষক যাবে না। তবে যদি কেউ গোপনে রাজনীতি করে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। অষ্টম দফা ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে যাননি এবং ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেছেন? এমন জবাবাদিহিতায় সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার শরীর ভালো না থাকার কারণে সময় উপযোগী সিদ্বান্ত নিতে পারিনি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নবম দফা ছিল- আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সাথে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে। এ দাবির প্রেক্ষিতে ভিসি বলেন, এই ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও একটি ওয়েবসাইট করা হবে সেখানে সবাই অভিযোগ প্রকাশ করতে পারবে। এই সাইটের মধ্যে কি কি থাকতে হবে তা তোমাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই প্রোগ্রামের জন্য এক সপ্তাহ সময় লাগবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সবগুলা উইংয়ের দুই পাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করার বিষয়ে ভিসি বলেন, অতিদ্রুত সিসিটিভি ফুটেজের ব্যবস্থা করা হবে। আমি এ ব্যাপারে আইআইসিসি বিভাগের সাথে কথা বলেছি। সবগুলো হলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আর শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করার শেষ দাবি সম্পর্কে ভিসি বলেন, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছেন। এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টায় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলের পূর্বে আন্দোলনকারীরা দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আজকে আন্দোলনের পঞ্চম দিনে এসে আমরা বলতে চাই, যে ১০ দফা দাবি দিয়েছি, এখনো তার দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আরও একটি দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সদিচ্ছার অভাব দেখতে পাচ্ছি। আল্টিমেটামের সময় বাড়ানোর তথ্য দিয়ে তারা বলেন, যেহেতু ভিসি স্যার বিকেল ৫টায় আমাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছেন, সেহেতু আমরা তার সিদ্ধান্তের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখে আমাদের আল্টিমেটাম তার মিটিং শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। তারা জানান, ভিসি তার পিএস ও আরও দু-একজন শিক্ষক নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন। শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি স্যার আমাদের সঙ্গে একান্তে একটি কক্ষে কথা বলতে চেয়েছিলেন গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়া। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, যেহেতু আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের, তাই সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বললে হবে না। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ভিসি উন্মুক্ত আলোচনায় রাজি হন। তবে উন্মুক্ত আলোচনায় কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। শিক্ষার্থীরা জানান, অডিটোরিয়ামে আলোচনার সময় শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা থাকবেন। তবে আলোচনার সময় গণমাধ্যম তা সরাসরি সমপ্রচার করতে পারবে না। তবে ভিডিও করা যাবে। আলোচনা শেষে তা ভিডিও আকারে প্রকাশ করতে পারবে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্নও করতে পারবেন না। ভিসির অনুরোধে শর্তগুলো মানা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলালকে দুপুর ২টার মধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ওইদিন বিকালে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসার প্রস্তাব দেন। তবে এ আলোচনায় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকা যাবে না বলে শর্ত দেন ভিসি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়া ভিসির সঙ্গে কোন আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা দিলে রাতে প্রথম সারির গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসতে রাজি হন ভিসি সাইফুল ইসলাম। উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর তার মরদেহ দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ফেলে রাখে ঘাতকরা। এ ঘটনায় উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস ও দেশের শিক্ষাঙ্গণ। সকলের একটাই দাবি হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।

