Saturday, February 6, 2010

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম মানবজাতিকে কল্যাণকর পথের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। সঠিক পথ অনুসরণ করতে পারলে নিশ্চিত হয় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন। এ জন্য বিদ্যাশিক্ষা মানুষের একান্ত আবশ্যক বিষয়। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে ইসলামের সার্থকতা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। তাই বিজ্ঞজনেরা শিক্ষাহীন মানুষকে অন্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যারা স্বাভাবিক জ্ঞানকে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সম্প্রসারিত করে প্রতিটি বিষয়ের তাত্পর্য বোঝার, নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টায় লিপ্ত, তারা কখনোই অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিতদের সমান হতে পারে না। জগতে ভালো-মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করার ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা মুসলমানদের অনুসৃত প্রধান ঐশী ধর্মগ্রন্থের প্রারম্ভিক বাণীতেই পড়ার তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত পাঁচটি আয়াতের চারটি আয়াতই পড়াশোনা শিক্ষাবিষয়ক। ইরশাদ হয়েছে, ‘পাঠ কর! তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ কর! আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সূরা আল-আলাক, আয়াত-১-৫)
মানুষের যাবতীয় শিক্ষার মূল উত্স স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। সৃষ্টিজগত্ ও সৌরজগতের সবকিছুর বিবরণ বই-পুস্তকেই লিপিবদ্ধ। এ বই হলো বিশ্বমানবের জন্য একটি মানচিত্র সাদৃশ্য। বই পড়ে সৃষ্টিজগতের সব রহস্য এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলির পরিচয় জানা যায়। পৃথিবীর সব জ্ঞানের ভান্ডার হলো বই। এতে রয়েছে মানবজাতির ইতিকথা ও জ্ঞানের পথপ্রদর্শন। বই মানবজীবনের এক পরম হিতৈষী বন্ধু এবং জীবনসঙ্গী। বই ধর্মভীরু মানুষকে সত্পথ দেখায়, জীবনকে উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছে দেয়।
পৃথিবীর উন্নতি সাধনে, আধুনিক জগতের প্রচার-প্রসারে এবং মানুষের মরণব্যাধির প্রতিরোধে, জীবনদানের ব্যাপারে ওষুধপত্রাদি আবিষ্কারের বাহন হচ্ছে মহামূল্যবান বই। দুনিয়ায় যারা মরেও অমর হয়ে আছেন, সেসব মহামানব, ধর্মীয় নেতা, জ্ঞানী-গুণীজন, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বৈজ্ঞানিক—সবাইকে এ বইয়ের মাধ্যমে আয়নাস্বরূপ দেখা যায়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা মানুষকে মহত্প্রাণ করে তোলে, চিত্তকে মুক্তি দেয় এবং মানবাত্মাকে জীবনবোধে বিকশিত করে। বিভিন্ন বিষয়ে সুশৃঙ্খল ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানার্জন এবং পরিপূর্ণ মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে হলে অবশ্যই বই পড়া দরকার। আবার প্রকৃত জ্ঞানের স্ব্বাভাবিক বিকাশ সাধনের জন্যও বই পড়া একান্ত প্রয়োজন। একজন পাঠক নিজস্ব পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী বই নির্বাচন করে অগাধ জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন। একদিকে স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন; অপর দিকে বিদ্যার্জনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল-কোরআনের শিক্ষার আলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘বিদ্যা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ (বায়হাকি)
জ্ঞানের বদৌলতে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মানুষকে শুধু সুস্থ-সবল শরীর ধারণ করলেই চলে না; দেহের সঙ্গে মানব মনের বিকাশ প্রয়োজন। দেহ রক্ষা করা যেমন অবশ্যকর্তব্য, তেমনি মানুষের আত্মাকেও বাঁচিয়ে রাখা অত্যাবশ্যকীয়। মনকে সজাগ-সবল রাখতে না পারলে মুসলমান জাতি যথার্থ প্রাণশক্তি লাভ করতে পারে না। তাই প্রভূত বিদ্যার্জনের জন্য মানুষকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা তথা সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করতে হয়। অনুকূল পরিবেশে ব্যাপকভাবে বই পড়ে অধীত জ্ঞান দ্বারা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ খুব সহজেই তার মনোরাজ্যের আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। সৃষ্টি জগতে মানবজাতিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদানের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা ‘শিক্ষা’-সংক্রান্ত বিষয়টি ব্যবহার করেছেন, ‘বলো! যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত-৯)
মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান, ধর্ম-দর্শন, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন—সবকিছুর সমন্ব্বয়েই বিভিন্ন সাহিত্যের জন্ম। বই পড়া ছাড়া শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার অন্য কোনো উপায় নেই। বই পড়ার নির্মল আনন্দ মানুষের মনে পুষ্টি জোগায়, তার ভেতরকার সুকুমার বৃত্তিগুলোকে প্রস্ফুটিত করে তোলে। মানুষের জন্য অকল্যাণকর বিষয় বর্জনের জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে একাধিবার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সেই শিক্ষাই মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক, যা তাদের প্রকৃত সত্যের আলো দেখায়, সরল সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং মানবতার কল্যাণ সাধন করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি আমলের সওয়াব জারি থাকে। ১. সাদকায়ে জারিয়া, ২. এমন বিদ্যা, যা থেকে লাভবান হওয়া যায় এবং ৩. সুসন্তান যে তার জন্য দোআ করে।’ (মুসলিম)
জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা শিক্ষার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। যে জাতি মনের দিক দিয়ে বড় নয়, সেই জাতি জ্ঞানেও বড় নয়। সাহিত্য চর্চা ছাড়া কোনো ধর্মপ্রাণ জাতির সুস্থ মানসিকতা ও কল্যাণকর মনোভাব গড়ে উঠতে পারে না। তাই আদর্শ শিক্ষকসমাজ ছাত্রদের মনে জ্ঞানের কৌতূহল সৃষ্টি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজ্ঞাকে সদাজাগ্রত রাখতে পারেন, তার আত্মাকে উদ্বোধিত করে জ্ঞান পিপাসায় উন্মত্ত করতে পারেন; একে নিবৃত্ত করতে হলে পাঠ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। মানুষের মনে আনন্দ সঞ্চার করার জন্য সুশীল সাহিত্যের অনুশীলন প্রয়োজন। খুশি ও আনন্দে মানুষের আত্মা সতেজ হয়, জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। আসমানি কিতাব বা ঐশীগ্রন্থের মাধ্যমে যেভাবে মানবজাতি আল্লাহর পরিচয় ও দিকনির্দেশনা পায়, প্রয়োজনে মানুষ পার্থিব বইয়েও জাগতিক বিভিন্ন বৈষয়িক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার বাংলা একাডেমীতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলাসহ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র কোরআন, হাদিসসহ ইসলামি বই ক্রয়-বিক্রয়ের মনোরম দোকান বসে। লেখক ও প্রকাশকেরা প্রতিবছর নিত্যনতুন জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল বই প্রকাশের মাধ্যমে গ্রন্থভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছেন। একটি আলোকিত সুশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে পাঠ্যাভ্যাস বাড়ানোর আন্দোলন গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয়। দেশের জাতীয় পত্রপত্রিকা, বেতার-টিভি চ্যানেলসহ সব মিডিয়ায় অমর একুশের ভাষাশহীদদের সুমহান আত্মত্যাগের স্মরণে বই কেনা-পড়া ও সংগ্রহ করার উত্সাহ প্রদানের ব্যাপক প্রচারাভিযানের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাই আসুন, প্রাত্যহিক জীবনে অযথা খরচ বা অহেতুক অর্থ অপচয় বর্জন করে গ্রন্থমেলা থেকে নিজেদের পছন্দমতো বই-পুস্তক ক্রয় করি; দেশের নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবক, শিশু-কিশোরদের বই কেনা ও সংগ্রহের জন্য উত্সাহিত করি, যাতে সব বাংলা ভাষাভাষী কোটি কোটি জনগোষ্ঠীর বই পড়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। জীবন সদস্য, বাংলা একাডেমী।
dr.munimkhan@yahoo.com

নোট-গাইড বিক্রির কাজে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

সরকারিভাবে নোট-গাইড বিক্রি ও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি নিষিদ্ধ করা হলেও ভোলায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে। পাঠ্যবইগুলো মানসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ভুলে ভরা নোট-গাইড কিনতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ সংবাদটি এ বিষয়ে সরকারের নজরদারির অভাবকে নির্দেশ করে।
নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর কিছুদিন তল্লাশি চালানো হলেও এখন আর তা চালানো হচ্ছে না। এসব বই প্রকাশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে তদারকিতে যে ঘাটতি রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট। প্রকাশক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষকদের যোগসাজশে এখন ব্যাপকভাবে ফিরে আসতে শুরু করেছে নোট-গাইডের ব্যবহার। ভোলায় তাই প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন। শুধু ভোলায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কমবেশি একই ধরনের চিত্র দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষকেরা নোট-গাইড পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অন্য বছর অর্থের বিনিময়ে এ কাজটি শিক্ষক সমিতি করলেও এবার বিদ্যালয়ের প্রধানেরাই এ কাজ করছেন। তবে সমিতিকেও চাঁদার একটি অংশ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নোট-গাইড ব্যবহারের যুক্তি হিসেবে প্রায়ই বলা হয়, বোর্ড থেকে যে বই দেওয়া হয়েছে, তা আয়ত্ত করার জন্য মেধাবী ছাত্র এবং পাঠদানের জন্য মেধাসম্পন্ন শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সরকারের মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু তল্লাশি করার মাধ্যমে নোট-গাইড বইয়ের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। বাজারে এসব বই থাকলে তার ব্যবহার বন্ধ করা কঠিন। এ কারণে বাজারে এসব বইয়ের সরবরাহ যেন ঠেকানো যায়, সেদিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু

বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে শিশুদের একটি স্কুলের সামনের সড়কে বাসচাপা পড়ে ছয় বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী হামিম শেখের মৃত্যু ও তার মায়ের আহত হওয়ার ঘটনা এক কথায় হূদয়বিদারক। হামিম ছিল মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তার মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের শোকের তীব্রতা-গভীরতা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। হামিমের খেলার ও পড়ার সাথিদের, তার শিক্ষকদের বেদনাও গভীর। তাঁদের সমবেদনা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
রাজধানীর ভেতরে বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটে, কিন্তু এসবের তেমন কোনো প্রতিকার হয় না। ফলে দুর্ঘটনার মাত্রা কমার লক্ষণ নেই, বরং মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বেড়ে চলেছে। কিন্তু এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। অন্তত শিশুদের বিদ্যালয়গুলোর কাছাকাছি সড়কগুলো তাদের জন্য নিরাপদ করা একান্ত জরুরি। কিন্তু সেই কাজ করা খুব সহজ নয়। বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রথমত, মহানগরের ভেতরে যানবাহন চালকদের, বিশেষত ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের বাসগুলোর চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। বুধবারের দুর্ঘটনার হোতা বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়া মারাত্মক। ওই চালক বলেছেন, রাস্তাঘাটে এমন দুর্ঘটনা হতেই পারে। পুলিশের হেফাজতে চালকটি এই ভেবে নিশ্চিন্ত যে বাসটির মালিক যখন তাঁর আটক হওয়ার খবর জানতে পারবেন, তখনই ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন। এই যদি হয় একজন বাসচালকের মানসিকতা, তাহলে তাঁর হাতে আরও কত মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। পুলিশ সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ভুয়া হতে পারে। এটিও আরেক দিক: পুলিশ তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে নিশ্চিত বলতে পারছে না, সেটি আসল না ভুয়া। আর ভুয়াই যদি হয়, তাহলে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স কোথায় পাওয়া যায়? কারা তা সরবরাহ করে? এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী? ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া ও তার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান করা উচিত। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে গাড়িচালকের সর্বোচ্চ শাস্তি ছয় বছর কারাদণ্ড। এই দণ্ড যথেষ্ট কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে মনে হয়।
দ্বিতীয়ত, বুধবারের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে যখন হামিম তার মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিল। কিন্তু কাকরাইলের ওই জায়গায় একটু দূরেই একটি উড়ালসেতু আছে। হামিমের মা যদি একটু কষ্ট করে সন্তানকে নিয়ে উড়ালসেতু দিয়ে রাস্তাটি পার হতেন, তাহলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। কিন্তু ওই উড়ালসেতু কেউ ব্যবহার করে না। সবাই হেঁটে, দৌড়ে রাস্তা পার হয়। এটা বিপদের কথা বটে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অনেক উড়ালসেতু আর কিছু আন্ডারপাস আছে, কিন্তু সেগুলোর ব্যবহার কম। আশপাশে উড়ালসেতু থাকা সত্ত্বেও মানুষ অতি ব্যস্ত রাস্তাও হেঁটে পার হতে চায়। এ অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। অবশ্য সে জন্য উড়ালসেতুগুলোকে সহজে ব্যবহারযোগ্য করা দরকার। অনেকে আন্ডারপাস ও উড়ালসেতু এড়িয়ে চলে ছিনতাইকারীর ভয়ে। অনেক সময় সেগুলো থাকে অন্ধকার বা নোংরা, ছিন্নমূল মানুষ, নেশাখোরদের দখলে। এসব পরিষ্কার করে উড়ালসেতু ও আন্ডারপাসগুলোকে সুগম করতে হবে। সবাইকে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে উ. কোরিয়াকে বাইরে রেখেছেন ওবামা

মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্যের আহ্বান সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০০৮ সালে পরমাণু কর্মসূচির পরিধি প্রকাশ করায় ওই তালিকা থেকে পিয়ংইয়ংকে বাদ দেয় তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সমাজতান্ত্রিক দেশটি পরমাণু বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস সদস্যরা ওই দাবি তোলেন।
গত বুধবার ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে ওবামা বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন যোগাচ্ছে এমন দেশগুলোর তালিকায় আবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্তপূরণ করছে না উত্তর কোরিয়া।’ গত বছরের জুলাইয়ে মার্কিন সিনেট একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। ওই প্রস্তাবে পিয়ংইয়ংকে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার তথা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের ওই তালিকায় এখন রয়েছে ইরান, কিউবা, সুদান ও সিরিয়া।
কট্টরপন্থী রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলীয় কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের আশঙ্কা ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি হয়ে আছে এমন দেশগুলোতে সামরিক প্রযুক্তি পাচার করছে উত্তর কোরিয়া।

মতপার্থক্য ভুলে তামিলদের একত্রে কাজ করার আহ্বান রাজাপক্ষের

সব ধরনের মতপার্থক্য ভুলে শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠীকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তবে তামিলদের স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির ৬২তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপির।
গত সপ্তাহে দ্বিতীয় বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেন, অনেক তামিল জনগোষ্ঠী তার সিংহলি সরকার নিয়ে সন্দিহান থাকলেও তিনি দুই কোটি বিভক্ত তামিল জনগোষ্ঠীর মধ্যে একতা আনতে চান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংহতি আনার কাজ আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে করতে চাই। এটা প্রয়োজনীয়। সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে আস্থা নির্মাণ করতে চাই আমরা।’
প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাতি, ধর্ম, ভাষা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে তৈরি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ভেদাভেদ চাই না। এই দেশে কেউই সংখ্যালঘু নয়। যারাই দেশকে ভালোবাসে তারা শ্রীলঙ্কা মায়ের সন্তান।’
মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেন, জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে লোকদের বিপথগামী বা রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া উচিত নয় তামিল নেতাদের। তামিল ভাষায় তিনি বলেন, ‘আসুন আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করি।’
রাজাপক্ষে তামিলদের সঙ্গে সরকারের সংহতির আহ্বান জানালেও তাদের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন। তিনি বলেন, অবশ্যই প্রত্যেকে সমান সুবিধা পাবে, আপনারা যাকে সমতা ও সমান অধিকার বলেন।
রাজাপক্ষে বলেন, গত বছর সরকারি বাহিনীর হাতে বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের পরাজয়ের পর এই প্রথমবারের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের বড় ধরনের তাত্পর্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ৬২ বছর আগে আমরা মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু এটা এখন অনেক অর্থপূর্ণ। কারণ আমরা চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
শ্রীলঙ্কার ৬২ বছর স্বাধীনতা বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রীয় কেন্ডি শহরে। এবারের কুচকাওয়াজে সামরিক বাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্রের খুব বেশি মহড়া ছিল না। চার শতাব্দীর বেশি সময় ধরে পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশদের শোষণের পর ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ফিরে পায় শ্রীলঙ্কা।

শান্তি আলোচনায় বসতে পারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, শিগগিরই তারা শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। তবে ওই আলোচনা হবে পরোক্ষভাবে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার ফিলিস্তিনের হামাসের নেতারা বলেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
ইসরায়েলও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তারা মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে শান্তি আলোচনায় বসতে পারে। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সদস্য গিলাদ এরদান বার্তা সংস্থাকে এ কথা বলেন।
গাজার ক্ষমতাসীন হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের সঙ্গে ওই আলোচনা হতে পারে।
ফাতাহ অনুসারীদের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী রাজপথের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ২০০৭ সালের জুন মাসে গাজার দখল নেয় হামাস। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সরাসরি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি হয় না।
এক বছর বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ফের শান্তি আলোচনা শুরু করবে কি না—এমন প্রশ্নে ইসরায়েলি মন্ত্রী গিলাদ এরদান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, কখনো কখনো কোনো কাজ করতে দুজনের বেশি মানুষের প্রয়োজন পড়ে। কখনো কখনো পরস্পরের কাছাকাছি আসতে তৃতীয় পক্ষের দরকার পড়ে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এরদানের মন্তব্যের ব্যাপারে কিছু বলেনি। এরই মধ্যে ফাতাহর শীর্ষস্থানীয় নেতা নাবিল শাথ বুধবার এক বিরল সফরে গাজা যান। ফাতাহ-হামাস বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই দিন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।