‘আমি, আপনি দু’জনই সমান’ -কামরান by ওয়েছ খছরু

‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব’র আয়োজন চলছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তবে, ব্যাপক আকারের এই আয়োজনের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে বিএনপি দলীয় সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মানছে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক মেয়র কামরানেরও এ নিয়ে ঘোর আপত্তি। গতকাল রাতে আয়োজক কমিটির সঙ্গে ১৪ দলের বৈঠকেই কামরান জানিয়ে দেন, ‘যারা রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেন তাদের মধ্য থেকে একজনকে সদস্য সচিব করা হোক।’ বৈঠকে উপস্থিত থাকা মেয়র আরিফও তার স্থলে সদস্য সচিব হিসেবে কামরানের নাম প্রস্তাব করেন। এ সময় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন কামরান। বলেন, ‘আমি কিংবা আপনি দু’জনই সমান। যারা রবীন্দ্রনাথকে বোঝেন, ধারণ করেন তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে সদস্য সচিব করা হোক।’ বৈঠকে উপস্থিত থাকা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কথা বাড়াতে দেননি।
বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দু’দিনের সময় চেয়ে নেন। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে চিন্তা করা হবে বলে জানান তিনি। একশ’ বছর আগে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সিলেটে রয়েছে তার স্মৃতি বিজরিত স্থান। মাছিমপুরে গিয়েছিলেন কবি।
নগরীর আরো কয়েকটি স্থানও পরিদর্শন করেন। এ কারণে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সিলেটে রয়েছে আলাদা অনুভূতি। প্রতি বছর কবি ভক্তরা রবীন্দ্রনাথের আসার দিনকে সিলেটে ব্যাপকভাবে পালন করেন। সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরের মাছিমপুরে স্থাপন করেছেন কবিগুরুর ভাস্কর্য। সিলেটে কবিগুরুর আগমনের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয় প্রায় ৭-৮ মাস আগে। এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মূলত তাদের দু’জনের ভূমিকা সিলেটে ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ কমিটি। আর এই কমিটির আহ্বায়ক আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সদস্য সচিব আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া তাদের মনোনীতদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিতে আছেন কয়েকজন রবীন্দ্র গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সিনিয়র সংস্কৃতিকর্মী। এই কমিটি ইতিমধ্যে সিলেটে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সদস্য সচিব আরিফুল হক চৌধুরী এ কমিটিতে কয়েকমাস ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। ইতিমধ্যে তিনি নগর ভবনে সিলেটের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে তার মনোনীতদের নিয়ে বসেন তিনি। ফলে সার্বজনীনভাবে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ও ৮ই নভেম্বর সিলেটে এই উৎসব পালন করা হবে। তারিখ নির্ধাণের পর উদ্‌যাপন কমিটি সিলেটের প্রশাসনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সার্কিট হাউসে সভা করেন। এ সভায় জানানো হয় সমাপনী অনুষ্ঠানে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর রাতে আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাফিজ কমপ্লেক্সের বাসায় ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করা হয়। দাওয়াত পেয়ে রাতে হাফিজ কমপ্লেক্সে যান আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। এ সময় সেখানে উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা বিশাল এ আয়োজনের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ করেন। এত বড় আয়োজনের ব্যাপারে তাদের অবহিত করা হয়নি বলেও জানান। এ ছাড়া সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করে স্মরণোৎসবের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন নেতা গতকাল মানবজমিনকে জানান, বৈঠকের শুরুতেই ১৪ দলের নেতাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত বড় আয়োজন হবে। এখানে প্রধানমন্ত্রী আসবেন অথচ আমরা তা জানি না। আনুষ্ঠানিকভাবে আজকেই প্রথম জানলাম।’
স্মরণোৎসবের কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে যারা ধারণ করেন, চর্চা করেন, যারা বাঙালির কবি মনে করেন তাদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা উচিত।’ এ কারণে তিনি বৈঠকে উপস্থিত মুহিতের কাছে আহ্বায়ক কমিটিতে মানানসই একজন সদস্য সচিব করার দাবি তোলেন। কামরানের বক্তব্যের পর একই সুরে বক্তব্য রাখেন সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাত আলী রফিক, বিজিত চৌধুরী ও জয়বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনির। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে পর সদস্য সচিব হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বক্তব্যকালে নতুন সদস্য সচিব হিসেবে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ‘কামরান ভাই সদস্য সচিব হলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’ তবে, তার প্রস্তাবে আবার আপত্তি জানান কামরান। বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে  বোঝেন, ধারণ করেন তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে সদস্য সচিব করা হোক। রবীন্দ্রনাথের এত বড় আয়োজনের সদস্য সচিব হওয়ার মতো যোগ্য লোক আমি কিংবা আপনি নন। আমরা দু’জনই সমান।’ এদিকে বৈঠকে নতুন সদস্য সচিব হিসেবে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বিজিত দে ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আরশ আলীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আরো কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীর নাম প্রস্তাব করা হয়। সভাপতির বক্তব্যকালে সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কমিটি পুনর্গঠনের আশ্বাস দেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘কমিটি নিয়ে ক্ষোভের কথা সবাই জানিয়েছি। আরিফকে নিয়েও আপত্তি জানিয়েছি। কমিটিতে অনেক সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিটি সার্বজনীন হয়নি। পুরো আয়োজন কুক্ষিগত করে ফেলা হয়েছে। আমাদের আপত্তির মুখে আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।’

চেয়ারম্যান ছাড়া যুবলীগের বৈঠক আনিস বহিষ্কার

সংগঠনের সার্বিক পরিস্থিতি ও সপ্তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম বৈঠক হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে বৈঠকে দুর্নীতির অভিযোগে দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান দীপু সাংবাদিকদের বলেন, কাজী আনিসের ব্যপারে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রেসিডিয়ামের সর্বসম্মতিক্রমে একমত পোষণ করেছে কাজী আনিসকে বহিস্কার করার জন্য।
সেই আলোকে কাজী আনিসকে আমরা বহিস্কার করেছি। সম্মেলনকে সামনে রেখে দপ্তরের দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত কাউকে দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি  বলেন, এমন কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কি কারণে কাজী আনিসকে বহিস্কার করা হয়েছে জানতে চাইলে যুবলীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন বলেন, কাজী আনিস যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক। তার দূর্নীতির কথা আমরা পত্র পত্রিকায় দেখেছি এবং অর্থ তছরূপের কারণে তাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রাজধানীতে যুবলীগের নেতাদের নেতৃত্বে ক্যাসিনো ব্যবসা চলছে।
এ নিয়ে অভিযান শুরু হওয়ার পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সরব হন সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ আসার পরেই পিয়ন থেকে দপ্তর সম্পাদক হওয়া কাজী আনিস আত্মগোপনে চলে যান। এখন পর্যন্ত তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব তলব ও অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে আসছেন না যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। যোগ দিচ্ছেন না সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ডে। তবে গত ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তাকে গণভবনে দেখা গেছে। এরপর থেকেই তিনি বাহিরে তেমন আসেন না। নিজের ধানমন্ডির বাসভবনেই আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রেসিডিয়াম বৈঠকে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ আতিয়ার রহমান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যানের অনুমতি এবং নির্দেশেই এই সভা হয়েছে। তবে তিনি কেন আসেননি সে বিষয়টি জানা নেই। হয়তো অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। উনি কোথায় আছেন আমরা কেউই জানি না। সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, এতে করে তিনি কি এ পদে থাকার বিষয়ে নৈতিকতা হারিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দিপু বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদের বিষয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার। যুবলীগের চেয়ারম্যনের পদটার মালিক কিন্তু আমরা না, পদ দেয়ার মালিক যিনি, তিনিই বিষয়টি বলতে পারবেন। আর যাদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিষয়েও তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব কে করবেন জানতে চাইলে অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন বলেন, এর দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। উনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে। এদিকে সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরায় সংগঠনের একটি ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল ওমর ফারুক চৌধুরীকে। এরপর থেকে ২১ দিন ধরে তার দেখা পাচ্ছেন না নেতা-কর্মীরা। গত বুধবার যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর নেতা-কর্মীদের অনেকে ধারণা করেছিলেন, তিনি সংগঠনের কার্যালয়ে আসবেন। তবে গতকাল প্রেসিডেয়াম বৈঠক উপলক্ষ্যে দিনভর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী অপেক্ষা করেও তার দেখা পাননি। ফোনেও তাকে পাচ্ছেন না তারা। ব্যাংক হিসাব তলব ও অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আসার পর ওমর ফারুক চৌধুরী প্রকাশ্যে আসছেন না। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শহিদ সেরনিয়াবাত, শেখ শামসুল আবেদীন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান, বেলাল হোসাইন, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবি এম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুইয়া মাখন, মোখলেছুজ্জামান হিরু, শেখ আতিয়ার রহমান দিপু।

রোকেয়া হায়দার নারী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা :- সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