হাইতিতে মৃতের সংখ্যা দুই লাখে দাঁড়িয়েছে

হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দুই লাখে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ-ম্যাক্স বিল্লেরিভ গত বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট খারাপ হওয়ার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। ফলে ত্রাণ না পেয়ে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ-ম্যাক্স বলেন, গত ১২ জানুয়ারি সাত মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় তিন লাখ মানুষ আহত হয়েছে। বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে অন্তত আড়াই লাখ। এর মধ্যে কমপক্ষে চার হাজার আহত ব্যক্তির অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট এ দেশটির এই ক্ষতি কীভাবে পোষানো যাবে তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। এ জন্য তিনি দেশে একটি ‘জরুরি সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যারা বর্তমান সংকটের বিষয়টি সার্বিকভাবে তুলে ধরতে পারবে।
হাইতিতে ব্যাপক বিদেশি সাহায্য এলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে তা বিতরণ করা যাচ্ছে না। এমনকি পানি ও খাদ্যের অভাবে দুর্গত লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গত বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হাইতিতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের সমন্বয়ে ‘নেতৃত্বের ভূমিকা’ পালনে সম্মত হয়েছেন।
বান সাংবাদিকদের বলেন, গত মে মাস থেকে হাইতিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োজিত ক্লিনটন দেশটিতে দ্রুত দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন কাজের জন্য কৌশলগত দিক-নির্দেশনা দেবেন। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থন ও দাতাদের অর্থসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।
বান আরও বলেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান হেলেন ক্লার্ক এবং হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এডমন্ড মুলেটও সেখানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন।

মার্কিন সেনাসদস্য হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত পাকিস্তানি নারী বিজ্ঞানী by ইব্রাহীম চৌধুরী

মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যাচেষ্টার দায়ে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীকে (৩৭) দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ১৪ দিনের বিচার-পর্ব শেষে জুরি বোর্ড গত বুধবার তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
চাঞ্চল্যকর ওই মামলার রায়ে বলা হয়েছে, আফিয়া সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আগামী মে মাসে মামলার রায় ঘোষণা করবেন বিচারক। আফিয়া সিদ্দিকীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ আফিয়া সিদ্দিকী চিত্কার করে বলেন, বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল থেকে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নয়।
বিখ্যাত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন আফিয়া সিদ্দিকী। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনে। মার্কিন গণমাধ্যমে তাঁর নাম ‘নারী আল-কায়েদা’ হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় ২০০৮ সালের জুলাইয়ে আফগান পুলিশ আফিয়া সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তাঁর কাছে রাসায়নিক বোমা তৈরির উপকরণ ও জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। আল-কায়েদার নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
মার্কিন সরকারি কৌঁসুলিরা বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক অবস্থায় সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালান আফিয়া সিদ্দিকী। রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। ওই সময় সেনাসদস্যদের পাল্টা গুলিতে তিনি আহত হন।
আফিয়া সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার ও বিচার নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে পরস্পরবিরোধী নানা খবর প্রচারিত হতে থাকে। ২০০৪ সালে তত্কালীন এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুলার আফিয়া সিদ্দিকীকে আল-কায়েদার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
আফিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল মহল এবং তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, ২০০৪ সালে তাঁকে পাকিস্তান থেকে অপহরণ করা হয়। আফিয়া সিদ্দিকী আদালতে বলেন, মার্কিন বাহিনী বন্দুকের মুখে তাঁকে পাকিস্তান থেকে অপহরণ করেছে। আটক অবস্থায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বন্দুক ছিনতাই ও মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আদালতে আফিয়া সিদ্দিকী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ডাহা মিথ্যা এবং বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে।
প্রথম দিকে আদালতে হাজির হতে অস্বীকার করেন আফিয়া সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না, যেখানে মিথ্যার জয়-জয়কার, ওই ধরনের বিচারে তাঁর কোনো উত্সাহ নেই।
সরকার আফিয়া সিদ্দিকীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় তিনি আইনজীবীদের সহযোগিতা করেননি। বিচার চলাকালীন সময়ে আফিয়া সিদ্দিকীকে প্রতিদিনই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির করা হতো। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি-না, এ সম্পর্কে আফিয়ার আইনজীবীরা তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু বলেননি।
আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানে আন্দোলন হচ্ছে। গতকালও সেখানে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশে আফিয়ার আট বছরের ছেলে মায়ের মুক্তির দাবি করেছে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতে উপস্থিত পাকিস্তানি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আফিয়া বলেন, ‘আমি চাই না, আদালতের এ রায় নিয়ে পাকিস্তানে কোনো সহিংস আন্দোলন হোক। আমার বার্তাটি আমি সবাইকে জানাতে চাই।’

চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সংলাপ by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

চলতি মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সংলাপ। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফরের পর ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ এবং মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে পাকিস্তানের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। ভারতীয় সরকারের সূত্রগুলো এসব কথা জানায়।
আট জাতির দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সফরে যাবেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। ২৬-২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও চিদাম্বরমের ইসলামাবাদ সফরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক রাজীব মাথুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমের সফরসঙ্গী হিসেবে ইসলামাবাদ যেতে পারেন। গত সোমবার ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি যদি ইসলামাবাদ সফরে যান, তাহলে সার্ক বৈঠকের পাশাপাশি পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় মন্ত্রী পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত করে ভারত। দুই দেশের সম্পর্ক নেমে আসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
সূত্র জানায়, ভারতীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমের পাকিস্তান সফর সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হতে পারেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গত মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তান নতুন দফায় বৈঠকে মিলিত হতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনার দরজা কখনোই বন্ধ ছিল না। যদিও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, বর্তমান পর্যায়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় ভারতবিরোধী জঙ্গিদের নির্মূলে পাকিস্তানের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
গত মঙ্গলবার এস এম কৃষ্ণা বলেন, ভারতের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানকে আবারও তদন্ত করতে হবে এবং মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বিত সংলাপ শুরুর সম্ভাবনা-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিষয়টি হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের মূল বিষয়বস্তু এবং মূল বিষয়বস্তু হিসেবে এটা বহাল থাকবে।
গত বুধবার কুয়েতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এস এম কৃষ্ণা এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয়াদিল্লি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ভারতের সঙ্গে সমন্বিত সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করবে ইরাক

ইরাকে ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম (ডিইউ) বোমা ব্যবহার করায় ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করবে সে দেশের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের মানবাধিকারমন্ত্রী ভিজদান মিখাইল সলিম স্থানীয় আসসাবাহ পত্রিকাকে বলেন, ইরাকের বিজ্ঞান ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ মামলা করা হবে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ অভিযানের প্রথম বছরে দুই দেশই ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ বোমা ব্যবহার করেছে। ইরাকের সামরিক বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ইরাকযুদ্ধের প্রথম বছরে প্রায় দুই হাজার টন ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম বোমা ফেলা হয়েছে। আর এতে পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোয় জন্মগত ত্রুটিসহ শিশুর জন্মের হার বেড়ে গেছে।
ইরাকের চিকিত্সকেরা বলেন, বোমা হামলা হয়েছে এমন এলাকায় ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আসন্ন বছরগুলোতে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত সন্তান জন্মের হার ও ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়বে। কারণ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ছে।

সু চির দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী সপ্তাহে মুক্তি পেতে পারেন

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আশা করছে, তাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতা টিন ওকে সামরিক জান্তা সামনের সপ্তাহেই মুক্তি দেবে। ৮৩ বছর বয়সী টিন ২০০৩ সাল থেকে বন্দী আছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
২০০৩ সালে একটি মোটর শোভাযাত্রা বের করে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির দলের নেতা-কর্মীরা। ওই শোভাযাত্রায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ী করে সু চির সঙ্গে টিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকেই টিন বিনা বিচারে বন্দী রয়েছেন। অবশ্য পরে ২০০৪ সালে কারাগার থেকে তাঁকে স্থানান্তর করে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
টিন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। গৃহবন্দী অবস্থায় শুধু ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাঁর বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল। এনএলডি জানিয়েছে, টিনের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো।
এনএলডির মুখপাত্র নিয়ান উইন বার্তা সংস্থাকে বলেন, আমরা অপেক্ষায় আছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করছি, তারা (জান্তা সরকার) জ্যেষ্ঠ নেতা টিনকে সামনের সপ্তাহেই মুক্তি দেবে। কারণ, ওই সময় তাঁর আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তিনি ফিরে এসে আবারও দলীয় কার্যালয়ে বসবেন, এ আশা আমাদের সবার।
১৯৯০ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির এনএলডি। কিন্তু সামরিক জান্তা সু চির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।

বৈরুতে জমে উঠছে হোটেল ব্যবসা

একসময়ের প্রাচ্যের মুক্তা হিসেবে পরিচিত লেবাননের রাজধানী বৈরুত আবারও তার হারানো জৌলুস ফিরে পেতে শুরু করেছে। গত বছর পর্যটন খাতে একটি সফল বছর পার করার পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হোটেলগুলো এখন সেখানে ব্যবসা করার ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও বৈরুত আর বিপদ অনেকটাই সমার্থক ছিল।
বৈরুতে অভিজাত হোটেলগুলোর তালিকায় এখন লন্ডনভিত্তিক ক্যাম্পবেল গ্রে হোটেলস গোষ্ঠীর নতুন সদস্য লে গ্রের মতো আধুনিক শৈলীর হোটেলের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ফোর সিজনস আর গ্র্যান্ড হায়াতের মতো ধ্রুপদি শৈলীর হোটেলগুলো।
ফোর সিজনসের মহাব্যবস্থাপক স্টেফান সিমকোভিকস বলেন, ‘প্রতিটি বড় কোম্পানিই বৈরুতে আসতে চাইছে। এটি এমন একটি গন্তব্য, যেখানে প্রত্যেকেই থাকতে চায়।’ কোম্পানিটি চলতি মাসেই ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত হোটেলের উদ্বোধন করেছে। বৈরুতের ফোর সিজনসে ২৩০টি কক্ষ রয়েছে। এর ছাদ এখন শহরের সবচেয়ে বড় ‘ছাদে বসানো সুইমিং পুল’ ধারণ করে আছে।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে সিমকোভিকস বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বৈরুত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রবেশদ্বার। সত্তরের দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বৈরুতকে বলা হতো মধ্যপ্রাচ্যের প্যারিস, প্রাচ্যের মুক্তা। আর এখন শহরটি আবার সেই অবস্থানে ফিরে যেতে শুরু করেছে। এটি এমন একটি স্থান, যেখানে সবাই যেতে চায়।’
সম্ভবত বিক্ষুব্ধ অতীতের পাতা উল্টে সামনে এগোতে শুরু করেছে শহরটি। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ, ২০০৭ সালে সরকারি সেনাদের সঙ্গে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর লড়াই আর ২০০৮ সালে সাম্প্রদায়িক হানাহানির পর এখন অনেকটাই শান্ত ৪০ লাখ বাসিন্দার এ দেশটি।
লেবাননের হোটেল মালিক সমিতির প্রধান পিয়েরে আশকার বলেন, ‘২০০৪ সালে বেশ কয়েকটি হোটেলের নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও ২০০৫ সালে দেশটির তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির হত্যার পর তা থমকে যায়।’ এখন হোটেলপাড়ায় একটি মূর্তি ওই হামলার স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বৈরুতেই গৃহযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে থাকা বুলেটে ঝাঁঝরা পরিত্যক্ত হলিডে ইন হোটেলের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে হোটেল রামাদা। ২০০৮ সালে হোটেলটি উদ্বোধন করা হয়।
বৈরুতের সাগরতীরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে হোটেল হিলটন। কাছাকাছি এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে গ্র্যান্ড হায়াত ও কেম্পিনস্কি সামারল্যান্ড হোটেলের। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এসব হোটেল পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে।
২০০৯ সালে ২০ লাখ পর্যটক লেবানন ভ্রমণ করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও লেবাননকে এখন বিশ্বের অন্য রকম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রচার করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর ২০০৯ সালের জানুয়ারির শীর্ষ অবসরকালীন গন্তব্যের তালিকার শীর্ষস্থানটি ছিল বৈরুতের। এ ছাড়া ওই বছর পর্যটন-বিষয়ক সাময়িকী লোনলি প্লানেট-এর শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায়ও স্থান পেয়েছে শহরটি। চলতি মাসে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান ঘোষণা করে, ‘বৈরুত ফিরে এসেছে...এবং শহরটি সুন্দর।’
সিমকোভিকস বলেন, জীবনযাত্রার মান, সৌন্দর্য, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি আদর্শ স্থান বৈরুত। তিনি জানান, বেশির ভাগ পর্যটক প্রবাসী লেবানিজ এবং আরব। তবে ইউরোপের দেশগুলো থেকেও পর্যটকেরা আসছেন। লেবাননের হোটেলগুলোর ৬০ শতাংশ বাসিন্দা উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর পর্যটক।
লে গ্রে হোটেলের মহাব্যবস্থাপক হেক্টর ডি জ্যালার্ড বলেন, এটা মাত্র সূচনা। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে আসার ব্যাপারে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি জানান, গত বড়দিন ও ঈদের সময় তাঁর হোটেলের সব কামরাই অতিথিদের দিয়ে ভর্তি ছিল।
হোটেল মালিক সমিতির প্রধান আসকার জানান, ‘বৈরুতের হোটেলগুলোতে এখন সাত হাজার কামরা রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী তিন বছরে এ সংখ্যা আরও তিন হাজার বাড়বে।’ লে গ্রে হোটেলের জ্যালার্ড বলেন, ‘আমরা জানি, লেবানন (ব্যবসা করার জন্য) সহজ কোনো দেশ নয়। তবে আমরা এও জানি, ভবিষ্যতে খারাপ কিছু হলেও দেশটির আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রয়েছে।

সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত মার্কিনিদের হত্যা করতে পারেন সে দেশের গোয়েন্দারা

চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন মার্কিন নাগরিকদের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে হত্যার চেষ্টা করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গত বুধবার সে দেশের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ডেনিস ব্লেয়ার এ কথা বলেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্লেয়ার বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দারা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিই।’
মার্কিন নাগরিকদেরও অনেক সময় লক্ষ্যবস্তু বিবেচনা করা হয়েছে স্বীকার করে এ গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, ‘সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যা করতে হবে, তখন আমরা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে অনুমতি নিই।’ রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য পিটার হোয়েকস্ট্রার প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান ব্লেয়ার।
প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে জানায়, বিদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মার্কিন নাগরিকদের হত্যার অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের পথই অনুসরণ করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই স্বীকারোক্তি দিলেন ব্লেয়ার। তবে তিনি উল্লেখ করেননি কোন পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ‘জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড’-এর সুনির্দিষ্ট হত্যা বা আটক ব্যক্তিদের তালিকায় তিনজন মার্কিন রয়েছেন।
পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা গত ২৪ ডিসেম্বর ইয়েমেনের একটি স্থাপনায় হামলা করার অনুমতি দেন। সেখানে মার্কিন আনোয়ার আল-আওলাকি স্থানীয় আল-কায়েদা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।
জনসমক্ষে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্লেয়ার বলেন, ‘আমি চাই, যেসব মার্কিন এই বক্তব্য শুনছেন, তাঁরা যেন না ভাবেন আমরা দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমরা কারও জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করি না। বরং দেশের বেশির ভাগ নাগরিককে রক্ষা করার নীতি মেনেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা দেয়াল নজরে পড়েনি বারলুসকোনির

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি বুধবার জেরুজালেম যান সড়কপথে। কিন্তু বহুল আলোচিত ইসরায়েলের তৈরি নিরাপত্তা দেয়াল তাঁর নজরেই পড়েনি। আর এ কারণে পরে এ আট মিটার (২৫ ফুট) উঁচু দেয়াল সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
বারলুসকোনি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এ সময় ইতালির একজন সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, কংক্রিটের তৈরি ইসরায়েলি নিরাপত্তা দেয়াল সম্পর্কে তাঁর অনুভূতি কী? জবাবে বারলুসকোনি বলেন, বিষয়টি তিনি খেয়াল করেননি। এ ব্যাপারে তিনি পরে জানাবেন।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো নিশ্চিত করে জানায়, জেরুজালেম থেকে বেথলেহেম যাওয়ার পথে ওই নিরাপত্তা দেয়ালের কাছে চেক পয়েন্টে বারলুসকোনিকে ইসরায়েলি গাড়ি থেকে নামিয়ে ফিলিস্তিনি গাড়িতে তোলা হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টির মধ্যে তিনি গাড়ি বদলান। সেখানে একটি ফটক পেরিয়ে তিনি গাড়িতে ওঠেন। পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে যাতায়াতের জন্য এ ফটক লোকজনকে ব্যবহার করতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বারলুসকোনি বলেন, এ নিরাপত্তা দেয়াল ও ফটকের প্রতি তাঁর মনোযোগ ছিল না। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে আমি কী বলব সে সময় সেই চিন্তায় মগ্ন ছিলাম। বিষয়টি খেয়াল না করার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
পশ্চিম তীর সীমান্তে ইসরায়েলের নির্মিত নিরাপত্তা দেয়ালের অংশ এ বেথলেহেম দেয়াল। ফিলিস্তিনি গেরিলা বা আত্মঘাতী হামলাকারীরা পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েল ঢুকে যাতে হামলা চালাতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে এ দেয়াল তৈরি করেছে ইসরায়েল। উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের বেথলেহেমে লেটিভিটি চার্চ পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হলে অনেক সময় তাঁদের এ দেয়াল পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ব্রিটিশ এমপিদের অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে

সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) প্রতি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এই নির্দেশ জারি করা হয়। গত বছর অভিযোগ ওঠে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকেই পদ্ধতিগত ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তা টমাস লেগের তদন্তে দেখা গেছে, দ্বিতীয় বাড়ির জন্য ঋণ, বাগান, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি খাত দেখিয়ে এমপিরা সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ১১ কোটি পাউন্ড খরচ করেছেন, যা এখন তাঁদের ফিরিয়ে দিতে হবে। তদন্তে দেখা গেছে, পার্লামেন্টের অর্ধেকের বেশি সদস্য বাড়তি অর্থ নিয়েছেন।
ব্রিটিশ এমপিদের এই কেলেঙ্কারির কথা আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে গত বছর। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির এমপি পিটার ভিগারস তাঁর বাড়ির বাগানের পুকুরে একটি হাঁস রাখার ঘর বানাতে এক হাজার ৬০০ পাউন্ডের হিসাব দাখিল এবং সরকারি তহবিল থেকে ওই অর্থ নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এমপিদের এই কেলেঙ্কারি জনসমক্ষে চলে আসে।
টমাস লেগের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে সরকারদলীয় এমপি বারবারা ফলেটকে। লেবার পার্টির এই সদস্যকে ৪২ হাজার ৪৫৮ পাউন্ড সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দিতে হবে।
এই তদন্ত নিয়ে অনেক এমপি অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে আইনত যা প্রাপ্য ছিল, সেই পরিমাণ অর্থই দাবি করেছেন তাঁরা। তবে লেগ তাঁদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদন তৈরি করার সময় তিনি অতীত-পর্যালোচনামূলক আইন আমলে নিয়েছেন এবং প্রতিটি খাতে ব্যয়ের সীমা বিবেচনায় রেখেছেন। এমপিদের ব্যয়ের সুবিধাকে ‘চরম ত্রুটিপূর্ণ’ ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন লেগ।
ব্রিটিশ এমপিদের অতিরিক্ত সরকারি অর্থ ব্যয়ের এই খবর গত বছরের মে মাসে জনসমক্ষে নিয়ে আসে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফ। একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ মন্ত্রী ও এমপিদের কেলেঙ্কারি তুলে আনে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় ব্রিটেনের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের স্পিকার ও একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
টমাস লেগের প্রতিবেদনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকেও ১২ হাজার ৮৮৮ পাউন্ড ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাগান পরিচর্যা, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও সৌন্দর্য বর্ধনের খাতে অতিরিক্ত ওই অর্থ ব্যয় করেন ব্রাউন। ব্রাউনের মুখপাত্র বলেছেন, লেগের এই প্রতিবেদনকে একটি তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় দেশের জন্য জলবায়ু তহবিলের বিরোধিতা

জলবায়ু তহবিল-ব্যবস্থাপনায় দেশের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইক্যুইটিবিডি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।
এতে বক্তারা বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার দেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় মাল্টি ডোনার ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। তাঁরা বলেন, দাতাদের একটি মহল জলবায়ু তহবিল-ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সুকৌশলে এর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংকের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইক্যুইটিবিডির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুদ্দোহা লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। এতে তিনি বলেন, এই তহবিল তদারকির ফি হিসেবে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৮০ লাখ ডলার পাবে। অথচ দেশের জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলা তহবিল-ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের কর্তৃত্ব সর্বতোভাবেই অন্যায্য।
ইক্যুইটিবিডির সদস্য মোস্তফা কামাল আখন্দের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ট্রাস্টের সনত কুমার ভৌমিক, সোহেল ইকবাল ও আতিকুল ইসলাম চৌধুরী।

সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়েছে দুটি কোম্পানি

ওশেন কনটেইনার লিমিটেড ও খুলনা পাওয়ার লিমিটেড নামে বেসরকারি খাতের দুটি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পাওয়ার চার দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, কমিশনের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য শিগগিরই দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল কবীর বলেন, গত ৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসইসি। পরে মন্ত্রণালয় এই বৈঠকের আগে যেসব কোম্পানি আবেদন করেছিল, তাদের অনুমোদন দিতে বলায় এসইসি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কারণ, ওই বৈঠকের আগে দুটি কোম্পানিই সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। তিনি বলেন, তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানি দুটির শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হবে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে।
উল্লেখ্য, ওশেন কনটেইনার শেয়ার ছাড়বে ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার। আর খুলনা পাওয়ার লিমিটেড ৫২ কোটি ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার ছাড়বে। দুই কোম্পানিরই শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এদিকে গতকালের বৈঠকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের রাইট শেয়ারের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। তবে ওয়ান ব্যাংক ও বিডিকমের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে।

কাঁচামাটির ইটে লাইসেন্স আবশ্যক না করার দাবি

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ইট, সিমেন্ট ও বালুর তৈরি ব্লকের উত্পাদন ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ইট এই লাইসেন্স গ্রহণের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সমিতির নেতারা শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে মন্ত্রী বলেছেন, দেশের অবকাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান হওয়ায় ইট প্রস্তুত করার সময় গুণগত মান বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সঠিক আকারের ইট প্রস্তুত করারও পরামর্শ দিয়েছেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান, মহাসচিব মাইজউদ্দিন আহমেদসহ সমিতির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বাড়িঘর, রাস্তা, সেতুসহ দেশের অবকাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান হলো ইট। সুতরাং ইট তৈরির ক্ষেত্রে গুণগত মান ও আকার ঠিক রাখার বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। তবে কাঁচা ইট পোড়ানোর পর আকার ছোট হয়ে যায়।
মিজানুর রহমান বলেন, ইট প্রস্তুত করার সময় কারখানার মালিকেরা আকার সঠিক রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাদামাটি দিয়ে তৈরি ইট পোড়ানোর পর অনেক সময় আকারে কিছুটা তারতম্য হয়। কারণ মাটিভেদে সংকোচনের পরিমাণ নির্ভর করে। তবে ইটের আকার ছোট হলে ক্রেতারা এর দাম কমিয়ে দেন। ফলে ক্রেতার অগোচরে তাঁকে ছোট ইট দিয়ে প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, সিরামিক ইট ও সিমেন্ট-বালুর তৈরি ব্লকের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স গ্রহণ প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু কাঁচামাটির তৈরি ইটের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সমিতির নেতারা জানান, দেশে ইটের বার্ষিক চাহিদা পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি।

বাংলাদেশের মানুষই বিশ্বে সবচেয়ে কম আয়কর দেয়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষই সবচেয়ে কম আয়কর দিয়ে থাকে। সে জন্য দেশে করের ভিত্তি আরও বাড়ানো দরকার। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘করভিত্তি সম্প্রসারণ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
সভায় কর অঞ্চল-৭ ঢাকার কর কমিশনার সৈয়দ মো. মাহবুবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম ও শম্ভুনাথ দাস, স্থানীয় জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের সাবেক সাংসদ আবদুল করিম ব্যাপারী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস, অতিরিক্ত কর কমিশনার আবদুল মালেক, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও মিরকাদিমের পৌর মেয়র মোহাম্মদ হোসেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কর আদায়ের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা ভালো ব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করতে চাই।’ তিনি জানান, জনগণ যাতে সহজে আয়কর দিতে পারে সে জন্য শিগগিরই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব যাতে কমে সে জন্য আমরা মানুষের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। সরকারি কর্মকর্তারা শুধু অফিসে বসে থাকবেন, এটা হবে না। তাঁদের মানুষের কাছে যেতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন ব্যত্যয়কারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনবলের সমস্যার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু করতে পারছি না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন নীতিমালা ও আইনের পরিবর্তনের কাজে আমরা হাত দিয়েছি।’
এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, দেশে স্কুল-কলেজ ও সড়ক-কালভার্টসহ সার্বিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সবার কর দেওয়া উচিত।
নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, মুন্সিগঞ্জ জেলায় সাত হাজার ৩০০ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র দুই হাজার লোক আয়কর দেন। এক বছরে এ জেলা থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকার আয়কর আদায় হয়েছে। যাঁরা করের আওতায় পড়েন কিন্তু কর দিচ্ছেন না, তাঁদের সবাইকে করের আওতায় আসার আহ্বান জানান তিনি।
শম্ভুনাথ দাস জানান, দেশের সব জেলায় নতুন করদাতা শনাক্ত করার জন্য পর্যায়ক্রমে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, করভিত্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পরিচালিত জরিপ কার্যক্রম একদিকে দেশে করদাতাদের আয়কর সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবার অংশীদারি নিশ্চিত করবে।
সৈয়দ মো. মাহবুবুর রহমান দেশে যেন একটি শিশুও অনাহারে আর একটি মানুষও বিনা চিকিত্সায় মারা না যায়, সে জন্য সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে যথাযথভাবে আয়কর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ অনুষ্ঠানে জেলার সেরা করদাতা হিসেবে আবদুল করিম ব্যাপারী, আবুল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে পুরস্কৃত করা হয়

উশুর উদ্বোধন

সিলেট স্টেডিয়ামে এসএ গেমসের উশু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল কাল সন্ধ্যায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উশু গেমসের উদ্বোধন করেন। এ সময় রংবেরঙের আতশবাজিতে পুরো স্টেডিয়াম বর্ণিল হয়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন উশুর স্থানীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী শাকিলা জাফর, সুবীর নন্দী প্রমুখ। আজ সকাল থেকে চলবে উশু খেলা। দক্ষিণ এশীয় গেমসে এবারই অন্তর্ভুক্ত হওয়া মার্শাল আর্ট-জাতীয় এই খেলায় বড় সাফল্যই আশা করছে বাংলাদেশ।

আফ্রিদি ‘ক্রমিক প্রতারক’!