ভয়েস অব আমেরিকায় গৌরবময় ৩৭ বছরের জন্য রোকেয়া হায়দারকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ভিওএ ফ্যান ক্লাবস, বাংলাদেশ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, রোকেয়া হায়দার নারী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা। তার কর্মজীবন আমাদের সাহস জোগায়। পুরুষশাসিত এই সমাজে একজন রোকেয়া হায়দার হয়ে ওঠার পেছনে তাকে সাহস, মেধা, সময়, শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। একদিনে রোকেয়া হায়দার হয়ে উঠেননি। এখনো তরুণের মতো কাজ করছেন। তিনি অনন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংবাদ সংগ্রহে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
তিনি শুধু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীই নয়; তিনি একজন সংগঠক, একজন মমতাময়ী সাধারণ মানুষ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রোকেয়া হায়দার বলেন, শুরু থেকেই সঠিক তথ্যের আদর্শ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকা এগিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে সঠিক সংবাদের জন্য ছুটে যায় ভয়েস অব আমেরিকা। মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকে এই গণমাধ্যমটি। শ্রোতাদের বক্তব্য সম্বন্ধে তিনি বলেন, সঠিক খবর শোনার জন্য ভয়েস অব আমেরিকা শুনেন, এটাই আমাদের গর্ব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারের পাবলিক অ্যাফিয়ার্স অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর আরলিসা রেনল্ডস বলেন, রোকেয়া হায়দারের কর্মময় জীবন শুনে গর্ববোধ করছি। তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। এটি চমৎকার বিষয়। ভয়েস অব আমেরিকা সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সাহসের সঙ্গে ভয়েস অব আমেরিকার কাজ করার জন্য প্রশংসা করেন এই কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রোকেয়া হায়দার নারী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা। তার কর্মজীবন আমাদের সাহস জোগায়। পুরুষশাসিত এই সমাজে একজন রোকেয়া হায়দার হয়ে ওঠার পেছনে তাকে সাহস, মেধা, সময়, শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। একদিনে রোকেয়া হায়দার হয়ে উঠেননি। এখনো তরুণের মতো কাজ করছেন। তিনি অনন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংবাদ সংগ্রহে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি শুধু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীই নন; তিনি একজন সংগঠক, একজন মমতাময়ী সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, যশোরের মেয়ে হলেও বাবার কর্মসূত্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কোলকাতায়। সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু। ইডেন কলেজে পড়াশোনা করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে পেশাদার সাংবাদিকতা শুরু করেন। তখন থেকেই ঢাকা বেতার ও টিভিতে নিয়মিত খবর পড়তেন। ১৯৮১ সালে বিশ্ববিখ্যাত ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে যান। সেই থেকে পুরোদস্তুর সাংবাদিক বনে যান। ২০১১ সাল থেকে ভিওএ বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগে তিনিই প্রথম মহিলা। তিনি সাংবাদিকতার কর্মব্যস্ততার মাঝেও বিভিন্ন সমাজসবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। খেলাধুলা পছন্দ করেন। বেশ কয়েকটি অলিম্পিক, বিশ্বকাপ ফুটবলের খবর সরাসরি মাঠ থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছেন। এছাড়া মাদার তেরেসার মতো মহীয়সী নারীসহ অসংখ্য মনীষীর সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। ৩৭ বছরের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য আমেরিকার অত্যন্ত সম্মানের ‘অল স্টার অ্যাওয়ার্ড’ রোকেয়া হায়দারের ঝুড়িতে এসেছে। এছাড়া কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার তিনি পেয়েছেন।
ফ্যান সদস্য ও প্রতিনিধি জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের প্রেস চিফ মো. মাহবুবুর রহমান, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ভিওএ ফ্যান ক্লাবস সদস্য মো. আব্দুল্লাহ, যুবরাজ চৌধুরী, ইব্রাহিম জামান, মনিরুজ্জামান মিলন, জামিল আহমেদ, নাসরিন হুদা বিথি, হালিম সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের গৌরবময় ৬০ বছর অতিক্রম করার জন্য মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সাত স্থানের সাত নিদর্শন

প্রতি বছর বিশ্বের প্রাকৃতিক নিদর্শন ও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে তার গুরুত্বের জন্য বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়।
এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি আজারবাইজানের বাকুতে ৪৩তম বৈঠকে বসেছে।
সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন কোন কোন যায়গাগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হবে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তারা যেসব নতুন নিদর্শন বা স্থানের নাম সংযুক্ত করেছেন তার কয়েকটি ছবি।

আইসল্যান্ডের ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক

আইসল্যান্ডের মোট সীমানার ১৪ শতাংশ জুড়েই রয়েছে এই ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক।
বরফে আচ্ছাদিত এবং আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য সম্বলিত পুরো অঞ্চলটি দারুণ দৃষ্টিনন্দন।
এখানে বিশাল অঞ্চল জুড়ে রয়েছে শুকিয়ে যাওয়া অগ্নুৎপাত।

ফ্রান্সের অস্ট্রাল ভূমি ও সমুদ্র

অনেকগুলো দ্বীপ সম্বলিত এই অঞ্চলটি।
বিশ্বের সবচাইতে বেশি পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে এখানে।
বিরল কিং পেঙ্গুইন দেখতে পাওয়া যাবে এখানে গেলে।