অনেক দিন পর আবার দৃশ্যপটে হাজির ড্যারেল হেয়ার। আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে। বলা বাহুল্য, এবারও তাঁর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ারই কেউ। অস্ট্রেলীয় এই আম্পায়ার মন্তব্য করেছেন, শহীদ আফ্রিদি নাকি ‘ক্রমিক প্রতারক’!
কথাটা ‘ক্রমিক খুনি’ থেকে ধার করা। মানে পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডার কি তবে সব সময়ই প্রতারণা করেন! হেয়ারের জবাব, ‘প্রতারণাই যেন ওর কাছে একমাত্র শব্দ। আগেও ও প্রতারণা করেছে। এ রকম নজির আছে অনেক। কিছু কিছু ও স্বীকারও করেছে। আমি নিশ্চিত (শাস্তি পাওয়ার পরও) ও আবারও তা-ই করবে। সে কোনো দেবদূত নয়।’
অবশ্য যে ঘটনার সূত্র ধরে আফ্রিদির এমন মুণ্ডুপাত করলেন হেয়ার, সেটি আদৌ প্রতারণা কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে পাকিস্তানিদের মনে। টিভিতে পরিষ্কার দেখা গেছে, সিরিজের শেষ ওয়ানডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলে কামড় বসিয়েছেন। কিন্তু এভাবে চারদিক থেকে ঘিরে ধরা ক্যামেরা থাকার পরও দিনেদুপুরে বল টেম্পারিং করার মতো নির্বুদ্ধিতা নিশ্চয়ই আফ্রিদির হয়নি। অনেকেরই ধারণা, সেটি আসলে ঘটেছে ঘটনার আকস্মিকতায়।
কিন্তু এমন যুক্তি মানতে মোটেও রাজি নন হেয়ার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলছেন, ‘আমরা একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে। ও সেবার ইচ্ছে করেই পিচ খুঁড়েছিল, ভেবেছিল কেউ ওকে দেখছে না। ও ভেবেছিল ও পার পেয়ে যাবে। কিন্তু সেবারও তাঁকে ধরা পড়তে হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এমন প্রতারণার পরও সে খুবই উঁচু মাপের খেলোয়াড় হিসেবেই গণ্য হয়ে এসেছে।’
হেয়ার যে ঘটনার কথা বলছেন, সেটি ঘটেছিল ২০০৫ সালের ফয়সালাবাদ টেস্টে। পিচ নষ্ট করার অপরাধে একটি টেস্ট আর দুুটি ওয়ানডে থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সেবার। গত রোববার পার্থে বল কামড়ানোর অপরাধে দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন। আফ্রিদি অবশ্য পাকিস্তানের একটি চ্যানেলে দাবি করেছেন, বল কামড়াতে নয়, তিনি নাকি বলের গন্ধ শুঁকছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করে কোকাবুরার ঘ্রাণ শোঁকার সাধ কেন হলো সেটি অবশ্য খুলে বলেননি তিনি।

বরিশালের জয়ের খবর এল এক দিন পর!

বরিশালের এক ক্রিকেটার টেলিফোনে একটু তাচ্ছিল্যভরেই বললেন কথাটা, ‘খেলা তো কালই (পরশু) শেষ...আমরা তো কালই (পরশু) জিতে গেছি। তারপরও সবগুলো পত্রিকা লিখল, বরিশাল নাকি জয়ের পথে! পত্রিকা পড়ে আমরা সবাই খুব অবাক হয়েছি!’
অবাক করা ঘটনাই, সেই সঙ্গে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশও। কাল দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকেই ছাপা হয়েছে, সিলেটের বিপক্ষে বরিশালের জয়ের পথে থাকার খবর। বাস্তবতা হলো, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিলেটকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে গত পরশু বিকেলেই। কিন্তু সেদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটি যে স্কোরকার্ড পত্রিকা অফিসে সরবরাহ করেছে, তা ছিল অসম্পূর্ণ। সেখানে সিলেটের দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত স্কোরই দেওয়া ছিল, দেওয়া হয়নি বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর। আর এই স্কোর হাতে না পেলে বোঝার উপায় নেই, ২ উইকেটে ৩১ রান করে ম্যাচটা সেদিনই জিতে নিয়েছে বরিশাল। বরিশাল-সিলেট ম্যাচের স্কোরের বাদবাকি সেই অংশ বিসিবি সরবরাহ করেছে কাল। কে জানে, হয়তো পত্রিকা পড়েই তাদের মনে হয়েছে স্কোরের এই অংশটুকুও জানানো উচিত সবাইকে!
টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন স্বীকার করেছেন ভুলটা তাঁদেরই, ‘কেন এ রকম ঘটল সেটা আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখব। এসব দেখাশোনার জন্য লোকবল থাকা সত্ত্বেও এ জাতীয় ভুল হলে সেটার দায় আমাদেরই নিতে হবে।’ খেলা শেষে স্কোরকার্ড সরবরাহের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ম্যাচ ম্যানেজারের। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় লিগে যারা ম্যাচ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁদের বেশির ভাগেরই কাজটা করার যোগ্যতাই নেই। তাহলে কীভাবে তাঁরা ম্যাচ ম্যানেজার? কেবল বিসিবিই দিতে পারে এই প্রশ্নের উত্তর।

হ্যান্ডবলের সোনা ‘হাতছাড়া’

আরও একটি সোনা ‘ফসকে’ গেল বাংলাদেশের। ভাবছেন, বাংলাদেশ রুপা পেয়েছে? সোনা ফসকে যাওয়া মানে তো রুপাই বোঝায়। কিন্তু এই ফসকে যাওয়া মানে অন্য। এসএ গেমসের আগে যে কটি ইভেন্টে সোনা পাবে বলে আশা করেছিল বাংলাদেশ, পুরুষদের হ্যান্ডবল ছিল এর মধ্যে একটি। অথচ সোনার লড়াইয়েই নামতে পারল না বাংলাদেশ। কাল পুরুষদের হ্যান্ডবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের কাছে স্বাগতিক দল হেরেছে ৪১-২৯ গোলে। সোনাপ্রত্যাশীদের এখন নামতে হবে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের ছোট্ট গ্যালারি উপচে পড়া দর্শককে মাতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম আক্রমণটি করেছিল ভারত, আক্রমণ বেশিও করেছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের গোলরক্ষক আমজাদ হোসেনের দক্ষতায় গোল তারা সহজেই পায়নি। উল্টা-পাল্টা আক্রমণ থেকে মির্জা সাইদুজ্জামানের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আরেকটি পাল্টা আক্রমণে যখন ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যায়, দর্শকদের চিত্কারে তখন আক্ষরিক অর্থেই প্রকম্পিত চারপাশ। কিন্তু বাংলাদেশের খেলার মতো ধীরে ধীরে ভাটা পড়তে থাকে দর্শক-উচ্ছ্বাসেও।
৫-৫, ১২-১২...প্রাধান্যটা ধরে রাখতে না পারলেও অনেকটা সময় ধরে বাংলাদেশ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল সমানে সমান। তবে এর পরই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ১৫-২০, তখনো ম্যাচে ভালোমতোই আছে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সময় যত গড়িয়েছে, ততই ব্যবধান বাড়িয়েছে ভারত। শেষ পর্যন্ত জিতেছে তারা বড় ব্যবধানেই।
সেমিফাইনালে ভারতকে সামনে পাওয়ার পরই বোঝা গিয়েছিল কাজটা সহজ হবে না। বাংলাদেশ আসলে ভারতকে প্রত্যাশা করেছিল ফাইনালে। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে ভারত অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যাওয়ায় সেমিতেই দেখা। ম্যাচের ফলাফল জানিয়ে দিচ্ছে ফাইনালেও যদি দুই দলের দেখা হতো, তাহলেও বাংলাদেশের সোনার আশা হতো খানিকটা বাড়াবাড়িই। এমন নয় যে, সেমিতে হেরেছে তার মানে ফাইনালেও হারত বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ, হতে পারে যেকোনো কিছুই। তবে এটা সত্য কেবল কাছাকাছি মানের দুই দলের জন্য। বাংলাদেশ-ভারত দুই দলের মান বা সামর্থ্য যা-ই বলা হোক, পরিষ্কার ম্যাচের স্কোরলাইনেই!
ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান: আগের ম্যাচে তারা হারিয়েছে ফেবারিট ভারতকে। পাকিস্তানের সঙ্গে নেপাল যে পেরে উঠবে না, জানা কথাই ছিল। হয়েছেও তাই। পুরুষদের হ্যান্ডবলের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ৪৫-১৫ গোলে বিধ্বস্ত করেছে পাকিস্তান। সোনার লড়াইয়ে নামবে তারা ভারতের বিপক্ষে।
পুরুষ কাবাডির সোনাও ভারতের: নিজ দেশের মেয়েদের সোনা জয়টা চোখের সামনেই দেখেছেন, এর পর কোর্টে নেমে হতাশ করেননি ভারতের ছেলেরাও। পুরুষ কাবাডির ফাইনালে পাকিস্তানকে ২৯-১১ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতেছে ভারত।

রাজশাহীর রানে চাপা খুলনা

ফরহাদ হোসেনের তৃতীয় সেঞ্চুরির পর কাল সেঞ্চুরি পেলেন আনিসুর রহমানও। এই দুই সেঞ্চুরির সৌজন্যে এবারের জাতীয় লিগে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করার গৌরবটা এখন রাজশাহীর। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে কাল ৬ উইকেটে ৫০৭ করে ইনিংস ঘোষণা করেছে তারা। জবাবে দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১০৪ রান করা খুলনাকে ইনিংস পরাজয় এড়াতে করতে হবে আরও ২১৯ রান।
জমে উঠেছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের ম্যাচও। প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম ৩৫০ রান করার পর ঢাকা করেছে ৩৫১। দ্বিতীয় ইনিংসে কাল দিন শেষে ৫ উইকেটে ১৯৭ রান করেছে চট্টগ্রাম।
ধীমান ঘোষকে নিয়ে আগের দিন ব্যক্তিগত ৩২ রানে ব্যাট করছিলেন আনিসুর, দলের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২৮৪ রান। তাপস ঘোষের বলে ধীমানের (৫৫) বোল্ড হওয়ার মধ্য দিয়ে কাল সেই জুটি ভেঙেছে ৩৮৬ রানে। ষষ্ঠ উইকেটে ধীমানের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটির পর আনিসুর সপ্তম উইকেটে ১২১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন ফরহাদ রেজার (৫০*) সঙ্গেও। অধিনায়ক খালেদ মাসুদ যখন ইনিংস ঘোষণা করেন, আনিসুরের স্কোর তখন ২১১ বলে অপরাজিত ১৫১। একটি ছক্কার সঙ্গে ১৭টি চার ছিল তাতে। কালই দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে দিন শেষে ১ উইকেটে ১০৪ রান খুলনার। ওপেনার তাপস ঘোষ ৫৭ ও আসলাম আলী ২৭ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন।
বগুড়ায় শুভগত হোমের অপরাজিত ১৬৬ রানের সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত ৩৫১ রান করেছে ঢাকা বিভাগীয় দল। আগের দিন ৮ উইকেটে করা ২৭২ রানের সঙ্গে শেষ ২ উইকেটে কাল ঢাকার স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৭৩ রান। ওপেনার গাজী সালাউদ্দিন ও নাজিমউদ্দিনের ফিফটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে কাল তৃতীয় দিন শেষে ৫ উইকেটে ১৯৭ রান করেছে চট্টগ্রাম। সালাউদ্দিন-মাহবুবুলের ৪০ রানের ওপেনিং জুটির পর ২৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছিল চট্টগ্রাম। চতুর্থ উইকেটে ফয়সাল হোসেনের সঙ্গে সেই বিপর্যয় কিছুটা সামলে ওঠার পর পঞ্চম উইকেটে নাজিমউদ্দিনের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সালাউদ্দিন (৬৭)। দিন শেষে নাজিমউদ্দিন ৫৩ ও আরমান ২০ রান নিয়ে খেলছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া ঢাকার পেসার মোহাম্মদ শরীফ দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫১ রানে ২ উইকেট

আজ সাঁতারপুলের মধ্যমণি ডলি

বাংলাদেশের ‘সোনার ইভেন্ট’ সাঁতার শুরু আজ। প্রথম দিনে ৫টি ইভেন্ট। সকাল ১০টায় বাছাই, বিকেল তিনটা থেকে ফাইনাল।
মিরপুর সাঁতারপুলে প্রথম দিনে বাংলাদেশের দৃষ্টিটা বেশি থাকবে ডলি আক্তারের দিকে। গতবার রুপা জিতেছিলেন ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে, এবার তাঁর প্রত্যাশা সোনা।
ছেলেদের ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে খেলছেন কামাল হোসেন। ছেলেদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে মাহফিজার রহমান, ছেলেদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে রুবেল রানা ও মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সোনিয়া আক্তার। এই ইভেন্টগুলোতেও ভালো কিছু করার প্রত্যাশা বাংলাদেশের।
এদিকে জন্ডিস থেকে সেরে ওঠা গতবারের সোনাজয়ী শাহজাহান আলী ৮ ফেব্রুয়ারি ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। চিকিত্সক বলেছিলেন, তাঁর এখন পুলে নামা ঠিক হবে না। তবে পুলে নামার জন্য এখন মানসিকভাবে তৈরি শাহজাহান। অনুশীলনও শুরু করেছেন।

সব পাওয়া হয়ে গেছে শ্যুটিংয়ে

শ্যুটিং থেকে সম্ভবত আর কিছু পাওয়ার নেই বাংলাদেশের। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের ছেলে ও মেয়েদের বিভাগে তিনটি সোনা আসার পরদিন গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে থেমে গেছে সব উদ্দীপনা। তবে বিষন্নতায়ও ঢেকে যায়নি সবকিছু, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বড় কিছু যে আর চাওয়ার সাহসই নেই!
১০ মিটার এয়ার পিস্তলে দলীয় ব্রোঞ্জ, ফ্রি পিস্তলে কিছুই না পাওয়া—শ্যুটিং দলের কালকের এই ফল বলে দিচ্ছে, ওই ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ছাড়া অন্য ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ খারাপ। এগুলোতে স্কোরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাতে তোলার মতো হয়নি।
এয়ার পিস্তলে আরমিন আশাকে নিয়ে আশা ছিল। কিন্তু আগের রাতে জ্বর আর জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় আশাভঙ্গ। নিজের সেরা ৩৭০-ঊর্ধ্ব স্কোরের জায়গায় আরমিন করেছেন মাত্র ৩৫৭। সিনথিয়া নাজনীনও ৩৭০-এর বেশি স্কোর করতেন এতদিন, এদিন করলেন ৩৬২। ফারজানা কাওসার করেছেন ৩৫৯। সব মিলিয়ে দিনটা খুবই খারাপ কেটেছে মহিলা পিস্তল দলের।
আজ পুরুষ দলের প্রোন, কাল মেয়েদের থ্রি পজিশন এবং পরশু ছেলেদের থ্রি পজিশনে ‘যদি কেউ ভালো মেরে দেয়’ এমন প্রত্যাশাতেই সময় কাটছে। তবে সাবেক এক শ্যুটার বললেন, ‘আমরা চাইব, নিশ্চয়ই ভালো কিছু হোক। প্রতিযোগিতার দিন কেউ খুব ভালো করে ফেললে সেটি অসম্ভবও হবে না। তবে সেই সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া খুবই কঠিন।’
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ অত হিসাবনিকাশে না গিয়ে বলে দিচ্ছেন, ‘ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখছি না এই ইভেন্টগুলোতে।’ তাহলে তিনটি সোনাই এবারের গেমস থেকে প্রাপ্তি শ্যুটিং দলের? ‘আমরা চারটি সোনা চেয়েছিলাম, পেয়েছি তিনটি। আরেকটি পেলে ভালো হতো। তবে যা হয়েছে, তাতে আমরা অখুশি হতে পারি না