ভারতের জয়পুর নগরী

ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান প্রদেশের রাজধানী জয়পুরকে বলা হয় "গোলাপি নগরী"।
কারণ শহরের ভবনগুলোকে দুর থেকে গোলাপি মনে হয়।
এখানে বহু প্রাচীন ভবন রয়েছে। এমনকি শহরটি প্রথম যখন প্রতিষ্ঠা হয় সেই ১৭২৭ সালের সময়কার ভবনও রয়েছে।
দারুণ সব কারুকার্য দিয়ে সাজানো এসব ভবন।

জাপানের প্রাচীন সমাধি

জাপানের ওসাকা শহরে এরকম ৪৯ টি প্রাচীন সমাধি রয়েছে।
এগুলো তৈরি হয়েছে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী। এই সমাধিগুলোর নানান আকৃতির।
যেমন এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তালার ছিদ্রের মতো আকৃতির সমাধি। এটির নামকরণ করা হয়েছে ২৯০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মানো সম্রাট নিনতোকুর নামে।
এটি জাপানের সর্ববৃহৎ সমাধি ।

ইরাকের ব্যাবিলন

ইরাকের অবস্থিত প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নগরীকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বহুদিন যাবত চেষ্টা চালাচ্ছিল ইরাকের কর্তৃপক্ষ।
দেশটির যুদ্ধ ও সংঘাতময় রাজনীতির কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাবিলন নগরী।
তবে সম্প্রতি এর অতীত গৌরব সংরক্ষণে নানা ধরনের কাজ চলছে।

বাগান, মিয়ানমার

মিয়ানমারের প্রাচীন রাজধানী বাগান।
ছবিতে যেগুলো দেখছেন এগুলো বৌদ্ধ মন্দির। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে এমন হাজার মন্দির আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

লাওসের বয়াম সদৃশ প্রাচীন স্থাপনা

লাওসের ঝিংখাওয়াং অঞ্চলে পাথর দিয়ে তৈরি এরকম হাজার হাজার বয়াম সদৃশ বস্তু রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন এগুলো লৌহ যুগে তৈরি। কেন এগুলো তৈরি করা হয়েছিলো সেটি এখনো অনেক রহস্যময়।
অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করেন এগুলো সম্ভবত মরদেহ সৎকারে ব্যবহৃত হতো।

ব্র্যাক যেভাবে ধনী করেছে বাংলাদেশকে: -দ্য ইকোনমিস্টের রিপোর্ট

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95
বিলাতের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক দ্য ইকোনমিস্ট ব্র্যাকের ওপর একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের সরকার যখন টাকা পয়সা খরচ কম করতে পারতো, মানুষের বেশি অভাব ছিল, তখন স্যার ফজলে হাসান আবেদ  ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চরম দরিদ্রদের উপরে তুলতে সফল হন। কারণ, বহু ক্ষেত্রে সরকার অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ব্র্যাকের মতো সংস্থাগুলো যা করতো সেটা করতে এখন রাষ্ট্র এগিয়ে আসছে। তাই ব্র্যাক ভবিষ্যতে কি করবে, সেটা একটা চ্যালেঞ্জ বয়ে এনেছে। সেকারণে তার উন্নয়ন কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনটি শুরু এভাবে:  নয় বছর আগে সেলিনা আক্তারের দুঃখে গড়া জীবন ছিল। জীবন নিয়ে তিনি আফসোস করতেন। পশ্চিম ঢাকার একটি গ্রাম চরমতো। সেখানেই তিনি তার স্বামীকে নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু ভালো কাজ পেতেন না। অল্প টাকার বিনিময়ে ফুটফরমাশ খাটা ছাড়া তার আর কোনো গতি ছিল না। তিনি প্রেম করে বিয়ে করেন। তার পরিবার সেটা ভালোভাবে নেয়নি। এমনকি তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তারা। এই দম্পতির জীবন কাটতো দারিদ্র্যসীমার নিচে। চরম দারিদ্র্যতার মানে হলো, তাদের নিজেদের খাবারই যোগাড় করতে কষ্ট হতো। একদিন সেলিনা ব্র্যাক কর্মীদের নজরে পড়লেন। ব্র্যাক বাংলাদেশের এমন একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যা অসাধারণ।