কেঁদেও হাসালেন সাখাওয়াত বদিউজ্জামান

বাবা, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? তুমি কি দেখতে পাচ্ছ কিছু। তোমার ছেলে আজ সোনা জিতেছে। বাবা, তুমি আজ আনন্দ করো’—বাবাকে নিয়ে আর আনন্দে মেতে ওঠা হলো না। বাবার হাতে গিয়ে তুলে দেওয়া হলো না এতদিনের সাধনার ফল এসএ গেমসের সোনার পদকটি। এর অনেক আগেই যে বাবা চলে গেছেন না ফেরার দেশে...।
বাবা কাজী মহিউদ্দিন ভীষণ আদর করতেন একমাত্র ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সোহেলকে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে মানুষের মতো মানুষ হোক। লেখাপড়া শিখে বাবার মুখ উজ্জ্বল করুক। কিন্তু পড়ার চেয়ে খেলাধুলার দিকেই বেশি ঝোঁক ছিল ছেলেটির। নোয়াখালীর রামগঞ্জের বর্মপাড়ায় নিজের গ্রামে তাই দাঁড়িয়াবাঁধা, গোল্লাছুট, বউচি আর কাবাডিতে আনন্দ খুঁজতেন সোহেল। ঢাকায় মিরপুরের উত্তর কাফরুলে চলে এলেও ওসব থেমে থাকেনি। আশপাশের এলাকাটা ছিল খারাপ। বাজে ছেলেদের সঙ্গে মিশে বখে যেতে পারে—এই ভয়ে বাবা ক্যান্টনমেন্টের দিকে বাড়ি ভাড়া করেন ছেলের জন্য। ওই সময়ই কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের আশপাশে নিয়মিতই ঘুরঘুর করতেন সোহেল। একদিন দুম করে সেখানে চাকরির সুযোগও মিলে গেল।
চাকরিটা একেবারেই নগণ্য। গলফের বলবয়। পরে পদোন্নতি পেয়ে ক্যাডি, তারপর নিজের মেধাগুণে পেলেন জাতীয় দলে ডাক। শুরু হলো সোহেলের গলফার জীবন। কাল বাংলাদেশ গলফ দলের অধিনায়ক সোহেল যখন দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনার পদক গলায় তুলছিলেন, তখনো তাঁর বুক ফেটে উঠে আসছিল কান্না। গলার কাছে সেটি দলা পাকিয়ে রেখে বারবার নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। গেমসের আরও খেলা তো বাকি আছে!
সুসংবাদের আশা নিয়েই আগের রাতে ঘুমুতে গিয়েছিলেন সোহেল। দিনশেষে একটা চমত্কার সুসংবাদ দেশবাসীকে উপহারও দিলেন, কিন্তু এর আগে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদটি শুনতে হলো। ম্যাচ শুরু হতে তখনো মিনিট বিশেক বাকি। হঠাত্ তাঁর সেলফোন বেজে ওঠে। মেজ বোন নাসরিন ফোনে জানান, অতি প্রিয় বাবা আর বেঁচে নেই। স্ট্রোক করেছেন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ারও সময় পায়নি কেউ।
সোহেলের বাবার মৃত্যুসংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা ক্যান্টনমেন্টে। ক্লাব কর্মকর্তা, টিম ম্যানেজার, কোচ, কর্মচারীরা ছুটে আসেন তাঁকে সান্ত্বনা জানাতে। ক্লাব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই তাঁকে খেলার আগে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কি খেলতে পারবে?’ সোহেল বলেন, ‘আমি একটু ভেবে দেখি। এক বছর ধরে কোচ বাবু আহমেদসহ আমরা সবাই যে কঠোর পরিশ্রম করে আসছি, সেটা একেবারে জলাঞ্জলি দিতে মন চাইছিল না। তাই শেষমেশ অনেক ভেবেচিন্তে খেলার জন্যই সম্মতি দিলাম।’
সোহেল আরও বলে যান, ‘আমি আসলে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে আমার বাবা মারা গেছেন। আমার বোন যখন ফোন দেয়, তখন আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমার সতীর্থরা আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, আমি খেলব কি না।’ বাবার সঙ্গে সোহেলের শেষ কথা হয়েছিল পরশু রাতেও, ‘আমরা প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে থাকার পর বাবাকে কাল (পরশু) রাতেও ফোন করেছিলাম। বাবা বলেছিলেন, চিন্তা করো না। তুমি মন দিয়ে খেল।’
মনোসংযোগে কি এতটুকু চিড় ধরেছিল? ‘আমি আসলে শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম ওই সময়। আমি ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম যে আমার বাবা মারা গেছেন। সব সময় কালেমা পড়ছিলাম আর খেলছিলাম। দেশের স্বার্থে তখন খেলার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে আরও প্রস্তুত করে নিই।’
কোথাও খেলতে গেলে বাবা নিজ হাতে কাপড় গুছিয়ে দিতেন। টিম হোটেলে ওঠার দিনও দিয়েছিলেন। বলতে বলতে কেঁদেই ফেললেন টাইগার উডস-ভক্ত সোহেল

ফিরে আসছে কাঠমান্ডুর স্মৃতি by মাসুদ আলম |

ভারতকে সামনে পেয়ে আবার বাংলাদেশ দল ভেঙে পড়বে? এসএ গেমস ফুটবলে আজ আমিনুলদের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে প্রশ্নটা থাকছেই।
মাসখানেক আগে এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাফ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচটা তো একেবারে তরতাজা স্মৃতি। শুধু স্মৃতি কেন দুঃস্মৃতি! ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে বাংলাদেশের জাতীয় দল শুধু হারেইনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলেছিল। গ্যালারি-ভর্তি দর্শক দেখেছিল ছন্নছাড়া এক বাংলাদেশকে। এক মাস পর দক্ষিণ এশীয় গেমস ফুটবলের এই সেমিফাইনাল ম্যাচটা নিশ্চয়ই আর ফিরে যেতে চাইবে না সেই রাতের দুঃস্বপ্নে!
বাংলাদেশের এই অনূর্ধ্ব-২৩ দল যেটি প্রায় জাতীয় দলেরই প্রতিচ্ছবি। যেখানে পোস্টের নিচে আছেন দেশের সেরা গোলরক্ষক আমিনুল, সেখানে ভারতীয় দলটা একবারেই তরুণ—অনূর্ধ্ব-১৯! এই দলকে হারাতে না পারলে বাংলাদেশ আর কাকে হারাবে?
দাঁড়ান, দাঁড়ান ভারতের এ দলটি মোটেও অনভিজ্ঞ নয়। দলটিকে গড়ে তুলতে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অনেক শ্রম রয়েছে। ২০০৭ সালে দলটির যাত্রা শুরু, তখন ছিল অনূর্ধ্ব-১৬। এখন অনূর্ধ্ব-১৯। গত তিন বছরে দলটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ৩১টি!
দলটির ম্যানেজারের ভূমিকায় থাকা কলকাতার সাবেক আন্তর্জাতিক গোলরক্ষক তনুময় বোসের কথাগুলো মুগ্ধ হয়েই শুনতে হলো, ‘এটা আমাদের যুব ফুটবল উন্নয়নের অংশ। তিন বছর ধরে একসঙ্গে আছে দলটি। এরা এখন পর্যন্ত ৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে মাত্র ৫টা ম্যাচ হেরেছে—ইরাক, সৌদি আরব, লিভারপুল, ওমান, আফগানিস্তান...। দেশে এখন পযন্ত হারেনি দলটি।’
তনুময় বলে যান, ‘এই দল নিয়ে ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা, সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশ সফর করেছি। জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকায় ছিল শুভেচ্ছা সফর।’
ভারত কি তবে এই সফরকেও শুভেচ্ছা সফর হিসেবেই দেখছে? এবার তনুময়ের মুখে প্রতিবাদ, ‘যে দলই নিয়ে আসি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই আসি। বিশেষ করে সাফ দেশে চ্যাম্পিয়নশিপই একমাত্র টার্গেট থাকে আমাদের।’ জানালেন দলটা সম্পর্কেও, ‘সাফ দলের মাত্র তিনজন খেলোয়াড় আছে (স্ট্রাইকার জাগতার সিং, সুবোধ কুমার এবং জেজে লাল টেকো) এই দলে। ব্যক্তি নয়, টিমওয়ার্কেই গুরুত্ব দিই বেশি।’
দলটির সঙ্গে শুরু থেকে যুক্ত আছেন ব্রিটিশ কোচ পম জোসেফ টোল, যিনি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরও। (মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে জোসেফ দেশে গেছেন চট্টগ্রামে গ্রুপ ম্যাচ খেলার সময়। কাল রাতেই তাঁর ঢাকা আসার কথা ছিল)। তাঁর হাত ধরে আগামী দিনের শক্তিশালী একটা দল হিসেবে গড়ে উঠছে ভারতীয় যুব দল। এই গেমসে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হারলেও সেমিফাইনালে উঠে আসা তো তারই প্রমাণ।
এই তিন বছরে যুব ফুটবল উন্নয়নে বাংলাদেশ ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিতে পারেনি। এখানেই ভারতের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের ফুটবল। তবে সাফ ফুটবলে ব্যর্থতার পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশীয় গেমস ফুটবলে সোনা জিততে মরিয়া দেখাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।
ভারতকে হারানো সম্ভব? প্রশ্নটা যে অবান্তর, কাল বিকেলে অনুশীলনে যাওয়ার সময় অধিনায়ক আমিনুলের কথায় তেমন একটা ভঙ্গিই প্রকাশ পেল, ‘কেন সম্ভব নয়। তবে ভারতকে নিয়ে চিন্তা করছি না। আমরা শুধু আমাদের খেলাটাই খেলতে চাই।’
কোচ জোরান জর্জেভিচের মুখে তালা। ‘আফটার টুর্নামেন্ট...আফটার টুর্নামেন্ট’ বলতে বলতে উঠে গেলেন টিম বাসে।
নেপালকে ৩-০, ভুটানকে ৪-০, মালদ্বীপকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফ গেমসের পর এই প্রথম সেমিফাইনালের চৌকাঠে উঠল বাংলাদেশ। কাকতালীয় ব্যাপার, ১৯৯৯ সাফে এই ভারতকেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ‘সুপার সাব’ টিপুর গোলে, এর পর তো ইতিহাস—গেমস ফুটবলে প্রথম এবং একমাত্র সোনা জয়।
ভারতের বিপক্ষে সুখস্মৃতি আছে, দুঃস্মৃতিটাই বেশি তাজা হওয়ায় আজ আমিনুলরা ভেঙে পড়েন কি না সেই সংশয়ও সমান্তরালে হাঁটছে!