গ্রামাঞ্চলে এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে গোলাপি এবং শাদা রঙ আপনার চোখে পড়বে। ব্র্যাক তাকে কাজের আমন্ত্রণ জানালো। আর সেই আমন্ত্রণ নাকচ করা তার পক্ষে কঠিন ছিল। বলা হল, তোমাকে একটা গরু দেয়া হবে। আর পশু পালন কিভাবে করতে হয় সে বিষয় তোমাকে শেখাতে পরিদর্শক দল প্রতি সপ্তাহে একবার তোমার কাছে আসবে। তোমাকে বোঝানো হবে কি করে টাকা বাঁচাতে হয়। আর বাল্যবিবাহের অভিশাপ কি। যখন সে নিশ্চয়তা পেলেন যে তার ভালো খাবার জুটবে, ব্র্যাক থেকে কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং কিছু নগদ টাকা বৃত্তি পাবে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের মানের আলোকে বলা যায়, সেলিনা আর দরিদ্র ছিলেন না। তার  দুটি গরু, তারা একটি বৈদ্যুতিক পাখার নিচে থাকে। সেলিনাদের বসবাস ভালো। ইতিমধ্যে তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। সেলিনা টাকা জমাতে পারছেন। স্বামীর জন্য কিনে দিতে পেরেছেন একটা অটোরিকশা। তার যাত্রীর অভাব নেই। এলাকায় সরকার ভালো সড়ক নির্মাণ করেছে। ঢাকা সেদিকটায় প্রসারিত হচ্ছে। সেলিনার জীবনের গল্প ব্র্যাকের প্রতি শ্রদ্ধার গল্প।  সেলিনা অবশ্য ইঙ্গিত দিলেন, কেন এখন এই বিরাট ব্যাপক দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে একটু সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ একজন হিসাবরক্ষক। তিনি ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। কারণ, সেই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি  ভালো ছিল না। তা দেখে তিনি বিচলিত হয়েছিলেন। বছরের পর বছর ধরে এই চার অক্ষরের প্রতিষ্ঠানটি বহু কিছু স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। আগে এই প্রতিষ্ঠানটিকে বহু ক্ষেত্রে থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। কিন্তু আজ কিছুর জন্যই তাকে থামতে হচ্ছে না। এটি ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, একটি দরিদ্র দেশ থেকে, যারা নিচ থেকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। ব্র্যাকের এখন প্রায় ১ লাখ পূর্ণকালীন কর্মী। এর মধ্যে ৮০০০ কাজ করেন দেশের বাইরে। ২০১৮ সালে ব্র্যাক ঋণ দিয়েছিল প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে। ১০ লাখের বেশি শিশুকে তারা দিয়েছে শিক্ষা। বাংলাদেশ এবং আরো দশটি দেশের মানুষ এর আওতায় রয়েছে। এই সংস্থাটির হাতে রয়েছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি ব্যাংক, একটি বীজ কোম্পানি, একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্সেমিনেশন আউটফিট, একটি মুরগির প্রতিষ্ঠান, একটি ড্রাইভিং স্কুল এবং অন্যান্যের মধ্যে ২১টি ফ্যাশন বাটিকের একটি চেইন।

ব্র্যাক একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দাতব্য প্রতিষ্ঠান। তার করপোরেট সংস্কৃতিকে একটা পুরোনো জমানার ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের সঙ্গে তুলনা করা চলে। ব্র্যাকে যারা কাজ করেন তারা বুদ্ধিজীবী ঘরানার নন, তারা সংকটের সমাধানকারী। তারা ভালো যোগাযোগ করতে পারেন। তৃণমূলের কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য এবং সমালোচনার ভিত্তিতে তাদের কর্মসূচিকে অব্যাহতভাবে পরিবর্তন আনতে পারেন। তাদের কিছু উদ্ভাবনী বিষয় রয়েছে, যা ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। দারিদ্র বিরোধী কর্মসূচি তারা সৃষ্টি করেছে, যেখানে সব থেকে অভাবগ্রস্তদের হাতে সম্পদ তুলে দেয়ার বিষয় রয়েছে। নারীকে প্রশিক্ষণ তার অন্যতম। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তাকেই অনুসরণ করে। ইথিওপিয়া এই প্রতিষ্ঠানকেই নকল করেছে।

কিন্তু ব্র্যাক এখন সমস্যায় পড়েছে।  সে সমাধান তার হাতে নাও থাকতে পারে। এজন্য অবশ্য রেমিটেন্স এবং গার্মেন্ট শিল্প অনেকটা দায়ী। গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের উপরে। গড়ে প্রতি বছরে এটাই নিশ্চিত হয়েছে। আর এটা ভারত বা পাকিস্তান থেকে উন্নত। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই একটা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আর তারা শিগগিরই এতটা ধনী দেশে উন্নত হবে, যা কিনা তাদেরকে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য করে তুলবে। বাংলাদেশ কখনো বৈদেশিক সাহায্যে ভেসে যায়নি। কারণ কৌশলগতভাবে বৈদেশিক সাহায্য তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশটি অত্যন্ত জনবহুল। ক্ষুদ্র দেশগুলোতে মাথাপিছু বৈদেশিক সাহায্য স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি। গত শতাব্দীর আশির দশকের গোড়া থেকে এবং ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময় বাংলাদেশকে দেয়া সামগ্রিক বৈদেশিক সাহায্য যা ছিল বাংলাদেশের জিএনআই-এর ৫ শতাংশের বেশি, সেটা থেকে এখন শুধুই এক দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পরবর্তী বছরে ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা। এর ফলে জিএনআইর অনুপাতে বৈদেশিক সাহায্য বেড়ে দাঁড়ায় ১.৪% কিন্তু সম্ভবত নিম্নমুখী ধারাই চলমান থাকবে। কারণ, এই সাহায্যের একক বৃহত্তম উৎস ব্র্যাক, যার সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও বৃটেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, তার ইতি ঘটবে ২০২১ সালে। এদিকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রের তহবিলে অনেক অর্থ জমা হয়ে আছে। ২০০০ সাল এবং ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সরকারের বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটা বয়ে এনেছে ব্রাকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

সরকারগুলো তার দুর্বলতার কারণে ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এটাই দেখিয়েছে, সরকারি সেবা খাতসমূহ জনগণের পাশে দাঁড়াতে অসমর্থ। আর এই অক্ষমতার কারণে তারা অন্যদের এগিয়ে আসতে সুযোগ দিয়েছিল। এরকম একটি শূন্যতায় ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস পরীক্ষামূলকভাবে নারীদের হাতে ক্ষুদ্র অর্থ তুলে দিয়েছিলেন। প্রফেসর ইউনূস ক্ষুদ্র ঋণের সংগঠন গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি করেছিলেন। আর এই সময়ে যদিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজিটাল শিক্ষা, শর্তসাপেক্ষ অর্থ স্থানান্তর এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে সরকার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যেহেতু সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হচ্ছে এবং  সরকার একটি নতুন সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে, তাই দেশটির দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেছেন, অধিকাংশ এনজিও নিজেদের গুটিয়ে আনছে।  কারণ, তারা সম্ভবত এক পাশে হারিয়ে যাবে। ভিক্টোরিয়া এবং এডওয়ার্ড যুগের বৃটেনের বৃহত্তম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ছিল। ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল চার্চের সঙ্গে। যারা পরিচালনা করত স্কুল-হাসপাতাল এবং দরিদ্রের জন্য তৈরি করে দিত পারত উত্তম প্রকল্প। আজো তাদের কিছু অংশ রয়ে গেছে রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সৃষ্টি হওয়ার পরেও। কিন্তু তিনি মনে করেন ব্র্যাকের পক্ষে সে ধরনের একটি ভবিতব্য এড়ানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশে যদি বিদেশি অর্থ সাহায্য না আসে, তখন হয়তো যেখানে অর্থ সাহায্য দরকার হতো সেখানে পৌঁছে যেতে পারত ব্র্যাক। ২০০২ সালে ব্র্যাক প্রথমবারের মতো পৌঁছে গিয়েছিল আফগানিস্তানে। এখন এশিয়ার পাঁচটি এবং আফ্রিকার ৬টি দেশে তাদের অবস্থান রয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু কর্মসূচি রয়েছে, যা উন্নত করা হয়েছিল বাংলাদেশেই। সেলিনা আক্তারের মতো মানুষের ওপর যা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, সেই একই সফল মডেল বিদেশেও ভালো কাজ দিয়েছে। সমপ্রতি বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানে চরম দারিদ্র কর্মসূচির উপর একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে ওই কর্মসূচি উন্নয়নের পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উগান্ডায় স্কুল সম্পন্ন হওয়া পরবর্তী ক্লাবগুলো কিশোরীদের গর্ভপাত নিরুৎসাহিত করেছে এবং মেয়েদের কর্মমুখী করে তুলতে উৎসাহিত করেছে।

গাজীপুর জেলা রাজধানী ঢাকার উত্তরে অবস্থিত। ব্র্যাকের একটি স্কুলে ৩০ জন শিশু গান গাইছে। তাদের মুখে ওই সব দেশের নাম, যারা ফুটবল ভালো খেলে। এই স্কুলগুলো বিনামূল্যে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা মাসে ৩৫০ টাকা চার্জ করছে। স্কুল শিক্ষিকা আক্তার বললেন এই টাকা আরোপ করার কারণে সুফল মিলেছে। এর আগে দেখা গেছে বাচ্চারা যখন খুশি আসতো, আবার স্কুলে আসতো না। কিন্তু টাকা ধার্য করার পর অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত করছে।

ব্র্যাক থেকে স্কুল: ২০১৬ থেকে ব্র্যাক প্রায় আট হাজার ৭০০ প্রাথমিক স্কুল তৈরি করেছে কিংবা এগুলোকে স্কুলে রূপান্তর করেছে। এগুলোর বেশিরভাগই এক কক্ষবিশিষ্ট ছিল। শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বললেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যাক স্কুল বিনামূল্যে চলেছে। কিছু পিতামাতা ভাবতেন শিক্ষকরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এখন তারা স্কুলের ফি পরিশোধ করছেন এবং আশা করছেন স্কুলে টেবিল চেয়ার এবং বৈদ্যুতিক পাখা থাকবে। এমনকি তারা এখন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক আশা করছেন। এর আগে সাধারণত স্থানীয় মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষকতা করিয়েছে। শফিকুল ইসলাম বললেন, বাচ্চা মানুষ করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু সেটা পূরণ করা ব্যয়বহুল। যেসব স্কুল এখন ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছে তার ফল দাঁড়িয়েছে এই যে, স্কুলগুলো পরিচালনায় মোট যা খরচ হচ্ছে, এখনো তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ উঠে আসছে।

দ্য ইকোনমিস্টের রিপোর্ট বলেছে, এই ফির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। গত জানুয়ারিতে সংস্থাটি ব্র্যাক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছে গাজীপুরে। সাধারণ স্কুলে পড়তে হলে যে খরচ দিতে হয় ব্র্যাকের একাডেমিতে পড়তে হলে তার চেয়ে খরচ তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। যদি দেখা যায় এটা জনপ্রিয় হচ্ছে, তাহলে ব্র্যাকের শাখা অন্যত্র বাড়ানো হবে। ব্র্যাক মেডিকেল ক্লিনিকগুলোতে অল্প হলেও ধার্য করেছে ফি। বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাগজপত্র পরীক্ষা করার ক্ষেত্রেও তারা ধার্য করেছে ফি। ব্র্যাক বহু ক্ষেত্রে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ১৯৮৫ সালে প্রাক-প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা। বাংলাদেশ সরকার সেটা অনুসরণ করেছে ২০১২ সালে। এটা শিখেছে যে কি করে গ্রামে গিয়ে সব থেকে দরিদ্রতম মানুষের কাছে পৌঁছা যায়। এটা কল্পনা করার চেয়ে বাস্তবে খুব কঠিন। মিস্টার সালেহ বলেছেন, কেনিয়া সরকার সমপ্রতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে। আর সেটা করতে গিয়ে তারা যাতে সঠিক লোক বাছাই করতে পারে, সেই সহায়তা জন্য তারা ব্র্যাকের শরণাপন্ন হয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশ সরকারও ব্র্যাকের কাছে সাহায্য চাইতে পারে। পত্রিকাটি উপসংহার টেনেছে এই বলে, বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া একটি ‘ট্রিকি বিজনেস’। এমনকি বাংলাদেশি রাজনীতিকরা নির্দয়, প্রতিশোধপরায়ণ। ২০০৭ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হওয়ার পর পরই ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। চার বছর বাদে রাজনৈতিক শোধ নিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের নেতার আসন থেকে তাকে অপসারিত করা হয়।

ব্র্যাকের পথচলাও কঠিন। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তার জন্য যে চ্যালেঞ্জ বয়ে এনেছে, সেটা সে স্বীকার করে নিয়েছে। এবং এখন থেকে তার পরিবর্তিত গন্তব্য কি হবে, তাও তারা চিহ্নিত করছে। তারা যেখানেই যাক, অন্যান্য বৃহৎ দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাকেই অনুসরণ করতে বাধ্য হবে।